বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রিতে সীমিত রাখার লক্ষ্য ভেস্তে যাওয়ার পথে
বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য অর্জন এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা এই সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে উষ্ণতা কতটা বাড়বে এবং কত দিন ধরে এই সীমার ওপরে থাকবে, তা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ এখনো আছে। এ জন্য দ্রুত গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক কর্মসূচির (ইউএনইপি) নতুন ‘এমিশনস গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৬’-এ এসব সতর্কতা তুলে ধরা হয়েছে। ‘দ্য পয়েন্ট অব রিটার্ন’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্ব যে গতিতে কাজ করছে, তা প্যারিস জলবায়ু চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাপমাত্রার লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়।
২০১৫ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জলবায়ু চুক্তিতে সম্মত হয় বিশ্বের দেশগুলো। চুক্তির লক্ষ্য ছিল, শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশ নিচে রাখা এবং সম্ভব হলে তা ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমিত রাখা। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব কমাতে ১.৫ ডিগ্রির সীমাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন যথেষ্ট দ্রুত কমানো সম্ভব না হওয়ায় সেই লক্ষ্য অর্জন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তা আবার কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। অর্থাৎ, এখন লক্ষ্য হবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সর্বোচ্চ মাত্রা যতটা সম্ভব সীমিত রাখা এবং ২১০০ সালের মধ্যে আবার ১.৫ ডিগ্রির নিচে ফিরিয়ে আনা। তবে এই পথ সহজ নয়। এর জন্য বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানোর পাশাপাশি বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণের প্রয়োজন হবে।
প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে আশাবাদী পরিস্থিতিতেও চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৭ থেকে ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া গেলে ২১০০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা আবার ১.৫ ডিগ্রির নিচে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ, লক্ষ্য অর্জনের নিশ্চয়তা নেই।
বর্তমান নীতিমালা অব্যাহত থাকলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। দেশগুলো তাদের ঘোষিত জলবায়ু প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলেও উষ্ণতা প্রায় ২.৬ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এতে বোঝা যায়, দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে।
এই পরিস্থিতি বদলাতে ২০২৫ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন ১৮ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। ২০৪০ সালের মধ্যে নির্গমন কমাতে হবে ৬৯ শতাংশ। এ জন্য কয়লা, তেল ও গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে সৌর ও বায়ুশক্তির মতো পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, বন উজাড় বন্ধ করা এবং শিল্প ও পরিবহন খাতে নির্গমন কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তাপমাত্রা যত বেশি বাড়বে এবং ১.৫ ডিগ্রির সীমার ওপরে যত বেশি সময় থাকবে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিও তত বাড়বে। তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। কিছু প্রাকৃতিক ব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা পরে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।
বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগের। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি এবং তীব্র গরমের প্রভাব মোকাবিলায় আরও প্রস্তুতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি সামলাতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনের মূল বার্তা হলো, ১.৫ ডিগ্রির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়লেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার চেষ্টা থামানো যাবে না। এখন নির্গমন কমানোর গতি বাড়াতে পারলে তাপমাত্রা কতটা বাড়বে, সেই বৃদ্ধি কত দিন স্থায়ী হবে এবং ভবিষ্যতে পৃথিবীকে আবার নিরাপদ সীমায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না—তার ওপর বড় প্রভাব ফেলা যাবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreবিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য অর্জন এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা এই সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে উষ্ণতা কতটা বাড়বে এবং কত দিন ধরে এই সীমার ওপরে থাকবে, তা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ এখনো আছে। এ জন্য দ্রুত গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক কর্মসূচির (ইউএনইপি) নতুন ‘এমিশনস গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৬’-এ এসব সতর্কতা তুলে ধরা হয়েছে। ‘দ্য পয়েন্ট অব রিটার্ন’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্ব যে গতিতে কাজ করছে, তা প্যারিস জলবায়ু চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাপমাত্রার লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। ২০১৫ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জলবায়ু চুক্তিতে সম্মত হয় বিশ্বের দেশগুলো। চুক্তির লক্ষ্য ছিল, শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশ নিচে রাখা এবং সম্ভব হলে তা ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমিত রাখা। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব কমাতে ১.