সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
লাইফস্টাইল

স্মার্টফোন ছাড়া জীবন কেমন, বদলে যেতে পারে আপনার প্রতিদিনের অভ্যাস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৫:৫৭
স্মার্টফোনের বদলে সাধারণ ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা
স্মার্টফোনের বদলে সাধারণ ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা

স্মার্টফোন ছাড়া কি সত্যিই স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব? গাড়ি চালানোর পথ খুঁজে বের করা, কনসার্টের টিকিট দেখানো কিংবা রেস্তোরাঁর খাবারের তালিকা দেখতে কিউআর কোড স্ক্যান করা—দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা এখন অনেকেরই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের শিল্পী ও প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার কমানোর আন্দোলনকর্মী অগাস্ট ল্যামের অভিজ্ঞতা বলছে, স্মার্টফোন ছাড়াও জীবন চালানো সম্ভব। শুধু তা-ই নয়, তাঁর মতে, এই পরিবর্তনে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, অবসর সময় এবং মানসিক স্বস্তির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


ল্যাম তাঁর নতুন বই ইউ ডোন্ট নিড আ স্মার্টফোন: আ প্র্যাকটিক্যাল গাইড টু ডাউনগ্রেডিং ইওর ফোন অ্যান্ড আপগ্রেডিং ইওর লাইফ-এ স্মার্টফোনের বদলে সাধারণ ফ্লিপ ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। বইটিতে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, স্মার্টফোনের সুবিধা ছাড়ার কিছু অসুবিধা থাকলেও এর বাইরে থাকার সুফল তাঁর কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


২০২২ সালে নিজের ২৭তম জন্মদিনের কিছুদিন পর স্মার্টফোন ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন ল্যাম। তখন তাঁর মনে হয়েছিল, ফোনে এত বেশি সময় ব্যয় করছেন যে শিল্পচর্চার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন না। নিজের ভাষায়, তিনি ফোন ব্যবহারে একধরনের আসক্তি অনুভব করছিলেন। এরপর ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা নেই—এমন একটি সাধারণ ফ্লিপ ফোন ব্যবহার শুরু করেন।


স্মার্টফোন ছেড়ে দেওয়ার আগে ল্যামের আশঙ্কা ছিল, এতে পরিচিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যাবে এবং নতুন বন্ধু তৈরি করাও কঠিন হবে। কারণ, অনলাইনে অনুষ্ঠান বা বিভিন্ন আয়োজনের খবর দেখা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না। কিন্তু বাস্তবে তিনি উল্টো অভিজ্ঞতা পান। তাঁর দাবি, স্মার্টফোন ছাড়ার পর নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় বেড়েছে, আর পুরোনো বন্ধুত্বগুলোও আরও দৃঢ় হয়েছে।


ল্যামের মতে, অন্য মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় ফোনে মনোযোগ না দিলে তাদের প্রতি মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে একা থাকার সময়ও ফোনের মাধ্যমে অন্যদের সামাজিক জীবনে ডুবে থাকার প্রবণতা কমে। এতে নিজের সময় ও সামাজিক যোগাযোগের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব হয়।


বন্ধুত্ব রক্ষার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসে। আগে কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছুটি কাটানো কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের খবর প্রকাশ করলে তিনি সেখান থেকেই তা জানতে পারতেন। স্মার্টফোন ছাড়ার পর বন্ধুদের তাঁকে ফোন করে বা সরাসরি দেখা করে খবর জানাতে হতো। গ্রুপ মেসেজ ব্যবহার করতে না পারায় যোগাযোগ আরও ব্যক্তিগত হয়ে ওঠে বলে মনে করেন তিনি।


নতুন কারও সঙ্গে পরিচয় হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হওয়ার বদলে ল্যাম সরাসরি পরবর্তী সপ্তাহে দেখা করার পরিকল্পনা করেন কিংবা নিজের কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। এতে পরিচয়ের পর যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়টি অনলাইন অনুসরণের ওপর নির্ভর করে থাকে না।


