সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে শপথ নিলেন আয়েশা ওয়াহাব
মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে শপথ নিলেন আয়েশা ওয়াহাব

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসে শপথ নিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক স্টেট সিনেটর আয়েশা ওয়াহাব। ৩৯ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট নেত্রী ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।   গত এপ্রিলে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির অভিযোগে সাবেক প্রতিনিধি এরিক সোয়ালওয়েল পদত্যাগ করার পর আসনটি শূন্য হয়। সেই শূন্য আসনেই বিশেষ নির্বাচনে জয়লাভ করে ইতিহাস গড়লেন আয়েশা।   রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে হেওয়ার্ড সিটি কাউন্সিলে দায়িত্ব পালন করা আয়েশা পরবর্তীতে স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হন। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সমাজকর্মে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করা এই রাজনীতিকের শৈশব কেটেছে ফস্টার কেয়ার বা পালক পরিবারে।   কংগ্রেসে তার প্রধান লক্ষ্য হবে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করা। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এরা আমাদেরই মানুষ। আমরা যদি বিভাজনের বদলে সাধারণ উদ্দেশ্য এবং রাজনীতির বদলে মানুষকে বেছে নিই, তবে আমেরিকার স্বপ্নকে আবারও সত্যি করে তুলতে পারব।   কারণ এই স্বপ্ন কেবল রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাটদের নয়, বরং উন্নত আগামীর প্রত্যাশা করা প্রতিটি আমেরিকানের।”   ইস্ট বে ডিস্ট্রিক্টের এই বিশেষ নির্বাচনে বার্ট (BART) বোর্ড ডিরেক্টর মেলিসা হার্নান্দেজকে পরাজিত করে কংগ্রেসের টিকিট নিশ্চিত করেন আয়েশা ওয়াহাব।   তবে তাদের এই রাজনৈতিক লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। আগামী নভেম্বরে পূর্ণাঙ্গ দুই বছর মেয়াদের জন্য আবারও ব্যালট যুদ্ধে মুখোমুখি হবেন এই দুই প্রার্থী।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৯:১৩
নিউইয়র্কের চিকটোওয়াগা টাউন কাউন্সিলে প্রথম বাংলাদেশি কাউন্সিলম্যান হলেন পারভেজ রহমান
নিউইয়র্কের চিকটোওয়াগা টাউন কাউন্সিলে প্রথম বাংলাদেশি কাউন্সিলম্যান হলেন পারভেজ রহমান

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো সংলগ্ন চিকটোওয়াগা টাউন কাউন্সিলে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মেম্বার বা কাউন্সিলম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পারভেজ রহমান। গত ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত দলীয় ভোটে ৪-২ ব্যবধানে তার এই নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। সাবেক ডেমোক্র্যাট কাউন্সিল মেম্বার স্টিফেন নোইকির পদত্যাগের কারণে শূন্য হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে তাকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।   এই নিয়োগের মাধ্যমে নিউইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্বের এক নতুন মাইলফলক রচিত হলো।   পারভেজ রহমানের শেকড় বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার ধীপুর ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রামে। তিনি ওই এলাকার আতাউর রহমানের সন্তান।   পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, মূলধারার রাজনীতির পাশাপাশি পেশাগত জীবনে তিনি প্রিন্সিপাল ফিন্যান্স বিজনেস পার্টনার হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।   নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার পর পারভেজ রহমান চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত এই পদে অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিলম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।   এরপর আগামী নভেম্বরে আসনটিতে স্থায়ী প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে তার এই অনন্য অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৮:৫৩
বাইডেনের নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকের রায়ে আবারও আটকাল ট্রাম্পের বার্থরাইট সিটিজেনশিপ আদেশ
বাইডেনের নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকের রায়ে আবারও আটকাল ট্রাম্পের বার্থরাইট সিটিজেনশিপ আদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের পরিধি সীমিত করার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ নির্বাহী আদেশ কার্যকর করার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন মেরিল্যান্ডের ফেডারেল বিচারক ডেবোরাহ এল. বোর্ডম্যান।   বুধবারের এই রায়ে বিচারক বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন উদ্যোগটি সংশ্লিষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে প্রায় নিশ্চিতভাবেই অসাংবিধানিক এবং এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে।   বিচারক বোর্ডম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগপ্রাপ্ত ফেডারেল বিচারক। তিনি এর আগে ট্রাম্পের ২০২৫ সালের বার্থরাইট সিটিজেনশিপ নির্বাহী আদেশ কার্যকরেও বাধা দিয়েছিলেন।   এবার ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সংশোধিত আদেশের বিরুদ্ধেও তিনি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা বা প্রিলিমিনারী ইনজাংশন জারি করলেন।   গত ৬ আগস্ট ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এর মাধ্যমে আগের আদেশের তুলনায় নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের বার্থরাইট সিটিজেনশিপ সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।   আদেশে বিশেষ করে বিদেশি সরকারের কর্মী, নির্দিষ্ট বিদেশি শত্রু হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের সন্তান এবং তথাকথিত বার্থ ট্যুরিজম বা সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু পরিস্থিতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল, নতুন আদেশটি সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে এবং আদালতের সিদ্ধান্তে যেসব সীমিত ব্যতিক্রমের সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর আওতায় কিছু শিশুকে বার্থরাইট সিটিজেনশিপ থেকে বাদ দেওয়া যেতে পারে।   তবে বিচারক বোর্ডম্যান সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তাঁর মতে, যে শ্রেণির শিশুদের নিয়ে মামলাটি হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করেছে। ফলে নতুন কোনো নির্বাহী আদেশ দিয়ে সেই সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করা যাবে না।   এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিচারকের এই রায় ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশকে স্থায়ীভাবে বাতিল করেনি। বরং মামলাটি চলমান থাকা অবস্থায় নির্দিষ্ট শ্রেণির শিশুদের ওপর আদেশটি কার্যকর করা বন্ধ রাখা হয়েছে।   ফলে ভবিষ্যতে মামলার পরবর্তী ধাপ এবং উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর বিষয়টির চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করবে।   গত ৩০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের বার্থরাইট সিটিজেনশিপ উদ্যোগ নিয়ে রায়ে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে যাদের বাবা-মা অবৈধভাবে বা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তারাও সাধারণভাবে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর অধীনে জন্মের সময় নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার রাখে।   সেই রায়ের পরই ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে অপেক্ষাকৃত সীমিত পরিসরে বার্থরাইট সিটিজেনশিপের নিয়ম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়।   বুধবারের রায়ে বিচারক বোর্ডম্যান বলেন, নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এমন শিশুদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাদের নাগরিকত্বের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে অবস্থান স্পষ্ট করেছে।   তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মামলার আওতাভুক্ত শিশুদের নাগরিকত্ব স্বীকৃতি দিতে বা নাগরিকত্বের নথি আটকে দিতে সরকারি সংস্থাগুলো ট্রাম্পের নতুন আদেশ ব্যবহার করতে পারবে না।   ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য আদালতের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন নির্বাহী আদেশটি সুপ্রিম কোর্টের রায় বিবেচনা করেই তৈরি করা হয়েছে এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বার্থরাইট সিটিজেনশিপ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতের আইনি দ্বন্দ্ব আরও দীর্ঘ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৮:৩০
