সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় চেহারা ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে আইসিইর আটক অভিযান নিষিদ্ধ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৯:৫১
আইসিইর আটক অভিযান
আইসিইর আটক অভিযান

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শুধু চেহারা, জাতিগত পরিচয় কিংবা শ্রমজীবী মানুষ হিসেবে দেখেই কাউকে থামানো বা আটক করার বিষয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক আদেশে বিচারক জানিয়েছেন, শুধু লাতিনো বংশোদ্ভূত মনে হওয়া কিংবা শ্রমজীবী মানুষের মতো দেখতে হওয়ার ভিত্তিতে কাউকে ইমিগ্রেশন তদন্তের জন্য থামানো যাবে না। এ ধরনের পদক্ষেপের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের যুক্তিসংগত ও ব্যক্তিনির্দিষ্ট সন্দেহ থাকতে হবে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় আইসিইসহ ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্বপূর্ণ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

 

ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল বিচারক মামে ইউসি-মেনসা ফ্রিমপং নতুন এই প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। তিনি জানান, আদালতে উপস্থাপিত বিপুলসংখ্যক প্রমাণ থেকে এমন ধারণার ভিত্তি পাওয়া গেছে যে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে থামানোর একটি অলিখিত নীতি কার্যকর ছিল। বিচারক তাঁর আদেশে সরকারি কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরার ফুটেজ, অভ্যন্তরীণ বার্তা এবং অভিযানের বিভিন্ন নথির কথা উল্লেখ করেন। তবে এই আদেশ মামলার চূড়ান্ত রায় নয়।

 

আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধু লাতিনো হিসেবে চিহ্নিত হওয়া কিংবা শ্রমজীবী মানুষের মতো পোশাক বা চেহারা থাকার কারণে কোনো ব্যক্তিকে ইমিগ্রেশন তদন্তের জন্য থামানো যাবে না। কাউকে সাময়িকভাবে আটক করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাঁর বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের যুক্তিসংগত সন্দেহের ভিত্তি থাকতে হবে। তবে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরের মতো অনুমোদিত প্রবেশপথ, সীমান্ত চেকপয়েন্ট এবং সীমান্তের সমতুল্য নির্দিষ্ট স্থানে পরিচালিত কার্যক্রমের ক্ষেত্রে এই আদেশের কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে।

 

এই নিষেধাজ্ঞা ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টে প্রযোজ্য। এর মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস, অরেঞ্জ, রিভারসাইড, সান বার্নার্ডিনো, ভেনচুরা, সান্তা বারবারা এবং সান লুইস ওবিসপো কাউন্টি অন্তর্ভুক্ত। ফলে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর সব অভিযান বন্ধ হয়ে গেছে, এমন নয়। একইভাবে আদালত ইমিগ্রেশন আইন কার্যকর করার ক্ষমতাও বাতিল করেননি। প্রয়োজনীয় আইনি ভিত্তি থাকলে কর্মকর্তারা তদন্ত ও আটক কার্যক্রম চালাতে পারবেন।

 

মামলাটি শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যাপক ইমিগ্রেশন অভিযানের পর। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া শাখা, পাবলিক কাউন্সেল এবং কয়েকটি সংগঠন ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়াই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছেন। বিশেষ করে হোম ডিপো, গাড়ি ধোয়ার প্রতিষ্ঠান এবং শ্রমিকদের জড়ো হওয়ার স্থানগুলোতে লাতিনো বংশোদ্ভূত মানুষদের লক্ষ্য করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন মামলাকারীরা।

 

আদালতে জমা দেওয়া নতুন প্রমাণের মধ্যে রয়েছে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরার ভিডিও এবং নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করা টেক্সট মেসেজ। এসব নথিতে কয়েকজন কর্মকর্তাকে লাতিনো অভিবাসীদের সম্পর্কে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করতে দেখা যায়। মামলাকারীদের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, অনেক অভিযানে নির্দিষ্ট সন্দেহভাজনকে ধরার পরিবর্তে এলাকায় উপস্থিত মানুষদের নির্বিচারে থামানো হয়েছে। এমনকি কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও এসব অভিযানে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছেন বলে আদালতে তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

 

