- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
নাটোরের গুরুদাসপুরে বার্ধক্যেও চশমা ছাড়া কোরআন পড়তে পারার কারণে পরিচিত আব্বাস প্রামাণিক মারা গেছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামে নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। নাতি রিপন হোসেন তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের বরাতে তাঁর জন্মসাল ১৯০৩ উল্লেখ করা হয়েছে। সেই হিসাবে তাঁর বয়স প্রায় ১২৩ বছর বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। তবে তাঁর জন্মসংক্রান্ত মূল নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। পরিবারের বরাতে নিউজ২৪ জানিয়েছে, হঠাৎ আব্বাস প্রামাণিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে তিনি কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। বিষয়টি খুবজিপুর প্রবীণ সেবাকেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে একজন চিকিৎসক তাঁর বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসাসেবা দেন। পরে সোমবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। প্রবীণ সেবাকেন্দ্রের খুবজিপুর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক আবু সাইদ সরকার ঢাকা পোস্টকে জানান, আব্বাস প্রামাণিক দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সেবাকেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। অসুস্থতার খবর পেয়ে তাঁর বাড়িতে চিকিৎসক পাঠানো হয়েছিল। কর্মজীবনে আব্বাস প্রামাণিক খুবজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি এলাকার শিশুদের বিনামূল্যে কোরআন শেখাতেন তিনি। গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ জানান, উপজেলা প্রশাসন তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখত। তাঁর মৃত্যুর সংবাদে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। আব্বাস প্রামাণিক যোগেন্দ্রনগর গ্রামের মৃত সদর উদ্দিনের ছেলে। যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুকালে তিনি দুই মেয়ে ও ছয় ছেলেসহ স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সূত্র: নিউজ২৪
যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির প্রতিষ্ঠিত কর্মজীবন ছেড়ে বাংলাদেশে চিপ ডিজাইনের প্রতিষ্ঠান গড়েছিলেন মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান। ২০০৭ সালে ঢাকায় মাত্র চারজন প্রকৌশলী নিয়ে শুরু করা তাঁর প্রতিষ্ঠান উল্কাসেমিতে এখন ছয় শতাধিক প্রকৌশলী কাজ করছেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার চলতি বছরের ১১ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি চারটি আন্তর্জাতিক ডিজাইন সেন্টারের মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবা দিচ্ছে। এনায়েতুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এএমডিতে চিপ ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেছেন। এনটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নেন। পরবর্তী সময়ে সিলিকন ভ্যালিতে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এএমডিতে তাঁর কর্মজীবন ছিল প্রায় ১১ বছরের। বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর খাতের সঙ্গে যুক্ত করার চিন্তা থেকেই উল্কাসেমির যাত্রা শুরু। তবে প্রতিষ্ঠার পরপরই কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। এনায়েতুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৮ ও ২০০৯ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দায় ব্যবসা সংকটে পড়ে। পরে অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়। উল্কাসেমির কাজ মূলত চিপের নকশা তৈরি এবং সেই নকশা যাচাইয়ের সেবা দেওয়া। এনটিভিকে এনায়েতুর রহমান জানান, শুরুতে তাঁরা চিপের লেআউট ডিজাইন নিয়ে কাজ করতেন। পরে ডিজিটাল ও অ্যানালগ ডিজাইন, নকশা যাচাই এবং উৎপাদনের আগে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধাপে সেবা সম্প্রসারণ করেন। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী এসব কাজের একটি অংশ ঢাকা থেকেই সম্পন্ন হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি শিল্পের উপযোগী জনবল তৈরিতে জোর দিচ্ছেন এনায়েতুর রহমান। বাসসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক শেষ করলেও অনেক তরুণের চাকরিতে প্রবেশের আগে হাতে কলমে বাড়তি প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হয়। উল্কাসেমির ভিএলএসআই ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে চিপ ডিজাইনে ব্যবহৃত সফটওয়্যার ও বাস্তব কাজের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে এই খাত সম্প্রসারণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, প্রবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবীদের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ কাজে লাগানো গেলে দেশের সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন খাত আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। সূত্র: বিজনেস হ্যাবিট
ভারতে বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে মুখ শনাক্তকরণ ক্যামেরা এড়াতে মেকআপ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী রিচা চাড্ডা। রোববার, ১১ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভকারীদের সম্মতি ছাড়াই তাঁদের ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে। নারী বিক্ষোভকারীদের নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি প্রেস জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে রিচা এই পোস্ট করেন। বিক্ষোভকারীরা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। পোস্টে রিচা বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, সম্মতি ছাড়া ভিডিও করা হলে নজরদারি ও মুখ শনাক্তকরণ ক্যামেরা এড়ানোর চেষ্টায় মেকআপ ব্যবহার করা যেতে পারে। এ বিষয়ে একটি মেকআপ টিউটোরিয়ালও শেয়ার করেন তিনি। তবে তাঁর এই পরামর্শকে মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এড়ানোর নিশ্চিত বা পরীক্ষিত উপায় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। একই বার্তায় বিক্ষোভকারীদের নিরাপদ থাকতে, পর্যাপ্ত পানি পান করতে এবং মনোবল ধরে রাখতে বলেন অভিনেত্রী। নারীদের সঙ্গে পেপার স্প্রে রাখার পরামর্শও দেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিবাদ অব্যাহত রাখলেও সহিংসতায় না জড়ানোর আহ্বান জানান। এর আগে ৯ অক্টোবরও এক্সে বিক্ষোভের সমর্থনে পোস্ট করেছিলেন রিচা। সেখানে দিল্লির বাসিন্দাদের বড় সংখ্যায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শহরের বাইরে থেকে কেন্দ্রীয় দিল্লিতে পৌঁছানোর পথে বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করে অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তুতি নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেন।
দই ভেবে প্রায় আধা লিটার রং খেয়ে ফেলেছিলেন নিউইয়র্কের ববি নামে এক বৃদ্ধ। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির ওই ঘটনার সময় তাঁর বয়স ৯০ বছর বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়। নাতনি অ্যালেক্স স্টেইন মুখে সবুজ রং লেগে থাকা ববির ছবি প্রকাশ করলে তা দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। দই ছিল ববির পছন্দের খাবার। পরিবারের সদস্যরা তাঁর জন্য নিয়মিত বড় পাত্রে দই কিনে রাখতেন। অ্যালেক্সের বক্তব্য অনুযায়ী, হালকা সবুজ রঙের একটি পাত্রকে দইয়ের পাত্র মনে করে ভুলটি করেছিলেন তাঁর দাদা। ২০১৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি টুইটারে ঘটনাটি জানান অ্যালেক্স। তাঁর দাবি ছিল, ববি প্রায় আধা কোয়ার্ট রং খেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের তরল পরিমাপ অনুযায়ী, এই পরিমাণ প্রায় ৪৭৩ মিলিলিটার। পোস্টের সঙ্গে রঙের পাত্র ও ববির ছবি প্রকাশ করা হয়। পরিবার পয়জন কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করে। অ্যালেক্সের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর ববি ভালো ছিলেন। তবে এটি পরিবারের দেওয়া তথ্য; তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা চিকিৎসার বিস্তারিত নথি ওই প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি। ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর অনলাইনে ববি ‘পেইন্ট গ্র্যান্ডপা’ নামে পরিচিত হন। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং তাঁর ছবি ব্যবহার করে নানা মিম তৈরি হয়। এটি ২০১৯ সালের ঘটনা। তবে রং খেয়ে কারও তাৎক্ষণিক সমস্যা না হওয়াকে নিরাপদ হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যাপিটাল পয়জন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, রঙের উপাদান ও ধরনভেদে স্বাস্থ্যঝুঁকি ভিন্ন হয়। বিশেষ করে তেলভিত্তিক রং গেলার সময় ফুসফুসে ঢুকে গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে। ভুল করে রং বা সম্ভাব্য বিষাক্ত কিছু খেলে যুক্তরাষ্ট্রে পয়জন কন্ট্রোলের ১ ৮০০ ২২২ ১২২২ নম্বরে পরামর্শ নেওয়া যায়।
ভারতে বসবাসরত বয়স্ক মা বাবার সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে মাইক্রোসফট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট কেশবন শানমুগাম। ২৩ বছরের কর্মজীবন শেষে পরিবার ও বন্ধুদের জন্য সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। লিংকডইনে দেওয়া তাঁর ঘোষণার বিষয়ে ১১ অক্টোবর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মানিকন্ট্রোল। শানমুগাম মাইক্রোসফটের এক্সেল কোপাইলট ও এজেন্টিক এআই উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পছন্দের কাজ এবং সহকর্মীদের ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। তবে জীবনের এই পর্যায়ে নিজের সময় ও মনোযোগ পরিবার এবং বন্ধুদের দেওয়াকেই উপযুক্ত মনে করেছেন তিনি। অবসরের কারণ ব্যাখ্যা করে শানমুগাম জানিয়েছেন, ভারতে থাকা তাঁর মা বাবার বয়স বাড়ছে। তাঁদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর ইচ্ছা থেকেই দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ছাড়ছেন। এক্সেল কোপাইলটের কাজে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও পারিবারিক জীবনের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ায় মাইক্রোসফটের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শানমুগাম। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ও সাবেক সহকর্মীদেরও ধন্যবাদ দিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকে আনন্দদায়ক ও তৃপ্তিদায়ক হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। লিংকডইনে তাঁর ঘোষণায় বহু মানুষ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এনডিটিভি জানিয়েছে, মন্তব্যকারীদের অনেকে মা বাবাকে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। পছন্দের পেশা থেকে সরে এসে পরিবারের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত সহজ নয় বলেও উল্লেখ করেছেন কেউ কেউ।
