কানাডায় আবারও অভিবাসন বাড়াতে চায় সরকার, নভেম্বরে আসছে নতুন পরিকল্পনা
কানাডায় টানা কয়েক বছর অভিবাসনের হার কমানোর পর আবার নিয়ন্ত্রিতভাবে জনসংখ্যা বাড়ানোর পথে যেতে পারে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, অভিবাসন ব্যবস্থা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফলে সরকারের সামনে নতুন প্রশ্ন হলো, কখন থেকে আবার পরিকল্পিতভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি শুরু করা হবে।
এই আলোচনা এমন সময় সামনে এসেছে, যখন কানাডা ২০২৭ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত নতুন তিন বছরের ইমিগ্রেশন লেভেলস প্ল্যান প্রস্তুত করছে। পরিকল্পনাটি আগামী নভেম্বরে প্রকাশ করার কথা রয়েছে। এতে নতুন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং বিদেশি কর্মীদের জন্য ভবিষ্যৎ টার্গেট নির্ধারণ করা হবে।
গত কয়েক বছরে কানাডায় দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, হাউজিং সংকট, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সরকারি সেবার ওপর চাপ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার অভিবাসনের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রবেশের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও টেম্পোরারি ফরেন ওয়ার্কারদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কানাডা ৩ লাখ ৮০ হাজার নতুন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০২৭ ও ২০২৮ সালেও এই সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার করে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে ২০২৬ সালে নতুন টেম্পোরারি রেসিডেন্টের টার্গেট রাখা হয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার, যা ২০২৭ ও ২০২৮ সালে ৩ লাখ ৭০ হাজারে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের আরেকটি বড় লক্ষ্য হলো, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কানাডার মোট জনসংখ্যার মধ্যে নন পার্মানেন্ট রেসিডেন্টের হার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের পর নতুন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট গ্রহণের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশের নিচে রাখার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে কার্নি ইঙ্গিত দিয়েছেন, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের বর্তমান ধাপ সফলভাবে এগোলে ভবিষ্যতে আবার জনসংখ্যা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ কানাডা স্থায়ীভাবে অভিবাসনের দরজা সংকুচিত রাখবে, এমন ধারণা এখনই নিশ্চিত নয়। বরং অর্থনীতি, শ্রমবাজার এবং অবকাঠামোর সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে ধীরে ধীরে অভিবাসনের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাই আলোচনায় এসেছে।
কানাডার বর্তমান ইমিগ্রেশন নীতিতে অর্থনৈতিক অভিবাসনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ সালের জন্য মোট ৩ লাখ ৮০ হাজার পার্মানেন্ট রেসিডেন্টের মধ্যে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ জনকে অর্থনৈতিক ক্যাটাগরিতে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এর পাশাপাশি ফ্যামিলি রিইউনিফিকেশন, শরণার্থী ও মানবিক বিবেচনার বিভিন্ন ক্যাটাগরিও চালু রয়েছে।
সরকার ইতোমধ্যে কানাডায় থাকা এবং কাজ করা কিছু টেম্পোরারি রেসিডেন্টকে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির পথে নেওয়ার উদ্যোগও রেখেছে। বর্তমান পরিকল্পনায় ২০২৬ ও ২০২৭ সালে সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার টেম্পোরারি ওয়ার্কারকে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিতে নেওয়ার বিশেষ উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো কানাডায় ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত এবং অর্থনীতিতে অবদান রাখা কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও আগের তুলনায় লক্ষ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। ২০২৬ সালে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর টার্গেট ১ লাখ ৫৫ হাজার এবং ২০২৭ ও ২০২৮ সালে বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নতুন পরিকল্পনায় শিক্ষার্থী ও টেম্পোরারি ওয়ার্কারদের সংখ্যা কতটা বাড়বে বা বর্তমান সীমা বহাল থাকবে, সেটিই এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
