- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বিতর্ক চলাকালে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা’কে স্মার্টফোনে ইনস্টাগ্রাম রিলস স্ক্রল করতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান যখন বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন ধারণ করা একটি ভিডিওতে আল-শারা’কে ফোনের স্ক্রিনে মনোযোগ দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে আল-শারা’কে মাথা নিচু করে ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়। স্ক্রিনে ইনস্টাগ্রামের স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও বা রিলসের মতো কনটেন্ট স্ক্রল করার দৃশ্যও দেখা গেছে। তবে ভিডিও দেখে তিনি ঠিক কী দেখছিলেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন বা সত্যিই রিলস শেয়ার করছিলেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে রিলস শেয়ারের কথা বলা হলেও, ভিডিওটি নিজে থেকে সেই তথ্য নিশ্চিত করে না। ঘটনাটি ঘটে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বিতর্কের প্রথম দিকের অধিবেশনে। নিউইয়র্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। এরদোয়ানের বক্তব্যে গাজা, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের মতো বিষয় উঠে আসে। সেই সময় আল-শারা’র ফোন ব্যবহারের দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আল-শারা’র জন্য এবারের জাতিসংঘ সফরও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে তিনি প্রথমবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন। এর আগে প্রায় ছয় দশক পর কোনো সিরীয় নেতা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতাদের সামনে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এবার তার অংশগ্রহণ সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আহমেদ আল-শারা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী বাহিনীর অভিযানে দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সিরিয়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। দেশটির নতুন নেতৃত্ব এরপর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন আরও একটি কারণে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অধিবেশনের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য হলো আস্থা পুনর্গঠন এবং পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এমন একটি জাতিসংঘ গড়ে তোলা, যা সবার জন্য কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। আল-শারা’র ফোন ব্যবহারের কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্য এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ ঘটনাটিকে সাধারণ ফোন ব্যবহারের মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিশ্বনেতাদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য চলাকালে তার এমন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে ভিডিওতে দেখা দৃশ্যের বাইরে তার উদ্দেশ্য বা মনোযোগের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
জাপানে কোনো পরিবারে উপযুক্ত পুরুষ উত্তরাধিকারী না থাকলে মেয়ের স্বামীকে আনুষ্ঠানিকভাবে দত্তক নিয়ে পরিবারের পদবি ও ব্যবসার দায়িত্ব দেওয়ার দীর্ঘদিনের একটি রীতি রয়েছে। ‘মুকোয়োশি’ নামে পরিচিত এই প্রথায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বিয়ের পর শুধু জামাই হিসেবে নয়, আইনগতভাবে শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্য ও উত্তরাধিকারী হিসেবেও যুক্ত হতে পারেন। বিশেষ করে পারিবারিক ব্যবসা ও পরিবারের নাম প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাখাই এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য। জাপানি সমাজে এই প্রথার শিকড় বহু পুরোনো। ঐতিহাসিকভাবে পরিবারের নেতৃত্ব ও সম্পদের উত্তরাধিকার অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ উত্তরসূরির মাধ্যমে চলত। কোনো পরিবারে ছেলে না থাকলে, কিংবা থাকা ছেলে পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনার জন্য উপযুক্ত না হলে, মেয়ের স্বামীকে দত্তক নেওয়া একটি কার্যকর উত্তরাধিকার ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। দত্তক নেওয়ার পর ওই ব্যক্তি পরিবারের পদবি গ্রহণ করেন এবং পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে মুকোয়োশি শুধু মেয়ের স্বামীকে দত্তক নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোনো পারিবারিক ব্যবসার জন্য উপযুক্ত উত্তরসূরি না থাকলে প্রতিষ্ঠানের ভেতরের দক্ষ কর্মীকেও দত্তক নিয়ে পরিবারের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে। অর্থাৎ রক্তের সম্পর্কের চেয়ে ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতাকেও উত্তরসূরি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে এই প্রথা। জাপানের পরিচিত কয়েকটি ব্যবসায়িক পরিবারের ইতিহাসেও দত্তক উত্তরসূরির নজির পাওয়া যায়। সুজুকির সাবেক চেয়ারম্যান ও দীর্ঘদিনের শীর্ষ নির্বাহী ওসামু সুজুকি জন্মসূত্রে সুজুকি পরিবারের সদস্য ছিলেন না; তিনি বিয়ের মাধ্যমে পরিবারে যুক্ত হয়ে দত্তক নেওয়া হয় এবং পরে প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন। কিক্কোমানের দীর্ঘ ব্যবসায়িক ইতিহাসেও উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় পরিবার ও ব্যবসার ধারাবাহিকতা রক্ষার বিভিন্ন কৌশলের নজির রয়েছে। সময়ের সঙ্গে এই প্রথাকে ঘিরে ম্যাচমেকিং বা মধ্যস্থতাকারী সেবারও বিকাশ ঘটেছে। ব্যবসার উত্তরসূরি প্রয়োজন এমন পরিবার এবং মুকোয়োশি হতে আগ্রহী পুরুষদের মধ্যে বিয়ে ও পারিবারিক সম্পর্ক তৈরিতে কিছু বিশেষায়িত সেবা কাজ করেছে। তবে এটি কোনো সাধারণ ‘ঘরজামাই আবেদন’ ব্যবস্থা নয়। পরিবার, বিয়ে, দত্তক এবং ব্যবসার উত্তরাধিকার সবকিছুই আলাদা সামাজিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। জাপানে প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক আইনগতভাবেও স্বীকৃত একটি ব্যবস্থা। দত্তক সম্পন্ন হলে ব্যক্তি দত্তক পরিবারের সঙ্গে আইনগত পারিবারিক সম্পর্ক তৈরি করতে পারেন এবং পরিবারের পদবি গ্রহণ করতে পারেন। মুকোয়োশির ক্ষেত্রে মেয়ের স্বামীকে তার বাবা-মা দত্তক নিলে তিনি পরিবারের আইনগত ছেলে হিসেবে যুক্ত হন। ফলে পারিবারিক সম্পদ ও ব্যবসার উত্তরাধিকার পরিকল্পনায় তার ভূমিকা তৈরি হতে পারে। তবে মুকোয়োশি হওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাপানি নাগরিকত্ব বা ইমিগ্রেশন সুবিধা পাওয়া নয়। বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে দত্তক, বিয়ে, বসবাসের স্ট্যাটাস ও নাগরিকত্ব আলাদা আইন ও প্রক্রিয়ার বিষয়। তাই জাপানি পরিবারে দত্তক নেওয়া এবং জাপানে বৈধভাবে বসবাস বা নাগরিকত্ব পাওয়াকে একই বিষয় হিসেবে দেখা ঠিক নয়। কম জন্মহার ও পারিবারিক ব্যবসার উত্তরাধিকার সংকটের মতো পরিবর্তনগুলো জাপানে এই ঐতিহ্যের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। রক্তের সম্পর্কের পরিবর্তে যোগ্য উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকায় মুকোয়োশি ব্যবস্থা শুধু একটি পারিবারিক রীতিই নয়, বহু ব্যবসায়িক পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি বিশেষ মডেল হিসেবেও আলোচিত হয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা যাচাই প্রক্রিয়ায় আরও তিনটি ভিসা শ্রেণি যুক্ত হচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে আই, টিএন ও টিডি ভিসার আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনলাইন উপস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা যাচাই আরও বিস্তৃত করার অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়মের আওতায় আই ভিসা হলো বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য, আর টিএন ভিসা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য। টিডি ভিসা মূলত টিএন ভিসাধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের মতো নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জন্য ব্যবহৃত হয়। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আই, টিএন ও টিডি ভিসার সব আবেদনকারীকে নিজেদের সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা সেটিংস ‘পাবলিক’ বা ‘ওপেন’ করতে হবে। এর মাধ্যমে ভিসা কর্মকর্তারা আবেদনকারীর অনলাইন উপস্থিতি পর্যালোচনা করতে পারবেন। এর আগে থেকেই বেশ কয়েকটি ভিসা শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য অনলাইন উপস্থিতি যাচাই চালু রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কূটনৈতিক ও সরকারি ভিসার কিছু শ্রেণি, এফ ও এম শিক্ষার্থী ভিসা, এইচ-১বি ও সংশ্লিষ্ট কিছু ভিসা, জে-১ ও জে-২ এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা, কে-১, কে-২ ও কে-৩ ভিসা, কিউ, আর-১ ও আর-২ এবং এস, টি ও ইউ শ্রেণির ভিসা। পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা যাচাইয়ের সময় আবেদনকারীর বিষয়ে যত ধরনের তথ্য পাওয়া যায়, তা বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে অযোগ্য হতে পারেন বা জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন—এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করা। দপ্তর আরও জানিয়েছে, প্রতিটি ভিসা আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আবেদনকারী যে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন, তার শর্ত মেনে চলার প্রকৃত ইচ্ছা রয়েছে কি না এবং তিনি ওই ভিসার যোগ্যতা যথাযথভাবে প্রমাণ করতে পারছেন কি না, সেটিও যাচাই করা হবে। ২০২৬ সালের মার্চেও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বেশ কয়েকটি নতুন ভিসা শ্রেণিতে অনলাইন উপস্থিতি যাচাই সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছিল। তখন সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গোপনীয়তা সেটিংস ‘পাবলিক’ বা ‘ওপেন’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ফ্লোরিডায় বাড়ির মালিকদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে অঙ্গরাজ্যের বিমা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ। চারটি বেসরকারি বিমা কোম্পানির বাড়ির বিমার হার কমানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পলিসি নবায়নের সময় ৬২ হাজারের বেশি বাড়ির মালিক কম হারে বিমার সুবিধা পেতে পারেন। ফ্লোরিডার বিমা কমিশনার মাইক ইয়াওরস্কি ওয়ান অ্যালায়েন্স নর্থ আমেরিকা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, সেফ হারবার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, ইউনিক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এবং ভির্ড ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির হার কমানোর আবেদন অনুমোদন করেছেন। এসব পরিবর্তন পলিসি নবায়নের সময় কার্যকর হবে। এর মধ্যে ওয়ান অ্যালায়েন্স নর্থ আমেরিকা ১০ দশমিক ৪ শতাংশ হার কমানোর আবেদন করেছিল, যা ১৭ হাজার ১৪৮টি পলিসিকে প্রভাবিত করবে। সেফ হারবারের ক্ষেত্রে ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমানোর অনুমোদন হয়েছে, যার আওতায় রয়েছে ১০ হাজার ৫০১টি পলিসি। ইউনিকের ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমানোর ফলে ৮ হাজার ২৬৬টি পলিসি এবং ভির্ডের ১০ দশমিক ৪ শতাংশ কমানোর ফলে ২৬ হাজার ৭৫১টি পলিসি প্রভাবিত হবে। তবে ঠিক কোন তারিখ থেকে প্রতিটি পলিসিধারকের বিলের নতুন হার দেখা যাবে, তা এখনো জানানো হয়নি। একইভাবে বছরের শেষ নাগাদ আরও কোনো বেসরকারি বিমা কোম্পানি তাদের হার কমানোর আবেদন করবে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। ফ্লোরিডায় গত কয়েক বছর ধরে বাড়ির বিমার হার নিয়ে বড় ধরনের চাপ ছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৪৮টি বিমা কোম্পানি হার কমানোর আবেদন করেছে। একই সময়ে ৫৩টি কোম্পানি কোনো হার না বাড়ানোর আবেদন করেছে। বর্তমানে রাজ্যের পর্যালোচনায় থাকা হার কমানোর আবেদনগুলোর পরিমাণ শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত। বাড়ির বিমার জন্য গত ৩০ দিনের গড় প্রস্তাবিত হার দাঁড়িয়েছে মাইনাস ৪ দশমিক ৮ শতাংশে। এক বছর আগে এই হার ছিল মাইনাস ১ দশমিক ১ শতাংশ এবং পাঁচ বছর আগে ছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ। এদিকে কিছু এলাকায় আরও বড় ধরনের ছাড়ের খবর পাওয়া গেছে। কিন ইন্স্যুরেন্স ব্রোয়ার্ড, মিয়ামি-ডেড এবং পাম বিচ কাউন্টিতে বাড়ির বিমার কভারেজে গড়ে ২০ শতাংশের বেশি হার কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে গাড়ি ও বাড়ির বিমা একসঙ্গে নিলে অতিরিক্ত ছাড় এবং প্রবীণ গ্রাহকদের জন্যও সাশ্রয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফ্লোরিডায় বাড়ির বিমার হারে শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ কমতি ছিল, যা দেশটির মধ্যে সর্বনিম্ন হার পরিবর্তন। একই সময়ে জাতীয়ভাবে হিসাব করা গড় হার ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছিল। ফ্লোরিডার বিমা বাজারে সাম্প্রতিক এই হার কমানোর প্রবণতা তাই বাড়ির মালিকদের জন্য নতুন করে কিছুটা আর্থিক স্বস্তির সুযোগ তৈরি করছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক ঘিরে এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ। ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন শি জিনপিং। বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ান, ইরানসহ যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দুই নেতার আলোচনার কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানের সফর উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান, সামরিক প্রদর্শনী এবং বিশেষ উড়োজাহাজ মহড়া। ফলে দুই নেতার বৈঠক কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি নানা আনুষ্ঠানিক আয়োজনেরও কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে। এই সফরের আগে দুই নেতার বয়স ও শারীরিক সুস্থতাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ৭৩ বছর বয়সী শি জিনপিংকে ঘিরে সম্প্রতি স্বাস্থ্য নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ায়। ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের একটি নৈশভোজে তিনি উপস্থিত না থাকায় এবং পরে কয়েক দিন প্রকাশ্যে দেখা না যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়ে। তবে গুরুতর অসুস্থতার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও শি অসুস্থ হওয়ার দাবি নাকচ করে এসব পোস্টকে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর বলে সতর্ক করেছে। অন্যদিকে ৮০ বছর বয়সী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে জনসমক্ষে আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি ওয়াল্টার রিডে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পর ট্রাম্প নিজেকে ‘পুরোপুরি সুস্থ’ বলে দাবি করেছেন। তার বয়স নিয়ে যে ধরনের আলোচনা হচ্ছে, একই ধরনের যাচাই-বাছাই সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছিল। দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠক যতটা কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই সামনে আসছে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার প্রশ্ন। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা নেতারা যখন বয়সের শেষ প্রান্তে পৌঁছাচ্ছেন, তখন তারা ভবিষ্যতে কখন নেতৃত্ব থেকে সরে যাবেন এবং তাদের পরবর্তী নেতৃত্ব কেমন হবে—সেই প্রশ্নও সামনে আসছে। আর এখানেই বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। কারণ বিশ্বের কিছু ক্ষমতাধর নেতা দীর্ঘ সময় ক্ষমতার শীর্ষে থাকার পথ বেছে নিয়েছেন। ফলে তাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য নয়, নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ, ক্ষমতার হস্তান্তর এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নও আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী বিদেশি পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বা গ্রিন কার্ড পেতে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। কর্মসংস্থানভিত্তিক তৃতীয় পছন্দ বা ইবি-৩ ক্যাটাগরির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যোগ্য আবেদনকারীরা ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিয়ে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করতে পারেন। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীর প্রথমে সঠিকভাবে ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে হবে। তাকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিদর্শিত ও যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া, অথবা প্যারোল করা হয়ে থাকতে হবে। ফর্ম জমা দেওয়ার সময় তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে। এ ছাড়া আবেদনকারীকে অভিবাসী ভিসা পাওয়ার যোগ্য হতে হবে এবং ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার সময় ও ইউএসসিআইএসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময়—দুই সময়েই তার জন্য অভিবাসী ভিসা অবিলম্বে পাওয়ার মতো অবস্থায় থাকতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, যে নিয়োগকর্তা আবেদনকারীর জন্য ফর্ম আই-১৪০ জমা দিয়েছেন, তার দেওয়া চাকরির অফারটি তখনও বহাল থাকতে হবে এবং আই-৪৮৫ অনুমোদিত হলে আবেদনকারীকে সেই চাকরি গ্রহণের ইচ্ছা থাকতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য তাকে গ্রহণযোগ্য হতে হবে অথবা অগ্রহণযোগ্যতার কোনো শর্ত থাকলে সংশ্লিষ্ট ওয়েইভার বা আইনি সুবিধার জন্য যোগ্য হতে হবে। সবশেষে, ইউএসসিআইএসকে আবেদনকারীর পক্ষে গ্রিন কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক বিবেচনা করতে হবে। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত সব শর্ত পূরণ করলেও আবেদনটি অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। চাকরি পরিবর্তন করলে কী হবে? ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, আই-১৪০ অনুমোদনের পর চাকরি পরিবর্তন করলেই আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য হয়ে যান না। ফর্ম আই-৪৮৫ অন্তত ১৮০ দিন মুলতবি থাকার পর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে নতুন চাকরিতে যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। নতুন চাকরিটি আগের চাকরির মতো বা একই ধরনের পেশাগত শ্রেণিতে হতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে চাকরি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ইবি-৩সহ কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে চাকরির অফার ও সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্রের শর্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদনকারীদের ফর্ম আই-৪৮৫, আই-১৪০ এবং প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্টসহ সব নথি সঠিকভাবে জমা দেওয়া এবং নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।
নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে স্কুল এইড পদে নতুন নিয়োগ চলছে, আর কিছু পদের জন্য হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি বাধ্যতামূলক নয়। ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকার স্কুলে একাধিক পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল চাকরির তালিকায় ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন স্কুল এইড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে। সিএসবি নিউজের প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হলেও, নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি যাচাই করে দেখা গেছে, অন্তত কয়েকটি স্কুল এইড পদের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি প্রয়োজন নেই। উদাহরণ হিসেবে ইস্ট ব্রঙ্কস একাডেমি ফর দ্য ফিউচারের ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই যোগ্যতার কথা উল্লেখ রয়েছে। স্কুল এইডদের কাজ মূলত শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন স্কুল কার্যক্রমে সহায়তা করা। এর মধ্যে হলওয়ে, স্টাডি হল, লাঞ্চরুম ও স্কুলের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের তদারকি, স্কুলে আসা ও ছুটির সময় সহায়তা, স্কুলবাসে আসা শিক্ষার্থীদের দেখভাল এবং লাঞ্চ পরিবেশনে সহযোগিতা রয়েছে। পাশাপাশি পাঠ্যবই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ইনভেন্টরি সংরক্ষণ এবং কিছু সাধারণ দাপ্তরিক কাজও করতে হতে পারে। অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রার্থীর নিয়মিত উপস্থিতি ও সময়ানুবর্তিতার ভালো রেকর্ড থাকতে হবে। দীর্ঘ সময় হাঁটা বা দাঁড়িয়ে কাজ করার সক্ষমতা এবং সর্বোচ্চ ১০ পাউন্ড ওজনের জিনিস তোলার সামর্থ্যও প্রয়োজন হতে পারে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। শিক্ষার্থীদের ভাষাগত প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু স্কুলে দ্বিভাষিক প্রার্থীদেরও বিবেচনা করা হতে পারে। কাজের সময় স্কুলভেদে ভিন্ন হতে পারে। ইস্ট ব্রঙ্কস একাডেমির বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার থেকে শুক্রবার কাজের কথা বলা হয়েছে এবং প্রতিদিন ন্যূনতম চার ঘণ্টা কাজের সম্ভাবনা রয়েছে। বেতন নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট কালেকটিভ বার্গেনিং এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী। তবে পদগুলো চূড়ান্ত বাজেট অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্টিং ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট শেষ তারিখ না থাকলেও পদ পূরণ হয়ে গেলে আবেদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সক্রিয় আছে কি না যাচাই করা জরুরি। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের বর্তমান চাকরির তালিকাতেও ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাধিক স্কুল এইড পদ দেখা যাচ্ছে। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তালিকায় ব্রঙ্কস ও কুইন্সের বিভিন্ন স্কুলসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। একই তালিকায় স্কুল এইডকে আলাদা চাকরির ক্যাটাগরি হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এ ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যোগ্যতা ও আবেদন পদ্ধতি স্কুলভেদে যাচাই করা। ডিপ্লোমা বা জিইডি না থাকলেও কোনো কোনো স্কুল এইড পদে আবেদন করা সম্ভব হলেও, প্রতিটি বিজ্ঞপ্তির শর্ত একই নয়। তাই জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের সর্বশেষ অফিসিয়াল পোস্টিং দেখে যোগ্যতা, কর্মঘণ্টা, আবেদন পদ্ধতি এবং পদটি এখনও খালি আছে কি না নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ফিলিস্তিনি নারী বন্দি দানা জুদেহ ১৪ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের ডেমন কারাগারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। নাবলুস গভর্নরেটের ইরাক আল তাইয়েহ এলাকার ৩৫ বছর বয়সী এই নারীকে গর্ভবতী অবস্থায় আ টক করা হয়েছিল এবং পরে ছয় মাসের প্রশাসনিক আ টকাদেশে রাখা হয়। তার পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ডেমন কারাগারে দানা জুদেহ সন্তান জন্ম দেন। ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তাকে আ টকের সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাকে প্রশাসনিক আ টকাদেশের আওতায় রাখা হয়, যার মাধ্যমে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আ টক রাখা সম্ভব। জুদেহর প্রশাসনিক আ টকাদেশের মেয়াদ ছিল ছয় মাস। ফিলিস্তিনি কমিশন অব ডিটেনিজ অ্যান্ড এক্স-ডিটেনিজ অ্যাফেয়ার্স জানিয়েছে, তার আ টকাদেশ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এলেও সন্তান প্রসবের আগ পর্যন্ত তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। প্রসবের পর তাকে ও নবজাতককে চিকিৎসার জন্য রামাল্লার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। জুদেহর পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, গর্ভাবস্থায় তার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়নি। তারা তার গর্ভাবস্থায় আ টক রাখা এবং কারাগারের ভেতরে সন্তান প্রসবের পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও কারা প্রশাসনকে দায়ী করেছে। তাদের দাবি, এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি জুনে জানিয়েছিল, ডেমন কারাগারে জুদেহসহ তিনজন গর্ভবতী ফিলিস্তিনি নারী আ টক ছিলেন। তখন সংগঠনটি বলেছিল, গর্ভবতী বন্দিদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, খাবার ও মানসিক সহায়তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। একই সময়ে সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছিল। প্রশাসনিক আ টক ফিলিস্তিনি বন্দিদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত ব্যবস্থা। এতে অভিযোগ বা পূর্ণাঙ্গ বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাউকে আ টক রাখা যায় এবং কিছু ক্ষেত্রে সেই আ টকাদেশ নবায়নও করা হয়। জুদেহর ঘটনাটি গর্ভবতী বন্দিদের চিকিৎসা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমন কারাগারে আ টক নারীদের মধ্যে মা ও গর্ভবতী নারীও রয়েছেন। বন্দিদের চিকিৎসা, খাবার, পরিবার-সাক্ষাৎ এবং কারাগারের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো নিয়মিত অভিযোগ করে আসছে। এসব অভিযোগের অনেকগুলোই ফিলিস্তিনি পক্ষের বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে; ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। দানা জুদেহর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায় পর্যন্ত তিনি আ টক ছিলেন এবং সন্তান জন্মের পর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার নবজাতক কন্যার জন্ম কারাগারের ভেতরে হওয়ায় বন্দি নারীদের জন্য গর্ভকালীন চিকিৎসা ও প্রসবকালীন নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও সামনে এসেছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন করে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী পথে এগিয়ে নিতে চায় ভারত। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থার মাধ্যমে সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে নয়াদিল্লি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ অবস্থানের কথা জানান। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে তিনি ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন। জয়সওয়াল বলেন, ভারতের লক্ষ্য বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচক ও গঠনমূলক দিকে এগিয়ে নেওয়া। অমীমাংসিত বা আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে—এমন দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো নিয়েও বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে কথা বলতে নয়াদিল্লি প্রস্তুত। এ বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর নিয়োগে ভারতের আনুষ্ঠানিক সম্মতি বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনা চলছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। তবে সফরের সময়সূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। বর্তমানে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরেও দুই দেশের সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের কোনো বৈঠক হবে কি না—এমন প্রশ্নে জয়সওয়াল জানান, এ বিষয়ে তাঁর কাছে তখন নিশ্চিত কোনো তথ্য ছিল না; নতুন কিছু হলে জানানো হবে। দুই দেশের প্রতিরক্ষা যোগাযোগও আলোচনায় এসেছে। ভারতের যোধপুরে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় ‘তরঙ্গ শক্তি’ বহুজাতিক বিমান মহড়ায় বাংলাদেশ অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এই অংশগ্রহণকে সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায় কি না—এমন প্রশ্নেও জয়সওয়াল ভারতের ‘ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী’ সম্পর্কের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে সাজানোর কথা বলা হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ১৩ সেপ্টেম্বর বলেছিলেন, ঢাকা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘রিসেট’ করে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে একটি কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় এবং মতপার্থক্যগুলো কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে। সাম্প্রতিক বক্তব্য ও কূটনৈতিক যোগাযোগে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় সংলাপের মাধ্যমে মোকাবিলা এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ দুই পক্ষের বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।
পরিবারের সম্পর্কের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন আত্মীয় যোগ্য হতে পারেন, তা স্পষ্ট করেছে দেশটির ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। ফ্যামিলি-স্পনসর্ড প্রেফারেন্স প্রোগ্রামের আওতায় মার্কিন নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের নির্দিষ্ট কিছু আত্মীয় গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এসব ক্যাটাগরিতে বার্ষিক ভিসা সংখ্যার সীমা রয়েছে। এই ব্যবস্থায় মোট পাঁচটি প্রধান ক্যাটাগরি রয়েছে—এফ১, এফ২এ, এফ২বি, এফ৩ এবং এফ৪। কোন ক্যাটাগরি প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করে আবেদনকারী ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা পরিবারের সদস্যের সম্পর্ক এবং স্পনসর মার্কিন নাগরিক নাকি গ্রিন কার্ডধারী, তার ওপর। এফ১: ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী অবিবাহিত ছেলে-মেয়েরা এই ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন, যদি তাদের স্পনসর মার্কিন নাগরিক হন। এফ২এ: যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এই ক্যাটাগরির জন্য বিবেচিত হন। এফ২বি: গ্রিন কার্ডধারীর ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী অবিবাহিত ছেলে-মেয়েরা এই ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। এফ৩: মার্কিন নাগরিকের বিবাহিত ছেলে-মেয়েরা এই ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারেন। তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতার অধীনে সন্তানরাও সংশ্লিষ্ট পারিবারিক ইমিগ্রেশন সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। এফ৪: অন্তত ২১ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিকের ভাই-বোন এই ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। যোগ্যতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভাই বা বোনের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের জন্যও ডেরিভেটিভ সুবিধা থাকতে পারে। তবে এসব ক্যাটাগরিতে পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরিতে অভিবাসী ভিসা নম্বর পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীর প্রেফারেন্স ক্যাটাগরি ও অগ্রাধিকার তারিখের ওপর ভিসা পাওয়ার সময় নির্ভর করে। ভিসা নম্বর পাওয়া গেলে যোগ্য আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিয়ে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের নিজেদের পারিবারিক সম্পর্ক অনুযায়ী সঠিক ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এফ১, এফ২এ, এফ২বি, এফ৩ ও এফ৪—প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য আলাদা যোগ্যতা ও ভিসা-সংক্রান্ত অপেক্ষার নিয়ম রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় আনতে আজ বুধবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে এই আয়োজন করছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এতে সহ-পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের অংশ হিসেবে আয়োজিত বৈঠকটি নিউইয়র্ক সময় সকাল ১১টা ১৫ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম ১১-তে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অনুষ্ঠানের শিরোনাম ‘The Rohingya Crisis: A Renewed Call for a Durable Solution from Protracted Displacement, with Justice and Accountability’। এতে সদস্যরাষ্ট্র, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংগঠন, মানবিক সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উচ্চপর্যায়ের আয়োজনে অংশ নেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এর আগে জানিয়েছেন, জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটের ব্যাপকতা, এর ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ এবং সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো আবারও বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থাপন করবে। উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে শুধু প্রত্যাবাসন নয়, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রকাশিত কনসেপ্ট নোট অনুযায়ী, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির পর সংকটটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল মানবিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। জাতিসংঘ সফরের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহর সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেছেন, সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই। বৈঠকে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসে। জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গেও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দীর্ঘদিনের এই সংকটের সমাধান এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফেরানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এদিকে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা—ওআইসিও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকটের একটি সমন্বিত ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মন্ত্রী পর্যায়ের কনট্যাক্ট গ্রুপ রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে। আজকের উচ্চপর্যায়ের আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও বিশ্বনেতাদের আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে চাইছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সহায়তা, আন্তর্জাতিক জবাবদিহি, রাখাইনে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং সংকটের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত ভূমিকা জোরদার করাই আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির অফার বা নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ ছাড়াই গ্রিন কার্ড পাওয়ার একটি সুযোগ রয়েছে বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য। ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা এনআইডব্লিউ নামের এই প্রক্রিয়াটি ইবি-২ ইমিগ্রেশন শ্রেণির আওতায় পড়ে। এর মাধ্যমে যোগ্য আবেদনকারীরা নিজেরাই আবেদন করতে পারেন এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চাকরির অফার ও পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশনের শর্ত মওকুফের আবেদন করতে পারেন। তবে এনআইডব্লিউর জন্য আবেদন করলেই সরাসরি গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। প্রথমে আবেদনকারীকে ইবি-২ শ্রেণির মৌলিক যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। অর্থাৎ তাকে অ্যাডভান্সড ডিগ্রিধারী পেশাজীবী হতে হবে অথবা বিজ্ঞান, শিল্পকলা কিংবা ব্যবসায় অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। এই প্রাথমিক যোগ্যতা পূরণ না হলে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বিবেচনাই করা হয় না। ইউএসসিআইএসের নীতিমালা অনুযায়ী, ইবি-২ যোগ্যতা প্রমাণের পর এনআইডব্লিউ পেতে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথমত, আবেদনকারীর প্রস্তাবিত কাজের যথেষ্ট গুরুত্ব এবং জাতীয় গুরুত্ব থাকতে হবে। অর্থাৎ শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার নয়, ওই কাজের সম্ভাব্য প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে হবে। দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীকে প্রস্তাবিত কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সক্ষম অবস্থানে থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে তার শিক্ষা, দক্ষতা, জ্ঞান, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে আগের সাফল্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং কাজটি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে করা অগ্রগতি বিবেচনা করতে পারে ইউএসসিআইএস। তৃতীয়ত, সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চাকরির অফার এবং সংশ্লিষ্ট লেবার সার্টিফিকেশনের শর্ত মওকুফ করা লাভজনক হবে—এটি প্রমাণ করতে হবে। ইউএসসিআইএসের মূল্যায়নে আবেদনকারীর কাজ, যোগ্যতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার সম্ভাব্য অবদানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে। অর্থাৎ এনআইডব্লিউর ক্ষেত্রে তিনটি শর্তই পূরণ করা প্রয়োজন। ইউএসসিআইএস প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে এবং আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় প্রমাণের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে হয়। চাকরির অফারের শর্ত মওকুফ হলেও আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হয়। এনআইডব্লিউ আবেদনের ক্ষেত্রে লেবার সার্টিফিকেশনের কিছু আবেদনকারী-সংক্রান্ত অংশ জমা দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে, যদিও নিয়োগকর্তার মাধ্যমে ওই সার্টিফিকেশনের অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন থাকে না। এই পথটি বিশেষ করে গবেষক, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা এবং অন্যান্য দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো কাজ করতে চান যার সম্ভাব্য গুরুত্ব বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং যারা নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ ছাড়াই নিজেদের পেশাগত উদ্যোগ এগিয়ে নিতে চান।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কাছে ৮২১ ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় অবস্থিত তুর্কি হাউসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই নেতা বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী এবং বহুমাত্রিক করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ। দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে যেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে, সেগুলো আরও সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান ও এরদোয়ান। বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উঠে আসে। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন দুই নেতা। তুরস্কের পক্ষের বিবরণ উদ্ধৃত করে আজকের পত্রিকা জানিয়েছে, এরদোয়ান ঢাকা–আঙ্কারা সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। রোহিঙ্গা সংকটও আলোচনায় আসে বলে একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে এরদোয়ান আশ্রয়, শিক্ষা ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তুরস্কের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানান। বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান উপস্থিত ছিলেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বরাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে। দুই নেতা বৈঠক শেষে বাংলাদেশ–তুরস্কের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রশান্ত মহাসাগরে মেক্সিকোর উপকূলের কাছে শক্তিশালী হ্যারিকেন পোলা অবস্থান করছে। একই সময়ে আটলান্টিক মহাসাগরে তৈরি হওয়া আরেকটি আবহাওয়া ব্যবস্থা সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি, দমকা বাতাস ও উপকূলে ক্ষয়ের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। হ্যারিকেন পোলা দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বর্তমানে ঘণ্টায় প্রায় ১৫৫ মাইল বেগে বাতাস নিয়ে মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছে রয়েছে। এর আগে ঝড়টির সর্বোচ্চ বাতাসের গতি প্রায় ১৮০ মাইল প্রতি ঘণ্টায় পৌঁছেছিল। সর্বশেষ জাতীয় হ্যারিকেন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, পোলা বর্তমানে ক্যাটাগরি ৪ হ্যারিকেন হিসেবে রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিন শক্তিশালী অবস্থায় থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পোলার প্রভাবে মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ঝড়টির কেন্দ্র মেক্সিকোর উপকূলের কাছ দিয়ে অগ্রসর হলেও পূর্বাভাস অনুযায়ী এটি মূলত সমুদ্রের ওপর দিয়েই থাকার কথা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উপকূলের কাছেও নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা। মধ্য-আটলান্টিক উপকূলের কাছে একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়ে সপ্তাহান্তে নিউ ইংল্যান্ডের দিকে অগ্রসর হতে পারে। তবে এর সঠিক গতিপথ নিয়ে আবহাওয়ার মডেলগুলোর মধ্যে এখনও পার্থক্য রয়েছে। কোন পথে নিম্নচাপটি এগোবে, তার ওপর ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করবে। তবে উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি, দমকা বাতাস, জলোচ্ছ্বাস এবং সৈকত ক্ষয়ের আশঙ্কা রয়েছে। ফক্স ১৩-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলগুলোকে সপ্তাহান্তের আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে হবে। আটলান্টিক অববাহিকায় সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি প্রশান্ত মহাসাগরের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম উদ্বেগজনক। আফ্রিকার উপকূল থেকে দূরে একটি ক্রান্তীয় তরঙ্গ রয়েছে, যেটি আগামী সাত দিনে নামকরণযোগ্য ঝড়ে পরিণত হওয়ার ৪০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কম্পিউটার মডেলগুলো বলছে, ওই সিস্টেমটি কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জের কাছে উত্তরমুখী হয়ে যেতে পারে। ফলে বর্তমানে এটি জনবসতিপূর্ণ স্থলভাগ থেকে দূরে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
সাগরপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে ফ্লোরিডার উপকূলের কাছে একটি নৌকা থেকে ১৩ জন চীনা নাগরিকসহ ২২ জনকে আ টক করেছে ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি ও কোস্ট গার্ড। এ সময় নৌকাটি পরিচালনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কিউবার এক নাগরিককেও আ টক করা হয়েছে। মঙ্গলবার ফ্লোরিডার কী লার্গোর কাছে অ্যাঞ্জেলফিশ ক্রিক এলাকায় ২৭ ফুটের একটি নৌযান শনাক্ত করে সিবিপির এয়ার অ্যান্ড মেরিন অপারেশনসের একটি বিমান। পরে কোস্ট গার্ডের সহায়তায় নৌযানটি থামানো হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, নৌকায় থাকা ব্যক্তিদের কোনো ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই আ টক করা সম্ভব হয়েছে। আ টক ২২ জনের মধ্যে ১৩ জন চীনের নাগরিক, আটজন ইকুয়েডরের এবং একজন ডোমিনিকান রিপাবলিকের নাগরিক। নৌযানটি জব্দ করা হয়েছে এবং আ টক ব্যক্তিদের প্রক্রিয়াকরণের জন্য ইউএস কোস্ট গার্ডের কাটার ‘পাবলো ভ্যালেন্ট’-এ নেওয়া হয়। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যারিবীয় সাগরের এই ধরনের সমুদ্রপথ ব্যবহার করে চীনা নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা তুলনামূলকভাবে বিরল। এর আগে চীনা নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ঘটনা ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসের স্থল সীমান্তপথে বেশি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সিবিপির এয়ার অ্যান্ড মেরিন অপারেশনসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক আন্দ্রেস ব্লাঙ্কো বলেন, সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তার ভাষ্য, এই অভিযান মানব পা চারকারী চক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত তৎপরতার উদাহরণ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমুদ্রপথে এ ধরনের যাত্রায় প্রাণহানির ঝুঁকিও রয়েছে। আ টক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের কর্মকাণ্ড নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।
রাজধানীর উত্তরা–মতিঝিল রুটে চলন্ত মেট্রোরেলের অপারেটর কেবিনের দরজার তালা খুলে যাওয়ার ঘটনায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রায় ২৬ মিনিট ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাময়িকভাবে সেবা বন্ধ রাখার পর ত্রুটি ঠিক করে আবার ট্রেন চলাচল শুরু করা হয়। এমআরটি পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশনস) মো. মহসিন শেখের বরাতে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, মতিঝিলগামী একটি ট্রেন শেওড়াপাড়া ও আগারগাঁও স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে থাকার সময় ঘটনাটি ঘটে। প্রথম কোচসংলগ্ন নারী যাত্রীদের অংশে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে অপারেটরের কেবিনের দরজার তালা খুলে যায় বলে তিনি জানিয়েছেন। ট্রেনটি সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটের দিকে আগারগাঁও স্টেশনে পৌঁছায়। এরপর যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্তরা–মতিঝিল রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দরজার সমস্যাটি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। প্রায় ২৬ মিনিট পর, সকাল ৮টা ৩ মিনিটে আবার মেট্রোরেল চলাচল শুরু হয়। ঘটনার পর উত্তরা–মতিঝিল রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রাথমিক কিছু প্রতিবেদনে শুধু চলন্ত ট্রেনের দরজা খুলে যাওয়ার কথা বলা হলেও, দ্য ডেইলি স্টারের বিস্তারিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এটি যাত্রী ওঠানামার সাধারণ দরজা নয়; ট্রেন অপারেটরের কেবিনের দরজার তালা খুলে যাওয়ার ঘটনা।
