সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন সেনাসদস্য
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন সেনাসদস্যের ৫০ মাসের কারাদণ্ড, চাচাতো ভাইকে জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে ভারতীয় নাগরিক এক চাচাতো ভাইকে জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করা, অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র আটকে রাখা এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় ভেঙ্কটেশ সাত্তারুকে ৫০ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ৩৮ বছর বয়সী সাত্তারু যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক জন এ রস এ সাজা ঘোষণা করেন।    মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামলাটিতে ভুক্তভোগী ছিলেন সাত্তারুর চাচাতো ভাই, যিনি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তাঁকে সাত্তারুর বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ, বিভিন্ন ব্যক্তিগত কাজ এবং তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করতে বাধ্য করা হয়। কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে তাঁকে শাস্তি দেওয়া হতো বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সেন্ট লুইসে পৌঁছান। পরে তিনি মিসৌরির ও’ফ্যালন এলাকায় সাত্তারুর বাড়িতে বসবাস করেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে সংস্কারাধীন একটি বাড়িতে এবং একই বছরের সেপ্টেম্বরে অন্য একটি সংস্কারাধীন বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়।   এই সময় তাঁকে বাড়ির কাজকর্ম, বাইরে বিভিন্ন কাজে যাতায়াত এবং সাত্তারুর প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, সাত্তারুর দোষ স্বীকারের চুক্তিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, কাজ করতে ব্যর্থ হলে তাঁর অভিবাসনসংক্রান্ত নথি আটকে রাখা হতো এবং বিভিন্নভাবে শাস্তি দেওয়া হতো।    মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীকে পর্যাপ্ত ঘুমাতে না দেওয়া, খাবার সীমিত করা, গোসল ও শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ কমিয়ে দেওয়ার মতো আচরণের শিকার হতে হয়। তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতনও করা হয়।   আদালতের নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, নির্যাতনের কিছু ঘটনায় বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এতে ভুক্তভোগী গুরুতর শারীরিক আঘাত পান। সাত্তারু নিজে কিছু নির্যাতনে অংশ নেন। অন্য সময় তাঁর শ্যালক নিকিল পেনমাতসা ও শ্রবণ পেনুমেচা ভুক্তভোগীকে নির্যাতন করেন বলে সাত্তারুর দোষ স্বীকারের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। কোনো কোনো ঘটনায় তাঁরা সাত্তারুর নির্দেশে এবং কোনো কোনো ঘটনায় নিজেদের উদ্যোগে নির্যাতন করেন।    সাত্তারুর বিরুদ্ধে আরেকটি ফৌজদারি অপরাধ ছিল সরকারি অর্থ আত্মসাৎ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য হিসেবে ভেটেরান্সবিষয়ক দপ্তরের একটি কর্মসূচির আওতায় পরিচর্যাকারীর জন্য দেওয়া অর্থ বাড়াতে নিজের শারীরিক অক্ষমতার মাত্রা অতিরঞ্জিত করেছিলেন বলে মার্কিন প্রসিকিউটররা জানান।   ওই কর্মসূচিতে যোগ্য সাবেক সেনাসদস্য ও সামরিক সদস্যদের পরিচর্যাকারীরা মাসিক আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। বিচার বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, সাত্তারুর দেওয়া মিথ্যা তথ্যের কারণে তাঁর পরিচর্যাকারী অতিরিক্ত ৮৩ হাজার ৭৭৬ ডলার পেয়েছিলেন।   এ ঘটনায় সাত্তারুকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরকে ৭৪ হাজার ৬৩৪ ডলার বাজেয়াপ্ত অর্থ হিসেবে এবং ভেটেরান্সবিষয়ক দপ্তরকে ৮৩ হাজার ৭৭৬ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। ভুক্তভোগীকেও সমঝোতাভিত্তিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়।    গত ৮ অক্টোবর ঘোষিত রায়ে সাত্তারুকে ৫০ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মিসৌরির অঙ্গরাজ্য আদালতে দ্বিতীয় মাত্রার পারিবারিক নির্যাতনের অপরাধে পাওয়া পাঁচ বছরের সাজা একই সময়ে কার্যকর হবে। ফলে দুই সাজা পরপর যোগ করে ভোগ করতে হবে না। ফেডারেল রায়ে আগের আটকাবস্থায় কাটানো সময়ের জন্যও সমন্বয়ের নির্দেশ রয়েছে।    মামলাটি তদন্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, ভেটেরান্সবিষয়ক দপ্তরের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় এবং সেন্ট চার্লস কাউন্টি পুলিশ। মামলাটি পরিচালনা করেন সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি ডায়ানা এডওয়ার্ডস।    ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনসংক্রান্ত নথি আটকে রেখে শ্রম আদায় ও শারীরিক নির্যাতনের একটি গুরুতর ফৌজদারি মামলার উদাহরণ। একই সঙ্গে সরকারি সহায়তার অর্থের অপব্যবহারসংক্রান্ত অভিযোগও এতে উঠে এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৮:১০
নিজের বাড়িতে বন্দুকের মুখে জিম্মি করে লোহার সাবল দিয়ে মারধরের শিকার
কুইনসে বাড়িতে ঢুকে হামলা, প্রাণ বাঁচাতে মৃতের অভিনয় করলেন ব্যক্তি

নিউইয়র্কের কুইনসে নিজের বাড়িতে বন্দুকের মুখে জিম্মি করে লোহার সাবল দিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। রোববার (১১ অক্টোবর) ভোররাত আড়াইটার দিকে ফ্লাশিংয়ের হোরেস হার্ডিং এক্সপ্রেসওয়েতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ক্রিস জানিয়েছেন, প্রাণ বাঁচাতে তিনি মৃতের মতো পড়ে থাকার অভিনয় করেন।    ক্রিস বলেন, এক মেয়ে বন্ধুকে নিয়ে বাড়িতে থাকার সময় সদর দরজায় শব্দ শুনতে পান। এরপর চার মুখোশধারী ব্যক্তি ঢুকে তাঁর ওপর হামলা চালায়।তাঁর ভাষ্য, হামলাকারীরা মুখে আঘাত করার পর জিপ টাই দিয়ে পেছনে হাত ও পা বেঁধে ফেলে। মুখের ওপর কোট চাপা দেয়। তখন তিনি মৃতের অভিনয় করেন।   ক্রিস জানান, তাঁর রোলেক্স ঘড়িসহ মূল্যবান গয়না নিয়ে যায় হামলাকারীরা। তাঁর পরনে থাকা চেইনটির মূল্য প্রায় ৬৫ হাজার ডলার বলে দাবি করেন তিনি।এ সময় ওপরতলায় লুকিয়ে ছিলেন তাঁর নারী বন্ধু। হামলাকারীদের অজান্তে তিনি পুলিশকে ফোন করেন। ক্রিস বলেন, ওই বন্ধুর পদক্ষেপই তাঁর জীবন বাঁচিয়েছে।    পুলিশ আসার পর তিন সন্দেহভাজন পায়ে হেঁটে পালিয়ে যায়। পুলিশ ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করেছে। ক্রিস বলেছেন, তিনি তাকে তিনি কখনোই দেখেননি।কেউ তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলেছে বলে সন্দেহ করছেন ক্রিস। ঘটনার পর বাড়ি বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন তিনি। 

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৭:৩৯
ট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে
চুয়েটে উপাচার্য অপসারণের দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের অসহযোগ, ২০ দিন ধরে বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে অপসারণ এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পূর্ণ কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচিও অব্যাহত রয়েছে।   ১২ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কার্যালয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   এই সংকটের সূত্রপাত ২১ সেপ্টেম্বর। ওই দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।   অধ্যাপক সায়েম ২৭ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। অর্থাৎ দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি জানান।   শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, অল্প সময়ের মধ্যে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা দাবি করছেন, সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।তবে সরকার কেন সাবেক উপাচার্যকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করা হয়নি।   ১২ অক্টোবর সকালে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন এবং নিজের কার্যালয়ে যান। এর আগে চলমান আন্দোলনের কারণে তিনি ক্যাম্পাসে নিয়মিতভাবে প্রবেশ করতে পারেননি এবং চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল।   নতুন উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হন। পরে তাঁকে দুপুরের মধ্যে কার্যালয় ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বের না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভবনের প্রবেশপথে আবার তালা লাগিয়ে দেন।   ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ অভিযোগ করেন, উপাচার্য তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন। অন্যদিকে, উপাচার্য কীভাবে ভবনে প্রবেশ করেছেন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে। তাই ঘটনাটির প্রতিটি বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।   উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর ১২ অক্টোবর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও কর্মচারী সমিতির প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলন করেন।শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ জানান, নতুন উপাচার্যকে অপসারণ এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে তাঁরা পূর্ণ কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি চালাবেন।   শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় তাঁর সঙ্গে বহিরাগত ও রাজনৈতিক কর্মীরা ছিলেন। এ ছাড়া শহর থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা দুটি বাসে হামলার অভিযোগও তাঁরা উত্থাপন করেন এবং ঘটনাটির তদন্ত দাবি করেন।তবে বাসে হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফলও প্রকাশিত হয়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৭:৩২
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ফি ছাড়াই আবেদন করার বিশেষ সুযোগ
টেক্সাসে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিনা ফিতে কলেজে আবেদনের সুযোগ, যেভাবে আবেদন করবেন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ফি ছাড়াই আবেদন করার বিশেষ সুযোগ পাচ্ছেন যোগ্য শিক্ষার্থীরা। ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচি চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে যোগ্য টেক্সাসের বাসিন্দারা রাজ্যের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষাক্রমে আবেদন করতে পারবেন বিনা আবেদন ফিতে।   টেক্সাসের উচ্চশিক্ষা সমন্বয় বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের আর্থিক বাধা কমানো এবং আরও বেশি শিক্ষার্থীকে কলেজে আবেদন করতে উৎসাহিত করা। বিশেষ করে যাঁরা একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে চান, তাঁদের জন্য এটি অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।   টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এই কর্মসূচিতে দুই লাখ ষাট হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। এবারও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এই সুবিধা গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   কারা আবেদন করতে পারবেন?   এই কর্মসূচির আওতায় টেক্সাসের বাসিন্দা হিসেবে যোগ্য শিক্ষার্থীরা রাজ্যের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষাক্রমে আবেদন করতে পারবেন। প্রথমবার কলেজে ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্থানান্তরিত হয়ে ভর্তি হতে আগ্রহীরাও এই সুযোগ পেতে পারেন।   আবেদনকারীর টেক্সাসের বাসিন্দা হিসেবে যোগ্যতা যাচাই করা হবে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা কিংবা টেক্সাসে পড়াশোনা করার কারণে কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুবিধার যোগ্য হবেন না।   কর্মসূচিটি মূলত স্নাতক পর্যায়ের আবেদনের জন্য। সাধারণ নিয়মে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের আবেদন এই ফি মওকুফের আওতায় পড়ে না। তবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব উদ্যোগে অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে।   কীভাবে আবেদন করবেন?   শিক্ষার্থীদের প্রথমে ApplyTexas ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে অথবা বিদ্যমান অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে। এরপর পছন্দের কলেজ, শিক্ষাবিষয় এবং ভর্তির সময় নির্বাচন করে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।   আবেদনে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রতিষ্ঠানের চাওয়া অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। সব তথ্য যাচাই করে আবেদনটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে।   ২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট সেন্ট্রাল ডে-লাইট টাইমের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, শেষ সময়টি হবে ১৯ অক্টোবর সকাল ১০টা ৫৯ মিনিট। আবেদন তৈরি করে রেখে দিলে হবে না; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার প্রমাণ থাকতে হবে।