বাংলাদেশিসহ কানাডায় পড়াশোনা, চাকরি বা স্থায়ীভাবে বসবাস করতে আগ্রহীদের জন্য আগামী ইমিগ্রেশন লেভেলস প্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে কার্নির বক্তব্যকে এখনই অভিবাসন ব্যাপকভাবে বাড়ানোর ঘোষণা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তিনি মূলত ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রিতভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বলেছেন। নতুন টার্গেট ও কোন ক্যাটাগরিতে কতজন নেওয়া হবে, তার স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে সরকারের ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের আনুষ্ঠানিক ইমিগ্রেশন পরিকল্পনা প্রকাশের পর।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাজ্যের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর তাঁর বাসভবনে পুলিশের তল্লাশি ও পরবর্তী গ্রেপ্তারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি থেকে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় এবং সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই পুলিশ তল্লাশি চালায়। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেমস ভ্যালি পুলিশের নেওয়া সার্চ ওয়ারেন্ট আইনসম্মত ছিল কি না, সেটিই এখন আইনি লড়াইয়ের মূল বিষয়। হাইকোর্টের বিচারপতি মিস্টার জাস্টিস হিলিয়ার্ডের সামনে বৃহস্পতিবার একটি ব্যক্তিগত শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে অ্যান্ড্রুর জুডিশিয়াল রিভিউ আবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত নথি প্রকাশ করা যাবে কি না, তা নিয়েও সিদ্ধান্ত হতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে একটি ওল্ড বেইলি বিচারকের অনুমোদিত ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে পুলিশ স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটে অ্যান্ড্রুর বাসভবন এবং উইন্ডসরের তাঁর সাবেক বাড়ি রয়্যাল লজে তল্লাশি চালায়। এরপর সরকারি দায়িত্বে অসদাচরণের সন্দেহে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি, তাঁর ৬৬তম জন্মদিনে অ্যান্ড্রুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তাঁর ব্রিটিশ ট্রেড এনভয় হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করার সন্দেহ। এপস্টেইন ছিলেন যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এক মার্কিন অর্থলগ্নিকারী। গ্রেপ্তারের পর অ্যান্ড্রুকে সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে তদন্তাধীন অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে এখনো কোনো দোষ প্রমাণিত হয়নি এবং চলমান তদন্তে অভিযোগগুলো যাচাই করছে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্ট অ্যান্ড্রুকে পুলিশের তল্লাশি কার্যক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার অনুমতি দেয়। এখন তাঁর আইনজীবীরা আদালতে জানতে চাইছেন, যে ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল সেটি যথাযথ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেছিল কি না। টেমস ভ্যালি পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি দায়িত্বে অসদাচরণের অভিযোগ নিয়ে তাদের তদন্ত চলমান। একই সঙ্গে পূর্বে নেওয়া ওয়ারেন্ট সম্পর্কিত আইনি প্রক্রিয়ায় তারা যুক্ত রয়েছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। সরকারি দায়িত্বে অসদাচরণ যুক্তরাজ্যের আইনে বিস্তৃত পরিসরের আচরণকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। এর মধ্যে গোপন আর্থিক বা সরকারি তথ্য শেয়ার করা, দায়িত্বে ইচ্ছাকৃত অবহেলা, দুর্নীতি, স্বার্থের সংঘাত, অসৎ আচরণ এবং ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো বিষয় থাকতে পারে। অ্যান্ড্রুকে ঘিরে এপস্টেইন সম্পর্কিত বিতর্ক নতুন নয়। গত বছরের শেষ দিকে রাজা তৃতীয় চার্লস তাঁর ছোট ভাই অ্যান্ড্রুর প্রিন্স উপাধি ব্যবহারের অধিকার এবং ডিউক অব ইয়র্কের মর্যাদা প্রত্যাহার করেন। এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে বিতর্ক চলছিল, তার প্রেক্ষাপটেই ওই সিদ্ধান্ত আসে। ডেইলি টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে এই আইনি চ্যালেঞ্জকে ঐতিহাসিকভাবে বিরল ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৬৪৯ সালে রাজা প্রথম চার্লসের বিচার হওয়ার পর রাজপরিবারের কোনো সদস্যের পক্ষ থেকে ফৌজদারি প্রক্রিয়ার বৈধতা এভাবে চ্যালেঞ্জ করার নজির আর দেখা যায়নি। এখন অ্যান্ড্রুর মামলায় মূল প্রশ্ন হলো, তাঁর বাড়িতে তল্লাশির জন্য পুলিশের নেওয়া ওয়ারেন্ট আইনগতভাবে যথাযথ ছিল কি না এবং সেই প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না। আদালতের পরবর্তী শুনানিতে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা আসতে পারে।
ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার ১১১ বাংলাদেশি, মিশর থেকে ফিরবেন দেশে
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজায় হামাসের কোনো শাসন থাকবে না
কানাডায় আবারও অভিবাসন বাড়াতে চায় সরকার, নভেম্বরে আসছে নতুন পরিকল্পনা
দারিদ্র্য, প্রতারণা আর অঙ্গ পা চার চক্রের ফাঁদে পড়ে নেপালের হোকসে গ্রামের বহু মানুষ একসময় কিডনি বি ক্রি করেছিলেন। দালালদের কেউ কেউ তাদের বোঝাত, একটি কিডনি বি ক্রি করলেও বড় কোনো সমস্যা হবে না, এমনকি কিডনি আবার গজিয়ে উঠবে। বছরের পর বছর চলা এই শো ষ ণের কারণে গ্রামটি পরে ‘কিডনি ভ্যা লি’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। হোকসে গ্রামের বহু পরিবারে কিডনি বি ক্রির অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে এসেছে। আর্থিক সংকটে পড়ে অনেকে দালালদের প্রলোভনে রাজি হন। কারও কারও দাবি, অ পা রে শ নের পর দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যায় পড়েছেন তারা এবং আগের মতো কাজ করতে পারছেন না। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কত মানুষ এইভাবে কিডনি বি ক্রি করেছেন তার নির্ভুল হিসাব করা কঠিন। দালালরা দরিদ্র পরিবারগুলোর অসহায় অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে কিডনি বি ক্রিতে রাজি করাত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অঙ্গ বি ক্রি অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের লেনদেন চলেছে। ভু ক্ত ভো গী দের কেউ কেউ জানিয়েছেন, তারা অঙ্গ বি ক্রির প্রকৃত স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাননি এবং প্রতারণার শিকার হয়েছেন। হোকসে গ্রামের পুরোনো এই অধ্যায় এখনো স্থানীয় মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে। তবে সংকটটি শুধু একটি গ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেপালে অঙ্গ পা চারের নতুন অ ভি যোগও সামনে এসেছে, যেখানে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষদের ভারতে নিয়ে গিয়ে কিডনি অপসারণের অ ভি যোগ উঠেছে। নেপালের সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব লেবার অ্যান্ড মোবিলিটি বা সিইএসএলএএমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে ভালো বেতনের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে নেপালি নাগরিকদের সীমান্ত পার করে ভারতে নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের আটকে রেখে বা চাপ প্রয়োগ করে কিডনি অপসারণের অ ভি যোগ রয়েছে। এমনই একটি ঘটনায় সিন্ধুলি এলাকার এক ব্যক্তি অ ভি যোগ করেন, ২০২৫ সালে চাকরির আশায় ভারতে যাওয়ার পর তাকে প্রায় এক মাস একটি অ্যাপার্টমেন্টে আটকে রাখা হয়। পরে কিডনি অপসারণের কথা জানানো হলে তিনি রাজি হননি। তার অ ভি যোগ, এরপর তাকে জোর করে একটি ক্লিনিকে নিয়ে অ চে ত ন করা হয় এবং তার বাম কিডনি অপসারণ করা হয়। ওই ব্যক্তির দাবি, কিডনির বিনিময়ে তাকে ৬ লাখ রুপি দেওয়ার কথা বলা হলেও দেশে ফেরার সময় তিনি পেয়েছিলেন মাত্র ১০ হাজার রুপি। পরে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তিনি পরিবারকে বিষয়টি জানান এবং নেপালের অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোতে অ ভি যোগ করেন। অন্যদিকে নেপালের অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যেও কিডনি রোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। স্কাই