মার্কিন শিক্ষকের ৫ হাজার ডলারের সহায়তায় মরুভূমির বুকে ৫০ হাজার গাছ, ২৭ বছর পর আবেগঘন পুনর্মিলন
মার্কিন শিক্ষকের ৫ হাজার ডলারের সহায়তায় মরুভূমির বুকে ৫০ হাজার গাছ, ২৭ বছর পর আবেগঘন পুনর্মিলন

১৯৯৯ সালের কথা। চীনের লুওয়াং শহরে তখন ইংরেজি পড়াতেন মার্কিন শিক্ষক রোনাল্ড সাকোলস্কি। একদিন টেলিভিশনে তিনি ইন ইউজেন নামের এক বৃক্ষপ্রেমী নারীর খবর দেখেন, যিনি মু উস মরুভূমির বিস্তার ঠেকাতে কেবল নিজের হাতেই গাছ লাগাচ্ছিলেন।   ইউজেনের এই অদম্য সংগ্রাম সাকোলস্কির হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তিনি বোস্টনভিত্তিক একটি সংগঠনের মাধ্যমে ৫ হাজার ডলার তহবিল সংগ্রহ করে চারাগাছ কেনার জন্য ইউজেনের কাছে পাঠিয়ে দেন।   ২০০০ সালে সাকোলস্কি যখন ইউজেনের সঙ্গে দেখা করতে যান, মু উস এলাকাটি ছিল অত্যন্ত রুক্ষ, বালুকাময় এবং দুর্গম। কিন্তু ইউজেন তার লড়াই থামাননি।   সেই অনুদানের টাকায় কেনা চারাগুলো কয়েক দশকের ব্যবধানে আজ ৫০ হাজারেরও বেশি গাছের এক সুবিশাল অরণ্যে পরিণত হয়েছে।   পরবর্তীতে ইউজেনের পরিবার ও সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সহায়তায় ওই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আরও বিপুল পরিমাণ গাছ রোপণ করে মরূদ্যান গড়ে তোলা হয়।   দীর্ঘ সময় পেরিয়ে ২০২৬ সালে এসে সেই মার্কিন শিক্ষকের খোঁজে অনলাইনে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন ইউজেন। দ্রুতই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে এবং সাকোলস্কির সাবেক শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে তাদের দুজনের মধ্যে আবারও যোগাযোগ স্থাপিত হয়।   অবশেষে গত আগস্টে সাকোলস্কি আবার চীনে ফিরে যান। অরডোস শহরে ইউজেনের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি সেই বিশাল জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হাঁটেন, যা তৈরিতে একদিন তার ওই ছোট্ট অনুদানটি বীজ হিসেবে কাজ করেছিল।   ছোট্ট একটি সহায়তার উদ্যোগ কীভাবে সময়ের সঙ্গে বিশাল রূপ নিতে পারে, এটি তারই এক বিরল দৃষ্টান্ত।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৮:২২
নিউইয়র্ক পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে সিলেটের ইকবালের নতুন মাইলফলক, ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদে পদোন্নতি
নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদে পদোন্নতি পেলেন সিলেটের ইকবাল হোসেন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) গোয়েন্দা শাখায় ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদে পদোন্নতি পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। এনওয়াইপিডির দীর্ঘ ইতিহাসে এই শীর্ষ পদে পদোন্নতি পাওয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশি তিনি।   সোমবার সকাল ১০টায় নিউইয়র্ক পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে ইকবালের হাতে পদোন্নতির সনদ তুলে দেন পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিস। তার এই সাফল্যে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উৎসবের আমেজ ও গভীর গর্বের সৃষ্টি হয়েছে।   সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের সন্তান ইকবাল হোসেন ১৯৯০ সালে মাত্র ছয় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা ইকবাল সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০৬ সালের জুলাই মাসে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন।   দীর্ঘ দুই দশকের কর্মজীবনে তিনি ৩২ ও ২৬ প্রিসিনক্ট, সন্ত্রাসবিরোধী ব্যুরোর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কমান্ড এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ব্যুরোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিভাগে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।   কাজের প্রতি একাগ্রতা ও নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে তিনি ডিটেকটিভ থার্ড গ্রেড এবং ২০২২ সালের এপ্রিলে ডিটেকটিভ সেকেন্ড গ্রেড পদে উন্নীত হন।   বিশেষ করে এনওয়াইপিডির অন্যতম চ্যালেঞ্জিং ‘ফোর্স ইনভেস্টিগেটিভ গ্রুপ’-এর ৫৪ নম্বর দলে কাজ করার সময় তার তীক্ষ্ণ মেধা ও পেশাদারিত্ব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রশংসা কুড়ায়, যার চূড়ান্ত স্বীকৃতি এই ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদোন্নতি।   ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী নিলুফা বেগম ও তিন ছেলেকে নিয়ে নিউইয়র্কের সাউথ ওজন পার্কে বসবাস করেন ইকবাল। পুলিশের কঠোর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে যুক্ত।   তার এই অনন্য অর্জন প্রবাসীদের জন্য শুধু গর্বের বিষয়ই নয়, বরং প্রবাসী তরুণ প্রজন্মের কাছে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও একাগ্রতার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৭:৫১
শিক্ষকতার পবিত্র দায়িত্ব ভুলে ১৪ বছরের ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক, আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন শিক্ষিকা
শিক্ষকতার পবিত্র দায়িত্ব ভুলে ১৪ বছরের ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক, আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন শিক্ষিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের দায়ে অভিযুক্ত এক সাবেক শিক্ষিকা আদালতে অঝোরে কেঁদেছেন। গত সোমবার রিভারসাইড সুপিরিয়র কোর্টে শুনানিকালে ভুক্তভোগী ওই কিশোরের মা তাদের পারিবারিক ট্রমা ও মানসিক বিপর্যয়ের বর্ণনা দেওয়ার সময় কাঠগড়ায় থাকা ৩৪ বছর বয়সী আমান্ডা লেই কুইনোনেজ কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রায় চার বছর আগে নিজের ওই ছাত্রের সঙ্গে জঘন্য এই সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি।   আমান্ডা কুইনোনেজ রিভারসাইডের এলেনর রুজভেল্ট হাইস্কুলের সাবেক শিক্ষিকা এবং ওয়াটার পোলো ও সাঁতারের কোচ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে তাকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়।   সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে এক অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে বিকৃত যৌন নিপীড়ন এবং তাকে যৌন উদ্দীপক সামগ্রী সরবরাহের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।   আদালতে ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা-মায়ের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষমা চেয়ে আমান্ডা স্বীকার করেন যে, একজন শিক্ষিকা হিসেবে তিনি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।   আদালতে ওই কিশোরের মা অশ্রুসিক্ত নয়নে জানান, শিক্ষিকার এমন ঘৃণ্য আচরণের কারণে তার ছেলেকে চরম মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।   ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অন্য শিক্ষার্থীদের কটূক্তি ও উপহাসের কারণে ভুক্তভোগী কিশোর ও তার বড় ভাইকে স্কুলের বেসবল দল ছাড়তে হয় এবং শেষ পর্যন্ত অন্য স্কুলে ভর্তি হতে বাধ্য করা হয়।   ভুক্তভোগী কিশোর জানিয়েছিল, অভিযুক্ত শিক্ষিকা তাকে বারবার বলতেন এই সম্পর্ক গোপন রেখে তাকে (শিক্ষিকাকে) রক্ষা করতে হবে।   ৫০ হাজার ডলারের বন্ডে জামিনে মুক্ত থাকা এই সাবেক শিক্ষিকাকে মঙ্গলবার পুনরায় আইনি হেফাজতে নেওয়ার কথা রয়েছে।   মানসিক মূল্যায়নের জন্য আপাতত তাকে স্টেট প্রিজনে পাঠানো হবে এবং আগামী ১০ নভেম্বর চূড়ান্ত সাজা ঘোষণার জন্য তাকে আবারও আদালতে হাজির করা হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৭:১৪
ক্যালিফোর্নিয়ায় তিন ভারতীয় বান্ধবীর মধ্যে দুজনের মৃত্যু, হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃতীয়জন
