- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িতে থেকে সন্তান লালন-পালন করা অভিভাবকদেরও সরকারি শিশু যত্ন ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে বাস্তবায়িত হলে নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা কিছু বিবাহিত দম্পতি, যাদের একজন বাইরে কাজ করবেন আর অন্যজন বাড়িতে থেকে সন্তানের যত্ন নেবেন, তারা ফেডারেল সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পরিকল্পনাটি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। বর্তমানে যে ফেডারেল তহবিল থেকে কম ও মধ্যম আয়ের কর্মজীবী পরিবারগুলো শিশু যত্নের খরচের জন্য সহায়তা পায়, সেই চাইল্ড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকেই অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তহবিলটির আকার প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো পরিবারকে যোগ্য হতে হলে আয় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে। পাশাপাশি একজন বিবাহিত অভিভাবককে সপ্তাহে অন্তত ৩৫ ঘণ্টা কাজ করতে হবে এবং অন্যজন বাড়িতে থেকে নিজের সন্তানের যত্ন নেবেন। এ ক্ষেত্রে বাড়িতে থাকা অভিভাবকের যত্নকে শিশু পরিচর্যার একটি ধরন হিসেবে বিবেচনা করে ভাতা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। বর্তমান ব্যবস্থায় সাধারণত বাবা-মাকে কাজ, পড়াশোনা অথবা প্রশিক্ষণে থাকার শর্ত পূরণ করতে হয়। সরকারি সহায়তাটি মূলত শিশুদের ডে-কেয়ার বা অন্যান্য পরিচর্যার খরচ মেটাতে ব্যবহৃত হয়। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে একই তহবিলের অর্থ বাড়িতে থেকে সন্তান দেখাশোনা করা কিছু পরিবারও পেতে পারে। বর্তমানে এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার পরিবার শিশু যত্নের ভর্তুকি পাচ্ছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবারে একক কর্মজীবী অভিভাবক রয়েছেন এবং তাদের বেশিরভাগই নারী। নতুন পরিকল্পনার সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, একই পরিমাণ অর্থ আরও বেশি পরিবারের মধ্যে ভাগ হলে কর্মজীবী ও একক অভিভাবকদের জন্য বরাদ্দ কমে যেতে পারে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বাড়িতে থাকা অভিভাবককে সরাসরি অর্থ দেওয়ার ফলে শিশু যত্নের বর্তমান বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কিছু বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল ডে-কেয়ার কেন্দ্রগুলো শিশু হারালে আয় কমে যেতে পারে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতেও পড়তে পারে। অন্যদিকে, পরিকল্পনাটির সমর্থকেরা বলছেন, সন্তান লালন-পালনে বাড়িতে থাকা অভিভাবকের অবদানও আর্থিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে পরিবার ও শিশুদের জন্য সহায়তা বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। তবে নতুন নিয়ম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রস্তাবটি হোয়াইট হাউসের অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ ও জনমত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর থেকেই এটি কার্যকর হতে পারে।
মাত্র ১১ দিনের এক নবজাতকের নখের নিচে দেখা দেওয়া ক্ষুদ্র সংক্রমণ শেষ পর্যন্ত তার মস্তিষ্কে থাকা মারাত্মক টিউমার শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপে অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে প্রাণে বেঁচে যায় শিশুটি। স্কটল্যান্ডের মিডলোথিয়ানের পেনিকুইকের বাসিন্দা স্যাম শার্প ২০২০ সালে ছেলে জোয়ির জন্ম দেন। জন্মের মাত্র ১১ দিন পর জোয়ি ঠিকমতো দুধ খেতে পারছিল না, ওজন কমছিল এবং জন্ডিসও কমছিল না। এর পাশাপাশি তার শরীরে মাঝে মাঝে খিঁচুনির মতো স্প্যাজম দেখা দিতে শুরু করে। হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় চিকিৎসকদের নজরে আসে তার একটি নখের নিচে অতি ছোট একটি সংক্রমণের মতো চিহ্ন। সেটি পরীক্ষা করতে গিয়ে আল্ট্রাসাউন্ডে ধরা পড়ে মস্তিষ্কে একটি টিউমার। পরে নমুনা পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, এটি গ্লিওব্লাস্টোমা - মস্তিষ্কের একটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ক্যানসার। চিকিৎসার সময় জোয়ির তিনবার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার এবং নয় দফা কেমোথেরাপি হয়। একপর্যায়ে দিনে ৩০টিরও বেশি খিঁচুনি হচ্ছিল এবং তাকে খাবারের জন্য ফিডিং টিউব ব্যবহার করতে হয়েছিল। ২০২১ সালের ৪ আগস্ট চিকিৎসার শেষ দিকে স্ক্যানের ফলাফলে তার শরীরে রোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে পরিবারকে জানানো হয়। বর্তমানে পাঁচ বছর বয়সী জোয়ি স্কুলে যাচ্ছে। তবে চিকিৎসার পর তার সেরিব্রাল পালসি হয়েছে, ডান হাতের ব্যবহার সীমিত এবং দীর্ঘ দূরত্ব চলাচলে হুইলচেয়ার ব্যবহার করে। জোয়ির মা স্যাম এখন শিশুদের মস্তিষ্কের ক্যানসার নিয়ে আরও গবেষণায় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আগামী বছর এডিনবার্গ ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছেন, যার মাধ্যমে স্কটিশ ব্রেইন টিউমার রিসার্চ সেন্টার অব এক্সেলেন্সের জন্য অর্থ সংগ্রহ করবেন। এদিকে যুক্তরাজ্যের এনএইচএস বলছে, মস্তিষ্কের টিউমারের লক্ষণ টিউমারের অবস্থান ও ধরনভেদে ভিন্ন হতে পারে। সাধারণ লক্ষণের মধ্যে নতুন বা বাড়তে থাকা মাথাব্যথা, খিঁচুনি, বমি বমি ভাব বা বমি, অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব, স্মৃতি বা আচরণে পরিবর্তন, শরীরের এক পাশে দুর্বলতা এবং দৃষ্টি বা কথা বলার সমস্যা থাকতে পারে। এসব লক্ষণ থাকলেই যে মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে, তা নয়; তবে অস্বাভাবিক বা ক্রমশ বাড়তে থাকা উপসর্গ চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করা জরুরি। সূত্র - The Independent
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থান, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন বা পুনঃনামকরণের উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার পর এবার হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাবও সামনে এসেছে। তবে এসব উদ্যোগের সবগুলো একই ধরনের নয় - কিছু ইতোমধ্যে ফেডারেল পর্যায়ে কার্যকর হয়েছে, আবার কিছু এখনো প্রস্তাব বা রাজনৈতিক উদ্যোগের পর্যায়ে রয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর একটি হলো লেক অন্টারিওকে ‘লেক আমেরিকা’ নাম দেওয়া। ২৭ আগস্ট জারি করা নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প মার্কিন ফেডারেল নথি ও জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেম (জিএনআইএস)-এ নতুন নাম ব্যবহারের নির্দেশ দেন। তবে লেকটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় কানাডা এই নাম গ্রহণ করেনি এবং দেশটি এখনো ‘লেক অন্টারিও’ নামই ব্যবহার করছে। এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্প গালফ অব মেক্সিকোকে ‘গালফ অব আমেরিকা’ নামে অভিহিত করার উদ্যোগ নেন। একই সময়ে উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বত ডেনালির ফেডারেল নাম আবার ‘মাউন্ট ম্যাককিনলি’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ডেনালি ন্যাশনাল পার্ক অ্যান্ড প্রিজার্ভের নাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সামরিক স্থাপনাতেও নাম পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন নয়টি আর্মি ঘাঁটির নাম পরিবর্তন বা আগের নাম ফিরিয়ে আনে। এর মধ্যে ফোর্ট লিবার্টিকে আবার ফোর্ট ব্র্যাগ এবং ফোর্ট মুরকে ফোর্ট বেনিং করা হয়। এগুলো ট্রাম্পের নিজের নামে করা হয়নি; বরং আগের নাম ফিরিয়ে দেওয়া বা নতুন ব্যক্তির নামে নামকরণ করা হয়েছে। সরকারি ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নিয়েও একই ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেনেডি সেন্টারের বোর্ডে ট্রাম্পের সমর্থকেরা তাঁর নাম যুক্ত করে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প অ্যান্ড জন এফ. কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস’ হিসেবে পরিচিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জও হয়েছে, কারণ প্রতিষ্ঠানটি কংগ্রেসের আইনে প্রতিষ্ঠিত। এদিকে ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অব পিস-এর ওয়াশিংটন সদর দপ্তরকেও ট্রাম্পের নামে পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আইনি বিরোধ চলার মধ্যেই এই নাম ব্যবহারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সবচেয়ে সাম্প্রতিক প্রস্তাবগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি নিয়ে। ২ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌশলগত এই জলপথের নাম ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার কথা বলেন। পরে ওভাল অফিসে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি শুধু ‘উত্থাপন’ করেছিলেন। ফলে এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নয়। এ ছাড়া নিউইয়র্কের পেন স্টেশন ও ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ট্রাম্পের নামে করার ধারণাও আলোচনায় এসেছে। তবে এগুলোও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর নাম পরিবর্তন