- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ে যখন সাধারণ মানুষ চিন্তিত, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এক বিশাল ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে জনপ্রিয় গ্রোসারি চেইন অ্যালডি। এই শরতে নিজেদের স্টোরগুলোতে থাকা মৌসুমী পণ্য ও নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্রের দাম আরও কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের এই নতুন মূল্যছাড়ের ফলে মার্কিন ক্রেতারা প্রায় ৮ কোটি ৬০ লাখ (৮৬ মিলিয়ন) ডলার সাশ্রয় করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অ্যালডি জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের শেলফে থাকা দৈনন্দিন পণ্যগুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশের দাম গত বছরের তুলনায় বেশ কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল্যছাড়ের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্যকর ও তাজা পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে অটামক্রিস্প আঙুর, বার্টলেট নাশপাতি, ব্রাসেলস স্প্রাউট, বাটারনাট ও স্প্যাগেটি স্কোয়াশ, তাজা ভেষজ এবং রসুনসহ বিভিন্ন ধরনের আপেল ও আলু। এর মধ্যে হানিক্রিস্প আপেলের দাম গত বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ কমিয়ে প্রতি পাউন্ড ১ দশমিক ৯৯ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া কার্কউড চিকেন ব্রেস্টের ফ্যামিলি প্যাকের দামও প্রতি পাউন্ড ১ দশমিক ৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০২২ সালের পর সবচেয়ে কম দাম। এর বাইরেও বিভিন্ন ধরনের কফি বিন, মিক্সড নাট, ড্রাই ফ্রুটস, পেপার টাওয়েল এবং প্রোটিন শেক ও চকলেটের মতো ক্রেতাদের পছন্দের শত শত পণ্যের দাম ২০২৫ সালের তুলনায় কমানো হয়েছে। অ্যালডির চিফ কমার্শিয়াল অফিসার স্কট প্যাটন এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে বলেন, তাদের কাছে পণ্যের সাশ্রয়ী মূল্য শুধু কোনো সাময়িক প্রমোশনাল অফার নয়, বরং এটি সারা বছরের একটি প্রতিশ্রুতি। ক্রেতারা যেন তাদের বাজেটের মধ্যে সর্বোচ্চ কেনাকাটা করতে পারেন, সেজন্য তারা ব্যবসার পরিচালনা ব্যয় কমিয়ে সেই সাশ্রয়টুকু ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অ্যালডির ২ হাজার ৬০০টিরও বেশি স্টোর রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, দেশের অন্য যেকোনো জাতীয় গ্রোসারি স্টোরের তুলনায় তারাই সবচেয়ে কম দামে পণ্য সরবরাহ করে, যার মাধ্যমে মার্কিন ক্রেতাদের আনুমানিক ১ হাজার ২০ কোটি (১০.২ বিলিয়ন) ডলার সাশ্রয় হয়।
পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জীবন চরম হুমকির মুখে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন তার ছোট ছেলে কাসিম খান। তার দাবি, ইমরান খানকে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ধীরে ধীরে শ্বাসরোধ করে এবং মানসিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেই স্কাই নিউজকে দেওয়া এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে কাসিম পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে তার বাবার ওপর 'ব্যক্তিগত আক্রোশ' মেটানোর অভিযোগ তুলেছেন। একইসঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের রাতের আঁধারে তুলে নেওয়ার লোমহর্ষক বর্ণনাও দিয়েছেন তিনি। কাসিম জানান, তার তিন ফুফু—আলিমা খান, উজমা খান এবং নরিন নিয়াজিকে ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের পরিকল্পনার অভিযোগে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আইনজীবীর মতে, জনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অভিযোগে এক পরোয়ানাবলে তাদের ৩০ দিনের জন্য আটকে রাখা হয়েছে। তবে কাসিমের অভিযোগ, সশস্ত্র ও মুখোশধারী ব্যক্তিরা মধ্যরাতে তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে স্বজনদের জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গেছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগও আনা হয়নি এবং অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে পুরো পরিবারের সাথে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। স্বজনদের ওপর এমন আচরণের বিষয়ে কাসিম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতি রীতিমতো ভয়ংকর। কর্তৃপক্ষের জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের দাবির জবাবে তিনি বলেন, তারা মূলত তার বাবার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাকে ভয় পাচ্ছে। যেকোনো ধরনের প্রতিবাদ বা বিক্ষোভকেই তারা ক্ষমতা হারানোর জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে। কাসিম আরও অভিযোগ করেন যে, তার ফুফু আলিমা খান প্রথম থেকেই সরব ছিলেন বলেই তাকে সবার আগে বন্দি করা হয়। এরপর বেছে বেছে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও তুলে নেওয়া হচ্ছে, যাদের মধ্যে শিশুরাও বাদ পড়েনি। তাদের মধ্যে কোনো মানবিকতা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বাবার কারাবাস ও শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে কাসিম অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, "তারা তাকে হত্যা করতে চায়, বিষয়টা খুবই স্পষ্ট। তারা এর আগে তাকে গুপ্তহত্যার চেষ্টাও করেছে। আর এখন একটি অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আটকে রেখে ধীরে ধীরে শ্বাসরোধ করে এবং মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা চলছে।" বাবার চারপাশের সবাইকে চুপ করিয়ে দিতেই ইমরান খানের স্ত্রীকে আগেই জেলে ঢোকানো হয়েছে এবং এখন তার একটি প্রতিহিংসামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে বসবাসরত একজন কেয়ার ওয়ার্কার অ্যাগনেস পিটার্স। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাকে তার গায়ের রঙের কারণে চরম বর্ণবাদী আচরণের শিকার হতে হয়। রাস্তায় নিজের পেশাগত ইউনিফর্ম পরা অবস্থাতেই তাকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী গালিগালাজ করা হয় এবং একটি ধীরগতির গাড়ি থেকে তার গায়ে বিভিন্ন জিনিস ছুঁড়ে মেরে তাকে ‘নিজের দেশে ফিরে যেতে’ বলা হয়। আশেপাশের অনেকেই সেই দৃশ্য দেখছিলেন এবং ভিডিও করছিলেন, কিন্তু মাত্র একজন পথচারী ছাড়া কেউই এর প্রতিবাদ করেননি। গত বছর ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের বর্তমান সমাজে বর্ণবাদ ও অভিবাসীবিরোধী ঘৃণার এক ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরে। ব্রেক্সিটের পর থেকে দেশটিতে অনিয়মিত অভিবাসীদের পাশাপাশি অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপরও বৈষম্যের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অক্সফাম ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ ১৫২টি মানবাধিকার সংগঠন সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে স্বাভাবিক হয়ে ওঠা এই বর্ণবাদী সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একসময় যেসব বর্ণবাদী সহিংসতা এবং ভীতি প্রদর্শনকে চরম পর্যায় বলে মনে করা হতো, তা এখন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সাপ্তাহিক সাধারণ ঘটনাতে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে বাড়তে থাকা বৈষম্য, জনসেবা খাতে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচারণাই ইসলামভীতি ও অভিবাসীবিরোধী এই ঘৃণাকে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত করেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কট্টর ডানপন্থি কর্মীরা এই বিদ্বেষকে আরও চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের ভাষায় ‘কট্টর বর্ণবাদী’ ড্যানিয়েল থমাস সম্প্রতি ইংলিশ চ্যানেলে উদ্ধারকর্মীদের উপস্থিতিতেই একটি ভাসমান রেসকিউ বোট কেটে ফুটো করে দেওয়ার ভিডিও ধারণ করেন। তার নেতৃত্বাধীন সংগঠন ‘প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্ম’ ডোভার ও পোর্টসমাউথ বন্দরে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভের নামে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। অক্সফোর্ডশায়ারের পিডিংটন গ্রামেও এই কট্টরপন্থিরা সরকার-নির্ধারিত আশ্রয়প্রার্থীদের বাসস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুমকি দিচ্ছে। ‘স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম’-এর ম্যানচেস্টার সংগঠক নাহেলা আশরাফ অভিযোগ করে বলেন, ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভের নামে মুখোশধারী ব্যক্তিরা কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালাচ্ছে। দুঃখজনকভাবে, এই বিদ্বেষমূলক বক্তব্যগুলো এখন রাজনীতির মাঠেও বৈধতা পাচ্ছে। রিফর্ম ইউকে দলের কট্টর ডানপন্থি এমপি সারাহ পোচিন এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, অভিবাসী ও শরণার্থীরা আদিবাসী শ্বেতাঙ্গ নারীদের জন্য হুমকিস্বরূপ। দলটির স্বঘোষিত ‘শ্যাডো হোম সেক্রেটারি’ জিয়া ইউসুফ সোমালিয়ায় জন্মগ্রহণকারী লেবার পার্টির এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে মন্তব্য করে বর্ণবাদের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন, যাকে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডস 'সরাসরি বর্ণবাদ' বলে আখ্যা দিয়েছেন। এর আগে কনজারভেটিভ দলের সাবেক নেতা রবার্ট জেনরিক এবং নিক টিমোথিও বিভিন্ন সময়ে মুসলিম এবং অ-শ্বেতাঙ্গদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব নর্দাম্পটনের অধ্যাপক পল জ্যাকসন এবং বাথ ইউনিভার্সিটির গবেষক অরেলিয়েন মনডন মনে করেন, মূলধারার রাজনীতি ও গণমাধ্যম যখন ডানপন্থি কট্টর চিন্তাধারাকে প্রশ্রয় দেয়, তখন চরমপন্থিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তবে এত নেতিবাচকতার মাঝেও আশার আলো দেখছেন সমাজকর্মীরা। ম্যানচেস্টারের সংগঠক নাহেলা আশরাফ জানান, কট্টর ডানপন্থিদের অর্থায়ন ও প্রচারণার জোর থাকলেও সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ এখনও অভিবাসী ও শরণার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শিশুদের নিজ উদ্যোগে শরণার্থীদের জন্য বই উপহার দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, সমাজে এখনও ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা টিকে আছে এবং ঘৃণা ছড়িয়ে বর্ণবাদীরা শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) নিয়োগ ওয়েবসাইটে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। 'শাইনিহান্টারস' নামের একটি পরিচিত হ্যাকার গ্রুপ এই সাইবার হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেছে যে, তারা প্রায় সব এফবিআই এজেন্ট এবং চাকরিপ্রার্থীদের "অত্যন্ত স্পর্শকাতর তথ্য" হাতিয়ে নিয়েছে। এই ঘটনার পরপরই সম্ভাব্য কর্মীদের জন্য এফবিআই সম্পর্কে জানার এবং আবেদনের মূল পোর্টাল 'এফবিআইজবস ডট গভ' (FBIjobs.gov) অফলাইনে চলে যায়। এফবিআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এই অননুমোদিত প্রবেশ ও সাইবার হামলার দাবির বিষয়ে অবগত আছে এবং বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে নিবিড় তদন্ত চলছে। হ্যাকার গ্রুপ শাইনিহান্টারস অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তার মাধ্যমে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল এবং সাইবার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালকের উদ্দেশ্যে লেখা ওই বার্তায় তারা দাবি করে যে, এফবিআইয়ের প্রায় সব বর্তমান এজেন্ট এবং যারা চাকরি পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন, তাদের সবার অত্যন্ত গোপনীয় ব্যক্তিগত তথ্য এখন হ্যাকারদের হাতে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবির সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি এবং এফবিআইয়ের কোনো মুখপাত্র এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি, তবুও সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা এই হামলাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছেন। এই সাইবার হামলার পেছনে মূলত আর্থিক কোনো কারণের চেয়ে এফবিআইয়ের ওপর ক্ষোভকেই প্রধান হিসেবে তুলে ধরেছে শাইনিহান্টারস। হ্যাকার গ্রুপটি তাদের বার্তায় এফবিআইকে এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছে, যেন তারা গত মে মাসে প্রকাশিত একটি পাবলিক সার্ভিস অ্যানাউন্সমেন্ট বা জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি থেকে শাইনিহান্টারস সম্পর্কে করা "মিথ্যা অভিযোগগুলো" সংশোধন বা প্রত্যাহার করে নেয়। এফবিআইয়ের ওই বিজ্ঞপ্তিতে শাইনিহান্টারসকে এমন এক সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল, যারা বিপুল পরিমাণ তথ্য চুরি ও চাঁদাবাজিতে পারদর্শী। এফবিআই সতর্ক করেছিল যে, এই হ্যাকাররা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্যে প্রবেশের সত্য বা অতিরঞ্জিত দাবি ব্যবহার করে এবং প্রায়শই ভুক্তভোগীদের হেনস্তা বা হুমকি দেয়। এমনকি তাদের কাছে ভুক্তভোগীদের বিব্রতকর ছবি বা ভিডিও থাকার মিথ্যা দাবি করারও অভিযোগ তোলা হয়েছিল। শাইনিহান্টারস জানিয়েছে, এফবিআইয়ের এই ধরনের বর্ণনায় তারা "অপমানিত" বোধ করেছে এবং অবিলম্বে এসব দাবি প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দিয়েছে। এফবিআইয়ের মতো সুরক্ষিত সংস্থার জন্য সাইবার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত মার্চ মাসে এফবিআই জানিয়েছিল যে, তাদের নজরদারি অভিযান এবং তদন্ত সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে এমন একটি অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে "সন্দেহজনক কার্যকলাপের" বিষয়টি তারা তদন্ত করছে। একই মাসে একটি ইরানপন্থি হ্যাকার গ্রুপ দাবি করেছিল যে, তারা এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেলের একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেছে এবং অনলাইনে তার বহু পুরোনো ছবি, জীবনবৃত্তান্ত এবং এক দশকেরও বেশি সময় আগের ব্যক্তিগত নথিপত্র ফাঁস করে দিয়েছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনা মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
উত্তর লন্ডনের একটি মসজিদে গাজার শিশুদের মতো সেখানকার শিশুদেরও মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে একবার চিৎকার করেছিলেন এক নারী। অন্য একটি ঘটনায়, মসজিদ ভবনের গ্যাসের পাইপ কেটে এমনভাবে রাখা হয়েছিল যাতে ভেতরে গ্যাস জমে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। গত তিন বছরে লন্ডন ইসলামিক কালচারাল সোসাইটিকে এমন অসংখ্য বিদ্বেষমূলক ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে ভয়ে নিজেদের গুটিয়ে না নিয়ে বরং সাধারণ মানুষের জন্য নিজেদের দরজা আরও প্রসারিত করেছে মসজিদটি। শুধু এই একটি মসজিদই নয়, ইসলাম ও ব্রিটিশ মুসলমানদের সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করতে চলতি সপ্তাহে লন্ডন, বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টার, শেফিল্ড ও গ্লাসগোসহ যুক্তরাজ্যের শতাধিক মসজিদ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ‘ভিজিট মাই মস্ক’ নামের এই বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষকে চা, ঐতিহ্যবাহী খাবার, আলোচনা চক্র, আন্তঃধর্মীয় কার্যক্রম এবং শিল্প প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের আয়োজনে ১১তম বছরে পদার্পণ করা এই কর্মসূচিটি বর্তমানে দেশটিতে ক্রমবর্ধমান ইসলামভীতির প্রেক্ষাপটে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংস্থাটির মহাসচিব ড. ওয়াজিদ আখতার জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে বহু মানুষ ব্রিটিশ মুসলিমদের সম্পর্কে নানা তথ্য অ্যালগরিদমের ওপর নির্ভর করে পাচ্ছে। এছাড়া বিদেশি অর্থায়নে পুষ্ট কিছু ধনকুবের বিষাক্ত প্রচারণার মাধ্যমে অনলাইন ও রাজপথে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণাকে উসকে দিচ্ছে। ইস্ট লন্ডন মসজিদের মরিয়ম সেন্টারের প্রধান সুফিয়া আলম মনে করেন, ঘৃণার চেয়ে বন্ধুত্ব ও সংহতি যে অনেক বেশি শক্তিশালী, তা প্রমাণ করতেই তাদের এই অংশগ্রহণ। মানুষ যখন মসজিদে এসে মুসলিম পরিবার ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে কথা বলবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই অনেক স্টেরিওটাইপ ও ভয় দূর হয়ে যাবে। যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে যখন গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই এই সম্প্রীতির উদ্যোগটি সামনে এলো। সরকারের অংশীদার হিসেবে কাজ করা ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্টের তথ্যমতে, দেশটিতে প্রতি পাঁচ দিনে অন্তত একটি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা, সম্পত্তি ধ্বংস, হয়রানি এবং অনলাইনে গালাগালির মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। ফিঞ্চবেরি পার্ক মসজিদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কোজবার বলেন, ক্রমবর্ধমান মুসলিমবিদ্বেষের সবচেয়ে ভালো জবাব হলো উন্মুক্ততা, সংলাপ এবং পারস্পরিক সংহতি বজায় রাখা। উত্তর লন্ডনের মসজিদটি পরিচালনা