ফোন ছাড়ার পর অবসর সময়ও বেড়েছে


স্মার্টফোনের অন্যতম আকর্ষণ হলো দ্রুত কাজ শেষ করার সুবিধা। অনলাইনে বিল দেওয়া, মানচিত্র দেখে গন্তব্যে পৌঁছানো কিংবা ডিজিটাল টিকিট সংগ্রহ করা—এসব কাজ ফোনে সহজেই করা যায়। কিন্তু ল্যামের মতে, ফোনে অল্প অল্প করে বারবার সময় দেওয়ার অভ্যাসই দিনের বড় একটি অংশ কেড়ে নেয়।


তিনি বলেন, কেউ যদি দিনে পাঁচ ঘণ্টা ফোনে বিভিন্ন কনটেন্ট দেখেন, তাহলে সেই অভ্যাস বন্ধ করলে পাঁচ ঘণ্টাই ফিরে পাওয়া সম্ভব। ফোনের বদলে ইউটিলিটি বিল দিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করা, ডাকঘরে যাওয়া কিংবা লাইব্রেরিতে গিয়ে বাসের টিকিট ছাপানোর মতো কাজ করতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। তবে এসব কাজের মাধ্যমে বাইরে বের হওয়া, হাঁটাচলা করা এবং মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও তৈরি হয়।


ল্যামের অভিজ্ঞতায়, ফোনে বারবার খবর দেখা, বার্তা পড়া কিংবা বিজ্ঞপ্তি পরীক্ষা করার মতো ছোট ছোট কাজ একত্রে দিনের কয়েক ঘণ্টা ব্যয় করাতে পারে। এসব অভ্যাস কমানোর পর ব্যস্ত সময়েও তাঁর প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা অবসর থাকে। ফোন ব্যবহারের সময় যে অস্থিরতা ও আতঙ্ক অনুভব করতেন, সেটিও অনেক কমেছে বলে জানান তিনি।


মনোযোগ ও মানসিক স্বস্তির পরিবর্তন


স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা কমলে নিজের স্মৃতিশক্তি ও দিকনির্দেশনা বোঝার ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার কথাও বলেছেন ল্যাম। তাঁর মতে, আগে থেকেই মানুষের মধ্যে তথ্য মনে রাখা ও আশপাশের পরিবেশ বুঝে চলার স্বাভাবিক ক্ষমতা রয়েছে। সবকিছুর জন্য ফোনের ওপর নির্ভর করলে সেই দক্ষতা ব্যবহারের সুযোগ কমে যায়।


তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি; সবার স্মৃতিশক্তি বা মনোযোগ একইভাবে বদলাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।


ফোনের আরেকটি প্রভাব হলো, অস্বস্তিকর অনুভূতি থেকে মন সরাতে অনেকেই স্ক্রল করতে শুরু করেন। ল্যামের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে স্মার্টফোন ছাড়া থাকা এমন মনে হতে পারে, যেন প্রয়োজনীয় মোকাবিলা-কৌশল ছাড়াই আটকে পড়েছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি বিকল্প অভ্যাস গড়ে তোলেন—বন্ধুকে ফোন করা, বই পড়া, হাঁটতে যাওয়া কিংবা গান শোনা। এতে অস্বস্তিকর অনুভূতি এড়িয়ে না গিয়ে সেগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়েছে বলে তাঁর অভিজ্ঞতা।


ল্যামের পরামর্শ, স্মার্টফোন ছাড়া জীবন সম্ভব নয় বলে ধরে নেওয়ার আগে অন্তত এক মাস চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে। তবে যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণের মতো চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজে স্মার্টফোনের প্রয়োজন, তাঁদের জন্য তিনি আলাদা একটি সাধারণ ফোনকে দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রধান ফোন হিসেবে রাখার এবং স্মার্টফোনটি শুধু চিকিৎসার কাজে ব্যবহারের বিকল্পও তুলে ধরেছেন।


স্মার্টফোন পুরোপুরি বাদ দেওয়া সবার জন্য বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। তবে অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি বন্ধ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময় সীমিত রাখা কিংবা কিছু সময় ফোন থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। ল্যামের অভিজ্ঞতার মূল বার্তা হলো, ফোনের সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি নিজের সময়, মনোযোগ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জন্যও জায়গা রাখা জরুরি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

লাইফস্টাইল

View more
স্মার্টফোনের বদলে সাধারণ ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা
স্মার্টফোন ছাড়া জীবন কেমন, বদলে যেতে পারে আপনার প্রতিদিনের অভ্যাস