যোগ্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ApplyTexas-এর মাধ্যমে জমা দেওয়া আবেদনের ফি মওকুফ হবে। আবেদনপ্রক্রিয়ায় ফি বা অর্থ পরিশোধের নির্দেশনা দেখা গেলেও যোগ্য আবেদনকারীদের এই সপ্তাহে জমা দেওয়া আবেদনের জন্য অর্থ দিতে হবে না বলে প্ল্যাটফর্মটি জানিয়েছে। আবেদনের ওয়েবসাইট: https://www.applytexas.org/   কত টাকা সাশ্রয় হতে পারে?   কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আবেদন ফি আলাদা। কোনো শিক্ষার্থী একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে চাইলে প্রতিটি আবেদনের জন্য আলাদা ফি দিতে হতে পারে। এই কর্মসূচিতে যোগ্য শিক্ষার্থীরা একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় করতে পারবেন।   তবে সাশ্রয়ের নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত আবেদন ফি এবং শিক্ষার্থী কতটি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন তার ওপর। আবেদন ফি মওকুফের অর্থ এই নয় যে টিউশন ফি, ভর্তি-পরবর্তী অন্যান্য খরচ বা আবাসনের খরচও মওকুফ হবে।   বাংলাদেশি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কী নিয়ম?   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই রাজ্যব্যাপী কর্মসূচি সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত নয়। সুবিধাটি টেক্সাসের বাসিন্দা হিসেবে যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেই কেউ এই সুবিধা পাবেন না।   যাঁরা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যেতে চান অথবা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে আবেদন করতে চান, তাঁদের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আবেদন ফি মওকুফের নিয়ম যাচাই করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আবেদনের ফি, যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের নিয়ম আলাদা হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৭:৪
জ্যেষ্ঠ প্রকৌশল কর্মকর্তা কেশবন শানমুগাম
ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকেও বদলে গেল অগ্রাধিকার, বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য মাইক্রোসফট ছাড়লেন কর্মকর্তা

বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটে টানা ২৩ বছর কাজ করার পর অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশল কর্মকর্তা কেশবন শানমুগাম। ভারতের নিজ দেশে থাকা বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ এবং প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ দায়িত্ব ছেড়ে তাঁর এমন সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।   ১২ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শানমুগাম মাইক্রোসফটের প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এক্সেল কোপাইলট ও এজেন্টিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিনের কর্মজীবন শেষে তাঁর অবসরের ঘোষণা প্রযুক্তি খাতের পাশাপাশি পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের অগ্রাধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এনেছে।   নিজের লিংকডইন পোস্টে কেশবন শানমুগাম জানান, মাইক্রোসফটে ২৩ বছর কাজ করার পর তিনি অবসর নিচ্ছেন, যাতে ভারতের বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে পারেন।   তিনি লেখেন, মাইক্রোসফটে তাঁর কাজ এবং সহকর্মীদের ছেড়ে আসা সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। বিশেষ করে এক্সেল কোপাইলটের মতো আকর্ষণীয় প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ থেকে সরে আসা তাঁর জন্য কঠিন ছিল। তবে পরিবার ও বন্ধুদের জন্য নিজের সময় ও মনোযোগ ব্যয় করাকে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন।   নিজের পোস্টে তিনি মাইক্রোসফটের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ এবং বর্তমান ও সাবেক সহকর্মীদের সহযোগিতার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সহকর্মীদের কারণে দীর্ঘ কর্মজীবনটি আনন্দদায়ক, রোমাঞ্চকর ও পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।   শানমুগামের অবসরের সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও ব্যবহার বাড়াতে প্রতিযোগিতা করছে।   মাইক্রোসফটের এক্সেল কোপাইলট ব্যবহারকারীদের স্প্রেডশিটের তথ্য বিশ্লেষণ, কাজ সহজ করা এবং বিভিন্ন কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে, এজেন্টিক এআই বলতে এমন প্রযুক্তিকে বোঝায়, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন ধাপের কাজ পরিকল্পনা ও সম্পাদনে সহায়তা করতে পারে।   এই প্রযুক্তিগুলোর উন্নয়নে যুক্ত থাকা একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অবসরের ঘোষণাটি তাই বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে তাঁর বিদায়ের ফলে মাইক্রোসফটের কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে বা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   শানমুগামের অবসরের ঘোষণার পর লিংকডইনে বহু ব্যবহারকারী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের অনেকে বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে সময় কাটানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।   একজন ব্যবহারকারী নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মন্তব্য করেন, সম্প্রতি একজন অভিভাবককে হারানোর পর তিনি বুঝতে পেরেছেন, মা-বাবাকে কাছে রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অন্য ব্যবহারকারীরাও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসাকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য শানমুগামের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন।এই প্রতিক্রিয়াগুলো দেখিয়েছে, কর্মজীবনে সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোও অনেক মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৬:৪৫
সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি
গান্ধী-নেহরুর ওপর নির্ভরতা নয়, নিজেদের নেতা গড়ুন: আজমগড়ে ওয়াইসির আহ্বান

ভারতের উত্তর প্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)। এর অংশ হিসেবে ১১ অক্টোবর, রোববার, আজমগড়ে জনসভা করে দলটির প্রধান ও সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষকে নিজেদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, কংগ্রেসের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং বিজেপি সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন।    জনসভায় ওয়াইসির মূল বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অন্য দলের নেতাদের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, “আমাদের আর কোনো গান্ধী বা নেহরুর প্রয়োজন নেই, আমাদের নিজেদের নেতা প্রয়োজন।” তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সংখ্যালঘু ভোটারদের দীর্ঘদিনের সমর্থন এবং সেই সমর্থনের বিনিময়ে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন সামনে আনেন।    আজমগড়কে সমাজবাদী পার্টির শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তির একটি হিসেবে দেখা হয়। এই এলাকায় দাঁড়িয়ে ওয়াইসি অভিযোগ করেন, দলটি মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটের সমর্থন পেলেও তাদের অধিকার, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং উন্নয়নের প্রশ্নে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।   তিনি প্রশ্ন তোলেন, সমাজবাদী পার্টির শাসনামলে আজমগড়ের শিবলি ন্যাশনাল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়া হয়নি কেন। তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় শিক্ষা, তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ও উঠে আসে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ওয়াইসির বক্তব্যই প্রধান সূত্র; জনসভায় উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।    ওয়াইসি আরও বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে শুধু নির্বাচনের সময় ভোটার হিসেবে বিবেচনা না করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও সুযোগ দিতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিজেদের মধ্য থেকে নেতা তৈরি করা এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো সম্ভব।   জনসভায় উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারকেও সমালোচনা করেন এআইএমআইএম প্রধান। তিনি রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে বিভাজনের পরিবর্তে দারিদ্র্য এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।   ওয়াইসি দাবি করেন, উত্তর প্রদেশ সরকারের ২০২৪–২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, দরিদ্র মানুষের সংখ্যার বিচারে আজমগড় রাজ্যের জেলাগুলোর মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। এই তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যা।   তবে তাঁর উল্লেখ করা পরিসংখ্যানের মূল সরকারি নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ ছাড়া যোগী আদিত্যনাথ ও অখিলেশ যাদবকে পরস্পরের রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চ্যালেঞ্জ জানান ওয়াইসি। এটি ছিল তাঁর নির্বাচনী জনসভার রাজনৈতিক বক্তব্য; দুই নেতার পক্ষ থেকে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের কোনো নিশ্চিত তথ্য উল্লিখিত প্রতিবেদনগুলোতে পাওয়া যায়নি।    এআইএমআইএমকে নিয়ে উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিতর্ক রয়েছে। বিরোধী দলগুলোর কিছু নেতা ও সমর্থক অভিযোগ করেন, নির্বাচনে আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এআইএমআইএম বিরোধী ভোট ভাগ করতে পারে এবং এর ফলে বিজেপি সুবিধা পেতে পারে।   আজমগড়ের জনসভায় ওয়াইসি এই অভিযোগের বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, নিজেদের রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্ব গড়ে তোলার অধিকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরও রয়েছে। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে এআইএমআইএমের নির্বাচনী উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি উত্তর প্রদেশের বিরোধী রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক হিসেবে রয়েছে।   উত্তর প্রদেশের পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা, সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচন এবং ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কার্যক্রম চালাচ্ছে।   এআইএমআইএমের জন্য আজমগড়ের জনসভাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এলাকাটি সমাজবাদী পার্টির প্রভাবশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ওয়াইসি সেখানে নিজেদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের আহ্বান জানিয়ে প্রচলিত দলগুলোর প্রতিনিধিত্বের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।   ভারতের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআইএমআইএম উত্তর প্রদেশে আরও বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা, জোটের সিদ্ধান্ত এবং আসনভিত্তিক নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দলটির পরিকল্পনাকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যাবে না।    ওয়াইসির এই প্রচারের মূল বিষয় তিনটি—সংখ্যালঘুদের নিজস্ব রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি, শিক্ষা ও উন্নয়নের প্রশ্নে প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর জবাবদিহি এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যকে রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া। তাঁর বক্তব্য ঘিরে উত্তর প্রদেশের রাজনৈতিক বিতর্ক আরও স্পষ্ট হয়েছে। তবে নির্বাচনে এর প্রকৃত প্রভাব কী হবে, তা ভোটের ফলাফল ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৬:২৮
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশের ইসলামি আলেম
ওমরাহ পালনে মক্কা যাওয়ার পথে রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি আলেম

