- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে একটি অভিজাত ইয়ট ক্লাবে 'ত্রিভুজ প্রেমের' জেরে এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে ভিক্টর প্যানেবিয়াঙ্কো (৩২) নামের এক যুবককে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ফার্স্ট-ডিগ্রি ম্যানস্লটার বা হত্যার দায়ে তাকে এই সর্বোচ্চ সাজা শোনানো হয়। গত ১০ নভেম্বর ক্রিস্টোফার মিলওয়াটার (৫২) নামের ওই ব্যক্তিকে স্টনি ব্রুক ইয়ট ক্লাবের পার্কিং লটে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছিল, যেখানে তিনি মাছ ধরতে যেতেন। প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, হত্যাকারী ভিক্টর এবং তার প্রেমিকা ক্যাসি কর্সো (৩৩) নর্থ ক্যারোলিনা থেকে গাড়ি চালিয়ে লং আইল্যান্ডে এসেছিলেন ক্রিস্টোফারকে হত্যা করার পূর্বপরিকল্পনা নিয়ে। উল্লেখ্য, ক্রিস্টোফার একসময় ক্যাসির প্রেমিক ছিলেন, কিন্তু তাদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ক্যাসি তার প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতে শুরু করেন। ঘটনার দিন ভোর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে ক্রিস্টোফার যখন ইয়ট ক্লাবে পৌঁছান, তখন আগে থেকেই পার্কিং লটে ওত পেতে ছিলেন ভিক্টর ও ক্যাসি। বিপদের আঁচ পেয়ে ক্রিস্টোফার নিজের গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ভিক্টর তার গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পথ আটকে দেন। এরপর ক্রিস্টোফার গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে ভিক্টর তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন এবং বুকে দুবার মারাত্মকভাবে ছুরিকাঘাত করেন। সিসিটিভি ফুটেজে এই রোমহর্ষক দৃশ্য ধরা পড়েছে, যেখানে মৃত্যুর ঠিক আগে ক্রিস্টোফারের শেষ কথা ছিল, "তুমি আমাকে ছুরি মারছ?" হত্যাকাণ্ডের পরপরই ভিক্টর এবং ক্যাসি গাড়ি চালিয়ে নর্থ ক্যারোলিনায় তাদের অ্যাপার্টমেন্টে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে স্টোকস কাউন্টির শেরিফ তাদের সেখান থেকে গ্রেপ্তার করেন। সাফোক কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি রে টিয়ার্নি এই রায়কে ন্যায়বিচারের জয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, তারা আশা করেন এই সর্বোচ্চ সাজার মাধ্যমে নিহতের পরিবার কিছুটা হলেও সান্ত্বনা পাবে। অন্যদিকে, নিহতের সাবেক প্রেমিকা ও এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম ইন্ধনদাতা ক্যাসি কর্সোও দোষ স্বীকার করেছেন এবং তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগে ক্রিস্টোফার তার ফেসবুক পেজে নিজের অতীত ও জীবন নিয়ে বেশ কিছু রহস্যময় পোস্ট করেছিলেন। একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, "আমি মারা গেলে বিশ্রামের জন্য প্রচুর সময় পাব, তাই এখন দ্রুত গোসল সেরে জিমে যাওয়ার সময়।" অন্য একটি পোস্টে তিনি তার অতীত নিয়ে মানুষকে গসিপ না করার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি সবকিছুর সাথেই আপস করে শান্তিতে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটি বাড়ির পেছনের উঠানে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ২০ বছর বয়সী এক তরুণ। সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টা ২৭ মিনিটে উত্তর ১৮তম সড়কের ২০০০ নম্বর এলাকার একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ফিলাডেলফিয়া পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ তরুণের চিবুক, বুক ও পায়ে গুলি লাগে। পুলিশ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে তাঁর অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, বাড়িটিতে তখন কোনো ধরনের পার্টি বা জমায়েত চলছিল। তবে সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল, কী নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল কিংবা কে গুলি চালিয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বার্তা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ তরুণ টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ নন। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে ঘটেছে এবং তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে ফিলাডেলফিয়া পুলিশ। পুলিশ এখন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং গুলি চালানো ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে কোনো সন্দেহভাজনের পরিচয় বা হামলার উদ্দেশ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ব্রিটেনের হাসপাতালগুলোতে তীব্র নার্স সংকটের কারণে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন রোগীরা। রয়্যাল কলেজ অব নার্সিং (আরসিএন)-এর ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডের হাসপাতালগুলোতে নিবন্ধিত নার্সের বিপুল ঘাটতি রোগীর নিরাপত্তার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ না পাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থাতেই রোগীদের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটছে। বর্তমানে ইংল্যান্ডে প্রায় ২৩ হাজার নার্সের পদ শূন্য রয়েছে। তবে অর্থের অভাবে বন্ধ থাকা বা নিয়োগের অনুমোদন না থাকা পদগুলো হিসাব করলে প্রকৃত ঘাটতির আকার আরও অনেক বড় বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। নার্স স্বল্পতার ভয়াবহতা বোঝাতে আরসিএন বিভিন্ন হাসপাতালের বোর্ড নথিতে থাকা নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করেছে। নথির তথ্যানুযায়ী, কর্মী সংকটের কারণে রোগীদের ব্যথার ওষুধ দিতে কয়েক ঘণ্টা দেরি হওয়া এবং প্রয়োজনীয় যত্ন বাদ পড়ার মতো ঘটনা বিভিন্ন হাসপাতাল ট্রাস্টে মাসে শত শতবার ঘটছে। উদাহরণস্বরূপ, পূর্ব ইংল্যান্ডের একটি হাসপাতালে রাতের পালায় পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় এক বয়স্ক রোগী বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের শিকার হন। প্রায় ১০ মিনিট ধরে তাকে সাহায্য করার মতো কেউ ছিলেন না এবং সাত দিন পর তার নিতম্বের হাড় ভাঙার বিষয়টিও ধরা পড়ে। ওই হাসপাতালের নার্সরা জানিয়েছেন, চরম কর্মী সংকটের কারণে প্রতিটি শিফটেই রোগীদের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসকদের তুলনায় নার্স নিয়োগের ধীরগতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আরসিএনের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সালের পর ইংল্যান্ডে চিকিৎসকের সংখ্যা ৬০ শতাংশ বাড়লেও, নার্সের সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ৩৩ শতাংশ। চিকিৎসকদের মতো একই হারে নার্স নিয়োগ দেওয়া হলে বর্তমানে অন্তত আরও ৭৭ হাজার নার্স বেশি থাকতেন। এছাড়া কাজের পরিমাণের ভিত্তিতে হিসাব করলে প্রায় ৫৫ হাজার অতিরিক্ত নার্সের প্রয়োজন ছিল। আরসিএনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিকোলা রেঞ্জার জানান, নার্স সংকটের কারণে রোগীর নিরাপত্তার ঘাটতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত নার্সের সংখ্যা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।
