- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম ও সংসার চালানোর খরচের মধ্যে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর জন্য খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি এসএনএপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো ইলেকট্রনিক সুবিধা কার্ডে অর্থ পায়, যা অনুমোদিত খাবার কেনার কাজে ব্যবহার করা যায়। মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন আয়সীমা ও সুবিধার নিয়ম কার্যকর থাকবে। নতুন নিয়মে ৪৮টি অঙ্গরাজ্য, ওয়াশিংটন ডিসি, গুয়াম ও ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে সাধারণ আয়সীমা অনুযায়ী একজনের পরিবারের মাসিক মোট আয় ১ হাজার ৭২৯ ডলার এবং চার সদস্যের পরিবারের ৩ হাজার ৫৭৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। নিট আয়ের সীমা যথাক্রমে ১ হাজার ৩৩০ ও ২ হাজার ৭৫০ ডলার। আলাস্কা ও হাওয়াইয়ে আয়ের সীমা আলাদা। তবে এই সীমার মধ্যে থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধা পাওয়া যায় না; অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হয়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী আয়ের সীমা ১.একজন: মোট আয় ১,৭২৯ ডলার; নিট আয় ১,৩৩০ ডলার। ২.দুজন: মোট আয় ২,৩৪৫ ডলার; নিট আয় ১,৮০৪ ডলার। ৩.তিনজন: মোট আয় ২,৯৬০ ডলার; নিট আয় ২,২৭৭ ডলার। ৪.চারজন: মোট আয় ৩,৫৭৫ ডলার; নিট আয় ২,৭৫০ ডলার। ৫.পাঁচজন: মোট আয় ৪,১৯১ ডলার; নিট আয় ৩,২২৪ ডলার। এখানে মোট আয় বলতে অনুমোদিত কর্তন বাদ দেওয়ার আগের আয় বোঝায়। নিট আয় হিসাব করার সময় কর্মসংস্থান, নির্ভরশীল ব্যক্তির যত্ন, চিকিৎসা ও বাসস্থানের কিছু অনুমোদিত ব্যয় বিবেচনা করা হতে পারে। কোন কর্তন প্রযোজ্য হবে, তা পরিবারের পরিস্থিতি ও অঙ্গরাজ্যের নিয়মের ওপর নির্ভর করে। ২০২৫ সালে পাস হওয়া ফেডারেল আইনের ফলে নির্দিষ্ট কিছু প্রাপ্তবয়স্ক এসএনএপি গ্রাহকের কাজসংক্রান্ত শর্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, স্বেচ্ছাসেবা বা অনুমোদিত প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার প্রমাণ দিতে হতে পারে। শর্ত পূরণ না করলে নির্দিষ্ট তিন বছরের সময়কালে সাধারণত তিন মাসের বেশি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে। এসএনএপি সুবিধার ক্ষেত্রে অভিবাসন-অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেই প্রত্যেক বিদেশি নাগরিক এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হন না। নাগরিকত্ব, নির্দিষ্ট অভিবাসন-শ্রেণি, বসবাসের সময় এবং অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হয়। পরিবারের কোনো সদস্য অযোগ্য হলেও পরিবারের অন্য যোগ্য সদস্যদের আবেদন বিবেচনা করা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রসূতি বিভাগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ১১ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে দেশটিতে ৫২টি প্রসূতি বিভাগ বন্ধ হয়েছে এবং আরও আটটি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে মেডিকেইড কর্মসূচির সম্ভাব্য অর্থায়ন সংকোচন, যোগ্যতা যাচাইয়ের কঠোর নিয়ম এবং নতুন কর্মশর্তকে হাসপাতালগুলোর উদ্বেগের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় হাসপাতাল বন্ধ হলে গর্ভবতী নারীদের সন্তান জন্মদানের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রসূতি বিভাগ পরিচালনা করা অনেক হাসপাতালের জন্য ব্যয়বহুল। চিকিৎসক, নার্স, অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ, অস্ত্রোপচারের সুবিধা, নবজাতকের জরুরি পরিচর্যা এবং সার্বক্ষণিক কর্মী প্রস্তুত রাখার প্রয়োজন হয়। অথচ গ্রামীণ হাসপাতালগুলোতে প্রসবের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় এসব সেবা পরিচালনার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেইডের অর্থায়ন নিয়ে উদ্বেগ। দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এইচআর-১ আইনের আওতায় মেডিকেইডের অর্থায়নে পরিবর্তন, যোগ্যতা যাচাই আরও ঘন ঘন করা এবং কিছু প্রাপ্তবয়স্ক সুবিধাভোগীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানসংক্রান্ত শর্ত কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সরকারি অর্থায়ন কমে গেলে আগে থেকেই আর্থিক চাপে থাকা হাসপাতালগুলো প্রসূতিসেবা চালু রাখতে আরও সমস্যায় পড়বে। তবে সব প্রসূতি বিভাগ বন্ধের পেছনে মেডিকেইডই একমাত্র কারণ নয়; চিকিৎসক সংকট, কম রোগী, পরিচালন ব্যয় এবং হাসপাতালের সামগ্রিক আর্থিক অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের টনটন শহরের বাসিন্দা ও দুই সন্তানের জননী ডেবরা মেলোর রহস্যময় নিখোঁজের ঘটনায় পেরিয়ে গেছে ২৫টিরও বেশি বছর। ২০০০ সালের ২০ জুন মাত্র ৩০ বছর বয়সে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হন তিনি। দীর্ঘ আড়াই দশক পরও পুলিশ ও তার পরিবার এই রহস্যের জট খুলতে পারেনি, তবে হাল ছাড়েননি ডেবরার স্বজনরা। ডেবরার ছোট বোন প্যাট্রিসিয়া হোয়াইট জানান, নিখোঁজ হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সংগীতশিল্পী টিনা টার্নারের একটি কনসার্টে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেখানে ডেবরাকে বেশ অন্যমনস্ক ও বিষণ্ন দেখাচ্ছিল। পর্তুগাল থেকে আসা লুইস মেলোর সাথে কৈশোরেই প্রেমের সম্পর্কে জড়ান ডেবরা এবং ১৯৮৬ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে মায়ের অনুমতি নিয়ে তাকে বিয়ে করেন। তারা দুজনে মিলে স্থানীয় একটি ‘ডানকিন ডোনাটস’-এ কাজ করতেন। কিন্তু নিখোঁজ হওয়ার কয়েক বছর আগে থেকে ডেবরা বেশ চুপচাপ ও বিষণ্ন হয়ে পড়েন। প্যাট্রিসিয়ার দাবি, লুইস অত্যন্ত সন্দেহপ্রবণ ছিলেন এবং ডেবরার ফোনের কথাবার্তায় আড়ি পাততেন। এমনকি সন্তানদের নিয়ে লুইসকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও বোনকে জানিয়েছিলেন ডেবরা। ব্রিস্টল কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের হোমিসাইড ইউনিটের ডেপুটি চিফ জেসন মোহন জানান, ২০০০ সালের ২০ জুন ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ডানকিন ডোনাটসে কাজ করেন ডেবরা ও লুইস। এরপর বিকেল ৩টায় চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকায় তারা গাড়িতে করে ঘুরতে বের হন। ডাক্তারের চেম্বার থেকে ৪০০ ডলারের স্কিন ক্রিম কিনে ফেরার পথে ওয়েমাউথের রুট ১৮-তে গাড়ির ভেতর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। লুইসের দাবি অনুযায়ী, ঝগড়ার একপর্যায়ে ডেবরা গাড়ি থেকে নেমে যেতে চাইলে তিনি তাকে রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে চলে যান। কয়েক মিনিট পর লুইস সেখানে ফিরে এসে ডেবরাকে আর খুঁজে পাননি। তবে লুইসের এই দাবির পক্ষে কোনো নিরপেক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরদিন ২১ জুন সকালে ডেবরার মেয়ের ফোন পেয়ে বিষয়টি জানতে পারেন প্যাট্রিসিয়া। ততক্ষণেও লুইস পুলিশে কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করেননি। পরে ওই দিনই পরিবার ও লুইস আলাদাভাবে ওয়েমাউথ পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। ২৩ জুন পুলিশ দম্পতির বাড়ি ও গাড়ি তল্লাশি করে গাড়ির ভেতর থেকে ৪০০ ডলারের স্কিন ক্রিমটি উদ্ধার করে। তবে ডেবরার হাতব্যাগ, স্বর্ণের ব্রেসলেট, গলার চেইন, সবুজ পাথরের আংটি এবং বিয়ের আংটিটি নিখোঁজ ছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে লুইসের দুইবার পলিগ্রাফ (মিথ্যা ধরার পরীক্ষা) টেস্ট নেওয়া হলে তিনি দুবারই অকৃতকার্য হন। পুলিশ বিমান, ডগ স্কোয়াড ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে বনাঞ্চলসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও ডেবরার কোনো চিহ্ন পায়নি। এমনকি ২০১৭ সালে এক গোপন তথ্যের ভিত্তিতে টনটনের একটি স্থানে মাটি খুঁড়ে তল্লাশি চালানো হলেও তা নিষ্ফল হয়। ডেপুটি চিফ মোহন জানান, এই ঘটনায় কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড (ফাউল প্লে) ঘটেছে বলেই পুলিশের ধারণা এবং স্বামী লুইস মেলোকে এখনো সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। যদিও লুইস শুরু থেকেই স্ত্রীর নিখোঁজের সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছেন। ভৌত প্রমাণের অভাব এবং দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় তদন্ত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। রহস্য উদঘাটনের আশায় ২০২২ সালে ম্যাসাচুসেটস স্টেট পুলিশ এক অভিনব উদ্যোগ নেয়। অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের ছবি ও তথ্য দিয়ে তাসের (প্লেয়িং কার্ড) সেট তৈরি করে কারাগারের বন্দিদের