নিউজের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় দেশ ও মালয়েশিয়ায় কাজ করা কিছু নেপালি শ্রমিক দেশে ফিরছেন গুরুতর কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে। তীব্র গরম, পানিশূন্যতা এবং কঠিন কর্মপরিবেশকে সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন গবেষকেরা। হোকসে গ্রামের ‘কিডনি ভ্যা লি’ পরিচয় তাই শুধু অতীতের একটি ভয়াবহ গল্প নয়। এটি দেখায়, দারিদ্র্য, স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সীমিত জ্ঞান এবং পা চার চক্রের প্রতারণা কীভাবে মানুষের শরীরকেও বাণিজ্যের অংশে পরিণত করতে পারে। পুরোনো শো ষ ণের ক্ষত মুছে না যেতেই নতুন অঙ্গ পা চারের অ ভি যোগ নেপালে একই সংকটের ভিন্ন রূপ সামনে আনছে। সূত্র: প্রথম আলো
গাজার পূর্বের ও বর্তমানের ধ্বংসচিত্র তুলে ধরে জরুরি সহায়তার আহ্বান অ্যাঞ্জেলিনা জোলির
‘কিডনি বিক্রি করেও তোকে ডাক্তার বানাব’, বাবার স্বপ্ন পূরণ করে তুরস্কের খ্যাতিমান চিকিৎসক ছেলে
যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলেকে অনুসরণের অভিযোগে এফবিআইয়ের হাতে চীনা নারী গ্রেপ্তার
যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত রয়্যাল এয়ারফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার আশঙ্কায় সেখান থেকে নিজেদের সব বোমারু বিমান প্রত্যাহার করে নিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী। রবিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছেন যে, ওই ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা মার্কিন বোমারু বিমানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পেন্টাগনের এক মুখপাত্র জানান, অভিযানিক নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক গতিবিধির তথ্য নিশ্চিত করা না গেলেও, ফেয়ারফোর্ডে থাকা সব বোমারু বিমান ইতিমধ্যে নিজ ঘাঁটিতে ফিরে গেছে। রবিবার ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে অন্তত ১০টি বি-১ বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে উড়াল দেয়। এর মধ্যে কয়েকটি বিমান নিয়মিত রোটেশনের অংশ হিসেবে মাত্র এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাজ্যে এসেছিল। এত দ্রুততম সময়ে বিমানগুলো প্রত্যাহারের ঘটনাই প্রমাণ করে যে, হুমকিটিকে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন কিছু গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই দ্রুত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, তিন সপ্তাহ আগের একটি নিরাপত্তা সতর্কতার অংশ হিসেবেই গত ২৪ ঘণ্টায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় কমান্ডারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে একটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনার পর, সেন্ট্রাল লন্ডন থেকে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত মোট ছয়জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার পর জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার সঙ্গে তেহরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুললেও ইরান তা সরাসরি অস্বীকার করেছে। লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ঘাঁটিটি কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অভিযানে মার্কিন বোমারু বিমান চলাচলের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফেয়ারফোর্ড থেকে বোমারু বিমান প্রত্যাহার করা হলেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি বজায় রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি মোতায়েন করা বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট এবং ইউএসএস ম্যালকিন আইল্যান্ড উভচর যুদ্ধজাহাজ বহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোচ্ছে। সাত হাজারের বেশি নৌসেনা ও দুই হাজার মেরিন সেনাসহ এই বিশাল বহরটি অঞ্চলটিতে পৌঁছালে চলতি অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা তিনে পৌঁছাতে পারে।
ইয়েমেনে হুতিদের ঠেকাতে সৌদি-সমর্থিত সরকারকে পাকিস্তানের বিপুল অ স্ত্র সহায়তা
জাপানের ওকিনাওয়ায় নারী হ ত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মার্কিন মেরিন সেনা গ্রেপ্তার