সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
নিউইয়র্কে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেয়র জোহরান মামদানি
জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে নিউইয়র্কে মুখোমুখি ট্রাম্প-মামদানি, বৈঠক গ্রেসি ম্যানশনে

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে শহরের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।   মামদানির যোগাযোগ পরিচালক আনা বারের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বৈঠকে নিউইয়র্ক সিটি ও এর বাসিন্দাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন দুই নেতা। হোয়াইট হাউসও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে আলোচনার নির্দিষ্ট বিষয় বা সময় সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দেয়নি।   ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে এর আগে দুইবার সরাসরি বৈঠক হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে মামদানি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার হোয়াইট হাউসে তাদের সাক্ষাৎ হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও তারা বৈঠক করেন, যেখানে নিউইয়র্কের আবাসন উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।   রাজনৈতিকভাবে দুই নেতার অবস্থানের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকলেও আগের বৈঠকগুলোতে তাদের আলোচনার পরিবেশ ছিল তুলনামূলকভাবে সহযোগিতামূলক। ২০২৫ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প মামদানিকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। পরে অবশ্য মামদানি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্প তার সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন।   ফেব্রুয়ারির বৈঠকে মামদানি ট্রাম্পকে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের আদলে তৈরি একটি বিশেষ পত্রিকার প্রথম পাতা উপহার দেন। সেখানে লেখা ছিল ‘ট্রাম্প টু সিটি: লেটস বিল্ড’। ১৯৭৫ সালের আলোচিত ‘ফোর্ড টু সিটি: ড্রপ ডেড’ শিরোনামের আদলে তৈরি করা ওই উপহার দিয়ে নিউইয়র্কে নতুন ফেডারেল আবাসন বিনিয়োগের সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে মামদানির সহযোগীরা জানিয়েছিলেন।   সোমবারের বৈঠকটি নিউইয়র্কে ট্রাম্প ও মামদানির প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে। এর পর ট্রাম্প জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৭:২৫
এআই মানবসভ্যতা ধ্বংস করবে না, ‘ডুমসডে’ তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন এনভিডিয়া সিইও
এআই মানবসভ্যতা ধ্বংস করবে না, ‘ডুমসডে’ তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন এনভিডিয়া সিইও

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত বিকাশ মানবসভ্যতার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে—সিলিকন ভ্যালিতে চলমান এমন উদ্বেগ ও জল্পনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং।   সম্প্রতি সিবিএস নিউজের সাংবাদিক জো লিং কেন্টের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এআই সংক্রান্ত সব ‘ডুমসডে ন্যারেটিভ’ বা বিশ্ব ধ্বংসের তত্ত্বকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যায়িত করেছেন। হুয়াং জোর দিয়ে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এআইয়ের কারণে পৃথিবীর ধ্বংস হওয়ার কোনো আশঙ্কাই নেই এবং এর সম্ভাবনা একেবারে শূন্য শতাংশ। তিনি আরও যোগ করেন, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ ছাড়া অকারণে মানুষকে ভয় দেখানো সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ।   সম্প্রতি প্রযুক্তি জগতে এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয় অ্যানথ্রপিক-এর সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সনের একটি ভাইরাল এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টের পর। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, শীর্ষস্থানীয় এআই ডেভেলপাররা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং দায়িত্বহীনভাবে সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির দিকে এগোচ্ছে, যা মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলার শামিল।   তাঁর এমন আশঙ্কার পর অ্যানথ্রপিক সিইও দারিও আমোদেউ এবং ওপেনএআই সিইও স্যাম অল্টম্যানসহ বেশ কয়েকজন প্রযুক্তি নেতা এআইয়ের উন্নয়ন কিছুটা ধীর করার আহ্বান জানান। তবে জেনসেন হুয়াং এই ধরনের নেতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণীকে ‘বিজ্ঞানসম্মত নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। উল্লেখ্য, বর্তমান এআই বিপ্লবে এনভিডিয়া অন্যতম প্রধান অংশীদার, যারা ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকসহ প্রায় সব বড় কোম্পানিকে তাদের মডেল প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় চিপ সরবরাহ করে থাকে।   এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো নীতিমালার বা ‘গার্ডরেইল’-এর প্রয়োজন আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হুয়াং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতের সাথে সুর মিলিয়ে জানান যে, বর্তমান মার্কিন আইনই যথেষ্ট। সাইবার নিরাপত্তা, পণ্যের দায়বদ্ধতা এবং অননুমোদিত প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনগুলো যথাযথভাবে প্রয়োগ করলেই এআই খাতকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।   এনভিডিয়া সিইওর মতে, বিশ্ব ধ্বংসের মতো কাল্পনিক গল্পের দোহাই দিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করে তাদের বর্তমান আইনি কাঠামোর দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি দেওয়া উচিত নয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৭:২১
অবৈধ ভোটের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
অবৈধ ভোট ও নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করল বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া ও নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করেছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে)। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন অ-মার্কিন নাগরিক। তাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নিজেদের মার্কিন নাগরিক হিসেবে দাবি করা এবং নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।   ডিওজে জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কেউ কেউ ২০২২ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবার মামলাগুলোর ঘোষণা দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বিভাগটি অবৈধভাবে মার্কিন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা না করার জন্য সতর্ক করেছে।   ডিওজের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসে বসবাসকারী আটজন অ-মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া আইডাহো, জর্জিয়া, ম্যাসাচুসেটস, উইসকনসিন, নিউ জার্সি ও মিশিগানেও মামলা হয়েছে।   অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অ-মার্কিন নাগরিক হয়েও ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে নিবন্ধন বা ভোট দেওয়ার সময় মিথ্যাভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি করা এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া। তদন্তে পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র জালিয়াতি, তার জালিয়াতি এবং আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগও সামনে এসেছে।   জর্জিয়ায় ভেনেজুয়েলার নাগরিক ও ডিএসিএ সুবিধাভোগী অ্যানালিয়া মিলিসেন্ট একলেসের বিরুদ্ধে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নয়বার ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া এবং ভোট দেওয়ার সময় মিথ্যাভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।   আইডাহোতে বসবাসকারী মেক্সিকোর নাগরিক অ্যাভিলা গোমেজের বিরুদ্ধে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় মিথ্যাভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি এবং ২০২২ সালের মে ও ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভোট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে তার জালিয়াতি, পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্রসংক্রান্ত জালিয়াতি এবং আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগও আনা হয়েছে।   নিউ জার্সিতে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা সান্তানা কৌলিবালির বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন, ২০১৮ ও ২০২০ সালের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অস্থায়ী ব্যালট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনে দেওয়া বক্তব্য নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।   নাইজেরিয়ার নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা গ্ল্যাডিস আদাইজে ওকাফোরের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। ডিওজের অভিযোগ, তিনি ২০২২ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন এবং ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন।   ডিওজের ফ্রড বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন এম. ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এ পর্যন্ত ৫০ জন অ-মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।   এদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন জানিয়েছেন, নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আরও বড় পরিসরে তদন্ত চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ হাজার ৬২০টির বেশি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং ১৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩ লাখের বেশি সন্দেহজনক ঘটনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।   তবে বিচার বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবারের এসব মামলা কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত সব আসামিই আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৭:১৪
শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় টিম কুক ও অ্যান্থনি আলবানিজ
অস্ট্রেলিয়ার সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা নিয়ে টিম কুকের প্রশংসা, নজরে শিশুদের নিরাপত্তা

অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাসহ অনলাইন নিরাপত্তা উদ্যোগকে ‘বিশ্বসেরা’ বলে প্রশংসা করেছেন অ্যাপলের নির্বাহী চেয়ারম্যান টিম কুক। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যাপল পার্কে কুকের সঙ্গে বৈঠকের পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এ কথা জানিয়েছেন।   রোববার অস্ট্রেলিয়ায় সম্প্রচারিত বক্তব্যে আলবানিজ বলেন, কুক তাকে যথেষ্ট সময় দিয়েছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যে কাজ করছে, সেটিকে তিনি ‘বিশ্বসেরা’ হিসেবে দেখছেন। বৈঠকে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা এবং নতুন প্রযুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়।   অস্ট্রেলিয়া গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। দেশটি এ ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথম এমন উদ্যোগ নেয়। চলতি মাসে অনলাইন নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে ব্যবহারকারীদের নিজেদের ফিডে কী ধরনের কনটেন্ট দেখতে চান, সে বিষয়ে আরও নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার পরিকল্পনাও এগিয়ে নিয়েছে সরকার।   বৈঠকে কুক আলবানিজকে অ্যাপলের নতুন কিছু নিরাপত্তা ফিচার দেখান। এসব ফিচারের মাধ্যমে অভিভাবকেরা সন্তানরা কী ধরনের কনটেন্ট দেখবে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং কখন কোন অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবে—এসব বিষয় আরও সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।   অ্যাপলের পক্ষ থেকেও কুকের বক্তব্যের বিষয়ে জানানো হয়েছে। কুক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, আলবানিজের সঙ্গে নতুন কিছু প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে পেরে তিনি আনন্দিত এবং শিশুদের অনলাইনে নিরাপদ রাখতে শক্তিশালী ও সহজে ব্যবহারযোগ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দেখানোর সুযোগ পেয়েছেন।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও কথা বলেছেন আলবানিজ। তার মতে, এআই প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তাই এর ব্যবহারের জন্য একটি বৈশ্বিক কাঠামো প্রয়োজন এবং প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতেই থাকা উচিত। অস্ট্রেলিয়ার এই অবস্থান এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপেক্ষাকৃত কম নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থানের সঙ্গে ভিন্ন।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৬:৫৮
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অ-মার্কিন নাগরিকের ভোট দেওয়ার অভিযোগ
গ্রিন কার্ডধারীর বিরুদ্ধে অবৈধ ভোটের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রে প্তার মেক্সিকান নাগরিক

যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৫ সালের নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগে মেক্সিকোর এক গ্রিন কার্ডধারীকে গ্রে প্তার করেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই)। ৩ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের এল পাসোতে লুডভিগ উরিয়েল এসপেহো-ক্যারিলোকে গ্রে প্তার করা হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, এসপেহো-ক্যারিলোর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া এবং নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে মিথ্যা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি ২০১৩ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী হন। বর্তমানে তাকে আইসিইর হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার প্রক্রিয়া চলবে বলে জানিয়েছে ডিএইচএস।   মার্কিন আইন অনুযায়ী, অ-মার্কিন নাগরিকরা ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। একইভাবে কোনো অ-মার্কিন নাগরিকের নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন বা ভোট দেওয়া ফেডারেল আইনের লঙ্ঘন। তবে কিছু স্থানীয় নির্বাচনে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   এদিকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ ভোট ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে দেশজুড়ে আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে ফেডারেল নির্বাচনে অ-মার্কিন নাগরিকের ভোট দেওয়া, নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন, তারের মাধ্যমে প্রতারণা, নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রতারণা এবং পাসপোর্ট জালিয়াতির মতো অভিযোগ রয়েছে।   টেক্সাসের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টে সাতজন অ-মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধেও ফেডারেল নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া বা মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বৈধ গ্রিন কার্ডধারী।   তবে এসব মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে মাত্র; আদালতে দোষ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিই আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। বিচার বিভাগও তাদের সাম্প্রতিক ঘোষণায় বিষয়টি স্পষ্ট করেছে।   অন্যদিকে, মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, কোনো অ-মার্কিন নাগরিক ফেডারেল বা রাজ্য পর্যায়ের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। তবে ক্যালিফোর্নিয়া, ভার্মন্ট, মেরিল্যান্ড ও ওয়াশিংটন ডিসির অন্তত ১৬টি স্থানীয় এলাকায় স্কুল বোর্ড, সিটি কাউন্সিল বা মেয়র নির্বাচনের মতো কিছু স্থানীয় নির্বাচনে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অনুমতি রয়েছে।   এসপেহো-ক্যারিলোর ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন মার্কিন বিচার বিভাগ অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়া এবং নির্বাচনী নিবন্ধন নিয়ে একাধিক ফেডারেল মামলা ঘোষণা করেছে। তবে এসব পৃথক মামলার অভিযোগ ও প্রমাণ আদালতে বিচারাধীন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৬:৪৪
ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে ঘিরে পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনা
ইমরান খানের বোনকে গ্রে প্তার, ২৭ সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের আগে পাকিস্তানে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষের ধারণা, স্বচ্ছন্দে অবসরজীবন কাটাতে প্রায় ১২ লাখ ডলার সঞ্চয় থাকা দরকার। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত শ্রোডার্সের এক জরিপেও এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে অবসরের পর এই অর্থ কতদিন চলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে বসবাস করছেন তার ওপর।   ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মানিলায়ন ১২ লাখ ডলার অবসর সঞ্চয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি কত বছর চলতে পারবেন, তার একটি হিসাব করেছে। এতে দুটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে—একটি ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রতি মাসে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পাবেন, অন্য ক্ষেত্রে পাবেন না।   হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা। সেখানে ৬৭ বছর বয়সে অবসর নিলে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ৪৪ দশমিক ৬ বছর চলতে পারে। অর্থাৎ সঞ্চয় শেষ হতে পারে ১১১ বছর বয়সের কাছাকাছি গিয়ে। সোশ্যাল সিকিউরিটি না থাকলেও এই অর্থ সেখানে প্রায় ২৩ দশমিক ৪ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে।   এরপর রয়েছে আলাবামা, মিসিসিপি, কানসাস ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। এসব রাজ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলার যথাক্রমে প্রায় ৪৩ দশমিক ১, ৪২, ৪০ দশমিক ৮ ও ৪০ দশমিক ৫ বছর চলতে পারে। ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, মিসৌরি, টেনেসি ও আরকানসাসেও একই অর্থ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় চলার হিসাব পাওয়া গেছে। টেনেসিতে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ প্রায় ৩৯ দশমিক ৭ বছর এবং সুবিধা ছাড়া প্রায় ২২ বছর চলতে পারে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোতে একই পরিমাণ অর্থ অনেক দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানিলায়নের বিশ্লেষণে হাওয়াইকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবস্থানগুলোর একটি হিসেবে পাওয়া গেছে। সেখানে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা থাকলেও ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ১৩ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে। হাওয়াইয়ের পর ম্যাসাচুসেটস, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, আলাস্কা ও নিউইয়র্কেও অবসরের নির্দিষ্ট বাজেট তুলনামূলক দ্রুত শেষ হওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে।   তবে ১২ লাখ ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছানোও অনেক আমেরিকানের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। শ্রোডার্সের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগে তারা সাত অঙ্কের সঞ্চয় করতে পারবেন।   সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়েও অনিশ্চয়তা   এদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালের দিকে কর্মসূচিটির তহবিল সংকটে পড়তে পারে এবং সংস্কার না হলে সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আইনপ্রণেতারা আলোচনা করছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন ও বিল ক্যাসিডি এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর তহবিলকে অন্তত ৫০ বছর আর্থিকভাবে টেকসই রাখার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের পথ তৈরি করা।   ক্যাসিডি ও সিনেটর টিম কেইন-এর আরেকটি প্রস্তাবে ৭৫ বছরের জন্য শেয়ারবাজারসহ তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক অর্থ ট্রেজারি বিভাগের অতিরিক্ত ঋণের মাধ্যমে জোগানের কথা রয়েছে।   অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি মোরেনো সোশ্যাল সিকিউরিটির বেতনভিত্তিক করের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত এই কর প্রযোজ্য। তাদের যুক্তি, উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর করের আওতা বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যেতে পারে।   তবে রক্ষণশীল কয়েকটি সংগঠন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, কর বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে মজুরি ও কর্মসংস্থানে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৬:৩১
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
রিয়াদে হামলার পর নতুন শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষের ধারণা, স্বচ্ছন্দে অবসরজীবন কাটাতে প্রায় ১২ লাখ ডলার সঞ্চয় থাকা দরকার। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত শ্রোডার্সের এক জরিপেও এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে অবসরের পর এই অর্থ কতদিন চলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে বসবাস করছেন তার ওপর।   ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মানিলায়ন ১২ লাখ ডলার অবসর সঞ্চয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি কত বছর চলতে পারবেন, তার একটি হিসাব করেছে। এতে দুটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে—একটি ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রতি মাসে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পাবেন, অন্য ক্ষেত্রে পাবেন না।   হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা। সেখানে ৬৭ বছর বয়সে অবসর নিলে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ৪৪ দশমিক ৬ বছর চলতে পারে। অর্থাৎ সঞ্চয় শেষ হতে পারে ১১১ বছর বয়সের কাছাকাছি গিয়ে। সোশ্যাল সিকিউরিটি না থাকলেও এই অর্থ সেখানে প্রায় ২৩ দশমিক ৪ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে।   এরপর রয়েছে আলাবামা, মিসিসিপি, কানসাস ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। এসব রাজ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলার যথাক্রমে প্রায় ৪৩ দশমিক ১, ৪২, ৪০ দশমিক ৮ ও ৪০ দশমিক ৫ বছর চলতে পারে। ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, মিসৌরি, টেনেসি ও আরকানসাসেও একই অর্থ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় চলার হিসাব পাওয়া গেছে। টেনেসিতে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ প্রায় ৩৯ দশমিক ৭ বছর এবং সুবিধা ছাড়া প্রায় ২২ বছর চলতে পারে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোতে একই পরিমাণ অর্থ অনেক দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানিলায়নের বিশ্লেষণে হাওয়াইকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবস্থানগুলোর একটি হিসেবে পাওয়া গেছে। সেখানে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা থাকলেও ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ১৩ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে। হাওয়াইয়ের পর ম্যাসাচুসেটস, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, আলাস্কা ও নিউইয়র্কেও অবসরের নির্দিষ্ট বাজেট তুলনামূলক দ্রুত শেষ হওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে।   তবে ১২ লাখ ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছানোও অনেক আমেরিকানের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। শ্রোডার্সের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগে তারা সাত অঙ্কের সঞ্চয় করতে পারবেন।   সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়েও অনিশ্চয়তা   এদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালের দিকে কর্মসূচিটির তহবিল সংকটে পড়তে পারে এবং সংস্কার না হলে সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আইনপ্রণেতারা আলোচনা করছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন ও বিল ক্যাসিডি এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর তহবিলকে অন্তত ৫০ বছর আর্থিকভাবে টেকসই রাখার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের পথ তৈরি করা।   ক্যাসিডি ও সিনেটর টিম কেইন-এর আরেকটি প্রস্তাবে ৭৫ বছরের জন্য শেয়ারবাজারসহ তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক অর্থ ট্রেজারি বিভাগের অতিরিক্ত ঋণের মাধ্যমে জোগানের কথা রয়েছে।   অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি মোরেনো সোশ্যাল সিকিউরিটির বেতনভিত্তিক করের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত এই কর প্রযোজ্য। তাদের যুক্তি, উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর করের আওতা বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যেতে পারে।   তবে রক্ষণশীল কয়েকটি সংগঠন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, কর বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে মজুরি ও কর্মসংস্থানে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৬:১৭
১২ লাখ ডলারের সঞ্চয়ে স্টেটভেদে বদলে যাচ্ছে অবসরজীবনের হিসাব
১২ লাখ ডলারে অবসরজীবন, কোনো স্টেটে ৪৪ বছর আবার কোথাও মাত্র ১৩ বছর