মাঝে বিতরণ করা হয়, যাতে কেউ কোনো তথ্য জানলে সামনে আসে। সেই তাসের সেটে ‘কুইন অব ডায়মন্ডস’ কার্ডে স্থান পায় ডেবরার ছবি। ২০২৫ সালে ডেবরা নিখোঁজের ২৫ বছর পূর্তিতে টনটনের মেমোরিয়াল পার্কে এক স্মরণসভার আয়োজন করে তার পরিবার। ডেবরার বোন প্যাট্রিসিয়া এবং সাবেক ভগ্নিপতি স্টিভেন ডিমৌরা জানান, তারা কেবল জানতে চান ডেবরার সাথে আসলে কী ঘটেছিল এবং তিনি কোথায় আছেন। পুলিশও বর্তমানে ২০০০ সালে ডেবরা ও লুইসের সাথে কাজ করা সাবেক সহকর্মীদের খুঁজে বের করে নতুন তথ্যের সন্ধান চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় নিয়ে মানুষের অসন্তোষ বাড়ছে। রয়টার্সের ৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রয়টার্স–ইপসোসের জরিপে অংশ নেওয়া ৭৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগুলো জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। জরিপটি ৪ হাজার ৫০৬ জন প্রাপ্তবয়স্কের মতামতের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের আমদানি শুল্কনীতি নিয়ে জনমতেও অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে ৬৪ শতাংশের বেশি উত্তরদাতা মনে করেছেন, শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প তাঁর ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করলে বিদেশি পণ্যের দাম বাড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীরা সেই অতিরিক্ত খরচের কিছু অংশ ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দেন। ফলে পোশাক, গৃহস্থালি সামগ্রী, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে সব পণ্যের দাম একই হারে বাড়ে না; উৎপাদন খরচ, সরবরাহব্যবস্থা ও ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্তের ওপরও এর প্রভাব নির্ভর করে। ট্রাম্প প্রশাসন শুল্কনীতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলছে, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাত ও দেশীয় কর্মসংস্থানকে সহায়তা করা সম্ভব। অন্যদিকে সমালোচকেরা বলছেন, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেলে ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং সাধারণ ক্রেতারা আর্থিক চাপে পড়তে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যেসব পরিবার নিয়মিত মুদি পণ্য, পোশাক, ইলেকট্রনিকস ও গৃহস্থালি সামগ্রী কেনে, তাদের কেনাকাটার বাজেটের ওপর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে। তবে নির্দিষ্ট পণ্যের দাম কতটা বাড়বে, তা জানতে পণ্যভিত্তিক মূল্যতথ্য পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
কলম্বাস দিবস উপলক্ষে আজ যুক্তরাষ্ট্রের সব ডাকঘর বন্ধ রয়েছে, নিয়মিত ডাক বিতরণ বন্ধ থাকবে, মঙ্গলবার থেকে স্বাভাবিক সেবা ফিরবে। যুক্তরাষ্ট্রে আজ সোমবার, ১২ অক্টোবর, কলম্বাস দিবস উপলক্ষে ডাকঘর বন্ধ রেখেছে দেশটির ডাক বিভাগ। যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, এদিন সব ডাকঘরের সরাসরি সেবা বন্ধ থাকবে এবং নিয়মিত ডাক বিতরণও হবে না। আগামী মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর থেকে ডাকঘরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও ডাক বিতরণ আবার শুরু হবে। এই ছুটির কারণে যাঁদের গুরুত্বপূর্ণ চিঠি, নথিপত্র, সরকারি কাগজ কিংবা পার্সেল পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের সময়সূচি বিবেচনা করে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র, চাকরির আবেদন, আইনি নোটিশ ও ব্যবসায়িক নথি পাঠানোর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিলম্ব মাথায় রাখা জরুরি। তবে ডাকঘর বন্ধ থাকলেও কিছু স্বয়ংক্রিয় সেবা চালু থাকতে পারে। ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত ডাকঘরের লবিতে থাকা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে ডাকমাশুল পরিশোধ, ডাকটিকিট কেনা এবং কিছু পার্সেলের লেবেল তৈরি করা সম্ভব। অনলাইনেও ঠিকানা পরিবর্তন, ডাক আটকে রাখা এবং পার্সেল পাঠানোর কিছু সেবা পাওয়া যায়। এসব সুবিধা সব স্থানে এক রকম নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো নথি পাঠানোর শেষ তারিখ আজ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যাচাই করে নেওয়া উচিত। জরুরি পার্সেলের ক্ষেত্রে অনলাইন ট্র্যাকিং এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবা প্রদানকারীর সময়সূচিও দেখে নেওয়া ভালো।
যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে বাড়ছে বিশাল তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ। এসব কেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক কম্পিউটার ও সার্ভার চালাতে প্রচুর বিদ্যুৎ এবং শীতলীকরণের জন্য পানি প্রয়োজন হয়। ফলে তথ্যকেন্দ্রের সম্প্রসারণ সাধারণ পরিবারের বিদ্যুৎ বিল ও স্থানীয় পানিসম্পদের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ইপসোসের একটি জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৯ শতাংশ মানুষ এআই তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাঁদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা এ বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। জরিপে উদ্বেগের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে স্থানীয় পানির সরবরাহের ওপর চাপ। উদ্বিগ্ন ব্যক্তিদের মধ্যে ৫০ শতাংশ এ বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ নিয়ে উদ্বিগ্ন ৪১ শতাংশ এবং আবাসিক বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছেন ৩৫ শতাংশ। তথ্যকেন্দ্রগুলো এআই মডেল প্রশিক্ষণ, অনলাইন সেবা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং বিভিন্ন ডিজিটাল কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তথ্যকেন্দ্রের বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। কোনো এলাকায় দ্রুত অনেক তথ্যকেন্দ্র গড়ে উঠলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালনব্যবস্থা ও পানির ব্যবহার নিয়ে নতুন পরিকল্পনার প্রয়োজন হতে পারে। তবে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ হলেই প্রতিটি পরিবারের বিদ্যুৎ বিল বাড়বে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এই জরিপ দেয়নি। বিদ্যুতের দাম নির্ভর করে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা, উৎপাদন ব্যয়, নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্ত এবং নতুন অবকাঠামোর খরচ কীভাবে বণ্টন করা হচ্ছে, তার ওপর। একইভাবে, সব তথ্যকেন্দ্র সমান পরিমাণ পানি ব্যবহার করে না। প্রযুক্তি, শীতলীকরণ পদ্ধতি এবং স্থানীয় আবহাওয়ার কারণে পানির চাহিদায় পার্থক্য হয়। তাই কোনো এলাকায় তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার আগে সম্ভাব্য বিদ্যুৎ ও পানির চাহিদা মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী পরিবারের জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ? বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা সম্প্রসারণের খরচ যদি গ্রাহকদের ওপর পড়ে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তাঁদের ইউটিলিটি বিল প্রভাবিত হতে পারে। অন্যদিকে, তথ্যকেন্দ্র নতুন বিনিয়োগ, নির্মাণকাজ এবং প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাই তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা, পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত মূল্য পরিবর্তন সম্পর্কে খোঁজ রাখতে পারেন। বিদ্যুৎ বিল বেড়ে গেলে বিলের বিবরণ যাচাই করা এবং স্থানীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রকাশিত তথ্য দেখা উপকারী।
যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক নাগরিক ও নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ারের ২০২৭ সালের জন্য পরিকল্পনা বাছাই ও পরিবর্তনের সময় শুরু হচ্ছে ১৫ অক্টোবর। চলবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ সময় বর্তমান গ্রাহকেরা নিজেদের স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা, চিকিৎসকের নেটওয়ার্ক, ওষুধের খরচ এবং মাসিক প্রিমিয়াম পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে পারবেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম মার্কেটওয়াচের ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী বছর মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনার বিকল্প কিছুটা কমে আসছে। একজন গ্রাহকের জন্য গড়ে ৩৫টি পরিকল্পনা পাওয়া যেতে পারে, যা ২০২৬ সালে ছিল ৩৯টি। অন্তত ৩৮ লাখ গ্রাহককে নতুন পরিকল্পনা খুঁজে নিতে হতে পারে। এ ছাড়া ১৮১টি কাউন্টিতে মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনা পাওয়া যাবে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের পেছনে ইউনাইটেডহেলথ গ্রুপ, হিউমনা ও এইটনার মতো বড় স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠানের কিছু বাজার থেকে সরে যাওয়া বা পরিকল্পনা পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে।মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ হলো বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত মেডিকেয়ারের বিকল্প ব্যবস্থা। এসব পরিকল্পনায় হাসপাতাল, চিকিৎসক, ওষুধ এবং অতিরিক্ত কিছু স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা থাকতে পারে। তবে কোন চিকিৎসক বা হাসপাতালে সেবা নেওয়া যাবে, কত টাকা নিজেকে দিতে হবে এবং কোন ওষুধের খরচ বিমা বহন করবে—এসব বিষয় পরিকল্পনাভেদে আলাদা। যাঁরা বর্তমানে মেডিকেয়ার সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শুধু মাসিক প্রিমিয়াম দেখে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। কোনো পরিকল্পনায় মাসিক খরচ কম হলেও চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কিংবা নিয়মিত ওষুধ কেনার সময় ব্যক্তিগত ব্যয় বেশি হতে পারে। আবার নির্দিষ্ট চিকিৎসক বা হাসপাতাল নতুন পরিকল্পনার নেটওয়ার্কে না থাকলে চিকিৎসাসেবা পেতেও অসুবিধা হতে পারে। তাই গ্রাহকদের বার্ষিক পরিবর্তনের নোটিশ বা ‘অ্যানুয়াল নোটিশ অব চেঞ্জ’ মনোযোগ দিয়ে পড়া উচিত। সেখানে আগামী বছরে সুবিধা, প্রিমিয়াম, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য শর্তে কী পরিবর্তন আসছে, তা উল্লেখ থাকে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা, নিয়মিত প্রেসক্রিপশনের ওষুধ কিংবা নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের আগেভাগে যাচাই করা জরুরি।যাঁরা বর্তমান পরিকল্পনা নিয়ে সন্তুষ্ট, তাঁদেরও ২০২৭ সালের শর্তগুলো পরীক্ষা করা উচিত। কারণ আগের বছরের পরিকল্পনা একই নামে থাকলেও সুবিধা, খরচ বা চিকিৎসকের নেটওয়ার্কে পরিবর্তন আসতে পারে। যোগ্য গ্রাহকেরা মেডিকেয়ারের সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনার তুলনা করতে পারবেন। প্রয়োজনে মেডিকেয়ারের সরকারি সহায়তা নম্বর ১-৮০০-মেডিকেয়ার (১-৮০০-৬৩৩-৪২২৭)-এ যোগাযোগ করা যায়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের চিকিৎসার চাহিদা, ওষুধের তালিকা এবং মোট সম্ভাব্য বার্ষিক ব্যয় বিবেচনা করা উচিত। মনে রাখতে হবে, ১৫ অক্টোবর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়টি মূলত মেডিকেয়ারের বার্ষিক উন্মুক্ত নিবন্ধনের সময়। এটি সবার জন্য মেডিকেয়ারে প্রথমবার যোগদানের সময়সীমা নয়; নতুন গ্রাহকদের ক্ষেত্রে আলাদা যোগ্যতা ও নিবন্ধনকাল প্রযোজ্য হতে পারে।
ইরানের সাথে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২১ জন মার্কিন সামরিক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১০০ জন। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে অন্তত ১৬৮ শিশুসহ ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের এই নিষ্ঠুর পরিসংখ্যানের আড়ালে চাপা পড়ে গেছে অসংখ্য মানবিক ট্র্যাজেডি। নিহত মার্কিন সেনাদের কেউ ছিলেন সদ্য কৈশোর পেরোনো তরুণী, কেউবা ঘরে ফেরা মাত্রই বিয়ের পিঁড়িতে বসার স্বপ্ন দেখা এক বাগদত্তা, আবার কেউ ছিলেন সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে চাওয়া স্নেহময় পিতা। যুদ্ধে প্রথম মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনা ঘটে গত ১ মার্চ, যখন কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে একটি অস্থায়ী অপারেশন সেন্টারে ইরানি হামলায় ছয়জন আর্মি রিজার্ভ সদস্য প্রাণ হারান। এদের মধ্যে ছিলেন আইওয়ার ২০ বছর বয়সী তরুণ ডেক্লান কোডি, যিনি বিদেশে থেকেও পরিবারের সাথে নিয়মিত ভিডিও গেম খেলে ও অ্যানিমে নিয়ে গল্প করে যোগাযোগ রাখতেন। একই হামলায় নিহত হন মিনেসোটার ৩৯ বছর বয়সী দুই সন্তানের জননী সার্জেন্ট নিকোল আমোর, যার মাত্র কয়েক দিন পরেই বাড়ি ফেরার কথা ছিল। এছাড়াও ওই হামলায় প্রাণ হারান ফ্লোরিডার ৩৫ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন কোডি খর্ক, মার্শাল আর্টে ব্ল্যাক বেল্টধারী নেব্রাস্কার ৪২ বছর বয়সী সার্জেন্ট নোয়াহ টিটজেনস, তিন সন্তানের জনক আইওয়ার ৪৫ বছর বয়সী মেজর জেফ্রি ও’ব্রায়েন এবং অবসরের দ্বারপ্রান্তে থাকা ভার্জিনিয়ার ৫৪ বছর বয়সী রবার্ট মারজান। এর কয়েকদিন পর সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় আহত হয়ে ৮ মার্চ মারা যান কেনটাকির ২৬ বছর বয়সী সার্জেন্ট বেঞ্জামিন পেনিংটন। একই সময়ে ইরাকে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ‘কেসি-১৩৫’ (KC-135) জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আরও ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হন। এদের মধ্যে ছিলেন মেজর জন ‘অ্যালেক্স’ ক্লিনার, যিনি দুই বছর বয়সী এক সন্তান ও সাত মাস বয়সী যমজ সন্তানের জনক ছিলেন। একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৩১ বছর বয়সী নারী পাইলট ক্যাপ্টেন আরিয়ানা জি. সাভিনো, দুই সন্তানের জননী ৩৪ বছর বয়সী টেকনিক্যাল সার্জেন্ট অ্যাশলে বি. প্রুইট, ওহাইওর ৩৮ বছর বয়সী পাইলট ক্যাপ্টেন সেথ আর. কোভাল এবং ৩০ বছর বয়সী অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার ক্যাপ্টেন কার্টিস জে. অ্যাংস্ট। এছাড়া নিহতদের মধ্যে ছিলেন মা-বাবার একমাত্র সন্তান টেকনিক্যাল সার্জেন্ট টাইলার এইচ. সিমন্স, যিনি মৃত্যুর মাত্র একদিন আগে বাবাকে ফোনে বলেছিলেন যে তার হয়তো আর বাড়ি ফেরা হবে না। জুলাই মাসে এসে প্রাণহানির এই তালিকা আরও দীর্ঘ হয়। গত ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন। তাদের একজন ছিলেন টেক্সাসের ১৯ বছর বয়সী তরুণী ইসাবেলা গঞ্জালেস, যিনি গত বসন্তেই হাইস্কুল শেষ করে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। আরেকজন ছিলেন ত্রিনিদাদে জন্ম নেওয়া এবং নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠা তরুণী অ্যাঞ্জেল রামপারসাদ। একই ঘটনায় ১৮ জুলাই প্রাণ হারান হাওয়াইয়ের ২৫ বছর বয়সী টাইলার জেমস ফিহান। এমবিএ শেষ করার মাত্র কয়েক সপ্তাহ দূরে থাকা ফিহানের দেশে ফিরেই প্রেমিকা ক্লেয়ার ফ্লেচারকে বিয়ে করার এবং ল’ স্কুলে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। মৃত্যুর আগে প্রেমিকাকে পাঠানো তার শেষ বার্তাটি ছিল—‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’। এর পরদিন ১৯ জুলাই উত্তর ইরাকের এরবিল বিমানঘাঁটিতে একটি ভূপাতিত ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় নিহত হন ৩০ বছর বয়সী সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইনটন। চার বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানের এই জনক মৃত্যুর এক মাস আগে স্ত্রীকে মেসেজ পাঠিয়ে বলেছিলেন, তিনি মারা গেলে সন্তানরা যেন জানতে পারে বাবা তাদের কতটা ভালোবাসতেন। এছাড়া আরব সাগরে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর ১৪ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে ১০০ ঘণ্টার বেশি তল্লাশি চালিয়েও খোঁজ মেলেনি দুই সন্তানের জনক ও নৌবাহিনীর কমান্ডার গ্যাব্রিয়েল এডওয়ার্ডসের; গত ৫ জুলাই তার উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও সামরিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও দুই কর্মকর্তা। গত ৬ মার্চ কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিংয়ে দায়িত্ব পালনকালে শারীরিক অসুস্থতায় মারা যান নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) ও ন্যাশনাল গার্ডের ৪৬ বছর বয়সী মেজর সর্ফলি ডেভিয়াস, যিনি ছয় সন্তানের জনক ছিলেন। সর্বশেষ গত ১৮ সেপ্টেম্বর কাতারে সামরিক অভিযানে সহায়তার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে বিমানের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে মারা যান ৩৭ বছর বয়সী মেজর বিয়াঙ্কা সি. উইলকারসন। গত মার্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করেছিলেন যে, নিহত সেনাদের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করলেও যুদ্ধের বিষয়ে তার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না এবং সামনে আরও প্রাণহানি ঘটতে পারে। ওয়াশিংটনের সেই পূর্বাভাস সত্যি করে মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গনে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল, আর প্রিয়জন হারানোর অপূরণীয় শূন্যতা নিয়ে দিন কাটছে স্বজনহারা পরিবারগুলোর।