লন্ডনে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে ডিনারে মেগান মার্কেল, ছবি ভাইরাল
যুক্তরাজ্যে ফেরার পর লন্ডনে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দেখা গেল ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলকে। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী পাকিস্তানি শিক্ষা অধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে ডিনারে অংশ নেন তিনি। লন্ডনের অভিজাত মেফেয়ার এলাকার পাঁচ তারকা হোটেল ক্ল্যারিজেসে তাঁদের একসঙ্গে সময় কাটানোর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন পর দুই পরিচিত ব্যক্তিত্বের এই সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেরও নজর কেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী মেগান মার্কেল এবং ২৯ বছর বয়সী মালালা ইউসুফজাইকে ক্ল্যারিজেস হোটেলের একটি রেস্টুরেন্টে একসঙ্গে রাতের খাবার খেতে দেখা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন একটি টেবিলে মুখোমুখি বসে কথা বলছেন। তাঁদের পাশের টেবিলে বসা এক ব্যক্তি ভিডিওটি ধারণ করে অনলাইনে প্রকাশ করেন। পরে সেটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেগান মার্কেল সাদা রঙের পোশাক পরেছিলেন। অন্যদিকে মালালার পরনে ছিল হালকা বাদামি রঙের কোট। রাতের খাবারের সময় দুজনকে স্বাভাবিক ও আন্তরিকভাবে কথা বলতে দেখা যায়। তবে তাঁদের আলোচনার বিষয়বস্তু জানা যায়নি।
মেগান ও মালালার এই সাক্ষাৎ অবশ্য নতুন কোনো পরিচয়ের সূচনা নয়। এর আগেও নারী শিক্ষা ও মেয়েদের অধিকার নিয়ে একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা।
২০২০ সালের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনলাইন আলোচনায় মালালার সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন মেগান মার্কেল ও তাঁর স্বামী প্রিন্স হ্যারি। করোনাভাইরাস মহামারির সময় অনুষ্ঠিত সেই আলোচনায় বিশ্বজুড়ে মেয়েদের শিক্ষার অধিকার এবং তাদের সামনে থাকা প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
ওই আলোচনায় মেগান ও হ্যারি নিজেদের পারিবারিক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছিলেন। বিশেষ করে মহামারির সময় ঘরে থাকার ফলে সন্তান আর্চির বেড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন তাঁরা।
মালালা সে সময় জানিয়েছিলেন, মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে তাঁর ও মেগানের দৃষ্টিভঙ্গিতে মিল রয়েছে। শিক্ষার সুযোগ বাড়লে শুধু মেয়েরা নয়, পুরো সমাজ উপকৃত হয় বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
ছয় বছর পর লন্ডনে তাঁদের আবার একসঙ্গে দেখা গেল। তবে এবারের সাক্ষাৎ কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির অংশ ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নতুন কোনো যৌথ উদ্যোগ বা প্রকল্প নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেছেন, এমন তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে মেগান মার্কেলের লন্ডনে উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে তাঁর সাম্প্রতিক যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার কারণে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পিপলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট প্রিন্স হ্যারি ও তাঁদের দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি এবং প্রিন্সেস লিলিবেটকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফেরেন মেগান।
কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করছিলেন তাঁরা। বর্তমানে যুক্তরাজ্যেও সময় কাটাচ্ছেন এই দম্পতি। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে তাঁদের বাসভবনও রয়েছে।
২০২০ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারের নিয়মিত দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর মেগান ও হ্যারি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন। এরপর রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক এবং যুক্তরাজ্যে যাতায়াত নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যে ফেরার পর মেগানকে তুলনামূলক কম প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। তবে পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনদের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে সময় কাটানোর খবর প্রকাশিত হয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অক্সফোর্ডশায়ারে মার্কিন টেলিভিশন উপস্থাপক এলেন ডিজেনারেস এবং তাঁর স্ত্রী পোর্টিয়া ডি রসির সঙ্গে দেখা করেন মেগান। তাঁরা বারফোর্ডের কাছে একটি রেস্টুরেন্টে সময় কাটান বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়।
এরপর ২ অক্টোবর প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে কটসওল্ডস এলাকার ফকল্যান্ড আর্মস নামে একটি পাবেও তাঁকে দেখা যায়।
তবে লন্ডনে ফেরার পর মালালার সঙ্গে ডিনারের ঘটনাটিকেই তাঁর প্রথম প্রকাশ্যে আসা লন্ডন সফর হিসেবে উল্লেখ করেছে পেজ সিক্স ও পিপল।
অন্যদিকে মালালা ইউসুফজাই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। পাকিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে আন্দোলনের কারণে ২০১২ সালে তালেবানের হামলার শিকার হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য তাঁকে যুক্তরাজ্যে নেওয়া হয়েছিল।
পরে তিনি যুক্তরাজ্যেই পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। নারী শিক্ষা ও মানবাধিকারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান মালালা। তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ী হিসেবে পরিচিত।
বর্তমানে মালালা ফান্ডের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
