- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার হেফাজতে থাকা ৪১ বছর বয়সী আলিমামি সেসাই একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও নিউ জার্সির নিউয়ার্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পায়ের সঙ্গে বিছানায় শিকলবন্দী থাকছেন বলে অভিযোগ করেছেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে থাকলেও তাঁর বাগদত্তা ও পাঁচ মাস বয়সী ছেলেকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। সেসাইকে গত ২৮ মে আইসিই আটক করে। হারিয়ে যাওয়া চালকের লাইসেন্সের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় অভিবাসন-সংক্রান্ত নথি নিতে তিনি নিজেই নিউয়ার্কের একটি ফেডারেল ভবনে গিয়েছিলেন। সেখানে অপেক্ষা করার সময় একজন আইসিই কর্মকর্তা তাঁকে জানান, তদারকি আদেশ অনুযায়ী তিনি একটি নির্ধারিত সাক্ষাতে উপস্থিত হননি। এরপর তাঁকে আটক করা হয় এবং ইউনিয়ন কাউন্টির এলিজাবেথ কন্ট্রাক্ট ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়। জুলাইয়ের শুরুতে অন্ত্রের সমস্যার চিকিৎসার জন্য সেসাইকে নিউয়ার্কের ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস হাসপাতালে থাকার সময়ে তাঁর একাধিক অস্ত্রোপচার হয়েছে। এর মধ্যে গত মাসে তাঁর বৃহদান্ত্রের একটি অংশ অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর পেটের বড় ক্ষত বন্ধ রাখতে চামড়া প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ক্ষত থেকে তরল বের করার জন্য পেটে একটি নলও রাখা হয়েছে এবং অন্তত ছয় মাস তাঁকে কলোস্টমি ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালে থাকার সময়ে সেসাইয়ের ওজনও দ্রুত কমেছে। আটকের সময় তাঁর ওজন ২০০ পাউন্ডের বেশি ছিল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তা কমে ১৩৪ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। ক্ষত পরিষ্কার করার সময় চিকিৎসকদের সহায়তা করতে হয় বলেও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, চিকিৎসকেরা ক্ষত পরিষ্কার করার সময় কখনো কখনো বেশি চাপ প্রয়োগ করেন, তাই তিনি নিজেই ক্ষত পরিষ্কারের কাজে সহযোগিতা করেন। সেসাইয়ের অভিযোগ, শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও প্রায়ই তাঁর পা বিছানার সঙ্গে শিকল বা হাতকড়া দিয়ে আটকানো থাকে। এতে অস্বস্তি হয় এবং ঘুমাতেও সমস্যা হয় বলে জানান তিনি। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, হাসপাতালে থাকার সময়ে তাঁর বাগদত্তা জেনা কার্টার এবং তাঁদের পাঁচ মাস বয়সী ছেলে কিং সালিম সেসাইকে দেখতে দেওয়া হচ্ছে না। কার্টার জানান, সেসাই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর পর্যন্ত তিনি বিষয়টি জানতেন না। জুলাইয়ে তিনি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সেসাইয়ের শারীরিক অবস্থা বা চিকিৎসা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারেননি এবং তাঁকে দেখার অনুমতিও দেওয়া হয়নি। ২০ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রথমবার সেসাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারেন তিনি। পরে সেসাইয়ের একটি ছবি দেখে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কার্টার। ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আটক ব্যক্তি ও অন্য রোগীদের দর্শনার্থী প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য করা হয় কি না এবং এ বিষয়ে আইসিই কোনো নির্দেশনা দিয়েছে কি না। হাসপাতাল এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে জানায়, তাদের চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসা দল প্রত্যেক রোগীকে সহানুভূতিশীল ও মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের দাবি, সেসাইয়ের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। তাঁদের মতে, নিউ জার্সির এলিজাবেথ ও নিউয়ার্কের ডেলানি হলসহ বিভিন্ন আটককেন্দ্রের আটক ব্যক্তিদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিবেদনে হাসপাতালে ভর্তি আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে স্বজনদের তথ্য না দেওয়ার বিষয়টি দেশজুড়ে দেখা যায় এমন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেসাইয়ের চিকিৎসার পাশাপাশি এলিজাবেথ ডিটেনশন সেন্টারে থাকার সময় একজন নার্সের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মৌখিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘাড় ও কাঁধের ব্যথার চিকিৎসার জন্য সেখানে যাওয়ার সময় ওই ঘটনা ঘটে। ডিটেনশন সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কোরসিভিক জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করা হয়েছে এবং তা ভিত্তিহীন পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, তাদের নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে। সেসাইয়ের আইনজীবী র্যাচেল মারানডেট তাঁকে আইসিই হেফাজত থেকে মুক্ত করতে নিউ জার্সির ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছেন। আটক ব্যক্তিদের করা এ ধরনের আবেদনের মাধ্যমে সরকারকে কোনো ব্যক্তিকে হেফাজতে রাখার আইনি ভিত্তি আদালতের কাছে ব্যাখ্যা করতে হয়। সেসাইয়ের আবেদনটি নিউয়ার্কের ফেডারেল আদালতের বিচারক মাইকেল শিপের সামনে বিচারাধীন রয়েছে। সেসাই কিশোর বয়সে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির ১১ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় মা ও ভাইবোনদের সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছিলেন। তবে প্রায় এক দশক আগে গাঁজা-সংক্রান্ত একটি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর তাঁর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাতিল হয় বলে তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে সেসাইকে বহিষ্কার স্থগিত রাখার আদেশ এবং তদারকির আওতায় থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজও করতে পারতেন। সেসাই সায়রভিলে একটি গুদামে কাজ করতেন। কয়েক বছর আগে এক অনুষ্ঠানে জেনা কার্টারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের সন্তান জন্ম নেয় এবং তাঁরা নিউ জার্সিতে একটি বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছিলেন। সেসাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রই তাঁর বাড়ি এবং এখানেই তিনি তাঁর ছেলেকে বড় করতে চান। তাঁর ভাষ্য, জীবনের বেশির ভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাটানোর পর সিয়েরা লিওনে ফিরে যাওয়া তাঁর জন্য কঠিন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং কবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবেন, তা জানা নেই। সূত্র: এনজে ডটকম
ব্যবসা করার জন্য শ্বশুরের কাছ থেকে ১ কোটি টাকা যৌতুক দাবি এবং স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে বহুজাতিক ব্যাংকের কর্মকর্তা তাসলিম হোসেন তুর্যকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জখম সনদ, পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন এবং উচ্চ আদালতের আদেশ পর্যালোচনা করে সম্প্রতি চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করেন। পরে গত ২৩ আগস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, তাসলিম হোসেন তুর্য ঢাকার গুলশানে সিটিব্যাংক এনএ-এর অপারেশনস অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, চাকরি ছেড়ে ব্যবসা করার কথা বলে স্ত্রী উম্মে রুম্মান সিদ্দিকীর পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন তিনি। অভিযোগে বলা হয়, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে চাপ ও নির্যাতন করা হয়। এমনকি তাঁর আপত্তিকর ছবি ও পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আবারও টাকা দাবি করেন তুর্য। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে স্ত্রীকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারার অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগের চিকিৎসকের দেওয়া জখম সনদেও ভুক্তভোগীর পিঠে ভোঁতা আঘাতের উল্লেখ রয়েছে। ভুক্তভোগী উম্মে রুম্মান সিদ্দিকীর দাবি, ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর আচরণে নানা অসঙ্গতি দেখতে পান তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করলেই তুর্য তাঁর ওপর চড়াও হতেন। মারধরের পরদিন, ৫ অক্টোবর, স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ পাঠান তুর্য। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সালিশী কাউন্সিলের মাধ্যমে একপক্ষীয়ভাবে তালাক কার্যকর দেখানো হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, গুরুতর আহত অবস্থায় স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগ নিয়ে মামলা থেকে বাঁচতে তালাকের আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেন আসামি। পরে ভুক্তভোগী আদালতে সি.