সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

কর ফাঁকি দিয়ে হাজার কোটি ডলার সম্পদ পাচার করা হাইতির বিতর্কিত ধনকুবেরের প্রয়াণ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ১১:২৮
হাইতির সবচেয়ে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গিলবার্ট বিজিও ৯১ বছর বয়সে পরলোকগমণ করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
হাইতির সবচেয়ে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গিলবার্ট বিজিও ৯১ বছর বয়সে পরলোকগমণ করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ হাইতির সবচেয়ে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গিলবার্ট বিজিও ৯১ বছর বয়সে পরলোকগমণ করেছেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের ব্যবসায়িক জীবনে তিনি দেশটির সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, কৃষিপণ্য, জ্বালানি এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাতে একক আধিপত্যের এক বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। তবে কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গোপন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল সম্পদ লুকিয়ে রাখা এবং নিজ দেশের মারাত্মক সহিংসতায় লিপ্ত সশস্ত্র বাহিনীকে অর্থায়নের আন্তর্জাতিক অভিযোগে তাঁর সুদীর্ঘ বাণিজ্যিক সুনাম চরমভাবে ক্ষুণ্ন ও বিতর্কিত হয়ে পড়ে।

 

গিলবার্ট বিজিও ১৯৭২ সালে জিবি গ্রুপ নামের এক বিশাল বহুভাষিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তী সময়ে বিজিও নামে পুনর্নামকরণ করা হয়েছিল। দেশের প্রথম ইস্পাত কারখানা আসিরি দ্য হাইতি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে এই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে পুরো দেশের অর্থনীতিকে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। আধুনিক সময়ে এসে এটি মোট ১৩টি বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ৬টি প্রধান খাত জুড়ে পরিচালিত হতো। প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি কর্মীর এই বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক পুরো দেশের নির্মাণ সামগ্রী, আন্তর্জাতিক কনটেইনার বন্দর ব্যবস্থাপনা, পেট্রোলিয়াম পদার্থ এবং রান্নার তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করত।

 

২০২১ সালে প্রকাশ পাওয়া বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টিকারী প্যান্ডোরা পেপার্স নামের আন্তর্জাতিক গোপন নথিপত্রে এই ধনকুবেরের নাম অত্যন্ত জোরালোভাবে উঠে আসে। সেখানে উদঘাটন করা হয় যে নিজ দেশের চরম political ও অর্থনৈতিক সংকটের সুযোগ নিয়ে বিজিও পরিবার করমুক্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দ্বীপে শত শত গোপন অ্যাকাউন্ট খুলে নিজেদের বিপুল অর্থ গোপন করে আসছিলেন। দেশের এই শীর্ষ ধনী পরিবার অত্যন্ত চতুরতার সাথে শত শত কোটি ডলার পাচার করে আমেরিকার মিয়ামি ও সুইজারল্যান্ডের ব্যাংক এবং ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে স্থানান্তর করেন, যার ফলে হাইতির রাষ্ট্রীয় অর্থভাণ্ডার বিশাল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।

 

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ গবেষকরা সরাসরি প্রমাণ করেছেন যে হাইতির এই চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সামাজিক দারিদ্র্যের পেছনে বিজিওর মতো প্রভাবশালী ধনী শ্রেণীর রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার নীতি প্রত্যক্ষভাবে দায়ী। কর আদায়ে সরকারের চরম ব্যর্থতা এবং বিজিওদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অক্ষমতার কারণে দেশের জনকল্যাণমূলক খাত ও অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পূর্ণ থমকে যায়। এরপর ২০২২ সালে হাইতির পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীকে মদদ দেওয়া ও সহিংসতায় অর্থায়নের অভিযোগে কানাডা সরকার বিজিওর ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে কঠোর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবনের শেষ কয়েক দশকে গিলবার্ট বিজিও প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক নির্বাহী পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে আমেরিকার মিয়ামির অতি ধনী এলাকা এবং ডমিনিকান রিপাবলিকের বিলাসবহুল আবাসে বসবাস করতেন। বিতর্কিত ধনকুবের এবং আন্তর্জাতিক যৌন অপরাধী জেফ্রি এপেস্টাইনের বাজেয়াপ্ত করা বিলাসবহুল গাড়ি চড়া দামে কিনে নিয়েও তিনি বিভিন্ন সময়ে বৈশ্বিক গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্যমতে, ফ্লোরিডার নিজস্ব আবাসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি এবং স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তাঁর শেষকৃত্যের আয়োজন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

সূত্র: মিয়ামি হেরাল্ড


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

বিষয়

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
মালয়েশিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবন বিনিয়োগ সম্মেলনে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি হাতে বাংলাদেশের ইফতেখার সাফিন। ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের ইফতেখার সাফিন

