- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চলতি সপ্তাহে এক ইহুদি ধর্মগুরু (রাব্বি) এবং এক পথচারীর ওপর কোনো কারণ ছাড়াই এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়েও বিচারকের নির্দেশে জামিন পেয়েছেন এরিক আবরুতভ (৩১) নামের এক ব্যক্তি। গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কেনসিংটনের কর্টিলিউ রোডের কাছে দাহিল রোডে ৬৬ বছর বয়সী ওই রাব্বির ওপর আকস্মিক হামলা চালায় এরিক। তাকে বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি শক্ত করে গলা চেপে ধরা হয়, যার ফলে ভুক্তভোগীর কাঁধের হাড় ভেঙে যায়। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিট আগেই কর্টিলিউ রোডের একটি গ্যাস স্টেশনে গ্যাস ভরার সময় ৬০ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তির মুখে ঘুষি মেরেছিল এই হামলাকারী। ব্রুকলিন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস জানিয়েছে, জোড়া হামলার এই দুটি ঘটনাতেই প্রসিকিউটররা ১০ হাজার ডলার নগদ জামিন বা ২০ হাজার ডলার বন্ডের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বিচারক এডওয়ার্ড ড্যানিয়েলস সেই আবেদন নাকচ করে দিয়ে এরিককে আইনি নজরদারির (সুপারভাইজড রিলিজ) শর্তে মুক্তি দেন। ঠিক কী কারণে বিচারক এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এই হামলাগুলোর পেছনে কোনো বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্য ছিল না। তা সত্ত্বেও, সুকোট উৎসবের আগে এমন আকস্মিক হামলায় পুরো ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাব্বির এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবরুমি হার্বস্ট জানিয়েছেন, শারীরিক আঘাতের চেয়েও রাব্বি বেশি মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং হামলাকারীর এমন সহজ মুক্তির খবরে তিনি তার ও প্রতিবেশীদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এর আগে গত সোমবার ব্রাইটন বিচ এলাকায় এক তরুণ ও এক তরুণীর মুখে অকারণে ঘুষি মারার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিল এরিক। তবে ব্রুকলিন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস জানায়, সেই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি জামিনযোগ্য না হওয়ায় বিচারক ডুয়েন ফ্র্যাঙ্কসন তাকে আইনি নজরদারিতে মুক্তি দিতে বাধ্য হন। এছাড়া গত জুনে নিজের দাদির বাড়িতে গিয়ে সুরক্ষা আদেশের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে গত রোববারও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেবারও প্রসিকিউটরদের জামিন আবেদন নাকচ করে বিচারক তাকে মুক্তি দেন। পুলিশের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক এই হামলাগুলোর আগে ২৪ সালে অস্ত্র রাখা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো একাধিক অভিযোগে অন্তত পাঁচবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল এই বেপরোয়া হামলাকারী।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে সৌদি আরবে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শুক্রবার নিউইয়র্কে দেওয়া এই ভাষণে তিনি সতর্ক করে বলেন, মুসলমানদের পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনার পবিত্রতার প্রতি যেকোনো হুমকি এমন এক 'রেড লাইন' বা চূড়ান্ত সীমা, যা কখনোই অতিক্রম করা উচিত নয়। রিয়াদের দাবি অনুযায়ী, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের এই হামলায় বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। যদিও হুথিরা বরাবরই রিয়াদের এই অভিযোগকে 'জঘন্য মিথ্যা' বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এর আগে গত মাসে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক যৌথভাবে 'মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট' নামে একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কোনো এক সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা বলে বিবেচিত হবে। শুক্রবার রিয়াদে এই তিন দেশের সেনাপ্রধানরা বৈঠক করে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সামরিক সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। তবে তুরস্ক ও পাকিস্তান এই চুক্তির অধীনে রিয়াদকে ঠিক কী ধরনের সহায়তা দেবে তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে মার্কিন গণমাধ্যম নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান জানিয়েছেন যে, হুমকির মাত্রার ওপর ভিত্তি করে রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য, লজিস্টিকস, গোলাবারুদ কিংবা আরও বিস্তৃত সামরিক সহায়তা দেওয়া হতে পারে। জাতিসংঘের এই ভাষণে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন পাক প্রধানমন্ত্রী। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি বিশ্ব অর্থনীতি সচল রাখতে হরমোজ প্রণালি এবং বাব আল-মানদাব জলপথ মুক্ত ও নিরাপদ রাখার ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যামূলক এজেন্ডা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানান এবং লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের কড়া সমালোচনা করেন। নিজ অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে শাহবাজ শরিফ ভারতের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে যৌথভাবে পরিচালিত সিন্ধু নদের পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ আনেন। পাকিস্তানের পানির ন্যায্য হিস্যা আটকানোর যেকোনো চেষ্টাকে ‘যুদ্ধের শামিল’ হিসেবে দেখা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। এছাড়া কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে জোর দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, জনমিতি পরিবর্তনের মাধ্যমে কাশ্মীরের আইনি মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, তেহরিক-ই-তালিবানের (টিটিপি) হুমকিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান।
যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহর থেকে চুরি হওয়া প্রায় ৪০ হাজার মোবাইল ফোন বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় বিশাল এক আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের তিন সদস্যকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিতদের মধ্যে দুজন আফগান এবং একজন ভারতীয় নাগরিক। মেট্রোপলিটন পুলিশের দীর্ঘ তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে লন্ডন থেকে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের প্রায় ৪০ শতাংশই এই সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের বাইরে পাচার করা হয়েছিল। শুক্রবার লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্ট এই তিনজনকে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ৩৫ বছর বয়সী আমির মুহাম্মদ খাদিকখেল, ৩৩ বছর বয়সী ইসমাত মিয়াখেল এবং ৩০ বছর বয়সী মনসুর মোহাম্মদ। আদালতে তারা চুরি করা মালামাল গ্রহণ এবং একটি সুসংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠীর কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। খাদিকখেল ও মিয়াখেল চোরাই মাল দেশের বাইরে পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগেও দোষ স্বীকার করেছেন। সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টের বিচারক অ্যাডাম হিডলস্টন অপরাধের মাত্রা ও জটিলতা বিবেচনা করে খাদিকখেলকে সাড়ে ৯ বছর, মিয়াখেলকে ৯ বছর এবং মনসুর মোহাম্মদকে সাড়ে ৬ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেন, আর্থিকভাবে এই অপরাধের বিশালত্ব এবং চক্রটির কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত ও জটিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি মূলত আইফোনসহ দামি স্মার্টফোনগুলো সংগ্রহ করে চীনসহ অন্যান্য দেশে পাঠাত। রাস্তার ছিনতাইকারী বা ফোন চোরদের প্রতিটি ডিভাইসের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০ পাউন্ড পর্যন্ত দেওয়া হতো, যা পরবর্তীতে চীনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলারে বিক্রি করা হতো। এই চক্রের প্রথম সন্ধান মেলে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। এক ভুক্তভোগী তার চুরি যাওয়া ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে জানতে পারেন যে সেটি হিথ্রো বিমানবন্দরের কাছে ডিএইচএলের একটি লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। পুলিশ সেখানে তল্লাশি চালিয়ে হংকংগামী একটি চালান থেকে প্রায় ৮৬৫টি স্মার্টফোন উদ্ধার করে, যেগুলো সিগন্যাল আড়াল করার জন্য টিনের ফয়েল দিয়ে মোড়ানো ছিল। এই ঘটনার পরই লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ ‘অপারেশন ইকোস্টিপ’ নামে একটি বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে এবং ধাপে ধাপে পুরো পাচার নেটওয়ার্কটি উন্মোচন করে। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে উত্তর-পূর্ব লন্ডন থেকে খাদিকখেল ও মিয়াখেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে চুরি করা ফোন সংগ্রহ ও পরিবহনের দায়িত্বে থাকা মনসুর মোহাম্মদকেও তার গাড়ি থেকে সিগন্যাল জ্যামিং ফ্যারাডে ব্যাগ ও টিনের ফয়েলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ৫ হাজারের বেশি চোরাই ফোন উদ্ধার করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫৫ লাখ পাউন্ড।
ফাস্ট ফুডের দুনিয়ায় ম্যাকডোনাল্ডস এক বিশ্বজোড়া নাম, যার শাখা রয়েছে ৪৫ হাজারের বেশি এবং প্রতিদিন প্রায় সাত কোটি মানুষ এখানে খাবার খান। এই বিশাল নেটওয়ার্কের মধ্যেই অসাধারণ এক সাফল্যের ইতিহাস গড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি শাহাব হায়দার। প্রবাসজীবনের শুরুতে নতুন দেশে টিকে থাকার লড়াইয়ে অন্য অনেক অভিবাসীর মতো এই ম্যাকডোনাল্ডসেই সাধারণ একজন কর্মী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। আর আজ দীর্ঘ পথপরিক্রমায় তিনি ও তার মেয়ে ইয়াসমিন হায়দার যুক্তরাষ্ট্রে ১৭টি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্টুরেন্টের গর্বিত মালিক ও পরিচালক। একসময় যেখানে তিনি নিজেই চাকরির জন্য ঢুকেছিলেন, বর্তমানে তাদের সেই সুবিশাল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান হয়েছে ৭৫০ জনেরও বেশি মানুষের। বাংলাদেশ থেকে প্রায় সাত হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো শাহাবের এই অভাবনীয় উত্থানের গল্প ম্যাকডোনাল্ডস তাদের ‘গোল্ডেন অপরচুনিটিজ’ বা সোনালি সুযোগ শীর্ষক প্রচারণায়ও বিশেষভাবে তুলে ধরেছে। সাফল্যের এই চূড়ায় পৌঁছানোর পথটি মোটেও সহজ ছিল না, এর পেছনে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে নিরলস পরিশ্রম। টানা সাত বছর ম্যাকডোনাল্ডসে কর্মী হিসেবে কাজ করার সুবাদে তিনি একটি রেস্টুরেন্টের ভেতরের খুঁটিনাটি সবকিছু গভীরভাবে রপ্ত করেছিলেন। গ্রাহকসেবা থেকে শুরু করে খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা এবং কর্মীদের সমন্বয়—সবকিছুই ছিল তার প্রতিদিনের কাজের অংশ। চাকরিটিকে কেবল জীবিকা উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে, তিনি একে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শেখার সবচেয়ে বড় স্কুল হিসেবে কাজে লাগিয়েছিলেন। একপর্যায়ে তার জীবনের সবচেয়ে বড় মোড়টি আসে, যখন তার সামনে রেস্টুরেন্ট মালিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ‘হায়দার ইনভেস্টমেন্টস’ নামে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে মিনেসোটার ক্রিস্টাল শহরে প্রথম ম্যাকডোনাল্ডস রেস্টুরেন্টটি চালু করেন তিনি। পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে প্রথম ব্যবসাটি সফলভাবে দাঁড় করাতে তার খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি শাহাবকে। ক্রিস্টাল শহর থেকে শুরু হওয়া এই ব্যবসা ধীরে ধীরে মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পলসহ টুইন সিটিজের বিভিন্ন এলাকায়, যেমন ম্যাপল গ্রোভ ও ব্রুকলিন পার্কে ছড়িয়ে পড়ে। একটি-দুটি করে বাড়তে বাড়তে ২০২০ সাল নাগাদ তার পরিচালিত রেস্টুরেন্টের সংখ্যা ১৭টিতে গিয়ে দাঁড়ায়। বাবার দেখানো এই সফলতার পথে পরবর্তীতে যুক্ত হন মেয়ে ইয়াসমিন হায়দার। ২০১৩ সালে মাত্র দুটি রেস্টুরেন্ট নিয়ে ব্যবসা শুরু করে ইয়াসমিনও নিজেকে সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। শাহাবকে যেখানে একদম শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছিল, সেখানে ইয়াসমিনের জন্য বাবার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও গড়ে তোলা শক্ত ভিত্তি বড় একটি সুবিধা হিসেবে কাজ করেছে। প্রবাসজীবনে অনেককেই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সাধারণ কাজ দিয়ে জীবন শুরু করতে হয়। কিন্তু সেই প্রথম কাজটাই যে কারও জীবনের শেষ পরিচয় হতে পারে না, সততা ও পরিশ্রম দিয়ে যে নিজের ভাগ্য সম্পূর্ণ বদলে দেওয়া যায়—শাহাব হায়দারের এই অবিশ্বাস্য উত্থান তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যখন স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলো ডিজেলের রেকর্ড দাম নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক তখনই নিউইয়র্ক সিটির রাস্তায় নামল অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক স্কুল বাসের নতুন এক বহর। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ব্রুকলিনের ইস্ট নিউইয়র্ক এলাকার একটি ডিপোতে স্কুল পরিবহন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান 'ফার্স্ট স্টুডেন্ট' এবং ইউটিলিটি কোম্পানি 'কন এডিসন' তাদের ৯ মিলিয়ন ডলারের পাইলট প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করেছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দূষণকারী ডিজেল বাসের পরিবর্তে হাজার হাজার পরিচ্ছন্ন মডেলের বাস চালু করা এবং শহুরে বৈদ্যুতিক গ্রিডের ওপর চাপ না বাড়িয়ে বরং এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। ফার্স্ট স্টুডেন্টের বিদ্যুতায়ন বিভাগের প্রধান কেভিন ম্যাথিউস জানিয়েছেন, তারা পুরো প্রকল্পটিকে এমনভাবে সাশ্রয়ী করতে চাইছেন যাতে নিউইয়র্ক সিটির প্রতিটি শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে কার্বন নির্গমনমুক্ত যাতায়াতের সুবিধা উপভোগ করতে পারে। এই বৈদ্যুতিক বাসগুলোর চার্জিং ব্যবস্থাটি অন্যান্য ইভি চার্জিং স্টেশনের চেয়ে একেবারেই আলাদা। সাধারণত ভূগর্ভস্থ তার ও যন্ত্রপাতি বসানোর জন্য মাটি খুঁড়তে হলেও ইস্ট নিউইয়র্কের এই সিস্টেমে সবকিছু মাটির ওপরে স্থাপন করা হয়েছে। কারণ, ওই এলাকার নিচ দিয়েই জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রধান জেট ফুয়েল লাইন গেছে, তাই খোঁড়াখুঁড়ির কোনো সুযোগ ছিল না। তবে এই বিকল্প পদ্ধতিটি আর্থিকভাবে বেশ লাভজনক প্রমাণিত হয়েছে। মাটির ওপরের এই অবকাঠামো প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ২০ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি এক মাস আগেই কাজ শেষ করতে সাহায্য করেছে। ফার্স্ট স্টুডেন্ট জানিয়েছে, আগামী জুনের মধ্যে ইস্ট নিউইয়র্কে আরও ৪০টি ব্যাটারিচালিত বাস সরবরাহ করা হবে। একইসঙ্গে কন এডিসনের সাথে তাদের প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপও চলমান রয়েছে, যার মাধ্যমে বাসগুলোর 'ভিহিকল-টু-গ্রিড' (V2G) সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরাসরি গ্রিডে সরবরাহ করে বিদ্যুতের খরচ কমানো এবং নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। কন এডিসনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈদ্যুতিক বাস ও অন্যান্য বাণিজ্যিক যানবাহনগুলো ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি করবে। গ্রীষ্মকালে যখন অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতার কারণে এসি ব্যবহারের ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে, তখন বাসগুলোর অব্যবহৃত ব্যাটারির শক্তি গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এদিকে, ইস্ট নিউইয়র্ক ও সাউথ ব্রঙ্কসের মতো এলাকাগুলোতে যানবাহনের ধোঁয়ার কারণে বাসিন্দাদের মধ্যে হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি। তাই এসব এলাকায় বৈদ্যুতিক বাসের প্রচলন জনস্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফার্স্ট স্টুডেন্টের ডিপোতে ইতোমধ্যে দুটি বাসের ছাদে ৩ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে, যা বাসের ব্যাটারির পাশাপাশি ডিপোর বড় ব্যাটারিকেও চার্জ করতে পারে। পরিবেশ দূষণ রোধ ও দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমানোর এসব সুবিধার পাশাপাশি সরকারি তহবিলের সহজলভ্যতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বৈদ্যুতিক স্কুল বাসের ব্যবহার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিউইয়র্ক শহরের স্বল্প আয়ের মানুষদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এবং গণপরিবহনে যাতায়াতকে আরও সাশ্রয়ী করতে একটি নতুন আইন পাস করেছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল। ‘ফেয়ার ফেয়ারস’ বা ন্যায্য ভাড়া কর্মসূচির অধীনে সাবওয়ে, বাস ও প্যারাট্রানজিটে অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা পেতে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করতে এই বিলটি পাস করা হয়। আগামী ২০২৭ অর্থবছরের বাজেটের অংশ হিসেবে স্পিকার জুলি মেনিন এবং সিটি কাউন্সিল এই কর্মসূচির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণের জন্য তহবিল নিশ্চিত করেছে। এর ফলে যোগ্যতার মাপকাঠি ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের কারণে অতিরিক্ত ৩ লাখ ৪০ হাজার নিম্ন আয়ের বাসিন্দা অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। সব মিলিয়ে এখন শহরটির প্রায় ১৩ লাখ মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসছেন। বর্তমানে এই সুবিধার যোগ্য নিউইয়র্কবাসীদের মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশ এই কর্মসূচিতে যুক্ত রয়েছেন। সচেতনতার অভাব এবং আবেদন প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণেই মূলত অংশগ্রহণের হার এত কম। এই হার বাড়াতেই কাউন্সিল মেম্বার ক্রিস্টাল হাডসন ‘ইন্ট্রোডাকশন ২৪৮-এ’ শীর্ষক বিলটি উত্থাপন করেন। নতুন এই আইনের মাধ্যমে সোশ্যাল সার্ভিসেস কমিশনারকে একটি সহজ ও সাবলীল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মে, যারা বর্তমানে ‘সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিসট্যান্স প্রোগ্রাম’ (স্ন্যাপ) বা নগদ আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করছেন, তারা সুবিধাটি নবায়নের সময় শুধু একটি বক্সে টিক চিহ্ন দিয়েই খুব সহজে ‘ফেয়ার ফেয়ারস’ কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারবেন। এছাড়া যেসব যোগ্য ব্যক্তি এখনও এই কর্মসূচির বাইরে রয়েছেন, তাদের তথ্য সংগ্রহ করে সুবিধার কথা জানাতে নিউইয়র্ক স্টেট অফিস অব টেম্পোরারি ডিসঅ্যাবিলিটি অ্যাসিস্ট্যান্সসহ অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে। সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন বলেন, জীবনযাত্রার অতিরিক্ত ব্যয় শহরের সাধারণ মানুষকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে, বিশেষ করে গণপরিবহনের খরচ শ্রমজীবী পরিবারগুলোর ওপর বড় একটি বোঝা। তিনি আরও জানান, নতুন এই আইনের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা হবে, যাতে যোগ্য নিউইয়র্কবাসীরা নিজেদের পকেট খালি না করেই গণপরিবহনে যাতায়াত করতে পারেন। অন্যদিকে, বিলটির প্রস্তাবক কাউন্সিল মেম্বার ক্রিস্টাল হাডসন বলেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্তির এই উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা মানুষের মূল্যবান সময় বাঁচাবে এবং সরকারি সেবাকে আরও জনবান্ধব করে তুলবে। বিলটিতে সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্তি ও ব্যবহার নিয়ে প্রতি বছর সিটি কাউন্সিলে প্রতিবেদন জমা দেওয়া এবং ভবিষ্যতে শহরের সব কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে স্বয়ংক্রিয় তালিকাভুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি সমীক্ষা পরিচালনারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় কাজ করার সময় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন মার্কিন ট্রমা সার্জন ডা. ফিরোজ সিধওয়া। গত ২৩ মার্চ খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে কাজ করার সময় একটি ভয়াবহ বোমা হামলার মুখে পড়েন তিনি। সেদিনের সেই স্মৃতি স্মরণ করে তিনি জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতায় আইসিইউর একটি দরজা ছিটকে সরাসরি তার মুখে এসে পড়েছিল। হাসপাতালে উপস্থিত ফিলিস্তিনিরা তাৎক্ষণিকভাবে বিপদের কথা বুঝতে পেরে তাকে রক্ষার জন্য ছুটে আসেন। ওই হামলায় ডা. সিধওয়ার এক রোগীসহ অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়। এত বড় একটি ঘটনার পর পরিবারের তীব্র উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও তিনি পুনরায় গাজায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজের মায়ের শত বারণ আর কান্নার জবাবে তিনি বলেছেন, কাউকে না কাউকে তো এই বিপদের দিনে মানুষের পাশে দাঁড়াতেই হবে। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বিশ্বজুড়ে এক হাজারেরও বেশি ত্রাণকর্মী ও চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন। স্বাধীন গবেষণা সংস্থা 'হিউম্যানিটেরিয়ান আউটকামস'-এর তথ্যমতে, ২০০০ সালের পর থেকে চিকিৎসাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ১৫০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর গাজা, সুদান, দক্ষিণ সুদান এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে এমন হামলার ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি। গাজার পাশাপাশি ইউক্রেনেও চিকিৎসাকর্মীরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। মার্কিন ট্রমা সার্জন ডা. মাইকেল সামোতোওকা বছরে ৬ থেকে ১০ বার ইউক্রেনে চিকিৎসা দিতে যান। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তার ব্যবহৃত একটি অপারেশন থিয়েটারেও মিসাইল হামলা চালানো হয়েছিল, যা মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত করার মতো একটি ঘটনা। যুদ্ধের ময়দানে চিকিৎসাকর্মীদের ওপর এমন ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত হামলার বিষয়ে এই দুই চিকিৎসকই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ডা. সামোতোওকা মনে করেন, যুদ্ধরত দেশগুলোর উচিত জেনেভা কনভেনশন মেনে চলা এবং যারা বেসামরিক নাগরিক ও চিকিৎসাকর্মীদের ওপর হামলা করে এই আইন অমান্য করছে, তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা। অন্যদিকে ডা. সিধওয়া একধাপ এগিয়ে মার্কিন নাগরিকদের তাদের কংগ্রেস সদস্যদের কাছে একটি বিশেষ দাবি তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা প্রতিনিয়ত চিকিৎসক ও নার্সদের হত্যা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত অবিলম্বে তাদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চিকিৎসাকর্মী ও হাসপাতালের ওপর যেকোনো হামলার তারা তীব্র নিন্দা জানায় এবং এর সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনাকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিনা পরোয়ানায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) গ্রেপ্তার কমানো এবং নির্দোষ অভিবাসীদের অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখার ক্ষমতা খর্ব করার লক্ষ্যে মার্কিন সিনেটে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক দলের ইলিনয়ের সিনেটর ডিক ডারবিন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যালেক্স