সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
২০৩২ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা চলছে
সোশ্যাল সিকিউরিটির টাকা ফুরিয়ে আসছে, ট্রাস্ট ফান্ড শেষ হতে পারে ২০৩২ সালে

সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর ও সারভাইভার সুবিধার জন্য ব্যবহৃত ট্রাস্ট ফান্ড ২০৩২ সালে শেষ হয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, তহবিলের রিজার্ভ দ্রুত কমে আসছে। ফলে কংগ্রেস সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে অবসরপ্রাপ্তদের সুবিধা নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।   সোশ্যাল সিকিউরিটির এই তহবিল মূলত কর্মীদের বেতন থেকে আদায় করা পে-রোল ট্যাক্সের অর্থের ঘাটতি পূরণে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে সুবিধা দেওয়ার ব্যয় এবং সংগৃহীত অর্থের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হওয়ায় ট্রাস্ট ফান্ডের রিজার্ভ থেকে সেই ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে। তবে এই রিজার্ভ দ্রুত কমে যাওয়ায় ২০৩২ সালকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে।   তহবিলের অর্থ শেষ হয়ে গেলে বর্তমান আইনে সরকার শুধু তখনকার সময়ে সংগৃহীত অর্থের ভিত্তিতে সুবিধা পরিশোধ করতে পারবে। অর্থাৎ, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনো পরিবর্তন না এলে নির্ধারিত হারে পুরো সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ২০৩২ সালে ঠিক কত শতাংশ সুবিধা কমবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়।   সিনেটর বিল ক্যাসিডি ও ডিক ডারবিনসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা সতর্ক করেছেন, তহবিলের ঘাটতি পূরণে ব্যবস্থা না নিলে সুবিধা উল্লেখযোগ্য হারে কমতে পারে। তাদের দেওয়া একটি হিসাব অনুযায়ী, গড়ে ২ হাজার ৮৬ ডলার মাসিক সুবিধা পাওয়া কেউ ভবিষ্যতে কয়েকশ ডলার পর্যন্ত কম সুবিধা পেতে পারেন।   তবে এ ধরনের হিসাবকে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। কারণ সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থায়ন নিয়ে কংগ্রেসে আইন পরিবর্তন হলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। নতুন রাজস্ব সংগ্রহ, কর কাঠামো পরিবর্তন, সুবিধার নিয়মে পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সমাধান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।   সমস্যা মোকাবিলায় ক্যাসিডি, ডারবিনসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা প্রমিজ অ্যাক্ট (PROMISE Act) নামে একটি দ্বিদলীয় প্রস্তাবও এনেছেন। এর লক্ষ্য সরাসরি সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা কমানো নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে তহবিলকে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল রাখার জন্য সমাধান তৈরির একটি প্রক্রিয়া শুরু করা।   প্রস্তাব অনুযায়ী, সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড জনগণের মতামত নিয়ে এমন একটি আইন প্রস্তাব তৈরি করবে, যাতে অন্তত ৫০ বছর ট্রাস্ট ফান্ডকে আর্থিকভাবে টেকসই রাখা যায়। পরে সেই প্রস্তাব কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠিয়ে পর্যালোচনা ও সংশোধনের সুযোগ থাকবে।   সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়ে সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়ে আইনপ্রণেতা ও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ রাজস্ব বাড়ানোর পক্ষে, কেউ সুবিধার কাঠামো পরিবর্তনের কথা বলছেন। অবসরের বয়স পরিবর্তন এবং উচ্চ আয়ের মানুষের কাছ থেকে আরও বেশি কর আদায়ের প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।   তাই ২০৩২ সাল ঘিরে এখন যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, সেটি মূলত ট্রাস্ট ফান্ডের রিজার্ভ শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে। কংগ্রেস আগামী বছরগুলোতে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের লাখো অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধার পরিমাণ কী হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৫:৯
এফবিআইয়ের চাকরির ওয়েবসাইটে সাইবার হা মলার দাবি ঘিরে তদন্ত চলছে
প্রায় সব এফবিআই এজেন্টের ‘অতি সংবেদনশীল তথ্য’ চুরির দাবি হ্যা কারদের

প্রায় সব এফবিআই এজেন্টের ‘অতি সংবেদনশীল তথ্য’ চুরি করার দাবি করেছে ‘শাইনি হান্টার্স’ নামে একটি হ্যা কার গোষ্ঠী। তাদের দাবি, এফবিআইয়ের এজেন্টদের পাশাপাশি চাকরির জন্য আবেদন করা ব্যক্তিদেরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য তাদের হাতে এসেছে। তবে হ্যা কারদের এই দাবি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি এবং ঘটনাটি তদন্ত করছে এফবিআই।   শাইনি হান্টার্স এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এবং ব্যুরোর সাইবার বিভাগের সহকারী পরিচালক ব্রেট লিদারম্যানকে পাঠানো এক বার্তায় দাবি করেছে, তারা এফবিআইয়ের চাকরির ওয়েবসাইট fbijobs.gov-তে প্রবেশ করেছে। গোষ্ঠীটির ভাষ্য, এফবিআইয়ের ‘প্রায় সব এজেন্ট’ এবং যারা চাকরির জন্য আবেদন করেছেন, তাদের সংবেদনশীল তথ্য তাদের হাতে রয়েছে। হামলার পর বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি বন্ধ ছিল।   তবে এফবিআই জানিয়েছে, এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি ঠিক কোথা থেকে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। ব্যুরোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, fbijobs.gov-এর সঙ্গে যুক্ত কোনো তৃতীয় পক্ষের সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে নাকি এফবিআইয়ের নিজস্ব ব্যবস্থায় এই সমস্যা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও কাজ করছে এফবিআই।   ডেটা, গোপনীয়তা ও সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞ আইনজীবী মিরিয়াম উগমিস্টার বলেছেন, শাইনি হান্টার্সের আগের কর্মকাণ্ড বিবেচনায় তাদের ওয়েবসাইটে প্রবেশের দাবি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এফবিআই এজেন্ট ও আবেদনকারীদের ঠিক কতজনের তথ্য নেওয়া হয়েছে এবং কী ধরনের তথ্য তাদের হাতে গেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   শাইনি হান্টার্স দাবি করেছে, মে মাসে এফবিআইয়ের প্রকাশ করা একটি সতর্কবার্তার প্রতিশোধ হিসেবে তারা এই হামলা চালিয়েছে। ওই সতর্কবার্তায় গোষ্ঠীটিকে ‘থ্রেট অ্যাক্টর’ হিসেবে উল্লেখ করে এফবিআই বলেছিল, তারা অনেক সময় সংবেদনশীল বা ব্যক্তিগত তথ্য পাওয়ার দাবি করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে। পাশাপাশি হ্যা কাররা অনেক সময় ভুক্তভোগীদের হ্যা রা স বা হ য় রা নি করতে পারে বলেও সতর্ক করেছিল এফবিআই।   এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে শাইনি হান্টার্স এফবিআইকে ওই সতর্কবার্তা সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। গোষ্ঠীটি বলেছে, তাদের এই কর্মকাণ্ড অর্থ আদায়, জবরদস্তি বা মুক্তিপণ চাওয়ার উদ্দেশ্যে নয়। তবে এফবিআই তাদের দাবি না মানলে এক সপ্তাহ পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত জানায়নি গোষ্ঠীটি।   বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সত্যিই এফবিআই কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে থাকে, তাহলে এর প্রভাব শুধু এজেন্টদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। তথ্যের অপব্যবহার করে এজেন্ট ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হ য় রা নি, চাঁ দা বা জোর করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা কিংবা ‘সোয়াটিং’-এর মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে এজেন্টদের স্বামী বা স্ত্রীদের পরিচয়ও তথ্যের মধ্যে থাকলে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে।   এফবিআইকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলার দাবি অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে মার্চে ব্যুরো জানিয়েছিল, নজরদারি অভিযান ও তদন্তসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য থাকা একটি অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড শনাক্ত হয়েছে। একই মাসে ইরা নপন্থী একটি হ্যা কার গোষ্ঠী কাশ প্যাটেলের একটি অ্যাকাউন্টে প্রবেশের দাবিও করেছিল। তারা প্যাটেলের পুরোনো ছবি এবং এক দশকেরও বেশি সময় আগের কিছু ব্যক্তিগত নথি প্রকাশ করেছিল।   বর্তমানে শাইনি হান্টার্সের দাবি কতটা সত্য এবং আসলে কী ধরনের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, সেটিই তদন্তের মূল বিষয়। এফবিআই বলছে, বিষয়টি সক্রিয়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কাজ চলছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৪:৫৯
ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল পুনর্গঠনের জন্য ঋণের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক অনুদান চেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ঋণ নয়, অনুদান চায় বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল; জাতিসংঘের তহবিলে ২ কোটি ডলারের আবেদন

