আটতলা থেকে নিচে পড়ে গিয়েও উঠে ফোনে ব্যস্ত নারী, রহস্য ঘিরে চাঞ্চল্য
কম্বোডিয়ার সিহানুকভিলে একটি ভবনের আটতলা থেকে পড়ে পাশের বাড়ির টিনের ছাদে আছড়ে পড়ার পরও এক নারীর উঠে বসা এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভোরের দিকে ঘটনাটি ঘটে। তবে ওই নারীর পরিচয়, তিনি কীভাবে নিচে পড়লেন এবং পরে তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গভীর রাতে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দারা বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরে একটি বাড়ির ঢেউটিনের ছাদের ওপর ওই নারীকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিএনবি নিউজের তথ্য উদ্ধৃত করে একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি পাশের একটি ভবনের আটতলা থেকে নিচে পড়েছিলেন। প্রচণ্ড আঘাতে টিনের ছাদের একটি অংশও দেবে যায় বলে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে।
ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন প্রথমে আশঙ্কা করেছিলেন, এত ওপর থেকে পড়ে ওই নারী হয়তো গুরুতর আহত হয়েছেন বা তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু প্রায় ৩০ মিনিট পর পরিস্থিতি বদলে যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি চেতনা ফিরে পেয়ে নিজেই উঠে বসেন। এরপর মোবাইল ফোন বের করে প্রায় ২০ মিনিট সেটি ব্যবহার করতে থাকেন।
ঘটনার এই অংশের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। প্রকাশিত ভিডিওতে ওই নারীকে টিনের ছাদের ওপর নড়াচড়া করতে এবং পরে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াতে দেখা যায়। নিচে বেশ কয়েকজন মানুষ অবস্থান করছিলেন এবং তাঁদের কয়েকজনকে আলো ফেলে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত ওই নারী নিজেই ছাদ থেকে নিচে নেমে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল কি না অথবা পরে চিকিৎসা নিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। ফলে ঘটনাস্থল থেকে হেঁটে চলে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনি কোনো ধরনের আঘাত পাননি।
কী কারণে তিনি ভবন থেকে নিচে পড়েছিলেন, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। এটি দুর্ঘটনা ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা ছিল, সে বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত কোনো বক্তব্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাঁর নাম, বয়স কিংবা নাগরিকত্বও প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়ালেও ওই নারীর শারীরিক অবস্থা বা পড়ে যাওয়ার কারণ নিয়ে অনুমান করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো নেই। এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে, সিহানুকভিলে ওই নারী উঁচু ভবন থেকে একটি টিনের ছাদের ওপর পড়েছিলেন, কিছু সময় পর উঠে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন এবং পরে নিজেই সেখান থেকে নেমে চলে যান। তাঁর পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে আর কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা এখন গুরুত্বপূর্ণ অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সোমবার জানিয়েছেন, দুই দেশ আলোচনার এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে নতুন করে ছাড় দেওয়া বা নেওয়া উভয় পক্ষের জন্যই অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। দুই দেশের লক্ষ্য ছিল বাজারে প্রবেশের বাধা কমানো, বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ভারসাম্যসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ভারতের অর্থমন্ত্রী নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, আলোচনার বর্তমান অবস্থান থেকে আরও এগিয়ে যাওয়া দুই দেশের জন্যই কঠিন। তিনি অবশ্য এটাও জানিয়েছেন, আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি এবং সুযোগ থাকলে উভয় পক্ষই আবার সমঝোতার জায়গা খুঁজে দেখতে পারে। বাণিজ্য আলোচনার সবচেয়ে বড় জটিলতার একটি হলো শুল্ক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য শুল্ককে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ভারতও মার্কিন বাজারে বড় রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় এই নীতির প্রভাব দুই দেশের আলোচনায় পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রুশ তেল কেনার প্রশ্ন। ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার জ্বালানি আয়ের ওপর চাপ বাড়াতে চায় এবং রুশ তেল কেনা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার মতো পদক্ষেপও নিয়েছে। ফলে ভারতের জন্য বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ভারতের অবস্থান হলো, রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক হিসেবে ভারতকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে কিনতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে ভারতের অর্থনীতি, পরিবহন ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচেও তার প্রভাব পড়ে। রাশিয়া থেকে তুলনামূলক সুবিধাজনক দামে তেল কেনার সুযোগ ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপের কারণে দিল্লিকে এখন একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মার্কিন বাজারে বাণিজ্যিক সুবিধা—দুই দিকই বিবেচনা করতে হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ হলো দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যে ভারতের পক্ষে বড় উদ্বৃত্ত রয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ভারতের কাছ থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করে, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলকভাবে কম পণ্য আমদানি করে। ওয়াশিংটন এই ব্যবধান কমাতে চায়। ভারতের অর্থমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন যে বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য শুধু শুল্ক আরোপ করা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। আলোচনার মাধ্যমে উভয় দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে সমাধান খোঁজা উচিত বলে ভারতের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারও গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি বলেন, আলোচনা এখনো চলছে, তবে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আরও সময় প্রয়োজন।
আটতলা থেকে নিচে পড়ে গিয়েও উঠে ফোনে ব্যস্ত নারী, রহস্য ঘিরে চাঞ্চল্য
এপস্টেইন নথি তল্লাশি নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে শরণাপন্ন অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর
ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার ১১১ বাংলাদেশি, মিশর থেকে ফিরবেন দেশে
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজায় হামাসের কোনো শাসন থাকবে না। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় নিহতদের স্মরণে সোমবার, ৫ অক্টোবর জেরুজালেমের মাউন্ট হার্জল সামরিক সমাধিক্ষেত্রে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ওই হামলায় জড়িত এবং জিম্মিদের আটকে রাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি। হামাসের নেতৃত্বাধীন ৭ অক্টোবরের হামলার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার ইসরায়েলে জাতীয়ভাবে স্মরণ দিবস পালন করা হয়। হামলা শুরুর সময় সকাল ৬টা ২৯ মিনিট থেকে সরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এই রাষ্ট্রীয় স্মরণ অনুষ্ঠানেই গাজার ভবিষ্যৎ শাসন নিয়ে নিজের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেন নেতানিয়াহু। স্মরণসভায় নেতানিয়াহু বলেন, গত তিন বছরে ইসরায়েল বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে। তবে এখনো কিছু কাজ বাকি রয়েছে এবং সেগুলো সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপরই তিনি স্পষ্টভাবে জানান, গাজায় হামাসের শাসন থাকতে দেওয়া হবে না। নেতানিয়াহু আরও জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবরের হামলায় যারা অংশ নিয়েছিল অথবা জিম্মিদের আটকে রাখার সঙ্গে যারা যুক্ত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাঁর এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার শাসনব্যবস্থা কেমন হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা সামনে এলেও বাস্তবে বিষয়টির চূড়ান্ত সমাধান এখনো হয়নি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালায়। এএফপির হিসাবে, ইসরায়েলের সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে ওই হামলায় ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন। একই সময় ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ৪৪ জনকে মৃত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলার পর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে সেখানে ৭৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও ১ হাজার ৪৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা সামনে আসতে শুরু করেছে। তবে গাজার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ভবিষ্যতে কার হাতে থাকবে, সেই প্রশ্ন এখনো পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। এই পরিস্থিতিতেই নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ ব্যবস্থায় হামাসের শাসন থাকবে না। ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার পর গাজার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি অঞ্চলে সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরায়েল। এর মধ্যে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতও রয়েছে। সোমবারের স্মরণসভায় হিজবুল্লাহ নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তিনি জানান, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে লেবাননের সঙ্গে ভবিষ্যতে শান্তির সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হবে। লেবাননের অধিকাংশ মানুষ ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চায় বলেও দাবি করেন তিনি। স্মরণসভার বক্তব্যে ইরানের নেতৃত্ব নিয়েও কথা বলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তেহরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে বলেও দাবি করেন নেতানিয়াহু। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ শুরু হয়। সেই সংঘাতের প্রেক্ষাপটেও সোমবারের বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে নিজের সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন নেতানিয়াহু। তিন বছর আগে ৭ অক্টোবরের হামলা ইসরায়েল ও গাজার পরিস্থিতিকে বড় ধরনের সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এর মধ্যেই যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। হামাসের ভূমিকা, ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। নেতানিয়াহুর সোমবারের বক্তব্যে তাঁর সরকারের অবস্থান আবারও সামনে এসেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবরের হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি গাজায় হামাসের শাসনের অবসান নিশ্চিত করতে চান তিনি। তবে গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার পূর্ণ কাঠামো কী হবে, সে বিষয়ে স্মরণসভার বক্তব্যে বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা তুলে ধরেননি। ফলে তিন বছর পূর্তির রাষ্ট্রীয় স্মরণসভায় নেতানিয়াহুর বক্তব্যের প্রধান বার্তা ছিল গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থান। যুদ্ধ-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চললেও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গাজায় হামাসের কোনো শাসন থাকবে না। সূত্র: এএফপি
কানাডায় আবারও অভিবাসন বাড়াতে চায় সরকার, নভেম্বরে আসছে নতুন পরিকল্পনা
কিডনি আবার হবে’ বলে অঙ্গ বি ক্রি, দালালের এমন কথায় যে গ্রাম হয়ে ওঠে ‘কিডনি ভ্যালি’
গাজার পূর্বের ও বর্তমানের ধ্বংসচিত্র তুলে ধরে জরুরি সহায়তার আহ্বান অ্যাঞ্জেলিনা জোলির
গুরুতর অসুস্থ বাবার জীবন বাঁচাতে লড়াই করছেন এক চিকিৎসক সন্তান। ৬০ বছর বয়সী বাবা হৃদরোগ ও কিডনি বিকল হয়ে ধুঁকছিলেন। নেপালে চিকিৎসা সম্ভব না হওয়ায় তাঁকে তুরস্কে নিয়ে যান ছেলে। টানা ২৫ দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে চোখ খোলেন বাবা। ছেলেকে দেখে হাসিমুখে বলেন, "তুই আমাকে বাঁচিয়ে নিলি।" এই চিকিৎসক ছেলের নাম ডা. বিনোদ সাহ। বাবার জীবন বাঁচানোর এই মুহূর্তটি তাঁর কাছে অন্য যেকোনো সফল চিকিৎসার চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা এই মানুষটিই একসময় পড়াশোনায় অমনোযোগী এক দুষ্টু ছেলেকে জোর করে চিকিৎসক বানিয়েছিলেন। ডা. বিনোদ সাহের শৈশব কেটেছে নেপালের সিরাহা জেলার গোলবাজারে। বইপত্রের চেয়ে খেলাধুলা আর দুষ্টুমিতেই তাঁর বেশি আগ্রহ ছিল। কিন্তু তাঁর দরিদ্র বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে চিকিৎসক বানাবেন। বাবা ছেলেকে কড়া শাসনে রাখতেন, এমনকি পড়াশোনার জন্য তাঁকে বোর্ডিং স্কুলেও পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনচেতা বিনোদ মাত্র দুই মাস পরেই সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। তবে বাবা হাল ছাড়েননি। তিনি বলেছিলেন, "প্রয়োজনে কিডনি বিক্রি করে দেব, তবু তোকে ডাক্তার বানাব।" বাবার এই অদম্য জেদ আর কঠোর শাসনই শেষ পর্যন্ত বিনোদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবার অকৃতকার্য হলেও বাবার উৎসাহে দ্বিতীয়বার মেধা তালিকায় ২৩তম স্থান অধিকার করে তুরস্কে পড়ার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি পান বিনোদ। কিন্তু সেখানে গিয়েও তাঁকে নতুন সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয়। ভাষা না জানা এবং আর্থিক সংকটের মাঝেও তিনি তুর্কি ভাষা শিখে নেন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে টানা তিন বছর নিজের ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে শিশু চিকিৎসায় উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে তিনি তুরস্কের হ্যাসেটেপ ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেন এবং নবজাতক চিকিৎসায় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গবেষক হিসেবে স্বীকৃতি পান। ২০১৫ ও ২০২৪ সালে তুরস্ক সরকার তাঁকে 'বর্ষসেরা চিকিৎসক' সম্মাননায় ভূষিত করে। চিকিৎসক হিসেবে অসংখ্য শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছেন ডা. বিনোদ। একবার টানা ৪৮ মিনিট সিপিআর দিয়ে এক নবজাতককে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন তিনি। বিদেশে তুমুল সফল হলেও মাতৃভূমি নেপালের প্রতি তাঁর টান কখনোই কমেনি। নেপালের শিশুদের জন্য আধুনিক চিকিৎসার আশায় ২০১৬ সালে দেশে ফিরে তিনি গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে দেশের প্রথম পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) প্রতিষ্ঠা করেন। তবে নেপালের চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক হস্তক্ষেপের কারণে তিনি পরবর্তীতে পুনরায় তুরস্কে ফিরে যান এবং সেখানে একটি আধুনিক শিশু ক্লিনিক গড়ে তোলেন। জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রায় ডা. বিনোদ সাহ প্রমাণ করেছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে যেকোনো বাধাই জয় করা সম্ভব। যে বছর তিনি তুরস্কে তাঁর বাবার প্রাণ বাঁচান, সে বছরই তিনি বর্ষসেরা চিকিৎসকের পুরস্কার নিচ্ছিলেন। হুইলচেয়ারে বসে সেই দৃশ্য দেখে তাঁর বাবা বলেছিলেন, "এখন মারা গেলেও আমার কোনো আক্ষেপ নেই। আমার ছেলে আমাকে বাঁচিয়েছে, আমার স্বপ্ন আজ সত্যি হয়েছে।" দুষ্টু ছেলে থেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসক হয়ে ওঠার এই যাত্রাকে বিনোদ তাঁর বাবার প্রতিই উৎসর্গ করেন। তাঁর ভাষায়, "স্বপ্ন দেখার চোখগুলো ছিল আমার বাবার, আর সেই স্বপ্ন পূরণের পথে হাঁটার পা ছিল আমার।"
যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলেকে অনুসরণের অভিযোগে এফবিআইয়ের হাতে চীনা নারী গ্রেপ্তার
যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হা মলার আশঙ্কা, সব বোমারু বিমান ফিরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র