আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জের সুর, 'মার্কিন ঘাঁটির কাছে যাবেন না' আগাম সতর্ক করল ইরান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১২:৩৩
ইরান ও মার্কিন বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থা। ছবি: সংগৃহীত
ইরান ও মার্কিন বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থা। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরান আঞ্চলিক দেশগুলোর জনগণকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির আশপাশ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলেছে, যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেসব স্থাপনা সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। 

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে তাদের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করতে এবং সাধারণ মানুষকে সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, এসব দেশের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। 

 

এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। এর জবাবে ইরান কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় এবং কিছু হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। 

 

ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি থাকা এলাকাগুলোতে অবস্থান করা বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে এসব এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

 

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের সামরিক অভিযান কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হচ্ছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। এর আগে সেন্টকমও ইরানের ভেতরে সামরিক কাজে ব্যবহৃত স্থাপনার আশপাশ থেকে সাধারণ মানুষকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। 

 

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক হাজার সেনা বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে মোতায়েন রয়েছে। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। উপসাগরীয় দেশগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বেশ কয়েকটি দেশে সতর্কতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
পাইলটের ইউনিফর্ম পরে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে কোকেন পাচারের অভিনব ফন্দি এঁটেছিলেন তিনি I ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টিক পাড়ি দিতে পাইলটের ছদ্মবেশ, ২২ পাউন্ড কোকেনসহ ধরা পড়ল পাচারকারী

পাইলট সেজে অভিনব কায়দায় আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে কোকেন পাচারের চেষ্টা করে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন এক স্প্যানিশ নাগরিক। কার্লোস বারবেরিয়া হার্নান্দো নামের ওই ব্যক্তি গত ৯ জুলাই কলম্বিয়ার বোগোটার এল ডোরাডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্পেনের বার্সেলোনাগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তার পরনের পাইলট ইউনিফর্মটি কোনো পরিচিত আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের পোশাকের সাথে না মেলায় সন্দেহ হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। এরপরই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আলাদা করে তল্লাশি করা হয় এবং বেরিয়ে আসে পাচারের আসল সত্য, যা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল।   কলম্বিয়ার ন্যাশনাল পুলিশের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তল্লাশির সময় কার্লোস তার গাঢ় রঙের ব্লেজার এবং সাদা শার্ট খুলে ফেলছেন। এরপর এক পুলিশ কর্মকর্তা তার পেটের চারপাশে মোড়ানো টেপ খুলতে শুরু করেন এবং সেখানে লুকিয়ে রাখা মাদকের প্যাকেটগুলো আবিষ্কার করেন। তার পেটের পাশাপাশি পায়েও অভিনব কায়দায় বেশ কয়েকটি প্যাকেট লুকানো ছিল। ন্যাশনাল পুলিশের মাদক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক জেনারেল উইলিয়াম কাস্তানো রামোস জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির পোশাকের নিচ থেকে মোট ১০টি প্যাকেটে ১০ কেজি বা ২২ পাউন্ড কোকেন উদ্ধার করা হয়েছে। নিউইয়র্কের মাদকবাজারে এই পরিমাণ কোকেনের মূল্য প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ মার্কিন ডলার।   কলম্বিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'এল তিয়েম্পো'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত কার্লোস এর আগে স্পেনে বিমান চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তবে স্পেন সরকারের তথ্যভাণ্ডার নিশ্চিত করেছে যে, বিমান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় কোনো লাইসেন্স তিনি কখনো অর্জন করতে পারেননি। ধারণা করা হচ্ছে, ফ্লাইং স্কুল থেকেই পাইলট সাজার এই অভিনব কৌশলটি তার মাথায় এসেছিল। জেনারেল কাস্তানো রামোস দৃঢ়তার সাথে জানান, 'অপারেশন এসমেরালদা প্লাস' (Esmeralda Plus)-এর অংশ হিসেবে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে মাদক পাচার রোধে ন্যাশনাল পুলিশের এই ধরনের কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৫:৯
মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের জোরালো আঘাত I ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের জোরালো আঘাত, প্রাণ হারালেন ২ মার্কিন সেনাসদস্য

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মার্কিন হামলা না থামলে কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই নিরাপদ থাকবে না: ইরান

দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী সৌদি আরবের ওপর হামলাকে নিজেদের ওপর হামলা বলে ঘোষণা দিল পাকিস্তান। ছবি: সংগৃহীত

‘সৌদি আরবে হামলা মানেই পাকিস্তানের ওপর হামলা’, ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি ইসলামাবাদের

ইরান ও মার্কিন বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জের সুর, 'মার্কিন ঘাঁটির কাছে যাবেন না' আগাম সতর্ক করল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরান আঞ্চলিক দেশগুলোর জনগণকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির আশপাশ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলেছে, যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেসব স্থাপনা সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে তাদের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করতে এবং সাধারণ মানুষকে সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, এসব দেশের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।    এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। এর জবাবে ইরান কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় এবং কিছু হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।    ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি থাকা এলাকাগুলোতে অবস্থান করা বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে এসব এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের সামরিক অভিযান কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হচ্ছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। এর আগে সেন্টকমও ইরানের ভেতরে সামরিক কাজে ব্যবহৃত স্থাপনার আশপাশ থেকে সাধারণ মানুষকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছিল।    মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক হাজার সেনা বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে মোতায়েন রয়েছে। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। উপসাগরীয় দেশগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বেশ কয়েকটি দেশে সতর্কতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১২:৩৩
ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণার শিকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএ

ট্রাম্পের মাথার দাম ১০ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করল ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী

গ্রাফিক্স ডিজাইন। আমেরিকা বাংলা

চীনের শক্তিশালী জে-৩৫ যুদ্ধবিমানের প্রথম ক্রেতা পাকিস্তান! ভারতের কপালে চিন্তার ভাজ

মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলায় ওমান উপসাগর উপকূলের চাবাহার বন্দরে ধসে পড়া নজরদারি টাওয়ার। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে মার্কিন হামলা, সেতু ও  টাওয়ার ধ্বংসে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC)-এর সাবেক প্রধান কমান্ডার মোহসেন রেজায়ি। ছবি:সংগৃহীত
মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে 'ফুল স্কেল অফেনসিভ অপারেশনে' যাবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে ইরান বর্তমান প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে এসে 'ফুল স্কেল অফেনসিভ অপারেশন' বা পূর্ণমাত্রার আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা ও সাবেক ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রধান মোহসেন রেজাই। তিনি শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ সতর্কবার্তা দেন।    রেজাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আগামী কয়েকদিনও ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে তেহরান আর কেবল প্রতিরক্ষামূলক কৌশলে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং পরিস্থিতি নতুন পর্যায়ে গিয়ে পূর্ণমাত্রার আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে রূপ নেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান তার প্রতিক্রিয়ার ধরন ও পরিসর পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।    তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের কোনো ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা করে, তাহলে দেশটি শুধু আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে থাকবে না। প্রয়োজন হলে প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধ থেকে আক্রমণাত্মক যুদ্ধে রূপান্তর ঘটানো হবে এবং মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।    রেজাইয়ের এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র টানা সপ্তম দিনের মতো ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও লজিস্টিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলও নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।    ক্রমবর্ধমান এই সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। 

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ৮:৪১
ইসরায়েলের প্রযুক্তির পুলিশের গাড়ি । ছবি:সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রযুক্তির পুলিশের গাড়ি এবার আমেরিকার রাস্তায়, বাড়ছে নজরদারির শঙ্কা

ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৫ হাজার

ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি, ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৫ হাজার

ভূপাতিত যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন

ইরানের বুশেহরে ভূপাতিত যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন

0 Comments