- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ফিলিপাইনের পাহাড়ি অঞ্চল আপায়াওয়ের দুই বছর বয়সী শিশু জারেন গামোগানের শরীরে জন্ম থেকেই অস্বাভাবিকভাবে ঘন লোম। মাথাভর্তি চুলের পাশাপাশি তার মুখ, গলা, পিঠ ও হাতের বিভিন্ন অংশেও কালো লোম রয়েছে। সন্তানের এমন শারীরিক বৈশিষ্ট্য দেখে প্রথমে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তার মা আলমা। একপর্যায়ে তিনি ধারণা করেন, গর্ভাবস্থায় বন্য বিড়াল খাওয়ার কারণেই হয়তো ছেলের এমন অবস্থা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশীর কথায় সেই আশঙ্কা আরও বাড়ে। তবে পরে চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির এই অবস্থার সঙ্গে মায়ের ওই খাবার খাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। আলমার ভাষ্য অনুযায়ী, জারেনের জন্মের আগে গর্ভাবস্থায় তার বন্য বিড়ালের মাংস খাওয়ার প্রতি অস্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় এলাকায় এটি একটি পরিচিত খাবার হিসেবে বিবেচিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একসময় গ্রামের কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কালো রঙের একটি বন্য বিড়াল খুঁজতে যান তিনি। পরে সেটি ভেষজ উপাদান দিয়ে রান্না করে খান। কিন্তু সন্তান জন্মের পর জারেনের শরীরে অতিরিক্ত লোম দেখে তিনি নিজের ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে শিশুটির শারীরিক অবস্থার সম্পর্ক খুঁজতে থাকেন। প্রতিবেশীদের কেউ কেউ বিষয়টিকে অভিশাপের সঙ্গে যুক্ত করলেও আলমা কুসংস্কারের ওপর নির্ভর না করে ছেলেকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা জারেনের শরীরে অতিরিক্ত লোম গজানোর কারণ হিসেবে হাইপারট্রাইকোসিস নামের একটি বিরল শারীরিক অবস্থার কথা জানান। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থায় শরীরের এমন সব অংশে অতিরিক্ত লোম গজাতে পারে, যেখানে সাধারণত এত ঘন লোম থাকে না। এটি জন্মগত হতে পারে, আবার জীবনের পরবর্তী সময়েও দেখা দিতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দেয়, তা নির্ভর করে এর ধরন ও সংশ্লিষ্ট কারণের ওপর। জারেনের ক্ষেত্রে রোগটির নির্দিষ্ট ধরন বা জিনগত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে রোগটি অত্যন্ত বিরল বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ‘প্রতি এক শ কোটি মানুষের মধ্যে একজন’ আক্রান্ত হওয়ার হিসাবটির নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক পরিসংখ্যানগত ভিত্তি স্পষ্ট নয়। জারেন তিন ভাইবোনের মধ্যে মাঝের সন্তান। তার মা জানিয়েছেন, ছেলেটি হাসিখুশি ও খেলাধুলাপ্রিয়। তবে ভবিষ্যতে স্কুলে ভর্তি হলে অন্য শিশুদের আচরণ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। শারীরিক গঠনে পার্থক্যের কারণে জারেনকে যেন কেউ উপহাস বা হয়রানি না করে, সেটিই এখন তার মায়ের বড় চিন্তা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, হাইপারট্রাইকোসিসের চিকিৎসা নির্ভর করে এর ধরন ও কারণের ওপর। কিছু ক্ষেত্রে লোম কমানোর বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়, তবে সব ধরনের ক্ষেত্রে একই চিকিৎসা কার্যকর হয় না। জারেনের চিকিৎসা বা ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। জারেনকে নিয়ে সংবাদটি ২০২৪ সালেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ঘটনাটি আবার সামনে এলেও একে সাম্প্রতিক কোনো জন্ম বা নতুন রোগনির্ণয়ের ঘটনা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় কোনো নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার কারণে হাইপারট্রাইকোসিস হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। শিশুটির অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা এবং তার প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: LADbible, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক
যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেল স্কুলে না পড়েও হাসপাতালভিত্তিক পেশায় বছরে ৩ লাখ ডলারের বেশি আয় করছেন ৩০ বছর বয়সী চাবেলি রদ্রিগেজ। তিনি সনদপ্রাপ্ত অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট সহকারী হিসেবে কাজ করেন। ২০২৪ সালে স্থায়ী বেতনের চাকরি ছেড়ে বিভিন্ন হাসপাতালে নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তিতে কাজ শুরু করার পর তাঁর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সিএনবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি সাধারণত সপ্তাহে প্রায় ৪০ ঘণ্টা কাজ করেই এ আয় করছেন, যদিও অতিরিক্ত পালা নিলে তাঁর বার্ষিক আয় আরও বাড়তে পারে। রদ্রিগেজের পেশা অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট চিকিৎসকের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও দুটি পদ এক নয়। অস্ত্রোপচার বা কিছু চিকিৎসাপদ্ধতির সময় রোগীকে অচেতন রাখা ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণে অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে সনদপ্রাপ্ত অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট সহকারীরা চিকিৎসক অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের তত্ত্বাবধানে অ্যানেস্থেসিয়া-সংক্রান্ত কাজে সহায়তা করেন। এ পেশায় প্রবেশের জন্য তাঁকে মেডিকেল স্কুলে চিকিৎসক হওয়ার প্রচলিত দীর্ঘ পথ অনুসরণ করতে হয়নি; বরং অ্যানেস্থেসিওলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে প্রয়োজনীয় পেশাগত সনদ নিয়েছেন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ফ্লোরিডায় স্থায়ী বেতনের চাকরি করতেন রদ্রিগেজ। তখনও তাঁর বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের বেশি ছিল। তবে সেই আয় ধরে রাখতে তাঁকে নিয়মিত অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হতো, কখনো কখনো টানা ২৪ ঘণ্টার পালাও নিতে হতো। ছোটবেলা থেকেই অর্থ সঞ্চয় নিয়ে তাঁর মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তার ভয় কাজ করত বলে তিনি সিএনবিসিকে জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে আর্থিক সংকটে পড়ার আশঙ্কা থেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কাজ করে বাড়তি অর্থ জমিয়ে রাখার চেষ্টা করতেন তিনি। ২০২৪ সালে তিনি বেতনভিত্তিক চাকরি ছেড়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চুক্তির ভিত্তিতে কাজ শুরু করেন। প্রথমে জর্জিয়ায় ছয় মাসের একটি চুক্তিতে কাজ করেন। পরে বুঝতে পারেন, এভাবে কাজ করলে একদিকে আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে, অন্যদিকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী ভ্রমণ ও জীবনযাপনের সময়ও বের করা সম্ভব। জর্জিয়ার চুক্তি শেষ হওয়ার পর তিনি নিউ মেক্সিকোতে চলে যান। বর্তমানে সেখানেই থাকছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করছেন। চুক্তিভিত্তিক কাজে যাওয়ার পর তাঁর আয় বছরে ৩ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে। তবে অতীতের মতো দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত কাজ করলে আয় প্রায় ৫ লাখ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে তাঁর ধারণা। তা সত্ত্বেও তিনি এখন প্রতিটি অতিরিক্ত পালা নেওয়ার জন্য চাপ অনুভব করেন না। তাঁর ভাষ্য, আরও বেশি আয় করার ইচ্ছা থাকলেও কাজের চাপে নিজেকে ক্লান্ত করে ফেলতে চান না। বর্তমান আয়েই তিনি সন্তুষ্ট এবং কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে চান। রদ্রিগেজের আর্থিক পরিকল্পনায় ঋণ পরিশোধও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০২৩ সালে তিনি শিক্ষাজীবনের প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ডলারের ঋণ পরিশোধ করেন। ঋণ শোধের পর বিনিয়োগে বেশি অর্থ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তাঁর লক্ষ্য হলো কর কাটার আগের আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ বিনিয়োগ ও অবসরকালীন সঞ্চয় হিসাবে রাখা। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁর মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ লাখ ডলারে পৌঁছায় বলে সিএনবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগে রদ্রিগেজের লক্ষ্য ছিল ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে আগেভাগে অবসর নেওয়া। এখন তিনি নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক অর্জনের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক নিরাপত্তা বজায় রাখাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর পরিকল্পনা, চাইলে যেন ৫০ বছর বয়সের দিকে কাজের চাপ কমিয়ে দিতে পারেন। সে জন্য শুধু আয় বাড়ানো নয়, নিয়মিত বিনিয়োগ এবং নিজের সামর্থ্যের মধ্যে জীবনযাপনকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। আয়ের পরিমাণ বাড়লেও রদ্রিগেজ জীবনযাপনে অতিরিক্ত ব্যয় করার পথে হাঁটেননি। সঙ্গীর সঙ্গে বাসাভাড়া ভাগ করে নেন এবং সাধারণ টয়োটা করোলা গাড়ি ব্যবহার করেন। তবে ভ্রমণের জন্য অর্থ ব্যয় করতে তিনি আগ্রহী। কখনো বিদেশ ভ্রমণ করেন, আবার কখনো ব্যাকপ্যাক নিয়ে ঘোরেন বা ক্যাম্পিংয়ে যান। তাঁর কাছে আর্থিক নিরাপত্তার অর্থ এখন শুধু সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ানো নয়, বরং প্রয়োজনের সময় নিজের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতাও। রদ্রিগেজ বলেছেন, আগে তিনি প্রতিটি বাড়তি পালা নেওয়ার জন্য নিজেকে চাপ দিতেন। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তিনি নিজের আয় ও অর্জনকে স্বীকার করতে শিখেছেন এবং প্রয়োজনের বাইরে কাজ না করেও জীবন উপভোগ করার সুযোগ দেখছেন। তাঁর মতে, আর্থিকভাবে আরও নিরাপদ বোধ করার কারণে এখন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে সরে আসা, সঙ্গীকে উপহার দেওয়া কিংবা নিজের জন্য কিছু কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি সুস্থ থাকা এবং কাজের চাপে ক্লান্ত হয়ে না পড়াও এখন তাঁর কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। রদ্রিগেজের অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতে চিকিৎসক হওয়ার বিকল্প পেশাপথের একটি উদাহরণ। তবে তাঁর আয়কে এ পেশার সবার সাধারণ আয় হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। তাঁর ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক কাজ, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, পেশাগত সনদ এবং বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেই তিনি এ পর্যায়ে পৌঁছেছেন। অর্থাৎ মেডিকেল স্কুলে না পড়লেও এ পেশায় প্রবেশের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষা ও যোগ্যতা অর্জন প্রয়োজন। সূত্র: সিএনবিসি মেক ইট।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে পণ্য কেনাবেচার জন্য সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। শিকাগো শহরের গ্র্যান্ড ক্রসিং এলাকায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত তিনটি সশস্ত্র ছিনতাইয়ের খবর পাওয়ার পর বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ভাষ্য, অপরাধীরা ফেসবুক মার্কেটপ্লেসসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পরিচিত হওয়ার অ্যাপের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। পরে নির্দিষ্ট স্থানে দেখা করার ব্যবস্থা করে সেখানে পৌঁছানোর পর অস্ত্রের মুখে তাঁদের জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। শিকাগো পুলিশের ষষ্ঠ ডিস্ট্রিক্টের জারি করা সতর্কবার্তায় গ্র্যান্ড ক্রসিং এলাকার তিনটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা ৫০ মিনিটে, ওয়েস্ট ৭৬তম স্ট্রিটের ৪০০ ব্লকের কাছে। একই সড়কের ওই অংশে ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে। এরপর ৭ অক্টোবর রাত ১২টার দিকে সাউথ এগলস্টন অ্যাভিনিউয়ের ৭৫০০ ব্লকের কাছে আরেকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁদের সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশের সতর্কবার্তায় সন্দেহভাজন হিসেবে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষ ও এক নারীর কথা বলা হয়েছে। তবে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। তদন্তকারীরা ঘটনাগুলো সম্পর্কে তথ্য জানা আছে, এমন ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। কেউ কোনো ঘটনা দেখে থাকলে বা প্রাসঙ্গিক তথ্য কিংবা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ থাকলে তা পুলিশের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার জন্য অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি দেখা করা অনেকের কাছে সহজ ও প্রচলিত পদ্ধতি। ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে ব্যবহৃত আসবাব, মোবাইল ফোন, পোশাক, সাইকেলসহ নানা ধরনের পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়। কিন্তু বিক্রেতা বা ক্রেতার পরিচয় অনলাইনে যাচাই করা সব সময় সহজ নয়। অপরাধীরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রকৃত ক্রেতা বা বিক্রেতা সেজে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে পারে। শিকাগোর ঘটনাগুলোতে অনলাইনে যোগাযোগের পর নির্ধারিত স্থানে ডেকে নিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের অপরাধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহরেও উদ্বেগ রয়েছে। ওরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ড পুলিশ ২০২৬ সালের জুনে ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে বৈদ্যুতিক সাইকেল বিক্রির একটি লেনদেনের সময় সশস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রকাশ করে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৯ জুন সাইকেলটি বিক্রির জন্য ঠিক করা সাক্ষাতে দুই কিশোর সেটি অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তদন্তের মাধ্যমে দুজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। পোর্টল্যান্ড পুলিশের গুরুতর অপরাধ তদন্ত ইউনিট জানায়, ২০২৬ সালের শুরু থেকে অনলাইন বাজারে লেনদেনের সূত্রে ছিনতাই বা অন্য অপরাধে গড়ানো অন্তত ১০টি ঘটনা তারা তদন্ত করেছে। কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের অরোরায় অনলাইনে গয়না বিক্রির একটি ঘটনাও ছিনতাইয়ের মামলায় গড়ায়। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুনে ক্রেতা সেজে আসা দুই ব্যক্তি এক নারীর অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে প্রায় ২০ হাজার ডলার মূল্যের গয়না নিয়ে যায়। ওই সময় নারীর সন্তানদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনায় এক আসামি একাধিক গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের পিওরিয়ায় ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে জুতা বিক্রির জন্য ঠিক করা সাক্ষাতের সময় অস্ত্রের মুখে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় টোবিয়াস ডব্লিউ টেলর নামের এক ব্যক্তিকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি গুরুতর ছিনতাইয়ের অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। মিসিসিপির জ্যাকসন পুলিশ বিভাগও অনলাইন বাজারে কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত প্রতারণা ও সশস্ত্র ছিনতাই নিয়ে সতর্ক করেছে। এসব ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার সুবিধার পাশাপাশি সরাসরি সাক্ষাতের সময় নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করা ঠিক নয়। তবে বিভিন্ন শহরের ঘটনাগুলো একই অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত, এমন কোনো তথ্য কর্তৃপক্ষ জানায়নি। পুলিশের পরামর্শ, অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার জন্য দেখা করতে হলে জনসমাগম আছে, এমন আলোকিত ও প্রকাশ্য স্থান বেছে নিতে হবে। সম্ভব হলে পুলিশ স্টেশনের নির্ধারিত নিরাপদ লেনদেন এলাকায় সাক্ষাৎ করার কথা বলা হয়েছে। শিকাগো পুলিশের ডিস্ট্রিক্ট স্টেশনগুলোর লবিতে এ ধরনের লেনদেনের জন্য নিরাপদ স্থান রয়েছে। পাশাপাশি সাক্ষাতের সময় বন্ধু বা পরিবারের কাউকে সঙ্গে নেওয়া এবং কোথায় যাচ্ছেন, তা আগে থেকে অন্য কাউকে জানিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ক্রেতা বা বিক্রেতার অনলাইন পরিচয় যাচাই করা, পণ্যের বিবরণ আগে থেকেই নিশ্চিত হওয়া এবং সম্ভব হলে ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করাও ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। কেউ যদি শেষ মুহূর্তে সাক্ষাতের স্থান বদলাতে বলেন, অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো করেন কিংবা কোনো আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়, তাহলে লেনদেন বাতিল করে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। ছিনতাইয়ের মুখোমুখি হলে অপরাধীকে ধাওয়া করা বা নিজে আটকানোর চেষ্টা না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া উচিত। শিকাগো পুলিশের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, গ্র্যান্ড ক্রসিং এলাকার ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে তথ্য থাকলে ক্যালুমেট এলাকার গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে ৩১২-৭৪৭-৮২৭৩ নম্বরে যোগাযোগ অথবা সিপিডিটিপি ডটকমে পরিচয় গোপন রেখে তথ্য দেওয়া যাবে। অনলাইন বাজারে লেনদেন বন্ধ করার বদলে নিরাপদ স্থানে সাক্ষাৎ, পরিচয় যাচাই এবং সতর্কতার সঙ্গে কেনাবেচা করার ওপর জোর দিচ্ছে পুলিশ। সূত্র: শিকাগো পুলিশ বিভাগ, নিউজউইক ও পোর্টল্যান্ড পুলিশ ব্যুরো।
সাশ্রয়ী খরচে মুখের গড়নে নারীত্বের ছাপ আনতে চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সজেন্ডার নারী রাজি নারিনসিংহ। কিন্তু লাইসেন্সধারী চিকিৎসকের পরিবর্তে কম খরচে সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া এক ব্যক্তির কাছে যাওয়ার পর তাঁর মুখে দেখা দেয় গুরুতর বিকৃতি। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ইনজেকশনে ব্যবহার করা হয়েছিল সিমেন্ট, খনিজ তেল এবং গাড়ির চাকার ছিদ্র মেরামতে ব্যবহৃত এক ধরনের পদার্থ। পরে ক্ষতস্থান বন্ধ করতে ব্যবহার করা হয় সুপার গ্লু। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার। ২০০৫ সালের দিকে মুখের গড়ন পরিবর্তনের আশায় নারিনসিংহ ওনিল রন মরিসের কাছে যান। পরিচিতজনদের মাধ্যমে মরিসের কথা জানতে পেরেছিলেন তিনি। পেশাদার প্লাস্টিক সার্জনের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার মতো অর্থ তাঁর হাতে ছিল না। কম খরচে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার আশায় তিনি মরিসের কাছে ইনজেকশন নেন। তবে পরে জানা যায়, যে পদার্থকে তিনি নিরাপদ সৌন্দর্যবর্ধক উপাদান বলে মনে করেছিলেন, তা আসলে চিকিৎসায় ব্যবহারের উপযোগী ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও সিবিএস মায়ামির পুরোনো প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরিস দক্ষিণ ফ্লোরিডার বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যক্তিগত স্থানে লাইসেন্স ছাড়াই সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশন দিতেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর কাছে যাওয়া কয়েকজনের ধারণা ছিল, তাঁদের শরীরে সিলিকনজাতীয় উপাদান প্রবেশ করানো হচ্ছে। কিন্তু তদন্তকারীরা জানান, কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মিশ্রণে সিমেন্ট, খনিজ তেল, গাড়ির চাকার ছিদ্র মেরামতের পদার্থ এবং আঠার মতো উপাদান ছিল। ইনজেকশনের পর নারিনসিংহের মুখে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দেয়। গালের বিভিন্ন অংশ ফুলে ওঠে, ত্বকের নিচে শক্ত পিণ্ড তৈরি হয় এবং থুতনি ও ঠোঁটের স্বাভাবিক গড়নও বদলে যায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মুখের ভেতরে শক্ত হয়ে যাওয়া উপাদান সরানো ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশের চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে তিনি লাইসেন্সধারী প্লাস্টিক সার্জনের সাহায্য নেন। নারিনসিংহের মুখের ক্ষতি সংশোধনে একাধিক ধাপে চিকিৎসা করতে হয়। তাঁর মুখে জমাট বেঁধে যাওয়া পদার্থের কিছু অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করা হয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, একটি অস্ত্রোপচারে গলফ বলের কাছাকাছি আকারের সিমেন্টের মতো শক্ত পিণ্ড সরানো সম্ভব হয়েছিল। তবে এ ধরনের পদার্থ শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানোর পর তা সম্পূর্ণভাবে সরানো বা আগের গড়ন ফিরিয়ে আনা সহজ নয়। পরবর্তী সময়ে নারিনসিংহের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘বটচড’-এও তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানটিতে জটিলতা তৈরি হওয়া সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার পর রোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা দেখানো হয়। নারিনসিংহের ঘটনা আলোচনায় আসে মূলত মুখে জমে থাকা শক্ত পদার্থ অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত গড়ন সংশোধনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে। তাঁর অভিজ্ঞতা দেখায়, সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার প্রাথমিক খরচ কম হলেও অনিরাপদ পদ্ধতির পরিণতি সামলাতে অনেক বেশি অর্থ, সময় ও চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। যে ইনজেকশনের জন্য কয়েকশ ডলার খরচ হয়েছিল, তার পরবর্তী জটিলতা সংশোধনের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে শুধু বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, শরীরের টিস্যুতে অপরিচিত পদার্থের প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ঝুঁকিও গুরুত্বপূর্ণ। মরিসের বিরুদ্ধে লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছিল। সিবিএস নিউজের ২০১১ ও ২০১২ সালের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, তাঁর কাছ থেকে ইনজেকশন নেওয়া একাধিক ব্যক্তি শারীরিক জটিলতার কথা সামনে আনেন। তাঁদের কয়েকজনের চিকিৎসার প্রয়োজন হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর সংক্রমণ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কথাও উঠে আসে। তবে প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পদার্থ ও ক্ষতির ধরন একই ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এ ধরনের ঘটনা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশনে কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, তা রোগী অনেক সময় নিশ্চিতভাবে জানতে পারেন না। চিকিৎসকের যোগ্যতা ও অনুমোদন যাচাই না করে কেবল পরিচিতজনের সুপারিশ বা কম খরচের প্রলোভনে সিদ্ধান্ত নিলে বিপদের আশঙ্কা থাকে। শরীরে প্রবেশ করানোর জন্য অনুমোদিত নয়, এমন রাসায়নিক বা শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত পদার্থ টিস্যুর ক্ষতি, সংক্রমণ, বিকৃতি এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি করতে পারে। নারিনসিংহের ঘটনাটি তাই শুধু একটি ব্যর্থ সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার কাহিনি নয়; এটি অননুমোদিত চিকিৎসাসেবা ও অজানা উপাদান ব্যবহারের ঝুঁকিও সামনে আনে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, চিকিৎসাসেবাদাতার লাইসেন্স যাচাই করা এবং ইনজেকশনে ব্যবহৃত উপাদান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য জানা জরুরি। কাঙ্ক্ষিত বাহ্যিক পরিবর্তনের চেয়ে রোগীর নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এ ধরনের চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: সিবিএস নিউজ, সিবিএস মায়ামি ও আপসোকল (Upsocl)।
চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সিদ্ধান্তে বৈষম্যের ঝুঁকিও সামনে আসছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে এআইয়ের ভুল পূর্বাভাস বা পক্ষপাতপূর্ণ সুপারিশ ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ ঝুঁকি কমিয়ে চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ করতে গবেষণা করছেন ইরানি-আমেরিকান গবেষক মারজিয়েহ ঘাসেমি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক এবং স্বাস্থ্যসেবায় যন্ত্রশিক্ষার ব্যবহার নিয়ে কাজ করছেন। এমআইটির ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্সের মূল অনুষদ সদস্য এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ঘাসেমি হেলদি এমএল ল্যাবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো, চিকিৎসায় ব্যবহৃত এআই মডেলগুলো কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কোন তথ্যের ওপর নির্ভর করছে এবং সেসব সিদ্ধান্তে রোগীভেদে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে কি না, তা শনাক্ত করার পদ্ধতি তৈরি করা। এমআইটির ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ঘাসেমির গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে। সেখানে বলা হয়েছে, চিকিৎসায় এআইয়ের কার্যকারিতা শুধু গড় নির্ভুলতার ওপর নির্ভর করে না। বিভিন্ন হাসপাতাল ও জনগোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে মডেলটি সমানভাবে নির্ভরযোগ্য কি না, ভুল তথ্য থেকে ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত শিখছে কি না এবং বাস্তবে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করছে কি না, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। ঘাসেমির গবেষণাগারে এআই মডেলের ব্যর্থতা শনাক্ত করা, পূর্বাভাসের অনিশ্চয়তা পরিমাপ করা, পক্ষপাত কমানো এবং চিকিৎসক ও রোগীদের জন্য প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার পদ্ধতি তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চিকিৎসায় এআইয়ের সম্ভাব্য সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিটির সীমাবদ্ধতাও বোঝার চেষ্টা করছেন গবেষকেরা। চিকিৎসার তথ্য বিশ্লেষণে নতুন চ্যালেঞ্জ: ঘাসেমির গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা-তথ্য একত্র করে রোগীর কখন গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা বা জরুরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে, তা আগেভাগে অনুমান করা। এ কাজে রোগীর শারীরিক অবস্থার ধারাবাহিক পরিমাপ, পরীক্ষাগারের ফলাফল, চিকিৎসকদের লিখিত নোট এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জিনগত ও পরিবেশগত তথ্য ব্যবহার করা হয়। তবে এসব তথ্য এক ধরনের নয়। কোনো তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা হয়, আবার কোনো পরীক্ষা করা হয় নির্দিষ্ট প্রয়োজন দেখা দিলে। চিকিৎসকদের নোটও বিভিন্ন সময়ে তৈরি হয়। পাশাপাশি সব রোগীর ক্ষেত্রে সমান পরিমাণ বা একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায় না। এসব সীমাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন উৎসের তথ্য একত্র করে নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া একটি জটিল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যা মোকাবিলায় গবেষকেরা পুনরাবৃত্ত নিউরাল নেটওয়ার্ক এবং কনভল্যুশনাল নিউরাল নেটওয়ার্কের মতো যন্ত্রশিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এসব পদ্ধতির সাহায্যে রোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে কখন চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, তা অনুমান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে মডেল কোনো পূর্বাভাস দিতে পারলেই সেটিকে সরাসরি চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা নিরাপদ হয়ে যায় না। ঘাসেমির মতে, বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা-তথ্য একত্র করে তৈরি মডেল পূর্বাভাসের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে। কিন্তু চিকিৎসার বাস্তব পরিবেশে ব্যবহারের আগে মডেলটি কী শিখেছে এবং কোন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা পরীক্ষা করা জরুরি। চিকিৎসায় এআইয়ের একটি বড় উদ্বেগ হলো, প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত তথ্যের মধ্যেই যদি বৈষম্য থাকে, তাহলে মডেলও সেই বৈষম্য শিখে নিতে পারে। কোনো রোগী গোষ্ঠীর তথ্য পর্যাপ্ত না থাকলে অথবা তথ্যের মধ্যে বিদ্যমান অসমতা যথাযথভাবে বিবেচনা না করা হলে, মডেলটি এক গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ভালো ফল দিলেও অন্য গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কম নির্ভুল হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা রোগ শনাক্তকরণ, রোগের ঝুঁকি নির্ধারণ কিংবা চিকিৎসার সুপারিশে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে শুধু সামগ্রিকভাবে একটি মডেল কতটা নির্ভুল, তা যাচাই করাই যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা এবং ভুলের ধরনও আলাদাভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ঘাসেমির গবেষণা এই ঝুঁকিগুলো শনাক্ত ও কমানোর উপায় খুঁজছে। তাঁর নেতৃত্বাধীন গবেষক দল এমন পদ্ধতি তৈরি করছে, যার মাধ্যমে এআইয়ের সিদ্ধান্তের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা এবং সম্ভাব্য ক্ষতিকর পক্ষপাত সম্পর্কে আগেই ধারণা পাওয়া সম্ভব হতে পারে। চিকিৎসায় এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়বে, প্রযুক্তির নির্ভুলতার পাশাপাশি এর নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ঘাসেমির গবেষণা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। তবে গবেষণার উদ্দেশ্য সব ধরনের বৈষম্য ইতিমধ্যে দূর করা নয়; বরং চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে এআই মডেলের সীমাবদ্ধতা শনাক্ত করা এবং রোগীদের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানোর কার্যকর পদ্ধতি তৈরি করা।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, বৃত্তি ও শিক্ষার্থী ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাকিস্তানের এক মেধাবী শিক্ষার্থী ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ৯৩ লাখ রুপি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর ২৪ বছর বয়সী পদার্থবিজ্ঞানের স্বর্ণপদকজয়ী লাইবা এজাজের মৃত্যু ঘিরে দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। দেশটির পুলিশ ও ফেডারেল তদন্ত সংস্থা (এফআইএ) প্রতারণার অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সারগোধার বাসিন্দা লাইবা এজাজের মরদেহ গত ৯ অক্টোবর রাজধানী ইসলামাবাদের জি-১০ এলাকার একটি সাপ্তাহিক বাজারসংলগ্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে তদন্ত করছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার জন্য দেওয়া কাগজপত্রের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও এর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগের সম্পর্ক নির্ধারণে তদন্ত চলছে। দ্য মিডিয়া লাইনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাইবা ও তাঁর পরিবারকে হার্ভার্ডে ভর্তি, বৃত্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুহাম্মদ নওমান নামের এক ব্যক্তি। পরিবারের অভিযোগ, নওমান ও তাঁর এক সহযোগী ফাতিমা সরওয়ার মিলে ভুয়া ভর্তি-সংক্রান্ত চিঠি, বৃত্তির কাগজপত্র এবং অর্থ পরিশোধের রসিদ সরবরাহ করেন। এসব নথির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর পরিবারটি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের চেষ্টা করে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নথিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া ৯৩ লাখ পাকিস্তানি রুপির মধ্যে ২৯ লাখ রুপি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়েছিল। বাকি অর্থ নগদে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য বিনিময় হার অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য অঙ্কের। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, লাইবার যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে তাঁদের সঞ্চয় ও সম্পদ ব্যয় করতে হয়েছিল। জাল কাগজপত্রের বিষয়টি সামনে আসার পর তিনি গভীর মানসিক চাপে পড়েছিলেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। লাইবা ইসলামাবাদের আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং স্বর্ণপদক পান। ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে চেয়েছিলেন। তাঁর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ খুঁজতে গিয়ে তিনি শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শদাতা নওমানের সঙ্গে পরিচিত হন। নওমান দাবি করেছিলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, বৃত্তি ও ভিসার ব্যবস্থা করতে পারবেন। কিন্তু পরে তাঁর দেওয়া নথি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে পুরো পরিকল্পনাটি ভেঙে পড়ে। লাইবার পরিবারের আর্থিক ত্যাগের বিষয়টিও ঘটনাটিকে আরও আলোচনায় এনেছে। তাঁর বাবা ১৯৯৪ সাল থেকে ইসলামাবাদের রাস্তায় দুধ ও দই বিক্রি করে সংসার চালান। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করতে না পারলেও চার মেয়ের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। লাইবা ছিলেন সাত সন্তানের মধ্যে সবার ছোট। তাঁর বড় বোন চীনে বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে লাহোরে একটি বড় চীনা প্রতিষ্ঠানে অনুবাদক হিসেবে কাজ করছেন। পরিবারের ভাষ্য, বোনের পথ অনুসরণ করে লাইবাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পড়াশোনা করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে চেয়েছিলেন। মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে তাঁর বাবা পরিবারের জন্য কেনা একটি জমি বিক্রি করেন। লাইবার মা-ও অর্থের ব্যবস্থা করতে নিজের গয়না বন্ধক রাখেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সৌদি আরবে বৃত্তি নিয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও লাইবা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার আকাঙ্ক্ষা থেকে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য পরিবারটি বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করলেও শেষ পর্যন্ত দেওয়া কাগজপত্রের সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ইসলামাবাদ পুলিশের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলা হয় এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার কথা জানানো হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পুলিশ ও এফআইএ আলাদাভাবে মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং কথিত প্রতারণার আর্থিক লেনদেন তদন্ত করছে। এফআইএ ১০ অক্টোবর নওমান ও ফাতিমা সরওয়ারের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করে। লাইবার মামা আমজাদ উর রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে করা মামলায় বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে অর্থ নিয়েছেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ ও বিজনেস রেকর্ডার জানিয়েছে, প্রধান সন্দেহভাজন নওমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতেও পাঠিয়েছেন বলে জিও নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে, তাই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্তদের দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। এফআইএ মহাপরিচালক উসমান আনোয়ার ঘটনাটিকে প্রচলিত শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার চেয়ে পরিচয় জালিয়াতির ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে দ্য মিডিয়া লাইন জানিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক নারী নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত নওমানের পরিচিত হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। লাইবার মামা আমজাদ উর রহমানের ভাষ্য, ওই নারীর মাধ্যমে বৃত্তি ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার নথি পাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। পরিবারটি পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে নথি যাচাইয়ের চেষ্টা করে। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নওমানের মোবাইল ফোনে অন্য প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড এবং নারীদের ব্ল্যাকমেইল করার সম্ভাব্য তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, এর আগে কোয়েটায় দুর্নীতিবিরোধী বিভাগে কাজ করার সময়ও নওমানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ঘটনাটি পাকিস্তানে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার নামে প্রতারণার ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির এফআইএ এর আগেও ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি চিঠি, বৃত্তির নথি, ভিসা এবং অন্যান্য কাগজপত্র ব্যবহার করে শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারকে প্রতারণার অভিযোগ তদন্ত করেছে। লাহোরভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শক বিলাল রাঞ্জার মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য দ্রুত বা সহজ পথ খুঁজতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী অনির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারীদের ফাঁদে পড়েন। তবে তিনি তরুণদের মধ্যে জাল নথি ব্যবহারের যে উচ্চ হার উল্লেখ করেছেন, তার পক্ষে কোনো যাচাইযোগ্য পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেননি। ইসলামাবাদভিত্তিক তরুণ অধিকারকর্মী নাহিদ খান এ ঘটনাকে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব এবং দেশে সীমিত সুযোগের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, উন্নত ভবিষ্যতের আশায় বিদেশে পড়াশোনা ও কাজের সুযোগ খুঁজছেন অনেক তরুণ। এ পরিস্থিতিতে অনিয়ন্ত্রিত পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি। লাইবার মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ কারণ এবং এর সঙ্গে কথিত প্রতারণার সম্পর্ক নির্ধারণে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়াও চলমান। এ ঘটনা বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদনকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট, সরকারি ভিসা নির্দেশনা এবং প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার গুরুত্ব সামনে এনেছে। সূত্র: দ্য মিডিয়া লাইন, ডন, জিও নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল পর্যায়ে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ৭ ডলার ২৫ সেন্ট থেকে বাড়িয়ে ২৫ ডলার করার একটি প্রস্তাব কংগ্রেসে আটকে আছে। ‘লিভিং ওয়েজ ফর অল অ্যাক্ট’ নামে এ বিলটি পাস হলে কয়েক বছরের মধ্যে দেশটির কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তবে প্রস্তাবটি এখনো প্রতিনিধি পরিষদের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে শুনানির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। চলতি কংগ্রেসের অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে বিলটি নিয়ে অগ্রগতি না হলে এর ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ গত ২৮ এপ্রিল প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি উত্থাপন করেন। এর নম্বর এইচআর ৮৫৫৫। প্রস্তাব অনুযায়ী, বড় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ২০৩১ সালের মধ্যে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ২৫ ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, তুলনামূলক ছোট নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য ২০৩৮ সাল পর্যন্ত সময় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সব প্রতিষ্ঠানের ওপর একসঙ্গে বাড়তি মজুরির চাপ না দিয়ে ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টাপ্রতি ৭ ডলার ২৫ সেন্ট। ২০০৯ সালের পর থেকে এ হার বাড়ানো হয়নি। যদিও দেশটির বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকার ফেডারেল হারের চেয়ে বেশি ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করেছে, তবু জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের। বিলটির সমর্থকদের বক্তব্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে অনেক কর্মীর পক্ষে বাসাভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও যাতায়াতের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। রামিরেজ বিলটি উত্থাপনের সময় বলেন, একদিকে বড় কোম্পানিগুলো রেকর্ড পরিমাণ মুনাফার কথা জানাচ্ছে, অন্যদিকে অনেক কর্মজীবী মানুষ দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাঁর মতে, শুধু চাকরি থাকলেই চলবে না, সেই চাকরি থেকে পাওয়া আয় দিয়ে মৌলিক চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হতে হবে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও মজুরির মধ্যে ব্যবধান কমানোই এ প্রস্তাবের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিলে বড় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান বলতে বছরে অন্তত ১০০ কোটি ডলার আয় করে এমন প্রতিষ্ঠান অথবা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অন্তত ৫০০ কর্মী রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য মজুরি বাড়ানোর পৃথক বার্ষিক লক্ষ্য থাকবে। অন্য নিয়োগদাতাদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক দীর্ঘ সময় ধরে ধাপে ধাপে মজুরি বাড়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রস্তাবটির লক্ষ্য হলো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগে নির্ধারিত মজুরির পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং ছোট ব্যবসাগুলোকে পরিবর্তনের জন্য বাড়তি সময় দেওয়া। বিলটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভবিষ্যতে ন্যূনতম মজুরিকে দেশের মধ্যম ঘণ্টাপ্রতি মজুরির দুই-তৃতীয়াংশের সঙ্গে যুক্ত করা। মধ্যম মজুরি বলতে এমন একটি আয়কে বোঝায়, যার নিচে দেশের অর্ধেক কর্মীর মজুরি এবং ওপরে বাকি অর্ধেক কর্মীর মজুরি থাকে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত অনুপাতে পৌঁছানোর পর দেশের মধ্যম মজুরি পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি বছর তা সমন্বয় করা হবে। এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদে মজুরি ও কর্মীদের আয়ের পরিবর্তনের মধ্যে একটি সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কিছু কর্মীর জন্য সাধারণ ন্যূনতম মজুরির চেয়ে কম হারে মজুরি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বকশিশনির্ভর রেস্তোরাঁকর্মী, তরুণ কর্মী এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রতিবন্ধী কর্মী রয়েছেন। প্রস্তাবিত আইনটি এসব পৃথক কম মজুরির ব্যবস্থা ধাপে ধাপে তুলে দেওয়ার কথা বলেছে। বিশেষ করে বকশিশনির্ভর কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাকে সরাসরি যে ন্যূনতম অর্থ দিতে হয়, তা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। শেষ পর্যন্ত কর্মীর বকশিশকে নিয়োগদাতার ন্যূনতম মজুরি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা পূরণের বিকল্প হিসেবে গণনা করার ব্যবস্থাও বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিলটির পক্ষে শ্রমিক সংগঠন ও অধিকারকর্মীরা সমর্থন জানিয়েছেন। সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়নের সভাপতি এপ্রিল ভেরেটের মতে, কর্মীদের নেতৃত্বে চলা আন্দোলন ন্যায্য ও জীবনধারণের উপযোগী মজুরির দাবিকে সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, প্রস্তাবটি কর্মীদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য পাওনা ও সম্মানের দাবির প্রতিফলন। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটির ৩২ জন সহ-উদ্যোক্তা রয়েছেন, যাঁরা সবাই ডেমোক্র্যাট দলের সদস্য। তাঁদের মধ্যে মিশিগানের রাশিদা তালিব, ক্যালিফোর্নিয়ার রো খান্না এবং ওয়াশিংটনের প্রমিলা জয়পাল রয়েছেন। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে অর্থনৈতিক উদ্বেগও রয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠন ও কিছু অর্থনীতিবিদের আশঙ্কা, ন্যূনতম মজুরি দ্রুত বাড়লে বিশেষ করে ছোট ব্যবসা ও কম মুনাফার প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমব্যয় বেড়ে যাবে। এর ফলে কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগ কমাতে পারে, কর্মঘণ্টা কমাতে পারে অথবা পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। রক্ষণশীল অবস্থানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমপ্লয়মেন্ট পলিসিজ ইনস্টিটিউটের একটি গবেষণার বরাত দিয়ে ডেইলি সিগন্যাল জানিয়েছে, ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ২৫ ডলারে উন্নীত হলে প্রায় ৫০ লাখ কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এটি গবেষণাভিত্তিক পূর্বাভাস, নিশ্চিত ফল নয়। গবেষণাটি বিশেষ করে আতিথেয়তা খাত এবং ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী কর্মীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা বলেছে। আইনটি এখনো প্রতিনিধি পরিষদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কোনো শুনানি হয়নি এবং প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের তারিখও নির্ধারিত হয়নি। কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি জুনে একই ধরনের একটি বিল সিনেটে উত্থাপনের কথা জানিয়েছিলেন। তবে সিনেটের প্রস্তাবের সময়সূচি ও ধাপগুলো প্রতিনিধি পরিষদের বিলের সঙ্গে পুরোপুরি এক নয়। ফলে দুই কক্ষের অগ্রগতি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। বর্তমান ১১৯তম কংগ্রেসের মেয়াদ ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শেষ হবে। তার আগে বিলটি পাস না হলে পরবর্তী কংগ্রেসে নতুন করে উত্থাপন করতে হবে। রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেসে প্রস্তাবটি কতটা সমর্থন পাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ২৫ ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাবটি আপাতত আইন হওয়ার চেয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্কের বিষয় হিসেবেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রকাশনা দপ্তর, ওয়াশিংটন পোস্ট
বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। বিমানবন্দরের লবি দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েকজন উচ্চস্বরে নানা অভিযোগ তুলে তাঁকে প্রশ্ন করতে থাকেন। ঘটনার একটি ভয়েস রেকর্ডিংয়ে এক ব্যক্তিকে বারবার ড. ইউনূসের যুক্তরাষ্ট্রে আসার কারণ জানতে চাইতে শোনা যায়। তাঁকে উদ্দেশ করে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘তুমি সন্ত্রাসী। তুমি বাংলাদেশে মানুষ হত্যা করেছ। তুমি কেন এখানে এসেছ? কেন এই দেশে এসেছ? আমাদের বলো, কেন এসেছ?’ একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি বাংলাদেশে দুই লাখ মানুষকে গ্রেপ্তার এবং হাজার হাজার পুলিশ সদস্যকে হত্যার অভিযোগ তোলেন। তিনি উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, ‘তুমি আমার দেশে হাজার হাজার পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছ। কেন এখানে এসেছ? কেন এখানে এসেছ?’ বিক্ষোভের সময় ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিযোগও তোলা হয়। রেকর্ডিংয়ে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘সে আমার দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। সে আমার দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। সে কেন এখানে এসেছে?’ এ সময় বিক্ষোভকারীদের বক্তব্যে ড. ইউনূসের যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ পায়। বিশেষ করে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার, সহিংসতা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁকে উদ্দেশ করে একের পর এক প্রশ্ন করা হয়। বিমানবন্দরে বিক্ষোভের এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডিংয়ে শোনা বক্তব্যের সময় ও স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কোনো শারীরিক হামলা হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের সময় ড. ইউনূসের আগমনকে কেন্দ্র করে জেএফকে বিমানবন্দরে বিক্ষোভ হয়েছিল। সে সময় তাঁর সফরসঙ্গী কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা হেনস্তার শিকার হন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান রেকর্ডিংয়ের সম্পর্ক নিশ্চিত করা যায়নি। ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আজারবাইজানে সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হিজাব পরা নিয়ে নতুন পোশাকবিধি ঘিরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির সরকার স্কুলের পোশাকবিধিতে এমন পরিবর্তন এনেছে, যেখানে সরাসরি হিজাব নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়নি। তবে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পোশাক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর প্রয়োগের ফলে হিজাব পরা ছাত্রী ও শিক্ষকদের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। গত ২১ সেপ্টেম্বর আজারবাইজানের মন্ত্রিসভা সরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পোশাকের বিবরণসংক্রান্ত বিধিতে সংশোধনী অনুমোদন করে। সরকারের ভাষ্য, এর উদ্দেশ্য হলো স্কুলে একটি অভিন্ন পোশাকবিধি নিশ্চিত করা এবং দেশের ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার নীতি বজায় রাখা। নতুন নিয়মে নির্ধারিত স্কুল পোশাকের অভিন্নতা নষ্ট করে কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, এমন পোশাক বা অতিরিক্ত পোশাকের উপকরণ ব্যবহারের অনুমতি নেই। তবে নিয়মে হিজাবের নাম উল্লেখ করে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। কিন্তু বাস্তবে বিধিটির প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন স্কুলে হিজাব পরা ছাত্রী ও শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষকদের জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও হিজাব পরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশ করতে না দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, অন্তত দুটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা নতুন বিধির প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করেছে। জাহরা হাসানোভা নামের এক শিক্ষিকা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, তাঁকে স্কুলে হিজাব পরে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কষ্ট পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, হিজাব পরা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। ভবিষ্যতে কেউ হিজাব খুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও সেটি তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্যে পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অনুশীলনের অধিকার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। আজারবাইজানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছে, নতুন পোশাকবিধিতে জাতীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মানুষের জাতীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত পোশাক বিশেষ অনুষ্ঠানে পরার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত পেডাগজিক্যাল কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত পোশাকবিধি মেনে চলছে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বও স্কুল কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট পরিষদের ওপর দেওয়া হয়েছে। ফলে বিধিটির ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। আজারবাইজানের জনসংখ্যার প্রায় ৯৬ শতাংশ নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেন। দেশটির সংবিধানে রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও রয়েছে। এ কারণে নতুন পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্কটি কেবল স্কুলের পোশাকের নিয়মে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং শিক্ষার অধিকারও জড়িয়ে পড়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, নিয়মটির প্রয়োগের ফলে হিজাব পরা ছাত্রীদের শিক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা তৈরি হতে পারে। নতুন বিধির প্রতিবাদ শুধু স্কুলের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদী প্রচারণা শুরু হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনের ঘটনাও সামনে এসেছে। কারাবন্দি সাংবাদিক পোলাদ আসলানভও নতুন নিয়মের প্রতিবাদে অনশন শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। ২০২০ সালে রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে দণ্ডিত এই সাংবাদিক দীর্ঘ কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তাঁর স্ত্রীগুলমিরা আসলানভা ফেসবুকে প্রকাশিত একটি বার্তায় জানান, কারাগারে থেকেও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রতিবাদে অনশন করছেন তাঁর স্বামী। আজারবাইজানে ইন্টারনেট সংযোগে বিঘ্ন ঘটার খবরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। তবে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ওপেন অবজারভেটরি অব নেটওয়ার্ক ইন্টারফেরেন্স এবং নেটব্লকসের তথ্য দিয়ে দেশটিতে ব্যাপক ইন্টারনেট বন্ধের খবর নিশ্চিত করা যায়নি বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। ফলে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত স্বাধীন তথ্য এখনো নেই। এই বিতর্কের প্রভাব প্রতিবেশী দেশ তুরস্কেও পড়েছে। সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার পাশাপাশি বিক্ষোভ হয়েছে। গত সপ্তাহে ইস্তাম্বুলে আজারবাইজানের কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে হিজাবসংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তুরস্কের ১৯৯৭ সালের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গেও কেউ কেউ বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করছেন। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব পরা নারীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং সরকারি চাকরিতে কর্মরত কিছু নারীকে চাকরি ছাড়তে হয়েছিল বা পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ তুরস্কের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও প্রতিবাদ নিয়ে পরোক্ষ সমালোচনা করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক দল নিউ আজারবাইজান পার্টির এক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অন্যদের দেশের জীবনযাত্রায় হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, তুরস্কের কর্তৃপক্ষ এ মন্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। আজারবাইজানে নতুন পোশাকবিধি কতটা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং এর ফলে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্কুলে প্রবেশের সুযোগ ফিরবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য অভিন্ন পোশাকবিধি ও ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখা। অন্যদিকে, প্রতিবাদকারীরা বলছেন, পোশাকের নিয়মের কারণে কাউকে শিক্ষা বা কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে রাখা উচিত নয়। এই দুই অবস্থানের টানাপোড়েনে দেশটিতে হিজাব ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক আরও বিস্তৃত হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা, আজারবাইজান প্রেস এজেন্সি (এপিএ)
যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির ওয়েন্সবোরো শহরে ওয়ালমার্টের একটি দোকানে দীর্ঘ ৪৪ বছর কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে গেইল নামের এক কর্মীকে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মান জানানো হয়েছে। কর্মীর দীর্ঘ কর্মজীবন উদ্যাপন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবিও প্রকাশ করেছিল দোকানটি। তবে সেই ছবিই পরে অনলাইনে আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকের মতে, একটি বড় প্রতিষ্ঠানে চার দশকেরও বেশি সময় কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে শুধু ফুলের তোড়া তুলে ধরা যথেষ্ট নয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেইল ওয়ালমার্টের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের ওয়েন্সবোরো শহরের ফ্রেডেরিকা স্ট্রিট শাখায় কর্মরত ছিলেন। দোকানটির ফেসবুক পোস্টে তাঁর ৪৪ বছরের কর্মজীবনকে বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে অভিনন্দন জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের জন্য তাঁর অবদানের প্রশংসা করা হয়। তবে কর্মজীবনের এই মাইলফলক উদ্যাপনের ছবিতে ফুলের তোড়া সামনে আসায় স্বীকৃতির ধরন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে প্রশ্ন তোলেন, এত দীর্ঘ সময় একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর একজন কর্মী আরও উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য কি না। তাঁদের মতে, চার দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করা একজন কর্মীর অবদানকে শুধু আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন ও ফুল দিয়ে মূল্যায়ন করা যথেষ্ট নয়। কেউ কেউ আর্থিক পুরস্কার, অবসরকালীন সহায়তা কিংবা দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আরও অর্থবহ উদ্যোগ নেওয়ার পক্ষে মত দেন। তাঁদের আলোচনায় বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অবদান