আর মামলা দায়ের করেন। হালিশহর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হানিফ তদন্ত শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ইয়াছিন আরাফাতের দাবি, আসামি জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে বাইরে অবস্থান করছিলেন এবং ভুক্তভোগীকে হুমকি দিচ্ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন বাতিলের পর তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। তবে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। এরপর গত ২৩ আগস্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাসলিম হোসেন তুর্যের জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মীর তোফাজ্জল হোসেন আদালতে দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেল নির্দোষ। বাদীর আচরণগত সমস্যার কারণে নিয়ম মেনেই তালাক দেওয়া হয়েছে এবং যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। জিয়াউল হক ইমন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার্স তালিকায় তুরস্কের নাগরিক অনুর সিমসেককে যুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য সামরিক যন্ত্রাংশ সরবরাহের সরকারি চুক্তিতে জালিয়াতির অভিযোগে তাকে খুঁজছে এফবিআই। তার অবস্থান বা গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। এফবিআইয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিমসেক ও তার সহযোগীরা একটি ফ্রন্ট কোম্পানি ব্যবহার করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সামরিক যন্ত্রাংশ সরবরাহের চুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেন। এসব যন্ত্রাংশ মার্কিন নৌবাহিনীর এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ও সাবমেরিন, মেরিন কোরের সাঁজোয়া যান এবং সেনাবাহিনীর ট্যাংকসহ বিভিন্ন সামরিক ব্যবস্থায় ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত প্রস্তুতকারক হিসেবে একটি কোম্পানিকে উপস্থাপন করা হলেও যন্ত্রাংশগুলো তুরস্কে তৈরি করা হতো। পরে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর সময় প্যাকেজিং থেকে তুরস্কে উৎপাদনের পরিচয় সরিয়ে ফেলা হতো এবং যন্ত্রাংশের উৎপত্তি সম্পর্কে মার্কিন সরকার ও সরকারি ঠিকাদারদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হতো। মামলায় আরও অভিযোগ রয়েছে, সামরিক প্রযুক্তির রপ্তানি নিয়ন্ত্রিত কিছু নকশা সংগ্রহ করে তুরস্কে যন্ত্রাংশ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এসব নকশা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নেওয়ার অনুমতি ছিল না। তদন্তকারীদের মতে, এই চক্রের মাধ্যমে অর্জিত কয়েক লাখ ডলার আন্তর্জাতিক ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে তুরস্কে পাঠানো হয়। মামলার আরেক আসামি ইয়ুকসেল সেনবল ২০২৪ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতারণার ষড়যন্ত্র, তারের মাধ্যমে প্রতারণা, অর্থ পাচার ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনসহ ২৫টি ফেডারেল অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। একই বছরের অক্টোবরে তাকে ১৫ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩০ ডলার ৯০ সেন্ট বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। সিমসেকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে প্রতারণার ষড়যন্ত্র, তারের মাধ্যমে প্রতারণা, অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্র এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলাটি এফবিআইসহ একাধিক মার্কিন তদন্ত সংস্থা তদন্ত করেছে। এফবিআই জানিয়েছে, সিমসেকের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকলে তা সংস্থাটিকে জানানো যেতে পারে। তার গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সিমসেক আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে পলাতক।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার সময় শুধু বাড়ির দাম ও মর্টগেজের কিস্তি হিসাব করলেই হয় না। প্রতি বছর কত প্রপার্টি ট্যাক্স দিতে হবে, সেটিও আগেই জানা জরুরি। কারণ এই ট্যাক্সের পরিমাণ রাজ্য, কাউন্টি ও স্থানীয় ট্যাক্সিং ইউনিটভেদে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে বাড়ির মালিকের মাসিক খরচে বড় প্রভাব ফেলে। প্রপার্টি ট্যাক্স সাধারণত স্থানীয় সরকার ও বিভিন্ন স্থানীয় ট্যাক্সিং ইউনিট আদায় করে। এই অর্থ স্কুল, রাস্তা, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন স্থানীয় সেবা পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মালিকের বসবাস করা বাড়ির কার্যকর প্রপার্টি ট্যাক্স হারের হিসাবে নিউ জার্সি ছিল ১.৮৮ শতাংশ, কানেকটিকাট ১.৫৪ শতাংশ এবং মিসৌরি ০.৮৯ শতাংশ। একই হিসাবে টেক্সাসের হার ছিল ১.৪০ শতাংশ। তবে এসব হারকে সরাসরি প্রতিটি বাড়ির নির্দিষ্ট ট্যাক্স বিল হিসেবে ধরা ঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে বাড়ির মূল্য নির্ধারণ ও অ্যাসেসমেন্টের নিয়ম এক নয়। কোথাও বাজারমূল্যের একটি নির্দিষ্ট অংশকে অ্যাসেসড ভ্যালু হিসেবে ধরে ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়। আবার স্থানীয় সরকার, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও অন্যান্য ট্যাক্সিং ইউনিটের আলাদা লেভিও থাকতে পারে। ফলে একই দামের দুটি বাড়ির প্রপার্টি ট্যাক্সও ভিন্ন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের একটি বাড়িতে ১ শতাংশ কার্যকর হার প্রযোজ্য হলে বছরে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলার, অর্থাৎ মাসে গড়ে প্রায় ২০৮ ডলার ট্যাক্স দাঁড়ায়। তবে নিউ জার্সি বা কানেকটিকাটের মতো তুলনামূলক বেশি প্রপার্টি ট্যাক্সের রাজ্যে একই দামের বাড়ির প্রকৃত ট্যাক্স বিল স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী আরও বেশি হতে পারে। তাই শুধু বাড়ির বিক্রয়মূল্য দেখে মাসিক খরচের হিসাব করা ঝুঁকিপূর্ণ। বাড়ি কেনার পরও ট্যাক্সের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাড়ির অ্যাসেসড ভ্যালু পুনর্মূল্যায়ন করলে ট্যাক্স বিল বাড়তে পারে। আবার স্থানীয় ট্যাক্স রেট পরিবর্তন হলেও মালিকের বার্ষিক খরচে প্রভাব পড়তে পারে। তাই বাড়ি কেনার আগে সাম্প্রতিক কয়েক বছরের প্রপার্টি ট্যাক্স রেকর্ড দেখা গুরুত্বপূর্ণ। টেক্সাসের ক্ষেত্রেও একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানা দরকার। সেখানে স্টেট প্রপার্টি ট্যাক্স নেই। তবে স্থানীয় কাউন্টি, সিটি, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও অন্যান্য ট্যাক্সিং ইউনিট প্রপার্টি ট্যাক্স আদায় করে। টেক্সাস কম্পট্রোলারের তথ্য অনুযায়ী, এসব স্থানীয় সংস্থাই ট্যাক্সের হার নির্ধারণ করে এবং সেই অর্থ স্থানীয় সেবায় ব্যবহার করে। বাড়ি কেনার আগে সম্ভাব্য ক্রেতাদের সংশ্লিষ্ট কাউন্টির অ্যাসেসর বা অ্যাপ্রেইজাল ডিস্ট্রিক্টের রেকর্ড থেকে বাড়িটির আগের প্রপার্টি ট্যাক্স কত ছিল তা যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে বাড়িটি হোমস্টেড এক্সেম্পশনের জন্য যোগ্য কি না, সেটিও জানা দরকার। কারণ এ ধরনের ছাড়ের নিয়ম ও সুবিধার পরিমাণ রাজ্য ও স্থানীয় এলাকার ওপর নির্ভর করে। তাই নতুন বাড়ি দেখার সময় শুধু মর্টগেজের মাসিক কিস্তি নয়, প্রপার্টি ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্স, সম্ভাব্য হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ফি এবং অন্যান্য নিয়মিত খরচ মিলিয়ে মোট মাসিক ব্যয় হিসাব করাই নিরাপদ। এতে বাড়ি কেনার পর অপ্রত্যাশিত খরচের চাপ কমানো সম্ভব।
