ভারতের আসল ক্ষমতা কি আম্বানির হাতে, মোদিকে প্রশ্ন করলেন ইলন মাস্ক
ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক চালুর অনুমোদন নিয়ে দেশটির প্রভাবশালী শিল্পপতি আম্বানি পরিবারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর পথে বাধা সৃষ্টি করছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের প্রকৃত ক্ষমতা আম্বানির হাতে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে ভারত সরকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবার অনুমোদন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ডট ইন, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ভারতে স্টারলিংক চালুর চেষ্টা করছে মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। প্রাথমিক অনুমোদন পেলেও নিরাপত্তাসংক্রান্ত চূড়ান্ত ছাড়পত্র ও স্পেকট্রাম বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ক্ষোভ প্রকাশ করে মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতের কয়েকজন ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় স্টারলিংকের কার্যক্রম আটকে দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, এর ফলে বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
পরদিন আরেকটি পোস্টে সরাসরি আম্বানি পরিবারের প্রসঙ্গ তোলেন মাস্ক। তিনি জানান, স্টারলিংক বিশ্বের ১৬৫টির বেশি দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং গত পাঁচ বছর ধরে ভারতের সব আইন ও শর্ত পূরণের চেষ্টা করছে। তা সত্ত্বেও চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় তিনি প্রশ্ন করেন, ভারতের আসল ক্ষমতা কি আম্বানির হাতে?
অন্য এক ব্যবহারকারীর পোস্টের জবাবে এই মন্তব্য করেন মাস্ক। তবে আম্বানি পরিবারের কোন সদস্যকে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি। ভারতের টেলিকম খাতে মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স জিও এবং ভারতী এয়ারটেলের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারেও প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবসায়িক আগ্রহ রয়েছে।
রিলায়েন্সের জিও স্পেস টেকনোলজি স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবা নিয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে সুনীল মিত্তালের ভারতী এয়ারটেল গ্রুপের বিনিয়োগ রয়েছে ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবে। ফলে স্টারলিংক ভারতে কার্যক্রম শুরু করলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। তবে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি অনুমোদন আটকে দিয়েছে, এমন কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করেননি মাস্ক।
মাস্কের মন্তব্যের পর ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানায়, স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবার অনুমোদনের জন্য অভিন্ন নিয়ন্ত্রক কাঠামো রয়েছে। ইতোমধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরুর আগে সবাইকে নির্ধারিত নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হবে।
বিতর্কে যুক্ত হন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও। মাস্কের পোস্টের জবাবে তাঁকে ভারতে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করেন, আরেকজনের কথা জানতে পারলে তিনি আরও অবাক হবেন। তবে ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি রাহুল। জবাবে মাস্ক তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে স্টারলিংকের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তাসংক্রান্ত কিছু শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ব্যবহারকারীর তথ্য, যোগাযোগব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ এবং অনুমোদনহীন যন্ত্রপাতি ব্যবহার ঠেকানোর বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে চায়। বিদেশ থেকে কেনা স্টারলিংক যন্ত্র ভারতে ব্যবহার এবং ভারত থেকে বিদেশে নেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণের শর্ত রয়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে স্টারলিংকের নামসংবলিত একটি যন্ত্র উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়। তবে মাস্ক দাবি করেন, ভারতের ওপর স্টারলিংকের স্যাটেলাইট সংকেত বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সেখানে প্রতিষ্ঠানটির সেবা ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয় বলে তাঁর বক্তব্য।
স্পেসএক্সের নির্বাহী কর্মকর্তা লরেন ড্রেয়ার জানিয়েছেন, ভারতে ইতোমধ্যে ২০টি গেটওয়ে স্টেশন স্থাপন করেছে স্টারলিংক। এসব স্থাপনার সঙ্গে শত শত অ্যান্টেনা যুক্ত রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলে প্রতিষ্ঠানটি সেবা চালুর জন্য প্রস্তুত। তাঁর প্রত্যাশা, ২০২৭ সালের মধ্যে ভারতে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হতে পারে।
অন্যদিকে ভারতী এয়ারটেলের প্রতিষ্ঠাতা সুনীল মিত্তালও জানিয়েছেন, ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবের কার্যক্রম শুরুর জন্য অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে। ফলে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালুর নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া শুধু স্টারলিংকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়।
স্টারলিংক পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইন্টারনেট সরবরাহ করে। ভারতের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার রয়েছে। ডেলয়েটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড বাজারের মূল্য প্রায় ১৯০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।
তবে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত স্টারলিংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ভারত সরকারের দাবি, সব প্রতিষ্ঠানকে একই নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে। অন্যদিকে মাস্কের অভিযোগ, ব্যবসায়িক স্বার্থের কারণে স্টারলিংকের অনুমোদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি।