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশের ইসলামি আলেম ও মাদ্রাসাশিক্ষক হাফেজ মুফতি মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বাদরপুরী। পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতির সময় এ হামলার শিকার হন তিনি। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। পরে আহতদের মধ্যে আরও একজনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়।    ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম, সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। মুফতি নাসরুল্লাহ বাদরপুরী কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাদরপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বয়স ছিল ৩৫ বছর।   তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। পরিবারের সদস্যদের বরাতে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি ৪৫ সদস্যের একটি দলের সঙ্গে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করেন। রিয়াদ থেকে জেদ্দা হয়ে মক্কায় যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের।    কিন্তু রিয়াদ বিমানবন্দরের টার্মিনাল এলাকায় অপেক্ষা করার সময়ই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর শনিবার বিকেল প্রায় ৩টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় হামলাটি হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরের একটি অংশে আগুন ও ধোঁয়া দেখা যায়।    পরিবারের বরাত দিয়ে আরব নিউজ জানিয়েছে, হামলার পর নাসরুল্লাহ তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। তবে ফোনে তাঁর কণ্ঠ শোনা যায়নি। পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নেওয়ার পর রোববার তাঁর মৃত্যুর খবর পান স্বজনেরা।   নাসরুল্লাহর মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন। তাঁর বড় সন্তানের বয়স সাত বছর এবং ছোট সন্তানের বয়স দুই বছর বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    এ ঘটনায় নিহত আরেক বাংলাদেশি হলেন বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের মোহাম্মদ শহীদ আহমেদ। তিনি সৌদি আরবে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ওমরাহযাত্রী ও প্রবাসী কর্মী রয়েছেন। তাঁদের কয়েকজনকে সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   হামলার পর রিয়াদে আটকে পড়া বাংলাদেশি যাত্রীদের সহায়তায় বাংলাদেশ দূতাবাস কাজ শুরু করে। সৌদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, অভিবাসন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রীর সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। তাঁদের মধ্যে যাঁরা ওমরাহ পালনের জন্য জেদ্দায় যেতে চেয়েছিলেন, তাঁদের পরিবহনের ব্যবস্থাও করা হয় বলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাতে জানানো হয়েছে।    সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ প্রথমে জানায়, হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। পরে আহত এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলে মোট নিহতের সংখ্যা ১৩-তে পৌঁছায় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।    হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি ঘটনাটিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। তবে হামলার দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য আলাদা করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।    রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনা সৌদি আরবে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক যাত্রী, বিশেষ করে ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৬:৮
একটি বিপণিবিতানের সামনে বাবার কোলে থাকা ২২ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু
জুতার দোকানের সামনে বাবার কোলে থাকা ২২ মাসের শিশু, নিয়ন্ত্রণ হারানো গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল নক্সের

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি বিপণিবিতানের সামনে বাবার কোলে থাকা ২২ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পার্কিং করার সময় একটি এসইউভি গাড়ি ফুটপাতের কিনারা পেরিয়ে বাবা ও শিশুকে ধাক্কা দিলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। শিশুটির নাম নক্স স্কেলটন। তাঁর বাবা স্যামুয়েল স্কেলটন গেইনসভিল ফায়ার বিভাগের একজন অগ্নিনির্বাপক কর্মী। ঘটনাটি ঘটে ৭ অক্টোবর বুধবার, গেইনসভিল শহরের লাইমস্টোন মার্কেটপ্লেসে।    স্থানীয় পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, স্যামুয়েল সেদিন ছেলেকে কোলে নিয়ে একটি দোকানের জানালায় প্রদর্শিত জুতা দেখছিলেন। এ সময় ৬৮ বছর বয়সী এক নারী তাঁর এসইউভি গাড়িটি নির্ধারিত পার্কিং স্থানে রাখার চেষ্টা করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গাড়িটি হঠাৎ সামনের দিকে দ্রুত এগিয়ে ফুটপাতের কিনারা অতিক্রম করে বাবা ও শিশুকে আঘাত করে। গাড়িটি পরে বিপণিবিতানের একটি ভবনেও ধাক্কা দেয়।    দুর্ঘটনার পর নক্সকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আশপাশের লোকজন তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন এবং জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। শিশুটিকে হেলিকপ্টারে করে আটলান্টার একটি শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বাবা স্যামুয়েলও গাড়ির ধাক্কায় আহত হন, যদিও পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজন হয়নি।    গেইনসভিল ফায়ার বিভাগ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্যামুয়েল ও তাঁর স্ত্রী কিয়ানা স্কেলটন অত্যন্ত যত্নশীল ও আন্তরিক মানুষ। এমন কঠিন সময়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।   নক্সের পরিবারের সদস্যদের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে, ছোট্ট নক্স খেলনা দানব-ট্রাক নিয়ে খেলতে, বাইরে সময় কাটাতে এবং পার্কে দোলনায় দুলতে ভালোবাসত। বাবার কর্মস্থল ফায়ার স্টেশনেও সে পরিচিত মুখ ছিল। পরিবারের কাছে সে ছিল আনন্দের উৎস।    ঘটনার পর পরিবারটির আর্থিক ও মানসিক সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে জানানো হয়, অনুদানের পরিমাণ ৬৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল।    এদিকে, দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছে গেইনসভিল পুলিশ। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ৬৮ বছর বয়সী টেরেসা পার্কার। তিনি ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন এবং তদন্তকারীদের সহযোগিতা করেন। প্রাথমিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি বলে ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে জানানো হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে গাড়ির ব্রেক ও টায়ার পরীক্ষা এবং চালকের মুঠোফোনের তথ্য পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত শেষে সম্ভাব্য অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।    এই দুর্ঘটনা পার্কিং এলাকায় পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে দোকানের সামনে ও গাড়ি চলাচলের পথের কাছাকাছি শিশুদের নিয়ে চলাচলের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কতটা গুরুতর হতে পারে, ঘটনাটি তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৫:৪১
গুয়াতেমালায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে মৃত
নিজের জানাজা নয়, শেষকৃত্যের সময় কফিনে নড়েচড়ে উঠল ১৫ বছরের কিশোরী, আট ঘণ্টা ধরে মৃত বলে ধরে নিয়েছিল পরিবার

গুয়াতেমালায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে মৃত বলে ধরে নেওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর নিজের শেষকৃত্যের সময় কফিনের ভেতর নড়াচড়া করতে এবং উঠে বসতে দেখা গেছে। ঘটনাটি ঘটে দেশটির কিচে বিভাগের সাকাপুলাস এলাকার এল হোকোটে সম্প্রদায়ে। কিশোরীর নাম ইউলেইদি ইক্সকোটোয়াক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কফিনের ভেতর তাঁর নড়াচড়া এবং উপস্থিত স্বজনদের বিস্মিত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।    ঘটনাটি যেমন বিস্ময় তৈরি করেছে, তেমনি একজন মানুষকে মৃত বলে ধরে নেওয়ার আগে যথাযথ চিকিৎসা পরীক্ষা কতটা জরুরি, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।   ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর শনিবার ভোরে ইউলেইদি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর বাবা আব্রাহাম ইক্সকোটোয়াক তাঁকে গাড়িতে করে চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পথে কিশোরী অচেতন হয়ে পড়েন। বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি তখন মেয়ের শ্বাস-প্রশ্বাস ও কবজির নাড়ি অনুভব করতে পারেননি। সেই পরিস্থিতিতে তিনি মেয়েকে মৃত বলে ধরে নেন। তবে কোনো চিকিৎসক তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেননি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    পরিবারের সদস্যরা এরপর একটি কফিনের ব্যবস্থা করেন এবং বাড়িতে শেষকৃত্যের আয়োজন করেন। স্বজন ও প্রতিবেশীরা সেখানে জড়ো হয়ে শোক প্রকাশ করছিলেন। কিন্তু শোকের সেই পরিবেশ মুহূর্তেই বদলে যায়, যখন কিশোরীর মা লেসভিয়া রিওস কফিনের ভেতরে নড়াচড়া লক্ষ করেন।   মায়ের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি মেয়ের কাছে গিয়ে নড়াচড়া দেখতে পান। এরপর কফিনের ভেতর থেকে ইউলেইদি নড়েচড়ে ওঠেন এবং একপর্যায়ে উঠে বসেন। উপস্থিত স্বজনেরা তাঁকে সাহায্য করে কফিন থেকে বের করে আনেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।    কিশোরী নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়ার আগের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অচেতন হওয়ার আগে বুকে বা হৃদ্‌যন্ত্রের স্থানে তীব্র ব্যথা অনুভব করেছিলেন। এরপর কী ঘটেছিল, তা তিনি স্পষ্টভাবে বলতে পারেননি। জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর তিনি পরিবার ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে গুয়াতেমালার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন কিশোরী অচেতন হয়েছিলেন, কেন তাঁর বাবা নাড়ি ও শ্বাস-প্রশ্বাস অনুভব করতে পারেননি এবং পরে কীভাবে তাঁর জ্ঞান ফিরেছে—এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাগত ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।    ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও সামনে এনেছে। কেউ অচেতন হয়ে পড়লে বা তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস ও নাড়ি বোঝা না গেলে অনুমানের ভিত্তিতে তাঁকে মৃত ধরে নেওয়া বিপজ্জনক। দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে এবং প্রশিক্ষিত চিকিৎসাকর্মীদের মাধ্যমে যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।   গুয়াতেমালার এই কিশোরীর ঘটনা এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত। পরিবারের কাছে এটি অলৌকিক ঘটনা বলে মনে হলেও, এর প্রকৃত কারণ জানতে চিকিৎসাগত তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৫:২১
ছাদ মেরামতের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজার ডলার দেওয়ার পরও তাঁর বাড়িতে কাজ শুরু হয়নি
ছাদ মেরামতের নামে ১৫ হাজার ডলার, কাজই হয়নি! ফ্লোরিডায় নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কিসিমিতে এক নারী অভিযোগ করেছেন, ছাদ মেরামতের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজার ডলার দেওয়ার পরও তাঁর বাড়িতে কাজ শুরু হয়নি। শুধু তিনিই নন, একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ৬-এর ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবাহ বেনকাব্বু নামের ওই নারী জানান, ২০২৪ সালে তাঁর বাড়ির ছাদে ঝড়ের কারণে ক্ষতি হওয়ার পর হ্যারিকেন রুফার নামের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। পরে বিমা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ির মালিক সমিতির অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করার পর তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছাদ মেরামতের জন্য ১৫ হাজার ডলার অগ্রিম দেন।   কিন্তু অর্থ দেওয়ার পরও ছাদ মেরামতের কাজ শুরু হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বারবার কাজ শুরু করার আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনো কর্মী বাড়িতে আসেননি। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাঁর ফোন ও বার্তার জবাব দেওয়াও বন্ধ করে দেন।    এদিকে ছাদ দিয়ে পানি পড়তে থাকায় বাড়ির ভেতরে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। বিশেষ করে তাঁর মেয়ের শোবার ঘরের ছাদে পানির দাগ ও ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে বলে তিনি জানান। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ছত্রাক তৈরি হওয়া এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওই নারী।   যুক্তরাষ্ট্রের বেটার বিজনেস ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে হ্যারিকেন রুফারের বিরুদ্ধে মোট ১২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১০টি অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির কোনো জবাব নথিভুক্ত নেই। অভিযোগগুলোর মধ্যে সাতটি সেবা বা মেরামতসংক্রান্ত, তিনটি অর্ডারসংক্রান্ত এবং দুটি পণ্যসংক্রান্ত। প্রতিষ্ঠানটিকে সংস্থাটি সর্বনিম্ন ‘এফ’ মূল্যায়ন দিয়েছে।    অভিযোগকারীদের কয়েকজন দাবি করেছেন, ছাদ মেরামতের জন্য হাজার হাজার ডলার অগ্রিম দেওয়ার পরও কাজ শুরু হয়নি। কেউ কেউ অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করেও সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।   নিউজ ৬ জানিয়েছে, ফ্লোরিডার সরকারি নথিতে হ্যারিকেন রুফারের ব্যবসায়িক অবস্থা নিষ্ক্রিয় হিসেবে দেখানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনের বার্তাবাক্স পূর্ণ থাকায় যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ পরিচিত ব্যবসায়িক ঠিকানায় অবস্থিত একটি যৌথ কর্মস্থলের কর্মী জানান, হ্যারিকেন রুফার ২০২৫ সালের নভেম্বরে সেখান থেকে চলে গেছে।   সাবাহ বেনকাব্বু এখনো জানতে চান, প্রতিষ্ঠানটি তাঁর বাড়ির ছাদ মেরামতের কাজ সম্পন্ন করবে, নাকি ১৫ হাজার ডলার ফেরত দেবে। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবার বৃষ্টি হলেই অসমাপ্ত মেরামতের কারণে বাড়ির ক্ষতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।   ঘটনাটি বাড়ির মেরামতের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন, অনুমোদন, কাজের চুক্তি, অর্থ পরিশোধের শর্ত এবং পূর্ববর্তী গ্রাহকদের অভিযোগ যাচাই করার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের অগ্রিম অর্থ দেওয়ার আগে লিখিত সময়সীমা, কাজের ধাপ এবং অর্থ ফেরতের শর্ত স্পষ্ট করে নেওয়া জরুরি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৫:৫
