- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে ফ্রান্স, কানাডা এবং যুক্তরাজ্য। পাশাপাশি গাজায় ত্রাণ প্রবেশে ইসরায়েলের বাধা দেওয়ার বিষয়টিকে বিশ্বের জন্য লজ্জাজনক বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মঙ্গলবার সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া এক আবেগঘন ভাষণে ম্যাক্রোঁ এই মন্তব্য করেন। তিনি এমন সময় এই ভাষণ দিলেন যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজা সিটিতে অন্তত তিন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরায়েলের আগ্রাসনে গাজায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৩৯৯ জন। ভাষণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট স্মরণ করিয়ে দেন যে এক বছর আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সও ছিল। গাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বলেন, গাজার ভয়াবহ অবস্থার সামনে আমরা যদি নিষ্ক্রিয় থাকি তবে আমাদের আর কী গ্রহণযোগ্যতা থাকে। তথাকথিত শান্তির কথা অনেকেই বলেন, কিন্তু এই শান্তি এক সেকেন্ডের জন্যও মানবিক সহায়তার পথ খুলে দিতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, এই লজ্জাজনক দৃশ্য কি আমাদের শুধু চেয়ে চেয়ে দেখতে হবে, কখনোই নয়। দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের প্রাত্যহিক নিয়ম লঙ্ঘনেরও কঠোর সমালোচনা করেন ম্যাক্রোঁ। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা মনে করেন প্রতিবেশীদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলেই ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তারা মারাত্মক ভুল করছেন। এর ফলে ইসরায়েল বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য আরও বেশি হুমকিতে পড়বে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ম্যাক্রোঁ। তার সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। বৈঠকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম উপস্থিত কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে তা রাজনীতিবিদদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে ধ্বংস করবে। তিনি জানান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। ইসরায়েলের ইওয়ান বসতি সম্প্রসারণ প্রকল্পকে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান আটকে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা বলে আখ্যা দেন তিনি। এই প্রকল্পের ফলে দখলকৃত পশ্চিম তীর পূর্ব জেরুজালেম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে যা ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডকে খণ্ডিত করবে। বার্নহ্যাম বলেন, আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে রাজনীতির ওপর মানুষের আস্থা অনেক কম। দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান নিয়ে দশকের পর দশক কথা হলেও তা বাস্তবায়নে ব্যর্থতা শুধু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আস্থাই কমাবে। অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে ১০০ মিলিয়ন কানাডীয় ডলার বা ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, এই তহবিলের ৮০ শতাংশ সরাসরি মানবিক সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। বাকি ২০ শতাংশ শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যয় করা হবে যার মধ্যে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কানাডার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গাজায় ফিলিস্তিনিদের অবর্ণনীয় মানবিক দুর্দশা এবং ইসরায়েলের ওপর হামাস ও ইরানের হুমকির কথাও উল্লেখ করেন কার্নি। যুক্তরাজ্যের মতো তিনিও ইসরায়েলের ইওয়ান বসতি প্রকল্পের সমালোচনা করেন এবং অবৈধ বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বাণিজ্য বিধিনিষেধ আরোপের কানাডার পরিকল্পনার কথা জানান। অবৈধ বসতির পণ্যের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ১২টি দেশের মধ্যে কানাডা অন্যতম। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য অটোয়া এখন পর্যন্ত ৬০০ মিলিয়ন কানাডীয় ডলার বা ৪২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় থাকা ৭ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বিমা তালিকাভুক্তি বাতিল করেছে দেশটির সরকার। এসব তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া নাম যুক্ত করা বা যোগ্যতা নিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস)। মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর এ তথ্য প্রকাশ করে সিএমএস। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ৩১ আগস্ট প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার তালিকাভুক্তি বাতিল করা হয়েছে, যার আওতায় ছিলেন ৭ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। এসব বাতিলের ফলে আগাম দেওয়া প্রিমিয়াম কর-ছাড়ের প্রায় ২২০ কোটি ডলার সরকারি অর্থ ফেরত আসবে বলে আশা করছে সিএমএস। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, বাতিল হওয়া তালিকাভুক্তির মধ্যে এমন মানুষ রয়েছেন, যাদের অস্তিত্ব নিয়ে কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন রয়েছে, আবার এমন বাস্তব ব্যক্তিও রয়েছেন যারা স্বাস্থ্যবিমার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করেননি। কিছু মানুষকে তাদের অজান্তেই বিমা পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়েছিল বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। সিএমএসের প্রশাসক মেহমেট ওজ জানিয়েছেন, যেসব তালিকাভুক্তিকে ‘ফ্যান্টম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের অনেকের বিষয়ে কর্মকর্তারা মনে করছেন তারা হয় বাস্তবে ওই বিমা পরিকল্পনায় যুক্ত হওয়ার কথা জানতেন না, অথবা তাদের অস্তিত্বই নিশ্চিত করা যায়নি। এসব ব্যক্তির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি এবং তারা বিমার আওতায় কোনো দাবি জমা দিয়েছেন কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনায় মানুষকে যুক্ত করা এজেন্ট ও ব্রোকারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে সিএমএস। সংস্থাটি ২০২৬ সালের আবেদনগুলোতে প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, যেমন সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, না থাকা সত্ত্বেও অস্বাভাবিক হারে আবেদন জমা দেওয়ার অভিযোগে ৫৬৯ জন ব্রোকারের বিরুদ্ধে চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর মধ্যে প্রথম ১০০ জনের জবাব দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৬৬ জনকে চুক্তি বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সিএমএসের অভিযোগ, কিছু ব্রোকার গ্রাহকের প্রকৃত সম্মতি ছাড়াই তাদের স্বাস্থ্যবিমায় যুক্ত করেছেন, অনুমতি ছাড়া পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছেন, ভুল তথ্য ব্যবহার করেছেন অথবা কমিশন পাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্দেহজনক আবেদন তৈরি করেছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে নতুন করে নিবন্ধিত হওয়া এজেন্ট ও ব্রোকারদের সংখ্যা মোট ব্রোকারদের তুলনায় কম হলেও তাদের মধ্যে অননুমোদিত তালিকাভুক্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমের হার তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে। এ কারণে নতুন এজেন্ট ও ব্রোকার নিবন্ধনের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশও দিয়েছে সিএমএস। ২০২৬ সালের জন্য সক্রিয় এক্সচেঞ্জ চুক্তি নেই এমন এজেন্ট ও ব্রোকাররা ২০২৭ সালের পরিকল্পনার জন্য নতুন করে নিবন্ধন করতে পারবেন না। এই স্থগিতাদেশ ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তিও উঠেছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেনিফিটস অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স প্রফেশনালস নামের একটি শিল্প সংগঠন বলেছে, সব নতুন ব্রোকারের ওপর একসঙ্গে স্থগিতাদেশ দিলে বৈধভাবে কাজ করা পেশাজীবীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। সংগঠনটি অনিয়মে জড়িত নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। সরকারের হিসাবে, ২০২৬ সালের পরিকল্পনা বছরে অননুমোদিত ও সন্দেহজনক ওবামাকেয়ার তালিকাভুক্তির কারণে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ৬৬০ কোটি ডলার পর্যন্ত অনিয়মিতভাবে ব্যয় হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে বাতিল করা তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে আগাম দেওয়া কর-ছাড়ের প্রায় ২২০ কোটি ডলার ফেরত আসতে পারে বলে সিএমএস জানিয়েছে। ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের দুর্নীতি ও অনিয়মবিরোধী উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওবামাকেয়ার মূলত ২০১০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে প্রণীত সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের অধীনে পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা। এতে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম কমানোর সুযোগ রয়েছে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও আইনটি বাতিলের চেষ্টা করেছিলেন, যদিও তা সফল হয়নি। তার প্রশাসন বর্তমানে এই কর্মসূচির বিভিন্ন নিয়ম ও ভর্তুকি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি অনিয়ম ঠেকানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের জুনে মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের নীতিবিষয়ক কার্যালয় এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওবামাকেয়ারে নতুন করে যুক্ত হওয়া মানুষের প্রায় অর্ধেকের তালিকাভুক্তি অনিয়মিত, কাল্পনিক বা প্রতারণামূলক হতে পারে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে এ ধরনের তালিকাভুক্তির সংখ্যা আনুমানিক ৫৬ লাখে পৌঁছেছিল। তবে এগুলো সরাসরি প্রমাণিত প্রতারণার সংখ্যা নয়, বরং সরকারি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে করা অনুমান। সিএমএস আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ওবামাকেয়ার এক্সচেঞ্জ পরিকল্পনায় যুক্ত রয়েছেন। সংস্থাটির হিসাবে, এর মধ্যে প্রায় ২৬ লাখ তালিকাভুক্তি এখনও অনিয়মিত, কাল্পনিক বা প্রতারণামূলক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশাসন ও স্বাস্থ্যবিমা খাতের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এবং সরকারি হিসাবগুলো মূলত প্রশাসনিক তথ্য ও অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অন্যদিকে, ২০২৬ সালে অতিরিক্ত কোভিড-পরবর্তী স্বাস্থ্যবিমা ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার কারণে অনেক মার্কিন নাগরিকের মাসিক বিমা প্রিমিয়াম বেড়েছে। এর ফলে চলতি বছরে ওবামাকেয়ার থেকে অনেক মানুষের বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ঠেকানোর সরকারি পদক্ষেপ স্বাস্থ্যবিমা বাজারে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (CMS)