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এফ-১ ভিসায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে অন্তত ৭০ হাজার ডলার ফি দিতে হতে পারে। অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে আরও ৩০ হাজার ডলার ফি আরোপের প্রস্তাবও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ৭ অক্টোবর রয়টার্স প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বা অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেয়। সাধারণত এফ-১ ভিসাধারীরা পড়াশোনার সময় নির্দিষ্ট শর্তে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। যোগ্য শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পরও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগ পেতে পারেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে যোগ্য ডিগ্রিধারীরা অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের সময় পাওয়ার সুযোগও পেতে পারেন। এই কর্মসূচি অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত জীবন শুরু করার গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে কাজ করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের অনেকে ওপিটির মাধ্যমে মার্কিন প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং পরবর্তী সময়ে এইচ-১বি কর্মভিসার জন্য চেষ্টা করেন। নতুন প্রস্তাবের কারণে এই পথ ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের খরচ প্রায় ৫০০ ডলারের কাছাকাছি হলেও প্রস্তাবিত ফি অনেক বেশি। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার পর চাকরি খোঁজা ও কর্মজীবন শুরু করার পরিকল্পনায় বড় আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তবে প্রস্তাবটি কোন কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। প্রশাসনের যুক্তি, নতুন ফি দিয়ে জালিয়াতি ঠেকানো, অভিবাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, সমালোচকদের আশঙ্কা, এত বড় অঙ্কের ফি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা পড়াশোনার খরচ মেটাতে পরিবারের সঞ্চয়, শিক্ষা ঋণ বা সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করেন, তাঁদের জন্য প্রস্তাবটি বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদেরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করা প্রয়োজন। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তর এবং যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর কাছ থেকে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরামর্শ নেওয়া ভালো। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য তাৎক্ষণিক করণীয় হলো—বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা, ওপিটি আবেদনের সময়সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সরকারি নিয়মের আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত গুজবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। নতুন ফি প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে এর কার্যকর হওয়ার তারিখ, প্রযোজ্য শিক্ষার্থীর শ্রেণি এবং বিদ্যমান আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নিয়মটি কীভাবে প্রযোজ্য হবে, সেগুলোই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের ‘এফ-৩৫’ স্টিল্থ যুদ্ধবিমান ভারতে এসে পৌঁছালেও সেগুলোর ধারেকাছেও কাউকে ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না—সম্প্রতি এমনই এক রসাত্মক ও আক্ষেপের সুরে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং। রাজস্থানের যোধপুরে সদ্য সমাপ্ত আন্তর্জাতিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’-র সমাপনী দিনের এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। এই মহড়ায় অংশ নিতে প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে অবতরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। মহড়ার শেষ দিনে মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিমানবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল কেভিন স্নাইডারের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন ভারতীয় বিমানপ্রধান। সেখানে সাংবাদিকরা জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ভারতের কাছে বিক্রির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে কি না। জবাবে পাশে থাকা মার্কিন কমান্ডারের দিকে তাকিয়ে হাস্যরসের সুরে এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং বলেন, মার্কিন বাহিনী তো ভারতীয়দের এই বিমানের ধারেকাছেও যেতে দেয় না, সেখানে বিক্রির প্রস্তাব তো অনেক দূরের কথা! তবে পরক্ষণেই নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, কথাটি নিছকই কৌতুকচ্ছলে বলা হয়েছে এবং এটিকে গুরুতরভাবে নেওয়ার কিছু নেই। তিনি স্বীকার করেন যে, যেকোনো দেশই তাদের সংবেদনশীল ও গোপনীয় সামরিক প্রযুক্তির সুরক্ষার স্বার্থে এমন কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখে, এমনকি ভারতও নিজেদের সব প্রযুক্তি অন্যদের সাথে ভাগ করে নেয় না। এ প্রসঙ্গে মার্কিন কমান্ডার জেনারেল কেভিন স্নাইডার জানান, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তি বা তথ্য কোন দেশের সাথে কতটুকু আদান-প্রদান করা যাবে, তা ওয়াশিংটনের সুনির্দিষ্ট কিছু প্রতিরক্ষা নির্দেশিকা ও গাইডলাইনের ওপর নির্ভর করে। বর্তমানে ভারত নিজস্ব প্রযুক্তিতে পঞ্চম প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তবে সেটি পুরোপুরি প্রস্তুত হতে আরও বেশ কিছুটা সময় লাগবে। এদিকে প্রতিবেশী চীনের হাতে থাকা জে-২০ ও জে-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং পাকিস্তানের সম্ভাব্য নতুন বিমান সংগ্রহের কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অন্তর্বর্তীকালীন ঘাটতি মেটাতে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে নয়াদিল্লি। ভারতীয় বিমানপ্রধান জানিয়েছেন, রাশিয়া ইতিমধ্যে তাদের পঞ্চম প্রজন্মের ‘সুখোই-৫৭’ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাব দিলেও ভারত সরকার এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও আলাবামা অঙ্গরাজ্যে ঘূর্ণিঝড় আইসাইয়াসের আঘাতের পর উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার কাজ চলছে। ঝড়ের অবশিষ্টাংশ উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ায় অ্যাপালাচিয়ান পার্বত্য অঞ্চল এবং মধ্য-আটলান্টিক এলাকার কয়েকটি স্থানে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও টর্নেডোর ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝড়-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ফ্লোরিডা ও আলাবামায় গাছ উপড়ে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সড়কে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কিছু এলাকায় বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করেছেন। ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডল এলাকায় ঝড়ের কারণে বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আলাবামার কয়েকটি এলাকাতেও গাছ পড়ে ঘরবাড়ি ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বহু পরিবারকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ কখন পুরোপুরি ফিরবে, তা এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে। ঝড়ের প্রভাব দক্ষিণাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ভারী বৃষ্টির কারণে পশ্চিম নর্থ ক্যারোলাইনার নদীগুলোর পানি বেড়ে কিছু এলাকায় প্লাবন, ভূমিধস এবং পানিতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। ভার্জিনিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনার কিছু এলাকায় টর্নেডোর ঝুঁকির কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ফেডারেল সহায়তার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্জিয়ার জন্য জরুরি অবস্থা অনুমোদন করেছেন; এর ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সহায়তা পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। ফ্লোরিডা ও আলাবামার জন্যও আগে জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন মোকাবিলায় কৌশলগত মজুত থেকে অপরিশোধিত তেল বিনিময়ের জরুরি ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর ফলে সাধারণ ভোক্তাদের জ্বালানির দাম কতটা পরিবর্তিত হবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে হারিকেন সাইমন মেক্সিকোর উপকূলের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় সেখানে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, র্যাচেল নামের আরেকটি ঝড়ের অবশিষ্টাংশ দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে বড় ঢেউ, উপকূলীয় প্লাবন ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষের পরামর্শ হলো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর, জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। বন্যার পানিতে ডুবে থাকা সড়কে গাড়ি চালানো এবং বিদ্যুতের তারের কাছে যাওয়া বিপজ্জনক।
