সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
রোগীর চোখ পরীক্ষা করছেন একজন চিকিৎসক (প্রতীকী ছবি)
নিউইয়র্কে চোখের পরীক্ষা কোথায় করবেন, খরচ কত! জানুন

চোখে ঝাপসা দেখা, চশমার পাওয়ার বদলে যাওয়া কিংবা নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করাতে নিউইয়র্কে কোথায় যেতে হবে এবং কত খরচ পড়বে, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে যাদের চোখের চিকিৎসার বীমা নেই, তাদের জন্য আগে থেকে খরচ ও সুবিধা সম্পর্কে জেনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটিতে চোখের পরীক্ষার নির্দিষ্ট কোনো একক মূল্য নেই। চিকিৎসাকেন্দ্র, পরীক্ষার ধরন এবং অতিরিক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ পরিবর্তিত হয়।   উদাহরণ হিসেবে, আমেরিকাস বেস্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট অফারের আওতায় দুই জোড়া চশমা নিলে চোখের পরীক্ষা বিনা খরচে হতে পারে। আবার দুই জোড়া চশমা না কিনলে তাদের সাধারণ চোখের পরীক্ষার মূল্য ৮০ ডলার। কন্টাক্ট লেন্সের পরীক্ষার জন্য আলাদা ১৩০ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। তাই শুধু একটি গড় মূল্য ধরে না নিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে চিকিৎসাকেন্দ্রে ফোন করে নিজের ক্ষেত্রে মোট খরচ জেনে নেওয়াই নিরাপদ।   যাদের মেডিকেইড আছে, তাদের জন্য চোখের চিকিৎসার খরচ অনেকটাই কম হতে পারে। নিউইয়র্ক স্টেটের মেডিকেইড কর্মসূচির আওতায় চোখের পরীক্ষা, চক্ষু বিশেষজ্ঞের সেবা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চশমাসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। সাধারণভাবে দুই বছরে একবার চোখ পরীক্ষা করার সুবিধা পাওয়া যায়। তবে চিকিৎসাগত প্রয়োজন থাকলে আরও ঘন ঘন পরীক্ষার সুযোগ থাকতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মেডিকেইড সদস্যদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বছরে একবার চোখের বিশেষ পরীক্ষা করার সুবিধাও রয়েছে।   চোখের চিকিৎসার বীমা না থাকলেও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে চিকিৎসার খরচ কমিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে কিছু রোগী বিনা খরচেও চিকিৎসা পেতে পারেন। যারা স্বাস্থ্যবীমার জন্য যোগ্য নন কিংবা বীমার খরচ বহন করতে পারেন না, তাদের জন্য নিউইয়র্ক সিটির এনওয়াইসি কেয়ার কর্মসূচিও রয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে কম খরচে বা বিনা খরচে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   চিকিৎসার খরচ তুলনা করার জন্য নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্যসেবার মূল্য তুলনা করার ব্যবস্থাও ব্যবহার করা যায়। এতে বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে নির্দিষ্ট সেবার সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। ফলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার আগে একাধিক জায়গার খরচ তুলনা করা সম্ভব।   শিশুদের চোখের পরীক্ষার ক্ষেত্রেও অভিভাবকদের আগে থেকে খোঁজ নেওয়া উচিত। নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, স্কুল পর্যায়ে শিশুদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনে চক্ষু চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। শিশুরা অনেক সময় নিজের চোখের সমস্যা বুঝতে পারে না। বারবার চোখ কচলানো, টেলিভিশন বা বই খুব কাছে নিয়ে দেখা, চোখ কুঁচকে দেখা, মাথাব্যথা কিংবা উজ্জ্বল আলো সহ্য করতে সমস্যা হলে চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শিশুদের চোখের পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে তথ্য পেতে নিউইয়র্ক সিটির ৩১১ নম্বরেও যোগাযোগ করা যায়।   তবে কোথায় যাবেন, তা নির্ভর করবে চোখের সমস্যার ধরনেও। অপটোমেট্রিস্ট সাধারণ চোখ পরীক্ষা, চশমার পাওয়ার নির্ধারণ এবং অনেক সাধারণ চোখের সমস্যার পরীক্ষা ও চিকিৎসা করেন। অন্যদিকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চোখের জটিল রোগের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারও করতে পারেন। আর চশমা প্রস্তুত ও চোখে সঠিকভাবে বসানোর কাজ করেন অপটিশিয়ান। তিনি নিজে রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা করেন না।   চোখ পরীক্ষা করাতে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় ফোন করে জেনে নেওয়া ভালো। জিজ্ঞেস করুন, বীমা ছাড়া সম্পূর্ণ পরীক্ষার খরচ কত, চোখের ভেতরের অংশ পরীক্ষা করতে অতিরিক্ত কোনো পরীক্ষা লাগবে কি না, রেটিনার ছবি তোলার জন্য আলাদা খরচ আছে কি না এবং পরীক্ষার পর চশমার পাওয়ারের কাগজের কপি দেওয়া হবে কি না। শুধু চোখ পরীক্ষার খরচ কম হলেই মোট খরচ কম হবে এমন নয়। অতিরিক্ত পরীক্ষা, কন্টাক্ট লেন্সের পরীক্ষা কিংবা অন্যান্য সেবার জন্য আলাদা টাকা লাগতে পারে।   তবে কিছু উপসর্গ দেখা দিলে নিয়মিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। হঠাৎ চোখে তীব্র ব্যথা, দৃষ্টিশক্তির আকস্মিক পরিবর্তন, চোখ অতিরিক্ত লাল বা ফুলে যাওয়া, চোখের সামনে হঠাৎ অনেক কালো দাগ বা ভাসমান ছায়া দেখা, আলোর ঝলকানি দেখা কিংবা দৃষ্টির সামনে কালো পর্দার মতো কিছু নেমে আসা গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চক্ষু চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে নিকটস্থ জরুরি বিভাগেও যেতে হতে পারে।   নিউইয়র্কে চোখের চিকিৎসা নিতে তাই শুধু কম খরচের চিকিৎসাকেন্দ্র খোঁজাই যথেষ্ট নয়। নিজের সমস্যার জন্য কোন ধরনের চিকিৎসক প্রয়োজন, কী কী পরীক্ষা লাগবে এবং বীমা বা সরকারি সহায়তার আওতায় কোন সুবিধা পাওয়া যাবে, সেগুলোও আগে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে যাদের চোখের চিকিৎসার বীমা নেই, তারা মেডিকেইড, এনওয়াইসি কেয়ার এবং নিউইয়র্ক সিটি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির যোগ্যতা যাচাই করলে চিকিৎসার খরচ কমানোর সুযোগ পেতে পারেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৯:৭
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শহিদ মুগ্ধর পরিবার
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শহিদ মুগ্ধর পরিবার, তুলে ধরলেন জুলাই শহিদ-আহতদের প্রত্যাশা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রোববার দুপুরে বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   সাক্ষাতে শহিদ মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ এবং পরিবারের সদস্য মাহফুজা জাফরিন আরিবা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।   এ সময় মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের কল্যাণ, পুনর্বাসন এবং আহতদের চিকিৎসায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয় রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে শহিদ ও আহতদের পরিবারের জন্য সরকার যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান তাঁরা।   সাক্ষাতের একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের একটি রেপ্লিকা রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেওয়া। সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনে প্রকাশিত ৮৪৫ জন জুলাই শহিদের নাম ওই স্মৃতিস্তম্ভে খচিত রয়েছে। মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা স্মৃতিস্তম্ভটির রেপ্লিকা রাষ্ট্রপতিকে উপহার দেন।   রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান। বঙ্গভবনের প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, জাতি তাঁদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলবে না।    রাষ্ট্রপতি শহিদ পরিবারগুলোর সার্বিক কল্যাণ এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি জুলাইয়ের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনা করেন।    মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বহুল আলোচিত শহিদদের একজন। পরবর্তী সময়ে জুলাই আন্দোলনের স্মরণে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও মুগ্ধসহ নিহতদের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও মুগ্ধসহ আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করা হয়েছিল।   রোববারের সাক্ষাতে বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত তথ্যে সাক্ষাতের এসব বিষয় জানানো হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৮:৫৯
এআইয়ের দাপটে চ্যালেঞ্জের মুখে তরুণদের সৃষ্টিশীলতা
তরুণদের সৃষ্টিশীলতার জায়গা দখল করছে এআই! হুঁশিয়ার না হলে যা হবে

