গান্ধী-নেহরুর ওপর নির্ভরতা নয়, নিজেদের নেতা গড়ুন: আজমগড়ে ওয়াইসির আহ্বান
ভারতের উত্তর প্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)। এর অংশ হিসেবে ১১ অক্টোবর, রোববার, আজমগড়ে জনসভা করে দলটির প্রধান ও সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষকে নিজেদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, কংগ্রেসের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং বিজেপি সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন।
জনসভায় ওয়াইসির মূল বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অন্য দলের নেতাদের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, “আমাদের আর কোনো গান্ধী বা নেহরুর প্রয়োজন নেই, আমাদের নিজেদের নেতা প্রয়োজন।” তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সংখ্যালঘু ভোটারদের দীর্ঘদিনের সমর্থন এবং সেই সমর্থনের বিনিময়ে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন সামনে আনেন।
আজমগড়কে সমাজবাদী পার্টির শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তির একটি হিসেবে দেখা হয়। এই এলাকায় দাঁড়িয়ে ওয়াইসি অভিযোগ করেন, দলটি মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটের সমর্থন পেলেও তাদের অধিকার, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং উন্নয়নের প্রশ্নে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, সমাজবাদী পার্টির শাসনামলে আজমগড়ের শিবলি ন্যাশনাল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়া হয়নি কেন। তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় শিক্ষা, তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ও উঠে আসে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ওয়াইসির বক্তব্যই প্রধান সূত্র; জনসভায় উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
ওয়াইসি আরও বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে শুধু নির্বাচনের সময় ভোটার হিসেবে বিবেচনা না করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও সুযোগ দিতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিজেদের মধ্য থেকে নেতা তৈরি করা এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো সম্ভব।
জনসভায় উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারকেও সমালোচনা করেন এআইএমআইএম প্রধান। তিনি রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে বিভাজনের পরিবর্তে দারিদ্র্য এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।
ওয়াইসি দাবি করেন, উত্তর প্রদেশ সরকারের ২০২৪–২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, দরিদ্র মানুষের সংখ্যার বিচারে আজমগড় রাজ্যের জেলাগুলোর মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। এই তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যা।
তবে তাঁর উল্লেখ করা পরিসংখ্যানের মূল সরকারি নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ ছাড়া যোগী আদিত্যনাথ ও অখিলেশ যাদবকে পরস্পরের রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চ্যালেঞ্জ জানান ওয়াইসি। এটি ছিল তাঁর নির্বাচনী জনসভার রাজনৈতিক বক্তব্য; দুই নেতার পক্ষ থেকে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের কোনো নিশ্চিত তথ্য উল্লিখিত প্রতিবেদনগুলোতে পাওয়া যায়নি।
এআইএমআইএমকে নিয়ে উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিতর্ক রয়েছে। বিরোধী দলগুলোর কিছু নেতা ও সমর্থক অভিযোগ করেন, নির্বাচনে আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এআইএমআইএম বিরোধী ভোট ভাগ করতে পারে এবং এর ফলে বিজেপি সুবিধা পেতে পারে।
আজমগড়ের জনসভায় ওয়াইসি এই অভিযোগের বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, নিজেদের রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্ব গড়ে তোলার অধিকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরও রয়েছে। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে এআইএমআইএমের নির্বাচনী উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি উত্তর প্রদেশের বিরোধী রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক হিসেবে রয়েছে।
উত্তর প্রদেশের পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা, সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচন এবং ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কার্যক্রম চালাচ্ছে।
এআইএমআইএমের জন্য আজমগড়ের জনসভাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এলাকাটি সমাজবাদী পার্টির প্রভাবশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ওয়াইসি সেখানে নিজেদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের আহ্বান জানিয়ে প্রচলিত দলগুলোর প্রতিনিধিত্বের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