লন্ডনের একটি টেলিফোন বুথ থেকে নবজাতক অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার ২২ বছর পর উদ্ধারকারী জো ক্যাম্পবেলকে খুঁজে পান কিরান শেখ। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে তাঁদের পুনর্মিলন হয়। জন্মের মাত্র দুই ঘণ্টা পর পাওয়া শিশুটির জন্য একসময় জরুরি সহায়তা ডেকেছিলেন জো। বড় হয়ে সেই মানুষটিকে ধন্যবাদ জানাতেই তাঁর খোঁজ শুরু করেন কিরান। ঘটনার শুরু ১৯৯৪ সালের ৩০ এপ্রিল। পূর্ব লন্ডনের একটি টেলিফোন বুথে পড়ে ছিল সদ্য জন্ম নেওয়া মেয়েটি। তখন জোর বয়স ৩০ বছর। বুথের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল, মেঝেতে চিপসের খালি মোড়ক পড়ে আছে। কাছে গিয়ে বুঝতে পারেন, সেখানে একটি নবজাতক রয়েছে। আইটিভির ‘গুড মর্নিং ব্রিটেন’ অনুষ্ঠানে জো জানান, শিশুটিকে দেখার পর তিনি জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স এসে মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তখনই তিনি জানতে পারেন, শিশুটির বয়স প্রায় দুই ঘণ্টা। শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছিলেন জো। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তখন অবিবাহিত হওয়ায় তাঁকে জানানো হয়েছিল, তা সম্ভব নয়। পরে মেয়েটির জন্য উপহার, চিঠি ও জন্মদিনের কার্ড পাঠাতেন তিনি। তবে সমাজসেবা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে একসময় যোগাযোগ বন্ধ করতে হয়। একটি পরিবার মেয়েটিকে দত্তক নেয় এবং তাঁর নাম রাখে কিরান। বড় হওয়ার পর দত্তক সংক্রান্ত নথি থেকে উদ্ধারকারীর কথা জানতে পারেন তিনি। সেখানে জোর পাঠানো উপহার ও কার্ডের তথ্যও ছিল। কিরান জানান, নিজের জীবনের শুরুতে ওই মানুষটি যা করেছিলেন, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে চেয়েছিলেন। ২০১৬ সালে কিরানের অনুসন্ধানের কথা মেট্রো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তিনি জন অথবা জো ক্যাম্পবেল নামের একজনকে খুঁজছিলেন। এক সহকর্মী প্রতিবেদনটি দেখালে জো বুঝতে পারেন, তাঁকেই খোঁজা হচ্ছে। এরপর যোগাযোগ করেন তিনি। মেট্রোর লন্ডন কার্যালয়ে তাঁদের দেখা হয়। তখন কিরানের বয়স ২২ এবং জোর বয়স ৫২ বছর। পুনর্মিলনের পর দুজনই জানান, তাঁদের কাছে অভিজ্ঞতাটি ছিল পরিবারের কাউকে ফিরে পাওয়ার মতো। জো বলেছিলেন, শিশুটিকে কখনো ভুলে যাননি এবং আবার দেখা হওয়ার আশা ধরে রেখেছিলেন। কিরানের অনুসন্ধান সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটায়। পরবর্তী সময়েও তাঁদের যোগাযোগ বজায় থাকে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে, যেখানে তাঁকে এপ্রিল পল নামে উল্লেখ করা হয়েছে, জানানো হয়, জো ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে এখন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে তাঁর। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই তাঁদের দেখা হয়। নিজের উদ্ধারকারীকে এখন পরিবারের সদস্য হিসেবেই দেখেন তিনি।
সিরিয়ায় ফিরে যাওয়া নিরাপদ বলে বিবেচনা করে লন্ডনে বসবাসরত এক সিরীয় চিকিৎসকের শরণার্থী মর্যাদা বাতিল করেছে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর। এতে স্ত্রী ও ছয় সন্তানসহ তাঁর ব্রিটেনে থাকার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই চিকিৎসক এখন দেশ থেকে বহিষ্কারের মুখে রয়েছেন। তবে তাঁকে ইতোমধ্যে সিরিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে, এমন তথ্য নেই। সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের শাসনামলে নির্যাতনের আশঙ্কায় দেশ ছেড়ে ২০১৬ সালে ব্রিটেনে আসেন ওই চিকিৎসক। সিরিয়ায় তিনি প্লাস্টিক সার্জন হিসেবে কাজ করতেন। ব্রিটেনে চিকিৎসা পেশায় কাজের জন্য নিজের যোগ্যতার স্বীকৃতি নিয়ে জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিলের নিবন্ধন পেয়েছেন। বর্তমানে একটি জিপি ক্লিনিকে কর্মরত তিনি। তাঁর তিন সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্তে তিনি ও তাঁর পরিবার হতবাক। নিরাপদ জীবন গড়ার আশায় পরিবারকে ব্রিটেনে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, সিরিয়ায় যেসব উগ্রপন্থী গোষ্ঠী তাঁকে আগে লক্ষ্যবস্তু করেছিল, সেগুলো এখনও সক্রিয়। দেশে ফিরলে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা করছেন তিনি। বর্তমান সিরীয় সরকার এসব গোষ্ঠীর হাত থেকে তাঁদের সুরক্ষা দিতে পারবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে তাঁর। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত স্বরাষ্ট্র দপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, সিরিয়ার পরিস্থিতি জটিল থাকলেও সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নে, ওই চিকিৎসকের নির্যাতন বা গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা আর যথেষ্ট ভিত্তিসম্পন্ন নয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে শরণার্থী মর্যাদার অবসান ঘটানোর এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘সিজেশন’। তবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের অবস্থান ভিন্ন। সংস্থাটির ২০২৬ সালের আগস্টে হালনাগাদ করা নির্দেশনায় সিরীয় শরণার্থীদের জোর করে ফেরত পাঠানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউএনএইচসিআর বলছে, সিরিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতির ভিত্তিতে শরণার্থী মর্যাদা বাতিলের প্রয়োজনীয় শর্ত এখনও পূরণ হয়নি। প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত হতে হবে স্বেচ্ছায়, পর্যাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এবং নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণ নির্দেশনাতেও সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল বলা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অনিশ্চিত সংঘর্ষ ও সহিংসতা, গোলাবর্ষণ এবং বিমান হামলার ঝুঁকির পাশাপাশি অবকাঠামো, পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতির কথা উল্লেখ রয়েছে। পরিবারটির আইনজীবী মানিনি মেনন সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, অভিবাসন কমানোর লক্ষ্যে সিরীয় শরণার্থী ও তাঁদের পরিবারকে এভাবে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ উদ্বেগজনক। সিরিয়ার পরিস্থিতি নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের উপযোগী পর্যায়ে স্থিতিশীল হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। ব্রিটেনে নতুন জীবন গড়ে তোলা পরিবারগুলোর ওপর এমন সিদ্ধান্তের গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন মেনন। অন্যদিকে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রকৃত শরণার্থীদের সুরক্ষা দেওয়া হবে এবং কাউকে বিপদের মুখে ফেরত পাঠানো হবে না। তবে নিজ দেশে নিরাপদে ফেরার পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ফিরে যেতে হবে। সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রত্যাবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা ও বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে বলেও জানিয়েছে দপ্তরটি।
হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের ইনার সিটি প্যারিশ চার্চে আজও দেখা যায় অটোমান আমলের একটি মিহরাব। বর্তমানে খ্রিষ্টানদের উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটির একটি অংশ অটোমান শাসনকালে মসজিদে রূপান্তর করা হয়েছিল। ভেতরে সংরক্ষিত নামাজের এই বিশেষ কুলুঙ্গি সেই ইতিহাসের নিদর্শন। এস্তেরগম বুদাপেস্ট আর্চডায়োসিসের পর্যটন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এলিজাবেথ সেতুর পেস্ট প্রান্তে অবস্থিত গির্জাটির মূল উপাসনাকক্ষ অটোমান দখলের সময় মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ওই সময় তৈরি মিহরাবটি এখনও ভবনের ভেতরে রয়েছে। মিহরাব সাধারণত মুসল্লিদের নামাজের জন্য মক্কার দিকে কিবলা নির্দেশ করে। গির্জার ইতিহাস নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে হাঙ্গেরির ঐতিহ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম পেস্টবুদা জানিয়েছে, ১৫৪১ সালের পর অটোমান আমলে ভবনটি মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর স্মৃতি হিসেবে মূল উপাসনাকক্ষের দক্ষিণ পূর্ব দেয়ালে মিহরাবটি টিকে আছে। তবে অটোমান শাসনের পুরো সময় ভবনটি অবিচ্ছিন্নভাবে মসজিদ ছিল, এমন দাবি ওই বিবরণে করা হয়নি। ১৬৮৬ সালে অটোমান শাসনের অবসানের পর গির্জার পুনর্নির্মাণ শুরু হয়। অবশিষ্ট গথিক দেয়াল ব্যবহার করে কয়েক ধাপে মূল ভবন ও দক্ষিণের টাওয়ার বারোক স্থাপত্যরীতিতে নির্মাণ করা হয়। আঠারো শতকে ভবনটি ধীরে ধীরে বর্তমান চেহারা পায়। ভবনটির ইতিহাস আরও পুরোনো। আর্চডায়োসিসের পর্যটন দপ্তর জানায়, একটি রোমান সামরিক দুর্গের ধ্বংসাবশেষের ওপর গির্জার অংশবিশেষ দাঁড়িয়ে আছে। একাদশ ও দ্বাদশ শতকে সেই দুর্গের পাথর ব্যবহার করে এখানে গির্জা নির্মাণ করা হয়। পরে সংস্কার ও সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে এতে গথিক, রেনেসাঁ ও বারোক স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়। মিহরাবের পাশাপাশি কালো রঙে লেখা একটি ঐতিহাসিক লিপির অবশিষ্টাংশের কথাও মধ্যযুগীয় গির্জা নিয়ে প্রকাশিত বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। তবে আলোচিত ছবির লেখাটির নির্ভুল পাঠ নিশ্চিত হয়নি। তাই সেটিকে নির্দিষ্ট কোনো কোরআনের আয়াত হিসেবে চিহ্নিত করার ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় পাত্তানিতে ১৯তম জাতীয় কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন ও রানি সুথিদা। গত ১০ অক্টোবর পাত্তানি কেন্দ্রীয় মসজিদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন তাঁরা। ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি সফরে ইমাম ও ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদেরও সম্মাননা দেওয়া হয়। থাই সংবাদমাধ্যম মাতিচনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে রাজা ও রানি কেন্দ্রীয় মসজিদে পৌঁছান। সেখানে থাইল্যান্ডের শায়খুল ইসলাম অরুণ বুনচম, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা ও সাধারণ মানুষ তাঁদের স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে ২০২৫ সালের জাতীয় প্রতিযোগিতার বিজয়ী কোরআন তিলাওয়াত করেন। এরপর তিলাওয়াত করা আয়াতের অর্থ থাই ভাষায় উপস্থাপন করা হয়। প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন পাত্তানির ভারপ্রাপ্ত গভর্নর। পরে বিজয়ী, রানারআপ ও অন্যান্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। বিচারক ও আয়োজনের সহযোগীদেরও স্মারক দেওয়া হয়। সফরে ২০২৫ সালের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রাদেশিক ইসলামি কমিটির সদস্য ও ইমামদের সম্মাননা এবং অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়। দক্ষিণাঞ্চলের বেসরকারি ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, প্রশাসক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্যও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন ছিল। মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম সিনার হারিয়ান জানিয়েছে, রাজকীয় চিকিৎসক দল স্থানীয় স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় ৭৮৭ জনকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেয়। তাঁদের মধ্যে ছয়জনকে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চিকিৎসা সহায়তার জন্য নির্বাচিত করা হয়। রাজা ও রানি তাঁদের স্বাগত জানাতে আসা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন। উপস্থিত মানুষের জন্য হালাল খাবার বিতরণ করা হয়।
যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে পাউন্ডল্যান্ডে মাত্র ২৬ দিনের চাকরির মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার পাউন্ড আত্মসাতের ঘটনায় হারমিন্দর গিল নামে এক সাবেক কর্মীকে স্থগিত কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাঁকে ১৫০ ঘণ্টা বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইউকেএনআইপি জানিয়েছে, গিল অপরাধ স্বীকার করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গিল ২০২৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ওয়ালসলের পাউন্ডল্যান্ড সদর দপ্তরে পেরোল অ্যাডভাইজার হিসেবে যোগ দেন। কর্মীদের বেতন ব্যবস্থাপনার কাজে যুক্ত থাকার সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২৫ হাজার পাউন্ড আত্মসাৎ করেন। পেরোল ব্যবস্থায় অনিয়ম ধরা পড়ার পর একই বছরের ২৪ মার্চ তাঁর চাকরি শেষ হয়। প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী তদন্তে সহযোগিতা করে। পাউন্ডল্যান্ডে যোগ দেওয়ার সময় গিলের বিরুদ্ধে আরেকটি প্রতিষ্ঠানে অর্থ আত্মসাতের তদন্ত চলছিল। ইউরো কার পার্টস নামের ওই প্রতিষ্ঠানে পেরোলের কাজে থাকা অবস্থায় তিনি প্রায় সাড়ে তিন লাখ পাউন্ড আত্মসাৎ করেছিলেন। সেই মামলায় অপরাধ স্বীকারের পর ২০২৩ সালের মে মাসে ওয়ারউইক ক্রাউন কোর্ট তাঁকে সাড়ে চার বছরের কারাদণ্ড দেন। ইউকেএনআইপির তথ্য অনুযায়ী, আগের মামলায় গিল ইতোমধ্যে দীর্ঘ সময় কারাভোগ করেছেন, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পাউন্ডল্যান্ডের অর্থ আত্মসাতের মামলায় আদালত তাঁর কারাদণ্ড স্থগিত রাখেন। পাশাপাশি বিনা পারিশ্রমিকে কাজের নির্দেশ দেন এবং আবার অপরাধে জড়ালে কারাগারে যেতে হতে পারে বলে সতর্ক করেন। পাউন্ডল্যান্ডের ঘটনাটি ২০২৩ সালের হলেও গিলের সাজা নিয়ে এখন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এটি ইউরো কার পার্টসের অর্থ আত্মসাতের মামলা থেকে পৃথক ঘটনা।
জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা। তবে সেই সীমাবদ্ধতা ব্রাজিলের ২৪ বছর বয়সী মারিয়া ভিটোরিয়া গোমেস দা সিলভার আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন থামাতে পারেনি। সহায়ক প্রযুক্তির সাহায্যে পড়াশোনা করে প্রথমবারেই আইনজীবী হওয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি দেশটির গোইয়াস অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী সমিতি থেকে পেশাগত সনদও পেয়েছেন মারিয়া। তার এই অর্জন নতুন করে সামনে এনেছে শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সমান সুযোগ এবং পেশাগত জীবনে অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব। মারিয়া ব্রাজিলের গোইয়াস অঙ্গরাজ্যের গোইয়ানেশিয়া শহরের বাসিন্দা। জন্মগত গ্লুকোমার কারণে জন্ম থেকেই তার দৃষ্টিশক্তি নেই। ছোটবেলায় তিনি ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়তে শেখেন। এরপর সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি একটি পুলিশ স্টেশন এবং গোইয়াস রাজ্যের সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করেন। এসব অভিজ্ঞতা তার আইন পেশায় প্রবেশের প্রস্তুতিকে আরও সমৃদ্ধ করে। গত ডিসেম্বরে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি আইনজীবী হওয়ার পরীক্ষায় অংশ নেন। ব্রাজিলে আইন বিষয়ে স্নাতক হলেই সরাসরি আইনজীবী হিসেবে কাজ করা যায় না। পেশাগত নিবন্ধন পেতে দেশটির আইনজীবী সমিতি, ওএবির আয়োজিত পরীক্ষা পাস করতে হয়। এই পরীক্ষায় দুটি ধাপ রয়েছে। মারিয়া প্রথমবার অংশ নিয়েই দুই ধাপ অতিক্রম করেন। পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় তিনি পর্দার লেখা পড়ে শোনায় এমন সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, যা কম্পিউটার বা মুঠোফোনে প্রদর্শিত লেখা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে শোনায়। এ ধরনের প্রযুক্তির সাহায্যে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বই, নথি, অনলাইন পাঠ্যসামগ্রী ও পরীক্ষার প্রস্তুতির উপকরণ আরও স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারেন। পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপে মারিয়া ফৌজদারি আইন বেছে নেন। সেখানে তাকে একটি মামলায় আসামিপক্ষের জবাব প্রস্তুত করার মতো ব্যবহারিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। লিখিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন তিনি। আইনজীবী সমিতির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একই পরীক্ষায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আরেক তরুণী লরা সোয়ারেস ফেরেইরাও প্রথম চেষ্টায় উত্তীর্ণ হন। লরার দৃষ্টিশক্তি কম এবং পরীক্ষায় তিনি পাঠক ও লিখন-সহায়তাকারীর সহযোগিতা নেন। দুই তরুণীই দ্বিতীয় ধাপে ফৌজদারি আইন বেছে নিয়েছিলেন এবং একই ধরনের ব্যবহারিক প্রশ্নের উত্তর দেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর গোইয়াস অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মারিয়া ও লরা আনুষ্ঠানিক শপথ নেন এবং পেশাগত পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে তাদের স্বাগত জানান সমিতির সভাপতি রাফায়েল লারা মার্তিন্স। তিনি নতুন আইনজীবীদের পেশাগত বিকাশ এবং অধিকার সুরক্ষায় সমিতির সহযোগিতার আশ্বাস দেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একই অনুষ্ঠানে পরিচয় হওয়ার আগে দুই তরুণীর মধ্যে ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না। কিন্তু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা, প্রথমবারেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং ফৌজদারি আইন বেছে নেওয়ার মতো একাধিক মিল তাদের অভিজ্ঞতাকে কাছাকাছি নিয়ে আসে। আইনজীবী হিসেবে এখন মারিয়ার সামনে নতুন অধ্যায়। তিনি ফৌজদারি ও দেওয়ানি, দুই ধরনের মামলায় কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। তার অর্জন দেখিয়েছে, উপযুক্ত সহায়ক প্রযুক্তি ও প্রবেশগম্য শিক্ষার সুযোগ থাকলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও জটিল পেশাগত পরীক্ষায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন। তবে এ ধরনের সাফল্য নিশ্চিত করতে শুধু ব্যক্তিগত অধ্যবসায়ই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পেশাগত সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। পরীক্ষায় প্রবেশগম্য উপকরণ, উপযুক্ত প্রযুক্তি এবং সহায়তার ব্যবস্থা থাকলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পেশাগত ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের পথ আরও সহজ হতে পারে। সূত্র: ব্রাজিলের গোইয়াস অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী সমিতি (ওএবি-জিও), মাইস গোইয়াস।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লংলা চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের মেয়ে শান্তা যাদব যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শুরু করেছেন। তিনি ‘মাস্টার অব মেডিকেল সায়েন্সেস ইন গ্লোবাল হেলথ ডেলিভারি’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী। চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন গত ২ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাদের সাবেক এই শিক্ষার্থীর হার্ভার্ডে পড়াশোনা শুরুর তথ্য জানিয়েছে। শান্তার বাবা লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব ও মা রিনা যাদব লংলা চা বাগানের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক। সীমিত আয় ও শিক্ষার সুযোগের মধ্যে বেড়ে ওঠা শান্তা স্থানীয় বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। এরপর কুলাউড়ার ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুল থেকে এসএসসি এবং শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন বলে জাগোনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে পড়াশোনা করেন শান্তা। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তিনি পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে পড়েছেন। চা বাগানে বেড়ে ওঠার সময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা দেখার অভিজ্ঞতা তাঁকে এই জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা ও সুযোগ বাড়ানোর কাজে আগ্রহী করেছে। জাগোনিউজ২৪ গত ২৭ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, শান্তা উচ্চশিক্ষার জন্য ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। নিজের লক্ষ্য ও গবেষণার আগ্রহ বিবেচনায় তিনি হার্ভার্ডকে বেছে নেন। একই প্রতিবেদনে তাঁর বৃত্তির মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকার সমপরিমাণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শান্তা চা ছাত্র সংসদের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। জাগোনিউজ২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, এ দায়িত্বের মাধ্যমে চা বাগানের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়া এবং শিক্ষা সংক্রান্ত সহযোগিতামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বিবরণ অনুযায়ী, গ্লোবাল হেলথ ডেলিভারি প্রোগ্রামে সীমিত সম্পদের পরিবেশে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য গবেষণা, কর্মসূচি পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা শেখানো হয়। এর একটি প্রধান অংশ হলো শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে মাঠপর্যায়ে গবেষণা এবং সেই গবেষণার ভিত্তিতে স্নাতকোত্তর অভিসন্দর্ভ তৈরি করা। শান্তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে নিজের চা বাগানের মানুষের জন্য কাজ করা। জাগোনিউজ২৪-কে তাঁর বাবা ও মা জানিয়েছেন, উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি বিশেষ করে চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান। হার্ভার্ডে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাজে লাগানোই তাঁর লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার ১৫ বছর পর তা হারানো এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের মুখে পড়েছেন শিকাগোর এক ব্যক্তি। নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ইমানুয়েল তাইয়ো আকিনকুনমির বিরুদ্ধে অভিযোগ, আগের পরিচয় ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে তিনি নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। এ অভিযোগে গত ৭ অক্টোবর ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের একটি আদালতে মামলা করেছে মার্কিন সরকার। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নাগরিকত্ব বাতিলের কার্যক্রম জোরদার করেছে। নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সরকারের করা মামলায় বলা হয়েছে, আকিনকুনমি ২০১১ সালের ৮ জুন নাগরিকত্বের শপথ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হন। কিন্তু তার অভিবাসন-ইতিহাসে এর আগে অন্য পরিচয় ব্যবহারের তথ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সরকারের দাবি, তিনি আগে ‘ইজেকিয়েল আরেমু আদেতায়ো’ নাম ব্যবহার করেছিলেন এবং ওই পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের মর্যাদা ত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছিল। এসব তথ্য পরবর্তী অভিবাসন আবেদন ও নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় গোপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ সরকারের। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৯৩ সালে আগের পরিচয়ে আকিনকুনমির গ্রিন কার্ডের মর্যাদা পরিত্যক্ত হয়েছিল এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৭ সালে দেশটির অভিবাসন আপিল বোর্ড ওই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আকিনকুনমি নাম ব্যবহার করে নতুন গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। আবেদনে অন্য কোনো নাম ব্যবহার করার কথা অস্বীকার করেন এবং এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা পাওয়ার বিষয়টিও জানাননি। ২০০০ সালে তার ওই আবেদন অনুমোদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্বের আবেদনেও একই ধরনের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। ২০১০ সালে নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় আকিনকুনমি আগের পরিচয় ব্যবহার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা প্রবেশে বাধার আদেশ পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের ভাষ্য, এসব তথ্য সত্য হলে তিনি আইনসম্মতভাবে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্য ছিলেন না এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে অভিবাসন সুবিধা নিয়েছিলেন। এ কারণে তার নাগরিকত্ব আইনগতভাবে বাতিল করার আবেদন জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত মামলায় আকিনকুনমির পক্ষে কোনো আইনজীবীর নাম নথিভুক্ত ছিল না বলে নিউজউইক জানিয়েছে। তার পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। আকিনকুনমির বিরুদ্ধে মামলাটি ট্রাম্প প্রশাসনের নাগরিকত্ব বাতিলের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ৫ অক্টোবর জানায়, ২১ আগস্ট থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়েছে। বিভাগটির দাবি, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ, প্রতারণা কিংবা নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এই উদ্যোগকে আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিলের প্রচেষ্টা বলে বর্ণনা করেছেন। তবে বিচার বিভাগও স্পষ্ট করেছে, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর অভিযোগ এখনো আদালতে নিষ্পত্তি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ডিন্যাচারালাইজেশন’। দেশটির আইনে, কেউ বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব পেলে অথবা নাগরিকত্বের আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিলে আদালতের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। তবে শুধু কোনো ভুল তথ্য পাওয়া গেলেই নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায় না। ২০১৭ সালে ‘মাসলেনজাক বনাম যুক্তরাষ্ট্র’ মামলায় দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বলেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বেআইনি কাজ বা মিথ্যা তথ্যের বাস্তব প্রভাব থাকতে হবে। অর্থাৎ, তথ্যটি এমন হতে হবে, যা নাগরিকত্ব পাওয়ার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা তুলনামূলকভাবে বিরল ছিল। ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে প্রায় ১১টি এ ধরনের মামলা করেছিল ফেডারেল সরকার। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে বছরে গড়ে প্রায় ২৫টিতে পৌঁছায়। বর্তমান প্রশাসন আরও বেশি মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রতিটি মামলায় সরকারের অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্ব রয়েছে এবং আদালতের সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব হারানো ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করা যায় না। আকিনকুনমির ক্ষেত্রেও এখন পর্যন্ত নাগরিকত্ব বাতিলের চূড়ান্ত রায় হয়নি। সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
ফিলিপাইনের পাহাড়ি অঞ্চল আপায়াওয়ের দুই বছর বয়সী শিশু জারেন গামোগানের শরীরে জন্ম থেকেই অস্বাভাবিকভাবে ঘন লোম। মাথাভর্তি চুলের পাশাপাশি তার মুখ, গলা, পিঠ ও হাতের বিভিন্ন অংশেও কালো লোম রয়েছে। সন্তানের এমন শারীরিক বৈশিষ্ট্য দেখে প্রথমে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তার মা আলমা। একপর্যায়ে তিনি ধারণা করেন, গর্ভাবস্থায় বন্য বিড়াল খাওয়ার কারণেই হয়তো ছেলের এমন অবস্থা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশীর কথায় সেই আশঙ্কা আরও বাড়ে। তবে পরে চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির এই অবস্থার সঙ্গে মায়ের ওই খাবার খাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। আলমার ভাষ্য অনুযায়ী, জারেনের জন্মের আগে গর্ভাবস্থায় তার বন্য বিড়ালের মাংস খাওয়ার প্রতি অস্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় এলাকায় এটি একটি পরিচিত খাবার হিসেবে বিবেচিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একসময় গ্রামের কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কালো রঙের একটি বন্য বিড়াল খুঁজতে যান তিনি। পরে সেটি ভেষজ উপাদান দিয়ে রান্না করে খান। কিন্তু সন্তান জন্মের পর জারেনের শরীরে অতিরিক্ত লোম দেখে তিনি নিজের ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে শিশুটির শারীরিক অবস্থার সম্পর্ক খুঁজতে থাকেন। প্রতিবেশীদের কেউ কেউ বিষয়টিকে অভিশাপের সঙ্গে যুক্ত করলেও আলমা কুসংস্কারের ওপর নির্ভর না করে ছেলেকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা জারেনের শরীরে অতিরিক্ত লোম গজানোর কারণ হিসেবে হাইপারট্রাইকোসিস নামের একটি বিরল শারীরিক অবস্থার কথা জানান। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থায় শরীরের এমন সব অংশে অতিরিক্ত লোম গজাতে পারে, যেখানে সাধারণত এত ঘন লোম থাকে না। এটি জন্মগত হতে পারে, আবার জীবনের পরবর্তী সময়েও দেখা দিতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দেয়, তা নির্ভর করে এর ধরন ও সংশ্লিষ্ট কারণের ওপর। জারেনের ক্ষেত্রে রোগটির নির্দিষ্ট ধরন বা জিনগত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে রোগটি অত্যন্ত বিরল বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ‘প্রতি এক শ কোটি মানুষের মধ্যে একজন’ আক্রান্ত হওয়ার হিসাবটির নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক পরিসংখ্যানগত ভিত্তি স্পষ্ট নয়। জারেন তিন ভাইবোনের মধ্যে মাঝের সন্তান। তার মা জানিয়েছেন, ছেলেটি হাসিখুশি ও খেলাধুলাপ্রিয়। তবে ভবিষ্যতে স্কুলে ভর্তি হলে অন্য শিশুদের আচরণ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। শারীরিক গঠনে পার্থক্যের কারণে জারেনকে যেন কেউ উপহাস বা হয়রানি না করে, সেটিই এখন তার মায়ের বড় চিন্তা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, হাইপারট্রাইকোসিসের চিকিৎসা নির্ভর করে এর ধরন ও কারণের ওপর। কিছু ক্ষেত্রে লোম কমানোর বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়, তবে সব ধরনের ক্ষেত্রে একই চিকিৎসা কার্যকর হয় না। জারেনের চিকিৎসা বা ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। জারেনকে নিয়ে সংবাদটি ২০২৪ সালেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ঘটনাটি আবার সামনে এলেও একে সাম্প্রতিক কোনো জন্ম বা নতুন রোগনির্ণয়ের ঘটনা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় কোনো নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার কারণে হাইপারট্রাইকোসিস হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। শিশুটির অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা এবং তার প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: LADbible, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক
যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেল স্কুলে না পড়েও হাসপাতালভিত্তিক পেশায় বছরে ৩ লাখ ডলারের বেশি আয় করছেন ৩০ বছর বয়সী চাবেলি রদ্রিগেজ। তিনি সনদপ্রাপ্ত অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট সহকারী হিসেবে কাজ করেন। ২০২৪ সালে স্থায়ী বেতনের চাকরি ছেড়ে বিভিন্ন হাসপাতালে নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তিতে কাজ শুরু করার পর তাঁর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সিএনবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি সাধারণত সপ্তাহে প্রায় ৪০ ঘণ্টা কাজ করেই এ আয় করছেন, যদিও অতিরিক্ত পালা নিলে তাঁর বার্ষিক আয় আরও বাড়তে পারে। রদ্রিগেজের পেশা অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট চিকিৎসকের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও দুটি পদ এক নয়। অস্ত্রোপচার বা কিছু চিকিৎসাপদ্ধতির সময় রোগীকে অচেতন রাখা ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণে অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে সনদপ্রাপ্ত অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট সহকারীরা চিকিৎসক অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের তত্ত্বাবধানে অ্যানেস্থেসিয়া-সংক্রান্ত কাজে সহায়তা করেন। এ পেশায় প্রবেশের জন্য তাঁকে মেডিকেল স্কুলে চিকিৎসক হওয়ার প্রচলিত দীর্ঘ পথ অনুসরণ করতে হয়নি; বরং অ্যানেস্থেসিওলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে প্রয়োজনীয় পেশাগত সনদ নিয়েছেন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ফ্লোরিডায় স্থায়ী বেতনের চাকরি করতেন রদ্রিগেজ। তখনও তাঁর বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের বেশি ছিল। তবে সেই আয় ধরে রাখতে তাঁকে নিয়মিত অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হতো, কখনো কখনো টানা ২৪ ঘণ্টার পালাও নিতে হতো। ছোটবেলা থেকেই অর্থ সঞ্চয় নিয়ে তাঁর মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তার ভয় কাজ করত বলে তিনি সিএনবিসিকে জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে আর্থিক সংকটে পড়ার আশঙ্কা থেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কাজ করে বাড়তি অর্থ জমিয়ে রাখার চেষ্টা করতেন তিনি। ২০২৪ সালে তিনি বেতনভিত্তিক চাকরি ছেড়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চুক্তির ভিত্তিতে কাজ শুরু করেন। প্রথমে জর্জিয়ায় ছয় মাসের একটি চুক্তিতে কাজ করেন। পরে বুঝতে পারেন, এভাবে কাজ করলে একদিকে আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে, অন্যদিকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী ভ্রমণ ও জীবনযাপনের সময়ও বের করা সম্ভব। জর্জিয়ার চুক্তি শেষ হওয়ার পর তিনি নিউ মেক্সিকোতে চলে যান। বর্তমানে সেখানেই থাকছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করছেন। চুক্তিভিত্তিক কাজে যাওয়ার পর তাঁর আয় বছরে ৩ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে। তবে অতীতের মতো দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত কাজ করলে আয় প্রায় ৫ লাখ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে তাঁর ধারণা। তা সত্ত্বেও তিনি এখন প্রতিটি অতিরিক্ত পালা নেওয়ার জন্য চাপ অনুভব করেন না। তাঁর ভাষ্য, আরও বেশি আয় করার ইচ্ছা থাকলেও কাজের চাপে নিজেকে ক্লান্ত করে ফেলতে চান না। বর্তমান আয়েই তিনি সন্তুষ্ট এবং কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে চান। রদ্রিগেজের আর্থিক পরিকল্পনায় ঋণ পরিশোধও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০২৩ সালে তিনি শিক্ষাজীবনের প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ডলারের ঋণ পরিশোধ করেন। ঋণ শোধের পর বিনিয়োগে বেশি অর্থ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তাঁর লক্ষ্য হলো কর কাটার আগের আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ বিনিয়োগ ও অবসরকালীন সঞ্চয় হিসাবে রাখা। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁর মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ লাখ ডলারে পৌঁছায় বলে সিএনবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগে রদ্রিগেজের লক্ষ্য ছিল ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে আগেভাগে অবসর নেওয়া। এখন তিনি নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক অর্জনের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক নিরাপত্তা বজায় রাখাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর পরিকল্পনা, চাইলে যেন ৫০ বছর বয়সের দিকে কাজের চাপ কমিয়ে দিতে পারেন। সে জন্য শুধু আয় বাড়ানো নয়, নিয়মিত বিনিয়োগ এবং নিজের সামর্থ্যের মধ্যে জীবনযাপনকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। আয়ের পরিমাণ বাড়লেও রদ্রিগেজ জীবনযাপনে অতিরিক্ত ব্যয় করার পথে হাঁটেননি। সঙ্গীর সঙ্গে বাসাভাড়া ভাগ করে নেন এবং সাধারণ টয়োটা করোলা গাড়ি ব্যবহার করেন। তবে ভ্রমণের জন্য অর্থ ব্যয় করতে তিনি আগ্রহী। কখনো বিদেশ ভ্রমণ করেন, আবার কখনো ব্যাকপ্যাক নিয়ে ঘোরেন বা ক্যাম্পিংয়ে যান। তাঁর কাছে আর্থিক নিরাপত্তার অর্থ এখন শুধু সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ানো নয়, বরং প্রয়োজনের সময় নিজের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতাও। রদ্রিগেজ বলেছেন, আগে তিনি প্রতিটি বাড়তি পালা নেওয়ার জন্য নিজেকে চাপ দিতেন। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তিনি নিজের আয় ও অর্জনকে স্বীকার করতে শিখেছেন এবং প্রয়োজনের বাইরে কাজ না করেও জীবন উপভোগ করার সুযোগ দেখছেন। তাঁর মতে, আর্থিকভাবে আরও নিরাপদ বোধ করার কারণে এখন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে সরে আসা, সঙ্গীকে উপহার দেওয়া কিংবা নিজের জন্য কিছু কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি সুস্থ থাকা এবং কাজের চাপে ক্লান্ত হয়ে না পড়াও এখন তাঁর কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। রদ্রিগেজের অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতে চিকিৎসক হওয়ার বিকল্প পেশাপথের একটি উদাহরণ। তবে তাঁর আয়কে এ পেশার সবার সাধারণ আয় হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। তাঁর ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক কাজ, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, পেশাগত সনদ এবং বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেই তিনি এ পর্যায়ে পৌঁছেছেন। অর্থাৎ মেডিকেল স্কুলে না পড়লেও এ পেশায় প্রবেশের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষা ও যোগ্যতা অর্জন প্রয়োজন। সূত্র: সিএনবিসি মেক ইট।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে পণ্য কেনাবেচার জন্য সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। শিকাগো শহরের গ্র্যান্ড ক্রসিং এলাকায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত তিনটি সশস্ত্র ছিনতাইয়ের খবর পাওয়ার পর বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ভাষ্য, অপরাধীরা ফেসবুক মার্কেটপ্লেসসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পরিচিত হওয়ার অ্যাপের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। পরে নির্দিষ্ট স্থানে দেখা করার ব্যবস্থা করে সেখানে পৌঁছানোর পর অস্ত্রের মুখে তাঁদের জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। শিকাগো পুলিশের ষষ্ঠ ডিস্ট্রিক্টের জারি করা সতর্কবার্তায় গ্র্যান্ড ক্রসিং এলাকার তিনটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা ৫০ মিনিটে, ওয়েস্ট ৭৬তম স্ট্রিটের ৪০০ ব্লকের কাছে। একই সড়কের ওই অংশে ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে। এরপর ৭ অক্টোবর রাত ১২টার দিকে সাউথ এগলস্টন অ্যাভিনিউয়ের ৭৫০০ ব্লকের কাছে আরেকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁদের সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশের সতর্কবার্তায় সন্দেহভাজন হিসেবে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষ ও এক নারীর কথা বলা হয়েছে। তবে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। তদন্তকারীরা ঘটনাগুলো সম্পর্কে তথ্য জানা আছে, এমন ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। কেউ কোনো ঘটনা দেখে থাকলে বা প্রাসঙ্গিক তথ্য কিংবা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ থাকলে তা পুলিশের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার জন্য অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি দেখা করা অনেকের কাছে সহজ ও প্রচলিত পদ্ধতি। ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে ব্যবহৃত আসবাব, মোবাইল ফোন, পোশাক, সাইকেলসহ নানা ধরনের পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়। কিন্তু বিক্রেতা বা ক্রেতার পরিচয় অনলাইনে যাচাই করা সব সময় সহজ নয়। অপরাধীরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রকৃত ক্রেতা বা বিক্রেতা সেজে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে পারে। শিকাগোর ঘটনাগুলোতে অনলাইনে যোগাযোগের পর নির্ধারিত স্থানে ডেকে নিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের অপরাধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহরেও উদ্বেগ রয়েছে। ওরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ড পুলিশ ২০২৬ সালের জুনে ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে বৈদ্যুতিক সাইকেল বিক্রির একটি লেনদেনের সময় সশস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রকাশ করে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৯ জুন সাইকেলটি বিক্রির জন্য ঠিক করা সাক্ষাতে দুই কিশোর সেটি অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তদন্তের মাধ্যমে দুজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। পোর্টল্যান্ড পুলিশের গুরুতর অপরাধ তদন্ত ইউনিট জানায়, ২০২৬ সালের শুরু থেকে অনলাইন বাজারে লেনদেনের সূত্রে ছিনতাই বা অন্য অপরাধে গড়ানো অন্তত ১০টি ঘটনা তারা তদন্ত করেছে। কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের অরোরায় অনলাইনে গয়না বিক্রির একটি ঘটনাও ছিনতাইয়ের মামলায় গড়ায়। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুনে ক্রেতা সেজে আসা দুই ব্যক্তি এক নারীর অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে প্রায় ২০ হাজার ডলার মূল্যের গয়না নিয়ে যায়। ওই সময় নারীর সন্তানদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনায় এক আসামি একাধিক গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের পিওরিয়ায় ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে জুতা বিক্রির জন্য ঠিক করা সাক্ষাতের সময় অস্ত্রের মুখে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় টোবিয়াস ডব্লিউ টেলর নামের এক ব্যক্তিকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি গুরুতর ছিনতাইয়ের অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। মিসিসিপির জ্যাকসন পুলিশ বিভাগও অনলাইন বাজারে কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত প্রতারণা ও সশস্ত্র ছিনতাই নিয়ে সতর্ক করেছে। এসব ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার সুবিধার পাশাপাশি সরাসরি সাক্ষাতের সময় নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করা ঠিক নয়। তবে বিভিন্ন শহরের ঘটনাগুলো একই অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত, এমন কোনো তথ্য কর্তৃপক্ষ জানায়নি। পুলিশের পরামর্শ, অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার জন্য দেখা করতে হলে জনসমাগম আছে, এমন আলোকিত ও প্রকাশ্য স্থান বেছে নিতে হবে। সম্ভব হলে পুলিশ স্টেশনের নির্ধারিত নিরাপদ লেনদেন এলাকায় সাক্ষাৎ করার কথা বলা হয়েছে। শিকাগো পুলিশের ডিস্ট্রিক্ট স্টেশনগুলোর লবিতে এ ধরনের লেনদেনের জন্য নিরাপদ স্থান রয়েছে। পাশাপাশি সাক্ষাতের সময় বন্ধু বা পরিবারের কাউকে সঙ্গে নেওয়া এবং কোথায় যাচ্ছেন, তা আগে থেকে অন্য কাউকে জানিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ক্রেতা বা বিক্রেতার অনলাইন পরিচয় যাচাই করা, পণ্যের বিবরণ আগে থেকেই নিশ্চিত হওয়া এবং সম্ভব হলে ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করাও ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। কেউ যদি শেষ মুহূর্তে সাক্ষাতের স্থান বদলাতে বলেন, অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো করেন কিংবা কোনো আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়, তাহলে লেনদেন বাতিল করে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। ছিনতাইয়ের মুখোমুখি হলে অপরাধীকে ধাওয়া করা বা নিজে আটকানোর চেষ্টা না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া উচিত। শিকাগো পুলিশের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, গ্র্যান্ড ক্রসিং এলাকার ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে তথ্য থাকলে ক্যালুমেট এলাকার গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে ৩১২-৭৪৭-৮২৭৩ নম্বরে যোগাযোগ অথবা সিপিডিটিপি ডটকমে পরিচয় গোপন রেখে তথ্য দেওয়া যাবে। অনলাইন বাজারে লেনদেন বন্ধ করার বদলে নিরাপদ স্থানে সাক্ষাৎ, পরিচয় যাচাই এবং সতর্কতার সঙ্গে কেনাবেচা করার ওপর জোর দিচ্ছে পুলিশ। সূত্র: শিকাগো পুলিশ বিভাগ, নিউজউইক ও পোর্টল্যান্ড পুলিশ ব্যুরো।
সাশ্রয়ী খরচে মুখের গড়নে নারীত্বের ছাপ আনতে চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সজেন্ডার নারী রাজি নারিনসিংহ। কিন্তু লাইসেন্সধারী চিকিৎসকের পরিবর্তে কম খরচে সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া এক ব্যক্তির কাছে যাওয়ার পর তাঁর মুখে দেখা দেয় গুরুতর বিকৃতি। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ইনজেকশনে ব্যবহার করা হয়েছিল সিমেন্ট, খনিজ তেল এবং গাড়ির চাকার ছিদ্র মেরামতে ব্যবহৃত এক ধরনের পদার্থ। পরে ক্ষতস্থান বন্ধ করতে ব্যবহার করা হয় সুপার গ্লু। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার। ২০০৫ সালের দিকে মুখের গড়ন পরিবর্তনের আশায় নারিনসিংহ ওনিল রন মরিসের কাছে যান। পরিচিতজনদের মাধ্যমে মরিসের কথা জানতে পেরেছিলেন তিনি। পেশাদার প্লাস্টিক সার্জনের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার মতো অর্থ তাঁর হাতে ছিল না। কম খরচে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার আশায় তিনি মরিসের কাছে ইনজেকশন নেন। তবে পরে জানা যায়, যে পদার্থকে তিনি নিরাপদ সৌন্দর্যবর্ধক উপাদান বলে মনে করেছিলেন, তা আসলে চিকিৎসায় ব্যবহারের উপযোগী ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও সিবিএস মায়ামির পুরোনো প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরিস দক্ষিণ ফ্লোরিডার বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যক্তিগত স্থানে লাইসেন্স ছাড়াই সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশন দিতেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর কাছে যাওয়া কয়েকজনের ধারণা ছিল, তাঁদের শরীরে সিলিকনজাতীয় উপাদান প্রবেশ করানো হচ্ছে। কিন্তু তদন্তকারীরা জানান, কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মিশ্রণে সিমেন্ট, খনিজ তেল, গাড়ির চাকার ছিদ্র মেরামতের পদার্থ এবং আঠার মতো উপাদান ছিল। ইনজেকশনের পর নারিনসিংহের মুখে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দেয়। গালের বিভিন্ন অংশ ফুলে ওঠে, ত্বকের নিচে শক্ত পিণ্ড তৈরি হয় এবং থুতনি ও ঠোঁটের স্বাভাবিক গড়নও বদলে যায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মুখের ভেতরে শক্ত হয়ে যাওয়া উপাদান সরানো ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশের চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে তিনি লাইসেন্সধারী প্লাস্টিক সার্জনের সাহায্য নেন। নারিনসিংহের মুখের ক্ষতি সংশোধনে একাধিক ধাপে চিকিৎসা করতে হয়। তাঁর মুখে জমাট বেঁধে যাওয়া পদার্থের কিছু অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করা হয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, একটি অস্ত্রোপচারে গলফ বলের কাছাকাছি আকারের সিমেন্টের মতো শক্ত পিণ্ড সরানো সম্ভব হয়েছিল। তবে এ ধরনের পদার্থ শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানোর পর তা সম্পূর্ণভাবে সরানো বা আগের গড়ন ফিরিয়ে আনা সহজ নয়। পরবর্তী সময়ে নারিনসিংহের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘বটচড’-এও তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানটিতে জটিলতা তৈরি হওয়া সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার পর রোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা দেখানো হয়। নারিনসিংহের ঘটনা আলোচনায় আসে মূলত মুখে জমে থাকা শক্ত পদার্থ অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত গড়ন সংশোধনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে। তাঁর অভিজ্ঞতা দেখায়, সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার প্রাথমিক খরচ কম হলেও অনিরাপদ পদ্ধতির পরিণতি সামলাতে অনেক বেশি অর্থ, সময় ও চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। যে ইনজেকশনের জন্য কয়েকশ ডলার খরচ হয়েছিল, তার পরবর্তী জটিলতা সংশোধনের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে শুধু বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, শরীরের টিস্যুতে অপরিচিত পদার্থের প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ঝুঁকিও গুরুত্বপূর্ণ। মরিসের বিরুদ্ধে লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছিল। সিবিএস নিউজের ২০১১ ও ২০১২ সালের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, তাঁর কাছ থেকে ইনজেকশন নেওয়া একাধিক ব্যক্তি শারীরিক জটিলতার কথা সামনে আনেন। তাঁদের কয়েকজনের চিকিৎসার প্রয়োজন হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর সংক্রমণ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কথাও উঠে আসে। তবে প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পদার্থ ও ক্ষতির ধরন একই ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এ ধরনের ঘটনা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশনে কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, তা রোগী অনেক সময় নিশ্চিতভাবে জানতে পারেন না। চিকিৎসকের যোগ্যতা ও অনুমোদন যাচাই না করে কেবল পরিচিতজনের সুপারিশ বা কম খরচের প্রলোভনে সিদ্ধান্ত নিলে বিপদের আশঙ্কা থাকে। শরীরে প্রবেশ করানোর জন্য অনুমোদিত নয়, এমন রাসায়নিক বা শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত পদার্থ টিস্যুর ক্ষতি, সংক্রমণ, বিকৃতি এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি করতে পারে। নারিনসিংহের ঘটনাটি তাই শুধু একটি ব্যর্থ সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার কাহিনি নয়; এটি অননুমোদিত চিকিৎসাসেবা ও অজানা উপাদান ব্যবহারের ঝুঁকিও সামনে আনে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, চিকিৎসাসেবাদাতার লাইসেন্স যাচাই করা এবং ইনজেকশনে ব্যবহৃত উপাদান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য জানা জরুরি। কাঙ্ক্ষিত বাহ্যিক পরিবর্তনের চেয়ে রোগীর নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এ ধরনের চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: সিবিএস নিউজ, সিবিএস মায়ামি ও আপসোকল (Upsocl)।
চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সিদ্ধান্তে বৈষম্যের ঝুঁকিও সামনে আসছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে এআইয়ের ভুল পূর্বাভাস বা পক্ষপাতপূর্ণ সুপারিশ ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ ঝুঁকি কমিয়ে চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ করতে গবেষণা করছেন ইরানি-আমেরিকান গবেষক মারজিয়েহ ঘাসেমি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক এবং স্বাস্থ্যসেবায় যন্ত্রশিক্ষার ব্যবহার নিয়ে কাজ করছেন। এমআইটির ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্সের মূল অনুষদ সদস্য এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ঘাসেমি হেলদি এমএল ল্যাবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো, চিকিৎসায় ব্যবহৃত এআই মডেলগুলো কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কোন তথ্যের ওপর নির্ভর করছে এবং সেসব সিদ্ধান্তে রোগীভেদে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে কি না, তা শনাক্ত করার পদ্ধতি তৈরি করা। এমআইটির ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ঘাসেমির গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে। সেখানে বলা হয়েছে, চিকিৎসায় এআইয়ের কার্যকারিতা শুধু গড় নির্ভুলতার ওপর নির্ভর করে না। বিভিন্ন হাসপাতাল ও জনগোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে মডেলটি সমানভাবে নির্ভরযোগ্য কি না, ভুল তথ্য থেকে ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত শিখছে কি না এবং বাস্তবে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করছে কি না, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। ঘাসেমির গবেষণাগারে এআই মডেলের ব্যর্থতা শনাক্ত করা, পূর্বাভাসের অনিশ্চয়তা পরিমাপ করা, পক্ষপাত কমানো এবং চিকিৎসক ও রোগীদের জন্য প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার পদ্ধতি তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চিকিৎসায় এআইয়ের সম্ভাব্য সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিটির সীমাবদ্ধতাও বোঝার চেষ্টা করছেন গবেষকেরা। চিকিৎসার তথ্য বিশ্লেষণে নতুন চ্যালেঞ্জ: ঘাসেমির গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা-তথ্য একত্র করে রোগীর কখন গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা বা জরুরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে, তা আগেভাগে অনুমান করা। এ কাজে রোগীর শারীরিক অবস্থার ধারাবাহিক পরিমাপ, পরীক্ষাগারের ফলাফল, চিকিৎসকদের লিখিত নোট এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জিনগত ও পরিবেশগত তথ্য ব্যবহার করা হয়। তবে এসব তথ্য এক ধরনের নয়। কোনো তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা হয়, আবার কোনো পরীক্ষা করা হয় নির্দিষ্ট প্রয়োজন দেখা দিলে। চিকিৎসকদের নোটও বিভিন্ন সময়ে তৈরি হয়। পাশাপাশি সব রোগীর ক্ষেত্রে সমান পরিমাণ বা একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায় না। এসব সীমাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন উৎসের তথ্য একত্র করে নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া একটি জটিল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যা মোকাবিলায় গবেষকেরা পুনরাবৃত্ত নিউরাল নেটওয়ার্ক এবং কনভল্যুশনাল নিউরাল নেটওয়ার্কের মতো যন্ত্রশিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এসব পদ্ধতির সাহায্যে রোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে কখন চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, তা অনুমান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে মডেল কোনো পূর্বাভাস দিতে পারলেই সেটিকে সরাসরি চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা নিরাপদ হয়ে যায় না। ঘাসেমির মতে, বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা-তথ্য একত্র করে তৈরি মডেল পূর্বাভাসের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে। কিন্তু চিকিৎসার বাস্তব পরিবেশে ব্যবহারের আগে মডেলটি কী শিখেছে এবং কোন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা পরীক্ষা করা জরুরি। চিকিৎসায় এআইয়ের একটি বড় উদ্বেগ হলো, প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত তথ্যের মধ্যেই যদি বৈষম্য থাকে, তাহলে মডেলও সেই বৈষম্য শিখে নিতে পারে। কোনো রোগী গোষ্ঠীর তথ্য পর্যাপ্ত না থাকলে অথবা তথ্যের মধ্যে বিদ্যমান অসমতা যথাযথভাবে বিবেচনা না করা হলে, মডেলটি এক গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ভালো ফল দিলেও অন্য গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কম নির্ভুল হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা রোগ শনাক্তকরণ, রোগের ঝুঁকি নির্ধারণ কিংবা চিকিৎসার সুপারিশে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে শুধু সামগ্রিকভাবে একটি মডেল কতটা নির্ভুল, তা যাচাই করাই যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা এবং ভুলের ধরনও আলাদাভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ঘাসেমির গবেষণা এই ঝুঁকিগুলো শনাক্ত ও কমানোর উপায় খুঁজছে। তাঁর নেতৃত্বাধীন গবেষক দল এমন পদ্ধতি তৈরি করছে, যার মাধ্যমে এআইয়ের সিদ্ধান্তের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা এবং সম্ভাব্য ক্ষতিকর পক্ষপাত সম্পর্কে আগেই ধারণা পাওয়া সম্ভব হতে পারে। চিকিৎসায় এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়বে, প্রযুক্তির নির্ভুলতার পাশাপাশি এর নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ঘাসেমির গবেষণা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। তবে গবেষণার উদ্দেশ্য সব ধরনের বৈষম্য ইতিমধ্যে দূর করা নয়; বরং চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে এআই মডেলের সীমাবদ্ধতা শনাক্ত করা এবং রোগীদের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানোর কার্যকর পদ্ধতি তৈরি করা।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, বৃত্তি ও শিক্ষার্থী ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাকিস্তানের এক মেধাবী শিক্ষার্থী ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ৯৩ লাখ রুপি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর ২৪ বছর বয়সী পদার্থবিজ্ঞানের স্বর্ণপদকজয়ী লাইবা এজাজের মৃত্যু ঘিরে দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। দেশটির পুলিশ ও ফেডারেল তদন্ত সংস্থা (এফআইএ) প্রতারণার অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সারগোধার বাসিন্দা লাইবা এজাজের মরদেহ গত ৯ অক্টোবর রাজধানী ইসলামাবাদের জি-১০ এলাকার একটি সাপ্তাহিক বাজারসংলগ্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে তদন্ত করছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার জন্য দেওয়া কাগজপত্রের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও এর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগের সম্পর্ক নির্ধারণে তদন্ত চলছে। দ্য মিডিয়া লাইনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাইবা ও তাঁর পরিবারকে হার্ভার্ডে ভর্তি, বৃত্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুহাম্মদ নওমান নামের এক ব্যক্তি। পরিবারের অভিযোগ, নওমান ও তাঁর এক সহযোগী ফাতিমা সরওয়ার মিলে ভুয়া ভর্তি-সংক্রান্ত চিঠি, বৃত্তির কাগজপত্র এবং অর্থ পরিশোধের রসিদ সরবরাহ করেন। এসব নথির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর পরিবারটি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের চেষ্টা করে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নথিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া ৯৩ লাখ পাকিস্তানি রুপির মধ্যে ২৯ লাখ রুপি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়েছিল। বাকি অর্থ নগদে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য বিনিময় হার অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য অঙ্কের। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, লাইবার যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে তাঁদের সঞ্চয় ও সম্পদ ব্যয় করতে হয়েছিল। জাল কাগজপত্রের বিষয়টি সামনে আসার পর তিনি গভীর মানসিক চাপে পড়েছিলেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। লাইবা ইসলামাবাদের আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং স্বর্ণপদক পান। ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে চেয়েছিলেন। তাঁর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ খুঁজতে গিয়ে তিনি শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শদাতা নওমানের সঙ্গে পরিচিত হন। নওমান দাবি করেছিলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, বৃত্তি ও ভিসার ব্যবস্থা করতে পারবেন। কিন্তু পরে তাঁর দেওয়া নথি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে পুরো পরিকল্পনাটি ভেঙে পড়ে। লাইবার পরিবারের আর্থিক ত্যাগের বিষয়টিও ঘটনাটিকে আরও আলোচনায় এনেছে। তাঁর বাবা ১৯৯৪ সাল থেকে ইসলামাবাদের রাস্তায় দুধ ও দই বিক্রি করে সংসার চালান। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করতে না পারলেও চার মেয়ের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। লাইবা ছিলেন সাত সন্তানের মধ্যে সবার ছোট। তাঁর বড় বোন চীনে বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে লাহোরে একটি বড় চীনা প্রতিষ্ঠানে অনুবাদক হিসেবে কাজ করছেন। পরিবারের ভাষ্য, বোনের পথ অনুসরণ করে লাইবাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পড়াশোনা করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে চেয়েছিলেন। মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে তাঁর বাবা পরিবারের জন্য কেনা একটি জমি বিক্রি করেন। লাইবার মা-ও অর্থের ব্যবস্থা করতে নিজের গয়না বন্ধক রাখেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সৌদি আরবে বৃত্তি নিয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও লাইবা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার আকাঙ্ক্ষা থেকে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য পরিবারটি বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করলেও শেষ পর্যন্ত দেওয়া কাগজপত্রের সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ইসলামাবাদ পুলিশের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলা হয় এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার কথা জানানো হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পুলিশ ও এফআইএ আলাদাভাবে মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং কথিত প্রতারণার আর্থিক লেনদেন তদন্ত করছে। এফআইএ ১০ অক্টোবর নওমান ও ফাতিমা সরওয়ারের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করে। লাইবার মামা আমজাদ উর রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে করা মামলায় বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে অর্থ নিয়েছেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ ও বিজনেস রেকর্ডার জানিয়েছে, প্রধান সন্দেহভাজন নওমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতেও পাঠিয়েছেন বলে জিও নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে, তাই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্তদের দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। এফআইএ মহাপরিচালক উসমান আনোয়ার ঘটনাটিকে প্রচলিত শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার চেয়ে পরিচয় জালিয়াতির ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে দ্য মিডিয়া লাইন জানিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক নারী নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত নওমানের পরিচিত হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। লাইবার মামা আমজাদ উর রহমানের ভাষ্য, ওই নারীর মাধ্যমে বৃত্তি ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার নথি পাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। পরিবারটি পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে নথি যাচাইয়ের চেষ্টা করে। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নওমানের মোবাইল ফোনে অন্য প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড এবং নারীদের ব্ল্যাকমেইল করার সম্ভাব্য তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, এর আগে কোয়েটায় দুর্নীতিবিরোধী বিভাগে কাজ করার সময়ও নওমানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ঘটনাটি পাকিস্তানে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার নামে প্রতারণার ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির এফআইএ এর আগেও ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি চিঠি, বৃত্তির নথি, ভিসা এবং অন্যান্য কাগজপত্র ব্যবহার করে শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারকে প্রতারণার অভিযোগ তদন্ত করেছে। লাহোরভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শক বিলাল রাঞ্জার মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য দ্রুত বা সহজ পথ খুঁজতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী অনির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারীদের ফাঁদে পড়েন। তবে তিনি তরুণদের মধ্যে জাল নথি ব্যবহারের যে উচ্চ হার উল্লেখ করেছেন, তার পক্ষে কোনো যাচাইযোগ্য পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেননি। ইসলামাবাদভিত্তিক তরুণ অধিকারকর্মী নাহিদ খান এ ঘটনাকে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব এবং দেশে সীমিত সুযোগের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, উন্নত ভবিষ্যতের আশায় বিদেশে পড়াশোনা ও কাজের সুযোগ খুঁজছেন অনেক তরুণ। এ পরিস্থিতিতে অনিয়ন্ত্রিত পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি। লাইবার মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ কারণ এবং এর সঙ্গে কথিত প্রতারণার সম্পর্ক নির্ধারণে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়াও চলমান। এ ঘটনা বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদনকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট, সরকারি ভিসা নির্দেশনা এবং প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার গুরুত্ব সামনে এনেছে। সূত্র: দ্য মিডিয়া লাইন, ডন, জিও নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল পর্যায়ে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ৭ ডলার ২৫ সেন্ট থেকে বাড়িয়ে ২৫ ডলার করার একটি প্রস্তাব কংগ্রেসে আটকে আছে। ‘লিভিং ওয়েজ ফর অল অ্যাক্ট’ নামে এ বিলটি পাস হলে কয়েক বছরের মধ্যে দেশটির কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তবে প্রস্তাবটি এখনো প্রতিনিধি পরিষদের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে শুনানির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। চলতি কংগ্রেসের অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে বিলটি নিয়ে অগ্রগতি না হলে এর ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ গত ২৮ এপ্রিল প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি উত্থাপন করেন। এর নম্বর এইচআর ৮৫৫৫। প্রস্তাব অনুযায়ী, বড় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ২০৩১ সালের মধ্যে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ২৫ ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, তুলনামূলক ছোট নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য ২০৩৮ সাল পর্যন্ত সময় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সব প্রতিষ্ঠানের ওপর একসঙ্গে বাড়তি মজুরির চাপ না দিয়ে ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টাপ্রতি ৭ ডলার ২৫ সেন্ট। ২০০৯ সালের পর থেকে এ হার বাড়ানো হয়নি। যদিও দেশটির বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকার ফেডারেল হারের চেয়ে বেশি ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করেছে, তবু জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের। বিলটির সমর্থকদের বক্তব্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে অনেক কর্মীর পক্ষে বাসাভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও যাতায়াতের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। রামিরেজ বিলটি উত্থাপনের সময় বলেন, একদিকে বড় কোম্পানিগুলো রেকর্ড পরিমাণ মুনাফার কথা জানাচ্ছে, অন্যদিকে অনেক কর্মজীবী মানুষ দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাঁর মতে, শুধু চাকরি থাকলেই চলবে না, সেই চাকরি থেকে পাওয়া আয় দিয়ে মৌলিক চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হতে হবে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও মজুরির মধ্যে ব্যবধান কমানোই এ প্রস্তাবের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিলে বড় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান বলতে বছরে অন্তত ১০০ কোটি ডলার আয় করে এমন প্রতিষ্ঠান অথবা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অন্তত ৫০০ কর্মী রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য মজুরি বাড়ানোর পৃথক বার্ষিক লক্ষ্য থাকবে। অন্য নিয়োগদাতাদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক দীর্ঘ সময় ধরে ধাপে ধাপে মজুরি বাড়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রস্তাবটির লক্ষ্য হলো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগে নির্ধারিত মজুরির পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং ছোট ব্যবসাগুলোকে পরিবর্তনের জন্য বাড়তি সময় দেওয়া। বিলটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভবিষ্যতে ন্যূনতম মজুরিকে দেশের মধ্যম ঘণ্টাপ্রতি মজুরির দুই-তৃতীয়াংশের সঙ্গে যুক্ত করা। মধ্যম মজুরি বলতে এমন একটি আয়কে বোঝায়, যার নিচে দেশের অর্ধেক কর্মীর মজুরি এবং ওপরে বাকি অর্ধেক কর্মীর মজুরি থাকে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত অনুপাতে পৌঁছানোর পর দেশের মধ্যম মজুরি পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি বছর তা সমন্বয় করা হবে। এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদে মজুরি ও কর্মীদের আয়ের পরিবর্তনের মধ্যে একটি সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কিছু কর্মীর জন্য সাধারণ ন্যূনতম মজুরির চেয়ে কম হারে মজুরি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বকশিশনির্ভর রেস্তোরাঁকর্মী, তরুণ কর্মী এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রতিবন্ধী কর্মী রয়েছেন। প্রস্তাবিত আইনটি এসব পৃথক কম মজুরির ব্যবস্থা ধাপে ধাপে তুলে দেওয়ার কথা বলেছে। বিশেষ করে বকশিশনির্ভর কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাকে সরাসরি যে ন্যূনতম অর্থ দিতে হয়, তা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। শেষ পর্যন্ত কর্মীর বকশিশকে নিয়োগদাতার ন্যূনতম মজুরি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা পূরণের বিকল্প হিসেবে গণনা করার ব্যবস্থাও বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিলটির পক্ষে শ্রমিক সংগঠন ও অধিকারকর্মীরা সমর্থন জানিয়েছেন। সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়নের সভাপতি এপ্রিল ভেরেটের মতে, কর্মীদের নেতৃত্বে চলা আন্দোলন ন্যায্য ও জীবনধারণের উপযোগী মজুরির দাবিকে সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, প্রস্তাবটি কর্মীদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য পাওনা ও সম্মানের দাবির প্রতিফলন। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটির ৩২ জন সহ-উদ্যোক্তা রয়েছেন, যাঁরা সবাই ডেমোক্র্যাট দলের সদস্য। তাঁদের মধ্যে মিশিগানের রাশিদা তালিব, ক্যালিফোর্নিয়ার রো খান্না এবং ওয়াশিংটনের প্রমিলা জয়পাল রয়েছেন। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে অর্থনৈতিক উদ্বেগও রয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠন ও কিছু অর্থনীতিবিদের আশঙ্কা, ন্যূনতম মজুরি দ্রুত বাড়লে বিশেষ করে ছোট ব্যবসা ও কম মুনাফার প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমব্যয় বেড়ে যাবে। এর ফলে কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগ কমাতে পারে, কর্মঘণ্টা কমাতে পারে অথবা পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। রক্ষণশীল অবস্থানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমপ্লয়মেন্ট পলিসিজ ইনস্টিটিউটের একটি গবেষণার বরাত দিয়ে ডেইলি সিগন্যাল জানিয়েছে, ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ২৫ ডলারে উন্নীত হলে প্রায় ৫০ লাখ কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এটি গবেষণাভিত্তিক পূর্বাভাস, নিশ্চিত ফল নয়। গবেষণাটি বিশেষ করে আতিথেয়তা খাত এবং ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী কর্মীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা বলেছে। আইনটি এখনো প্রতিনিধি পরিষদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কোনো শুনানি হয়নি এবং প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের তারিখও নির্ধারিত হয়নি। কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি জুনে একই ধরনের একটি বিল সিনেটে উত্থাপনের কথা জানিয়েছিলেন। তবে সিনেটের প্রস্তাবের সময়সূচি ও ধাপগুলো প্রতিনিধি পরিষদের বিলের সঙ্গে পুরোপুরি এক নয়। ফলে দুই কক্ষের অগ্রগতি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। বর্তমান ১১৯তম কংগ্রেসের মেয়াদ ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শেষ হবে। তার আগে বিলটি পাস না হলে পরবর্তী কংগ্রেসে নতুন করে উত্থাপন করতে হবে। রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেসে প্রস্তাবটি কতটা সমর্থন পাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ২৫ ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাবটি আপাতত আইন হওয়ার চেয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্কের বিষয় হিসেবেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রকাশনা দপ্তর, ওয়াশিংটন পোস্ট