সানস্ক্রিন বা এসপিএফ ব্যবহার বন্ধ রাখলে কয়েক বছরের মধ্যে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে ত্বকে কী ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে, তা বোঝাতে একটি বিশেষ ভিজ্যুয়াল সিমুলেশন সামনে এসেছে। এতে একজন নারীর বর্তমান মুখের সঙ্গে পাঁচ বছর পরের সম্ভাব্য চেহারার তুলনা করা হয়েছে। সিমুলেশনে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ চেহারায় মুখে বেশি দাগ, অসম পিগমেন্টেশন, সূক্ষ্ম রেখা এবং ফটোএজিংয়ের বিভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়। তবে এটি ওই নারীর পাঁচ বছর পরের নিশ্চিত চেহারা নয়। ত্বকের বর্তমান অবস্থা এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের ভিত্তিতে তৈরি একটি সম্ভাব্য সিমুলেশন মাত্র। ত্বকের ওপর সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব সাধারণত একদিনে চোখে পড়ে না। নিয়মিত ইউভি এক্সপোজার সময়ের সঙ্গে ত্বকের কোষ ও কোলাজেনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে বয়সের আগেই বলিরেখা, ত্বকের রঙে অসমতা এবং বয়সের দাগের মতো পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, ইউভি রশ্মির প্রভাব শুধু সৌন্দর্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। দীর্ঘমেয়াদি ও অতিরিক্ত ইউভি এক্সপোজার ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায়। এ কারণেই ডার্মাটোলজি বিশেষজ্ঞরা সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষায় নিয়মিত সান প্রটেকশন ব্যবহারের পরামর্শ দেন। সানস্ক্রিন ব্যবহারের পাশাপাশি সরাসরি রোদে দীর্ঘ সময় না থাকা, ছায়ায় থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সান প্রটেক্টিভ পোশাক ব্যবহার করাও ত্বক সুরক্ষার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে বাইরে দীর্ঘ সময় কাটালে ত্বককে ইউভি রশ্মি থেকে সুরক্ষিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে পাঁচ বছরের এই সিমুলেশন দেখে সবার ত্বকে একই ধরনের পরিবর্তন হবে এমনটা বলা যায় না। বয়স, জেনেটিক বৈশিষ্ট্য, ত্বকের ধরন, সূর্যের সংস্পর্শের মাত্রা এবং ব্যক্তিগত ত্বকের যত্নসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ত্বকের পরিবর্তন নির্ভর করে। ছবিটির মূল উদ্দেশ্য তাই ভবিষ্যৎ চেহারা নির্দিষ্ট করে দেখানো নয়, বরং নিয়মিত সূর্যের সংস্পর্শে ত্বকে জমতে থাকা ক্ষতির বিষয়টি দৃশ্যমান করা। কারণ ইউভি রশ্মির ক্ষতি অনেক সময় বাইরে থেকে স্পষ্ট হওয়ার আগেই ত্বকের ভেতরে জমা হতে শুরু করতে পারে।
যুক্তরাজ্যের আদালতে বিচারককে আবেগপ্রবণ করে আসামির সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে এক ভুক্তভোগীর বিবৃতি তৈরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। মাইক্রোসফট কপাইলট ব্যবহার করে এক পুলিশ কর্মকর্তার তৈরি করা ওই বিবৃতির বিষয়টি সম্প্রতি ২৩ বছর বয়সী জেরোম গিবসন নামের এক আসামির সাজা কমানোর আপিল শুনানিতে সামনে আসে। ২০২৪ সালের মে মাসে গিবসন তার সঙ্গীর বাড়ির দরজা ভেঙে প্রবেশ করে ছুরি নিয়ে হুমকি দেওয়া এবং পালানোর সময় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ধাক্কা দিয়ে গুরুতর জখম করার দায় স্বীকার করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে নটিংহ্যাম ক্রাউন কোর্ট তাকে ৪৪ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল, যার বিরুদ্ধে তিনি লন্ডনের কোর্ট অব আপিলে আবেদন করেন। মঙ্গলবারের আপিল শুনানিতে গিবসনের আইনজীবী লাকি থান্ডি আদালতকে জানান, মামলার নথিতে ভুক্তভোগীর যে ব্যক্তিগত বিবৃতিটি উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা মূলত মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা মাইক্রোসফট কপাইলট ব্যবহার করে তৈরি করেছেন। থান্ডির দাবি অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা কপাইলটে এমনভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে বিবৃতিটি পড়ে বিচারক বা পাঠক আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং অপরাধের সর্বোচ্চ মাত্রার ক্যাটাগরির সঙ্গে যেন সাজাটি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এর জবাবে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের পক্ষে ডেনিস ব্যারি জানান, ফৌজদারি মামলায় অতিরঞ্জিত ভাষার চেয়ে বাস্তব তথ্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং বিচারকের এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে ওই কর্মকর্তার এমন বিতর্কিত ভূমিকার কারণে ইতোমধ্যে তাকে সম্মুখভাগের দায়িত্ব বা ফ্রন্টলাইন ডিউটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোর্ট অব আপিলের তিন সদস্যের বিচারকের বেঞ্চ আইনি প্রক্রিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার এমন এআই ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করলেও আসামির সাজা কমানোর আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, এআই ব্যবহার করে আইনি বিবৃতি তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়; তবে আগের বিচারক সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেসব তথ্য আমলে নিয়েছিলেন সেগুলো কোনো কাল্পনিক বিষয় ছিল না, বরং ভুক্তভোগীর বাস্তব সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতেই সাজানো হয়েছিল। বিচারকদের মতে, এআই ব্যবহারের কারণে আসামির সাজা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই ৪৪ মাসের কারাদণ্ডকেই যৌক্তিক হিসেবে বিবেচনা করে তা বহাল রাখা হয়েছে। তবে অভিনব এই ঘটনাটি ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ায় এআই-এর অপব্যবহার এবং আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর পশ্চিমাঞ্চলে তদন্ত চালানোর সময় একটি কুকুরের হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এ সময় আক্রান্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালালে কুকুরটি মারা যায়। ঘটনাটি সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার কিছু আগে নর্থ ক্রিশ্চিয়ানা অ্যাভিনিউয়ের ৭০০ নম্বর এলাকায় ঘটে। শিকাগো পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা ওই এলাকায় একটি ঘটনার তদন্ত করছিলেন। এ সময় একটি কুকুর তাদের কাছে এসে এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা করে। আক্রান্ত কর্মকর্তা নিজের আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালালে কুকুরটির শরীরে গুলি লাগে এবং সেটি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। ঘটনায় মোট তিন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। তবে কারও আঘাতই প্রাণঘাতী নয়। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পুলিশ জানিয়েছে, তিনজনের অবস্থাই ভালো। পুলিশ সদস্যদের বাইরে আর কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর শহরের প্রাণী পরিচর্যা ও নিয়ন্ত্রণ বিভাগকে খবর দেওয়া হয়। কুকুরটি কোথা থেকে এসেছিল, এর মালিক কে কিংবা ঠিক কী পরিস্থিতিতে সেটি পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা করেছিল—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি নিয়ে শিকাগো পুলিশের সংশ্লিষ্ট এলাকার গোয়েন্দারা তদন্ত করছেন। এবিসি সেভেন শিকাগো ঘটনাস্থলকে পূর্ব গারফিল্ড পার্ক হিসেবে উল্লেখ করলেও এনবিসি শিকাগো, সিবিএস শিকাগো ও শিকাগো সান-টাইমস এটিকে হামবোল্ট পার্ক এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে সব প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল নর্থ ক্রিশ্চিয়ানা অ্যাভিনিউয়ের ৭০০ নম্বর এলাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে ১৯৯৪ সালে একটি ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় সাতজন ইরানি ও একজন লেবানিজ হিজবুল্লাহ নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছে দেশটির একটি আদালত। লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই সন্ত্রাসী হামলায় ৮৫ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন। সোমবার আর্জেন্টিনার বিচারমন্ত্রী জানিয়েছেন, দীর্ঘ তিন দশক পর এই অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে দেশটির বিচার ব্যবস্থায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। ফেডারেল বিচারক ড্যানিয়েল রাফেকাস তার রায়ে এই হামলাকে 'মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ' হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন, তৎকালীন ইরানি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে হিজবুল্লাহর মাধ্যমে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডটি চালানো হয়েছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সাবেক গোয়েন্দা মন্ত্রী আলি ফাল্লাহিজান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি আকবর ভেলায়াতি এবং হিজবুল্লাহর লেবানিজ অপারেটিভ সালমান রউফ সালমান। ইরান বরাবরই এই হামলায় নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে আসামিদের প্রত্যর্পণে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলের সরকারের আমলে পাস হওয়া নতুন একটি আইনি কাঠামোর অধীনে আসামিদের শারীরিক অনুপস্থিতিতেই এই ঐতিহাসিক বিচারকাজ পরিচালিত হবে। আদালত ইতোমধ্যে প্রত্যেক পলাতক আসামির ওপর ৫০০ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়া বিচারক ১৯৯২ সালে বুয়েনস আইরেসে ইসরায়েলি দূতাবাসে হওয়া অপর একটি প্রাণঘাতী হামলার সঙ্গেও এই ঘটনার যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে দুর্নীতির অভিযোগ, সরকারি গাফিলতি এবং ইরানের অসহযোগিতার কারণে এই মামলার বিচারকার্য বারবার থমকে ছিল। প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে আদালতের এই অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে একে 'রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে নৈতিকতার জয়' বলে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত অ্যাক্সেল ওয়াহনিশ একে দীর্ঘ নিষ্ক্রিয়তার পর 'ন্যায়বিচারের মুহূর্ত' হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, বিগত সরকারগুলো যেখানে সন্ত্রাসবাদ ঢাকতে ইরানের সঙ্গে আপস করেছিল, বর্তমান নেতৃত্ব সেখানে সন্ত্রাস ও ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার আগে চেরিল ম্যাসি নামের এক সাবেক সরকারি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে ডেরেক স্পেন্সার নামের এক বন্দুকধারী। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ৪৪ বছর বয়সী এই অপরাধী এমন এক রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে তিনবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েও জামিনে মুক্ত ছিল। এই ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়ার বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, স্পেন্সারকে গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রথমবার গ্রেপ্তার করা হয় গুরুতর ভাঙচুর, শেরিফ ডেপুটির ওপর মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে হামলা এবং গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়ার অভিযোগে। এর মাত্র ১১ দিন পর ১৪ সেপ্টেম্বর ফোলসম কাউন্টিতে চুরির অভিযোগে সে আবারও গ্রেপ্তার হয়। সবশেষ ১৬ সেপ্টেম্বর গাড়ি চুরির দায়ে তাকে তৃতীয়বারের মতো আটক করে পুলিশ। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ১১ ও ১৭ সেপ্টেম্বর বন্ডের বিনিময়ে এবং তৃতীয়বার বিচারকের নির্দেশে সে জামিন পেয়ে যায়। এর কিছুদিন পরই প্ল্যাসার কাউন্টিতে সাধারণ মানুষের দিকে অস্ত্র তাক করাসহ আরও বেশ কয়েকটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে পুলিশের হাত থেকে পালানোর সময় নিজের বাড়িতে থাকা ম্যাসিকে হত্যা করে সে। রোববারের এই ঘটনার পর স্পেন্সার পুলিশের একটি গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে পুলিশের একটি হেলিকপ্টার ও অন্যান্য ডেপুটির দিকে গুলি ছোড়ে। সোমবার ভোরে ইনফ্রারেড প্রযুক্তির সাহায্যে একটি হেলিকপ্টার তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে আবারও গুলি চালাতে শুরু করে এবং টানা দুই ঘণ্টার বন্দুকযুদ্ধের পর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় স্পেন্সার। পালানোর সময় সে ওই এলাকায় একাধিক অগ্নিকাণ্ডেরও সূত্রপাত করেছিল, যা পরে 'মিনারেল ফায়ার' নামে ১৮ একর এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। নিহত বৃদ্ধা চেরিল ম্যাসি ২০০৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্ল্যাসার কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসে অত্যন্ত সুনামের সাথে কর্মরত ছিলেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে ওই অফিস তাকে একজন মূল্যবান সহকর্মী ও পরিবারের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ম্যাসির নাতনি অ্যাডিসন অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, তার দাদি তাকে তিনবার গভীরভাবে জড়িয়ে ধরে বিশেষ কায়দায় ভালোবাসা প্রকাশ করতেন, যা তিনি আজীবন মনে রাখবেন। তবে এমন একজন ভয়ংকর ধারাবাহিক অপরাধী কেন জেলের বাইরে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাদের মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার শিথিল বিচার ব্যবস্থার কারণেই এই নিরপরাধ নারীকে বিনা কারণে অকালে প্রাণ হারাতে হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় একটি কর্নার স্টোরের ভেতরে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত হয়েছেন। সোমবার রাত আনুমানিক ৮টা ৪৬ মিনিটে সামারডেল এলাকার ৮৯৯ মার্সেলা স্ট্রিটে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হামলাকারী ওই তরুণকে রাস্তা থেকে ধাওয়া করে দোকানের ভেতরে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তাঁর মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৬টি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। গুলিতে আশপাশের দুটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুলি বাড়িগুলোর দ্বিতীয়তলার শোবার ঘরের জানালা ভেদ করলেও ভেতরে থাকা কেউ আহত হননি। ঘটনাস্থলের কাছে একটি চুরি যাওয়া ধূসর নিসান অলটিমা গাড়িও পাওয়া যায়। গাড়িটি একটি পার্ক করা গাড়িতে ধাক্কা দিয়েছিল এবং সেটির ইঞ্জিন চালু ও দরজা খোলা অবস্থায় ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং হত্যার উদ্দেশ্যও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। নিহত তরুণের পরিচয়ও তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে পেজেশকিয়ান ও তাঁর প্রতিনিধিদলের চলাচল কঠোরভাবে সীমিত রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের বিধিনিষেধ অনুযায়ী, তাদের চলাচল মূলত জাতিসংঘ সদরদপ্তর, নির্ধারিত কূটনৈতিক স্থাপনা, নির্দিষ্ট আবাসন এবং বিমানবন্দরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। ইরানি প্রেসিডেন্টকে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে এই চলাচল বিধিনিষেধও রাখা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতিসংঘের আয়োজনে অংশ নিতে বিদেশি নেতাদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কাজের বাইরে তাদের চলাচল সীমিত করার সুযোগও রয়েছে। এবার ইরানি প্রতিনিধিদল আগের বছরের তুলনায় ছোট রাখা হয়েছে। পেজেশকিয়ান ও তাঁর প্রতিনিধিদের নিউইয়র্কে অবাধে ঘোরাফেরা, বিভিন্ন স্থানে যাওয়া বা ব্যক্তিগতভাবে কেনাকাটার সুযোগ থাকছে না। বিশেষ করে বিলাসী পণ্য কেনার ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের নিউইয়র্কে চলাচলের ওপর এমন বিধিনিষেধ নতুন নয়। ২০২৪ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ইরানি প্রতিনিধিদলের চলাচল জাতিসংঘ সদরদপ্তর, নিউইয়র্কে ইরানের মিশন, ইরানি রাষ্ট্রদূতের বাসভবন এবং জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে সীমিত করা হয়েছিল। চলতি বছর পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাতের কারণে। এর মধ্যেই পেজেশকিয়ানের জাতিসংঘ সফরকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে এবং জাতিসংঘের অধিবেশনের সময় কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার জানিয়েছেন, জাতিসংঘের অধিবেশনের সময় ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ওয়াশিংটন উন্মুক্ত রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। রুবিও বলেছেন, এমন আলোচনা তখনই অর্থবহ হবে যখন তা বাস্তব কোনো ফলাফলের দিকে এগোতে পারে। পেজেশকিয়ান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইরানের অবস্থান তুলে ধরবেন। ইরানি প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে বলেছেন, আন্তর্জাতিক ফোরামে তাঁর দেশ নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরবে। একই সময়ে ইরানের প্রতিনিধিদল বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগও খুঁজছে। জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। ফলে কঠোর চলাচল বিধিনিষেধের মধ্যেও পেজেশকিয়ানের নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক নজর রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আকাশপথে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের পর নিউইয়র্ক এলাকার তিন প্রধান বিমানবন্দর—নিউয়ার্ক লিবার্টি, জন এফ কেনেডি (জেএফকে) ও লাগার্ডিয়ায় আবার ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। তবে মঙ্গলবারও কিছু ফ্লাইটে বিলম্ব ও বাতিলের প্রভাব রয়ে গেছে। সোমবার সমস্যার সূত্রপাত হয় ফিলাডেলফিয়ায় অবস্থিত ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) একটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল স্থাপনায়। সেখানে প্রধান যোগাযোগ লাইন বিকল হয়ে যায়। একই সময়ে ব্যাকআপ ফাইবার অপটিক লাইনও কেটে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। এতে নিয়ন্ত্রকেরা কয়েক ঘণ্টার জন্য প্রয়োজনীয় রাডার ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহারে সমস্যায় পড়েন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এপি জানিয়েছে, সেখানে সোমবার সকাল প্রায় ৯টা ৪০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বাণিজ্যিক বিমান চলাচল কার্যত বন্ধ ছিল। শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়। একই সমস্যার প্রভাব জেএফকে, লাগার্ডিয়া ও ফিলাডেলফিয়াসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য বিমানবন্দরেও ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানিয়েছেন, প্রধান যোগাযোগ লাইনে সমস্যা হওয়ার পাশাপাশি নিউ জার্সিতে নির্মাণকাজের সময় একটি ব্যাকআপ ফাইবার লাইন কেটে যায়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত করা হয় এবং সোমবার রাত থেকে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। এফএএর নথিতেও দেখা যাচ্ছে, জেএফকে, লাগার্ডিয়া ও নিউয়ার্কের জন্য চালু করা বিলম্ব নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পরে বাতিল করা হয়েছে। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। ফলে বিমান চলাচলের এই বিপর্যয় আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের যাতায়াতেও প্রভাব ফেলেছে।