যুক্তরাজ্যে তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। চাকরির বাজারে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা এখন আর শুধু ভবিষ্যতের আশঙ্কায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং অনেক পেশায় এর প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের কারণে শুধু চাকরি নয়, তরুণদের নিজস্ব চিন্তা, দক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতার চর্চাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।   গত মাসে যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের (ওএনএস) তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন সময়ে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৯ লাখ ৮১ হাজার তরুণ কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে ছিল। জানুয়ারি থেকে মার্চে এই সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ১২ হাজার। সংখ্যা কিছুটা কমলেও তরুণদের বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের বাইরে থাকার হার এখনো উদ্বেগজনক।   এর মধ্যেই এআইয়ের দ্রুত বিস্তার চাকরির বাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চের (আইপিপিআর) ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি হস্তক্ষেপ না থাকলে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৮০ লাখ চাকরি এআইয়ের কারণে হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ের, খণ্ডকালীন ও প্রশাসনিক চাকরিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।   লন্ডন সিটি হলের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর অন্তত ১০ লাখ চাকরি এআইয়ের কারণে ‘উচ্চ বা উল্লেখযোগ্যভাবে ঝুঁকিপূর্ণ’ অবস্থায় রয়েছে।   চাকরির পাশাপাশি সৃষ্টিশীলতাতেও চাপ   অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের এআই ও কর্মসংস্থানবিষয়ক অর্থনীতিবিদ কার্ল-বেনেডিক্ট ফ্রের মতে, এআইয়ের প্রভাব শুধু অফিসের চাকরি বা প্রযুক্তিনির্ভর পেশার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্মাণ, উৎপাদন ও বিভিন্ন কারিগরি পেশাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।   এমনকি মানুষ এআই ব্যবহার করে আগে যেসব কাজের জন্য পেশাদারের ওপর নির্ভর করত, সেসব কাজ নিজেরাই করার চেষ্টা করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বাড়ির কোনো যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে আগে যেখানে মিস্ত্রিকে ডাকা হতো, এখন কেউ এআইয়ের সাহায্যে সমস্যার ছবি তুলে সেটি নিজেই ঠিক করার চেষ্টা করতে পারেন।   এতে সরাসরি ব্যাপক বেকারত্ব না হলেও কাজের ধরন বদলে যেতে পারে। একইভাবে তরুণ শিক্ষানবিশদের জন্যও সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য যেসব তুলনামূলক সহজ কাজ তারা করত, সেগুলোও যদি এআইয়ের সহায়তায় মানুষ নিজেই করতে শুরু করে, তাহলে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ কমে যেতে পারে।   তরুণদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ   কিংস কলেজ লন্ডনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের অর্ধেকের বেশি মানুষ মনে করেন এআই ব্যাপক বেকারত্ব তৈরি করতে পারে। প্রতি পাঁচজনের একজন মনে করেন, এআইয়ের কারণে বেকারত্ব এমন পর্যায়ে যেতে পারে, যা সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই আশঙ্কা আরও বেশি। তাদের ৩৪ শতাংশ মনে করেন, এআই-নির্ভর বেকারত্ব সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।   কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক এলেনা সিম্পারল বলেন, মহামারি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও এখন জেনারেটিভ এআইয়ের উত্থান—সব মিলিয়ে তরুণরা একের পর এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই এআইকে শুধু ভয় পাওয়ার বদলে এর সঙ্গে কীভাবে খাপ খাওয়ানো যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।   তাহলে করণীয় কী?   বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইকে পুরোপুরি ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বরং তরুণদের এমন দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে, যা এআই সহজে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। সৃষ্টিশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, যোগাযোগ, নেতৃত্ব, বিশ্লেষণ এবং মানুষের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।   শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধু প্রচলিত জ্ঞান মুখস্থ করানোর বদলে শিক্ষার্থীদের কীভাবে এআইকে একটি সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, তা শেখানো জরুরি। অর্থাৎ এআই যেন তরুণদের হয়ে চিন্তা না করে; বরং তরুণরা যেন এআইকে ব্যবহার করে নিজেদের চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।   কর্মক্ষেত্রেও একইভাবে পুনঃদক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে। যারা এআইয়ের কারণে কাজের ধরন বদলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের নতুন দক্ষতা শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে কর্মী ও নিয়োগদাতাদের এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।   অধ্যাপক সিম্পারলের মতে, এআইয়ের পরিবর্তনকে নিজেদের ওপর ঘটতে দেওয়ার বদলে সমাজ ও সরকারকে সক্রিয়ভাবে এর দিকনির্দেশনা দিতে হবে। এজন্য চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।   সৃষ্টিশীলতা কি তাহলে হারিয়ে যাবে?   বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, এআই অনেক কাজ দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে করতে পারলেও মানুষের সৃষ্টিশীলতার প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং বড় পরিবর্তনটি হতে পারে মানুষের কাজের ধরনে।   তরুণরা যদি এআইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে নিজেরা চিন্তা করা, নতুন ধারণা তৈরি করা কিংবা কোনো সমস্যার নিজস্ব সমাধান খোঁজার অভ্যাস দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে এআইকে সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যদি মানুষ নিজের জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতাকে আরও বিকশিত করতে পারে, তাহলে প্রযুক্তিটি প্রতিদ্বন্দ্বীর বদলে সহযোগীও হয়ে উঠতে পারে।   তাই প্রশ্ন শুধু এআই কতগুলো চাকরি নিয়ে নেবে—তা নয়। বড় প্রশ্ন হলো, এআইয়ের যুগে তরুণরা নিজেদের সৃষ্টিশীলতা, দক্ষতা ও চিন্তার স্বাধীনতা কীভাবে ধরে রাখবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৮:৫০
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
দেশে মেধাবী চিকিৎসকের অভাব নেই, তারপরও কেন বিদেশমুখী রোগীরা প্রশ্ন? স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

দেশে দক্ষ ও মেধাবী চিকিৎসক থাকার পরও চিকিৎসার জন্য বিপুলসংখ্যক রোগী ভারত, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন কেন?এ প্রশ্ন তুলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর মতে, চিকিৎসকদের দক্ষতার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, অবকাঠামো ও উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের হাসপাতালেই অনেক উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।   রোববার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজের রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি ইউনিটে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম সচেতনতা মাস উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগীরা যদি দেশে মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেন, তাহলে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রবণতা কমবে। একই সঙ্গে চিকিৎসার পেছনে দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাওয়াও কমানো সম্ভব হবে। এ জন্য ঢাকা বা বড় শহরের পাশাপাশি জেলা ও গ্রাম পর্যায়েও স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।   বিশেষ করে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটি সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সন্তান না হওয়ায় অনেক দম্পতিকে সামাজিক কটূক্তি ও নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। অথচ যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের চিকিৎসকদের এ ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে; প্রয়োজন সেই সক্ষমতাকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আরও শক্তিশালী করা।   ঢাকা মেডিকেল কলেজের বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসাকেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং আগামী বাজেটে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি চিকিৎসকদের উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও জোর দেন।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংকটের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় হাসপাতালের শয্যা কম হলেও শুধু শয্যাসংখ্যা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক পরিধি বাড়াতে হবে এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের পাশাপাশি দক্ষ জনবল নিশ্চিত করতে হবে।    সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ডা. মুসারাত সুলতানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. মাজহারুল শাহীন এবং হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৮:৪৪
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
টাকাই সবকিছু নয়, অসহায় মানুষের মামলা বিনা পারিশ্রমিকে লড়ুন: আইনমন্ত্রী

আইন পেশাকে শুধু অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে অসহায় ও আর্থিকভাবে অক্ষম মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, একজন আইনজীবীর উচিত নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজন হলে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই মামলা পরিচালনা করা।    নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ল’ ফেস্ট’-এ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।   আইনমন্ত্রী বলেন, “টাকাই সবকিছু নয়।” তাঁর মতে, একজন আইনজীবী শুধু মক্কেলের প্রতিনিধি নন, তিনি আদালতেরও একজন কর্মকর্তা। বিপদের সময়ে একজন মানুষ আইনজীবীর ওপর আস্থা রেখে নিজের সমস্যার কথা জানান। তাই মক্কেলের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আদালতকে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সহায়তা করাও আইনজীবীর দায়িত্ব।   বিনা পারিশ্রমিকে আইনি সহায়তার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে নিজের আইন পেশার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, এক অসহায় ভূমিহীন নারীর জমিসংক্রান্ত একটি মামলা তিনি কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই পরিচালনা করেছিলেন। এই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যৎ আইনজীবীদেরও সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে বলেন।   আইনমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বলেন, দ্রুত অর্থবিত্ত অর্জনের পথ থাকলেও তা একজনকে ভালো আইনজীবী বানায় না। ভালো আইনজীবী হতে হলে শ্রম, অধ্যবসায় এবং নিয়মিত পড়াশোনার বিকল্প নেই। আইন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাই একজন আইনজীবীর প্রকৃত পেশাগত মূল্য তৈরি করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।   আইনজীবীদের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, সমাজের পরিবর্তন ও বিকাশের বিভিন্ন পর্যায়ে আইনজীবীরা আইনি দিকনির্দেশনা দিয়ে ভূমিকা রাখেন। আদালতে একজন আইনজীবীকে বিচারক, বিপক্ষের আইনজীবী, নিজের মক্কেল এবং সংশ্লিষ্ট সবার বিষয় বিবেচনায় রেখে বক্তব্য উপস্থাপন করতে হয়। ফলে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, আইনের সঠিক ব্যাখ্যা এবং যথাযথভাবে যুক্তি তুলে ধরার দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   দেশে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী থাকলেও তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের সুযোগের ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়ার কথা জানান তিনি। লক্ষ্য হচ্ছে দক্ষ, যোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত নতুন প্রজন্মের আইন পেশাজীবী তৈরি করা।    একই সঙ্গে আইন সংস্কারের ক্ষেত্রেও তরুণদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান আসাদুজ্জামান। প্রচলিত কোনো আইনে অসঙ্গতি থাকলে বা পরিবর্তনের প্রয়োজন মনে হলে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব ও খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারেন বলে জানান তিনি। সরকার সেসব প্রস্তাব বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে বলেও উল্লেখ করেন।   আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—আইন পেশায় সাফল্যের মাপকাঠি শুধু আয় নয়; জ্ঞান, সততা, নৈতিকতা এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাও একজন আইনজীবীর পেশাগত দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৮:২৮
কমলাপুর রেলস্টেশনের সিসিটিভি
কমলাপুর রেলস্টেশনে জোড়া ককটেল বিস্ফোরণ, সিসিটিভি দেখে জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ

রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের একটি নির্জন অংশে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।    ঘটনার একটি ভিডিওতে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনের পাশে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি বিস্ফোরণ হতে দেখা যায়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড স্টেশন কর্তৃপক্ষের বরাতে জানিয়েছে, রাত প্রায় ১০টা ৩৭ মিনিটে ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ৩০ নম্বর পিলারের কাছে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।    ঢাকা রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার নিকুলিন চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের ঘটনায় কেউ হতাহত হননি এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।    ঘটনার পর স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা শুরু করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বিস্ফোরণের আগে ও পরে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্ল্যাটফর্মকেন্দ্রিক টহল ও অন্যান্য নিরাপত্তা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।   কমলাপুরের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন একই সন্ধ্যায় রাজধানীর আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণ ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার খবর আসে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে যাত্রাবাড়ী থানার বিপরীতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মিরপুর ও বাড্ডায় তিনটি স্টাফ বাস এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনে একটি পিকআপে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।    আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে মিরপুরে দুটি ও বাড্ডায় একটি স্টাফ বাসে আগুন দেওয়া হয়। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনেও একটি পিকআপে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।    এর আগে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। কালবেলার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মো. বিল্লাল নামের ৩২ বছর বয়সী এক রিকশাচালক আহত হন।   কমলাপুর দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলোর একটি। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী এখান থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। ফলে প্ল্যাটফর্মে বিস্ফোরণের ঘটনাটি যাত্রীনিরাপত্তার বিষয়টিকে সামনে এনেছে। ঘটনার পর পুলিশ স্টেশন ও আশপাশে নজরদারি এবং টহল বাড়িয়েছে।   তবে কমলাপুরের বিস্ফোরণের দায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের ওপর নিশ্চিতভাবে আরোপ করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাই তদন্তের ফল না আসা পর্যন্ত কারা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে—সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৮:৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বিশ্বমঞ্চে বাংলায় কথা বলবেন তারেক রহমান, জাতিসংঘে তুলে ধরবেন বাংলাদেশের নতুন যাত্রা

জাতিসংঘের সর্বোচ্চ কূটনৈতিক মঞ্চে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলায় ভাষণ দেবেন তিনি। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। সফর শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করার কথা রয়েছে।    প্রধানমন্ত্রীর ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকট স্থান পাবে। পররাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।    এর পাশাপাশি যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তিতে ন্যায়সংগত ও সমতাভিত্তিক প্রবেশাধিকার এবং বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও ভাষণে স্থান পাওয়ার কথা রয়েছে।    বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় কূটনৈতিক ও মানবিক চ্যালেঞ্জ রোহিঙ্গা সংকট এবারও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের উদ্যোগে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।    জলবায়ু পরিবর্তনও প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সেখানে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো তুলে ধরবে বলে পররাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন।    একই দিনে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং ধাত্রীসেবা নিয়ে বাংলাদেশের আয়োজিত আরেকটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার গুরুত্ব তুলে ধরার কথা রয়েছে।   ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এরপর সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী আয়োজনে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি। একই দিন সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানেও তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।    জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং পাকিস্তান, ভুটান, থাইল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গেও সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বৈঠকের কিছু সূচি পরিবর্তন হতে পারে।    এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য আরেকটি কারণেও উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ইউএনবির তথ্য অনুযায়ী, তিনি এ পদে দায়িত্ব পালনকারী দ্বিতীয় বাংলাদেশি।    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে। এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য “Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All”। সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর চলার কথা, যেখানে বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা আন্তর্জাতিক সংকট ও নিজ নিজ দেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন।    প্রধানমন্ত্রীর এবারের নিউইয়র্ক সফরে সাধারণ পরিষদের বাংলায় ভাষণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, উন্নয়ন এবং একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক গুরুত্ব পাচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সফরটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার চেষ্টা থাকবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৭:৪৩
মাইকের গেমিং চ্যানেলের বিজ্ঞাপনে ১ লাখ ১৮ হাজার ডলার খরচ
৯ বছরের শিশুর ইউটিউব বিজ্ঞাপনে বাবার কোম্পানির ১ লাখ ১৮ হাজার ডলার খরচ

মাত্র ২০ ডলারের একটি ইউটিউব বিজ্ঞাপন প্রচারণা থেকে শুরু। এরপর প্রায় তিন সপ্তাহে ৯ বছর বয়সী এক শিশুর গেমিং চ্যানেলের প্রচারে বাবার কোম্পানির ক্রেডিট কার্ড থেকে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ডলার খরচ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার বাবা। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘মাইটি মাইক প্লেজ’ চ্যানেলকে ঘিরে। তবে পুরো অর্থের খরচ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।   শিশুটির নাম মাইক। সে মাইনক্রাফট ও রোবলক্সের গেমিং ভিডিও তৈরি করে। তার বাবা ডেভ জানান, ভিডিওগুলোতে দর্শক কম আসায় তিনি ছেলেকে ইউটিউবের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থায় একটি ছোট প্রচারণা তৈরি করে দেখিয়েছিলেন। ওই প্রথম প্রচারণার বাজেট ছিল প্রায় ২০ ডলার। পরে ছেলে নিজেই একই পদ্ধতিতে আরও বিজ্ঞাপন চালাতে শুরু করে বলে বাবার দাবি।   বড় সমস্যাটি তৈরি হয় পেমেন্ট তথ্য সংরক্ষিত থাকায়। বাবার কোম্পানির ক্রেডিট কার্ডের তথ্য একটি গুগল অ্যাকাউন্টে আগে থেকেই যুক্ত ছিল। ফলে পরবর্তী বিজ্ঞাপন প্রচারণাগুলো চালানোর সময় একই পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব হয়। বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, মাইক বুঝতে পারেনি যে প্রতিটি প্রচারণার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ কেটে যাচ্ছে।   প্রায় তিন সপ্তাহ পর বিষয়টি ধরা পড়ে। বাবাকে কোম্পানির ম্যানেজার, করপোরেট কর্মকর্তা ও অর্থ বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে ডেকে বিজ্ঞাপন বাবদ হওয়া বিপুল খরচের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। পরে তিনি ছেলের চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করে পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করেন।   বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অবশ্য ভিডিওগুলোর দর্শক বেড়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। কয়েকটি প্রচারিত ভিডিও প্রায় ২ লাখ করে ভিউ পেয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞাপনে পাওয়া ভিউয়ের সঙ্গে প্রকৃত দর্শক বা দীর্ঘমেয়াদি চ্যানেল প্রবৃদ্ধির সম্পর্ক আলাদাভাবে যাচাই করা হয়নি।   ঘটনার সর্বশেষ আপডেটে বাবার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি চাকরি হারিয়েছেন এবং অর্থ পরিশোধের বিষয়ে চাপের মুখে রয়েছেন। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্বাধীন কোনো বক্তব্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাই চাকরি হারানো এবং পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার দায়—দুটিকেই আপাতত বাবার বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।   ঘটনাটি অনলাইন বিজ্ঞাপনে পেমেন্ট তথ্য ব্যবহারের ঝুঁকিও সামনে এনেছে। বিশেষ করে কোনো শিশুর ব্যবহৃত অ্যাকাউন্টে কোম্পানি বা পরিবারের বড় অঙ্কের পেমেন্ট পদ্ধতি সংরক্ষিত থাকলে ব্যয়ের সীমা, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ এবং আলাদা পেমেন্ট ব্যবস্থা রাখার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। পরিবারটি এখন সংরক্ষিত পেমেন্ট তথ্য সরানো এবং ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর কথা জানিয়েছে।   সোর্স: ইন্ডিয়া টুডে, ইউওএল।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৭:৪২
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ঢাকায় আগুন-ককটেলের নেপথ্যে কারা, সরাসরি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে দায়ী করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনার জন্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি রায়ের পর দলটির ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তবে নির্দিষ্ট প্রতিটি ঘটনার দায় তদন্ত ও আদালতের প্রমাণের ভিত্তিতেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।    রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ২০ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে সামনে রেখে রাজধানীর কয়েকটি স্থানে রাতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে সরকার মনে করছে। তিনি এসব কর্মকাণ্ডে সরকার শঙ্কিত নয় বলেও জানান।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকটি ঘটনায় সন্দেহভাজনদের মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট এলাকার ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি জানান। যাত্রাবাড়ীর ঘটনাতেও গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।   যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করার তথ্য দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে।   এর আগে শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী, বাবুবাজার ও মগবাজারসহ ছয়টি স্থানে মোট ১০টি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি বিস্ফোরণে একজন অটোরিকশাচালক আহত হন। একই রাতে কাফরুল থানার সামনে একটি ফাঁকা বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। ওই সময় পুলিশ জানিয়েছিল, সব ঘটনার জন্য কারা দায়ী তা তখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তদন্ত চলছিল।   বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিয়েও কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, রাতে চালক ও সহকারী ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় পার্ক করে রাখা কয়েকটি বাসকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে।   সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশ ও বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট মিলিয়ে রাজধানীতে তিন শতাধিক তল্লাশিচৌকি স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথের পাশাপাশি বিভিন্ন উড়ালসড়কের ওঠানামার স্থানেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।   এর কয়েক দিন আগেও সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ১৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ওই ঘটনায় দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তখন তিনি বলেছিলেন, তাঁরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারেন বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, তবে বিষয়টি তদন্তাধীন।   এদিকে ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মিছিল ঘিরেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীদের পক্ষ থেকে ককটেল নিক্ষেপের খবর পাওয়া যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাজা ককটেল উদ্ধারের কথাও জানায় পুলিশ। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৭:২৮
নিউ জার্সির জার্সি সিটির বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ কড়াই কিচেন
বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট কড়াই কিচেনের নাম উঠল নিউইয়র্ক টাইমসের যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ৫০-এ