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষের ধারণা, স্বচ্ছন্দে অবসরজীবন কাটাতে প্রায় ১২ লাখ ডলার সঞ্চয় থাকা দরকার। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত শ্রোডার্সের এক জরিপেও এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে অবসরের পর এই অর্থ কতদিন চলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে বসবাস করছেন তার ওপর।   ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মানিলায়ন ১২ লাখ ডলার অবসর সঞ্চয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি কত বছর চলতে পারবেন, তার একটি হিসাব করেছে। এতে দুটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে—একটি ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রতি মাসে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পাবেন, অন্য ক্ষেত্রে পাবেন না।   হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা। সেখানে ৬৭ বছর বয়সে অবসর নিলে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ৪৪ দশমিক ৬ বছর চলতে পারে। অর্থাৎ সঞ্চয় শেষ হতে পারে ১১১ বছর বয়সের কাছাকাছি গিয়ে। সোশ্যাল সিকিউরিটি না থাকলেও এই অর্থ সেখানে প্রায় ২৩ দশমিক ৪ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে।   এরপর রয়েছে আলাবামা, মিসিসিপি, কানসাস ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। এসব রাজ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলার যথাক্রমে প্রায় ৪৩ দশমিক ১, ৪২, ৪০ দশমিক ৮ ও ৪০ দশমিক ৫ বছর চলতে পারে। ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, মিসৌরি, টেনেসি ও আরকানসাসেও একই অর্থ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় চলার হিসাব পাওয়া গেছে। টেনেসিতে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ প্রায় ৩৯ দশমিক ৭ বছর এবং সুবিধা ছাড়া প্রায় ২২ বছর চলতে পারে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোতে একই পরিমাণ অর্থ অনেক দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানিলায়নের বিশ্লেষণে হাওয়াইকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবস্থানগুলোর একটি হিসেবে পাওয়া গেছে। সেখানে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা থাকলেও ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ১৩ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে। হাওয়াইয়ের পর ম্যাসাচুসেটস, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, আলাস্কা ও নিউইয়র্কেও অবসরের নির্দিষ্ট বাজেট তুলনামূলক দ্রুত শেষ হওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে।   তবে ১২ লাখ ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছানোও অনেক আমেরিকানের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। শ্রোডার্সের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগে তারা সাত অঙ্কের সঞ্চয় করতে পারবেন।   সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়েও অনিশ্চয়তা   এদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালের দিকে কর্মসূচিটির তহবিল সংকটে পড়তে পারে এবং সংস্কার না হলে সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আইনপ্রণেতারা আলোচনা করছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন ও বিল ক্যাসিডি এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর তহবিলকে অন্তত ৫০ বছর আর্থিকভাবে টেকসই রাখার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের পথ তৈরি করা।   ক্যাসিডি ও সিনেটর টিম কেইন-এর আরেকটি প্রস্তাবে ৭৫ বছরের জন্য শেয়ারবাজারসহ তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক অর্থ ট্রেজারি বিভাগের অতিরিক্ত ঋণের মাধ্যমে জোগানের কথা রয়েছে।   অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি মোরেনো সোশ্যাল সিকিউরিটির বেতনভিত্তিক করের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত এই কর প্রযোজ্য। তাদের যুক্তি, উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর করের আওতা বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যেতে পারে।   তবে রক্ষণশীল কয়েকটি সংগঠন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, কর বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে মজুরি ও কর্মসংস্থানে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৬:২
ভুয়া আমেরিকান ফুটবলার সেজে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
ভুয়া ফুটবলার সেজে ১৩ কোটি টাকার প্র তা র ণা, সামনে এল আরও ৩৫ নারী

যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া আমেরিকান ফুটবলার পরিচয়ে নারীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় নতুন করে আরও ৩৫ নারী সামনে এসেছেন। এ নিয়ে এফবিআইয়ের কাছে সম্ভাব্য ভু ক্ত ভো গীর সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়েছে। শুক্রবার পোর্টল্যান্ড এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট ইনচার্জ ডগ ওলসন জানান, নতুন করে সামনে আসা ৩৫ নারী সত্যিই ডেজন লাভ ও টেলর চ্যানের প্র তা র ণার শিকার হয়েছেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। ওলসন বলেন, অল্প সময়ে এত বেশি মানুষ ভু ক্ত ভো গী হওয়া এবং পরে আরও অনেকে সামনে আসায় তারা বিস্মিত। একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে অন্যরাও মানুষকে টা র্গে ট করতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে এফবিআই। এফবিআইয়ের ধারণা, লাভ ও চ্যানের আরও ভু ক্ত ভো গী থাকতে পারেন, যারা এখনো সামনে আসেননি। তাদের তথ্য দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। লজ্জা বা সামাজিক বিড়ম্বনার ভয়ে কেউ যেন বিষয়টি গোপন না করেন, সে আহ্বানও জানিয়েছেন ওলসন। তদন্তে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর লাভ ও চ্যানের বি রু দ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে এফবিআই। অভিযোগের সময়কাল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত। ওই দিন আইডাহোর বোইসি বিমানবন্দর থেকে দুজনকে আ ট ক করা হয়। তাদের বি রু দ্ধে ওয়্যার ফ্রড ও ওয়্যার ফ্রডের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। ফৌজদারি অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অন্তত চারটি অঙ্গরাজ্যে ২৬ জন পরিচিত ভু ক্ত ভো গীর কাছ থেকে ১৩ লাখ ডলারের বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী লাভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডেটিং অ্যাপে বিভিন্ন ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করতেন। এর মধ্যে নিজেকে সান ফ্রান্সিসকো ফোর্টি-নাইনার্সের আমেরিকান ফুটবলার এবং ধনী সুইস রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী চ্যান কখনো লাভের আর্থিক পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি নারীদের বোঝানোর চেষ্টা করতেন যে, লাভের কাছে দেওয়া অর্থ তিনি বিনিয়োগ করবেন। এফবিআই কর্মকর্তা ওলসন জানান, প্রতিটি নারীর জন্য আলাদা কৌশল তৈরি করা হয়েছিল। সবাইকে আমেরিকান ফুটবলারের পরিচয় দেওয়া হয়নি। তবে লাভ নিজের আর্থিক সামর্থ্য বোঝাতে পেশাদার খেলোয়াড়ের পরিচয়টি প্রায়ই ব্যবহার করতেন। তার পরিচয় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনে ভুয়া তথ্যও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে এফবিআই। কেউ তার পরিচয় যাচাই করতে গেলে সার্চের ফলাফলে যেন সেই তথ্যই দেখতে পান, সেভাবেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এফবিআইয়ের ভাষ্য, সাজানো বিনিয়োগ অ্যাকাউন্ট, ভুয়া ভিডিও কল এবং এআই-নির্ভর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে নারীদের বিশ্বাস অর্জন করা হতো। এরপর তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হতো। এদিকে সান ফ্রান্সিসকো ফোর্টি-নাইনার্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেজন লাভ নামে কাউকে তারা চিনত না। আগস্টে এফবিআই যোগাযোগ করার আগে তার বিষয়ে দলটির কাছে কোনো তথ্যও ছিল না। এফবিআই জানিয়েছে, তদন্তে সহযোগিতা করেছে ফোর্টি-নাইনার্স কর্তৃপক্ষ। যাচাই করে দেখা গেছে, লাভ কখনো ওই দলের খেলোয়াড় বা কর্মী ছিলেন না। এমনকি তিনি কখনো এনএফএলেও খেলেননি। উল্লেখ্য, আমেরিকান ফুটবল বিশ্বে প্রচলিত ফুটবলের চেয়ে আলাদা একটি খেলা। এতে মূলত হাতে বল নিয়ে খেলা হয়, পাশাপাশি পা দিয়েও কিক করা যায়; ডিম্বাকৃতির বল ও সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয় এবং বল প্রতিপক্ষের শেষ প্রান্তে পৌঁছাতে পারলে পয়েন্ট পাওয়া যায়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৫:২৬
ট্রাম্পের ‘ট্রায়াম্ফাল আর্চে’ থাকবে ড্রোন ও স্নাইপার
স্মৃতিস্তম্ভের বদলে সামরিক কমপ্লেক্স! ট্রাম্পের আর্চে থাকবে ড্রোন-স্নাইপার