সূত্র: রয়টার্স
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রার্থনা চলাকালে একটি খ্রিস্টান পরিবারের বাড়িতে হা মলা, ভাঙচুর ও মা রধরের অভিযোগ উঠেছে শতাধিক মানুষের একটি দলের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, বাড়িতে প্রবেশ করে সদস্যদের হেনস্তা করার পাশাপাশি তাদের জোর করে ধর্মীয় স্লো গান দিতে বাধ্য করা হয়। চলে যাওয়ার আগে বাড়ির ভেতরে একটি তুলসী গাছও রেখে যায় দলটি। ঘটনার সময় পরিবারের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরও হা মলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ধলহরা গ্রামে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন বিকেলে সোনালি ও বাপি রানা বাড়িতে প্রার্থনার আয়োজন করছিলেন। এ সময় প্রায় ১০০ জনের একটি দল তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। ‘বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষেবা’র তথ্য অনুযায়ী, বাড়িতে ঢুকে দলটি পরিবারের সদস্যদের মা রধর করে এবং ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। পরে বাড়ির ভেতরে একটি তুলসী গাছ রেখে যায় তারা। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের দিয়ে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্লো গান দেওয়ানো হয় বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। ঘটনার সময় পরিবারের এক কিশোর সদস্যও রেহাই পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বয়স ১৫ বছর। তবে পরিবারের সদস্যদের আঘাতের ধরন কিংবা তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর পরিবারটি আইনি সহায়তা পাওয়ার আশায় থানায় যায়। অভিযোগ দায়েরের জন্য চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে তারা কেশপুর থানায় উপস্থিত হয়। কিন্তু ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করার পরও তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর বা প্রাথমিক মামলা নথিভুক্ত করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। ‘বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষেবা’র আরও অভিযোগ, থানার ভেতরে ও বাইরে পরিবারটিকে প্রাণনাশের হু মকি দেওয়া হয়। ফলে ঘটনার পর পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রে প্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য কিংবা তদন্তের অগ্রগতিও স্পষ্ট নয়। প্রার্থনার সময় একটি পরিবারের বাড়িতে এমন ঘটনা ঘটার অভিযোগ স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের ওপর শারীরিক নি র্যাতন, ধর্মীয় স্লো গান দিতে বাধ্য করা এবং থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার দাবিগুলো বিষয়টিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। তবে অভিযোগের সব দিক এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, পরিবারের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে কি না এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।
ভারতের আসল ক্ষমতা কি আম্বানির হাতে, মোদিকে প্রশ্ন করলেন ইলন মাস্ক
স্টার্টআপের চাপে পড়েছিলেন রাস্তায়, পরে ৮২৫ মিলিয়ন ডলারের কোম্পানি গড়লেন ভারতীয় তরুণ
নিজেদের বিয়ের ভোজ বাদ দিয়ে ৪ হাজার সিরীয় শরণার্থীকে খাওয়ালেন তুর্কি নবদম্পতি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। একই সঙ্গে ইমাম মাহদীর দ্রুত পুনরাগমনের জন্য ধর্মীয় প্রার্থনা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, তাঁর দোয়ার বরকতে ইরানের নিরাপত্তা, শক্তি ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি। শুক্রবার ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি বার্তাটি প্রকাশ করে। মোজতবা খামেনি তাঁর বার্তায় নিরাপত্তাকে মহান আল্লাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি দেশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য নিরাপত্তা অপরিহার্য। ইরানের বড় শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম ও সীমান্তবর্তী এলাকায় এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, সমুদ্রসীমা, বিস্তীর্ণ সমভূমি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষায় তাঁদের সাহসিকতা এবং আত্মত্যাগের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষায়, ইরানের পুলিশ বাহিনী দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এই বাহিনীর সদস্যরা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বই পালন করছেন না, বরং বিভিন্ন সংকট ও সংঘাতের মধ্যেও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে খামেনি অভিযোগ করেন, ইরানের পুলিশ বাহিনীকে দুর্বল করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের সদস্যরাও হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব হামলা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি বলে মন্তব্য করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার কারণে পুলিশ বাহিনীর স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হলেও সদস্যরা বিকল্প উপায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমনকি পুলিশ স্টেশন ও স্থায়ী কর্মস্থলের বাইরে রাস্তায় এবং যানবাহনের মধ্য থেকেও কাজ চালিয়ে গেছেন। খামেনি বলেন, দেশের নিরাপত্তার জন্য যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের অনেক ত্যাগ সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না। অথচ জনগণের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার পেছনে তাঁদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, অনেক সময় নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম যথাযথ স্বীকৃতি পায় না। তবুও তাঁদের নিষ্ঠা ও দায়িত্ব পালনের মূল্য রয়েছে। বার্তায় জনগণের সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যরা সমাজেরই অংশ। সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সদস্যদের মতো তাঁরাও সাধারণ মানুষের মধ্য থেকেই উঠে এসেছেন। সে কারণে জনগণের আস্থা অর্জন ও তা ধরে রাখা পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি। খামেনির