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি পছন্দের রেস্তোরাঁর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে নিউ জার্সির জার্সি সিটির বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ কড়াই কিচেন। তালিকায় নিউ জার্সি থেকে নির্বাচিত একমাত্র রেস্তোরাঁ হিসেবে কড়াই কিচেনের নাম রয়েছে। তালিকাটি কোনো ক্রম বা র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী সাজানো হয়নি।   জার্সি সিটির জার্নাল স্কয়ার এলাকায় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে যাত্রা শুরু করা কড়াই কিচেন পরিচালনা করছেন মা-মেয়ে নুর-ই গুলশান রহমান ও নুর-ই ফারহানা রহমান। বাংলাদেশি ঘরোয়া রান্নার স্বাদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই রেস্তোরাঁ এর আগে নিউইয়র্ক টাইমসের সমালোচকদের কাছ থেকেও প্রশংসা পেয়েছে। ২০২৫ সালে পত্রিকাটির প্রধান রেস্তোরাঁ সমালোচক লিগায়া মিশানের পর্যালোচনায় কড়াই কিচেন তিন তারকা পেয়েছিল এবং ‘Critic’s Pick’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।   ২০২৬ সালের তালিকায় কড়াই কিচেনকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ছোট এই বাংলাদেশি রেস্তোরাঁটি নুর-ই গুলশান রহমান ও তার মেয়ে নুর-ই ফারহানা রহমান পরিচালনা করেন। ২০১৮ সালে গুলশান রহমানের ঘরোয়া রান্নাকে কেন্দ্র করে রেস্তোরাঁটির যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে প্রতিদিনের বুফে ছিল তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বর্তমানে মূলত টেকআউট ও ডেলিভারি কার্যক্রমের পাশাপাশি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দুই রাতে অতিথিদের জন্য বিশেষ ডাইন-ইন আয়োজন করা হয়।   নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উঠে এসেছে কড়াই কিচেনের দীর্ঘ ডিনার অভিজ্ঞতা। শুক্রবার ও শনিবার রাতে আয়োজিত বিশেষ খাবারের আয়োজনটি তাত্ত্বিকভাবে আট কোর্সের হলেও বাস্তবে খাবারের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই আয়োজনে বাংলাদেশি রান্নার বিভিন্ন পদ পরিবেশন করা হয়। মরিচ ও সরিষার তেলের ব্যবহার এবং প্রতিটি খাবার তৈরিতে যত্নশীলতার বিষয়টিও সমালোচকের লেখায় গুরুত্ব পেয়েছে।   কড়াই কিচেনের এই স্বীকৃতি বাংলাদেশি খাবারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার খাদ্যসংস্কৃতিতে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের খাবার পরিচিত হলেও বাংলাদেশি খাবারের প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে সীমিত। জার্সি সিটির এই পারিবারিক রেস্তোরাঁটি মাছ, মাংস, সবজি ও ভর্তাসহ বাংলাদেশি ঘরোয়া রান্নার বিভিন্ন পদ পরিবেশনের মাধ্যমে সেই জায়গায় আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে।   এর আগে ২০২৫ সালে কড়াই কিচেনের ‘লাউ চিংড়ি’ পদটিও নিউইয়র্ক টাইমসের যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তাদের স্টাফদের খাওয়া উল্লেখযোগ্য খাবারের তালিকায় জায়গা পেয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে লাউ, চিংড়ি ও মরিচের সমন্বয়ে তৈরি পদটির স্বাদ ও উপকরণের সরলতার প্রশংসা করা হয়। পদটি কড়াই কিচেনের ৯৫ ডলারের প্রিক্স-ফিক্স মেনুর অংশ ছিল।   কড়াই কিচেনের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, রেস্তোরাঁটির ঠিকানা জার্সি সিটির ৫৭৬ সামিট অ্যাভিনিউ। বর্তমানে মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় এবং শনিবার ও রোববার দুপুর ও সন্ধ্যায় খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ ডাইন-ইন আয়োজনের জন্য রিজার্ভেশন প্রয়োজন।   নিউইয়র্ক টাইমসের ২০২৬ সালের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ৫০টি রেস্তোরাঁ স্থান পেয়েছে। নিউ জার্সির প্রতিনিধিত্ব করছে কড়াই কিচেন। বাংলাদেশি মা-মেয়ের পরিচালনায় গড়ে ওঠা একটি ছোট রেস্তোরাঁর এমন জাতীয় স্বীকৃতি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি খাবারের পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রেও নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৭:২৫
রুমিন ফারহানা
সরকারের সংকটের কারণ জানালেন রুমিন ফারহানা, বললেন ‘দোষ দিতে চাই না’

সরকারের ওপর ঋণ পরিশোধ ও জ্বালানি আমদানির ব্যয়ের বড় চাপ রয়েছে উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তিনি সরকারকে দোষ দিতে চান না। তাঁর ভাষ্য, নানা ধরনের ব্যয় সামলাতে গিয়ে সরকার বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে এবং চাইলেও একসঙ্গে সব উন্নয়নকাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।   শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ও পাকশিমুল ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।   সরকারের আর্থিক চাপের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারকে একদিকে ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে বেশি দামে তেল, ডিজেল ও গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে। এসব ব্যয়ের কারণে সরকারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন রুমিন ফারহানা। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নকাজের জন্য তাঁর দেওয়া চাহিদাপত্রের মোট মূল্য ৭৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এর মধ্যে অরুয়াইল থেকে রাজাপুর বাজার হয়ে রানিদিয়ার সড়কের প্রাক্কলিত ব্যয় ৩১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। আরও কয়েকটি সড়কের জন্যও তিনি চাহিদাপত্র দিয়েছেন বলে জানান।   এসব প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি। নতুন বাজেটের অর্থ ছাড় করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে—এমন কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।   চিত্র নদীর ওপর সেতু নির্মাণের বিষয়েও কথা বলেন রুমিন ফারহানা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকায় প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুটির কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এটি রুমিন ফারহানার দেওয়া তথ্য; সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের স্বাধীন নিশ্চিতকরণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   নিজের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, জনগণ ও সরকারের মধ্যে মাধ্যম হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এলাকার মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য বলেও জানান।   দীর্ঘ সময় এলাকায় তাঁকে দেখা না গেলে নেতা-কর্মীদের মুঠোফোনে তাঁর কর্মকাণ্ড অনুসরণ করার আহ্বান জানান রুমিন ফারহানা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সংসদে কিংবা এলাকায়—কোথাও না কোথাও জনগণের জন্য কাজ করছেন।   রুমিন ফারহানার বক্তব্যে মূলত সরকারের আর্থিক চাপের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থানের পাশাপাশি নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার কথা উঠে এসেছে। তবে ঋণ, জ্বালানি আমদানি ও সামগ্রিক সরকারি ব্যয়ের প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য সরকারি বাজেট ও অর্থনৈতিক উপাত্ত আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৭:১৬
ইউক্রেনের ড্রোন হা ম লার পর মস্কোর একটি তেল শো ধ না গার থেকে ধোঁয়া উঠছে
মস্কোতে ইউক্রেনের ‘সবচেয়ে বড়’ ড্রোন হা ম লা, এক রাতে উড়ল হাজারের বেশি ড্রোন