৯ হাজারের বেশি গাড়ি চুরির ঘটনা নথিভুক্ত
নিউ ইয়র্ক সিটিতে নয় মাসে ৯ হাজারের বেশি গাড়ি চুরি, গত বছরের তুলনায় ঘটনা কমেছে ১২.৪ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ৯ হাজারের বেশি গাড়ি চুরির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শহরের পাঁচটি বরোতে মোট ৯ হাজার ১১০টি গাড়ি চুরির ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় গাড়ি চুরির ঘটনা ১২ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।   গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের অপরাধসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে নিউইয়র্ক সিটিতে ১০ হাজার ৩৯৪টি গাড়ি চুরির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে ১ হাজার ২৮৪টি কম ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ৩ হাজার ২৫৫টি গাড়ি চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৯২৭। অর্থাৎ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে গাড়ি চুরির ঘটনা কমেছে ১৭ দশমিক ১ শতাংশ।   আগস্ট মাস পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটিতে মোট ৮ হাজার ৪৯টি গাড়ি চুরির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। শুধু আগস্ট মাসেই নথিভুক্ত হয় ১ হাজার ১৩৬টি ঘটনা। গত বছরের আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৫৬। সেই হিসাবে আগস্ট মাসে গাড়ি চুরির ঘটনা কমেছে ১৬ দশমিক ২ শতাংশ।   প্রথম নয় মাসের মোট হিসাব অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৩টি গাড়ি চুরির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। গাণিতিক হিসাবে প্রতি ৪৩ মিনিটের কিছু বেশি সময়ে একটি গাড়ি চুরির ঘটনার সমতুল্য। তবে এটি কেবল গড় হিসাব, প্রকৃত চুরির ঘটনাগুলোর মধ্যবর্তী সময়ের হিসাব নয়।   গাড়ি চুরি কমার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে ব্রঙ্কসে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ব্রঙ্কসে ২ হাজার ৪৫১টি গাড়ি চুরির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে সেখানে ৩ হাজার ৩৭৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। অর্থাৎ ব্রঙ্কসে গাড়ি চুরি কমেছে প্রায় ২৭ শতাংশ।   পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরোর মধ্যে শুধু ব্রঙ্কসেই গাড়ি চুরির ঘটনা বেড়েছিল। কিন্তু চলতি বছরে সেখানে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। শহরজুড়ে গাড়ি চুরির সামগ্রিক হার কমার ক্ষেত্রে ব্রঙ্কসের এই পরিবর্তন বড় ভূমিকা রেখেছে।   তবে গত বছরের তুলনায় গাড়ি চুরি কমলেও মহামারির আগের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের জননিরাপত্তাবিষয়ক শুনানিতে উপস্থাপিত নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের একই পর্যায়ে শহরে গাড়ি চুরির ঘটনা ছিল প্রায় ৩ হাজার ৬২৩টি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৮ হাজার ৫২৪টিতে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ২০১৯ সালের তুলনায় গাড়ি চুরির ঘটনা এখনো অনেক বেশি।   ওই শুনানিতে গাড়ি চুরি মোকাবিলায় পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানায়, কোন ধরনের গাড়ি বেশি চুরি হচ্ছে, কোন এলাকায় চুরির ঘটনা বেশি ঘটছে এবং চুরি হওয়া গাড়ি কোথায় উদ্ধার হচ্ছে, এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে ব্রঙ্কসে চুরি হওয়া অন্তত ৪২২টি গাড়ি নিউইয়র্ক সিটির বাইরে উদ্ধার করা হয়েছে। এ কারণে গাড়ি চুরির তদন্তে নিউইয়র্কের বাইরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   এদিকে শুধু গাড়ি চুরি নয়, নিউইয়র্ক সিটিতে সামগ্রিক গুরুতর অপরাধের সংখ্যাও কমেছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ৬ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সাতটি প্রধান অপরাধের শ্রেণিতে মোট ৮৬ হাজার ২৩টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৯২ হাজার ৫৭। অর্থাৎ গুরুতর অপরাধের ঘটনা কমেছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ।   একই সময়ে ডাকাতি কমেছে ১২ দশমিক ২ শতাংশ, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনায় চুরির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে প্রবেশের ঘটনা কমেছে ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বড় অঙ্কের সম্পদ চুরির ঘটনা কমেছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে গুরুতর শারীরিক হামলার ঘটনা সামান্য বেড়েছে। ফলে সব ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে একই রকম উন্নতি দেখা যায়নি।   নিউইয়র্কে বসবাসকারী গাড়ির মালিকদের জন্য এই পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত রাস্তার পাশে বা উন্মুক্ত পার্কিংয়ের স্থানে গাড়ি রাখেন, তাঁদের গাড়ির নিরাপত্তার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।   গাড়ি পার্ক করার পর দরজা ও জানালা ভালোভাবে বন্ধ রাখা, গাড়ির ভেতরে চাবি না রাখা এবং দৃশ্যমান স্থানে মূল্যবান জিনিসপত্র না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্টিয়ারিং হুইল আটকানোর তালা, চুরি প্রতিরোধী যন্ত্র এবং গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করার অনুসরণব্যবস্থা ব্যবহার করাও নিরাপত্তার জন্য সহায়ক হতে পারে।   গাড়ি চুরি হলে দ্রুত পুলিশের কাছে অভিযোগ করা এবং বিমা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিষয়টি জানানো জরুরি। পুলিশের কাছে অভিযোগ করার সময় গাড়ির নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য, নম্বরপ্লেটের নম্বর এবং গাড়ির শনাক্তকরণ নম্বর প্রয়োজন হতে পারে।   নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে গাড়ি চুরির ঘটনা গত বছরের তুলনায় কমলেও নয় মাসে ৯ হাজারের বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ফলে গাড়ির নিরাপত্তা এখনো শহরের বাসিন্দাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।পুলিশ জানিয়েছে, প্রকাশিত অপরাধের পরিসংখ্যান প্রাথমিক। পরবর্তী যাচাই ও সংশোধনের ভিত্তিতে এসব সংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:৪২
অ্যামাজনের একটি পণ্য বিতরণকেন্দ্রের বাইরে গুলিতে আহত হয়েছেন দুই কর্মী
নিউইয়র্কে অ্যামাজনের গুদামের সামনে গুলিবিদ্ধ দুই কর্মী, সন্দেহভাজনদের খুঁজছে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অ্যামাজনের একটি পণ্য বিতরণকেন্দ্রের বাইরে গুলিতে আহত হয়েছেন দুই কর্মী। স্থানীয় সময় রোববার, ১১ অক্টোবর রাতে রেড হুক এলাকার এ ঘটনায় আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। তবে কারা গুলি চালিয়েছে এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।    ঘটনাটি ঘটেছে রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ব্রুকলিনের রেড হুক এলাকায় বে স্ট্রিটে হিকস স্ট্রিট ও কলাম্বিয়া স্ট্রিটের মধ্যবর্তী স্থানে অ্যামাজনের বিতরণকেন্দ্রের বাইরে এ গুলির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ৭৬তম প্রিসিঙ্কটের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।    গুলিতে আহতদের মধ্যে রয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এক নারী ও ২৩ বছর বয়সী এক পুরুষ। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই নারী বুকে এবং পুরুষ কর্মী কাঁধে গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সর্বশেষ প্রকাশিত সংবাদে দুজনের অবস্থাই স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। তবে তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুলি চালানোর ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজন পালিয়ে গেছেন। তাঁরা একটি সাদা রঙের গাড়িতে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গাড়িটি নিসান আলটিমা হতে পারে বলে নিউজ ১২ ব্রুকলিনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রেড হুক স্টার-রিভিউ। তবে সন্দেহভাজনদের নাম-পরিচয় বা তাঁদের সঙ্গে আহতদের পূর্বপরিচয় ছিল কি না, তা নিশ্চিত হয়নি।    অ্যামাজন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ সহিংস ঘটনায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত এবং আহত কর্মীদের সহায়তায় মনোযোগ দিচ্ছে। তদন্তের জন্য নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি এবং দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পুলিশের প্রচেষ্টায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।   এখন পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে গুলি চালানোর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। এটি কর্মীদের লক্ষ্য করে চালানো হামলা, ব্যক্তিগত বিরোধ, নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে—তা নিশ্চিত করার মতো তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। তাই ঘটনাটিকে অ্যামাজনের কর্মীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা হিসেবে বর্ণনা করার আগে তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা প্রয়োজন।   নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ এ ঘটনায় তথ্য থাকলে Crime Stoppers-এর সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী বা অন্য কেউ তথ্য দিতে চাইলে ১-৮০০-৫৭৭-টিআইপিএস (৮৪৭৭) নম্বরে ফোন করতে পারবেন। স্প্যানিশ ভাষায় তথ্য দেওয়ার জন্য রয়েছে ১-৮৮৮-৫৭-পি আই এস টি এ (৭৪৭৮২) নম্বর। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফোনে দেওয়া তথ্য গোপন রাখা হয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:২৪
লিউকেমিয়া শনাক্তের পর দুই চিকিৎসক বোনের ভিডিও ভাইরাল
পরিবারে তৃতীয় ক্যানসারের আঘাত, লিউকেমিয়া শনাক্তের পর দুই চিকিৎসক বোনের ভিডিও ভাইরাল

ভারতের কেরালায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ৩৩ বছর বয়সী চিকিৎসক ডা. থারা কালারিক্কালের রক্তের ক্যানসার লিউকেমিয়া শনাক্ত হওয়ার পর তাঁর ছোট বোন ডা. চিত্রা কালারিক্কালের সঙ্গে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কঠিন রোগের খবর জানালেও দুই বোনের হাসিমুখ ও দৃঢ় মনোভাব অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ, মনোরমা অনলাইন ও মধ্যমমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার পর ডা. থারার লিউকেমিয়া শনাক্ত হয়। পরিবারের সদস্যদের আগে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার অভিজ্ঞতা থাকলেও নতুন করে এই রোগের খবর তাঁদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।   দুই বোনের ভিডিওতে ‘চেস্ট নম্বর ৩’ কথাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। এর মাধ্যমে তাঁরা পরিবারে তৃতীয় সদস্যের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। রোগের খবরটি তাঁরা যেভাবে স্বাভাবিক ও দৃঢ় ভঙ্গিতে প্রকাশ করেছেন, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।   ডা. থারা ও ডা. চিত্রার পরিবারের ক্যানসারের অভিজ্ঞতা বহুদিনের। তাঁদের নানি ও মা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে তাঁদের বড় বোন ডা. সূর্য কালারিক্কাল স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। তবে চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং বর্তমানে ক্যানসারজয়ী হিসেবে পরিচিত।   পরিবারের এই অভিজ্ঞতার কারণে ক্যানসার চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপ, রোগীর মানসিক চাপ এবং স্বজনদের উদ্বেগ সম্পর্কে তাঁদের প্রত্যক্ষ ধারণা রয়েছে। মায়ের চিকিৎসার সময় তাঁরা হাসপাতালে অনেকটা সময় কাটিয়েছেন। বড় বোনের চিকিৎসার সময়ও পরিবারের সদস্য হিসেবে পাশে ছিলেন।এবার ডা. থারার রোগ শনাক্ত হওয়ার পর সেই পুরোনো অভিজ্ঞতাগুলো আবার সামনে এসেছে। তবে দুই বোনের বক্তব্যে হতাশার পরিবর্তে রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং চিকিৎসার প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে।   