ক্যালিফোর্নিয়ায় তিন ভারতীয় বান্ধবীর মধ্যে দুজনের মৃত্যু, হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃতীয়জন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় গাড়ি চাপা দিয়ে এক বান্ধবীকে হত্যার অভিযোগে অপর এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার মাত্র দুই ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে তাদের আরেক ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর ছুরিকাহত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।   চাঞ্চল্যকর এই জোড়া খুনের ঘটনাটি স্থানীয় কমিউনিটিতে গভীর শোক ও রহস্যের জন্ম দিয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩২ বছর বয়সী অনিলা বেবির বিরুদ্ধে ৩৫ বছর বয়সী অঞ্জনা হরিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।   গত শুক্রবার দুপুরে মিলপিটাসের মিল ক্রিক অ্যাপার্টমেন্ট এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের কাছে দেওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি অনুযায়ী, অঞ্জনা হরি হাসিমুখে একটি ব্যাগ হাতে অনিলার ব্লু টয়োটা হাইল্যান্ডার গাড়ির দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন। সে সময় তাদের মধ্যে কোনো ধরনের ঝগড়া বা দ্বন্দ্বের লক্ষণ ছিল না।   কিন্তু হঠাৎ করেই অনিলা তীব্র বেগে গাড়ি চালিয়ে অঞ্জনাকে চাপা দেন এবং তিনটি পার্ক করা গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া অঞ্জনাকে দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রথমে ঘটনাটিকে সাধারণ দুর্ঘটনা বা ‘হিট-অ্যান্ড-রান’ হিসেবে ধারণা করা হলেও, পরে তদন্তে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে মিলপিটাস পুলিশ।   দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ পরই ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক মাইল দূরে একটি ওয়ালগ্রিনস পার্কিং লট থেকে অনিলা বেবিকে অসংলগ্ন অবস্থায় আটক করে পুলিশ। এ সময় তার হাত ও পায়ে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন ছিল। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে সান জোসে পুলিশের কাছে আরও একটি জরুরি কল আসে।   লিন্ডা ভিস্তা স্ট্রিটের একটি বাড়ি থেকে ৪০ বছর বয়সী অ্যান মেরি ম্যাথিউ নামের আরেক নারীর ছুরিকাহত মরদেহ উদ্ধার করে তারা। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।   নিহত দুই নারীই অভিযুক্ত অনিলার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিলেন বলে জানা গেছে। তিন নারী একই কমপ্লেক্সে থাকতেন বলে শুরুতে গুজব ছড়ালেও, পুলিশ জানিয়েছে এই দুটি মৃত্যুর ঘটনা সম্পূর্ণ আলাদা স্থানে ঘটেছে।   কিছু সংবাদমাধ্যমে দুই হত্যাকাণ্ডের জন্যই অনিলাকে দায়ী করা হলেও, পুলিশ এখন পর্যন্ত জনসম্মুক্ষে এই দুটির মধ্যে কোনো সরাসরি যোগসূত্র নিশ্চিত করেনি।   চাকরি হারানো বা বিষণ্ণতার কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে যে গুঞ্জন উঠেছিল, তা নাকচ করে দিয়েছেন তাদের পরিচিতরা। সান্তা ক্লারা কাউন্টি জেলে বিনা জামিনে আটক অনিলা বেবিকে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৬:৫৫
খালাকে মা সাজিয়ে গ্রিন কার্ড নেওয়ার অভিযোগ, আসল মাকে স্পনসর করতে গিয়ে ধরা মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য
খালাকে মা সাজিয়ে গ্রিন কার্ড নেওয়ার অভিযোগ, আসল মাকে স্পনসর করতে গিয়ে ধরা মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন জালিয়াতির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মার্কিন বিমানবাহিনীর এক সদস্য ও তার খালাকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। কলোরাডোর বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী মাইরা পল শুলেনবার্গ এবং তার ৩০ বছর বয়সী ভাগনে জন পল রিভেরার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব মিসৌরির ইউএস অ্যাটর্নি অফিস।   ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) নিবিড় তদন্তের পর তাদের এই সুপরিকল্পিত প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি রিভেরার বিরুদ্ধে শপথ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব অর্জন এবং জাল নথিপত্র ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে।   মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ফিলিপাইনে জন্মগ্রহণকারী শুলেনবার্গ পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। অন্যদিকে, তার ভাগনে রিভেরা ২০১৭ সালের মার্চ মাসে জে-১ (J1) এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এর কয়েক মাস পরই শুলেনবার্গ ইউএসসিআইএস-এর কাছে একটি পিটিশন (ফর্ম আই-১৩০) জমা দিয়ে দাবি করেন যে, রিভেরা তার নিজের সন্তান।   এই মিথ্যা দাবির সপক্ষে তিনি ফিলিপাইন থেকে সংগ্রহ করা একটি পরিবর্তিত বা জাল জন্মনিবন্ধন সনদও যুক্ত করেন। এই প্রতারণার ওপর ভিত্তি করেই রিভেরা প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডের মর্যাদা লাভ করেন।   স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার পর রিভেরা মার্কিন বিমানবাহিনীতে যোগ দেন এবং মিসৌরির হোয়াইটম্যান এয়ার ফোর্স বেসে কর্মরত অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন।   ওই আবেদনে তিনি ইমিগ্রেশন সুবিধা পেতে কোনো ধরনের মিথ্যা বা জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার কথা শপথপূর্বক অস্বীকার করেন। ফলশ্রুতিতে, ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন।   তবে তার এই প্রতারণার অবসান ঘটে যখন তিনি মার্কিন নাগরিক হিসেবে তার প্রকৃত মাকে স্পনসর করার উদ্যোগ নেন।   আসল মাকে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা করার জন্য তিনি ইউএসসিআইএস-এর কাছে যে আবেদনটি জমা দেন, সেখানে সম্পর্ক প্রমাণের জন্য তিনি নিজের আসল জন্মনিবন্ধন সনদটি যুক্ত করে বসেন।   সিস্টেমে পূর্বের এবং বর্তমান নথির মধ্যে অসামঞ্জস্যতা ধরা পড়লে তদন্ত শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাদের এই বিশাল জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হয়।   অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই ষড়যন্ত্রের দায়ে খালা শুলেনবার্গ সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন।   অন্যদিকে, ভাগনে রিভেরার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে এবং তার মার্কিন নাগরিকত্বও বাতিল হয়ে যেতে পারে।   ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই), হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন এবং মার্কিন বিমানবাহিনীর বিশেষ তদন্ত শাখার যৌথ প্রচেষ্টায় এই মামলাটির তদন্ত পরিচালিত হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৬:৩৩
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের ডানবারিতে আইসিইর সাঁড়াশি অভিযান, ৫০ জনের বেশি গ্রেপ্তার I ছবি: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের ডানবারিতে আইসিইর সাঁড়াশি অভিযান, ৫০ জনের বেশি গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ডানবারি শহরের রাস্তায় হঠাৎ করেই সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই (ICE)। গত ৩ সেপ্টেম্বর চালানো এই আকস্মিক অভিযানে অন্তত ৫০ জনকে আটক করেছেন ফেডারেল এজেন্টরা। রাজ্যজুড়ে অভিবাসন সংক্রান্ত ধরপাকড় ও নজরদারি আরও কঠোর করার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কানেকটিকাটের বিভিন্ন রাস্তায় এবং জনবহুল এলাকাগুলোতে সম্প্রতি আইসিই এজেন্টদের উপস্থিতি আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। ডানবারি শহরে চালানো সাম্প্রতিক এই অভিযানটি ছিল বেশ সুপরিকল্পিত।   আটককৃতদের বর্তমান অবস্থা বা তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। তবে ধারণা করা হচ্ছে, মূলত নথিপত্রবিহীন বা অবৈধ অভিবাসীদের লক্ষ্য করেই এই ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়েছে।   রাজ্যজুড়ে আইসিই-এর এমন আকস্মিক ও কঠোর তৎপরতায় স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। রাস্তায় ফেডারেল এজেন্টদের টহল বৃদ্ধির কারণে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।   মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এই ধরনের সাঁড়াশি অভিযানের সমালোচনা করলেও, ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এটি তাদের নিয়মিত আইন প্রয়োগকারী কার্যক্রমেরই একটি অংশ।   আগামী দিনগুলোতে কানেকটিকাটের অন্যান্য শহরেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৬:৮