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে নির্মাণের পরিকল্পনা করা ২৫০ ফুট উঁচু ‘ট্রায়াম্ফাল আর্চ’কে সামরিক স্থাপনা হিসেবেও ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই স্থাপনায় ড্রোন, স্নাইপার ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রাখা হবে।   রোববার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অনুরোধে তিনি আর্চটিকে একটি ‘উচ্চমানের সামরিক কমপ্লেক্স’ হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থাপনাটির ছাদ ও প্লাজা এলাকায় স্নাইপার মোতায়েন করা যাবে এবং দ্রুত ব্যবহারের জন্য বিপুলসংখ্যক ড্রোন রাখা হবে। স্নাইপারদের জন্য বড় পরিমাণ গোলাবারুদ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।   আর্চটি ওয়াশিংটনের মেমোরিয়াল ব্রিজের পাশে, লিংকন মেমোরিয়াল ও আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেট্রির কাছাকাছি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর উচ্চতা হবে প্রায় ২৫০ ফুট বা ৭৬ মিটার। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   ট্রাম্প এর আগে আর্চটিকে ওয়াশিংটনের সৌন্দর্যবর্ধনের একটি প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। এখন সেটির সঙ্গে সামরিক ব্যবহারের বিষয়টিও যুক্ত করার কথা জানালেন তিনি।   তবে প্রকল্পটি নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণকারী সংগঠন, ভেটেরানদের একটি অংশ এবং স্থানীয় আইনপ্রণেতাদের কেউ কেউ এর বিরোধিতা করছেন। আর্চটি আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দৃশ্যপটে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও উদ্বেগ রয়েছে।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, প্রস্তাবিত আর্চটি রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দরের উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করবে না। তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের কেউ কেউ বলছেন, স্থাপনাটি ওয়াশিংটনের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:৪৫
এক লাফে পেট্রলের দাম ২০ টাকা বাড়ায় মাথায় হাত ভোক্তার (প্রতীকী ছবি)
বাংলাদেশে এক লাফে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল ২০ টাকা, ২০২২ সালের পর একবারে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি

বাংলাদেশে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম একসঙ্গে লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকায় বিক্রি হবে। ২০২২ সালের পর একবারে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। রোববার রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন দাম ঘোষণা করে। সোমবার থেকে নতুন দর কার্যকর হবে। এর আগে গত এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম বড় পরিমাণে বাড়ানো হয়েছিল। তখন ডিজেলের দাম ১০০ থেকে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ থেকে ১৩০ টাকা করা হয়। এরপর জুনে কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ানো হলেও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর ওই দামই বহাল ছিল। নতুন দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধের প্রভাবের কথা জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও দেশে একই হারে সমন্বয় করা হয়নি। মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী শুধু ডিজেলেই প্রতি লিটারে বিপিসির প্রায় ৮৯ টাকা লোকসান হচ্ছে। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা এবং একই পরিস্থিতি চললে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। সরকারের হিসাবে, চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর ফলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে। জ্বালানির দাম বাড়ানোর পেছনে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দামের ব্যবধানকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়। তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী ও অন্যান্য কয়েকটি দেশে বাংলাদেশের তুলনায় ডিজেলের দাম বেশি। দেশে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি বিক্রি হওয়ায় পাচারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সরকার। এ ছাড়া এলএনজি খাতে ভর্তুকি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয়ের বিষয়টিও দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্তে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপনে জ্বালানি তেলের মূল্য কাঠামোর বিস্তারিতও দেওয়া হয়েছে। কর-পরবর্তী এক্স-রিফাইনারি মূল্য ডিজেলের ক্ষেত্রে লিটারপ্রতি ১২৩ টাকা ৫৮ পয়সা, কেরোসিনে ১৪৩ টাকা ৭৮ পয়সা, অকটেনে ১৪৯ টাকা ৭৮ পয়সা এবং পেট্রোলে ১৪৪ টাকা ৯৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে ভ্যাট, শুল্ক, বিপণন কোম্পানির মার্জিন, পরিবহন ব্যয়, বিপিসির উন্নয়ন তহবিল, ডিলার ও এজেন্ট কমিশনসহ বিভিন্ন খরচ যোগ করে ভোক্তা পর্যায়ের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। মার্চের দামের সঙ্গে তুলনা করলে সোমবার থেকে ডিজেলের দাম লিটারে ৩৫ টাকা, অকটেনে ৪৫ টাকা, পেট্রোলে ৪৪ টাকা এবং কেরোসিনে ৪৩ টাকা বেশি হবে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারদর, আমদানি ব্যয়, শুল্ক-কর, ডলারের বিনিময় হার, বিপিসির মার্জিন, ভ্যাট ও বিতরণ ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:২৭
যুদ্ধের ধাক্কায় ইরানে পেট্রল সংকট, স্টেশনে দীর্ঘ যানবাহনের সারি
পেট্রল সংকটে বিপর্যস্ত ইরান, দাম দ্বিগুণের পথে: ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে ইরানে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে পেট্রলের জন্য দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে, অনেক স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে এবং কোথাও কোথাও নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহারের পর গাড়িতে যান্ত্রিক ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে সরকার পেট্রলের দাম দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে। ইরানের পার্লামেন্টের অর্থনৈতিক কমিশনের সদস্য জাফর ঘাদেরি জানিয়েছেন, দেশটিতে প্রতিদিন ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি লিটার পেট্রলের ঘাটতি রয়েছে। আমদানি করা পেট্রলের জন্য প্রতি লিটারে প্রায় ১ ডলার খরচ হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধে আমদানি ব্যাহত হওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে। আগে আমদানির প্রায় ৮৩ শতাংশই দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্রপথে আসত। রাজধানী তেহরানের ভেলেনজাক, ফারমানিয়েহ ও পাসদারানসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রল স্টেশনে দীর্ঘ সারির খবর পাওয়া গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে মাশহাদ, রাশত, সারাভান ও চাবাহারেও। কোথাও কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত যানবাহনের সারি তৈরি হয়েছে, আবার অনেক স্টেশন জ্বালানি শেষ হয়ে বন্ধ রয়েছে। এক বাসিন্দা জানান, পেট্রল পেতে তাঁকে পাঁচটি স্টেশনে যেতে হয়েছে। সংকটের আরেকটি দিক হলো জ্বালানির মান। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পেট্রল নেওয়ার পর গাড়ির ইঞ্জিনে সমস্যা, সতর্কসংকেত জ্বলে ওঠা, গতি কমে যাওয়া ও ইঞ্জিনের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। শাহর-ই রে ও রাফসানজানেও জ্বালানি নেওয়ার পর একাধিক গাড়ি ও মোটরসাইকেল বিকল হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু স্থানীয় কর্মকর্তা জ্বালানি পরিবহনের সময় ট্যাংকে পানি ঢোকার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের সমস্যার ঘটনায় জ্বালানির মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরানের পেট্রল উৎপাদনে মিথানলের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদিত মাত্রার বেশি মিথানল থাকলে গাড়ির জ্বালানি ব্যবস্থা ও ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে দেশটির তেল মন্ত্রণালয় বলছে, মিথানলের ব্যবহার সীমিত এবং নির্ধারিত মান মেনেই করা হচ্ছে। এর মধ্যে পেট্রলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে ইরান সরকার। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, তৃতীয় স্তরের পেট্রলের দাম ৫ হাজার থেকে বেড়ে ১০ হাজার তোমানে উঠবে। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে উৎপাদন ও আমদানি ব্যয়ের তুলনায় পেট্রল অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন অনেক ইরানি। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে বলেও বিভিন্ন বাসিন্দা জানিয়েছেন। পেট্রলের সংকটে যানবাহন কম চলাচল, গাড়ি মেরামতের ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার অভিযোগও রয়েছে। সরকার জ্বালানি সংকটের জন্য যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও আমদানির উচ্চ ব্যয়কে দায়ী করছে। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শোধনাগার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের ঘাটতি, পুরোনো পরিবহন ব্যবস্থা, জ্বালানি-অদক্ষ গাড়ি উৎপাদন এবং সামরিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচিতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ব্যয়ের কারণেও বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে ইরানে পেট্রল সংকট এখন শুধু জ্বালানি পাওয়ার সমস্যা নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাড়তি দাম, জ্বালানির মান নিয়ে উদ্বেগ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:৪
জামায়াতকে আধুনিকায়ন ও সংস্কারে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের পাঁচ পরামর্শ
একাত্তরের জন্য ক্ষমা, নেতৃত্বে পরিবর্তনসহ জামায়াতকে রাজ্জাকের ৫ পরামর্শ