নয়। ট্রাম্পের নাম যুক্ত হয়েছে এমন আরও কিছু উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যৎ ‘ট্রাম্প-ক্লাস’ যুদ্ধজাহাজ, ২০২৬ সালের একটি ট্রাম্পের প্রতিকৃতিযুক্ত ১ ডলারের মুদ্রা এবং আর্মেনিয়ার একটি প্রস্তাবিত পরিবহন করিডোরের নাম ‘ট্রাম্প রুট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি’। ফ্লোরিডায় পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম ট্রাম্পের নামে পরিবর্তনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যদিও সেটি রাজ্য পর্যায়ের উদ্যোগ এবং ফেডারেল অনুমোদনের বিষয় রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের ক্ষমতারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফেডারেল সরকার তার নিজস্ব নথি, মানচিত্র ও সরকারি যোগাযোগে নতুন নাম ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু কোনো নির্বাহী আদেশ অন্য দেশ, অঙ্গরাজ্য, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাধ্যতামূলক নয়। লেক অন্টারিওর ক্ষেত্রে কানাডা এখনো পুরোনো নাম ব্যবহার করছে - যা এই সীমাবদ্ধতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। নাম পরিবর্তনের উদ্যোগগুলো নিয়ে জনমতও বিভক্ত নয়, বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিরোধিতার চিত্র পাওয়া গেছে। রয়টার্স/ইপসোসের ২৮-৩০ আগস্টের জরিপে ৬৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছেন, বিপরীতে সমর্থন করেছেন ১৪ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা করতে আবেদনকারীর খরচ ভিসার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন। বর্তমানে সাধারণ ভিজিটর ভিসা, অর্থাৎ ব্যবসা বা পর্যটনের জন্য বি-১/বি-২ ভিসার আবেদন ফি ১৮৫ ডলার। শিক্ষার্থী ও অন্যান্য কিছু নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রেও ১৮৫ ডলার আবেদন ফি প্রযোজ্য। তবে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য ২০২৬ সালে ভিসা বন্ডের নিয়ম চালু হওয়ায় মোট আর্থিক দায় অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য বি-১/বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ভিসা বন্ডের নিয়ম কার্যকর হয়েছে। ভিসা কর্মকর্তা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকারের সময় ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলারের বন্ড নির্ধারণ করতে পারেন। তবে ভিসা বন্ড দিতে হবে শুধু তখনই, যখন কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীকে এ নির্দেশ দেবেন। শুধু নিজের ইচ্ছায় বন্ডের টাকা জমা দিলে তা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। এই বন্ড সাধারণ ভিসা ফি নয়। ভিসা অনুমোদনের পর নির্ধারিত শর্ত মেনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়লে বন্ডের অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বন্ডের টাকা যিনি জমা দেবেন, শর্ত পূরণ হলে ফেরতও তার কাছেই দেওয়া হবে। ভিসা আবেদন ফি অবশ্য ফেরতযোগ্য নয়। অর্থাৎ আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও ১৮৫ ডলারের আবেদন ফি ফেরত পাওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বি-১/বি-২ ছাড়াও এফ-১ শিক্ষার্থী, এম-১ ভোকেশনাল স্টুডেন্ট, জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটরসহ বেশ কয়েকটি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি ১৮৫ ডলার। কাজের জন্য এইচ, এল, ও, পি, কিউ ও আর ক্যাটাগরির মতো পিটিশনভিত্তিক নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি ২০৫ ডলার। ই-ভিসার ক্ষেত্রে ফি ৩১৫ ডলার এবং মার্কিন নাগরিকের বাগদত্তা বা স্বামী-স্ত্রীর জন্য কে-ভিসার আবেদন ফি ২৬৫ ডলার। ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে খরচের কাঠামো আলাদা। পরিবারভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি বর্তমানে জনপ্রতি ৩২৫ ডলার। কর্মসংস্থানভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি ৩৪৫ ডলার। অন্যান্য কিছু ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে ফি ২০৫ ডলার। এর বাইরে পরিবারভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার পিটিশন, অর্থাৎ আই-১৩০ জমা দেওয়ার জন্য ৬৭৫ ডলার ফি রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট পর্যালোচনার জন্য ১২০ ডলার ফিও প্রযোজ্য হতে পারে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর গ্রিন কার্ড তৈরির জন্য ইউএসসিআইএস ইমিগ্র্যান্ট ফিও দিতে হয়। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভিসার মেয়াদ ও প্রবেশের সংখ্যা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বাংলাদেশ রিসিপ্রোসিটি তালিকায় বি-১, বি-২ এবং বি-১/বি-২ ভিসার জন্য কোনো আলাদা রিসিপ্রোসিটি ফি দেখানো হয়নি। একই তালিকায় এসব ভিসার মেয়াদ তিন মাস এবং প্রবেশের সংখ্যা একবার উল্লেখ করা হয়েছে। ভিসা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে কতদিন থাকা যাবে, সেটি ভিসার মেয়াদের সঙ্গে এক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্মকর্তা অনুমোদিত থাকার সময় নির্ধারণ করেন। তাই ভিসার গায়ে থাকা মেয়াদ দেখে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় নিশ্চিত ধরে নেওয়া উচিত নয়। আরেকটি বিষয় হলো, ২০২৫ সালে আইন করে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারীদের জন্য ২৫০ ডলারের ভিসা ইন্টেগ্রিটি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, এই ফি ভিসা ইস্যুর সময় নেওয়া হবে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতির ভিত্তিতে সমন্বয় করা যেতে পারে। তবে এই ফি কীভাবে এবং কোথায় সংগ্রহ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ইমিগ্র্যান্ট ভিসার প্রয়োজনীয় ফি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী দিতে হয় এবং ভিসা না পেলে আবেদন ফি ফেরতযোগ্য নয়। ভিসার ধরন অনুযায়ী ফি পরিবর্তিত হতে পারে বলে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরির সর্বশেষ সরকারি তথ্য যাচাই করা জরুরি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা করতে শুধু ১৮৫ ডলারের আবেদন ফি হিসাব করলেই হবে না। বিশেষ করে বি-১/বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ভিসা বন্ডের সম্ভাব্য অর্থ, ভ্রমণসংক্রান্ত অন্যান্য খরচ এবং প্রযোজ্য অতিরিক্ত ফি সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা রাখা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় শুধু ৬ অঙ্কের বেতন পেলেই স্বচ্ছন্দে থাকা নিশ্চিত হচ্ছে না। ২০২৬ সালের এক নতুন বিশ্লেষণ বলছে, সন্তানহীন একক একজন প্রাপ্তবয়স্কের যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যে স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন করতে বছরে অন্তত ৮০ হাজার ডলারের বেশি আয় প্রয়োজন। অঙ্গরাজ্যভেদে এই প্রয়োজন আরও অনেক বেশি। হাওয়াইয়ে একজনের জন্য প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, আর নিউইয়র্কে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ডলার। স্মার্টঅ্যাসেটের ২০২৬ সালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আয় নির্ধারণে আবাসন, খাবার, পরিবহন, হেলথ কেয়ারসহ মৌলিক খরচ বিবেচনা করা হয়েছে। এরপর ৫০/৩০/২০ বাজেট পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় বার্ষিক প্রি-ট্যাক্স আয় হিসাব করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে আয়ের ৫০ শতাংশ প্রয়োজনীয় খরচ, ৩০ শতাংশ ইচ্ছাধীন ব্যয় এবং ২০ শতাংশ সঞ্চয় ও ঋণ পরিশোধের জন্য ধরা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন হিসাব অনুযায়ী, একজন একক ব্যক্তির মাসিক প্রি-ট্যাক্স আয় প্রায় ৬ হাজার ৮০০ ডলার বা তার বেশি হলে স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে থাকা মাসিক বেতন নয়। কর ও অন্যান্য কর্তনের পর হাতে পাওয়া অর্থ এর চেয়ে কম হবে। অঙ্গরাজ্যভেদে ব্যবধানও বড়। সবচেয়ে কম খরচের অঙ্গরাজ্য হিসেবে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় একজন একক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য বছরে প্রায় ৮১ হাজার ২৪৫ ডলার প্রয়োজন। বিপরীতে হাওয়াইয়ে প্রয়োজন ১ লাখ ২৯ হাজার ২ ডলার। নিউইয়র্কে প্রয়োজন ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৪২ ডলার এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৭ ডলার। বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। টেক্সাসে একজন একক প্রাপ্তবয়স্কের স্বচ্ছন্দে থাকার জন্য বছরে প্রায় ৯০ হাজার ৫৬৩ ডলার প্রয়োজন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। পেনসিলভেনিয়ায় প্রয়োজন প্রায় ৯৭ হাজার ১১ ডলার। নিউ জার্সিতে এই অঙ্ক প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৭৬ ডলার। পরিবার নিয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় আয় আরও বেড়ে যায়। দুই কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের একটি পরিবারের স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের জন্য ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৪০টিতেই বছরে অন্তত ২ লাখ ডলার প্রয়োজন বলে গবেষণায় বলা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ম্যাসাচুসেটসে, প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৫ ডলার। বিপরীতে মিসিসিপিতে চার সদস্যের পরিবারের জন্য প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৩ ডলার। জীবনযাত্রার ব্যয়ের বড় অংশই যায় বাসস্থানে। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে ইউএসএফ্যাক্টস জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ভাড়াটিয়া পরিবারের গড় মাসিক ভাড়া, ইউটিলিটিসহ, ছিল প্রায় ১ হাজার ৪৮৭ ডলার। একই সময়ে ভাড়াটিয়া পরিবারের গড় মাসিক আয় ছিল প্রায় ৪ হাজার ৫৩৭ ডলার। অর্থাৎ গড়ে আয়ের ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ ভাড়ায় চলে গেছে। তবে বাস্তবে কোনো পরিবার কত আয় করলে ভালোভাবে চলতে পারবে, তা শুধু অঙ্গরাজ্য দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। একই অঙ্গরাজ্যের মধ্যেও শহর ও এলাকার ভিত্তিতে রেন্ট, যাতায়াত, চাইল্ড কেয়ার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং অন্যান্য খরচে বড় পার্থক্য থাকতে পারে। গবেষণাটির হিসাবও মূলত একটি আর্থিক মানদণ্ড, কোনো পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট বেতনসীমা নয়। গবেষণায় ব্যবহৃত মৌলিক জীবনযাত্রার খরচের তথ্য নেওয়া হয়েছে এমআইটির লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটর থেকে। এরপর ৫০/৩০/২০ বাজেট পদ্ধতির ভিত্তিতে স্বচ্ছন্দে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় আয় নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বসবাস শুরু করা বা অন্য অঙ্গরাজ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের জন্য শুধু বেতনের অঙ্ক নয়, বরং রেন্ট, কর, গাড়ি ও ইন্স্যুরেন্স, হেলথ কেয়ার, চাইল্ড কেয়ার এবং সঞ্চয়ের খরচ একসঙ্গে হিসাব করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় নতুন বসবাস শুরু করা বাংলাদেশিদের জন্য চাকরি, সন্তানদের স্কুলে ভর্তি, ইংরেজি শেখা, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার সহায়তা, আইনি পরামর্শ ও ড্রাইভার লাইসেন্সের মতো বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি ও কমিউনিটি পর্যায়ে সহায়তার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ফিলাডেলফিয়া, আপার ডারবি, পিটসবার্গ ও অ্যালেন্টাউনের মতো এলাকায় নিজের জিপ কোড ব্যবহার করে কাছাকাছি বিভিন্ন সেবা খুঁজে পাওয়া যায়। চাকরি খুঁজতে পেনসিলভেনিয়া ক্যারিয়ারলিংক গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি সেবা। এখানে চাকরির সুযোগ খোঁজার পাশাপাশি রেজিউমে তৈরি, চাকরির ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি এবং ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণের মতো বিভিন্ন সহায়তা পাওয়া যায়। অনলাইনে নিজের প্রোফাইল তৈরি করে চাকরির জন্য আবেদনও করা যায়। স্থানীয় সরকারি ও সামাজিক সেবা খুঁজতে পেনসিলভেনিয়া ২১১ সেবা বেশ কার্যকর। ২১১ নম্বরে ফোন করে কিংবা নিজের জিপ কোড ৮৯৮-২১১ নম্বরে টেক্সট করে কাছাকাছি খাবার, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সামাজিক সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়। সন্তানের স্কুলে ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে আগে নিজের এলাকার স্কুল ডিস্ট্রিক্ট সম্পর্কে জানা জরুরি। ফিলাডেলফিয়ায় স্কুল ডিস্ট্রিক্ট অব ফিলাডেলফিয়ার শিক্ষার্থী ভর্তি ও প্লেসমেন্ট অফিস নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি এবং স্কুল সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে থাকে। বসবাসের ঠিকানা ও জিপ কোডের ভিত্তিতে কোন স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে, সে তথ্যও পাওয়া যায়। ইংরেজি শেখার জন্য পেনসিলভেনিয়ায় বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে। ফিলাডেলফিয়ায় প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম ও বিভিন্ন কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনামূল্যে ইএসএল ক্লাস পরিচালিত হয়। অভিবাসী ও শরণার্থীদের জন্য দ্য ওয়েলকামিং সেন্টারেও বিনামূল্যে ইংরেজি ও ডিজিটাল দক্ষতা শেখার সুযোগ রয়েছে। নতুন অভিবাসীদের জন্য ফ্রি লাইব্রেরি অব ফিলাডেলফিয়াও গুরুত্বপূর্ণ একটি রিসোর্স। লাইব্রেরি কার্ডের মাধ্যমে বই পড়ার পাশাপাশি চাকরি খোঁজা, রেজিউমে তৈরি, ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন বিনামূল্যের সেবা ব্যবহার করা যায়। কিছু শাখায় নতুন আমেরিকানদের জন্য ইংরেজি শেখা ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। খাবারের প্রয়োজন হলে পেনসিলভেনিয়া ২১১-এর মাধ্যমে কাছাকাছি ফুড প্যান্ট্রি ও ফুড ব্যাংকের তথ্য পাওয়া যায়। ফিলাডেলফিয়ায় জিপ কোড বা ঠিকানা দিয়ে ফ্রি খাবার ও গ্রোসারি সহায়তার বিভিন্ন স্থান খুঁজে বের করা সম্ভব। কিছু প্রতিষ্ঠানে সহায়তা নিতে পরিচয়পত্র বা আয়ের প্রমাণের প্রয়োজন নাও হতে পারে। সরকারি বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে জানতে ফিলাডেলফিয়ায় বেনিফিলির সহায়তা নেওয়া যায়। এসএনএপি, মেডিকেইড, এলআইএইচইএপি, এসএসআই ও এসএসডিআই-এর মতো সুবিধার যোগ্যতা এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কাউন্সেলরদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যসেবার জন্য কমিউনিটি হেলথ সেন্টার ও স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোও কাজে আসতে পারে। হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলেও কিছু প্রতিষ্ঠানে কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে চিকিৎসার ধরন, যোগ্যতা ও খরচ প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা হতে পারে। তাই যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জেনে নেওয়া ভালো। ইমিগ্রেশন, হাউজিং বা কর্মক্ষেত্রে নিজের অধিকার নিয়ে সমস্যায় পড়লে পেনসিলভেনিয়া লিগ্যাল এইড নেটওয়ার্কের স্থানীয় সংস্থাগুলোর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। ফ্রি বা কম খরচে আইনি সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা ব্যক্তির আয় ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে। ড্রাইভার লাইসেন্স বা স্টেট আইডির জন্য পেনডটের ড্রাইভার লাইসেন্স সেন্টার ব্যবহার করা যায়। অনলাইনে নিজের জিপ কোড দিয়ে কাছাকাছি সেন্টার খুঁজে প্রয়োজনীয় সেবার তথ্য এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করা সম্ভব। বাংলাদেশি কমিউনিটির সহায়তাও নতুনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফিলাডেলফিয়া ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠন ও মসজিদভিত্তিক কমিউনিটি কার্যক্রম রয়েছে। ঈদ, বৈশাখী অনুষ্ঠান, স্বাস্থ্য মেলা, সামাজিক সহায়তা এবং নতুন অভিবাসীদের জন্য বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক কার্যক্রম এসব সংগঠনের মাধ্যমে আয়োজন করা হয়। পেনসিলভেনিয়ায় নতুন কেউ কোনো সেবা খুঁজলে নিজের জিপ কোড ব্যবহার করাই সবচেয়ে সহজ উপায়। যেমন, নিজের এলাকার জিপ কোড যোগ করে চাকরি বা বিনামূল্যের ইএসএল ক্লাসের জন্য অনলাইনে খোঁজ করলে কাছাকাছি সুযোগগুলো দ্রুত পাওয়া যায়। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার আগে তাদের বর্তমান সময়সূচি, যোগ্যতা এবং সেবা চালু আছে কি না, তা অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত।
মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে ফারিহা জেরিন রাবিতা ২০২১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় পাড়ি দেন। বিদেশে পড়াশোনার খরচ পরিবারের সামর্থ্যের বাইরে থাকলেও স্কলারশিপ, ক্যাম্পাসে কাজ এবং একের পর এক ইন্ডাস্ট্রি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি শেষ পর্যন্ত টরন্টোতে অ্যামাজনের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। বাংলাদেশের এইচএসসি ২০২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাবিতার শুরুতে লক্ষ্য ছিল বুয়েটে পড়া। করোনার কারণে ভর্তি ও উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হলে কানাডায় পড়াশোনার সুযোগ নিয়ে ভাবতে শুরু করেন তিনি। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপ নিয়ে গবেষণা করে শেষ পর্যন্ত কানাডার ডালহৌসি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। চার বছরে ৪৪ হাজার ৪০০ কানাডিয়ান ডলারের Seymour Schulich Scholarship তার বিদেশে পড়ার পথটি সহজ করে দেয়। কানাডায় গিয়ে পড়াশোনার খরচ সামলাতে শুরুতে একটি স্টেডিয়ামে পার্টটাইম কাজ নেন রাবিতা। তবে কাজটি তার পড়াশোনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি করছিল। তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন, এমন কাজ করবেন যা একই সঙ্গে আয় এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করবে। পরবর্তী চার বছরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর ১৫টি ভিন্ন পদে কাজ করেন। এর মধ্যে ছিল রেসিডেন্স অ্যাসিস্ট্যান্ট, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, ফ্যাকাল্টি অ্যাম্বাসাডর, কো-অপ অ্যাম্বাসাডর ও আইটি সার্ভিসেসের বিভিন্ন দায়িত্ব। টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে টানা চার সেমিস্টারে ১৫০টির বেশি শিক্ষার্থীর ল্যাব পরিচালনাও করেন তিনি। এসব কাজ তাকে যোগাযোগ, নেতৃত্ব ও দায়িত্ব ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেয়। এরপর আসে তিনটি কো-অপের সুযোগ, তিনটি ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে। টরন্টোর Munich Re-তে প্রথম কো-অপে কাজ করার আগে কানাডায় তার কোনো ইন্ডাস্ট্রি অভিজ্ঞতা ছিল না। অন্তত ১০০টি কোম্পানিতে আবেদন করে শেষ পর্যন্ত প্রথম করপোরেট চাকরির সুযোগ পান তিনি। দ্বিতীয় কো-অপে হ্যালিফ্যাক্সের Ubisoft-এ জুনিয়র প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করেন। ছোটবেলায় গেমের মাধ্যমে কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়া রাবিতার জন্য এটি ছিল বিশেষ অভিজ্ঞতা। তবে গেম ডেভেলপমেন্টের কাজ করার পর তিনি বুঝতে পারেন, দীর্ঘমেয়াদে এই খাতকে নিজের ক্যারিয়ারের জন্য বেছে নিতে চান না। তৃতীয় কো-অপে সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানি Arctic Wolf-এ ব্যাকএন্ড ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করেন। সেখানে স্বয়ংক্রিয় সিকিউরিটি রিপোর্ট তৈরির একটি সিস্টেম উন্নত করতে ভূমিকা রাখেন তিনি। আগে যেখানে রিপোর্ট তৈরি হতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা লাগত, নতুন মাইক্রোসার্ভিস চালুর পর সময় নেমে আসে প্রায় তিন ঘণ্টায়। অর্থাৎ রিপোর্ট তৈরির সময় ৮৫ শতাংশের বেশি কমে যায়। স্নাতক হওয়ার আগে থেকেই রাবিতার লক্ষ্য ছিল অ্যামাজনে কাজ করা। ২০২৫ সালের সামার সেমিস্টারে, গ্র্যাজুয়েশনের প্রায় দুই মাস আগে তিনি অ্যামাজনের নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করেন। নিজের সিভিতে শুধু কী কাজ করেছেন তা নয়, সেই কাজের ফলে কী পরিবর্তন এসেছে, সেটিও তুলে ধরেন। অ্যামাজনের Leadership Principles-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কভার লেটারও তৈরি করেন তিনি। আবেদন বাছাই হওয়ার পর প্রায় তিন ঘণ্টার অনলাইন অ্যাসেসমেন্টে দুটি কোডিং প্রশ্ন ও একটি আচরণগত অংশ ছিল। এরপর তিন দফা এক ঘণ্টার ইন্টারভিউ দেন তিনি। প্রথম দুটি ছিল কারিগরি, যেখানে কোডিং, সমস্যা সমাধান, জটিলতা বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। শেষ ইন্টারভিউতে অ্যামাজনের Leadership Principles অনুযায়ী তার পূর্ব অভিজ্ঞতা, দায়িত্ব নেওয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অনিশ্চিত পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই করা হয়। আবেদন থেকে চাকরির অফার পেতে রাবিতার প্রায় দুই মাস সময় লাগে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যামাজনে কাজ শুরু করেন তিনি। একই বছরের অক্টোবরে তার গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন হয়। বর্তমানে তার কর্মদিবসে কোডিং, কোড রিভিউ, মিটিং, প্রোডাক্ট ম্যানেজারদের সঙ্গে আলোচনা, সিস্টেম ডিজাইন, টেস্টিং ও ডিবাগিংয়ের মতো কাজ থাকে। কখনো কখনো অন-কল দায়িত্বে ভোর ৪টার সময়ও সমস্যার সমাধানে সাড়া দিতে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাবিতার টরন্টোর জীবন ও অ্যামাজনে কাজের অভিজ্ঞতার ভিডিও অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হলেও তিনি জানান, বাস্তব চাকরিজীবনে চাপ, ডেডলাইন ও বার্নআউটও রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরিটির কঠিন দিকের তুলনায় ভালো লাগার দিকই বেশি, তাই তিনি এই পেশা নিয়ে সন্তুষ্ট। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রাবিতার পরামর্শ, চাকরিযোগ্য হওয়ার জন্য শেষ বর্ষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে শুরু থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। শুধু ভালো ফল নয়, পড়াশোনার বাইরেও কিছু তৈরি করা এবং কী তৈরি করেছেন, কোন সমস্যার সমাধান করেছেন ও কী শিখেছেন, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরার সক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি। সূত্র: The business standard
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে নিহত এক মার্কিন সেনা কর্মকর্তার পরিবারকে যুদ্ধকালীন কিছু আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছিল। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করে মার্কিন এয়ার ফোর্স। পরে জানানো হয়, ওই পরিবারের প্রাপ্য সুবিধাগুলো আসলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি মার্কিন বিমানবাহিনীর মেজর অ্যালেক্স ক্লিনারের পরিবারকে ঘিরে। ৩৩ বছর বয়সী ক্লিনার মার্চে পশ্চিম ইরাকে একটি KC-135 জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ছয় সদস্যের একজন। বিমানটি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে সহায়তা করছিল। ক্লিনারের স্ত্রী লিবি ক্লিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা না হওয়ায় পরিবারটি কিছু যুদ্ধকালীন সুবিধার জন্য যোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ঘটনাটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। এরপর এয়ার ফোর্স লিবি ক্লিনারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার স্বামীর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা পর্যালোচনা করে। এয়ার ফোর্স জানায়, ক্লিনারের প্রাপ্য সব কমব্যাট থিয়েটার সুবিধা তার বকেয়া বেতনসহ আগেই অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে ছিল হ্যাজার্ড পে এবং কমব্যাট জোন ট্যাক্স সুবিধা। তবে এসব সুবিধা কীভাবে বেতন বিবরণীতে দেখানো হয়েছিল, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। মার্কিন সামরিক ব্যবস্থায় তথাকথিত কমব্যাট পে পেতে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা সবসময় প্রয়োজন হয় না। নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন এবং শত্রুতামূলক হামলার মতো পরিস্থিতির ওপর এসব সুবিধা নির্ভর করতে পারে। ইরান সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করা নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স সম্প্রতি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি যুদ্ধ বলতে চান না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সংঘাতটিকে ‘মিলিটারি কনফ্লিক্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ৭৯০ জন আহত হয়েছেন বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লিবি ক্লিনারের জন্য তার স্বামীর মৃত্যুর পর একটি গোফান্ডমি তহবিলও খোলা হয়েছিল। সেখানে ১৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। লিবি বলেন, শোকাহত সামরিক পরিবারগুলোকে যেন সরকারি সুবিধা পেতে জটিল সামরিক পরিভাষা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বুঝতে না হয়, সেটিই তার মূল উদ্দেশ্য। তিনি চান, তার অভিজ্ঞতার পর অন্য পরিবারগুলো যেন শুরু থেকেই নিজেদের প্রাপ্য সুবিধা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পায়।
নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) ১ম প্রিসিঙ্কট থেকে বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছেন সার্জেন্ট মোহাম্মদ হক। জননিরাপত্তায় অবদান, দায়িত্বনিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দীর্ঘদিনের সেবার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে একটি সার্টিফিকেট অব রিকগনিশন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এক বার্তায় সার্জেন্ট মোহাম্মদ হককে অভিনন্দন জানিয়েছে। তিনি বাপার ১ম প্রিসিঙ্কট ডেলিগেট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বাপার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনে তার নিষ্ঠা, পেশাদার আচরণ এবং জননিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকারের জন্য এই স্বীকৃতি তার প্রাপ্য। সংগঠনটি তার এই অর্জনে গর্ব প্রকাশ করে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের আরও সাফল্য কামনা করেছে। নিউইয়র্কের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও কমিউনিটি কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততা দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে। সার্জেন্ট মোহাম্মদ হকের এই স্বীকৃতিকে তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতির পাশাপাশি বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কমিউনিটির জন্যও একটি সম্মানজনক অর্জন হিসেবে দেখছে বাপা।