মনোরমা অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়মিত রক্ত পরীক্ষায় কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা যাওয়ার পর ডা. থারার আরও পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষার সূত্র ধরেই লিউকেমিয়া শনাক্ত হয়।রোগের খবর প্রথমে তাঁদেরও উদ্বিগ্ন করেছিল। ডা. চিত্রা জানিয়েছেন, পরীক্ষার ফলাফল আসার অপেক্ষার সময় উদ্বেগ ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে একের পর এক পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করাটা কঠিন ছিল।   প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাঁরা অস্থিমজ্জার পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন। বিস্তারিত পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর চিকিৎসা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা।তবে ডা. থারার লিউকেমিয়ার নির্দিষ্ট ধরন, রোগের পর্যায় এবং চিকিৎসার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর চিকিৎসার ফলাফল সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   ডা. চিত্রার বক্তব্যে উঠে এসেছে, ক্যানসার শনাক্ত হলে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। কিন্তু শুধু ভয় ও হতাশার মধ্যে আটকে না থেকে রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই গুরুত্বপূর্ণ।তাঁদের পরিবারে আগে ক্যানসারের অভিজ্ঞতা থাকায় রোগটির কঠিন দিকগুলো তাঁরা জানেন।   একই সঙ্গে তাঁরা মনে করেন, ক্যানসার শনাক্ত হওয়া মানেই জীবনের সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। রোগের ধরন ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসার সুযোগ থাকে।তাঁরা ক্যানসারকে তুচ্ছ করে দেখানোর চেষ্টা করছেন না। বরং রোগের গুরুত্ব স্বীকার করেই মানসিকভাবে শক্ত থাকা এবং চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত হওয়ার বার্তা দিয়েছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের খবর সাধারণত উদ্বেগ ও শোকের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ডা. থারা ও ডা. চিত্রা তাঁদের ভিডিওতে হাসিমুখে পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন। এই ভিন্নধর্মী উপস্থাপন দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে।   মনোরমা অনলাইনকে দেওয়া বক্তব্যে ডা. চিত্রা জানান, ভিডিওটি প্রকাশের একটি উদ্দেশ্য ছিল ক্যানসার নিয়ে মানুষের ভয় ও সামাজিক সংকোচ কমানো। অনেকেই ভয় বা অস্বস্তির কারণে রোগের কথা প্রকাশ করতে চান না। অথচ সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   তাঁদের ভিডিও দেখার পর কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর কথা জানিয়েছেন বলেও ডা. চিত্রা উল্লেখ করেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা অন্যদের কাজে এসেছে—এমন প্রতিক্রিয়া পেয়ে তাঁরা আনন্দিত।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:৫
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন এলাকার বাসায়
ইলহান ওমরের বাসায় ফেডারেল তল্লাশি, তদন্ত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন এলাকার বাসায় সোমবার, ১২ অক্টোবর, ফেডারেল তদন্তকারীরা তল্লাশি চালিয়েছেন। আদালতের অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত এ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। তবে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ কারণ, কী কী নথি বা সামগ্রী খোঁজা হয়েছে এবং তল্লাশিতে কী পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।    মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, তল্লাশিটি ভোরের দিকে পরিচালিত হয়। তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার তদন্ত বিভাগ—হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস—নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং বিচার বিভাগ সহায়তা করছে। তদন্তের সঙ্গে ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্রের বিষয়টি জড়িত বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের বরাতে জানিয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিবৃতিতে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেওয়া হয়নি।    মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের পঞ্চম কংগ্রেসনাল জেলার প্রতিনিধিত্ব করেন ইলহান ওমর। ২০১৮ সালে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হন তিনি। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ওমর কিশোর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং পরে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেন। তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল ধারার পরিচিত মুখ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের নীতির কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত।    ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত অতীত নথি নিয়ে রিপাবলিকান নেতাদের অভিযোগ নতুন নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে অভিবাসনসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন। তবে এসব অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। ওমর অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সোমবারের তল্লাশির পরও বিচার বিভাগ প্রকাশ্যে এমন কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি যে তিনি অপরাধ করেছেন।   তল্লাশির সময়টি নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যেখানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভোটারদের রায় গুরুত্বপূর্ণ হবে। ওমরও পুনর্নির্বাচনের প্রার্থী। নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে একজন নির্বাচিত আইনপ্রণেতার বাসায় এ ধরনের তল্লাশি পরিচালিত হওয়ায় ডেমোক্র্যাটিক নেতারা তদন্তের সময় ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।   মার্কিন বিচার বিভাগের দীর্ঘদিনের নীতিতে নির্বাচনের ঠিক আগে এমন আইন প্রয়োগমূলক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার বিষয়ে সতর্কতা রয়েছে, বিশেষ করে কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী সম্ভাবনায় প্রভাব পড়তে পারে এমন পরিস্থিতিতে। তবে এই নীতি থাকলেই আদালতের অনুমোদনে পরিচালিত প্রতিটি তল্লাশি অবৈধ হয়ে যায় না। এ ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, তল্লাশিটি চলমান ফেডারেল তদন্তের অংশ এবং আদালতের অনুমোদন নিয়েই পরিচালিত হয়েছে।    তল্লাশির পর ওমর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তাঁকে চুপ করিয়ে দেওয়া যাবে না। অন্যদিকে, প্রশাসনের কর্মকর্তারা তদন্তের বিষয়ে আগে কথা বললেও অভিযানের পরও এর বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে তদন্তের প্রকৃত পরিধি এবং অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।    ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার স্বাধীনতা, নির্বাচনের আগে তদন্তের নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের জবাবদিহি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নেওয়া ঠিক হবে না। তদন্তকারীদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, আদালতের নথি এবং ওমরের পক্ষের পরবর্তী বক্তব্যের ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৩:৪২
নার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিভাজন বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে।   দ্য ডেইলি স্টারের ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে প্রথম ইউনিটে এই বিক্রিয়া শুরু হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর কমিশনিং দল প্রক্রিয়াটি শুরু করে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন কারিগরি পরিমাপক নির্ধারিত সীমার মধ্যে ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানির পরমাণু বিভাজনের মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন হয়। এই তাপ ব্যবহার করে পানি থেকে উচ্চচাপের বাষ্প তৈরি করা হয়। বাষ্পের চাপে টারবাইন ঘোরে এবং টারবাইনের সঙ্গে যুক্ত জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।   চুল্লিতে স্বনির্ভর পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া স্থিতিশীলভাবে বজায় থাকার প্রাথমিক পর্যায়কে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ বলা হয়। রূপপুরের প্রথম ইউনিট এখন এই পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তবে বিক্রিয়া শুরু হওয়া মানেই বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হয়ে যাওয়া নয়।   প্রথম ইউনিটের বিক্রিয়া শুরুর আগে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ৮ অক্টোবর বি-২ পর্যায়ের অনুমোদন দেয়। এর আগে কমিশনিংয়ের সময় স্বয়ংক্রিয় চাপমুক্তকারী নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় সমস্যা দেখা দিয়েছিল। রুশ বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তায় সমস্যাগুলো সমাধান এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।   এখন চুল্লির বিভিন্ন পরামাপক, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন চলতে পারে বলে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে। পরীক্ষার ফল অনুযায়ী ধাপে ধাপে তাপীয় ক্ষমতা বাড়ানো হবে।   রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ার প্রযুক্তিতে নির্মিত দুটি ভিভিইআর-১২০০ ধরনের পারমাণবিক চুল্লি রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের পরিকল্পিত উৎপাদনক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে মোট উৎপাদনক্ষমতা হবে ২৪০০ মেগাওয়াট।   দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে প্রথম ইউনিট থেকে ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি একটি লক্ষ্যমাত্রা, নিশ্চিত সময়সূচি নয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই ও অনুমোদনের অগ্রগতির ওপর প্রকৃত সময় নির্ভর করবে।   বাংলাদেশে শিল্পকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। রূপপুরের ইউনিটগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে।   পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির পরিমাণের তুলনায় বিপুল শক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে প্রকল্পের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে নিরাপদ পরিচালনা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদিত বিদ্যুতের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ওপর।   একই সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় কঠোর নিরাপত্তা মান বজায় রাখা জরুরি। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়া নিঃসন্দেহে বড় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি। তবে প্রকল্পের সাফল্য চূড়ান্তভাবে মূল্যায়ন করতে হলে দেখতে হবে, বাকি কমিশনিং ধাপগুলো কতটা নিরাপদে সম্পন্ন হয়, কখন জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হয় এবং বাস্তবে কতটা উৎপাদনক্ষমতা অর্জিত হয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৩:২৫
যুবরাজকে গোপন প্রাসাদে স্থানান্তরের গুঞ্জন নিয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ছবি: সংগৃহীত