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল পুনর্গঠনের জন্য ঋণের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক অনুদান চেয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় গঠিত আন্তর্জাতিক ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’-এর কাছে জরুরি ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার সহায়তার আবেদন করেছে দেশটি। প্রাথমিক হিসাবে সাম্প্রতিক দুর্যোগে নেপালের সম্পদ, আবাসন ও অবকাঠামোর সরাসরি ক্ষতি হয়েছে অন্তত ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার, আর পুনর্গঠনে প্রয়োজন হতে পারে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার।   বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই সহায়তার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জলবায়ু দুর্যোগের পর পুনর্গঠনে ঋণের বোঝা বাড়ানোর পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে অনুদানের মাধ্যমে সহায়তা করা প্রয়োজন।   আগস্টের শেষ দিকে নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ও পাহাড়ের একটি অংশ ধসে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস সৃষ্টি হয়। এতে নেপালে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, হাজারো মানুষ নিখোঁজ হন এবং সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রয়টার্সের সর্বশেষ হিসাবে দুর্যোগে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।    নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির প্রাথমিক হিসাবে শুধু সম্পদ, আবাসন ও অবকাঠামোর সরাসরি ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৮৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি বা ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। তবে দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সামগ্রিক পুনর্গঠনে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে—যা নেপালের অর্থনীতির প্রায় এক-দশমাংশের সমান।   এই বিপুল ক্ষতির মধ্যে নেপালের অর্থ ও পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ‘ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ’-এর কাছে জরুরি ২ কোটি ডলারের আবেদন করেছে। বর্তমানে একটি দেশের একক আবেদনের সর্বোচ্চ সীমাই ২ কোটি ডলার। ফলে নেপাল সর্বোচ্চ অনুমোদিত অর্থ চেয়েছে।   তবে ২ কোটি ডলার নেপালের সামগ্রিক ক্ষতির তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। কার্বন ব্রিফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই অর্থ সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির এক শতাংশেরও কম। আর প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য পুনর্গঠন ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করলে ব্যবধান আরও বড়।    নেপাল এই সহায়তাকে প্রচলিত অর্থে দাতব্য সাহায্য হিসেবে দেখতে চায় না। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, এটি ‘ক্লাইমেট জাস্টিস’ বা জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। তার বক্তব্য, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান ০ দশমিক ১ শতাংশেরও কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বড় মূল্য দেশটির মানুষকে দিতে হচ্ছে।   প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহও জাতিসংঘে একই যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি সাম্প্রতিক বন্যাকে শুধু নেপালের স্থানীয় বিপর্যয় নয়, বরং বিশ্বের জন্য একটি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার বক্তব্য, হিমবাহ দ্রুত সরে যাচ্ছে, পাহাড়ের ঢাল অস্থিতিশীল হচ্ছে এবং নদীর আচরণ ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।   বন্যার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক নিয়েও নতুন বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এসেছে। বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক দল জানিয়েছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন নেপালের সাম্প্রতিক হিমবাহ ধস ও ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে—এমন সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। উষ্ণতা বৃদ্ধি, হিমবাহ গলন এবং পারমাফ্রস্ট দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো পাহাড়ি অঞ্চলের স্থিতিশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে বলে তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।   তবে নেপালের ২ কোটি ডলারের জরুরি আবেদন এখনো চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়নি। লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডের বোর্ড নেপালের অনুরোধ পাওয়ার পর জানিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব সহায়তার উপায় খুঁজতে আলোচনা ও সমন্বয় চলছে।   এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। নেপাল এর আগে আলাদা প্রস্তাবের ভিত্তিতে লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে ২ কোটি ডলারের অর্থায়নের অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু আগস্টের ভয়াবহ বন্যার পর করা নতুন জরুরি ২ কোটি ডলারের আবেদনটি আলাদা, এবং সেটির সিদ্ধান্ত এখনো অপেক্ষমাণ।   এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনর্গঠনের জন্য নেপাল ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রায় ৯ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও নতুন করে ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার বন্যা পুনরুদ্ধার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   নেপালের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে হিমালয় অঞ্চলের জন্য একটি ‘হিমালয়া ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছেন। এতে নেপাল, ভারত ও চীনকে একসঙ্গে স্যাটেলাইট তথ্য ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বিনিময়, হিমবাহের হ্রদ পর্যবেক্ষণ এবং যৌথ আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রস্তাব রয়েছে।   বন্যাবিধ্বস্ত নেপালের সামনে এখন তাই শুধু ধ্বংস হওয়া ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের চ্যালেঞ্জ নয়; বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই পুনর্গঠনের অর্থ কোথা থেকে আসবে। কাঠমান্ডুর অবস্থান হলো—জলবায়ু সংকট তৈরিতে যেসব দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশের ভূমিকা সামান্য, তাদের নতুন ঋণের বোঝায় না ফেলে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের মাধ্যমে ক্ষতি সামাল দিতে সহায়তা করা উচিত।   সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৪:৫৫
কম যাত্রী ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রগামী ফ্লাইট কমিয়ে দিচ্ছে নরস আটলান্টিক। ছবি: সংগৃহীত
কম যাত্রী ও জ্বালানির উচ্চমূল্যে নরস আটলান্টিকের প্রায় সব যুক্তরাষ্ট্রগামী ফ্লাইট বাতিল

কম যাত্রী ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রগামী ফ্লাইট কমিয়ে দিচ্ছে নরওয়ের কম খরচের এয়ারলাইন নরস আটলান্টিক। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক ও রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরের দুটি রুট বন্ধ হয়ে যাবে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে নরস আটলান্টিকের নির্ধারিত মাত্র একটি রুট চালু থাকবে, যা অরল্যান্ডো থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক পর্যন্ত।   নরস আটলান্টিকের এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রগামী আন্তর্জাতিক ভ্রমণে সাম্প্রতিক মন্দাভাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ভ্রমণ ও পর্যটন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে প্রায় ৩১ লাখ আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এ সংখ্যা ১১ দশমিক ৮ শতাংশ কম। জুলাইয়েও আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী কমেছিল ৭ শতাংশ।   ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি পর্যটকের আগমন কিছুটা বাড়লেও সামগ্রিক চিত্রে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কমেছে। যাত্রীসংখ্যার এই পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন এয়ারলাইন তাদের ফ্লাইট সূচি ও রুট নতুন করে পর্যালোচনা করছে। কম চাহিদার রুটে ফ্লাইট কমিয়ে তুলনামূলক বেশি চাহিদার গন্তব্যে উড়োজাহাজ ব্যবহারের চেষ্টা করছে তারা।   অসলোভিত্তিক নরস আটলান্টিক ২০২২ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে কম খরচে দীর্ঘপাল্লার বিমান চলাচলের লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। একসময় নিউইয়র্ক, মায়ামি, লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো, বোস্টন ও অরল্যান্ডো থেকে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে তাদের ফ্লাইট চলত। তবে চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে সেবা গুটিয়ে নিয়েছে এবং আরও কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্রগামী রুট কমিয়েছে।   এবার নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে লন্ডন ও রোমের দুটি রুটও বন্ধ হচ্ছে। উড়োজাহাজ চলাচলের সূচি পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারোরুটস প্রথম এই পরিবর্তনের তথ্য প্রকাশ করে। ২৫ অক্টোবরের পর নরস আটলান্টিকের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চালু থাকা একমাত্র নির্ধারিত রুট হবে অরল্যান্ডো থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দর পর্যন্ত।   নরস আটলান্টিক তাদের বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রগামী রুট থেকে সরিয়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার শহরগুলো থেকে থাইল্যান্ডের মতো অবকাশযাপনকেন্দ্রিক গন্তব্যে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির লন্ডন থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন পর্যন্ত একটি মৌসুমি রুটও রয়েছে।   ফ্লাইট কমানোর পাশাপাশি নরস আটলান্টিক ব্যয় কমানোর পরিকল্পনাও করছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ডলার ব্যয় কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে। সর্বশেষ দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি ৭ কোটি ৬ লাখ ডলারের নিট লোকসান এবং রাজস্বে ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ পতনের কথা জানিয়েছে।   নরস আটলান্টিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এইভিন্ড রোয়াল্ড জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম এখনো বেশি থাকায় আগামী মাসগুলোতে উড়োজাহাজের সক্ষমতা কোথায় ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে তারা সতর্ক থাকছেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নমনীয়ভাবে উড়োজাহাজ ব্যবহারের কৌশল অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে আসন্ন শীতকালীন মৌসুমের বুকিং নিয়ে তারা আশাবাদী।   যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কমে যাওয়ার পেছনে জ্বালানির উচ্চমূল্যসহ বিভিন্ন কারণের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নরস আটলান্টিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্লাইট কমানোর বিষয়ে নির্দিষ্টভাবে কোনো একটি কারণকে দায়ী করেননি। তার বক্তব্যে মূলত জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং উড়োজাহাজের সক্ষমতা পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি উঠে এসেছে।   সূত্র: দ্য স্ট্রিট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৪:২৬
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে ফিরতে চায় ইরান। ছবি: সংগৃহীত
মিডটার্ম নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি চায় ইরান, জাতিসংঘে বার্তা প্রেসিডেন্টের