করছেন বিবি খান, যিনি যুক্তরাজ্যের কোনো মসজিদের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। শনিবার বিকেলে সব ধর্মের মানুষের জন্য মসজিদটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে সেখানে এক অভূতপূর্ব সম্প্রীতির দৃশ্য দেখা যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুসওয়েল হিল ইউনাইটেড সিনাগগের ডেপুটি এবং ব্রিটিশ ইহুদিদের একটি নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি বিষয়ক বিভাগের ভাইস-চেয়ার জুডিথ প্রিন্সলি। গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে মুসলিম ও ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও, বিবি খান ও প্রিন্সলির মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির এক দারুণ উদাহরণ তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া খবর ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবি খান জানান, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে, বিশেষ করে ইহুদিদের সাথে পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। মতানৈক্য থাকলেও কঠিন সময়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্কে বন্ধুদের সাথে হাইকিংয়ে গিয়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী উদীয়মান কলেজ রেসলার রায়ান জর্জ। গত ছুটির দিনে পার্কটির প্রায় ৪০০ ফুট উঁচু ইলিউয়েট জলপ্রপাতের (Illilouette Falls) কাছে পা পিছলে পড়ে নিচে তলিয়ে যান সান্তা রোসা জুনিয়র কলেজের এই প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ। মৃত্যুর মাত্র দুদিন আগেই স্যাক্রামেন্টোতে অনুষ্ঠিত ডেভ পাচেকো ইনভাইটেশনাল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। রেসলার হিসেবে রায়ানের ক্যারিয়ার ছিল অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও সাফল্যে ঘেরা। দ্য প্রেস ডেমোক্র্যাটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সান্তা রোসা কলেজে নিজের প্রথম বর্ষেই তিনি ‘অল-আমেরিকান’ সম্মাননা অর্জন করেন এবং ক্যালিফোর্নিয়া কমিউনিটি কলেজ অ্যাথলেটিক অ্যাসোসিয়েশন টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন। এর আগে মন্টগোমারি হাইস্কুলে পড়ার সময় তিনি ২১৭ পাউন্ড ওজন শ্রেণিতে নর্থ বে লিগের শিরোপা জিতেন এবং সিনিয়র হিসেবে নর্থ কোস্ট সেকশন টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। রায়ান জর্জের এই অকাল মৃত্যুতে তার কোচ, সতীর্থ এবং পরিচিতদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সান্তা রোসার রেসলিং কোচ ফ্রেড ডুয়ার এক বিবৃতিতে জানান, রায়ান ছিলেন তার দেখা সবচেয়ে ইতিবাচক ও অকৃত্রিম মানুষদের একজন। যেকোনো পরিবেশকে মুহূর্তের মধ্যে আনন্দমুখর করে তোলা এবং আশেপাশের সবার সেরা গুণগুলো বের করে আনার এক অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল তার। মন্টগোমারি হাইস্কুলের রেসলিং কোচ ইয়ান হেসও তাকে একজন চমৎকার সতীর্থ হিসেবে স্মরণ করেছেন। তিনি বলেন, রায়ান কখনোই কোনো বিষয় নিয়ে অভিযোগ বা বিরক্তি প্রকাশ করত না; সে সবসময় হাসিমুখে অন্যদের সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকত। তার এই ইতিবাচক মানসিকতাই তাকে রেসলিংয়ে একটি ঈর্ষণীয় ক্যারিয়ার গড়তে সাহায্য করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না—জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এমনই কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তবে একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধের অবসানে কূটনীতির পথ খোলা রাখতে চায় তেহরান। বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, চাপ, নিষেধাজ্ঞা কিংবা হুমকি দিয়ে ইরানকে নত করা যাবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় লড়াই করছে এবং আত্মসমর্পণের প্রশ্নই আসে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের দিনের বক্তব্যের জবাবও আসে পেজেশকিয়ানের ভাষণে। ট্রাম্প জাতিসংঘে ইরানকে নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর পেজেশকিয়ান বলেন, হুমকি ও চাপ ইরানের প্রতিরোধ আরও শক্ত করবে। তিনি ট্রাম্পের নীতিকে ‘বুলিং মেন্টালিটি’ বা চাপ প্রয়োগের মানসিকতা হিসেবে সমালোচনা করেন। তবে যুদ্ধের পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রাখার কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তার বক্তব্য, ইরান কূটনীতিতে বিশ্বাস করে এবং সংঘাতের অবসানে আলোচনা হতে পারে। তবে সেই আলোচনা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে, হুমকি বা চাপের মাধ্যমে নয়। ভাষণে হরমুজ প্রণালির বিষয়টিও তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, সবাই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ থেকে সুবিধা নেবে, অথচ ইরান সেখানে নিজস্ব নৌপরিবহন ব্যবহারের সুযোগ পাবে না—এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, সেখানে শত্রুভাবাপন্ন নৌবহরের স্থায়ী উপস্থিতি এবং যুদ্ধের বিস্তার শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে না। এদিকে পেজেশকিয়ানের বক্তব্য শুরু হওয়ার সময় জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষণটি আসে ট্রাম্পের এক দিন পরের বক্তব্যের জবাবে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে তাই একদিকে ছিল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে ছিল কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাত শেষ করার বার্তা। অর্থাৎ তেহরান আত্মসমর্পণ করতে রাজি নয়, তবে আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করছে না—জাতিসংঘে ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে এই দুই বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে তার মতো একজন হাই-প্রোফাইল নেতার কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত হোটেলের অদূরেই এবার ঘটে গেছে এক রহস্যজনক ঘটনা। পুলিশ ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য আবাসস্থল ম্যানহাটনের লোয়েস রিজেন্সি নিউইয়র্ক হোটেলের ঠিক কাছেই একটি ভূগর্ভস্থ ম্যানহোল থেকে তিন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বের হয়ে আসতে দেখা গেছে। জাতিসংঘের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনের ডামাডোলের মাঝে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা ওই এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে বেশ উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে আপার ইস্ট সাইডের ইস্ট ৬১ নম্বর স্ট্রিট সংলগ্ন পার্ক এভিনিউয়ের একটি খোলা ম্যানহোল থেকে ওই তিন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে রাস্তায় উঠে আসতে দেখা যায়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা দ্রুত দুটি আলাদা গাড়িতে চড়ে পার্ক এভিনিউ ধরে উত্তরের দিকে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় বা ম্যানহোলের নিচে লুকিয়ে থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ কিছু নিশ্চিত করতে পারেনি। যেহেতু নেতানিয়াহু এবং অন্যান্য শীর্ষ আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের ঠিক ওই ব্লকের লোয়েস রিজেন্সি হোটেলেই থাকার কথা, তাই পুলিশ এই ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে।
