চীনের শক্তিশালী জে-৩৫ যুদ্ধবিমানের প্রথম ক্রেতা পাকিস্তান! ভারতের কপালে চিন্তার ভাজ
চীনের শেনইয়াং এয়ারক্রাফট করপোরেশন (এসএসি) তাদের পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান জে-৩৫-এর উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। একই সময়ে দেশটির নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর জন্য এই যুদ্ধবিমান উৎপাদনের পাশাপাশি পাকিস্তানের সম্ভাব্য রপ্তানি চাহিদাও মাথায় রেখে প্রস্তুতি চলছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এটি সফল হলে পাকিস্তান হবে চীনের তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমানের প্রথম বিদেশি ব্যবহারকারী।
সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন উন্মুক্ত তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শেনইয়াং কারখানায় জে-৩৫ যুদ্ধবিমানের ধারাবাহিক উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে অন্তত ৩০টির বেশি বিমান উৎপাদনের প্রমাণ মিলেছে। যদিও এ বিষয়ে চীনা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদনের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
চীন এখন পরীক্ষামূলক পর্যায় অতিক্রম করে শিল্প পর্যায়ে স্টেলথ যুদ্ধবিমান উৎপাদনে প্রবেশ করেছে। শেনইয়াংয়ের নতুন উৎপাদন কমপ্লেক্সে জে-৩৫ ছাড়াও জে-১৫ ও জে-১৬ যুদ্ধবিমান তৈরির সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।
জে-৩৫-এর দুটি প্রধান সংস্করণ রয়েছে। এর নৌবাহিনীর সংস্করণটি চীনের নতুন বিমানবাহী রণতরী ফুজিয়ানে পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে জে-৩৫এ সংস্করণটি চীনের বিমানবাহিনীর জন্য, যা অপেক্ষাকৃত ভারী জে-২০ যুদ্ধবিমানের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
এদিকে পাকিস্তানের জন্য তৈরি রপ্তানি সংস্করণ জে-৩৫এই নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা অঙ্গনে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। গত কয়েক মাসে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা মাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তান প্রায় ৪০টি জে-৩৫ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বেইজিং বা ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
কিছু প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই সামরিক সহযোগিতা কেবল যুদ্ধবিমানেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। আলোচনায় চীনের কে জে-৫০০ আকাশভিত্তিক আগাম সতর্কীকরণ বিমান এবং এইচকিউ-১৯ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ও উঠে এসেছে। তবে এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনো আসেনি।
প্রতিরক্ষা শিল্প পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত জে-৩৫ সংগ্রহ করে, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তান—কোনো দেশই নিজস্বভাবে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে না। তবে সম্ভাব্য এ ধরনের পরিবর্তন নির্ভর করবে চুক্তি, সরবরাহের সময়সূচি এবং বাস্তব মোতায়েনের ওপর।
এদিকে চীনের সামরিক আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে জে-৩৫ কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শেনইয়াংয়ের উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে দেশটি ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের পথে এগোচ্ছে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreফ্রান্সে বিক্ষোভের মধ্যে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের জন্য অভিবাসন ও মুসলমানদের দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার, ১৮ অক্টোবর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ফ্রান্সকে সীমান্ত বন্ধ করে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তবে অস্থিরতার সঙ্গে অভিবাসনের সরাসরি যোগসূত্রের কোনো প্রমাণ পোস্টে তুলে ধরেননি। রয়া নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প দাবি করেন, অভিবাসনের কারণে ফ্রান্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপিও তাঁর এই বক্তব্যের খবর জানিয়েছে। ট্রাম্প অভিবাসনকে দায়ী করলেও ফ্রান্সের আন্দোলনের প্রকাশ্য দাবিগুলো মূলত অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয় ঘিরে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা, শিক্ষকসংকট ও অবকাঠামোর অবনতি নিয়ে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বৈষম্য ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রতিবাদে রূপ নেয় তা। শনিবার দেশজুড়ে কয়েক লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। অনেকেই শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করলেও বিভিন্ন স্থানে সহিংস গোষ্ঠীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। দোকানপাটে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি ভবনে হামলার ঘটনাও ঘটে। রয়া নিউজ জানিয়েছে, ফরাসি কর্মকর্তারা সহিংসতার জন্য উগ্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মুসলমান ও অপরাধীদের দায়ী করেছেন। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্যের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, শনিবারের অস্থিরতায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আহত হন প্রায় এক হাজার পুলিশ ও জঁদারম সদস্য, যাঁদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর। রোববারও প্যারিসে নতুন করে সংঘর্ষ হয় এবং আরও ১০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সহিংসতায় লিমোজ শহরের উনিশ শতকের ঐতিহাসিক টাউন হল আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লিওঁ শহরেও একটি পর্যটন কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। রোববার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ন্যায্য দাবি নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষ এবং ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িতদের আলাদা করে দেখার ওপর জোর দেন তিনি। মাখোঁ জানান, শহর, সরকারি ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন হলে কিছু সমাবেশ নিষিদ্ধ করতে পারবে। তবে ওই ভাষণে জরুরি অবস্থা বা কারফিউ ঘোষণা করেননি তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতির ঘাটতি পর্যালোচনার কথাও জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