এবং তাঁদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের বিষয়টিও উঠে আসে। তবে ফুলের তোড়া দেওয়ার ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সমালোচনার মধ্যেও একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। প্রকাশিত ছবিটি বা দোকানের অভিনন্দনবার্তায় গেইলকে দেওয়া ফুলই তাঁর একমাত্র পুরস্কার ছিল, এমন তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে, দীর্ঘ ৪৪ বছরের চাকরির পর তিনি অবসরে যাচ্ছেন কি না, কিংবা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কী ধরনের অবসরকালীন সুবিধা পেয়েছেন, সে বিষয়েও পোস্টে বিস্তারিত তথ্য ছিল না। ফলে ছবির ভিত্তিতে তাঁর সম্পূর্ণ কর্মক্ষেত্রের সুযোগ-সুবিধা বা আর্থিক প্রাপ্তি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ওয়ালমার্ট যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মতো বড় ব্যবসায়িক সংস্থায় দীর্ঘদিন কর্মরত ব্যক্তিদের স্বীকৃতি কীভাবে দেওয়া উচিত, তা নিয়ে এ ঘটনা নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে কর্মীর দীর্ঘ কর্মজীবনকে প্রকাশ্যে সম্মান জানানোর উদ্যোগ রয়েছে, অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এমন অর্জনের স্বীকৃতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। তবে স্থানীয় দোকানের পক্ষ থেকে দেওয়া ফুলের তোড়ার আয়োজন প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কর্মী-সুবিধা বা অবসরকালীন ব্যবস্থার পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না। এ ঘটনায় ওয়ালমার্টের করপোরেট কর্তৃপক্ষ বা গেইলের পক্ষ থেকে ভাইরাল আলোচনা নিয়ে কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে গেইল নিজে এই স্বীকৃতিকে কীভাবে দেখেছেন, তা জানা যায়নি। আপাতত তাঁর ৪৪ বছরের কর্মজীবনকে ঘিরে প্রকাশিত একটি ছবি কর্মীদের অবদান, দীর্ঘদিনের চাকরির স্বীকৃতি এবং বড় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, মানিওয়াইজ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি গান হাজার হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোটি কোটি বার চালিয়ে ৮০ লাখ ডলারের বেশি রয়্যালটি হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যক্তিকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মাইকেল স্মিথ নামের ৫৪ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি নর্থ ক্যারোলাইনার বাসিন্দা। সংগীত স্ট্রিমিংয়ে জালিয়াতির এ ঘটনায় তাকে কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি দুই বছর তত্ত্বাবধানে মুক্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর স্মিথের সাজা ঘোষণা করা হয়। তাকে ৮০ লাখ ৯১ হাজার ৮৪৩ ডলার ৬৪ সেন্ট বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এর আগে ১৯ মার্চ তিনি তারের মাধ্যমে প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালত ও তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্মিথ অ্যামাজন মিউজিক, অ্যাপল মিউজিক, স্পটিফাই ও ইউটিউব মিউজিকে হাজার হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন গান চালাতেন। এসব অ্যাকাউন্ট তৈরিতে ভুয়া ইমেইল ঠিকানা ও প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের সাহায্যে অ্যাকাউন্টগুলো থেকে বারবার গান চালানো হতো। এতে প্রকৃত শ্রোতা না থাকলেও প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে গানগুলোর বিপুল জনপ্রিয়তার কৃত্রিম চিত্র তৈরি হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জালিয়াতি আড়াল করতে স্মিথ একটি বা দুটি গানে বিপুলসংখ্যক স্ট্রিম জমা না করে হাজার হাজার গানের মধ্যে তা ছড়িয়ে দিতেন। এভাবে অস্বাভাবিক স্ট্রিমের কারণে সহজে শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়। ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলোতে নিয়মিত চালানোর জন্য স্মিথ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে কয়েক লাখ গান তৈরি করেন। পরে এসব গান বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করে স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে চালানো হতো। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে স্মিথের ব্যবহৃত বট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা একসঙ্গে ১০ হাজার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তার এআই-তৈরি গানগুলো কয়েক বিলিয়ন বার চালানো হয়। এর ফলে তিনি ৮০ লাখ ডলারের বেশি রয়্যালটি পান, যা প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। জালিয়াতির ব্যাপকতা বোঝাতে তদন্তকারীরা ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের একটি উদাহরণ তুলে ধরেছেন। ওই মাসে ইউটিউব মিউজিকের পারিবারিক পরিকল্পনার আওতায় টেলর সুইফটের সম্পূর্ণ গানের তালিকা ৯৩ লাখ বার চালানো হয়েছিল। একই সময়ে স্মিথের বট অ্যাকাউন্টগুলো তার এআই-তৈরি গান ৮ কোটি ৯ লাখ বার চালায়। একজন বিশ্বখ্যাত শিল্পীর সম্পূর্ণ গানের তালিকার তুলনায় অজানা ও এআই-তৈরি গানগুলোর এমন অস্বাভাবিক স্ট্রিম তদন্তকারীদের কাছে জালিয়াতির ব্যাপকতা তুলে ধরে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে গান চালানোর ভিত্তিতে শিল্পী, গীতিকার ও স্বত্বাধিকারীরা রয়্যালটি পেয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মের মোট আয়ের একটি অংশ থেকে প্রকৃত স্ট্রিমের অনুপাতে এই অর্থ বণ্টন করা হয়। এ কারণে ভুয়া স্ট্রিমের মাধ্যমে রয়্যালটি আদায় করলে প্রকৃত শিল্পী ও গীতিকারদের প্রাপ্য অর্থের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, স্মিথের কর্মকাণ্ডে প্রকৃত সংগীতশিল্পীদের জন্য বরাদ্দ অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই মামলাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে গান তৈরির বিরুদ্ধে কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা নয়। বরং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া শ্রোতা তৈরি, কৃত্রিমভাবে গান চালানো এবং সেই কার্যক্রমের ভিত্তিতে অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ মামলাটিকে এআই-সহায়তাপ্রাপ্ত সংগীত স্ট্রিমিং জালিয়াতির প্রথম ফৌজদারি মামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ঘটনাটি ডিজিটাল সংগীতের বাজারে স্বচ্ছতা, রয়্যালটির ন্যায্য বণ্টন এবং স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্টের অপব্যবহার ঠেকানোর গুরুত্ব সামনে এনেছে।
কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে হত্যার ঘটনায় নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনুসন্ধান করছে পুলিশ। হত্যার আগে কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে তার ময়নাতদন্তের সময় সংগ্রহ করা জৈবিক নমুনা ও পরিধেয় পোশাক ঢাকায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষাগারে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনও ফরেনসিক পরীক্ষার আওতায় আনা হবে। সোমবার (১২ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালমাই থানার উপপরিদর্শক আবদুল্লাহ আল ফারুক জানান, এসব আলামত পরীক্ষাগারে পাঠানোর অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। তদন্তের কোনো দিক বাদ দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ময়নাতদন্তের সময় সংগ্রহ করা সোয়াবের নমুনা ও কিশোরীর পরিধেয় পোশাক পরীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য জৈবিক আলামত শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। এসব আলামত থেকে পাওয়া তথ্য ঘটনার প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্তে সহায়ক হতে পারে। তবে ফরেনসিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এ কারণে পরীক্ষার ফল ও তদন্তের আনুষ্ঠানিক তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া ১০ অক্টোবর কুমিল্লার আদালতে জবানবন্দি দেন। আদালত পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি হত্যার ঘটনায় নিজের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তের স্বার্থে এখন জৈবিক নমুনা, পোশাক ও মুঠোফোনের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দির পাশাপাশি এসব আলামতের পরীক্ষার ফল মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর কুমিল্লায় ফেরার পথে জান্নাতুল তাজমিন বাড়ি পৌঁছানোর জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে। পরে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে চালক সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে। পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত তাজমিন কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকত এবং ফরিদা বিদ্যায়তন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির অনিয়মিত শিক্ষার্থী ছিল। তার বাড়ি যশোরে। পুলিশের দাবি, হত্যার পর কিশোরীর মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত চালক। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিশোরীর মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার আগে তাজমিনের কক্সবাজারে যাওয়া এবং সেখানে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু নামের এক তরুণের সঙ্গে অবস্থানের বিষয়টিও তদন্তে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কক্সবাজার থেকে রাজুকে আটক করে কুমিল্লায় নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তার ভূমিকা এবং কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলোও তদন্তসংশ্লিষ্টদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তাকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যায় না। তদন্তে পাওয়া তথ্য, প্রমাণ এবং আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারিত হবে। তাজমিন হত্যা মামলায় এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা এবং ঘটনার আগে-পরে তার চলাচল ও যোগাযোগের তথ্য যাচাই করা। মুঠোফোনের ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রাসঙ্গিক ডিজিটাল তথ্য পাওয়া গেলে তদন্তের সময়রেখা তৈরি এবং যোগাযোগের সূত্র যাচাইয়ে সহায়তা মিলতে পারে। সিআইডির পরীক্ষাগারে নমুনা ও পোশাক পাঠানোর অনুমতি এবং পরীক্ষার ফল এখন তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব ফল প্রকাশের পরই ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো এলাকার সাবেক দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁদের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের মৃত্যু ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর রোববার বিকেলে মেরিন কাউন্টির মিল ভ্যালির কাছের স্ট্রবেরি এলাকায় একটি বাড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যার ঘটনা বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। মারিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল ৫টা ৩ মিনিটের দিকে স্ট্রবেরি সার্কেলের ওই বাড়ি থেকে গুলির শব্দের খবর জানিয়ে জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করা হয়। খবর পেয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছান শেরিফের ডেপুটিরা। বাড়ির ভেতরে প্রবেশের আগে তাঁরা নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করেন। পরে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জরুরি ফোন করা ব্যক্তি নিরাপদে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। অ্যান