৬ লাখ ডলারের জালিয়াতি, মনজিৎ সিং বেদিকে ধরতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা এফবিআইয়ের I ছবি: সংগৃহীত
৬ লাখ ডলারের জালিয়াতি, মনজিৎ সিং বেদিকে ধরতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা এফবিআইয়ের

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্তত ৬ লাখ ডলার আত্মসাতের অভিযোগে মনজিৎ সিং বেদিকে নিজেদের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার’ বা শীর্ষ পলাতক জালিয়াতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।   বেনিফিট ফান্ডের এই বিশাল অর্থ জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা হিসেবে তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে মার্কিন এই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।   পলাতক এই অপরাধীর অবস্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়তা করলে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।   এফবিআইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুন মাসের মধ্যে ওয়াশিংটনের টাকোমা শহরে এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক প্রতারণার ঘটনা ঘটে।   একটি সংঘবদ্ধ বেনিফিট ফ্রড স্কিম বা জালিয়াতি চক্রের মাধ্যমে অত্যন্ত সুকৌশলে মার্কিন সরকারের তহবিল থেকে এই অর্থ হাতিয়ে নিয়েছিলেন মনজিৎ।   দীর্ঘদিন ধরে পলাতক এই অপরাধীকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে জনসাধারণের সক্রিয় সহায়তা কামনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৫:৫৬
ইউরোপ যাত্রায় বাধা, সীমান্ত পারাপারের চেষ্টায় বসনিয়ায় ৩৬ বাংলাদেশিসহ আটক ৯৬
ইউরোপ যাত্রায় বাধা, সীমান্ত পারাপারের চেষ্টায় বসনিয়ায় ৩৬ বাংলাদেশিসহ আটক ৯৬

ইউরোপের অন্য দেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় ৩৬ বাংলাদেশিসহ ৯৬ জনকে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।   স্থানীয় সময় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশটির বিস্ত্রিকা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সীমান্ত পুলিশ এবং রিপাবলিকা শ্রপস্কার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদস্যরা যৌথভাবে অংশ নেন।   দেশটির সংবাদমাধ্যম সারায়েভো টাইমস ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বলকান অঞ্চলের সংবাদমাধ্যম দ্য ফার্স্ট বলকানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের নাগরিক। বিস্ত্রিকা এলাকাটি বসনিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ গ্রাদিস্কা সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছাকাছি।   কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম অভিযানে মোট ৬৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪০ জন পাকিস্তানি এবং ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর একই এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান চালিয়ে আরও ৩৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৮ জন আফগান, ১৩ জন বাংলাদেশি এবং দুজন পাকিস্তানি নাগরিক ছিলেন।   পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা ইউরোপের অন্যান্য দেশে প্রবেশের উদ্দেশ্যে বসনিয়া হয়ে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় স্থলপথের পাশাপাশি নৌপথ ব্যবহার করে নদী পার হওয়ারও চেষ্টা করা হয়। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পারাপারে ব্যবহৃত কয়েকটি নৌকা জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ।   এ ঘটনায় মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পাচারচক্রের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   আটকদের প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বানিয়া লুকা অঞ্চলের ‘সার্ভিস ফর ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স ফিল্ড সেন্টার’-এ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তের স্বার্থে প্রসিকিউটর কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বলকান রুটে অবৈধ সীমান্ত পারাপারের ঘটনা প্রায় ৭৪ শতাংশ কমেছে।   তবে সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার হওয়ায় মানবপাচারকারীরা আরও গোপন ও ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি ব্যবহার করছে বলে সতর্ক করেছে মানবাধিকার ও দাতব্য সংস্থাগুলো।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রার্থী দেশ হিসেবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ওপর সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারের চাপ রয়েছে। এ কারণে ফ্রন্টেক্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় গ্রাদিস্কা সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে।   তবে সাম্প্রতিক এই দুই অভিযান থেকে স্পষ্ট, কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও উন্নত জীবনের আশায় বলকান রুট ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৫:৪০
স্বজন ফিরবে, এই আশায় ‘ছবির দেয়ালে’ প্রিয় মুখ খুঁজছেন নেপালিরা, কাটছে উৎকণ্ঠার প্রহর I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
স্বজন ফিরবে, এই আশায় ‘ছবির দেয়ালে’ প্রিয় মুখ খুঁজছেন নেপালিরা, কাটছে উৎকণ্ঠার প্রহর

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালের দেয়ালে টাঙানো শত শত ছবির সামনে ভিড় করছেন স্বজনরা। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পাশাপাশি পরিচয় শনাক্ত না হওয়া মরদেহের ছবিও সেখানে রাখা হয়েছে।   গত সপ্তাহে হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় নেপালে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এখনো ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্যোগের এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ায় নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।   কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালের বাইরে দেয়ালে টাঙানো এসব ছবির সামনে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষ। কেউ ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন স্বজনের মুখ, আবার কেউ নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে জানতে চাইছেন, তাদের নিখোঁজ আত্মীয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া গেছে কি না।   নিখোঁজ চাচাতো বোনের সন্ধানে প্রতিদিন হাসপাতালে আসছেন স্বাতী সিগদেল। তিনি বলেন, ‘তিন দিন আগে আমরা এখানে ওর ছবি লাগিয়েছি। কিন্তু এখনও কোনো খবর পাইনি।’   কিছু ছবি নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম, পরিচয় ও যোগাযোগের নম্বরসহ পোস্টারে লাগানো হয়েছে। আবার কোনো কোনো ছবির নিচে হাতে লেখা হয়েছে নিখোঁজ ব্যক্তির পরিচয় ও অন্যান্য তথ্য।   একটি ছবিতে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা এক দম্পতির মাথার ওপরে বড় করে ‘নিখোঁজ’ লেখা রয়েছে। অন্য একটি ছবিতে এক তরুণের ছবি দেওয়ার পাশাপাশি তার বাম হাতের ট্যাটুর ছবিও রাখা হয়েছে, যাতে সহজে তাকে শনাক্ত করা যায়।   স্বপ্না নেউপানে নামের এক নারী বলেন, ‘আমরা একটি অলৌকিক ঘটনার আশায় আছি।’ তার মামার পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ। তিনি বলেন, ‘এই দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার ছবি দেখা খুবই কঠিন।’   এদিকে প্রায় ৯০০ মানুষ বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল নিখোঁজদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।   তবে অনেক পরিবার ইতোমধ্যে স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। কাঠমান্ডুর বাগমতী নদীর তীরে পশুপতিনাথ মন্দিরে এমন কয়েকটি পরিবার নিখোঁজ স্বজনদের প্রতিকৃতি তৈরি করে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছে।   এমনই একটি পরিবার ২১ বছর বয়সী সাবিনের প্রতিকৃতি তৈরি করে ধর্মীয় আচার পালন করে। হিন্দু পুরোহিত মন্ত্র পাঠ করার সময় পরিবারের সদস্যরা প্রতিকৃতিতে পানি ঢালেন।   পরে চিতায় আগুন দেওয়া হয়। সাধারণত মৃত ব্যক্তির জন্যই এ ধরনের ধর্মীয় আচার পালন করা হয়।   তবে হাসপাতালের ‘ছবির দেয়ালের’ সামনে দাঁড়িয়ে থাকা স্বাতী সিগদেল এখনো আশা হারাননি। গত সোমবার থেকে প্রতিদিন সেখানে আসছেন তিনি।   সিগদেল বলেন, ‘কোনো খবর পাওয়ার আশায় আমি প্রতিদিন আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে এখানে আসি।’   নেপালের এই ‘ছবির দেয়াল’ এখন নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে থাকা অসংখ্য পরিবারের কাছে শেষ আশ্রয় হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন নতুন ছবি যুক্ত হচ্ছে সেখানে, আর প্রতিটি ছবির সামনে দাঁড়িয়ে স্বজনরা খুঁজছেন একটি পরিচিত মুখ—হয়তো মিলবে প্রিয় মানুষটির কোনো সন্ধান।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৫:২২