৫ ডিগ্রির সীমাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন যথেষ্ট দ্রুত কমানো সম্ভব না হওয়ায় সেই লক্ষ্য অর্জন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তা আবার কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। অর্থাৎ, এখন লক্ষ্য হবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সর্বোচ্চ মাত্রা যতটা সম্ভব সীমিত রাখা এবং ২১০০ সালের মধ্যে আবার ১.৫ ডিগ্রির নিচে ফিরিয়ে আনা। তবে এই পথ সহজ নয়। এর জন্য বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানোর পাশাপাশি বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণের প্রয়োজন হবে। প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে আশাবাদী পরিস্থিতিতেও চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৭ থেকে ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া গেলে ২১০০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা আবার ১.৫ ডিগ্রির নিচে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ, লক্ষ্য অর্জনের নিশ্চয়তা নেই। বর্তমান নীতিমালা অব্যাহত থাকলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। দেশগুলো তাদের ঘোষিত জলবায়ু প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলেও উষ্ণতা প্রায় ২.৬ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এতে বোঝা যায়, দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে ২০২৫ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন ১৮ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। ২০৪০ সালের মধ্যে নির্গমন কমাতে হবে ৬৯ শতাংশ। এ জন্য কয়লা, তেল ও গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে সৌর ও বায়ুশক্তির মতো পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, বন উজাড় বন্ধ করা এবং শিল্প ও পরিবহন খাতে নির্গমন কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তাপমাত্রা যত বেশি বাড়বে এবং ১.৫ ডিগ্রির সীমার ওপরে যত বেশি সময় থাকবে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিও তত বাড়বে। তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। কিছু প্রাকৃতিক ব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা পরে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগের। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি এবং তীব্র গরমের প্রভাব মোকাবিলায় আরও প্রস্তুতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি সামলাতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের প্রতিবেদনের মূল বার্তা হলো, ১.৫ ডিগ্রির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়লেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার চেষ্টা থামানো যাবে না। এখন নির্গমন কমানোর গতি বাড়াতে পারলে তাপমাত্রা কতটা বাড়বে, সেই বৃদ্ধি কত দিন স্থায়ী হবে এবং ভবিষ্যতে পৃথিবীকে আবার নিরাপদ সীমায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না—তার ওপর বড় প্রভাব ফেলা যাবে।
বিরল রোগে বদলে গেছে চীনা ব্যক্তির মুখমণ্ডল, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যাশা
ভারতে বাবার পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় ঘুমন্ত মেয়ের মাথায় গুলি
‘শিগগিরই প্যারিস মুসলিমদের শহর হবে’, ফ্রান্সের অস্থিরতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করলেন ট্রাম্প
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ায় ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছে। রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা ছাড়াও নিস, লিল ও মার্সেইয়ে জনসমাগম ও বিক্ষোভের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। গত সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় দোকানপাটে লুটপাট, সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ফরাসি সরকার। একই সময়ে ইতালিসহ ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু সোমবার জরুরি বৈঠকের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার অঙ্গীকার করেন। তাঁর আহ্বানের পর কয়েকটি শহরে রাতের কারফিউ এবং জনসমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। লিল, দুয়ে, ওয়াতিনিয়ে ও দেনাঁ শহরে স্থানীয় মেয়রদের সম্মতিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সূত্র জানিয়েছে। নিসে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রাতের কারফিউ কার্যকর করা হয়েছে। মার্সেইয়ে বিক্ষোভ ও জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্যারিসের কয়েকটি এলাকায় রাত ৮টা থেকে বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং প্লাস দ্য লা রিপুবলিক ও লে আল এলাকায় রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। তবে পুরো প্যারিসে একযোগে কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ জানিয়েছেন, সহিংসতা, লুটপাট এবং সরকারি স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, অবস্থান নির্ণয়ের তথ্য এবং টেলিফোনে আড়িপাতার মতো তদন্তপদ্ধতি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ হেফাজতের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বলেছেন, আপাতত পুরো দেশে জরুরি অবস্থা জারির পরিবর্তে নির্দিষ্ট এলাকায় বিধিনিষেধ আরোপ করাই বেশি উপযুক্ত। তাঁর অভিযোগ, উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর কেউ কেউ রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। গত শনিবারের বিক্ষোভে ফ্রান্সজুড়ে দুই হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হন এবং প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হন বলে দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজধানীতে বিক্ষোভ চলাকালে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। মার্সেইয়ের মেয়র বেনোয়া পায়ান পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় দোকানের কাচ ভাঙা হয়েছে এবং বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালানো হয়েছে। প্যারিসের বিলাসবহুল দোকানপাটের এলাকাতেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ডিওর, রোলেক্স, লুই ভুইতো, রালফ লরেন ও গুচির কয়েকটি দোকানের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। ফ্রান্সে চলমান আন্দোলন শুরু হয়েছিল মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকস্বল্পতা, শ্রেণিকক্ষের দুরবস্থা ও শিক্ষা খাতে সংকটের প্রতিবাদ থেকে। পরে জীবনযাত্রার ব্যয়, আয় ও ব্যয়ের অসামঞ্জস্য এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ এতে যুক্ত হয়। আন্দোলনকারীদের আয়োজকেরা আগামী শনিবার নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, গত সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে প্রায় আট লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন এবং তাঁরা প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর পদত্যাগও দাবি করছেন। তবে ফরাসি কর্তৃপক্ষের হিসাবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার। আন্দোলনের মধ্যে মাখোঁর মধ্যপ্রাচ্য সফর নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। ইতালিতেও বিক্ষোভের পর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মিলানে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ এবং দোকানপাটে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি মিলানে ৫০০ সেনা পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের জমায়েত নিষিদ্ধ করা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক আটক বাড়ানো এবং সম্পত্তির ক্ষতিসাধনে জড়িতদের পরে গ্রেপ্তারের মতো ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে। ফ্রান্স ও ইতালির বাইরে পর্তুগাল, স্পেন ও আলবেনিয়াতেও বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে গত শনিবার কয়েক দশ হাজার মানুষ মিছিল করেন। স্পেনে আবাসন সংকট ও ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চলছে। আলবেনিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ, উচ্চ শিক্ষাব্যয় ও দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। সার্বিয়াতেও শিক্ষার্থী আন্দোলনকারীদের নেতৃত্বে বড় সমাবেশের প্রস্তুতি চলছে। এসব দেশে আন্দোলনের কারণ ভিন্ন হলেও মূল্যস্ফীতি, আবাসনের ব্যয়, শিক্ষা ও সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ একটি সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ফ্রান্সের সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, দেশটিতে একই ধরনের ঘটনা ঘটলে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ও সম্পদ রয়েছে। সরকারের বক্তব্য, গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা সহিংসতা বা ভাঙচুরের বৈধতা দেয় না। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নতুন বিক্ষোভের ডাক আসায় পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট, রয়টার্স।
ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও পর্তুগালে বিক্ষোভ, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ
ভারতে পেরেকের ওপর শুয়েও শরীরে নেই কোনো ক্ষত, দেবী কালীর ভর হয়েছে দাবি পরিবারের
পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় মার্কিন সাংবাদিক আহত, নেতানিয়াহুর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের বিএমডব্লিউ গাড়ি লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে ভারতের মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ ঘটনায় অভিনেতা সরাসরি গুলিবিদ্ধ না হলেও তাঁর ডান হাতে বারুদের কারণে পোড়া দাগ হয়েছে। আহত হয়েছেন তাঁর গাড়িচালক ফিরদৌস এবং এক অটোরিকশাচালক। ঘটনার পর মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে গভীর রাতে অভিনেতার বাসায় গিয়ে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুহু এলাকার পুষ্পা পার্কের কাছে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। সে সময় অভিনেতা ফুটবল খেলা শেষে ফিরছিলেন। মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর গাড়ির দিকে গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনাস্থলের ভিডিও এবং অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। গুলিবর্ষণের ঘটনায় টাইগার শ্রফের গাড়িচালক ফিরদৌসের বাম হাতে গুলি লাগে। আহত অটোরিকশাচালককেও হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, অভিনেতার ডান হাতে বারুদের কারণে পোড়া দাগ রয়েছে বলে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের পর জানান একনাথ শিন্ডে। তবে তিনি সরাসরি গুলিবিদ্ধ হননি। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ঘটনার পর টাইগার শ্রফের সঙ্গে দেখা করে একনাথ শিন্ডে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। অভিনেতা ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার এবং মুম্বাই পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। শিন্ডে জানান, মুম্বাইয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ভয়ভীতি দেখানো কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। টাইগার শ্রফের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারও সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত শত্রুতা বা বিরোধ নেই। ফলে কেন অভিনেতার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলো, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ হামলার উদ্দেশ্য, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে হামলার দায় স্বীকারের দাবি সামনে এলেও সেটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। ঘটনার তদন্তে পুলিশ বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার কারণ ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও হিন্দুস্তান টাইমস।
মাদরাসায় না গিয়েই মাত্র ১ বছরে সম্পূর্ণ কুরআন হিফজ করল আলজেরিয়ার ৩ বছর বয়সী শিশু আব্দুর রহমান ফারিহ
গির্জায় প্রার্থনা চলাকালে মাথায় বিশাল ক্রুশ ভেঙে পড়ে যাজকের মৃত্যু