‘জামায়াতে ইসলামীর ভবিষ্যৎ আপাতত অনিশ্চিত’—নিজের লেখা বইয়ে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান মূল্যায়ন করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক থাকতে হলে আধুনিকায়ন ও সংস্কারের পাশাপাশি ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া, নেতৃত্বে পরিবর্তনসহ পাঁচটি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।   ২০২৫ সালের ৪ মে মৃত্যুর আগে ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বইটি লিখে যান আবদুর রাজ্জাক। বইটি গত মাসে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) প্রকাশ করে। বইয়ের শেষ দিকে ‘জামায়াতের সামনে এগোনোর পথ’ অধ্যায়ে দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন তিনি।   আবদুর রাজ্জাকের মতে, ১৯৭১ সালের ভূমিকা এখনো জামায়াতের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে বড় প্রভাব ফেলছে। স্বাধীনতাসংগ্রামের বিরোধিতা এবং সে সময়ের কর্মকাণ্ডের জন্য দলটি পুরোপুরি জবাবদিহি করেনি—এমন ধারণা বহু মানুষের মধ্যে রয়েছে। তাঁর মতে, অতীতের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জামায়াতের পক্ষে টেকসই রাজনৈতিক পুনরুত্থান কঠিন। এজন্য নিজেদের ইতিহাসের সঙ্গে সৎভাবে সম্পৃক্ত হয়ে দায় স্বীকার ও আত্মসমালোচনার পথে যেতে হবে।   দলের সাংগঠনিক কাঠামোকেও বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখেছেন আবদুর রাজ্জাক। তাঁর ভাষ্য, দ্রুত পরিবর্তনশীল বাংলাদেশে জামায়াত এখনো অনেকটাই পুরোনো ও রক্ষণশীল কাঠামোয় আটকে আছে। এতে তরুণদের সঙ্গে দলের দূরত্ব বাড়ছে। তরুণ কর্মীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে পর্যাপ্ত সুযোগ না দেওয়া এবং নতুন চিন্তার প্রতি অনাগ্রহ দলটির ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।   জামায়াতের ভাবমূর্তির সংকট নিয়েও বইয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার ও কয়েকজন নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দলটির ওপর রাজনৈতিক ও আবেগগত প্রভাব ফেলেছে বলে উল্লেখ করেন রাজ্জাক। একই সঙ্গে কঠোর রক্ষণশীল ও আধুনিকতার প্রতি অনাগ্রহী দল হিসেবে জামায়াতের যে ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, তা শহুরে ও শিক্ষিত শ্রেণির একটি অংশকে দূরে রাখছে বলে তাঁর পর্যবেক্ষণ।   দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় চাপ, গণমাধ্যমে প্রান্তিকতা ও আইনি চ্যালেঞ্জের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত অনেক সময় নিজেদের নিপীড়নের শিকার হিসেবে তুলে ধরেছে বলেও বইয়ে উল্লেখ করেছেন রাজ্জাক। তাঁর মতে, এই অবস্থান থেকে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা ও জাতীয় ইস্যুতে গঠনমূলকভাবে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন।   ১৯৮৬ সালে জামায়াতে যোগ দেওয়া আবদুর রাজ্জাক ২০০৩ সালে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকার জন্য ক্ষমা না চাওয়ার প্রশ্নে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন।   বিশ্বের বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠন সময়ের সঙ্গে নিজেদের পরিবর্তন করলেও জামায়াত পুরোনো বয়ান ও কৌশলে আটকে আছে বলে মনে করেন রাজ্জাক। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের সময়ও দলটি রাজনৈতিকভাবে বড় সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। তরুণদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে না পারাকে তিনি দলটির অন্যতম দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।   বইয়ের শেষাংশে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে জামায়াতকে পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক। এগুলো হলো—   ১. অতীতের মুখোমুখি হওয়া: ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং জবাবদিহির প্রতিশ্রুতি দেওয়া।   ২. নেতৃত্বের আধুনিকায়ন: তরুণ ও সংস্কারপন্থীদের নেতৃত্বে আনা এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো।   ৩. রাজনৈতিক কর্মসূচির বৈচিত্র্য আনা: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া।   ৪. তরুণদের সম্পৃক্ত করা: তরুণদের আকৃষ্ট করতে সময়োপযোগী রাজনৈতিক বয়ান ও প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।   ৫. আস্থা পুনর্গঠন: নাগরিক সমাজের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং জাতীয় ইস্যুতে উন্মুক্ত ও গঠনমূলক সংলাপে অংশ নেওয়া।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৩:৩৭
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটির গভীর অর্থসংকট মোকাবিলায় নানামুখী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। ছবি: সংগৃহীত
সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স বাড়লে বছরে ৩ হাজার ডলার হারাতে পারেন কর্মীরা

যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের হার বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে মাঝারি আয়ের একজন পূর্ণকালীন কর্মীর বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত ট্যাক্স দিতে হতে পারে। নতুন এক হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত হার কতটা বাড়ানো হবে তার ওপর নির্ভর করে এই অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ পরিবর্তিত হবে।   সোশ্যাল সিকিউরিটির মাসিক সুবিধা পরিশোধে সহায়তা করা ট্রাস্ট তহবিল ২০৩২ সালের শেষ তিন মাসে শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সর্বশেষ ট্রাস্টি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তহবিলের ঘাটতি পূরণে অন্য কোনো ব্যবস্থা না নিলে তখন সুবিধাভোগীদের জন্য একসঙ্গে ২২ শতাংশ পর্যন্ত সুবিধা কমানোর প্রয়োজন হতে পারে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটির বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের হার ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। এই ট্যাক্স কর্মী ও নিয়োগকর্তা সমানভাবে বহন করেন। ২০২৬ সালে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত এই ট্যাক্স প্রযোজ্য। সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট সামাল দিতে এই হার বাড়ানোর বিষয়টি অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিকদের বিভিন্ন প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে।   ক্যাটো ইনস্টিটিউটের এক হিসাব অনুযায়ী, বছরে ৬১ হাজার ৫৮৩ ডলার আয় করা একজন মাঝারি আয়ের পূর্ণকালীন কর্মীর অতিরিক্ত ট্যাক্স বছরে প্রায় ২ হাজার ৬১৭ থেকে ৩ হাজার ২৪ ডলারের মধ্যে হতে পারে। এই হিসাব নির্ভর করছে নতুন বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের হার কত নির্ধারণ করা হবে এবং সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় অন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না তার ওপর।   সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্রাস্টিরা চলতি বছর হিসাব করে দেখেছেন, তহবিলের দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি পূরণে বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের হার ১৬ দশমিক ৬৫ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে, কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের আগের এক হিসাব অনুযায়ী, এই হার ১৭ দশমিক ৩১ শতাংশ হলে অর্থসংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হতে পারে।   তবে অতিরিক্ত ট্যাক্সের পুরোটা কর্মীর বেতন থেকে কাটা হবে এমন নয়। কারণ বর্তমানে এই ট্যাক্স কর্মী ও নিয়োগকর্তার মধ্যে ভাগ করা থাকে। তবে যারা স্বনিযুক্ত, তাদের পুরো যৌথ হার নিজেরাই পরিশোধ করতে হয়। ফলে ট্যাক্সের হার বাড়লে এই শ্রেণির কর্মীদের ওপর সরাসরি বেশি আর্থিক চাপ পড়তে পারে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, ট্যাক্স বাড়ার প্রভাব শুধু বেতন থেকে কেটে নেওয়া অর্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ অ্যালেক্স ডুরান্তের মতে, অর্থনৈতিক তত্ত্ব অনুযায়ী নিয়োগকর্তার অংশের বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের বোঝাও দীর্ঘমেয়াদে কর্মীদের কম মজুরির মাধ্যমে বহন করতে হতে পারে।   কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের একটি বিশ্লেষণেও বেতনভিত্তিক ট্যাক্স বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে হিসাব দেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যায়, এক শতাংশীয় পয়েন্ট ট্যাক্স বাড়ানো হলে স্বল্পমেয়াদে কর্মীরা এর প্রায় ৫৮ শতাংশ আর্থিক প্রভাব বহন করতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদে এই চাপ আরও বাড়তে পারে। সামাজিক নিরাপত্তার মতো অর্থ স্থানান্তরমূলক ব্যয়ে রাজস্ব ব্যবহার করা হলে কর্মীদের ওপর মোট আর্থিক প্রভাব রাজস্ব বৃদ্ধির পরিমাণের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।   সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় শুধু ট্যাক্সের হার বাড়ানোর প্রস্তাবই নেই। বর্তমানে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত যে ট্যাক্স প্রযোজ্য, সেই সীমা বাড়ানোর দাবিও রয়েছে। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও সিনেটর বার্নি মোরেনোসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা বেশি আয়ের মানুষের ওপর আরও বেশি ট্যাক্স আরোপের জন্য এই সীমা বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।   তবে এই পরিকল্পনা নিয়েও মতভেদ রয়েছে। সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, আয়সীমা তুলে দেওয়ার মতো একটি পরিকল্পনা তহবিলকে মাত্র চার বছর পর্যন্ত ঘাটতির বাইরে রাখতে পারে। এরপর আবার অর্থসংকট দেখা দিতে পারে।   আরও কিছু প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে পূর্ণ অবসর বয়স ধীরে ধীরে বাড়ানো এবং বার্ষিক জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা সুবিধার পরিমাণ সীমিত করা। বর্তমানে পূর্ণ অবসর বয়স ৬৭ বছর। প্রতি বছর তিন মাস করে এটি বাড়ানোর একটি প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপকে কার্যত সুবিধা কমানোর পদ্ধতি হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এগুলোও বিরোধিতার মুখে পড়েছে।   ২০২৪ সালের সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পূর্ণ অবসর বয়স ৬৯ বছরে উন্নীত করা হলে তা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর নতুন অবসরগ্রহণকারীদের সুবিধা সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। বিশ্লেষণে বলা হয়, বার্ষিক কোলা হিসাব করলে বয়স বাড়ার সঙ্গে এই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।   এদিকে নির্দিষ্ট অঙ্কের কোলা নির্ধারণের একটি প্রস্তাব নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। এই প্রস্তাবে ২০তম শতাংশক স্তরের একজন সুবিধাভোগী যে কোলা পান, সেটিকেই সবার জন্য নির্ধারিত করার কথা বলা হয়েছে। এআরপির মতে, এমন ব্যবস্থা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ৮০ শতাংশ মানুষ তুলনামূলক কম সুবিধা পেতে পারেন।   সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা বাড়ছে। সাবেক মার্কিন মিন্ট পরিচালক ফিলিপ ডাইলের মতে, এই সংকট সমাধানে সম্ভবত একটি মাত্র পদক্ষেপ যথেষ্ট হবে না। তার মতে, একাধিক পদক্ষেপ একসঙ্গে নিতে হতে পারে এবং এর ফলে বিভিন্ন পক্ষকেই আর্থিক চাপ বহন করতে হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৩:১০
ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের সামরিক সহায়তার অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনকে ২.৬৮ বিলিয়ন ডলারের আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ২ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত প্যাকেজে এস-৩০০-এর আদলে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র, জিএএম-৬৭ ক্ষেপণাস্ত্র, বর্ধিত পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা রকেট ব্যবস্থা এবং ড্রোন প্রতিরোধী রাডার রয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কংগ্রেসে পাঠানো বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ইউক্রেন বর্ধিত পাল্লার লেজার-নির্দেশিত আকাশ প্রতিরক্ষা রকেট ব্যবস্থা, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা পরিবর্তনের কিট এবং ড্রোন প্রতিরোধী রাডারও চেয়েছে। এসব সরঞ্জাম ইউক্রেনের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ আকাশপথের হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্যাকেজে রাখা হয়েছে।   প্রস্তাবিত বিক্রির মধ্যে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার নয়, বিভিন্ন সহায়ক সরঞ্জামও রয়েছে। এর মধ্যে খাড়া করে স্থাপনযোগ্য মাস্ট ট্রেলার, খুচরা যন্ত্রাংশ, সফটওয়্যার এবং প্রকৌশল ও লজিস্টিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত। রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি সহায়তাও প্যাকেজটির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে এর অর্থায়ন ইউরোপীয় দেশগুলোর দেওয়া অর্থ এবং আগের মার্কিন প্রশাসনের সময়ে বরাদ্দ করা বৈদেশিক সামরিক অর্থায়ন থেকে করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এই অর্থ একের বিনিময়ে এক অনুপাতে ইউক্রেন পুনর্গঠন বিনিয়োগ তহবিলে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান হিসেবে গণনা করা হবে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিক্রির লক্ষ্য ইউক্রেনের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দেশটির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো। দপ্তরটি বলেছে, এই বিক্রি আঞ্চলিক মৌলিক সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আনবে না। একই সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নে ইউক্রেনে অতিরিক্ত কোনো মার্কিন সামরিক বা সরকারি কর্মী পাঠানোর প্রয়োজন হবে না।   তবে এটি এখনো চূড়ান্ত অস্ত্র সরবরাহ চুক্তি নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এটিকে সম্ভাব্য বৈদেশিক সামরিক বিক্রির অনুমোদন হিসেবে জানিয়েছে। ফলে পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়টি কার্যকর হবে।   এই ঘোষণার আগে ও একই সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করে, চলতি বছরে ইউক্রেনের ৫ হাজার ৩০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা ও ২২০টির বেশি বসতি তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ইউক্রেন ওই দাবির তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি এবং চলমান যুদ্ধের কারণে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই কঠিন।   অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একই দিনে রাশিয়ার হামলার জবাবে নতুন দূরপাল্লার হামলার প্রস্তুতির কথা জানান। তিনি বলেন, ইউক্রেনের দূরপাল্লার সক্ষমতা আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   নতুন মার্কিন প্যাকেজটি মূলত ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নকে কেন্দ্র করে। ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা পরিবর্তনের সরঞ্জাম এবং কারিগরি সহায়তার সমন্বয়ে তৈরি এই সম্ভাব্য বিক্রির আনুমানিক মূল্য ২ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১২:৪৬
হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা ভাঙা ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার দাবি করেন। ছবি: সংগৃহীত
"ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে চাই", হোয়াইট হাউসের ফুটপাথে তুলে দিলেন গাড়ি

ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের কাছের লাফায়েত স্কয়ার এলাকায় শনিবার দুপুরে এক ব্যক্তি গাড়ি ফুটপাথে তুলে দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার দাবি করেন। ১৬তম স্ট্রিট ও এইচ স্ট্রিটের সংযোগস্থলের কাছে নিরাপত্তাবেষ্টনীর পাশে গাড়িটি নেওয়ার ঘটনায় দ্রুত মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে ওই ব্যক্তিকে আটক করে কাছের একটি হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের জন্য নেওয়া হয়। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।    ঘটনাটি ঘটে শনিবার দুপুরের দিকে লাফায়েত স্কয়ারের কাছে। ওই ব্যক্তি নিরাপত্তাবেষ্টনীর কাছাকাছি ফুটপাথে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কতা তৈরি হয়। আশপাশের সড়কও সতর্কতামূলকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ওই গাড়িতে তল্লাশি চালানো হলেও বিপজ্জনক কোনো বস্তু পাওয়া যায়নি।    আটকের সময় ওই ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার দাবি জানাচ্ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই সময় ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ছিলেন না। তিনি মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে অবস্থান করছিলেন। সিক্রেট সার্ভিসের একজন মুখপাত্র জানান, ব্যক্তিটিকে পরে হাসপাতালে নেওয়া হয় মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের জন্য। তবে তার পরিচয় বা তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।    ঘটনার পর সিক্রেট সার্ভিস মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রশংসা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো বিপজ্জনক বস্তু না পাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।    হোয়াইট হাউস ও লাফায়েত স্কয়ারের আশপাশে যানবাহন নিয়ে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরের মার্চে ম্যাডিসন প্লেস ও এইচ স্ট্রিট নর্থওয়েস্ট এলাকায় একটি গাড়ি অস্থায়ী নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ঢুকে পড়েছিল। চালককে পরে আটক করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি ধূসর রঙের আকিউরা গাড়ির চালক হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা গেট ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করার পর গ্রেপ্তার হন। ওই সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ছিলেন বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে।    প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুতর ঘটনার কারণে হোয়াইট হাউসের আশপাশে এমন যেকোনো অস্বাভাবিক যানবাহন চলাচলকে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল ওয়াশিংটন হিলটনে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস’ অ্যাসোসিয়েশনের ডিনারের সময় গুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৩১ বছর বয়সী কোল অ্যালেনকে অভিযুক্ত করা হয় এবং একজন সিক্রেট সার্ভিস অফিসার গুলিতে আঘাত পেলেও বুলেটপ্রুফ ভেস্টের কারণে গুরুতর আহত হননি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অ্যালেনের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টকে হত্যাচেষ্টাসহ ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে।    এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় ট্রাম্প আহত হন এবং হামলাকারী থমাস ম্যাথিউ ক্রুকসকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাল্টা গুলিতে হত্যা করা হয়। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি কোনো গাড়ি নিরাপত্তাবেষ্টনীর দিকে চলে গেলে কেন দ্রুত সিক্রেট সার্ভিস ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়, শনিবারের ঘটনাটি তারই আরেকটি উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১২:২১
জিআরই পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৩৪০ নম্বরের মধ্যে পূর্ণ ৩৪০ পেয়েছেন তানভীর তাহমিদ। ছবি: সংগৃহীত
জিআরইতে ৩৪০-এ ৩৪০, তানভীরের প্রস্তুতির মূলমন্ত্র ছিল ‘ভলিউম’, জানুন আরো কৌশল

