- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের কেন্দ্রস্থল টাইম স্কয়ারে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেভেন্থ অ্যাভিনিউ ও ওয়েস্ট ৫০ নম্বর স্ট্রিটের কাছে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণের মুখ ও পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী বেইজ রঙের সোয়েটার পরিহিত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত ওই তরুণ বর্তমানে নিউইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান বা উইল কর্নেল মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই হামলাটি কোনো বিরোধের জেরে নাকি সম্পূর্ণ আকস্মিক ছিল, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। শনিবারের এই হামলার মাত্র কয়েকদিন আগেই টাইম স্কয়ারে আরেকটি মারাত্মক ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় পামেলা সিসনেরোস (৪৯) নামের মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী রোড আইল্যান্ডের ৬৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে ছুরিকাঘাত করেন। পরবর্তীতে ৪১ ও ৪২ নম্বর স্ট্রিটের মাঝে পুলিশের সঙ্গে পামেলার মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। পুলিশ তাকে ছুরি ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে চার মিনিট ধরে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এক পর্যায়ে পুলিশ টিজার ব্যবহার করলে তিনি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। বাধ্য হয়ে পুলিশ গুলি চালালে ওই নারীর মৃত্যু হয়। একের পর এক এমন সহিংস ঘটনায় টাইম স্কয়ারে আসা পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এখন এই এলাকায় চলাফেরা করতে গিয়ে নিজেদের অনিরাপদ বোধ করছেন এবং চারপাশের পরিবেশ নিয়ে সতর্ক থাকছেন। সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীরা মনে করছেন, শহরে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। শনিবারের হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ধরতে পুলিশের তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে প্রাক্তন এক ছাত্রীকে ক্রমাগত অনুসরণ বা স্টকিংয়ের অভিযোগে জন কেনেডি (৫৩) নামের এক হাইস্কুল শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বে শোর হাইস্কুলের শিল্পকলার এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার ১৮ বছর বয়সী এক প্রাক্তন ছাত্রীর পিছু নিয়েছিলেন। সাফোক কাউন্টি পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ২০২৫ সালে ভুক্তভোগী তরুণী যখন ওই স্কুলে ১৭ বছর বয়সী সিনিয়র ছাত্রী ছিলেন, তখন থেকেই তার সঙ্গে ওই শিক্ষকের যৌন সম্পর্ক ছিল। বর্তমানে ওই তরুণী সাফোক কমিউনিটি কলেজে পড়ছেন এবং গত এক মাস ধরে অভিযুক্ত শিক্ষক একাধিকবার সেখানে গিয়ে তাকে অনুসরণ করেছেন। পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে সেলডেনে যাওয়ার পথে ওই তরুণী বুঝতে পারেন যে কেনেডি তার পিছু নিয়েছেন। এর আগে তরুণী তাকে দূরে থাকার কথা বললেও তিনি বারবার কথা বলার চেষ্টা করেন। সাফোক কাউন্টি পুলিশ কমিশনার কেভিন ক্যাটালিনা জানান, শিক্ষক বারবার তাকে অনুসরণ করায় তরুণী অত্যন্ত অস্বস্তিবোধ করেন এবং বাধ্য হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হন। এছাড়া অভিযুক্তকে ভুক্তভোগীর বাড়ির আশেপাশেও গাড়ি নিয়ে ঘুরতে দেখা গেছে। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে 'ফোর্থ-ডিগ্রি স্টকিং'-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে কেনেডির আইনজীবী কেভিন সেম্যান এই অভিযোগ ও যৌন সম্পর্কের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, কেনেডি জনসমক্ষে ছিলেন এবং পরিচিত একজনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছিলেন। এদিকে, বে শোর স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যৌন হয়রানির অভিযোগে এক অজ্ঞাত শিক্ষার্থীর করা দেওয়ানি মামলার জেরে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকেই কেনেডিকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল এবং স্কুল চত্বরে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। তবে মামলাকারী শিক্ষার্থী এবং বর্তমান ভুক্তভোগী একই ব্যক্তি কি না, তা স্পষ্ট নয়। এড্রিয়ানা সিনকে নামের ওই স্কুলের আরেক প্রাক্তন ছাত্রী জানিয়েছেন, শিক্ষকের এমন আচরণের খবরে তিনি খুব একটা অবাক হননি, কারণ আগে একটি ফিল্ড ট্রিপে এই শিক্ষকের আচরণ তাকেও অস্বস্তিতে ফেলেছিল। শুক্রবার আদালত থেকে কেনেডি জামিন ছাড়াই মুক্তি পেলেও বিচারক তাকে ওই তরুণীর কাছ থেকে দূরে থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। চলতি সেপ্টেম্বরের শেষদিকে তাকে আবারও আদালতে হাজির হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী যেসব মুসলিম সুদ বা রিবা এড়িয়ে চলতে চান, তাদের জন্য ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, গাড়ি কেনা কিংবা বাড়ির ফাইন্যান্সিং নিয়ে অনেক সময় দ্বিধা তৈরি হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় কিছু ক্ষেত্রে সুদ না দিয়েও এসব সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামি স্কলার ও ফিকহ বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মতামতেও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে কিছু বিকল্প ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়া যায়। তবে প্রতিটি আর্থিক চুক্তির শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলেই যে অবশ্যই সুদ দিতে হবে, এমন নয়। যেসব কার্ডে গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে, সেখানে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পুরো স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স পরিশোধ করলে সাধারণ কেনাকাটার ওপর সুদ না দেওয়ার সুযোগ থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো জানিয়েছে, বেশিরভাগ ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটার জন্য গ্রেস পিরিয়ড থাকে। তবে সব কার্ডে গ্রেস পিরিয়ড থাকা বাধ্যতামূলক নয় এবং কার্ডভেদে শর্ত আলাদা হতে পারে। অর্থাৎ, কেউ যদি এক মাসে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ১ হাজার ডলারের কেনাকাটা করেন এবং নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পুরো ১ হাজার ডলার পরিশোধ করেন, তাহলে গ্রেস পিরিয়ড প্রযোজ্য থাকা অবস্থায় ওই কেনাকাটার জন্য সুদ দিতে হয় না। কিন্তু পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ না করে শুধু ন্যূনতম পেমেন্ট দিলে সুদ আরোপ হতে পারে। ক্যাশ অ্যাডভান্সের ক্ষেত্রেও সাধারণ কেনাকাটার মতো নিয়ম প্রযোজ্য নয় এবং সেখানে দ্রুত সুদ শুরু হতে পারে। এই বাস্তবতার সঙ্গে ইসলামি ফিকহের কিছু মতামতেরও মিল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাসেম্বলি অব মুসলিম জুরিস্টস অব আমেরিকা বা এএমজেএর একটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রয়োজনের বাস্তবতা বিবেচনায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে ছাড় রয়েছে। ব্যবহারকারীকে নিশ্চিত হতে হবে যে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো পাওনা পরিশোধ করতে পারবেন এবং সুদ কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি করবেন না। এএমজেএর আরেকটি সিদ্ধান্তেও গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে পুরো পাওনা পরিশোধ করার শর্তে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অনুমতির কথা বলা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব ধরনের ক্রেডিট কার্ডকে ইসলামি স্কলাররা সুদমুক্ত বা শরিয়াহসম্মত বলে ঘোষণা করেছেন। বরং বিষয়টি শর্তসাপেক্ষ। বিশেষ করে যে চুক্তিতে বিলম্ব হলে সুদ দিতে হয়, সেটি গ্রহণ করা নিয়ে আলেমদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। তাই কোনো কার্ড নেওয়ার আগে তার চুক্তি, সুদের শর্ত, গ্রেস পিরিয়ড, ক্যাশ অ্যাডভান্সের নিয়ম এবং বিলম্বিত পেমেন্টের শর্ত ভালোভাবে দেখা জরুরি। গাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন ক্রেতাদের সামনে কিছু বিকল্প রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা ও ডিলার সময় সময় নির্দিষ্ট