ম্যানিক্স সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ বিভাগের ইতিহাসে অগ্রগামী নারী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি বিভাগের সোয়াট দলে যোগ দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে সেই দলের নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম নারী ছিলেন। পরে তিনি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও বিশেষ অভিযান বিভাগের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে, কেভিন ম্যানিক্স ২০১৮ সালে অবসরের সময় সহকর্মী ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার কথা জানিয়েছিলেন। পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর পুলিশ বিভাগের সদস্যদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি লুইস ওং এক বিবৃতিতে অ্যান ম্যানিক্সকে বিভাগের একজন অগ্রগামী কর্মকর্তা হিসেবে স্মরণ করেন। তিনি এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সহকর্মীদের পাশে থাকার আহ্বান জানান। মারিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে ঘটনার সব পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, ঘটনাটির কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য চলমান কোনো হুমকি রয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন না। নিহতদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নির্ধারণের জন্য ময়নাতদন্তের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) দশম বার্ষিক সম্মাননা নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) কর্মকর্তা, বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব, পেশাগত সাফল্য, জনসেবা ও কমিউনিটির প্রতি অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেওয়া হয়। নিউইয়র্কের কুইন্সে ডিএ মাইকেল ইলাজিও পার্টি হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ছয় শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এটি বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ সদস্যদের অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি পুলিশ বিভাগ ও প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদারের একটি উপলক্ষ হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের কমিশনার জেসিকা এস. টিশ বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ সদস্যদের পেশাদারত্ব, নিষ্ঠা ও অবদানের প্রশংসা করেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে আত্মত্যাগের জন্য স্মরণ করা হয় পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামকে। নিউইয়র্কের মতো বহুজাতিক শহরে বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। নিজস্ব ভাষা ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ সদস্যরা কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে এ অনুষ্ঠানে তাঁদের নির্দিষ্ট অবদানের কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। বাপার সভাপতি ক্যাপ্টেন এ কে এম প্রিন্স আলম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি পুলিশ বিভাগ ও কমিউনিটির মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সংগঠনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সার্জেন্ট এসডিএস এরশাদুর সিদ্দিকী সদস্যদের ঐক্য, পেশাগত উন্নয়ন ও কমিউনিটির কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বাপার সাধারণ সম্পাদক ডিটেকটিভ জামিল সরওয়ার স্পনসর, সহযোগী, স্বেচ্ছাসেবক ও অতিথিদের ধন্যবাদ জানান। আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের শিল্পী শুভ্রদেব এবং প্রবাসের শিল্পী রাজীব ভট্টাচার্য ও শশী। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। বাপার দশম বার্ষিক সম্মাননা আয়োজন বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ সদস্যদের পেশাগত অর্জন ও নেতৃত্বকে সামনে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। পাশাপাশি পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রবাসী কমিউনিটির প্রতিনিধিদের একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে পারস্পরিক পরিচিতি, সহযোগিতা ও যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জনসেবা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে পেশাগতভাবে যুক্ত হওয়ার আগ্রহও উৎসাহিত হতে পারে। তবে এটি সম্ভাব্য প্রভাব; অনুষ্ঠানের ফলে এমন পরিবর্তন ঘটেছে—এমন কোনো পরিমাপযোগ্য তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে স্টিল মিলের লোহা বিক্রির পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মাকসুদা বেগম (৫৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে রাসেল ও অভিযুক্ত সাদ্দাম গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মাহমুদপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাকসুদা বেগম ওই এলাকার মৃত নাজির সরদারের স্ত্রী।নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাকসুদা বেগমের ছেলে জজ মিয়া একটি স্টিল মিলের জন্য সাদ্দামের কাছে দুই ট্রাক লোহা বিক্রি করেছিলেন। ওই লোহা বিক্রির বিপরীতে প্রায় ১০ লাখ টাকা বকেয়া ছিল বলে পরিবারের দাবি। সোমবার রাতে জজ মিয়া তাঁর মা মাকসুদা বেগম ও ভাই রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে সাদ্দামের কাছে পাওনা টাকা চাইতে যান। টাকা পরিশোধ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় মাকসুদা বেগম ও রাসেল ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। অন্যদিকে, রাসেলের আঘাতে সাদ্দামও আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাকসুদা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।রাসেল ও সাদ্দামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে ভারতীয় নাগরিক এক চাচাতো ভাইকে জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করা, অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র আটকে রাখা এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় ভেঙ্কটেশ সাত্তারুকে ৫০ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ৩৮ বছর বয়সী সাত্তারু যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক জন এ রস এ সাজা ঘোষণা করেন। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামলাটিতে ভুক্তভোগী ছিলেন সাত্তারুর চাচাতো ভাই, যিনি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তাঁকে সাত্তারুর বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ, বিভিন্ন ব্যক্তিগত কাজ এবং তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করতে বাধ্য করা হয়। কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে তাঁকে শাস্তি দেওয়া হতো বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সেন্ট লুইসে পৌঁছান। পরে তিনি মিসৌরির ও’ফ্যালন এলাকায় সাত্তারুর বাড়িতে বসবাস করেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে সংস্কারাধীন একটি বাড়িতে এবং একই বছরের সেপ্টেম্বরে অন্য একটি সংস্কারাধীন বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই সময় তাঁকে বাড়ির কাজকর্ম, বাইরে বিভিন্ন কাজে যাতায়াত এবং সাত্তারুর প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, সাত্তারুর দোষ স্বীকারের চুক্তিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, কাজ করতে ব্যর্থ হলে তাঁর অভিবাসনসংক্রান্ত নথি আটকে রাখা হতো এবং বিভিন্নভাবে শাস্তি দেওয়া হতো। মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীকে পর্যাপ্ত ঘুমাতে না দেওয়া, খাবার সীমিত করা, গোসল ও শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ কমিয়ে দেওয়ার মতো আচরণের শিকার হতে হয়। তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতনও করা হয়। আদালতের নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, নির্যাতনের কিছু ঘটনায় বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এতে ভুক্তভোগী গুরুতর শারীরিক আঘাত পান। সাত্তারু নিজে কিছু নির্যাতনে অংশ নেন। অন্য সময় তাঁর শ্যালক নিকিল পেনমাতসা ও শ্রবণ পেনুমেচা ভুক্তভোগীকে নির্যাতন করেন বলে সাত্তারুর দোষ স্বীকারের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। কোনো কোনো ঘটনায় তাঁরা সাত্তারুর নির্দেশে এবং কোনো কোনো ঘটনায় নিজেদের উদ্যোগে নির্যাতন করেন। সাত্তারুর বিরুদ্ধে আরেকটি ফৌজদারি অপরাধ ছিল সরকারি অর্থ আত্মসাৎ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য হিসেবে ভেটেরান্সবিষয়ক দপ্তরের একটি কর্মসূচির আওতায় পরিচর্যাকারীর জন্য দেওয়া অর্থ বাড়াতে নিজের শারীরিক অক্ষমতার মাত্রা অতিরঞ্জিত করেছিলেন বলে মার্কিন প্রসিকিউটররা জানান। ওই কর্মসূচিতে যোগ্য সাবেক সেনাসদস্য ও সামরিক সদস্যদের পরিচর্যাকারীরা মাসিক আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। বিচার বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, সাত্তারুর দেওয়া মিথ্যা তথ্যের কারণে তাঁর পরিচর্যাকারী অতিরিক্ত ৮৩ হাজার ৭৭৬ ডলার পেয়েছিলেন। এ ঘটনায় সাত্তারুকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরকে ৭৪ হাজার ৬৩৪ ডলার বাজেয়াপ্ত অর্থ হিসেবে এবং ভেটেরান্সবিষয়ক দপ্তরকে ৮৩ হাজার ৭৭৬ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। ভুক্তভোগীকেও সমঝোতাভিত্তিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়। গত ৮ অক্টোবর ঘোষিত রায়ে সাত্তারুকে ৫০ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মিসৌরির অঙ্গরাজ্য আদালতে দ্বিতীয় মাত্রার পারিবারিক নির্যাতনের অপরাধে পাওয়া পাঁচ বছরের সাজা একই সময়ে কার্যকর হবে। ফলে দুই সাজা পরপর যোগ করে ভোগ করতে হবে না। ফেডারেল রায়ে আগের আটকাবস্থায় কাটানো সময়ের জন্যও সমন্বয়ের নির্দেশ রয়েছে। মামলাটি তদন্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, ভেটেরান্সবিষয়ক দপ্তরের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় এবং সেন্ট চার্লস কাউন্টি পুলিশ। মামলাটি পরিচালনা করেন সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি ডায়ানা এডওয়ার্ডস। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনসংক্রান্ত নথি আটকে রেখে শ্রম আদায় ও শারীরিক নির্যাতনের একটি গুরুতর ফৌজদারি মামলার উদাহরণ। একই সঙ্গে সরকারি সহায়তার অর্থের অপব্যবহারসংক্রান্ত অভিযোগও এতে উঠে এসেছে।