জিআরই বা গ্র্যাজুয়েট রেকর্ড এক্সামিনেশনে সর্বোচ্চ ৩৪০ নম্বরের মধ্যে পূর্ণ ৩৪০ পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বেটস কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর তাহমিদ। কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিংয়ে ১৭০ এবং ভার্বাল রিজনিংয়েও ১৭০ নম্বর পেয়েছেন তিনি। এমন ফলের পর তার কাছে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন এসেছে, তা হলো কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তানভীরের উত্তর, প্রস্তুতির মূলনীতি ছিল ‘ভলিউম’ - প্রচুর প্রশ্ন সমাধান, বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা এবং নিজের ভুল বারবার বিশ্লেষণ করা।   তার মতে, জিআরই প্রস্তুতির লক্ষ্য শুধু পরীক্ষার সিলেবাস শেষ করা নয়। বরং এত বেশি প্রশ্ন অনুশীলন করা দরকার, যাতে পরীক্ষার হলে নতুন কোনো প্রশ্ন দেখলেও তার ধরন অপরিচিত মনে না হয়। প্রশ্নটি আগে দেখা না থাকলেও একই ধরনের সমস্যা বহুবার অনুশীলন করা থাকলে সেটি সমাধানের পথ দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায়।   বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য জিআরই অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা। বিশেষ করে প্রতিযোগিতামূলক গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম বা অর্থায়নের সুযোগের ক্ষেত্রে ভালো স্কোর আবেদনকে শক্তিশালী করতে পারে। তানভীরের অভিজ্ঞতায়, জিআরইকে শুধু গণিত ও ইংরেজির পরীক্ষা হিসেবে দেখলে প্রস্তুতিতে ঘাটতি থেকে যেতে পারে। সময়ের চাপের মধ্যে প্রশ্ন বোঝা, তথ্য বিশ্লেষণ করা, ভুল বিকল্প বাদ দেওয়া এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।   প্রশ্নের সঙ্গে পরিচিতি তৈরি করাকে তাই তিনি প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেছেন। শুরুতে একটি প্রশ্ন হাতে নিয়ে কোন পদ্ধতিতে সমাধান করবেন, কোন তথ্য গুরুত্বপূর্ণ এবং কোথায় ফাঁদ থাকতে পারে, এসব নিয়ে ভাবতে সময় লাগত। কিন্তু একই ধরনের শত শত প্রশ্ন সমাধানের পর এই প্রক্রিয়া অনেক বেশি স্বাভাবিক হয়ে আসে। পরীক্ষার হলে নির্দিষ্ট প্রশ্নটি নতুন হলেও তার ধরন পরিচিত থাকার কারণে দ্রুত সমাধানের দিকে যাওয়া সম্ভব হয়।   তবে শুধু বেশি প্রশ্ন সমাধান করাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন তানভীর। কোনো প্রশ্ন ভুল হলে সঠিক উত্তর দেখে এগিয়ে যাওয়ার বদলে তিনি বোঝার চেষ্টা করেছেন কেন ভুল হয়েছে। কোথায় ভুল চিন্তা করেছেন, প্রশ্নের কোন অংশ ভুল বুঝেছেন কিংবা কোন কৌশল প্রয়োগ করা উচিত ছিল, সেসব বিশ্লেষণ করেছেন। তার মতে, অনুশীলনের সঙ্গে ভুল বিশ্লেষণ না করলে একই ধরনের ভুল আবারও হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।   কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিংয়ের প্রস্তুতিতে প্রথমে মৌলিক ধারণাগুলো পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। পাটিগণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি, অনুপাত, শতকরা, সম্ভাবনা, পরিসংখ্যান ও তথ্য বিশ্লেষণের মতো বিষয়গুলোর ভিত্তি শক্ত থাকা জরুরি। এরপর তার বড় মনোযোগ ছিল সময় ধরে অনুশীলনে। প্রস্তুতির একটি পর্যায়ে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০টি পর্যন্ত প্রশ্ন সময় ধরে সমাধান করেছেন তিনি।   কোন ধরনের প্রশ্নে বেশি ভুল হচ্ছে, সেটিও আলাদাভাবে নোট করতেন তানভীর। জ্যামিতি, ওয়েটেড অ্যাভারেজ এবং নির্দিষ্ট কিছু সমস্যা সমাধানের ধরন তার তুলনামূলক দুর্বল জায়গা ছিল। তাই সব ধরনের প্রশ্ন একসঙ্গে অনুশীলনের পরিবর্তে এসব বিষয় আলাদা করে চর্চা করেছেন। তার মতে, কোয়ান্টে ভালো করার জন্য গতি ও নির্ভুলতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা জরুরি। দ্রুত সমাধান করতে গিয়ে ভুল করা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি একটি প্রশ্নে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করাও পরীক্ষায় সমস্যার কারণ হতে পারে।   ভার্বাল রিজনিংয়ের প্রস্তুতিতে শুধু কঠিন শব্দ মুখস্থ করার ওপর নির্ভর করেননি তিনি। প্রায় ২ হাজার শব্দের ভোকাবুলারি প্রস্তুত করলেও শব্দের অর্থের পাশাপাশি কোন পরিস্থিতিতে শব্দটি ব্যবহৃত হয় এবং বাক্যের মধ্যে তার ভূমিকা কী, সেটি বোঝার চেষ্টা করেছেন। প্যাসেজে লেখক কী বলতে চেয়েছেন, যুক্তির কাঠামো কী এবং প্রশ্নের বিকল্পগুলোর মধ্যে কোনটিতে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেগুলোও নিয়মিত অনুশীলন করেছেন।   তানভীরের মতে, ভার্বালের ক্ষেত্রে প্রশ্নের ফাঁদগুলো চিনতে পারার দক্ষতা নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে তৈরি হয়। একই ধরনের প্রশ্ন বারবার সমাধান করতে থাকলে ভুলের ধরন যেমন বোঝা যায়, তেমনি সঠিক উত্তর বেছে নেওয়ার যুক্তিও পরিষ্কার হয়। তাই শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, সেই জ্ঞান দ্রুত প্রয়োগ করার অভ্যাস তৈরি করাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।   প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে মক টেস্ট ছিল তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি মক টেস্ট দেওয়ার পর তিনি শুধু মোট স্কোর দেখতেন না। কোন প্রশ্ন ভুল হয়েছে, কেন ভুল হয়েছে, কোন প্রশ্নে বেশি সময় চলে গেছে এবং কোথায় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেগুলো বিশ্লেষণ করতেন। শুরুতে তার মক স্কোর ৩২৮ থেকে ৩৩০-এর আশপাশে ছিল। পরবর্তী সময়ে নিয়মিত অনুশীলন ও ভুল বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেই স্কোর বাড়তে থাকে।   প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অফিশিয়াল উপকরণকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তানভীর। তার মতে, পরীক্ষার প্রশ্নের ভাষা, কাঠামো ও প্রশ্নের ধরন বোঝার জন্য মূল পরীক্ষার সংস্থার উপকরণ সবচেয়ে কার্যকর। এর পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন রিসোর্সও ব্যবহার করেছেন। তবে তার অভিজ্ঞতা হলো, কতগুলো রিসোর্স ব্যবহার করা হচ্ছে তার চেয়ে একটি রিসোর্স কতটা গভীরভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   জিআরইর আগে আইবিএ ভর্তি পরীক্ষা ও স্যাটের প্রস্তুতির অভিজ্ঞতাও তানভীরের কাজে এসেছে। সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধান করা, প্রশ্নের ভাষা বিশ্লেষণ করা এবং ভুল বিকল্প বাদ দেওয়ার মতো দক্ষতাগুলো আগের প্রস্তুতি থেকেই তৈরি হয়েছিল। পরে জিআরইর জন্য সেই দক্ষতাগুলোকে আরও বেশি অনুশীলনের মাধ্যমে শানিত করেছেন তিনি।   ৩৪০-এ ৩৪০ পাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে তানভীরের মূল বার্তা হলো, জিআরই প্রস্তুতিতে কোনো একটি গোপন কৌশলের চেয়ে ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত অনুশীলন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, পরীক্ষার হলে প্রশ্ন নতুন হতে পারে, কিন্তু প্রশ্নের ধরন যেন নতুন না লাগে। সেই পরিচিতি তৈরি করতে প্রচুর প্রশ্ন সমাধান, ভুল বিশ্লেষণ এবং সময় ধরে নিয়মিত অনুশীলনই ছিল তার প্রস্তুতির মূল ভিত্তি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১১:৫৬
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ
জাল সনদে সুপ্রিম কোর্টে ১৯ বছর চাকরি, এবার ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ

জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে প্রায় ১৯ বছর দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে চাকরি করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর অফিস সহকারী মোহাম্মদ গোলাম মাওলাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। শুধু চাকরি হারানোই নয়, দীর্ঘ কর্মজীবনে বেতন-ভাতা হিসেবে নেওয়া ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাধারণ ও সংস্থাপন শাখা থেকে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশে গোলাম মাওলাকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত পদ্ধতিতে পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে।    অফিস আদেশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর হাতিরপুল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ গোলাম মাওলা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ব্যবহার করে হাইকোর্ট বিভাগের অফিস সহকারী পদে চাকরি নিয়েছিলেন। তিনি ২০০৭ সালের ৩১ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে চাকরিতে যোগ দেন। � BarTabazar দীর্ঘ সময় চাকরি করার পর তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়ে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২১ সালে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা নম্বর ০৯/২০২১ করা হয়। বিভাগীয় কার্যক্রমে জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর সরকারি বিধি অনুযায়ী চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়।   তবে বিষয়টি চাকরিচ্যুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়, জাল ও জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ভিত্তিতে তাঁর নিয়োগ হওয়ায় চাকরিটি শুরু থেকেই বাতিল বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ, বৈধ শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া নিয়োগ পাওয়ার কারণে চাকরির পুরো সময়ের বেতন-ভাতার ওপর তাঁর অধিকারও স্বীকৃত হবে না—এমন অবস্থানই নেওয়া হয়েছে অফিস আদেশে।   হিসাব অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত গোলাম মাওলা বেতন ও বিভিন্ন ভাতা বাবদ মোট ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা গ্রহণ করেছেন। নিয়োগ শুরু থেকেই বাতিল হিসেবে গণ্য হওয়ায় পুরো অর্থ ফেরত চাওয়া হয়েছে।   সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশে তাঁকে ৩০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় চালান ব্যবস্থার মাধ্যমে ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।    ঘটনাটি সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সময় শিক্ষাগত সনদ যাচাইয়ের গুরুত্বও সামনে এনেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও জাল বা ভুয়া সনদের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন চাকরি করার একাধিক ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। যেমন, ২০২৬ সালে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ৭৩ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বন্ধ এবং তাঁদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ফেরত নেওয়ার নির্দেশের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।    তবে সুপ্রিম কোর্টের এই ঘটনাটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই প্রায় দুই দশক চাকরি করেছেন। ২০০৭ সালে যোগদানের পর অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২১ সালে বিভাগীয় মামলা এবং ২০২৬ সালে চাকরি থেকে অপসারণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তৃত।   এখন অফিস আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে ৪২ লাখের বেশি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে গোলাম মাওলার। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো বক্তব্য বা তিনি সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না, সে তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১১:৫০
স্কুলগুলোতে হিজাব ও বোরকা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে ইতালি সরকার। ছবি: সংগৃহীত
ইতালির স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে হিজাব-বোরকা, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাও সীমিত করার পরিকল্পনা