২০২৭ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে নবজাতকদের পদবিতে 'স্মিথকে' ছাড়াতে পারে 'খান'
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনকে আবার গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে ইয়েমেন, এক হামলাতেই প্রাণ গেল ৫ শিশুসহ ৯ জনের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বারণ সত্ত্বেও রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) ইউক্রেনীয় বাহিনীর পরিচালিত এই বিশাল হামলায় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সেন্ট পিটার্সবার্গ তেল টার্মিনালে আগুন ধরে যায়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, দেশের ১৫টি ভিন্ন অঞ্চল, অধিকৃত ক্রিমিয়া এবং কৃষ্ণ সাগর এলাকা থেকে তারা মোট ১,০১৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন সফলভাবে গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এত বিপুল সংখ্যক ড্রোন ধ্বংসের দাবি করা হলেও, এই হামলায় সেন্ট পিটার্সবার্গের ওই মূল তেল টার্মিনালের পাশাপাশি রাশিয়ার সর্ববৃহৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকে-এর (VK) একটি ডেটা সেন্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তিকে পাশ কাটিয়ে চালানো এই হামলার ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যকার সম্পর্ক নতুন করে আরও তিক্ততার মুখে পড়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে অনুচিত বলে মন্তব্য করে দাবি করেছিলেন যে, দুই দেশ জ্বালানি খাতে হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে কিয়েভ কিংবা মস্কো—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত এমন কোনো চুক্তির কথা স্বীকার করেনি। উল্টো জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ট্রাম্পের ওই তথাকথিত আলোচনার ঘোষণার পরও রাশিয়া গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনের জ্বালানি, তেল ও গ্যাস খাতে অন্তত ৭৬ বার হামলা চালিয়েছে। নিজের দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় পাল্টা জবাব দেওয়ার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। মার্কিন সমর্থন ও গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা বাধা সত্ত্বেও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে কিয়েভ। সম্প্রতি ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় এর কড়া সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়াকে ছাড় দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত একটি 'ঐতিহাসিক ভুল', যা মস্কোর যুদ্ধ ও আগ্রাসনকে কেবল আরও উৎসাহিতই করবে।
চিউইং গামের আড়ালে লুকিয়ে প্লাস্টিক! বিশ্বজুড়ে বছরে লাখ টন বর্জ্যের আশঙ্কা
১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মুনাফার পর শাহ ক্যাপিটাল গুটাচ্ছেন ভারতীয়-মার্কিন বিনিয়োগকারী
ফ্রান্সে বিক্ষোভের মধ্যে আগুনে পুড়ল ১৪৩ বছরের ঐতিহাসিক পৌরভবন, ধসে পড়েছে ছাদ
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েলি নাগরিকদের তাকে পুনরায় নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে থাকা নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সঠিক অংশীদার হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিশেষ করে ইরানের মতাদর্শগত হুমকির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের পোস্টে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে একজন 'মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী' এবং ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শান্তির এক অকৃত্রিম অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। ইরান দীর্ঘ ৫১ বছর ধরে 'ইসরায়েল নিপাত যাক, আমেরিকা নিপাত যাক' স্লোগান দিয়ে আসছে উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, সঠিক পদক্ষেপ না নিলে ইরান একসময় এই হুমকি বাস্তবায়ন করত। তিনি জানান, সামরিক ও আর্থিকভাবে তাদের পদ্ধতিগতভাবে কোণঠাসা করা হয়েছে এবং দ্রুত তারা নিজেদের না শোধরালে যুক্তরাষ্ট্র অচিরেই তাদের কাজ শেষ করবে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলে যদি নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য কোনো নেতা নির্বাচিত হন, তবে এই অসমাপ্ত কাজ আমেরিকাকে একাই করতে হবে, যা করার কোনো ইচ্ছা তার নেই। নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত দৃঢ়তার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের ভেতর থেকে আসা প্রবল বিরোধিতার মুখেও নেতানিয়াহু দুর্দান্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, সাধারণ কোনো মানুষ এই ধরনের প্রচণ্ড চাপে ভেঙে পড়লেও, নেতানিয়াহু বরং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন। ইসরায়েলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অনেক কিছু করেছে উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, আমেরিকার ঠিক এমন একজন নির্ভরযোগ্য অংশীদারই প্রয়োজন। আগামী নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতি তার সম্পূর্ণ সমর্থন রয়েছে জানিয়ে ট্রাম্প ইসরায়েলি ভোটারদের উদ্দেশ্যে দৃঢ়তার সাথে বলেন, নেতানিয়াহু তাদের কখনোই হতাশ করবেন না।
বিশ্বের ব্যাংকিং খাতে চীনের আধিপত্য, ৭.৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদে শীর্ষে আইসিবিসি
দুর্গন্ধযুক্ত বায়ূত্যাগের কারণে চাকরি হারানো বাসচালকের মামলা খারিজ করল ব্রিটিশ আদালত