নিউইয়র্ক সিটির ডেলিভারি কর্মীদের পেমেন্ট সংক্রান্ত তদন্ত নিষ্পত্তি করতে ১৩১.৫ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় রাজি হয়েছে ডোরড্যাশ। নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব কনজিউমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রোটেকশনের তদন্তে কর্মীদের পেমেন্ট কম দেওয়া বা দেরিতে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর এই সমঝোতা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সমঝোতার আওতায় ডোরড্যাশকে প্রায় ২৬৪ হাজার ডেলিভারি কর্মীর জন্য মোট প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৩ মিলিয়ন ডলার এমন একটি বিরোধ নিষ্পত্তিতে যাবে, যেখানে অ্যাপে লগইন থাকা অবস্থায় কর্মীদের সময়ের পারিশ্রমিক কীভাবে হিসাব করা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আরও প্রায় ১২.৩ মিলিয়ন ডলার কম বা দেরিতে দেওয়া পেমেন্টের বিষয়টি নিষ্পত্তিতে ব্যবহার হবে। এ ছাড়া ডোরড্যাশ নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব কনজিউমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রোটেকশনকে ১৬.৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দেবে। শহর কর্তৃপক্ষের তদন্তটি মূলত ২০২৩ সালে কার্যকর হওয়া ডেলিভারি কর্মীদের ন্যূনতম পেমেন্ট সংক্রান্ত আইনের সঙ্গে কোম্পানিটির কার্যক্রম কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, তা নিয়ে পরিচালিত হয়। নিউইয়র্ক সিটির তদন্তে প্রায় ২০৯ হাজার ডেলিভারি কর্মীর কম বা দেরিতে পেমেন্ট পাওয়ার বিষয়টি চিহ্নিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডোরড্যাশ অবশ্য জানিয়েছে, পেমেন্টের সমস্যাগুলো ইচ্ছাকৃত ছিল না। কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক সিটির জটিল পেমেন্ট নিয়ম বাস্তবায়নের সময় শহরের সীমানা পেরিয়ে ডেলিভারি, একাধিক অর্ডার একসঙ্গে সরবরাহ এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ভুল হয়েছে। নিউইয়র্কে ডেলিভারি কর্মীদের পেমেন্ট নিয়ে ডোরড্যাশসহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন আইনি ও নিয়ন্ত্রক বিরোধ হয়েছে। ২০২৫ সালে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গেও ডোরড্যাশ ১৬.৭৫ মিলিয়ন ডলারের একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল। সেই মামলায় ডেলিভারি কর্মীদের টিপস সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়টি ছিল। নতুন সমঝোতার অংশ হিসেবে ডোরড্যাশকে নিয়ম মেনে চলার জন্য অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করতে হবে। কোম্পানিটি একটি কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা নিয়োগ এবং নিয়মিত অভ্যন্তরীণ রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা জানিয়েছে। নিউইয়র্কে ডেলিভারি কর্মীদের জন্য ২০২৩ সালের ন্যূনতম পেমেন্ট আইন চালুর পর অ্যাপভিত্তিক ডেলিভারি কাজের পারিশ্রমিক নিয়ে নিয়ম আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন সমঝোতার ফলে তদন্তে উঠে আসা পেমেন্ট সংক্রান্ত বিরোধের একটি বড় অংশ নিষ্পত্তির পথে যাচ্ছে। ডোরড্যাশ জানিয়েছে, সমঝোতার পুরো অর্থের জন্য তারা আগেই আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ করেছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন যুক্তরাষ্ট্র। আজ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে রয়েছে একের পর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিপক্ষীয় ও দলীয় বৈঠক মিলিয়ে অন্তত ১১ জন বিশ্বনেতার সঙ্গে তাঁর আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে। ট্রাম্পের কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সম্ভাব্য উত্তেজনা প্রশমনের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। জেলেনস্কি ইতোমধ্যে শান্তি প্রক্রিয়াকে তাঁর সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গেও ট্রাম্পের বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে এটি বার্নহামের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বিষয় নিউইয়র্কে বার্নহামের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গেও ট্রাম্প বৈঠক করবেন। যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীর্ষ বৈঠকের আগে এই আলোচনা হচ্ছে। জাপান টাইমস জানিয়েছে, চীন নিয়ে টোকিওর অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-জাপান জোটের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করতে পারেন তাকাইচি। তবে নিউইয়র্কের কূটনীতিতে সবচেয়ে বড় আলোচনার একটি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গেও ট্রাম্পের বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন বলে প্রকাশিত সূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহও বড় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। এপি জানিয়েছে, জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে কূটনীতিকেরা হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সংকটে অচলাবস্থা কাটানোর সুযোগ খুঁজছেন। জাতিসংঘের এই সপ্তাহে কূটনৈতিক ব্যস্ততার মাত্রাও ব্যাপক। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিকের বরাত দিয়ে দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, সদস্যদেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রায় এক হাজার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের অনুরোধ এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকট সমাধানের প্রচেষ্টা এসব বৈঠকের বড় অংশজুড়ে থাকবে। ফলে এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন শুধু বিশ্বনেতাদের আনুষ্ঠানিক ভাষণের মঞ্চ নয়; ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—একাধিক বড় আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পর্দার আড়ালের কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে নিউইয়র্ক।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নিয়েছেন। স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় জাতিসংঘ সদরদপ্তরের নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জে বিশ্বনেতা ও তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে এই আয়োজন করা হয়। ডিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রাতরাশের শুরুতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা তাদের জীবনসঙ্গীদের নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় তারা জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও তার স্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ফটোসেশনে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। প্রাতরাশ শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন। চলতি অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। জাতিসংঘে এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সফর এবং সাধারণ পরিষদে তার প্রথম ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে ২৪ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তার বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। সফরসূচি অনুযায়ী, জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎ করবেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এবারের জাতিসংঘ সফর দেশের নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রথম বড় কূটনৈতিক কর্মসূচিগুলোর একটি। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারের অবস্থান ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন।