সম্প্রতি ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট প্রকাশিত ২০২৭ সালের 'বেস্ট কলেজেস' র্যাঙ্কিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যৌথভাবে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউসিএলএ) এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে (ইউসি বার্কলে)। শিক্ষার্থীদের স্নাতক পাসের হার, অনুষদের সুযোগ-সুবিধা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে তাদের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে তৈরি করা সামগ্রিক তালিকাতেও এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে ২০তম অবস্থানে রয়েছে। প্রকাশিত এই র্যাঙ্কিংয়ে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া (ইউসি) সিস্টেমের অভাবনীয় সাফল্য চোখে পড়ার মতো। শীর্ষ ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ইউসি-এর পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জায়গা করে নিয়েছে। দেশজুড়ে মূল্যায়ন করা ১,৭০০টিরও বেশি চার বছর মেয়াদি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইউসি-এর ৯টি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ক্যাম্পাসই শীর্ষ ৫০ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান পেয়েছে এবং সার্বিকভাবে শীর্ষ ১২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করেছে। ইউসিএলএ-এর চ্যান্সেলর জুলিও ফ্রেঙ্ক এই অর্জন প্রসঙ্গে জানান, র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান পাওয়া অবশ্যই তৃপ্তিদায়ক, তবে ইউসিএলএ-কে যা সত্যিকারের অসাধারণ করে তোলে তা হলো এর পেছনের শক্তিশালী সম্প্রদায়। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় প্রথম স্থানে থাকাটা এক বিশাল সম্মানের। এটি সুযোগ সম্প্রসারণ, জ্ঞানের বিকাশ এবং সমাজের সেবা করার ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করে। সামগ্রিক অবস্থানের পাশাপাশি সামাজিক গতিশীলতা বা সোশ্যাল মবিলিটি র্যাঙ্কিংয়েও ইউসি প্রতিষ্ঠানগুলো আধিপত্য দেখিয়েছে। নিম্ন আয়ের শিক্ষার্থীদের স্নাতক সম্পন্ন করতে এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করার মাপকাঠিতে ইউসি রিভারসাইড জাতীয়ভাবে প্রথম এবং ইউসি মার্সেড চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। তবে এই তালিকায় ইউসি সান্তা ক্রুজ ২১ ধাপ পিছিয়ে ৮৮ থেকে ১০৯তম স্থানে নেমে গেছে। এই সাফল্য সম্পর্কে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার প্রেসিডেন্ট জেমস বি. মিলিকেন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইউএস নিউজের সেরা কলেজের র্যাঙ্কিং আবারও প্রমাণ করেছে কেন ইউসি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়। উল্লেখ্য, সামগ্রিক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় সবগুলোকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)। এর পরেই রয়েছে যথাক্রমে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি এবং ইয়েল ইউনিভার্সিটি। অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহতে নিখোঁজ হওয়ার পর ৩৮ বছর বয়সী এক ভারতীয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কর্ণাটকের উদুপি জেলার কুন্দাপুরের বাসিন্দা অ্যালভিন প্রকাশ কুন্ডারকে হত্যার পর তার মরদেহ নয় টুকরা করে একটি গাড়িতে রাখা হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রায় ১৪ বছর ধরে শারজাহতে কর্মরত অ্যালভিনের মৃত্যুর খবর তার পরিবার জানতে পারে নিখোঁজ হওয়ার বেশ কিছুদিন পর। অ্যালভিনের ভাই অনিল প্রশান্ত কুন্ডার সোমবার উদুপি জেলার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। সেখানে তিনি তার ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে শারজাহ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। উদুপি পুলিশও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই অনিল তার ভাইকে ফোন করেন। কিন্তু অ্যালভিন ফোন ধরেননি। এর পরিবর্তে তার নম্বর থেকে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয় যে তিনি ভালো আছেন। বিষয়টি অনিলের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়। কারণ তার ভাই সাধারণত এভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন না। এর প্রায় এক সপ্তাহ পরও অ্যালভিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তখন অনিল শারজাহতে থাকা অ্যালভিনের সাবেক সহপাঠী মনোহরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি মনোহরকে অ্যালভিনের খোঁজ নিতে অনুরোধ করেন। মনোহর অ্যালভিন যে ফ্ল্যাটে থাকতেন সেখানে যান। ওই বাসস্থানটি তার নিয়োগকর্তা দিয়েছিল বলে জানা গেছে। সেখানে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী তাকে জানান, অ্যালভিন ভারতে চলে গেছেন। পরে অ্যালভিনের পরিবার তার কর্মস্থলের সঙ্গেও যোগাযোগ করে। অনিলের দাবি, প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগ থেকেও প্রথমে জানানো হয় যে অ্যালভিন ভারতে চলে গেছেন। কিন্তু অনিল বিষয়টি বিশ্বাস করেননি। তিনি জানান, তার ভাই ভারতে ফিরে আসেননি। পরে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে অ্যালভিনের ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে বলেন। প্রতিষ্ঠানটি তার পাসপোর্টের তথ্য পরীক্ষা করার পর জানতে পারে, অ্যালভিন তখনও শারজাহতেই ছিলেন। এরপর তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে অ্যালভিনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পরিবারকে জানানো হয়। অ্যালভিনের ভাইয়ের দাবি, ওমানের দিকে যাওয়া একটি সড়কের পাশে পার্ক করা একটি গাড়ির ভেতর মরদেহটি পাওয়া যায়। মরদেহটি নয় টুকরা করা হয়েছিল এবং দুটি ব্যাগে রাখা হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন। পরে পরিবারের হাতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পৌঁছায়। সোমবার সেই প্রতিবেদন পাওয়ার পর অনিল উদুপি পুলিশের কাছে যান। তবে অ্যালভিনকে কোথায় এবং কীভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে হত্যার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তাও নিশ্চিত নয়। শারজাহ কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে। এদিকে অ্যালভিনের স্ত্রী টিনা কুন্ডার এবং তাদের ছেলের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। টিনা উদুপি জেলার উদ্যাভারার বাসিন্দা এবং শারজাহতে একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তাদের ছেলে দশম শ্রেণিতে পড়ছে। পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে টিনা ও তার ছেলের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাচ্ছেন না। অনিলের দাবি, ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দুই পুরুষ ও এক নারীকে ভবন থেকে বের হতে দেখা গেছে। তবে ওই তিনজনের সঙ্গে অ্যালভিনের নিখোঁজ হওয়া বা মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। টিনা ও তার ছেলে ভারতে ফিরে এসেছেন কি না, সেটিও পরিবার নিশ্চিত করতে পারেনি। অ্যালভিনের পরিবার জানিয়েছে, ভারতে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা না হওয়ায় তাদের পক্ষে পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অ্যালভিনের ভাই। পরিবারের পক্ষ থেকে অ্যালভিনের মৃত্যুর পুরো ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি তার স্ত্রী ও ছেলের অবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। শারজাহ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসা পর্যন্ত সন্দেহভাজন, হত্যার উদ্দেশ্য এবং টিনা ও তার ছেলের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, অ্যালভিন সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে নিজের শহরে গিয়েছিলেন। এরপর তিনি আবার শারজাহ ফিরে যান। তার মৃত্যুর ঘটনায় এখন ভারতীয় ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে পরিবার। সূত্র: ইন্ডিয়া ডটকম
ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসেতে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর যাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত উবারচালক অনুজ কুমারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৩২ বছর বয়সী ফস্টার সিটির বাসিন্দা কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, উবারে যাত্রার সময় তিনি কিশোরটির সঙ্গে যৌন নিপীড়নমূলক আচরণ করেন এবং গাড়ির শিশু-নিরাপত্তা লক চালু করে তাকে বের হতে বাধা দেন। ঘটনার পর সান হোসে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং একই ধরনের ঘটনায় আরও কেউ ভুক্তভোগী হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বর রাতে সান হোসের কেন্দ্রীয় এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। রাত সাড়ে ১০টার কিছু পর পাসেও দে সান আন্তোনিওর ১০০ নম্বর ব্লকে অপ্রাপ্তবয়স্ক এক ব্যক্তিকে ঘিরে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। কিশোরটি একটি উবার গাড়িতে করে যাতায়াত করছিল। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ির চালকই তার সঙ্গে যৌন নিপীড়ন করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। আদালতের নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, অনুজ কুমার ওই ১৪ বছর বয়সী কিশোরকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন। এরপর গাড়ির শিশু-নিরাপত্তা লক চালু করে দেন, যাতে কিশোরটি গাড়ি থেকে বের হতে না পারে। অভিযোগের ঘটনাটি কিশোরটির নির্ধারিত গন্তব্যের কাছাকাছি ঘটে। তার গন্তব্য ছিল সান হোসে স্টেট ইউনিভার্সিটির কাছে অবস্থিত হ্যামার থিয়েটার। ঘটনার পর গাড়ি থেকে বের হতে সক্ষম হয়ে কিশোরটি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। সান হোসে পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র স্টেসি শিহ জানান, ভুক্তভোগী দ্রুত পুলিশের কাছে অভিযোগ করায় তদন্ত শুরু করা সম্ভব হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত গাড়ি ও চালককে শনাক্ত করার কাজ শুরু করে। তদন্তকারীরা স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরার তথ্য ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট গাড়িটিকে শনাক্ত করেন। পরে ওই গাড়ির সঙ্গে অনুজ কুমারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। পুলিশের তদন্তের ভিত্তিতে ফস্টার সিটি পুলিশের সহায়তায় ১৩ সেপ্টেম্বর ফস্টার সিটিতে কুমারকে গ্রেপ্তার করা হয়। অর্থাৎ অভিযোগের পরদিনই তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের পর অনুজ কুমারকে সান্তা ক্লারা কাউন্টি প্রধান কারাগারে অপ্রাপ্তবয়স্কের ওপর যৌন নিপীড়নের সন্দেহে নথিভুক্ত করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি প্রায় আড়াই বছর ধরে উবারচালক হিসেবে কাজ করছিলেন। উবারে তার যাত্রী মূল্যায়নের গড় ছিল ৪ দশমিক ৯৫। অভিযোগের খবর প্রকাশের পর উবার কুমারকে তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং যৌন নিপীড়নের মতো আচরণের উবারের প্ল্যাটফর্মে কোনো স্থান নেই। তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। পুলিশের তদন্ত এখনো চলছে। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, অনুজ কুমারের বিরুদ্ধে আরও ভুক্তভোগী থাকতে পারেন। এ কারণে তার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো তথ্য কিংবা একই ধরনের ঘটনার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন কাউকে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সান হোসে পুলিশের যৌন নিপীড়ন তদন্ত ইউনিট এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই মামলায় তথ্য থাকা ব্যক্তি বা একই ধরনের ঘটনার শিকার কেউ তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এ জন্য সান হোসে পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা হোয়াংয়ের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া যোগাযোগ নম্বর হলো ৪০৮-২৭৭-৪১০২ এবং ই-মেইল ঠিকানা ৪৬৮৪@সানহোসেসিএ.গভ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর উবারে অপ্রাপ্তবয়স্ক যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে এই মামলায় পুলিশের তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপে পুলিশ সম্ভাব্য অন্য ভুক্তভোগী ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করবে। অনুজ কুমারকে গ্রেপ্তার করা হলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কের ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে পুলিশ নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা মামলার তদন্তে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী পুলিশের কাছে যোগাযোগ করায় তদন্তকারীরা দ্রুত সংশ্লিষ্ট গাড়ি শনাক্ত করতে সক্ষম হন। স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরার তথ্য ব্যবহার করে চালকের পরিচয় বের করা হয় এবং এক দিনের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য সম্ভাব্য অন্য অভিযোগ বা ভুক্তভোগীর বিষয়ে তথ্য পাওয়া এবং মামলার সব তথ্য যাচাই করা। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
মাদুরোকে আটকের পর প্রথমবারের মতো ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্পের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই বৈঠক হয়। জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর এটি ছিল ট্রাম্প ও রদ্রিগেজের প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। বৈঠকটি ছিল আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের চেয়ে তুলনামূলক অনানুষ্ঠানিক। এতে ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস এবং নীতিবিষয়ক উপপ্রধান স্টিফেন মিলারও উপস্থিত ছিলেন। রদ্রিগেজের জন্য এটি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। বৈঠকের পর রদ্রিগেজ এটিকে ‘ঐতিহাসিক’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার করা এবং জ্বালানি, খনিজ, নিরাপত্তাসহ কৌশলগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পরে জানান, বৈঠকে ভেনেজুয়েলার বিপুল ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়ও আলোচনা হয়েছে। রদ্রিগেজের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার প্রতিনিধিদল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা, বহুপক্ষীয় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করছে। প্রতিনিধিদলে দেশটির অর্থনীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট, তেলমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর কর্মকর্তারাও রয়েছেন। আলোচনায় জ্বালানি, খনিজ ও ঋণ পুনর্গঠনের বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে মাদুরো আটক হওয়ার পর রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও কারাকাসের সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে। ট্রাম্প ও রদ্রিগেজের এবারের সরাসরি বৈঠক সেই পরিবর্তিত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটেই অনুষ্ঠিত হলো। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা দেশটির তেলসম্পদকে ঘিরে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। রদ্রিগেজ ওই উদ্যোগকে ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও তেলশিল্প আধুনিকায়নের পথে একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্পও জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি রদ্রিগেজের সরকার ভেনেজুয়েলাকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও উপযোগী করে তোলার চেষ্টা করছে। দেশটির প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা, বহুপক্ষীয় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে অর্থনীতি, জ্বালানি, খনিজ ও ঋণসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। তবে ভেনেজুয়েলার বিরোধী পক্ষের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রদ্রিগেজ সরকারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বাইরে একদল ভেনেজুয়েলীয় বিক্ষোভকারী নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সমর্থকরাও ওয়াশিংটনের সঙ্গে বর্তমান সরকারের যোগাযোগ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত ট্রাম্প-রদ্রিগেজ বৈঠক তাই মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। জ্বালানি, খনিজ, নিরাপত্তা ও ঋণ পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসায় দুই দেশের যোগাযোগের পরিধিও স্পষ্ট হয়েছে। তবে বৈঠকের পর কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে এক আলোচনায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, ইসরায়েলকে গোলান মালভূমি দেওয়ার বদলে নিউ জার্সি দিয়ে দিতে পারেন। গোলান মালভূমি নিয়ে সিরিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করতে তিনি এই মন্তব্য করেছিলেন। ২৩ সেপ্টেম্বরের ওই আলোচনায় তিনি একই সঙ্গে বলেন, গোলান মালভূমি কোনো প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় যে একজন আরেকজনকে তা দিয়ে দেবেন। আল শারা বলেন, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তখন তিনি রসিকতা করে ট্রাম্পকে বলেন, যদি ইসরায়েলকে কোনো ভূখণ্ড দিতে এতটাই আগ্রহ থাকে, তাহলে নিউ জার্সি দেওয়া যেতে পারে। কারণ, তার ভাষায়, ট্রাম্প নিউ জার্সির মালিক হলেও গোলান মালভূমির মালিক নন। আল শারা আরও বলেন, নিউ জার্সিতে ডেমোক্র্যাট ভোটার বেশি এবং তারা সাধারণত ট্রাম্পকে ভোট দেন না। তাই রসিকতার অংশ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, ইসরায়েলকে নিউ জার্সি দিয়ে দিলে বিষয়টি হয়তো ভালোই হতো। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এটি ছিল কেবল একটি রসিকতা। গোলান মালভূমি নিয়ে তার মূল বক্তব্য ছিল ভিন্ন। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, গোলান মালভূমি সেখানকার মানুষের এবং কোনো সিরীয় বা মার্কিন প্রেসিডেন্টেরই অন্য কারও কাছে ওই ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার অধিকার নেই। তার বক্তব্যে গোলান ইস্যুতে সিরিয়ার দীর্ঘদিনের অবস্থান আবারও উঠে আসে। গোলান মালভূমি ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে আসে। ১৯৮১ সালে ইসরায়েল সেখানে নিজেদের আইন, বিচারিক এখতিয়ার ও প্রশাসন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাবে ওই সিদ্ধান্তকে অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক আইনে কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদও পরবর্তী বিভিন্ন প্রস্তাবে গোলানকে দখলকৃত সিরীয় ভূখণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আলাদা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি দেন। হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক নথিতেও ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদের ওই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল শারার মন্তব্যের সময় সিরিয়া ও ইসরায়েলের সম্পর্ক নিয়েও নিউইয়র্কে আলোচনা চলছে। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সীমান্তসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনাও চলছে বলে তিনি দাবি করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এসব যোগাযোগকে এখনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, সিরিয়ার ভবিষ্যৎ এবং ইসরায়েল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হয়ে উঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটে আল শারার নিউ জার্সি নিয়ে রসিকতা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও, তার বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল গোলান মালভূমির বিষয়ে সিরিয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা।
নিউইয়র্কে ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটনের সঙ্গে দেখা করেছেন বাংলাদেশের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ক্লিনটন পরিবারের সঙ্গে ইউনূসের এই সাক্ষাৎ মাইক্রোক্রেডিট নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়টিও সামনে এনেছে। ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সামাজিক উদ্যোগের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে আয়োজিত দুই দিনের এই সম্মেলনে বৈশ্বিক বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ ও অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ইউনূসও সম্মেলনের আমন্ত্রিত বক্তাদের একজন ছিলেন। মাইক্রোক্রেডিটের ধারণা যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিল ক্লিনটনের সঙ্গে ইউনূসের যোগাযোগ শুরু হয় কয়েক দশক আগে। ১৯৮০-এর দশকে বিল ক্লিনটন যখন আরকানসাসের গভর্নর ছিলেন, তখন তিনি বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ মডেল সম্পর্কে জানতে ইউনূসের সঙ্গে কাজ করেন। ক্লিনটন পরে নিজেই জানিয়েছিলেন, ১৯৮৪ সালে ওয়াশিংটনে একটি গভর্নরদের বৈঠকের সময় ইউনূসের সঙ্গে তার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ হয়। এরপর আরকানসাসে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসায় ঋণ দেওয়ার একটি কর্মসূচি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৮৬ সালে ইউনূস আরকানসাসের লিটল রকের গভর্নরের বাসভবনে ক্লিনটন দম্পতির সঙ্গে দেখা করেন এবং বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকের অভিজ্ঞতা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দরিদ্র ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন। পরে আরকানসাসে গুড ফেইথ ফান্ড নামে একটি মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ কর্মসূচি গড়ে ওঠে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন বিভিন্ন বক্তব্যে এই উদ্যোগের পেছনে ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের ধারণার প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন। হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গেও মাইক্রোক্রেডিট নিয়ে ইউনূসের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। ১৯৯০-এর দশকে তিনি ক্ষুদ্রঋণকে নিম্ন আয়ের মানুষের অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানো এবং বিশেষ করে নারীদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরির একটি উপায় হিসেবে প্রকাশ্যে সমর্থন করেন। ১৯৯৫ সালে মেয়ে চেলসি ক্লিনটনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সফরের সময় হিলারি ক্লিনটন গ্রামীণ ব্যাংকের একটি প্রকল্প পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি গ্রামীণ নারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেন। ক্লিনটন লাইব্রেরির সংরক্ষিত নথি অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালের ৩ এপ্রিল হিলারি ও চেলসি ক্লিনটন যশোরে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি গ্রামভিত্তিক প্রকল্প পরিদর্শন করেন। তারা ঋণগ্রহীতা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম দেখেন। পরদিন তারা ঢাকায় যান। পরবর্তী বছরগুলোতেও হিলারি ক্লিনটন মাইক্রোক্রেডিট নিয়ে তার আগ্রহের কথা একাধিকবার তুলে ধরেছেন। ১৯৯৭ সালে তিনি বলেছিলেন, আরকানসাসে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি ও বিল ক্লিনটন বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকের কাজ সম্পর্কে জানতে পারেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইউনূসের পরামর্শে আরকানসাসে ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক কর্মসূচি গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা তাদের মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ নিয়ে আরও বিস্তৃতভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করেছিল। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ মডেল বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি পায়। ২০০৬ সালে ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি এবং বিশেষ করে নারীদের আর্থিকভাবে সম্পৃক্ত করার মডেলটি পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশে আলোচিত হয়। নিউইয়র্কে এবারের ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের মঞ্চে ইউনূসের অংশগ্রহণ সেই দীর্ঘ আন্তর্জাতিক যোগাযোগেরই আরেকটি পর্ব হিসেবে সামনে এসেছে। বিল ও হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ একই সঙ্গে বাংলাদেশে উদ্ভূত মাইক্রোক্রেডিট ধারণার যুক্তরাষ্ট্রে বিস্তারের কয়েক দশকের ইতিহাসও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সারোগেসিকে ঘিরে আলোচিত এক আইনি লড়াইয়ে সারোগেট মা ম্যাকেনা ওয়েস্টের করা জরুরি আবেদন খারিজ হয়েছে। এর ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতি নওশিন গিলকার ও ওমর আহমেদের কাছে তাদের সন্তান রুমি থাকার পথই বহাল থাকল। মঙ্গলবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এলেনা কাগান ওয়েস্টের আবেদন খারিজ করেন। ঘটনার সূত্রপাত গিলকার ও আহমেদের সন্তান ধারণের দীর্ঘ প্রচেষ্টাকে ঘিরে। গিলকারের আট দফা আইভিএফ ব্যর্থ হওয়ার পর এবং জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচারের পর দম্পতি তাদের জৈবিক সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য ওয়েস্টকে সারোগেট মা হিসেবে নিয়োগ করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ওয়েস্ট শিশুটির জেনেটিক মা নন। গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহে চিকিৎসকেরা জানতে পারেন, শিশুটির হৃদ্যন্ত্রে হাইপোপ্লাস্টিক লেফট হার্ট সিনড্রোম নামে গুরুতর জন্মগত ত্রুটি রয়েছে। এতে হৃদ্যন্ত্রের বাম পাশ স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয় না। চিকিৎসকদের মতে, শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখতে জন্মের পর একাধিক জটিল হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে এবং ভবিষ্যতে হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনও দেখা দিতে পারে। এই রোগ নির্ণয়ের পর গিলকার ও আহমেদ গর্ভধারণ শেষ করার জন্য ওয়েস্টকে অনুরোধ করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাদের সারোগেসি চুক্তিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গর্ভধারণ শেষ করার বিধান ছিল। ওয়েস্ট প্রথমে এতে সম্মত হয়েছিলেন এবং নিজেই চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট করেছিলেন। পরে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে গর্ভধারণ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর ওয়েস্ট দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং শিশুটির হেফাজত পাওয়ার জন্য