বাংলাদেশি তরুণী বৃষ্টি শিকদারের সাফল্যের গল্প শুরু হয়েছিল স্কুলজীবনে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে। ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের পর তিনি বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নজরে আসেন। পরে হার্ভার্ড, এমআইটি, স্ট্যানফোর্ড, ক্যালটেক, কর্নেল, ডিউক ও কেমব্রিজসহ ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটিকে বেছে নেন তিনি। বৃষ্টি শিকদার ২০০৮ সালে প্রোগ্রামিং শুরু করেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার অনুপ্রেরণা থেকেই ধীরে ধীরে প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ গভীর হয়। ২০১২ সালের আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে তিনি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। ২০১৩ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডেও ব্রোঞ্জ পদক পান। একই বছর জাতীয় ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে চ্যাম্পিয়ন এবং বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডে রানারআপ হন। আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডের সরকারি তথ্যেও ২০১২ সালের তাঁর ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় বৃষ্টি ১৮টি বিদেশি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে ১৪টি থেকে ভর্তির সুযোগ পান বলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হার্ভার্ড, প্রিন্সটন ও অক্সফোর্ডসহ বিভিন্ন শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রথম আলোর প্রতিবেদনে হার্ভার্ড, এমআইটি, স্ট্যানফোর্ড, ক্যালটেক, ডিউক ও কেমব্রিজের নামও এসেছে। শেষ পর্যন্ত তিনি এমআইটিতে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করেন। এমআইটিতে পড়ার সময়ও থেমে থাকেননি বৃষ্টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বছরেই গুগলে ইন্টার্নশিপ করেন। এরপর ২০১৬ সালে কুয়েরা, ২০১৭ সালে ব্রিজওয়াটার এবং ২০১৮ সালে লন্ডনে গুগল ডিপমাইন্ডে ইন্টার্নশিপ করেন। গুগল ট্রান্সলেটের একটি দলে কাজ করার সময় ছবির ভেতরের তথ্যকে লিখিত টেক্সটে রূপান্তরের প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করেন তিনি। এমআইটি থেকে স্নাতক হওয়ার পর বৃষ্টি রুব্রিকে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন। সেখানে ডিস্ট্রিবিউটেড ফাইল সিস্টেম নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা পরে গুগলের চাকরির ইন্টারভিউতেও তাঁকে সহায়তা করে। ২০২২ সালের প্রথম আলোর সাক্ষাৎকারে বৃষ্টি জানান, তিনি প্রথমে গুগলের এল-ফোর পদের জন্য ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন। তাঁর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পরে এল-ফাইভ পদের জন্যও ইন্টারভিউ দেওয়ার সুযোগ পান এবং শেষ পর্যন্ত জ্যেষ্ঠ সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান। নারীদের প্রযুক্তি খাতে অংশগ্রহণ বাড়াতেও কাজ করেছেন বৃষ্টি। ২০২০ সালে তিনি ‘জার্নিজ ইন টেক’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম শুরু করেন, যেখানে প্রযুক্তি খাতে সফল বাংলাদেশি নারীদের অভিজ্ঞতা ও ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা করা হতো। তাঁর মতে, অনেক মেয়েই নিজেদের সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান থাকে এবং ব্যর্থতার ভয় তাদের বড় সুযোগ নেওয়া থেকে পিছিয়ে দেয়। সাম্প্রতিক একটি পেশাগত প্রোফাইলেও বৃষ্টিকে গুগলের জ্যেষ্ঠ সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি গুগলে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। ফলে ২০২২ সালের তথ্যের পরও তাঁর গুগলে জ্যেষ্ঠ সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করার সাম্প্রতিক প্রমাণ পাওয়া যায়। বৃষ্টির এই পথচলায় একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের সাফল্য রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে এমআইটির মতো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা, বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ এবং গুগলে জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার দৃষ্টান্ত। তাঁর গল্প বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সম্ভাবনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: প্রথম আলো
মিশরের এক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আল-সাক্কার মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে গ্রাহকদের বকেয়া ঋণ মাফ করে দিয়েছেন এবং প্রকাশ্যে ঋণের কাগজ ও প্রমিসরি নোট পুড়িয়ে দিয়েছেন বলে একটি গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল পোস্টে দাবি করা হয়, বাবার জন্য চলমান সদকায়ে জারিয়া হিসেবে তিনি এই ঋণ মাফের সিদ্ধান্ত নেন। তবে এই ঘটনার নির্দিষ্ট কোনো তারিখ, স্থান বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করে এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। মিশরের উল্লেখযোগ্য সংবাদমাধ্যম কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো বিশ্বস্ত সংবাদসূত্রেও ঘটনাটির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ভাইরাল গল্পে বলা হচ্ছে, মোহাম্মদ আল-সাক্কার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন গ্রাহকের কাছে পাওনা ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে সেই পাওনা আদায় না করে ঋণের কাগজপত্র পুড়িয়ে দেন। একই সঙ্গে বাবার জন্য এই কাজের সওয়াব অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন বলে পোস্টটিতে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এর মূল ভিডিও বা পোস্টটি কে প্রথম প্রকাশ করেছিলেন, সেটিও নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে মানবিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গল্পটি মানুষের নজর কাড়লেও এটিকে যাচাই করা সংবাদ হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই। এ ধরনের ভাইরাল মানবিক গল্পের ক্ষেত্রে মূল ভিডিও, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্রের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। মোহাম্মদ আল-সাক্কার ছেলে সত্যিই গ্রাহকদের ঋণ মাফ করে ঋণের কাগজ পুড়িয়ে দিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার ক্লার্কস্টনে চাকরি হারানোর পর তিন মাস ধরে রেন্ট পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছিল একটি অভিবাসী পরিবার। এর মধ্যে সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের কারণে পরিবারটি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাও হারায়। আর্থিক সংকট যখন চরমে, তখন দুই শিশুসহ চার সদস্যের পরিবারটিকে অ্যাপার্টমেন্ট থেকেও উচ্ছেদ করা হয়। তবে বিপদের সেই মুহূর্তে পরিবারটিকে একা থাকতে দেয়নি স্থানীয় কমিউনিটি। গত শুক্রবার উচ্ছেদের পর পরিবারের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও অন্যান্য মালপত্র অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে রেখে দেওয়া হয়। সেদিন রাতে তাদের থাকার মতো কোনো জায়গাও ছিল না। পরে স্থানীয় এক কমিউনিটি সদস্য বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানান। সেখান থেকেই শুরু হয় পরিবারটির জন্য সহায়তার উদ্যোগ। দ্রুত নতুন বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে এগিয়ে আসে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন। ক্লার্কস্টনের ইংলিশ ওকস অ্যাপার্টমেন্টস পরিবারটির জন্য নতুন একটি অ্যাপার্টমেন্টের ব্যবস্থা করে। পরদিনই পরিবারের সদস্যদের নতুন বাসায় স্থানান্তর করা হয়। তবে নতুন ঘরে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই পাশে ছিল কমিউনিটি। পরিবারের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালপত্র সরিয়ে নিতে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসেন। মালপত্র পরিবহনের জন্য ভ্যানও সরবরাহ করে আরিয়ানা হালাল স্টোর। উচ্ছেদের পর প্রথম রাতের আশ্রয়ের ব্যবস্থাও করা হয়। ক্লার্কস্টন কেয়ার্স ফান্ডের উদ্যোগে একজন স্বেচ্ছাসেবক পরিবারটিকে সেই রাতের জন্য নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন। একই সময়ে নতুন বাসার জামানত ও প্রথম মাসের রেন্টের জন্য প্রায় ১ হাজার ১০০ ডলার সংগ্রহ করা হয়। পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ অবশ্য সেখানেই থেমে থাকেনি। এখন তাদের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্যও কাজ শুরু হয়েছে। পরিবারটি জর্জিয়ার আফগান-আমেরিকান জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সংগঠনটি আফগান পরিবারগুলোকে বিভিন্ন ধরনের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান, সরকারি সুবিধা, হেলথ কেয়ার, শিক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত করতে কাজ করে। এই পরিবারের ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজা, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ, সরকারি সহায়তা ও স্থানীয় সেবার সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার রেফারেল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্লার্কস্টন কেয়ার্সের তথ্য অনুযায়ী, শহরটিতে ৪৪টির বেশি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করেন। তাদের অনেকেই অভিবাসী, শরণার্থী অথবা সীমিত আয়ের পরিবার। সংগঠনটির মতে, একটি চাকরি হারানো, বড় কোনো জরুরি খরচ বা অন্য কোনো আকস্মিক সংকট অনেক পরিবারের জন্য বাসস্থান হারানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ক্লার্কস্টন এলাকায় অভিবাসী ও শরণার্থী পরিবারগুলোর আবাসন সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন সংগঠন কাজ করছে। শহর কর্তৃপক্ষের স্থানীয় সম্পদ তালিকাতেও স্বল্পমূল্যের আবাসনের বিভিন্ন সুযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। এর পাশাপাশি আফগান পরিবারগুলোর জন্য আবাসন ও কর্মসংস্থান সহায়তায় কাজ করছে জর্জিয়ার আফগান-আমেরিকান জোট। এই পরিবারের সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খাদ্য সহায়তা হারানো। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির যোগ্যতার নিয়মে পরিবর্তন হয়েছে, যার প্রভাব কিছু অভিবাসী ও শরণার্থী পরিবারের ওপর পড়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট পরিবারের খাদ্য সহায়তা ঠিক কোন বিধানের কারণে বন্ধ হয়েছে, তা আলাদাভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। চাকরি হারানো, রেন্টের চাপ, খাদ্য সহায়তা হারানো এবং শেষ পর্যন্ত বাসস্থান হারানো—পরপর এসব সংকট পরিবারটির পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। বিশেষ করে দুই শিশু থাকা অবস্থায় এক রাতের জন্যও নিরাপদ আশ্রয় না থাকা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছিল। তবে উচ্ছেদের পরের ঘটনাটি দেখিয়েছে, সংকটে পড়া একটি পরিবারকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে কমিউনিটির সম্মিলিত উদ্যোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কেউ দিয়েছেন আশ্রয়, কেউ দিয়েছেন পরিবহনের ব্যবস্থা, কেউ সরিয়ে দিয়েছেন মালপত্র, আবার কেউ অর্থ দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। প্রাথমিক সহায়তার পর এখন পরিবারটির সামনে মূল লক্ষ্য হলো স্থায়ী কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া এবং নিজেদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রয়োজনীয় সময় ও সহায়তা পেলে পরিবারটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। তবে সেই পথ এখনো সহজ নয়। পরিবারটির আগামী দুই মাসের রেন্ট পরিশোধে আরও ৩ হাজার ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সহায়তাকারীরা। এই অর্থ সংগ্রহ করা গেলে পরিবারের হাতে নিয়মিত কাজ খোঁজা এবং আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কিছুটা সময় থাকবে। প্রাথমিক অর্থ সংগ্রহে ক্লার্কস্টন কেয়ার্স ফান্ডের এলি মায়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এরপর স্থানীয় আরও অনেক মানুষ পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন। একটি পরিবারের জন্য এই সহায়তা হয়তো একটি নতুন অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চাকরি হারানো থেকে শুরু করে খাদ্য সহায়তা বন্ধ এবং শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ—সবকিছুর পর তাদের আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি করাই এখন কমিউনিটির সামনে সবচেয়ে বড় কাজ। ক্লার্কস্টন কেয়ার্সের কার্যক্রমও মূলত সংকটে থাকা পরিবারগুলোকে জরুরি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল জীবনে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেয়। আর এই পরিবারের ঘটনায় সেই উদ্যোগেরই একটি বাস্তব চিত্র সামনে এসেছে।
নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নিহত ৩২ বছর বয়সী এরিন পিয়াচেন্তি ছিলেন ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং পাঁচ মাসের এক কন্যাশিশুর মা। সোমবার বিকেলে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কোনো পূর্বপরিচয় ছাড়াই এক নারী তাকে ছুরিকাঘাত করেন। পিয়াচেন্তির মৃত্যুর ঘটনাটি আরও মর্মান্তিক হয়ে উঠেছে, কারণ মাতৃত্বকালীন পাঁচ মাসের ছুটি শেষে সেটিই ছিল কাজে ফেরার প্রথম দিন। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ম্যানহাটনের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ার এলাকায় ছুরিকাঘাতের খবর পায় পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিসনেরাস প্রথমে ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেন। মাত্র ২০ সেকেন্ডের ব্যবধানে তিনি পিয়াচেন্তিকেও ছুরিকাঘাত করেন। পুলিশ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে এলোমেলো ও উসকানিবিহীন হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। গুরুতর আহত পিয়াচেন্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। অন্য আহত ব্যক্তি তাক কামকে বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। হামলার পর সিসনেরাস দুই হাতে ছুরি নিয়ে পুলিশের দিকে এগিয়ে যান। পুলিশ তাকে অস্ত্র ফেলে দিতে বললেও তিনি তা করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে দুইবার টেজার ব্যবহার করা হলেও তিনি পুলিশের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিয়াচেন্তি নিউ জার্সির চেস্টারে স্বামী ফ্র্যাঙ্কের সঙ্গে বসবাস করতেন। তাদের পাঁচ মাসের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়েকে নিয়ে ছবি প্রকাশ করেছিলেন তিনি। মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষ হওয়ার আগে মেয়ের সঙ্গে কাটানো পাঁচ মাসের জন্য কৃতজ্ঞতার কথাও জানিয়েছিলেন। শিক্ষাজীবনেও পিয়াচেন্তির ছিল শক্তিশালী একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড। ২০১৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে পলিটিক্যাল সায়েন্সে স্নাতক হওয়ার পর ২০২১ সালে ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেন। সেখানেই তার স্বামী ফ্র্যাঙ্কের সঙ্গে পড়াশোনা করেছেন তিনি। পরে ব্যাংক অব আমেরিকায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যোগ দেন। ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল পিয়াচেন্তির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। ব্যাংক অব আমেরিকাও এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়ে পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। এদিকে হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসনেরাস এর আগে পুলিশের নজরেও ছিলেন এবং তার দীর্ঘদিনের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার ইতিহাস ছিল বলে তার ভাই জানিয়েছেন। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই আগস্টে দেশজুড়ে ৫০ হাজার ৯২৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, এক মাসে গ্রেপ্তারের হিসাবে এটি সংস্থাটির নতুন রেকর্ড। এর আগে জুলাইয়ে ৫০ হাজার ২০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের গ্রেপ্তারের সংখ্যা জুলাইয়ের আগের রেকর্ডকে ৭১৭ জন ছাড়িয়ে গেছে। জুনে আইসিই ৪৩ হাজার ৯০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। ফলে জুন, জুলাই ও আগস্ট, টানা তিন মাসে সংস্থাটির মাসিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। আগস্টে গ্রেপ্তার হওয়া ৫০ হাজার ৯২৫ জনের সংখ্যা ৫১ হাজারের খুব কাছাকাছি হওয়ায় তা প্রায় ৫১ হাজার হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে সরকারি হিসাবে সঠিক সংখ্যা ৫০ হাজার ৯২৫ জন। জুলাইয়ের ৫০ হাজার ২০৮ জন এবং জুনের ৪৩ হাজার ৯০০ জনের তুলনায় আগস্টে গ্রেপ্তারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আগস্টের গ্রেপ্তারের পরিমাণ সেই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। জুনে ৪৩ হাজার ৯০০ জনকে গ্রেপ্তারের পর জুলাইয়ে এই সংখ্যা বেড়ে ৫০ হাজার ২০৮ জনে পৌঁছায়। এরপর আগস্টে আরও ৭১৭ জন বেশি গ্রেপ্তার করা হয়। তিন মাসের হিসাব অনুযায়ী, আগস্টের সংখ্যাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, আগস্টের এই সংখ্যা এক মাসে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে জুলাইয়ের ৫০ হাজার ২০৮ জনই ছিল এক মাসে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের সংখ্যা। আগস্টে সেই রেকর্ড আবারও অতিক্রম করা হয়েছে। আইসিই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালনকারী একটি সংস্থা। সংস্থাটির আগস্টের কার্যক্রমের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক মাসে প্রথমবারের মতো গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৫০ হাজারের সীমা অতিক্রম করেছে। এর মাধ্যমে মাসিক গ্রেপ্তারের সংখ্যা টানা তৃতীয় মাসে বেড়েছে। আগস্টের ৫০ হাজার ৯২৫ জনের গ্রেপ্তারের সংখ্যা জুনের তুলনায় ৭ হাজারেরও বেশি বেশি। একই সময়ে জুলাইয়ের তুলনায়ও আগস্টে গ্রেপ্তার বেড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যানের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের পরিমাণ তুলে ধরছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তথ্যে আগস্টের গ্রেপ্তারকে সংস্থাটির মাসিক কার্যক্রমের নতুন সর্বোচ্চ হিসাব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাইয়ে রেকর্ড গড়ার এক মাস পরই সেই সংখ্যা আবার ছাড়িয়ে গেছে। ফলে টানা তিন মাসের প্রতিটিতেই আগের মাসের তুলনায় বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে। সরকারি হিসাবে, জুনে ৪৩ হাজার ৯০০, জুলাইয়ে ৫০ হাজার ২০৮ এবং আগস্টে ৫০ হাজার ৯২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই তিন মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আগস্টেই সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। নতুন এই রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগ কার্যক্রমে আইসিইর সাম্প্রতিক তৎপরতার পরিমাণকে সামনে এনেছে।