বিচারক ফ্রিমপং তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কর্মকর্তাদের আইন মেনে চলার প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা জানানো হলেও বাস্তব অভিযানের নথিতে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। আদালতের মতে, মামলাকারীরা এমন প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন, যার ভিত্তিতে জাতিগত পরিচয়কে প্রধান বিবেচনা করে মানুষকে থামানোর নীতি কার্যকর থাকার অভিযোগ তাঁরা প্রমাণ করতে সক্ষম হতে পারেন। তবে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বেআইনি জাতিগত প্রোফাইলিংয়ের নীতি গ্রহণ করেছিল, এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো দেওয়া হয়নি।

 

মামলার নথিতে কয়েকটি ঘটনার বিবরণও রয়েছে। একটি গাড়ি ধোয়ার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মার্কিন নাগরিককে কর্মকর্তারা তাঁর পাসপোর্ট দেখানোর সুযোগ দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্য একটি ঘটনায় লাতিনো শ্রমিক ও গ্রাহকদের থামানো হলেও একই স্থানে থাকা শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন মামলাকারীরা। এসব ঘটনা ইমিগ্রেশন অভিযানে জাতিগত বৈষম্য হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য আদালতে তুলে ধরা হয়েছে।

 

অন্যদিকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সংস্থাটির অবস্থান হলো, কর্মকর্তারা আইন অনুযায়ী অভিবাসন বিধি কার্যকর করছেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালাচ্ছেন। মামলার শুনানিতে বিচার বিভাগের আইনজীবীরাও যুক্তি দেন, নতুনভাবে উপস্থাপিত তথ্য আগের পরিস্থিতির তুলনায় মৌলিক পরিবর্তন দেখায় না। তবে বিচারক সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি।

 

এই মামলায় এর আগেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছিল। ২০২৫ সালে বিচারক ফ্রিমপং জাতিগত পরিচয়, ভাষা, অবস্থান ও কর্মক্ষেত্রের ভিত্তিতে মানুষকে থামানোর বিরুদ্ধে সাময়িক নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। তবে সর্বোচ্চ আদালতের ওই সিদ্ধান্তে বিস্তারিত সংখ্যাগরিষ্ঠ যুক্তি প্রকাশ করা হয়নি। সর্বশেষ আদেশে বিচারক জানিয়েছেন, নতুন প্রমাণ ও আইনি যুক্তির কারণে বর্তমান আবেদনটি আগেরটির তুলনায় ভিন্ন।

 

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করেছে। বুধবারই নাইনথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের কাছে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়। ফলে উচ্চ আদালত পরবর্তী সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখবেন, পরিবর্তন করবেন কিংবা স্থগিত করবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আপাতত আদালতের নির্দেশ সংশ্লিষ্ট এলাকায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি সীমা নির্ধারণ করেছে।

 

অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। এসিএলইউ অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার অভিবাসী অধিকারবিষয়ক পরিচালক মোহাম্মদ তাজসার বলেন, এই আদেশের মাধ্যমে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে থামানোর বিরুদ্ধে সাংবিধানিক সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। মামলাকারী সংগঠনগুলো জানিয়েছে, ফেডারেল কর্মকর্তারা আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে অনুসরণ করছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের জন্যও এই রায় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শুধু চেহারা বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে ইমিগ্রেশন তদন্তের জন্য থামানোর বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এই সিদ্ধান্ত কাউকে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস দেয় না, ডিপোর্টেশন মামলা বাতিল করে না কিংবা আইনসম্মত সব ধরনের আটক নিষিদ্ধ করে না। কোনো ব্যক্তি আইসিইর মুখোমুখি হলে তাঁর নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনি অধিকার সম্পর্কে যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

 

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ইমিগ্রেশন অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন সীমারেখা নির্ধারণ করেছেন ফেডারেল বিচারক। আদালতের পর্যবেক্ষণে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে থামানোর অভিযোগের পক্ষে উল্লেখযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি এবং ট্রাম্প প্রশাসন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। ফলে আগামী দিনে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর এই নিষেধাজ্ঞার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

 

সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ফর দ্য সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার আদেশ; ট্রিবিউন কনটেন্ট এজেন্সি