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে ফিরতে চায় ইরান। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এনবিসি নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ কথা জানান। তিনি জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির সমঝোতায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।   পেজেশকিয়ান বলেন, বিষয়টি যেন নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মিডটার্ম নির্বাচন পর্যন্ত গড়ায়, তা ইরান চায় না। তিনি জুনের সমঝোতার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্র ওই সমঝোতায় ফিরে আসুক, এটাই তেহরানের প্রত্যাশা। জুনে স্বাক্ষরিত ওই সমঝোতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির কাঠামো ছিল, তবে পরে সেটি ভেঙে যায়।   পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্যের দুই দিন আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হবে। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান নির্বাচনের ফলাফল দেখার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ চলছিল।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের জানান, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি সাত দিনের পরিকল্পনা পাঠিয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো ওই প্রস্তাবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের শেষে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর কথা বলা হয়েছে।   আরাঘচির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটির শর্তগুলো মূলত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার কাঠামোর মধ্যেই রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবে সম্মতি দিলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন শুরু করার জন্য তেহরান প্রস্তুত রয়েছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর বিষয়টিও প্রস্তাবের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।   হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের এই প্রস্তাব এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচলও ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট শর্ত মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়া হতে পারে।   এদিকে পেজেশকিয়ান একই আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের বিষয়ে দেশটি উন্মুক্ত রয়েছে বলেও জানান। তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার চেষ্টা করা ইরান সরকারের অবস্থান নয়। এর আগে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছিল, যা তেহরান অস্বীকার করেছে।   তবে ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য এখনো কোনো নতুন চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা নয়। তেহরান আগের সমঝোতায় ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করলেও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নতুন প্রস্তাবটি গ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ চললেও যুদ্ধের অবসান ও নতুন চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো হয়নি।   সূত্র: এনবিসি নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৩:৫৭
গাজায় অব্যাহত ইসরায়েলি হামলার কারণে নতুন করে ধ্বংসযজ্ঞ ও জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের অধিবেশনে গাজায় পুনর্গঠনে ২৪০ কোটি ডলারের অনুদান প্রস্তাব

গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও আগের হামলায় আহতদের মৃত্যুর খবরের মধ্যেই উপত্যকাটির প্রাথমিক পুনর্গঠনে প্রায় ২৪০ কোটি ডলারের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ‘বোর্ড অব পিস’। বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ৬৬টি প্রকল্পের এই প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। একই দিনে গাজাজুড়ে সাত ফিলিস্তিনির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।    বোর্ড অব পিসের গাজাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ পরে জানান, প্রথম ধাপের প্রকল্পগুলো ছয় মাসে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৪৫ কোটি ডলার। পানি, পয়োনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আশ্রয় এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ রয়েছে পরিকল্পনায়। তবে ছয় মাসের সময়সীমা নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি নয়; মাঠের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর কাজ শুরুর গতি নির্ভর করবে বলে তিনি জানান।    বুধবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কাছে আল মাওয়াসিতে একটি গাড়িতে ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হন। মধ্য গাজার দেইর আল বালাহতে আরেকটি গাড়িতে হামলায় অন্তত দুজন এবং গাজা নগরীতে পৃথক হামলায় অন্তত একজন নিহত হন। আগের দিনগুলোতে ইসরায়েলি গুলিতে আহত এক নারী ও এক পুরুষও এদিন মারা যান। এই সাতজনের সবাই বুধবারের নতুন হামলায় নিহত হয়েছেন, এমনটি নয়। আল মাওয়াসির হামলায় হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ অর্থবিষয়ক কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।    পুনর্গঠন শুরুর পথে নিরাপত্তা ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন বড় বাধা হয়ে আছে। ম্লাদেনভের ভাষ্য অনুযায়ী, হামাসের অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি এবং গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগও প্রয়োজনের তুলনায় কম। তিনি বলেন, যেসব এলাকায় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে, সেখানে পুনর্গঠনের কাজ এগোনো সম্ভব হবে।    বোর্ড অব পিসের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত অর্থ শুধু প্রাথমিক কাজের জন্য। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে মধ্যমেয়াদে অবকাঠামো পুনর্গঠনে আরও বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে। ফলে নিউইয়র্কে পরিকল্পনা ঘোষণার পরও গাজাবাসীর জন্য জরুরি প্রশ্ন রয়ে গেছে: নিরাপদে কাজ শুরু করার মতো পরিস্থিতি কবে তৈরি হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৩:৩৯
উত্তর গাজায় নিজেদের ড্রোন বিধ্বস্ত ও বিস্ফোরিত হয়ে দুই ইসরাইলি রিজার্ভ সেনার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
গাজায় নিজেদের ড্রোনের বিস্ফোরণেই নিহত দুই ইসরাইলি রিজার্ভ সেনা

ফিলিস্তিনের উত্তর গাজায় নিজেদের পরিচালিত একটি ড্রোন বিধ্বস্ত ও পরবর্তীতে বিস্ফোরিত হয়ে দুই ইসরাইলি রিজার্ভ সেনার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নিজেদের ড্রোনের আঘাতেই নিজ বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর এই ঘটনা ইসরাইলি সামরিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।   নিহত ওই দুই সেনা হলেন— নাদাভ কালি (২৪) এবং অফেক মোয়ালেম (২৩)। নাদাভ কালি ইসরাইলের হার হালুতজ এলাকার এবং অফেক মোয়ালেম জেরুজালেমের বাসিন্দা ছিলেন। তারা দুজনেই ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ১৬তম ব্রিগেডের অধীনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ৯৯তম ডিভিশনের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এলাদ তজুরি নিহতদের ‘চমৎকার সৈনিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানান, এদের মধ্যে একজন সার্জেন্ট এবং অন্যজন স্কোয়াড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।   এই দুর্ঘটনার বিস্তারিত প্রেক্ষাপট জানিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তজুরি বলেন, বিস্ফোরকবাহী ওই ড্রোনটির প্রথম অভিযান ওই দুই সেনা সফলভাবেই সম্পন্ন করেছিলেন। তবে দ্বিতীয় অভিযানের সময় ঘটে বিপত্তি; ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি সামরিক চৌকির ভেতরে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে ওই দুই সেনা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি গেলে বিধ্বস্ত ড্রোনটি হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। এতে তারা দুজনই গুরুতরভাবে আহত হন।   আহত দুই সেনাকে দ্রুত উদ্ধার করে আশকেলনের বারজিলাই মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই ঘটনায় অন্য কোনো সেনার হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইসরাইলের স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনী তাদের সব ধরনের ড্রোন পরিচালনার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। উল্লেখ্য, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ১৬তম ব্রিগেড গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে উত্তর গাজায় তাদের সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছিল।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৩:১৭
লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর সুরক্ষায় সেনা ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ছবি: সংগৃহীত
হুতিদের হামলার মুখে সৌদির তেলবন্দর রক্ষায় সেনা পাঠাবে ফ্রান্স

সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর সুরক্ষায় সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের দুটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ইয়েমেনের হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে সৌদি তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ পথটি সচল রাখার লক্ষ্যেই এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।    ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ফরাসি বাহিনীর কাজ হবে ইয়ানবুর স্থাপনা রক্ষা করা; কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়া নয়। কতজন সেনা পাঠানো হবে, কী ধরনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করা হবে কিংবা কবে থেকে এ কার্যক্রম শুরু হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।    সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে ইয়ানবু গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দর। উপসাগরীয় অঞ্চলের রপ্তানি পথে বিঘ্ন ঘটলে লোহিত সাগর হয়ে তেল পাঠানোর বিকল্প পথ হিসেবে এর গুরুত্ব আরও বাড়ে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়ানবু হয়ে তেল পরিবহনের পথে সাম্প্রতিক হুতি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। জ্বালানি সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য ফ্রান্স কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ম্যাক্রোঁ।    সৌদি আরবকে সীমিত সামরিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্যও। তবে ব্রিটিশ সহায়তার ধরন ফ্রান্সের ঘোষিত ব্যবস্থার চেয়ে আলাদা। যুক্তরাজ্যের পরিকল্পনা হলো, সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা করা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ৩:৭
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন কর্মকর্তা শরীফুল এম. খান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পৌঁছেছেন। ছবি: সংগৃহীত
পেন্টাগনে স্পেস ফোর্সের দায়িত্বে বাংলাদেশি জেনারেল শরীফুল খান