একসময় কোলন ও রেক্টামের ক্যানসারকে মূলত বয়স্কদের রোগ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বাড়ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০ বছরের কম বয়সী মানুষের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসার এখন ক্যানসারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। তবে এই মৃত্যুহার সব মানুষের মধ্যে সমানভাবে বাড়েনি। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির গবেষকেরা ১৯৯৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী কোলন ও রেক্টাল ক্যানসারে মারা যাওয়া এক লাখ এক হাজারের বেশি মানুষের সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণায় দেখা যায়, এই ৩০ বছরে ওই বয়সী মানুষের কোলোরেক্টাল ক্যানসারে মৃত্যুহার প্রতি এক লাখে প্রায় ৩ জন থেকে বেড়ে প্রায় ৪ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে তথ্য আরও বিশ্লেষণ করার পর শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। যাদের চার বছরের কলেজ ডিগ্রি নেই, তাদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রতি এক লাখে প্রায় ৪ জন থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ২ জন হয়েছে। অন্যদিকে অন্তত ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রায় ২ দশমিক ৭ জনের কাছাকাছিই স্থির রয়েছে। গবেষকদের মতে, শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে আয়, স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার ও জীবনযাপনের বিভিন্ন সুযোগের সম্পর্ক রয়েছে। কলেজ ডিগ্রি না থাকা মানুষের একটি বড় অংশ তুলনামূলক কম বেতনের কাজে যুক্ত থাকেন, যেখানে স্বাস্থ্যবিমা বা বেতনসহ ছুটির সুবিধা কম থাকতে পারে। এর ফলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া কঠিন হতে পারে। শিক্ষার সঙ্গে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বোঝার সক্ষমতারও সম্পর্ক রয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি কম শিক্ষাগত যোগ্যতার মানুষের মধ্যে এমন এলাকায় বসবাসের সম্ভাবনা বেশি হতে পারে, যেখানে পরিবেশ দূষণ বেশি এবং স্বাস্থ্যকর খাবার বা শরীরচর্চার সুযোগ তুলনামূলক কম। ধূমপান ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের মতো বিষয়ও স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন। তবে কোলোরেক্টাল ক্যানসারে তরুণদের মৃত্যুহার কেন বাড়ছে, তার নির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। গবেষকেরা মনে করছেন, খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ দূষণ, চিকিৎসা নিতে দেরি করা এবং স্বাস্থ্যসেবায় অসম প্রবেশাধিকারের মতো একাধিক কারণ এতে ভূমিকা রাখতে পারে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ৫৮ হাজারের বেশি নতুন কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঘটনা শনাক্ত হতে পারে এবং ৫৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। ৬৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এ রোগের নতুন রোগীও এখন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। ১৯৯০-এর দশকের তুলনায় এটি বড় পরিবর্তন, কারণ সে সময় রোগটি মূলত বয়স্কদের মধ্যেই বেশি দেখা যেত। তরুণদের মধ্যে রোগটির ঝুঁকি বাড়তে থাকায় ২০২১ সালে আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি কোলোরেক্টাল ক্যানসারের নিয়মিত স্ক্রিনিং শুরুর সুপারিশ করা বয়স ৫০ থেকে কমিয়ে ৪৫ বছর করেছে। চিকিৎসকেরা একই সঙ্গে মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, পেটে ব্যথা, মলের সঙ্গে রক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির মতো উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ৫০ বছরের কম বয়সী কোলোরেক্টাল ক্যানসার রোগীদের প্রায় চারজনের মধ্যে তিনজনের ক্ষেত্রে রোগটি উন্নত পর্যায়ে শনাক্ত হয়। এর একটি কারণ হতে পারে, তরুণদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক উপসর্গগুলো অনেক সময় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। তাই বয়স কম হলেও অস্বাভাবিক উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রে এখনো ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় আসেনি, কিন্তু এরই মধ্যে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থীরা এমন সব রাজ্যে সফর করছেন, যেগুলো পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ নীতিগত অবস্থান তুলে ধরছেন, কেউ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন, আবার কেউ সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা নিজেদের জাতীয় পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ পান। তারা দলীয় সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক নির্বাচনী রাজ্যগুলোতে রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। ফলে ২০২৮ সালের নির্বাচন এখনো অনেক দূরে হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে। ডেমোক্র্যাট শিবিরে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস, নিউইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ, জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ, পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো, কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার ও ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকারসহ বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এদের কেউই এখন পর্যন্ত ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি। ওকাসিও-কর্টেজ সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের উপস্থিতি আরও জোরালো করেছেন। তিনি ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাননি। একইভাবে হ্যারিসও এখনো দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। শাপিরো ও বেসিয়ারও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর মতো বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। রিপাবলিকান শিবিরেও ২০২৮ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তার পাশাপাশি সিনেটর টেড ক্রুজ, সিনেটর র্যান্ড পল, ফ্লোরিডার সিনেটর রিক স্কট, টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এবং ফ্লোরিডার সাবেক গভর্নর রন ডেসান্টিসের নামও আলোচনায় রয়েছে। ট্রাম্পের পর রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, সেটিও ২০২৮ সালের দৌড়ের একটি বড় প্রশ্ন। দলটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধারা কতটা ধরে রাখবে এবং সম্ভাব্য প্রার্থীরা তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কীভাবে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করবেন—এ নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভ্যান্স ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন, অন্যদিকে ক্রুজ ও পলসহ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী নিজেদের আলাদা অবস্থানও তুলে ধরছেন। ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রেও বড় প্রশ্ন হলো, দলটি ২০২৮ সালে কোন রাজনৈতিক বার্তা সামনে আনবে। প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী অংশের মধ্যে নীতিগত পার্থক্য রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন ও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে শুরু করেছেন। তবে ২০২৮ সালের নির্বাচন এখনো অনেক দূরে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল, পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনের সময় সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান বদলে যেতে পারে। তাই বর্তমানে আলোচনায় থাকা নামগুলোকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ফ্লোরিডায় বাটার পেকান আইসক্রিম খাওয়ার পর পেরেক ও ধাতব টুকরো গিলে গুরুতর স্বাস্থ্যজটিলতায় পড়া এক নারীকে ১৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জুরি। ব্র্যান্ডি বাকলি নামের ওই নারী ২০১৮ সালে পাম বে শহরের একটি ব্রাস্টার্স আইসক্রিমের দোকান থেকে আইসক্রিম কিনেছিলেন। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বিচার শেষে ২০২৬ সালের মার্চে ব্রেভার্ড কাউন্টির ছয় সদস্যের জুরি তার পক্ষে রায় দেন। ঘটনার দিন বাকলি তার ছেলেকে নিয়ে দোকান থেকে বাটার পেকান আইসক্রিম কিনেছিলেন। আইসক্রিম খাওয়ার পর তার গলায় কিছু আটকে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়। প্রথমে তিনি সেটিকে পেকানের টুকরো বলে মনে করেছিলেন। পরে আরও আইসক্রিম নেওয়ার সময় তিনি আইসক্রিমের মধ্যে একটি ধাতব পেরেক দেখতে পান। হাসপাতালে এক্স-রে করার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, তিনি ধাতব একটি বস্তু গিলে ফেলেছেন। বাকলির আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা তার শরীর থেকে একটি পেরেক ও একাধিক ধাতব টুকরো বের করেন। এরপরও তার চিকিৎসা চলতে থাকে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, তিনি পোর্টাল ভেইন থ্রম্বোসিস অর্থাৎ রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধার জটিলতায় আক্রান্ত হন এবং উল্লেখযোগ্য অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়। পরে তাকে আরও একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বাকলির আইনজীবীদের দাবি, চিকিৎসার পর তিনি স্থায়ীভাবে সন্তান ধারণের সক্ষমতা হারান। এই স্বাস্থ্যজটিলতার পাশাপাশি আইসক্রিমে ধাতব বস্তু থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০১৯ সালে তিনি মালাবার ক্রিমারিজের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটির ব্রাস্টার্স আইসক্রিমের পণ্যে ধাতব পেরেক ও অন্যান্য ধাতব টুকরো ছিল, যার কারণে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। মামলার জবাবে প্রতিষ্ঠানটি একাধিক অভিযোগ অস্বীকার করে। তাদের দাবি ছিল, বাকলির নিজের অবহেলাও ঘটনার জন্য দায়ী বা আংশিকভাবে দায়ী হতে পারে। একই সঙ্গে তারা দাবি করে, বিক্রি করা আইসক্রিম ত্রুটিপূর্ণ ছিল না। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিচার চলার পর জুরি স্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ও জাতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজার—দুই পক্ষকেই দায়ী করেন। এরপর বাকলির জন্য মোট ১৪,১৪৭,৫২৫ দশমিক ৩৯ ডলার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়। মামলার আইনজীবী প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা ব্যয়, শারীরিক ক্ষতি ও ভোগান্তিসহ বিভিন্ন ক্ষতির জন্য এই অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জুরির রায়ের পরও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। বাকলির আইনজীবী জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ওয়েশ জানিয়েছে, মামলায় অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে জুরির নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থ বাকলি কবে হাতে পাবেন, তা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। সোর্স- ওয়েশ, কেসিসিআই, ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো, ব্রেভার্ড কাউন্টি আদালতের নথি, আলপিজার ল
পাকিস্তান এমন একটি মার্কিন ড্রোন কোম্পানির সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছে, যার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প। একই কোম্পানি এর আগে ভারতের একটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশটিতে অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি তৈরি ও বিক্রির চুক্তি করেছে। বিষয়টি পাকিস্তান-ভারতের প্রতিরক্ষা সমীকরণে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে পাওয়ারাসের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। পরদিন কোম্পানিটি জানায়, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের কাছ থেকে মনুষ্যবিহীন আকাশযান বা ড্রোন-সংক্রান্ত একটি সীমিত ক্রয়াদেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ সই হয়েছে। তবে চুক্তির আর্থিক মূল্য এবং কোন ধরনের ড্রোন সরবরাহ করা হবে, তা প্রকাশ করা হয়নি। পাওয়ারাস জানিয়েছে, এমওইউটি কোনো চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো বাধ্যতামূলক ক্রয়ের প্রতিশ্রুতিও তৈরি হয়নি। চুক্তির পরবর্তী কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও সরকারি অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে। কোম্পানিটির ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে প্রযুক্তি উৎপাদন বা স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সম্ভাবনাও তারা বিবেচনা করছে। এই চুক্তির সঙ্গে ভারতের সংযোগটিই বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। গত ৩০ জুন ভারতের স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া নথিতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান পারাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস টেকনোলজিস জানায়, পাওয়ারাস তাদের গার্ডিয়ান-১ ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তি ভারতে উৎপাদন ও বিক্রির একচেটিয়া লাইসেন্স দিয়েছে। অর্থাৎ একই মার্কিন কোম্পানি পাকিস্তানে ড্রোন-সংক্রান্ত সরঞ্জাম সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ভারতে অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাওয়ারাস একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ড্রোন কোম্পানি এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের এমওইউতে প্রাথমিক ড্রোন-সংক্রান্ত অর্ডারও রয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্ভাব্য স্থানীয় উৎপাদন ও যৌথ উদ্যোগ নিয়েও চুক্তিতে কাঠামো রাখা হয়েছে। পাওয়ারাস ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ফ্লোরিডাভিত্তিক কোম্পানি। কোম্পানিটি নাসডাক-তালিকাভুক্ত অরিয়াস গ্রিনওয়ে হোল্ডিংসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বিভিন্ন মার্কিন নিয়ন্ত্রক নথির বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, ট্রাম্পের দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প আমেরিকান ভেঞ্চারস নামের একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাওয়ারাসে বিনিয়োগ করেছেন। তবে ট্রাম্প জুনিয়রের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তিনি একজন নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারী এবং কোম্পানির পরিচালনা বা চুক্তিতে তার কোনো ভূমিকা নেই। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই চুক্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। পাকিস্তানের হাতে ইতোমধ্যে তুরস্ক ও চীনের তৈরি বিভিন্ন ড্রোন এবং নিজস্বভাবে তৈরি ড্রোন রয়েছে। আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলা একাধিক বিশ্লেষক বলেছেন, পাওয়ারাসের প্রযুক্তি পাকিস্তানের জন্য বিশেষ করে কম খরচে ড্রোন প্রতিহত করার সক্ষমতা বাড়াতে কাজে লাগতে পারে। তবে চুক্তির প্রকৃত গুরুত্ব বোঝার জন্য ভবিষ্যতে সরবরাহ, স্থানীয় উৎপাদন এবং পরবর্তী ক্রয়চুক্তি কীভাবে এগোয়, তা দেখার প্রয়োজন রয়েছে। একই উৎসের প্রযুক্তি পাকিস্তান ও ভারতের মতো দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের কাছে যাওয়ায় অপারেশনাল নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা বলেছেন, একই সরবরাহকারীর কাছ থেকে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নেওয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানিটির জন্য দুই পক্ষের চাহিদা ও তথ্যের নিরাপত্তা আলাদাভাবে পরিচালনা করা গুরুত্বপূর্ণ। সোর্স- আল জাজিরা, রয়টার্স, ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে, ইকোনমিক টাইমস