ভারতের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআইএমআইএম উত্তর প্রদেশে আরও বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা, জোটের সিদ্ধান্ত এবং আসনভিত্তিক নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দলটির পরিকল্পনাকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
ওয়াইসির এই প্রচারের মূল বিষয় তিনটি—সংখ্যালঘুদের নিজস্ব রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি, শিক্ষা ও উন্নয়নের প্রশ্নে প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর জবাবদিহি এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যকে রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া। তাঁর বক্তব্য ঘিরে উত্তর প্রদেশের রাজনৈতিক বিতর্ক আরও স্পষ্ট হয়েছে। তবে নির্বাচনে এর প্রকৃত প্রভাব কী হবে, তা ভোটের ফলাফল ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে ভারতীয় নাগরিক এক চাচাতো ভাইকে জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করা, অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র আটকে রাখা এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় ভেঙ্কটেশ সাত্তারুকে ৫০ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ৩৮ বছর বয়সী সাত্তারু যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক জন এ রস এ সাজা ঘোষণা করেন। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামলাটিতে ভুক্তভোগী ছিলেন সাত্তারুর চাচাতো ভাই, যিনি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তাঁকে সাত্তারুর বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ, বিভিন্ন ব্যক্তিগত কাজ এবং তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করতে বাধ্য করা হয়। কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে তাঁকে শাস্তি দেওয়া হতো বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সেন্ট লুইসে পৌঁছান। পরে তিনি মিসৌরির ও’ফ্যালন এলাকায় সাত্তারুর বাড়িতে বসবাস করেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে সংস্কারাধীন একটি বাড়িতে এবং একই বছরের সেপ্টেম্বরে অন্য একটি সংস্কারাধীন বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই সময় তাঁকে বাড়ির কাজকর্ম, বাইরে বিভিন্ন কাজে যাতায়াত এবং সাত্তারুর প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, সাত্তারুর দোষ স্বীকারের চুক্তিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, কাজ করতে ব্যর্থ হলে তাঁর অভিবাসনসংক্রান্ত নথি আটকে রাখা হতো এবং বিভিন্নভাবে শাস্তি দেওয়া হতো। মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীকে পর্যাপ্ত ঘুমাতে না দেওয়া, খাবার সীমিত করা, গোসল ও শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ কমিয়ে দেওয়ার মতো আচরণের শিকার হতে হয়। তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতনও করা হয়। আদালতের নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, নির্যাতনের কিছু ঘটনায় বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এতে ভুক্তভোগী গুরুতর শারীরিক আঘাত পান। সাত্তারু নিজে কিছু নির্যাতনে অংশ নেন। অন্য সময় তাঁর শ্যালক নিকিল পেনমাতসা ও শ্রবণ পেনুমেচা ভুক্তভোগীকে নির্যাতন করেন বলে সাত্তারুর দোষ স্বীকারের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। কোনো কোনো ঘটনায় তাঁরা সাত্তারুর নির্দেশে এবং কোনো কোনো ঘটনায় নিজেদের উদ্যোগে নির্যাতন করেন। সাত্তারুর বিরুদ্ধে আরেকটি ফৌজদারি অপরাধ ছিল সরকারি অর্থ আত্মসাৎ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য হিসেবে ভেটেরান্সবিষয়ক দপ্তরের একটি কর্মসূচির আওতায় পরিচর্যাকারীর জন্য দেওয়া অর্থ বাড়াতে নিজের শারীরিক অক্ষমতার মাত্রা অতিরঞ্জিত করেছিলেন বলে মার্কিন প্রসিকিউটররা জানান। ওই কর্মসূচিতে যোগ্য সাবেক সেনাসদস্য ও সামরিক সদস্যদের পরিচর্যাকারীরা মাসিক আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। বিচার বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, সাত্তারুর দেওয়া মিথ্যা তথ্যের কারণে তাঁর পরিচর্যাকারী অতিরিক্ত ৮৩ হাজার ৭৭৬ ডলার পেয়েছিলেন। এ ঘটনায় সাত্তারুকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরকে ৭৪ হাজার ৬৩৪ ডলার বাজেয়াপ্ত অর্থ হিসেবে এবং ভেটেরান্সবিষয়ক দপ্তরকে ৮৩ হাজার ৭৭৬ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। ভুক্তভোগীকেও সমঝোতাভিত্তিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়। গত ৮ অক্টোবর ঘোষিত রায়ে সাত্তারুকে ৫০ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মিসৌরির অঙ্গরাজ্য আদালতে দ্বিতীয় মাত্রার পারিবারিক নির্যাতনের অপরাধে পাওয়া পাঁচ বছরের সাজা একই সময়ে কার্যকর হবে। ফলে দুই সাজা পরপর যোগ করে ভোগ করতে হবে না। ফেডারেল রায়ে আগের আটকাবস্থায় কাটানো সময়ের জন্যও সমন্বয়ের নির্দেশ রয়েছে। মামলাটি তদন্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, ভেটেরান্সবিষয়ক দপ্তরের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় এবং সেন্ট চার্লস কাউন্টি পুলিশ। মামলাটি পরিচালনা করেন সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি ডায়ানা এডওয়ার্ডস। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনসংক্রান্ত নথি আটকে রেখে শ্রম আদায় ও শারীরিক নির্যাতনের একটি গুরুতর ফৌজদারি মামলার উদাহরণ। একই সঙ্গে সরকারি সহায়তার অর্থের অপব্যবহারসংক্রান্ত অভিযোগও এতে উঠে এসেছে।