স্মার্টফোন ছাড়া কি সত্যিই স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব? গাড়ি চালানোর পথ খুঁজে বের করা, কনসার্টের টিকিট দেখানো কিংবা রেস্তোরাঁর খাবারের তালিকা দেখতে কিউআর কোড স্ক্যান করা—দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা এখন অনেকেরই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের শিল্পী ও প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার কমানোর আন্দোলনকর্মী অগাস্ট ল্যামের অভিজ্ঞতা বলছে, স্মার্টফোন ছাড়াও জীবন চালানো সম্ভব। শুধু তা-ই নয়, তাঁর মতে, এই পরিবর্তনে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, অবসর সময় এবং মানসিক স্বস্তির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ল্যাম তাঁর নতুন বই ইউ ডোন্ট নিড আ স্মার্টফোন: আ প্র্যাকটিক্যাল গাইড টু ডাউনগ্রেডিং ইওর ফোন অ্যান্ড আপগ্রেডিং ইওর লাইফ-এ স্মার্টফোনের বদলে সাধারণ ফ্লিপ ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। বইটিতে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, স্মার্টফোনের সুবিধা ছাড়ার কিছু অসুবিধা থাকলেও এর বাইরে থাকার সুফল তাঁর কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২২ সালে নিজের ২৭তম জন্মদিনের কিছুদিন পর স্মার্টফোন ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন ল্যাম। তখন তাঁর মনে হয়েছিল, ফোনে এত বেশি সময় ব্যয় করছেন যে শিল্পচর্চার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন না। নিজের ভাষায়, তিনি ফোন ব্যবহারে একধরনের আসক্তি অনুভব করছিলেন। এরপর ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা নেই—এমন একটি সাধারণ ফ্লিপ ফোন ব্যবহার শুরু করেন। স্মার্টফোন ছেড়ে দেওয়ার আগে ল্যামের আশঙ্কা ছিল, এতে পরিচিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যাবে এবং নতুন বন্ধু তৈরি করাও কঠিন হবে। কারণ, অনলাইনে অনুষ্ঠান বা বিভিন্ন আয়োজনের খবর দেখা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না। কিন্তু বাস্তবে তিনি উল্টো অভিজ্ঞতা পান। তাঁর দাবি, স্মার্টফোন ছাড়ার পর নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় বেড়েছে, আর পুরোনো বন্ধুত্বগুলোও আরও দৃঢ় হয়েছে। ল্যামের মতে, অন্য মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় ফোনে মনোযোগ না দিলে তাদের প্রতি মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে একা থাকার সময়ও ফোনের মাধ্যমে অন্যদের সামাজিক জীবনে ডুবে থাকার প্রবণতা কমে। এতে নিজের সময় ও সামাজিক যোগাযোগের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব হয়। বন্ধুত্ব রক্ষার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসে। আগে কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছুটি কাটানো কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের খবর প্রকাশ করলে তিনি সেখান থেকেই তা জানতে পারতেন। স্মার্টফোন ছাড়ার পর বন্ধুদের তাঁকে ফোন করে বা সরাসরি দেখা করে খবর জানাতে হতো। গ্রুপ মেসেজ ব্যবহার করতে না পারায় যোগাযোগ আরও ব্যক্তিগত হয়ে ওঠে বলে মনে করেন তিনি। নতুন কারও সঙ্গে পরিচয় হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হওয়ার বদলে ল্যাম সরাসরি পরবর্তী সপ্তাহে দেখা করার পরিকল্পনা করেন কিংবা নিজের কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। এতে পরিচয়ের পর যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়টি অনলাইন অনুসরণের ওপর নির্ভর করে থাকে না। ফোন ছাড়ার পর অবসর সময়ও বেড়েছে স্মার্টফোনের অন্যতম আকর্ষণ হলো দ্রুত কাজ শেষ করার সুবিধা। অনলাইনে বিল