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের (এনওয়াইপিডি) এক কর্মকর্তাকে অবৈধ অভিবাসীদের ছুরিকাঘাতের ঘটনায় নীরব থাকা, অথচ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) অভিযানে এক সন্দেহভাজন গ্যাং সদস্য গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় সরব হওয়ায় নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান মার্কওয়েন মুলিন। রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গভর্নরের এমন আচরণকে চরম ‘ভণ্ডামি’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। ব্রঙ্কসের মার্বেল হিল এলাকায় আইসিই এজেন্টদের হাত থেকে পালানোর সময় অস্কার বেলগাল নামের এক সন্দেহভাজন গ্যাং সদস্য গুলিবিদ্ধ হন, তবে তার আঘাত গুরুতর ছিল না। ওই অভিযানের সময় ৫ বছর বয়সী এক শিশু থাকা গাড়িতে গুলি চালানোর অভিযোগ তুলে গভর্নর হোকুল আইসিই-এর বিরুদ্ধে এলাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনেন এবং এজেন্টদের শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার দাবি জানান। এর জবাবে রোববার ফক্স নিউজের শ্যানন ব্রিমের অনুষ্ঠানে মার্কওয়েন মুলিন গভর্নর হোকুল এবং অন্যান্য অভিবাসী-বান্ধব রাজনীতিবিদদের দ্বিমুখী আচরণের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, গত সপ্তাহেই (২ অক্টোবর) ব্রঙ্কসের একই এলাকায় অবৈধ অভিবাসীদের হাতে এনওয়াইপিডির অফ-ডিউটি ডিটেকটিভ হোসে মার্সিডিজ সাতবার ছুরিকাঘাতের শিকার হন। অথচ সেই ঘটনায় গভর্নর বা অন্য কোনো নেতা একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি, কোনো সংবাদ সম্মেলন বা প্রতিবাদও হয়নি। কিন্তু একজন চিহ্নিত অপরাধী গুলিবিদ্ধ হতেই তারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান জানান, ডিটেকটিভ মার্সিডিজকে ছুরিকাঘাতে অভিযুক্ত ড্যানجেলো রাফায়েল জিন কারাবালো ও স্নাইডার মেজিয়া বাউতিস্তা এবং আইসিই-এর গুলিতে আহত অস্কার বেলগাল—এই তিনজনই ডোমিনিকান রিপাবলিকের নাগরিক। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই দীর্ঘ অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এবং তাদের অনেক আগেই দেশ থেকে বহিষ্কার করা উচিত ছিল। মুলিন আরও প্রকাশ করেন, তিন বছর আগে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর থেকে বেলগালের বিরুদ্ধে ডাকাতির চারটি, হামলার দুটি, মাদকের দুটি এবং চুরির দুটি গুরুতর ফৌজদারি (ফেলোনি) অভিযোগসহ অবৈধ অস্ত্র রাখার একাধিক মামলা জমা হয়েছে। নিউইয়র্ক প্রশাসন এসব অপরাধীদের বারবার ছেড়ে দেওয়ায় আইসিই-কে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে, আহত পুলিশ কর্মকর্তা মার্সিডিজ ইতিমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। তার ওপর হামলার ঘটনায় গভর্নরের নীরবতা নিয়ে ওঠা সমালোচনা রোববার প্রত্যাখ্যান করেছে হোকুলের কার্যালয়। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক বিবৃতিতে গভর্নরের মুখপাত্র জানান, এনওয়াইপিডির কঠোর পরিশ্রমী সদস্যদের প্রতি গভর্নরের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে নিয়ে রাজনীতি করার পরিবর্তে গভর্নর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তহবিল বাড়ানো, আইন কঠোর করা এবং ‘বেপরোয়া’ আইসিই এজেন্টদের হাত থেকে নিউইয়র্কবাসীকে রক্ষা করার মতো প্রকৃত কাজেই অগ্রাধিকার দেবেন।
পূর্ব আফ্রিকার জিবুতির উপকূলে তিন শতাধিক অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস রোববার এ খবর প্রকাশ করে। নৌকাটি ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় ইয়েমেনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ডুবে যায়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার জিবুতি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, নৌকাটিতে অতিরিক্ত যাত্রী থাকার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এ ঘটনায় ৮০ জনের বেশি মানুষ বেঁচে গেছেন বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। জীবিতদের অধিকাংশই ইথিওপিয়ার নাগরিক। অন্তত ৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের অনেককে পরিচয় শনাক্ত করা ছাড়াই সমাহিত করতে হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ সব মরদেহ শনাক্ত ও গণনা করা সম্ভব হয়নি। আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল থেকে ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে পৌঁছানোর এই পথটি দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের ব্যবহৃত একটি বিপজ্জনক রুট। সংঘাত, দারিদ্র্য ও কাজের সন্ধানে বহু মানুষ এই পথে যাত্রা করেন। কিন্তু অনিরাপদ নৌযান, অতিরিক্ত যাত্রী, মানবপাচারকারী চক্র এবং সমুদ্রের ঝুঁকির কারণে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সরকার ও দাতা সংস্থাগুলোর প্রতি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, বিপজ্জনক পথ ব্যবহার কমাতে অভিবাসীদের জন্য নিয়মিত ও নিরাপদ যাত্রার ব্যবস্থা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নতুন করে বেকার ভাতার আবেদন কম থাকলেও চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ১১ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহে বেকার ভাতার নতুন আবেদন কমে এমন পর্যায়ে রয়েছে, যা প্রায় ৫৭ বছরের সর্বনিম্ন মাত্রার কাছাকাছি। তবে একই সময়ে নিয়োগদাতারা নতুন কর্মী নিয়োগে সতর্ক থাকায় চাকরি হারানো ব্যক্তিদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। বেকার ভাতার আবেদন শ্রমবাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সাধারণত কোনো কর্মী চাকরি হারানোর পর যোগ্য হলে সরকারি বেকার ভাতার জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদন কম থাকা থেকে বোঝা যেতে পারে, নিয়োগদাতারা ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই করছেন না। কিন্তু এই পরিসংখ্যান একা দিয়ে বোঝা যায় না, নতুন চাকরি কত দ্রুত তৈরি হচ্ছে বা চাকরিপ্রার্থীরা কত সহজে কর্মসংস্থান পাচ্ছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে অর্থনীতিবিদদের বক্তব্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারকে ‘কম নিয়োগ, কম ছাঁটাই’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ অনেক প্রতিষ্ঠান বর্তমান কর্মীদের ধরে রাখলেও নতুন পদ তৈরিতে আগ্রহী নয়। ফলে চাকরিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল মনে হলেও চাকরি হারানো বা নতুন কাজ খুঁজছেন—এমন মানুষের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। শ্রমবাজারের এই পরিস্থিতির পেছনে কয়েকটি বিষয় কাজ করছে। শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, উৎপাদন ব্যয় এবং ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দামের চাপ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যৎ ব্যয় ও চাহিদা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে না পারলে নতুন কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারে। তবে এসব কারণের প্রভাব সব শিল্পে সমান নয়। সাধারণ কর্মীদের জন্য এর অর্থ হলো, বেকার ভাতার আবেদন কম থাকলেও চাকরি পাওয়ার সুযোগ যে সহজ হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। যাঁরা চাকরি খুঁজছেন, তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত হালনাগাদ রাখা, একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান দপ্তরের সহায়তা নেওয়া কাজে আসতে পারে। বেকার ভাতার যোগ্যতা ও আবেদনের নিয়ম অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে, তাই সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের সরকারি শ্রম দপ্তরের নির্দেশনা যাচাই করা উচিত।