প্যাডিলা যৌথভাবে ‘ইমিগ্রেশন ওয়ারেন্ট রিফর্ম অ্যাক্ট’ নামের এই আইনটি প্রস্তাব করেছেন। আইসিই যাতে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া অথবা বর্ণবাদের ভিত্তিতে কাউকে আটকে রাখতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই বিলটি তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে বৈধ কাগজপত্র থাকা অনেক অভিবাসী ও মার্কিন নাগরিককেও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে, যা এই বিল প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। প্রস্তাবিত এই বিলে বলা হয়েছে, কাউকে আটক করার ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অবশ্যই তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রশাসনিক পরোয়ানা বা ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করতে হবে এবং আটকের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। পরোয়ানার পাশাপাশি আটকের পর কবে ইমিগ্রেশন আদালতে হাজিরা দিতে হবে, তা-ও আটকদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারকৃতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিন শুনানির ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি, আটকে রাখা প্রতিটি অনাগরিকের হেফাজতের বিষয়টি প্রতি ৬০ দিন পরপর কোনো ইমিগ্রেশন বা মার্কিন জেলা বিচারককে পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে, যাতে বিনা বিচারে কেউ দীর্ঘদিন আইসিই হেফাজতে না থাকেন। সিনেটর প্যাডিলা বলেন, এই আইনটি পাস হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে এবং নির্বিচার গ্রেপ্তার বন্ধ হবে। তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিলটি সহজে আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এদিকে, অভিবাসন অধিকারকর্মী এবং আইনজীবীরা এই বিলের কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে, ‘জননিরাপত্তার জন্য আসন্ন বিপদ’ হিসেবে কাউকে চিহ্নিত করে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের যে সুযোগ আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে রাখা হয়েছে, তা অপব্যবহারের আশঙ্কা করছেন তারা। টেক্সাস-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা রাইসেস-এর সহ-প্রধান নির্বাহী ফয়সাল আল-জুবুরি প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ সিভিল বা দেওয়ানি অপরাধের জন্য কাউকে আটকে রাখা এবং তার ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করা কতটা যৌক্তিক। তিনি মনে করেন, এই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা মৌলিক সাংবিধানিক সুরক্ষার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের (ইউডব্লিউ-ম্যাডিসন) একটি ছাত্র সংগঠনের বেসমেন্ট থেকে ভয়ংকর র্যাগিং বা 'হেজিং'-এর শিকার অন্তত ৩০ জন তরুণকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। 'আলফা এপসিলন পাই' নামের ওই ফ্র্যাটার্নিটির আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাদের অর্ধনগ্ন ও জখম অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই সংগঠনটিকে এক দশক আগেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল। মূলত একগুচ্ছ নিয়মভঙ্গ এবং বেপরোয়া আচরণের কারণেই তাদের বিরুদ্ধে ওই কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৩ সালে এই ফ্র্যাটার্নিটির একটি পার্টিতে মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরসহ দুজনকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়ে ‘ডিটক্স’ বা বিষমুক্ত করতে হয়েছিল। এই গুরুতর ঘটনার পর ইউডব্লিউ-ম্যাডিসন কর্তৃপক্ষ সংগঠনটিকে নজরদারিতে বা প্রবেশনে রাখে। কিন্তু নজরদারিতে থাকা অবস্থায় এবং মদ পানের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তারা অন্তত চারবার একই ধরনের অপরাধমূলক ও নিয়মবহির্ভূত কাজে জড়িয়ে পড়ে। বারংবার নিয়ম ভাঙার কারণে অবশেষে ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আলফা এপসিলন পাই-এর সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তা সত্ত্বেও, জাতীয় পর্যায়ের অনুমোদনের সুযোগ নিয়ে তারা ক্যাম্পাসের বাইরে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। সবশেষ গত বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ম্যাডিসন পুলিশ ওই ফ্র্যাটার্নিটির একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ জানায়, বাড়িটির নোংরা ও ৮১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের চরম উত্তপ্ত একটি বেসমেন্ট থেকে ওই ৩০ জন তরুণকে (যাদের বেশিরভাগের বয়স ১৮ বছর) উদ্ধার করা হয়। তাদের গায়ে খাবার, সস এবং অন্যান্য তরল পদার্থ মাখানো ছিল এবং অনেকের শরীরেই শারীরিক নির্যাতনের স্পষ্ট ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অবৈধভাবে র্যাগিং পরিচালনা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ফ্র্যাটার্নিটির ২০ বছর বয়সী সভাপতি এবং সহ-সভাপতিকে গ্রেপ্তার করে ডেন কাউন্টি জেলে পাঠানো হয়েছে। নিষিদ্ধ হওয়ার পরও কীভাবে এমন একটি সংগঠন এত বছর ধরে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিল, তা নিয়ে বর্তমানে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন এলাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে ইমিগ্রেশন আবেদনের কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং যথাযথভাবে সেই আবেদন জমা না দেওয়ার অভিযোগে এক ইমিগ্রেশন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৪৪ বছর বয়সী আল্লা নোভোউইজস্কি নামের ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে মেইল জালিয়াতি এবং ইমিগ্রেশন আইনজীবী হিসেবে কাজের ক্ষেত্রে মিথ্যা বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের ইউএস অ্যাটর্নি অফিস। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতির স্ট্যাটাস পরিবর্তন এবং ওয়ার্ক ভিসা পাওয়ার আশায় ক্লায়েন্টরা ওই আইনজীবীকে অর্থ প্রদান করেছিলেন। তবে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি কিছু আবেদন একেবারেই জমা দেননি, আর কিছু আবেদন জমা দিলেও সেগুলো ছিল অসম্পূর্ণ। শুধু অসম্পূর্ণ আবেদনই নয়, তদন্তকারীরা জানিয়েছেন যে তিনি ক্লায়েন্টদের এমন কিছু নথিপত্র এবং কেস নম্বর সরবরাহ করতেন, যেগুলো মূলত অন্য ব্যক্তিদের সক্রিয় ইমিগ্রেশন মামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল। ওই ভুয়া নথিপত্রগুলো এমনভাবে উপস্থাপন করা হতো, যেন ক্লায়েন্টরা বিশ্বাস করেন যে তাদের নিজেদের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত আবেদনগুলো কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং তা যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে। এই জালিয়াতির তদন্তে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অফিস অব ইন্সপেক্টর জেনারেল, ইউএস পোস্টাল সার্ভিস অফিস অব ইন্সপেক্টর জেনারেল এবং হ্যারিস কাউন্টি কনস্টেবল অফিসের পাশাপাশি ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসও সহায়তা করেছে। যদি আল্লা নোভোউইজস্কি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাকে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড এবং আড়াই লাখ (২ লাখ ৫০ হাজার) ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। তবে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এই অভিযোগগুলো এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে নির্দোষ হিসেবেই ধরে নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) প্রায় ৩৮ হাজার কর্মীর সংবেদনশীল ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য চুরির দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী ‘শাইনি হান্টার্স’। হ্যাকারদের দাবি অনুযায়ী, চুরি হওয়া এই বিশাল তথ্যভাণ্ডারে এফবিআইয়ের সব এজেন্টের নাম, পদবি, ব্যাজ নম্বর, বাড়ির ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং স্বামী বা স্ত্রীর ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের সাবেক প্রধান অধ্যাপক সিয়ারান মার্টিন মন্তব্য করেছেন, হ্যাকারদের এই দাবি যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে এটি তথ্য ফাঁসের ইতিহাসে অন্যতম গুরুতর একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এফবিআই জানিয়েছে, তারা হ্যাকারদের এই দাবির বিষয়ে অবগত এবং পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সক্রিয় ও কঠোরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হ্যাকার গোষ্ঠীটির দাবি, গত সোমবার রাতে তারা সফলভাবে এফবিআইয়ের সার্ভারে প্রবেশ করে এবং মঙ্গলবার থেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের কাছে চুরি করা তথ্যের নমুনা ও স্ক্রিনশট পাঠাতে শুরু করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্যের একটি ছোট অংশ বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে যে, এগুলো প্রাথমিকভাবে সত্যিকারের বলেই মনে হচ্ছে। অন্যদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ফাঁস হওয়া তথ্যে এফবিআই কর্মকর্তাদের দায়িত্ব, কর্মস্থলের বিবরণ ছাড়াও চীনা গুপ্তচর, রুশ গোয়েন্দা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত অত্যন্ত সংবেদনশীল অভিযানের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ফ্রান্স থেকে কার্যক্রম শুরু করা ‘শাইনি হান্টার্স’ এর আগেও রকস্টার গেমস এবং শিক্ষাবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ক্যানভাসে বড় ধরনের সাইবার হামলা চালিয়ে আলোচনায় এসেছিল। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা এফবিআইয়ের ব্যবহৃত ওরাকল ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবস্থার একটি দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে এফবিআইজবস, কর্মী যাচাইয়ের ব্যবস্থা এফবিআই বিস্ট, চিকিৎসা সংক্রান্ত এফবিআই মেডলিংক এবং তদন্তসংক্রান্ত ডেটাবেস এফবিআই বিকস-এ প্রবেশ করেছে। তবে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই সাইবার হামলার পেছনে কোনো আর্থিক উদ্দেশ্য নেই। গত মে মাসে এফবিআই শাইনি হান্টার্সকে ‘হুমকি সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছিল। হ্যাকারদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজির এই ‘মিথ্যা অভিযোগ’ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সংশোধন বা প্রত্যাহার করতে হবে, অন্যথায় চুরি করা পুরো তথ্যভান্ডার জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে এফবিআই খতিয়ে দেখছে এই সাইবার হামলা তাদের নিজস্ব কোনো সিস্টেমে হয়েছে নাকি কোনো তৃতীয় পক্ষের সার্ভারে ঘটেছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম রাইট এই ঘটনাটিকে এফবিআইয়ের ওপর একটি ‘প্রতিশোধমূলক হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে সাইবার দুনিয়ায় কোনো প্রতিষ্ঠানই পুরোপুরি নিরাপদ নয়। তবে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান হান্ট্রেসের বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু ব্র্যান্ডট মনে করেন, সরাসরি এমন হুমকির ফলে এফবিআই হ্যাকারদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে আরও বেশি তৎপর হয়ে উঠবে।
অ্যাপল, অ্যামাজন, গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট, মেটা, ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী জোট ‘টেকনেট’ সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত এইচ-১বি ভিসা ফি প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছে। নির্দিষ্ট এইচ-১বি ভিসার আবেদনের ওপর ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের নতুন এই ফি আরোপের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে গত ২৪ সেপ্টেম্বর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের (ডিএইচএস) কাছে নিজেদের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জমা দিয়েছে জোটটি। তাদের দাবি, প্রস্তাবিত এই ফি যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশাল এক আর্থিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। বিশেষ করে যখন ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি কর্মীদের দিয়ে বিশেষায়িত কাজ করানোর এই কর্মসূচিতে কড়াকড়ি আরোপের ধারা অব্যাহত রেখেছে, তখন এই পদক্ষেপ মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেবে বলে মনে করে টেকনেট। জোটটি জোর দিয়ে বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো উদীয়মান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিজেদের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর আন্তর্জাতিক মেধার সহজলভ্যতা একান্ত প্রয়োজন। গত আগস্ট মাসে ডিএইচএস এই ফি প্রস্তাবটি প্রকাশ করে। এতে বার্ষিক কোটার আওতাভুক্ত এইচ-১বি ভিসার আবেদনগুলোতে (এমনকি ২০ হাজার উচ্চতর ডিগ্রির ক্ষেত্রে ছাড়প্রাপ্ত আবেদনও এর অন্তর্ভুক্ত) ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের অতিরিক্ত ফি আরোপের কথা বলা হয়। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, বার্ষিক প্রায় ৮৫ হাজার আবেদনের ভিত্তিতে এই ফি থেকে বছরে প্রায় ৮.৮ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসতে পারে। তবে এই ফি সাধারণ এইচ-১বি ফাইলিং ফি এবং প্রশাসনের আগে থেকেই চালু থাকা আলাদা ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি পেমেন্ট শর্তের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন আইনি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে প্রস্তাব করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে মার্কিন কর্মীদের চাকরিচ্যুত করার মতো এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার রোধ করতেই এই কঠোর নীতিগুলো অপরিহার্য। এর অংশ হিসেবে গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যেখানে বলা হয়, এইচ-১বি আবেদনের পর্যালোচনার সময় স্পন্সর করা নিয়োগকর্তা সম্প্রতি সমমানের কোনো মার্কিন কর্মীকে ছাঁটাই করেছেন কি না বা করার পরিকল্পনা করছেন কি না, তা ফেডারেল সংস্থাগুলোকে কঠোরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। এদিকে, হোয়াইট হাউস তাদের কড়াকড়ির ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে এইচ-১বি ফাইলিংয়ের ধরন পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বরের প্রশাসনের একটি ফ্যাক্ট শিট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে শীর্ষ আইটি আউটসোর্সিং কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন প্রায় ৯২ শতাংশ কমে গেছে। তবে টেকনেট সতর্ক করে জানিয়েছে, নতুন এই প্রস্তাবিত ফি বিশেষ করে প্রযুক্তি স্টার্টআপ এবং ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চরম বিপাকে ফেলবে, যারা পুরোপুরি বিশেষায়িত কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল। প্রযুক্তি শিল্পে যখন এআই খাতের মতো জায়গায় বিশেষায়িত কর্মীর ব্যাপক চাহিদা চলছে, ঠিক তখন এই অতিরিক্ত ব্যয় মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য উদ্ভাবন অব্যাহত রাখার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াংও এর আগে এআই মেধা নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার বিষয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, কঠোর মার্কিন অভিবাসন নীতি যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক এবং প্রকৌশলীদের আকৃষ্ট করার ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ডিএইচএস-এর এই প্রস্তাবিত ফি নিয়ে মন্তব্য করার সময়সীমা গত ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। এখন জমা পড়া মন্তব্যগুলো পর্যালোচনা করে দপ্তরটি প্রস্তাব নিয়ে অগ্রসর হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বন্দি আটকে রাখার ধারণক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর তাড়াহুড়োয় লাখ লাখ ডলার করদাতার অর্থ অপচয় করেছে। সরকারি পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস’ (জিএও)-এর প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গণ-বহিষ্কার নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইসিই দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়ের হিসাব ছাড়াই একের পর এক ডিটেনশন সেন্টার বা বন্দিশালা কিনেছে। এমনকি যেসব ওয়্যারহাউস বা গুদামঘর তারা আর ব্যবহার করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেগুলো কিনতেও তাদের অন্তত ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ডলার লোকসান হয়েছে। ফেডারেল ব্যয়ের রেকর্ড অনুযায়ী, জানুয়ারির এক দিনেই আইসিই এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দুই মেয়াদের অন্য কোনো দিনেই দেখা যায়নি। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র জানান, বন্দিশালা অধিগ্রহণের জন্য আইসিই শুরুতে ‘শিকাগো টাইটেল ইন্স্যুরেন্স’-এর মাধ্যমে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অগ্রিম প্রদান করে। পরবর্তীতে মাত্র দুই মাসের মধ্যে আইসিই ১.০৭ বিলিয়ন ডলার খরচ করে ১১টি গুদামঘর কেনে, যার মধ্যে ৭টিই এখন তারা বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। গুদামঘরের পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার পর জুলাই ও আগস্ট মাসে আইসিই শিকাগো টাইটেল থেকে ২.২ বিলিয়ন ডলার সরিয়ে নিয়ে বেসরকারি কারা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘কোরসিভিক’-এর কাছ থেকে চারটি ডিটেনশন সেন্টার ক্রয় করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে কংগ্রেস আইসিই-কে ৭৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল তহবিল প্রদান করে, যার মধ্যে ৪৫ বিলিয়ন ডলারই বরাদ্দ ছিল ডিটেনশন সেন্টারের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর জন্য। এই বিপুল অর্থ হাতে পাওয়ার পর আইসিই তাদের ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলেছে। সিবিএস নিউজের বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের অক্টোবর থেকে এই বছরের জুলাই পর্যন্ত সংস্থাটি ১৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যা এর আগের পুরো অর্থবছরের ১১ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে অনেক বেশি। প্রচলিত বাজেট পাসের প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে এমন বিশাল তহবিল পাওয়ার কারণে কংগ্রেসের নিয়মিত নজরদারি এড়িয়ে আইসিই ইচ্ছেমতো অর্থ খরচের সুযোগ পেয়েছে বলে বাজেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অপচয়ের মাত্রা কেবল গুদামঘর বা কোরসিভিকের চুক্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। জিএও-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিমার (FEMA) মাধ্যমে আইসিই ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যকে তাদের দুটি ডিটেনশন সেন্টারের জন্য স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি অর্থ প্রদান করেছে। এছাড়াও, এল পাসোতে সামরিক ঘাঁটিতে ডিটেনশন সেন্টার তৈরির এক পরিত্যক্ত উদ্যোগে এমন সব খাবারের পেছনে ৭.১ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছে, যার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। এমনকি গুয়ানতানামো বে-তে ৩০,০০০ বন্দি রাখার জন্য ২.৮৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে তাঁবু স্থাপন করা হলেও, সেখানে হাতেগোনা মাত্র কয়েকজন বন্দিকে রাখা হয়েছিল। সার্বিক পরিস্থিতিতে জিএও জানিয়েছে যে, এই বিপুল আর্থিক অপচয় রোধে আইসিই-এর অবিলম্বে একটি সুনির্দিষ্ট ও কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।
একসময় ডায়রিয়া ও কলেরায় শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বেরিয়ে যাওয়ার ফলে অসংখ্য মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ত। সেসময় রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে শিরায় স্যালাইন দেওয়াই ছিল পানিশূন্যতা রোধের প্রধান চিকিৎসা ব্যবস্থা। কিন্তু লবণ, চিনি ও বিশুদ্ধ পানির সঠিক মাত্রার মিশ্রণে তৈরি মুখে খাওয়ার স্যালাইন বা ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস) চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই কঠিন পরিস্থিতিকে পুরোপুরি বদলে দেয় এবং এক অভাবনীয় বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে। খাবার স্যালাইনের এই সহজ চিকিৎসাপদ্ধতির উন্নয়ন এবং বাংলাদেশে এর সফল প্রয়োগের পেছনে ডা. রফিকুল ইসলামসহ একাধিক দেশীয় গবেষকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। পরবর্তীতে বাংলাদেশের এই যুগান্তকারী গবেষণা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা বিশ্বজুড়ে ওআরএস ব্যবহারে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে। এই পদ্ধতিটি এতটাই কার্যকর ও সহজলভ্য যে, গুরুতর পানিশূন্যতার অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে না নিয়েও খুব দ্রুত মুখে তরল এবং লবণ-চিনির মিশ্রণ খাইয়ে প্রাথমিক বিপদ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়। এই সহজ অথচ কার্যকরী সমাধানটির চূড়ান্ত স্বীকৃতি মিলেছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। ১৯৭৮ সালে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও মর্যাদাপূর্ণ চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’ ওরাল রিহাইড্রেশন থেরাপিকে "বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন" হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। আজ আমাদের ঘরে ঘরে যে খাবার স্যালাইনকে আমরা খুব সাধারণ একটি পানীয় বলে মনে করি, সেটিই একসময় বিশ্ব চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপ্লব ঘটিয়েছিল। স্বল্প খরচে কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচানোর এই জাদুকরী সমাধানের পেছনে বাংলাদেশের গবেষণার অসামান্য অবদান তাই আমাদের জন্য সত্যিই এক বিরাট গর্বের বিষয়।
নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনে ম্যানহোলের ঢাকনা সরিয়ে সুয়ারেজ লাইনে নেমে সোনা ও মূল্যবান ধাতু খোঁজার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অদ্ভুত এই কাণ্ডের দায়ে গত বৃহস্পতিবার কেভিন রদ্রিগেজ (২৬) এবং স্যামুয়েল রেভেরন (২৫) নামের ওই দুই ভেনেজুয়েলান নাগরিককে কুইন্স এলাকায় তাদের বাড়ির কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইডের লোউস রিজেন্সি নিউইয়র্ক হোটেলের ঠিক পাশেই বুধবার ভোরে তারা এই ভূগর্ভস্থ অভিযানে নেমেছিলেন। শহরের ভূগর্ভস্থ সুয়ারেজ ব্যবস্থা থেকে আচমকা মানুষের বেরিয়ে আসার এই ঘটনাগুলো নিউইয়র্কে ‘মোল পিপল’ রহস্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে স্যামুয়েল রেভেরন স্বীকার করেছেন যে, ড্রেনে ভেসে যাওয়া মূল্যবান ধাতু এবং সোনা খুঁজতেই তারা ম্যানহোলে প্রবেশ করেছিলেন। শুক্রবার ম্যানহাটন আদালতে এই দুই যুবকের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়, যদিও পরে তারা আইনি নজরদারির শর্তে মুক্তি পান। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ বিশ্বের শীর্ষ নেতারা সেসময় ওই এলাকার হোটেলে অবস্থান করছিলেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না বা তারা কোনো ভিআইপি অতিথির জন্য হুমকিও ছিলেন না। নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ঝড়-বৃষ্টির পর সুয়ারেজ থেকে স্ক্র্যাপ মেটাল বা মূল্যবান জিনিস খোঁজার প্রবণতা বেড়েছে। তবে জাতিসংঘের অধিবেশন এবং জায়গাটির স্পর্শকাতরতার কথা বিবেচনা করে ফেডারেল অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে ইস্ট ৬১ স্ট্রিট সংলগ্ন পার্ক অ্যাভিনিউয়ের একটি ম্যানহোল থেকে ওই দুজনসহ মোট তিনজনকে উঠে আসতে দেখা যায়। এরপর তারা দুটি গাড়িতে করে দ্রুত পালিয়ে যান। স্যামুয়েল রেভেরনকে যখন আটক করা হয়, তখন তিনি লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তার বিরুদ্ধে এর আগেও কুইন্সে একটি অপরাধের রেকর্ড রয়েছে, তবে রদ্রিগেজের এটিই প্রথম গ্রেপ্তার। আগামী ২৫ নভেম্বর তাদের পুনরায় আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। চলতি বছরে কুইন্স, ব্রুকলিন এবং ম্যানহাটনের পেন স্টেশন ও ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের মতো ব্যস্ত এলাকাগুলোতেও একাধিকবার এসব রহস্যময় ‘মোল পিপল’দের সুয়ারেজ থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার পর আইনি লড়াইয়ে বড়সড় ধাক্কা খেলো জনপ্রিয় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) স্টার্টআপ অ্যানথ্রপিক। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রতিষ্ঠানটির ওপর পেন্টাগন যে সামরিক চুক্তির নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, তা স্থগিত করতে শুক্রবার অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত। ডিস্ট্রিক্ট অফ কলাম্বিয়া সার্কিটের ইউএস কোর্ট অফ আপিলস এই রায় প্রদান করে। পেন্টাগনের 'সাপ্লাই চেইন রিস্ক' বা সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি হিসেবে আখ্যায়িত করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে অ্যানথ্রপিক মূলত এই মামলাটি দায়ের করেছিল। স্টার্টআপটির দাবি, সামরিক চুক্তি থেকে বাদ পড়ার ফলে তাদের ব্যবসা থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে, বহুল প্রতীক্ষিত ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও) বা শেয়ারবাজারে প্রবেশের ঠিক আগমুহূর্তে এই নিষেধাজ্ঞা তাদের সুনামের ওপরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আদালতের এই রায়ের পর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে যে, তারা বিনয়ের সঙ্গে আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে। তবে নিজেদের আইনি অবস্থানের বিষয়ে তারা এখনো আত্মবিশ্বাসী এবং প্রয়োজনে আরও উচ্চতর বিচারিক পর্যালোচনাসহ অন্যান্য আইনি বিকল্পগুলোর কথা গভীরভাবে বিবেচনা করছে। উল্লেখ্য, গত মাসে সান ফ্রান্সিসকোর একজন ফেডারেল বিচারক ভিন্ন একটি আইনের অধীনে করা একই ধরনের একটি নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপ বাতিল করে দিয়েছিলেন। ওই বিচারক তার রায়ে জানিয়েছিলেন যে, এআই নিরাপত্তার বিষয়ে অ্যানথ্রপিকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই মার্কিন প্রশাসন বেআইনিভাবে তাদের ওপর এই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসা ও সংসারের খরচ সামলাতে ৮১ বছর বয়সেও হারিয়ে যাওয়া ও বিলম্বিত লাগেজ মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছিলেন টেক্সাসের ডন জনসন। কখনো টানা ১৪ ঘণ্টা কাজ, কখনো শত শত মাইল গাড়ি চালানো—গত তিন বছর ধরে এভাবেই চলছিল তার জীবন। কিন্তু একটি হারানো স্যুটকেস পৌঁছে দিতে গিয়ে অপরিচিত এক নারীর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর বদলে গেছে তার জীবনের গল্প। এখন হাজারো মানুষ তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। ডন থাকেন টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওর্থ এলাকার দ্য কলোনিতে। তিনি স্বাধীন ঠিকাদার হিসেবে বিমানবন্দরে হারিয়ে যাওয়া বা দেরিতে পৌঁছানো লাগেজ যাত্রীদের বাড়িতে পৌঁছে দেন। ডন জানিয়েছেন, এই কাজটি করার অন্যতম কারণ হলো ৮১ বছর বয়সে অন্য কোথাও কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। তার ভাষায়, এটিই ছিল তাকে নিয়োগ দিতে রাজি হওয়া কাজ। ডনের স্ত্রী জোসেফিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছেন। তাদের দাম্পত্য জীবনের বয়স ৫৭ বছর। ডন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিমা চিকিৎসার কিছু ব্যয় বহন করলেও পুরো খরচ মেটে না। চিকিৎসা, ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সংসারের বাড়তি ব্যয় সামলাতেই এই বয়সেও কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছিল তাকে। কাজটিও ছিল শারীরিকভাবে কঠিন। ডন কখনো দিনে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতেন। লাগেজ পৌঁছে দিতে গাড়ি চালাতে হতো দীর্ঘ পথ। গোফান্ডমির তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে এই কাজ করতে গিয়ে নিজের গাড়িতে ২ লাখ মাইলের বেশি চালিয়েছেন তিনি। অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে গাড়িটিতেও বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই ডনের জীবনে আসেন দ্য কলোনির বাসিন্দা এরিন হাওয়েল। সম্প্রতি ভ্রমণের সময় হারিয়ে যাওয়া তার লাগেজ পৌঁছে দিতে ডন তার বাড়িতে যান। দরজার ক্যামেরায় এরিন দেখতে পান, ৮১ বছর বয়সী মানুষটি ভারী স্যুটকেস নিয়ে খাড়া সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে কষ্ট করছেন। দৃশ্যটি দেখে তিনি বাইরে এসে ডনকে সাহায্য করেন। কথা বলতে গিয়ে এরিন জানতে পারেন ডনের জীবনের পেছনের গল্প। স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে এই বয়সেও ভারী লাগেজ বহন করছেন তিনি। ডনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এত শারীরিক পরিশ্রমের কাজ কেন করছেন। তিনি জানান, অন্য কোথাও তাকে কাজ দেওয়া হচ্ছিল না। ডনের গল্প জানার পর তাকে কাজ থেকে অবসর নেওয়ার সুযোগ করে দিতে ‘হেল্প ডন রিটায়ার’ নামে একটি গোফান্ডমি তহবিল খোলেন এরিন। ২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া তহবিলটির উদ্দেশ্য ছিল জোসেফিনের চিকিৎসা ব্যয়, দম্পতির দৈনন্দিন খরচ এবং ডনকে আর ভারী কাজ করতে না হওয়ার মতো আর্থিক সহায়তা দেওয়া। এরপর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই অভাবনীয় সাড়া আসে। বুধবার সকালে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট যখন খবরটি প্রকাশ করে, তখন তহবিল ছিল মাত্র ৮৭ হাজার ডলার। বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্লোবাল নিউজ জানায়, অঙ্কটি বেড়ে ৩ লাখ ৭১ হাজার ডলারের বেশি হয়েছে। আর আজ, ২৫ সেপ্টেম্বর, গোফান্ডমির লাইভ পেজে দেখা যাচ্ছে—তহবিল ইতোমধ্যে ৭ লাখ ৪ হাজার ২১২ ডলারে পৌঁছেছে। অনুদান দিয়েছেন ১২ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ। তহবিলের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ ডলার। অনুদান চলমান থাকায় অঙ্কটি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। মানুষের এমন সাড়া দেখে আবেগাপ্লুত ডন বলেছেন, এরিন যা করেছেন তা তার কাছে ‘অলৌকিক’ ঘটনার মতো। তারা কারও কাছে সাহায্য চাননি, কিন্তু মানুষের এই সহযোগিতা তাদের অনেক সাহায্য করছে। তিনি আরও বলেছেন, ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে যেভাবে মানুষ তাকে সাহায্য করেছে, তিনিও অন্যদের সেভাবে সাহায্য করতে চান। মানুষের এমন উদারতা তার মানুষের প্রতি বিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন ডন। জোসেফিনও মানুষের প্রতিক্রিয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ ৫৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে স্বামীর পাশে থাকার গল্প এখন হাজারো অপরিচিত মানুষের কাছেও পৌঁছে গেছে। আর যে মানুষটি কয়েক দিন আগেও ভারী স্যুটকেস নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছিলেন, মানুষের সহায়তায় তার সামনে এখন কাজ কমিয়ে অসুস্থ স্ত্রীর পাশে আরও বেশি সময় থাকার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নারীদের জন্য নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে চালু হওয়া ‘পিঙ্ক বাস সার্ভিস’-এর কথা জাতিসংঘের মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ‘প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা’ বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন তিনি। বৈঠকটি আয়োজন করে ক্রোয়েশিয়া ও ইউএন উইমেন। বৈঠকে শামা