প্রার্থনায় যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দু র্ঘটনা, প্রাণ হারালেন ১৭ ক্যাথলিক তীর্থযাত্রী
পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় একাধিক গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৭ জন ক্যাথলিক তীর্থযাত্রী নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) মধ্যরাতের পরপরই নাইরোবি-মোম্বাসা মহাসড়কের সালামা এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৬ জন যাত্রী এবং একজন ভ্যানচালক ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই নারী। এছাড়া এই দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, তীর্থযাত্রীরা মোম্বাসার সেন্ট ম্যাথিয়াস মুলুম্বা ক্যাথলিক প্যারিশের সদস্য ছিলেন। 'ন্যাশনাল প্রেয়ার ডে' বা জাতীয় প্রার্থনা দিবস উপলক্ষে তারা নাকুরু কাউন্টির সুবুকিয়া ন্যাশনাল শ্রাইনের (জাতীয় উপাসনালয়) দিকে যাচ্ছিলেন। মোম্বাসা ক্যাথলিক আর্চডায়োসিসের আর্চবিশপ মার্টিন কিভুভা এক বিবৃতিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেন। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং পুরো প্যারিশ সম্প্রদায়ের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।
পুলিশ ও কেনিয়ার ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড সেফটি অথরিটির (এনটিএসএ) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টার পরপরই একটি ট্রাক অন্য একটি ট্রাককে ওভারটেক করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে এই চেইন দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়। এর ফলে তীর্থযাত্রীদের বহনকারী একটি যাত্রীবাহী ভ্যান বা মাতাতুর সাথে ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এনটিএসএ জানিয়েছে, সালামা এলাকার ওই সড়কটি আগে থেকেই দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত এবং সেখানকার নিরাপত্তা নিয়ে আগেও সুপারিশ করা হয়েছিল। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে এবং অন্যান্য চালকদের চরম সতর্কতা অবলম্বন করে লেন মেনে গাড়ি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং শোকাহত ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রতি সমবেদনা জানান। কঠিন এই সময়ে সৃষ্টিকর্তা যেন সবাইকে শক্তি ও সান্ত্বনা দেন, সেই প্রার্থনা করার পাশাপাশি তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্যও কামনা করেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreপূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় একাধিক গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৭ জন ক্যাথলিক তীর্থযাত্রী নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) মধ্যরাতের পরপরই নাইরোবি-মোম্বাসা মহাসড়কের সালামা এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৬ জন যাত্রী এবং একজন ভ্যানচালক ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই নারী। এছাড়া এই দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জানা গেছে, তীর্থযাত্রীরা মোম্বাসার সেন্ট ম্যাথিয়াস মুলুম্বা ক্যাথলিক প্যারিশের সদস্য ছিলেন। 'ন্যাশনাল প্রেয়ার ডে' বা জাতীয় প্রার্থনা দিবস উপলক্ষে তারা নাকুরু কাউন্টির সুবুকিয়া ন্যাশনাল শ্রাইনের (জাতীয় উপাসনালয়) দিকে যাচ্ছিলেন। মোম্বাসা ক্যাথলিক আর্চডায়োসিসের আর্চবিশপ মার্টিন কিভুভা এক বিবৃতিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেন। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং পুরো প্যারিশ সম্প্রদায়ের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান। পুলিশ ও কেনিয়ার ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড সেফটি অথরিটির (এনটিএসএ) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টার পরপরই একটি ট্রাক অন্য একটি ট্রাককে ওভারটেক করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে এই চেইন দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়। এর ফলে তীর্থযাত্রীদের বহনকারী একটি যাত্রীবাহী ভ্যান বা মাতাতুর সাথে ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এনটিএসএ জানিয়েছে, সালামা এলাকার ওই সড়কটি আগে থেকেই দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত এবং সেখানকার নিরাপত্তা নিয়ে আগেও সুপারিশ করা হয়েছিল। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে এবং অন্যান্য চালকদের চরম সতর্কতা অবলম্বন করে লেন মেনে গাড়ি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং শোকাহত ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রতি সমবেদনা জানান। কঠিন এই সময়ে সৃষ্টিকর্তা যেন সবাইকে শক্তি ও সান্ত্বনা দেন, সেই প্রার্থনা করার পাশাপাশি তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্যও কামনা করেন।
ইরানে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মতো হতে ৫০ সার্জারি! ভাইরাল দাবির আসল সত্য জানালেন তরুণী
চীনে ছেলেকে গেমের নেশা থেকে ফেরাতে গিয়ে ৬০ বছরের মা নিজেই এখন গেমার
গাজায় ইসরায়েলি হা মলায় প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের প্রধান ড. ইয়াসমিন
যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে রাশিয়া জানিয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা করা ইরানের অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং তেহরান এটি ত্যাগ করতে বাধ্য নয়। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক মিখাইল উলিয়ানভ এই মন্তব্য করেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজের সাম্প্রতিক এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে উলিয়ানভ মার্কিন প্রশাসনের পারমাণবিক বিস্তার রোধ নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দাবি ছিল, ইরান আন্তর্জাতিক নিয়ম ভঙ্গ করে কোনো বিশ্বাসযোগ্য বেসামরিক উদ্দেশ্য ছাড়াই ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। মার্কিন দাবির বিরোধিতা করে উলিয়ানভ স্পষ্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের অবস্থান পারমাণবিক বিস্তার রোধের নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) কার্যক্রম সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভুল ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুন এবং ২০২৬ সালের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পরও ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে। তেহরানের অভিযোগ, ওই সংঘাতগুলোতে তাদের বেসামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালানো হয়েছিল, যা সরাসরি আন্তর্জাতিক আইন ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (NPT) চরম লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষপাতিত্ব এবং অবৈধ হামলার প্রতিবাদে ইরানের পার্লামেন্ট ইতোমধ্যে সর্বসম্মতিক্রমে আইন পাস করে আইএইএ-এর সাথে সব ধরনের সহযোগিতা স্থগিত করেছে। নতুন আইন অনুযায়ী, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (SNSC) অনুমোদন ছাড়া কোনো আইএইএ পরিদর্শককে ইরানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। এনপিটি-র স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ইরান বারবার জোর দিয়ে বলেছে, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা পরিদর্শনে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির কোনো সামরিক ব্যবহারের প্রমাণ মেলেনি। ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা, বিশেষ করে স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের পারমাণবিক অধিকার ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে কোনো আলোচনা হবে না। ইরানের এই অনড় অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে চীন ও রাশিয়া। সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ইরানবিষয়ক একটি খসড়া প্রস্তাবে এই দুই দেশ ভেটো প্রদান করে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া এক বক্তব্যে চীনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি সুন লেই পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইরানের ‘বৈধ অধিকারকে’ সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। চীন এই সঙ্কটের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।
ক্ষমা চাইতে বলায় ক্ষে পণাস্ত্র ছুড়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে জবাব দিলেন কিম জং উন
নেপালের বন্যায় নিখোঁজ বাবা-মা, ৩০ দিন পরও অপেক্ষায় মেয়ে
আর্জেন্টিনার নাগরিকত্বের নতুন পথ, ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারেই আবেদনের সুযোগ
ইংল্যান্ডে দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকা আবাসিক বাড়ি দ্রুত বসবাসের উপযোগী করতে স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা ব্যবহারের শর্ত সহজ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। প্রস্তাবিত সংস্কারে কোনো বাড়ি দুই বছরের পরিবর্তে ছয় মাস খালি থাকলেই সেটির ব্যবস্থাপনা নেওয়ার আদেশের জন্য আবেদন করা যাবে। তবে এতে বাড়ির মালিকানা বদলাবে না। হাউজিং, কমিউনিটিজ অ্যান্ড লোকাল গভর্নমেন্ট মন্ত্রণালয় ২৭ সেপ্টেম্বর এই সংস্কারের ঘোষণা দেয়। সরকারের ভাষ্য, বিদ্যমান আবাসন আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার এবং খালি বাড়ি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থেকে মারাত্মকভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়া ঠেকানোই এর লক্ষ্য। এম্পটি ডুয়েলিং ম্যানেজমেন্ট অর্ডার বা ইডিএমওর মাধ্যমে কাউন্সিল দীর্ঘদিন খালি থাকা বাড়ির ব্যবস্থাপনা নিয়ে সেটি আবার বসবাসের আওতায় আনতে পারে। এই ব্যবস্থাপনার মেয়াদ সর্বোচ্চ সাত বছর হতে পারে। পুরো সময় সম্পত্তির মালিকানা মূল মালিকের কাছেই থাকে। পরিকল্পনায় আবেদন প্রক্রিয়াও সহজ করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে কাউন্সিলের হস্তক্ষেপের পক্ষে অসামাজিক আচরণ বা স্থানীয় কমিউনিটির সমর্থনসংক্রান্ত যেসব প্রমাণ দিতে হয়, তার কিছু শর্ত বাদ দিতে চায় সরকার। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে ইডিএমওর আবেদন করা সহজ হবে। তবে ছয় মাস খালি থাকলেই কোনো বাড়ি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাউন্সিলের ব্যবস্থাপনায় চলে যাবে না। ঘোষণাটি ইডিএমওর জন্য যোগ্য হওয়ার সময়সীমা কমানো এবং আবেদন সহজ করার পরিকল্পনা। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে নতুন নিয়ম কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। আইটিভি নিউজের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইংল্যান্ডে তিন লাখ তিন হাজার ১৮৫টি বাড়ি ছয় মাসের বেশি সময় খালি ছিল। হাউজিং সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেনার বলেছেন, বহু শিশু ও পরিবারের নিরাপদ বাসস্থানের প্রয়োজন থাকা অবস্থায় তিন লাখ দীর্ঘমেয়াদি খালি বাড়ি অব্যবহৃত রাখা গ্রহণযোগ্য নয়। খালি বাড়ি নিয়ে কাজ করা সংগঠন এম্পটি হোমস নেটওয়ার্ক পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তাদের মতে, শুধু সময়সীমা কমালেই কাউন্সিলগুলো এই ক্ষমতা বেশি ব্যবহার করতে পারবে না। বাড়ি মেরামত, আইনি প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনার জন্য দক্ষ কর্মী এবং পর্যাপ্ত অর্থের প্রয়োজন। সংগঠনটি আরও বলেছে, দীর্ঘদিন খালি থাকা প্রতিটি বাড়ি ইডিএমওর উপযুক্ত নয়। কোনো বাড়িতে বড় বিনিয়োগ লাগতে পারে, আবার কোনো সম্পত্তির মালিকানা বা আইনি জটিলতা থাকতে পারে। তাই সংস্কারের বাস্তব ফল নির্ভর করবে কাউন্সিলগুলোর সক্ষমতা ও পরবর্তী বিস্তারিত নিয়মের ওপর।
কিয়েভে বড় হামলার হুমকি পুতিনের, কূটনীতিকদের শহর ছাড়তে বলল রাশিয়া
হাইব্রিডে ঝুঁকছেন মার্কিন ক্রেতারা, এশীয় ব্র্যান্ড এর উপর নজর ক্রেতাদের