যুক্তরাজ্যের লন্ডনের উপকণ্ঠে অবস্থিত শীর্ষস্থানীয় ইহুদি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ইম্যানুয়েল কলেজ’ চলতি বছরের শেষে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মূলত তীব্র আর্থিক সংকট এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৯৯০ সালে ব্রিটিশ কমনওয়েলথের সাবেক প্রধান রাব্বি লর্ড ইম্যানুয়েল জ্যাকোবোভিটস এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুলটির গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল লেভি এই ঘোষণা দিয়ে বিষয়টিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বর্তমানে ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সি প্রায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে। গত বছরই আর্থিক চাপের মুখে স্কুলটির প্রাথমিক শাখা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অথচ ২০২৫ সালে দ্য সানডে টাইমস প্যারেন্ট পাওয়ার গাইডে এটি যুক্তরাজ্যের সেরা পারফর্মিং ইহুদি স্কুল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বেসরকারি স্কুলের ওপর ভ্যাট আরোপ, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স অবদান বেড়ে যাওয়ায় স্কুল পরিচালনার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে। সব মিলিয়ে প্রতি বছর প্রতিষ্ঠানটির ২০ লাখ পাউন্ডের বেশি আর্থিক ক্ষতি হচ্ছিল। যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতা অলিভার ডাউডেন এই পরিস্থিতিকে ‘বেসরকারি স্কুলে ভ্যাট আরোপের কুফল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে অনেক অভিভাবক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বদলে বিনামূল্যে সরকারি ইহুদি স্কুলগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায় এই সিদ্ধান্তে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে, এটি কেবল একটি স্কুল বন্ধ হওয়া নয়, বরং একটি দীর্ঘদিনের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবসান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা বন্ধ না হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সর্বাত্মক যুদ্ধের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মহসেন রেজায়ি এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে ইরান আর কেবল সমপর্যায়ের বা গতানুগতিক প্রতিশোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এ ক্ষেত্রে কোনো দেশের 'রাজনৈতিক সীমান্ত' আর নিরাপদ থাকবে না বলেও স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। মার্কিন হামলার জবাবে ইরান যে যেকোনো মুহূর্তে পুরোদমে আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করতে পারে, তার ইঙ্গিত মিলেছে এই ঘোষণায়। এদিকে মার্কিন বাহিনী টানা সপ্তম রাতের মতো শুক্রবার ইরানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে ইরানি নৌবাহিনীর সদরদপ্তর হিসেবে পরিচিত বন্দর আব্বাসের আশপাশের বেশ কয়েকটি সেতু, নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো এবং ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর করার পাশাপাশি ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজারেরও বেশি সেনাসদস্য সর্বোচ্চ সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ছবিতে মার্কিন হামলায় বন্দর আব্বাসের একটি সেতু ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির কাছে সিরিক ও কেশম দ্বীপেও তীব্র বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন এই আগ্রাসনের জবাবে বসে নেই তেহরানও। জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পালটা মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। শনিবার ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা কুয়েতের মিনা আল আহমাদি বন্দরে মার্কিন নৌবহরের জ্বালানি সহায়তা কেন্দ্র এবং বাহরাইনের শেখ ইসা বিমান ঘাঁটি ও একটি গোয়েন্দা তথ্য কেন্দ্রে হামলা করেছে। অন্যদিকে, জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ১০টি ইরানি মিসাইল জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুলি করে ভূপাতিত করেছে বলে জানা গেছে। সেখানে কোনো হতাহতের খবর না থাকলেও, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে জর্ডানে দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন; যদিও পেন্টাগন এখনো বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। এই পালটাপালটি হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাত্র এক মাস আগে শুরু হওয়া ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে 'শেষ' বলে ঘোষণা করেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, তিনি আর ইরানের সঙ্গে আলোচনার পক্ষপাতী নন। অন্যদিকে, ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাউদিও যুক্তরাষ্ট্রকে সমঝোতা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত 'আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের' কারণে তেহরান 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক'-এর আওতায় থাকা নিজেদের সমস্ত প্রতিশ্রুতি স্থগিত করেছে এবং সেগুলো আর বাস্তবায়ন করছে না।