মতে, পুলিশ সদস্যদের আচরণ ও দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি এমন হওয়া উচিত, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাহিনীটির প্রতি বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে ইরানের পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য শুধু জনবল বৃদ্ধি কিংবা প্রচলিত সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো ও তথ্য ব্যবস্থাপনায়ও উন্নতি আনতে হবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি। খামেনি বলেন, তথ্য বিশ্লেষণে পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা গেলে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে মানবসম্পদ, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের উন্নয়ন পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করতে পারে। তাঁর বক্তব্যে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি বাহিনীর সাংগঠনিক সক্ষমতা ও সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় ইরানের পুলিশপ্রধানসহ বাহিনীর সব কর্মকর্তা ও সদস্যকে ধন্যবাদ জানান মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় যাঁরা নিরলসভাবে কাজ করছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার জন্য ইরানি জাতি কৃতজ্ঞ। বার্তার শেষ অংশে ধর্মীয় প্রার্থনার মাধ্যমে পুলিশের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইমাম মাহদীর দোয়ার বরকতে ইরানের নিরাপত্তা, শক্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধির কাজে পুলিশ সদস্যরা আরও বেশি সফল হবেন। একই সঙ্গে ইমাম মাহদীর দ্রুত পুনরাগমনের জন্য প্রচলিত শিয়া ধর্মীয় প্রার্থনাও উল্লেখ করেন তিনি। শিয়া ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, ইমাম মাহদী হলেন দ্বাদশ ইমাম, যিনি বর্তমানে অন্তর্ধানে রয়েছেন এবং ভবিষ্যতে পুনরায় আবির্ভূত হবেন। তাঁর পুনরাগমন সম্পর্কে শিয়া মুসলমানদের মধ্যে বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে। ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ইমাম মাহদীর দ্রুত পুনরাগমনের জন্য দোয়া করার প্রচলন রয়েছে। মোজতবা খামেনির এই বার্তাতেও সেই ধর্মীয় রীতির প্রতিফলন দেখা গেছে। তবে তিনি ইমাম মাহদীর আবির্ভাবের কোনো নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করেননি। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানের পুলিশ বাহিনীর অবদান, বাহিনীটির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য প্রার্থনা। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি ৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, দেশটির জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এই বার্তায় মোজতবা খামেনি নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পটভূমিতে তাঁর এই বার্তায় ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জনগণের আস্থা এবং পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
চীনের রাস্তায় ময়লার নোংরা স্তূপ দেখে ভারতীয় পর্যটকের প্রশ্ন, শুধু ভারতই কেন বদনাম?
নেদারল্যান্ডসে হালাল পদ্ধতিতে পশু জবাই নিষিদ্ধের প্রস্তুতিতে সরকারের প্রতিমন্ত্রী
ফ্রান্সে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসেও থামছে না শিক্ষার্থীদের বি ক্ষোভ, টানা তৃতীয় সপ্তাহে আন্দোলন
দীর্ঘ ৩৮ বছরের বিচ্ছিন্নতা, তবে মনের কোণে সযত্নে রয়ে গিয়েছিল ছোটবেলার স্মৃতি ও অকৃত্রিম ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার টানেই নিজের ছোটবেলার আয়াকে খুঁজে বের করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফরাসি নাগরিক পিয়েরে ডুপন্ট। গত ২০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই আবেগঘন পুনর্মিলনের খবরটি বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছে। পিয়েরে যখন একেবারে ছোট ছিলেন, তখন তার পরিবার পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টে বসবাস করত। সেখানে আয়েশা নামের এক স্থানীয় নারী পরম মমতায় তাকে লালন-পালন করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে পিয়েরের পরিবার ফ্রান্সে ফিরে গেলে আয়েশার সঙ্গে তাদের সব ধরনের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে পিয়েরে কখনোই তার সেই স্নেহময়ী আয়াকে ভুলে যাননি। দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে তিনি আয়েশাকে খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। পুরনো দিনের অ্যালবামের ছবি ঘেঁটে এবং সাবেক প্রতিবেশীদের সাহায্যে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অবশেষে সেনেগালের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে তিনি তার সেই প্রিয় আয়ার সন্ধান পান। খবর পেয়ে এক মুহূর্তও দেরি না করে আয়েশাকে দেখতে সরাসরি সেনেগালে ছুটে যান পিয়েরে। দীর্ঘ প্রায় চার দশক পর একে অপরকে কাছে পেয়ে তারা দুজনেই আবেগে আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের এই পুনর্মিলনের দৃশ্যটি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়, যা পরবর্তীতে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়। আয়ার অকৃত্রিম স্নেহ ও ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে পিয়েরে তাকে ১৬ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৯ লাখ টাকা উপহার দিয়েছেন। পাশাপাশি আয়েশার শেষ বয়সের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবে তার জন্য একটি স্থায়ী মাসিক ভাতারও ব্যবস্থা করেছেন এই ফরাসি নাগরিক। প্রাপ্ত এই অর্থ দিয়ে আয়েশা তার জরাজীর্ণ ঘর মেরামত করার পাশাপাশি নাতি-নাতনিদের পড়াশোনার খরচ চালাবেন বলে জানিয়েছেন। ছোটবেলার একজন আয়ার প্রতি এমন অভাবনীয় সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের এই ঘটনাটি বর্তমান পৃথিবীতে এক বিরল মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর দিকে ধেয়ে আসছে দুই মহাসাগরের তিন ভ য়ংকর ঘূর্ণিঝড়
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, জাপানি বিজ্ঞানীদের ওষুধে আবার গজাবে দাঁত