শ্রমবাজারের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে শুধু বেকার ভাতার আবেদন নয়, নতুন চাকরি সৃষ্টি, বেকারত্বের হার, মজুরি বৃদ্ধি এবং নিয়োগের গতিও দেখতে হবে। পরবর্তী মাসগুলোর সরকারি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন থেকে বোঝা যাবে, বর্তমান স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, নাকি নিয়োগ আরও ধীর হয়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া অঙ্গরাজ্যে বন্দুকধারীর এক নৃশংস ও অতর্কিত হামলায় (অ্যাম্বুশ) শেন সাবার (৪০) নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় তার সাথে থাকা আরেক সহকর্মী শরীরে ১২টি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। গত শনিবার মধ্যরাতের পর পশ্চিম ফিলাডেলফিয়ায় এই ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম ফিলাডেলফিয়ার একটি বাড়ির বারান্দায় এক সশস্ত্র ব্যক্তির অবস্থানের খবর পেয়ে শনিবার প্রথম প্রহরে সেখানে অভিযানে যান শেন সাবার ও তার সহকর্মী। তারা বাড়িটিতে প্রবেশ করার সাথে সাথেই ওত পেতে থাকা হামলাকারী তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে শেন সাবার তিনটি গুলিবিদ্ধ হন। পরে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের সামনেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিহত সাবার সাত বছর বয়সী এক ছেলে ও তিন বছর বয়সী এক মেয়ের জনক ছিলেন। ফিলাডেলফিয়ার পুলিশ কমিশনার কেভিন বেথেল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই হত্যাকাণ্ডকে ‘নৃশংস, অর্থহীন ও ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, জীবন বাঁচাতে সাবার বীরত্বের সাথে লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। অন্যদিকে, হামলায় ১২ বার গুলিবিদ্ধ হওয়া অপর পুলিশ কর্মকর্তা—যিনি নিজেও পাঁচ সন্তানের জনক—বর্তমানে হাসপাতালে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। তবে তিনি এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন বলে সতর্ক করেছেন পুলিশ কমিশনার। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ল্যারি ক্রাসনির জানান, দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করার পর সন্দেহভাজন হামলাকারী একটি গলি দিয়ে পালিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসা আরও নয়জন পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে সৌভাগ্যবশত ওই নয় কর্মকর্তার কেউই গুলিবিদ্ধ হননি। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর একটি গাছের ওপর লুকিয়ে থাকা অবস্থায় এরিক লুইস (৩৫) নামের ওই সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জানিয়েছেন, আটক লুইসের বিরুদ্ধে হত্যা এবং ১০টি হত্যাচেষ্টার অভিযোগসহ প্রায় ৮০টি পৃথক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ভোটার তালিকা যাচাইয়ের উদ্যোগকে নির্বাচনে অননুমোদিত ভোট ঠেকানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে সমালোচকদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা পরিচালনা মূলত অঙ্গরাজ্যগুলোর দায়িত্ব এবং ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, বিচার বিভাগ প্রায় সব অঙ্গরাজ্যের কাছে পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা চেয়েছিল। এসব তালিকায় সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর ও জন্মতারিখের মতো সংবেদনশীল তথ্যও থাকতে পারে। কিছু অঙ্গরাজ্য তথ্য দিয়েছে, অন্যরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আইনি লড়াইয়ে গেছে। রায়ের তাৎপর্য শুধু নির্বাচনী প্রশাসনে সীমাবদ্ধ নয়। ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা যাবে এবং সরকারি তথ্যভান্ডারের ভুলের কারণে যোগ্য নাগরিক ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন কি না—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তবে এই রায়কে যুক্তরাষ্ট্রে ভোটার যাচাইয়ের সব পদ্ধতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না; এটি নির্দিষ্ট সরকারি উদ্যোগ ও তার আইনি ভিত্তি নিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ডিজেল জ্বালানি সংগ্রহের একটি চুক্তি করেছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির উচ্চমূল্য মোকাবিলা এবং সরবরাহ বাড়ানোর প্রচেষ্টার সঙ্গে এ উদ্যোগের সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত, সরবরাহের পরিমাণ এবং অর্থ পরিশোধের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার এই ঘোষণা ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মস্কোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের চাপের নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রশ্ন তুলেছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং দেশটির জ্বালানি আয় সীমিত করার প্রচেষ্টা পশ্চিমা দেশগুলোর নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন ও উৎপাদন অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। ভারী ট্রাক, কৃষিযন্ত্র, নির্মাণ সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ডিজেলের ব্যবহার রয়েছে। ডিজেলের দাম বেড়ে গেলে পণ্য পরিবহন ও উৎপাদনের ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব খাদ্য, নির্মাণসামগ্রী এবং অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দামেও পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসন জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগকে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরতে পারে। তবে রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনার ঘোষণা দিলেই যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের খুচরা দাম দ্রুত কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। আন্তর্জাতিক বাজারদর, পরিবহন ব্যয়, শোধনাগারের উৎপাদন, মজুত এবং আমদানির নিয়মসহ বিভিন্ন বিষয় জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্ক ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মস্কোর ওপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। রাশিয়ার জ্বালানি আয় কমানো এবং দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক সক্ষমতা সীমিত করা ছিল এসব ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার নতুন ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে তা নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি বাণিজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মধ্যে নতুন সমন্বয়ের প্রয়োজন তৈরি করতে পারে। তবে ঘোষিত চুক্তিটি কী আইনি কাঠামোর আওতায় কার্যকর হবে এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার কোন বিধান প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ট্রাম্প সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউক্রেনের নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন হতে পারে। একই সময়ে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আস্থা, ভূখণ্ড, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সামরিক ব্যবস্থার প্রশ্নে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে জ্বালানি কেনার চুক্তি ও যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা একই সময়ে সামনে এলেও দুটির মধ্যে সরাসরি সমঝোতা হয়েছে—এমন দাবি করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। কী কী তথ্য এখনো পরিষ্কার নয়? অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন; তবে প্রকাশিত তথ্য থেকে চুক্তির মোট মূল্য, ডিজেলের পরিমাণ, সরবরাহের সময়সূচি এবং কোন প্রতিষ্ঠানগুলো এতে অংশ নেবে, তা নিশ্চিত করা যায় না। এ ছাড়া রাশিয়া থেকে জ্বালানি সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিষেধাজ্ঞা, অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা এবং পরিবহনসংক্রান্ত শর্তও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ের আনুষ্ঠানিক নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিটির অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা কঠিন। সামগ্রিকভাবে, রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা, ভোক্তাদের ব্যয় এবং ইউক্রেন যুদ্ধসংক্রান্ত নীতির সংযোগকে সামনে এনেছে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয় কি না এবং বাজারে এর প্রভাব কী হয়, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সরকারি ঘোষণা ও বাস্তব সরবরাহের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরি (Erie) শহরের একটি বাড়িতে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী এবং তার দুই অবুঝ শিশুসহ মোট ৯ জন নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যাকাণ্ড চালানোর পর ৪৫ বছর বয়সী সন্দেহভাজন হামলাকারী নিজের বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করেছেন। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত অন্তঃসত্ত্বা নারীর নাম অ্যাঞ্জেলিনা স্টোন। তার সন্তান জন্মদানের কথা ছিল আর মাত্র চার দিন পর। এই হামলায় স্টোনের পাশাপাশি তার দুই সন্তান, দুই ভাই এবং এক পারিবারিক বন্ধুও প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত মোট ৯ জনের মধ্যে আটজনই একই পরিবারের সদস্য এবং একজন পারিবারিক বন্ধু। নিহত স্টোনের পারিবারিক বন্ধু লিসা সিমার্স জানান, স্টোনের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আইজায়া এবং প্রায় দুই বছর বয়সী মেয়ে আমারি’আনা দুজনেই অটিজম স্পেকট্রামে আক্রান্ত ছিল। সিমার্স আক্ষেপ করে বলেন, নিষ্পাপ এই শিশুরা চাইলেও হামলাকারীর বিরুদ্ধে কারো কাছে কিছু বলতে পারত না, অথচ তবুও তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থেকেও ভেতরে থাকা প্রিয়জনদের বাঁচাতে না পারার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন তিনি। শনিবার (১০ অক্টোবর) ইরি শহরের পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খবর পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই এই ৯ জনের মৃত্যু হয় এবং পরবর্তীতে সেখানে আর কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। ইরি শহরের পুলিশ প্রধান রিচার্ড লোরাহ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির বাইরে ৫১ ও ৩৭ বছর বয়সী দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা দেখেছেন, ওই দুই নারী বাড়ির ভেতর থেকে চিৎকার শুনে দরজায় ধাক্কা দিচ্ছিলেন এবং প্রতিবেশীদের সাহায্য চাইছিলেন। এসময় ভেতর থেকে চাপা গুলির শব্দ শোনা যায় এবং কিছুক্ষণ পর হামলাকারী বাইরে বেরিয়ে এসে ওই দুই নারীকে গুলি করে হত্যা করে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, বাড়ির নিচতলা থেকে পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলেশিশু ও এক বছর বয়সী এক মেয়েশিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া দোতলা ও সিঁড়ি থেকে ২৪ ও ৪৪ বছর বয়সী দুই নারী এবং ১৯ ও ২১ বছর বয়সী দুই তরুণের মরদেহ পাওয়া যায়। দোতলাতেই একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৪৫ বছর বয়সী সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহ পড়ে ছিল। পুলিশ প্রধান লোরাহ এই দৃশ্যকে তার কর্মজীবনের অন্যতম মর্মান্তিক ও ভীতিকর ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এদিকে, নিহত অ্যাঞ্জেলিনা স্টোন, তার দুই সন্তান এবং অনাগত সন্তান কাইরির (Kyrie) শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) প্ল্যাটফর্মে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। আকস্মিক এই ট্র্যাজেডির পর মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে এত বড় খরচের বোঝা একা বহন করা অসম্ভব জানিয়ে স্থানীয়দের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিপত্র পাওয়ার পথ সীমিত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি এবং আরও পাঁচটি বড় প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভিসা ব্যবস্থার সম্ভাব্য অপব্যবহার তদন্তে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। রয়টার্সের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস, উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস ও ক্যাপজেমিনির ক্ষেত্রে স্থায়ী শ্রম সনদ বা পিইআরএম প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। প্রশাসনের দাবি, কিছু প্রতিষ্ঠান মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করার পরও বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ ও ভিসা সুবিধা ব্যবহার করছে। এতে দেশীয় কর্মীদের মজুরি ও চাকরির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে কম বেতনের বিদেশি কর্মী দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছে—এমন অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে উপস্থাপিত প্রমাণের পরিমাণ সীমিত। অভিযোগের তদন্ত চলমান এবং কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তা প্রমাণিত অপরাধ হয়ে যায় না। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, গত অর্থবছরে তাদের জমা দেওয়া প্রায় ছয় হাজার এইচ-১বি আবেদনপত্রের ৮০ শতাংশই ছিল বিদ্যমান কর্মীদের অবস্থার মেয়াদ বাড়ানো বা পরিবর্তনের জন্য, নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য নয়। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, একই ধরনের কাজ করা কর্মীদের তুলনীয় বেতন দেওয়া হয় এবং তারা প্রশাসনকে অতিরিক্ত তথ্য দিতে প্রস্তুত। গ্রিন কার্ডের পথে কী বাধা তৈরি হলো? পিইআরএম হলো যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র পাওয়ার জন্য অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শ্রম সনদ প্রক্রিয়া। কোনো নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে নিয়োগের জন্য আবেদন করলে সাধারণত দেখাতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদে উপযুক্ত ও আগ্রহী মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বিদেশি কর্মীদের আবেদন বিলম্বিত হতে পারে। যাঁরা এইচ-১বি ভিসায় কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতে নিয়োগকর্তার সহায়তায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে চান, তাঁদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি: এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের বিদেশি কর্মীদের এইচ-১বি ভিসা বাতিল করা হয়নি। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সব কর্মীর গ্রিন কার্ডও বাতিল করা হয়নি। স্থগিতাদেশটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন ও বিচারাধীন পিইআরএম শ্রম সনদ আবেদনের ওপর প্রযোজ্য। এর ফলে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ আটকে যেতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারল্যান্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ৩০ লাখ বিদেশি কর্মীর জন্য আবেদন করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য দুই লাখ ৩০ হাজারের বেশি এইচ-১বি ভিসা অনুমোদন এবং এক লাখের বেশি স্থায়ী শ্রম সনদ অনুমোদনের তথ্যও তিনি উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সফটওয়্যার উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শ, ক্লাউড কম্পিউটিং ও সাইবার নিরাপত্তার মতো খাতে আন্তর্জাতিক কর্মীদের নিয়োগ দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থা। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হতে পারে। কেউ কেউ অন্য নিয়োগকর্তার কাছে যাওয়া, বিকল্প অভিবাসনপথ খোঁজা অথবা যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। তবে প্রত্যেক কর্মীর পরিস্থিতি তাঁর বর্তমান ভিসা, আবেদন পর্যায় এবং ব্যক্তিগত যোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে। যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিপত্র পাওয়ার পথ সীমিত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি এবং আরও পাঁচটি বড় প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভিসা ব্যবস্থার সম্ভাব্য অপব্যবহার তদন্তে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। রয়টার্সের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস, উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস ও ক্যাপজেমিনির ক্ষেত্রে স্থায়ী শ্রম সনদ বা পিইআরএম (PERM) প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। প্রশাসনের দাবি, কিছু প্রতিষ্ঠান মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করার পরও বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ ও ভিসা সুবিধা ব্যবহার করছে। এতে দেশীয় কর্মীদের মজুরি ও চাকরির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে কম বেতনের বিদেশি কর্মী দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছে—এমন অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে উপস্থাপিত প্রমাণের পরিমাণ সীমিত। অভিযোগের তদন্ত চলমান এবং কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তা প্রমাণিত অপরাধ হয়ে যায় না। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, গত অর্থবছরে তাদের জমা দেওয়া প্রায় ছয় হাজার এইচ-১বি আবেদনপত্রের ৮০ শতাংশই ছিল বিদ্যমান কর্মীদের অবস্থার মেয়াদ বাড়ানো বা পরিবর্তনের জন্য, নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য নয়। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, একই ধরনের কাজ করা কর্মীদের তুলনীয় বেতন দেওয়া হয় এবং তারা প্রশাসনকে অতিরিক্ত তথ্য দিতে প্রস্তুত। গ্রিন কার্ডের পথে কী বাধা তৈরি হলো? পিইআরএম হলো যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র পাওয়ার জন্য অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শ্রম সনদ প্রক্রিয়া। কোনো নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে নিয়োগের জন্য আবেদন করলে সাধারণত দেখাতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদে উপযুক্ত ও আগ্রহী মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বিদেশি কর্মীদের আবেদন বিলম্বিত হতে পারে। যাঁরা এইচ-১বি ভিসায় কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতে নিয়োগকর্তার সহায়তায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে চান, তাঁদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি: এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের বিদেশি কর্মীদের এইচ-১বি ভিসা বাতিল করা হয়নি। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সব কর্মীর গ্রিন কার্ডও বাতিল করা হয়নি। স্থগিতাদেশটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন ও বিচারাধীন পিইআরএম শ্রম সনদ আবেদনের ওপর প্রযোজ্য। এর ফলে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ আটকে যেতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারল্যান্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ৩০ লাখ বিদেশি কর্মীর জন্য আবেদন করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য দুই লাখ ৩০ হাজারের বেশি এইচ-১বি ভিসা অনুমোদন এবং এক লাখের বেশি স্থায়ী শ্রম সনদ অনুমোদনের তথ্যও তিনি উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সফটওয়্যার উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শ, ক্লাউড কম্পিউটিং ও সাইবার নিরাপত্তার মতো খাতে আন্তর্জাতিক কর্মীদের নিয়োগ দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থা। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হতে পারে। কেউ কেউ অন্য নিয়োগকর্তার কাছে যাওয়া, বিকল্প অভিবাসনপথ খোঁজা অথবা যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। তবে প্রত্যেক কর্মীর পরিস্থিতি তাঁর বর্তমান ভিসা, আবেদন পর্যায় এবং ব্যক্তিগত যোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে। নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ও তদন্তের আওতায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রশাসন হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড, ব্রাউন, পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস ক্যাম্পাস, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির বিরুদ্ধে তদন্তের কথা জানিয়েছে। প্রশাসনের অভিযোগ, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ব্যবহৃত জে-১ বিনিময় কর্মসূচির অপব্যবহার করে থাকতে পারে। তদন্তকারীরা বিদেশি প্রভাব, আর্থিক সম্পর্ক, ভিসার নিয়ম মানা এবং সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণার স্বচ্ছতার মতো বিষয় খতিয়ে দেখবেন। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তারা সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করবে।
সমুদ্রের তলদেশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ক্যাবল এবং জ্বালানি পাইপলাইনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে এক ভয়ঙ্কর গোপন যুদ্ধে মেতেছে রাশিয়া ও চীন। এই নাশকতা যদি পুরোপুরি সফল হয়, তবে আধুনিক বিশ্ব মুহূর্তেই ইন্টারনেট ও জ্বালানি হারিয়ে মধ্যযুগীয় অন্ধকারে বা অন্তত ১৮৫৮ সালের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক এলিজাবেথ ব্র-এর সদ্য প্রকাশিত বই ‘আন্ডারসি ওয়ার: দ্য ব্যাটল টু কন্ট্রোল দ্য ক্যাবলস অ্যান্ড পাইপলাইনস দ্যাট কানেক্ট আওয়ার ওয়ার্ল্ড’-এ এই ভীতিকর বাস্তবতা উঠে এসেছে। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর। রাশিয়ার উস্ত-লুগা বন্দর থেকে খনিজ সার বোঝাই করে বাল্টিক সাগরে প্রবেশ করে চীনা পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘ই পেং ৩’ (Yi Peng 3)। এর মাত্র দুই দিন পর জাহাজটি সুইডেন ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যকার সমুদ্রতলের যোগাযোগ ক্যাবলের ওপর দিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই লাইনটি অচল হয়ে পড়ে। ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে ফিনল্যান্ড ও জার্মানির মধ্যকার একমাত্র যোগাযোগ ক্যাবলটির পাশ দিয়ে যায় জাহাজটি এবং সেটিও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইউরোপীয় তদন্তকারীরা দ্রুতই বুঝতে পারেন যে ক্যাবল দুটি কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সীমাবদ্ধতা ও চীনের অসহযোগিতার কারণে জাহাজটিকে আটকানো সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের গোপন নাশকতাকে ‘হাইব্রিড অ্যাটাক’ বা ছায়াযুদ্ধ বলে অভিহিত করছেন, যা সরাসরি যুদ্ধ ও কূটনীতির মাঝামাঝি এক ধূসর অঞ্চলে (গ্রে-জোন) পরিচালিত হয়। কেবল সমুদ্রতলেই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে এস্তোনিয়া, জার্মানি, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র এবং বুলগেরিয়ার অস্ত্র কারখানায় রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত ২০ আগস্ট কৃষ্ণসাগরে একটি গ্যাস প্ল্যাটফর্মের কাছে সন্দেহজনক রোবোটিক বোট ধ্বংস করতে রোমানিয়ার বিমান বাহিনী দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠায়। এছাড়া সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে অগ্নিসংযোগ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যুক্ত পাঁচজনকে অভিযুক্ত করেছে এফবিআই। এমনকি গত আগস্টে জার্মানির বিমানবন্দরে থাকা বেসামরিক বিমানে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলার জন্যও রাশিয়াকে দায়ী করা হয়। এলিজাবেথ ব্র তার বইয়ে দেখিয়েছেন কীভাবে সমুদ্রতলের প্রায় ২০ হাজার মাইল দীর্ঘ তেল-গ্যাস পাইপলাইন এবং ১০ লাখ মাইল দীর্ঘ ফাইবার অপটিক ক্যাবল আধুনিক বিশ্বকে সচল রেখেছে। প্রতিদিনের ট্রিলিয়ন ডলারের আর্থিক লেনদেন, ইমেইল, জুম কল কিংবা ঘর গরম রাখার জ্বালানি—সবই নির্ভর করে এই ‘আন্ডারসি কিংডম’ বা সমুদ্রতলের সাম্রাজ্যের ওপর। অথচ যেকোনো সাধারণ জাহাজ থেকে একটি ভারী নোঙর ফেলেই এই সংবেদনশীল অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব। এর আগে ২০২৩ সালে তাইওয়ানের মাতসু দ্বীপের দুটি যোগাযোগ ক্যাবল কেটে দিয়েছিল চীনা কার্গো জাহাজ। ফলে মুহূর্তেই পুরো দ্বীপটি ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, অচল হয়ে যায় ডিজিটাল লেনদেন এবং হাসপাতালগুলোকে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়। একইভাবে ফিনল্যান্ডের জলসীমায় গ্যাস পাইপলাইন ও ক্যাবল ধ্বংসে জড়িত ছিল ‘নিউনিউ পোলার বিয়ার’ নামের আরেকটি জাহাজ, এবং ২০২২ সালে ইউক্রেনীয় নাশকতায় ধ্বংস হয় বিখ্যাত নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সমুদ্রতলের এই ক্যাবল সুরক্ষার আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোটি ১৮৮৪ সালের প্যারিস কনভেনশনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী, কোনো জাহাজ ক্যাবল কাটলে তার বিচার বা তদন্তের দায়িত্ব কেবল ওই জাহাজটি যে দেশে নিবন্ধিত, সেই দেশের। ফলে অপরাধী জাহাজগুলো সহজেই দায়মুক্তি পেয়ে যায়। এই ভয়াবহ ঝুঁকি মোকাবিলায় বিকল্প বা অতিরিক্ত ক্যাবল (রিডান্ড্যান্সি) স্থাপনকেই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান বলে মনে করেন লেখক, যা বর্তমানে বাল্টিক সাগর ও তাইওয়ানের আশপাশে করা হচ্ছে। তবে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রয়টার্স জানায়, নরওয়ে উপকূলে ন্যাটোর এক যৌথ অভিযানে রুশ সাবমেরিনের একটি গোপন মহড়া ভণ্ডুল করে দেওয়া হয়েছে। রুশ সাবমেরিন যুদ্ধ পরিদপ্তরের (জিইউজিআই) তিনটি যান আর্কটিক অঞ্চলে কোনো চিহ্ন না রেখেই সমুদ্রতলের ডেটা ক্যাবল কাটার একটি নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছিল, যা দীর্ঘ এক মাস ধরে অনুসরণ করে ব্রিটিশ সাবমেরিন। বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রতলের এই নীরব যুদ্ধ হয়তো এখনো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধায়নি, কিন্তু যেদিন হঠাৎ বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, সেদিন বিশ্ববাসী ঠিকই এর ভয়াবহতা টের পাবে।