চীনের শেনইয়াং এয়ারক্রাফট করপোরেশন (এসএসি) তাদের পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান জে-৩৫-এর উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। একই সময়ে দেশটির নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর জন্য এই যুদ্ধবিমান উৎপাদনের পাশাপাশি পাকিস্তানের সম্ভাব্য রপ্তানি চাহিদাও মাথায় রেখে প্রস্তুতি চলছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এটি সফল হলে পাকিস্তান হবে চীনের তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমানের প্রথম বিদেশি ব্যবহারকারী। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন উন্মুক্ত তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শেনইয়াং কারখানায় জে-৩৫ যুদ্ধবিমানের ধারাবাহিক উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে অন্তত ৩০টির বেশি বিমান উৎপাদনের প্রমাণ মিলেছে। যদিও এ বিষয়ে চীনা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদনের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। চীন এখন পরীক্ষামূলক পর্যায় অতিক্রম করে শিল্প পর্যায়ে স্টেলথ যুদ্ধবিমান উৎপাদনে প্রবেশ করেছে। শেনইয়াংয়ের নতুন উৎপাদন কমপ্লেক্সে জে-৩৫ ছাড়াও জে-১৫ ও জে-১৬ যুদ্ধবিমান তৈরির সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। জে-৩৫-এর দুটি প্রধান সংস্করণ রয়েছে। এর নৌবাহিনীর সংস্করণটি চীনের নতুন বিমানবাহী রণতরী ফুজিয়ানে পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে জে-৩৫এ সংস্করণটি চীনের বিমানবাহিনীর জন্য, যা অপেক্ষাকৃত ভারী জে-২০ যুদ্ধবিমানের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এদিকে পাকিস্তানের জন্য তৈরি রপ্তানি সংস্করণ জে-৩৫এই নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা অঙ্গনে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। গত কয়েক মাসে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা মাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তান প্রায় ৪০টি জে-৩৫ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বেইজিং বা ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। কিছু প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই সামরিক সহযোগিতা কেবল যুদ্ধবিমানেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। আলোচনায় চীনের কে জে-৫০০ আকাশভিত্তিক আগাম সতর্কীকরণ বিমান এবং এইচকিউ-১৯ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ও উঠে এসেছে। তবে এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনো আসেনি। প্রতিরক্ষা শিল্প পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত জে-৩৫ সংগ্রহ করে, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তান—কোনো দেশই নিজস্বভাবে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে না। তবে সম্ভাব্য এ ধরনের পরিবর্তন নির্ভর করবে চুক্তি, সরবরাহের সময়সূচি এবং বাস্তব মোতায়েনের ওপর। এদিকে চীনের সামরিক আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে জে-৩৫ কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শেনইয়াংয়ের উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে দেশটি ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের পথে এগোচ্ছে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা।
গত ২৪ জুন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজার ৬৯ জনে পৌঁছেছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ হাজার ৭৪০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দেশটির জাতীয় পরিষদের (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির এই সর্বশেষ পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছেন। হোর্হে রদ্রিগেজ তার পোস্টে জানান, ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২৪টি পরিবারকে জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। গৃহহীন হয়ে পড়া মানুষদের আশ্রয়ের জন্য এরই মধ্যে ১০৬টি অস্থায়ী শিবির স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ২১ হাজার ২৩৫ জন অবস্থান করছেন। তবে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হলেও এখনো প্রায় ১৭ হাজার ৯০৭ জন মানুষ স্থায়ী আবাসনের বাইরে রয়েছেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশজুড়ে মোট ৮৫৬টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৯০টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়ায় বহু মানুষ এক লহমায় গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্গত এলাকায় এখনো নিবিড়ভাবে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।