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন কর্মকর্তা শরীফুল এম. খান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পৌঁছেছেন। ২০২৫ সালের ৩০ জুন থেকে তাঁর পদোন্নতি কার্যকর হয়। বর্তমানে তিনি পেন্টাগনে মার্কিন স্পেস ফোর্সের সদর দপ্তরে ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে এ পদে পৌঁছানো প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিল ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস।    স্পেস ফোর্সের হালনাগাদ জীবনী অনুযায়ী, শরীফুল খান ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে বর্তমান দায়িত্বে আছেন। সদর দপ্তরের নীতি, পরিকল্পনা ও বিভিন্ন বিভাগের কাজের সমন্বয় তাঁর দায়িত্বের অংশ। এর আগে তিনি পেন্টাগনে ‘গোল্ডেন ডোম ফর আমেরিকা’ কর্মসূচির ডিরেক্টর অব স্টাফ হিসেবে কাজ করেছেন বলে ২০২৫ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তাই ওই পদকে তাঁর বর্তমান দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা ঠিক হবে না।    শরীফুল খান ১৯৯৭ সালে ইউএস এয়ার ফোর্স একাডেমি থেকে কমিশন পান। সামরিক জীবনে স্যাটেলাইট পরিচালনা, স্পেস সিস্টেম ও উৎক্ষেপণসংক্রান্ত কাজে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০০১ সালে তিনি কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে এবং ২০০৭ সালে ‘অপারেশন সাইলেন্ট সেন্ট্রি’তে দায়িত্ব পালন করেন।    ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি ৩৭৯তম স্পেস রেঞ্জ স্কোয়াড্রনের কমান্ডার ছিলেন। পরে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কলোরাডোয় ৩১০তম স্পেস উইংয়ের নেতৃত্ব দেন। স্পেস ফোর্সের তথ্য অনুযায়ী, ওই দায়িত্বে প্রায় ১ হাজার ৫০০ সামরিক সদস্যের কার্যক্রম তদারক করেছেন তিনি।    সামরিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি স্পেস সিস্টেমস অপারেশনস ম্যানেজমেন্ট, স্ট্র্যাটেজিক ইন্টেলিজেন্স ও মিলিটারি স্ট্র্যাটেজিতে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। তাঁর পাওয়া সম্মাননার মধ্যে রয়েছে লিজিয়ন অব মেরিট, ডিফেন্স মেরিটোরিয়াস সার্ভিস মেডেল ও মেরিটোরিয়াস সার্ভিস মেডেল। সূত্র : আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ২:৩৩
মুখে গুরুতর আঘাতের পর ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যামেরন আন্ডারউডের সফল মুখমণ্ডল প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিজের ছোড়া গুলিতে বিকৃত হয়ে যায় মুখমণ্ডল, চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে পেলেন নতুন জীবন

মুখে গুরুতর আঘাতের পর নাক, নিচের চোয়ালের বেশির ভাগ অংশ এবং প্রায় সব দাঁত হারিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ক্যামেরন আন্ডারউড। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে নিউইয়র্কের এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথে মুখমণ্ডল প্রতিস্থাপনের পর তাঁর চেহারার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনেও বড় পরিবর্তন আসে। সেই অস্ত্রোপচারের সুযোগ করে দিয়েছিল ২৩ বছর বয়সী উইলিয়াম ফিশারের অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত ও তাঁর পরিবারের সম্মতি।   এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জুনে নিজের ছোড়া গুলিতে ক্যামেরনের মুখে গুরুতর আঘাত লাগে। প্রচলিত পদ্ধতিতে কয়েক দফা পুনর্গঠন অস্ত্রোপচার হলেও তাঁর নাক ও নিচের চোয়ালের বড় অংশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। ওপরের চোয়াল ও মুখের তালুতেও ক্ষতি হয়েছিল।   ২০১৭ সালের জুলাইয়ে ক্যামেরনের নাম প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমাণ তালিকায় ওঠে। প্রায় ছয় মাস পর সম্ভাব্য দাতা হিসেবে শনাক্ত হন নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের বাসিন্দা উইলিয়াম ফিশার। তিনি আগে থেকেই অঙ্গদাতা হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। তাঁর পরিবারের সম্মতি এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।   ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি শুরু হওয়া অস্ত্রোপচার চলে প্রায় ২৫ ঘণ্টা। চিকিৎসক এদুয়ার্দো রদ্রিগেজের নেতৃত্বে এতে অংশ নেন চিকিৎসক, নার্সসহ শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী। দাতার মুখমণ্ডলের অংশের পাশাপাশি ওপর ও নিচের চোয়াল, দাঁত, মাড়ি, নাক এবং মুখের ভেতরের কিছু অংশ প্রতিস্থাপন ও পুনর্গঠন করা হয়।   অস্ত্রোপচারের পর কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ছিলেন ক্যামেরন। ওই বছরের মার্চের শেষ দিকে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি ফেরেন। তাঁর চিকিৎসায় নিয়মিত ফলোআপ এবং প্রতিস্থাপিত টিস্যু শরীরে গ্রহণযোগ্য রাখতে ওষুধের প্রয়োজন ছিল বলে হাসপাতাল জানিয়েছিল।   ২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথের বিবৃতিতে ক্যামেরন দাতা ও তাঁর পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর ভাষায়, এই পথচলা সহজ ছিল না, তবে তা সার্থক হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ২:৮
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ঘিরে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
শেখ হাসিনার জন্মদিনে ভারতে একাধিক আয়োজন, বিজেপি ও কংগ্রেস নেতাদের আমন্ত্রণ

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ঘিরে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এসব আয়োজনে বিজেপির মন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে আমন্ত্রণ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কারা উপস্থিত থাকবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়।   দ্য ওয়ালের খবর অনুযায়ী, কলকাতায় নাগরিক সমাজের উদ্যোগে একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতেও আরও অনুষ্ঠানের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। আয়োজন ও অতিথিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তাই সম্ভাব্য অতিথিদের উপস্থিতি নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।   প্রতিবেদনের শিরোনামে শেখ হাসিনার ‘৮০তম জন্মদিন’ বলা হলেও তাঁর প্রকাশিত জন্মতারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭। সে হিসাবে এ বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁর বয়স হবে ৭৯ বছর।   ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি এবং ভারত থেকে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে ভারতে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক অঙ্গনেও নজর কাড়ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১:৩৮
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার কিনতেও ‘বাই নাউ, পে লেটার’ বা এখন কিনে পরে পরিশোধের সেবা ব্যবহার করছেন অনেকে। ছবি: সংগৃহীত
মুদিপণ্য কিনতে কিস্তির ঋণ নিচ্ছেন ২৯ শতাংশ আমেরিকান, বাড়তি খরচের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার কিনতেও ‘বাই নাউ, পে লেটার’ বা এখন কিনে পরে পরিশোধের সেবা ব্যবহার করছেন অনেকে। তবে এ নিয়ে প্রচারিত ‘প্রায় ৩০ শতাংশ আমেরিকান মুদিপণ্য কিনতে ঋণ নিচ্ছেন’ দাবিটি বিভ্রান্তিকর। লেন্ডিংট্রির জরিপে ২৯ শতাংশ হিসাবটি সব মার্কিন নাগরিকের নয়; এটি তাঁদের মধ্যে যাঁরা কখনো এই ধরনের কিস্তির সেবা ব্যবহার করেছেন।    লেন্ডিংট্রির হিসাবে, কিস্তির সেবা ব্যবহারকারীদের ২৯ শতাংশ কোনো এক সময় মুদিপণ্য কিনতে সেটি ব্যবহার করেছেন। এক বছর আগে এই হার ছিল ২৫ শতাংশ, দুই বছর আগে ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যবহারকারীদের মধ্যে খাবার কেনার জন্য এ ধরনের ঋণের ব্যবহার বেড়েছে। কিন্তু জরিপটি থেকে বলা যায় না যে, বর্তমানে প্রতি ১০ জন আমেরিকানের তিনজন মুদিবাজারের বিল কিস্তিতে দিচ্ছেন।    ‘বাই নাউ, পে লেটার’ সেবায় কেনাকাটার টাকা সাধারণত কয়েকটি নির্ধারিত কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো পরিশোধ করলে সুদ লাগে না। তবে কিস্তি মিস হলে বাড়তি ফি বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় ওভারড্রাফট চার্জের ঝুঁকি থাকে। লেন্ডিংট্রির জরিপে এই সেবা ব্যবহারকারীদের ৪৭ শতাংশ জানিয়েছেন, গত এক বছরে তাঁরা অন্তত একবার কিস্তি দিতে দেরি করেছেন।    ফেডারেল রিজার্ভের ভিন্ন একটি জরিপেও খাবার কেনায় কিস্তির সেবা ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। তাদের হিসাবে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক গত ১২ মাসে এই সেবা ব্যবহার করেছিলেন। সেই ব্যবহারকারীদের ২০ শতাংশ মুদিপণ্য বা খাবার ডেলিভারির খরচ মেটাতে এটি ব্যবহার করেছেন। দুটি জরিপের সময়কাল ও প্রশ্ন আলাদা হওয়ায় ফল সরাসরি এক করে দেখার সুযোগ নেই।    লোনের শর্ত বোঝার পাশাপাশি প্রতি কিস্তির নির্ধারিত তারিখ ও মোট বকেয়া হিসাব রাখা জরুরি। মুদিপণ্যের মতো নিয়মিত খরচ কিস্তিতে মেটালে পরের বিল আসার আগেই আগের কেনাকাটার টাকা পরিশোধের চাপ তৈরি হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১:২২
সিজিপিএ কম হলেও যুক্তরাষ্ট্রে গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের পথ বন্ধ হয়ে যায় না। ছবি: সংগৃহীত
কম সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্সে ফুল ফান্ড! জেনে নিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা

সিজিপিএ কম হলেই যুক্তরাষ্ট্রে গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের পথ বন্ধ হয়ে যায় না। তবে কম সিজিপিএতে ভর্তি হওয়া আর টিউশন ও জীবনযাত্রার খরচসহ পূর্ণ ফান্ডিং পাওয়া আলাদা বিষয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও সিজিপিএর তালিকা দেখে আবেদন করার আগে তাই নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের শর্ত যাচাই করা জরুরি।   যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি ইস্ট বে আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট আবেদনকারীদের জন্য ন্যূনতম ২.৫ জিপিএর সমতুল্য ফল চায়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শর্তও পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যূনতম জিপিএ দিয়ে তার সব প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ বোঝানো যায় না।    ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসেও প্রোগ্রামভেদে শর্তের পার্থক্য দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি মনোবিজ্ঞান মাস্টার্স প্রোগ্রামে ন্যূনতম জিপিএ ২.৫। অন্যদিকে শিক্ষকতা শিক্ষা সংক্রান্ত একটি প্রোগ্রামে ২.৭৫-এর নিচে ফল থাকলে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আপিলের সুযোগের কথা বলা হয়েছে। আপিলের সুযোগ থাকা সরাসরি ভর্তির নিশ্চয়তা নয়।    ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রযোজ্য। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এডুকেশনইউএসএ জানিয়েছে, গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে টিউশন ছাড় কিংবা ভাতা পাওয়া যেতে পারে। তবে অনেক স্কলারশিপ মোট খরচের কেবল একটি অংশ বহন করে। ফলে কোনো প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকলেই সেখানে পূর্ণ ফান্ডিং মিলবে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।    প্রচলিত তালিকায় থাকা ইউনিভার্সিটি অব দ্য পিপলকেও ক্যাম্পাসে গিয়ে পড়াশোনা ও পূর্ণ ফান্ডিংয়ের সুযোগের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না। এটি অনলাইনভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি টিউশন ফি না নিলেও গ্র্যাজুয়েট কোর্সে অ্যাসেসমেন্ট ফি রয়েছে। আবেদনকারীদের তাই পড়াশোনার ধরন ও সম্ভাব্য খরচ আলাদাভাবে বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।    কম সিজিপিএ নিয়ে আবেদন করতে চাইলে প্রথমে নিজের বিষয়ের প্রোগ্রাম বাছাই করে তার ন্যূনতম জিপিএ, ইংরেজি দক্ষতার শর্ত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ফান্ডিংয়ের নিয়ম দেখতে হবে। রিসার্চ, কাজের অভিজ্ঞতা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস ও সুপারিশপত্র আবেদনকে শক্তিশালী করতে পারে; তবে এগুলো কোনো বাধ্যতামূলক ন্যূনতম শর্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করে না। এডুকেশনইউএসএও প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট ভর্তির শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১:৯
যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় অঙ্গরাজ্য টেক্সাসে দ্রুত বাড়ছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার। ছবি: সংগৃহীত
তেল শিল্পের আধিপত্যের মাঝেই টেক্সাসে দ্রুত গতিতে বাড়ছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার

যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় অঙ্গরাজ্য টেক্সাসে দ্রুত বাড়ছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদনে টেক্সাস ক্যালিফোর্নিয়াকে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষে উঠে এসেছে। চলতি ২০২৬ সালেও অঙ্গরাজ্যটিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে।   টেক্সাসের সৌরবিদ্যুতের এই উত্থানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষিজমি, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং তুলনামূলক কম খরচে দ্রুত নতুন প্রকল্প স্থাপনের সুযোগ। অঙ্গরাজ্যের আলাদা বিদ্যুৎ গ্রিডে সৌর প্রকল্প যুক্ত করা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় বিনিয়োগকারীরাও এখানে বড় আকারের প্রকল্প গড়ে তুলছেন। একই সময়ে টেক্সাসের জনসংখ্যা ও বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় নতুন উৎপাদন সক্ষমতার প্রয়োজনও তৈরি হয়েছে।   এর একটি বাস্তব উদাহরণ উভালডের কৃষক স্টিভ কারগিল। তাঁর পরিবার ১৯৫৩ সাল থেকে টেক্সাসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শুষ্ক ও সমতল জমিতে কৃষিকাজ করছে। ৬৭ বছর বয়সী কারগিল একসময় ধরে নিয়েছিলেন, তাঁর তিন সন্তানের একজন ভবিষ্যতে পারিবারিক খামারের দায়িত্ব নেবেন। কিন্তু ২০১৮ সালের একটি ভয়াবহ শিলাবৃষ্টির পর সেই পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।   কারগিল ও তাঁর ছেলে রায়ান কয়েক মাস ধরে বাঁধাকপি ও পেঁয়াজের ফসল পরিচর্যা করেছিলেন। কিন্তু একটি রাতের ঝড়ে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এরপর তাঁর ছেলে কৃষিকাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। কারগিলও বুঝতে পারেন, তাঁর তিন সন্তানের কেউই পূর্ণকালীন কৃষিকাজে যেতে আগ্রহী নন। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য নির্দিষ্ট অবসরভাতা না থাকায় নিজের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিয়েও তিনি চিন্তিত ছিলেন।   এই পরিস্থিতিতে কারগিল তাঁর মোট জমির প্রায় এক-চতুর্থাংশ, ৬০০ একর জমি, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ইজারা দেন। ওসিআই এনার্জি সেখানে বড় একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করে। এই ইজারা থেকে কারগিল বছরে প্রায় ২ লাখ ডলার আয় করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই আয় দীর্ঘস্থায়ী খরার মধ্যেও কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে তিনি নিজের চাষের জমিতে সেচের জন্য বরাদ্দ পানি আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারছেন এবং ডিজেল ও সারের দাম বাড়লেও আগের মতো চাপ অনুভব করছেন না।   টেক্সাসের বিদ্যুৎ খাতেও এই পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে টেক্সাসে বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে ৫৮ হাজার ৬৩৪ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় উৎপাদন ছিল ৫৩ হাজার ৭১৩ গিগাওয়াট-ঘণ্টা। তবে ছোট আকারের সৌরবিদ্যুৎ, যেমন বাড়ির ছাদে স্থাপিত ব্যবস্থা, যুক্ত করলে ক্যালিফোর্নিয়া এখনো এগিয়ে রয়েছে।   টেক্সাসের সৌরবিদ্যুতের বিস্তার কতটা দ্রুত হচ্ছে, তার আরেকটি চিত্র পাওয়া যায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পূর্বাভাসে। জ্বালানি তথ্য প্রশাসন জানিয়েছে, টেক্সাসের অধিকাংশ অঞ্চলজুড়ে থাকা বিদ্যুৎ গ্রিডে ২০২৬ সালে বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ৭৮ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা এবং কয়লা থেকে উৎপাদন প্রায় ৬০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা হতে পারে।   সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ার পেছনে খরচও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ওসিআইয়ের প্রকল্প উন্নয়ন বিভাগের কর্মকর্তা জেমস স্কটের মতে, প্রযুক্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থায় ধারাবাহিক উন্নতির কারণে সৌরবিদ্যুতের ব্যয় কমেছে। একটি প্রকল্প চালু হওয়ার পর সূর্যের আলো জ্বালানি হিসেবে বিনামূল্যে পাওয়া যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ চুক্তিতে স্থিতিশীল দাম নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়।   সৌর প্রকল্পের কারণে কৃষকরাও নতুন আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। বড় ও সমতল জমির প্রয়োজন হওয়ায় সৌরবিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো কৃষকদের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা নিচ্ছে। টেক্সাস সোলার অ্যান্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মার্ক স্টোভার বলেন, এসব ইজারা সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত চলে এবং সময়ের সঙ্গে এর মূল্য বাড়তে পারে। এতে কোনো কোনো পরিবার অবসর নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, কেউ পারিবারিক তহবিল গড়ে তুলছে, আবার কেউ কৃষিখামার টিকিয়ে রাখতে পারছে।   তবে সৌরবিদ্যুতের এই বিস্তার নিয়ে আপত্তিও রয়েছে। উত্তর-পূর্ব টেক্সাসের ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টির কিছু বাসিন্দা নতুন সৌর প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন। স্থানীয় আইনজীবী বিএফ হিকসের অভিযোগ, সৌর প্রকল্প তৈরির জন্য পুরোনো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং তাঁর পরিবারের কবরস্থানের পাশেও একটি প্রকল্প তৈরি হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা ডেভিড ট্রুসডেলও জমি পরিষ্কার, পানি প্রবাহ এবং বড় ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।   ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টির বাসিন্দারা একসময় নতুন সৌর প্রকল্প নির্মাণে স্থানীয় পর্যায়ে স্থগিতাদেশ কার্যকর করলেও পরে আইনি চাপের মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়। সমালোচকদের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে জমির দৃশ্যগত পরিবর্তন, গাছপালা পরিষ্কার করার পর পানি প্রবাহের প্রভাব এবং ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা।   তারপরও টেক্সাসে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ থেমে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যে নতুন বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তার প্রায় ৪০ শতাংশই টেক্সাসে হতে পারে। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যে বড় ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রকল্পও বাড়ছে।   ফলে তেল ও গ্যাসের জন্য পরিচিত টেক্সাসের জ্বালানি চিত্রে সৌরবিদ্যুৎ এখন গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। উভালডের কৃষক কারগিলের মতো জমির মালিকদের জন্য এটি যেমন নতুন আয়ের উৎস তৈরি করছে, তেমনি অঙ্গরাজ্যের দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতেও সৌরবিদ্যুতের ভূমিকা বাড়ছে। তবে গ্রামীণ জমি ব্যবহার ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিতর্কও একই সঙ্গে চলতে থাকছে।   সূত্র: বিবিসি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ০:৫৬
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
আইন স্কুলে জেডির চেয়ে ‘৫০ বিলিয়ন গুণ ভালো’ ছিলেন উষা ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স আইন স্কুলে তাঁর স্বামী, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের চেয়ে কেমন ছিলেন? ইয়েল ল স্কুলের শিক্ষক ও সাবেক সহপাঠীদের স্মৃতিচারণ ঘিরে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত দ্য ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে প্রশ্নটি আবার সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে মিশেল ওবামা, হিলারি ক্লিনটন ও মেরিলিন কোয়েলের শিক্ষাজীবনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব তুলনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্মৃতিচারণ ও ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো আনুষ্ঠানিক র‍্যাঙ্কিং নয়।   ভ্যানিটি ফেয়ারের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ইয়েল ল স্কুলের অধ্যাপক অ্যামি চুয়া উষা ও জেডি ভ্যান্সের একসঙ্গে করা একটি মুট কোর্টের কাজের কথা বলেন। সেই নির্দিষ্ট কাজটিতে উষা অনেক ভালো করেছিলেন বলে তাঁর মূল্যায়ন। কথাটি বোঝাতে চুয়া অতিরঞ্জিত ভাষায় ‘৫০ বিলিয়ন গুণ’ এগিয়ে থাকার কথা বলেছিলেন। এটি কোনো নম্বর বা পরিমাপের হিসাব নয়। তাঁদের এক সাবেক সহপাঠীও উষাকে ক্লাসের বিশেষ মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে স্মরণ করেছেন।   দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে অন্য তিন দম্পতির ক্ষেত্রেও কাছাকাছি স্মৃতিচারণের কথা এসেছে। ইয়েল ল স্কুলের সাবেক সহপাঠীরা হিলারি ক্লিনটনকে বিল ক্লিনটনের চেয়ে বেশি মনোযোগী শিক্ষার্থী হিসেবে মনে রেখেছেন। হার্ভার্ড ল স্কুলের সাবেক অধ্যাপক চার্লস ওগলট্রি এক সাক্ষাৎকারে মিশেল ওবামার দক্ষতার প্রশংসা করে বারাক ওবামার সঙ্গে তাঁর তুলনা করেছিলেন। মেরিলিন কোয়েলের সহপাঠীরাও আইন স্কুলে তাঁর মেধা ও পরিশ্রমের কথা বলেছেন।   চার নারীর শিক্ষাজীবন নিয়ে এসব মূল্যায়ন তাঁদের পরবর্তী রাজনৈতিক পথের ব্যাখ্যা দেয় না। হিলারি ক্লিনটন নিজে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন; অন্যদের পথ ছিল ভিন্ন। প্রতিবেদনের মূল আলোচনাটি হলো, পরিচিত রাজনৈতিক নেতাদের স্ত্রী হিসেবে তাঁদের পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁদের নিজস্ব মেধা ও অর্জনের কথাও সাবেক সহপাঠী ও শিক্ষকদের স্মৃতিতে রয়ে গেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ০:৩০
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন খাতের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ভবিষ্যতে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ডে’ সমন্বয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধা একটি কার্ডের আওতায় আনা হবে।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার ও নাগরিকের কাছে পৌঁছাতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এসব কার্ড সমন্বয় করেই ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।   ভাষণে তিনি জানান, প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। সরকার এটিকে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখছে।   ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর ভাবনা নতুন নয়। এর আগে জাতীয় সংসদেও প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন নাগরিক সুবিধার কার্ড পর্যায়ক্রমে একীভূত করার কথা বলেছিলেন। তবে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে কার্ডটি কবে চালু হবে, কারা পাবেন বা আবেদন প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।   একই ভাষণে উন্নত প্রযুক্তির সুযোগ সবার নাগালে আনার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুফল কাজে লাগাতে জাতিসংঘের কার্যকর নীতিমালারও আহ্বান জানান তিনি।   সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ০:১৪
বাড়ির উঠানে কালো ভালুকের হামলা থেকে নিজেকে রক্ষা করে ১২ বছরের রবিন ওয়েস্টগেট। ছবি: সংগৃহীত
ওয়াশিংটনে বাড়ির উঠানে কালো ভালুকের হামলা, লড়াই করে বাঁচল ১২ বছরের কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে বাড়ির উঠানে মায়ের সঙ্গে থাকা একটি কালো ভালুকের হামলার মুখে পড়ে লড়াই করে নিজেকে রক্ষা করেছে ১২ বছর বয়সী এক কিশোর। রবিন ওয়েস্টগেট নামের ওই কিশোর ভালুকটির আক্রমণ থেকে বাঁচতে সেটির চোখে আঘাত করে এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকে। পরে তার বাবা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ভালুকটি তার দিকেও তেড়ে যায়।   ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বেলিংহ্যামের কাছে ওয়েস্টগেট পরিবারের বাড়ির পেছনের বাগানে। পরিবারটি এমন একটি এলাকায় বসবাস করে, যেখানে কালো ভালুকের উপস্থিতি অস্বাভাবিক নয়।   পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর পপকর্ন রাখার একটি বাটি আনতে বাড়ির পেছনের ফলের বাগানে গিয়েছিল রবিন। সেখানে হঠাৎ একটি মা কালো ভালুকের মুখোমুখি হয় সে। রবিনের ভাষ্য অনুযায়ী, দুজনেই একে অপরকে দেখে চমকে যায়। এরপর ভালুকটি তার দিকে তেড়ে আসে।   রবিন জানায়, ভালুকটি তাকে দুই দফা আক্রমণ করে। একপর্যায়ে সেটি তার কবজিতে কামড় বসায় এবং তার শরীরের পাশে আঁচড়ের আঘাতও লাগে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রবিন ভালুকটির চোখে হাত ও আঙুল দিয়ে আঘাত করে। একই সঙ্গে সে চিৎকার করতে থাকে এবং ভালুকটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যায়।.   রবিন পরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানায়, তখন তার সামনে লড়াই করা ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না। ছোটবেলা থেকেই এলাকায় ভালুকের উপস্থিতির কারণে এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়, সে বিষয়ে তাকে শেখানো হয়েছিল।   রবিনের চিৎকার শুনে তার ছোট বোন রিভারলি সাহায্যের জন্য ছুটে আসে। এর কিছুক্ষণ পর তার বাবা নোয়াহ ওয়েস্টগেট ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তখন ভালুকটি রবিনকে ছেড়ে নোয়াহর দিকে তেড়ে যায়।   নোয়াহ জানান, ছেলেকে রক্ষা করতে তিনি ভালুকটির মুখোমুখি হন। একপর্যায়ে ভালুকটি তার হাতেও আঘাত করে। তখন তিনি পাল্টা আঘাত করেন। তার আঘাতের পর ভালুকটি সরে যায়।   পরিবারের সদস্যরা জানান, রবিনের বোন সময়মতো তার চিৎকার শুনে সাহায্যের জন্য এগিয়ে না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। রবিন ও তার বাবা দুজনই আহত হন এবং স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।   তবে ঘটনার পরও ওই ভালুকটি এলাকা থেকে পুরোপুরি সরে যায়নি। পরে সেটিকে আবারও আশপাশে দেখা যায়। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা ভালুকটির ছবি তুলেছেন এবং সেটিকে ধরতে একটি ফাঁদও বসিয়েছেন। সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভালুকটি এখনো ধরা পড়েনি।   ঘটনার পর ওয়েস্টগেট পরিবার বাড়ির উঠানে ভালুক প্রতিরোধক স্প্রে সঙ্গে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, এ ঘটনার পর তারা বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি নিয়ে আরও সতর্ক থাকবেন।   রবিনের বাবা নোয়াহ ছেলের সাহসের প্রশংসা করে বলেন, ১২ বছর বয়সী ছেলে একটি কালো ভালুকের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে রক্ষা করেছে, যা নিয়ে তিনি গর্বিত।   রবিনও জানিয়েছে, ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর তার নিজের ওপর আস্থা বেড়েছে। তবে ভালুকের ঝুঁকি সম্পর্কে তার ধারণা বদলায়নি। বরং সে মনে করে, বন্যপ্রাণীর সঙ্গে এমন পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকা আগের মতোই জরুরি।   বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনে মানুষের ওপর ভালুকের হামলা অত্যন্ত বিরল। তবে মানুষের বসতি ক্রমে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের কাছাকাছি বিস্তৃত হওয়ায় মানুষ ও ভালুকের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। শরৎকালে শীতের আগে ভালুকগুলো বেশি খাবার সংগ্রহ করে শরীরে চর্বি জমায়, ফলে এ সময়ও মানুষের সঙ্গে তাদের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   সূত্র: সিএনএন, KING 5 Seattle, WESH