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে বাড়তি রাজস্বের উৎস তৈরি করতে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট শিল্পকে বৈধ ও করের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির পার্লামেন্টে উত্থাপিত একটি বিল প্রথম দফার অনুমোদন পেয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে এই খাত থেকে বছরে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার কর আদায় হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াক। প্রস্তাবটির লক্ষ্য শুধু কর আদায় নয়, বর্তমানে আইনি জটিলতার মধ্যে থাকা অনলাইন প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট শিল্পকে একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় আনা। ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও বিতরণ এখনো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় কনটেন্ট নির্মাতাদের আয় ঘোষণা এবং কর দেওয়ার ক্ষেত্রেও এক ধরনের আইনি দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। আইনপ্রণেতাদের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইউক্রেনের প্রায় ৭ হাজার ৯০০ জন নাগরিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ওনলিফ্যানসের মাধ্যমে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি আয় করেন। এই বিপুল আয়ের ওপর কর আদায়ের সুযোগ থাকলেও বর্তমান আইনের কারণে সংশ্লিষ্টরা একই সঙ্গে কর দেওয়ার এবং ফৌজদারি আইনের আওতায় পড়ার ঝুঁকিতে থাকেন। ঝেলেজনিয়াকের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বছরে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার অতিরিক্ত কর রাজস্ব পাওয়া যেতে পারে। তার দাবি, এই অর্থ দিয়ে প্রায় ৩০ হাজার ড্রোনের অর্থায়ন করা সম্ভব। তবে এটি আইনপ্রণেতার হিসাব, কোনো নিশ্চিত সরকারি বরাদ্দ বা ড্রোন কেনার সিদ্ধান্ত নয়। প্রস্তাবটি এমন সময়ে এসেছে, যখন যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের সরকারি অর্থের ওপর ব্যাপক চাপ রয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রয়োজন বছরে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই তুলনায় প্রস্তাবিত ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার খুব বড় অঙ্ক না হলেও সরকার অতিরিক্ত রাজস্বের প্রতিটি সম্ভাব্য উৎস খুঁজছে। এদিকে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট নির্মাতাদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান ও আইনি হয়রানির অভিযোগও সামনে এসেছে। কিছু নির্মাতা দাবি করেছেন, তারা আয়কর দেওয়ার পরও এমন কর্মকাণ্ডের জন্য আইনি ঝুঁকিতে পড়ছেন, যা বর্তমান আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। এই পরিস্থিতিতে কয়েকজন নির্মাতা ইউক্রেনের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিতর্কটি প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কাছেও পৌঁছেছে। একটি গণস্বাক্ষরিত আবেদনের পর জেলেনস্কি বিষয়টি পার্লামেন্টে বিবেচনার কথা জানিয়েছেন। তবে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট বৈধ করার প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত আইন নয় এবং এটি পার্লামেন্টের পরবর্তী ধাপের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে ইউক্রেনের জন্য এটি একই সঙ্গে করনীতি, অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধকালীন অর্থনীতির একটি বিতর্কিত পরিবর্তন হবে। সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতারা বলছেন, বৈধ কাঠামো তৈরি হলে কর আদায় বাড়বে এবং বর্তমানে চলমান আইনি অস্পষ্টতাও কমবে।
লোডশেডিংয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বানিয়ে আলোচনায় আসা মাদারীপুরের বিদ্যুৎকর্মী সুমন হোসেন চাকরি হারানোর পর নতুন পেশা বেছে নিয়েছেন। নতুন কাজে মাত্র তিন ঘণ্টায় ২ হাজার টাকা আয় করার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি। সুমন হোসেন ‘বিদ্যুৎ প্রতিদিন’ নামে একটি ফেসবুক পেজে দেশের বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও লোডশেডিং নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করতেন। তার দাবি ছিল, বিদ্যুৎ অফিস কীভাবে লোডশেডিং পরিচালনা করে, তা সাধারণ মানুষকে বোঝানো এবং বিদ্যুৎ অফিস ও কর্মীদের ওপর ক্ষোভ থেকে সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোই ছিল তার উদ্দেশ্য। তবে এসব ভিডিও প্রকাশের পর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়েন বলে জানান। পরে ১২ আগস্ট তাকে চাকরিচ্যুত করা হয় বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি মাদারীপুরের মিঠাপুকুর স্টেশনে লাইনম্যান গ্রেড-২ পদে কর্মরত ছিলেন। চাকরি হারানোর পর নিজের নতুন কর্মজীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন সুমন। সেখানে তিনি জানান, নতুন পেশায় মাত্র তিন ঘণ্টা কাজ করেই ২ হাজার টাকা আয় করেছেন। তবে নতুন পেশাটি কী, তার বিস্তারিত তথ্য নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি। এর আগে চাকরি হারানোর পর দেওয়া এক পোস্টে সুমন নিজের তৈরি ভিডিও নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, তার উদ্দেশ্য ছিল গ্রাহকদের বোঝানো যে বিদ্যুৎ অফিসগুলো কীভাবে লোডশেডিং পরিচালনা করে। কিন্তু ভিডিওটি বিভিন্নভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় পরিস্থিতি তার ধারণার বাইরে চলে যায় বলে দাবি করেন তিনি। সুমন আরও জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কোনো পোস্ট বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করবেন না। চাকরি হারানোর পর নতুন পেশায় তার এই আয়ের দাবি ফের তাকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যে প্রাণীদের মধ্যে জলাতঙ্কের ঘটনা বাড়ায় জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্কতা জারি করেছেন। নর্থ ক্যারোলাইনায় একটি ভ্রাম্যমাণ পেটিং জুর কয়েকটি ছাগলের শরীরে জলাতঙ্ক শনাক্ত হওয়ার পর শত শত মানুষের সম্ভাব্য সংস্পর্শের বিষয়টি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। একই সময়ে আইডাহোতে এ বছর ইতোমধ্যে ২৪টি জলাতঙ্ক আক্রান্ত বাদুড় শনাক্ত হয়েছে, আর টেক্সাসের সান আন্তোনিও এলাকায় বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নর্থ ক্যারোলাইনার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসাবে, ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলো পেটিং জুর ছাগলের সংস্পর্শে আসা ২৮৪ জনের জলাতঙ্কের ঝুঁকি মূল্যায়ন করেছে। তাদের মধ্যে ২১৩ জনকে পোস্ট এক্সপোজার প্রফাইল্যাক্সিস বা পিইপি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব মানুষ ২৮ জুলাই থেকে ২৭ আগস্টের মধ্যে ফার্ম অ্যাডভেঞ্চার্স নামের একটি ভ্রাম্যমাণ পেটিং জুর ছাগলের সংস্পর্শে এসেছিলেন। অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আইরেডেল কাউন্টির হারমোনিতে থাকা ওই পেটিং জুর তিনটি বাচ্চা ছাগলের পরীক্ষায় জলাতঙ্ক শনাক্ত হয়েছে। আরেকটি ছাগল পরীক্ষা করা না হলেও সেটিও আক্রান্ত ছিল বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, জুলাইয়ের শেষ দিকে ছাগলগুলোর খোঁয়াড়ে ঢুকে পড়া একটি স্কাঙ্কের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে পারে। ছাগলগুলো নর্থ ক্যারোলাইনার বিভিন্ন এলাকায় শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের জন্য আয়োজিত একাধিক অনুষ্ঠানে নেওয়া হয়েছিল। ফলে সম্ভাব্য সংস্পর্শের পরিধিও বড় হয়েছে। আক্রান্ত ছাগলগুলোর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা প্রয়োজন কি না তা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। এদিকে আইডাহোতেও জলাতঙ্ক নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ২৪টি জলাতঙ্ক আক্রান্ত বাদুড় পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে। গত তিন বছরের যেকোনো পুরো বছরের তুলনায় এই সংখ্যা বেশি। বাদুড়ের সংস্পর্শে আসার সম্ভাব্য ঘটনা নিয়েও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছে আগের তুলনায় বেশি ফোন আসছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মানুষের বসতি বাড়ার কারণে বন্যপ্রাণীর সঙ্গে মানুষের সংস্পর্শ বাড়তে পারে। তবে আইডাহোতে বাদুড়ের সংক্রমণ বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। বাসিন্দাদের বাদুড় ধরতে বা স্পর্শ না করতে এবং মানুষ বা পোষা প্রাণীর সম্ভাব্য সংস্পর্শ ঘটলে দ্রুত স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। টেক্সাসের সান আন্তোনিওতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শহরটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন ও জুলাইয়ে বেক্সার কাউন্টিতে বন্যপ্রাণীর মধ্যে ২২টি জলাতঙ্কের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগের দুই বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল মাত্র দুই থেকে তিনটি। এ সময় এক পোষা কুকুরের শরীরেও জলাতঙ্ক শনাক্ত হয়েছে, যা বেক্সার কাউন্টিতে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে কোনো পোষা কুকুরের প্রথম নিশ্চিত সংক্রমণ। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কুকুরটি জুলাইয়ের শেষ দিকে একটি বাচ্চা স্কাঙ্ক মেরে ফেলার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে পরীক্ষায় তার শরীরে জলাতঙ্কের ভাইরাস শনাক্ত হয়। সংস্পর্শে আসা মানুষ ও অন্যান্য পোষা প্রাণীকে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। জলাতঙ্ক একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত আক্রান্ত প্রাণীর কামড়, আঁচড় বা লালার সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। বন্য প্রাণী, বিশেষ করে বাদুড়, স্কাঙ্ক, র্যাকুন ও শেয়াল এ ভাইরাসের গুরুত্বপূর্ণ বাহক। আক্রান্ত প্রাণীর লালা চোখ, মুখ, নাক বা কাটা-ছেঁড়া ত্বকে লাগলেও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, জলাতঙ্কের উপসর্গ শুরু হয়ে গেলে রোগটি প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী। তবে সম্ভাব্য সংস্পর্শের পর উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই দ্রুত পিইপি নেওয়া হলে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা তাই পোষা কুকুর, বিড়ালসহ অন্যান্য প্রাণীর জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন আপডেট রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অপরিচিত বা বন্য প্রাণীকে স্পর্শ না করা এবং কোনো প্রাণীর কামড়, আঁচড় বা লালার সম্ভাব্য সংস্পর্শ ঘটলে দেরি না করে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