ট্রাম্পকে হ ত্যার হু মকি দিয়ে ভিডিও, লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রেপ্তার এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মী
ট্রাম্পকে হ ত্যার হু মকি দিয়ে ভিডিও, লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রেপ্তার এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মী

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বেঞ্জামিন আজরিয়াহ সাউথওয়ার্থ নামের লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক এক পডকাস্টার ও এলজিবিটিকিউ (LGBTQ) অধিকারকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টলেক এলাকার নিজ বাসা থেকে ৪০ বছর বয়সী সাবেক এই টিভি ব্যক্তিত্বকে গ্রেপ্তার করা হয়।   মার্কিন ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি বিল এসাইলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা বা হুমকি বরদাশত করা হবে না এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ইন্ডিয়ানার বাসিন্দা সাউথওয়ার্থ একসময় খ্রিষ্টান যুব অনুষ্ঠান ‘দ্য রিমিক্স’ এবং ‘ইয়াস, জিসাস!’ পডকাস্টের উপস্থাপনা করতেন। ২০০৮ সালে নিজেকে সমকামী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর থেকে তিনি বিশ্বাসীদের মধ্যে এলজিবিটিকিউ অধিকার নিয়ে কাজ করছিলেন।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গত ৩১ মার্চ সাউথওয়ার্থ তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি গে কনভার্শন থেরাপি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বান জানান। এর কয়েক দিন পর তিনি আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে ওভাল অফিসে ট্রাম্পের পেছনে দাঁড়িয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করার অভিনয় করতে দেখা যায়।   প্রেসিডেন্টকে সরাসরি হত্যার হুমকির পাশাপাশি সাউথওয়ার্থের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীর পরিবারের ঠিকানা ও ফোন নম্বর ফাঁস বা 'ডক্সিং' করার অভিযোগও আনা হয়েছে।   এছাড়া গত ২৫ এপ্রিল হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে এক বন্দুকধারীর হামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও কিছু হুমকি দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছেন প্রসিকিউটররা। এসব সাইবার ক্রাইম, প্রেসিডেন্টকে হুমকি এবং ফোনে হয়রানির অভিযোগে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তাকে অভিযুক্ত করে আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৫:৩
এপস্টিন তদন্তে কংগ্রেসের সমন এড়িয়ে আদালতে লিওন ব্ল্যাক
এপস্টিন তদন্তে হাজির না হয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মামলা করলেন মার্কিন ধনকুবের লিওন ব্ল্যাক

মার্কিন ধনকুবের ও বিনিয়োগকারী লিওন ব্ল্যাককে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনকে নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের তদন্তে হাজির হওয়ার নির্দেশ থাকলেও তিনি সেখানে যাননি। বরং কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির জারি করা সমনকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি করেন ব্ল্যাক।   মামলায় ব্ল্যাক দাবি করেছেন, প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির জারি করা সমনগুলো অবৈধ। তার মতে, এসব সমনের সঙ্গে কমিটির আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যের কোনো বৈধ সম্পর্ক নেই। কংগ্রেসের সমনের মধ্যে ছিল এপস্টিন-সংক্রান্ত কিছু গোপনীয়তা চুক্তি জমা দেওয়া এবং শপথের অধীনে ক্যামেরার সামনে জবানবন্দি দেওয়া। ব্ল্যাকের দাবি, এসব চুক্তি প্রকাশ করা হলে এমন কিছু নারীর ব্যক্তিগত তথ্য সামনে চলে আসতে পারে, যারা নিজেদের তথ্য গোপন রাখার অধিকার চেয়েছিলেন।   ঘটনার সূত্রপাত গত জুনে। তখন এপস্টিনকে নিয়ে কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির সামনে স্বেচ্ছায় সাক্ষ্য দিতে হাজির হয়েছিলেন ব্ল্যাক। কিন্তু আইনপ্রণেতারা তাকে কয়েকটি গোপনীয়তা চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করার পর তিনি বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান। এরপর কমিটি তার বিরুদ্ধে সমন জারি করে এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পাশাপাশি ক্যামেরার সামনে শপথ নিয়ে জবানবন্দি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এবার সেই নির্দেশ মানার বদলে আদালতে গিয়ে সমনগুলোই চ্যালেঞ্জ করলেন তিনি।   গোপনীয়তা চুক্তি বলতে এমন একটি আইনি চুক্তিকে বোঝায়, যেখানে দুই পক্ষ সম্মত হয় যে তাদের মধ্যে থাকা নির্দিষ্ট কোনো তথ্য, ঘটনা বা ব্যক্তিগত বিষয় অন্য কারও কাছে প্রকাশ করা যাবে না। সাধারণত কোনো সম্পর্ক, চাকরি, ব্যবসায়িক চুক্তি বা বিরোধের মীমাংসার সময় এ ধরনের চুক্তি করা হয়। লিওন ব্ল্যাকের ক্ষেত্রে কংগ্রেস জানতে চাইছে, এপস্টিন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে এমন কোনো গোপনীয়তা চুক্তি তিনি করেছিলেন কি না এবং সেগুলোতে কী ধরনের তথ্য গোপন রাখার কথা বলা হয়েছিল।   ব্ল্যাকের আইনজীবী সুসান এস্ট্রিচ বৃহস্পতিবার বলেন, বিষয়টি এখন আর এপস্টিনের কর্মকাণ্ডের সত্যতা খুঁজে বের করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তার অভিযোগ, তদন্তের আড়ালে ব্ল্যাককে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। তার ভাষায়, গোপনীয়তা চুক্তিগুলো প্রকাশ করা হলে এমন কিছু নারীর পরিচয় বা ব্যক্তিগত তথ্য সামনে আসতে পারে, যাদের এপস্টিনের সঙ্গে কোনো পরিচিত বা প্রকাশ্য সম্পর্ক নেই। এ কারণেই কংগ্রেসের ক্ষমতার অপব্যবহারের জবাব দিতে আদালতে যেতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   ব্ল্যাকের আদালতে যাওয়ার খবর সামনে আসার পর কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির সদস্য রবার্ট গার্সিয়া বলেন, ব্ল্যাক দুটি কংগ্রেশনাল সমন অমান্য করছেন। তার ভাষায়, এপস্টিনের সঙ্গে ব্ল্যাকের সম্পর্ক এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে তার অনীহা—দুটিই গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি ব্ল্যাককে কংগ্রেস অবমাননার দায়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।   কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমারও ব্ল্যাকের অবস্থানে সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, আমেরিকান জনগণের সামনে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে ব্ল্যাক মামলা করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কোমারের মতে, এপস্টিনকে ঘিরে চলমান তদন্তে ব্ল্যাকের সাক্ষ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি সম্ভাব্য ফৌজদারি বিচারের জন্য মার্কিন বিচার বিভাগের কাছে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।   এদিকে এপস্টিনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে ব্ল্যাকের বক্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ব্ল্যাক জানিয়েছেন, তিনি এপস্টিনকে সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন। দীর্ঘ সময়ের সেই সম্পর্কের সময়ে এপস্টিনকে তিনি মোট ১৫৮ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিলেন বলেও কংগ্রেসের কাছে স্বীকার করেছেন। তবে ব্ল্যাকের দাবি, অর্থগুলো বৈধ কাজের জন্যই দেওয়া হয়েছিল এবং ২০১৯ সালের জুলাইয়ে এপস্টিনের বিরুদ্ধে যৌন পাচারের অভিযোগ ওঠার আগে তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।   মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশ করা এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতেও লিওন ব্ল্যাকের নাম রয়েছে। এসব নথির মধ্যে ছবি, ভিডিও এবং তদন্তের বিভিন্ন তথ্য রয়েছে, যেখানে এপস্টিনের সঙ্গে ব্ল্যাকের যোগাযোগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। তবে কোনো ব্যক্তির নাম এসব নথিতে থাকা বা কোনো ছবিতে দেখা যাওয়াকে নিজে থেকেই অপরাধের প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে না। ব্ল্যাকও এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।   