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন হা ম লা চালিয়েছে ইউক্রেন। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, এক রাতেই রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এক হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বং স করা হয়েছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন এই হামলাকে রাজধানীর ওপর এখন পর্যন্ত ‘সবচেয়ে বড়’ ড্রোন হা ম লা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে ১ হাজার ১০০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বং স করা হয়েছে। এর মধ্যে মস্কোর দিকে এগিয়ে আসা প্রায় ৪৫০টি ড্রোন ধ্বং স করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র সোবিয়ানিন। তবে রুশ কর্মকর্তাদের পৃথক হিসাবে শনিবার থেকে মোট ১ হাজার ৬০০টির বেশি ড্রোন ধ্বং সের দাবি করা হয়েছে।   হা ম লায় মস্কোর একটি তেল শো ধ না গারের একটি অংশ ক্ষ তি গ্র স্ত হয়েছে। একটি আবাসিক ভবনেও ড্রোন আ ঘা ত হানার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় দুইজন নি হত এবং ২০ জন আ হ ত হয়েছেন। নি হতদের মধ্যে ৭৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ও ৪৪ বছর বয়সী এক নারী রয়েছেন।   রামেনস্কি জেলার একটি ২১ তলা আবাসিক ভবন থেকে ৭০ শিশুসহ প্রায় ৪০০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হামলার পর মস্কোর তেল শো ধ না গার এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।   ঘটনাটি ঘটে রাশিয়ার সংসদীয় নির্বাচনের তৃতীয় ও শেষ দিনে। মেয়র সোবিয়ানিন দাবি করেছেন, নির্বাচন ব্য হ ত করাই এই হা ম লার উদ্দেশ্য ছিল। তবে ইউক্রেন তাৎক্ষণিকভাবে ওই অ ভি যোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।   অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই অ ভি যা নে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ও ক্ষে প ণা স্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং তেল ও সরবরাহ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়েছে।   রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যু দ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন আ ক্র মণের মাত্রা বেড়েছে। একই রাতে রাশিয়ার ড্রোন হা ম লায় ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলেও চারজন নি হত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৭:১২
টেক্সাসে পিকআপের পেছনে থাকা পানির ট্যাংকের ভেতর থেকে চার অভিবাসীকে উদ্ধার করে সীমান্তরক্ষীরা
পিকআপের পানির ট্যাংকে লুকিয়ে ছিলেন চার অভিবাসী, মার্কিন নাগরিকসহ আ টক করল সীমান্তরক্ষী

টেক্সাসের ঈগল পাস এলাকায় একটি পিকআপ ট্রাকের পেছনে থাকা বহনযোগ্য পানির ট্যাংকের ভেতর থেকে চার অভিবাসীকে উ দ্ধার করেছে ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)। ট্যাংকটি এমনভাবে বন্ধ ছিল যে ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের নিজেদের বের হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না বলে জানিয়েছে সীমান্তরক্ষীরা।   সীমান্তরক্ষী এজেন্টরা একটি গ্রামীণ মহাসড়কে টহল দেওয়ার সময় ২০০৭ সালের একটি ফোর্ড পিকআপ ট্রাক থামান। তল্লাশির একপর্যায়ে ট্রাকের পেছনে থাকা ছোট একটি বহনযোগ্য পানির ট্যাংকের ভেতর চারজনকে আ টকে থাকা অবস্থায় দেখতে পান তারা। চারজনকে বের করে আনতে এজেন্টরা পাওয়ার টুল ব্যবহার করে ট্যাংকটি কেটে খোলেন। এরপর তাদের সেখান থেকে উ দ্ধার করা হয়। সীমান্তরক্ষীদের তথ্য অনুযায়ী, উ দ্ধার হওয়া চার ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তাদের প্রক্রিয়াকরণের জন্য উভালডে সাউথ স্টেশনে নেওয়া হয়। পিকআপটির চালক ছিলেন ১৯ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিক। তার বিরুদ্ধে মানব পাচারের অ ভি যোগ আনা হয়েছে। তবে গ্রে প্তার ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি বর্ডার পেট্রোল। ডেল রিও সেক্টরের প্রধান বর্ডার পেট্রোল এজেন্ট অ্যান্থনি গুড বলেন, পাচারকারীরা যাদের মানবপণ্য হিসেবে দেখে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেয় না। কোনো বের হওয়ার ব্যবস্থা ছাড়া সীমিত জায়গার ওই ট্যাংকের ভেতর মানুষকে রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, সীমান্তরক্ষী এজেন্টরা দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ঘটনাটি আরও গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারত। তবে উ দ্ধার হওয়া চার ব্যক্তির পরিচয় বা তাদের নাগরিকত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি বর্ডার পেট্রোল।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৬:৫৮
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রামিসার মতো অপ্রতিম হত্যারও দ্রুত বিচার করা হবে: জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের বিচার রামিসা হত্যার মতোই দ্রুততম সময়ে শেষ করার আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, পুলিশ আইনানুগ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল করবে এবং বিচার বিভাগ মামলাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার শেষ করার উদ্যোগ নেবে।    অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সালমানপুর এলাকার সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর দ্রুত তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজের পর ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে আরও একজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি। তবে আদালতে চূড়ান্তভাবে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।    তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ একটি সূত্র ছিল অপ্রতিমের মায়ের আইফোন। পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অপ্রতিমের সঙ্গে এক কিশোরকে দেখা যায়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুজনকে আটক করা হয় এবং একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন উদ্ধার করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছেন, ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বয়স যাচাই করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে বয়স নিশ্চিত করা হচ্ছে। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও বন্ধুত্বের বিষয়টিও উঠে এসেছে এবং কয়েকজন অপ্রতিমের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ বছর বয়সে বড়। এ ঘটনায় কিশোর অপরাধচক্রের সংশ্লিষ্টতার দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।    মামলার তদন্তে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রমের পাশাপাশি আসামিদের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি দেখছে। একই সঙ্গে ফরেনসিকসহ তদন্তের অন্যান্য কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে অপ্রতিমের মরদেহ দাফন করা হয়েছে।    অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে রোববার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে নামেন। তাঁরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় অবস্থান নিয়ে দ্রুত বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অপ্রতিম হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার প্রসঙ্গে রামিসা হত্যার মামলার উদাহরণ দেন। চলতি বছরের মে মাসে রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলাটি মাত্র ছয় কার্যদিবসে বিচারিক আদালতে নিষ্পত্তি করে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল উচ্চ আদালতের প্রক্রিয়ায় যায়।    রোববারের বক্তব্যে অপ্রতিম হত্যার ক্ষেত্রেও একই ধরনের দ্রুত বিচারিক অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিচার করবে আদালত; সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সহযোগিতা করবে। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিলের পর বিচার বিভাগ মামলাটিকে গুরুত্ব দিলে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন।    অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের বিষয়টিও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গুরুতর অপরাধের পেছনে মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক কারণ থাকতে পারে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে স্কুল পর্যায়ে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমসহ সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৬:৩৯
সেপ্টেম্বরের এক সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ফাইল ফটো)
মূল্যস্ফীতি নিয়ে অসন্তোষ, কট্টর সমর্থকদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদন কমেছে ৮ পয়েন্ট