অন্যদিকে মেগান মার্কেলও বিভিন্ন সময়ে নারী অধিকার, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন। ফলে তাঁদের আগের পরিচয় এবং সামাজিক কাজের অভিন্ন ক্ষেত্রের কারণে এবারের সাক্ষাৎ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে লন্ডনের ক্ল্যারিজেস হোটেলে তাঁদের সাক্ষাতের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পেজ সিক্স, পিপল এবং ইউএস উইকলির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আপাতত এটি দুই পরিচিত ব্যক্তিত্বের ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ বলেই মনে হচ্ছে। নতুন কোনো সহযোগিতা বা আনুষ্ঠানিক প্রকল্পের ঘোষণা আসেনি।
লন্ডনে মেগান মার্কেলের সাম্প্রতিক উপস্থিতি এবং মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে তাঁর পুনর্মিলন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে অতীতে তাঁদের যৌথ কাজের কারণে ভবিষ্যতে আবারও একসঙ্গে কোনো উদ্যোগে দেখা যাবে কি না, সে বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreদক্ষিণ কোরিয়া বৃহস্পতিবার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি তাদের প্রথম হাইপারসনিক অস্ত্রের সফল উড্ডয়ন পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। শব্দের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি গতিতে ছুটতে সক্ষম এই অত্যাধুনিক অস্ত্রটি শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সহজেই ফাঁকি দিতে পারে। এর মাধ্যমে সিউল এমন এক সামরিক সক্ষমতার দিকে এগিয়ে গেল, যা কোরীয় উপদ্বীপের যুদ্ধ-সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া জাপানের কাছাকাছি সাগরে নিজস্ব হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর দক্ষিণ কোরিয়া এই পদক্ষেপ নিলেও, পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। এক বিবৃতিতে তিনি একে দেশের প্রচলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে পরীক্ষাটি ঠিক কোথায় পরিচালিত হয়েছে, তা নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, অস্ত্রটি পরিকল্পিত উচ্চতায় এর বুস্টার রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নিচে নেমে আসে এবং লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানার আগে উল্লম্ব ও অনুভূমিক উভয়ভাবেই সফলভাবে দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়। এটি পুরোপুরি প্রস্তুত হলে 'কোরীয় উপদ্বীপের অপারেশন থিয়েটারে' যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে অতর্কিত হামলা চালাতে সক্ষম হবে। প্রেসিডেন্ট লি "নিজেদের শক্তির মাধ্যমেই নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার" ওপর জোর দেন এবং একই দিনে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী হিউনমু-৫ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও পরিদর্শন করেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত আন্তঃকোরীয় সীমান্তের কাছে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ড এই ঘটনার জন্য সরাসরি উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে। তবে পিয়ংইয়ং সেই অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো সিউলের ক্ষমাপ্রার্থনার দাবি নিয়ে উপহাস করেছে। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি সম্প্রসারণের পাশাপাশি সিউলের প্রতি ক্রমশ কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। কিম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বানও প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা ২০১৯ সালে ভেঙে গিয়েছিল। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই তাদের "বৈরী" নীতি ত্যাগ করতে হবে এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি থেকে সরে আসতে হবে। এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রেসিডেন্ট লি-এর জন্য একটি বড় ধাক্কা। কারণ তিনি শুরু থেকেই উত্তর কোরিয়ার সাথে সম্পৃক্ততার পক্ষে এবং সীমান্তে সেনা আহতের ঘটনায় জনগণের ক্ষোভ সত্ত্বেও উত্তরের প্রতি তার বক্তব্যকে যথেষ্ট নমনীয় রেখেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে লি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোরও আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে, কিম জং উনের সাথে 'খুব ভালো সম্পর্কের' কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে একটি বড় সামরিক মহড়া একতরফাভাবে কমিয়ে আনার পর সিউলের এই স্বনির্ভরতার তাগিদ আরও বেড়েছে। এর আগে, গত ৩ অক্টোবর উত্তর কোরিয়া একটি হাইপারসনিক ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ মিসাইল উৎক্ষেপণ করে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী ১,০০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ নিয়ে মিত্রদেশগুলোর মধ্যেই মতভেদ দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি তারা এটিকে ৭০০ কিলোমিটার উড়তে দেখেছে, অন্যদিকে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এর দূরত্ব ৬৮০ কিলোমিটার বলে মূল্যায়ন করেছে। উত্তর কোরিয়ার নেতার প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত এই দুই মিত্র দেশের ভিন্ন ভিন্ন হিসাব নিয়ে উপহাস করে দাবি করেন, তারা এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র সঠিকভাবে ট্র্যাক করতেই অক্ষম এবং তাই এটি মাঝপথে ধ্বংস করা তাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।
টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় ঠিকাদার, বিপদে শ্রবণ প্রতিবন্ধী আলী দম্পতির পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন স্বেচ্ছাসেবীরা
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কার্সন, সাফল্যের ঘোষণায় বিস্মিত লেখক
লন্ডনে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গে ডিনারে মেগান মার্কেল, ছবি ভাইরাল