জন্মের আগে তার সম্মতি নেওয়া হয়নি, এই যুক্তিতে নিজের মা-বাবার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ভারতের মুম্বাইয়ের এক তরুণ। ২০১৯ সালে ২৭ বছর বয়সী রাফায়েল স্যামুয়েল এ পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানান। তার দাবি ছিল, পৃথিবীতে জন্ম নেওয়ার সিদ্ধান্ত তার নিজের ছিল না। তাই সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্তের দায়ও মা-বাবার। রাফায়েল নিজেকে অ্যান্টিন্যাটালিজম বা জন্মবিরোধী দর্শনের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন। এই দর্শনের অনুসারীরা মনে করেন, মানুষকে পৃথিবীতে না আনাই নৈতিকভাবে বেশি যুক্তিসংগত, কারণ জীবনের সঙ্গে দুঃখ, কষ্ট ও নানা ধরনের ভোগান্তি জড়িয়ে আছে। রাফায়েলের বক্তব্যও মূলত এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছিল। মুম্বাইয়ের এই ব্যবসায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তার মতাদর্শ প্রচার করতেন। তিনি যুক্তি দেন, কোনো মানুষই জন্মের আগে পৃথিবীতে আসার বিষয়ে সম্মতি দিতে পারে না। অথচ জন্মের পর তাকে পড়াশোনা, চাকরি, পেশা ও জীবনের নানা দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তার প্রশ্ন ছিল, যে জীবনের জন্য কেউ আগে থেকে সম্মতি দেয়নি, সেই জীবনের নানা বাধ্যবাধকতার দায় কেন তার ওপর থাকবে। রাফায়েল আরও বলেছিলেন, মানুষ যদি নিজের ইচ্ছায় জন্ম নিতে না পারে, তাহলে তাদের জীবনযাপনের খরচ বহনের দায়িত্ব মা-বাবার হওয়া উচিত। তার মতে, সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত মা-বাবার, সন্তানের নয়। তাই সন্তানকে সারাজীবন সেই সিদ্ধান্তের ফল ভোগ করতে বাধ্য করা নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার। বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে যখন রাফায়েল জানান, তার মা-বাবা দুজনই আইনজীবী। তারপরও তিনি তাদের আদালতে নেওয়ার কথা ভাবছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছিলেন, কোনো বিচারক তার মামলা গ্রহণ করবেন কি না, তা নিয়ে তিনি নিজেও সন্দিহান। সে সময় পর্যন্ত তার মামলা নেওয়ার জন্য কোনো আইনজীবীও পাওয়া যায়নি। তবে মা-বাবার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খারাপ ছিল না। রাফায়েল নিজেই বলেছিলেন, তিনি তাদের ভালোবাসেন এবং পরিবারের সম্পর্কও ভালো। তার বক্তব্য ছিল, বিষয়টি ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং সন্তান জন্ম দেওয়া এবং মানুষের অস্তিত্ব নিয়ে একটি দার্শনিক প্রশ্ন সামনে আনার চেষ্টা। তার মা কবিতা কার্নাড স্যামুয়েলও ছেলের পরিকল্পনাকে পুরোপুরি বিরোধিতা করেননি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি ছেলের সাহসের প্রশংসা করেন। তার বক্তব্য ছিল, রাফায়েল যদি যুক্তিসংগতভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন যে জন্মের আগে কীভাবে তার কাছ থেকে সম্মতি নেওয়া সম্ভব ছিল, তাহলে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করবেন। রাফায়েল তার মতাদর্শ প্রচারের জন্য ‘নিহিলানন্দ’ নামে একটি ফেসবুক পেজও চালু করেছিলেন। সেখানে তিনি সন্তান জন্ম দেওয়া, মানুষের অস্তিত্ব এবং জীবনের বিভিন্ন দায়িত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলতেন। একটি পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি শিশুকে পৃথিবীতে নিয়ে আসার পর তাকে ক্যারিয়ার গড়ার মতো নানা সামাজিক প্রত্যাশার মধ্যে ঠেলে দেওয়া কতটা ন্যায্য। তার বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তার যুক্তিকে অদ্ভুত বলে সমালোচনা করেন, আবার কেউ জন্ম, সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে তার উত্থাপিত প্রশ্নকে দার্শনিক আলোচনার বিষয় হিসেবে দেখেন। বিষয়টি ভারতের বাইরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। অ্যান্টিন্যাটালিজম নতুন কোনো ধারণা নয়। বিভিন্ন সময়ে দর্শন ও ধর্মীয় চিন্তাধারার কিছু ধারায় মানুষের জন্ম এবং জীবনের দুঃখ-কষ্ট নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখা গেছে। আধুনিক অ্যান্টিন্যাটালিজমে মানুষের সন্তান জন্মদানের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তবে এটি একটি দার্শনিক অবস্থান, সর্বজনস্বীকৃত বৈজ্ঞানিক বা আইনি নীতি নয়। রাফায়েলের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল, তিনি নিজের জীবনকে পুরোপুরি দুর্বিষহ বলে দাবি করেননি। বরং তিনি জানিয়েছিলেন, তার জীবন ভালোই চলছে। তার আপত্তি ছিল মানুষের অস্তিত্বের মৌলিক প্রশ্ন নিয়ে। অর্থাৎ তার পরিকল্পিত আইনি পদক্ষেপকে তিনি ব্যক্তিগত ক্ষোভের চেয়ে একটি বৃহত্তর দার্শনিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে দেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত রাফায়েল সত্যিই তার মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে কোনো আদালতের রেকর্ড পাওয়া যায় না। ২০১৯ সালের সমসাময়িক প্রতিবেদনে বরং বলা হয়েছিল, তিনি মামলা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন এবং তখনও কোনো আইনজীবী তার পক্ষে মামলা নিতে রাজি হননি। তাই ঘটনাটিকে ‘মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা’ নয়, বরং ‘মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা’ হিসেবে উল্লেখ করাই সঠিক। সূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অবস্থান করা হোটেলের কাছাকাছি একটি পরিত্যক্ত কালো স্যুটকেস ঘিরে মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, নিরাপত্তা তৎপরতা চালায় নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ বা এনওয়াইপিডি। পূর্ব ৪৩তম স্ট্রিট ও তৃতীয় অ্যাভিনিউয়ের কাছে স্যুটকেসটি পাওয়ার পর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে যায় এবং আশপাশের কয়েকটি সড়কে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ জানায়, বস্তুটি আর সন্দেহজনক বা বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার কিছু আগে স্যুটকেসটি পাওয়া যায়। এনওয়াইপিডির একটি প্রশিক্ষিত কুকুর স্যুটকেসটির ভেতরে কিছু শনাক্ত করার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়। এরপর পুলিশের ইমার্জেন্সি সার্ভিস ইউনিট এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ পূর্ব ৪২তম থেকে ৪৪তম স্ট্রিট পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অ্যাভিনিউ থেকে লেক্সিংটন অ্যাভিনিউয়ের মধ্যবর্তী এলাকায় সাময়িকভাবে যানবাহন ও পথচারী চলাচল বন্ধ করে দেয়। ঘটনাস্থলটি ক্রাইসলার ভবনের কাছাকাছি এবং জাতিসংঘের সদর দপ্তর থেকে কয়েকটি অ্যাভিনিউ দূরে। নিরাপত্তা তৎপরতার সময় কাছের একটি ভবন থেকেও লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন চলায় ওই এলাকায় তখন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। তবে প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক বস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও পরে সেটিকে হুমকিমুক্ত ঘোষণা করা হয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্যুটকেসের ভেতরে বোমা বা কোনো বিস্ফোরক পাওয়া গেছে এমন তথ্য নেই। একইভাবে এটি তারেক রহমান, তার সফরসঙ্গী বা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিনিধি দলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অংশ ছিল, এমন কোনো তথ্যও কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। তারেক রহমান ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও একাধিক বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি নিউইয়র্কে অবস্থানকালে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে থাকছেন। একই দিন তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত স্বাগত নাশতায় অংশ নেন এবং সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী কার্যক্রমে যোগ দেন। সন্দেহজনক স্যুটকেসটি যে এলাকায় পাওয়া যায়, সেটি তার হোটেলের কাছাকাছি হলেও ঘটনাস্থলটি হোটেল ভবনের ভেতরে বা প্রবেশপথে ছিল না। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হোটেলটি পূর্ব ৪২তম স্ট্রিটের কাছে, আর স্যুটকেসটি পাওয়া যায় পূর্ব ৪৩তম স্ট্রিট ও তৃতীয় অ্যাভিনিউয়ের কাছে। তাই ঘটনাটিকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হোটেলে হামলার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটির সময় নিউইয়র্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছিলেন। এ কারণে ম্যানহাটনের ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলের সময় বিভিন্ন সড়কে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। তারেক রহমানও এ সফরে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে তার প্রথম বক্তব্য হবে বলে বাংলাদেশি সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবারের স্যুটকেস ঘিরে নিরাপত্তা তৎপরতায় কোনো বিস্ফোরণ বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশি পরীক্ষা শেষে বস্তুটি হুমকিমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা এলাকার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছে। প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি একটি সন্দেহজনক পরিত্যক্ত স্যুটকেস ঘিরে নেওয়া নিরাপত্তা পদক্ষেপ হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে, বোমা হামলা হিসেবে নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির এক অন্তঃসত্ত্বা নারী আল্ট্রাসাউন্ডের একটি ছবিতে তার অনাগত সন্তানের মাথার ওপর হাতের মতো একটি আকৃতি দেখতে পেয়েছেন। তার ছোট মেয়ে বেইলি প্রথম বিষয়টি লক্ষ্য করে ছবিতে থাকা আকৃতিটি কার হাত, তা জানতে চায়। এরপর ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে একে ‘ঈশ্বরের হাত’ নামে অভিহিত করেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে ছবিটির ওই আকৃতিকে সত্যিকারের হাত বা অতিপ্রাকৃত কোনো ঘটনার প্রমাণ হিসেবে নিশ্চিত করার মতো স্বাধীন কোনো তথ্য নেই। আমান্ডা ফস্টার নামের ওই নারী নিজেও ছবিটিকে তার বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে দেখেছেন। তার কাছে এটি হয়ে উঠেছে কঠিন সময়ের মধ্যে আশা, প্রার্থনা ও সুরক্ষার প্রতীক। ২০২৫ সালের মে মাসে ফস্টার প্রথম ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। সে সময় তিনি প্রায় ৩২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং তার অনাগত ছেলে কাইলারের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। এর আগে গর্ভাবস্থার পরীক্ষায় শিশুটির হৃদযন্ত্রের একটি অস্বাভাবিকতার কথা জানানো হয়েছিল। ফলে প্রতিটি আল্ট্রাসাউন্ডের আগে তিনি সন্তানের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করতেন বলে জানান। ফস্টারের সঙ্গে আল্ট্রাসাউন্ডের সময় তার ছোট মেয়ে বেইলিও ছিল। ছবির দিকে তাকিয়ে বেইলি প্রথম হাতের মতো আকৃতিটি দেখতে পায় এবং জানতে চায়, সেটি কার হাত। ফস্টার পরে জানান, ছবির একটি অংশে তার মনে হয়েছে যেন একটি হাত তার অনাগত সন্তানের মাথা ধরে বা ঢেকে রেখেছে। ফস্টারের জন্য ঘটনাটির গুরুত্ব শুধু ছবিটির অস্বাভাবিক চেহারায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তার আগের জীবনে সন্তান হারানোর বেদনাও রয়েছে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি তার প্রথম ছেলেকে হারান। ওই শিশুর ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় পটার সিনড্রোম বা পটার সিকোয়েন্স শনাক্ত হয়েছিল। এটি একটি গুরুতর জন্মগত অবস্থা, যেখানে শিশুর কিডনির স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয় এবং এর সঙ্গে ফুসফুসের বিকাশেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেই অভিজ্ঞতার পরও ফস্টার পরবর্তী সময়ে দুই কন্যাসন্তানের মা হন। পরে আরেকটি ছেলে সন্তানের গর্ভধারণের সময় আগের সন্তান হারানোর স্মৃতি ও নতুন করে পাওয়া স্বাস্থ্যসংক্রান্ত উদ্বেগ তাকে মানসিকভাবে নাড়া দেয়। তিনি জানান, এই সময় তিনি আরও বেশি করে প্রার্থনার ওপর নির্ভর করেন। আল্ট্রাসাউন্ডে হাতের মতো আকৃতি দেখতে পাওয়ার পর ফস্টার ও তার স্বামী এটিকে তাদের প্রার্থনার সঙ্গে যুক্ত করেন। ফস্টারের ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিটি দেখার পর তিনি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হন এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব করেন। পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে অনুসরণমূলক পরীক্ষা করানো হলে আগের হৃদযন্ত্রের অস্বাভাবিকতা আর দেখা যায়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে ওই পরিবর্তনকে সরাসরি অলৌকিক ঘটনার ফল হিসেবে চিকিৎসাবিজ্ঞান নিশ্চিত করেছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। আল্ট্রাসাউন্ডের ছবিতে শরীরের বিভিন্ন অংশের অবস্থান, ছায়া, প্রতিফলন এবং ছবির কোণের কারণে কখনো কখনো পরিচিত কোনো আকৃতির মতো কিছু দেখা যেতে পারে। এই ধরনের ছবিকে কেন্দ্র করে কোনো নির্দিষ্ট আকৃতি দেখা গেলেই সেটিকে বাস্তব কোনো বস্তু বা অতিপ্রাকৃত ঘটনার প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। ফস্টারের ছবির ক্ষেত্রেও ‘হাত’ হিসেবে দেখা আকৃতিটির সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি। তবে ছবিটি অনলাইনে ব্যাপক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ২০২৫ সালে প্রথম ছড়িয়ে পড়ার পর ২০২৬ সালের আগস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও ছবিটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে থাকে। নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এটিকে বিশ্বাস ও আশার প্রতীক হিসেবে দেখেছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ ছবিটিকে আল্ট্রাসাউন্ডের স্বাভাবিক ভিজ্যুয়াল বিভ্রম বা ছবির কোনো আকৃতিগত প্রভাব হিসেবে দেখেছেন। ফস্টারের কাছে অবশ্য ছবিটির অর্থ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার চেয়েও ব্যক্তিগত। সন্তান হারানোর পুরোনো কষ্ট, নতুন গর্ভাবস্থার উদ্বেগ এবং সন্তানের জন্য তার নিয়মিত প্রার্থনার মধ্যে আল্ট্রাসাউন্ডের ওই মুহূর্তটি তাকে মানসিক স্বস্তি দিয়েছে। তাই অনলাইনে ছবিটি ‘ঈশ্বরের হাত’ নামে পরিচিত হলেও, এটি মূলত একজন মায়ের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আশার গল্প হিসেবেই দেখছেন তিনি। সূত্র: KWTX, The Dallas Express
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসের এক কর্মকর্তার গুলিতে আহত এক ভেনেজুয়েলীয় নাগরিককে পিঠে গুলি থাকা অবস্থায় আটককেন্দ্রে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ২৮ বছর বয়সী উইলবার রাফায়েল গার্সেস পেরেজ নামের ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনাটি রোববার টেক্সাসের অস্টিনে ঘটে। গার্সেস পেরেজ তখন ডোরড্যাশের হয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছিলেন। তার আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গাড়ি তার গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর পর সেটি পুলিশের গাড়ি হিসেবে থামানো হয় এবং আইসের এক কর্মকর্তা তার গাড়িতে গুলি চালান। গুলিতে তার শরীরের ওপরের অংশে আঘাত লাগে। গার্সেস পেরেজের নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, একটি এসইউভি তার গাড়িকে ধাক্কা দেওয়ার পর তিনি সেটিকে আক্রমণাত্মক চালকের আচরণ বলে মনে করেন এবং নিজের পথে এগিয়ে যেতে থাকেন। পরে গাড়িটি আবার তার গাড়িকে ধাক্কা দেয় এবং পুলিশি বাতি জ্বালানো হয়। এক কর্মকর্তা তার কাছে অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান এবং গাড়ি থেকে নামতে বলেন। গার্সেস পেরেজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি গাড়িটি রাস্তার পাশে নিরাপদ জায়গায় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় আইস কর্মকর্তা গুলি চালান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সাইরেন ও গাড়ির টায়ারের শব্দের পর একটি অচিহ্নিত এসইউভি থেকে একজন কর্মকর্তাকে নামতে এবং এরপর কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে ভিডিওটির সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও গুলির পরিস্থিতি তদন্তাধীন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গার্সেস পেরেজকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার আইনজীবীর দাবি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে অস্টিন থেকে প্রায় ১৩০ মাইল দূরের পিয়ারসালের সাউথ টেক্সাস আইস প্রসেসিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনও তার শরীরে, মেরুদণ্ডের কাছাকাছি, গুলি আটকে ছিল বলে আইনজীবী জানিয়েছেন। গার্সেস পেরেজ সাংবাদিকদের ফোনে জানান, তিনি ভালো নেই এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। তার আইনজীবীর দাবি, আটককেন্দ্রে তিনি তীব্র ব্যথায় ছিলেন এবং একপর্যায়ে শরীরের বাম পাশ, হাত ও পায়ে অনুভূতি কমে যায়। পরে পক্ষাঘাতের মতো উপসর্গের কথা জানানোর পর সোমবার রাতে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এসব অভিযোগের কিছু অংশ অস্বীকার করেছে। বিভাগটি জানিয়েছে, গার্সেস পেরেজ আটককেন্দ্রে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা এবং ব্যথানাশক ওষুধ পাচ্ছিলেন এবং তিনি একটি বিছানায় ঘুমিয়েছেন। শরীরে গুলি থাকার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেনি। তবে গুলি অপসারণ করা হবে কি না, সেটি চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তের বিষয় বলে জানিয়েছে বিভাগটি। ঘটনার পর গার্সেস পেরেজের আইনজীবীরা তার মুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাকে অপসারণ বন্ধের দাবিতে মামলা করেছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, এ বিষয়ে শুনানির জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবারের আপডেট অনুযায়ী, একজন ফেডারেল বিচারক আপাতত তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণ বন্ধ রাখার জন্য জরুরি আদেশও দিয়েছেন। গার্সেস পেরেজের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বৈধতা নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দাবি, তিনি জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ ছিল। তবে তার আইনজীবী বলছেন, তিনি ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু থাকা সিবিপি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে বৈধভাবে সীমান্তে প্রবেশের আবেদন করে একটি প্রবেশবন্দরে হাজির হন এবং সেখানেই তাকে পরীক্ষা করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সিবিপি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের নির্দিষ্ট প্রবেশবন্দরে সাক্ষাতের সময় নিতে পারতেন। ট্রাম্প প্রশাসন পরে এই কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রবেশ করা অভিবাসীদের বৈধ অবস্থান বাতিলের পদক্ষেপ নিয়েও আইনি লড়াই হয়েছে। এদিকে গার্সেস পেরেজকে গুলি করার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এফবিআইয়ের সহায়তায় তদন্তটি পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে, গুলি চালানো আইস কর্মকর্তাকে তদন্ত চলাকালে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। অস্টিনের মেয়র কার্ক ওয়াটসন ঘটনাটির স্বাধীন ও তৃতীয় পক্ষের তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, আইস নিজেই এই ঘটনার তদন্ত করলে তা উপযুক্ত হবে না। তিনি অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রম ঘিরে ভয় ও উত্তেজনার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিবর্ষণ নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই সামনে এলো। এর আগে টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন অভিযানের সময় গাড়ি থামিয়ে গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রতিটি ঘটনার পরিস্থিতি আলাদা এবং গার্সেস পেরেজের ঘটনায়ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গুলিবর্ষণ আইনসঙ্গত ছিল কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, সিবিএস নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