কানাডায় বেড়ে ওঠা ইয়াসমিন মোহাম্মদ দাবি করেছেন, মাত্র ১৯ বছর বয়সে তাকে আল-কায়েদার সদস্য এসাম মারজুককে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়েছিল। বিয়ের পর শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত মেয়েকে নিয়ে সেই সম্পর্ক থেকে পালিয়ে যান। বর্তমানে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে উগ্রবাদ ও জোরপূর্বক বিয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছেন তিনি। ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ইয়াসমিন ফক্স নিউজ ডিজিটালকে তার জীবনের সেই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, তার মা ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়ে স্বামীর নির্যাতনকে সমর্থন করতেন এবং তাকে বোঝানো হতো যে স্বামী হিসেবে ওই ব্যক্তির ওপর তার অধিকার রয়েছে। ইয়াসমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন এবং একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পরে তার স্বামী মেয়েকে মিশরে নিয়ে গিয়ে নারী যৌনাঙ্গ বিকৃত করার প্রথার মধ্যে ফেলতে চাচ্ছিলেন বলে তিনি জানতে পারেন। মেয়েকে রক্ষা করতেই তখন তিনি পালানোর সিদ্ধান্ত নেন। ইয়াসমিন কানাডার একটি ধর্মনিরপেক্ষ মুসলিম পরিবারে বড় হয়েছেন বলে জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে তার মা আরও কট্টর ধর্মীয় অবস্থানে চলে যান এবং তার জীবনযাপনে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেন। কিশোরী বয়স থেকেই তাকে হিজাব পরতে বাধ্য করা হয় এবং পরে নিকাবও পরতে হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। বিয়ের পরও পরিস্থিতি বদলায়নি। ইয়াসমিনের দাবি, স্বামীর নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে বাড়ির বাইরে যাওয়া ও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকতে হতো। তিনি তার বই ‘আনভেইলড’-এও এসব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। সম্পর্ক থেকে পালানোর পর নিজের মেয়েকে নিরাপদে রাখতে ইয়াসমিনকে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে হয়। পরে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় পড়াশোনা করেন। সেখানে ধর্মের ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনার সময় তিনি নিজের বিশ্বাস ও অতীত অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন বলে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। বর্তমানে ইয়াসমিন মোহাম্মদ ক্ল্যারিটি কোয়ালিশনের কো-ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন। নিজের অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি ধর্মীয় উগ্রবাদ, জোরপূর্বক বিয়ে এবং চরমপন্থী মতাদর্শের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। তার বক্তব্যের মূল লক্ষ্য হলো, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মানুষকে উগ্রবাদের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও উগ্র মতাদর্শের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে চরমপন্থী ধারণা ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ নিয়ে তিনি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এসব বক্তব্য তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতে দেওয়া। ইয়াসমিনের গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে, নির্যাতনমূলক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসে নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লড়াই এবং পরে সেই অভিজ্ঞতাকে জনসচেতনতার কাজে ব্যবহার করা। তিনি এখন নিজের অতীতকে আড়াল না করে জোরপূর্বক বিয়ে ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।
কলম্বিয়ার আর্মেনিয়া শহরের ৬৭ বছর বয়সী মিরিয়াম প্রতিবেশীদের ব্যক্তিগত খবর, পারিবারিক বিরোধ ও সম্পর্কের গোপন তথ্য সংগ্রহ করে বিক্রি করেন বলে জানিয়েছেন। তার দাবি, এই অদ্ভুত ব্যবসা থেকে আয় করেই তিনি দুটি বাড়ি কিনেছেন। তবে বাড়ি দুটির অর্থ পুরোপুরি এই ব্যবসা থেকেই এসেছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। মিরিয়ামের এই গল্প প্রথম আলোচনায় আসে কনটেন্ট ক্রিয়েটর লেডি দানিয়েলার একটি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে। সেখানে মিরিয়াম নিজেকে পেশাদার গসিপ বিক্রেতা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি জানান, প্রতিদিন বাড়ির সামনে বসে আশপাশের মানুষের কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করেন। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে রাখতে তিনি একটি নোটবুকে নাম, ঘটনা ও বিভিন্ন বিবরণ লিখে রাখেন। সাধারণ ধরনের খবরের জন্য তিনি ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার কলম্বিয়ান পেসো নেন। তবে কারও সম্পর্ক, পরকীয়া বা ব্যক্তিগত জীবনের স্পর্শকাতর তথ্যের দাম অনেক বেশি হতে পারে বলে জানান তিনি। মিরিয়ামের দাবি, একবার এক ব্যক্তির পরকীয়ার তথ্য গোপন রাখার বিনিময়ে তিনি ৭ লাখ কলম্বিয়ান পেসো পেয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু তথ্য বিক্রি নয়, অনেক সময় গোপন তথ্য প্রকাশ না করার জন্যও তাকে টাকা দেওয়া হয়। নিজের বাড়িতে সাক্ষাৎকারদাতাকে তিনি এমন একটি বোর্ডও দেখিয়েছেন, যেখানে প্রতিবেশীদের ছবি ও বিভিন্ন তথ্য রাখা ছিল। মিরিয়ামের দাবি, এসব নথি তাকে বিভিন্ন ঘটনা মনে রাখতে এবং তার কাছে আসা তথ্য যাচাই করতে সহায়তা করে। তবে এসব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। মিরিয়াম বলেন, তিনি গুজব ছড়াতে চান না এবং কোনো তথ্য বলার আগে তার কাছে প্রমাণ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ কারণেই তিনি নিজেকে ‘গসিপের রানি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার এই কর্মকাণ্ড অবশ্য সবাই ভালোভাবে দেখছেন না। প্রতিবেশীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও তা অর্থের বিনিময়ে প্রকাশ বা গোপন রাখার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ বিষয়টিকে মজার ও অভিনব ব্যবসা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করছেন। তবে মিরিয়ামের দাবি, বহু বছর ধরে এই কাজ করেই তিনি নিজের আয় গড়ে তুলেছেন এবং শেষ পর্যন্ত দুটি বাড়ির মালিক হয়েছেন। তার অস্বাভাবিক ব্যবসার গল্প নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ‘গসিপ’ও যে কারও কাছে আয়ের উৎস হতে পারে, তা নিয়েই চলছে নানা আলোচনা।
বাড়ি বা গাড়ি নেই, নেই নিয়মিত সংসারের ঝামেলাও। গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে ক্রুজ জাহাজেই বসবাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক লিবি রোম ও তার স্বামী। তাদের দাবি, খাবার, থাকার জায়গা, যাতায়াত ও বিনোদনসহ দুজনের দৈনিক মোট খরচ প্রায় ৬৬ ডলার, যা তাদের আগের জীবনযাপনের তুলনায় বেশ কম। ৫২ বছর বয়সী লিবি রোম পিপল ম্যাগাজিনকে জানিয়েছেন, তিনি ও তার স্বামী গত ১৬ বছর ধরে অনেকটা যাযাবর জীবনযাপন করছেন। একসময় বিভিন্ন দেশে হোটেলে থেকে কাজ করলেও পরে ক্রুজ জাহাজে স্থায়ীভাবে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তিন বছরেরও বেশি সময় আগে শুরু হওয়া সেই জীবন এখনো চলছে এবং আপাতত স্থলে ফিরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। রোম পেশাগতভাবে রিমোটে কাজ করেন। দুজন মিলে নিজেদের বেশির ভাগ সম্পদ বিক্রি করে জীবনযাপনকে অনেকটাই মিনিমালিস্ট করে ফেলেছেন। এখন তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এত কম যে সবকিছু একটি ব্যাকপ্যাকেই রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন রোম। এই জীবনযাপনের সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো প্রতিদিনের সংসারের ঝামেলা কমে যাওয়া। তাদের নিজস্ব বাড়ি বা গাড়ি নেই। কাপড় ধোয়ার কাজও অনেক সময় ক্রুজ কোম্পানির সুবিধার মাধ্যমে হয়ে যায়। প্রিন্সেস ক্রুজের এলিট পর্যায়ের সদস্যরা নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রুজ বা ক্রুজ-ডে পূরণ করলে বিনামূল্যে লন্ড্রি সার্ভিসসহ বিভিন্ন সুবিধা পান। রোম জানান, তারা একই জাহাজে সারাবছর থাকেন না। সাধারণত বছরে দুই থেকে তিনটি জাহাজে পরপর ক্রুজ বুক করেন। কখনো আট থেকে নয় মাস পর্যন্ত একটানা ক্রুজের