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ডোরড্যাশের ইনস্টাকার্ট অধিগ্রহণের প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
গ্রাহক ও কর্মীদের ক্ষতির শঙ্কায় ডোরড্যাশের নতুন চুক্তির বিরোধিতা করলেন নিউ ইয়র্কের মেয়র মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের খাবার ও পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডোরড্যাশের ১৭ বিলিয়ন ডলারে ইনস্টাকার্ট অধিগ্রহণের প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তাঁর আশঙ্কা, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের একীভূত হওয়ার ফলে পণ্যের দাম বাড়তে পারে, শ্রমিকদের ওপর চাপ ও শোষণ বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও গভীর হতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অধিগ্রহণের ঘোষণা আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।   মামদানি লিখেছেন, ‘করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর একীভূত হওয়ার ফলে নিউ ইয়র্কবাসীর জন্য দাম বাড়বে, শ্রমিকদের শোষণ আরও কঠোর হবে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়বে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এর আগেও এসব বড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। সেই অবস্থান এখনো বদলায়নি।’   অন্যদিকে ডোরড্যাশের প্রধান নির্বাহী টনি শু দাবি করেছেন, ইনস্টাকার্ট অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে গ্রাহকেরা কম দামে পণ্য পাবেন এবং সরবরাহের সময়ও কমবে। পাশাপাশি দুই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করা পণ্য সরবরাহকারীদের আয়ের সুযোগ বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।   মামদানির আপত্তির পেছনে নিউ ইয়র্কে ডোরড্যাশের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক একটি আর্থিক নিষ্পত্তির বিষয়ও রয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর শহরটির ভোক্তা ও শ্রমিক সুরক্ষা বিভাগ (ডিসিডব্লিউপি) ডেলিভারি কর্মীদের পারিশ্রমিক নিয়ে তদন্তের পর ডোরড্যাশের সঙ্গে ১৩ কোটি ১৫ লাখ ডলারের একটি নিষ্পত্তিতে পৌঁছায়। এর মধ্যে ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের দেওয়ার কথা রয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি ডেলিভারি কর্মী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আওতায় রয়েছেন।   এ ছাড়া গ্রাহকদের পণ্য কেনার সময়ই ডেলিভারি কর্মীদের বকশিশ দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে নিউ ইয়র্ক সিটি এর আগে আইন প্রয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। উবার ইটস ও ডোরড্যাশের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও এ নিয়ম কার্যকরের বিষয়ে নজরদারি করেছে শহর কর্তৃপক্ষ। ফলে নতুন অধিগ্রহণ চুক্তিকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে মেয়র প্রশাসনের উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে।   নিউ ইয়র্ক সিটির ভোক্তা ও শ্রমিক সুরক্ষা বিভাগের কমিশনার স্যামুয়েল এ এ লেভিনও প্রস্তাবিত অধিগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, বড় করপোরেশনগুলোর একীভূত হওয়ার প্রবণতা শ্রমিক ও ভোক্তাদের বিভক্ত করার পাশাপাশি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করছে। অধিগ্রহণ চুক্তি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হোক বা না হোক, ডেলিভারি কর্মীদের অধিকার রক্ষায় শহর কর্তৃপক্ষ কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করবে বলেও জানান তিনি।   ডোরড্যাশ ও ইনস্টাকার্টের ঘোষণায় বলা হয়েছে, চুক্তিটির আওতায় ইনস্টাকার্টের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ধরা হয়েছে ৬৫ ডলার। অধিগ্রহণের মোট শেয়ারমূল্য প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার। চুক্তিটি কার্যকর হলে দুই প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক একসঙ্গে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। তবে অধিগ্রহণ সম্পন্ন করতে ইনস্টাকার্টের শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ছাড়পত্র প্রয়োজন। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে ২০২৭ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৮ সালের প্রথমার্ধে চুক্তিটি কার্যকর হতে পারে।   সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার, নিউ ইয়র্ক সিটির ভোক্তা ও শ্রমিক সুরক্ষা বিভাগ (ডিসিডব্লিউপি) এবং ডোরড্যাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ২০:৫১
আইসিইর আটক অভিযান

ক্যালিফোর্নিয়ায় চেহারা ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে আইসিইর আটক অভিযান নিষিদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের বন্ড শুনানি নিয়ে নতুন রায়

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের বন্ড শুনানি নিয়ে নতুন রায়, মুক্তির সুযোগে অনিশ্চয়তা

ছবি: মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাজল

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান বা বসুরহাট পৌরসভার মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী মেরিল্যান্ড বিএনপি নেতা কাজল