ব্ল্যাককে ঘিরে বিতর্কের আরেকটি বড় অংশ সাবেক রুশ মডেল গুজেল গ্যানিয়েভাকে নিয়ে। আদালতের নথি অনুযায়ী, গ্যানিয়েভার সঙ্গে ব্ল্যাকের প্রায় ছয় বছরের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর গ্যানিয়েভা ব্ল্যাকের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন এবং একটি মামলা করেন। সেই মামলায় দাবি করা হয়েছিল, ২০১৫ সালে তার নীরবতা নিশ্চিত করতে ব্ল্যাক একটি গোপনীয়তা চুক্তি করেছিলেন।   গ্যানিয়েভার করা মামলাটি পরে আদালত খারিজ করে দেন। বিচারকের সিদ্ধান্তে তার স্বাক্ষর করা গোপনীয়তা চুক্তি এবং চুক্তির পরবর্তী সময়ে তিনি যে প্রায় ৯ মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন, সেই বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়। ব্ল্যাকের আইনজীবী গ্যানিয়েভার অভিযোগকে ‘স্পষ্টতই মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে ব্ল্যাক নিজে আগে দাবি করেছিলেন, তিনি গ্যানিয়েভার কাছ থেকে উল্টো চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন।   এপস্টিনের প্রকাশিত নথিতে গ্যানিয়েভাকে ঘিরে ব্ল্যাক ও এপস্টিনের যোগাযোগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। একটি ই-মেইলে এপস্টিন তার সহকারীকে গ্যানিয়েভার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সাবেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এই বিষয়টিও এখন কংগ্রেসের তদন্তের নজরে রয়েছে। ফলে ব্ল্যাকের গোপনীয়তা চুক্তি প্রকাশে আপত্তি এবং কংগ্রেসে হাজির না হয়ে আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত—দুটিই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   এর আগে ২০২১ সালে ব্ল্যাক তার সহপ্রতিষ্ঠিত অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট থেকে সরে দাঁড়ান। তখন তিনি বলেছিলেন, এপস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা জনসম্মুখের আলোচনা ও সংবাদমাধ্যমের নজরদারি তার স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল। এখন আবার সেই পুরোনো সম্পর্কই তাকে কংগ্রেসের তদন্তের মুখোমুখি করেছে। আর তদন্ত কমিটির সমন এড়িয়ে আদালতে করা নতুন মামলার পর বিষয়টি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:৫৮
টাইমস স্কয়ারে নি হত নারী ব্যাংক কর্মকর্তার ৫ মাসের শিশুকন্যার জন্য অনুদান ৫ লাখ ডলার ছাড়াল
টাইমস স্কয়ারে নি হত নারী ব্যাংক কর্মকর্তার ৫ মাসের শিশুকন্যার জন্য অনুদান ৫ লাখ ডলার ছাড়াল

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারে এক উন্মাদের আকস্মিক ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিন পিয়াসেন্টির (৩২) শিশুকন্যার জন্য খোলা তহবিলে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফেরার প্রথম দিনেই মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান এই নারী।   তার পাঁচ মাস বয়সী মেয়ে ম্যাডিসন ও স্বামী ফ্র্যাঙ্ককে সহায়তার উদ্দেশ্যে চালু করা ‘গোফান্ডমি’ পেজে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৫ হাজারেরও বেশি মানুষের অনুদানে সংগ্রহ করা হয়েছে ৫ লাখ ১ হাজার ডলারের বেশি অর্থ।   গত সোমবার টাইম স্কয়ারে সম্পূর্ণ বিনা প্ররোচনায় এরিনের ওপর হামলা চালায় পামেলা সিসনেরোস নামের এক নারী। ভয়াবহ এই হামলার পরপরই পুলিশের দিকে দুটি রান্নাঘরের ছুরি নিয়ে তেড়ে গেলে এনওয়াইপিডি কর্মকর্তাদের গুলিতে প্রাণ হারায় ওই ঘাতক।   তহবিল সংগ্রহকারীরা জানিয়েছেন, মা হওয়া ছিল এরিনের আজীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন এবং মেয়ে ম্যাডিসন তার জীবনে এনেছিল সবচেয়ে বড় আনন্দ। নিউজার্সির চেস্টারে স্বামী ফ্র্যাঙ্কের সঙ্গে সম্প্রতি দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছিলেন এই ব্যাংক কর্মকর্তা। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই সপরিবারে একটি আনন্দঘন রোড ট্রিপ থেকে ফিরেছিলেন তারা।   সহকর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের মতে, এরিনের জীবন তার মৃত্যুর মর্মান্তিক পরিস্থিতি দিয়ে সংজ্ঞায়িত নয়, বরং তিনি যেভাবে জীবনযাপন করতেন সেটাই তার আসল পরিচয়। তিনি পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি গভীরভাবে নিবেদিত ছিলেন এবং চারপাশের মানুষের মাঝে উষ্ণতা ও শক্তি ছড়িয়ে দিতেন।   ব্যাংক অব আমেরিকায় অত্যন্ত সম্মানজনক পদে অধিষ্ঠিত এই মেধাবী ও সফল নারীর অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মেয়ে ম্যাডিসনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা এবং এরিনের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর সুযোগ হিসেবেই সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই তহবিলে অনুদান দিচ্ছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:৩৩
বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-২ গ্রিন কার্ডের সুযোগ, কারা আবেদন করতে পারবেন
বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-২ গ্রিন কার্ডের সুযোগ, কারা আবেদন করতে পারবেন

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ খুঁজছেন বাংলাদেশি উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ইবি-২ গ্রিন কার্ড একটি উল্লেখযোগ্য পথ। বিশেষ করে জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের মাধ্যমে কিছু যোগ্য আবেদনকারী চাকরিদাতার স্পনসরশিপ ছাড়াই নিজের নামে গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন।   ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ যেসব দেশ আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত নয়, তাদের জন্য ইবি-২ বর্তমানে ‘কারেন্ট’। অর্থাৎ এ মুহূর্তে নির্দিষ্ট কোনো কাট-অফ তারিখ নেই।   ইবি-২ মূলত দুই ধরনের পেশাজীবীর জন্য। প্রথমত, উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী। সাধারণত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মাস্টার্স বা তার বেশি ডিগ্রি থাকলে, অথবা ব্যাচেলর ডিগ্রির পর সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অন্তত পাঁচ বছরের ধারাবাহিক পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকলে এই যোগ্যতা অর্জন করা যেতে পারে।   দ্বিতীয়ত, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা বা অন্যান্য পেশাগত ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী দক্ষতার অধিকারীরাও নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ইবি-২-এর জন্য যোগ্য হতে পারেন।   বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচিত পথ হলো জাতীয় স্বার্থে ছাড়। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে প্রথমে ইবি-২-এর মূল যোগ্যতা পূরণ করতে হয়।   এরপর দেখাতে হয়, তার প্রস্তাবিত কাজের যথেষ্ট গুরুত্ব ও জাতীয় গুরুত্ব রয়েছে, তিনি সেই কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য ভালো অবস্থানে আছেন এবং চাকরির অফার ও শ্রম সনদের শর্ত মওকুফ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র উপকৃত হবে।   এই কারণে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ, সাইবার নিরাপত্তা পেশাজীবী, বিজ্ঞানী, স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, শিক্ষা বা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পারেন এমন উদ্যোক্তাদের জন্য এই পথ প্রাসঙ্গিক হতে পারে।   তবে শুধু মাস্টার্স ডিগ্রি, ভালো চাকরি বা বেশি বেতন থাকলেই জাতীয় স্বার্থে ছাড় নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর নির্দিষ্ট কাজ এবং সেটির সম্ভাব্য জাতীয় গুরুত্বের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ প্রয়োজন।   সাধারণ ইবি-২ প্রক্রিয়ায় চাকরিদাতার স্পনসরশিপ এবং শ্রম সনদ প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের ক্ষেত্রে এসব শর্ত থেকে অব্যাহতি চাওয়া যায়। এরপর আবেদনকারী আই-১৪০ পিটিশন জমা দেন।   সেটি অনুমোদনের পর ভিসা নম্বর উপলব্ধ থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যোগ্য আবেদনকারী আই-৪৮৫-এর মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কনস্যুলার প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।   বর্তমানে বাংলাদেশিদের জন্য ইবি-২ ‘কারেন্ট’ থাকা একটি ইতিবাচক বিষয়। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করেছে, চাহিদা ও ভিসা ব্যবহারের হার বাড়লে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই ইবি-২-এর তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে বা সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ হতে পারে।   ইবি-২ জাতীয় স্বার্থে ছাড় সম্পর্কে জানতে ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিদের বিভিন্ন অনলাইন শিক্ষামূলক আয়োজনও রয়েছে। তবে কোনো কোর্স বা ওয়েবিনার ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শের বিকল্প নয়।   নিজের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, পেশাগত অর্জন এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রস্তাবিত কাজের গুরুত্ব বিবেচনা করে আবেদন করার আগে অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:১২