শুরু হয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। বিশ্বের প্রায় ১৩০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণের এই আয়োজনে আজকের সবচেয়ে আলোচিত বক্তাদের একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবারের সাধারণ বিতর্কের প্রতিপাদ্য—“আস্থা পুনরুদ্ধার, পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ।” ট্রাম্প এমন এক সময়ে জাতিসংঘের মঞ্চে উঠছেন, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ প্রায় সাত মাসে গড়িয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে এবং জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা বজায় রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প প্রশাসন। অন্যদিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরোধিতা করছে। গত বছরের জাতিসংঘ ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। এবার তাঁর ভাষণের সময় পরিস্থিতি আরও জটিল—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি যুদ্ধে জড়িত এবং সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট সমাধান এখনও সামনে আসেনি। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি বাজারও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধের কারণে তেলের বাজারে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ও তেল সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে নিউইয়র্কে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা শুধু যুদ্ধ থামানোর প্রশ্নেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের আজকের কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা। বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পথ এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এসব আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে এপি। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। তবে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন। পেজেশকিয়ানের বক্তব্য অনুযায়ী, আগের আলোচনার অভিজ্ঞতার কারণে তেহরানে নতুন সংলাপ নিয়ে অবিশ্বাস রয়েছে। ফলে একই সময়ে নিউইয়র্কে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি থাকলেও সরাসরি আলোচনায় বড় অগ্রগতি হবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত। শুধু ইরান নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশও এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এপি জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সামাজিক প্রভাব এবং এর জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার অভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শাসনব্যবস্থা, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং জলবায়ুসহ একাধিক বৈশ্বিক বিষয় আলোচনায় রাখা হয়েছে। জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়েও ট্রাম্পের অবস্থান বিশেষভাবে নজরে থাকবে। তাঁর প্রশাসন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা কমিয়েছে এবং ট্রাম্প অতীতে সংস্থাটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, বিশ্বব্যবস্থায় ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তিত হচ্ছে এবং সেই পরিবর্তনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বদলাতে হবে। ভাষণের পাশাপাশি ট্রাম্পের ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচিও রয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য উদ্ধৃত করে এপি জানিয়েছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁর আলোচনার কথা রয়েছে। ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও নিউইয়র্কের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাবে। এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেন সংঘাত, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার এবং জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ ভূমিকা—সবগুলো বিষয় একই সঙ্গে বিশ্বনেতাদের সামনে রয়েছে। জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক সূচি অনুযায়ী সাধারণ বিতর্ক চলবে ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও রেসিংয়ের অভিযোগে এক ডেলিভারি চালককে হেফাজতে নেওয়ার পর তার গাড়িতে থাকা গ্রাহকের পিৎজার অর্ডারটি নিজেরাই পৌঁছে দিলেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টেম্পি শহরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ঘটে এই অদ্ভুত ঘটনা। বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও রেসিংয়ের অভিযোগে ট্রাফিক স্টপের সময় এক গ্রাবহাব ডেলিভারি চালককে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তবে চালককে নিয়ে যাওয়ার সময় তার গাড়িতে একজন গ্রাহকের পিৎজার অর্ডার পড়ে ছিল। চালককে হেফাজতে নেওয়ার পর পিৎজাটি কীভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছাবে, তা নিয়ে ভাবেন পুলিশ কর্মকর্তারা। শেষ পর্যন্ত তারা নিজেরাই অর্ডারটি পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর দুই কর্মকর্তা পিৎজার বাক্স হাতে ওই নারীর বাড়ির দরজায় গিয়ে হাজির হন। দরজা খুলে সামনে পুলিশ কর্মকর্তাদের দেখে বিস্মিত হয়ে যান গ্রাহক। তখন এক কর্মকর্তা তাকে জানান, তার গ্রাবহাব ডেলিভারি চালককে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে, তাই তারা পিৎজাটি পৌঁছে দিতে এসেছেন। পাশে থাকা আরেক কর্মকর্তা মজা করে বলেন, পিৎজাটি এখনো গরম থাকার কথা। অপ্রত্যাশিত এই ডেলিভারিতে অবাক হলেও পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান ওই নারী। পরে টেম্পি পুলিশ বিভাগের প্রকাশ করা বডিক্যাম ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে পুলিশের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ঘটনাটি দেখা যায়। ঘটনাটি নিয়ে টেম্পি পুলিশও রসিকতা করে জানায়, ডেলিভারি চালককে হেফাজতে নেওয়া হলেও পিৎজার ডেলিভারি শেষ পর্যন্ত ঠিকই সম্পন্ন হয়েছে। ফলে একটি সাধারণ ট্রাফিক স্টপই পরিণত হয় অস্বাভাবিক এক পিৎজা ডেলিভারির ঘটনায়।