ইতালির স্কুলগুলোতে হিজাব ও বোরকা নিষিদ্ধ করা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে স্কুলব্যবস্থায় একীভূত হতে সমস্যায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। প্রস্তাবিত এসব ব্যবস্থা শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।   রোববার ইতালির ক্ষমতাসীন ব্রাদার্স অব ইতালি দলের যুব সংগঠনের আয়োজিত ফেনিক্স নামের জাতীয় যুব উৎসবে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেলোনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান। তাঁর বক্তব্যে স্কুলের শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং ধর্মীয় পোশাকের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়।   মেলোনি বলেন, ইতালীয় শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় শিশুরা যেন নিজেদের সংখ্যালঘু মনে না করে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ইতালীয় শ্রেণিকক্ষে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়, যেখানে ইতালীয় শিশুরাই নিজেদের কোণঠাসা মনে করে।   প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি শ্রেণিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণের জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সেই সর্বোচ্চ সংখ্যা কত হবে, তা মেলোনি তাঁর বক্তব্যে জানাননি। ফলে এখনো শ্রেণিপ্রতি বিদেশি শিক্ষার্থীর নির্দিষ্ট সীমা প্রকাশ করা হয়নি।   বিদেশি শিক্ষার্থীদের একীভূত হওয়ার বিষয়টিকেও পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন মেলোনি। তিনি বলেছেন, কোনো শ্রেণিতে ইতালীয় ভাষা না জানা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হয়ে গেলে তাদের ইতালীয় সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।   এ কারণে স্কুলব্যবস্থায় গুরুতরভাবে একীভূত হতে সমস্যায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতা চালুর কথাও জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ শুধু শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির বিষয় নয়, তাদের পরিবারের ভাষাগত একীভূত হওয়ার বিষয়টিকেও প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।   স্কুলে পোশাকের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মেলোনি। তিনি বলেছেন, তাঁর সরকার স্কুলে বোরকা ও হিজাব নিষিদ্ধ করবে। অন্যদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে প্রস্তাবটিকে মুখ ঢেকে রাখা পোশাক, বিশেষ করে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে চূড়ান্ত আইনে নিষেধাজ্ঞার পরিধি কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব উপস্থাপনের পর আরও স্পষ্ট হবে।   মেলোনির এই বক্তব্য এসেছে ইতালির স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের একীভূত হওয়া এবং শ্রেণিকক্ষে ভাষাগত পরিবেশ নিয়ে সরকারের চলমান আলোচনার মধ্যে। বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার পাশাপাশি তাদের পরিবারকে ইতালীয় ভাষা শেখানোর বিষয়টি সরকারের প্রস্তাবিত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।   মেলোনি তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, ইতালির স্কুলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয়, যেখানে ইতালীয় শিক্ষার্থীরা নিজেদের শ্রেণিকক্ষেই সংখ্যালঘু মনে করে। তাঁর ঘোষিত পরিকল্পনার পেছনে স্কুলের শিক্ষা ও একীভূতকরণ ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   তবে এসব ব্যবস্থা এখনো চূড়ান্ত আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। মেলোনি জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত আইনি ব্যবস্থা শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। এরপর প্রস্তাবের বিস্তারিত নিয়ম, বিদেশি শিক্ষার্থীর নির্দিষ্ট সীমা এবং স্কুলে পোশাকসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রয়োগের বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে।   ইতালির প্রধানমন্ত্রী এমন সময় এসব পরিকল্পনা ঘোষণা করলেন, যখন দেশটির সরকার স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের একীভূত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন নীতি তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে। বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করা, অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখানো এবং হিজাব-বোরকার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব একই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সামনে এসেছে। এখন মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব উপস্থাপনের পর এর পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১১:৪২
মুম্বাইয়ের কোলাবার ১০৮ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ক্যাফে অলিম্পিয়া কফি হাউস। ছবি: সংগৃহীত
ক্রিস্টোফার নোলান সহ সেলিব্রেটিদের যাওয়া মুম্বাইয়ের ক্যাফেতে মিলল তেলাপোকা! লাইসেন্স বাতিল

মুম্বাইয়ের কোলাবার ১০৮ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ক্যাফে অলিম্পিয়া কফি হাউসের খাবারের লাইসেন্স স্থগিত করেছে মহারাষ্ট্র ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)। ১৬ সেপ্টেম্বর ভোক্তার অভিযোগের ভিত্তিতে পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তারা ক্যাফেটিতে তেলাপোকা ও মাছির উপদ্রব, মেঝেতে সরাসরি খাবার রাখাসহ গুরুতর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনিয়ম দেখতে পান।   এফডিএর পরিদর্শন প্রতিবেদনের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ক্যাফেটির খাবার সংরক্ষণের জায়গার ভেতরেই একটি ইউরিনাল পাওয়া যায়। রান্না ও বাসন ধোয়ার জায়গার পরিচ্ছন্নতা নিয়েও আপত্তিকর পরিস্থিতি দেখা যায়। একই সঙ্গে অপরিষ্কার পানি ব্যবহারের অভিযোগ এবং খাবার সরাসরি মেঝেতে রেখে বা মেঝের ওপর পরিচালনা করার বিষয়ও পরিদর্শনে উঠে আসে।   পরিদর্শনে আরও দেখা যায়, ক্যাফেটির একটি রেফ্রিজারেটরে মাংসের রক্তের অবশিষ্টাংশ ছিল। কাঁচা নিরামিষ ও আমিষ খাবার যথাযথভাবে আলাদা করে সংরক্ষণ করা হয়নি। কিছু কাঠের কাটিং বোর্ডও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছে। খাবার পরিবেশন ও প্রস্তুতের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের যথাযথ সুরক্ষা পোশাক না থাকার বিষয়টিও এফডিএর নজরে আসে।   কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিয়েও গুরুতর ঘাটতি পাওয়া গেছে। পরিদর্শনের সময় ৩৫ জন খাবারকর্মীর মধ্যে ৩৪ জনের প্রয়োজনীয় খাদ্য নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের সনদ ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পানি পরীক্ষার বাধ্যতামূলক প্রতিবেদন এবং পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিও কর্তৃপক্ষকে দেখাতে পারেনি ক্যাফেটি।   এই পরিস্থিতিতে এফডিএ তাৎক্ষণিকভাবে অলিম্পিয়া কফি হাউসের খাদ্য লাইসেন্স স্থগিত করে। লাইসেন্স স্থগিত থাকা অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটিকে খাবার কেনা, প্রস্তুত করা, সংরক্ষণ, বিক্রি ও বিতরণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ত্রুটিগুলো সংশোধন করে পুনরায় পরিদর্শনে সন্তোষজনক ফল পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে ক্যাফেটির দীর্ঘ ইতিহাস ও সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিচিতির কারণে। ১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত অলিম্পিয়া কফি হাউস মুম্বাইয়ের কোলাবা এলাকার পুরোনো খাবারের প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। চা, বান মাসকা ও মুঘলাই খাবারের জন্য পরিচিত এই ক্যাফে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।   চলতি বছরের জুলাইয়ে হলিউড অভিনেতা ম্যাট ডেমন ও টম হল্যান্ড এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান মুম্বাই সফরের সময় এই ক্যাফেতে গিয়েছিলেন। তাদের সেখানে চা ও স্থানীয় খাবার খাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঐতিহাসিক ক্যাফেটি নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় আসে। তবে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুতর অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স স্থগিতের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   মহারাষ্ট্র এফডিএ সাম্প্রতিক সময়ে খাবারের দোকান, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য খাদ্য প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড যাচাইয়ে অভিযান জোরদার করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে পারে এমন অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অলিম্পিয়া কফি হাউসের ক্ষেত্রেও ত্রুটি সংশোধন ও পুনঃপরিদর্শনের ফলাফলের ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১১:১৮