হামলা ও তীব্র উত্তেজনার কারণে সৌদি যুবরাজকে বাঙ্কারযুক্ত প্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে বাঙ্কারযুক্ত কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত প্রাসাদগুলোর মধ্যে স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় ১৩ জন নিহত ও অন্তত ৩০০ জন আহত হওয়ার পর দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর মধ্যেই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে বিদেশি মিত্রদের সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। তবে যুবরাজকে স্থানান্তরের বিষয়টি সৌদি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য উদ্ধৃত করে সোমবার (১২ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ৪১ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজকে বাঙ্কারযুক্ত একাধিক সুরক্ষিত প্রাসাদের মধ্যে স্থানান্তর করা হচ্ছে। তাঁর চলাফেরা সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য বিশেষভাবে নির্বাচিত একটি দলও তাঁর সঙ্গে রয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবারের পর থেকে মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। সেদিন তিনি একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। এরপর থেকে তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।   তবে যুবরাজ বর্তমানে ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, কোন কোন প্রাসাদে তাঁকে নেওয়া হয়েছে কিংবা এই বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা কত দিন চলবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে মন্তব্য জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে দ্য ইনডিপেনডেন্ট।   সৌদি আরবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। শনিবার (১০ অক্টোবর) সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত এবং অন্তত ৩০০ জন আহত হন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে সৌদি আরবে এটিকে অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিমানবন্দরটিতে কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিক হামলা হয়েছে। দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ দিনের মধ্যে চারবার বিমানবন্দরটি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। সপ্তাহান্তে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।   বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রিয়াদ বিমানবন্দরের নির্ধারিত ফ্লাইটগুলোর প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা ছিল। বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় যাত্রী পরিবহন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।   এদিকে হুতি বিদ্রোহীরা বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। গোষ্ঠীটির একজন মুখপাত্র সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে আরও হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।   সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান বলেছেন, হামলার গুরুত্ব বিবেচনায় দেশটির প্রতিক্রিয়াও সমানভাবে কঠোর হবে। তবে সৌদি সরকার পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি।   অন্যদিকে সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন হামলা প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা ধরে রাখা দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব বিদেশি মিত্রদের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষায় সহায়তা চেয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে রিয়াদ।   গত মাসেই এই সহায়তার অনুরোধ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। কর্মকর্তাদের একজন জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমেছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক হামলায় যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   সৌদি আরবের মক্কা চুক্তির মিত্ররাও দেশটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে মিত্রদেশগুলোর সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।   সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সংঘাত দীর্ঘদিনের। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে দেশটির গৃহযুদ্ধে সামরিকভাবে অংশ নেয় সৌদি আরব।   ২০২২ সালে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায় বলে দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   হুতিদের অভিযোগ, ইরান থেকে আসা একটি উড়োজাহাজ সানার বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা করার সময় সৌদি বাহিনী সেখানে হামলা চালিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরু করার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।   ইরানসমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের অন্যতম সশস্ত্র মিত্র হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আরব উপদ্বীপের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘাত আরও বাড়লে তা ইসরায়েলের স্বার্থেই কাজে আসবে।   এদিকে রোববার রাতে সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, শুধু সামরিক সমাধানের ওপর নির্ভর না করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে তেহরান সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।   সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা, আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ এবং যুবরাজের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের খবর এমন সময় সামনে এসেছে, যখন ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে।   তবে মোহাম্মদ বিন সালমানকে বাঙ্কারযুক্ত প্রাসাদে স্থানান্তরের তথ্য এখনো সংবাদমাধ্যমের সূত্রভিত্তিক। সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। ফলে তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থায় পরিবর্তনের খবর এবং সরকারের নিশ্চিত সিদ্ধান্তকে পৃথকভাবে বিবেচনা করতে হবে।   সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৩:১০
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার বিল তৈরি, রোগীর আর্থিক সক্ষমতা যাচাই ও ঋণ আদায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বিলিং ডেস্কে বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা ঋণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার বিল তৈরি, রোগীর আর্থিক সক্ষমতা যাচাই এবং বকেয়া চিকিৎসা ঋণ আদায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। চিকিৎসকের কক্ষে রোগীর কথোপকথন থেকে তথ্য সংগ্রহ, চিকিৎসাসেবার বিল নির্ধারণ এবং বকেয়া পরিশোধের বার্তা পাঠানোর কাজেও যুক্ত হচ্ছে এই প্রযুক্তি। এর মধ্যেই স্বাস্থ্যবিমার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন কমানোর কারণে আগামী বছরগুলোতে আরও বেশি মানুষ চিকিৎসার ঋণের চাপে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার বিল ও ঋণ আদায়ের প্রচলিত ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন আসছে। হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ, বিল প্রস্তুত এবং অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া সহজ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করছে।   আরবান ইনস্টিটিউট ও রবার্ট উড জনসন ফাউন্ডেশনের একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের একজনের বেশি চিকিৎসাসংক্রান্ত ঋণ থাকার কথা জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যবিমা থাকা ব্যক্তিদের মধ্যেও প্রায় প্রতি চারজনের একজনের চিকিৎসার ঋণ রয়েছে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যবিমা থাকলেও অনেক আমেরিকান চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহন করতে পারছেন না।   ন্যাশনাল কনজিউমার ল সেন্টারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এপ্রিল কুয়েনহফ বলেছেন, আগামী বছরগুলোতে স্বাস্থ্যবিমা থাকা এবং না থাকা উভয় ধরনের মানুষের চিকিৎসার ঋণ বাড়তে পারে। কারণ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনায় চিকিৎসার খরচের বড় অংশ রোগীদের নিজেদের বহন করতে হচ্ছে।   তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কেউ বিমার খরচ বহন করতে না পেরে কভারেজ হারাতে পারেন। আবার কেউ নতুন কঠোর শর্ত পূরণ করতে না পারায় বিমার সুবিধা থেকে বাদ পড়তে পারেন। অন্যদিকে যাঁরা বিমা ধরে রাখতে পারবেন, তাঁদেরও বেশি ডিডাক্টিবল, কো-পে এবং নিজের পকেট থেকে অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্তও এই পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্টের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে ফেডারেল ব্যয় প্রায় এক লাখ কোটি ডলার কমানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এর সঙ্গে ওবামাকেয়ারের স্বাস্থ্যবিমা বাজারে অতিরিক্ত ভর্তুকির মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত যুক্ত হলে বিমাবিহীন মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেএফএফের হিসাব অনুযায়ী, এসব নীতিগত পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে ২০৩৪ সালের মধ্যে প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ অতিরিক্ত মানুষ স্বাস্থ্যবিমার বাইরে চলে যেতে পারেন। তবে এটি ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির পূর্বাভাস, ইতিমধ্যে বিমা হারানো মানুষের সংখ্যা নয়।   স্বাস্থ্যবিমাবিহীন মানুষের সংখ্যা বাড়লে হাসপাতালের অনাদায়ী বিলও বাড়তে পারে। চিকিৎসা নেওয়ার পর রোগী অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে সেই খরচ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হয়। স্বাস্থ্য খাতে এই পরিস্থিতিকে অনাদায়ী চিকিৎসাসেবার ব্যয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।   আরবান ইনস্টিটিউটের একটি হিসাবে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যনীতি পরিবর্তনের ফলে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত অনাদায়ী চিকিৎসাসেবার ব্যয় ২৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক চাপে থাকা হাসপাতালগুলো বকেয়া অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার চেষ্টা করতে পারে।   এই সুযোগে চিকিৎসার বিল ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বাড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে সিডার নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যেটি হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীদের বিল তৈরি, রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা পরিচালনায় প্রযুক্তি ব্যবহার করে।   সিডারের প্রধান কৌশল কর্মকর্তা ডুগান উইঙ্কি জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যবিমাবিহীন এবং মেডিকেইড পাওয়ার যোগ্য রোগীদের নিয়ে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি রোগীদের বিমা পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করার পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী বিল পরিশোধের সুবিধা সম্পর্কে জানায়।   সিডারের প্রযুক্তিতে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য ব্যবহার করে রোগীর বিল পরিশোধের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট রোগীর জন্য ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।   প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, একজন একক মায়ের ১০ হাজার ডলারের চিকিৎসার বিল এবং উচ্চ আয়ের একজন কর্মকর্তার ৫০ ডলারের কো-পে একইভাবে বিবেচনা করা উচিত নয়। রোগীর আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগাযোগ ও পরিশোধের ব্যবস্থা আলাদা করার চেষ্টা করে প্রতিষ্ঠানটি।   সিডার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি কথোপকথন ব্যবস্থাও ব্যবহার করছে, যার নাম কোরা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রোগীরা চিকিৎসার বিল নিয়ে প্রশ্ন করতে এবং অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত তথ্য জানতে পারেন। এতে হাসপাতালের বিল বিভাগে সরাসরি ফোন করার প্রয়োজন কমানো সম্ভব বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি।   তবে রোগীর আর্থিক সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিভেদে আলাদা ছাড় নির্ধারণের বিষয়টি নতুন প্রশ্নও তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন এর আগে ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে পণ্য বা সেবার দাম নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চিকিৎসার বিল আদায়ে একই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা স্বচ্ছ, সেটিও আলোচনায় এসেছে।   এদিকে চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর কথোপকথন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি তৈরি এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে বিল নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়েও বিতর্ক চলছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কিছু ব্যবস্থা চিকিৎসকের কক্ষে কথোপকথন শুনে তা লিখিত নথিতে রূপান্তর করে। পরে সেই নথি ও রোগীর চিকিৎসার ইতিহাস বিশ্লেষণ করে বিলের জন্য প্রয়োজনীয় কোডের পরামর্শ দেয়।   ২০২৬ সালের বসন্তে ব্লু ক্রস ব্লু শিল্ড অ্যাসোসিয়েশনের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সন্তান জন্মদানের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জন্য রোগীদের বিল দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। অথচ একই সময়ে রক্ত দেওয়ার হারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি।   বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নথি তৈরি ও কোড নির্ধারণের ব্যবস্থা হাসপাতালের বিলের পরিমাণ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত তাদের আরেকটি বিশ্লেষণে দাবি করা হয়, এ ধরনের প্রযুক্তির কারণে এক বছরে স্বাস্থ্যসেবার খরচ অতিরিক্ত ১০০ কোটি ডলার বেড়েছে।   তবে হাসপাতালগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী আমেরিকান হসপিটাল অ্যাসোসিয়েশন এই ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, বিলের কোড ব্যবহারের পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণ থেকে হাসপাতালগুলো ভুলভাবে বিল তৈরি করছে কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে অযৌক্তিক খরচ বাড়ছে, তা প্রমাণিত হয় না।   অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিকিৎসার নথি তৈরির সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিলের নির্ভুলতা বাড়ানোর দাবি করছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে, তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে চিকিৎসকপ্রতি বছরে অতিরিক্ত ১৩ হাজার ডলার আয় তৈরি হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, আরও নির্ভুলভাবে চিকিৎসাসেবার কোড নির্ধারণের মাধ্যমে এই আয় সম্ভব।   শুধু হাসপাতাল নয়, স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু বিমা প্রতিষ্ঠান অ্যালগরিদম ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবার অনুমোদন বিলম্বিত কিংবা প্রত্যাখ্যান করছে। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ভূমিকা একইভাবে প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ারও কিছু চিকিৎসাসেবার আগাম অনুমোদন যাচাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবহৃত পদ্ধতির সঙ্গে এই উদ্যোগের মিল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার বিল তৈরি থেকে বকেয়া অর্থ আদায় পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই ব্যবস্থাকে বিল ব্যবস্থাপনা সহজ করা এবং অর্থ আদায়ের কার্যকারিতা বাড়ানোর উপায় হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে রোগীদের আর্থিক চাপ, বিলের নির্ভুলতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভোক্তা অধিকারকর্মী ও স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষকেরা।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১২:৪৮
যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ক্যানসার শনাক্তের হার বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকেরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের মধ্যে বাড়ছে ক্যানসার, পুরুষদের তুলনায় নারীদের আক্রান্তের হার বেশি

যুক্তরাষ্ট্রে তরুণ ও মধ্যবয়সীদের মধ্যে ক্যানসার শনাক্তের হার বাড়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকেরা। ২০০০ সালের পর থেকে দেশটিতে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ক্যানসার শনাক্তের হার প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে বলে ওয়াশিংটন পোস্টের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই বয়সের পুরুষদের তুলনায় নারীদের ক্যানসার শনাক্তের হার ৮৩ শতাংশ বেশি বলে প্রতিবেদনের সারাংশে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে স্তন, থাইরয়েড ও কোলোরেক্টাল ক্যানসারের প্রবণতা নিয়ে গবেষকেরা অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। তবে নারী ও পুরুষের মধ্যে ৮৩ শতাংশ পার্থক্যের হিসাবটি মূল তথ্যসারণি থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অনুসন্ধানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্যানসারের পরিবর্তিত প্রবণতা তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন গবেষণা ও সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে মিলেনিয়াল এবং অপেক্ষাকৃত কম বয়সী প্রজন্মের মধ্যে কিছু ধরনের ক্যানসার আগের তুলনায় বেশি শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।   গবেষকেরা বোঝার চেষ্টা করছেন, কেন আগের প্রজন্মের তুলনায় কিছু মানুষের অপেক্ষাকৃত কম বয়সে ক্যানসার শনাক্ত হচ্ছে। খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশদূষণ, রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ, ঘুমের অনিয়ম এবং আধুনিক জীবনযাত্রার বিভিন্ন পরিবর্তন এর পেছনে ভূমিকা রাখছে কি না, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে এসব সম্ভাব্য কারণের সবগুলোর সঙ্গে ক্যানসার বৃদ্ধির সরাসরি সম্পর্ক এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে ক্যানসার নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সাধারণভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ফলে বয়স্কদের তুলনায় তরুণদের সামগ্রিক ক্যানসার ঝুঁকি এখনো অনেক কম। কিন্তু কম বয়সীদের মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসার বৃদ্ধির প্রবণতা চিকিৎসক ও গবেষকদের নতুন করে ভাবাচ্ছে।   আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির গবেষকেরা ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখিয়েছেন, ৩৪ ধরনের প্রচলিত ক্যানসারের মধ্যে ১৭টির ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত পরবর্তী জন্মপ্রজন্মগুলোতে আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়েছে। বিশেষ করে কিডনি, অগ্ন্যাশয়, ক্ষুদ্রান্ত্র এবং পরিপাকতন্ত্রের কিছু ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।   গবেষণায় জন্মপ্রজন্মভিত্তিক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অর্থাৎ একই বয়সে বিভিন্ন সময়ে জন্ম নেওয়া মানুষের ক্যানসার শনাক্তের প্রবণতা তুলনা করেছেন গবেষকেরা। এতে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে, নতুন প্রজন্মের মানুষেরা আগের প্রজন্মের তুলনায় ভিন্ন ধরনের পরিবেশগত বা জীবনযাত্রার ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন কি না।   নারীদের মধ্যে ক্যানসার শনাক্তের হার বেশি হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে স্তন ও থাইরয়েড ক্যানসার এই পার্থক্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সব ধরনের ক্যানসারে নারীদের ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় বেশি, এমন নয়। ক্যানসারের ধরন, বয়স এবং অন্যান্য ঝুঁকির ওপর নারী ও পুরুষের আক্রান্ত হওয়ার হার ভিন্ন হতে পারে।   স্তন ক্যানসার নারীদের মধ্যে বহুল শনাক্ত হওয়া ক্যানসারগুলোর একটি। অন্যদিকে থাইরয়েড ক্যানসারও নারীদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি শনাক্ত হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে উন্নত পরীক্ষা ও রোগ শনাক্তের পদ্ধতির কারণে বেশি ক্যানসার ধরা পড়তে পারে। ফলে শনাক্তের হার বৃদ্ধির পেছনে প্রকৃত রোগ বৃদ্ধি এবং পরীক্ষার প্রভাব আলাদাভাবে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।   কোলোরেক্টাল ক্যানসার বা বৃহদন্ত্র ও মলাশয়ের ক্যানসার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অপেক্ষাকৃত কম বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এই ক্যানসারের হার বৃদ্ধির প্রবণতা আগের বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকেরা এর পেছনে খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, অন্ত্রের জীবাণুর পরিবেশ এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধান করছেন।   আধুনিক খাদ্যাভ্যাসকে গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আল্ট্রা-প্রসেসড বা অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহার মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন।   এ ধরনের খাবারের সঙ্গে স্থূলতা, বিপাকীয় পরিবর্তন এবং অন্ত্রের জীবাণুর ভারসাম্য পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে। এসব পরিবর্তন কিছু ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত কি না, তা গবেষণার বিষয়। তবে শুধু প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার কারণেই তরুণদের মধ্যে ক্যানসার বাড়ছে, এমন সিদ্ধান্ত এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা কৃত্রিম রাসায়নিক পদার্থ নিয়েও গবেষণা চলছে। দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন পণ্য, প্লাস্টিক এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ মানবদেহে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।   বিশেষ করে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে। অত্যন্ত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তবে এই কণাগুলো সরাসরি তরুণদের ক্যানসার বৃদ্ধির কারণ, এমন বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   ঘুমের অনিয়ম এবং শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়ির পরিবর্তনও গবেষণার আওতায় রয়েছে। রাতের শিফটে কাজ, অনিয়মিত ঘুম এবং দীর্ঘ সময় কৃত্রিম আলোয় থাকার ফলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পরিবর্তন আসতে পারে।   গবেষকেরা এসব পরিবর্তনের সঙ্গে ক্যানসারের সম্ভাব্য সম্পর্ক পরীক্ষা করছেন। তবে সাধারণ ঘুমের অনিয়ম এবং নির্দিষ্ট ধরনের দীর্ঘমেয়াদি রাতের শিফটে কাজের ঝুঁকিকে একইভাবে বিবেচনা করা যায় না।   এ ছাড়া গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে বিভিন্ন পদার্থের সংস্পর্শ এবং শৈশবের পরিবেশগত পরিস্থিতি ভবিষ্যতে ক্যানসারের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করতে পারে কি না, সেটিও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।   ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীদের আলোচনায় গর্ভাবস্থায় ব্যবহৃত কিছু পুরোনো ওষুধের সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের বিষয়টিও উঠে এসেছে। তবে সব ধরনের মাতৃকালীন ওষুধকে ক্যানসারের ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বন্ধ করারও ভিত্তি নেই।   গবেষকেরা মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবেশগত সংস্পর্শের সম্মিলিত প্রভাব বোঝার চেষ্টা করছেন। গবেষণার ভাষায় এই ধারণাকে বলা হয় এক্সপোজোম। এর মধ্যে গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে শৈশব, কৈশোর এবং প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের বিভিন্ন পরিবেশগত প্রভাব অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এই পদ্ধতির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা জানতে চান, দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্যাভ্যাস, রাসায়নিক পদার্থ, দূষণ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন মানুষের শরীরে কী ধরনের প্রভাব তৈরি করে। তবে এসব উপাদানের কোনটি কতটা দায়ী, তা নির্ধারণ করা জটিল।   এদিকে চিকিৎসকেরা তরুণদের ক্যানসারের সম্ভাব্য উপসর্গ সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন, মলে রক্ত, অকারণ ওজন কমে যাওয়া, অস্বাভাবিক রক্তপাত কিংবা শরীরে নতুন কোনো চাকা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   তবে এসব উপসর্গ দেখা দিলেই ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। বিভিন্ন সাধারণ রোগের কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ ঝুঁকির নারীদের জন্য ৪০ বছর বয়স থেকে নিয়মিত ম্যামোগ্রাম পরীক্ষার সুপারিশ রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ ঝুঁকির প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৪৫ বছর বয়স থেকে কোলোরেক্টাল ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের সুপারিশ করা হয়।   তবে যাঁদের পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে কিংবা বিশেষ ঝুঁকির কারণ আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আরও আগে পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। একইভাবে সবার জন্য একই ধরনের পরীক্ষা উপযুক্ত নয়।   গবেষকেরা জানিয়েছেন, তরুণদের মধ্যে কিছু ক্যানসারের হার বাড়লেও সব ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রে একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। কিছু ক্যানসারের হার কমেছে। আবার উন্নত চিকিৎসা, আগাম শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কারণে অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুহারও কমেছে।   ফলে ক্যানসার শনাক্তের হার বৃদ্ধি এবং ক্যানসারে মৃত্যুর হার বৃদ্ধিকে এক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। কোনো নির্দিষ্ট বয়সের মানুষের মধ্যে বেশি ক্যানসার শনাক্ত হওয়া মানেই সেই বয়সের মানুষের মৃত্যুঝুঁকি একই হারে বেড়েছে, এমন নয়।   ওয়াশিংটন পোস্টের আলোচিত অনুসন্ধানটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হয়েছিল। তাই এটিকে ২০২৬ সালের নতুন গবেষণা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। একইভাবে ২০০০ সালের পর থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধির হিসাব দীর্ঘ সময়ের পরিবর্তন নির্দেশ করে, সাম্প্রতিক এক বছরের বৃদ্ধি নয়।   গবেষকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কিছু ক্যানসার বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশগত সংস্পর্শ, জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।   তবে এখন পর্যন্ত তরুণদের মধ্যে ক্যানসার বৃদ্ধির জন্য একক কোনো কারণ নিশ্চিত করা যায়নি। বিজ্ঞানীরা এই পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ শনাক্ত এবং ভবিষ্যতে ঝুঁকি কমানোর উপায় খুঁজতে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১২:১৮
মৃত গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ চুরির অভিযোগে আইওয়ার ক্রেডিট ইউনিয়নের কর্মী আমান্ডা এন টিনচারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