দেওয়া, মানচিত্র দেখে গন্তব্যে পৌঁছানো কিংবা ডিজিটাল টিকিট সংগ্রহ করা—এসব কাজ ফোনে সহজেই করা যায়। কিন্তু ল্যামের মতে, ফোনে অল্প অল্প করে বারবার সময় দেওয়ার অভ্যাসই দিনের বড় একটি অংশ কেড়ে নেয়। তিনি বলেন, কেউ যদি দিনে পাঁচ ঘণ্টা ফোনে বিভিন্ন কনটেন্ট দেখেন, তাহলে সেই অভ্যাস বন্ধ করলে পাঁচ ঘণ্টাই ফিরে পাওয়া সম্ভব। ফোনের বদলে ইউটিলিটি বিল দিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করা, ডাকঘরে যাওয়া কিংবা লাইব্রেরিতে গিয়ে বাসের টিকিট ছাপানোর মতো কাজ করতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। তবে এসব কাজের মাধ্যমে বাইরে বের হওয়া, হাঁটাচলা করা এবং মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও তৈরি হয়। ল্যামের অভিজ্ঞতায়, ফোনে বারবার খবর দেখা, বার্তা পড়া কিংবা বিজ্ঞপ্তি পরীক্ষা করার মতো ছোট ছোট কাজ একত্রে দিনের কয়েক ঘণ্টা ব্যয় করাতে পারে। এসব অভ্যাস কমানোর পর ব্যস্ত সময়েও তাঁর প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা অবসর থাকে। ফোন ব্যবহারের সময় যে অস্থিরতা ও আতঙ্ক অনুভব করতেন, সেটিও অনেক কমেছে বলে জানান তিনি। মনোযোগ ও মানসিক স্বস্তির পরিবর্তন স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা কমলে নিজের স্মৃতিশক্তি ও দিকনির্দেশনা বোঝার ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার কথাও বলেছেন ল্যাম। তাঁর মতে, আগে থেকেই মানুষের মধ্যে তথ্য মনে রাখা ও আশপাশের পরিবেশ বুঝে চলার স্বাভাবিক ক্ষমতা রয়েছে। সবকিছুর জন্য ফোনের ওপর নির্ভর করলে সেই দক্ষতা ব্যবহারের সুযোগ কমে যায়। তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি; সবার স্মৃতিশক্তি বা মনোযোগ একইভাবে বদলাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফোনের আরেকটি প্রভাব হলো, অস্বস্তিকর অনুভূতি থেকে মন সরাতে অনেকেই স্ক্রল করতে শুরু করেন। ল্যামের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে স্মার্টফোন ছাড়া থাকা এমন মনে হতে পারে, যেন প্রয়োজনীয় মোকাবিলা-কৌশল ছাড়াই আটকে পড়েছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি বিকল্প অভ্যাস গড়ে তোলেন—বন্ধুকে ফোন করা, বই পড়া, হাঁটতে যাওয়া কিংবা গান শোনা। এতে অস্বস্তিকর অনুভূতি এড়িয়ে না গিয়ে সেগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়েছে বলে তাঁর অভিজ্ঞতা। ল্যামের পরামর্শ, স্মার্টফোন ছাড়া জীবন সম্ভব নয় বলে ধরে নেওয়ার আগে অন্তত এক মাস চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে। তবে যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণের মতো চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজে স্মার্টফোনের প্রয়োজন, তাঁদের জন্য তিনি আলাদা একটি সাধারণ ফোনকে দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রধান ফোন হিসেবে রাখার এবং স্মার্টফোনটি শুধু চিকিৎসার কাজে ব্যবহারের বিকল্পও তুলে ধরেছেন। স্মার্টফোন পুরোপুরি বাদ দেওয়া সবার জন্য বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। তবে অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি বন্ধ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময় সীমিত রাখা কিংবা কিছু সময় ফোন থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। ল্যামের অভিজ্ঞতার মূল বার্তা হলো, ফোনের সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি নিজের সময়, মনোযোগ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জন্যও জায়গা রাখা জরুরি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৫:৫৭
কফি ও অন্ত্রের জীবাণু নিয়ে নতুন গবেষণা