গান্ধী-নেহরুর ওপর নির্ভরতা নয়, নিজেদের নেতা গড়ুন: আজমগড়ে ওয়াইসির আহ্বান
ওমরাহ পালনে মক্কা যাওয়ার পথে রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি আলেম
নিজের জানাজা নয়, শেষকৃত্যের সময় কফিনে নড়েচড়ে উঠল ১৫ বছরের কিশোরী, আট ঘণ্টা ধরে মৃত বলে ধরে নিয়েছিল পরিবার
ভারতের কেরালায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ৩৩ বছর বয়সী চিকিৎসক ডা. থারা কালারিক্কালের রক্তের ক্যানসার লিউকেমিয়া শনাক্ত হওয়ার পর তাঁর ছোট বোন ডা. চিত্রা কালারিক্কালের সঙ্গে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কঠিন রোগের খবর জানালেও দুই বোনের হাসিমুখ ও দৃঢ় মনোভাব অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ, মনোরমা অনলাইন ও মধ্যমমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার পর ডা. থারার লিউকেমিয়া শনাক্ত হয়। পরিবারের সদস্যদের আগে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার অভিজ্ঞতা থাকলেও নতুন করে এই রোগের খবর তাঁদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দুই বোনের ভিডিওতে ‘চেস্ট নম্বর ৩’ কথাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। এর মাধ্যমে তাঁরা পরিবারে তৃতীয় সদস্যের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। রোগের খবরটি তাঁরা যেভাবে স্বাভাবিক ও দৃঢ় ভঙ্গিতে প্রকাশ করেছেন, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। ডা. থারা ও ডা. চিত্রার পরিবারের ক্যানসারের অভিজ্ঞতা বহুদিনের। তাঁদের নানি ও মা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে তাঁদের বড় বোন ডা. সূর্য কালারিক্কাল স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। তবে চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং বর্তমানে ক্যানসারজয়ী হিসেবে পরিচিত। পরিবারের এই অভিজ্ঞতার কারণে ক্যানসার চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপ, রোগীর মানসিক চাপ এবং স্বজনদের উদ্বেগ সম্পর্কে তাঁদের প্রত্যক্ষ ধারণা রয়েছে। মায়ের চিকিৎসার সময় তাঁরা হাসপাতালে অনেকটা সময় কাটিয়েছেন। বড় বোনের চিকিৎসার সময়ও পরিবারের সদস্য হিসেবে পাশে ছিলেন।এবার ডা. থারার রোগ শনাক্ত হওয়ার পর সেই পুরোনো অভিজ্ঞতাগুলো আবার সামনে এসেছে। তবে দুই বোনের বক্তব্যে হতাশার পরিবর্তে রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং চিকিৎসার প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে। মনোরমা অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়মিত রক্ত পরীক্ষায় কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা যাওয়ার পর ডা. থারার আরও পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষার সূত্র ধরেই লিউকেমিয়া শনাক্ত হয়।রোগের খবর প্রথমে তাঁদেরও উদ্বিগ্ন করেছিল। ডা. চিত্রা জানিয়েছেন, পরীক্ষার ফলাফল আসার অপেক্ষার সময় উদ্বেগ ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে একের পর এক পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করাটা কঠিন ছিল। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাঁরা অস্থিমজ্জার পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন। বিস্তারিত পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর চিকিৎসা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা।তবে ডা. থারার লিউকেমিয়ার নির্দিষ্ট ধরন, রোগের পর্যায় এবং চিকিৎসার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর চিকিৎসার ফলাফল সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ডা. চিত্রার বক্তব্যে উঠে এসেছে, ক্যানসার শনাক্ত হলে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। কিন্তু শুধু ভয় ও হতাশার মধ্যে আটকে না থেকে রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই গুরুত্বপূর্ণ।তাঁদের পরিবারে আগে ক্যানসারের অভিজ্ঞতা থাকায় রোগটির কঠিন দিকগুলো তাঁরা জানেন। একই সঙ্গে তাঁরা মনে করেন, ক্যানসার শনাক্ত হওয়া মানেই জীবনের সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। রোগের ধরন ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসার সুযোগ থাকে।তাঁরা ক্যানসারকে তুচ্ছ করে দেখানোর চেষ্টা করছেন না। বরং রোগের গুরুত্ব স্বীকার করেই মানসিকভাবে শক্ত থাকা এবং চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের খবর সাধারণত উদ্বেগ ও শোকের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ডা. থারা ও ডা. চিত্রা তাঁদের ভিডিওতে হাসিমুখে পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন। এই ভিন্নধর্মী উপস্থাপন দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে। মনোরমা অনলাইনকে দেওয়া বক্তব্যে ডা. চিত্রা জানান, ভিডিওটি প্রকাশের একটি উদ্দেশ্য ছিল ক্যানসার নিয়ে মানুষের ভয় ও সামাজিক সংকোচ কমানো। অনেকেই ভয় বা অস্বস্তির কারণে রোগের কথা প্রকাশ করতে চান না। অথচ সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের ভিডিও দেখার পর কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর কথা জানিয়েছেন বলেও ডা. চিত্রা উল্লেখ করেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা অন্যদের কাজে এসেছে—এমন প্রতিক্রিয়া পেয়ে তাঁরা আনন্দিত।