মারা গেছেন ছয় গ্রাহক, তবু অ্যাকাউন্ট থেকে ২৮ হাজার ডলার উধাও! গ্রেপ্তার ব্যাংককর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে মৃত ছয় গ্রাহকসহ মোট সাতজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ২৮ হাজার ডলারের বেশি চুরির অভিযোগে একটি ক্রেডিট ইউনিয়নের নারী কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৩৮ বছর বয়সী আমান্ডা এন টিনচারের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরিয়ে নিজের নামে চেক তৈরি, ব্যক্তিগত ক্যাশঅ্যাপে অর্থ স্থানান্তর এবং নগদ অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে সাতটি অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ২৮ হাজার ৩২৬ ডলার ২৮ সেন্ট সরানোর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছয়টি অ্যাকাউন্টের মালিক মারা গিয়েছিলেন এবং অন্য একজন জীবিত ছিলেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম কেডব্লিউকিউসির ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমান্ডা টিনচার আইওয়ার আইএইচ মিসিসিপি ভ্যালি ক্রেডিট ইউনিয়নে কর্মরত ছিলেন। তিনি ডেভেনপোর্ট শহরের বাসিন্দা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেটেনডর্ফ পুলিশ তাঁকে চুরি, প্রতারণা এবং ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডসহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। তবে ওই দিন বিকেলেই জামিনে মুক্তি পান তিনি।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয় গত ২ জুলাই। ওই দিন ক্রেডিট ইউনিয়নের একজন কর্মকর্তা বেটেনডর্ফ পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী মৃত একজন গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে একাধিক সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। বিষয়টি জানার পর পুলিশ সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা শুরু করে।   তদন্তকারীদের দাবি, আমান্ডা মৃত ওই গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন সময় অর্থ উত্তোলন করেন। পাশাপাশি নিজের নামে একাধিক ক্যাশিয়ার্স চেক তৈরি এবং ব্যক্তিগত ক্যাশঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করেন। ক্যাশিয়ার্স চেক হলো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ইস্যু করা বিশেষ ধরনের চেক, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হয়।   পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, শুধু ওই একটি অ্যাকাউন্ট থেকেই ২১ হাজার ২৭৯ ডলার ৫১ সেন্ট সরানো হয়েছিল। অ্যাকাউন্টটির মালিক মারা যাওয়ার পর এসব সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   এরপর ৩ জুলাই ক্রেডিট ইউনিয়নের কার্যালয়ে আমান্ডার সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তাঁকে সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই সময় তিনি মন্তব্য করেন, কী করা হয়েছে, তা বেশ পরিষ্কার।   তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া এই বক্তব্যকে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অপরাধ স্বীকারের সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।   পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় আমান্ডা অন্য কোনো গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ক্রেডিট ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় আরও ছয়টি অ্যাকাউন্টে একই ধরনের সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়।   আদালতের নথি অনুযায়ী, সব মিলিয়ে সাতটি অ্যাকাউন্টে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছয়টি অ্যাকাউন্টের মালিক মারা গিয়েছিলেন। অন্য অ্যাকাউন্টটির মালিক জীবিত ছিলেন। এসব অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ২৮ হাজার ৩২৬ ডলার ২৮ সেন্ট সরানোর অভিযোগ রয়েছে আমান্ডার বিরুদ্ধে।   তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের অভিযোগ, মৃত একজন গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ হারানোর বিষয়টি তাঁর উত্তরাধিকারীরা বুঝতে পারার পর আমান্ডা সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করেন।   এ জন্য তিনি জীবিত একজন গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরিয়ে মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেন বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, আগের লেনদেনের কারণে তৈরি হওয়া অর্থের ঘাটতি আড়াল করতেই এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল।   অর্থাৎ শুধু মৃত ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরানোর অভিযোগই নয়, অন্য গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আগের লেনদেন ঢাকার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।   পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, একাধিক অ্যাকাউন্টে একই ধরনের লেনদেন হওয়ার কারণে ঘটনাটি ধারাবাহিক আর্থিক অপরাধের অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ঠিক কত দিন ধরে এসব লেনদেন চলেছিল, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।   তদন্ত শেষে আমান্ডার বিরুদ্ধে প্রথম মাত্রার চুরি, ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং প্রথম মাত্রার প্রতারণামূলক কার্যক্রমের অভিযোগ আনা হয়েছে। আইওয়ার আইনে এসব অভিযোগ গুরুতর অপরাধ বা ফেলনি হিসেবে বিবেচিত।   এ ছাড়া দ্বিতীয় মাত্রার চুরি এবং দ্বিতীয় মাত্রার প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি তৃতীয় মাত্রার চুরির চারটি এবং তৃতীয় মাত্রার প্রতারণার চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এগুলো গুরুতর মিসডিমিনার অপরাধের আওতায় পড়ে।   তাঁর বিরুদ্ধে পঞ্চম মাত্রার চুরি এবং পঞ্চম মাত্রার প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন মাত্রার চুরি ও প্রতারণাসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।   শুক্রবার পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর ওই দিন বিকেলে জামিনে মুক্তি পান আমান্ডা। আদালতের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তাঁর প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   তবে আমান্ডা আদালতে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী অবস্থান নিয়েছেন কিংবা তাঁর আইনজীবী কোনো বক্তব্য দিয়েছেন কি না, সে সম্পর্কেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে তথ্য পাওয়া যায়নি।   এদিকে ক্রেডিট ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হওয়ার পর পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য এবং পরবর্তী অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।   তবে ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাকাউন্টগুলোর অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা মৃত গ্রাহকদের উত্তরাধিকারীরা তাঁদের প্রাপ্য অর্থ ফিরে পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   একইভাবে অভিযুক্ত কর্মী কীভাবে এসব অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থার কোন পর্যায়ে অনিয়ম ঘটেছিল, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   আইওয়ার এই ঘটনায় মৃত ব্যক্তিদের আর্থিক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরানোর অভিযোগের পাশাপাশি জীবিত গ্রাহকের অর্থ ব্যবহার করে আগের লেনদেন আড়াল করার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তদন্তে সাতটি অ্যাকাউন্টে মোট ২৮ হাজার ডলারের বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।   বর্তমানে আমান্ডা টিনচার জামিনে মুক্ত রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১২:১
কঠোর ভিসা নীতির কারণে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রস্তাব প্রত্যাহার করছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রস্তাব ফিরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাজ্যের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়

কঠোর ভিসা নীতির কারণে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়াসহ কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীদের দেওয়া ভর্তি প্রস্তাব প্রত্যাহার করছে যুক্তরাজ্যের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি হারানোর ঝুঁকি এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো এ পদক্ষেপ নিচ্ছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ১২ অক্টোবর দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে যাওয়ায় কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট দেশ থেকে শিক্ষার্থী নেওয়া কমিয়েছে বা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে।    যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের তথ্য নিয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন প্রত্যাহারের হার দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশে। আগের বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ। পাকিস্তানি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে তা ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ। নাইজেরিয়ার আবেদনকারীদের প্রত্যাহারের হার ছিল ২২ দশমিক ৭ শতাংশ।    তবে আবেদন প্রত্যাহার ও ভিসা প্রত্যাখ্যান আলাদা বিষয়। ভিসা প্রত্যাখ্যান হলে কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত দেয়। অন্যদিকে আবেদন প্রত্যাহার হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যায়। আবেদনকারী নিজে আবেদন তুলে নিতে পারেন, আবার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তাব বা প্রয়োজনীয় স্পনসরশিপ প্রত্যাহার করলেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে বাংলাদেশিদের ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ আবেদন প্রত্যাহারের অর্থ এই নয় যে, তাঁদের সবার ভিসা প্রত্যাখ্যান হয়েছে।    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্পনসর করার নতুন শর্ত। হোম অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুন বা তার পরে করা বার্ষিক কমপ্লায়েন্স মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকতে হবে। আগে এই সীমা ছিল ১০ শতাংশের নিচে। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নেওয়ার অনুমতিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে সীমা অতিক্রম করলেই তাৎক্ষণিকভাবে সব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হয় না।    স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া কনফার্মেশন অব অ্যাকসেপট্যান্স ফর স্টাডিজ বা সিএএস প্রয়োজন হয়। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভিসার সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় সিএএস প্রত্যাহার করলে সেটি প্রতিষ্ঠানের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না। এই ব্যবস্থার কারণে সম্ভাব্য প্রত্যাখ্যানের আশঙ্কায় আগেই স্পনসরশিপ তুলে নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপ্লায়েন্স হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে।    নতুন নিয়মে স্পনসর করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত ৯৫ শতাংশকে সংশ্লিষ্ট কোর্সে ভর্তি হতে হবে। বর্তমানে কোর্স সম্পন্ন করার ন্যূনতম হার ৮৫ শতাংশ। ২০২৭ সালের ১ জুন বা তার পরে করা মূল্যায়নে সেটি বেড়ে ৯০ শতাংশ হবে। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর শুধু ভিসা আবেদন যাচাই নয়, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও পড়াশোনা শেষ করার বিষয়েও বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।    এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সতর্ক করছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তবে বাংলাদেশসহ উল্লিখিত দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের ওপর যুক্তরাজ্যজুড়ে সামগ্রিক ভর্তি নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়নি। বিধিনিষেধগুলো মূলত সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্ত, যার মাধ্যমে তারা সরকারি শর্ত ভঙ্গের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছে।    আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়েও চাপ বাড়তে পারে। ইউনিভার্সিটি অ্যালায়েন্সের প্রধান নির্বাহী ভ্যানেসা উইলসন সতর্ক করেছেন, এই চাপ প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, চাকরি কমানো এবং কোর্স বা ক্যাম্পাস বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে হোম অফিস বলেছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যে ইতিবাচক অবদান রাখেন, তবে অভিবাসন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দায়িত্বশীলভাবে শিক্ষার্থী নিতে হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১১:৩০