দুই সপ্তাহ কফি না খেয়ে শরীরের ভেতরে কী কী পরিবর্তন হয়, জানাল নতুন গবেষণা

কনটেন্ট ক্রিয়েটর লাভ সু

১৪ বছর পর প্রথম মাংস খেয়েই “এত মজা!” বলে কেঁদে ফেললেন নিরামিষভোজী নারী

প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ ও ত্বকের যত্ন

প্রাপ্তবয়স্কদেরও হতে পারে ব্রণের সমস্যা, ত্বক সুস্থ রাখতে চিকিৎসকেরা দিচ্ছেন যেসব পরামর্শ

নিউইয়র্কের খলিল বিরিয়ানি হাউজের প্রতিষ্ঠাতা খলিলুর রহমান
নিউইয়র্কের বিরিয়ানি সম্রাট খলিল: ঢাবিতে গণিতে মাস্টার্স, আজ ৬ রেস্টুরেন্টের মালিক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর শেষ করে দেশে বীমা কোম্পানিতে চাকরি করতেন মোহাম্মদ খলিলুর রহমান। কিন্তু জীবনের লক্ষ্য ছিল আরও বড় কিছু করার। সেই স্বপ্ন নিয়ে ২০০৮ সালে ডাইভারসিটি ভিসায় পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। নিউইয়র্কে এসে শুরু করেন রেস্টুরেন্টে থালাবাসন ধোয়ার কাজ। দীর্ঘ সংগ্রামের পর সেই খলিলুর রহমানই এখন নিউইয়র্কের পরিচিত বাংলাদেশি শেফ ও রেস্টুরেন্ট উদ্যোক্তা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত খলিল বিরিয়ানি হাউজের ব্যবসা সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় এবার নতুন শাখা চালু হয়েছে ব্রুকলিনে।   গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) ব্রুকলিনের পিটকিন এভিনিউতে খলিল বিরিয়ানি হাউজের নতুন শাখার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চলমান নিউইয়র্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে নতুন রেস্টুরেন্টটির যাত্রা শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন এবং বিভিন্ন ধরনের খাবারের স্বাদ গ্রহণ করেন। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরাও নতুন এই শাখা চালু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। নিউইয়র্ক সিটির রেস্টুরেন্ট নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ২৭৬৮ পিটকিন এভিনিউ, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক ১১২০৮।   তবে খলিলুর রহমানের আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পথ সহজ ছিল না। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা শেষ করে ভালো চাকরি করলেও যুক্তরাষ্ট্রে এসে তাঁকে নতুন করে জীবন শুরু করতে হয়। প্রথমে একটি রেস্টুরেন্টে ডিশওয়াশার হিসেবে কাজ নেন। এরপর কখনো কিচেন হেলপার, কখনো বুচারের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এভাবে প্রায় ছয় বছর রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। সেই সময়ই নিজের একটি রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।   ২০২২ সালের ডিসেম্বরে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে বীমা কোম্পানির চাকরি ভালোই ছিল। কিন্তু তিনি আরও বড় কিছু করতে চেয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে রেস্টুরেন্টে কাজ করতে গিয়েই বুঝতে পারেন, নিজের ব্যবসা গড়ে তুলতে হলে শুধু পরিশ্রম নয়, রান্না ও রেস্টুরেন্ট পরিচালনার বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতাও প্রয়োজন।   সেই লক্ষ্য নিয়ে নিউইয়র্কের ইনস্টিটিউট অব কালিনারি এডুকেশনে ভর্তি হন তিনি। পড়াশোনার খরচ চালাতে নিতে হয় শিক্ষা ঋণ। প্রায় চার বছরের প্রশিক্ষণ শেষে ২০১৮ সালে সার্টিফায়েড শেফ হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। তবে প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার আগেই নিজের ব্যবসা শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন খলিলুর রহমান।   ২০১৭ সালে ব্রঙ্কসে ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু করে খলিল বিরিয়ানি হাউজ। শুরুর সেই উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি খাবারের বাজারে পরিচিত নাম হয়ে ওঠে। ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্রঙ্কসের বাইরে কুইন্সের জ্যামাইকা ও এলমহার্স্টেও কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির ফ্র্যাঞ্চাইজি কার্যক্রমের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কজুড়ে এর ছয়টি লোকেশনে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ব্রুকলিনে নতুন শাখা চালুর মাধ্যমে আরও একটি এলাকায় পৌঁছাল প্রতিষ্ঠানটি।   