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে স্ত্রী রেহানা পারভিনের মৃ ত্যুর তদন্ত প্রভাবিত করে বাংলাদেশি পুলিশের নথি থেকে নিজের নাম সরানোর চেষ্টা এবং এ জন্য ঘুষ দেওয়ার অ ভি যোগে ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রে প্তার করেছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ। অস্ট্রেলিয়ার এবিসি নিউজ জানিয়েছে, অ ভি যুক্ত ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক রেহানা পারভিনের বিচ্ছিন্ন স্বামী আওলাদ হোসাইন। তার বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অ ভি যোগ আনা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের অ ভি যোগ, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় দুই বছর ধরে আওলাদ হোসাইন বাংলাদেশে পরিচিত কয়েকজনের কাছে মোট ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলারের বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। পুলিশের দাবি, ওই অর্থ ব্যবহার করে বাংলাদেশের তদন্তকে প্রভাবিত করা এবং রেহানা পারভিনের মৃ ত্যুর ঘটনায় পুলিশি নথি থেকে তার নাম সরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ঘুষ দেওয়ার এই চেষ্টা সফল হয়েছিল—এমন কোনো প্রমাণ তদন্তকারীরা পাননি। রেহানা পারভিন ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এবং পাঁচ সন্তানের মা। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে যাওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন বাংলাদেশ পুলিশ তার মৃ ত দে হ উদ্ধারের কথা অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষকে জানায়। ফরেনসিক পরীক্ষার পর বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তার মৃ ত্যুকে সন্দেহজনক বলে জানায়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশ এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ পৃথকভাবে তদন্ত করছে। অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ জানিয়েছে, রেহানার দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে তার নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর ২০২৪ সালেই তারা তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে সিডনি ও ব্রিসবেনের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেন ও ব্যাংকিং সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করা হয়। পরে কুইন্সল্যান্ডের গুডনা ও রেডব্যাংক প্লেইনস এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। রেহানা পারভিনের মৃ ত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশের পুলিশ আওলাদ হোসাইনের বিরুদ্ধে গ্রে প্তারি পরোয়ানা জারি করেছে বলে অস্ট্রেলিয়ার এবিসি জানিয়েছে। তবে তার মৃ ত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ বা অস্ট্রেলিয়ায় এখনো তার বিরুদ্ধে হ ত্যার অ ভি যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন হয়নি। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় তার বিরুদ্ধে যে অ ভি যোগ আনা হয়েছে, সেটি বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অ ভি যোগ। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের অ ভি যোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার একটি অ ভি যোগ আনা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার আইনে এই অ প রা ধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ব্যক্তিগত সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অ ভি যোগে অস্ট্রেলিয়ায় আদালতে আনা এটি এএফপির প্রথম মা ম লা বলে পুলিশ জানিয়েছে। এএফপির কমান্ডার স্টিফেন জে বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া বা অন্য কোনো দেশে তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা গুরুতর ফৌজদারি অ প রা ধ। তিনি জানান, রেহানা পারভিনের মৃ ত্যুর তদন্তে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশের তদন্তই এখনো চলমান এবং রেহানার পরিবারের সদস্যরা তার মৃ ত্যুর বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৭ সালের র্যাংকিং প্রকাশ করেছে ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট। এবারের তালিকায় বড় পরিবর্তন এসেছে শীর্ষস্থান নিয়ে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রথম অবস্থানে থাকা প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়কে সরিয়ে ১ নম্বরে উঠে এসেছে এমআইটি। প্রিন্সটন এবার দ্বিতীয় এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ন্যাশনাল লিবারেল আর্টস কলেজগুলোর মধ্যে আবারও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে উইলিয়ামস কলেজ। ২০২৭ সালের এই র্যাংকিংয়ের ৪২তম সংস্করণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ হাজার ৭০০ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়ন করা হয়েছে। শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সাফল্য বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ ১৭টি সূচকের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। র্যাংকিং তৈরিতে শিক্ষার্থীদের স্নাতক হওয়ার হার, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার হার, নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং পড়াশোনা শেষে আয়সহ বিভিন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একাডেমিক পর্যায়ে সহকর্মীদের মূল্যায়ন এবং শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা ও অন্যান্য সম্পদও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ইউএস নিউজ জানিয়েছে, প্রতিটি ক্যাটাগরির শীর্ষ ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের পৃথক অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অবস্থানের পরিবর্তে র্যাংকের একটি পরিসীমা দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু র্যাংকিং দেখে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় বেছে না নিয়ে শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোকে অবস্থান, মোট খরচ, আর্থিক সহায়তা, ক্যাম্পাস জীবন এবং পছন্দের একাডেমিক প্রোগ্রামের মতো বিষয়ও বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কলেজের খরচ ও শিক্ষাঋণের চাপ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার খরচের পাশাপাশি শিক্ষাঋণও বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত খেলাপি শিক্ষাঋণগ্রহীতার সংখ্যা ৪২ লাখের বেশি বেড়েছে। মহামারির সময় স্থগিত থাকা ঋণের কিস্তি ২০২৪ সালে আবার চালু হওয়ার পর অনেক ঋণগ্রহীতা আর নিয়মিত পরিশোধ করতে পারেননি। এদিকে আরও কয়েক লাখ ঋণগ্রহীতা কয়েক মাস ধরে কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে রয়েছেন। সরকারের তুলনামূলক কম খরচের আয়ভিত্তিক ঋণ পরিশোধ ব্যবস্থা ‘সেভ প্ল্যান’ বাতিলের প্রক্রিয়ায় থাকায় অনেকের মাসিক কিস্তিও বাড়তে পারে। ঋণের কিস্তি টানা নয় মাস পরিশোধ না করলে একজন ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। খেলাপি শিক্ষাঋণের কারণে ঋণগ্রহীতার ক্রেডিট স্কোর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ঋণ আদায়ের জন্য তা কালেকশন সংস্থার কাছে পাঠানো হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকার খেলাপি ঋণগ্রহীতার বেতন ও সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট থেকেও অর্থ কেটে নিতে পারে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়ার সময় শুধু র্যাংকিং নয়, শিক্ষার মোট খরচ ও ভবিষ্যতের ঋণের বোঝাও বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতারা। ইরান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল, জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও ইয়েমেনের পরিস্থিতি বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসির ছয় দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমান—এই ছয় দেশ জিসিসির সদস্য। বৈঠকটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর। এসব দেশের অর্থনীতির বড় অংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন এসব দেশ, কারণ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে এই জলপথের ভূমিকা রয়েছে। বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোর একটি অভিন্ন উদ্বেগ হতে পারে—ইরানের সঙ্গে সংঘাত যেন আরও বড় আকার না নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে বড় ধরনের মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হলে এর প্রভাব সরাসরি উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে পড়তে পারে। তাই তারা উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার বিষয়ে ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচলও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং অবরোধ তুলে নিলে তারা এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুত। তবে ছয়টি দেশের স্বার্থ পুরোপুরি এক নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত পাইপলাইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে কিছু তেল রপ্তানি করতে পারলেও কাতারের গ্যাস রপ্তানি এই জলপথের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। ফলে সংঘাত আবার বাড়লে কাতারের জ্বালানি অবকাঠামো ও রপ্তানির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সৌদি আরবের জন্য ইয়েমেনের হুতিদের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির সঙ্গে হুতিদের দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ফলে সৌদি আরব চাইতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের হুতিদের হামলা মোকাবিলায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিক। অন্যদিকে ট্রাম্পের জন্যও বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইরান নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম নিয়েও চাপ রয়েছে। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে তেলের সরবরাহ ও দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে—যা মার্কিন অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক বড় কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট নয়। তবে আলোচনার মাধ্যমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরু করার পথ তৈরি হতে পারে। কাতার বা পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে আলোচনার উদ্যোগও সামনে আসতে পারে। সব মিলিয়ে নিউইয়র্কের এই বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান উদ্বেগ—যুদ্ধ যেন আরও না বাড়ে, হরমুজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং তাদের জ্বালানি অবকাঠামো নিরাপদ থাকে। আর ট্রাম্পের জন্য বড় প্রশ্ন হলো, ইরান ইস্যুতে সামরিক চাপ বাড়াবেন, নাকি আবারও কূটনীতির পথে ফিরবেন। বৈঠকে দুই পক্ষের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীদের মাসিক পেমেন্ট ২০২৭ সালে ২০২৬ সালের তুলনায় কিছুটা বেশি বাড়তে পারে। আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর বিভিন্ন সংস্থার নতুন হিসাব অনুযায়ী, আগামী বছরের কস্ট অব লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট বা কোলা ৩.৪ থেকে ৩.৬ শতাংশের মধ্যে হতে পারে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নয়। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর অক্টোবর মাসে ২০২৭ সালের চূড়ান্ত কোলা ঘোষণা করা হবে। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটির কোলা ছিল ২.৮ শতাংশ। আইন অনুযায়ী, প্রতি বছর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে কোলা নির্ধারণ করা হয়। এ জন্য ব্যবহৃত হয় ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ফর আরবান ওয়েজ আর্নার্স অ্যান্ড ক্লেরিক্যাল ওয়ার্কার্স বা সিপিআই-ডব্লিউ। আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, এক বছর আগের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্য ৩.৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে কোলা নির্ধারণে ব্যবহৃত সিপিআই-ডব্লিউ বেড়েছে ৩.৫ শতাংশ। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সংস্থা ২০২৭ সালের কোলার নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে। কমিটি ফর আ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেট ৩.৪ শতাংশ বৃদ্ধির হিসাব দিয়েছে। এএআরপি তাদের সর্বশেষ পূর্বাভাসে ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। সিনিয়র সিটিজেনস লিগও ৩.৫ শতাংশ কোলা হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের হিসাবে, এই হারে বৃদ্ধি হলে গড়ে মাসিক সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট প্রায় ৬৭.৯০ ডলার বাড়তে পারে। গড় পেমেন্ট ১ হাজার ৯৪০.০৮ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৭.৯৮ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে এই হিসাব গড় সুবিধাভোগীর জন্য এবং প্রত্যেক ব্যক্তির প্রকৃত পেমেন্ট একই হারে বাড়বে এমন নয়। এএআরপির আর্থিক নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রিচ জনসন বলেছেন, অনেক বয়স্ক মানুষ তাদের আয়ের বড় অংশের জন্য সোশ্যাল সিকিউটির ওপর নির্ভর করেন। তাই কোলা কত হতে পারে, তার আগাম ধারণা তাদের আগামী বছরের বাজেট পরিকল্পনায় সহায়তা করতে পারে। তবে তিনি জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য এখনো বাকি থাকায় বর্তমান পূর্বাভাস চূড়ান্ত নয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, ২০২৭ সালের কোলা ২০২৬ সালের অক্টোবরে ঘোষণা করা হবে। সেপ্টেম্বরের সিপিআই তথ্য প্রকাশের পর ১৪ অক্টোবর চূড়ান্ত হিসাব নির্ধারণের কথা রয়েছে। ফলে এখন যে ৩.৪ থেকে ৩.৬ শতাংশের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত হার কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। তবে কোলা বাড়লেই যে বয়স্ক আমেরিকানদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা একই হারে বাড়বে, তা নিশ্চিত নয়। সিনিয়র সিটিজেনস লিগের নির্বাহী পরিচালক শ্যানন বেন্টন উল্লেখ করেছেন, বয়স্ক মানুষের খরচের ধরন কর্মজীবীদের তুলনায় আলাদা। বিশেষ করে হেলথ কেয়ারসহ বিভিন্ন খাতে তাদের ব্যয়ের চাপ সিপিআই-ডব্লিউ সূচকে পুরোপুরি প্রতিফলিত নাও হতে পারে।