- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
নাটোরে হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ ফিরে পেয়েছেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার ওয়েবার। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর সকালে ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে তাঁর হাতে উদ্ধার করা ম্যাকবুকটি তুলে দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। উদ্ধারে ভূমিকা রাখায় নাটোর সদর থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তবে ল্যাপটপের সঙ্গে খোয়া যাওয়া ক্যামেরাটি এখনো পাওয়া যায়নি বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুরস্কার পাওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনসুর রহমান ও উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। পুলিশ সদর দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে আজকের পত্রিকা জানিয়েছে, বিদেশি পর্যটকের অভিযোগের পর ল্যাপটপ উদ্ধার এবং পেশাদারত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এই পুরস্কার দেন আইজিপি। হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশে আসেন ওই জার্মান পর্যটক। ৭ অক্টোবর তিনি নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান। দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। স্টেশনের অপেক্ষাকক্ষে ল্যাপটপ ও ক্যামেরা রেখে পাশের একটি এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান ক্রিল। ফিরে এসে জিনিসগুলো খুঁজে না পেয়ে নাটোর থানায় পুলিশের সহায়তা চান। তাঁর ল্যাপটপে আগের ছয় মাসের কাজের তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিল বলে পুলিশ সদর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর নাটোর সদর থানা, জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশের একাধিক দল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাটোরের কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়। ল্যাপটপটি ওই দোকানে পাওয়া গেলেও যাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁরা চুরির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানিয়েছেন নাটোরের পুলিশ সুপার শরিফুল হক। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তাঁরা ট্রেনে ল্যাপটপটি পেয়েছিলেন। হারানো ক্যামেরা উদ্ধার ও চুরিতে জড়িতদের ধরতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি। ল্যাপটপ ফিরে পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ক্রিল। বাংলাদেশ ভ্রমণের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কাজের প্রশংসা করেন আইজিপি। পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত পেশাদার সেবা দেওয়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটকবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে পুলিশের সব ইউনিটকে নির্দেশনা দেন। সূত্র: আরটিভি
নিউ ইয়র্ক সিটিতে ডেন্টাল ইন্স্যুরেন্স না থাকলেও কম খরচে দাঁতের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকারি হাসপাতাল, কমিউনিটি হেলথ সেন্টার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লিনিকে আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে ছাড় পাওয়া যায়। কিছু প্রতিষ্ঠানে দাঁত পরিষ্কার ও নির্দিষ্ট প্রতিরোধমূলক সেবা বিনা খরচেও দেওয়া হয়। তবে সব চিকিৎসা ফ্রি নয় এবং একেক প্রতিষ্ঠানের ফি, যোগ্যতা ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়ম আলাদা। এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের মাধ্যমে দাঁতের চিকিৎসা নেওয়া যায়। এনওয়াইসি কেয়ারের তথ্য অনুযায়ী, সদস্য ও অন্য ইন্স্যুরেন্সবিহীন রোগীদের জন্য ডেন্টাল সেবায় স্লাইডিং ফি ব্যবস্থা রয়েছে। এতে রোগীর আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে খরচ নির্ধারণ করা হয়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও উপযুক্ত চিকিৎসাকেন্দ্রের তথ্য জানতে কল করা যাবে ১-৮৪৪-৬৯২-৪৬৯২ নম্বরে। ম্যানহাটনে এই নেটওয়ার্কের গভর্নর কেন্দ্রের ঠিকানা ২২৭ ম্যাডিসন স্ট্রিট। ব্রুকলিনে কাম্বারল্যান্ড কেন্দ্র ১০০ নর্থ পোর্টল্যান্ড অ্যাভিনিউ এবং ইস্ট নিউ ইয়র্ক কেন্দ্র ২০৯৪ পিটকিন অ্যাভিনিউতে অবস্থিত। কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসে রুজভেল্ট কেন্দ্রের ঠিকানা ৩৭-৫০, ৭২তম স্ট্রিট। এসব কেন্দ্রে কোন ডেন্টাল সেবা পাওয়া যাবে এবং নতুন রোগী নেওয়া হচ্ছে কি না, তা কেন্দ্রীয় অ্যাপয়েন্টমেন্ট নম্বরে জেনে নেওয়া যাবে। ব্রঙ্কসের বাসিন্দাদের জন্য বেলভিস কেন্দ্রের ঠিকানা ৫৪৫ ইস্ট ১৪২তম স্ট্রিট। কুইন্সে এলমহার্স্ট হাসপাতালের ঠিকানা ৭৯-০১ ব্রডওয়ে। উভয় প্রতিষ্ঠানেই ডেন্টাল চিকিৎসক রয়েছেন। নির্দিষ্ট চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও আর্থিক সহায়তার নিয়ম আগে নিশ্চিত করতে হবে। কমিউনিটি হেলথ সেন্টারগুলোর মধ্যে চার্লস বি. ওয়াং কমিউনিটি হেলথ সেন্টার একটি বিকল্প। প্রতিষ্ঠানটির ডেন্টাল ক্লিনিক রয়েছে ম্যানহাটনের ১২৫ ওয়াকার স্ট্রিটের দ্বিতীয় তলায় এবং কুইন্সের ফ্লাশিংয়ে ১৩১-৭২, ৪০তম রোডে। দুই কেন্দ্রের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নম্বর ৭১৮-৫৮৭-১১১১। এখানে দাঁতের পরীক্ষা, ক্লিনিং, এক্স-রে, ফিলিং, ক্রাউন, দাঁত তোলা, রুট ক্যানেল এবং ডেনচারসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি Medicaid গ্রহণ করে এবং যোগ্য রোগীদের আয়ভিত্তিক ছাড় দেয়। চার্লস বি. ওয়াংয়ের ছাড় নির্ধারণে পরিবারের মোট আয় ও সদস্যসংখ্যা বিবেচনা করা হয়। আয়ের প্রমাণ হিসেবে সর্বশেষ ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্ন, সাম্প্রতিক এক মাসের পে-স্টাব অথবা বেতনের তথ্যসহ নিয়োগকর্তার চিঠি নেওয়া যেতে পারে। এসব কাগজ না থাকলে শেষ বিকল্প হিসেবে নিজের আয়ের ঘোষণাও বিবেচিত হতে পারে। আয়ের প্রমাণ দিতে না পারলে প্রথমে সর্বোচ্চ ভিজিট ফি নেওয়া হতে পারে। তবে ভিজিটের দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রমাণ জমা দিলে ফি সমন্বয় করে রিফান্ড বা ক্রেডিট দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। বাংলাভাষী রোগীদের জন্যও এখানে ভাষাগত সহায়তার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, কর্মীরা বাংলাসহ একাধিক ভাষায় কথা বলেন এবং ভিডিও বা অডিওর মাধ্যমে দোভাষীর ব্যবস্থাও রয়েছে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সময় বাংলা ভাষায় সহায়তা প্রয়োজন বলে জানানো যেতে পারে। নতুন রোগীর প্রথম ভিজিটে সাধারণত দাঁতের পরীক্ষা হয়; ক্লিনিংয়ের জন্য আলাদা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হয়। ব্রুকলিনের ব্রাউন্সভিলে বিএমএসের মেডিকেল ও ডেন্টাল কেন্দ্রের ঠিকানা ২৫৯ ব্রিস্টল স্ট্রিট। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬ সালের প্রকাশিত স্লাইডিং ফি তালিকায় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১০০ শতাংশ পর্যন্ত আয়ের রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট ডেন্টাল পরীক্ষা ও নিয়মিত ক্লিনিংয়ের ফি শূন্য ডলার দেখানো হয়েছে। এক সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে এই আয়সীমা বছরে ১৫ হাজার ৯৬০ ডলার। তবে এটি সব ধরনের ডেন্টাল চিকিৎসা বিনা খরচে পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। যোগাযোগের নম্বর ৭১৮-৩৪৫-৫০০০। ম্যানহাটনের হারলেমে ফ্যামিলি হেলথ সেন্টার অব হারলেমের ঠিকানা ১৮২৪ ম্যাডিসন অ্যাভিনিউ। ডেন্টাল বিভাগের নম্বর ২১২-৪২৩-৪৪০০। ব্রুকলিনে এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের সানসেট পার্ক ফ্যামিলি হেলথ সেন্টারের ডেন্টাল সেবা রয়েছে ১৫০, ৫৫তম স্ট্রিটে। সেখানে যোগাযোগের নম্বর ৭১৮-৬৩০-৬৮৭৫। চিকিৎসার ধরন, ইন্স্যুরেন্স গ্রহণ ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ ফোন করে জেনে নেওয়া উচিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লিনিকেও চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির কলেজ অব ডেন্টাল মেডিসিনের জেনারেল অ্যান্ড স্পেশালটি ডেন্টিস্ট্রি ক্লিনিকের ঠিকানা ম্যানহাটনের ৬২২ ওয়েস্ট ১৬৮তম স্ট্রিট। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নম্বর ২১২-৩০৫-৬১০০। এখানে প্রথমে রোগীর প্রয়োজন মূল্যায়ন করে উপযুক্ত চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের স্লাইডিং ফি ব্যবস্থা নেই এবং তারা বিনা খরচে চিকিৎসা দেয় না। চিকিৎসা শুরুর আগে পরিকল্পনা ও ফি জেনে নেওয়া জরুরি। বিনা খরচে প্রতিরোধমূলক ডেন্টাল সেবার একটি সুযোগ রয়েছে ব্রঙ্কসের হোস্টোস কমিউনিটি কলেজে। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডেন্টাল হাইজিন ক্লিনিকে প্রধানত ক্লিনিং ও ডেন্টাল এক্স-রে সেবা দেওয়া হয়। ঠিকানা ৫০০ গ্র্যান্ড কনকোর্স, বি বিল্ডিং। অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য কল করা যাবে ৭১৮-৩১৯-৭৯৪৩ নম্বরে। এই সেবাকে রুট ক্যানেল, ফিলিং বা দাঁত তোলাসহ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার বিকল্প ধরে নেওয়া যাবে না। ব্রুকলিনের সিটি টেকের ডেন্টাল হাইজিন ক্লিনিকের ঠিকানা ২৮৫ জে স্ট্রিট, একাডেমিক বিল্ডিংয়ের সপ্তম তলায়, কক্ষ এ-৭০১। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নম্বর ৭১৮-২৬০-৫০৭৪। এখানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডেন্টিস্ট ও ডেন্টাল হাইজিনিস্টের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা সেবা দেন। ক্লিনিকটি ফল ও স্প্রিং সেমিস্টারে চলে; জানুয়ারি ও গ্রীষ্মকালীন বিরতিতে বন্ধ থাকে। প্রতি ভিজিটে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে এবং একাধিকবার যেতে হতে পারে। বর্তমান ফি ও সময়সূচি ফোন করে নিশ্চিত করতে হবে। যাদের হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেই, তারা এনওয়াইসি কেয়ারের যোগ্যতা যাচাই করতে পারেন। এটি ইন্স্যুরেন্স নয়, নিউ ইয়র্ক সিটির যোগ্য বাসিন্দাদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার একটি কর্মসূচি। এতে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নাম লেখানো ও আর্থিক সহায়তার তথ্য জানতে কল করা যাবে ১-৬৪৬-৬৯২-২২৭৩ নম্বরে। ডেন্টাল সেবার খরচও আলাদাভাবে জেনে নিতে হবে। যাওয়ার আগে ফোন করে নতুন রোগী নেওয়া হচ্ছে কি না, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেখানে হয় কি না এবং মোট আনুমানিক খরচ কত, তা নিশ্চিত করা জরুরি। আয়ভিত্তিক ছাড় চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাওয়া কাগজপত্র সঙ্গে নিতে হবে। কম খরচের ক্লিনিক মানেই সব চিকিৎসা ফ্রি নয়; পরীক্ষা, ক্লিনিং ও পরবর্তী চিকিৎসার জন্য আলাদা ফি বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগতে পারে।
অনুমতি ছাড়াই বিদেশে বসে অফিসের কাজ করায় চাকরি হারিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক মুদ্রা লেনদেনকারী চার্লস গ্রাহাম। ছুটি কাটাতে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় না ফিরে সেখান থেকেই কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। পরে তাঁর ল্যাপটপের অবস্থান শনাক্ত করে বিষয়টি জানতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় অন্যায্যতা ছিল বলে সিদ্ধান্ত দিলেও অস্ট্রেলিয়ার ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহাল বা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি। দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রাহাম প্রায় ২০ মাস ধরে এইচআইএফএক্স অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি ‘এক্সই’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করে। এর আগে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করে কাজ করার অনুমতি চেয়েছিলেন তিনি। তবে তাঁর সেই আবেদন নাকচ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ছুটি কাটাতে সিঙ্গাপুরে যান গ্রাহাম। ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসার কথা থাকলেও তিনি সেখান থেকেই অফিসের কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তাঁর ব্যবস্থাপক তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহায়তা নেন। পরে গ্রাহামের অফিসের ল্যাপটপের অবস্থান অনুসরণ করে জানা যায়, তিনি সিঙ্গাপুরে রয়েছেন। গ্রাহামের দাবি, তাঁর সঙ্গী ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়ায় দেশে ফেরার ফ্লাইট পিছিয়ে দিতে হয়েছিল। এরপর তিনি কাজে যোগ দিলেও জমে থাকা ইমেইল, ফোনকল এবং গ্রাহকদের অভিযোগ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ কারণে নিজের অবস্থান সম্পর্কে ব্যবস্থাপককে জানানো হয়নি বলে ব্যাখ্যা দেন তিনি। তবে প্রতিষ্ঠান তাঁর ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি। তাদের বক্তব্য ছিল, দেশে ফেরার পরিকল্পনা পরিবর্তন এবং সঙ্গীর ভ্রমণে অক্ষমতার বিষয়ে গ্রাহাম যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননি। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনে শুনানি হলে গ্রাহামের বিদেশে বসে কাজ করার আগের একটি ঘটনাও সামনে আসে। এর আগে বালি থেকে কাজ করার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, বাসায় মেরামতের কাজ চলায় তাঁকে বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। তবে তাঁর ব্যবস্থাপকের বক্তব্য ছিল, গ্রাহাম যে বিদেশে অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। কমিশন চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় গ্রাহামকে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল বলে মনে করেছে। অর্থাৎ, তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পদ্ধতি পুরোপুরি ন্যায্য ছিল না। তবে কমিশনের সিদ্ধান্তে এটিও বিবেচনায় নেওয়া হয় যে, গ্রাহামের আচরণে অসদাচরণের বিষয় ছিল এবং তিনি এরই মধ্যে চার সপ্তাহের বেতন পেয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনা করে কমিশন তাঁকে আগের পদে ফিরিয়ে নেওয়া কিংবা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি। ফলে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় অন্যায্যতা চিহ্নিত হলেও গ্রাহাম চাকরি বা বাড়তি আর্থিক সুবিধা—কোনোটিই পাননি। ঘটনাটি বিদেশে অবস্থান করে দূর থেকে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ও কর্মস্থলের নীতিমালা মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষ করে, কোনো কর্মী ছুটিতে বিদেশে গেলে বা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন সেখানে অবস্থান করলে, সেখান থেকে কাজ করার অনুমতি আছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। অনুমতি ছাড়া কাজ চালিয়ে গেলে তা চাকরির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—চার্লস গ্রাহামের ঘটনা তারই একটি উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে অন্য রাজ্যে পাড়ি জমাচ্ছেন জেনারেশন জেড বা জেন জি প্রজন্মের তরুণেরা। তাঁদের বড় একটি অংশের গন্তব্য টেক্সাস। জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসনের খরচ এবং নতুন জায়গায় বসবাসের সুযোগ নিয়ে বাড়তে থাকা আলোচনার মধ্যে প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে তরুণদের এই স্থানান্তরের চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের জনসংখ্যা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ওই বছর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ৫৮ হাজার ১০৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক জেন জি অন্য রাজ্যে চলে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো রাজ্য থেকে এই প্রজন্মের মানুষের অন্যত্র চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংখ্যাটি সর্বোচ্চ। তাঁদের মধ্যে ১৯ হাজার ২৮৭ জন পাড়ি জমিয়েছেন টেক্সাসে। অর্থাৎ, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়া তরুণদের জন্য টেক্সাস ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য। তবে শুধু ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে যাওয়ার হিসাব দেখলেই পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তরুণদের রাজ্য পরিবর্তনের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক জেন জি নিজ রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে অথবা ওয়াশিংটন ডিসিতে চলে গেছেন। এই সংখ্যা দেশটির ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী জেন জি জনগোষ্ঠীর প্রায় ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ, এই বয়সী প্রায় প্রতি চারজনের একজন ওই বছর রাজ্য বদলেছেন। নিট স্থানান্তরের হিসাবে জেন জিদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় রাজ্য ছিল সাউথ ক্যারোলাইনা। সেখানে যতজন তরুণ এসেছেন, চলে গেছেন তার চেয়ে অনেক কম। ফলে রাজ্যটিতে এই প্রজন্মের মানুষের নিট সংখ্যা বেড়েছে ২২ হাজার ৮৪৩ জন। অন্যদিকে, টেক্সাসে তরুণদের আসা-যাওয়া—দুটিই বেশি হলেও রাজ্যটিতে নিট সংখ্যা বেড়েছে ১০ হাজার ৭২০ জন। এই হিসাবে টেক্সাসের অবস্থান ছিল সপ্তম। নিউইয়র্কও তরুণদের আকর্ষণ ধরে রেখেছে। ২০২৪ সালে রাজ্যটিতে জেন জি প্রজন্মের মানুষের নিট সংখ্যা বেড়েছে ৮ হাজার ৬১ জন। বিপরীতে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ জার্সি ও ইলিনয়েসসহ কয়েকটি রাজ্যে এই বয়সী মানুষের সংখ্যা কমেছে। জেন জিদের রাজ্য বদলের প্রবণতা আগের প্রজন্মগুলোর তুলনায়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মিলেনিয়ালদের ১৪ শতাংশ অন্য রাজ্যে চলে গেছেন। জেনারেশন এক্সের ক্ষেত্রে এই হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ এবং বেবি বুমারদের ক্ষেত্রে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ, রাজ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে জেন জির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। টেক্সাসে তরুণদের আগমন অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। চলতি বছর প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট একটি স্থানান্তর-তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে টেক্সাসে ৫ হাজার ৮১ জন জেন জি এসেছেন, বিপরীতে রাজ্যটি ছেড়েছেন ৩ হাজার ৫৫৫ জন। ফলে সেখানে নিট আগমন হয়েছে ১ হাজার ৫২৬ জনের। ওই বিশ্লেষণে অস্টিন, হিউস্টন ও ডালাস মহানগর এলাকাকে নতুন তরুণ বাসিন্দাদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে মানুষের স্থানান্তরও দীর্ঘদিনের প্রবণতা। ২০২৩ সালে এক লাখের বেশি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা টেক্সাসে চলে গিয়েছিলেন বলে আগের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছিল। একই সময়ে টেক্সাস থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় যাওয়ার তুলনায় উল্টো পথে যাওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল দ্বিগুণেরও বেশি। ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয়, বিশেষ করে আবাসনের খরচ, গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। সিলিকন ভ্যালি ও সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে করা এক জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৮০১ জন প্রাপ্তবয়স্কের ৪৬ শতাংশ বলেছেন, বাড়ির উচ্চমূল্যের কারণে তাঁরা ওই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার চাপ অনুভব করছেন। আগের বছরের তুলনায় এই হার ৩ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আঞ্চলিক গবেষণা সংস্থা জয়েন্ট ভেঞ্চার সিলিকন ভ্যালির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী রাসেল হ্যানকক বলেছেন, আবাসনসংকট ও জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ই মানুষকে ওই অঞ্চল ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করছে। তাঁর মতে, মৌলিক আবাসনসমস্যার সমাধান করতে না পারার বিষয়টি বাসিন্দাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসন ব্যয়ের প্রভাব দারিদ্র্যের হিসাবেও দেখা যাচ্ছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, দেশটির রাজ্যগুলোর মধ্যে আবাসন ব্যয়জনিত দারিদ্র্যের হারে ক্যালিফোর্নিয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। রাজ্যটিতে বাড়ি কেনা ও ভাড়া নেওয়ার অত্যধিক খরচ সামগ্রিক দারিদ্র্যের ৩৪ শতাংশ এবং শিশুদের দারিদ্র্যের ৪২ শতাংশের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান থেকে বলা যায় না যে কেবল আবাসন ব্যয়ের কারণেই সব তরুণ ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ছেন। পড়াশোনা, চাকরি, ব্যক্তিগত পছন্দ ও অন্যান্য কারণও স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে। তা সত্ত্বেও, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে বিপুলসংখ্যক তরুণের চলে যাওয়া এবং টেক্সাসে তাঁদের উল্লেখযোগ্য অংশের নতুন ঠিকানা খোঁজা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হয়ে উঠেছে।
চুল পড়া কমিয়ে নতুন চুল গজানো কিংবা চুল আরও ঘন করার আশায় অনেকেই দামি শ্যাম্পু, সিরাম, ভেষজ তেল ও বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট কিনছেন। এসব পণ্যের বিজ্ঞাপনে আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি থাকলেও সবগুলোর কার্যকারিতার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু পণ্য চুলকে নরম, চকচকে ও তুলনামূলক ঘন দেখাতে সাহায্য করলেও সেগুলো নতুন চুল গজায়—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। তাই চুলের যত্নে অর্থ ব্যয়ের আগে কোন পণ্য কী কাজে লাগে, তা জানা জরুরি। প্রসাধনবিষয়ক রসায়নবিদ পেরি রোমানোস্কির মতে, বাজারে চুল গজানোর দাবি করা অনেক পণ্যের উপাদান চুলের ফলিকলে কার্যকর প্রভাব ফেলে কি না, তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। চুলের গোড়া বা ফলিকল মাথার ত্বকের ভেতরে থাকে। কোনো উপাদানকে সেখানে পৌঁছে কার্যকর হতে হলে মাথার ত্বকে যথেষ্ট সময় থাকতে হবে, ত্বকের বাধা পেরোতে হবে এবং কার্যকর অবস্থায় লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। ফলে পণ্যের গায়ে আকর্ষণীয় উপাদানের নাম থাকলেই সেটি চুল গজাবে, এমন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুল ঘন করার আশায় কেনার আগে পাঁচ ধরনের পণ্যের কার্যকারিতা নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত। ১. চুল গজানোর দাবি করা শ্যাম্পু ক্যাফেইন, পেপটাইড ও বিভিন্ন বিশেষ উপাদানযুক্ত শ্যাম্পু চুলের গোড়াকে সক্রিয় করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করার দাবি করে। কিন্তু এসব উপাদানের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। কিছু গবেষণার ফল প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, আবার কিছু গবেষণা পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে। প্রসাধনবিষয়ক রসায়নবিদ কেলি ডোবসের মতে, শ্যাম্পু মাথায় বেশিক্ষণ থাকে না। ব্যবহারের অল্প সময় পরই তা ধুয়ে ফেলা হয়। ফলে এর উপাদান দীর্ঘ সময় ধরে মাথার ত্বকে কাজ করার সুযোগ পায় না। তবে ভালো শ্যাম্পু মাথার ত্বক সুস্থ রাখতে এবং চুলের তন্তু মজবুত করতে সাহায্য করতে পারে। এতে চুল ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। কিন্তু শুধু শ্যাম্পু দিয়ে নতুন চুল গজানোর প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। ২. উচ্চমাত্রার বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট চুলের যত্নে বায়োটিন বা ভিটামিন বি৭ বেশ জনপ্রিয়। অনেক সাপ্লিমেন্টে দৈনিক ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার মাইক্রোগ্রাম বায়োটিন থাকে। অথচ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত প্রস্তাবিত দৈনিক গ্রহণের পরিমাণ ৩০ মাইক্রোগ্রাম। ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট চুল গজাতে উপকারী—এমন গবেষণালব্ধ প্রমাণ নেই। আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজির তথ্য অনুযায়ী, বায়োটিনের ঘাটতিও বিরল। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রোন্ডা এস ফারাহ সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত মাত্রার বায়োটিন ক্ষতিকর হতে পারে এবং কিছু পরীক্ষাগারের পরীক্ষার ফলকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে কারও শরীরে বায়োটিনের ঘাটতি নিশ্চিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মাত্রা গ্রহণ করা যেতে পারে। ঘাটতি না জেনে বেশি মাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের প্রয়োজন নেই। ৩. ক্যাস্টর অয়েল ও বাতানা তেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যাস্টর অয়েল ও বাতানা তেলকে চুল গজানোর কার্যকর উপায় হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু এসব তেল নতুন চুল গজায়—এমন নির্ভরযোগ্য ক্লিনিক্যাল প্রমাণ নেই। কেলি ডোবসের মতে, ক্যাস্টর অয়েল চুলকে নরম রাখতে এবং চুলের ঘর্ষণজনিত ক্ষতি ও ভাঙন কমাতে সাহায্য করতে পারে। বাতানা তেলও চুলের পরিচর্যায় কন্ডিশনিং উপাদান হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে চুল দেখতে কিছুটা ঘন, চকচকে ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল লাগতে পারে। তবে চুল ভেঙে যাওয়া কমা আর নতুন চুল গজানো এক বিষয় নয়। তাই শুধু এসব তেল ব্যবহার করে চুল পড়ার মূল কারণ দূর হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। ৪. চালের পানি চাল ভেজানো বা রান্নার পর পাওয়া শ্বেতসারযুক্ত পানিকে চুল লম্বা ও ঘন করার প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রচার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি নিয়ে নানা ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়। কিন্তু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রোন্ডা এস ফারাহর মতে, চালের পানি চুল গজাতে সাহায্য করে—এমন ভালো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এটি চুলের পরিচর্যায় কিছুটা সহায়ক হতে পারে বলে প্রচার করা হলেও এর শ্বেতসার চুলে জমে শুষ্কতা তৈরি করতে পারে। একজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো মাথার ত্বকের সমস্যা থাকলে অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। তাই বোতলজাত চালের পানির স্প্রে কেনার আগে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা রাখা প্রয়োজন। ৫. প্রাকৃতিক ডিএইচটি ব্লকার পুরুষদের বংশগতভাবে চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ডিএইচটি নামের হরমোন। ফিনাস্টেরাইড নামের ওষুধ এই হরমোনের কার্যক্রমে বাধা দিতে পারে। এ কারণে রেড ক্লোভার ও বারডকের মতো উদ্ভিজ্জ উপাদানযুক্ত পণ্যও একই কাজ করতে পারে বলে প্রচার করা হয়। তবে নিউইয়র্কের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সেজাল শাহের মতে, বারডক ডিএইচটি কমিয়ে চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করে—এমন অর্থবহ প্রমাণ মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণায় খুবই সীমিত। তাই এসব ভেষজ উপাদানকে চুল পড়ার স্বতন্ত্র সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। নারীদের চুল পড়ার ক্ষেত্রে ডিএইচটির ভূমিকা কতটা, তা নিয়েও বিজ্ঞানীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কোন পণ্যগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ধরনের বংশগত চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশ মিনোক্সিডিল অন্যতম গবেষণাসমর্থিত ওষুধবিহীন বিকল্প। একটি ৪৮ সপ্তাহের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় পাঁচ শতাংশ মিনোক্সিডিল ব্যবহারকারীদের চুল পুনরায় গজানোর হার দুই শতাংশ ব্যবহারকারীদের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি ছিল। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে একই ফল দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। খুশকিবিরোধী শ্যাম্পু মাথার ত্বকের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। রোজমেরি তেল নিয়েও একটি গবেষণায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে, যদিও গবেষণাটির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিছু সিরাম চুলের ঘনত্ব ও চেহারায় উন্নতি আনতে পারে বলে পরীক্ষায় দেখা গেছে। আবার ২০২২ সালে প্রকাশিত ৩০টি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় ভিভিস্কাল ও নুট্রাফলের মতো কিছু সাপ্লিমেন্ট নিষ্ক্রিয় উপাদানের তুলনায় ভালো ফল দেখিয়েছে। তবে এসব গবেষণার অধিকাংশে সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন ছিল। চুল পড়ার কারণ না জেনে একের পর এক পণ্য কেনার পরিবর্তে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। ভিটামিনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার মতো রোগের কারণে চুল পড়তে পারে। সঠিক রোগনির্ণয়ের পর চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা বা পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। এতে অকারণে অর্থ ব্যয় এড়ানো এবং সমস্যার উপযুক্ত সমাধান খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা আয়ের কর্মসূচির (এসএসআই) আওতায় অর্থ পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসছে বুধবার। ২০২৭ সালে এসব ভাতা কতটা বাড়বে, তা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় মূল্যস্ফীতির সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করা হবে ওই দিন। এরপর সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের বার্ষিক জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা ‘কোলা’ (সিওএলএ) সম্পর্কে চূড়ান্ত ঘোষণা আসার কথা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্তদের গড় মাসিক সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা প্রায় ৭৫ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে এই অঙ্ক এখনো চূড়ান্ত নয়; সরকারি ঘোষণার আগে এটিকে সম্ভাব্য হিসাব হিসেবেই দেখতে হবে। চলতি ২০২৬ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ও এসএসআই ভাতা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৭ সালের জন্য বিভিন্ন পূর্বাভাসে এর চেয়ে বেশি বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখানো হচ্ছে। প্রবীণদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করা সংস্থা সিনিয়র সিটিজেনস লিগের সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাসে সম্ভাব্য বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, অবসরপ্রাপ্তদের সংগঠন এএআরপি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধির হিসাব দিয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত সরকারি হিসাবে কত শতাংশ বাড়বে, তা জানতে বুধবারের ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছেন সুবিধাভোগীরা। এএআরপির দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে অবসরপ্রাপ্তদের গড় মাসিক সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ছিল ২ হাজার ৮৬ ডলার। এই অঙ্কের ওপর ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হলে মাসে প্রায় ৭৫ ডলার বেশি পাওয়া যেতে পারে। সে হিসাবে গড় মাসিক ভাতা দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ হাজার ১৬১ ডলারে। তবে এটি কেবল পূর্বাভাসের ভিত্তিতে করা হিসাব। প্রত্যেক সুবিধাভোগী একই পরিমাণ অর্থ পাবেন না। কারও বর্তমান ভাতার পরিমাণ বেশি বা কম হলে তাঁর বাড়তি অর্থের অঙ্কও আলাদা হবে। বার্ষিক এই বৃদ্ধি নির্ধারণের মূল ভিত্তি হলো মূল্যস্ফীতি। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন শহরাঞ্চলের মজুরিভোগী ও কেরানি কর্মীদের ভোক্তা মূল্যসূচক—সিপিআই-ডব্লিউ—ব্যবহার করে জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয়ের হার হিসাব করে। সাধারণত জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের সূচকের গড়ের সঙ্গে আগের বছরের একই সময়ের গড় তুলনা করা হয়। সেই তুলনা থেকেই বোঝা যায়, এক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম কতটা বেড়েছে এবং ভাতা কত শতাংশ বাড়ানো প্রয়োজন। এবারের হিসাবের জন্য সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় পূর্বাঞ্চলীয় সময় অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের ভোক্তা মূল্যসূচক প্রকাশ করার কথা। এই তথ্য প্রকাশের পর ২০২৭ সালের ভাতা বৃদ্ধির চূড়ান্ত হার নির্ধারণের পথ পরিষ্কার হবে। ভাতা বৃদ্ধির পূর্বাভাসে জ্বালানি ও তেলের দামের প্রভাবও রয়েছে। এসব খাতে ব্যয় বাড়লে পরিবহনসহ অন্যান্য পণ্য ও সেবার দামেও চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ কারণে সিনিয়র সিটিজেনস লিগ তাদের পূর্বাভাস জুলাইয়ের ৩ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে সেপ্টেম্বরে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ করেছে। অন্যদিকে, এএআরপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশের অনুমান বলছে, ভাতা বৃদ্ধির হার গত বছরের তুলনায় বেশি হতে পারে। বুধবারের সরকারি হিসাব প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পূর্বাভাসকেই চূড়ান্ত ধরে নেওয়া যাবে না। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বাড়লেও সুবিধাভোগীদের হাতে প্রকৃতপক্ষে কত টাকা বেশি থাকবে, তা নির্ভর করতে পারে অন্য খরচের ওপরও। বিশেষ করে মেডিকেয়ারের পার্ট বি কর্মসূচিতে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের মাসিক প্রিমিয়াম সাধারণত সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা থেকেই কেটে নেওয়া হয়। ২০২৭ সালের মেডিকেয়ার পার্ট বি প্রিমিয়ামের পরিমাণ সাধারণত নভেম্বরে ঘোষণা করা হয়। তাই ভাতা বাড়ার পরও প্রিমিয়াম বৃদ্ধি পেলে সেই বাড়তি অর্থের একটি অংশ স্বাস্থ্যবিমার খরচ মেটাতে চলে যেতে পারে। সুবিধাভোগীদের জন্য শুধু ঘোষিত বৃদ্ধির হার নয়, সব ধরনের কর্তনের পর হাতে কত অর্থ থাকবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ভাতা বাড়ানোর জন্য সুবিধাভোগীদের আলাদা করে আবেদন করতে হবে না। চূড়ান্ত হার ঘোষণা হওয়ার পর সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন যোগ্য ব্যক্তিদের ভাতার সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন অঙ্ক যুক্ত করবে। নতুন ভাতার পরিমাণ জানিয়ে সুবিধাভোগীদের নোটিশও পাঠানো হবে। ফলে যাঁরা নিয়মিত সামাজিক নিরাপত্তা বা এসএসআইয়ের অর্থ পান, তাঁদের ঘোষণার পর নিজেদের নতুন ভাতার হিসাব ও নোটিশের দিকে নজর রাখা উচিত। নতুন হারে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে পাওয়া শুরু হবে। সাধারণ নিয়মে সুবিধাভোগীর জন্মতারিখ অনুযায়ী মাসের দ্বিতীয়, তৃতীয় অথবা চতুর্থ বুধবার অর্থ পাঠানো হয়। তবে যাঁরা ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে থেকে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা পাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সাধারণত মাসের ৩ তারিখে অর্থ দেওয়া হয়। যাঁরা একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা ও এসএসআইয়ের অর্থ পান, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই তারিখ প্রযোজ্য হতে পারে। এসএসআইয়ের অর্থ সাধারণত প্রতি মাসের প্রথম দিনে পাঠানো হয়। তবে ২০২৭ সালের জানুয়ারির অর্থ আগেই, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পাঠানো হবে। কারণ ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল ছুটি। এ কারণে সুবিধাভোগীদের ব্যাংক হিসাব বা অর্থ গ্রহণের ব্যবস্থা অনুযায়ী আগাম জমা হওয়া অর্থের বিষয়টি খেয়াল রাখা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালের ভাতা বৃদ্ধির হার অবসরপ্রাপ্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের মাসিক বাজেটে প্রভাব ফেলতে পারে। সম্ভাব্য ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধির হিসাব অনুযায়ী গড় অবসরভাতায় মাসে প্রায় ৭৩ থেকে ৭৫ ডলার যোগ হতে পারে। তবে প্রকৃত অঙ্ক নির্ভর করবে বুধবার প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের চূড়ান্ত ঘোষণার ওপর। তাই আপাতত এই বাড়তি অর্থকে নিশ্চিত আয় হিসেবে ধরে নেওয়ার আগে সরকারি ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত।
অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত নারীদের শারীরিক উপসর্গকে মানসিক সমস্যা বলে ভুল করার প্রবণতা পুরুষদের তুলনায় বেশি। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের রোগে আক্রান্ত ৪৩ শতাংশ নারীকে তাঁদের অসুস্থতার কারণ মানসিক বা মনোরোগসংক্রান্ত সমস্যা বলে জানানো হয়েছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৩৩ শতাংশ। একই সঙ্গে সঠিক রোগ শনাক্ত করতেও নারীদের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে যথাযথ চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। অটোইমিউন রোগ এমন এক ধরনের অসুস্থতা, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ভুল করে নিজের সুস্থ কোষ ও টিস্যুকে আক্রমণ করে। এসব রোগের উপসর্গ অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতার মতো হওয়ায় শুরুতেই সঠিক কারণ শনাক্ত করা কঠিন হয়। ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, ত্বকে ফুসকুড়ি, জয়েন্টে ব্যথা কিংবা শরীরের বিভিন্ন অংশে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণকে কখনো মানসিক চাপ বা উদ্বেগের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়, যদিও এর পেছনে জটিল শারীরিক রোগ থাকতে পারে। গবেষণায় মোট ৬ হাজার ৬০৭ জন অটোইমিউন রোগীর অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের বেশির ভাগই নারী এবং যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ নারীর অটোইমিউন থাইরয়েড রোগ ছিল। এই রোগের মধ্যে রয়েছে হাশিমোটো ও গ্রেভস রোগ। হাশিমোটো রোগে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। এতে ওজন বেড়ে যাওয়া, চুল পড়া, ক্লান্তি ও জয়েন্টে ব্যথা হতে পারে। অন্যদিকে গ্রেভস রোগে থাইরয়েড অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে যায়। এতে বুক ধড়ফড় করা, ওজন কমে যাওয়া এবং চোখ কিছুটা বাইরে বেরিয়ে আসার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের প্রায় সাতজনের একজন সিস্টেমিক লুপাসে আক্রান্ত ছিলেন। এ রোগে ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা এবং ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। পুরুষদের মধ্যে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, ভাসকুলাইটিস এবং অ্যান্টিফসফোলিপিড সিনড্রোমের মতো রোগ বেশি দেখা গেছে। রোগ নির্ণয়ে দেরির বিষয়টিও গবেষকদের নজরে এসেছে। পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, উপসর্গ শুরুর তিন মাসের কম সময়ের মধ্যেই তাঁদের রোগ শনাক্ত হয়েছিল। নারীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, রোগ শনাক্ত হতে এক থেকে দুই বছর লেগেছে। অর্থাৎ অনেক নারীকে দীর্ঘ সময় ধরে উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে, অথচ অসুস্থতার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। গবেষকদের মতে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কিছু ধারণা এ বৈষম্যের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। নারীদের উপসর্গের বিবরণকে কখনো কখনো পুরুষদের তুলনায় কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাঁদের অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতাও রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নারীদেহের বৈশিষ্ট্যকে কেন্দ্র করে গবেষণার ঘাটতিও রোগ শনাক্তের জটিলতা বাড়াতে পারে। গবেষণার অন্যতম প্রধান গবেষক ডা. মেলানি স্লোয়ান বলেছেন, অটোইমিউন রোগের উপসর্গের চিকিৎসাগত ব্যাখ্যা শুরুতে পাওয়া কঠিন হতে পারে। কখনো কখনো সঠিক রোগ শনাক্ত করতে কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছরও লেগে যায়। তাঁর মতে, উপসর্গের ব্যাখ্যা খুব দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কি না, তা চিকিৎসকদের বিবেচনা করা জরুরি। গবেষণার সহলেখক ও রোগী প্রতিনিধি শাইস্তা তায়াবালির মতে, নারী ও পুরুষের ভুল রোগনির্ণয়ের অভিজ্ঞতায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। নারীদের ক্ষেত্রে মানসিক সমস্যার সঙ্গে উপসর্গকে যুক্ত করার প্রবণতা বেশি হলেও অন্য শারীরিক রোগ হিসেবে ভুল শনাক্ত হওয়ার হার কিছুটা বেশি