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে কট্টর রক্ষণশীল সমর্থকদের মধ্যে তার অনুমোদন কমেছে। নতুন মারকেট ল স্কুলের জরিপে দেখা গেছে, নিজেদের ‘খুবই রক্ষণশীল’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া আমেরিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদন জুলাইয়ের ৮৪ শতাংশ থেকে সেপ্টেম্বরে ৭৬ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ দুই মাসের ব্যবধানে এই গোষ্ঠীর মধ্যে তার অনুমোদন কমেছে ৮ পয়েন্ট।   জরিপে দেখা গেছে, একই সময়ে এই গোষ্ঠীর মধ্যে ট্রাম্পকে অনুমোদন না করার হার ১৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৪ শতাংশ হয়েছে। ফলে অনুমোদন ও অননুমোদনের ব্যবধান জুলাইয়ের প্লাস ৬৮ পয়েন্ট থেকে সেপ্টেম্বরে প্লাস ৫২ পয়েন্টে নেমেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে একই ৮ শতাংশ মানুষ মত পরিবর্তন করেছেন। কারণ জুলাই ও সেপ্টেম্বরের জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আলাদা ছিলেন।   ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদনও সেপ্টেম্বরে ৩৭ শতাংশে নেমেছে। বিপরীতে ৬৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক তার কাজের অনুমোদন দেননি। মারকেটের হিসাবে, তার দ্বিতীয় মেয়াদে এই জরিপে এটি সর্বনিম্ন সামগ্রিক অনুমোদনের হার।   জরিপে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়। ৩৭ শতাংশ আমেরিকান এটিকে বর্তমানে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থনীতিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা বলেছেন ১৬ শতাংশ এবং ইরান যুদ্ধকে বলেছেন ১০ শতাংশ।   জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের প্রতি অনুমোদনও বেশ কম। সেপ্টেম্বরে মাত্র ১৯ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে তার কাজের অনুমোদন দিয়েছেন। অর্থনীতিতে অনুমোদন ছিল ২৮ শতাংশ, গ্যাসের দামে ২০ শতাংশ এবং ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ২৬ শতাংশ।   মূল্যস্ফীতি নিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়েও মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। জরিপে ৬৮ শতাংশ বলেছেন, আগামী ১২ মাসে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে। মাত্র ১২ শতাংশ মনে করেন তা কমবে, আর ২০ শতাংশের ধারণা পরিস্থিতি প্রায় একই থাকবে।   ট্রাম্পের নীতিগুলো মূল্যস্ফীতি কমাবে কি না, সে বিষয়েও দলীয় সমর্থকদের মধ্যে পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের জরিপে ৭৬ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করতেন ট্রাম্পের নীতিতে মূল্যস্ফীতি কমবে। সেপ্টেম্বরে সেই হার নেমে হয়েছে ৩৭ শতাংশ।   তবে কট্টর রক্ষণশীলদের মধ্যে অনুমোদন কমলেও ভোট দেওয়ার আগ্রহের সব সূচক একই দিকে যায়নি। সেপ্টেম্বরে ৭২ শতাংশ বলেছেন, তারা ভোট দেওয়ার বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত। জুলাইয়ে এই হার ছিল ৬৯ শতাংশ। আবার খুবই বা কিছুটা উৎসাহী—দুই শ্রেণি মিলিয়ে ভোটের আগ্রহ ৭৮ শতাংশ থেকে কমে ৭৪ শতাংশ হয়েছে।   রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই ছোট গোষ্ঠীর মধ্যে অনুমোদনের ৮ পয়েন্টের পরিবর্তনকে সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কারণ সেপ্টেম্বরে ‘খুবই রক্ষণশীল’ উত্তরদাতাদের সংখ্যা ছিল মাত্র ১১০ জন। ফলে নমুনাগত ওঠানামার প্রভাব এখানে তুলনামূলক বেশি হতে পারে। একাধিক জরিপে একই প্রবণতা দেখা গেলে তখন বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।   মারকেটের জাতীয় জরিপটি ২ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার ২৩ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে পরিচালিত হয়। পুরো জরিপের মার্জিন অব এরর প্লাস বা মাইনাস ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট। জুলাইয়ের তুলনার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, এটি একই ব্যক্তিদের ওপর করা ধারাবাহিক জরিপ নয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৬:৩৮
কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন
প্রশাসনের একাংশ তারেক রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে: নয়ন

মাগুরার প্রশাসনের একটি অংশ বিএনপির নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ছাত্রলীগ ও জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। তাঁর দাবি, প্রশাসনের এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন। নহাটা রানী পতিত মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বাচ্চু।    রবিউল ইসলাম নয়ন বলেন, মাগুরার প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি দেখতে পাচ্ছেন, বিএনপির নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ছাত্রলীগ এবং জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, মাগুরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদককে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের কাজ থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে।    নয়ন আরও অভিযোগ করেন, মহম্মদপুর উপজেলায় সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে ৯২ জনের মধ্যে ২৫ জন ছাত্রলীগের কর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির নেতারা সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। তবে এসব নিয়োগ ও অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তা উল্লেখ করা হয়নি।    প্রশাসনের উদ্দেশে নয়ন বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রশাসনের একটি অংশ গোপনে বিএনপির আবেগের জায়গা তারেক রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা বিএনপি ও তারেক রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে চান, তাদের মাগুরা ও মাগুরা-২ আসনের মাটিতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আবারও আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।    কর্মীসভায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়েও বক্তব্য দেন যুবদলের এই নেতা। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কয়েক মাস পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে তাকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে নয়ন বলেন, নির্বাচনের আগেও তিনি জনগণের সঙ্গে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।    কর্মীসভায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম আজম সাবু, সাবেক সদস্যসচিব মো. আক্তারুজ্জামান, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী হিরো ও মোস্তাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৬:২৫
টেক্সাসের আলামো এলাকায় আইসিইর অভিযান দেখতে গিয়ে দুই কিশোরকে আটকের অভিযোগ উঠেছে
আইসিইর অ ভি যা নের ভিডিও করছিল দুই কিশোর, এরপর আ টকের অ ভি যোগ