ওবায়েদ নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। দ্রুত তদন্ত ও বিচার, আইনি সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা, নিরাপদ আশ্রয়, পুনর্বাসন এবং মানসিক সহায়তার বিষয়গুলোও তার বক্তব্যে উঠে আসে। নারীদের গণপরিবহনে নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে তিনি বাংলাদেশের সম্প্রতি চালু হওয়া নারী-নির্দিষ্ট ‘পিঙ্ক বাস সার্ভিস’-এর বিষয়টি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নারীদের জন্য গণপরিবহনকে আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করাই এই সেবার অন্যতম উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ১৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও বাস ডিপো থেকে পিঙ্ক বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করে। প্রথম পর্যায়ে ১৪টি বাস নিয়ে এই সেবা চালু করা হয়। বিআরটিসির তথ্য অনুযায়ী, বাসগুলো ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, বগুড়া ও চট্টগ্রামের নির্ধারিত রুটে চলাচলের জন্য দেওয়া হয়। এই সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বাস পরিচালনায় নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টরদের অংশগ্রহণ। উদ্যোগটির মাধ্যমে নারীদের নিরাপদ যাতায়াতের পাশাপাশি পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে। জাতিসংঘের বৈঠকে শামা ওবায়েদ নারীদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার বিষয়েও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।তিনি বাংলাদেশ নেতৃত্বাধীন ‘ঢাকা ডায়ালগ’ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। ডিজিটাল হয়রানি প্রতিরোধ, ঘটনার তদন্ত এবং তা মোকাবিলায় স্বেচ্ছামূলক নির্দেশিকা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে এই উদ্যোগের। এ উদ্যোগের ‘গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস’-এ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে নারীদের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া নতুন ধরনের ডিজিটাল হুমকি নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে অনলাইন হয়রানি, মানহানি, পরিচয় জালিয়াতি এবং এআই-নির্ভর নিপীড়নের মতো বিষয় ছিল। শামা ওবায়েদ সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির শিকার নারীদের সুরক্ষার বিষয়টিও জাতিসংঘের আলোচনায় তুলে ধরেন। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।এ ছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন তিনি। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে আইন ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক উদ্যোগের পাশাপাশি নিরাপদ গণপরিবহন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা মোকাবিলার বিষয়গুলো একই আলোচনায় তুলে ধরে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার বিভিন্ন উদ্যোগের চিত্র উপস্থাপন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনায় ২০২০ সাল থেকে নিখোঁজ রবার্ট ড্রাবেকের দেহাবশেষ টুসন শহরের একটি বাড়ির পেছনের আঙিনায় মাটিচাপা অবস্থায় পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার খবর জানায় স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ১৩ নিউজ। ঘটনার ছয় বছর পর রবার্টের সন্ধান মিললেও তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারানা এলাকায় ইনা ও থর্নিডেল সড়কের কাছে একটি মোটরহোমের ভেতর সহিংস ঘটনার আলামত পান পুলিশ কর্মকর্তারা। এরপর রবার্টকে নিখোঁজ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। দীর্ঘদিন তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্তকারীরা। ১৩ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাওয়া একটি তথ্যের সূত্র ধরে তদন্তকারীদের নজর যায় টুসনের নর্থ ডজ বুলেভার্ডের একটি বাড়িতে। রবার্টের মা-ও ওই বাড়ির আঙিনায় তাঁর ছেলের দেহাবশেষ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করেছিলেন। তাঁর অনুরোধে একটি উদ্ধারকারী দল বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর নিয়ে সেখানে খোঁজ চালায়। তবে সে সময় কিছু পাওয়া যায়নি। পরে মারানা পুলিশ জানায়, গোয়েন্দারা ৪ আগস্ট বাড়িটিতে নতুন করে তল্লাশি চালান। বাড়ির পেছনের আঙিনায় মাটির নিচে দেহাবশেষ পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, রবার্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে থাকতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশিত না হওয়ায় তাঁর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে জানানো হয়নি। ১৩ নিউজ জানিয়েছে, ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। রবার্ট কীভাবে মারা গেলেন এবং তাঁর দেহাবশেষ ওই বাড়িতে কীভাবে পৌঁছাল, তা জানতে তদন্ত চলছে।
গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য বিরোধী দল নতুন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে ওয়াপদা খালের তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ্যানি বলেন, বিরোধী দলের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা তাঁর মতে গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দল নিজেরাই বলছে, ১১ দলের দাবি পূরণ না হলে বোমাবাজি ও ককটেলবাজি বন্ধ হবে না। তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের বক্তব্য, কর্মকাণ্ড এবং ৫ আগস্টের পর দেশ ছেড়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামে যেসব কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে মিল দেখা যাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, গাড়িতে আগুন দেওয়া, ককটেল হামলা ও ঝটিকা মিছিলের মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। দেশের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও রাজপথে থেকেই ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবিলা করবে। বিরোধী দলের সংসদীয় ভূমিকার সমালোচনা করে এ্যানি বলেন, সংসদের ভেতরে তারা সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখলেও সংসদের বাইরে সরকারের বিরুদ্ধে অশালীন ও শিষ্টাচারবহির্ভূত ভাষা ব্যবহার করছে। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও আলোচনা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও বিরোধী দলের বর্তমান কর্মকাণ্ডের মধ্যে সরকারকে আগামী পাঁচ বছর স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে না দেওয়ার মনোভাব রয়েছে। এ্যানির বক্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের চলমান আন্দোলন। জোটটি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম কমানো, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগস্টে জোটটি সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সময়ে বিভিন্ন বিভাগীয় শহর অভিমুখে লং মার্চ এবং নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুরে দেওয়া বক্তব্যেও এ্যানি বিরোধী দলের লং মার্চের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সংসদে সরকারকে সহযোগিতার কথা বলার পরও রাস্তায় লং মার্চের মতো কর্মসূচি নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মসূচিতে যানজট ও জনদুর্ভোগ তৈরি হতে পারে। তবে ১১ দলীয় জোট তাদের কর্মসূচিকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম কমানো, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জনদুর্ভোগ কমানোর দাবিতে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করেছে। জোটের পক্ষ থেকে লং মার্চ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছিল। শুক্রবারের অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান, বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপি এবং সদর পূর্ব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।