ছিল পুরুষদের মধ্যে। তাঁর মতে, নারীদের উপসর্গকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা এবং সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত রোগনির্ণয় সব ক্ষেত্রেই ভুল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। একজন ব্যক্তির একই সঙ্গে অটোইমিউন রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকতে পারে। লুপাসের মতো কিছু অটোইমিউন রোগ সরাসরি মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে মানসিক বা স্নায়বিক উপসর্গও তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ও জীবন পরিবর্তনকারী অসুস্থতার সঙ্গে বসবাসের চাপ থেকেও মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শারীরিক উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে, সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হলে কিংবা শরীরের একাধিক অংশে দেখা দিলে সম্ভাব্য অটোইমিউন রোগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। প্রাথমিক পরীক্ষায় রোগের কারণ স্পষ্ট না হলেও রোগীর বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শোনা, নতুন উপসর্গ দেখা দিলে পুনরায় মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনে আরও পরীক্ষা করার ওপর জোর দিয়েছেন তাঁরা। গবেষণার ফলাফল থেকে স্পষ্ট, রোগের কারণ দ্রুত শনাক্ত করতে না পারলে রোগীকে দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হতে পারে। তাই উপসর্গের যথাযথ মূল্যায়ন এবং রোগীর অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া ভুল রোগনির্ণয় কমাতে ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে পুলিশ বিভাগে ইতিহাস গড়েছেন সারাহ শেন্ডি। তিনি অঙ্গরাজ্যটির প্রথম মিসরীয়-আমেরিকান নারী হিসেবে পুলিশ লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এর আগে তিনি ওহাইওতে প্রথম মিসরীয়-মুসলিম নারী সার্জেন্ট হিসেবেও স্বীকৃতি অর্জন করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অবদানের মধ্য দিয়ে তিনি এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। শেন্ডি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটি পুলিশ বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে তাঁর ১৫ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। অপরাধ বিচার বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেছেন তিনি। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন শেন্ডি। পুলিশের কাজে সাংস্কৃতিক সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরতে তিনি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তৈরি করেছেন। এসব কর্মসূচির লক্ষ্য হলো বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পটভূমির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তাদের আরও সচেতন ও দক্ষ করে তোলা। বহুসাংস্কৃতিক সমাজে পুলিশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ২০১৭ সালে শেন্ডি আন্তর্জাতিক পুলিশপ্রধানদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব চিফস অব পুলিশের ‘ফর্টি আন্ডার ফোর্টি’ পুরস্কারও পান। ৪০ বছরের কম বয়সী প্রতিশ্রুতিশীল পুলিশ নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে পরিচিত এই পুরস্কার তাঁর পেশাগত অর্জনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি। শেন্ডির পদোন্নতি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের অগ্রগতি নয়; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে মিসরীয়-আমেরিকান ও মুসলিম নারীদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও এটি একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। পুলিশের নেতৃত্বের পর্যায়ে তাঁর এই অগ্রযাত্রা বিভিন্ন পটভূমি থেকে আসা নারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। তবে তাঁর পদোন্নতির আনুষ্ঠানিক তারিখ, নতুন দায়িত্বের বিস্তারিত পরিধি এবং এ অর্জন নিয়ে তাঁর নিজের বক্তব্য সম্পর্কে সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ নেই। তাই এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া অতিরিক্ত দাবি করা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যে জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচারের পর গুরুতর সংক্রমণে দুই পা, ডান হাত এবং ঠোঁট ও জিহ্বার কিছু অংশ হারিয়েছেন ছয় সন্তানের মা ত্রিশা স্টিভেনস। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা ও সংক্রমণ শনাক্ত করতে দেরি করার অভিযোগে তিন চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা করেছেন ৪৬ বছর বয়সী এই নারী। মামলায় তাঁর শারীরিক ক্ষতি, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের সক্ষমতা হারানোর বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ওরেগনের বোরিং এলাকার বাসিন্দা ত্রিশার অস্ত্রোপচার হয়েছিল ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর। তাঁর জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউব অপসারণ করা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের চার দিন পর পরীক্ষার ফলাফলে প্রদাহের লক্ষণ পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট সার্জন ডা. অ্যালভিন নাকামুরা তা যথাযথভাবে পর্যালোচনা করেননি। ফলে সম্ভাব্য সংক্রমণ শনাক্ত ও চিকিৎসার উদ্যোগ নিতে দেরি হয় বলে অভিযোগ করেছেন ত্রিশা। অস্ত্রোপচারের পরের দিনগুলোতে তাঁর পেটের ব্যথা ক্রমেই বাড়তে থাকে। প্রায় দুই সপ্তাহ পর ছেলের ফুটবল খেলার সময় গ্যালারির সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পেটের ভেতরে হঠাৎ কিছু ছিঁড়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়। এরপরও তাঁর শারীরিক সমস্যা চলতে থাকে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২২ অক্টোবর ত্রিশা অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসাকেন্দ্রে ফোন করে অতিরিক্ত র ক্তপাত, জ্বর, ডায়রিয়া ও পেটে মোচড় দেওয়ার মতো ব্যথার কথা জানান। এ সময় তাঁর শরীর থেকে বেসবলের আকারের একটি র ক্তের জমাট অংশ বের হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ফোনে একজন নার্স তাঁকে বিশ্রাম নিতে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে বলেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। চিকিৎসক নাকামুরাও নার্সকে র ক্তপাত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিতে বলেন এবং আরেকটি বড় জমাট র ক্ত বের হলে হাসপাতালে আসতে নির্দেশনা দেন বলে অভিযোগ। কিন্তু প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর, রাত ১১টা ১০ মিনিটে, ত্রিশার অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। তাঁকে জরুরি চিকিৎসার জন্য লিগ্যাসি মাউন্ট হুড হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় তাঁর হৃদস্পন্দন অত্যন্ত দ্রুত ছিল, র ক্তচাপ কমে গিয়েছিল এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে গিয়েছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তখন প্রতি ঘণ্টায় তিনটি করে স্যানিটারি প্যাড র ক্তে ভিজে যাচ্ছিল। পরীক্ষায় তাঁর পেরিটোনাইটিস বা পেটের ভেতরের আবরণে প্রদাহ, র ক্তে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়াজনিত ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস এবং কিডনির আকস্মিক ক্ষতি শনাক্ত হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাঁর র ক্তপ্রবাহে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পান। তাঁর শরীরে সেপটিক শকের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল, যা সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট একটি প্রাণঘাতী জটিলতা। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, জরুরি দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. গ্রেগরি আইলার্স অস্ত্রোপচারের ক্ষত পরীক্ষা করে সেটির কিনারা আলাদা হয়ে যাওয়া এবং কাঁচা ও সংক্রমিত দেখানোর বিষয়টি শনাক্ত করেছিলেন। কিন্তু তখনই অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া বা পেটের ভেতরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ত্রিশা। এর কয়েক ঘণ্টা পর আরেক চিকিৎসক ডা. রবার্ট আজার তাঁর অবস্থা মূল্যায়ন করেন। মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরামর্শ দেন। কিন্তু এর মধ্যেই সংক্রমণ শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং একাধিক অঙ্গের কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে থাকে। ত্রিশার অভিযোগ, দ্রুত অস্ত্রোপচার করে সংক্রমণের উৎস পরিষ্কার করা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। সংক্রমণের ভয়াবহ পরিণতিতে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর তাঁর দুই পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলতে হয়। পরে ডান হাত, বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল এবং বাঁ হাতের কয়েকটি আঙুলের অংশও বাদ দিতে হয়। সংক্রমণের কারণে টিস্যু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাঁর ঠোঁট ও জিহ্বার কিছু অংশ হারিয়ে যায়। পাশাপাশি মেরুদণ্ডের ক্ষতির কারণে কোমরের নিচের অংশ অবশ হয়ে গেছে। অস্ত্রোপচারের আগ পর্যন্ত ত্রিশা ছিলেন ছয় সন্তানের সক্রিয় মা। তাঁর সন্তানদের বয়স তখন সাত থেকে ২১ বছরের মধ্যে। পরিবারের দৈনন্দিন কাজ সামলানো, সন্তানদের বিভিন্ন কার্যক্রমে নিয়ে যাওয়া, গাড়ি চালানো, রান্না ও ঘর পরিষ্কার করার মতো কাজ তিনি নিজেই করতেন। এখন দৈনন্দিন অনেক কাজের জন্য তাঁকে অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়। ত্রিশার আইনজীবী রেট ফ্রেজার জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল এখন নিজে নিজে খেতেও পারেন না এবং কিছু শব্দ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে সমস্যায় পড়েন। ক্ষতস্থানের নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি তাঁকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও সহায়তা নিতে হচ্ছে। নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ত্রিশা বলেন, প্রায় মৃ ত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা আর জেগে উঠে জীবনের হারিয়ে যাওয়া সবকিছু উপলব্ধি করা—কোনটি বেশি কঠিন, তা অনেক দিন বুঝতে পারেন না তিনি। তাঁর স্বামী ব্রায়ান একজন দমকলকর্মী। কঠিন এই পরিস্থিতিতে পরিবারকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। মামলায় ডা. নাকামুরা, ডা. আইলার্স ও ডা. আজারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্র এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এখন ৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে করা মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে। ত্রিশার ঘটনাটি অস্ত্রোপচারের পর জটিলতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত মূল্যায়ন ও চিকিৎসার গুরুত্বও সামনে এনেছে। তবে আদালতের সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে শিশুদের অটিজম চিকিৎসায় সহায়তা দেওয়া একটি সরকারি কর্মসূচির অর্থায়ন পুরোপুরি বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা কমিশন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে স্বল্প আয়ের অনেক পরিবার বিনা খরচে বা কম খরচে যে থেরাপি পেয়ে আসছে, তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে উদ্বেগে পড়েছেন অভিভাবক, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী এবং অটিজম নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। টেক্সাসের ৭ বছর বয়সী ইসরায়েল সোলিসের জীবনেই এই কর্মসূচির গুরুত্ব স্পষ্ট। অটিজম নিয়ে জন্ম নেওয়া ইসরায়েল আগে কথা বলে নিজের চাহিদা বোঝাতে পারত না। অন্যরা তার প্রয়োজন বুঝতে না পারলে হতাশায় সে নিজেকে কামড়াত বা আঁচড় দিত। তবে সরকারি সহায়তায় পরিচালিত একটি কর্মসূচির আওতায় থেরাপি নেওয়ার পর তার যোগাযোগের সক্ষমতায় পরিবর্তন এসেছে। হিউস্টনের থেরাপি প্রদানকারীদের কাছ থেকে শেখা ছবি ব্যবহার করে এখন সে নিজের চাহিদা বোঝাতে পারে। ইসরায়েলের মা এলিজাবেথ সোলিসের আরেক ছেলেও একই কর্মসূচির আওতায় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন–ক্লিয়ার লেকের অটিজম ও বিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতা কেন্দ্রে পরিচালিত এই সেবার জন্য পরিবারটিকে কোনো অর্থ দিতে হয় না। কর্মসূচিটি বন্ধ হয়ে গেলে সন্তানদের চিকিৎসা কীভাবে চালিয়ে যাবেন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এলিজাবেথ। তাঁর আশঙ্কা, সহায়তা পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেলে সন্তানদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। টেক্সাসের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা কমিশন ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে ‘চিলড্রেনস অটিজম প্রোগ্রাম’ বা শিশুদের অটিজম কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ পুরোপুরি বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। অর্থাৎ, কর্মসূচিটি বন্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তবে এটি ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে যায়নি। ২০০৮ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় টেক্সাসজুড়ে ১৬টি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অটিজম থাকা শিশুদের বিশেষায়িত আচরণগত থেরাপি দেওয়া হয়। পরিবারের আয় ও বিমা-সুবিধা বিবেচনা করে সেবার খরচ নির্ধারণ করা হয়। কর্মসূচির আওতায় একটি শিশু সারা জীবনে সর্বোচ্চ ৭২০ ঘণ্টা অ্যাপ্লায়েড বিহেভিয়ার অ্যানালাইসিস বা এবিএ থেরাপি পাওয়ার যোগ্য। অটিজমের চিকিৎসায় এই পদ্ধতিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও সেবাদানকারীরা। গত দুই বছরে কর্মসূচিটির পেছনে অঙ্গরাজ্য সরকার ১ কোটি ৩৭ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। চলতি বছর কর্মসূচির আওতা আরও বাড়ানো হয়েছিল। বয়সসীমা বাড়িয়ে ২১ বছর পর্যন্ত করা হয় এবং বছরে থেরাপি নেওয়ার ঘণ্টার নির্ধারিত সীমাও তুলে দেওয়া হয়। ২০২৬ অর্থবছরে এই কর্মসূচির অর্থায়নে ৫৮৩টি শিশু চিকিৎসা পেয়েছে। কিন্তু সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যজুড়ে আরও অন্তত এক হাজার শিশু অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে। টেক্সাসের অটিজম সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক জ্যাকুই বেনেস্তান্তে বলেছেন, বাজেট প্রস্তাবে কর্মসূচিটির জন্য বরাদ্দের জায়গাটি ফাঁকা দেখে তাঁরা বিস্মিত হয়েছেন। তাঁর মতে, অর্থায়ন ধরে রাখতে আগে থেকেই লড়াই করতে হয়েছে, কিন্তু একটি চলমান কর্মসূচি পুরোপুরি বাতিল করার প্রস্তাব তাঁদের জন্য বড় ধাক্কা। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে অঙ্গরাজ্যের বাজেট কমানোর উদ্যোগ। গত জুলাইয়ে গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট, লেফটেন্যান্ট গভর্নর ড্যান প্যাট্রিক এবং প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ডাস্টিন বারোজ পরবর্তী দুই বছরের জন্য বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, আপিল আদালত ও বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যয় ৩ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা কমিশনও সেই নির্দেশনার আওতায় ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা করেছে। কর্মসূচিটি বাদ দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কমিশনের কর্মকর্তারা ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁদের নথিতে বলা হয়েছে, সেবাগ্রহীতাদের ওপর সরাসরি প্রভাব যতটা সম্ভব কম রাখা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়নে প্রভাব এড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে একই বাজেট প্রস্তাবে কমিশন স্বীকার করেছে, অটিজম থেরাপির চাহিদা যোগ্য সেবাদানকারীদের সক্ষমতার চেয়ে বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা পাওয়া কঠিন। অটিজম চিকিৎসার ক্ষেত্রে মেডিকেইডের আওতা বাড়লেও সব পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত সেবা নিশ্চিত হয়নি। ২০২২ সালে ২০ বছর বা তার কম বয়সীদের জন্য মেডিকেইডের আওতায় এবিএ থেরাপির সুবিধা যুক্ত হয়। ফলে অঙ্গরাজ্যের আলাদা কর্মসূচিটি অপ্রয়োজনীয় মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে অনেক পরিবার এখনো এই সুবিধার বাইরে রয়ে গেছে। যেসব পরিবারের বিমা নেই কিংবা যাদের বিমা নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত পরিকল্পনার আওতায়, তাদের ক্ষেত্রে এবিএ থেরাপির খরচ বিমা থেকে নাও পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, মেডিকেইডে সুবিধা থাকলেও কম অর্থ পরিশোধের কারণে অনেক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এই বিমার আওতাভুক্ত রোগীদের নিতে আগ্রহী হয় না। ফলে সরকারি কর্মসূচিটি এমন পরিবারগুলোর জন্য বিকল্প পথ তৈরি করেছে, যারা অন্য কোনোভাবে থেরাপি পাচ্ছে না। টেক্সানস উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ জোটের অ্যাডভোকেসি পরিচালক জোলিন পোলের মতে, কর্মসূচি বন্ধ না করে বরং অর্থায়ন বাড়িয়ে অপেক্ষমাণ শিশুদের সেবা দেওয়া উচিত। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে ভবিষ্যতে পরিবার ও অঙ্গরাজ্য—উভয়ের ওপরই বেশি চাপ তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে পাঁচ বছর বয়সী লিলা রদ্রিগেজের মা এমিলি পেনারও। মেডিকেইড থাকলেও মেয়ের জন্য থেরাপি প্রদানকারী খুঁজে পেতে তাঁকে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। পরে তিনি ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন–ক্লিয়ার লেকের অটিজম কেন্দ্রে কর্মসূচিটির আওতায় সেবা পাওয়ার সুযোগ খুঁজে পান। লিলা যখন প্রথম অটিজম শনাক্ত হয়, তখন সে কথা বলতে পারত না এবং প্রি-কে শ্রেণিতেও সমস্যায় পড়ত। থেরাপির মাধ্যমে ইতিবাচক আচরণকে উৎসাহিত করা হয়। যেমন, ট্যাবলেট ব্যবহারের সময় শেষ হলে লিলা ভেঙে পড়ত। তখন থেরাপিস্টরা স্লাইমের মতো পছন্দের জিনিস ব্যবহার করে তাকে অন্য কাজে মনোযোগী করতেন, যাতে একটি কাজ থেকে অন্য কাজে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তার কাছে ইতিবাচক হয়। জুনে কর্মসূচি থেকে সেবা শেষ করার আগে লিলা সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন সেখানে থেরাপি নিত। পেনার মতে, এই সহায়তা তাঁর মেয়েকে তুলনামূলক স্বাভাবিক শৈশব কাটানোর সুযোগ দিয়েছে। জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ বছরে শিশুদের মধ্যে অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার শনাক্তের হার ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে থেরাপির চাহিদাও বাড়ছে। টেক্সাসে এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত সেবার জন্য অপেক্ষা করতে হয় সপ্তাহ নয়, বরং বছরের পর বছর। ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন–ক্লিয়ার লেকের অটিজম কেন্দ্রটি ২০০৮ সালে কর্মসূচি চালুর পর থেকেই এর আওতায় সেবা দিয়ে আসছে। কেন্দ্রটির পরিচালক ডরোথিয়া লারম্যান জানান, গত বছর কর্মসূচিসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ৪১টি পরিবারকে থেরাপি দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ২০০ পরিবার অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে। তাঁর ভাষায়, কর্মসূচি বন্ধ হলে এসব পরিবারের বড় অংশের জন্য অন্য কোনো সেবার ব্যবস্থা থাকবে না। এতে শিশুদের পাশাপাশি পুরো পরিবারের দৈনন্দিন জীবনেও বড় প্রভাব পড়তে পারে—দোকানে যাওয়া, রেস্তোরাঁয় খাওয়া কিংবা সরকারি স্কুলে মানিয়ে নেওয়ার মতো কাজও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তিন বছর বয়সী মাইকা অর্টিজের মা হেইলি জনসনের অভিজ্ঞতাও একই রকম। ১৮ মাস বয়সে মাইকার অটিজম শনাক্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচির আওতায় কয়েক মাস থেরাপি নেওয়ার পর তার যোগাযোগের দক্ষতা বেড়েছে এবং অতিরিক্ত রাগ বা আক্রমণাত্মক আচরণ কমেছে বলে জানান জনসন। বর্তমানে মাইকা আবারও সেবা পাওয়ার অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে। কর্মসূচিটি বন্ধের প্রস্তাবে হতাশ জনসন বলেন, অটিজম থাকা শিশুদের পরিবার এমনিতেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে থাকে। প্রয়োজনীয় সহায়তার সুযোগ সীমিত হওয়ায় এই কর্মসূচি তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আইনপ্রণেতারা প্রস্তাবটি অনুমোদন করলে বর্তমান কর্মসূচির আওতায় থাকা শিশুরা ২০২৭ সালের আগস্টের শেষ পর্যন্ত সেবা পাবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা কমিশন। এর মধ্যে বিকল্প অর্থায়ন নিশ্চিত করা না গেলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোকে তাদের কর্মসূচি বন্ধ করতে হতে পারে। ফলে টেক্সাসের বহু পরিবারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বর্তমান সহায়তা বন্ধ হয়ে গেলে সন্তানদের প্রয়োজনীয় থেরাপি কোথা থেকে পাওয়া যাবে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে ধারাবাহিক আ ক্র ম ণের পর যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা থেকে সৌদি আরবে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে ডেল্টা এয়ারলাইনস। চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট চালুর কথা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু হবে ২০২৭ সালের মার্চে। তবে মার্চের ঠিক কোন তারিখে ফ্লাইট চালু হবে, তা এখনো জানায়নি এয়ারলাইনসটি। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডেল্টা। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি রাজধানীর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নি হ ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক শ মানুষ। পরিস্থিতির কারণে বিমান চলাচল ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডেল্টা জানিয়েছে, অঞ্চলটির পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ফ্লাইট চালুর সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া, রিয়াদ এয়ার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে তারা। আটলান্টা থেকে রিয়াদে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনাটি ডেল্টার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালে সৌদি আরবের নতুন বিমান সংস্থা রিয়াদ এয়ারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ঘোষণা দিয়েছিল ডেল্টা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। রুটটি চালু হলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো এয়ারলাইনসের মাধ্যমে সৌদি আরবে সরাসরি যাত্রী পরিবহনের নতুন সুযোগ তৈরি হতো। তবে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ এখন এই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার হুতি বিদ্রোহীরা কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানায়। একই সঙ্গে মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দর ছাড়া সৌদি আরবের অন্য বিমানবন্দরগুলোকে অনিরাপদ বলে সতর্ক করে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোকে। এমন হুমকির পর বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ফ্লাইটের তারিখ পরিবর্তনের কারণে যেসব যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রভাবিত হয়েছে, তাদের বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ডেল্টা। যাত্রীরা এয়ারলাইনসটির ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ দেখতে পারবেন। প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী, টিকিট বাতিল করে অর্থ ফেরত নেওয়া অথবা ভবিষ্যৎ ভ্রমণের জন্য ক্রেডিট পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। যাত্রার তারিখ ও টিকিটের শর্ত অনুযায়ী সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। ডেল্টার প্রকাশিত ভ্রমণ-সংক্রান্ত নির্দেশনায় ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত রিয়াদগামী, রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া কিংবা রিয়াদ হয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সুযোগের কথা বলা হয়েছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী যাত্রীরা অতিরিক্ত ফি ছাড়াই ফ্লাইট পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে যাত্রীরা টিকিট পরিবর্তন বা বাতিল করার আগে ডেল্টার সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো এয়ারলাইনস সৌদি আরবে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে না। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসির বাইরের ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং লস এঞ্জেলেস থেকে সৌদি আরবে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে। ফলে ডেল্টার পরিকল্পিত আটলান্টা-রিয়াদ রুটটি চালু হলে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগে নতুন একটি সংযোগ যুক্ত হতো। ফ্লাইট চালুর সময় পিছিয়ে গেলেও সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়নি ডেল্টা। তবে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তার ওপর নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা নির্ভর করবে। আপাতত যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্ধারিত তারিখে ফ্লাইট চালু হচ্ছে না এবং নতুন সময়সূচি অনুযায়ী যাত্রার পরিকল্পনা করতে হবে।