গাড়ি, নির্দিষ্ট মেয়াদ ও নির্দিষ্ট যোগ্যতার ক্রেতাদের জন্য শূন্য শতাংশ বা ০ শতাংশ এপিআর ফাইন্যান্সিং অফার করে। তবে এ ধরনের অফার সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। ভালো ক্রেডিট স্কোর, নির্দিষ্ট গাড়ির মডেল, ডাউন পেমেন্ট, ঋণের মেয়াদ কিংবা অন্য কোনো শর্ত থাকতে পারে। ইসলামি ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মঞ্জের কাহফের প্রকাশিত ফতোয়াতেও যুক্তরাষ্ট্রে ০ শতাংশ গাড়ি ফাইন্যান্সিং নিয়ে ইতিবাচক মতামত পাওয়া যায়। একটি ক্ষেত্রে তিনি এমন গাড়ি কেনার ব্যবস্থা অনুমোদনযোগ্য বলেছেন, যেখানে ক্রেতার সঙ্গে সরাসরি চুক্তিতে সুদের অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা নেই এবং ডিলার নিজস্ব খরচের অংশ হিসেবে অন্য কোনো অর্থ পরিশোধ করে। তার ব্যাখ্যায় মূল বিষয় হলো ক্রেতার সঙ্গে করা চুক্তির প্রকৃতি। আরেকটি ফতোয়ায় ড. মঞ্জের কাহফ যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সুদভিত্তিক ফাইন্যান্সিং এড়িয়ে চলার কথা বলেন এবং উল্লেখ করেন যে বিভিন্ন গাড়ি ডিলারের কাছ থেকে ০ শতাংশ ফাইন্যান্সিংয়ের সুযোগ পাওয়া যায়। তবে বাজারের অফার এবং চুক্তির শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট গাড়ির অফার শরিয়াহসম্মত কি না, তা চুক্তি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ০ শতাংশ এপিআর লেখা থাকলেই কোনো গাড়ির ফাইন্যান্সিং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইসলামি দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। চুক্তিতে বিলম্বের সুদ, অতিরিক্ত চার্জ, মালিকানা, লিজের কাঠামো এবং অন্যান্য শর্ত কী আছে, তা দেখতে হবে। একইভাবে কোনো ডিলার যদি গাড়ির দাম বাড়িয়ে নির্দিষ্ট কিস্তিতে বিক্রি করে, সেটি সরাসরি সুদভিত্তিক ঋণের সমান কি না, তা চুক্তির কাঠামোর ওপর নির্ভর করে। বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন মুসলিমদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি বিকল্প তৈরি হয়েছে। প্রচলিত মর্টগেজের পরিবর্তে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানগুলো মুরাবাহা, ইজারা এবং ডিমিনিশিং মুশারাকার মতো কাঠামো ব্যবহার করে থাকে। ডিমিনিশিং মুশারাকায় সাধারণভাবে ক্রেতা এবং ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বাড়ির মালিক হন। ক্রেতা মাসিক পেমেন্টের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানের মালিকানার অংশ কিনে নেন। শেষ পর্যন্ত বাড়ির সম্পূর্ণ মালিকানা ক্রেতার কাছে চলে আসে। মুরাবাহায় ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠান বাড়ি কিনে নির্ধারিত লাভ যোগ করে গ্রাহকের কাছে একটি নির্দিষ্ট মোট মূল্যে বিক্রি করে। আর ইজারায় লিজ বা ভাড়া ভিত্তিক কাঠামোর মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তরের ব্যবস্থা থাকতে পারে। বাড়ির ফাইন্যান্সিং নিয়ে এএমজেএর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর চুক্তি নিয়ে পর্যালোচনার পর এএমজেএর রেসিডেন্ট ফতোয়া কমিটি কিছু প্রতিষ্ঠানের কাঠামো নির্দিষ্ট শর্তে শরিয়াহসম্মত হিসেবে গ্রহণ করেছে। তাদের পর্যালোচনায় মুরাবাহা, ডিমিনিশিং মুশারাকা এবং ইজারার মতো চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আরও সাম্প্রতিকভাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এএমজেএর রেসিডেন্ট ফতোয়া কমিটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়া কোম্পানির ডিমিনিশিং পার্টনারশিপ বা ধীরে ধীরে মালিকানা হস্তান্তরভিত্তিক হোম ফাইন্যান্সিং চুক্তি পর্যালোচনা করে সেটিকে ইসলামি আইনের অধীনে গ্রহণযোগ্য বলে মত দিয়েছে। তবে কমিটি একই সঙ্গে স্বাধীন শরিয়াহ তদারকি বোর্ড রাখার পরামর্শ দিয়েছে এবং চুক্তিতে নির্ধারিত শর্তগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এএমজেএর আগের পর্যালোচনায় মুবরাক মর্টগেজের মুরাবাহা চুক্তিকেও শরিয়াহসম্মত হিসেবে গ্রহণযোগ্য বলা হয়েছে। তবে একই প্রতিষ্ঠান স্পষ্ট করেছে, কোনো কোম্পানির চুক্তি পরিবর্তিত হলে আগের ফতোয়ার অবস্থানও পরিবর্তিত হতে পারে। অর্থাৎ শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ইসলামিক ফাইন্যান্সের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই সেটির বর্তমান চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ধরে নেওয়া যাবে না। এখানে ভোক্তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইসলামিক ফাইন্যান্স মানে শুধু প্রচলিত সুদের নাম পরিবর্তন করা নয়। প্রকৃত মালিকানা কার, সম্পদের ঝুঁকি কে বহন করছে, লাভ কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে, বিলম্ব হলে কী হচ্ছে, বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও ইন্স্যুরেন্সের দায়িত্ব কার এবং চুক্তি শেষ হলে সম্পদের মালিকানা কীভাবে হস্তান্তর হবে, এসব বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাই যুক্তরাষ্ট্রে সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন মুসলিমদের জন্য বাস্তব কিছু পথ রয়েছে। ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ করে সুদ এড়ানোর সুযোগ কিছু ইসলামি ফিকহ বিশেষজ্ঞ শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন করেছেন। গাড়ির ক্ষেত্রে প্রকৃত ০ শতাংশ ফাইন্যান্সিং কিংবা চুক্তির কাঠামো অনুযায়ী শরিয়াহসম্মত বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে। আর বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে মুরাবাহা, ইজারা ও ডিমিনিশিং মুশারাকার মতো ফাইন্যান্সিং ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে চালু রয়েছে। তবে এগুলো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা পরিবারের জন্য আর্থিক কিংবা ধর্মীয় সিদ্ধান্তের নির্দেশনা নয়। একজনের জন্য যে ব্যবস্থা উপযুক্ত হতে পারে, অন্যজনের জন্য তা নাও হতে পারে। বিশেষ করে ইসলামি ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এবং চুক্তির সামান্য পরিবর্তনেও ধর্মীয় সিদ্ধান্ত বদলে যেতে পারে। তাই সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন কেউ ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি বা বাড়ির ফাইন্যান্সিং নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পুরো চুক্তি ভালোভাবে পড়ুন, মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে তা হিসাব করুন, সব ধরনের ফি ও জরিমানার শর্ত দেখুন এবং প্রয়োজন হলে যোগ্য ও বিশ্বস্ত ইসলামি স্কলার বা ইসলামিক ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থার তথ্যও যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। অর্থের বিনিময়ে বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব এবং গ্রিন কার্ডসহ বিভিন্ন অভিবাসন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লুকমান ওওলাবি গানিউ এবং তার আর্থিক সহযোগী আদেনিয়ি আকিম সোমোয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই দুজন মিলে প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের (প্রায় ৯ লাখ ৫৯ হাজার ২৬৮ ডলার) বিশাল এক ঘুষ বাণিজ্য চালিয়েছেন। টেক্সাসভিত্তিক এই চক্রটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং ঘুষের বিনিময়ে তাদের ফাইলগুলো সরাসরি গানিউর কাছে পাঠিয়ে দিত। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, গানিউ তার পদের চরম অপব্যবহার করে ইউএসসিআইএস-এর সিস্টেমে কারসাজি করতেন। তিনি মিনিয়াপলিস, শার্লট এবং হিউস্টনের মতো বিভিন্ন ফিল্ড অফিস থেকে আবেদনকারীদের ফাইল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতেন। এরপর স্থানীয় সুপারভাইজারদের পর্যালোচনা এবং অপরাধের ইতিহাস যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো এড়িয়ে গিয়ে দ্রুত সেসব আবেদন অনুমোদন করে দিতেন। এমনকি তিনি তার অপরাধের সহযোগী সোমোয়ের নাগরিকত্ব এবং সোমোয়ের স্ত্রী ও সন্তানের রেসিডেন্সি বা স্থায়ী বসবাসের অনুমোদনও দ্রুত ও বেআইনিভাবে পাস করিয়েছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গানিউ জেল (Zelle), ক্যাশ অ্যাপ (Cash App) এবং নগদ জমার মাধ্যমে প্রায় ৯ লাখ ৫৯ হাজার ২৬৮ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে, সোমোয়ে আর্থিক ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন এবং তার অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৭ লাখ ডলারের লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। এর একটি অংশ তিনি নিজের পারিশ্রমিক হিসেবে রাখতেন। গানিউর বার্ষিক সরকারি বেতন ছিল ৬৭ হাজার ৭৩২ ডলার এবং সোমোয়ের বৈধ আয় ছিল বছরে মাত্র ৭ হাজার ৫০৬ ডলার। আয়ের তুলনায় বিপুল অঙ্কের এই অবৈধ লেনদেনই তাদের ধরিয়ে দেয়। গত ২ সেপ্টেম্বর তাদের আদালতে তোলা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে টেক্সাসের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি রায়ান রেবোল্ড বলেন, "নগদ অর্থের বিনিময়ে অভিবাসন সুবিধা বিক্রি করা জনগণের আস্থার চরম অবমাননা।"
যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে থেকে নিজের সন্তানকে দেখাশোনা করা কিছু বাবা-মাকে ফেডারেল চাইল্ড কেয়ার সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন পরিকল্পনাটি মূলত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অগ্রাধিকার হিসেবে সামনে এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা বিবাহিত দম্পতিদের ক্ষেত্রে একজন বাবা বা মা ঘরে থেকে নিজের সন্তানের যত্ন নিলে এবং অন্য স্বামী বা স্ত্রী সপ্তাহে অন্তত ৩৫ ঘণ্টা কাজ করলে পরিবারটি চাইল্ড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড বা সিসিডিএফ-এর সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। এই অর্থ নতুন কোনো আলাদা ফেডারেল তহবিল থেকে দেওয়ার পরিকল্পনা নয়। বরং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের অধীনে থাকা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের চাইল্ড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থ ব্যবহারের নিয়ম পরিবর্তন করে নতুন ধরনের চাইল্ড কেয়ার সহায়তা চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই তহবিল বর্তমানে মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মজীবী বাবা-মা, স্কুলে থাকা কিংবা চাকরির প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া অভিভাবকদের সন্তানদের চাইল্ড কেয়ার খরচে সহায়তা করে। খসড়া নিয়ম অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় একজন বিবাহিত বাবা বা মা নিজের সন্তানকে ঘরে থেকে দেখাশোনা করলেও চাইল্ড কেয়ার সহায়তার জন্য যোগ্য হতে পারেন। প্রস্তাবটির উদ্দেশ্য হবে ঘরে থাকা অভিভাবকের হারানো আয়ের একটি অংশ পুষিয়ে দিতে সহায়তা করা। বর্তমানে এই কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো প্রতি শিশুর জন্য বছরে গড়ে প্রায় ৯ হাজার ডলার সমপরিমাণ চাইল্ড কেয়ার সহায়তা পেয়ে থাকে। তবে নতুন প্রস্তাবের অর্থ সরাসরি ৯ হাজার ডলার নগদ হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে দেওয়া হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রস্তাবিত নিয়মে বিবাহিত দম্পতিদের জন্য বিশেষ শর্ত রাখা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, একজন স্বামী বা স্ত্রীকে অন্তত ৩৫ ঘণ্টা কাজ করতে হবে এবং অন্যজন নিজের সন্তানের যত্ন নেওয়ার জন্য ঘরে থাকতে পারবেন। নির্দিষ্ট আয়ের সীমাও প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে, অবিবাহিত দম্পতি যেখানে একজন বাবা বা মা ঘরে থেকে সন্তান দেখাশোনা করেন, তারা এই প্রস্তাবিত নতুন ক্যাটাগরির আওতায় থাকবেন না। একইভাবে কাজ না করা একক অভিভাবকরাও এই নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য হবেন না। বর্তমান সিসিডিএফ নিয়মেও পরিবারের আয় এবং বাবা-মায়ের কাজ, শিক্ষা অথবা চাকরির প্রশিক্ষণের সঙ্গে যোগ্যতার সম্পর্ক রয়েছে। ফেডারেল নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যগুলো তাদের নির্ধারিত রাজ্যের মধ্যম আয়ের সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত আয় করা পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় নিতে পারে। তবে অনেক রাজ্য এর চেয়ে কম আয়ের সীমা নির্ধারণ করে। তবে পরিকল্পনাটি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। চাইল্ড কেয়ার নীতির বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, একই তহবিল থেকে ঘরে থাকা বাবা-মাকে সহায়তা দেওয়া হলে বর্তমানে যারা কাজ করার জন্য চাইল্ড কেয়ার ভর্তুকি ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য বরাদ্দ কমে যেতে পারে। এতে কিছু চাইল্ড কেয়ার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আর্থিক চাপের মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কংগ্রেসে উত্থাপিত নতুন কোনো বিল নয়। প্রশাসন বিদ্যমান সিসিডিএফ কর্মসূচির নিয়ম পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য নতুন করে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে খসড়া নিয়ম চূড়ান্ত হওয়ার আগে হোয়াইট হাউসের অনুমোদন এবং সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার মতো নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। প্রস্তাবটি এখনো পরিবর্তিত হতে পারে এবং চূড়ান্ত হওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অনুমোদিত হলে আগামী বছর থেকে এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বর্তমানে যারা ঘরে থেকে সন্তান দেখাশোনা করছেন, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন এই সুবিধার নামে এখনই কোনো আবেদন বা অর্থ পাওয়ার দাবি করার সুযোগ তৈরি হয়নি। নিয়ম চূড়ান্ত হওয়ার পরই যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া এবং কোন রাজ্যে কীভাবে সুবিধাটি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রে চাইল্ড কেয়ার খরচ নিয়ে দীর্ঘদিনের সংকটের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ কার্যকর হলে ফেডারেল চাইল্ড কেয়ার অর্থ কীভাবে পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হবে, তাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে আপাতত এটি একটি প্রস্তাবিত নীতি, চালু হওয়া সরকারি সুবিধা নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি সিঙ্গেল ইঞ্জিন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এক নারী পাইলট ও তার দুই ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার ফ্রেসনো শহরের সিয়েরা স্কাই পার্ক বিমানবন্দরের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নারী ডান্না ইডি (৪১) পেশায় একজন ফ্লাইট ইন্সট্রাক্টর ছিলেন। এ ঘটনায় তার দুই ছেলে পাভেল (১০) ও রেমাস (১৩) নিহত হলেও গুরুতর আহত অবস্থায় বেঁচে গেছেন তার স্বামী ক্রেইগ। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শরীরে মারাত্মক পোড়া ক্ষতসহ একাধিক গভীর জখম রয়েছে। ফ্রেসনো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, শনিবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে সান জোয়াকিন নদীর তীরের একটি পাহাড়ি এলাকায় বিমানটি আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলেই দুই শিশু সন্তানকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ডান্না ও তার স্বামীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডান্নার মৃত্যু হয়। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই পাহাড়ের একাংশে তীব্র আগুন ধরে যায়, যা দমকলকর্মীরা দ্রুত নেভাতে সক্ষম হন এবং তা লোকালয়ে ছড়াতে দেননি। ডান্নার বন্ধু নিক উইলকক্স জানান, পরিবারটি একটি এয়ারশোতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। ফ্রেসনোর এভিয়েশন বা উড্ডয়ন সম্প্রদায়ের কাছে ডান্না ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি নাম। তিনি রিডলি কলেজে ফ্লাইট ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি স্থানীয় 'এক্সপেরিমেন্টাল এয়ারক্রাফট অ্যাসোসিয়েশন'-এর সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। উইলকক্স জানান, ডান্না সদ্য পাইলট হলেও ইতিমধ্যে হাজার হাজার ঘণ্টা ওড়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। আকাশে ওড়াই ছিল তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন এবং তিনি তার ভালোবাসার কাজটি করতে গিয়েই প্রাণ হারিয়েছেন। পরিবারটিতে ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী আরও দুই সন্তান রয়েছে। স্বামীর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পরিবারের অন্যান্য খরচ মেটাতে 'সাপোর্টনাও' পেজের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছেন তাদের এক পারিবারিক বন্ধু। ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো অস্পষ্ট। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে, যেখানে এনটিএসবি প্রধান ভূমিকা পালন করছে। তদন্তের স্বার্থে দুর্ঘটনাস্থলটি বর্তমানে পুরোপুরি কর্ডন করে রাখা হয়েছে।
পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলবর্তী দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দেতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। শনিবার গভীর রাতে আটলান্টিক মহাসাগরের ফোগো দ্বীপের উত্তরাঞ্চলের একটি পাহাড়ি সড়কে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা ইনফোরপ্রেস জানিয়েছে, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে প্রায় ৩০ মিটার গভীর একটি খাড়া খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে ফোগোর সাও ফ্রান্সিসকো দে আসিস আঞ্চলিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের এই আনন্দভ্রমণের আয়োজন স্থানীয় কোনো স্কুল থেকে করা হয়নি। বরং বাসচালক নিজেই প্রতি বছর ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের ভ্রমণের আয়োজন করে আসছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিনিও প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করে কর্তৃপক্ষ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। এই ঘটনাকে 'মহা বিপর্যয়' হিসেবে আখ্যায়িত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট হোসে মারিয়া পেরেইরা নেভেস। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর দেশজুড়ে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নিহতদের কয়েকজনের অবস্থা এতটাই শোচনীয় ছিল যে, উদ্ধার করার পরপরই সাতটি মরদেহ সমাহিত করা হয়। এই দুর্ঘটনা পুরো দ্বীপরাষ্ট্রটিতে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।
চিকিৎসা সেবায় অর্থই যে সব নয়, মানবিকতাই যেখানে মুখ্য—এমনই এক অনন্য ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনার সাক্ষী হলো বলিভিয়া। গুরুতর প্রস্টেটের সমস্যায় আক্রান্ত এক বয়স্ক কৃষকের জীবন বাঁচাতে কোনো প্রকার ফি ছাড়াই বিনামূল্যে জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন এক মানবিক চিকিৎসক। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার মুহূর্তে সেই চিকিৎসককে উপহার দেওয়ার মতো কোনো টাকা বা মূল্যবান সম্পদ কৃষকের ছিল না। তাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে নিজের সবচেয়ে মূল্যবান সম্বল দুটি পোষা মুরগি চিকিৎসকের হাতে তুলে দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। অসুস্থতার তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে ওই কৃষক যখন হাসপাতালে এসেছিলেন, তখন চিকিৎসকরা জানান অবিলম্বে তার অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। কিন্তু অর্থাভাবে জর্জরিত কৃষকের পক্ষে সেই ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ মেটানো একেবারেই অসম্ভব ছিল। অসহায় কৃষকের এমন করুণ পরিস্থিতি দেখে মুখ ফিরিয়ে নেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক। বরং নিঃস্বার্থভাবে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে কোনো প্রকার পারিশ্রমিক ছাড়াই সফলভাবে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। নতুন জীবন ফিরে পেয়ে কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত হয়ে পড়েন ওই কৃষক। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ধন্যবাদ জানাতে দুটি পোষা মুরগি নিয়ে চিকিৎসকের সামনে হাজির হন তিনি। কৃষকের এই সরল ও অকৃত্রিম উপহার দেখে চিকিৎসকও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্মৃতিচারণ করে চিকিৎসক জানান, তার প্রয়াত বাবাও একসময় সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা করতেন। তখন অনেক রোগী অর্থের সংস্থান করতে না পেরে পরম ভালোবাসায় মুরগি, ডিম কিংবা নিজেদের ফলানো কৃষিপণ্য দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন। দুটি মুরগির আর্থিক মূল্য হয়তো খুব বেশি নয়, কিন্তু নিঃস্ব একজন কৃষকের হৃদয়ের গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার কাছে তা যেকোনো মূল্যবান উপহারের চেয়েও অনন্য হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে আগস্ট মাসে শক্তিশালী কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে। ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (বিএলএস)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে দেশটিতে নতুন করে ১ লাখ ৬২ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের চেয়ে এই প্রবৃদ্ধি বেশ আশাব্যঞ্জক। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এমন ইতিবাচক তথ্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে এনেছে, কারণ ভোটারদের কাছে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিবেদনে আগের দুই মাসের কর্মসংস্থানের তথ্যেও বড় সংশোধন আনা হয়েছে। জুন ও জুলাই মাসের কর্মসংস্থানের হিসাব সম্মিলিতভাবে ৫৫ হাজার বাড়ানো হয়েছে, যা প্রমাণ করে দেশটির শ্রমবাজার একটি ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে। আগস্ট মাসে বিশেষ করে রেস্তোরাঁ ও বার খাতে ৫৯ হাজার নতুন কর্মসংস্থান যুক্ত হয়েছে। গ্রীষ্মের ছুটির পর সরকারি স্কুলগুলোতে পুনরায় নিয়োগ শুরু হওয়ায় শিক্ষা খাতেও ৪২ হাজার কর্মসংস্থান বেড়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা খাতে যুক্ত হয়েছে আরও ১৩ হাজার নতুন চাকরি। তবে কর্মসংস্থানের এই ইতিবাচক খবরের পর শেয়ারবাজারে কিছুটা দরপতন দেখা গেছে। বর্তমানে বিনিয়োগকারী এবং বিশ্লেষকদের নজর চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার নির্ধারণী বৈঠকের দিকে। শ্রমবাজারের এই চাঙ্গা অবস্থা ফেডারেল রিজার্ভের জন্য কিছুটা উদ্বেগের কারণ হতে পারে, কারণ বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রার ওপরে অবস্থান করছে। জুলাইয়ে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। কেপিএমজির প্রধান অর্থনীতিবিদ ডায়ান সোয়াঙ্কের মতে, শ্রমবাজার পুনরায় শক্তিশালী হয়ে ওঠার এই লক্ষণ সাধারণ শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে স্বস্তিদায়ক হলেও, চাহিদার পাশাপাশি সরবরাহজনিত ধাক্কার কারণে এটি ফেডের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) পরিবারের সদস্যদের গ্রিন কার্ড স্পনসর করার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা স্পনসরদের ক্রেডিট রিপোর্ট যাচাই করার ক্ষমতা পাবেন। আগস্টে আই-৮৬৪ (I-864) ফর্মে এই আপডেট আনার পর তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। এই ফর্মটি মূলত 'অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট' হিসেবে পরিচিত, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে আসা আবেদনকারীর আর্থিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, ফর্মের নতুন সংস্করণে একটি 'প্রাইভেসি রিলিজ' যুক্ত করা হয়েছে, যা কর্তৃপক্ষকে কনজ্যুমার রিপোর্টিং এজেন্সি থেকে স্পনসরের তথ্য সংগ্রহের অনুমতি দেয়। তবে এই সংগৃহীত তথ্য ঠিক কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত কোনো নির্দেশনা দেয়নি। গ্রিন কার্ড স্পনসর করার ক্ষেত্রে আগে থেকেই নির্দিষ্ট আর্থিক শর্ত পূরণের নিয়ম রয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো স্পনসরকে প্রমাণ করতে হয় যে তার পরিবারের আয় যুক্তরাষ্ট্রের দারিদ্র্যসীমার ১২৫ শতাংশ বা তার বেশি। তবে সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ব্যক্তিরা তাদের স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানের স্পনসর করলে এই সীমা ১০০ শতাংশ হিসেবে ধরা হয়। আগে শুধু ট্যাক্স রিটার্ন, পাসপোর্ট বা অন্যান্য নথির মাধ্যমে আর্থিক সচ্ছলতা প্রমাণ করতে হতো। কিন্তু নতুন পরিবর্তনের ফলে স্পনসরদের ক্রেডিট রেকর্ডে কোনো ধরনের 'ফ্রিজ' বা বিধিনিষেধ থাকলে তা দ্রুত তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউএসসিআইএস। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, ক্রেডিট ফ্রিজ থাকলে তারা ফর্মের যথার্থতা মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হতে পারে। তবে স্পনসরদের নির্দিষ্ট কোনো ন্যূনতম ক্রেডিট স্কোর থাকতে হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। নতুন এই নিয়মের কারণে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও সমালোচকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মার্কিন ইমিগ্রেশন সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠান 'বাউন্ডলেস'-এর সিইও জিয়াও ওয়াং বলেন, আয় ও সম্পদের সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকায় পরিবারগুলোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া সহজ ছিল, কিন্তু এখন কী মানদণ্ড ব্যবহার করা হবে তা না জানিয়েই ক্রেডিট রিপোর্ট যাচাইয়ের পথ উন্মুক্ত করা হলো। সামান্য ক্রেডিট কার্ডের বিল বকেয়া থাকা বা ফাইলে ভুলের কারণে বৈধ দম্পতিদের আলাদা থাকার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন। অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান ফ্রাগোমেন-এর এক আইনজীবী জানিয়েছেন, আবেদন করার সময় এখন থেকে ইউএসসিআইএসকে ক্রেডিট স্কোর যাচাইয়ের আইনি অনুমতি দিতেই হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকেই গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকে কঠিন করার যে প্রবণতা শুরু হয়েছিল, এই পদক্ষেপকে তার একটি ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন সমালোচকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যের ডামারিসকোটা শহরে হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়ে 'বিগফুট' বা রহস্যময় বনমানুষের আতঙ্ক। মঙ্গলবার সকালে শহরের রাস্তায় লোমশ অদ্ভুত এক প্রাণী দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। এমনকি স্কুলের প্রথম দিনে শিশুদের নামিয়ে দেওয়ার সময়ও প্রাণীটিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, জরুরি সেবার ৯১১ নম্বরে একের পর এক কল আসতে থাকে। তবে পুলিশি তদন্তের পর যে সত্যটি বেরিয়ে আসে, তা ছিল বেশ মজাদার। স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনায়, পা থেকে মাথা পর্যন্ত পশুর মতো লোমে ঢাকা এবং মাথায় লম্বা টুপি পরা এক বিশাল আকৃতির প্রাণী শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। খবর পেয়ে ডামারিসকোটা পুলিশের কর্মকর্তা উইলিয়াম স্মিথ প্রাণীটির সন্ধানে বের হন। মেইন স্ট্রিটে গিয়ে তিনি দেখতে পান, প্রাণীটি খুব শান্তভাবে বসে আছে। কাছে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, এটি আসলে কোনো দানব বা বিগফুট নয়; বরং নিখুঁত একটি বিগফুট কস্টিউম বা পোশাক পরে থাকা এক সাধারণ মানুষ! পুলিশ ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলে সেখানে ভিড় জমান স্থানীয়রা। অনেকেই অদ্ভুত এই কস্টিউম পরা ব্যক্তির সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলতে শুরু করেন। পুরো ঘটনার পর ডামারিসকোটা পুলিশ বিভাগ এক বিবৃতিতে রসিকতা করে জানায়, দীর্ঘ ও সম্পূর্ণ ‘সিরিয়াস’ তদন্তের পর তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে বিগফুট বলতে বাস্তবে কিছু নেই। পুলিশের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনেকেই হয়তো এতে হতাশ হবেন, কারণ পুলিশ বিভাগেরও কেউ কেউ গোপনে আশা করছিলেন যে হয়তো বিগফুটের সন্ধান পেয়ে তারা জাতীয় সংবাদের শিরোনাম হবেন। যেহেতু ওই ব্যক্তি কোনো ধরনের অপরাধমূলক কাজ করেননি, তাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে একটি কার্গো বিমানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকালের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৫ জন নিহত এবং আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। মিয়ামি-ডেইড কাউন্টির শেরিফ রোজি কর্ডেরো-স্টুটজ এক সংবাদ সম্মেলনে হতাহতের এই মর্মান্তিক সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ান থেকে ছেড়ে আসা বোয়িং ৭৬৭-৩০০ মডেলের কার্গো বিমানটি '২১ এয়ার'-এর ফ্লাইট ৭৫৯৮ হিসেবে আমাজন প্রাইম এয়ারের পণ্য পরিবহন করছিল। স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে মিয়ামি বিমানবন্দরে অবতরণের পর এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ের বাইরে চলে যায় এবং পার্শ্ববর্তী একাধিক গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পরপরই বিমানটিতে তীব্র আগুন ধরে যায় এবং চারপাশ ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। খবর পেয়ে মিয়ামি-ডেইড ফায়ার রেসকিউয়ের ৬০টিরও বেশি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিমানের জ্বালানি লিক হওয়া ঠেকানোর কাজ শুরু করে। দুর্ঘটনার জেরে মিয়ামি বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ (গ্রাউন্ড স্টপ) ঘোষণা করে এফএএ। পরবর্তীতে বিকাল ৫টার দিকে গ্রাউন্ড স্টপ তুলে নেওয়া হলেও রানওয়েতে দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি পড়ে থাকায় ফ্লাইটগুলোতে বিলম্ব অব্যাহত থাকে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জানতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে। এ বিষয়ে আমাজনের মুখপাত্র কেলি নানটেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তারা উদ্ভূত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সেবাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে এফএএ।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ নাগরিকদের টার্গেট করে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের কৌশল নিয়ে টেক্সাসের ট্যারান্ট কাউন্টির তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রতারকরা ব্যাংক কর্মকর্তা বা ফেডারেল এজেন্টের পরিচয়ে প্রবীণদের ফোন করে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে রয়েছে বলে ভয় দেখাত। এরপর নিরাপত্তার কথা বলে তাদের সঞ্চয়ের টাকা তুলে সোনার বার, বিটকয়েন বা নগদ অর্থে রূপান্তর করতে বলা হতো। প্রতারণার পরের ধাপ ছিল আরও কৌশলী। ভুক্তভোগীদের বলা হতো, তাদের অর্থ নিরাপদ রাখতে একজন ফেডারেল এজেন্ট এসে সোনা বা নগদ অর্থ সংগ্রহ করবেন। পরে চক্রের কুরিয়াররা সরকারি কর্মকর্তা সেজে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে গিয়ে সেই সোনা বা টাকা নিয়ে যেত বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। কর্তৃপক্ষের মতে, চক্রটির একটি অংশ বিদেশি কল সেন্টার থেকে প্রবীণদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। ফোনে প্রথমে আতঙ্ক তৈরি করা হতো, এরপর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হতো। এতে ভুক্তভোগীরা যাচাই করার সুযোগ না পেয়ে নিজেদের সঞ্চয় প্রতারকদের হাতে তুলে দিতেন। চুরি করা সোনা ও অর্থ এরপর চক্রটির অন্য সদস্যদের কাছে চলে যেত। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সোনা বিভিন্ন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে গিয়ে গলিয়ে ব্রেসলেটসহ বিভিন্ন গয়নায় রূপান্তর করা হতো। এতে সোনার আসল উৎস আড়াল করা সহজ হতো। পরে এসব গয়না বা সোনা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতো বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, চুরি করা অর্থ এবং সোনার মূল্য ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাঠানো হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই অর্থ পাচার ব্যবস্থায় নিউ জার্সিতে থাকা ৩৫ বছর বয়সী মুজামিল আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে শেল কোম্পানি ব্যবহার করে চুরি করা অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। মুজামিল আহমেদকে গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি সৌদি আরবের জেদ্দাগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। পরে তাকে টেক্সাসে ফিরিয়ে ট্যারান্ট কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়। তবে আহমেদই এই মামলায় একমাত্র গ্রেপ্তার ব্যক্তি নন। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই তদন্তে এখন পর্যন্ত ৪০টির বেশি ইনডাইটমেন্ট হয়েছে। এর মধ্যে এপ্রিলে ১৮টি ইনডাইটমেন্ট দেওয়া হয়েছিল এবং সেগুলোর ১২ জন আসামি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ট্যারান্ট কাউন্টি জেলে আটক ছিলেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার শিকাগো ও নিউয়ার্ক থেকে আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা কানাডায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পুরো তদন্তে ২০০-এর বেশি প্রবীণ ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই চক্রের মাধ্যমে চুরি হওয়া অর্থের পরিমাণ ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। তদন্তের অংশ হিসেবে ১৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের সোনাও জব্দ করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। একজন ভুক্তভোগী এই প্রতারণায় প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন। তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, আরও অনেক প্রবীণ এই প্রতারণার শিকার হলেও লজ্জা, ভয় বা বিভ্রান্তির কারণে এখনো বিষয়টি পুলিশকে জানাননি। কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা, পুলিশ বা ফেডারেল এজেন্ট ফোন করে সোনা, নগদ অর্থ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি হস্তান্তরের নির্দেশ দিলে সেটিকে বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখতে হবে। সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণত ফোনে কাউকে সোনা বা নগদ অর্থ কিনে দেওয়ার নির্দেশ দেয় না। সন্দেহ হলে ফোনে দেওয়া নির্দেশ অনুসরণ না করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা সরকারি সংস্থার অফিসিয়াল নম্বরে নিজে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করা উচিত। মুজামিল আহমেদসহ মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন-স্ট্যাটাস প্রমাণ করতে না পারা ব্যক্তিদের ‘ড্রাইভ-অনলি’ ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার নীতি বন্ধে জাতীয় পর্যায়ে পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ওহাইওর দুই রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেড ও বার্নি মোরেনো। সাম্প্রতিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় ওহাইওর এক বাসিন্দার মৃত্যুর পর তারা এ দাবি তুলেছেন। গত ২৯ আগস্ট ওহাইওর ফুলটন কাউন্টিতে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় ২৯ বছর বয়সী অস্টিন গ্রিমস নিহত হন। পুলিশ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় জড়িত অপর চালক ওয়াশিংটন জি. নাউলা-ওচোয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর যানবাহন হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। হাস্টেডের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নাউলা-ওচোয়ার কানেকটিকাটের ‘ড্রাইভ-অনলি’ লাইসেন্স ছিল। এই ঘটনার পর সিনেটর হাস্টেড মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী মার্কওয়েইন মুলেনকে চিঠি দিয়ে এমন লাইসেন্স দেওয়ার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর প্রস্তাব, যেসব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের প্রমাণ দিতে পারবেন না, তাদের কোনো রাজ্য যেন ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে না পারে। মোরেনোও কানেকটিকাটের গভর্নর নেড ল্যামন্টের কাছে এ নীতির ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, রাজ্যটিতে কতজনকে ‘ড্রাইভ-অনলি’ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে এবং এসব লাইসেন্সধারীদের অপরাধ বা ভোটার নিবন্ধনের বিষয়ে কী তথ্য রয়েছে। তবে কানেকটিকাটের আইন অনুযায়ী এই ধরনের লাইসেন্স ভোট দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা যায় না। কানেকটিকাটসহ বর্তমানে ১৯টি রাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি এমন ধরনের লাইসেন্সের সুযোগ দেয়। এসব রাজ্যের যুক্তি, বৈধভাবে গাড়ি চালানোর সুযোগ দিলে চালকদের পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ ও বীমার আওতায় আনা যায় এবং সড়ক নিরাপত্তা বাড়তে পারে। কানেকটিকাটের গভর্নর ল্যামন্টও এই নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘ড্রাইভ-অনলি’ লাইসেন্সের মাধ্যমে অনথিভুক্ত অভিবাসীদেরও চালকের পরীক্ষা ও বীমার আওতায় আনা যায়, যা সড়ক নিরাপত্তার জন্য সহায়ক। তবে দুর্ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে লাইসেন্স নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হলেও, একটি দুর্ঘটনার ভিত্তিতে ‘ড্রাইভ-অনলি’ লাইসেন্স নীতিই দুর্ঘটনার কারণ - এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। কানেকটিকাটের সামগ্রিক দুর্ঘটনা-তথ্য নিয়েও এমন সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন এমন অনেকের ধারণা, কার্ডে যত বেশি খরচ করা হবে এবং নিয়মিত বিল পরিশোধ করা হবে, তত দ্রুত বাড়বে ক্রেডিট স্কোর। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। বরং ক্রেডিট কার্ডের লিমিটের কতটা ব্যবহার করা হচ্ছে, সময়মতো পেমেন্ট করা হচ্ছে কি না এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্রেডিট কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে, সেগুলোই স্কোরের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। ফিকোর তথ্য অনুযায়ী, একটি সাধারণ ফিকো ক্রেডিট স্কোরে পেমেন্ট হিস্ট্রি সবচেয়ে বড় বিষয়, যা স্কোরের প্রায় ৩৫ শতাংশের সঙ্গে সম্পর্কিত। এরপর অ্যামাউন্টস ওয়েড বা কতটা ঋণ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি প্রায় ৩০ শতাংশ। এছাড়া ক্রেডিট হিস্ট্রির দৈর্ঘ্য ১৫ শতাংশ, নতুন ক্রেডিট ১০ শতাংশ এবং ক্রেডিট মিক্স ১০ শতাংশ পর্যন্ত ভূমিকা রাখে। তবে ব্যক্তিভেদে এসব বিষয়ের প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন। সহজভাবে বললে, আপনার মোট ক্রেডিট লিমিটের কত শতাংশ আপনি ব্যবহার করছেন, সেটিই ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন। ধরুন, আপনার একটি ক্রেডিট কার্ডের লিমিট ৫ হাজার ডলার। আপনি যদি সেই কার্ডে ৪ হাজার ডলার ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার ইউটিলাইজেশন দাঁড়ায় ৮০ শতাংশ। বিপরীতে ১ হাজার ডলার ব্যবহার করলে তা হয় ২০ শতাংশ। ফাইকো বলছে, ক্রেডিট লিমিটের বড় একটি অংশ ব্যবহার করা স্কোরের জন্য নেতিবাচক হতে পারে। সাধারণভাবে ক্রেডিট কার্ডের ব্যালান্স যত কম রাখা যায়, তত ভালো। তাহলে কি ৩০ শতাংশের নিচে থাকলেই ক্রেডিট স্কোর ভালো থাকবে? ৩০ শতাংশকে অনেক সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ গাইডলাইন হিসেবে বলা হয়। কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো বা সিএফপিবি বলছে, বিশেষজ্ঞরা সাধারণত মোট ক্রেডিট লিমিটের ৩০ শতাংশের বেশি ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন। তবে এটি কোনো জাদুকরী সীমা নয়। সিএফপিবি আরও স্পষ্ট করে বলছে, ভালো ক্রেডিট স্কোরের জন্য ক্রেডিট কার্ডে ব্যালান্স বহন করার প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ ৫ হাজার ডলারের ক্রেডিট লিমিট হলে ৩০ শতাংশ হলো ১ হাজার ৫০০ ডলার। তবে সম্ভব হলে এর চেয়েও কম ইউটিলাইজেশন রাখা ভালো। সম্প্রতি প্রকাশিত এক্সপেরিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, ভালো ক্রেডিট স্কোরধারীদের অনেকের ইউটিলাইজেশন ১০ শতাংশের নিচে থাকে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ৩০ শতাংশ কোনো নির্দিষ্ট বা বাধ্যতামূলক সীমা নয়। আরেকটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, ক্রেডিট স্কোর বাড়ানোর জন্য মাস শেষে ক্রেডিট কার্ডে কিছু টাকা বাকি রাখতে হবে এবং সেই ব্যালান্সের ওপর সুদ দিতে হবে। এটিও সঠিক নয়। সিএফপিবি বলছে, প্রতি মাসে ক্রেডিট কার্ডের বিল পুরোপুরি পরিশোধ করাই ভালো ক্রেডিট ব্যবস্থাপনার অংশ। শুধু ক্রেডিট স্কোর বাড়ানোর জন্য ব্যালান্স রেখে সুদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। আপনি মাসের মধ্যে কত খরচ করেছেন, সেটিই সবসময় আপনার ক্রেডিট রিপোর্টে দেখা যাবে এমন নয়। সাধারণত ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি যে ব্যালান্স ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট করে, সেটিই রিপোর্টে প্রতিফলিত হতে পারে। তাই নির্ধারিত ডিউ ডেট এর আগে পুরো বিল পরিশোধ করলেও রিপোর্ট হওয়ার সময় কোনো ব্যালান্স থাকলে সেটি আপনার ইউটিলাইজেশন এ প্রভাব ফেলতে পারে। ক্রেডিট স্কোরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়মতো পেমেন্ট। একটি পেমেন্ট দেরি হলে শুধু সেই মাসের হিসাবই নয়, আপনার ক্রেডিট ইতিহাসেও তার প্রভাব পড়তে পারে। ফাইকো অনুযায়ী, পেমেন্ট হিস্ট্রি তাদের স্কোরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যাদের ক্রেডিট স্কোর কমে গেছে, তাদের জন্যও রাতারাতি স্কোর বাড়ানোর কোনো বৈধ শর্টকাট নেই। সিএফপিবি বলছে, ক্রেডিট পুনর্গঠনে সময় লাগে। নিয়মিত সময়মতো বিল পরিশোধ করা, ক্রেডিট লিমিটের খুব কাছাকাছি না যাওয়া এবং অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত নতুন ক্রেডিটের জন্য আবেদন না করাই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আর যাদের যুক্তরাষ্ট্রে এখনো ক্রেডিট ইতিহাস তৈরি হয়নি, তাদের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। ছোট পরিসরে ক্রেডিট শুরু করে সময়মতো পেমেন্ট এবং কম ইউটিলাইজেশন বজায় রাখার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ক্রেডিট ইতিহাস তৈরি করা যায়। সিকিউরড ক্রেডিট কার্ডও নতুনদের জন্য একটি বিকল্প হতে পারে। তবে কার্ড নেওয়ার আগে সেটি ক্রেডিট ব্যুরোগুলোতে রিপোর্ট করে কি না, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বেশি ক্রেডিট কার্ড থাকা বা বেশি টাকা খরচ করাই ভালো স্কোরের নিশ্চয়তা নয়। বরং আপনার কাছে যতটুকু ক্রেডিট আছে, সেটি কতটা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করছেন সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই ৫ হাজার ডলারের কার্ড থাকলে ৫ হাজার ডলার খরচ করার লক্ষ্য নয়। বরং নিজের প্রয়োজন ও সামর্থ্যের মধ্যে খরচ করা, ইউটিলাইজেশন কম রাখা এবং প্রতিবার সময়মতো পেমেন্ট করাই ভালো ক্রেডিট স্কোর তৈরির মূল কৌশল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্রেডিট স্কোর কোনো একদিনে তৈরি হয় না। নিয়মিত ভালো আর্থিক অভ্যাস এবং দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্বশীল ক্রেডিট ব্যবস্থাপনাই একটি শক্তিশালী ক্রেডিট প্রোফাইল তৈরির ভিত্তি।
গরুর দুধে অ্যালার্জির কারণে পাঁচ বছর বয়সী বেনেডিক্ট ব্লাইথের মৃত্যুর পর ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোতে অ্যালার্জি নিরাপত্তা জোরদারে নতুন বাধ্যতামূলক নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে। বেনেডিক্টের পরিবারের দীর্ঘ প্রচারণার পর ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। বেনেডিক্ট ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর স্কুলে গরুর দুধের প্রোটিনের সংস্পর্শে আসার পর প্রাণঘাতী অ্যানাফাইল্যাক্সিয়ায় আক্রান্ত হয়। ইনকোয়েস্টে বলা হয়, তার মৃত্যুর কারণ ছিল গরুর দুধের প্রোটিনের কারণে দুর্ঘটনাজনিত অ্যানাফাইল্যাক্সিস। তদন্তে আরও উঠে আসে, স্কুলে অ্যালার্জি প্রতিরোধের কিছু ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং জরুরি অবস্থায় অ্যাড্রেনালিন অটো-ইনজেক্টর ব্যবহারে দেরি হয়েছিল। বেনেডিক্টের জন্য স্কুলে তার বাবা-মায়ের দেওয়া ওট মিল্ক আলাদা করে রাখা হতো। কিন্তু ঘটনার দিন বিরতির পর তাকে যে পানীয় দেওয়া হয়েছিল, সেটি গরুর দুধের প্রোটিনের সংস্পর্শের সম্ভাব্য উৎস হয়ে ওঠে। শুরুতে তার বাড়ি থেকে আনা একটি বিস্কুটকে সম্ভাব্য কারণ মনে করা হলেও পরে তদন্তে সেটি অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার কারণ ছিল না বলে উঠে আসে। বেনেডিক্টের মৃত্যুর পর তার মা হেলেন ও বাবা পিটার ব্লাইথ স্কুলে অ্যালার্জি নিরাপত্তা জোরদারের জন্য প্রচারণা শুরু করেন। তাদের উদ্যোগের পর নতুন ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বেনেডিক্টস ল’। নতুন বিধিবদ্ধ নির্দেশনা অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোকে একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যালার্জি নিরাপত্তা নীতি তৈরি ও প্রকাশ করতে হবে। অ্যালার্জি সম্পর্কে সব কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং যেসব শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজন, তাদের পৃথক স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা রাখতে হবে। গুরুতর অ্যালার্জির ঘটনা ও কাছাকাছি বিপদের ঘটনাগুলোও নথিভুক্ত করে সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ছাড়া স্কুলগুলোকে জরুরি ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত অ্যাড্রেনালিন অটো-ইনজেক্টর মজুত রাখতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী প্রথমবার গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার শিকার হলেও যাতে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়, সেটিই এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য। ইংল্যান্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনা ৬ জুলাই ২০২৬ প্রকাশ করা হয়েছে এবং ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে তা কার্যকর হয়েছে। এই নিয়ম মূলত সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্কুল, একাডেমি, ফ্রি স্কুল, বিশেষায়িত স্কুল ও বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযোজ্য। বেনেডিক্টের পরিবারের প্রচারণার ফলে নতুন নিয়ম চালু হলেও তারা বলছে, শুধু নীতিমালা তৈরি করাই যথেষ্ট নয় - বাস্তবে শিক্ষক ও স্কুলকর্মীরা যেন তা সঠিকভাবে অনুসরণ করেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের একটি বোয়িং ৭৬৭ কার্গো বিমান রানওয়ে ছাড়িয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছে। স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ২টার দিকে অবতরণের পর বিমানটি রানওয়ের শেষ প্রান্ত পেরিয়ে যায়। ভয়াবহ দুর্ঘটনার ভিডিওতে বিমান থেকে আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, এটি ২১ এয়ার ফ্লাইট ৭৫৯৮, একটি বোয়িং ৭৬৭-৩০০ কার্গো বিমান। বিমানটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামির উদ্দেশে উড়েছিল। অবতরণের সময় বিমানটি রানওয়ে ছাড়িয়ে বিমানবন্দরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে গিয়ে অচল হয়ে পড়ে। মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ জানিয়েছে, রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বিমানটি একাধিক গাড়িতে আঘাত করে এবং আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনাস্থলে ৬০টির বেশি ফায়ার-রেসকিউ ইউনিট পাঠানো হয়। একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার কথা জানানো হলেও, তাদের আঘাতের মাত্রা বা প্রাণহানির বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি। দুর্ঘটনার পর মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং উড্ডয়ন-অবতরণে গ্রাউন্ড স্টপ জারি করা হয়। এতে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং ফ্লাইটে বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিমানটিকে সড়কের পাশে আগুনে জ্বলতে এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। এফএএ ঘটনাটি তদন্ত করছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট | রয়টার্স| অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্য বিরোধ আরও জোরালো করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার মুদ্রা বিনিময়ের ভারসাম্যকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এ পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া হবে না। ট্রুথ সোশ্যাল-এ করা ট্রাম্পের এই পোস্টটি দু’দেশের মধ্যে প্রসারিত হতে থাকা অর্থনৈতিক সংঘাতের সর্বশেষ বার্তা। এই বিরোধের কারণে ইতিমধ্যে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ভেস্তে গেছে এবং গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও দুগ্ধজাত পণ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে লক্ষ্য করে শত শত কোটি ডলারের সীমান্তে উভয় দেশই ভারী শুল্ক আরোপ করেছে। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার ডলারের ভারসাম্যহীনতা অগ্রহণযোগ্য। বছরের পর বছর ধরে এমনটি হয়ে আসছে কিন্তু আর নয়।’ কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা যে অংশীদারত্বের ওপর ভিত্তি করে বছরে শত শত কোটি ডলারের বাণিজ্য আবর্তিত হয়, তা এখন তীব্র চাপে পড়েছে। ফলে শক্তি (জ্বালানি), অটোমোবাইল, কৃষি এবং উৎপাদন খাতের মতো সমন্বিত সরবরাহ শৃঙ্খলগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। ট্রাম্পের দাবি, এই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থা চরমভাবে অটোয়ার (কানাডা) পক্ষে যাচ্ছে, যা মার্কিন শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর। তবে কানাডীয় কর্মকর্তারা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের নীতি কানাডার অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করছে। এই বিরোধ এখন সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন লেক অন্টারিও এর নাম পরিবর্তন করে লেক আমেরিকা রাখার একটি প্রস্তাব সমর্থন করে। পরবর্তীতে গুগল ম্যাপস এবং অ্যাপল ম্যাপসের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো মার্কিন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপে নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আপডেট করলে প্রতীকী এই সিদ্ধান্তটি আরও বড় আকার ধারণ করে। তবে কানাডীয় কর্মকর্তারা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। রোববারের পোস্টে ট্রাম্প নির্দিষ্ট কোনো নতুন নীতিগত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেননি। তবে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য যুদ্ধ এড়াতে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার এবং গত কয়েক সপ্তাহের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পরেই এই হুঁশিয়ারি এলো। ট্রাম্পের সর্বশেষ পোস্টের পর হোয়াইট হাউস বা কানাডীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক নতুন পদক্ষেপের বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে ট্রাম্পের এই বার্তা থেকে স্পষ্ট যে, প্রশাসন এখনো কানাডার বাণিজ্য অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে এবং আলোচনা স্থবির থাকলে অতিরিক্ত শুল্ক বৃদ্ধি বা অন্যান্য বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। এদিকে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া কানাডার পাল্টা শুল্ক ব্যবস্থায় তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, মার্কিন বাণিজ্য পদক্ষেপের সমপরিমাণ জবাব দেওয়া হবে । ওয়াশিংটন নতুন কোনো শাস্তি আরোপ করলে কানাডাও যে আরও কড়া পাল্টা ব্যবস্থা নেবে এই ঘটনা সেই আশঙ্কাকেই বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আটলান্টিক মহাসাগরে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের কাছে কেপ ভার্দের ফোগো দ্বীপে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই শিশু, স্কুলশিক্ষার্থী ও কিশোর-কিশোরী বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ফোগো দ্বীপের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি সড়কের ক্যাম্পানাস দে সিমা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে প্রায় ৩০ মিটার গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাসটিতে থাকা অনেক যাত্রীই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের ফোগোর সাও ফ্রান্সিসকো দে আসিস আঞ্চলিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ভ্রমণের আয়োজন কোনো স্কুল কর্তৃপক্ষ করেনি। বাসচালক নিজ উদ্যোগে প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ ধরনের ভ্রমণের আয়োজন করতেন। এবারের দুর্ঘটনায় তিনিও নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া নেভেস ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার পর দেশটিতে দুই দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
সন্তানদের স্কুলে ফেরার মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের আগে অভিভাবকদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ ও অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থাগুলো। তাদের মতে, একটি সাধারণ স্কুলের ছবিতেও এমন ছোট ছোট তথ্য থাকতে পারে, যা একত্র করে শিশুর পরিচয়, পরিবারের অবস্থান ও দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে ধারণা নেওয়া সম্ভব। সম্প্রতি সাসেক্স পুলিশের একটি সচেতনতামূলক প্রচারণায় দেখানো হয়েছে, সাধারণ পারিবারিক ছবিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে অপব্যবহার করে ভুয়া ও ক্ষতিকর ছবি তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে অনলাইনে প্রকাশিত শিশুদের ছবি নিয়ে এ ধরনের ঝুঁকি বাড়ছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছবির পেছনে থাকা রাস্তার সাইনবোর্ড, বাড়ির নম্বর, গাড়ির নম্বরপ্লেট কিংবা স্কুলের পোশাকে সেলাই করা শিশুর নাম-এর মতো তথ্য থেকেও পরিবারের ঠিকানা বা পরিচয় শনাক্ত করা যেতে পারে। একটি ছবিতে থাকা এমন অসংখ্য ছোট তথ্য দীর্ঘ সময় ধরে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করলে পরিবারের চলাফেরা সম্পর্কেও ধারণা তৈরি করা সম্ভব। গার্নসি পুলিশের গোয়েন্দা পরিদর্শক টম লো বলেন, সন্তানদের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ছবি তোলা বা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া বন্ধ করতে পুলিশ বলছে না। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার আগে ছবির মধ্যে থাকা সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরি। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য মানুষের পরিচয় শনাক্ত করার তথ্য সংগ্রহ সহজ করেছে। গার্নসি, জার্সি ও আইল অব ম্যানের তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের যৌথ পরামর্শেও এআইয়ের অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। গার্নসির ডেটা প্রোটেকশন কমিশনার ব্রেন্ট হোম্যান বলেন, সম্মতি ছাড়া ভুয়া বা ডিপফেক ছবি তৈরিতে এআই ব্যবহারের ঝুঁকি এখন শুধু তারকা বা রাজনীতিবিদদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; সাধারণ মানুষও এর শিকার হতে পারেন। ওডিপিএর উপ-ডেটা প্রোটেকশন কর্মকর্তা র্যাচেল মাস্টারটন বলেন, ছবিতে থাকা সামান্য তথ্যও অপরাধীদের কাজে লাগতে পারে। এমনকি কোনো কফির কাপের ওপর লেখা অভিভাবকের নামও শিশুর আস্থা অর্জনের মতো প্রতারণামূলক কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। স্কুলে যাওয়ার সময় সন্তানের ছবি পোস্ট করলে অজান্তেই বাড়িটি ওই সময়ে খালি থাকার ইঙ্গিতও দেওয়া হতে পারে। ছবির পেছনে থাকা অন্যান্য তথ্য থেকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এদিকে এআই দিয়ে তৈরি শিশু যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট বৃদ্ধির খবরের পর যুক্তরাজ্যে এআইয়ের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক আইনগত পদক্ষেপের আওতায় এআই ব্যবহার করে মানুষের পোশাক সরিয়ে দেওয়ার মতো ভুয়া ছবি তৈরির ‘নুডিফিকেশন’ টুল এবং এ ধরনের বিশেষায়িত ইমেজ জেনারেটরকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশু নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা ইন্টারনেট ম্যাটার্সও ছবি পোস্টের আগে গোপনীয়তা সেটিংস পর্যালোচনার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের মতে, ছবির পেছনে থাকা স্কুলের লোগো, রাস্তার সাইনবোর্ড বা অন্য কোনো শনাক্তকারী তথ্য সরিয়ে বা ছবি ক্রপ করে প্রকাশ করা উচিত। সংস্থাটি শিশুদের বয়স, শ্রেণি বা শিক্ষাবর্ষ, প্রিয় কাজ কিংবা শখের মতো তথ্য প্রকাশ্যে অতিরিক্তভাবে না দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে। এসব তথ্য একত্র করে অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন ব্যক্তি শিশুর একটি বিস্তারিত প্রোফাইল তৈরি করতে পারে। তবে পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পরামর্শ সন্তানদের ছবি তোলা বা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া বন্ধ করা নয়। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের আগে ছবিতে বাড়ি, স্কুল, রাস্তা, নাম বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত তথ্য দৃশ্যমান আছে কি না এবং পোস্টটি কারা দেখতে পারবে - তা যাচাই করাই মূল সতর্কতা।