বোরখা পরিহিত নারী
ফ্লোরিডায় সরকারি সভায় আজানের অডিও চালিয়ে বোরখা পরিহিত নারীর ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি মসজিদ সম্প্রসারণের বিরোধিতা চলাকালে সরকারি সভায় বোরখা পরে আজানের অডিও চালিয়েছেন এক নারী। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পিনেলাস কাউন্টি কমিশনের সভায় বক্তব্য দেওয়ার নির্ধারিত সময়ে তিনি মাইক্রোফোনের সামনে গিয়ে আজানের রেকর্ডিং চালু করেন। তাঁর এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপকে মৌন প্রতিবাদ হিসেবে দেখার সুযোগ থাকলেও এর প্রকৃত উদ্দেশ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রায় এক মিনিট আজান চলার পর সভার চেয়ারম্যান রেকর্ডিং বন্ধের নির্দেশ দেন। নির্দেশ না মানায় পুলিশ তাঁকে সভাকক্ষ থেকে বের করে দেয়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।   ঘটনাটি ঘটে ফ্লোরিডার ক্লিয়ারওয়াটারে পিনেলাস কাউন্টি বোর্ড অব কাউন্টি কমিশনার্সের সভায়। ওই দিন স্থানীয় একটি মসজিদ সম্প্রসারণের অনুমোদন নিয়ে বাসিন্দারা নিজেদের মতামত জানাচ্ছিলেন। কেউ সম্প্রসারণের পক্ষে, আবার কেউ এর বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন। এ সময় বোরখা পরা ওই নারী বক্তব্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হন। কিন্তু কোনো কথা না বলে তিনি একটি ডিভাইস থেকে আজানের অডিও চালু করেন।   আজানের রেকর্ডিং শুরু হলে সভাকক্ষে উপস্থিত ব্যক্তিদের দৃষ্টি তাঁর দিকে যায়। তিনি কোনো মৌখিক বক্তব্য না দিয়ে অডিও চালিয়ে যেতে থাকেন। প্রায় এক মিনিট পর কমিশনের চেয়ারম্যান ডেভ এগার্স তাঁকে রেকর্ডিং বন্ধ করতে বলেন। চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, কাউন্টি কমিশনের সভায় জনসাধারণের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকলেও আগে থেকে ধারণ করা অডিও বাজানোর অনুমতি নেই। নারীটি নির্দেশ না মানায় শেরিফ কার্যালয়ের একজন ডেপুটি তাঁর কাছে এগিয়ে যান।   এরপর পুলিশ কর্মকর্তা ওই নারীকে সভাকক্ষ থেকে বের করে ভবনের বাইরে নিয়ে যান। ঘটনাটি ঘিরে উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। কেউ কেউ চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে ডেভ এগার্স সবাইকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সভায় প্রত্যেকের মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে, তবে সেই অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।   পরে চেয়ারম্যান ব্যাখ্যা করেন, ওই নারীকে তাঁর পোশাক বা আজানের ধর্মীয় বিষয়বস্তুর কারণে বের করে দেওয়া হয়নি। বরং সভার নিয়ম অনুযায়ী রেকর্ডিং চালানোর অনুমতি না থাকায় তাঁকে তা বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা চাইলে কার্যক্রম রেকর্ড করতে পারেন, কিন্তু বক্তব্য দেওয়ার নির্ধারিত সময়ে রেকর্ড করা অডিও বাজাতে পারেন না। নির্দেশ না মানার কারণেই ওই নারীকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   তবে ঘটনাটি যে পরিবেশে ঘটেছে, সেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মুসলিম কমিউনিটির অধিকার নিয়ে বিতর্ক চলছিল। স্থানীয় মাসজিদ আল রহমান নামের একটি মসজিদ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে পিনেলাস কাউন্টিতে মতবিরোধ রয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর কাউন্টি কমিশন চার-তিন ভোটে মসজিদটির জমির ব্যবহারসংক্রান্ত একটি সংশোধনী অনুমোদন করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে পুরোনো ভবনের পরিবর্তে প্রায় এক হাজার বর্গফুট বড় একটি নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   মসজিদ সম্প্রসারণের বিরোধিতাকারীদের একাংশ স্থানীয় যান চলাচল, ভবনের আকার এবং আশপাশের এলাকার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে কয়েকজন বক্তা ইসলাম ধর্ম এবং মুসলিমদের উপাসনালয় সম্প্রসারণ নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন। একজন নারী দাবি করেন, মসজিদ সম্প্রসারণের অনুমোদন দিলে এলাকায় ইসলামের প্রভাব বাড়বে এবং তা নারীদের অধিকারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাঁর এই বক্তব্য ব্যক্তিগত মতামত, যা মুসলিম জনগোষ্ঠী সম্পর্কে প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়।   