হামলা ও তীব্র উত্তেজনার কারণে সৌদি যুবরাজকে বাঙ্কারযুক্ত প্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রস্তাব ফিরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাজ্যের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়
ঋণ শোধে অক্ষম, এমন ২০ হাজারের বেশি বন্দীকে মুক্তিতে সহায়তা দুবাইয়ের ভারতীয় ব্যবসায়ীর
ভারতের উত্তর প্রদেশে মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে সৎ বাবাকে গু লি করে হ ত্যার অভিযোগ উঠেছে ২২ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, মায়ের নতুন সংসার মেনে নিতে না পেরে নিউজিল্যান্ড থেকে ভারতের রামপুরে আসেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় নিজের গাড়ি সার্ভিস সেন্টারের সামনে ওই তরুণের সৎ বাবা নভজোত সিংকে গু লি করে হ ত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সোমবার অভিযুক্ত তরুণ এবং তাঁর এক আত্মীয়কে গ্রে প্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রে প্তার হওয়া তরুণের নাম অবদীপ সিং। তিনি নিউজিল্যান্ডের একটি ডেইরি ফার্মে কাজ করেন। এ ঘটনায় গ্রে প্তার অপর ব্যক্তি রাজনদীপ সিং রামপুরের বাসিন্দা এবং অবদীপের আত্মীয়। পুলিশের ধারণা, পারিবারিক বিরোধের সূত্র ধরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত নভজোত সিংয়ের বয়স ছিল ২৫ বছর। তাঁর স্ত্রী কমল কৌরের বয়স ৪৯ বছর। প্রথম স্ত্রীর মৃ ত্যুর পর প্রায় নয় মাস আগে বিধবা কমলকে বিয়ে করেন নভজোত। তাঁদের বসবাসের জায়গাও ছিল কাছাকাছি। তবে কমলের দুই ছেলে অবদীপ ও যোগনপ্রীত সিং মায়ের এই বিয়েতে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের বাবা প্রায় তিন বছর আগে মারা যাওয়ার পর দুই ভাই নিউজিল্যান্ডে চলে গিয়েছিলেন। নিহতের এক আত্মীয়ের দাবি, বিয়ের বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সমস্যা মেটাতে স্থানীয়ভাবে একটি পঞ্চায়েতও বসানো হয়। ওই আত্মীয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও দুই ভাই নভজোতকে হুমকি দিয়েছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত সত্যতা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। নভজোত রামপুরের তাহ কালান গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি কৃষক নিশান সিংয়ের একমাত্র ছেলে। তাঁর চাচা জগদীপ গিলের ভাষ্য অনুযায়ী, নভজোতের প্রথম স্ত্রী বিষাক্ত পদার্থ সেবনের পর মারা যান বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় নভজোতের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এবং তাঁকে কারাগারেও যেতে হয়েছিল। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি মুক্তি পান। পরে কুমহারিয়া কালান মোড়ে একটি গাড়ি সার্ভিস সেন্টার চালু করেন। শনিবার সন্ধ্যায় ওই সার্ভিস সেন্টারেই ছিলেন নভজোত। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় একটি গাড়িতে করে কয়েকজন সেখানে আসেন। গাড়ি থেকে নেমে তাঁরা নভজোতকে লক্ষ্য করে একাধিক গু লি ছোড়েন। এতে তাঁর বুকের কয়েকটি স্থানে গু লি লাগে। এরপর হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সার্ভিস সেন্টারের সামনে লোকজন জড়ো হন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত নভজোতকে হাসপাতালে পাঠায়। তবে সেখানে নেওয়ার পরপরই তাঁর মৃ ত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনেরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ তাঁদের শান্ত করে। এরপর নভজোতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। রামপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনুরাগ সিং জানিয়েছেন, অবদীপ ও রাজনদীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অবদীপ ঠিক কবে নিউজিল্যান্ড থেকে ভারতে ফিরেছেন, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে। নভজোতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে মিলক খানাম থানায় আটজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে কমল কৌরের দুই ছেলে এবং তাঁদের কয়েকজন আত্মীয় রয়েছেন। তবে মামলায় নাম থাকা সবার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার পেছনের কারণ ও প্রত্যেকের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত
স্কুলে শটগান নিয়ে ১৪ বছরের শিক্ষার্থীর গু লি, আহত প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন