সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
জাতিসংঘে আজ ট্রাম্পের ভাষণে ইরান-ইউক্রেন যুদ্ধসহ জ্বালানি সংকট, থাকছে যেসব বিষয়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। সেখানে ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট, বিশ্ব বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয় উঠে আসতে পারে। একই দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের।   গত বছর জাতিসংঘের ভাষণে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে। এবার ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের প্রায় সাত মাসের মাথায় তিনি একই ধরনের বার্তা দিতে পারেন। সোমবার ট্রাম্পও বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না এবং দেশটি ভালো অবস্থায় নেই।   ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস এখনো পরিবহন হচ্ছে। তবে যুদ্ধের আগের তুলনায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ কম থাকায় জ্বালানি বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ছে। জাতিসংঘে সমুদ্রপথের স্বাধীনতা ও নিরাপদ বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা হতে পারে।   ট্রাম্পের ভাষণে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেতে পারে। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই এখনো তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুদ্ধটি সমাধান করা কঠিন হলেও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে অগ্রগতির চেষ্টা চালিয়ে যাবে।   জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ বিভিন্ন দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের সূচি রয়েছে।   এ ছাড়া ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন তিনি।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং সমাজ ও মানবজীবনে এর প্রভাব নিয়েও ট্রাম্পের বক্তব্যে আলোচনা আসতে পারে। সব মিলিয়ে যুদ্ধ, জ্বালানি, বিশ্ব অর্থনীতি, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান জাতিসংঘের মঞ্চে উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।    

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৭:১২
চাকরি প্রার্থীদের ছবি:সংগৃহীত।
উচ্চশিক্ষা নিয়েও মিলছে না চাকরি, দেশের ৩৬ শতাংশ শিক্ষিত তরুণ বেকার: আইএমএফ

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা শেষ করেও চাকরির বাজারে জায়গা করে নিতে পারছেন না বিপুলসংখ্যক তরুণ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশের মাধ্যমিক-পরবর্তী শিক্ষা পাওয়া ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী শ্রমশক্তির প্রায় ৩৬ শতাংশ বেকার। অর্থাৎ এই শ্রেণির চাকরিপ্রত্যাশী প্রতি ১০০ তরুণের মধ্যে প্রায় ৩৬ জন কাজ পাচ্ছেন না।    আইএমএফের সেপ্টেম্বর ২০২৬ সংখ্যার Finance & Development সাময়িকীতে প্রকাশিত বিশ্লেষণে এশিয়ার তরুণদের কর্মসংস্থানের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, বাংলাদেশের সামগ্রিক তরুণ বেকারত্বের হার প্রায় ১০ শতাংশ হলেও মাধ্যমিক-পরবর্তী শিক্ষাপ্রাপ্ত তরুণদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৩৬ শতাংশ।    পরিস্থিতির পেছনে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে শিক্ষা ও চাকরির বাজারের চাহিদার অসামঞ্জস্য। আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের অনেকেই তাঁদের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ছেন।    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য উদ্ধৃত করে গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশে বেকারের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৬ লাখ ২৪ হাজার। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী বেকারের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ ৩২ হাজার। বেকারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উচ্চশিক্ষিত।    চাকরির বাজারে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতির সঙ্গে শিক্ষিত তরুণের সংখ্যা বৃদ্ধির ব্যবধানও সমস্যাটিকে জটিল করছে। বিডিজবসের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুরের হিসাবে, বছরে প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ তরুণ বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন; তাঁদের মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত লাখ বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক। কিন্তু নতুন শিল্প ও উচ্চদক্ষতার চাকরি একই গতিতে তৈরি হচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।    আইএমএফের পৃথক বাংলাদেশ প্রতিবেদনে একই ধরনের কাঠামোগত সমস্যার কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, শিক্ষার হার বাড়লেও উচ্চ উৎপাদনশীল খাতে সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান বাড়েনি। ২০২৪ সালের তথ্য ব্যবহার করে ওই প্রতিবেদনে উচ্চশিক্ষিত ১৫–২৯ বছর বয়সীদের বেকারত্ব প্রায় ২৫ শতাংশ দেখানো হয়েছে—যা ভিন্ন বয়সসীমা ও শিক্ষার সংজ্ঞার কারণে ১৫–২৪ বছর বয়সীদের ৩৬ শতাংশ হিসাবের সঙ্গে সরাসরি তুলনীয় নয়।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে আইএমএফ সতর্ক করেছে। প্রযুক্তি উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করলেও দক্ষতা উন্নয়নের চেয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত এগোলে তরুণ কর্মীদের ওপর চাকরির বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষাকে নিয়োগদাতাদের প্রয়োজনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।    আঞ্চলিক তুলনায় পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশের নয়। আইএমএফের হিসাবে একই শ্রেণির শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব শ্রীলঙ্কায় প্রায় ৪৩ শতাংশ, আর ভারতেও হার ৪০ শতাংশের ওপরে। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের তুলনায় বাংলাদেশের হার বেশি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৭:১
শেহবাজের সঙ্গে লং মার্চ নিয়ে হাফিজ নাঈমের আলোচনা
পেট্রোলিয়াম লেভি নিয়ে জামায়াতের লং মার্চ স্থগিতের অনুরোধ শেহবাজের, আলোচনার প্রস্তাব

পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে ইসলামাবাদমুখী লং মার্চ স্থগিত রাখার জন্য পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানকে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে জ্বালানি কর নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।   পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াতের আমির মুলতানে পৌঁছানোর পর তাঁকে ফোন করেন শেহবাজ শরিফ। এ সময় তিনি লং মার্চ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আগ্রহের কথা জানান।   জবাবে হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, সরকারকে সংঘাত বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দিকে ঠেলে দেওয়া জামায়াতের উদ্দেশ্য নয়। তবে জনগণের সমস্যা তুলে ধরে প্রতিবাদ করার অধিকারকে সরকারের সম্মান করতে হবে। মার্চ স্থগিতের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দলের শুরার সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।   জামায়াতের আমির আরও বলেন, সরকারের অনুরোধে লং মার্চ স্থগিত করা হলেও প্রতিবাদের অধিকার থেকে তারা সরে আসবে না। পেট্রোলিয়াম লেভির মধ্যে থাকা কথিত ‘চাঁদাবাজির কর’ প্রত্যাহার এবং জ্বালানির বাড়তি ব্যয় থেকে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।   এর আগে গত রোববার করাচি থেকে জামায়াতে ইসলামীর লং মার্চ শুরু হয়। ট্রেন ও সড়কপথে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা ইসলামাবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। মুলতান থেকে লাহোর হয়ে ইসলামাবাদের দিকে যাওয়ার কথা রয়েছে লং মার্চের বহরের।   সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাবের পর এখন লং মার্চের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর শুরা কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৭:১
অ্যাপলের নির্দিষ্ট আইফোন মডেলের যোগ্য মালিকরা সেটেলমেন্টের অর্থ পেতে আবেদন করতে পারবেন
আইফোন মালিকদের জন্য অ্যাপলের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট, অর্থ পেতে শুরু আবেদন প্রক্রিয়া

নির্দিষ্ট কিছু আইফোন মডেলের মালিকদের জন্য সুখবর। অ্যাপলের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট তহবিল থেকে অর্থ পেতে যোগ্য গ্রাহকরা এখন আবেদন জমা দিতে পারবেন। অ্যাপলের বিরুদ্ধে করা একটি শ্রেণি-অ্যাকশন মামলার নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।   সেটেলমেন্টের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, যোগ্য আইফোন মালিকরা প্রতি ডিভাইসের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৫ ডলার পেতে পারেন। তবে মোট কতজন আবেদন করেন এবং অন্যান্য কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে প্রতি ডিভাইসে অর্থের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   এই সেটেলমেন্টের আওতায় রয়েছে আইফোন ১৬-এর সব সংস্করণ। এর পাশাপাশি আইফোন ১৫ প্রো এবং আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্সও তালিকায় রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ফোনগুলো ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে বিক্রি করা হয়ে থাকতে হবে।   তবে শুধু তালিকাভুক্ত মডেলের আইফোন থাকলেই অর্থ পাওয়া যাবে না। আবেদনকারীকে ফোনটির মূল মালিক হতে হবে এবং ডিভাইসটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কেনা হয়ে থাকতে হবে। অর্থাৎ ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কেনা ফোন এই সেটেলমেন্টের আওতায় পড়বে না।   যোগ্য আইফোন মালিকরা ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন জমা দিতে পারছেন। আবেদন করার শেষ সময় ২১ ডিসেম্বর। একই সময়ের মধ্যে কেউ চাইলে শ্রেণি-অ্যাকশন মামলার অংশ না হওয়ার সিদ্ধান্তও জানাতে পারবেন।   অ্যাপলের বিরুদ্ধে করা মামলাটির সূত্রপাত মূলত সিরির কিছু উন্নত ফিচার নিয়ে প্রচারণাকে কেন্দ্র করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, অ্যাপল এমন কিছু ফিচার নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছিল, যেগুলো তখনও ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হয়নি। এতে ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মামলার নথিতে দাবি করা হয়—ক্রেতারা যদি জানতেন যে উন্নত সিরির ফিচারগুলো ডিভাইসে পাওয়া যাবে না, তাহলে তারা সংশ্লিষ্ট আইফোন কিনতেন না অথবা এর জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে কম দাম দিতেন।   তবে অ্যাপল কোনো ভুল স্বীকার না করেই মামলাটি নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুটি অতিরিক্ত ফিচারের প্রাপ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের সমাধান করতেই তারা এই নিষ্পত্তিতে গেছে। একই সঙ্গে অ্যাপল জানিয়েছে, তারা নতুন পণ্য ও সেবা তৈরিতে মনোযোগ ধরে রাখতে চায়।   সব আবেদন জমা পড়ার পর আদালতে এই সেটেলমেন্ট নিয়ে শুনানি হবে। সেটেলমেন্টটি ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত ও যথাযথ কি না, তা আদালত পর্যালোচনা করবে। বর্তমানে ওই শুনানি ২০২৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৬:৪৫
খলিলুর রহমান
রোহিঙ্গা সংকট গুরুতর মানবিক বিপর্যয়, বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান খলিলুর রহমানের

রোহিঙ্গা সংকটকে ‘গুরুতর মানবিক সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করে এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সহিংসতার পরিবর্তে আলোচনা, সমঝোতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।   জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ চলাকালে রোহিঙ্গা সংকট আবারও আন্তর্জাতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।জাতিসংঘের সংবাদমাধ্যম ইউএন নিউজকে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে খলিলুর রহমান রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুত হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।   তাঁর ভাষায়, একটি জনগোষ্ঠী আক্রমণের শিকার হয়েছে, তাদের ঘরবাড়ি ও গ্রাম ধ্বংস হয়েছে এবং নিজেদের দেশ থেকেই তাদের বিতাড়িত হতে হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের টিকে থাকার সক্ষমতা এবং নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষার কথাও উল্লেখ করেন।   রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, সহিংসতা কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পারে না; বরং সমস্যাকে দীর্ঘায়িত করে পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তোলে। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এক জায়গায় এনে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই এ ধরনের সংকটের কার্যকর সমাধান খুঁজতে হবে।   রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষার উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের গত বছরের কক্সবাজার সফরের কথা স্মরণ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রমজানের এক সন্ধ্যায় এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী মহাসচিবের সঙ্গে ইফতারে অংশ নিয়েছিলেন এবং তাঁদের হাতে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করা প্ল্যাকার্ড ছিল।   বর্তমানে বাংলাদেশ কক্সবাজার ও ভাসানচরে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে বলে বাংলাদেশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের ওপর মানবিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপও অব্যাহত রয়েছে।   জাতিসংঘের ২০২৫-২৬ যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশি স্থানীয় জনগোষ্ঠী মিলিয়ে প্রায় ১৬ লাখ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছাতে ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। পরিকল্পনাটিতে জীবনরক্ষাকারী সহায়তার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের দ্রুত, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে কাজ করা এবং আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়ছে। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে বৈঠক করেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমান। বৈঠকে মিয়ানমারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, মানবিক সংকট, আঞ্চলিক উদ্যোগ এবং বাংলাদেশের কক্সবাজারে থাকা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।   জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত মনোযোগ ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা বজায় রাখা এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে সংকটের মূল কারণগুলো মোকাবিলার ওপর জোর দেওয়া হয়, যাতে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে পারেন।   আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-আয়োজন হওয়ার কথাও জাতিসংঘের বিবৃতিতে রয়েছে। ফলে সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক আলোচনায় আরও গুরুত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই সংকটটির দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের কেন্দ্রীয় বিষয়। এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা জোরদার এবং সংকটের মূল কারণ মোকাবিলার বিষয়টি সামনে আসছে।   রোহিঙ্গা সংকটের অভিজ্ঞতাকে নিজের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বের বৃহত্তর লক্ষ্যটির সঙ্গেও যুক্ত করেছেন খলিলুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর এক বছরের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার, প্রয়োজনীয় সংস্কারে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি, সংস্থাটির আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো তাঁর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৬:২৯
মেক্সিকোর স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নতুন নিষেধাজ্ঞা
অনলাইন অশালীন কনটেন্টে আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ, স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ

শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ কমার পাশাপাশি অনলাইন অশালীন কনটেন্টে আসক্তি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশু-কিশোরদের মোবাইল ব্যবহারে লাগাম টানতে নভেম্বর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেক্সিকো সরকার।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ক্লাস চলাকালে এবং বিরতির সময়ও শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। তবে জরুরি পরিস্থিতি কিংবা আগে থেকে পরিকল্পিত শিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি থাকবে। সরকারের লক্ষ্য হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো।   মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম বলেছেন, শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং মোবাইল ফোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব কমানো এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশু-কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।   শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যবহারের সঙ্গে অনলাইন অশালীন কনটেন্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ সময় মোবাইল ও সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে বিষণ্নতা, শরীর নিয়ে নেতিবাচক ধারণা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো সমস্যার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   মেক্সিকোর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, ৮১ শতাংশ শিক্ষক বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন। শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শের পরই নতুন এই নীতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   তবে সব শিক্ষার্থীর জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। কলেজে যাওয়ার আগের শেষ তিন বছরের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে মূলত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাই এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।   মেক্সিকো ছাড়াও ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড ও পেরুসহ বেশ কয়েকটি দেশ স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। শিশু-কিশোরদের মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে শিক্ষার পরিবেশ আরও মনোযোগী করাই এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৬:২৪
ছবির ক্যাপশন: ২০২৬ সালে বিভিন্ন বক্তব্য ও পোস্টে প্রায় ৯০০ বার বাইডেনের নাম উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প
১ বছরেই ট্রাম্পের মুখে বাইডেনের নাম প্রায় ৯০০ বার, নেপথ্যে কারণ

২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০ বার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নাম উল্লেখ করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্সের পর্যালোচনা অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ট্রাম্পের বক্তব্য, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সাক্ষাৎকার এবং ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে অন্তত ৮৯০ বার বাইডেনের নাম এসেছে। প্রায় ২০০টি অনুষ্ঠান ও সাক্ষাৎকার এবং ১৯০টি ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট বিশ্লেষণ করে এই হিসাব করা হয়েছে।   রয়টার্সের হিসাবে, গড়ে দিনে প্রায় তিনবার বাইডেনের নাম উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। অর্থনীতি নিয়ে তিনি প্রায় ২১০ বার বাইডেনের নাম তুলেছেন। অভিবাসন প্রসঙ্গে ১৬৮ বার এবং পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে ১৩৮ বার সাবেক প্রেসিডেন্টকে উল্লেখ করেছেন তিনি। অন্যান্য অভ্যন্তরীণ ইস্যুতেও বাইডেনের প্রশাসনের দিকে দায় ঠেলে দিতে দেখা গেছে ট্রাম্পকে।   বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে বাইডেনের প্রসঙ্গ বারবার এসেছে। সম্প্রতি ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পণ্যের দাম বাড়ার জন্য বাইডেন ও তার প্রশাসনকে দায়ী করেন ট্রাম্প। অর্থনীতির পাশাপাশি বাড়ির দাম, সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি এবং ইস্পাত শিল্পের বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রেও বাইডেনের প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করেছেন তিনি।   অভিবাসনও ট্রাম্পের বক্তব্যে বাইডেনের নাম আসার অন্যতম বড় কারণ। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে অনিবন্ধিত অভিবাসন বেড়ে যাওয়ার জন্য বাইডেন প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করে আসছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে নিজের প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ও বি তাড় ন কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা হলে তার জবাবেও বাইডেন আমলের নীতির প্রসঙ্গ তুলেছেন তিনি।   পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব বিষয়ে অন্তত ১৩৮ বার বাইডেনের নাম উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে ইরান ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটের প্রসঙ্গও রয়েছে। জুলাইয়ে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে এক দিনেই ১৬ বার বাইডেনের নাম উল্লেখ করেন ট্রাম্প, যা এক দিনে তার সর্বোচ্চ।   ট্রাম্পের বাইডেনকে বারবার উল্লেখ করার বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র। একই সময়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে বিভিন্ন জরিপেও প্রশ্ন উঠেছে। ফলে নিজের প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আগের প্রশাসনের নীতিকে সামনে আনা ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্যের একটি নিয়মিত বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।   হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন বাইডেন আমলে তৈরি হওয়া সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে কাজ করছে। অন্যদিকে বাইডেনের সাবেক কর্মকর্তারা ট্রাম্পের বারবার তার পূর্বসূরির নাম উল্লেখ করার সমালোচনা করেছেন। তবে রয়টার্সের পর্যালোচনায় যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, তা হলো—২০২৬ সালের রাজনৈতিক বক্তব্যে বাইডেন এখনো ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান আলোচ্য ব্যক্তি হয়ে রয়েছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৬:৭
প্রধানমন্ত্রী'র তথ্য উপদেষ্টা।
ককটেল বিস্ফোরণে টলবে না সরকার, অস্থিরতা ছড়িয়ে লাভ হবে না: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘দু–একটা ককটেল ফুটিয়ে সরকারের কিছু করা যাবে না।’   বক্তব্যটির মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনা দিয়ে সরকারকে চাপে ফেলা সম্ভব নয়—এমন অবস্থানই তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট মন্তব্যটি কোথায় ও কখন করা হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য প্রকাশিত সূত্র এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন জাহেদ উর রহমান। গত ১ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।   এর আগে ২৫ আগস্ট সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। সে সময় জাহেদ উর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ ধরনের ঘটনা যত ঘটেছিল, তার তুলনায় বর্তমানে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে দু–একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা যে ঘটছে, সেটিও তিনি অস্বীকার করেননি।   আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়েও সাম্প্রতিক ব্রিফিংয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তথ্য উপদেষ্টা। ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি বলেন, দেশে মিথ্যা মামলা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যায্য পদক্ষেপের বিচ্ছিন্ন ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—সরকার এমন দাবি করছে না।   এই প্রেক্ষাপটে ককটেল বিস্ফোরণসহ যেকোনো ধরনের সহিংস ঘটনাকে ঘিরে সরকারের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি করা হলেও বিচ্ছিন্ন ঘটনা যে ঘটছে, সেটিও স্বীকার করা হচ্ছে।   তবে ‘দু–একটা ককটেল ফুটিয়ে সরকারের কিছু করা যাবে না’—এই বক্তব্যটির পূর্ণ ভিডিও, সরকারি ব্রিফিংয়ের নথি বা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বক্তব্যটির সঠিক স্থান, তারিখ এবং কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এটি বলা হয়েছে, তা আরও নির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৬:৭
ইয়েমেনে অগ্রযাত্রা চালাচ্ছে ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের হা মলা আর হলো না, ইয়েমেনে বড় অ ভিযানে হুতিদের অগ্রযাত্রা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে হা মলার পরিকল্পনা বাতিল করার পর ইয়েমেনে আরও বড় ধরনের সাম রিক অগ্রযাত্রা শুরু করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রো হীরা। কৌশলগত উচ্চভূমি দখলের পাশাপাশি সৌদি আরব-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোকে লোহিত সাগরের উপকূল থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে তারা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হা মলা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজের নতুন করে সাম রিক সহায়তার অনুরোধ পাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন এ প্রস্তুতি নেয়। এমনকি হা মলার জন্য বিমানগুলোতে বো মা তোলার কাজও শুরু হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প ওই বিমান হা মলা বাতিল করেন বলে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। হা মলা কেন বন্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো কারণ প্রকাশ করা হয়নি। এর মধ্যেই হুতিরা ইয়েমেনের কৌশলগত এলাকাগুলোতে দ্রুত অগ্রসর হতে থাকে।   রয়টার্স জানিয়েছে, ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্ট রশিদ আল-আলিমি রোববার ফোনে ট্রাম্পের কাছে মার্কিন সাম রিক সহায়তা চেয়েছেন। চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।   এর আগে শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও বি স্ফো রণের শব্দ শোনা যায় এবং বিমানবন্দরের কাছে ধোঁয়া দেখা যায়। হুতিরা দাবি করেছে, তারা রিয়াদ লক্ষ্য করে ক্ষে পণা স্ত্র ছুড়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।   এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে রয়েছেন। এর কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ করে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর হু মকি দিয়েছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তে জনার মধ্যে ইয়েমেনে হুতিদের নতুন অগ্রযাত্রা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৫:৫০
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (ছবি- সংগৃহিত ও পরিমার্জিত)
বাবা-মায়ের পর সন্তান হিসেবে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিশ্বে বিরল নজির!

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হবেন। তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালে প্রথমবার এই মঞ্চে ভাষণ দেন।   জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন জিয়াউর রহমান। তাঁর বক্তব্যে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।   এর ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে প্রথমবার বক্তব্য দেন বেগম খালেদা জিয়া। পরে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মারক সভা, ২০০২ সালের শিশুবিষয়ক বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালের ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভাসহ আরও কয়েকটি জাতিসংঘের কার্যক্রমে তিনি বক্তব্য দেন।   এবার তাদের ছেলে তারেক রহমান একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন। তাঁর এই ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকের বেশি সময়ের সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হবে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের এবারের ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসার কথা রয়েছে।   জিয়া পরিবারের তিন সদস্যের জাতিসংঘে অংশগ্রহণের ইতিহাসের শুরু ১৯৮০ সালে। জিয়াউর রহমানের পর খালেদা জিয়ার একাধিকবার অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় এবার প্রথমবারের মতো সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।   এবার বাংলাদেশের জন্য জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০২৬ সালের ২ জুন এ পদে নির্বাচিত হন এবং ৮ সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব শুরু করেন।   জাতিসংঘের সূচি অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে; এরপর ২৮ সেপ্টেম্বরও সাধারণ বিতর্কের কার্যক্রম রয়েছে।   তারেক রহমানের ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণ তাই শুধু তাঁর প্রথম জাতিসংঘ ভাষণই নয়, একই পরিবারের তিন সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার ধারাবাহিকতারও একটি নতুন পর্ব হিসেবে সামনে আসছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৫:৩১
জিএলপি-১ ওষুধে বিরল চোখের রোগের সম্ভাব্য ঝুঁকি
জনপ্রিয় ওজন কমানোর ওষুধে হঠাৎ দৃষ্টি হারানোর শঙ্কা, যা বলছে গবেষণা

ওজন কমানো ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত জনপ্রিয় জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ ওজেম্পিক, ওয়েগোভি ও মাউঞ্জারো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ওষুধ ব্যবহারের সঙ্গে খুবই বিরল একটি চোখের রোগের সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে গবেষণা চলছে। রোগটির নাম নন-আর্টেরিটিক অ্যান্টেরিয়র ইস্কেমিক অপটিক নিউরোপ্যাথি, সংক্ষেপে এনএআইওএন। এতে হঠাৎ করে, সাধারণত কোনো ব্যথা ছাড়াই, দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন ব্যক্তি এসব ওষুধের প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণের মামলা করেছেন। তাদের অভিযোগ, ওষুধ ব্যবহারের সম্ভাব্য এই ঝুঁকি সম্পর্কে যথেষ্ট সতর্ক করা হয়নি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গবেষণাই প্রমাণ করেনি যে জিএলপি-১ ওষুধ সরাসরি এনএআইওএনের কারণ। ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও এসব অভিযোগের বিরোধিতা করে জানিয়েছে, রোগীদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে তারা সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।   এনএআইওএন কী?   চোখের অপটিক নার্ভে পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ না পৌঁছালে এনএআইওএন হতে পারে। মায়ো ক্লিনিকের চক্ষু ও নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ ড. জন চেনের মতে, ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এটি হঠাৎ অপটিক নার্ভের সমস্যার অন্যতম সাধারণ কারণ। সাধারণত কোনো ব্যথা ছাড়াই হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যায় এবং এই ক্ষতি অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী হতে পারে। বর্তমানে এনএআইওএনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহার না করলেও ডায়াবেটিস থাকা ব্যক্তিদের এই রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ ছাড়া রাতে রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে যাওয়া এবং অপটিক নার্ভের গঠনের কিছু বৈশিষ্ট্যও এই রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।   জিএলপি-১ ওষুধের সঙ্গে যোগসূত্রের প্রমাণ কতটা?   এই সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা শুরু হয় ২০২৪ সালে। বোস্টনের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গবেষণায় দেখা যায়, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং সেমাগ্লুটাইড ব্যবহারকারী কিছু রোগীর মধ্যে এনএআইওএন হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। সেমাগ্লুটাইড হলো ওজেম্পিক ও ওয়েগোভির প্রধান সক্রিয় উপাদান।   এরপর আরও বড় পরিসরে বেশ কয়েকটি গবেষণা হয়েছে। তবে এসব গবেষণার ফল এক নয়। কোনো কোনো গবেষণায় সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও অন্য কিছু গবেষণায় তেমন সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। ফলে এখন পর্যন্ত জিএলপি-১ ওষুধের কারণে এনএআইওএন হয়—এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই।   ইউরোপীয় মেডিসিনস এজেন্সি বা ইএমএ পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে সেমাগ্লুটাইড-ভিত্তিক কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে এনএআইওএনকে খুব বিরল সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে সতর্কতা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত জিএলপি-১ ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই সমস্যা প্রতি ১০ হাজারে প্রায় একজনের হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।   তবে নর্থ আমেরিকান নিউরো-অপথালমোলজি সোসাইটি এবং আমেরিকান একাডেমি অব অপথালমোলজি জানিয়েছে, কিছু গবেষণায় সামান্য বাড়তি ঝুঁকির ইঙ্গিত থাকলেও অন্য গবেষণায় কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তাদের মতে, এনএআইওএনের সামগ্রিক ঝুঁকি কম।   যুক্তরাষ্ট্রে এখনো নির্দিষ্ট সতর্কতা নেই   যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বা এফডিএ বর্তমানে জিএলপি-১ ওষুধের লেবেলে এনএআইওএনকে নির্দিষ্ট ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা দেয়নি। তবে এফডিএর সেনটিনেল ইনিশিয়েটিভ এই সম্ভাব্য নিরাপত্তা সংকেত নিয়ে বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।   এফডিএ জানিয়েছে, বাজারে আসার পরও ওষুধগুলোর নিরাপত্তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া সম্ভাব্য ঝুঁকির তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন হলে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   অন্যদিকে, ওজেম্পিক ও ওয়েগোভির প্রস্তুতকারক নোভো নরডিস্ক জানিয়েছে, তারা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সব রিপোর্ট গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের হওয়া ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণের মামলাগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। মাউঞ্জারো ও জেপবাউন্ডের প্রস্তুতকারক এলি লিলিও জানিয়েছে, তারা ওষুধগুলোর নিরাপত্তা তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করছে।   ব্যবহারকারীদের কী করা উচিত?   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু এই সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া জিএলপি-১ ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়। ডায়াবেটিস ও গুরুতর স্থূলতার চিকিৎসা না করলেও চোখসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের জন্য প্রমাণিত স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে।   যারা সেমাগ্লুটাইড বা অন্য কোনো জিএলপি-১ ওষুধ ব্যবহার করছেন এবং কোনো উপসর্গ নেই, তারা চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের উদ্বেগ চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। তবে কারও যদি হঠাৎ করে কোনো ব্যথা ছাড়াই দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, তাহলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।   বিশেষজ্ঞদের মতে, জিএলপি-১ ওষুধের সঙ্গে এনএআইওএনের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিটি বিরল বলেই মনে হচ্ছে এবং এসব ওষুধ সরাসরি এই রোগ সৃষ্টি করে—এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৫:১৩
কানাডায় টিউটরের শেষ পাবলিক শো শেষ, ক্যালগেরিতে শেষবার দেখা দেবে স্নোবার্ডস
কানাডায় টিউটরের শেষ পাবলিক শো শেষ, ক্যালগেরিতে শেষবার দেখা দেবে স্নোবার্ডস

কানাডায় টিউটর উড়োজাহাজে শেষ পাবলিক এয়ার শো শেষ করেছে রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্সের স্নোবার্ডস। গ্যাটিনো-অটোয়া এলাকায় আয়োজিত অ্যারো গ্যাটিনো-অটোয়া শো শেষে দলটি তাদের ঘাঁটি মোজ জ-তে ফিরছে। পরিবারের সঙ্গে স্বল্প সময়ের বিশ্রামের পর আবার শেষ প্রদর্শনীর প্রস্তুতি নেবে দলটি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় স্নোবার্ডস জানায়, অ্যারো গ্যাটিনো-অটোয়া ছিল কানাডায় টিউটর উড়োজাহাজে তাদের শেষ পাবলিক শো। আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে দলটি বলেছে, গত ৫৫ বছর ধরে তাদের প্রতিটি প্রদর্শনী সম্ভব হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় আয়োজকদের সহযোগিতায়।   স্নোবার্ডসের পক্ষ থেকে বলা হয়, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে কানাডার বিভিন্ন বিমানঘাঁটি, সমুদ্রসৈকত ও বিভিন্ন এলাকার মানুষের সামনে তারা প্রদর্শনী করেছে। এই দীর্ঘ সময়ে কানাডীয়দের সমর্থন তাদের আরও উঁচুতে উড়তে এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে অনুপ্রাণিত করেছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়।   তবে টিউটর যুগের সমাপ্তি হলেও স্নোবার্ডসের প্রদর্শনী পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। দলটি জানিয়েছে, কানাডীয়দের সঙ্গে তাদের শেষ সাক্ষাৎ হবে ক্যালগেরিতে গ্রে কাপ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে।   স্নোবার্ডস বলেছে, টিউটর উড়োজাহাজের যুগ শেষের দিকে এগোলেও দলের সেই চেতনা অব্যাহত থাকবে। ৫৫ বছরের এই অধ্যায়ের জন্য কানাডার জনগণ, স্বেচ্ছাসেবক ও আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারা ক্যালগেরিতে আবার দেখা করার বার্তা দিয়েছে।   রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্সের স্নোবার্ডস কানাডার অন্যতম পরিচিত সামরিক এয়ার শো দল। দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও এয়ার শোতে দলীয় উড্ডয়ন প্রদর্শনের মাধ্যমে কানাডার প্রতিনিধিত্ব করে আসছে।   সোর্স: রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্স স্নোবার্ডস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৪:৩৮
২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইন বন্ধের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের
২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইন বন্ধের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানি বিমানকে জ্বালানি, অবতরণ সুবিধা বা টিকিট বিক্রির মতো সেবা দেওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠান মার্কিন সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক রুটে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।   সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইনগুলোকে বিশ্বজুড়ে বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ইরানি বিমান বিদেশি বিমানবন্দরে অবতরণ করলে সেটিকে জ্বালানি, অবতরণ-সংক্রান্ত সেবা বা টিকিট বিক্রির সুবিধা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।   এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইরানের বিমান চলাচল খাতের বিরুদ্ধে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। ওই দিন অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল বা ওএফএসি মোট ৩৬টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। এর মধ্যে ইরানের বাকি ২৭টি এয়ারলাইনও ছিল। ট্রেজারি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব এয়ারলাইন ইরানের বিমান চলাচল খাতের মাধ্যমে অস্ত্র, জনবল ও অবৈধ পণ্য পরিবহনে সহায়তা করেছে। এগুলো মার্কিন সরকারের অভিযোগ।   নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ২৭টি এয়ারলাইনের মধ্যে রয়েছে ইরান এয়ার ট্যুর, ইরান আসেমান এয়ারলাইনস, কেশম এয়ার, কিশ এয়ারলাইনস, সেপেহরান এয়ারলাইনস, তাবান এয়ারলাইনস ও মাহান এয়ার-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ট্রেজারি বিভাগের ৮ সেপ্টেম্বরের ঘোষণায় এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।   নতুন হুঁশিয়ারির মূল লক্ষ্য ইরানি বিমানগুলো নয়, বরং তাদের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম চালাতে সহায়তা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী, গ্রাউন্ড সার্ভিস প্রতিষ্ঠান এবং টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ইরানি এয়ারলাইনকে সেবা দেওয়া চালিয়ে গেলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।   এর ফলে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বাস্তব সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য শুধু উড়োজাহাজ ও ক্রু যথেষ্ট নয়; বিমানবন্দরে অবতরণ, জ্বালানি নেওয়া, যাত্রীসেবা এবং টিকিট বিক্রির মতো বিভিন্ন সেবা প্রয়োজন। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতে ইরানি বিমানকে এসব সেবা না দিলে আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে সরাসরি সব ইরানি উড়োজাহাজকে শারীরিকভাবে আকাশে উড্ডয়ন থেকে নিষিদ্ধ করা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। মূল চাপটি তৈরি করা হচ্ছে বিদেশি সেবা প্রদানকারীদের ওপর। ফলে বাস্তবে কতগুলো ফ্লাইট বন্ধ হবে বা কোন কোন রুটে প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে বিদেশি বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি কীভাবে মোকাবিলা করে তার ওপর।   ইরানের বিমান চলাচল খাতের ওপর এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট-এর অংশ। ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, তেল বাণিজ্য, আর্থিক নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে রাখার ঝুঁকি বাড়ানো হচ্ছে।   এরই মধ্যে ইরানি এয়ারলাইন মাহান এয়ারের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম নিয়েও চাপ বাড়ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পর তুরস্ক ও ওমান মাহান এয়ারের ফ্লাইট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ইরানি বিমান চলাচলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ বিমান খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।   সোর্স: রয়টার্স; যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ; আল জাজিরা; দ্য ন্যাশনাল  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৪:৩৪
হুতিদের ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েও নিরাশ ইয়েমেন
হুতিদের ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েও নিরাশ ইয়েমেন

ইরান-সমর্থিত হুতিদের অগ্রযাত্রার মধ্যে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমির সঙ্গে ফোনে কথা বললেও সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, আল-আলিমি হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের পাশে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন। তবে ফোনালাপে ট্রাম্প সরাসরি মার্কিন সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউস ও ইয়েমেনের তথ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে ফোনালাপ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।   এরই মধ্যে হুতিরা ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদাব প্রণালি ঘিরে তাদের নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই জলপথ আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলের কয়েকটি কৌশলগত এলাকায় অগ্রসর হয়েছে এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী কিছু এলাকা থেকে পিছিয়ে গেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।   রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিরা এখন তাইজ ও লাহিজ প্রদেশের কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা দখলের চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে তারা লোহিত সাগরের উপকূলকে দক্ষিণাঞ্চলে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করার সুযোগ তৈরি করতে চাইছে। সংঘাতের সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী অনেকটা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   হুতিদের অগ্রযাত্রার কারণে সৌদি আরবও সামরিক চাপ বাড়িয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরব হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর আগে সৌদি নেতৃত্ব থেকেও ওয়াশিংটনের কাছে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তার অনুরোধ করা হয়েছিল।   এই পরিস্থিতিতে বাব আল-মানদাব প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। জলপথটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলেও প্রভাব পড়েছে।   ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় মানবিক পরিস্থিতিও খারাপ হচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে নতুন সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ ইয়েমেনের ভেতরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতা, অবকাঠামোর ক্ষতি ও যোগাযোগব্যবস্থার বিঘ্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকেও কঠিন করে তুলছে।   এখন পরিস্থিতির দিকে নজর থাকবে হুতিদের পরবর্তী সামরিক অগ্রগতি, সৌদি আরবের পাল্টা অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত সরাসরি সামরিক সহায়তায় যাবে কি না—এসব বিষয়ের ওপর। তবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের ফোনালাপে ইয়েমেনকে সরাসরি মার্কিন সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি বলে।   সোর্স: রয়টার্স; ইন্ডিয়া টুডে

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৪:২৬
ইরান যুদ্ধ ও কূটনীতির টানাপোড়েনে বিশ্ববাজারে ওঠানামা করছে তেলের দাম
ইরান যুদ্ধ ও কূটনীতির টানাপোড়েনে বিশ্ববাজারে ওঠানামা করছে তেলের দাম

ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনাকে ঘিরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। ২১ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৩৪ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৯৫ দশমিক ৭৮ ডলারে নেমে আসে। রয়টার্সের হিসাবে, দুটিই ৯ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল।   তেলের দাম কমার অন্যতম কারণ হিসেবে বাজারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাবনাকে দেখা হচ্ছে। এই সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতির সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তেলের সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।   এর পাশাপাশি সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে আংশিক পুনরুদ্ধারও বাজারে চাপ কমিয়েছে। ইয়েমেনের হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে বিঘ্ন তৈরি হওয়ার পর সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি দিয়ে আরও বেশি তেল পাঠাচ্ছে। গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি তেল পরিবহন আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   তবে তেলের বাজার এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে এবং ইয়েমেনের হুতিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও আঞ্চলিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক অগ্রগতির আশা তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করলেও সরবরাহে নতুন কোনো বড় বিঘ্ন ঘটলে বাজার আবার দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।   সাম্প্রতিক সময়ে ব্রেন্টের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গিয়েছিল। পরে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা এবং সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির মধ্যে দাম আবার নিচে নামে। তবে জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের কেউ কেউ সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহের চাপ পুরোপুরি দূর হয়নি। ফলে সাময়িক পতনের পরও তেলের দামে আবার ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে।   তবে ২২ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ বাজারচিত্রে আবার কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। রয়টার্সের প্রাথমিক বাজার আপডেট অনুযায়ী, মঙ্গলবার ব্রেন্টের নভেম্বর চুক্তি শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৫৭ ডলারে এবং মেয়াদ শেষের পথে থাকা ডব্লিউটিআই অক্টোবর চুক্তি প্রায় ৯৫ দশমিক ৮০ ডলারে উঠেছিল। বেশি সক্রিয় নভেম্বর ডব্লিউটিআই চুক্তিও সামান্য বেড়ে ৯২ দশমিক ৪৯ ডলারে ছিল। অর্থাৎ আগের দিনের বড় পতনের পর বাজারে সাময়িক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিলেছে।   বিশ্লেষকদের নজর এখন থাকবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক আলোচনা, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সম্ভাব্য বৈঠক, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো হামলা বা সরবরাহ বিঘ্নের দিকে। এসব বিষয়ের যেকোনো একটিতে বড় পরিবর্তন হলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও দ্রুত প্রভাব পড়তে পারে।   সোর্স: বিজনেস ইনসাইডার; রয়টার্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৩:৫৭
হিজাব পরেই মার্কিন পুলিশ অফিসার! ইলিনয়ে মুসলিম নারীদের জন্য নতুন পথ দেখালেন মাহা আয়েশ
হিজাব পরেই মার্কিন পুলিশ অফিসার! ইলিনয়ে মুসলিম নারীদের জন্য নতুন পথ দেখালেন মাহা আয়েশ

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের বার্টলেট পুলিশ ডিপার্টমেন্টে যোগ দেওয়ার পর মাহা আয়েশ শুধু একজন পুলিশ অফিসার হিসেবেই দায়িত্ব নেননি, নিজের ধর্মীয় পরিচয় বজায় রেখেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে কাজ করার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন। ২০২০ সালের ৮ অক্টোবর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ অফিসার হিসেবে শপথ নেন।   দায়িত্ব পালনের সময় হিজাব পরার ইচ্ছা থাকায় পুলিশ বিভাগের ইউনিফর্ম নীতিতেও আনা হয় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন। এর মাধ্যমে তিনি ইলিনয়ে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম মুসলিম নারী পুলিশ অফিসার হিসেবে হিজাব পরার নজির তৈরি করেন বলে বার্টলেট ভিলেজ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।   পুলিশে যোগ দেওয়ার আগে মাহা আয়েশের আইন ও বিচারব্যবস্থার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল। তিনি কেন কাউন্টি শেরিফের ডিপার্টমেন্টে ফরেনসিক থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন এবং কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি কেন কাউন্টিতে জুভেনাইল জাস্টিস লিয়াজোঁ হিসেবেও কাজ করেন। ফলে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগেই বিচারব্যবস্থা, কারাগার এবং তরুণদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন তিনি।   তবে পুলিশ অফিসার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তার সামনে একটি ভিন্ন ধরনের প্রশ্ন আসে। দায়িত্ব পালনের সময় তিনি হিজাব পরতে চেয়েছিলেন। তখন বার্টলেট পুলিশ ডিপার্টমেন্টের প্রচলিত ইউনিফর্ম নীতিতে হিজাবের বিষয়টি নির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। মাহাকে হিজাব খুলে দায়িত্ব পালনের জন্য বলা হয়নি। বরং বিভাগটি নিজেদের স্ট্যান্ডার্ডস অব অ্যাপিয়ারেন্স বা পোশাক সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তন আনে এবং হিজাবকে পুলিশ ইউনিফর্মের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। বার্টলেট ভিলেজের প্রকাশিত তথ্যেও বলা হয়েছে, ২০২০ সালের অক্টোবরে মাহা বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সময় হিজাবকে ইউনিফর্মের অংশ হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়।   মাহার জন্য বিষয়টি শুধু পোশাকের স্বাধীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০২১ সালে ডেইলি হেরাল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সাংস্কৃতিক বাধা ভাঙার ইচ্ছাই ছিল তার অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা। পুলিশি দায়িত্ব পালনের সময় হিজাব পরা তাকে আলাদা করে তুলে ধরলেও তিনি জানান, সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার বেশিরভাগ যোগাযোগই ইতিবাচক ছিল। তার মতে, পুলিশ বাহিনীতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পটভূমির মানুষের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে কমিউনিটির এমন মানুষের সঙ্গেও যোগাযোগ তৈরি করা সম্ভব হয় যারা হয়তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নিজেদের সংস্কৃতির মিল খুঁজে পান না।   বিশেষ করে মুসলিম নারীদের জন্য একটি দৃশ্যমান উদাহরণ তৈরি করাও মাহার লক্ষ্য ছিল। তিনি চেয়েছিলেন, মুসলিম তরুণীরা যেন মনে না করেন যে ধর্মীয় পরিচয় বজায় রেখে পুলিশ বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা পেশায় যাওয়া তাদের জন্য অসম্ভব। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মুসলিম নারীরাও এসব পেশায় যেতে পারেন এবং নিজেদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয় বজায় রেখেই দায়িত্ব পালন করতে পারেন। একই সঙ্গে বার্টলেটের মতো বহুজাতিক ও অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল পুলিশি সেবা দিতে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চেয়েছেন তিনি।   মাহা আয়েশের পেশাগত যাত্রাও থেমে থাকেনি পুলিশ অফিসার হিসেবে যোগ দেওয়ার পর। বার্টলেট পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে তাকে ডিটেকটিভদের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালেও কুক কাউন্টি ট্রেজারারের প্রকাশিত এক তালিকায় তাকে বার্টলেট পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ডিটেকটিভ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ ২০২০ সালে হিজাব পরে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তী বছরগুলোতে আরও দায়িত্বশীল অবস্থানে পৌঁছেছে।   তার পথচলা যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম নারীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে অংশগ্রহণ, ধর্মীয় পরিচয় ও পেশাগত দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের সম্ভাবনা এবং স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৩:১০
এইচএসসির আগেই এমআইটিতে ভর্তি! বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ফায়েজের অনন্য যাত্রা
এইচএসসির আগেই এমআইটিতে ভর্তি! বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ফায়েজের অনন্য যাত্রা

বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী যখন এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী ফায়েজ আহমাদ প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটিতে পড়াশোনা শুরুর জন্য। ২০২৬ সালের এইচএসসি ব্যাচের এই শিক্ষার্থী এইচএসসি শেষ করার আগেই এমআইটিতে ভর্তি হওয়ার নিশ্চয়তা পান। সেপ্টেম্বর থেকে তার এমআইটির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল।    তবে ফায়েজের এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি। রাজশাহীতে ২০০৮ সালে জন্ম নেওয়া ফায়েজ ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি দাবা, অলিম্পিয়াড, বিতর্ক ও গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। চার বছর বয়সে বড় ভাইবোনদের কাছ থেকে দাবা শেখার মাধ্যমে তার আগ্রহের শুরু। প্রথম শ্রেণিতে জাতীয় পর্যায়ের দাবা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন এবং তৃতীয় শ্রেণিতে অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হন। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বিতর্কেও যুক্ত হন।    ২০২১ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় ফায়েজের শিক্ষাজীবনে বড় পরিবর্তন আসে। তিনি বাংলাদেশ বায়োলজি ও ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের জাতীয় ক্যাম্প এবং জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে শুরু করেন। ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের হয়ে রৌপ্যপদক অর্জন করেন। একই বছর আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডেও ব্রোঞ্জপদক পান। ২০২৪ সালেও আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জপদক অর্জনের তথ্য ফায়েজের নিজের প্রকাশিত প্রোফাইল এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের তথ্যেও রয়েছে।    শুধু প্রতিযোগিতার সাফল্যেই থেমে থাকেননি ফায়েজ। ২০২৫ সালে তিনি OlyPara নামে একটি অলাভজনক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। ১৩টি দেশের সদস্য নিয়ে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য ছিল অলিম্পিয়াড প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় মানসম্মত রিসোর্স শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সহজলভ্য করা। সেখানে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন, পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা, কাস্টমাইজড পরীক্ষা এবং সাবেক অলিম্পিয়াড পদকজয়ীদের লেখা বিভিন্ন শিক্ষামূলক কনটেন্ট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।    গবেষণাতেও তার আগ্রহ ছিল। তিনি GSA Bioinformatics Internship-এ একমাত্র হাইস্কুল ইন্টার্ন হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২০২৫ সালের BSM International Conference-এ নিজের গবেষণা উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি নটর ডেম কলেজে বাংলা ও ইংরেজি বিতর্কের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এসব একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমই পরে তার এমআইটি অ্যাপ্লিকেশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।    এমআইটিতে পড়ার স্বপ্ন ফায়েজের অনেক দিনের হলেও ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জপদক পাওয়ার পর তিনি এটিকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে নেন। এরপর কোচিংয়ের ওপর নির্ভর না করে নিজেই SAT ও Duolingo English Test-এর প্রস্তুতি নেন। SAT-এ ১৫৫০ নম্বর এবং Duolingo English Test-এ ১৪০ নম্বর অর্জন করেন।    ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে তিনি এমআইটির অ্যাপ্লিকেশন প্রস্তুত করা শুরু করেন। নিজের অর্জনগুলো সাজানো, শিক্ষকদের কাছ থেকে সুপারিশপত্র নেওয়া এবং অ্যাপ্লিকেশনের বিভিন্ন অংশ প্রস্তুত করতে সময় দেন। পরে এমআইটির ইন্টারভিউতেও অংশ নেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইন্টারভিউটি ছিল অনেকটা কথোপকথনের মতো, যেখানে তিনি নিজের গবেষণা, অলাভজনক উদ্যোগ ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।    এমআইটির ভর্তি প্রক্রিয়ায় একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীর উদ্যোগ, কৌতূহল, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তার সামঞ্জস্যও বিবেচনা করা হয়। এমআইটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফলাফলভিত্তিক শ্রেণিতে প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য ২৯ হাজার ২৮১টি আবেদন পড়েছিল এবং ১ হাজার ৩৩৪টি ভর্তি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।    এইচএসসি শেষ করার আগেই এমআইটিতে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ফায়েজের ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত সাধারণত শিক্ষার্থীদের হাইস্কুলের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই আসে। এমআইটির বর্তমান ভর্তি তথ্যেও দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিস্তৃত ও কঠিন একাডেমিক প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দেয়।    ফায়েজের নিজের ভাষায়, তার যাত্রার মূল বিষয় ছিল দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে নিজের আগ্রহের জায়গাগুলোতে কাজ করা। দাবা দিয়ে শুরু হওয়া সেই পথ তাকে অলিম্পিয়াড, গবেষণা, বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের জন্য অলাভজনক উদ্যোগ এবং শেষ পর্যন্ত এমআইটির ক্লাসরুমে নিয়ে গেছে। ২০২৬ সালের শরতে সেই নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থী এখন বিশ্বের অন্যতম পরিচিত গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের পরবর্তী পথ তৈরি করছেন।   সূত্র: দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২:৫৯
বিষাক্ত বুড়িগঙ্গায় টিকে আছে মাত্র ২০ ডলফিন, বেঁচে থাকতে খাচ্ছে সাকার ফিস
বিষাক্ত বুড়িগঙ্গায় টিকে আছে মাত্র ২০ ডলফিন, বেঁচে থাকতে খাচ্ছে সাকার ফিস

ঢাকার দূষিত বুড়িগঙ্গা নদীর কালচে পানিতেও এখনও টিকে আছে আনুমানিক ২০টি গাঙ্গেয় নদীর ডলফিন। প্রাণ বাঁচাতে বিপন্ন এই জলজ প্রাণীগুলো তাদের আচরণ, চলাচল ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল আজিজের নেতৃত্বে সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত ১২ মাসের গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।   গবেষণায় দেখা গেছে, বুড়িগঙ্গায় ডলফিনের উপস্থিতির ঘনত্ব গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৫ সালের গবেষণায় বুড়িগঙ্গায় ডলফিনের এনকাউন্টার রেট ছিল প্রতি কিলোমিটারে ০ দশমিক ৪৮টি। নতুন গবেষণায় এই হার নেমে এসেছে ০ দশমিক ১৮-তে।   পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ডলফিনের সামাজিক আচরণেও পরিবর্তন দেখা গেছে। আগে বুড়িগঙ্গায় এরা প্রধানত একাকী চলাচল করত। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা যায়, পর্যবেক্ষণ করা ডলফিনের বড় অংশ এখন দলবদ্ধভাবে চলাচল করছে। প্রতিকূল পরিবেশে দলবদ্ধ চলাচল তাদের টিকে থাকার একটি কৌশল হয়ে উঠতে পারে বলে গবেষকদের পর্যবেক্ষণ।   খাদ্যাভ্যাসেও এসেছে পরিবর্তন। বুড়িগঙ্গায় স্থানীয় মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ডলফিন এখন সাকার ফিশ বা সাকারমাউথ ক্যাটফিশ শিকার করছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। এই মাছ দূষিত ও কম অক্সিজেনযুক্ত পানিতেও টিকে থাকতে পারে।   শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। নদীর পানির প্রবাহ কমে গেলে এবং দূষিত বর্জ্যের ঘনত্ব বাড়লে ডলফিনগুলো বুড়িগঙ্গা থেকে ধলেশ্বরী নদীর দিকে সরে যায় বলে গবেষণায় পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিকূল পরিবেশ এড়িয়ে তারা নিজেদের চলাচলের পথও পরিবর্তন করছে।   ডলফিনের জন্য আরেকটি বড় সমস্যা শব্দদূষণ। গাঙ্গেয় নদীর ডলফিন প্রায় দৃষ্টিহীন হওয়ায় শিকার শনাক্ত ও ধরার ক্ষেত্রে ইকোলোকেশন বা শব্দের প্রতিধ্বনির ওপর নির্ভর করে। বুড়িগঙ্গায় বিপুলসংখ্যক ভারী নৌযানের চলাচল থেকে তৈরি শব্দ এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।   বুড়িগঙ্গার পানিদূষণের মাত্রা নিয়েও আগের বিভিন্ন গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে। পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা অনেক এলাকায় জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার তুলনায় কম। ফলে দূষণ, কমে যাওয়া দেশীয় মাছ, পানির মানের অবনতি এবং নৌযানের শব্দ একসঙ্গে ডলফিনের আবাসস্থলকে ক্রমেই কঠিন করে তুলছে।   গবেষকদের পর্যবেক্ষণে বুড়িগঙ্গার ডলফিনের সংখ্যা শুধু একটি প্রাণী প্রজাতির অস্তিত্বের প্রশ্ন নয়, নদীর সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের অবস্থারও গুরুত্বপূর্ণ সূচক। মাত্র ২০টির মতো ডলফিনের টিকে থাকা দেখাচ্ছে, ঢাকার এই ঐতিহ্যবাহী নদীতে জলজ প্রাণীদের জন্য পরিবেশ কতটা কঠিন হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২:৪৬
সাড়ে পাঁচ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী টাকা, কমছে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ
সাড়ে পাঁচ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী টাকা, কমছে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ

টানা সাড়ে পাঁচ বছর অবমূল্যায়নের পর মার্কিন ডলারের বিপরীতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের তারল্য উন্নতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায় স্থানীয় মুদ্রার ওপর চাপও কমেছে।    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে টাকার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন হয়েছে। ২০২১ সালে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল প্রায় ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা। পরে তা বেড়ে চলতি বছরের ৩০ আগস্ট ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় পৌঁছায়। এরপর পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়। ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ডলারের দর কমে ১২৩ টাকায় নেমে আসে, অর্থাৎ ওই সময়ে টাকার মূল্য ০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে।    টাকার এই শক্তিশালী হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে রেমিট্যান্স প্রবাহের উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৭০২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে তারল্য পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে।    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের ২৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় এটি ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের BPM6 পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভও একই সময়ে ১৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।    রিজার্ভ বাড়ার পেছনে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপও ভূমিকা রেখেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৮ জুন পর্যন্ত বাজার থেকে মোট ৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ক্রয় রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়তা করেছে।    বাংলাদেশ ব্যাংকের জুন ২০২৬-এর বৈদেশিক মুদ্রাবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই মাসের শেষে ডলারের বিপরীতে টাকার রেফারেন্স বিনিময় হার ছিল প্রায় ১২২ টাকা ৯৫ পয়সা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে আরও নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা চালু করেছে এবং বাজারের লেনদেনের ভিত্তিতে দৈনিক রেফারেন্স হার প্রকাশ করছে।    টাকার মূল্য বাড়ার প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। ডলারের বিপরীতে টাকা তুলনামূলক শক্তিশালী থাকলে জ্বালানি, খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির মতো আমদানি পণ্যের জন্য স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে ডলারে নেওয়া বৈদেশিক দায় পরিশোধের ক্ষেত্রেও টাকার চাপ কমে। তবে এর বিপরীতে রপ্তানিকারকরা ডলার আয়ের বিপরীতে তুলনামূলক কম টাকা পেতে পারেন, ফলে বিনিময় হার শক্তিশালী হওয়ার প্রভাব বিভিন্ন খাতে ভিন্ন হতে পারে।   অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের মতে, রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবাহ, পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য এবং শক্তিশালী রিজার্ভ ধরে রাখা গেলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে। তবে আমদানি ব্যয়, বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য, রপ্তানি আয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপরও ভবিষ্যতে টাকার বিনিময় হার নির্ভর করবে। ফলে সাম্প্রতিক শক্তিশালী অবস্থানকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতায় রূপ দিতে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও বাজারের ভারসাম্য ধরে রাখাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১:৫০
গ্রিনল্যান্ডে আরও দুই সামরিক ঘাঁটি চালু ঘুরতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
গ্রিনল্যান্ডে আরও দুই সামরিক ঘাঁটি চালু ঘুরতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের সাবেক শীতল যুদ্ধকালীন একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আবার চালু এবং পূর্ব উপকূলের আরেকটি স্থাপনায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে রয়টার্স। তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটি ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে স্বাক্ষর হওয়ার কথা।    পরিকল্পনার আওতায় থাকা দুটি স্থান হলো দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের নারসারসুয়াক এবং পূর্ব উপকূলের মেস্টারসভিগ। নারসারসুয়াকে একসময় যুক্তরাষ্ট্রের ব্লুই ওয়ান সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ১৯৫০-এর দশকে ঘাঁটিটি বন্ধ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর এলাকাটির জনসংখ্যা কয়েক ডজনে নেমে এসেছে। অন্যদিকে মেস্টারসভিগ বর্তমানে ডেনমার্কের সিরিয়াস ডগ স্লেড প্যাট্রোলের ব্যবহারে রয়েছে। এই ইউনিটটি ডেনিশ বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত এবং গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব কার্যকর রাখার কাজে নিয়োজিত।    প্রস্তাবিত চুক্তির পূর্ণাঙ্গ текст এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট তিন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, স্বাক্ষরের আগে চুক্তির কিছু বিষয় পরিবর্তিত হতে পারে। ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার পর চূড়ান্ত নথি নির্ধারিত হবে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় জানিয়েছে, চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর প্রয়োজনীয় জাতীয় সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার শর্তে কার্যকর হবে।    ডেনমার্কের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তাকে ন্যাটোর কাঠামোর মধ্যে আরও জোরদার করা হবে। অর্থাৎ নিরাপত্তার দায়িত্ব শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ন্যাটো জোটের বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড একই সঙ্গে বলেছে, নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত থাকবে।    গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ইতিহাস অবশ্য অনেক পুরোনো। শীতল যুদ্ধের সময় সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক স্থাপনা ছিল এবং ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সামরিক সদস্য মোতায়েন ছিলেন। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র সক্রিয় সামরিক স্থাপনা হলো পিটুফিক স্পেস বেস। সেখানে প্রায় ১৫০ মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন দুটি স্থানে উপস্থিতি প্রতিষ্ঠিত হলে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের ভৌগোলিক পরিধি বাড়বে।    আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বও এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের সামরিক নজরদারি এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর জন্য এ অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক কার্যক্রম, সমুদ্রপথের পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সহযোগী বাহিনী গ্রিনল্যান্ডসহ আর্কটিক অঞ্চলে ‘Arctic Edge 2026’ নামে সামরিক মহড়াও পরিচালনা করে। মহড়াটি ডেনমার্কের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হয়েছিল।    তবে নতুন চুক্তির পেছনে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সাম্প্রতিক মার্কিন কূটনৈতিক চাপও গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন। ২০২৬ সালের শুরুতে তার বক্তব্য ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরে আর্কটিক নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটন, কোপেনহেগেন ও নুকের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।    নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগে এর পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ না হওয়ায় দুটি স্থাপনায় ঠিক কতজন মার্কিন সামরিক সদস্য মোতায়েন হবেন, কী ধরনের সরঞ্জাম থাকবে এবং স্থাপনাগুলোর সুনির্দিষ্ট সামরিক ভূমিকা কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে আপাতত নিশ্চিত বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে বর্তমান একটি ঘাঁটির পাশাপাশি আরও দুটি স্থানে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১:৪৫