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবন বিনিয়োগ সম্মেলন ২০২৬-এর শিক্ষার্থী ব্যবসা উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্ভাবক ইফতেখার সাফিন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী একাধিক বাছাইপর্ব পেরিয়ে এশিয়ার শীর্ষ তিন চূড়ান্ত প্রতিযোগীর একজন হিসেবে নির্বাচিত হন। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে নিজের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে তিনি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।   বাংলাদেশ থেকে প্রতিযোগিতায় আবেদন করার পর একাধিক ধাপের বাছাইপ্রক্রিয়ায় অংশ নেন সাফিন। বাছাই শেষে তিনি এশিয়ার শীর্ষ তিন চূড়ান্ত প্রতিযোগীর একজন হিসেবে নির্বাচিত হন। এর ভিত্তিতে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি সম্পূর্ণ অর্থায়িত অংশগ্রহণের সুযোগ পান। চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশের একমাত্র সরাসরি অংশগ্রহণকারী ও উপস্থাপক হিসেবে তিনি নিজের প্রকল্প বিচারকদের সামনে তুলে ধরেন।   সাফিনের বিজয়ী প্রকল্পের নাম ‘স্কিলব্রিজ আয়-অংশীদারিত্ব কাঠামো’। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতার মধ্যকার ব্যবধান কমানো এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের পথে থাকা আর্থিক বাধা দূর করার একটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করা। প্রকল্পটি বিশেষভাবে শিক্ষার্থীদের শিল্পখাতের উপযোগী দক্ষতা অর্জন এবং প্রশিক্ষণের পর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছে।   প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ নেওয়ার শুরুতে কোনো অগ্রিম কোর্স ফি দিতে হবে না। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণে অর্থায়ন করতে পারবে। পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী চাকরি পাওয়ার পর তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিস্তিতে প্রশিক্ষণের খরচ পরিশোধ করবে। অর্থাৎ প্রকল্পটির মূল ধারণা হলো আগে দক্ষতা অর্জন, এরপর কর্মসংস্থান এবং তারপর আয়ের সঙ্গে যুক্ত কিস্তিতে প্রশিক্ষণের খরচ পরিশোধ।   সাফিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই ব্যবস্থা তুলনামূলক কম খরচে বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এ জন্য অতিরিক্ত ব্যয়বহুল প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতার প্রয়োজন নেই। শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষণদাতা প্রতিষ্ঠান এবং করপোরেট খাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করে দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।   বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবন বিনিয়োগ সম্মেলন ২০২৬ মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত একটি জাতীয় পর্যায়ের উদ্যোগ। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, উদ্ভাবক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও সরকারি সংস্থার মধ্যে গবেষণা, উদ্ভাবন, শিল্প ও বিনিয়োগের সংযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, গবেষক ও উদ্ভাবকেরা অংশ নেন।   বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়াকে দেশের তরুণ উদ্ভাবনশীলতার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মধ্যকার ব্যবধান কমানোর মতো একটি বাস্তব সমস্যাকে কেন্দ্র করে তৈরি প্রকল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য পেয়েছেন সাফিন। তার এই অর্জন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের ধারণা, গবেষণা ও উদ্ভাবন তুলে ধরার ক্ষেত্রেও উৎসাহ জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ১১:৫২
হাইতির সবচেয়ে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গিলবার্ট বিজিও ৯১ বছর বয়সে পরলোকগমণ করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

কর ফাঁকি দিয়ে হাজার কোটি ডলার সম্পদ পাচার করা হাইতির বিতর্কিত ধনকুবেরের প্রয়াণ

ভারতের দরিদ্রদের ছবি:সংগৃহীত।

ধর্মীয় চিকিৎসার ওপর নির্ভরতা, অপুষ্টি ও চিকিৎসায় দেরি: মধ্যপ্রদেশে ৩২ শিশুর মৃত্যু

যাত্রী এবং এআই ক্যামেরা

গিটারকে যাত্রী ভেবে হেলমেটের মামলা, এআই ক্যামেরার কাণ্ডে হাসির রোল

বাংলাদেশ থেকে সুইডেনের শেনজেন ভিসার জন্য আবেদনকারীদের প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশিদের জন্য সুইডেনের শেনজেন ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় আসছে বড় পরিবর্তন