প্যালেস্টাইনি জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে ১০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন পিংক ফ্লয়েডের সহপ্রতিষ্ঠাতা রজার ওয়াটার্স বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে এই ১০ লাখ ডলার অনুদানের তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। প্যালেস্টাইনের প্রতি ওয়াটার্সের দীর্ঘদিনের সমর্থনের তথ্য অবশ্য বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের জুনে প্যালেস্টাইনি গায়িকা মোনা মিয়ারির সঙ্গে তিনি পিংক ফ্লয়েডের বিখ্যাত গান ‘কমফোর্ট্যাবলি নাম্ব’-এর নতুন সংস্করণ প্রকাশ করেন। গানটির আয় প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ডে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সংস্থাটি প্যালেস্টাইনের অসুস্থ ও আহত শিশুদের চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে থাকে। প্যালেস্টাইন ইস্যুতে ওয়াটার্সের অবস্থান নতুন নয়। তিনি বহু বছর ধরে প্যালেস্টাইনি অধিকার নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলে আসছেন এবং বিভিন্ন মানবিক ও সচেতনতামূলক উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন। তবে ১০ লাখ ডলারের অনুদানের দাবিটি নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া প্রকাশ করা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। তাই অনুদানের অঙ্কটি নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না দেখে প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচনা করাই সমীচীন।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার লেক চার্লসে দারিদ্র্য ও খাদ্যসংকটের মধ্যে বেড়ে ওঠা রাসেল জে. লেডেট একসময় ব্যাটন রুজ জেনারেল হাসপাতালে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করতেন। কাজের ফাঁকে পড়াশোনা চালিয়ে এবং চিকিৎসকদের ছায়াসঙ্গী হওয়ার সুযোগ খুঁজতে খুঁজতে শেষ পর্যন্ত তিনি অর্জন করেছেন মলিকিউলার অনকোলজিতে পিএইচডি, টুলেন ইউনিভার্সিটি থেকে এমডি ও এমবিএ। বর্তমানে তিনি ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের ট্রিপল বোর্ড প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত। রাসেলের শৈশব কেটেছে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে। তার মা ছিলেন একজন সার্টিফায়েড নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং একাই দুই সন্তানকে বড় করেছেন। পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতেও অনেক সময় কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের। এই বাস্তবতাই রাসেলকে স্থির আয়ের আশায় যুক্তরাষ্ট্রের নেভিতে যোগ দিতে উৎসাহিত করে। পরে নেভিতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি উচ্চশিক্ষার পথ বেছে নেন। কলেজে পড়ার সময় পরিবারকে সহায়তা করতে ব্যাটন রুজ জেনারেল হাসপাতালে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি নেন রাসেল। হাসপাতালের পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে খুব কাছ থেকে চিকিৎসকদের কাজ এবং রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার দৃশ্য দেখার সুযোগ পান তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই চিকিৎসক হওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়। কাজের ফাঁকে তিনি ফ্ল্যাশকার্ড নিয়ে পড়াশোনা করতেন এবং চিকিৎসকদের কাছে শ্যাডো করার সুযোগ চাইতেন। তবে অনেকেই তাকে বলেছিলেন, সিকিউরিটি গার্ডরা চিকিৎসক হতে পারে না। তবে একজন চিকিৎসক তার সম্ভাবনা বুঝতে পেরেছিলেন। ব্যাটন রুজ জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি রেসিডেন্ট ডা. প্যাট্রিক গ্রিফেনস্টেইন তাকে রাউন্ডে সঙ্গে থাকার সুযোগ দেন। সেই সুযোগ রাসেলের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং চিকিৎসা ও গবেষণার পথে এগিয়ে যেতে তাকে আরও অনুপ্রাণিত করে। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি থেকে মলিকিউলার অনকোলজি ও টিউমার ইমিউনোলজিতে পিএইচডি অর্জন করেন রাসেল। এরপর টুলেন ইউনিভার্সিটিতে এমডি ও এমবিএ সম্পন্ন করেন। তার শিক্ষাজীবনের এই দীর্ঘ পথ তাকে একই সঙ্গে চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করেছে। চিকিৎসা পেশায়ও রাসেলের পথ ছিল ব্যতিক্রমী। তিনি ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির পাঁচ বছর মেয়াদি ট্রিপল বোর্ড প্রোগ্রামে ভর্তি হন, যেখানে পেডিয়াট্রিকস, জেনারেল সাইকিয়াট্রি এবং চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট সাইকিয়াট্রিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে তিনি এই প্রোগ্রামে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ হিসেবে ম্যাচ করেন এবং ২০২৭ সালে তার প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার কথা। চিকিৎসা ও গবেষণার পাশাপাশি কমিউনিটিতে প্রতিনিধিত্ব বাড়াতেও কাজ করছেন রাসেল। ২০১৯ সালে টুলেন ইউনিভার্সিটির আরও ১৪ জন কৃষ্ণাঙ্গ মেডিকেল শিক্ষার্থীর সঙ্গে লুইজিয়ানার হুইটনি প্ল্যান্টেশনে সাদা কোট পরা অবস্থায় ছবি তোলেন তিনি। দাসপ্রথার ইতিহাস বহনকারী ওই স্থানে তোলা ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে এই উদ্যোগ থেকেই গড়ে ওঠে দ্য ১৫ হোয়াইট কোটস। দ্য ১৫ হোয়াইট কোটস এখন একটি অলাভজনক সংগঠন হিসেবে চিকিৎসা পেশায় কম প্রতিনিধিত্ব পাওয়া শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছে। সংগঠনটি স্কলারশিপ, মেন্টরশিপ ও মেডিকেল স্কুলে ভর্তির প্রস্তুতিতে সহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপ্রেরণামূলক ছবি পৌঁছে দিচ্ছে। সংগঠনটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, তাদের ছবি বিশ্বের ১০ হাজারের বেশি শিক্ষাঙ্গনে পৌঁছেছে এবং তারা চিকিৎসা পেশায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তাও দিয়ে আসছে। রাসেলের গল্প তাই শুধু একজন সিকিউরিটি গার্ডের চিকিৎসক হয়ে ওঠার গল্প নয়। দারিদ্র্য, খাদ্যসংকট ও সীমিত সুযোগের মধ্য থেকেও শিক্ষা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের পথ তৈরি করার পাশাপাশি তিনি এখন এমন একটি প্রজন্মকে উৎসাহিত করছেন, যারা একসময় হয়তো চিকিৎসক হওয়াকেও নিজেদের জন্য অসম্ভব মনে করত।
এভারেস্টের খুম্বু হিমবাহে পর্বতারোহীদের কর্মকাণ্ডের কারণে বরফ ও তুষার গলার পরিমাণ নিয়ে নতুন গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে জ্বালানি পোড়ানোর তাপ এবং মানুষের প্রস্রাব থেকে স্থানান্তরিত তাপ মিলিয়ে এক মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৪৯২ টন বরফ ও তুষার গলে যেতে পারে। এর মধ্যে শুধু প্রস্রাবের তাপ থেকেই এক মৌসুমে প্রায় ১৫৪ টন বরফ গলার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গবেষণায় বলা হয়েছে, এভারেস্টের হিমবাহ গলার প্রধান কারণ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন। গবেষণাটি নেপালের এভারেস্টের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত খুম্বু হিমবাহকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক একটি গবেষক দল এই এলাকার ওপর মানুষের কর্মকাণ্ডের প্রভাব বিশ্লেষণ করেছে। গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মধ্যে নেপালের ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের জ্যেষ্ঠ জরিপ কর্মকর্তা কিম লাল গৌতমও ছিলেন। বসন্তের পর্বতারোহণ মৌসুমে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে হাজার হাজার পর্বতারোহী, গাইড ও সহায়ক কর্মী জড়ো হন। বর্তমানে সেখানে শুধু পর্বতারোহণের প্রস্তুতির ব্যবস্থা নয়, ক্যাফে, উচ্চগতির ইন্টারনেট, বড় পর্দার টেলিভিশন, গরম পানির ঝরনা এবং তাঁবুর মেঝেতে গরম রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে। ২০২৩ সালের বসন্ত মৌসুমে প্রায় ৫০ দিন ধরে বেস ক্যাম্পে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি তাঁবু ব্যবহৃত হয়েছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, ওই সময়ে বেস ক্যাম্প পরিচালনায় ৮২৪টি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের সিলিন্ডার, ১৮ হাজার ৯৩৫ লিটার কেরোসিন এবং ৫ হাজার ১৩০ লিটার পেট্রল ব্যবহার করা হয়েছিল। রান্না, গরম রাখা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানি থেকে তৈরি তাপের সঙ্গে মানুষের প্রস্রাব থেকে স্থানান্তরিত তাপও হিসাবের মধ্যে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে এই তাপীয় শক্তির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৪ মেগাজুল। গবেষকদের হিসাবে, এই পরিমাণ তাপ ২ হাজার ৪৯২ টন বরফ ও তুষার গলানোর জন্য যথেষ্ট। হিসাবের সম্ভাব্য ত্রুটি বিবেচনায় এই পরিমাণ ১ হাজার ৯৬৪ থেকে ৩ হাজার ২০ টনের মধ্যে হতে পারে। গবেষণায় মানুষের প্রস্রাবকে একটি উল্লেখযোগ্য তাপের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উচ্চতায় অবস্থান করার কারণে পানিশূন্যতা এড়াতে পর্বতারোহী ও গাইডরা প্রচুর পানি পান করেন। ফলে প্রতিদিন সম্মিলিতভাবে ৬ হাজার লিটারের বেশি প্রস্রাব তৈরি হতে পারে। কঠিন বর্জ্য সংরক্ষণ করে পাহাড় থেকে নিচে নামিয়ে নেওয়া হলেও বিপুল পরিমাণ প্রস্রাব সরাসরি হিমবাহের ওপর ফেলে দেওয়া হয়। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, শুধু প্রস্রাব থেকে স্থানান্তরিত তাপ এক মৌসুমে প্রায় ১৫৪ টন বরফ ও তুষার গলাতে পারে। গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, তাদের হিসাবের মধ্যে হেলিকপ্টার চলাচল, পর্বতারোহীদের শরীরের তাপ এবং মালপত্র বহনে ব্যবহৃত ইয়াকের মতো প্রাণীদের শরীর থেকে উৎপন্ন তাপ ধরা হয়নি। ফলে মানুষের কর্মকাণ্ড থেকে তৈরি মোট তাপের প্রভাব গবেষণায় হিসাব করা পরিমাণের চেয়েও বেশি হতে পারে। এদিকে ১৯৯১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত উপগ্রহের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা বেস ক্যাম্প এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির একটি প্রবণতাও দেখতে পেয়েছেন। তাদের হিসাবে, ওই এলাকায় ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রতি বছর গড়ে ০ দশমিক ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বেড়েছে, যা আশপাশের খুম্বু হিমবাহের ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির হারের প্রায় দ্বিগুণ। তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, এভারেস্টের হিমবাহ গলার মূল কারণ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন। একই সঙ্গে দ্রুত গলে যাওয়া হিমবাহের ওপর প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষকে এক জায়গায় জড়ো করে অতিরিক্ত তাপ তৈরি করা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় বলেও তারা সতর্ক করেছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় বেস ক্যাম্পকে হিমবাহের ওপর থেকে সরিয়ে কাছাকাছি কোনো স্থিতিশীল এলাকায় নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন গবেষকরা। গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, মানুষের কর্মকাণ্ডের তাপের কারণে এক মৌসুমে যে পরিমাণ বরফ ও তুষার গলার সম্ভাবনা রয়েছে, তা প্রায় একটি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুল ভরার সমপরিমাণ পানিতে পরিণত হতে পারে। এর মধ্যে প্রস্রাব থেকে উৎপন্ন তাপের অবদান প্রায় ১৫৪ টন। ফলে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে মানব কর্মকাণ্ডের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
চীনা সরকারের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি এজেন্ট হিসেবে কাজ করার দায়ে মার্কিন সাংবাদিক থমাস ওয়্যার পকেন টু-কে দুই বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ৫১ বছর বয়সী পকেন এর আগে অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছিলেন এবং এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন না বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পকেন চীনা সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নির্দেশনায় কাজ করেন। তিনি চীনের স্টেট সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য তথ্য সংগ্রহ, সম্ভাব্য সূত্র খোঁজা এবং বিভিন্ন প্রতিবেদন তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। এ কাজের জন্য তিনি অন্তত ১ লাখ ডলার পেয়েছেন বলে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে। পকেন ২০১০ সালে চীনে চলে যান এবং সেখানে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা শিনহুয়ার সম্পাদক হিসেবে কাজ করছিলেন। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, চীনে ‘ক্যাথি’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির নির্দেশে পকেন যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য তথ্যদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। তাকে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহে সক্ষম ব্যক্তিদের নিয়োগের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। তবে তার আইনজীবী জানিয়েছেন, পকেন চীনকে কোনো শ্রেণিবদ্ধ বা গোপন মার্কিন তথ্য দেননি। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পকেনকে দুই বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি আরও ৩৬ মাসের তত্ত্বাবধানে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ওই সময় তিনি বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন না। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় রাশুয়া জেলায় ভয়াবহ বন্যার সাতদিন পর ৪৫ দিনের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। ১ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে রাশুয়া ধাঙ্গে ত্রাণশিবিরে নেওয়া হয়। ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক ঢলে রাশুয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক বাড়িঘর ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই মাত্র দেড় মাস বয়সী শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে। উদ্ধারের পর শিশুটিকে কোলে করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে একজন উদ্ধারকারীকে শিশুটিকে কোলে নিয়ে বিপদপূর্ণ এলাকা থেকে বের করে আনতে দেখা যায়। ঘটনাটি অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং দুর্যোগের মধ্যে মানবিকতার একটি আশাব্যঞ্জক মুহূর্ত হিসেবে মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে। তবে শিশুটিকে কীভাবে এতদিন পর উদ্ধার করা হলো বা তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অতিরিক্ত কিছু দাবি এখনো নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত হয়নি। নিশ্চিত তথ্য অনুযায়ী, ৪৫ দিনের শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করে রাশুয়া ধাঙ্গে ত্রাণশিবিরে নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে যারা আশঙ্কা করছেন, তাদের দাবির বিপরীতে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও কর ফেরতের সাম্প্রতিক তথ্য অর্থনীতিতে শক্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফক্স নিউজের এক মতামতধর্মী প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের কর মৌসুমে আইআরএস প্রায় ২৯৬ বিলিয়ন ডলার কর ফেরত দিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থ আমেরিকানদের হাতে ফিরেছে। গড় কর ফেরতের পরিমাণও ৩৩৩ ডলার বেড়েছে। সরকারি নতুন কর আইনের আওতায় টিপস ও ওভারটাইম আয়ের ওপর নতুন কিছু ছাড় এই বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অনেক কর্মজীবী মানুষ আগের তুলনায় বেশি অর্থ হাতে রাখছেন। একই সময়ে ব্যবসাগুলোও যন্ত্রপাতি কেনা, প্রযুক্তি উন্নয়ন, স্থাপনা আধুনিকায়ন ও কর্মী নিয়োগে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। নতুন কর সুবিধার কারণে যোগ্য ব্যবসাগুলো বিনিয়োগের খরচ দ্রুত কর থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। প্রতিবেদনের লেখক জুলিও গনজালেজের মতে, এসব প্রবণতা অর্থনীতিতে মন্দার বদলে ব্যবসায়ীদের আস্থা ও সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এটি ফক্স নিউজের একটি মতামতধর্মী প্রতিবেদন, স্বাধীন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ বা সরকারি মূল্যায়ন নয়।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর জানুয়ারি ২০২৬ থেকে চালু থাকা অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিতাদেশ গত ২১ আগস্ট থেকে আর কার্যকর নেই। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করা যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ওই স্থগিতাদেশের বাধা আর থাকছে না। তবে ভিসা সংক্রান্ত সব ধরনের বিধিনিষেধ উঠে যায়নি। বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসায় জামানতের নিয়ম এখনো বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসায় নিরাপত্তা যাচাই আরও জোরদার করা হয়েছে। নির্দিষ্ট অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে অতিরিক্ত জামানতের ব্যবস্থাও চালু হয়েছে। অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ায় কী বদলেছে - চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল। এর আওতায় পরিবারভিত্তিক এবং চাকরিভিত্তিক স্থায়ী অভিবাসনের ভিসাও পড়েছিল। পরে আদালতের আদেশের পর ২১ আগস্ট থেকে ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ওই নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞার কারণে অভিবাসী ভিসা ইস্যু আটকে থাকার পরিস্থিতি শেষ হয়েছে। এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার জন্য যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিকরা এখন সংশ্লিষ্ট ভিসা শ্রেণি অনুযায়ী প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবেন। তবে স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়া মানেই ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ভিসার যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার, নিরাপত্তা যাচাই এবং অন্যান্য অভিবাসন আইনের শর্ত পূরণ করতে হবে। পরিবারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা - যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দার পরিবারের সদস্য হিসেবে যারা বাংলাদেশ থেকে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য আবেদন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে আগের ৭৫ দেশের স্থগিতাদেশ এখন আর বাধা নয়। তবে পরিবারের মাধ্যমে অভিবাসনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা অগ্রাধিকার তারিখ অনুযায়ী ভিসা পাওয়ার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। কোনো আবেদন অনুমোদিত হলেই সঙ্গে সঙ্গে ভিসা পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট শ্রেণিতে ভিসা নম্বর খালি থাকতে হবে এবং আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ যুক্তরাষ্ট্রের মাসিক ভিসা বুলেটিনের নির্ধারিত তারিখের মধ্যে থাকতে হবে। বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের ভিসা প্রক্রিয়ায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী কাগজপত্র যাচাই, আঙুলের ছাপ ও ছবি নেওয়া এবং কনস্যুলার সাক্ষাৎকারের ধাপ রয়েছে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কাগজপত্রও চাওয়া হতে পারে। চাকরির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চাকরিভিত্তিক অভিবাসী ভিসার ওপরও আগের ৭৫ দেশের স্থগিতাদেশ উঠে গেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট যোগ্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ওই স্থগিতাদেশের কারণে ভিসা ইস্যু আটকে থাকার বাধা নেই। তবে এ ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর চাকরির ধরন, আবেদন অনুমোদন, অগ্রাধিকার তারিখ, ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতা এবং অন্যান্য আইনগত শর্ত পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ কোনো কোম্পানি আবেদনকারীর পক্ষে আবেদন করলেই স্থায়ী ভিসা নিশ্চিত হবে না। প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করা হবে। বাংলাদেশিদের পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসা এখন কী অবস্থায়: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসার আবেদন বন্ধ নেই। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ভিসা জামানত বা ভিসা বন্ডের নিয়ম। বাংলাদেশ এই ভিসা বন্ডের আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। ফলে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসার জন্য অন্য সব দিক থেকে যোগ্য বিবেচিত হলে কনস্যুলার কর্মকর্তা তাকে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলারের জামানত দিতে বলতে পারেন। কত টাকা জামানত দিতে হবে, তা সাক্ষাৎকারের সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা নির্ধারণ করবেন। তবে জামানত দিলেই ভিসা নিশ্চিত হবে না। আবেদনকারীকে প্রথমে ভিসার অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কনস্যুলার কর্মকর্তার নির্দেশ পাওয়ার আগে নিজের উদ্যোগে এই জামানতের টাকা জমা দেওয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই টাকা জমা দিতে হবে। নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অনুমোদিত সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়লে অথবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে না গেলে জামানত ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা চালু, তবে যাচাই কঠোর: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার ভিসার আবেদন চালু রয়েছে। তবে শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকারীদের যাচাই আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও যাচাই করা হতে পারে। এ ধরনের আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল প্রকাশ্য রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি নিশ্চিত হওয়া, আর্থিক সক্ষমতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার উদ্দেশ্য এবং সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি নিরাপত্তা যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসংস্থানের ভিসায় কী অবস্থা: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন অস্থায়ী কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদন পুরোপুরি বন্ধ নেই। তবে কোন ভিসায় কী শর্ত থাকবে, তা ভিসার ধরন অনুযায়ী আলাদা।বিশেষ করে দক্ষ কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত এইচ-১বি এবং তাদের নির্ভরশীলদের এইচ-৪ ভিসার ক্ষেত্রে অনলাইন উপস্থিতি যাচাই জোরদার করা হয়েছে। অন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর চাকরি, নিয়োগকর্তা, আবেদন অনুমোদন এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। অভিবাসী ভিসায় আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন নিয়ম: অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ উঠে গেলেও আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের নিয়ম শিথিল হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আগস্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর কাছ থেকে জনকল্যাণের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় অতিরিক্ত আর্থিক জামানত চাওয়া হতে পারে। এটি বাংলাদেশি প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে কনস্যুলার কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে এ ধরনের জামানত চাইতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ : ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি ভিসা শ্রেণির আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন উপস্থিতির তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এর অর্থ এই নয় যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলেই কারও ভিসা বাতিল হবে। তবে আবেদনকারীর পরিচয়, ভ্রমণের উদ্দেশ্য, নিরাপত্তা এবং ভিসার যোগ্যতা যাচাইয়ের সময় সরকারি কর্মকর্তারা আইন অনুযায়ী বিভিন্ন তথ্য বিবেচনা করতে পারেন। তাই ভিসা আবেদনকারীদের জন্য আবেদনপত্রে সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশিদের ভিসা সাক্ষাৎকার কোথায় হচ্ছে: যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে আবেদনকারীদের নিজেদের নাগরিকত্ব বা বৈধ বসবাসের দেশ থেকেই ভিসার আবেদন ও সাক্ষাৎকারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসই স্বাভাবিক ভিসা প্রক্রিয়ার প্রধান কেন্দ্র। শুধু দ্রুত সাক্ষাৎকার পাওয়ার আশায় অন্য দেশে গিয়ে আবেদন করার ক্ষেত্রে বাড়তি জটিলতা তৈরি হতে পারে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য বর্তমান চিত্র: বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হলো, ৭৫ দেশের নাগরিকদের ওপর চালু থাকা অভিবাসী ভিসা ইস্যুর স্থগিতাদেশ উঠে গেছে। এর ফলে পরিবার বা চাকরির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ওই নির্দিষ্ট বাধা আর নেই। অন্যদিকে পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসার আবেদন চালু থাকলেও বাংলাদেশিদের জন্য ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলারের ভিসা জামানতের নিয়ম রয়েছে। শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদনও করা যাচ্ছে, তবে অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই আগের তুলনায় কঠোর হয়েছে। নির্দিষ্ট অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক জামানত চাওয়া হতে পারে।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের নারোওয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে শত বছরেরও বেশি পুরোনো একটি হিন্দু মন্দির ভেঙে পড়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২১ আগস্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মন্দিরটি ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে পাশের একটি মাদ্রাসার জমির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংখ্যালঘু অধিকারকর্মীরা। তবে পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, অতিবৃষ্টির কারণে মন্দিরটির কাঠামো ধসে পড়েছে। প্রায় ১০০ থেকে ১২৫ বছরের পুরোনো মন্দিরটি প্রায় এক হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে ছিল। পাকিস্তান মাসিহা মিল্লাত পার্টির চেয়ারম্যান আসলাম পারভেজ সাহোত্রা অভিযোগ করেছেন, মন্দিরের ইট, গম্বুজের ধাতব অংশসহ বিভিন্ন সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি ২৮ আগস্ট পাঞ্জাবের অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে লিখিত আবেদন করে ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। সংখ্যালঘু সংগঠনগুলো মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ এবং ধর্মীয় স্থাপনাটির জমিতে কথিত দখল সরানোরও দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, মন্দিরসংলগ্ন জমি আগে একটি মাদ্রাসার কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। তবে সংখ্যালঘুদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় পাকিস্তানের সরকারি কর্তৃপক্ষ। দেশটির সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্পত্তি দেখভালের দায়িত্বে থাকা ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টির কারণে মন্দিরের কাঠামোর একটি অংশ ধসে পড়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে এখনো স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। ঘটনাটি পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্থাপনা সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পুলিশের কাছ থেকে ডাকাতি মামলার এক আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের দাবি, স্থানীয় কয়েকজন নারী ও স্বজনদের হট্টগোলের সুযোগ নিয়ে আসামি পালিয়ে যান। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, তাকে হাতকড়াসহ পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে মো. আসির মিয়া (৩২) নামের ওই আসামি নিজের ফেসবুক থেকে লাইভে এসে হাতে থাকা হাতকড়া দেখিয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দামোধরতপী গ্রামের কাছে দামোধরতপী পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর রাত ১০টার দিকে আসির মিয়া ফেসবুক লাইভে আসেন। আসির মিয়া দামোধরতপী গ্রামের মৃত শফিক মিয়ার ছেলে। ফেসবুক লাইভে তিনি দাবি করেন, শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নির্দেশে উপপরিদর্শক (এসআই) নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে আটক করতে আসেন। এ সময় পুলিশ তাকে হাতকড়া পরানোর চেষ্টা করে। তিনি পুলিশের কাছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখতে চাইলেও তা দেখানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দামোধরতপী গ্রামের বাসিন্দা মো. জিয়াউল হক বেগের করা একটি ডাকাতি মামলায় আসির মিয়া এবং তার দুই ভাই নাছির মিয়া ও বাচ্ছু মিয়া আসামি। বুধবার রাতে এসআই নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে আসির মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে হঠাৎ হট্টগোল শুরু হয়। এ সময় আসির মিয়া ফেসবুক লাইভে ঘটনার বিবরণ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তার স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাকে পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর আসির মিয়াকে পুনরায় গ্রেপ্তারে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান ও তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। দামোধরতপী গ্রামের বাসিন্দা ও পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় সদস্য মো. আজির উদ্দিন বলেন, আসির মিয়াকে আটকের সময় হইচইয়ের মধ্যে সুযোগ বুঝে তিনি পুলিশের হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলী উল্লাহ বলেন, ‘হাতকড়া নিয়ে আসামি পালিয়েছে, তা ঠিক নয়।’ তিনি জানান, নিয়মিত মামলার আসামি হিসেবে আসির মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর কয়েকজন নারী ঝামেলা সৃষ্টি করলে সেই সুযোগে তিনি পালিয়ে যান। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ফিরছে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশাল রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। দেশে ফেরার আগে গত বুধবার থাইল্যান্ডের উপকূলে নোঙর করে রণতরীটি। আর সেটি দেখতে সমুদ্রতীরে ভিড় করেন বহু মানুষ। তবে রণতরীটির বর্তমান অবস্থা দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। একসময় ঝকঝকে ও চকচকে অবস্থায় দেখা গেলেও এবার এর নিচের অংশে বড় বড় জায়গাজুড়ে মরিচা দেখা গেছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশ্ন উঠেছে—এত শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক একটি মার্কিন রণতরীর এমন অবস্থা হলো কেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে মূল কারণ দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করা। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত বছরের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে। এরপর টানা প্রায় ২৮৬ দিন সমুদ্রে অবস্থান করেছে রণতরীটি। এ সময় এটি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এবং নৌ-অবরোধে অংশ নেয়। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে রণতরীর পানির নিচের অংশে মরিচা পড়া স্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সমুদ্রের লবণাক্ত পানি দীর্ঘ সময় ধরে ধাতব অংশের সংস্পর্শে থাকায় এ ধরনের ক্ষয় তৈরি হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন কার্ল স্কুসজার, যিনি আব্রাহাম লিংকনের মতো রণতরীতে তিনবার সমুদ্র অভিযানে ছিলেন, সিএনএনকে বলেন, কোনো জাহাজ ৬০ দিন বা তার বেশি সময় সমুদ্রে মোতায়েন থাকলে পানির নিচের অংশে মরিচা দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। তার মতে, যুদ্ধ বা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানে থাকা অবস্থায় সমুদ্রে থাকা জাহাজের এই মরিচা সাধারণত পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। কারণ মরিচা পরিষ্কার ও নতুন করে রং করতে হলে জাহাজের পানির স্তরের নিচের অংশে গিয়ে কাজ করতে হয়। সাবেক এই নৌ কর্মকর্তা জানান, রণতরীটি বন্দরে ফেরার পর মরিচা পরিষ্কার ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণে প্রায় ৩০ দিন সময় লাগতে পারে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ থাইল্যান্ডে অবস্থানকালেও সম্পন্ন করা হতে পারে। অর্থাৎ, রণতরীটির নিচের অংশে মরিচা দেখা দিলেও এটি বড় ধরনের ক্ষতির লক্ষণ নয়। বরং দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থেকে সামরিক দায়িত্ব পালনের স্বাভাবিক ফল হিসেবেই বিষয়টিকে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
পেনসিলভেনিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার, আবাসন ও আইনি সহায়তা পাওয়ার বিভিন্ন সরকারি ও কমিউনিটি সেবা রয়েছে। বিশেষ করে নতুন আসা পরিবারের জন্য নিজের জিপ কোড ব্যবহার করে এসব সেবা খুঁজে নেওয়া সহজ। সবার আগে কাজে লাগতে পারে পেনসিলভেনিয়া ২১১। ২১১ নম্বরে ফোন করে বা নিজের জিপ কোড জানিয়ে কাছাকাছি খাবার, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরি, শিক্ষা ও অন্যান্য সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়। সেবাটি বিনামূল্যে এবং ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। চাকরির জন্য পেনসিলভেনিয়ার সরকারি ক্যারিয়ারলিংক ব্যবহার করা যেতে পারে। সেখানে চাকরি খোঁজা ও আবেদন করার পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, চাকরি খোঁজার প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার সহায়তা পাওয়া যায়। বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি, ইংরেজি শেখার ক্লাস এবং প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষার সুযোগও জিপ কোড অনুযায়ী খুঁজে নেওয়া যায়। ফিলাডেলফিয়ার ফ্রি লাইব্রেরিতে নতুন অভিবাসীদের জন্য ইংরেজি শেখা ও নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতির বিভিন্ন রিসোর্স রয়েছে। খাবারের প্রয়োজন হলে পেনসিলভেনিয়া ২১১-এর মাধ্যমে কাছাকাছি ফুড প্যান্ট্রি, বিনামূল্যের খাবার ও অন্যান্য খাদ্য সহায়তা খুঁজে পাওয়া যায়। একইভাবে আবাসন ও বাড়িভাড়ার সহায়তার তথ্যও পাওয়া যায়। ড্রাইভার লাইসেন্স বা স্টেট আইডির জন্য পেনডটের ড্রাইভার লাইসেন্স ও ফটো সেন্টার জিপ কোড দিয়ে খুঁজে নেওয়া যায়। তাই পেনসিলভেনিয়ায় নতুন হলে নিজের জিপ কোড দিয়ে সরকারি ও স্থানীয় সেবাগুলো খুঁজে দেখুন। চাকরি, স্কুল, খাবার, আবাসন বা অন্যান্য সহায়তার জন্য ২১১ এবং ক্যারিয়ারলিংক হতে পারে ভালো শুরু।