নিউইয়র্কের কুইনসে নিজের বাড়িতে বন্দুকের মুখে জিম্মি করে লোহার সাবল দিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। রোববার (১১ অক্টোবর) ভোররাত আড়াইটার দিকে ফ্লাশিংয়ের হোরেস হার্ডিং এক্সপ্রেসওয়েতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ক্রিস জানিয়েছেন, প্রাণ বাঁচাতে তিনি মৃতের মতো পড়ে থাকার অভিনয় করেন। ক্রিস বলেন, এক মেয়ে বন্ধুকে নিয়ে বাড়িতে থাকার সময় সদর দরজায় শব্দ শুনতে পান। এরপর চার মুখোশধারী ব্যক্তি ঢুকে তাঁর ওপর হামলা চালায়।তাঁর ভাষ্য, হামলাকারীরা মুখে আঘাত করার পর জিপ টাই দিয়ে পেছনে হাত ও পা বেঁধে ফেলে। মুখের ওপর কোট চাপা দেয়। তখন তিনি মৃতের অভিনয় করেন। ক্রিস জানান, তাঁর রোলেক্স ঘড়িসহ মূল্যবান গয়না নিয়ে যায় হামলাকারীরা। তাঁর পরনে থাকা চেইনটির মূল্য প্রায় ৬৫ হাজার ডলার বলে দাবি করেন তিনি।এ সময় ওপরতলায় লুকিয়ে ছিলেন তাঁর নারী বন্ধু। হামলাকারীদের অজান্তে তিনি পুলিশকে ফোন করেন। ক্রিস বলেন, ওই বন্ধুর পদক্ষেপই তাঁর জীবন বাঁচিয়েছে। পুলিশ আসার পর তিন সন্দেহভাজন পায়ে হেঁটে পালিয়ে যায়। পুলিশ ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করেছে। ক্রিস বলেছেন, তিনি তাকে তিনি কখনোই দেখেননি।কেউ তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলেছে বলে সন্দেহ করছেন ক্রিস। ঘটনার পর বাড়ি বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে অপসারণ এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পূর্ণ কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচিও অব্যাহত রয়েছে। ১২ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কার্যালয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই সংকটের সূত্রপাত ২১ সেপ্টেম্বর। ওই দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। অধ্যাপক সায়েম ২৭ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। অর্থাৎ দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, অল্প সময়ের মধ্যে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা দাবি করছেন, সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।তবে সরকার কেন সাবেক উপাচার্যকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ১২ অক্টোবর সকালে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন এবং নিজের কার্যালয়ে যান। এর আগে চলমান আন্দোলনের কারণে তিনি ক্যাম্পাসে নিয়মিতভাবে প্রবেশ করতে পারেননি এবং চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল। নতুন উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হন। পরে তাঁকে দুপুরের মধ্যে কার্যালয় ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বের না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভবনের প্রবেশপথে আবার তালা লাগিয়ে দেন। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ অভিযোগ করেন, উপাচার্য তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন। অন্যদিকে, উপাচার্য কীভাবে ভবনে প্রবেশ করেছেন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে। তাই ঘটনাটির প্রতিটি বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর ১২ অক্টোবর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও কর্মচারী সমিতির প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলন করেন।শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ জানান, নতুন উপাচার্যকে অপসারণ এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে তাঁরা পূর্ণ কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি চালাবেন। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় তাঁর সঙ্গে বহিরাগত ও রাজনৈতিক কর্মীরা ছিলেন। এ ছাড়া শহর থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা দুটি বাসে হামলার অভিযোগও তাঁরা উত্থাপন করেন এবং ঘটনাটির তদন্ত দাবি করেন।তবে বাসে হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফলও প্রকাশিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ফি ছাড়াই আবেদন করার বিশেষ সুযোগ পাচ্ছেন যোগ্য শিক্ষার্থীরা। ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচি চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে যোগ্য টেক্সাসের বাসিন্দারা রাজ্যের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষাক্রমে আবেদন করতে পারবেন বিনা আবেদন ফিতে। টেক্সাসের উচ্চশিক্ষা সমন্বয় বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের আর্থিক বাধা কমানো এবং আরও বেশি শিক্ষার্থীকে কলেজে আবেদন করতে উৎসাহিত করা। বিশেষ করে যাঁরা একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে চান, তাঁদের জন্য এটি অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এই কর্মসূচিতে দুই লাখ ষাট হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। এবারও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এই সুবিধা গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কারা আবেদন করতে পারবেন? এই কর্মসূচির আওতায় টেক্সাসের বাসিন্দা হিসেবে যোগ্য শিক্ষার্থীরা রাজ্যের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষাক্রমে আবেদন করতে পারবেন। প্রথমবার কলেজে ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্থানান্তরিত হয়ে ভর্তি হতে আগ্রহীরাও এই সুযোগ পেতে পারেন। আবেদনকারীর টেক্সাসের বাসিন্দা হিসেবে যোগ্যতা যাচাই করা হবে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা কিংবা টেক্সাসে পড়াশোনা করার কারণে কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুবিধার যোগ্য হবেন না। কর্মসূচিটি মূলত স্নাতক পর্যায়ের আবেদনের জন্য। সাধারণ নিয়মে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের আবেদন এই ফি মওকুফের আওতায় পড়ে না। তবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব উদ্যোগে অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে। কীভাবে আবেদন করবেন? শিক্ষার্থীদের প্রথমে ApplyTexas ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে অথবা বিদ্যমান অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে। এরপর পছন্দের কলেজ, শিক্ষাবিষয় এবং ভর্তির সময় নির্বাচন করে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদনে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রতিষ্ঠানের চাওয়া অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। সব তথ্য যাচাই করে আবেদনটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। ২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট সেন্ট্রাল ডে-লাইট টাইমের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, শেষ সময়টি হবে ১৯ অক্টোবর সকাল ১০টা ৫৯ মিনিট। আবেদন তৈরি করে রেখে দিলে হবে না; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার প্রমাণ থাকতে হবে।যোগ্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ApplyTexas-এর মাধ্যমে জমা দেওয়া আবেদনের ফি মওকুফ হবে। আবেদনপ্রক্রিয়ায় ফি বা অর্থ পরিশোধের নির্দেশনা দেখা গেলেও যোগ্য আবেদনকারীদের এই সপ্তাহে জমা দেওয়া আবেদনের জন্য অর্থ দিতে হবে না বলে প্ল্যাটফর্মটি জানিয়েছে। আবেদনের ওয়েবসাইট: https://www.applytexas.org/ কত টাকা সাশ্রয় হতে পারে? কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আবেদন ফি আলাদা। কোনো শিক্ষার্থী একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে চাইলে প্রতিটি আবেদনের জন্য আলাদা ফি দিতে হতে পারে। এই কর্মসূচিতে যোগ্য শিক্ষার্থীরা একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় করতে পারবেন। তবে সাশ্রয়ের নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত আবেদন ফি এবং শিক্ষার্থী কতটি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন তার ওপর। আবেদন ফি মওকুফের অর্থ এই নয় যে টিউশন ফি, ভর্তি-পরবর্তী অন্যান্য খরচ বা আবাসনের খরচও মওকুফ হবে। বাংলাদেশি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কী নিয়ম? যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই রাজ্যব্যাপী কর্মসূচি সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত নয়। সুবিধাটি টেক্সাসের বাসিন্দা হিসেবে যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেই কেউ এই সুবিধা পাবেন না। যাঁরা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যেতে চান অথবা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে আবেদন করতে চান, তাঁদের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আবেদন ফি মওকুফের নিয়ম যাচাই করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আবেদনের ফি, যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের নিয়ম আলাদা হতে পারে।
বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটে টানা ২৩ বছর কাজ করার পর অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশল কর্মকর্তা কেশবন শানমুগাম। ভারতের নিজ দেশে থাকা বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ এবং প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ দায়িত্ব ছেড়ে তাঁর এমন সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। ১২ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শানমুগাম মাইক্রোসফটের প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এক্সেল কোপাইলট ও এজেন্টিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিনের কর্মজীবন শেষে তাঁর অবসরের ঘোষণা প্রযুক্তি খাতের পাশাপাশি পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের অগ্রাধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এনেছে। নিজের লিংকডইন পোস্টে কেশবন শানমুগাম জানান, মাইক্রোসফটে ২৩ বছর কাজ করার পর তিনি অবসর নিচ্ছেন, যাতে ভারতের বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে পারেন। তিনি লেখেন, মাইক্রোসফটে তাঁর কাজ এবং সহকর্মীদের ছেড়ে আসা সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। বিশেষ করে এক্সেল কোপাইলটের মতো আকর্ষণীয় প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ থেকে সরে আসা তাঁর জন্য কঠিন ছিল। তবে পরিবার ও বন্ধুদের জন্য নিজের সময় ও মনোযোগ ব্যয় করাকে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন। নিজের পোস্টে তিনি মাইক্রোসফটের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ এবং বর্তমান ও সাবেক সহকর্মীদের সহযোগিতার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সহকর্মীদের কারণে দীর্ঘ কর্মজীবনটি আনন্দদায়ক, রোমাঞ্চকর ও পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। শানমুগামের অবসরের সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও ব্যবহার বাড়াতে প্রতিযোগিতা করছে। মাইক্রোসফটের এক্সেল কোপাইলট ব্যবহারকারীদের স্প্রেডশিটের তথ্য বিশ্লেষণ, কাজ সহজ করা এবং বিভিন্ন কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে, এজেন্টিক এআই বলতে এমন প্রযুক্তিকে বোঝায়, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন ধাপের কাজ পরিকল্পনা ও সম্পাদনে সহায়তা করতে পারে। এই প্রযুক্তিগুলোর উন্নয়নে যুক্ত থাকা একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অবসরের ঘোষণাটি তাই বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে তাঁর বিদায়ের ফলে মাইক্রোসফটের কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে বা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। শানমুগামের অবসরের ঘোষণার পর লিংকডইনে বহু ব্যবহারকারী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের অনেকে বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে সময় কাটানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। একজন ব্যবহারকারী নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মন্তব্য করেন, সম্প্রতি একজন অভিভাবককে হারানোর পর তিনি বুঝতে পেরেছেন, মা-বাবাকে কাছে রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অন্য ব্যবহারকারীরাও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসাকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য শানমুগামের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন।এই প্রতিক্রিয়াগুলো দেখিয়েছে, কর্মজীবনে সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোও অনেক মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।