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ০:১
মার্কিন সেনা কর্মকর্তা বিয়াঙ্কা সি. উইলকারসন কাতারে দায়িত্ব পালনের সময় মারা যান। ছবি: সংগৃহীত
কাতারে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু

কাতারে সামরিক কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনা কর্মকর্তা মারা গেছেন। ৩৭ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন বিয়াঙ্কা সি. উইলকারসন ১৮ সেপ্টেম্বর কাতারের দোহায় অ-যুদ্ধজনিত একটি ঘটনায় মারা যান বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। মৃত্যুর পর তাঁকে মরণোত্তর মেজর পদে উন্নীত করা হয়েছে।   উইলকারসন দক্ষিণ ক্যারোলিনার শ' এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে অবস্থিত ইউএস আর্মি সেন্ট্রাল ও থার্ড আর্মির সদর দপ্তরের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কাতারের দোহায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করছিলেন বলে সেনাবাহিনীর তথ্য থেকে জানা গেছে।   মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যু কোনো যুদ্ধ বা সরাসরি সংঘর্ষের ঘটনায় হয়নি। তবে ঠিক কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর মরদেহ ফেরত নেওয়ার পর ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা হবে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে সামরিক কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে একটি ফ্লাইটে থাকা অবস্থায় উইলকারসনের শারীরিক জরুরি অবস্থা দেখা দেয়। তবে মার্কিন সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মৃত্যুর নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ জানানো হয়নি।   উইলকারসনের সামরিক জীবনের শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর রিজার্ভে। ২০১৩ সালে তিনি পরিবহন কর্মকর্তা হিসেবে সেনাবাহিনীর রিজার্ভে যোগ দেন। পরে ভার্জিনিয়ার নিউপোর্ট নিউজে ৬৭৮তম ট্রান্সপোর্টেশন কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।   ২০১৭ সালে তাঁকে সক্রিয় দায়িত্বে নেওয়া হয়। ২০২৫ সালে তিনি শ' এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে ইউএস আর্মি সেন্ট্রাল ও থার্ড আর্মির সঙ্গে যুক্ত হন। সেখানে তিনি জি-৪ সাপ্লাই অ্যান্ড সার্ভিসেস চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।   ভার্জিনিয়ার নরফোকের বাসিন্দা উইলকারসন ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি থেকে ইতিহাসে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর পড়াশোনার সঙ্গে মনোবিজ্ঞানেও ছিল বিশেষায়িত পাঠ।   সামরিক জীবনে তাঁর বিভিন্ন স্বীকৃতিও ছিল। এর মধ্যে মেরিটোরিয়াস সার্ভিস মেডেল, আর্মি কমেন্ডেশন মেডেল এবং আর্মি অ্যাচিভমেন্ট মেডেল উল্লেখযোগ্য।   উইলকারসনের মৃত্যুর খবর এমন সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তাঁর মৃত্যু মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রকাশ্য হতাহতের হিসাবেও যুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ ও সংশ্লিষ্ট বিদেশি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত মার্কিন সামরিক সদস্যদের মৃত্যুর হিসাব নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে উইলকারসনের মৃত্যু আনুষ্ঠানিকভাবে অ-যুদ্ধজনিত ঘটনা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।   মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   সূত্র: ইউএস আর্মি, ডব্লিউআইএস, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২৩:৪৫
ভুয়া বিয়ের মামলায় ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন রোমানিয়ান নাগরিক আন্তোনিয়া-বিয়াত্রিস মিরচেয়া। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে ভুয়া বিয়ে, আদালতে দোষ স্বীকার রোমানিয়ান নারীর