অন্যদিকে মসজিদ সম্প্রসারণের পক্ষে বক্তব্য দেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপাসনালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাঁদের মতে, মসজিদ কর্তৃপক্ষ ভবনটিকে আরও উপযোগী করতে এবং মক্কার দিকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুনভাবে নির্মাণ করতে চায়। কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, দীর্ঘদিন পাশাপাশি বসবাস করেও মসজিদের কার্যক্রম নিয়ে তাঁদের উল্লেখযোগ্য সমস্যা হয়নি। ফলে প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।   মসজিদটির সম্প্রসারণসংক্রান্ত সরকারি নথিতে ব্যবহৃত ভাষা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কাউন্টি কমিশনার ভিন্স নাউইকি জানতে চান, প্রকল্পটিকে সরাসরি মসজিদ হিসেবে উল্লেখ না করে কেন ‘কমিউনিটি অ্যাসেম্বলি ফ্যাসিলিটি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি নথিতে প্রকল্পের প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত, যাতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি সহজে বুঝতে পারেন। কাউন্টির পরিকল্পনাবিষয়ক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় জোনিং বিধিমালায় বিভিন্ন ধর্মীয় ও জনসমাবেশের স্থাপনার জন্য বিস্তৃত শ্রেণিবিন্যাস ব্যবহার করা হয়।   এদিকে আজানের অডিও চালানো নারীর পরিচয় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি নিজে মুসলিম কি না, মসজিদ সম্প্রসারণের সমর্থক নাকি বিরোধী, অথবা তাঁর পদক্ষেপের মাধ্যমে ঠিক কী বার্তা দিতে চেয়েছিলেন, সে বিষয়েও নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটিকে নিশ্চিতভাবে ধর্মীয় অধিকারের পক্ষে প্রতিবাদ কিংবা মসজিদের বিরোধিতায় পরিচালিত কোনো কর্মকাণ্ড হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।   তবে সরকারি সভার মতো একটি আনুষ্ঠানিক পরিবেশে বক্তব্যের পরিবর্তে আজানের অডিও চালানোর ঘটনাটি উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ একে ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশের সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সভার নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছেন। কিন্তু ওই নারীর নিজের ব্যাখ্যা ছাড়া তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।   পিনেলাস কাউন্টি শেরিফ কার্যালয় জানিয়েছে, ওই নারীকে সভাকক্ষ থেকে বের করার পর আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগও আনা হবে না। ফলে আজানের অডিও চালানোর কারণে তিনি অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন কিংবা কোনো আইনি শাস্তি পেয়েছেন, এমন দাবি সঠিক নয়।   যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা সংবিধানের প্রথম সংশোধনী দ্বারা সুরক্ষিত। মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালন ও মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় নির্ধারণ এবং সভার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কিছু নিয়ম প্রয়োগ করতে পারে। তবে এসব নিয়ম প্রয়োগের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় বা বক্তব্যের বিষয়বস্তুর কারণে বৈষম্য করা যাবে না।   সব মিলিয়ে ফ্লোরিডার সরকারি সভায় বোরখা পরা নারীর আজানের অডিও চালানোর ঘটনা মসজিদ সম্প্রসারণ নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সভার চেয়ারম্যান নিয়ম ভঙ্গের কথা বলে তাঁকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও কোনো মামলা হয়নি। অন্যদিকে মাসজিদ আল রহমানের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটি ধর্মীয় স্বাধীনতা, স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ম এবং নাগরিকদের মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   সূত্র: ফক্স নিউজ