টেক্সাসে আইসিইর একটি অ ভি যা নের ভিডিও করছিল দুই ১৭ বছর বয়সী কিশোর। অভিযোগ, ঘটনাস্থলে থামার পর তাদের আ টক করা হয় এবং একজনকে মাটিতে ফেলে হা ত ক ড়া পরানো হয়। আরেক কিশোরকে আইসিইর এক কর্মকর্তা আ ঘা ত করেন বলেও ভিডিওতে দেখা গেছে। দুই কিশোরের পরিবারের দাবি, তারা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং মেরিনসে যোগ দেওয়ার জন্য রি ক্রু টিং অফিসে যাওয়ার পথে ঘটনাটি ঘটে।   ঘটনাটি ঘটে ১১ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের আলামো এলাকায়। লুইস ওচোয়া নামে এক কিশোরের ভাষ্য, তারা রাস্তার পাশে আইসিই কর্মকর্তাদের একটি অ ভি যা ন দেখতে পেয়ে সেটি ভিডিও করার জন্য গাড়ি থামিয়েছিল। এরপর কর্মকর্তারা তাদের গাড়ির দিকে এগিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একজন কিশোরকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে মাটিতে ফেলে হা ত ক ড়া পরাতে দেখা যায়।   ভিডিওতে আরও দেখা যায়, গাড়ির চালকের আসনে থাকা আরেক কিশোর নেমে আসার পর এক আইসিই কর্মকর্তা তাকে কয়েকবার আ ঘা ত করছেন। ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘সে অ প্রা প্ত ব য় স্ক।’ পরে ওই কিশোরকেও মাটিতে ধরে রাখা হয় এবং হা ত ক ড়া পরানো হয়।   লুইস ওচোয়া অ ভি যোগ করেছেন, তাকে ম রি চের স্প্রে দেওয়া হয় এবং মাটিতে ফেলে আ টক করা হয়। তার দাবি, এ সময় তার কবজিতে আ ঘা ত লাগে। ওচোয়ার মা তেরেসা ওচোয়া জানান, ছেলের সঙ্গে প্রায় আট ঘণ্টা যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। তার ভাষ্য, ছেলে অ প্রা প্ত ব য় স্ক হওয়ায় ঘটনাটি পরিবারের জন্য আরও উদ্বেগের ছিল।   দুই কিশোরের পরিবার জানিয়েছে, তারা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তারা মেরিনসে যোগ দেওয়ার জন্য একটি রি ক্রু টিং অফিসে যাচ্ছিল। পথে আইসিইর অ ভি যা ন দেখতে পেয়ে তারা সেখানে থেমে ভিডিও করছিল।   তবে ঘটনাটি নিয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বা ডিএইচএসের বক্তব্য ভিন্ন। সংস্থাটি দুই কিশোরকে আইসিই কর্মকর্তাদের কাজে বা ধা দেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে। ডিএইচএসের দাবি, তাদের একজন আইসিইর গাড়ির জানালায় বারবার আ ঘা ত করেছিলেন এবং কর্মকর্তাদের থামার নির্দেশ উপেক্ষা করেছিলেন।   ডিএইচএসের ভাষ্য, পরে ওই কিশোরকে আ টক করতে গেলে তিনি মৌখিক ও শারীরিকভাবে প্র তি রোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব ল প্র য়োগ করেছেন বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের দাবি, ঘটনায় দুই আইসিই কর্মকর্তা সামান্য আ হ ত হন এবং তাদের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।   অন্যদিকে কিশোরদের পক্ষ থেকে ডিএইচএসের এসব অ ভি যোগের বিরোধিতা করা হয়েছে। তাদের পরিবারের বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা দৃশ্য নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। তবে ভিডিওর পুরো প্রেক্ষাপট এবং ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।   ঘটনার পর দুই কিশোর আলামো পুলিশের কাছে অ ভি যোগ করেছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তের জন্য ডিএইচএসের ইন্সপেক্টর জেনারেলের দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। ফলে আইসিইর অ ভি যা নের সময় দুই কিশোরের আ টক এবং তাদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য এখন তদন্তের আওতায় এসেছ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৬:২২
ওয়ালমার্টে হামলার সময় নজরদারি ক্যামেরায় কিশোরীর বাবা-মা
মেয়ের সঙ্গে বাগ বি তণ্ডার জেরে বৃদ্ধকে পি টিয়ে হ ত্যার অভিযোগ বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার নরফোকে ওয়ালমার্টের ভেতরে শপিং কার্ট নিয়ে বাগ বি তণ্ডার জেরে ৭৭ বছরের এক ক্রেতাকে পি টিয়ে হ ত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক কিশোরী কর্মীর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। নি হত ওই ব্যক্তির নাম বার্ট আতিয়েঞ্জা। ঘটনার একদিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃ ত্যু হয়।   ঘটনাটি ঘটে গত ৭ জুন। স্ত্রী জোসেফিন আতিয়েঞ্জাকে নিয়ে চার্চ থেকে ফেরার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে ওয়ালমার্টে গিয়েছিলেন বার্ট। সেখানে ১৭ বছর বয়সী এক কর্মী দ্রুতগতিতে শপিং কার্ট নিয়ে যাওয়ার সময় জোসেফিনকে প্রায় ধা ক্কা দিতে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেন বার্ট। জোসেফিনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে ওই কর্মীর সঙ্গে বার্টের কিছুক্ষণ কথা কা টা কাটি হয়। তিনি কর্মীকে বলেন, কার্ট দিয়ে তার স্ত্রীকে প্রায় ধা ক্কা দেওয়া হলেও সে ক্ষমা চায়নি। এরপর ওই কিশোরী একটি ক্যান ছুড়ে মারে বলে অভিযোগ করেন জোসেফিন। পরে তিনি তার বাবা-মাকে ফোন করে ঘটনাটি জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর কিশোরীর বাবা ট্রাভিস ল্যাথান হোয়াইট ও মা এরিকা ল্যাট্রিস মিচেল ওয়ালমার্টের ভেতরে ওই দম্পতিকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে দোকানের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর অংশের একটি আইলে বার্টের ওপর হা ম লা করা হচ্ছে। জোসেফিনের দাবি, দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বার্টকে পেছন থেকে ধা ক্কা দেন, ধরে ফেলেন এবং ঘু ষি মা রেন। একপর্যায়ে তাকে তাকের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়া হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এরপরও তাকে লা থি মা রা হয় বলে অভিযোগ। স্বামীকে রক্ষা করতে জোসেফিন তাদের থামতে অনুরোধ করেন। হা ম লার পর বার্ট কিছুক্ষণ কথা বলতে পারছিলেন। স্ত্রীকে তিনি সাহায্যের জন্য উঠতে বলেন। কিন্তু জোসেফিন দেখতে পান, তার মুখ দিয়ে র ক্ত পড়ছে। অ্যাম্বুলেন্স আসার অপেক্ষায় থাকার সময় একপর্যায়ে বার্ট জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। গুরুতর আ হ ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, মাথায় ভোঁ তা আ ঘা তের কারণে তার মৃ ত্যু হয়েছে। পরে তার মৃ ত্যুকে হ ত্যা কাণ্ড হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। পুলিশ ট্রাভিস হোয়াইট ও এরিকা মিচেলকে গ্রে প্তার করে। শুরুতে তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর আ ক্র মণ, দলবদ্ধভাবে হা ম লা এবং অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। পরে আদালতের নথি অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হ ত্যার অভিযোগও যুক্ত করা হয়। তারা জা মি ন ছাড়াই নরফোক কারাগারে আ ট ক রয়েছেন। তবে অভিযুক্তদের আইনজীবী অভিযোগের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তার দাবি, মেয়ের ফোন পেয়ে বাবা-মা তাকে নিরাপদ রাখতে ওয়ালমার্টে গিয়েছিলেন এবং ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। পরিস্থিতি আবেগের বশে হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলেও দাবি করেন তিনি। আইনজীবীর মতে, হা ম লার ঘটনা ঘটলেও সেটি হ ত্যার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল—এমন প্রমাণ নেই। এদিকে ওই কিশোরীও গ্রে প্তার হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হা ম লা ও মা র ধ র, গুরুতর হা ম লা এবং অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। বয়স কম হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তার নাম প্রকাশ করেনি। বর্তমানে সে নরফোকের একটি কিশোর আ ট ক কেন্দ্রে রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৫:৫৩
গাজায় যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে মঞ্চে অভিনয় করছেন একদল স্থানীয় শিল্পী
মঞ্চে অভিনয় নাকি বাস্তব জীবন! গাজার অভিনেতাদের কাছে দুটোই এক