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে এক মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে ভুয়া বিয়েতে জড়ানোর কথা আদালতে স্বীকার করেছেন রোমানিয়ার এক নারী। নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটির বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী আন্তোনিয়া-বিয়াত্রিস মিরচেয়া বিবাহ জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন।   মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়, নিউ জার্সি জেলার তথ্য অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর ক্যামডেনের ফেডারেল আদালতে বিচারক ক্রিস্টিন পি. ও'হার্নের সামনে মিরচেয়া দোষ স্বীকার করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি মার্কিন নাগরিক ভিক্টর পুরিলার সঙ্গে এমন একটি বিয়েতে জড়িয়েছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার পথ তৈরি করা।   মিরচেয়া ও পুরিলা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে বিয়ে করেন। পরের বছর ২০২৫ সালের জুনে তারা আটলান্টিক সিটির বোর্ডওয়াক এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য যৌথভাবে ভাড়ার চুক্তিও করেন। বাইরে থেকে দেখলে এতে তাদের একসঙ্গে বসবাসের প্রমাণ তৈরি হচ্ছিল।   কিন্তু আদালতের নথি অনুযায়ী, বাস্তবে পুরিলা ওই অ্যাপার্টমেন্টে মিরচেয়ার সঙ্গে বসবাস করতেন না। তিনি কাছের শহর অ্যাবসিকনে নিজের পরিবারের বাড়িতে থাকতেন। পরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেওয়া নথিতে অবশ্য দুজনই দাবি করেন, তারা আটলান্টিক সিটির ওই অ্যাপার্টমেন্টে একসঙ্গে থাকেন।   ২০২৫ সালের আগস্টের দিকে পুরিলা মিরচেয়ার জন্য অভিবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের কাছে ফরম আই-১৩০ জমা দেন। ওই ফরমে তিনি মিরচেয়ার সঙ্গে আটলান্টিক সিটিতে একই বাসায় বসবাস করার কথা উল্লেখ করেন। মিরচেয়াও পরে ফরম আই-৪৮৫-এ একই ধরনের তথ্য দেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   তদন্তে অবশ্য তাদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অসঙ্গতি পাওয়া যায়। আদালতের নথি অনুযায়ী, পুরিলার মোবাইল ফোন ও গাড়ির অবস্থান পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা দেখতে পান, বেশিরভাগ রাতেই সেগুলো অ্যাবসিকনে ছিল। এর ভিত্তিতে প্রসিকিউটররা দাবি করেন, তিনি আটলান্টিক সিটির ওই অ্যাপার্টমেন্টে নিয়মিত বসবাস করতেন না।   এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের এক কর্মকর্তা মিরচেয়া ও পুরিলাকে আলাদাভাবে সাক্ষাৎকার নেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, কীভাবে তাদের পরিচয় হয়েছিল, তারা কীভাবে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, পুরিলা কত ঘন ঘন তাঁর বাবা-মায়ের বাড়িতে যেতেন এবং তারা কীভাবে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতেন, এসব বিষয়ে দুজনের বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া যায়।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, এসব তথ্য ও কর্মকাণ্ড তাদের বিয়েটি প্রকৃত দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য ছিল না, বরং অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। শেষ পর্যন্ত মিরচেয়া বিবাহ জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।   এই মামলায় পুরিলার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং বিবাহ জালিয়াতির অভিযোগের বিচার এখনো চলমান। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, পুরিলা এর আগে ২০১৪ সালে এক বুলগেরিয়ান নাগরিককে বিয়ে করেছিলেন। ওই নারী পরবর্তীতে সেই বিয়ের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। ২০১৯ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।   মিরচেয়ার বিরুদ্ধে বিবাহ জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা এবং তিন বছর পর্যন্ত তত্ত্বাবধানে মুক্তির বিধান রয়েছে। তবে এগুলো সর্বোচ্চ শাস্তি, চূড়ান্ত সাজা নয়। তাঁর সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ২৫ জানুয়ারি।   মামলাটির তদন্ত করেছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এবং ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআইয়ের নিউয়ার্ক কার্যালয়। নিউ জার্সি জেলার মার্কিন অ্যাটর্নি রবার্ট ফ্রেজার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রকৃত সম্পর্কের পরিবর্তে কাগুজে বা সাজানো বিয়ের ব্যবহার ফেডারেল আইনে অপরাধ। এই মামলাতেও প্রসিকিউটরদের মূল অভিযোগ ছিল, বিয়েটিকে অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।   তবে মিরচেয়া দোষ স্বীকার করলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। আগামী বছরের জানুয়ারিতে তাঁর সাজা ঘোষণার পরই আদালত তাঁর ক্ষেত্রে কী শাস্তি প্রযোজ্য হবে, তা নির্ধারণ করবে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, নিউ জার্সি জেলার মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়; ফেডারেল আদালতের নথি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২৩:২৩
জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পরিবারকে মাসিক বাজেট সামলাতে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে পারিবারিক আর্থিক চাপ, সময়মতো সব বিল দিতে পারছে না ৩২ শতাংশ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং পরিবারের আর্থিক চাপ বাড়ার মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিবার গত এক বছরে তাদের সব বিল সময়মতো পরিশোধ করতে পারেনি। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালে মাত্র ৬৮ শতাংশ মার্কিন পরিবার জানিয়েছে তারা গত ১২ মাসে সব বিল সময়মতো পরিশোধ করতে পেরেছে। ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৭১ শতাংশ।   ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ নেটওয়ার্কের ‘ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ পালস ২০২৬ ইউএস ট্রেন্ডস রিপোর্টে’ এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের বসন্ত থেকে ২০২৬ সালের বসন্তের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারের আর্থিক অবস্থায় সামগ্রিকভাবে অবনতি হয়েছে। একই সময়ে সঞ্চয় করা, নিয়মিত বিল পরিশোধ এবং ঋণের চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে আরও বেশি পরিবার সমস্যায় পড়েছে।   গবেষণায় দেখা যায়, গত ১২ মাসে সব বিল সময়মতো পরিশোধ করতে পেরেছে এমন পরিবারের হার ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিবার অন্তত কোনো না কোনো সময়ে সময়মতো সব বিল পরিশোধ করতে পারেনি।   আর্থিক সক্ষমতার আরও কয়েকটি সূচকেও অবনতির চিত্র পাওয়া গেছে। গত এক বছরে আয়ের চেয়ে কম খরচ করেছে এমন পরিবারের হার ৪৯ শতাংশ থেকে কমে ৪৭ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে নিজেদের সামলানোর অযোগ্য ঋণের মাত্রা রয়েছে বলে জানিয়েছে এমন পরিবারের হার ২৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩১ শতাংশ হয়েছে। আর আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের হার ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭ শতাংশ হয়েছে।   আয়ের স্তরভেদে পরিস্থিতির পার্থক্য আরও স্পষ্ট। ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ নেটওয়ার্কের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে গত এক বছরে আয়ের চেয়ে কম খরচ করতে পেরেছে এমন পরিবারের হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ৩১ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে সব বিল সময়মতো পরিশোধ করতে পেরেছে এমন নিম্ন আয়ের পরিবারের হার ৫৪ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ শতাংশে নেমেছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, খাদ্য, বাসস্থান, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি এবং যাতায়াতের মতো প্রয়োজনীয় খরচ বহন করতে পারব বলে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী মাত্র ১০টির মধ্যে প্রায় ৬টি পরিবার। যেসব পরিবার খাদ্য, ইউটিলিটি বা বাসস্থানের খরচ বহনের সক্ষমতা নিয়ে একেবারেই আত্মবিশ্বাসী নয়, তাদের প্রায় ১০টির মধ্যে ৭টি আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিতে পড়ে।   গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৩ লাখ পরিবার, অর্থাৎ দেশের প্রায় ২৩ শতাংশ পরিবার, তাদের আর্থিক সক্ষমতার একটি স্তর থেকে অন্য স্তরে চলে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ পরিবার আর্থিক অবস্থার নিম্ন স্তরে নেমে গেছে, বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ পরিবার উন্নতি করেছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপও পুরোপুরি কমেনি। মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৬-এ ভোক্তা মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ০.৪ শতাংশ বেড়েছে এবং এক বছর আগের তুলনায় বেড়েছে ৩.৪ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যের দাম বছরে ২.৭ শতাংশ এবং বাসস্থানের ব্যয় ৩ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে জ্বালানি খাতে। এক বছরে জ্বালানি সূচক ১৬.৩ শতাংশ এবং গ্যাসোলিনের দাম ২৭.৪ শতাংশ বেড়েছে।   জ্বালানি ব্যয়ের এই বৃদ্ধি পরিবারের অন্যান্য খরচেও চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং বিভিন্ন সেবার সঙ্গে জ্বালানি ব্যয়ের সম্পর্ক থাকায় এর প্রভাব সরাসরি ও পরোক্ষভাবে পরিবারের বাজেটে পড়তে পারে। তবে ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ নেটওয়ার্কের জরিপ বিল পরিশোধে সমস্যার নির্দিষ্ট কোনো একক কারণ নির্ধারণ করেনি।   ভোক্তাদের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি চিত্র পাওয়া গেছে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সেপ্টেম্বরের জরিপে। প্রাথমিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে ভোক্তা আস্থার সূচক ৪৭.৮-এ নেমে এসেছে, যা আগস্টে ছিল ৫১.৭। এক বছরের ব্যবধানে সূচকটি ১৩.২ শতাংশ কমেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সূচকও এক বছরে ১৫.৭ শতাংশ কমেছে।   অর্থনীতিতে সুদের হারও বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী কমিটি ফেডারেল ফান্ডস রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করেছে। ফেড জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি এখনো কিছুটা উঁচু এবং এই পদক্ষেপ তাদের ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যে ফিরে যাওয়ার প্রচেষ্টার অংশ।   তবে সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাব পরিবারভেদে ভিন্ন হতে পারে। ঋণের সুদ, নতুন ঋণ নেওয়ার খরচ এবং কিছু ধরনের ভোক্তা ঋণের মাসিক পরিশোধে এর প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে সঞ্চয়কারীরা কিছু ক্ষেত্রে বেশি সুদ পাওয়ার সুবিধাও পেতে পারেন। ফলে সামগ্রিকভাবে সুদের হার বৃদ্ধিকে পরিবারের আর্থিক সংকটের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ নেটওয়ার্কের প্রতিবেদনের সামগ্রিক চিত্রে বরং দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পরিবার একই সময়ে কয়েকটি চাপের মুখে রয়েছে। প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো, সঞ্চয় করা এবং ঋণ সামলানোর সক্ষমতা একসঙ্গে দুর্বল হলে মাসের শেষে হাতে নগদ অর্থের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তখন পরিবারগুলোকে খাদ্য, বাসস্থান, ইউটিলিটি বা অন্যান্য জরুরি খরচকে অগ্রাধিকার দিতে হয় এবং কিছু বিল পিছিয়ে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।   এই চাপ নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান। গবেষণায় তাদের সময়মতো বিল পরিশোধ এবং আয়ের চেয়ে কম খরচ করার সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পতন পাওয়া গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচকের পাশাপাশি পরিবারের দৈনন্দিন আর্থিক সক্ষমতাও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠছে।   সব মিলিয়ে, নতুন গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারের আর্থিক অবস্থায় একটি সতর্কতামূলক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সব বিল সময়মতো দিতে না পারা পরিবারের হার বেড়েছে, সঞ্চয়ের সক্ষমতা কমেছে এবং ঋণের চাপ বেড়েছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি ব্যয়ের চাপ এবং কমে যাওয়া ভোক্তা আস্থাও দেখাচ্ছে যে অনেক পরিবারের জন্য মাসিক বাজেট সামলানো আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠেছে।   সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল হেলথ নেটওয়ার্ক, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২৩:২