ক্যালিফোর্নিয়ায় গৃহহীনদের আবাসন প্রকল্পে ৬ বছরেও শেষ হয়নি কাজ, খরচ বাড়ছে কোটি কোটি ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় গৃহহীনদের আবাসনের জন্য নেওয়া একটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প বছরের পর বছর ধরে শেষ না হওয়ায় তা এক বিশাল অর্থের গর্তে পরিণত হয়েছে। গভর্নর গ্যাভিন নিওসমের ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের 'হোমকি' (Homekey) কর্মসূচির আওতায় ২০২০ সালে এল মন্টে শহরের অপরাধপ্রবণ এলাকা 'এম মোটেল'-এর সম্পত্তিটি অধিগ্রহণ করা হয়।
উদ্দেশ্য ছিল এটিকে গৃহহীনদের জন্য আবাসনে রূপান্তর করা। এই ৯৩-কক্ষের মোটেল অধিগ্রহণ ও সংস্কারের জন্য শুরুতে ১০.৩৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরও কয়েক মিলিয়ন ডলারের রাজ্য ও ফেডারেল তহবিল যুক্ত হয়েও প্রায় ৬ বছর পর প্রকল্পটির কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির প্রভাবশালী সুপারভাইজার হিলডা সোলিসের নামে প্রকল্পটির নতুন নাম দেওয়া হয় ‘হিলডা সোলিস রোজ কোর্ট’। তবে নামের চমকের চেয়ে এই দীর্ঘস্থায়ী নির্মাণকাজ প্রতিবেশীদের জন্য এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিবেশী বাল্ডউইন ভ্যালি অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ধুলাবালির কারণে তাদের সবসময় জানালা বন্ধ রাখতে হয়।
এর চেয়েও বড় শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বারবার হওয়া গ্যাস লিকেজ। চলতি বছরে অন্তত দুবার গ্যাস লাইনে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়, যার কারণে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। এক গর্ভবতী নারী জানান, গ্যাস লিকেজের কারণে তিনি ও তার অনাগত সন্তানের স্বাস্থ্য নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
সিটি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, মোটেলটি কেনার পর এর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সংস্কারকাজে প্রাথমিক অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন হয়েছে, যা বাজেটের সীমা ছাড়িয়ে যায়। প্যাসিফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ওয়েন ওয়াইনগার্টেন এই প্রকল্পটিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অর্থের অপচয়ের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ বলে সমালোচনা করেছেন।
এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার হাউজিং অ্যান্ড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (HCD) বিভাগ জানিয়েছে, পরিবেশগত অনুমোদন ও অ্যাসবেস্টস অপসারণে জটিলতার কারণে এই বিলম্ব ঘটেছে এবং রোজ কোর্টের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এল মন্টে শহরকে আর কোনো তহবিল দেওয়া হবে না। কবে নাগাদ এই অন্তহীন ভোগান্তির অবসান হবে, তা নিয়ে এখনো অন্ধকারে স্থানীয় বাসিন্দারা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক সিটিতে বাড়ি কেনা অনেকের কাছেই অধরা স্বপ্ন মনে হলেও, প্রথমবার বাড়ি কিনতে যাওয়া যোগ্য ক্রেতাদের জন্য বেশ কয়েকটি বিশেষ সরকারি সহায়তার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংরক্ষণ ও উন্নয়ন বিভাগের ‘হোমফার্স্ট’ কর্মসূচি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ডাউন পেমেন্ট এবং বাড়ি কেনার আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাওয়া সম্ভব। নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরো—ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, ম্যানহাটন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে ১ থেকে ৪ ইউনিটের বাড়ি, কনডোমিনিয়াম বা সমবায়ী মালিকানার বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে এই সহায়তা পাওয়া যাবে। তবে শর্ত হলো, বাড়িটি অবশ্যই ক্রেতার প্রধান বাসস্থান হতে হবে এবং কেনার আগে নির্ধারিত আবাসন মানের পরিদর্শনে তা উত্তীর্ণ হতে হবে। এই ১ লাখ ডলারের সহায়তাটি কোনো সরাসরি নগদ অনুদান নয়, বরং এটি নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষ ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়। ৪০ হাজার ডলার বা তার কম সহায়তা নিলে ওই বাড়িতে ক্রেতাকে অন্তত ১০ বছর এবং ৪০ হাজার ডলারের বেশি সহায়তা নিলে অন্তত ১৫ বছর প্রধান বাসস্থান হিসেবে বসবাস করতে হবে। এর পাশাপাশি আবেদনকারীর আয়ের নির্দিষ্ট সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে কার্যকর নিয়ম অনুযায়ী, এক সদস্যের পরিবারের সর্বোচ্চ বার্ষিক আয় ১ লাখ ৪২ হাজার ৫৬০ ডলার এবং চার সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে তা ২ লাখ ৩ হাজার ৫২০ ডলার হতে পারবে। এছাড়াও, এক ইউনিটের বাড়ির ক্ষেত্রে ব্রঙ্কস, ম্যানহাটন ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে সর্বোচ্চ মূল্যসীমা ৬ লাখ ৬১ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। হোমফার্স্টের পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংযোগ (Housing Connect) ব্যবস্থায় সাশ্রয়ী মূল্যে কনডোমিনিয়াম ও সমবায়ী মালিকানার বাড়ি কেনারও সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, মধ্যম ও মাঝারি আয়ের পরিবারের জন্য ‘মিচেল-লামা’ কর্মসূচির আওতায় সমবায়ী মালিকানার বাড়ি পাওয়ার বিকল্পও রয়েছে, যার জন্য আলাদা অপেক্ষমাণ তালিকা অনুসরণ করা হয়। আর যারা নিউইয়র্ক সিটির বাইরে বাড়ি কিনতে আগ্রহী, তাদের জন্য নিউইয়র্ক স্টেট মর্টগেজ এজেন্সির (SONYMA) অধীনেও বিভিন্ন ডাউন পেমেন্ট সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। তবে এই ধরনের যেকোনো সরকারি সুবিধার আওতায় বাড়ি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির সর্বশেষ নিয়মাবলি যাচাই করে অনুমোদিত হাউজিং কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় গৃহহীনদের আবাসন প্রকল্পে ৬ বছরেও শেষ হয়নি কাজ, খরচ বাড়ছে কোটি কোটি ডলার
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ল্যাম্বরগিনির ধাক্কায় ৬৮ বছরের বৃদ্ধ নি হত, পলাতক চালক
ট্রাম্পের কাছে পরাজয়ের পর নির্বাচনী প্রচারণায় কমলা হ্যারিসকে চান না একাধিক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী
ডেলিভারি কর্মীদের বকশিশ (টিপস) আটকে রাখার অভিযোগে জনপ্রিয় ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ডোরড্যাশের সঙ্গে ১৩ কোটি ১০ লাখ (১৩১ মিলিয়ন) ডলারের ঐতিহাসিক আপস-মীমাংসা বা সেটেলমেন্ট করেছে নিউইয়র্ক শহর। এই বিশাল অঙ্কের জরিমানার ঘোষণা দিতে গিয়ে ডোরড্যাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টনি শু-এর ‘লোভী অ্যালগরিদম’ ব্যবহারের ব্যবসায়িক নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। মেয়রের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পৌরসভার ইতিহাসে ফুড ডেলিভারি কর্মীদের অধিকার আদায়ে এটিই এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় সেটেলমেন্ট। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র মামদানি গত জুলাই মাসে প্রচারিত একটি পডকাস্টে টনি শু-এর দেওয়া বক্তব্যের সূত্র ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মাত্র দুই মাস আগে টনি শু ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দিতে গিয়ে বলেছিলেন যে, একজন সিইওকে সব সময় 'লোভী অ্যালগরিদম' গ্রহণ করে দেখতে হবে যেখান থেকে আরও বেশি কিছু বের করা যায় কি না। এর কড়া সমালোচনা করে মেয়র বলেন, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ‘লোভী অ্যালগরিদম’ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যা দীর্ঘমেয়াদি পরিণতির কথা একেবারেই চিন্তা না করে প্রতি পদক্ষেপে শুধু তাৎক্ষণিক ও সর্বোচ্চ লাভের পথটি বেছে নেয়। মুনাফালোভী এই ব্যবসায়িক মডেলের কারণে নিউইয়র্ক শহরের ডেলিভারি কর্মীদের দীর্ঘকাল ধরে চরম মূল্য চোকাতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মেয়র মামদানি। তিনি বলেন, হাজার হাজার মানুষ ডোরড্যাশে পণ্য ডেলিভারির কাজ করেন এবং তাদের সবাই কোম্পানির এই অমানবিক নীতির প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী। শহরের কর্মজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে এই ঐতিহাসিক জরিমানা ও সেটেলমেন্ট একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এনওয়াইপিডি ট্রাফিক কোর্সে ভ্যালেডিক্টোরিয়ান হয়ে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি আল মোর্শেদ
লং আইল্যান্ডে প্রেমিকার সাবেক সঙ্গীকে হ ত্যা, ২৫ বছরের কারাদণ্ড প্রেমিকের
পার্টির আনন্দ মুহূর্তেই আতঙ্কে, টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গুলিবিদ্ধ ২০ বছরে
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর পশ্চিমাঞ্চলে তদন্ত চালানোর সময় একটি কুকুরের হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এ সময় আক্রান্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালালে কুকুরটি মারা যায়। ঘটনাটি সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার কিছু আগে নর্থ ক্রিশ্চিয়ানা অ্যাভিনিউয়ের ৭০০ নম্বর এলাকায় ঘটে। শিকাগো পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা ওই এলাকায় একটি ঘটনার তদন্ত করছিলেন। এ সময় একটি কুকুর তাদের কাছে এসে এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা করে। আক্রান্ত কর্মকর্তা নিজের আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালালে কুকুরটির শরীরে গুলি লাগে এবং সেটি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। ঘটনায় মোট তিন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। তবে কারও আঘাতই প্রাণঘাতী নয়। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পুলিশ জানিয়েছে, তিনজনের অবস্থাই ভালো। পুলিশ সদস্যদের বাইরে আর কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর শহরের প্রাণী পরিচর্যা ও নিয়ন্ত্রণ বিভাগকে খবর দেওয়া হয়। কুকুরটি কোথা থেকে এসেছিল, এর মালিক কে কিংবা ঠিক কী পরিস্থিতিতে সেটি পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা করেছিল—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি নিয়ে শিকাগো পুলিশের সংশ্লিষ্ট এলাকার গোয়েন্দারা তদন্ত করছেন। এবিসি সেভেন শিকাগো ঘটনাস্থলকে পূর্ব গারফিল্ড পার্ক হিসেবে উল্লেখ করলেও এনবিসি শিকাগো, সিবিএস শিকাগো ও শিকাগো সান-টাইমস এটিকে হামবোল্ট পার্ক এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে সব প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল নর্থ ক্রিশ্চিয়ানা অ্যাভিনিউয়ের ৭০০ নম্বর এলাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় এক মাসে তিনবার গ্রেপ্তার, জামিনে মুক্ত সেই বন্দুকধারীর গু লিতে প্রাণ গেল বৃদ্ধার
ফিলাডেলফিয়ার দোকানে তরুণকে ধাওয়া করে গুলি, ১৮ বছর বয়সেই প্রাণ গেল