গাজায় মঞ্চে উঠলেই তারা অন্য কোনো চরিত্র হয়ে যান—এমন নয়। যে ভয়, শোক, বাস্তুচ্যুতি আর অনিশ্চয়তা নিয়ে তারা প্রতিদিন বেঁচে আছেন, মঞ্চে উঠে সেই জীবনই আবার অভিনয় করতে হয় তাদের। কারও চরিত্র একজন অসহায় বাবা, কারও চরিত্র যু দ্ধের মধ্যে সন্তান জন্ম দিতে যাওয়া এক নারী, আবার কেউ অভিনয় করছেন এমন এক চিকিৎসকের ভূমিকায়, যিনি নিজের সন্তানকে বাঁচাতে পারছেন না। তাই গাজার এই অভিনেতাদের কাছে অভিনয় আর বাস্তব জীবনের সীমারেখা যেন প্রায় মুছে গেছে।   এই বাস্তবতাকে মঞ্চে তুলে ধরতেই তৈরি হয়েছে ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ নাটক। যুদ্ধের মধ্যেই নাটকটির মহড়া ও মঞ্চায়ন করেছেন আটজন অভিনেতা। তাদের কেউ নিজের বাড়ি হারিয়েছেন, কেউ পরিবারের সদস্য হারিয়েছেন, কেউ আবার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আশ্রয় বদলেছেন। মঞ্চে তারা যে গল্প বলেন, তার অনেকটাই তাদের নিজেদের জীবনের সঙ্গে মিলে যায়।   ৪২ বছর বয়সী আবু কুসাই কাদ্দুরার দিন শুরু হয় ভোর ৬টার দিকে। গাজার শেখ রাদওয়ান এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকা কাদ্দুরা রান্না ও গরম থাকার জন্য জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করেন। এক কেজি কাঠের দাম প্রায় ৭ শেকেল বা ২ ডলার। সামর্থ্য না থাকলে ধ্বং স হয়ে যাওয়া বাড়ির কাঠ, কার্ডবোর্ড কিংবা অন্য কিছু সংগ্রহ করে আগুন জ্বালাতে হয় তাকে।   পরিবারের জন্য খাবার রান্না ও আগুন জ্বালানোর পর হাতে লেগে থাকা কালো ছাই ধুয়ে ফেলেন কাদ্দুরা। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা হেঁটে তাকে যেতে হয় মহড়ার জায়গায়। ধ্বং স স্তূপে ভরা প্রধান সড়ক এড়িয়ে পাশের রাস্তা দিয়ে তিনি গাজা সিটির রাশাদ আল-শাওয়া সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাছে পৌঁছান। সেখানে অস্থায়ী কাপড় ও প্লাস্টিকের তাঁবুর ভেতর চলছে নাটকের মহড়া।   কাদ্দুরার চরিত্র একজন চিকিৎসকের। যুদ্ধের মধ্যে একটি হাসপাতালে আটকা পড়া সেই চিকিৎসককে নিজের সন্তানকে বাঁচাতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কোলে থাকা শিশুটির পা কেটে ফেলতে হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত শিশুটি মা রা যায়।   দৃশ্যটি অভিনয়ের হলেও এর পেছনে রয়েছে গাজার এক বাবার বাস্তব অভিজ্ঞতা। তাই শিশুটিকে কোলে নেওয়ার সময় নিজের সন্তানদের কথাই মনে পড়ে কাদ্দুরার। মঞ্চে চরিত্রটি ধরে রাখতে পারলেও একপর্যায়ে নিজের সন্তানদের কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। প্রায় ১৫ মিনিট এক পাশে বসে থাকার পর আবার মহড়ায় ফিরতে হয় তাকে।   যু দ্ধের আগে কাদ্দুরা ক্যামেরার পেছনে কাজ করতেন। স্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে প্রোডাকশন ম্যানেজার ও সাউন্ড টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু উত্তর গাজার আল-তাওয়ামে ই স রা য়ে লি হামলায় তার বাড়ি ধ্বং স হয়ে যায়। এখন স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ভাড়া করা একটি বাড়ির ছাদে প্লাস্টিকের ত্রিপলের নিচে একটি কক্ষে বসবাস করছেন তিনি।   ধ্বং স স্তূপ থেকেই তৈরি নাটকের মঞ্চ   নাটকটির পরিচালক আলী আবু ইয়াসিন গাজায় প্রায় ৩৭ বছর ধরে অভিনেতা, নাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। তার নাটক গাজার বাইরেও মঞ্চস্থ হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ যু দ্ধে গাজার সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বং স হয়েছে।   ইউনেস্কোর হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গাজায় ১৬৪টি সাংস্কৃতিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক ও শিল্প-সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন ১২৮টি ভবন রয়েছে।   থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আবু ইয়াসিনের সামনে প্রশ্ন ছিল—নাটক তৈরি হবে কোথায়? শেষ পর্যন্ত উত্তর খুঁজে নেওয়া হয় তাঁবু, ধ্বং স স্তূপ আর অস্থায়ী জায়গার মধ্যেই।   ২০২৬ সালের এপ্রিলে ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ নাটকের কাজ শুরু হয় একটি নাট্যলেখার কর্মশালা হিসেবে। শুরুতে ১৪ জন তরুণ-তরুণীর অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও যু দ্ধের কারণে কেউ আ হ ত হন, কেউ বাস্তুচ্যুত হন, আবার কেউ চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে চলে যান। শেষ পর্যন্ত আটজন এই নাটকটি মঞ্চে নিয়ে আসেন।   প্রথম দিকে অস্থায়ী কাপড় ও প্লাস্টিকের তাঁবুতে মহড়া হয়েছে। পরে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের ছোট কক্ষে চলে যায় মহড়া। বিদ্যুৎ ছিল অনিয়মিত, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও ছিল সীমিত। সেট তৈরির জন্য নতুন কাঠ কেনার সুযোগ না থাকায় তাঁবুর ক্ষতিগ্রস্ত কাপড় ও পাওয়া কাঠের টুকরো ব্যবহার করেন অভিনেতারাই।   পরিচালক আবু ইয়াসিনের ভাষায়, নাটকটি যেন ধ্বং স স্তূপের নিচ থেকেই উঠে এসেছে।   বাস্তব জীবনের ভয়ই হয়ে উঠেছে অভিনয়ের অংশ   অভিনেত্রী ইমান ওদা নাটকে হানিন নামের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর চরিত্রে অভিনয় করেন। নয় বছর অপেক্ষার পর সন্তান ধারণ করা হানিন যু দ্ধের মধ্যে একটি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়ার চেষ্টা করছে—এটাই তার চরিত্র।   একদিন মহড়ার মাঝেই কাছাকাছি বি স্ফো রণ ঘটে। ভবন কেঁপে ওঠে, ধুলা ঢুকে পড়ে মহড়ার জায়গায়। অভিনেতারা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান। এরপর প্রায় সবাই প্রথমে ফোন হাতে নেন—পরিবার নিরাপদে আছে কি না, সেটি জানার জন্য।   ওদা বলেন, যু দ্ধ তাদের শুধু অভিনয়ের গল্প দেয়নি, আকাশের শব্দ বোঝার অভিজ্ঞতাও দিয়েছে। হেলিকপ্টার বা নজরদারি ড্রোনের শব্দ শুনলে তাদের মধ্যে ভয় তৈরি হয়। তবু অনেক সময় সেই শব্দের মধ্যেই মহড়া চালিয়ে যেতে হয়।   ওদার নিজের বাবার নাম ছিল ইউসুফ। যু দ্ধের সময় তিনি মা রা যান। পরে যে কবরস্থানে তাকে দা ফ ন করা হয়েছিল, সেটিও বুলডোজার দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিবার তার কবরের অবস্থান আর খুঁজে পায়নি। তাই নাটকে ‘নিখোঁজ ইউসুফ’ নামের একটি চরিত্রের কথা উঠতেই ওদা কান্নায় ভেঙে পড়েন।   আরেক অভিনেতা তামের নাজমের জীবনও নাটকের গল্পের সঙ্গে মিশে গেছে। নাটকে তিনি খালেদ নামে এমন এক বাবার চরিত্রে অভিনয় করেন, যিনি বহু বছর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করার পর যু দ্ধের মধ্যে হাসপাতালে আটকা পড়েন।   বাস্তব জীবনেও নাজমের নিজের বাড়ি ধ্বং স হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে তাকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আশ্রয় নিতে হয়েছে। বন্ধুর বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি, রাস্তার পাশ কিংবা তাঁবু—বিভিন্ন জায়গায় দিন কাটিয়েছেন তারা। যু দ্ধের মধ্যেই তাদের দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেয়।   তাই মঞ্চে খালেদের চরিত্রে অভিনয় করার সময় নাজমের নিজের জীবনই সামনে চলে আসে। স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে নিয়ে বাস্তবে যে ভয় তিনি অনুভব করেছেন, মঞ্চে সেই ভয়ই আবার অভিনয় করতে হয় তাকে।   অবশেষে মিলল একটি থিয়েটার   অনেক বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত গাজা সিটির আল-ওয়েহদা স্ট্রিটের এ এম কাত্তান ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নাটকটির মঞ্চায়নের সুযোগ হয়। কয়েক মাস তাঁবু, খোলা জায়গা ও ছোট কক্ষে মহড়া করার পর অবশেষে তারা একটি থিয়েটার মঞ্চে ফিরতে পারেন।   ১৯ জুলাই প্রথমবার দর্শকদের সামনে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। প্রায় ১৫০ আসনের হলটি দর্শকে পূর্ণ হয়ে যায়। প্রবেশ ছিল বিনামূল্যে।   মঞ্চে ওঠার আগে অভিনেতাদের ভ য় ছিল—বিদ্যুৎ চলে যেতে পারে, আশপাশে হামলা হতে পারে কিংবা মাঝপথে নাটক বন্ধ করে দিতে হতে পারে। জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক বা মেকআপের ব্যবস্থাও ছিল না। বাস্তুচ্যুতদের তাঁবু থেকে পাওয়া সাধারণ পোশাক এবং মোবাইল ফোনের আলোয় যতটুকু সম্ভব, সেটুকু দিয়েই প্রস্তুতি নেন তারা।   এরপর আলো নিভে যায়। কাদ্দুরা মঞ্চে চিকিৎসক হয়ে ওঠেন, ওদা হয়ে যান যু দ্ধের মধ্যে সন্তান জন্ম দিতে যাওয়া হানিন, আর নাজম অভিনয় করেন পরিবারকে হারানোর আতঙ্কে থাকা খালেদের চরিত্রে।   ৫০ মিনিট ধরে মঞ্চে চলতে থাকে গাজার মানুষের যু দ্ধকালীন জীবনের নানা প্রতিচ্ছবি। দর্শকদের মধ্যে ছিলেন নাজমের পাঁচ বছরের মেয়েও। মঞ্চে বাবাকে ধুলায় ঢাকা ও ছেঁড়া পোশাকে দেখে সে কেঁদে ফেলে। পরে বাবাকে জানায়, মঞ্চে তার কান্না দেখে মনে হয়েছে তিনি যেন বাড়িতেও একইভাবে দুশ্চিন্তা করেন।   পরবর্তীতে নাটকটি গাজার বিভিন্ন এলাকায় মঞ্চস্থ করা হয়। দারাজ, দেইর আল-বালাহ, নুসেইরাত ও খান ইউনিসে এর প্রদর্শনী হয়। খান ইউনিসের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের হলেই পাঁচ শতাধিক মানুষ নাটকটি দেখেন।   পরিচালক আলী আবু ইয়াসিনের কাছে এই নাটক শুধু বিনোদন নয়। তার মতে, থিয়েটার ধ্বং স করা গেলেও মানুষের গল্প, অভিনয় ও সৃষ্টিশীলতাকে পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া যায় না। তাই থিয়েটার হল না থাকলেও রাস্তা বা অন্য কোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে নাটক করা সম্ভব।   মঞ্চের আলো নিভে যাওয়ার পরও অবশ্য অভিনেতাদের গল্প শেষ হয় না। কাদ্দুরা পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে আবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ির দিকে ফেরেন। সাত বছরের মেয়ে শাম ঘুমিয়ে পড়ায় তাকে কোলে করে নিয়ে হাঁটতে হয়।   রাতের অন্ধকারে পথ দেখাতে পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করেন। দূরে তখনও বি স্ফো রণের শব্দ শোনা যায়। ছাদে থাকা ছোট ঘরে পৌঁছে শামকে শুইয়ে দেন কাদ্দুরা। অন্য সন্তানরা তখনও খাবারের অপেক্ষায়।   দিনের শুরুতে যে আগুন জ্বালিয়েছিলেন পরিবারের জন্য, রাতেও সেই আগুনের কাছেই ফিরে আসেন তিনি। আবার আগুন জ্বালান কাদ্দুরা। এরপর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সন্তানদের জন্য রাতের খাবার রান্না শুরু করেন।   মঞ্চে ৫০ মিনিটের অভিনয় শেষ হলেও বাস্তব জীবনের সেই গল্প থেকে যায়। কারণ গাজার এই অভিনেতাদের কাছে পর্দা নামলেও যু দ্ধের বাস্তবতা থামে না।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৫:৩০
অপ্রতিম হ ত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
অপ্রতিম হ ত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড় থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হ ত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার আশা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, রামিসা হ ত্যা কাণ্ডের মতো অপ্রতিম হ ত্যা মামলার বিচারও দ্রুততম সময়ে শেষ করার চেষ্টা করা হবে। মন্ত্রী জানান, অপ্রতিম নি খোঁ জ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার ম র দে হ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে আগে এবং একজনকে রোববার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের বয়স ও পরিচয় যাচাইয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের সঙ্গে অপ্রতিমের বন্ধুত্ব ও নিয়মিত ওঠাবসা ছিল। তদন্তে তাদের কয়েকজন অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বয়সে বড় বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেরও গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তার সঙ্গে থাকা আইফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার প্রয়োজনীয় আলামতও জব্দ করা হয়েছে এবং সেগুলোর ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাদের বক্তব্য আদালতে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ। পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রমের পাশাপাশি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার অপ্রতিমের দা ফ ন সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর পরদিন তার ম র দে হ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। বিচার দ্রুত শেষ করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে; তবে বিচার করবে আদালত। এখন তদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা, জবানবন্দি এবং পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়াই মামলার পরবর্তী ধাপ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৫:৯