খলিলের রেস্টুরেন্টগুলোর অন্যতম আকর্ষণ বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী খাবার। কাচ্চি বিরিয়ানি, বিফ তেহারি, চিকেন বিরিয়ানি, রোস্ট পোলাও, বিফ কারি, চিকেন টিক্কা, তান্দুরি চিকেনসহ বিভিন্ন ধরনের হালাল খাবার পরিবেশন করা হয় এখানে। পাশাপাশি রয়েছে মাছ, সবজি, কাবাব, সমুচা ও অন্যান্য দেশীয় খাবারের আয়োজন। বাংলাদেশি ক্রেতাদের পাশাপাশি ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের কাছেও এসব খাবার পরিচিত করে তোলার চেষ্টা করছেন খলিলুর রহমান।   তাঁর তৈরি বিশেষ একটি খাবারের নাম ‘বাইডেন বিরিয়ানি’। ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয় উপলক্ষে এই বিরিয়ানি তৈরি করেছিলেন তিনি। প্রচলিত বিরিয়ানির তুলনায় এতে মসলার ব্যবহার কম রাখা হয়, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের মানুষের কাছেও খাবারটি সহজে গ্রহণযোগ্য হয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, খাবারের স্বাদ ও মসলার ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।   রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় তাঁর সাফল্য আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২২ সালে ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডসে ‘পারসোনালিটি অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার অর্জন করেন খলিলুর রহমান। আয়োজকদের প্রকাশিত বিজয়ীদের তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে। যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে এই স্বীকৃতি পাওয়া প্রথম শেফ হিসেবে তাঁকে উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে। একই বছর কমিউনিটিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টস অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডও পান তিনি।   ব্যবসার পাশাপাশি বাংলাদেশি অভিবাসীদের কর্মসংস্থানেও ভূমিকা রেখেছেন খলিলুর রহমান। ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে তাঁর বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ৮৫ জনের বেশি বাঙালি অভিবাসীর কর্মসংস্থানের তথ্য উঠে আসে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় নিউইয়র্কের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাংলাদেশেও রান্নাবিষয়ক দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছেন খলিলুর রহমান। ২০২৪ সালে ঢাকার পল্টনে চালু করেন খলিল কালিনারি আর্টস সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটিতে তরুণদের পেশাদার রান্নার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে সময় প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী এবং ১৭ জন কর্মী ছিলেন। রান্নাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী তরুণদের দক্ষ করে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।   এদিকে ব্রুকলিনে নতুন শাখা চালুর বিষয়ে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই এলাকা ও আশপাশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশির বসবাস রয়েছে। তাঁদের কাছে হালাল ও মানসম্মত খাবার পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য কমিউনিটির মানুষের মধ্যেও বাংলাদেশি খাবারের পরিচিতি বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। খাবারের স্বাদ, গুণগত মান ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   বাংলাদেশে বীমা কোম্পানির চাকরি থেকে নিউইয়র্কের রেস্টুরেন্টে ডিশওয়াশারের কাজ, এরপর পেশাদার শেফ হয়ে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা। খলিলুর রহমানের দীর্ঘ এই পথচলায় রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, প্রশিক্ষণ ও ধাপে ধাপে ব্যবসা সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতা। ব্রঙ্কসের ছোট একটি রেস্টুরেন্ট দিয়ে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ এখন ব্রুকলিনেও পৌঁছেছে। একই সঙ্গে নিউইয়র্কের বহুজাতিক খাদ্যসংস্কৃতিতে বাংলাদেশি বিরিয়ানি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৮:২৯
মেয়ের বিয়েতে তারুণ্যদীপ্ত বাবার উপস্থিতি

মেয়ের বিয়েতে বাবাকে দেখে ভাই ভাবলেন অনেকে, তারুণ্য ধরে রাখার রহস্য জানালেন বাবা

পোষা প্রাণীর উপস্থিতি রাতে শব্দ, নড়াচড়া বা তাপের কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, বলছে গবেষণা

দীর্ঘায়ুর সঙ্গে আলোচনায় তিন ধরনের পানীয়

শতায়ু মানুষের পানীয়ের অভ্যাসে মিল, দীর্ঘায়ুর সঙ্গে যুক্ত তিন পানীয়ের কথা জানালেন গবেষক

ছুটির ভ্রমণে সস্তা বিমান টিকিট পেতে বুকিংয়ের সেরা সময় জানাল গুগল
থ্যাংকসগিভিং ও বড়দিনের ছুটিতে সস্তায় বিমান টিকিট পেতে কখন বুক করবেন

ছুটির মৌসুমে বাড়ি ফেরা বা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে বিমান ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন অনেকেই। কিন্তু বছরের এই সময়ে টিকিটের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। তাই কখন টিকিট বুক করলে তুলনামূলক কম খরচে ভ্রমণ করা যাবে, সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে গুগলের সর্বশেষ ফ্লাইট বিশ্লেষণ।   গুগল ফ্লাইটসের পাঁচ বছরের সমন্বিত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের থ্যাংকসগিভিং ও বড়দিনের ভ্রমণের জন্য কম দামের টিকিট পেতে অক্টোবর মাসটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বড়দিনের ভ্রমণের ক্ষেত্রে কম ভাড়ার সময় এ বছর গত বছরের তুলনায় আরও কিছুটা এগিয়ে এসেছে।   গুগলের তথ্য অনুযায়ী, থ্যাংকসগিভিংয়ের জন্য সবচেয়ে কম দামের টিকিট সাধারণত যাত্রার ৩৪ দিন আগে পাওয়া যায়। কম দামের সম্ভাবনাময় সময়সীমা থাকে যাত্রার ২১ থেকে ৫৭ দিন আগে। অর্থাৎ, নভেম্বরের শেষদিকে থ্যাংকসগিভিং ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে অক্টোবরেই ভালো দামের টিকিট খোঁজা শুরু করা সুবিধাজনক।   বড়দিনের ক্ষেত্রে হিসাবটি আরও আগের। গুগলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যাত্রার ৫৬ দিন আগে গড়ে সবচেয়ে কম ভাড়া পাওয়া যায়। কম দামের সম্ভাবনাময় সময়সীমা ৩৩ থেকে ৬৭ দিন আগে। এর অর্থ হলো, বড়দিনের ভ্রমণের জন্য অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ভালো দামের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই সময়সীমা গত বছরের তুলনায় প্রায় পাঁচ দিন এগিয়ে এসেছে।   শুধু ছুটির মৌসুম নয়, অন্যান্য ভ্রমণের ক্ষেত্রেও বুকিংয়ের সময় নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে গুগল। মার্চ বা এপ্রিলের স্প্রিং ব্রেক ভ্রমণের জন্য যাত্রার ৫০ দিন আগে গড়ে সবচেয়ে কম ভাড়া পাওয়া গেছে। কম দামের সম্ভাবনাময় সময় ২৯ থেকে ৬৪ দিন আগে।   জুলাই বা আগস্টে গ্রীষ্মকালীন ছুটির ভ্রমণের ক্ষেত্রে আবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এ ধরনের ভ্রমণের জন্য যাত্রার ২১ দিন আগে গড়ে সবচেয়ে কম দাম পাওয়া গেছে। কম দামের সময়সীমা ২০ থেকে ৪৭ দিন আগে।   যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সাধারণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও গুগলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যাত্রার ৩৯ দিন আগে গড়ে সবচেয়ে কম ভাড়া পাওয়া যায়। সম্ভাবনাময় কম দামের সময়সীমা ২২ থেকে ৫৭ দিন আগে।   আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে অবশ্য অপেক্ষা না করে আগেভাগে টিকিট কাটার পরামর্শ দিয়েছে গুগল। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে গড়ে সবচেয়ে কম দাম যাত্রার ৮৯ দিন আগে দেখা গেলেও ৫০ থেকে ১৩৩ দিন আগে পর্যন্ত কম দামের সময়সীমা বিস্তৃত। গুগলের মতে, বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে দামের বড় ধরনের পতনের অপেক্ষায় না থেকে যত দ্রুত সম্ভব বুকিং করা ভালো।   ইউরোপ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। ইউরোপগামী ফ্লাইটে গড়ে প্রায় ৯০ দিন আগে সবচেয়ে কম ভাড়া পাওয়া যায়। তবে গুগলের বিশ্লেষণ বলছে, যাত্রার ৪৯ দিন বা তারও বেশি আগে বুক করলে তুলনামূলক কম দামের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।   