বাংলাদেশ থেকে সুইডেনের শেনজেন ভিসার জন্য আবেদনকারীদের প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ঢাকায় অবস্থিত সুইডেন দূতাবাস ভিসা আবেদনের বিষয়ে যাচাই-বাছাই বা চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না। এর পরিবর্তে বাংলাদেশ থেকে জমা পড়া সব শেনজেন ভিসা আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরাসরি সুইডেনে অবস্থিত সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির মাধ্যমে নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ঢাকায় অবস্থিত সুইডেন দূতাবাস।   দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিসা আবেদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্থান পরিবর্তন হলেও আবেদনকারীদের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার মূল প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রদবদল হচ্ছে না। অর্থাৎ, আগের নিয়ম অনুযায়ীই আবেদনকারীদের ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নির্ধারিত পদ্ধতিতেই শেনজেন ভিসার জন্য আবেদন জমা দিতে হবে। নতুন এই পরিবর্তনের ফলে আবেদনকারীদের শুধু আবেদনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেন্দ্রটি পরিবর্তিত হচ্ছে, যা ঢাকার দূতাবাসের হাত থেকে সরাসরি সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির কাছে স্থানান্তরিত হচ্ছে।   শেনজেন ভিসা আবেদনের এই নতুন ব্যবস্থাসহ যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয়ে জানতে আবেদনকারীদের সুইডেন দূতাবাসের প্রকাশিত হালনাগাদ নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং, আগামী ১৫ অক্টোবরের পর থেকে যাঁরা সুইডেনের শেনজেন ভিসার জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক, তাঁদের ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে আগের প্রক্রিয়ায় আবেদন জমা দিয়ে সুইডেনের মাইগ্রেশন এজেন্সির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৯:২৮
পিংক ফোর্স

দিল্লিতে নারীর নিরাপত্তায় আসছে ‘পিংক ফোর্স’, স্কুল-মেট্রোতে থাকবে নারী পুলিশ

আফগান নারীদের নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নারী সাংবাদিকের দিকে খাজা আসিফের বিতর্কিত অঙ্গভঙ্গি

আফগানিস্তানে ফিরলে নারী সাংবাদিকের গলা কা টার ইঙ্গিত খাজা আসিফের

দিল্লিতে বাংলাদেশসহ ১১ দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলন, ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হলেন রুবিও

দিল্লিতে বাংলাদেশসহ ১১ দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলন, ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হলেন রুবিও

ইরাকে মার্কিন সেনাদের আনুষ্ঠানিক বিদায় উপলক্ষে দেশজুড়ে টানা ৪ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা
ইরাকে মার্কিন সেনাদের আনুষ্ঠানিক বিদায় উপলক্ষে দেশজুড়ে টানা ৪ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা

ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশটিতে টানা চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে ইরাক সরকার। গত শনিবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে এই ছুটি কার্যকর থাকবে এবং এ সময়টিকে ‘সার্বভৌমত্ব দিবস’ হিসেবে উদ্‌যাপন করা হবে।   প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষকে মিডিয়া সেলের সঙ্গে সমন্বয় করে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন।   গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের শেষ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা থেকে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে দেশটিতে আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক বাহিনীর উপস্থিতির অবসান ঘটে। তবে এই সেনা প্রত্যাহারের অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যকার দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সহযোগিতার সম্পূর্ণ ইতি টানা নয়।   ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, জোটের সামরিক মিশন শেষ হলেও দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা আগের মতোই অব্যাহত থাকবে। মূলত আন্তর্জাতিক জোট কাঠামোর পরিবর্তে এখন সরাসরি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে দেশ দুটি।   উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের দখলে চলে গেলে তাদের দমনে স্থানীয় বাহিনীকে সহায়তার জন্য এই মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট গঠন করা হয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে এই জোটের ভূমিকা মূলত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও গোয়েন্দা সহায়তার মাঝেই সীমাবদ্ধ হয়ে আসে।   ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই মিশন অবসানের বিষয়ে একটি পর্যায়ক্রমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার প্রথম ধাপ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সম্পন্ন হয়েছিল। চুক্তির অংশ হিসেবে সিরিয়ায় আইএসবিরোধী অভিযান পরিচালনায় সহায়তার জন্য কিছু সেনা এতদিন ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থান করছিল। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষে এই সেনা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের সামরিক সম্পর্ক একটি নতুন কাঠামোতে প্রবেশ করল।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৩:৫১
আইনজীবীর ফি দিতে না পেরে চ্যাটজিপিটির সহায়তায় নিজের মামলা নিজেই পরিচালনা করেছেন ক্রেইগ টিচেনার। ছবি: সংগৃহীত

আইনজীবীর ফি দিতে না পেরে চ্যাটজিপিটির সহায়তায় ৪০ হাজার পাউন্ড ফেরত পেলেন দমকলকর্মী

উড়োজাহাজে পাইলটকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা নিয়ে অভিযোগ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

‘জিহাদি সন্ত্রাসী হামলা’ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের চেষ্টা, পাইলট গ্রেপ্তার, দাবি ইসরায়েলের

জাতিসংঘে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণকে ব্যঙ্গ করে মিম প্রকাশ করেছে ঘানায় ইরানের দূতাবাস। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের ভাষণের পর নেতানিয়াহুকে ভলডেমর্টের সাথে তুলনা করল ইরানি দূতাবাস

0 Comments