ভারতের তামিলনাড়ুতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা এক তরুণের ওমরাহ পালনের খরচ তাঁর হিন্দু পরিবার বহন করেছে বলে সামাজিক মাধ্যমে একটি ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচারিত বিবরণ অনুযায়ী, ছেলের ধর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে বাধা না দিয়ে পরিবার তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়েছে। এমনকি পবিত্র মক্কায় ওমরাহ পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ খরচও দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি আলোচনায় এসেছে। ছবিটি বিমানবন্দরে ওই তরুণকে বিদায় জানানোর মুহূর্তের বলে দাবি করা হচ্ছে। ছবির সঙ্গে দেওয়া বিবরণে বলা হয়েছে, পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি নিরাপদ যাত্রার জন্য প্রার্থনাও করেছেন। প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর একটি হিন্দু পরিবারে জন্ম নেওয়া তরুণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্ম পরিবর্তনের পরও পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বজায় থাকে। পরিবারের সদস্যরা তাঁর নতুন ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখানোর সিদ্ধান্ত নেন। এরই ধারাবাহিকতায় তরুণটি ওমরাহ পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করলে পরিবার তাঁর যাতায়াতের খরচ বহন করে বলে দাবি করা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি ধর্মীয় সহাবস্থান ও পারিবারিক সম্প্রীতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। ভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যেও পারিবারিক সম্পর্ক এবং একে অন্যের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে প্রচারিত বিবরণে ওই তরুণ কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তামিলনাড়ুর কোন এলাকার বাসিন্দা তাঁরা, কবে ওই তরুণ ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং কখন ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন, সে সম্পর্কেও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে পরিবারের পক্ষ থেকে ভ্রমণের সম্পূর্ণ খরচ বহনের দাবিটিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বিমানবন্দরের ছবিটির মূল উৎস ও তোলার সময় সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি প্রশংসিত হলেও এর বিস্তারিত বিবরণ এখনো যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। ধর্মীয় পরিচয়ের পার্থক্য সত্ত্বেও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্পর্ক বজায় রাখার যে বার্তা ছবিটির মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, সেটিই মূলত সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
রাশিয়ার প্রযুক্তি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের নজিরবিহীন হা ম লা, ইউক্রেনে রুশ হা ম লায় নি হ ত বহু মানুষ
প্রশিক্ষণকেন্দ্র বলছে চীন, লাওসে স্যাটেলাইটে মিলল যুদ্ধবিমান ও সামরিক যান
লেবাননে যু দ্ধাহতদের সহায়তায় ইরান থেকে ২০ কোটি ডলার পেল হিজবুল্লাহ
যুক্তরাষ্ট্রের থার্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্সের এক সদস্যের বিরুদ্ধে জাপানি নারী হত্যার অভিযোগ ওঠার পর জাপানের ওকিনাওয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ ও সান্ধ্য আইন বা নাইট কারফিউ জারি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সেনাদের জন্য মদ্যপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি শৃঙ্খলাবিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণও বাধ্যতামূলক করেছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহা শহরের একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী জাপানি নারী অ্যানা ইয়াগিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ওই নারীর মানিব্যাগ ও ব্যাকপ্যাক চুরিরও অভিযোগ রয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের জেরে ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ড নামের ২০ বছর বয়সী এক মার্কিন ল্যান্স কর্পোরালকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। এই ঘটনার পরই মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। থার্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্সের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় জনগণের আস্থা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপগুলো অপরিহার্য। সেনাসদস্যদের আচরণগত পুনঃপ্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলার স্বার্থে ওকিনাওয়ায় মার্কিন বাহিনীর সব ধরনের কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে এবং প্রতিদিন মধ্যরাত থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত নাইট কারফিউ বলবৎ থাকবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত নির্মম আখ্যা দিয়ে মার্কিন সরকারের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি ভবিষ্যতের জন্য কঠোর ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। জাপানে মোতায়েন প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন মেরিন সেনার একটি বড় অংশই ওকিনাওয়ায় অবস্থান করে। দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন সেনাদের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অপরাধমূলক কাজের জেরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ড সেই পুরনো ক্ষোভকে নতুন করে উসকে দিয়েছে, যা পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রে কুস্তি বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে যাওয়ার আগে ৯ ভারতীয় কুস্তিগীরের ভিসা বাতিল
যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটনে শ্রবণ-প্রতিবন্ধী দম্পতির ভেঙে পড়া বাড়ি নতুন করে গড়লেন শত স্বেচ্ছাসেবী