পরিকল্পনাও করেছেন। রুটের মধ্যে বিরতি পড়লে এক রাতের জন্য হোটেলে থাকতে হয়। খরচ কমানোর পেছনে রয়েছে আরও একটি কৌশল। রোম ও তার স্বামী বিভিন্ন ক্রুজ লাইনের ক্যাসিনো লয়্যালটি প্রোগ্রামের সুবিধা নেন। এসব প্রোগ্রামে নির্দিষ্ট পর্যায়ের খরচ বা ব্যবহারের পর ফ্রি বা কম খরচে ক্রুজ পাওয়ার সুযোগ থাকে। এর ফলে তারা মূলত পোর্ট ফি ও ট্যাক্সসহ অন্যান্য সীমিত খরচ বহন করে অনেক সময় ক্রুজ চালিয়ে যেতে পারেন। রোমের হিসাবে, দুজনের দৈনিক প্রায় ৬৬ ডলারের খরচে থাকা, খাবার, যাতায়াত ও বিনোদনের বড় অংশই অন্তর্ভুক্ত থাকে। অর্থাৎ মাসে গড়ে প্রায় ২ হাজার ডলারের মতো খরচ হয় তাদের। তবে ক্রুজে স্থায়ীভাবে বসবাসের সঙ্গে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জও রয়েছে। রোমের টাইপ-১ ডায়াবেটিস থাকায় নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী প্রয়োজন হয়। শুরুতে বিভিন্ন বন্দর ও বিভিন্ন চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে তার জন্য প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসা সামগ্রী সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে উঠেছিল। এখন তিনি এমন ক্রুজ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন, যেগুলো একই বন্দর থেকে শুরু ও শেষ হয়, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সহজ হয়। ক্রুজ জাহাজের মেডিকেল সেন্টার জরুরি বা আকস্মিক অসুস্থতা ও দুর্ঘটনায় চিকিৎসা দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে এগুলো ব্যবহারের জন্য তৈরি নয়। তাই নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে এমন যাত্রীদের জন্য স্থায়ী ক্রুজ জীবনযাপনে বাড়তি পরিকল্পনা জরুরি। ডাকপত্রের ক্ষেত্রেও রোমের আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তার বোনের ঠিকানায় পাঠানো হয়। আর প্রতিদিন নতুন কোনো দেশে ঘুম থেকে ওঠা, সমুদ্রযাত্রা এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতাই তার কাছে এই জীবনযাপনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক। যারা এমন জীবন বেছে নেওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের আগে কয়েকটি ক্রুজ করে অভিজ্ঞতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রোম। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার অভিজ্ঞতা নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তিন বছরের বেশি সময় জাহাজে কাটানোর পরও তিনি ও তার স্বামী এই জীবনযাপন নিয়ে সন্তুষ্ট এবং আপাতত স্থায়ীভাবে স্থলে ফেরার কোনো পরিকল্পনা করছেন না।
যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে ফজরের নামাজ শেষে সাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির ধাক্কায় ১৬ বছর বয়সী মুহাম্মদ ইসমাইল আলুমের মৃত্যু হয়েছে। ২৮ আগস্ট ভোরে স্মল হিথ এলাকায় ক্যাটেল রোড ও টেম্পলফিল্ড স্ট্রিটের সংযোগস্থলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরদিন তিনি মারা যান। ইসমাইল ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য বার্মিংহামের গ্রিন লেন মসজিদ অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে গিয়েছিলেন। নামাজ শেষে সাইকেলে বাড়ি ফেরার সময় বার্মিংহাম সিটির ফুটবল স্টেডিয়ামের কাছাকাছি এলাকায় গাড়ির সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী ক্লাইড কেরিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর কারণ হওয়া, দুর্ঘটনাস্থলে না থামা এবং বিমাহীন গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর কারণ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ৩১ আগস্ট তিনি বার্মিংহাম ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির হন এবং তাকে ২৮ সেপ্টেম্বর ক্রাউন কোর্টে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইসমাইলের মৃত্যুতে তার স্কুল দারুল উলুম বার্মিংহাম ইসলামিক হাই স্কুলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্কুলের ডেপুটি হেড শিক্ষক হাম্মাদ আজহার তাকে অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী, দায়িত্বশীল, দৃঢ়চেতা ও অন্যের প্রতি গভীরভাবে যত্নশীল একজন শিক্ষার্থী হিসেবে স্মরণ করেছেন। স্কুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ইসমাইল পুরো কোরআন মুখস্থ করেছিলেন। তিনি কোরআন তিলাওয়াদের দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে দুটি ইজাজাহ বা আনুষ্ঠানিক সনদ অর্জন করেছিলেন এবং মসজিদে তারাবির নামাজেও ইমামতি করেছিলেন। পাশাপাশি জিসিএসই পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি অসহায় ও প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমেও অংশ নিতেন। তবে শিক্ষকদের কাছে ইসমাইলের সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল তার বিনয় ও মানবিকতা। হাম্মাদ আজহারের ভাষ্য অনুযায়ী, এত অল্প বয়সে অনেক অর্জন করেও তিনি কখনো অহংকারী হয়ে ওঠেননি। বরং সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন, করমর্দন করতেন এবং কেউ কথা বললে পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। শিক্ষকেরা জানান, ইসমাইলের এমন স্বাভাবিক সৌজন্য ছিল, যা অন্যদের তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানিত মনে করাত। পড়াশোনা, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং খেলাধুলাতেও তার আগ্রহ ছিল। মাত্র ১৬ বছর বয়সে এমন একজন শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে তার স্কুল। পরিবার, স্বজন, শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ইসমাইলের অর্জন এবং মানুষের প্রতি তার সদয় আচরণ তার রেখে যাওয়া স্মৃতি হয়ে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের চার অঙ্গরাজ্যে প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ১৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ও স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন জর্জিয়ায় বসবাসকারী ৩৩ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক প্রদীপ প্যাটেল। গত ১৮ আগস্ট আলাবামার মোবাইলের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তিনি দোষ স্বীকার করেন। তার প্লিয়া চুক্তি অনুযায়ী, আলাবামার পাশাপাশি সাউথ ক্যারোলাইনা, ফ্লোরিডা ও টেনেসিতে সংঘটিত প্রতারণার ক্ষতির দায়ও তিনি স্বীকার করেছেন। মামলার তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণার একটি ঘটনায় আলাবামার ফেয়ারহোপের এক দম্পতিকে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বলে বিশ্বাস করানো হয়। ২০২৫ সালের আগস্টে ওই নারী তার আইপ্যাডে একটি পপআপ বার্তা পান, যেখানে তার অ্যাপল অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের সতর্কতা দেখানো হয়। বার্তায় দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করার পর একজন নিজেকে ‘স্কট গিবসন’ নামে পরিচয় দেন এবং পরে তাকে আরেক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘রবিন স্টল’ নামে পরিচয় দিয়ে রিজিয়ন্স ব্যাংকের প্রতিনিধি বলে দাবি করেন। তিনি ওই নারীকে জানান, হ্যাকাররা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরির চেষ্টা করছে এবং ব্যাংকের একজন কর্মীও এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। এ কারণে স্থানীয় ব্যাংক শাখার কর্মীদের বিষয়টি জানাতে নিষেধ করা হয়। প্রতারকদের নির্দেশনা অনুসরণ করে ওই দম্পতি কয়েক দফায় ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নেন। প্রথমে ১২ হাজার ৫০০ ডলার তুলে একটি বিটকয়েন এটিএমে জমা দেন। পরবর্তী সময়ে আরও ৩২ হাজার ডলারের বেশি অর্থ উত্তোলন করেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এরপর প্রতারণার কৌশল বদলে দম্পতিকে স্বর্ণের বার কেনার জন্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার একটি টেক্সাসভিত্তিক বুলিয়ন ডিলারের কাছে পাঠাতে বলা হয়। তাদের বোঝানো হয়, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে অর্থ স্বর্ণে রূপান্তর করা প্রয়োজন। প্লিয়া চুক্তি অনুযায়ী, প্রদীপ প্যাটেল জর্জিয়া থেকে গাড়ি চালিয়ে ফেয়ারহোপে ওই দম্পতির বাড়িতে যান এবং তারা কেনা স্বর্ণের বার সংগ্রহ করেন। তবে প্যাটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু আলাবামার এই ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, সাউথ ক্যারোলাইনা, ফ্লোরিডা ও টেনেসিতেও একই ধরনের প্রতারণায় তার ভূমিকা ছিল। সাউথ ক্যারোলাইনার মাউন্ট প্লেজেন্টে এক দম্পতির কাছ থেকে ২০২৫ সালের মার্চে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৫২৭ ডলারের ক্ষতির ঘটনায় প্যাটেল তার দায় স্বীকার করেছেন। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীকে বলা হয়েছিল, তার অ্যাপল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে শিশু পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এরপর তাকে ক্রিপ্টোকারেন্সি পাঠাতে এবং স্বর্ণ কিনতে প্ররোচিত করা হয়। প্যাটেল স্বীকার করেছেন, তিনি ওই স্বর্ণ সংগ্রহকারী কুরিয়ারদের একজন ছিলেন। মাউন্ট প্লেজেন্টের আরেক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১ লাখ ২১ হাজার ১১৫ ডলারের স্বর্ণমুদ্রা প্যাটেল সংগ্রহ করেন বলেও প্লিয়া চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ফ্লোরিডার পানামা সিটির এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৮১ হাজার ২৯ ডলারের স্বর্ণ এবং টেনেসির বার্ডসটাউনের আরেক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ২ লাখ ২ হাজার ৬৫ ডলারের স্বর্ণ নেওয়ার ঘটনায়ও তিনি দায় স্বীকার করেছেন। প্লিয়া চুক্তিতে এসব প্রতারণার সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ ১৫ লাখ ডলারের বেশি উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলায় নেপালের নাগরিক সৌরভ শর্মার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ফেয়ারহোপের একই দম্পতির কাছ থেকে তিনি আলাদাভাবে স্বর্ণ সংগ্রহ করেছিলেন। শর্মাকে জুন মাসে জর্জিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলাটি এখনো বিচারাধীন। আদালতের নথি অনুযায়ী, প্যাটেল এর আগে মার্চে অভিযোগ অস্বীকার করে দোষী নন বলে আবেদন করেছিলেন এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি প্লিয়া চুক্তির মাধ্যমে দোষ স্বীকার করেন। ফেডারেল আইনে প্যাটেলের সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে দোষ স্বীকারের চুক্তির অংশ হিসেবে প্রসিকিউটররা তার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম শাস্তির সুপারিশ করতে সম্মত হয়েছেন। চূড়ান্ত সাজা নির্ধারণ করবেন আদালত। প্যাটেলের সাজা ঘোষণার কোর্ট হিয়ারিং আগামী ১৯ নভেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক ‘গোল্ড বার স্ক্যাম’-এর একটি উদাহরণ, যেখানে প্রতারকরা ভুক্তভোগীদের ব্যাংক বা প্রযুক্তি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ নিরাপদ রাখার নামে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা স্বর্ণে রূপান্তর করতে বলে। আলাবামা সিকিউরিটিজ কমিশনও ২০২৫ সালে এ ধরনের গোল্ড বার প্রতারণা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে জিনগতভাবে পরিবর্তিত (জিন-এডিটেড) শূকরের কিডনি নিয়ে রেকর্ড ২৭১ দিন বেঁচে থাকার নতুন ইতিহাস গড়েছেন টিম অ্যান্ড্রুজ (৬৬) নামের এক ব্যক্তি। চিকিৎসা বিজ্ঞানে অন্য প্রাণীর অঙ্গ মানবদেহে প্রতিস্থাপনের এই প্রক্রিয়াটি ‘জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন’ (Xenotransplantation) নামে পরিচিত। নতুন এক গবেষণাপত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অ্যান্ড্রুজের শরীরে এই কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। এর ফলে দীর্ঘ প্রায় নয় মাস তাকে কোনো ডায়ালাইসিস নিতে হয়নি। পরবর্তীতে কিডনিটির কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করলে গত ২৩ অক্টোবর সেটি অপসারণ করে তাকে পুনরায় ডায়ালাইসিসে নেওয়া হয়। অবশেষে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি সফলভাবে একজন মানব দাতার কিডনি গ্রহণ করেন। ম্যাস জেনারেল ব্রিগহ্যামের ট্রান্সপ্লান্টেশন সায়েন্সেস সেন্টারের প্রধান ও গবেষণাপত্রের মূল লেখক ড. লিওনার্দো রিয়েলা জানান, টিম অ্যান্ড্রুজের এই ঘটনা কিডনি বিকল হওয়া রোগীদের জন্য একটি অভাবনীয় মাইলফলক। বর্তমানে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ১ লাখেরও বেশি মানুষ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগেরই কিডনি প্রয়োজন। পর্যাপ্ত মানব অঙ্গের অভাবে প্রতি বছর অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। গবেষকদের মতে, মানব কিডনি পাওয়ার আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ডায়ালাইসিসের কষ্ট থেকে রোগীদের সাময়িকভাবে মুক্তি দিতে জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন একটি যুগান্তকারী সমাধান হতে পারে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করা গেলে এটি হয়তো স্থায়ী চিকিৎসায়ও পরিণত হতে পারে। এর আগে অন্য প্রাণীর অঙ্গ মানবদেহে প্রতিস্থাপনের প্রচেষ্টাগুলো খুব বেশি দিন সফল হয়নি। ২০২৪ সালে ম্যাস জেনারেল হাসপাতালেই শূকরের কিডনি গ্রহণকারী প্রথম রোগী ৫২ দিন বেঁচে থাকার পর মারা যান, তবে তার মৃত্যুর কারণ ট্রান্সপ্লান্ট-সংক্রান্ত ছিল না। এরপর গত বছর আলাবামার এক নারীর শরীরে শূকরের কিডনি ১৩০ দিন টিকে থাকার রেকর্ড গড়েছিল। অ্যান্ড্রুজ এবার সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। চিকিৎসকরা এই অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য অ্যান্ড্রুজসহ গবেষণায় অংশ নেওয়া সাহসী রোগীদের 'প্রকৃত অগ্রদূত' হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
সুইজারল্যান্ডের একটি সুপারমার্কেটে খালি গায়ে মুখে টুথব্রাশ নিয়ে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর বাজার করার একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সুইজারল্যান্ডপ্রবাসী এক বাংলাদেশির ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটির বর্ণনা দেওয়া হয়। পোস্ট অনুযায়ী, ওই বাংলাদেশি খালি গায়ে দাঁত ব্রাশ করতে করতে একটি সুপারমার্কেটে বাজার করতে যান। বিষয়টি দেখে দোকানের একজন ম্যানেজার তার এমন অবস্থায় সুপারমার্কেটে আসার কারণ জানতে চান। ম্যানেজার স্থানীয় ভাষায় তাকে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি দাঁত ব্রাশ করতে করতে খালি গায়ে সুপারমার্কেটে এসেছেন। জবাবে ওই ব্যক্তি ইংরেজিতে বলেন, “No problem. Our national dress.” অর্থাৎ, “কোনো সমস্যা নেই, এটি আমাদের জাতীয় পোশাক।” তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্ট ছাড়া ঘটনাটির স্বাধীন কোনো সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কোন শহরের কোন সুপারমার্কেটে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়েও পোস্টে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিষয়টিকে মজার ঘটনা হিসেবে দেখেছেন এবং প্রবাসে থেকেও বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক ধরে রাখার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, কেউ কেউ এটিকে বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেছেন এবং বিদেশের জনসমাগমপূর্ণ স্থানে স্থানীয় সামাজিক রীতি, পোশাক ও শিষ্টাচার মেনে চলার পক্ষে মত দিয়েছেন। আবার কয়েকজন মন্তব্যকারী মনে করেন, লুঙ্গি বা গামছার মতো দেশীয় পোশাক পরা নিজে কোনো সমস্যা নয়; তবে কোথায় কোন পোশাক বা আচরণ উপযুক্ত, সেটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা মূলত প্রবাসে বাংলাদেশিদের সাংস্কৃতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং বিদেশি সমাজে প্রচলিত সামাজিক শিষ্টাচার—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই তৈরি হয়েছে। সূত্র: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্ট।
বর্তমানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে ভিডিও দেখার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ইউটিউব। তবে এই বিশাল প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হয়েছিল খুব সাধারণ একটি উদ্যোগের মাধ্যমে, যার নেপথ্যে রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রযুক্তিবিদ জাওয়েদ করিম। ২০০৫ সালে পেপ্যালের সাবেক দুই সহকর্মী স্টিভ চেন ও চ্যাড হার্লির সঙ্গে মিলে তিনি ইউটিউব প্রতিষ্ঠা করেন। পেপ্যালে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় অনলাইন লেনদেনের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কাজের অভিজ্ঞতা তাকে এই নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে সাহায্য করেছিল। ইতিহাসে জাওয়েদ করিম সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় হয়ে আছেন ইউটিউবের প্রথম ভিডিও আপলোডের জন্য। ২০০৫ সালের ২৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো চিড়িয়াখানায় হাতির সামনে দাঁড়িয়ে মাত্র ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ধারণ করেন তিনি। “Me at the zoo” শিরোনামের সেই ছোট্ট ভিডিওটিই ইউটিউবের ইতিহাসে আপলোড হওয়া প্রথম কনটেন্ট। তখন কেউ কল্পনাও করেনি যে এই কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওটিই একদিন পুরো বিশ্বের ভিডিও দেখার সংস্কৃতিকে আমূল বদলে দেবে। জাওয়েদ করিমের শিকড় বাংলাদেশে। তার বাবা বাংলাদেশি এবং মা জার্মান নাগরিক। জার্মানিতে জন্ম নেওয়া জাওয়েদ পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ইউটিউব প্রতিষ্ঠার পর তিনি কোম্পানিতে পূর্ণকালীন কাজ করার পরিবর্তে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে উচ্চশিক্ষায় মনোযোগ দেন এবং ইউটিউবের পরামর্শক হিসেবে কাজ চালিয়ে যান। ২০০৬ সালে গুগল ১৬৫ কোটি ডলারে ইউটিউবকে কিনে নেয়। প্রযুক্তিতে বিনিয়োগকারী হিসেবেও করিম সফল। তার সহপ্রতিষ্ঠিত ভেঞ্চার ফার্ম 'Y Ventures'-এর মাধ্যমে তিনি এয়ারবিএনবি (Airbnb), রেডিট (Reddit) ও প্যালানটিরের (Palantir) মতো সফল প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলোতে বিনিয়োগ করেছেন। ছোট্ট একটি ভিডিও দিয়ে শুরু হওয়া সেই ইউটিউব আজ শুধু বিনোদন নয়, বরং বিশ্বজুড়ে শিক্ষা, সংবাদ ও যোগাযোগের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।