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৭:১৮
বয়স্ক সদস্য

বয়স্ক সদস্যের দেখাশোনায় বছরে পরিবারের খরচ ১১ হাজার ডলার, পাঁচ বছরে ব্যয় বেড়েছে ৫৯ শতাংশ

টেসলার মানবসদৃশ রোবট

ঘরের কাজে আসছে টেসলার মানবসদৃশ রোবট, গৃহিণীদের কাজ কতটা সহজ করবে নতুন প্রযুক্তি?

যুক্তরাষ্ট্রে একটি গাড়ি থেকেই বাড়তি আয়ের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে একটি গাড়ি থেকেই বাড়তি আয়ের সুযোগ, চাকরি না থাকলেও রয়েছে একাধিক পথ

হারলেমে গান গেয়ে একাকিত্বের বিরুদ্ধে লড়ছেন প্রবীণেরা
স্মৃতি হারালেও হারায়নি সুরের টান, হারলেমে গান গেয়ে একাকিত্বের বিরুদ্ধে লড়ছেন প্রবীণেরা

নিউইয়র্কের হারলেমে স্মৃতিশক্তির সমস্যায় থাকা মানুষদের জীবনে আনন্দ ও সামাজিক যোগাযোগ ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে একটি বিশেষ সংগীতদল। ‘দ্য আনফরগেটেবলস’ নামের এই দলটিতে অংশ নিচ্ছেন স্মৃতিভ্রংশসহ বিভিন্ন ধরনের স্মৃতিজনিত সমস্যায় থাকা মানুষ এবং তাঁদের পরিচর্যাকারীরা।   ২৩ অক্টোবর ২০২৬-এ সিবিএস নিউইয়র্কের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু গান শেখানো নয়; বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে মানুষ একসঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন, অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন এবং নিজেদের একাকিত্ব কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে পারবেন।    স্মৃতিশক্তি কমে গেলে অনেক মানুষের দৈনন্দিন জীবন কঠিন হয়ে ওঠে। পরিচিত মানুষের নাম ভুলে যাওয়া, সাম্প্রতিক ঘটনা মনে রাখতে না পারা কিংবা সাধারণ কথোপকথনে অসুবিধা তৈরি হওয়া তাঁদের সামাজিক জীবনকেও প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও পরিচর্যাকারীদের ওপরও বাড়তি দায়িত্ব এসে পড়ে।   এমন পরিস্থিতিতে সংগীত একটি অর্থবহ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। পরিচিত সুর, ছন্দ এবং একসঙ্গে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে। সংগীতচিকিৎসক ডা. কেন্দ্রা রে সিবিএস নিউইয়র্ককে জানান, মানুষের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে গেলেও সংগীতের সঙ্গে পরিচিতি ও আবেগের সংযোগ অনেক সময় দীর্ঘদিন বজায় থাকতে পারে।    এই উদ্যোগে পরিচর্যাকারীদের অংশগ্রহণও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যাঁরা প্রতিদিন প্রিয়জনের দেখাশোনা করেন, তাঁদের জন্যও অন্য পরিবারের মানুষের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার সুযোগ তৈরি হয়। পরিচর্যার দায়িত্বের বাইরে নিজেদের জন্য কিছু সময় পাওয়া এবং সামাজিকভাবে যুক্ত থাকা তাঁদের জীবনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।   সামাজিক যোগাযোগ, অর্থপূর্ণ কার্যক্রম এবং নিয়মিত মানুষের সঙ্গে মেলামেশা প্রবীণদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। তবে গান গাওয়া স্মৃতিভ্রংশের চিকিৎসা বা নিরাময় নয়; এটি সহায়ক কার্যক্রম হিসেবে উপকার দিতে পারে।   হারলেমের এই উদ্যোগের মানবিক বার্তা হলো—স্মৃতিশক্তি দুর্বল হলেও মানুষের অনুভূতি, সম্পর্ক ও একসঙ্গে থাকার প্রয়োজন শেষ হয়ে যায় না। কখনো পরিচিত একটি সুর, কখনো অন্য কারও সঙ্গে গলা মেলানো, আবার কখনো একটি হাসি—এসব ছোট মুহূর্তও মানুষের জীবনে আনন্দ ফিরিয়ে আনতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৪:৩০
শোকের ছায়া এলাকায়

ব্রুকলিনে এক মুহূর্তেই থেমে গেল ৩০ বছর বয়সী নারীর জীবন, শোকের ছায়া এলাকায়

নিউইয়র্কে শীতের বিল দিতে সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার সহায়তা

নিউইয়র্কে শীতের বিল দিতে সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার সহায়তা, ২ নভেম্বর থেকে আবেদন শুরু

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে কংগ্রেসে অচলাবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে কংগ্রেসে অচলাবস্থা

0 Comments