আইনি পদক্ষেপ নেন। তিনি আলাস্কা থেকে টেক্সাসে চলে যান। টেক্সাসে গর্ভপাতের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় সেখানেই শিশুটিকে জন্ম দেওয়ার এবং তার হেফাজত পাওয়ার আইনি লড়াই শুরু হয়। ১২ আগস্ট ডালাসে ওয়েস্ট একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। গিলকার ও আহমেদ শিশুটির নাম রাখেন রুমি। ওয়েস্টের পক্ষ থেকে শিশুটিকে গ্যাব্রিয়েল নামেও উল্লেখ করা হয়েছে। জন্মের পর শিশুটির গুরুতর হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার শুরু হয়। শিশুটির হেফাজত নিয়ে এরপর ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসের আদালতে একাধিক শুনানি হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার আদালত গিলকার ও আহমেদকে শিশুটির আইনগত বাবা-মা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। টেক্সাসের একটি আদালতও ওয়েস্টের হেফাজতের দাবি প্রত্যাখ্যান করে। ১৮ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের সর্বোচ্চ আদালত ওয়েস্টের করা আরেকটি আবেদন খারিজ করে। এর ফলে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য ক্যালিফোর্নিয়ায় নেওয়ার আইনি পথ খুলে যায়। ওয়েস্ট পরে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে জরুরি আবেদন করেন এবং আগের আদালতের সিদ্ধান্ত স্থগিত করার অনুরোধ জানান। ২২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি এলেনা কাগান সেই জরুরি আবেদন খারিজ করেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের আদেশে আবেদন খারিজের বিস্তারিত কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি। ওয়েস্টের পক্ষে আইনজীবীরা জানিয়েছেন, শিশুটির জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা নিয়ে তাদের উদ্বেগ থেকেই এই আইনি লড়াই করা হয়েছে। অন্যদিকে গিলকার ও আহমেদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সন্তানের প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় সম্মতি দিয়েছেন এবং চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। সর্বশেষ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রুমির আইনগত বাবা-মা হিসেবে গিলকার ও আহমেদের অবস্থান বহাল রয়েছে। সারোগেট মায়ের হেফাজতের আবেদনও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আদালতগুলোতে সফল হয়নি। মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে সারোগেসি চুক্তি, গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত, শিশুর চিকিৎসা এবং জৈবিক বাবা-মায়ের আইনগত অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক দাতব্য, জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করেছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সফরের আগের প্রকাশিত কর্মসূচিতে বিস্ট ফিলানথ্রোপি, ইউপিএস ফাউন্ডেশন, আইকেইএ ফাউন্ডেশন, ইনফোসিস ফাউন্ডেশন, বায়ের ফাউন্ডেশন ও নর্থওয়েল হেলথসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মানবিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও এসব বিষয়ে অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ২৩ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠান এবং ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণও রয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গাজা ও ইরানে নিহত বেসামরিক মানুষের ছবি তুলে ধরেছেন। বুধবারের ভাষণে তিনি গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে ইরানের ওপর হামলার প্রসঙ্গও জাতিসংঘের মঞ্চে তুলে ধরেন। পেজেশকিয়ানের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন জাতিসংঘের এবারের সাধারণ পরিষদে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও মানবিক সংকট অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনী সাধারণ বিতর্কে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসের কথা তুলে ধরে যুদ্ধ বন্ধ এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছেন। ভাষণে পেজেশকিয়ান গাজার বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, হামলায় প্রাণহানির পাশাপাশি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও মানুষ গুরুতর সংকটে রয়েছে। গাজায় নিহত মানুষের সংখ্যা নিয়ে তিনি যে পরিসংখ্যান উল্লেখ করেন, সেটি তাঁর বক্তব্যে দেওয়া হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে গাজার মানবিক পরিস্থিতির গুরুতর অবস্থা উঠে এসেছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের ২২ সেপ্টেম্বরের ভাষণে বলা হয়, গাজায় যুদ্ধের ফলে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং মানবিক সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পৌঁছাচ্ছে। তিনি একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং মানবিক সহায়তা অবাধে প্রবেশের আহ্বান জানান। পেজেশকিয়ান তাঁর ভাষণে ইরানের ওপর হামলার ঘটনাও তুলে ধরেন। এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে প্রায় ১২০ জন স্কুলশিশু ছিল। এই সংখ্যা ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাব। জাতিসংঘে পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের পেছনে আরও বড় একটি কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই তিনি নিউইয়র্কে এসেছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন। একই সময়ে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগের খবরও এসেছে। ফলে পেজেশকিয়ানের জাতিসংঘ সফর শুধু গাজা ইস্যু নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গাজা নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থানও ভিন্ন। ইসরায়েল বলে আসছে, তাদের সামরিক অভিযান সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে এবং বেসামরিক প্রাণহানি কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্যদিকে হামাসকে বেসামরিক এলাকায় সামরিক কার্যক্রম চালানোর জন্য দায়ী করে ইসরায়েলের যে অভিযোগ, তা হামাস অস্বীকার করে আসছে। জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে গাজা, ইরান, ইউক্রেনসহ একাধিক যুদ্ধ ও মানবিক সংকট নিয়ে বিশ্বনেতাদের আলোচনা চলছে। পেজেশকিয়ানের বক্তব্য সেই আলোচনায় ইরানের অবস্থানকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে গাজায় বেসামরিক মানুষের পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসানে কূটনীতির সম্ভাবনাও নিউইয়র্কে চলমান আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।
বড় ধরনের বহর সম্প্রসারণের পথে এগোচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি নিউইয়র্কে স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। একই সময়ে ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি বিমানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগগুলোর একটি হবে। দ্য ডেইলি স্টারের ২৩ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১টি বোয়িং কেনার চুক্তি নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা ১৫ মিনিটে স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে এই কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে রয়েছে বলে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চেয়ারম্যান রুমি আখতার হোসাইন চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। চুক্তির পর বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডন নেলসনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কর্মসূচিও রয়েছে। তবে নতুন ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজের মডেল, মোট মূল্য, অর্থায়নের পদ্ধতি এবং কবে থেকে সেগুলো সরবরাহ করা হবে—এসব তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে গত এপ্রিলে বিমান ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে ১৪টি বোয়িং কেনার চুক্তি করে। ওই বহরে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স রয়েছে। সেগুলোর সরবরাহ ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে হওয়ার কথা। অন্যদিকে এয়ারবাসের সঙ্গেও বিমানের আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত ১০টি উড়োজাহাজের মধ্যে চারটি এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে হতে পারে। তবে আলোচনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে মঙ্গলবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, এয়ারবাস