মার্কিন হা মলার জবাবে কুয়েত ও আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরানের ব্যাপক মিসাইল-ড্রোন হা মলা
মার্কিন হা মলার জবাবে কুয়েত ও আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরানের ব্যাপক মিসাইল-ড্রোন হা মলা

৩ সেপ্টেম্বর ভোরে কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন হামলায় বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি সামরিক বাহিনী।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির তথ্যমতে, কুয়েতের আহমেদ আল-জাবের বিমান ঘাঁটি এবং আমিরাতের আল মিনহাদ বিমান ঘাঁটিতে থাকা যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাডার, এয়ারক্রাফট হ্যাঙ্গার এবং সেনা অবস্থানকে লক্ষ্য করে এই হামলা করা হয়।   কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি ড্রোন ও মিসাইল সফলভাবে প্রতিহত করেছে। এদিকে জর্ডান, কুয়েত এবং আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের এই সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।   এর আগে, গত ১ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা এবং সামুদ্রিক সম্পদের ওপর ব্যাপক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।   তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, মার্কিন বাহিনী মূলত বেসামরিক এলাকা এবং সরকারি অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে। তাদের বিবৃতিতে জানানো হয়, হরমুজগান প্রদেশের কুহেস্তাকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় অন্তত ৭০ জনের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, গত ৩১ আগস্ট জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল হামলার জবাবেই তারা ইরানি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গত রাতে ইরানের নতুন নির্মিত অনেক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় পুনরায় বড় ধরনের হামলা চালাতে প্রস্তুত।   গত জুনে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া নিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও জুলাইয়ে তা ভেস্তে যায়। এরপর ৬০ দিনের একটি আলোচনার সময়সীমা গত ১৬ আগস্ট শেষ হওয়ার পর থেকেই নতুন করে এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:৪
নিউইয়র্কে ইউসুফ রাজু হত্যার সন্দেহভাজন গ্রেপ্তারে দুই বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার প্রশংসা
নিউইয়র্কে ইউসুফ রাজু হত্যার সন্দেহভাজন গ্রেপ্তারে দুই বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার প্রশংসা

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বাংলাদেশি কর্মী ইউসুফ রাজুকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এবং ব্রঙ্কসে আরেক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে খোঁজা সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারে ভূমিকা রাখায় দুই বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার প্রশংসা করেছে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)।   সংগঠনটির পক্ষ থেকে সার্জেন্ট ভূঁইয়া ও অফিসার আহমেদের সাহস, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্ববোধের প্রশংসা করে তাদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে।   ২৩ আগস্ট ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজ্জা রেস্টুরেন্টে গুলির ঘটনায় ৪৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি কর্মী ইউসুফ রাজু নিহত হন।   একই ঘটনায় ৩৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি কর্মী মোহাম্মদ রাসেল পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। পরে পুলিশ তদন্তে ৩১ বছর বয়সী জেসাস আকোস্তাকে এই হামলার সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে।   পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, ব্রুকলিনের ঘটনার দুই দিন পর ব্রঙ্কসের একটি বডেগায় গুলি চালিয়ে ৩৩ বছর বয়সী টেইভন শুলারকে হত্যা করা হয়। তদন্তকারীরা দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পাওয়ার পর আকোস্তাকে দুই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেই যুক্ত সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজতে শুরু করেন।   টানা কয়েকদিনের অনুসন্ধানের পর ২৯ আগস্ট ব্রঙ্কসের ওয়াটসন ও মরিসন অ্যাভিনিউ এলাকার একটি পার্ক থেকে আকোস্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, একজনের বেনামি ৯১১ কলের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।   আকোস্তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা ও দুটি হত্যা চেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। পরবর্তী আদালত কার্যক্রমে অভিযোগগুলো তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন এক বার্তায় বলেছে, কমিউনিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্জেন্ট ভূঁইয়া ও অফিসার আহমেদের সাহস, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা প্রশংসনীয়। তাদের অসাধারণ কাজের জন্য সংগঠনটি তাদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছে।   ইউসুফ রাজুর হত্যাকাণ্ড নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজুই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। তার মৃত্যুর পর বাংলাদেশে থাকা স্ত্রী, মা ও দুই মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তাকে দেশে নিয়ে দাফন এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটির পক্ষ থেকে সহায়তা সংগ্রহও করা হয়েছে।   একই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ব্রুকলিনে বাংলাদেশি কর্মী হত্যার অভিযোগ এবং এর মাত্র দুই দিন পর ব্রঙ্কসে আরেক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ থাকায় ঘটনাটি নিউইয়র্কজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। শেষ পর্যন্ত সন্দেহভাজনের গ্রেপ্তার স্বস্তি এনেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কমিউনিটিতে।   এই গ্রেপ্তারে দায়িত্ব পালনকারী দুই বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার স্বীকৃতি পাওয়াকে কমিউনিটির পক্ষ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৩:৪৭
পিতৃহারা মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়তে ৪০ বছর পুরুষ সেজে কঠোর পরিশ্রম এক মায়ের
পিতৃহারা মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়তে ৪০ বছর পুরুষ সেজে কঠোর পরিশ্রম এক মায়ের