দীর্ঘ দুই দশক ধরে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত ছিলেন চীনের এক নারী। কিন্তু রোগীর চাপ, প্রশাসনিক কাজ আর মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে তিন বছর আগে এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ডাক্তারি ছেড়ে তিনি একটি স্টিমড স্টাফড বান বা ভাপানো রুটির দোকান খোলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার এই দোকানটি শুধু টিকেই থাকেনি, বরং দারুণ সফলতা পেয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাসে তিনি দ্বিতীয় শাখাও চালু করেছেন। ডং মিন নামের ৪৮ বছর বয়সী এই সাবেক চিকিৎসকের গল্পটি চীনের চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি নতুন প্রবণতার চিত্র তুলে ধরেছে। যেখানে মানসিক শান্তি ও সহজ জীবনের আশায় অনেক চিকিৎসক তাদের সম্মানজনক পেশা ছেড়ে সাধারণ ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছেন। চীনের সংবাদমাধ্যম চ্যাংজিয়াং ডেইলিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডং মিন বলেন, যখন আমি চিকিৎসক ছিলাম, তখন প্রায়ই চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতাম। এখন বান রুটির দোকান চালাতে গিয়ে আমাকে অনেক ব্যস্ত থাকতে হয় এবং আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু আমি এতটাই খুশি যে এই কাজ থামানোর কোনো ইচ্ছে আমার নেই। ১৯৯৯ সালে উহান ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিন থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন ডং মিন। এরপর শেনজেন শহরে গাইনোকোলজিস্ট বা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কয়েক বছর পর মায়ের ব্যক্তিমালিকানাধীন ক্লিনিক পরিচালনার জন্য উহানে ফিরে আসেন তিনি। মায়ের অবসরের পর তারা ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেন এবং হুবেই প্রদেশের তিয়ানমেনে নিজেদের এলাকায় ফিরে যান। সেখানে ডং একটি ছোট কমিউনিটি হাসপাতালের চিকিৎসক এবং আইনি প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেন। পেশা পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে ডং জানান, একজন চিকিৎসক হিসেবে তাকে চরম মানসিক চাপের সম্মুখীন হতে হতো। রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ঘন ঘন পরিদর্শনের মতো চিকিৎসা বহির্ভূত কাজেও প্রচুর সময় ও শ্রম দিতে হতো। চীনে হাসপাতাল ও রোগীদের মধ্যে সম্পর্ক অনেক সময় বেশ উত্তেজনাপূর্ণ থাকে। হাসপাতালের আইনি প্রতিনিধি হওয়ায় যেকোনো চিকিৎসাজনিত বিবাদের সম্পূর্ণ দায়ভার তার ওপরই বর্তাতো। আগের কাজের সঙ্গে বর্তমান জীবনের তুলনা করে ডং বলেন, এখন তাকে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে হয়, কিন্তু তার কোনো মানসিক চাপ নেই। ২০২৩ সালে এক বন্ধুর পরিবারের এমন একটি দোকান দেখে তিনি এই ব্যবসায় আগ্রহী হন। শুরুতে তিনি একটি বান রুটির দোকানে বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে দোকানের প্রধান বাবুর্চি কাজ ছেড়ে দিলে তিনি নিজেই বান রুটি তৈরির কৌশল শেখার সিদ্ধান্ত নেন। খুব দ্রুত তিনি এই কাজে দক্ষতা অর্জন করেন এবং কাজটি উপভোগ করতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি দোকানটি পরিচালনার জন্য ডাক্তারি পেশা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে তার পরিবার এই সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধিতা করেছিল। কারণ চীনে চিকিৎসকের পেশাকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানজনক মনে করা হয়। এর জবাবে ডং তার পরিবারকে বলেছিলেন, আমার বয়স এখন প্রায় ৫০ বছর এবং আমি জীবনে অনেক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি। অন্যরা আমাকে নিয়ে কী ভাবল তা নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। আমি শুধু এমন একটি জীবন চাই যা আমি ভালোবাসি এবং আমি নিজের জন্য বাঁচতে চাই। তার এই দৃঢ়তায় ধীরে ধীরে তার মা ও ভাই তাকে সমর্থন করতে শুরু করেন এবং এখন তারা মাঝেমধ্যে দোকানে এসে তাকে সাহায্যও করেন। ডং বলেন, জীবনে কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই, পরিবর্তনের জন্য কখনোই দেরি হয়ে যায় না। আমি যতদিন চলাফেরা করতে পারব, ততদিন এই দোকানটি চালিয়ে যেতে চাই। চীনে রোগীর অতিরিক্ত চাপ এবং প্রশাসনিক কাজের বোঝার কারণে চিকিৎসকরা প্রায়ই মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক অবসাদে ভোগেন। ডংয়ের মতো আরও অনেক স্বাস্থ্যকর্মী এখন তুলনামূলক কম মর্যাদাপূর্ণ কিন্তু শান্তিময় পেশার দিকে ঝুঁকছেন। ২০২৪ সালে ঝেজিয়াং প্রদেশের একটি বড় হাসপাতালে ১৩ বছর ধরে কাজ করা এক চিকিৎসকও চাকরি ছেড়ে রাস্তার পাশে স্ন্যাকসের দোকান খোলেন। তিনি জানান, আগের চাকরিতে তিনি মাসে ১০ হাজার ইউয়ানের কম বেতন পেতেন, কিন্তু এখন তার আয় আগের চেয়ে অনেক বেশি। চীনের চিকিৎসকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম জিং লিন ইউয়ান কমিউনিটির মতে, চিকিৎসকরা শুধু শারীরিকভাবে ক্লান্ত হন না, তারা চরম মানসিক অবসাদেও ভোগেন। এটি পুরো চিকিৎসা খাতের একটি কাঠামোগত সমস্যা। চিকিৎসকদের অন্তহীন চিকিৎসা বহির্ভূত কাজ করতে হয় এবং রোগীদের অভিযোগের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। অথচ তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পরিশ্রম অনুযায়ী তারা যথাযথ পারিশ্রমিক পান না। সূত্র: চ্যাংজিয়াং ডেইলি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির সামনে টেসলা সাইবারট্রাক পেছনে নেওয়ার সময় নিজের ছেলেকে গাড়ির নিচে চাপা দেওয়ার ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুটির বয়স ছিল ছয় বছর। দুর্ঘটনায় জড়িত তার বাবা টেরিক এল গুয়িন্ডি ‘মিস্টার অলিম্পিয়া’ শরীরচর্চা প্রতিযোগিতার একজন বিচারক। ঘটনাটি শনিবার রাত ৯টার কিছু আগে ক্যালিফোর্নিয়ার টেমেকুলা শহরের ব্রুকহেভেন কোর্ট এলাকায় ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেরিক এল গুয়িন্ডি গাড়িটি পেছনে নেওয়ার সময় তার ছয় বছর বয়সী ছেলে প্রেস্টন গাড়িটির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়। পরিবার দ্রুত জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে। পরে শিশুটিকে উইলডোমারের ইনল্যান্ড ভ্যালি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তবে ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু স্টেফানি চেসব্রো শিশুটির জন্য একটি অনুদান সংগ্রহের পেজ খুলেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় প্রেস্টন বাইরে খেলছিল। একটি চলন্ত গাড়ির ধাক্কায় সে গুরুতর আহত হয় এবং হাসপাতালে মায়ের পাশে থাকা অবস্থায় মারা যায়। পরিবার জানিয়েছে, প্রেস্টন মাত্র গত মাসে প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা শুরু করেছিল। দুর্ঘটনার পর ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোলের কর্মকর্তারা এল গুয়িন্ডিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় সাইবারট্রাকটি স্বয়ংক্রিয় চালনা বা অটোপাইলট ব্যবস্থায় চলছিল না। একই সঙ্গে শিশুটির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল। তবে দুর্ঘটনার আগে গাড়ির ভেতরের কোনো সতর্কতা ব্যবস্থা চালককে গাড়ির পেছনে শিশুটির উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে তদন্তকারীদের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল। টেরিক এল গুয়িন্ডি শরীরচর্চা জগতের পরিচিত মুখ। তিনি ‘মিস্টার অলিম্পিয়া’ প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে কাজ করেন। প্রতিযোগিতাটিতে বিশ্বের শীর্ষ পেশাদার বডিবিল্ডারদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে বিচারকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি অলিম্পিয়া টিভির সঙ্গেও যুক্ত এবং ‘প্রাইম টাইম মাসল’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে শরীরচর্চা ও বডিবিল্ডিং নিয়ে আলোচনা করেন। বডিবিল্ডিং অঙ্গনে এল গুয়িন্ডি নিয়মিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও খেলোয়াড়দের নিয়ে মন্তব্য করে থাকেন। ছয়বারের মিস্টার অলিম্পিয়া বিজয়ী ক্রিস বামস্টেড সম্পর্কেও তিনি আগে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছিলেন। বামস্টেড ২০২৪ সালে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর এল গুয়িন্ডি তাকে বডিবিল্ডিংয়ের প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এদিকে, ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেস্টন সবসময় হাসিখুশি থাকত এবং তার আশপাশের মানুষের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দিত। দুর্ঘটনার পর পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির স্মৃতি তুলে ধরে শোক প্রকাশ করেছেন। ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এল গুয়িন্ডির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা বা তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার দায় বা কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। সূত্র: ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল, ওয়ার্ল্ড বডিবিল্ডিং নিউজ
হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আটক করা মার্কিন চালকবিহীন ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ড্রোনটির প্রযুক্তি ও কাঠামো পরীক্ষা করে এর রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু করা হবে। মঙ্গলবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত সামরিক প্রযুক্তির মোকাবিলা করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তার দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির কিছু অংশ এখন ইরানের হাতে এসেছে। মোহেবি বিশেষভাবে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিমানে উন্নত ধাতব কাঠামো, রাডারে শনাক্ত হওয়া কঠিন করার প্রযুক্তি, উচ্চ উচ্চতায় উড্ডয়ন এবং অস্ত্র বহনের সক্ষমতার মতো প্রযুক্তি রয়েছে। আইআরজিসির এ কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরানের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এফ-৩৫কে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম হয়েছে। ডুবো ড্রোনটি নিয়ে ইরানের বক্তব্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে আইআরজিসি জানায়, তারা হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন চালকবিহীন ডুবো যান আটক করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভ-এলডি মডেলের ডুবো যান হিসেবে শনাক্ত করে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবো যান। এটি সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, গোয়েন্দা ও নজরদারি কার্যক্রম, পানির নিচের অবকাঠামো পরিদর্শন এবং সমুদ্রপথে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার মতো বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। যানটি দীর্ঘ সময় পানির নিচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য তৈরি। তবে ড্রোনটি আটকের গুরুত্ব নিয়ে ওয়াশিংটনের বক্তব্য ইরানের দাবির চেয়ে ভিন্ন। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোনটি আটকের আগে ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এটি পুরোনো মডেলের একটি ড্রোন এবং এতে সংবেদনশীল তথ্য বা শ্রেণিবদ্ধ সোনার ও রাডার সরঞ্জাম ছিল না। এ কারণে ড্রোনটি ইরানের হাতে যাওয়ার পর দেশটি এর মাধ্যমে কতটা সামরিক সুবিধা নিতে পারবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে সামরিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান ক্লার্ক বলেছেন, ইরানি প্রকৌশলীরা ড্রোনটির যান্ত্রিক কাঠামো বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হতে পারেন। তবে এর সফটওয়্যার ও সুরক্ষা ব্যবস্থা একইভাবে অনুকরণ করা অনেক বেশি কঠিন হতে পারে। তবে ইরানের জন্য এমন প্রযুক্তি বিশ্লেষণের ঘটনা নতুন নয়। ২০১১ সালে দেশটি মার্কিন আরকিউ-১৭০ সেনটিনেল চালকবিহীন গোয়েন্দা বিমান আটক করার পর সেটির নকশা বিশ্লেষণ করে নিজস্ব সংস্করণ তৈরির দাবি করেছিল। সেই ঘটনার পর থেকে আটক করা মার্কিন প্রযুক্তি ইরানের নিজস্ব সামরিক সরঞ্জাম উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখে, তা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়ে আসছে। এবারের ডুবো ড্রোন আটকের ঘটনাটি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ঘটেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। ফলে একটি উন্নত চালকবিহীন ডুবো যান ইরানের হাতে চলে যাওয়ার ঘটনাটি সামরিক প্রযুক্তির পাশাপাশি কৌশলগত দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আইআরজিসির মুখপাত্র মোহেবি দাবি করেছেন, ইরানের হাতে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান, সহায়ক ও পরিবহন বিমান, নজরদারি উড়োজাহাজ, ডুবো যান এবং চালকবিহীন যান রয়েছে। তবে এসব দাবির সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোনটির যান্ত্রিক প্রযুক্তি ইরান কিছুটা কাজে লাগাতে পারলেও এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার বড় কোনো অংশ হুবহু অনুকরণ করা সম্ভব হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত চালকবিহীন সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রচারিত সক্ষমতার ভাবমূর্তির ওপর প্রতীকী প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: রয়টার্স, প্রেস টিভি, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি সান মার্কোসে (সিএসইউএসএম) চলতি শরৎ সেমিস্টার শুরুর পর তিন সপ্তাহের মধ্যে ধর্ষণের চারটি অভিযোগের খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র জেরি ম্যাককরমিকের তথ্য অনুযায়ী, চারটি ঘটনা ঘটেছে ৫, ৬, ১৩ ও ১৮ সেপ্টেম্বর। ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবন দ্য কোয়াড, ইউনিভার্সিটি ভিলেজ অ্যাপার্টমেন্টস এবং ব্ল্যাক ওক হলে ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। চারটি ঘটনাই আলাদা এবং তদন্তাধীন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনায় ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত ব্যক্তি একে অপরকে চিনতেন বা তাদের মধ্যে পরিচয় ছিল। ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করছে না বিশ্ববিদ্যালয়। গোপনীয়তার কারণে তদন্ত চলাকালে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। ঘটনাগুলোর পর ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর এক শিক্ষার্থী চেঞ্জ ডট অর্গে একটি আবেদন শুরু করেন। এতে ক্যাম্পাসের পার্কিং এলাকা, দ্য কোয়াড এবং পর্যাপ্ত আলো নেই এমন জায়গায় নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে বিষয়ে আরও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশেরও দাবি জানানো হয়েছে। আবেদনে ওই শিক্ষার্থী বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার অধিকার রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা যথেষ্ট সাড়া পাননি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ দাবির বিষয়ে আলাদাভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেছে কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অবশ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। ক্যাম্পাসে পুলিশের টহল বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসিক এলাকার কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসিডেন্ট এলেন নিউফেল্টও শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস কমিউনিটির উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানোর কথা বলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র জেরি ম্যাককরমিক বলেন, যৌন সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের ঘটনার জন্য ভুক্তভোগীকে দায়ী করা উচিত নয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সম্মতি হতে হবে স্পষ্ট, স্বেচ্ছায় দেওয়া এবং চলমান। শুধু পরিচিতি বা সম্পর্ক থাকার কারণে কারও সম্মতি ধরে নেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রতিরোধমূলক শিক্ষা ও সম্মতি বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা ও গোপনীয় পরামর্শের ব্যবস্থাও রয়েছে। সেমিস্টারের শুরুতে কলেজ ক্যাম্পাসে যৌন সহিংসতার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বাড়তে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম কয়েক সপ্তাহকে অনেক সময় ‘রেড জোন’ বলা হয়। সিএসইউএসএমও জানিয়েছে, শরৎ সেমিস্টারের প্রথম ছয় সপ্তাহকে এ ধরনের ঝুঁকির সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে ওই সময়ের প্রতিটি ঘটনায় একই কারণ বা প্যাটার্ন রয়েছে। চারটি ঘটনার বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের তথ্য জানানো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সিএসইউএসএমের পুলিশ বিভাগও ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ৯১১ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: এনবিসি ৭ সান দিয়েগো
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির কানসাস সিটিতে এক মাস বয়সী মেয়েশিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন ২৮ বছর বয়সী মারাইয়া থমাস। আদালতে করা সমঝোতার অংশ হিসেবে প্রথম-ডিগ্রির হত্যা মামলা বাদ দেওয়া হয়েছে। শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় শিশু কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কারাগারে কাটানো সময় এই সাজা থেকে বাদ যাবে। ফলে তার আরও প্রায় ১১ বছর কারাভোগ করার কথা রয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কানসাস সিটির একটি বাড়িতে। সেদিন স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয়, একটি শিশু শ্বাস নিচ্ছে না। পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এক মাস বয়সী শিশুটিকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। শিশুটির নাম ছিল জা'রিয়াহ মে। আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটিকে ঘুম পাড়ানোর সময় ভুল করে খাটের বদলে ওভেনে রেখে দিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের জানান থমাস। তার এই বক্তব্যই পরে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। তবে কীভাবে এমন ভুল হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রকাশ্য আদালতের নথিতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময় শিশুটির শরীরে গুরুতর পোড়ার চিহ্ন ছিল। তদন্তকারীদের নথিতে তার পোশাক ও ডায়াপার শরীরের সঙ্গে লেগে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর এক স্বজনকে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসতে বলা হয়েছিল, কারণ শিশুটির সঙ্গে কিছু একটা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছিল। বাড়িতে পৌঁছে তিনি ধোঁয়ার গন্ধ পান এবং শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ঘটনার পর থমাসের বিরুদ্ধে প্রথমে শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করে মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়। পরে মামলায় আরও গুরুতর অভিযোগ যুক্ত হয়। ২০২৪ সালের শেষ দিকে তার বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছিল এবং বিচার শুরুর প্রস্তুতি চলছিল। তবে মঙ্গলবার আদালতে করা সমঝোতার মাধ্যমে মামলার মোড় ঘুরে যায়। থমাস প্রথম-ডিগ্রির শিশু কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এর বিনিময়ে প্রথম-ডিগ্রির হত্যা অভিযোগ বাদ দেওয়া হয়। আদালত তাকে মিসৌরি সংশোধনাগার বিভাগে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন এবং প্রবেশন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কানসাস সিটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএসএইচবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থমাস ইতোমধ্যে যে সময় কারাগারে কাটিয়েছেন, তা তার সাজা থেকে সমন্বয় করা হবে। এ কারণে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কার্যত প্রায় ১১ বছর কারাভোগের কথা বলা হয়েছে। ঘটনার পর জ্যাকসন কাউন্টির প্রসিকিউটর জ্যঁ পিটার্স বেকার শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই ঘটনায় একটি মূল্যবান প্রাণ হারানোর বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বিচারব্যবস্থা যথাযথভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। ২০২৪ সালে মামলাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে এখন দোষ স্বীকারের মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। হত্যা মামলার পরিবর্তে শিশু কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন থমাস এবং তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সূত্র: কেএসএইচবি, জ্যাকসন কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের দেখাশোনার জন্য একজন অভিভাবককে ঘরে থাকার সুযোগ তৈরি করতে বছরে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার একটি প্রস্তাব করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলেও বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী অভিভাবক চাকরি ছেড়ে ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালনে চলে যাবেন কি না, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যয়ের পর সন্তানদের দেখাশোনার খরচ অনেক পরিবারের জন্য অন্যতম বড় ব্যয়। বিশেষ করে যেসব পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দুজনই কাজ করেন, তাদের জন্য শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র বা ব্যক্তিগত পরিচর্যাকারীর খরচ বড় আর্থিক চাপ তৈরি করে। কিন্তু এই খরচ বেশি হলেও অনেক অভিভাবকের পক্ষে চাকরি ছেড়ে দেওয়া সহজ নয়। কারণ চাকরির বেতন ছাড়াও স্বাস্থ্যবিমা, অবসরকালীন সঞ্চয় ও অন্যান্য কর্মসংস্থান সুবিধা পরিবারের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবের আওতায় যোগ্য পরিবারকে প্রতি সন্তান বছরে ৯ হাজার ডলার পর্যন্ত দেওয়া হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, একটি দম্পতির একজনকে নির্দিষ্ট সময় কাজ করতে হবে এবং অন্যজনকে সন্তানের যত্ন নেওয়ার জন্য ঘরে থাকতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের আয় সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হতে পারে। তবে পরিকল্পনাটির চূড়ান্ত নিয়ম ও যোগ্যতার শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদদের একজন রেবেকা গ্রুন ফন ইয়োল্ক নিউজউইককে বলেন, এই ধরনের সহায়তা জার্মানিতে আগে চালু থাকা একটি ব্যবস্থার সঙ্গে কিছুটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার মতে, এ ধরনের অর্থ অনেক সময় এমন পরিবারই বেশি পায়, যারা কোনোভাবেই প্রাতিষ্ঠানিক শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থার ব্যবহার করত না। অর্থাৎ যারা আগে থেকেই সন্তানদের দেখাশোনার জন্য একজন অভিভাবককে ঘরে রাখার পরিকল্পনা করেছিলেন বা ইতোমধ্যে তা করছিলেন, তারাই তুলনামূলকভাবে বেশি উপকৃত হতে পারেন। মার্কিন পরিবারের জন্য বছরে ৯ হাজার ডলার কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে পরিবারের আয়, সন্তানের সংখ্যা এবং শিশু পরিচর্যার ব্যয়ের ওপর। নিউজউইকের প্রতিবেদনে মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পূর্ণকালীন কর্মরত মায়েদের মধ্যম বার্ষিক আয় প্রায় ৬৫ হাজার ডলার। কর পরিশোধের পর অঙ্গরাজ্য ও ব্যক্তিগত কর পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই আয় কমে প্রায় ৫২ হাজার ডলারে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে, একটি শিশুর শিশু পরিচর্যার গড় বার্ষিক খরচ প্রায় ১৩ হাজার ডলার হলে, শুধু একজন কর্মজীবী অভিভাবকের চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত আর্থিকভাবে সব পরিবারের জন্য লাভজনক হবে না। কারণ ৯ হাজার ডলারের সহায়তা পাওয়ার পরও চাকরি থেকে পাওয়া আয়, স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য সুবিধা হারানোর বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। তবে একাধিক ছোট সন্তান রয়েছে এমন পরিবারের ক্ষেত্রে হিসাবটি ভিন্ন হতে পারে। গেটিসবার্গ কলেজের অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক ব্রেন্ডন কাশিং-ড্যানিয়েলস নিউজউইককে বলেন, কয়েকটি ছোট সন্তান থাকা পরিবারের ক্ষেত্রে একজন অভিভাবকের চাকরি ছেড়ে ঘরে থাকার সিদ্ধান্ত আর্থিকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। তিনি উদাহরণ হিসেবে মিসিসিপির একটি পরিবারের কথা উল্লেখ করেন। ধরা যাক, পরিবারের একজনের বার্ষিক আয় ৮৫ হাজার ডলার এবং অন্যজনের আয় ৫০ হাজার ডলার। তিন সন্তানের জন্য বছরে প্রায় ৩০ হাজার ডলার শিশু পরিচর্যা ব্যয় হলে, একজন অভিভাবক চাকরি ছেড়ে ঘরে থাকার ক্ষেত্রে কর সাশ্রয় এবং তিন সন্তানের জন্য মোট ২৭ হাজার ডলার সহায়তা মিলিয়ে পরিবারের হাতে থাকা অর্থ বাড়তে পারে। বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশেও শিশু পরিচর্যার পরিবর্তে বাড়িতে সন্তান দেখাশোনা করা অভিভাবকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ফিনল্যান্ডে তিন বছরের কম বয়সী সন্তানকে সরকারি দিবাযত্ন কেন্দ্রে না পাঠানো পরিবারকে মাসিক ভাতা দেওয়া হয়। সেখানে মূল ভাতার পরিমাণ ৩৭৭.৬৮ ইউরো এবং অতিরিক্ত প্রতিটি সন্তানের জন্য আরও ১১৩.০৭ ইউরো দেওয়া হয়। হাঙ্গেরিতেও নির্দিষ্ট শর্তে অভিভাবকেরা সন্তানকে বাড়িতে রাখার জন্য সহায়তা পেতে পারেন। দুই বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানের ক্ষেত্রে একজন অভিভাবক তার বেতনের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পেতে পারেন। এরপর সন্তান তিন বছর বয়সে পৌঁছানো পর্যন্ত মাসিক সর্বোচ্চ ২৮ হাজার ৫০০ হাঙ্গেরিয়ান ফরিন্ট দেওয়া হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও একমত দেখা যায়নি। রক্ষণশীল ভাষ্যকার মাইকেল নোলস এটিকে ট্রাম্পের অন্যতম সেরা নীতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রক্ষণশীল সংগঠন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএর মুখপাত্র অ্যান্ড্রু কোলভেটও প্রস্তাবটির প্রশংসা করেছেন। তবে সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের মতে, ৯ হাজার ডলার যথেষ্ট নয়। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এই অর্থ আরও বাড়ানো উচিত এবং যারা সন্তানদের বাড়িতে রেখে পড়াশোনা করান, তাদেরও বিভিন্ন কর থেকে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার। অন্যদিকে, কিছু রিপাবলিকানই প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শিক্ষা বিভাগের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যাঞ্জেলা মরাবিতো বলেছেন, কর্মজীবী মায়েদের কাছ থেকে কর নিয়ে অন্যদের ঘরে থাকার জীবনযাপনকে অর্থায়ন করা হলে তা কর্মজীবী নারীদের জন্য নেতিবাচক হতে পারে। প্রস্তাবটি নিয়ে আরেকটি বড় প্রশ্ন উঠেছে শিশু পরিচর্যার বিদ্যমান সরকারি তহবিল নিয়ে। সমালোচকেরা বলছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে শিশু পরিচর্যা ও উন্নয়ন তহবিলের অর্থ নতুনভাবে বণ্টন করতে হতে পারে। এই তহবিলের আওতায় অঙ্গরাজ্যগুলো নিম্নআয়ের পরিবারকে শিশু পরিচর্যার ব্যয়ে সহায়তা করে থাকে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর রিসার্চ অন ইকুয়াল অপরচুনিটি বলেছে, বর্তমানে যারা এই তহবিলের সহায়তা পাচ্ছেন, তাদের জন্য বরাদ্দ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে একজন অভিভাবক চাকরি ছাড়বেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত শুধু শিশু পরিচর্যার খরচের সঙ্গে বেতনের তুলনার ওপর নির্ভর করে না। চাকরি ছাড়লে দীর্ঘমেয়াদে অবসরকালীন সঞ্চয় বা ৪০১(কে) সুবিধা হারানোর সম্ভাবনাও থাকে। আবার সন্তানরা স্কুলে যাওয়ার বয়সে পৌঁছানোর পর কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসাও সবসময় সহজ হয় না। স্বাস্থ্যবিমাও অনেক পরিবারের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো পরিবারে একজনের বেতন বেশি হলেও অন্যজনের চাকরিতে তুলনামূলক ভালো বা কম খরচের স্বাস্থ্যবিমা থাকতে পারে। ফলে কোন অভিভাবক চাকরি ছাড়বেন, সেটি নির্ধারণ করতে পরিবারগুলোকে একাধিক আর্থিক ও সামাজিক বিষয় বিবেচনা করতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসন মে ২০২৬-এ পরিবার ও শিশু পরিচর্যা নিয়ে বেশ কয়েকটি উদ্যোগের কথা জানিয়েছিল। হোয়াইট হাউস তখন শিশু পরিচর্যার সুযোগ ও সামর্থ্য বাড়ানোর পাশাপাশি ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালন করা অভিভাবকদের জন্য আরও সুযোগ তৈরির কথা জানিয়েছিল। তবে বছরে ৯ হাজার ডলার করে সহায়তার প্রস্তাবের চূড়ান্ত কাঠামো, অর্থের উৎস এবং কারা এর আওতায় পড়বেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কতসংখ্যক পরিবার এতে উপকৃত হবে বা কতজন কর্মজীবী অভিভাবক চাকরি ছাড়বেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সূত্র: নিউজউইক, হোয়াইট হাউস
যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’ (এসিএ) বা ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি থেকে প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহককে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মঙ্গলবার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধিত হওয়া কিংবা বাস্তবে অস্তিত্ব নেই—এমন গ্রাহকদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি জালিয়াতি দমন টাস্কফোর্সের প্রধান জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, এই গ্রাহকদের ভর্তুকি বাতিল করার মাধ্যমে ২২০ কোটি (২.২ বিলিয়ন) ডলার সরকারি অর্থ সাশ্রয় হবে। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে তার পাশে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার্স ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস)-এর প্রশাসক ড. মেহমেট ওজসহ প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা। ভ্যান্স জানান, প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার নিবন্ধনের আওতায় থাকা এই ৭ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহকের যোগ্যতা সঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি বলেই তাদের সুবিধা বাতিল করা হচ্ছে। এছাড়া আরও ৪ লাখ ১৯ হাজার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে তারা এই সরকারি সুবিধার যোগ্য কি না, তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই করা হবে। পাশাপাশি যেসব এজেন্ট বা ব্রোকার স্বাস্থ্যবিমার জন্য গ্রাহকদের নিবন্ধন করান, নতুনদের ক্ষেত্রে তাদের ওপর ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে প্রশাসন। কর্মকর্তাদের দাবি, এসব ব্রোকারই স্বাস্থ্যবিমা খাতের বেশিরভাগ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেসের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মার্কিন নাগরিক এসিএ মার্কেটপ্লেস স্বাস্থ্য পরিকল্পনার আওতায় রয়েছেন। বাইডেন আমলে এই কর্মসূচির আওতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বাস্থ্যসেবা নীতি বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থা কেএফএফ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সিনথিয়া কক্স বলেন, যারা সত্যিই জালিয়াতি করেছেন তাদের বিমা বাতিল হওয়া উচিত ঠিকই, কিন্তু গ্রাহকদের শনাক্ত করার এই প্রক্রিয়াটি সঠিক কি না এবং বাতিল হওয়া সবাই আসলেই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। বাইডেন আমলের সিএমএস কর্মকর্তা এলেন মন্টজও প্রশাসনের স্বচ্ছতার অভাবের সমালোচনা করে বলেছেন, ঠিক কীসের ভিত্তিতে এই গ্রাহকদের বাতিল করা হলো, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এদিকে, ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারাও এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রিচার্ড ই. নিল বলেন, রিপাবলিকানরা এমনিতেই স্বাস্থ্যসেবা খাতে চরম সংকট তৈরি করেছে, আর ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবের যুদ্ধবিমানে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। রিয়াদের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের পর সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি থেকে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ‘ভয়েজার’ সামরিক বিমান মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী লুক পোলার্ড। বিবিসি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই সামরিক সহায়তা সম্পূর্ণ ‘আত্মরক্ষামূলক’ অভিযানের জন্য বরাদ্দ থাকবে এবং এটি কয়েক সপ্তাহের মতো একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পরিচালিত হবে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি রাজধানী রিয়াদ এবং লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হুথিরা দফায় দফায় হামলা চালানোর প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত এল। লন্ডনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আরএএফ ভয়েজার বিমানের মাধ্যমে আকাশে জ্বালানি ভরার এই ব্যবস্থার ফলে সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করে হুথিদের নিক্ষিপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে পারবে। এই পদক্ষেপকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক রুট লোহিত সাগরের কৌশলগত মোখা বন্দর ও পেরিম দ্বীপ সম্প্রতি হুথিরা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, লোহিত সাগরে সংঘাত বৃদ্ধি পেলে তা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যস্ফীতি আরও উসকে দিতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণে রাখতেই মিত্রদেশকে এই প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুত্তেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সৌদি আরবকে ইউরোপীয় মিত্রদের সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ব্রিটিশ বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রতীকী অর্থে একটিমাত্র জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান পাঠানো হলেও দীর্ঘমেয়াদে এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের গভীরে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইয়েমেনে হুথি লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাজ্য।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের নিপীড়িত মানুষের জন্য শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি কার্যত কঠোর ও সীমিত রাখলেও দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ছাড় দিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশটির ১৭ হাজার ৫০০ শ্বেতাঙ্গ ‘আফ্রিকানার’কে আগামী এক বছরে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। কংগ্রেসের কাছে পাঠানো মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক নোটিশের বরাতে সিবিএস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৭ অর্থবছরে নির্ধারিত এই বিশেষ শরণার্থী কোটার সিংহভাগই দেওয়া হবে ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে, যাদের ওপর বর্ণবাদী কারণে নির্যাতন চলছে বলে দাবি করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্ণবাদ-পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকায় ডাচ ও ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত এই আফ্রিকানাররা তীব্র বৈষম্য ও দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে জানিয়েছে, ক্ষতিপূরণ ছাড়াই কৃষি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, শিক্ষা ও চাকরিতে সমান সুযোগ বিনষ্টকারী সরকারি নীতি এবং জাতিগত বিদ্বেষমূলক সহিংসতার মুখে পড়ছে এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী। এমনকি আফ্রিকানারদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগে সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তাদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে পরিচালিত হতে যাওয়া এই পুনর্বাসন কর্মসূচি প্রসঙ্গে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা, এই আফ্রিকানাররা মার্কিন সমাজের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেবে এবং মার্কিন করদাতাদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বোঝা হবে না। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ আফ্রিকায় আফ্রিকানারদের ওপর 'গণহত্যা' চলছে বলে দাবি করে আসছেন, তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার শুরু থেকেই এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে। অতীতে ওভাল অফিসে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সামনে ট্রাম্প দেশটির খামারগুলোতে কৃষক হত্যার ভিডিও দেখিয়ে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তবে স্বাধীন বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকার খামারগুলোতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো দেশটির সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও অপরাধ প্রবণতারই একটি অংশ, যা সব বর্ণের নাগরিককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে; একে শুধু শ্বেতাঙ্গদের ওপর নির্দিষ্ট 'গণহত্যা' হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার মার্কিন দাবিকে চরম বিতর্কিত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
নিউইয়র্ক সিটিতে বাড়ি কেনা অনেকের কাছেই অধরা স্বপ্ন মনে হলেও, প্রথমবার বাড়ি কিনতে যাওয়া যোগ্য ক্রেতাদের জন্য বেশ কয়েকটি বিশেষ সরকারি সহায়তার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংরক্ষণ ও উন্নয়ন বিভাগের ‘হোমফার্স্ট’ কর্মসূচি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ডাউন পেমেন্ট এবং বাড়ি কেনার আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাওয়া সম্ভব। নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরো—ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, ম্যানহাটন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে ১ থেকে ৪ ইউনিটের বাড়ি, কনডোমিনিয়াম বা সমবায়ী মালিকানার বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে এই সহায়তা পাওয়া যাবে। তবে শর্ত হলো, বাড়িটি অবশ্যই ক্রেতার প্রধান বাসস্থান হতে হবে এবং কেনার আগে নির্ধারিত আবাসন মানের পরিদর্শনে তা উত্তীর্ণ হতে হবে। এই ১ লাখ ডলারের সহায়তাটি কোনো সরাসরি নগদ অনুদান নয়, বরং এটি নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষ ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়। ৪০ হাজার ডলার বা তার কম সহায়তা নিলে ওই বাড়িতে ক্রেতাকে অন্তত ১০ বছর এবং ৪০ হাজার ডলারের বেশি সহায়তা নিলে অন্তত ১৫ বছর প্রধান বাসস্থান হিসেবে বসবাস করতে হবে। এর পাশাপাশি আবেদনকারীর আয়ের নির্দিষ্ট সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে কার্যকর নিয়ম অনুযায়ী, এক সদস্যের পরিবারের সর্বোচ্চ বার্ষিক আয় ১ লাখ ৪২ হাজার ৫৬০ ডলার এবং চার সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে তা ২ লাখ ৩ হাজার ৫২০ ডলার হতে পারবে। এছাড়াও, এক ইউনিটের বাড়ির ক্ষেত্রে ব্রঙ্কস, ম্যানহাটন ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে সর্বোচ্চ মূল্যসীমা ৬ লাখ ৬১ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। হোমফার্স্টের পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংযোগ (Housing Connect) ব্যবস্থায় সাশ্রয়ী মূল্যে কনডোমিনিয়াম ও সমবায়ী মালিকানার বাড়ি কেনারও সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, মধ্যম ও মাঝারি আয়ের পরিবারের জন্য ‘মিচেল-লামা’ কর্মসূচির আওতায় সমবায়ী মালিকানার বাড়ি পাওয়ার বিকল্পও রয়েছে, যার জন্য আলাদা অপেক্ষমাণ তালিকা অনুসরণ করা হয়। আর যারা নিউইয়র্ক সিটির বাইরে বাড়ি কিনতে আগ্রহী, তাদের জন্য নিউইয়র্ক স্টেট মর্টগেজ এজেন্সির (SONYMA) অধীনেও বিভিন্ন ডাউন পেমেন্ট সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। তবে এই ধরনের যেকোনো সরকারি সুবিধার আওতায় বাড়ি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির সর্বশেষ নিয়মাবলি যাচাই করে অনুমোদিত হাউজিং কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় গৃহহীনদের আবাসনের জন্য নেওয়া একটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প বছরের পর বছর ধরে শেষ না হওয়ায় তা এক বিশাল অর্থের গর্তে পরিণত হয়েছে। গভর্নর গ্যাভিন নিওসমের ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের 'হোমকি' (Homekey) কর্মসূচির আওতায় ২০২০ সালে এল মন্টে শহরের অপরাধপ্রবণ এলাকা 'এম মোটেল'-এর সম্পত্তিটি অধিগ্রহণ করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল এটিকে গৃহহীনদের জন্য আবাসনে রূপান্তর করা। এই ৯৩-কক্ষের মোটেল অধিগ্রহণ ও সংস্কারের জন্য শুরুতে ১০.৩৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরও কয়েক মিলিয়ন ডলারের রাজ্য ও ফেডারেল তহবিল যুক্ত হয়েও প্রায় ৬ বছর পর প্রকল্পটির কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির প্রভাবশালী সুপারভাইজার হিলডা সোলিসের নামে প্রকল্পটির নতুন নাম দেওয়া হয় ‘হিলডা সোলিস রোজ কোর্ট’। তবে নামের চমকের চেয়ে এই দীর্ঘস্থায়ী নির্মাণকাজ প্রতিবেশীদের জন্য এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিবেশী বাল্ডউইন ভ্যালি অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ধুলাবালির কারণে তাদের সবসময় জানালা বন্ধ রাখতে হয়। এর চেয়েও বড় শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বারবার হওয়া গ্যাস লিকেজ। চলতি বছরে অন্তত দুবার গ্যাস লাইনে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়, যার কারণে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। এক গর্ভবতী নারী জানান, গ্যাস লিকেজের কারণে তিনি ও তার অনাগত সন্তানের স্বাস্থ্য নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সিটি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, মোটেলটি কেনার পর এর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সংস্কারকাজে প্রাথমিক অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন হয়েছে, যা বাজেটের সীমা ছাড়িয়ে যায়। প্যাসিফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ওয়েন ওয়াইনগার্টেন এই প্রকল্পটিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অর্থের অপচয়ের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ বলে সমালোচনা করেছেন। এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার হাউজিং অ্যান্ড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (HCD) বিভাগ জানিয়েছে, পরিবেশগত অনুমোদন ও অ্যাসবেস্টস অপসারণে জটিলতার কারণে এই বিলম্ব ঘটেছে এবং রোজ কোর্টের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এল মন্টে শহরকে আর কোনো তহবিল দেওয়া হবে না। কবে নাগাদ এই অন্তহীন ভোগান্তির অবসান হবে, তা নিয়ে এখনো অন্ধকারে স্থানীয় বাসিন্দারা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রঙ্কসে রাস্তা পার হওয়ার সময় এক দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় ইসমায়েল রদ্রিগেজ নামে ৬৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোর ৬টার ঠিক আগে পার্ক অ্যাভিনিউ ও ইস্ট ট্রেমন্ট অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলে এই মর্মান্তিক 'হিট-অ্যান্ড-রান' বা ধাক্কা দিয়ে পালানোর ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সূত্র জানিয়েছে, ঘাতক গাড়িটি সাদা রঙের এবং এটি সম্ভাব্য একটি বিলাসবহুল ল্যাম্বরগিনি গাড়ি হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী ইসমায়েল রদ্রিগেজ তার বাড়ি থেকে মাত্র তিন ব্লক দূরে ট্রেমন্ট এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় গাড়িটি তাকে প্রবল বেগে ধাক্কা দিয়ে না থেমেই দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায়। ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। ঘাতক চালককে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ, গাড়িটির সন্ধানে তল্লাশি চলছে। নিউইয়র্ক শহরে সম্প্রতি এ ধরনের দুর্ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত শুক্রবার রাতেই লোয়ার ইস্ট সাইডে ডারিয়া সেরকভ নামে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী সিটি বাইক চালানোর সময় খননকাজে ব্যবহৃত ট্রাকের চাপায় নিহত হয়। এ ছাড়া চলতি মাসের শুরুতে ডাউনটাউন ব্রুকলিনে থমাস বাকাস নামে ৭৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ই-স্কুটার চালানোর সময় সাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান। একের পর এক এমন সড়ক দুর্ঘটনায় সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে সাংবাদিকতা ও জনসংযোগ বিষয়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করেছে ভারত সরকার। ‘ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’ (আইটেক) স্কিমের আওতায় আগামী ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর ভারতের হায়দরাবাদে অবস্থিত ড. মারি চান্না রেড্ডি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। এই বিশেষ কোর্সটি মূলত অর্থনীতি, অর্থসংস্থান, বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে কর্মরত সাংবাদিকদের কথা বিবেচনায় রেখে সাজানো হয়েছে। প্রশিক্ষণে গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক, কৌশলগত যোগাযোগ এবং আধুনিক সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হবে। এছাড়া এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণার্থীরা হায়দরাবাদের হাইটেক সিটি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন। সেখানে তারা স্থানীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করতে পারবেন। কোর্সটি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক সাংবাদিককে সনদপত্র প্রদান করা হবে। ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই কর্মসূচিতে নির্বাচিত সাংবাদিকদের যাতায়াতের বিমানভাড়া, প্রশিক্ষণ ফি, আবাসন ও দৈনন্দিন ভাতাসহ যাবতীয় খরচ সম্পূর্ণভাবে ভারত সরকার বহন করবে। উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলোতে ৫ থেকে ১০ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আগ্রহী সাংবাদিকরা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গুগল ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রাথমিক মনোনয়নের পর নির্বাচিত প্রার্থীদের নিজ নিজ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি (NOC) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় অ্যালউইন প্রকাশ কুন্দের নামের এক ভারতীয় প্রবাসীকে নির্মমভাবে হত্যার পর লাশ গুম করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি ওমানের দিকে যাওয়ার একটি রুটে পার্ক করা একটি গাড়ির ভেতর থেকে তার ৯ টুকরো করা লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ওই ব্যক্তির বাড়ি ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উদুপি জেলার কুন্দাপুরে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর থেকেই তার স্ত্রী ও সন্তান নিখোঁজ রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিহতের ভাই সোমবার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর উদুপির পুলিশ সুপারের কাছে ন্যায়বিচারের দাবিতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। নিহতের ভাই অনিল প্রশান্ত কুন্দের জানান, অ্যালউইন গত ১৪ বছর ধরে শারজা বিমানবন্দরে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি সর্বশেষ ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। তার স্ত্রী টিনা কুন্দের শারজার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন এবং তাদের ছেলে সেখানে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। গত ২০ জুলাই অনিল তার ভাইকে ফোন করে না পেয়ে সন্দেহ করেন, কারণ এর বদলে আসা একটি মেসেজের ধরন অ্যালউইনের স্বাভাবিক কথার মতো ছিল না। এক সপ্তাহ পর আবারও ফোন করে সাড়া না পেয়ে তিনি শারজায় অবস্থানরত ভাইয়ের এক সহপাঠীর মাধ্যমে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সহপাঠী এবং কোম্পানির তরফ থেকে প্রথমে জানানো হয়েছিল যে অ্যালউইন ভারতে ফিরে গেছেন। কিন্তু পরে পাসপোর্ট রেকর্ড চেক করে দেখা যায়, তিনি শারজাতেই অবস্থান করছিলেন। নিখোঁজের অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশি তদন্তে একটি গাড়ির ভেতর দুটি ব্যাগে ভরা অবস্থায় অ্যালউইনের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। অনিল জানান, বুকে ছুরিকাঘাত করে দেহ ৯ টুকরো করার মতো কাজ অত্যন্ত পেশাদার অপরাধীদের পক্ষেই সম্ভব। তিনি আরও দাবি করেন, একটি সিসিটিভি ফুটেজে দুই পুরুষ ও এক নারীকে তাদের ভবন থেকে বের হতে দেখা গেছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য কী বা কারা এর সাথে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। নিহতের স্ত্রী টিনা ও তার ছেলের আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি এই ঘটনায় বড় ধরনের রহস্যের জন্ম দিয়েছে। শারজা পুলিশের পাশাপাশি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।