নিয়ে আলোচনা চলছে এবং তা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এটি মূলত বিমান ও এয়ারবাসের মধ্যকার বাণিজ্যিক লেনদেন; বাংলাদেশ ও ফ্রান্স সরকারের মধ্যকার কোনো উড়োজাহাজ ক্রয়চুক্তি নয়। তিনি ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও বলেন। বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। নতুন ১১টি বোয়িং ও ১০টি এয়ারবাস কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এবং আগে অর্ডার করা ১৪টি বোয়িং যুক্ত হলে ভবিষ্যতে বহরের আকার ৫৪টিতে পৌঁছাতে পারে। তবে উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ বিভিন্ন সময়ে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিমান কর্তৃপক্ষের সামনে একই সঙ্গে বহর ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে মিশ্র বহর পরিচালনা করলে পাইলট প্রশিক্ষণ, প্রকৌশলী, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে বিমান বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে একাধিক নির্মাতার উড়োজাহাজ থাকলে একক সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরশীলতা কমার সম্ভাবনার কথাও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার পর তার তীব্র জবাব দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের পর নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে তার মন্তব্যকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ম্যাক্রোঁ গাজার মানবিক পরিস্থিতির পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে প্রতিদিনই লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে এবং এই পরিস্থিতি ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তির সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলছে। ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের একটি অংশ নিয়েই মূলত ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তার ফরাসি ভাষণের ইংরেজি ব্যাখ্যায় বলা হয়, পশ্চিম তীরে হামাস কখনো সক্রিয় ছিল না। তবে ফরাসি এক কূটনৈতিক সূত্র পরে জানিয়েছে, ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের অর্থ ছিল হামাস পশ্চিম তীর শাসন করেনি, সেখানে সংগঠনটির কোনো প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ছিল না। জাতিসংঘ এখনো ওই বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক অনুবাদ প্রকাশ করেনি। নেতানিয়াহুর কার্যালয় ম্যাক্রোঁর মন্তব্যকে ‘চরম অসঙ্গত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, হামাসের সদস্যরা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে এবং বহু ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিবৃতিতে সাম্প্রতিক একটি হামলার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়, যেখানে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী এক ফরাসি নাগরিকও নিহত হন। রোববার পশ্চিম তীরে একটি হামলায় ইসরায়েলি নাগরিক নেতানেল শুকরুন নিহত হন বলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, তিনি ফরাসি নাগরিকও ছিলেন এবং ছয় সন্তানের বাবা ছিলেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলায় জড়িত সন্দেহে এক ফিলিস্তিনিকে রামাল্লার একটি হাসপাতালে আটক করা হয়েছে। হামলার পর ওই সন্দেহভাজনের গ্রামেও অভিযান চালানো হয়। তবে পশ্চিম তীরে সহিংসতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার অভিযোগ। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ও তাদের সম্পত্তিকে লক্ষ্য করে বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয়টি সহিংস ঘটনা ঘটছিল। ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। ফ্রান্সও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে। ৮ সেপ্টেম্বর ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও কানাডার যৌথ বিবৃতিতে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাকে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ওই বিবৃতিতে বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা এবং বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়। এর আগে মে মাসেও ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধ, এ ধরনের ঘটনার জবাবদিহি নিশ্চিত এবং বসতি সম্প্রসারণের নীতি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। ফ্রান্স একই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তা এবং একটি ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পাশাপাশি অবস্থানের পক্ষে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। নেতানিয়াহু ও ম্যাক্রোঁর মধ্যে এই নতুন বাকযুদ্ধ এমন সময়ে সামনে এলো, যখন গাজা যুদ্ধ, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিয়ে ইসরায়েল ও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ছে। ফ্রান্স ২০২৫ সালে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যুতে প্রকাশ্য মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়েছে। ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও পশ্চিম তীরের সহিংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ নতুন নয়। একদিকে ইসরায়েল পশ্চিম তীরে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার বিষয়টি সামনে আনছে, অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে ইউরোপীয় দেশ ও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষ উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। এই দ্বিমুখী উত্তেজনাই পশ্চিম তীরে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলছে।
ককটেল কিংবা সহিংসতার ভয় দেখিয়ে যুবদলকে দমিয়ে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা হলে তা রাজপথে মোকাবিলার কথাও বলেছেন তিনি। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে নয়ন এসব কথা বলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর)। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ‘নৈরাজ্যের’ অভিযোগ তুলে এ কর্মসূচির আয়োজন করে যুবদল। এখানে ‘নৈরাজ্য’ শব্দটি আয়োজক ও বক্তাদের রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ককটেল নিক্ষেপসংক্রান্ত বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নয়ন বলেন, “ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলকে ককটেলের ভয় দেখাবেন না।” এরপর তিনি দাবি করেন, সংগঠনটির নেতাকর্মীরা অতীতে কামান, চায়না রাইফেল ও একে-৪৭ রাইফেলের গুলির মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। বক্তব্যে অতীতের রাজনৈতিক সংঘাতের প্রসঙ্গও টেনে আনেন নয়ন। তাঁর দাবি, একসময় পল্টন ময়দানে পুলিশ বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে দীর্ঘ সময় গুলি চালিয়েছিল। একপর্যায়ে পুলিশের গুলি শেষ হয়ে গেলে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা পুলিশ সদস্যদের ব্যারাকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন। নয়নের এই বর্ণনার স্বাধীন যাচাই সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশে নয়ন আরও কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন। যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি যুবদলের নেতাকর্মীরা বাঁশের লাঠি হাতে নিলে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করার কথা বলেন। একই বক্তব্যে যুবদলের দিকে ‘চোখ তুলে তাকালে’ সহিংস পরিণতির হুমকিও দেন তিনি। অন্যদিকে ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়ন দাবি করেন যুবদল শৃঙ্খলা বজায় রেখে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন এবং নেতাকর্মীদের রাজপথে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। নয়নের বক্তব্যের সময় সমাবেশে উপস্থিত যুবদল নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায় বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তাঁর বক্তব্যটি ২২ সেপ্টেম্বর রাতে এবং ২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসে। এদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও সামনে এসেছে। ইত্তেফাকের রাজনীতি পাতায় এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পাটওয়ারীর বক্তব্য খণ্ডিত ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। ফলে ককটেল প্রসঙ্গে নয়নের বক্তব্যটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এসেছে।