মেক্সিকো বা ক্যারিবীয় অঞ্চলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আবার অপেক্ষাকৃত কাছাকাছি সময়ে কম ভাড়া পাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। সেখানে যাত্রার ৪৩ দিন আগে গড়ে সবচেয়ে কম দাম পাওয়া গেছে এবং কম দামের সময়সীমা ২৪ থেকে ৬৯ দিন আগে।   এদিকে বিমান টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সপ্তাহের নির্দিষ্ট কোনো দিন বেছে নেওয়ার পুরোনো ধারণাকেও খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে না গুগল। মঙ্গলবার টিকিট কাটলে সবচেয়ে কম দাম পাওয়া যায়—এমন ধারণা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। কিন্তু গুগলের সর্বশেষ তথ্য বলছে, বুধবার গড়ে সবচেয়ে কম দামে টিকিট পাওয়া গেলেও মঙ্গলবার বা অন্য দিনের সঙ্গে পার্থক্য খুবই সামান্য।   গুগলের হিসাবে, রোববারের তুলনায় বুধবার টিকিট কিনলে গড়ে মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ সাশ্রয় হতে পারে। তাই শুধু সপ্তাহের নির্দিষ্ট একটি দিনে বুকিং করার জন্য অপেক্ষা করার চেয়ে কখন ভ্রমণ করছেন, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   ভ্রমণের দিন পরিবর্তন করেও বড় ধরনের সাশ্রয় করা সম্ভব। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তের পরিবর্তে সোমবার যাত্রা করে মঙ্গলবার বা বুধবার ফিরলে গড়ে প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কম খরচ হতে পারে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের ক্ষেত্রে রোববার যাওয়া ও রোববার ফেরার তুলনায় এই সাশ্রয় ২০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সরাসরি বা ননস্টপ ফ্লাইট। যাত্রীরা সাধারণত ননস্টপ ফ্লাইটকে বেশি সুবিধাজনক মনে করেন। তবে কম খরচকে অগ্রাধিকার দিলে সংযোগযুক্ত বা একাধিক ধাপে যাওয়া ফ্লাইট বিবেচনা করা যেতে পারে। গুগলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ননস্টপ ফ্লাইটের টিকিট গড়ে সংযোগযুক্ত ফ্লাইটের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি দামি।   তবে এসব হিসাব কোনো নির্দিষ্ট রুটে একইভাবে প্রযোজ্য হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বিমানভাড়া গন্তব্য, যাত্রার তারিখ, চাহিদা, আসনসংখ্যা ও অন্যান্য বাজার পরিস্থিতির ওপর পরিবর্তিত হতে পারে। গুগল ফ্লাইটসেও নির্দিষ্ট গন্তব্য ও তারিখ দিয়ে বর্তমান দামের সঙ্গে অতীতের প্রবণতা তুলনা করার সুবিধা রয়েছে। দাম কমলে বা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলে ব্যবহারকারীরা মূল্য পর্যবেক্ষণের সুবিধাও নিতে পারেন।   সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের ছুটির ভ্রমণের ক্ষেত্রে গুগলের পরামর্শ হলো—থ্যাংকসগিভিংয়ের জন্য অক্টোবরেই ভালো দামের টিকিট খোঁজা শুরু করা এবং বড়দিনের জন্য অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। আর ভ্রমণের তারিখে কিছুটা নমনীয়তা থাকলে সপ্তাহের মাঝামাঝি যাত্রা এবং সংযোগযুক্ত ফ্লাইট বেছে নিয়ে খরচ আরও কমানোর সুযোগ থাকতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৭:১৮
দীর্ঘ ছয় মাস পর ঘরে ফিরে বিছানায় দেখতে পান শতাধিক ‘ডিম’

দীর্ঘ ছয় মাস পর ঘরে ফিরে বিছানায় দেখতে পান শতাধিক ‘ডিম’! হতবাক ব্যক্তি

মাত্র একবার চিটিং করতেই ১০ বছরের সংসার ভেঙে দিলো স্বামী! কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন নারী

মাত্র একবার চিটিং করতেই ১০ বছরের সংসার ভেঙে দিলো স্বামী! কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন নারী

ধর্মীয় চর্চায় নিয়মিত দম্পতিদের যৌ ন জী বন ও দাম্পত্য সন্তুষ্টি নিয়ে গবেষণায় মিলেছে চমকপ্রদ তথ্য

ধর্মভীরু দম্পতিদের যৌ ন জী বন বেশি সন্তোষজনক: গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

0 Comments