মিশরের সিজা আবু দাউহ। স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র মেয়েকে বড় করতে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে পুরুষের পরিচয়ে কাজ করেছেন তিনি। ৬৫ বছর বয়সী এই নারী জীবনের বেশিরভাগ সময় পুরুষের বেশে কাটানোর পর এখন আর সেই জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে চান না।   ৪০ বছর আগে যখন আকস্মিকভাবে তার স্বামীর মৃত্যু হয়, সিজা তখন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ভাইয়েরা তাকে আবারও বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কোনো পাত্রই তার পছন্দ হয়নি।   সে সময় নারীদের জন্য কায়িক শ্রমের কাজের সুযোগ ছিল না, আবার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকায় কোনো অফিসের কাজও তিনি পাননি। নিরক্ষর সিজার সামনে অর্থ উপার্জনের আর কোনো উপায় না থাকায় কাজের সন্ধানে বাধ্য হয়ে তিনি পুরুষের ছদ্মবেশ ধারণ করেন।   নিজের সব চুল কেটে, ঢিলেঢালা পুরুষের পোশাক পরে তিনি ইটভাটা ও গমক্ষেতে শ্রমিকের কাজ শুরু করেন। সে সময় নিজের গায়ে ‘১০ জন পুরুষের সমান শক্তি’ ছিল বলে দাবি করেন সিজা।   তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শক্তি কমতে থাকায় একপর্যায়ে তিনি জুতা পালিশের কাজ বেছে নেন। নারীত্ব বিসর্জন দেওয়া কঠিন হলেও মেয়ের জন্য যেকোনো কিছু করতে রাজি ছিলেন বলে জানান এই মা।   ধীরে ধীরে তিনি পুরুষের এই স্বাধীন জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। পুরুষ পরিচয়ে থাকার কারণে তিনি যেমন হয়রানির হাত থেকে বেঁচেছেন, তেমনি পুরুষের সমান কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। চায়ের দোকানে অন্য পুরুষদের সঙ্গে বসে আড্ডা দিতেও তার ভালো লাগত।   স্থানীয় অনেকেই জানতেন তিনি নারী এবং তাকে ‘উম্মে হুদা’ বা হুদার মা বলে ডাকতেন। সিজা কখনো বিষয়টি লুকানোর চেষ্টাও করেননি। বর্তমানে পুরো লুক্সর শহর তার আসল পরিচয় জানে।   সম্প্রতি মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি তাকে শহরের ‘সেরা নিবেদিতপ্রাণ মা’ হিসেবে পুরস্কৃত করেছেন। এছাড়া তার উপার্জনের সুবিধার্থে স্থানীয় সরকার একটি ছোট দোকানও করে দিয়েছে। তবে ৬৫ বছর বয়সে এসে সিজা আর নারীর পোশাকে ফিরতে রাজি নন। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বাকি জীবনটা এই পুরুষের পোশাকেই কাটাবেন এবং এভাবেই পৃথিবী থেকে বিদায় নেবেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৩:৩১
যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ডলার বেতনেও ৪ জনের সংসার চালানো কঠিন হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ১ লক্ষ ডলার বেতন! খরচ বাদে চারজনের পরিবারে মাস শেষে কত থাকে? হিসাব চমকে দেবে

যুক্তরাষ্ট্রে বছরে এক লাখ ডলার বেতন শুনতে বেশ বড় অঙ্ক মনে হলেও, চারজনের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে এই অর্থ দিয়ে স্বচ্ছন্দে সংসার চালানো সবসময় সহজ নয়। স্বামী-স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে একটি পরিবারে যদি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী বছরে এক লাখ ডলার আয় করেন, তাহলে কর, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, অবসর সঞ্চয়, রেন্ট, খাবার, গাড়ি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ বাদ দেওয়ার পর মাস শেষে কতটা অর্থ হাতে থাকে, সেটিই হয়ে উঠতে পারে বড় প্রশ্ন।   যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, সারা বছর পূর্ণকালীন কাজ করা কর্মীদের মধ্যে ২৪ দশমিক ৯ শতাংশের বার্ষিক আয় ছিল এক লাখ ডলার বা তার বেশি। অর্থাৎ প্রায় ৭৫ শতাংশ কর্মীর আয় ছিল এক লাখ ডলারের নিচে। অন্যদিকে, শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৫ সালের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণকালীন কর্মীদের মধ্যম সাপ্তাহিক আয় ছিল ১ হাজার ২০৪ ডলার, যা বছরে প্রায় ৬২ হাজার ৬০০ ডলারের সমান।    অর্থাৎ এক লাখ ডলার আয় করা একজন কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ পূর্ণকালীন কর্মীর তুলনায় বেশি আয় করেন। কিন্তু চারজনের পরিবারের সব খরচ একা বহন করতে হলে সেই বাড়তি আয় কতটা স্বস্তি দেয়, তা নির্ভর করে পরিবারের জীবনযাত্রার ওপর।   ধরা যাক, পরিবারের একজনই কাজ করছেন এবং তার বার্ষিক বেতন এক লাখ ডলার। মাসে কর কাটার আগের মোট আয় দাঁড়ায় প্রায় ৮ হাজার ৩৩৩ ডলার। স্বামী-স্ত্রী যৌথভাবে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিচ্ছেন এবং তাদের দুই সন্তান রয়েছে। বেতন থেকে ফেডারেল ইনকাম ট্যাক্সের পাশাপাশি সোশ্যাল সিকিউরিটি ও মেডিকেয়ার কর কেটে নেওয়া হবে।   এর সঙ্গে যদি কর্মী বেতনের ৫ শতাংশ, অর্থাৎ মাসে প্রায় ৪১৭ ডলার, ৪০১(কে) তে জমা রাখেন এবং পরিবারের হেলথ ইন্স্যুরেন্সের জন্য মাসে প্রায় ৫০০ ডলার খরচ হয়, তাহলে কর ও এসব কাটাকাটির পর মাসে ব্যবহারযোগ্য আয় আনুমানিক ৬ হাজার ৮০০ থেকে ৭ হাজার ডলারের মতো হতে পারে। তবে প্রকৃত পেচেক নির্ভর করবে করের অবস্থা, হেলথ ইন্স্যুরেন্সের পরিকল্পনা, ৪০১(কে)-তে জমার পরিমাণ এবং পরিবারের অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর।   এবার চারজনের পরিবারের মাসিক খরচের একটি বাস্তবসম্মত হিসাব ধরা যাক। রেন্ট ২ হাজার ২০০ ডলার, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি মিলিয়ে ইউটিলিটি ৩৫০ ডলার, ইন্টারনেট ৭০ ডলার এবং ফোন বিল ১২০ ডলার হলে এসব খাতেই চলে যায় ২ হাজার ৭৪০ ডলার। চারজনের পরিবারের বাজার ও খাবারের জন্য মাসে ১ হাজার ডলার ধরলে মোট খরচ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৭৪০ ডলার।   এর সঙ্গে গাড়ির কিস্তি ৭০০ ডলার, গাড়ির ইন্স্যুরেন্স ২৫০ ডলার এবং গ্যাসের জন্য ২০০ ডলার যোগ হলে পরিবহন খাতে আরও ১ হাজার ১৫০ ডলার চলে যায়। হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ৫০০ ডলারসহ পোশাক, ব্যক্তিগত প্রয়োজন, ঘরের জিনিসপত্র, সন্তানদের স্কুল ও বিভিন্ন কার্যক্রম, ওষুধ এবং বিনোদনের খরচ ধরলে মাসিক ব্যয় আরও বেড়ে যায়।   এই হিসাব অনুযায়ী, পোশাক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জন্য ২০০ ডলার, ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য ২০০ ডলার, সন্তানদের স্কুল ও বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য ৩০০ ডলার, ওষুধ ও চিকিৎসার জন্য ১০০ ডলার এবং বিনোদন ও বিভিন্ন সদস্যতার জন্য ৫০ ডলার ধরলে সব মিলিয়ে মাসিক খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৬ হাজার ২৪০ ডলার।   অর্থাৎ মাসে ব্যবহারযোগ্য আয় যদি ৬ হাজার ৮০০ থেকে ৭ হাজার ডলারের মধ্যে থাকে, তাহলে নিয়মিত এসব খরচ মেটানোর পর মাস শেষে হাতে থাকতে পারে আনুমানিক ৫৬০ থেকে ৭৬০ ডলার। তবে এই অর্থকে পুরোপুরি সঞ্চয়যোগ্য অর্থ বলা যাবে না।   কারণ এই হিসাবের মধ্যে বড় কোনো গাড়ি মেরামত, জরুরি চিকিৎসা, বাড়ির মেরামত, ছুটিতে যাওয়া, উৎসবের কেনাকাটা, সন্তানদের বড় কোনো খরচ কিংবা অন্য কোনো অপ্রত্যাশিত ব্যয় ধরা হয়নি। এমন একটি বড় খরচ এলেই মাসের অবশিষ্ট অর্থ দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।   বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারের ক্ষেত্রে হিসাবটি আরও ভিন্ন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক বাংলাদেশি শুধু নিজেদের পরিবারের খরচই বহন করেন না, বাংলাদেশে থাকা বাবা-মা, সন্তান বা অন্যান্য স্বজনের জন্যও নিয়মিত অর্থ পাঠান। এর বাইরে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের সহযোগিতা, মসজিদ-মাদ্রাসায় অনুদান, পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব এবং সময়-সময় বাংলাদেশে যাতায়াতের বিমানভাড়ার মতো অতিরিক্ত খরচও অনেক পরিবারের বাজেটে থাকে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ডলার আয় করা একটি বাংলাদেশি পরিবারের হাতে মাস শেষে কয়েকশ ডলার থাকলেও, সেখান থেকে দেশে অর্থ পাঠানো ও অন্যান্য দায়িত্ব পালন করলে সঞ্চয়ের জন্য অবশিষ্ট অর্থ আরও কমে যেতে পারে।   আর এখানেই উঠে আসে বড় প্রশ্ন। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭৫ শতাংশ পূর্ণকালীন ও সারা বছর কাজ করা কর্মীর আয় এক লাখ ডলারের নিচে, সেখানে তারা কীভাবে রেন্ট, খাবার, গাড়ি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, সন্তানদের খরচ এবং পরিবারের অন্যান্য দায়িত্ব সামলাচ্ছেন? আর বাংলাদেশি প্রবাসীদের ক্ষেত্রে যখন দেশের পরিবারের জন্যও নিয়মিত অর্থ পাঠাতে হয়, তখন ভবিষ্যতের সঞ্চয় বা জরুরি সময়ের জন্য অর্থ রাখার সুযোগই বা কতটুকু?   বাস্তবে অবশ্য সবার পরিস্থিতি এক নয়। কেউ কম রেন্টের এলাকায় থাকেন, কেউ গাড়ির ঋণমুক্ত, কেউ দুইজনের আয় দিয়ে সংসার চালান, আবার কেউ চাকরিদাতার কাছ থেকে তুলনামূলক ভালো হেলথ ইন্স্যুরেন্স সুবিধা পান। অন্যদিকে বেশি রেন্ট, গাড়ির ঋণ, শিশুদের যত্নের খরচ বা বড় চিকিৎসা ব্যয় থাকলে এক লাখ ডলার আয় করেও পরিবারের বাজেট বেশ চাপে পড়ে যেতে পারে।   কাগজে এক লাখ ডলার ছয় অঙ্কের বেতন। কিন্তু চারজনের পরিবার, তার সঙ্গে বাংলাদেশে থাকা পরিবারের দায়িত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ যোগ করলে মাস শেষে কতটা অর্থ সত্যিই হাতে থাকে, সেই হিসাবই প্রবাসী জীবনের বাস্তব আর্থিক চিত্রটি সবচেয়ে ভালোভাবে তুলে ধরে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৩:৩