মার্কিন নাগরিকদের প্রত্যেককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আবারও সামনে এনেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন রাজনৈতিক শর্ত। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোনোর কথা বলেছেন তিনি। যদিও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আইন পাস হয়নি, এমনকি অর্থ বিতরণের সময়সূচি বা চূড়ান্ত যোগ্যতার শর্তও নির্ধারণ করা হয়নি। ১২ অক্টোবর ট্রাম্প আবারও এ প্রস্তাবের কথা বলেন। তাঁর দাবি, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে কর বাড়াবে এবং দেশ অর্থনৈতিক মন্দার দিকে এগিয়ে যাবে। তবে তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক দাবি; এর পক্ষে কোনো অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়নি। ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকেরা ৫ হাজার ডলার করে পেতে পারেন। তবে কারা এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত নিয়ম প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্প প্রথমবারের মতো এ পরিকল্পনার কথা বলেন গত ৯ সেপ্টেম্বর ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনবিষয়ক এক সম্মেলনে। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। এবারও অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সামনে এনে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয় ধরে রাখার বিষয়টির সঙ্গে একে যুক্ত করেছেন। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে সরকারের ব্যয় কত হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। সিএনবিসির এক হিসাব অনুযায়ী, এ ধরনের অর্থ বিতরণে প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হোয়ার্টন স্কুলের বাজেট মডেলের পরিচালক কেন্ট স্মেটার্সের হিসাবে, সব প্রাপ্তবয়স্ককে অর্থ দিতে গেলে ব্যয় ১ দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এত বিপুল অর্থ কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়েও এখনো কোনো চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেই। প্রস্তাবটি নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি ও ডেভিড শোয়াইকাট এ ধরনের অর্থ বিতরণের পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে সিনেটর বার্নি মোরেনো প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাট নেতা রবার্ট গার্সিয়া ও জেমি রাসকিনও এ পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ একসঙ্গে মানুষের হাতে পৌঁছালে ভোগব্যয় বাড়তে পারে। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা দ্রুত বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতির চাপও তৈরি হতে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে অর্থের উৎস, বিতরণের পদ্ধতি এবং অর্থনীতির তৎকালীন পরিস্থিতির ওপর। এ ছাড়া অর্থ বিতরণের প্রতিশ্রুতিকে নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকেরা এ ধরনের প্রতিশ্রুতির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে প্রস্তাবটি বেআইনি বলে কোনো আদালতের রায় হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এখনো ঘোষণার পর্যায়েই রয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন, অর্থের জোগান, যোগ্যতার নিয়ম কিংবা অর্থ বিতরণের নির্দিষ্ট সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি। ফলে মার্কিন নাগরিকেরা আদৌ এই অর্থ পাবেন কি না, তা নির্ভর করছে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রে ‘আমেরিকান ড্রিম’ বা স্বপ্নের জীবন গড়তে একজন মানুষের জীবদ্দশায় খরচ হতে পারে প্রায় ৫৩ লাখ ২০ হাজার ডলার। নিজের বাড়ি, দুটি নতুন গাড়ি, দুই সন্তানকে বড় করা ও কলেজে পড়ানো, অবসরজীবন, চিকিৎসা, বিয়ে, পোষা প্রাণী এবং প্রতিবছর ছুটি কাটানোর মতো বিষয়গুলো হিসাব করলে এই বিপুল অঙ্ক দাঁড়ায়। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বপ্নের জীবন গড়ার ব্যয় গত বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। অথচ একই সময়ে বেসরকারি খাতের কর্মীদের বেতন ও মজুরি বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে ভালো চাকরি, নিজের বাড়ি, পরিবার নিয়ে স্বচ্ছল জীবন এবং আর্থিক নিরাপত্তার যে স্বপ্ন বহু মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর সময় দেখেন, তা পূরণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ‘আমেরিকান ড্রিম’ ধারণাটি নতুন নয়। ১৯৩১ সালে লেখক জেমস ট্রাসলো অ্যাডামস তাঁর ‘এপিক অব আমেরিকা’ বইয়ে এমন একটি দেশের স্বপ্ন তুলে ধরেছিলেন, যেখানে সবার জীবন আরও উন্নত, সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ হওয়ার সুযোগ থাকবে। সময়ের সঙ্গে ধারণাটির অর্থ বিস্তৃত হয়েছে। অনেকের কাছে এর মানে স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকার, আবার অনেকের কাছে আর্থিক নিরাপত্তা, ভালো চাকরি এবং নিজের বাড়ির মালিক হওয়া। তবে এই স্বপ্ন বাস্তবে অর্জন করা যাবে কি না, তা নিয়ে মানুষের আত্মবিশ্বাস কমছে। ২০২৬ সালের এক গ্যালাপ জরিপে ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে আমেরিকান ড্রিম অর্জন করতে পারবেন বলে মনে করেন। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৭৩ শতাংশ। অর্থাৎ দুই বছরে আত্মবিশ্বাস কমেছে চার শতাংশ পয়েন্ট। যদিও অধিকাংশ মানুষ এখনো এই স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। জীবনভর ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি অর্থ প্রয়োজন হবে বাড়ির মালিক হতে। বাড়ি কেনা, ঋণের সুদ, সম্পত্তি কর, বিমা ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৭৮২ ডলার। একটি একক পরিবারের বাড়ির মধ্যম মূল্য ৪ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি। ৩০ বছরের গৃহঋণের সুদের হার গড়ে ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ ধরে হিসাব করা হয়েছে এই ব্যয়। ঋণের মূল অর্থ ও সুদ পরিশোধেই প্রায় ৮ লাখ ৩৭ হাজার ডলার লাগতে পারে। এর সঙ্গে কর, বিমা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যুক্ত হবে আরও প্রায় ৪ লাখ ৩৮ হাজার ডলার। দুটি নতুন গাড়ি কেনা ও দীর্ঘদিন ব্যবহার করার ব্যয়ও কম নয়। গাড়ির ঋণ, বিমা, মেরামত, নিবন্ধন ও জ্বালানি মিলিয়ে জীবদ্দশায় খরচ হতে পারে প্রায় ১২ লাখ ৫ হাজার ৬২৭ ডলার। নতুন গাড়ির গড় ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪৪ হাজার ডলার ধরে এই হিসাব করা হয়েছে। বছরে ১৫ হাজার মাইল গাড়ি চালানোর ব্যয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত। অবসরজীবনের জন্য প্রয়োজন হতে পারে আরও প্রায় ১২ লাখ ৫ হাজার ১১৯ ডলার। বাড়ির ঋণ পরিশোধ হয়ে গেছে—এমন একটি বিবাহিত দম্পতির অবসরের পর ২০ বছরের স্বচ্ছল জীবনযাপনের ব্যয় ধরে এই হিসাব করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ খাতে ব্যয় বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। দুই সন্তানকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত লালন-পালন এবং পরে কলেজে পড়ানোর জন্য প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৯ লাখ ৫৩ হাজার ৭৬৩ ডলার। গত বছরের তুলনায় এই খরচ বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। ব্যয়ের বড় অংশজুড়ে রয়েছে শিশুদের যত্ন নেওয়া। কেন্দ্রে শিশুদের দেখাশোনার জন্য বছরে প্রতি শিশুর পেছনে গড়ে ১৩ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় হতে পারে। এর বাইরে অঙ্গরাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের পড়াশোনার জন্য হিসাব করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৬ হাজার ডলার। চিকিৎসার জন্য ২২ থেকে ৮৫ বছর বয়স পর্যন্ত পরিবারের নিজস্ব পকেট থেকে ব্যয় হতে পারে প্রায় ৪ লাখ ১৩ হাজার ২৭১ ডলার। আটটি খাতের মধ্যে কেবল চিকিৎসাব্যয়েই গত বছরের তুলনায় সামান্য হ্রাস দেখা গেছে। এ ছাড়া ২২ থেকে ৮৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিবছর একটি করে ছুটি কাটানোর ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯৯ ডলার। একটি কুকুর ও একটি বিড়াল পালনে খাবার, চিকিৎসা ও বিমাসহ আজীবন খরচ হতে পারে প্রায় ৪০ হাজার ৭৭২ ডলার। আর বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের গড় ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮ হাজার ৮০০ ডলার। এত ব্যয়ের বিপরীতে একজন কর্মজীবী মানুষের আয় কতটা যথেষ্ট? বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্নাতক ডিগ্রিধারী একজন পূর্ণকালীন কর্মী ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করে মধ্যম হিসাবে প্রায় ৩৬ লাখ ডলার আয় করতে পারেন। এর সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় গড়ে ২০ বছরের সুবিধা যোগ করলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪১ লাখ ডলার। তবুও আমেরিকান ড্রিমের আনুমানিক ব্যয়ের তুলনায় ঘাটতি থেকে যায় প্রায় ১২ লাখ ডলার। এই হিসাব সবার ক্ষেত্রে এক হবে না। বসবাসের জায়গা, আয়, পরিবারের আকার, শিক্ষা, অবসরের পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী ব্যয় অনেকটা বদলে যেতে পারে। তালিকার সব খরচও প্রত্যেক মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবু বিশ্লেষণটি যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা, সন্তানদের শিক্ষা, গাড়ি ও অবসরজীবনের মতো বড় ব্যয় সামলানোর চাপ স্পষ্ট করে। বেতন বৃদ্ধির চেয়ে জীবনযাপনের খরচ দ্রুত বাড়তে থাকায় অনেকের জন্য স্বপ্নের জীবন গড়তে শুধু নিয়মিত চাকরি ও দীর্ঘ কর্মজীবনের আয় যথেষ্ট নাও হতে পারে।
স্মার্টফোন ছাড়া কি সত্যিই স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব? গাড়ি চালানোর পথ খুঁজে বের করা, কনসার্টের টিকিট দেখানো কিংবা রেস্তোরাঁর খাবারের তালিকা দেখতে কিউআর কোড স্ক্যান করা—দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা এখন অনেকেরই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের শিল্পী ও প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার কমানোর আন্দোলনকর্মী অগাস্ট ল্যামের অভিজ্ঞতা বলছে, স্মার্টফোন ছাড়াও জীবন চালানো সম্ভব। শুধু তা-ই নয়, তাঁর মতে, এই পরিবর্তনে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, অবসর সময় এবং মানসিক স্বস্তির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ল্যাম তাঁর নতুন বই ইউ ডোন্ট নিড আ স্মার্টফোন: আ প্র্যাকটিক্যাল গাইড টু ডাউনগ্রেডিং ইওর ফোন অ্যান্ড আপগ্রেডিং ইওর লাইফ-এ স্মার্টফোনের বদলে সাধারণ ফ্লিপ ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। বইটিতে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, স্মার্টফোনের সুবিধা ছাড়ার কিছু অসুবিধা থাকলেও এর বাইরে থাকার সুফল তাঁর কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২২ সালে নিজের ২৭তম জন্মদিনের কিছুদিন পর স্মার্টফোন ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন ল্যাম। তখন তাঁর মনে হয়েছিল, ফোনে এত বেশি সময় ব্যয় করছেন যে শিল্পচর্চার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন না। নিজের ভাষায়, তিনি ফোন ব্যবহারে একধরনের আসক্তি অনুভব করছিলেন। এরপর ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা নেই—এমন একটি সাধারণ ফ্লিপ ফোন ব্যবহার শুরু করেন। স্মার্টফোন ছেড়ে দেওয়ার আগে ল্যামের আশঙ্কা ছিল, এতে পরিচিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যাবে এবং নতুন বন্ধু তৈরি করাও কঠিন হবে। কারণ, অনলাইনে অনুষ্ঠান বা বিভিন্ন আয়োজনের খবর দেখা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না। কিন্তু বাস্তবে তিনি উল্টো অভিজ্ঞতা পান। তাঁর দাবি, স্মার্টফোন ছাড়ার পর নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় বেড়েছে, আর পুরোনো বন্ধুত্বগুলোও আরও দৃঢ় হয়েছে। ল্যামের মতে, অন্য মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় ফোনে মনোযোগ না দিলে তাদের প্রতি মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে একা থাকার সময়ও ফোনের মাধ্যমে অন্যদের সামাজিক জীবনে ডুবে থাকার প্রবণতা কমে। এতে নিজের সময় ও সামাজিক যোগাযোগের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব হয়। বন্ধুত্ব রক্ষার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসে। আগে কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছুটি কাটানো কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের খবর প্রকাশ করলে তিনি সেখান থেকেই তা জানতে পারতেন। স্মার্টফোন ছাড়ার পর বন্ধুদের তাঁকে ফোন করে বা সরাসরি দেখা করে খবর জানাতে হতো। গ্রুপ মেসেজ ব্যবহার করতে না পারায় যোগাযোগ আরও ব্যক্তিগত হয়ে ওঠে বলে মনে করেন তিনি। নতুন কারও সঙ্গে পরিচয় হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হওয়ার বদলে ল্যাম সরাসরি পরবর্তী সপ্তাহে দেখা করার পরিকল্পনা করেন কিংবা নিজের কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। এতে পরিচয়ের পর যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়টি অনলাইন অনুসরণের ওপর নির্ভর করে থাকে না। ফোন ছাড়ার পর অবসর সময়ও বেড়েছে স্মার্টফোনের অন্যতম আকর্ষণ হলো দ্রুত কাজ শেষ করার সুবিধা। অনলাইনে বিল দেওয়া, মানচিত্র দেখে গন্তব্যে পৌঁছানো কিংবা ডিজিটাল টিকিট সংগ্রহ করা—এসব কাজ ফোনে সহজেই করা যায়। কিন্তু ল্যামের মতে, ফোনে অল্প অল্প করে বারবার সময় দেওয়ার অভ্যাসই দিনের বড় একটি অংশ কেড়ে নেয়। তিনি বলেন, কেউ যদি দিনে পাঁচ ঘণ্টা ফোনে বিভিন্ন কনটেন্ট দেখেন, তাহলে সেই অভ্যাস বন্ধ করলে পাঁচ ঘণ্টাই ফিরে পাওয়া সম্ভব। ফোনের বদলে ইউটিলিটি বিল দিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করা, ডাকঘরে যাওয়া কিংবা লাইব্রেরিতে গিয়ে বাসের টিকিট ছাপানোর মতো কাজ করতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। তবে এসব কাজের মাধ্যমে বাইরে বের হওয়া, হাঁটাচলা করা এবং মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও তৈরি হয়। ল্যামের অভিজ্ঞতায়, ফোনে বারবার খবর দেখা, বার্তা পড়া কিংবা বিজ্ঞপ্তি পরীক্ষা করার মতো ছোট ছোট কাজ একত্রে দিনের কয়েক ঘণ্টা ব্যয় করাতে পারে। এসব অভ্যাস কমানোর পর ব্যস্ত সময়েও তাঁর প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা অবসর থাকে। ফোন ব্যবহারের সময় যে অস্থিরতা ও আতঙ্ক অনুভব করতেন, সেটিও অনেক কমেছে বলে জানান তিনি। মনোযোগ ও মানসিক স্বস্তির পরিবর্তন স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা কমলে নিজের স্মৃতিশক্তি ও দিকনির্দেশনা বোঝার ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার কথাও বলেছেন ল্যাম। তাঁর মতে, আগে থেকেই মানুষের মধ্যে তথ্য মনে রাখা ও আশপাশের পরিবেশ বুঝে চলার স্বাভাবিক ক্ষমতা রয়েছে। সবকিছুর জন্য ফোনের ওপর নির্ভর করলে সেই দক্ষতা ব্যবহারের সুযোগ কমে যায়। তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি; সবার স্মৃতিশক্তি বা মনোযোগ একইভাবে বদলাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফোনের আরেকটি প্রভাব হলো, অস্বস্তিকর অনুভূতি থেকে মন সরাতে অনেকেই স্ক্রল করতে শুরু করেন। ল্যামের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে স্মার্টফোন ছাড়া থাকা এমন মনে হতে পারে, যেন প্রয়োজনীয় মোকাবিলা-কৌশল ছাড়াই আটকে পড়েছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি বিকল্প অভ্যাস গড়ে তোলেন—বন্ধুকে ফোন করা, বই পড়া, হাঁটতে যাওয়া কিংবা গান শোনা। এতে অস্বস্তিকর অনুভূতি এড়িয়ে না গিয়ে সেগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়েছে বলে তাঁর অভিজ্ঞতা। ল্যামের পরামর্শ, স্মার্টফোন ছাড়া জীবন সম্ভব নয় বলে ধরে নেওয়ার আগে অন্তত এক মাস চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে। তবে যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণের মতো চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজে স্মার্টফোনের প্রয়োজন, তাঁদের জন্য তিনি আলাদা একটি সাধারণ ফোনকে দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রধান ফোন হিসেবে রাখার এবং স্মার্টফোনটি শুধু চিকিৎসার কাজে ব্যবহারের বিকল্পও তুলে ধরেছেন। স্মার্টফোন পুরোপুরি বাদ দেওয়া সবার জন্য বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। তবে অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি বন্ধ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময় সীমিত রাখা কিংবা কিছু সময় ফোন থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। ল্যামের অভিজ্ঞতার মূল বার্তা হলো, ফোনের সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি নিজের সময়, মনোযোগ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জন্যও জায়গা রাখা জরুরি।
অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন শর্তে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন, অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে থেকে নতুন ভিসার আবেদন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার নিয়মে পরিবর্তন করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন বিধি শিক্ষার্থী ভিসা (সাবক্লাস ৫০০) এবং শিক্ষার্থীর অভিভাবক ভিসা (সাবক্লাস ৫৯০)—দুই ধরনের ভিসার আবেদনকারীদের জন্য প্রাসঙ্গিক। নতুন নিয়মের প্রভাব পড়বে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, সেখানে থেকে পরবর্তী শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি এবং আবেদনকারীর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নেওয়ার পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের ওপর। তাই অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা, ভ্রমণ কিংবা বসবাসের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট শর্তগুলো ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন বিধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, এখন থেকে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে করতে হবে। আগে থেকেই দেশটিতে শিক্ষার্থী ভিসায় অবস্থান করছেন—এমন ব্যক্তিরাও চাইলেই অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে থেকে পরবর্তী শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন করতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ছাড়ের আওতায় পড়তে হবে। আবেদনকারীর বর্তমান ভিসার ধরন এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে তিনি দেশটির ভেতরে থেকে আবেদন করতে পারবেন কি না। যাঁরা নতুন শর্ত অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে আবেদন করতে বাধ্য, তাঁদের ভিসা মঞ্জুর হওয়ার সময়ও অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকতে হবে। তবে আবেদন প্রক্রিয়া চলার সময় অন্য কোনো বৈধ ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সুযোগ থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ভিসা মঞ্জুর হওয়ার সময় দেশের বাইরে থাকার শর্ত বহাল থাকবে। অন্যদিকে, নতুন নিয়ম না মেনে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে থেকে আবেদন করলে সেটি অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এতে আবেদনকারীর বর্তমান ভিসার অবস্থার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে আগের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পরবর্তী ভিসার আবেদন করার সুযোগও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা ও ছাড়ের শর্ত যাচাই করা জরুরি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। নতুন নিয়মে অধিকাংশ শিক্ষার্থী তাঁদের সঙ্গী বা নির্ভরশীল সন্তানকে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন না। একই বিধি পরবর্তী শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আবার শিক্ষার্থী ভিসা মঞ্জুর হওয়ার পর আলাদা আবেদনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসার সুযোগও সাধারণভাবে বন্ধ করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সীমিত কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। পিএইচডি বা ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থী, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দপ্তর কিংবা প্রতিরক্ষা বিভাগের অর্থায়নে পড়াশোনা করা ব্যক্তি, বিদেশি সরকারের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নির্দিষ্ট দেশ ও আসিয়ানভুক্ত দেশের যোগ্য শিক্ষার্থীরা কিছু শর্তে পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এ ছাড়া বর্তমান ভিসায় আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত পরিবারের সদস্যদের পরবর্তী আবেদনে রাখার সুযোগও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে থাকতে পারে। যেমন, মূল কোর্স শেষ করতে আরও সর্বোচ্চ ১২ মাস প্রয়োজন হলে কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোর্স পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ায় নতুন আবেদন করতে হলে বিশেষ শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে আবেদনকারী ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের আবেদন জমা দেওয়ার সময় একই স্থানে থাকার শর্তও রয়েছে। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও পরিবারের কাউকে আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করলে তাঁর আবেদন অবৈধ হতে পারে। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে, অর্থাৎ ২ অক্টোবর ২০২৬-এর আগে জমা দেওয়া শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনগুলো আগের বিধি অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে। পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল—এমন পুরোনো আবেদনও এর আওতায় পড়বে। অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়মগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন জমা দেওয়ার আগে ভিসার যোগ্যতা, পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ এবং অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে না বাইরে থেকে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ভর্তি, ভিসা, ভ্রমণ বা আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করলে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়ানো সহজ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বিশেষায়িত পেশায় কাজ করে বছরে ৩ লাখ ডলারের বেশি আয় করছেন ৩০ বছর বয়সী চাবেলি রদ্রিগেজ। চিকিৎসক হওয়ার জন্য মেডিকেল স্কুলে পড়তে হয়নি তাঁকে। অ্যানেসথেশিওলজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন এবং প্রয়োজনীয় পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে তিনি এখন হাসপাতালে অ্যানেসথেশিয়া সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। সঠিকভাবে পেশা নির্বাচন, শিক্ষাঋণ পরিশোধ এবং নিয়মিত বিনিয়োগের মাধ্যমে আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে তুলেছেন তিনি। ২০২৪ সালে নিজের কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন রদ্রিগেজ। আগে তিনি নির্দিষ্ট বেতনে কাজ করতেন। পরে সেই চাকরি ছেড়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চুক্তিভিত্তিক কাজ শুরু করেন। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ অ্যানেসথেশিয়া সহকারী হিসেবে কাজ করায় তাঁর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে বছরে তাঁর আয় ৩ লাখ ডলারের বেশি। এর আগে নির্দিষ্ট বেতনে চাকরি করার সময়ও বছরে ২ লাখ ডলারের বেশি আয় করতেন তিনি। তবে সেই আয় ধরে রাখতে নিয়মিত অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হতো। কখনো কখনো পূর্ণকালীন কাজের পাশাপাশি অতিরিক্ত শিফট এবং টানা ২৪ ঘণ্টার দায়িত্বও পালন করতেন। ছোটবেলা থেকেই অর্থ নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা ও সতর্কতা তাঁর মধ্যে কাজ করত। ভবিষ্যতে কোনো আর্থিক সংকট দেখা দিতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে সব সময় বাড়তি অর্থ জমিয়ে রাখার চেষ্টা করতেন তিনি। রদ্রিগেজের ভাষায়, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্যও তিনি প্রস্তুত থাকতে চাইতেন। এ কারণে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় কাজ করেও হাতে অতিরিক্ত অর্থ রাখার চেষ্টা করতেন। তবে এখন তাঁর কাজের ধরন বদলেছে। সাধারণত সপ্তাহে প্রায় ৪০ ঘণ্টা কাজ করেন তিনি। কর্মস্থলে অতিরিক্ত লোকের প্রয়োজন হলে মাঝেমধ্যে বাড়তি শিফট নেন। আগের মতো অতিরিক্ত সময় কাজ করলে বছরে তাঁর আয় প্রায় ৫ লাখ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারত। কিন্তু শুধু বেশি অর্থ উপার্জনের জন্য নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বস্তি বিসর্জন দিতে চান না তিনি। রদ্রিগেজের কথায়, তিনি আরও বেশি অর্থ আয় করতে চান, তবে সেই পথে নিজেকে পুরোপুরি ক্লান্ত করে ফেলতে চান না। বছরে ৩ লাখ ডলারের বেশি আয় করতে পারায় তিনি এখন সন্তুষ্ট। তাঁর কাছে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি নিজের সুস্থতা ও জীবনযাপনের ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাড়ি কেনার স্বপ্ন থেকে বদলে গেছে লক্ষ্য কর্মজীবনের শুরুতে ফ্লোরিডায় থাকতেন রদ্রিগেজ। তখন তাঁর পরিকল্পনা ছিল একদিন সেখানে নিজের বাড়ি কেনার। কিন্তু ২০২৪ সালে জর্জিয়ায় চলে যাওয়ার পর তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে। সেখানে ছয় মাসের একটি চুক্তিভিত্তিক কাজ শুরু করেন তিনি। এই সময়ে তিনি উপলব্ধি করেন, এক জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস করার চেয়ে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ এবং নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রতি তাঁর আগ্রহ বেশি। একই সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক কাজের মাধ্যমে বেশি আয় করার সুযোগও দেখতে পান। ফলে বাড়ি কেনার জন্য অর্থ সঞ্চয়ের চেয়ে নিজের পছন্দমতো জীবনযাপনের স্বাধীনতা তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জর্জিয়ায় কাজ শেষ হওয়ার পর তিনি নিউ মেক্সিকোতে চলে যান। বর্তমানে সেখানেই বসবাস করছেন। ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন কি না, তা এখনো ঠিক করেননি। বরং বছরের কিছু সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কাটানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। আয় বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে বিনিয়োগ রদ্রিগেজ শুধু বেশি আয় করেই থেমে থাকেননি। ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়ের একটি বড় অংশ বিনিয়োগ করছেন। কর কাটার আগের আয়ের ৪০ শতাংশ ব্রোকারেজ অ্যাকাউন্ট এবং অবসরকালীন সঞ্চয় হিসাবে জমা রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন তিনি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁর মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ লাখ ডলারে পৌঁছায়। নিয়মিত বিনিয়োগের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে শিক্ষাঋণ দ্রুত পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত। ২০২৩ সালে তিনি প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ডলারের শিক্ষাঋণ পরিশোধ করেন। ঋণের বোঝা কমে যাওয়ার পর সেই অর্থ বিনিয়োগের দিকে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তাঁর মতে, দ্রুত ঋণ পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য অর্থ গড়ে তোলার পথ সহজ করেছে। নিজের আর্থিক অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, প্রত্যাশার চেয়েও ভালো অবস্থানে পৌঁছেছেন তিনি। এর ফলে নিজেকে আরও সুখী, শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে। আগে অর্থ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা কাজ করত, তা অনেকটাই কমেছে। এখন লক্ষ্য অর্থের পাশাপাশি জীবন উপভোগ আগে রদ্রিগেজের লক্ষ্য ছিল ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে আগেভাগে অবসর নেওয়া। কিন্তু এখন নির্দিষ্ট কোনো অঙ্কের পেছনে ছুটতে চান না তিনি। বরং এমনভাবে অর্থ গড়ে তুলতে চান, যাতে ৫০ বছর বয়সের দিকে প্রয়োজন হলে কাজের চাপ কমিয়ে আনতে পারেন। জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও এখনো হিসাব করে চলেন তিনি। সঙ্গীর সঙ্গে বাসাভাড়া ভাগাভাগি করেন এবং সাধারণ টয়োটা করোলা গাড়ি ব্যবহার করেন। তবে ভ্রমণের জন্য অর্থ খরচ করতে দ্বিধা করেন না। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পাশাপাশি ব্যাকপ্যাকিং ও ক্যাম্পিংয়ের মতো তুলনামূলক সাশ্রয়ী অভিজ্ঞতাও উপভোগ করেন। আগে প্রতিটি অতিরিক্ত শিফট নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করলেও এখন পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে সরে আসা কিংবা নিজের ও সঙ্গীর জন্য পছন্দের কিছু কেনার ক্ষেত্রেও আগের চেয়ে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। রদ্রিগেজের উপলব্ধি, কোনো কিছু কেনার জন্য নিজের সামর্থ্যের সীমা ছাড়িয়ে কাজ করার প্রয়োজন নেই। তিনি এখন বুঝতে শিখেছেন, পর্যাপ্ত আয় থাকলে প্রতিটি সুযোগে আরও বেশি অর্থ উপার্জনের পেছনে ছুটতে হয় না। তাঁর বর্তমান লক্ষ্য তাই শুধু সম্পদ বাড়ানো নয়; বরং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বর্তমান জীবনও উপভোগ করা। আর্থিক সাফল্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বস্তি ও কাজের ভারসাম্য বজায় রাখার এই পরিবর্তনই তাঁর কাছে এখন সবচেয়ে বড় অর্জন।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার ১৫ বছর পর তা হারানোর আইনি ঝুঁকিতে পড়েছেন শিকাগোর এক অভিবাসী। নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ইমানুয়েল তাইয়ো আকিনকুনমির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গ্রিন কার্ড ও মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় নিজের আগের পরিচয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছিলেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের পাশাপাশি তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। গত ৭ অক্টোবর ইলিনয়ের একটি আদালতে দায়ের করা মামলায় মার্কিন সরকার দাবি করেছে, আকিনকুনমি আইনসম্মতভাবে নাগরিকত্ব অর্জন করেননি। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং কিছু তথ্য গোপন করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই তাঁর নাগরিকত্বের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। মামলার নথি অনুযায়ী, আকিনকুনমি ২০১১ সালের ৮ জুন মার্কিন নাগরিক হিসেবে শপথ নেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব লাভ করেন। কিন্তু তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ইতিহাস নিয়ে সরকারের অভিযোগ আরও পুরোনো। মামলায় বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে তিনি ভিন্ন একটি পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন। সেই পরিচয় ছিল ইজেকিয়েল আরেমু আদেতায়ো। সরকারের অভিযোগ, ১৯৯৩ সালে ওই পরিচয়ে তিনি নিজের গ্রিন কার্ডের মর্যাদা ত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৭ সালে মার্কিন অভিবাসন আপিল বোর্ডও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এর পর আকিনকুনমি নতুন পরিচয়ে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। ওই আবেদনে তিনি দাবি করেছিলেন, অন্য কোনো নাম ব্যবহার করেননি এবং এর আগে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়নি। সরকারের দাবি, এসব তথ্যের ভিত্তিতে ২০০০ সালে তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন অনুমোদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়াতেও একই ধরনের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। ২০১০ সালে নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় আকিনকুনমি নাকি আগের পরিচয় ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে তাঁকে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ থেকে বিরত রাখা হয়েছিল কিংবা বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—এমন তথ্যও তিনি অস্বীকার করেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের বক্তব্য, আকিনকুনমি কখনোই আইনসম্মতভাবে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জন করেননি। বরং প্রতারণা অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি অভিবাসন সুবিধা ও নাগরিকত্ব পেয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নাগরিকত্ব বাতিলের কার্যক্রম জোরদার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এই উদ্যোগকে আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিলের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অক্টোবরের শুরুতে মার্কিন বিচার বিভাগ ৪০ জন স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায়। সরকারের অভিযোগ, এসব ব্যক্তি অবৈধভাবে অথবা প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে ভুয়া বিয়ে, অভিবাসনসংক্রান্ত জালিয়াতি এবং পরিচয় গোপনের মতো অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তদের বয়স ২৬ থেকে ৭৬ বছরের মধ্যে এবং তাঁরা ২০টি দেশের নাগরিক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে আদালতের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে সরকারকে প্রমাণ করতে হয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব পেয়েছেন অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। অতীতে এ ধরনের মামলা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার বছরে গড়ে প্রায় ১১টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা শুরু করেছিল। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে, এই সংখ্যা বেড়ে বছরে প্রায় ২৫টিতে পৌঁছায়। নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টও সরকারের ক্ষমতার ওপর সীমা আরোপ করেছেন। ২০১৭ সালের মাসলেনিয়াক বনাম যুক্তরাষ্ট্র মামলায় আদালত বলেন, নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়ায় কোনো বেআইনি কাজের সঙ্গে নাগরিকত্ব পাওয়ার সম্পর্ক থাকতে হবে। অর্থাৎ, আবেদনে কোনো ভুল বা বেআইনি আচরণ পাওয়া গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব বাতিল করা যায় না; নাগরিকত্ব অর্জনে সেই আচরণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আকিনকুনমির মামলাতেও অভিযোগের সত্যতা, তথ্য গোপনের গুরুত্ব এবং নাগরিকত্ব অর্জনের সঙ্গে সেসব তথ্যের সম্পর্ক আদালতের বিবেচনায় আসতে পারে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবীর নাম তালিকাভুক্ত ছিল না। মামলায় মার্কিন সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীর কাছেও মন্তব্য চাওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাটোরের গুরুদাসপুরে বার্ধক্যেও চশমা ছাড়া কোরআন পড়তে পারার কারণে পরিচিত আব্বাস প্রামাণিক মারা গেছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামে নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। নাতি রিপন হোসেন তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের বরাতে তাঁর জন্মসাল ১৯০৩ উল্লেখ করা হয়েছে। সেই হিসাবে তাঁর বয়স প্রায় ১২৩ বছর বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। তবে তাঁর জন্মসংক্রান্ত মূল নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। পরিবারের বরাতে নিউজ২৪ জানিয়েছে, হঠাৎ আব্বাস প্রামাণিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে তিনি কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। বিষয়টি খুবজিপুর প্রবীণ সেবাকেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে একজন চিকিৎসক তাঁর বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসাসেবা দেন। পরে সোমবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। প্রবীণ সেবাকেন্দ্রের খুবজিপুর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক আবু সাইদ সরকার ঢাকা পোস্টকে জানান, আব্বাস প্রামাণিক দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সেবাকেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। অসুস্থতার খবর পেয়ে তাঁর বাড়িতে চিকিৎসক পাঠানো হয়েছিল। কর্মজীবনে আব্বাস প্রামাণিক খুবজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি এলাকার শিশুদের বিনামূল্যে কোরআন শেখাতেন তিনি। গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ জানান, উপজেলা প্রশাসন তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখত। তাঁর মৃত্যুর সংবাদে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। আব্বাস প্রামাণিক যোগেন্দ্রনগর গ্রামের মৃত সদর উদ্দিনের ছেলে। যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুকালে তিনি দুই মেয়ে ও ছয় ছেলেসহ স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সূত্র: নিউজ২৪
যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির প্রতিষ্ঠিত কর্মজীবন ছেড়ে বাংলাদেশে চিপ ডিজাইনের প্রতিষ্ঠান গড়েছিলেন মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান। ২০০৭ সালে ঢাকায় মাত্র চারজন প্রকৌশলী নিয়ে শুরু করা তাঁর প্রতিষ্ঠান উল্কাসেমিতে এখন ছয় শতাধিক প্রকৌশলী কাজ করছেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার চলতি বছরের ১১ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি চারটি আন্তর্জাতিক ডিজাইন সেন্টারের মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবা দিচ্ছে। এনায়েতুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এএমডিতে চিপ ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেছেন। এনটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নেন। পরবর্তী সময়ে সিলিকন ভ্যালিতে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এএমডিতে তাঁর কর্মজীবন ছিল প্রায় ১১ বছরের। বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর খাতের সঙ্গে যুক্ত করার চিন্তা থেকেই উল্কাসেমির যাত্রা শুরু। তবে প্রতিষ্ঠার পরপরই কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। এনায়েতুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৮ ও ২০০৯ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দায় ব্যবসা সংকটে পড়ে। পরে অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়। উল্কাসেমির কাজ মূলত চিপের নকশা তৈরি এবং সেই নকশা যাচাইয়ের সেবা দেওয়া। এনটিভিকে এনায়েতুর রহমান জানান, শুরুতে তাঁরা চিপের লেআউট ডিজাইন নিয়ে কাজ করতেন। পরে ডিজিটাল ও অ্যানালগ ডিজাইন, নকশা যাচাই এবং উৎপাদনের আগে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধাপে সেবা সম্প্রসারণ করেন। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী এসব কাজের একটি অংশ ঢাকা থেকেই সম্পন্ন হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি শিল্পের উপযোগী জনবল তৈরিতে জোর দিচ্ছেন এনায়েতুর রহমান। বাসসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক শেষ করলেও অনেক তরুণের চাকরিতে প্রবেশের আগে হাতে কলমে বাড়তি প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হয়। উল্কাসেমির ভিএলএসআই ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে চিপ ডিজাইনে ব্যবহৃত সফটওয়্যার ও বাস্তব কাজের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে এই খাত সম্প্রসারণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, প্রবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবীদের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ কাজে লাগানো গেলে দেশের সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন খাত আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। সূত্র: বিজনেস হ্যাবিট
ভারতে বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে মুখ শনাক্তকরণ ক্যামেরা এড়াতে মেকআপ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী রিচা চাড্ডা। রোববার, ১১ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভকারীদের সম্মতি ছাড়াই তাঁদের ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে। নারী বিক্ষোভকারীদের নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি প্রেস জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে রিচা এই পোস্ট করেন। বিক্ষোভকারীরা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। পোস্টে রিচা বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, সম্মতি ছাড়া ভিডিও করা হলে নজরদারি ও মুখ শনাক্তকরণ ক্যামেরা এড়ানোর চেষ্টায় মেকআপ ব্যবহার করা যেতে পারে। এ বিষয়ে একটি মেকআপ টিউটোরিয়ালও শেয়ার করেন তিনি। তবে তাঁর এই পরামর্শকে মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এড়ানোর নিশ্চিত বা পরীক্ষিত উপায় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। একই বার্তায় বিক্ষোভকারীদের নিরাপদ থাকতে, পর্যাপ্ত পানি পান করতে এবং মনোবল ধরে রাখতে বলেন অভিনেত্রী। নারীদের সঙ্গে পেপার স্প্রে রাখার পরামর্শও দেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিবাদ অব্যাহত রাখলেও সহিংসতায় না জড়ানোর আহ্বান জানান। এর আগে ৯ অক্টোবরও এক্সে বিক্ষোভের সমর্থনে পোস্ট করেছিলেন রিচা। সেখানে দিল্লির বাসিন্দাদের বড় সংখ্যায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শহরের বাইরে থেকে কেন্দ্রীয় দিল্লিতে পৌঁছানোর পথে বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করে অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তুতি নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেন।