সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন
ট্রাম্পের পদক্ষেপে মাইক্রোসফটসহ সাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আ/টকে গেল কর্মীদের গ্রিন কার্ডের পথ

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিপত্র পাওয়ার পথ সীমিত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি এবং আরও পাঁচটি বড় প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভিসা ব্যবস্থার সম্ভাব্য অপব্যবহার তদন্তে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।   রয়টার্সের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস, উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস ও ক্যাপজেমিনির ক্ষেত্রে স্থায়ী শ্রম সনদ বা পিইআরএম প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।   প্রশাসনের দাবি, কিছু প্রতিষ্ঠান মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করার পরও বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ ও ভিসা সুবিধা ব্যবহার করছে। এতে দেশীয় কর্মীদের মজুরি ও চাকরির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে কম বেতনের বিদেশি কর্মী দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছে—এমন অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে উপস্থাপিত প্রমাণের পরিমাণ সীমিত। অভিযোগের তদন্ত চলমান এবং কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তা প্রমাণিত অপরাধ হয়ে যায় না।   মাইক্রোসফট জানিয়েছে, গত অর্থবছরে তাদের জমা দেওয়া প্রায় ছয় হাজার এইচ-১বি আবেদনপত্রের ৮০ শতাংশই ছিল বিদ্যমান কর্মীদের অবস্থার মেয়াদ বাড়ানো বা পরিবর্তনের জন্য, নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য নয়। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, একই ধরনের কাজ করা কর্মীদের তুলনীয় বেতন দেওয়া হয় এবং তারা প্রশাসনকে অতিরিক্ত তথ্য দিতে প্রস্তুত।   গ্রিন কার্ডের পথে কী বাধা তৈরি হলো?   পিইআরএম হলো যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র পাওয়ার জন্য অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শ্রম সনদ প্রক্রিয়া। কোনো নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে নিয়োগের জন্য আবেদন করলে সাধারণত দেখাতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদে উপযুক্ত ও আগ্রহী মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।   এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বিদেশি কর্মীদের আবেদন বিলম্বিত হতে পারে। যাঁরা এইচ-১বি ভিসায় কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতে নিয়োগকর্তার সহায়তায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে চান, তাঁদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।   তবে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি: এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের বিদেশি কর্মীদের এইচ-১বি ভিসা বাতিল করা হয়নি। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সব কর্মীর গ্রিন কার্ডও বাতিল করা হয়নি। স্থগিতাদেশটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন ও বিচারাধীন পিইআরএম শ্রম সনদ আবেদনের ওপর প্রযোজ্য। এর ফলে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ আটকে যেতে পারে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারল্যান্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ৩০ লাখ বিদেশি কর্মীর জন্য আবেদন করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য দুই লাখ ৩০ হাজারের বেশি এইচ-১বি ভিসা অনুমোদন এবং এক লাখের বেশি স্থায়ী শ্রম সনদ অনুমোদনের তথ্যও তিনি উল্লেখ করেছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সফটওয়্যার উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শ, ক্লাউড কম্পিউটিং ও সাইবার নিরাপত্তার মতো খাতে আন্তর্জাতিক কর্মীদের নিয়োগ দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থা।   নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হতে পারে। কেউ কেউ অন্য নিয়োগকর্তার কাছে যাওয়া, বিকল্প অভিবাসনপথ খোঁজা অথবা যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। তবে প্রত্যেক কর্মীর পরিস্থিতি তাঁর বর্তমান ভিসা, আবেদন পর্যায় এবং ব্যক্তিগত যোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে।   যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিপত্র পাওয়ার পথ সীমিত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি এবং আরও পাঁচটি বড় প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভিসা ব্যবস্থার সম্ভাব্য অপব্যবহার তদন্তে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। রয়টার্সের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস, উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস ও ক্যাপজেমিনির ক্ষেত্রে স্থায়ী শ্রম সনদ বা পিইআরএম (PERM) প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।   প্রশাসনের দাবি, কিছু প্রতিষ্ঠান মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করার পরও বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ ও ভিসা সুবিধা ব্যবহার করছে। এতে দেশীয় কর্মীদের মজুরি ও চাকরির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে কম বেতনের বিদেশি কর্মী দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছে—এমন অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে উপস্থাপিত প্রমাণের পরিমাণ সীমিত। অভিযোগের তদন্ত চলমান এবং কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তা প্রমাণিত অপরাধ হয়ে যায় না।   মাইক্রোসফট জানিয়েছে, গত অর্থবছরে তাদের জমা দেওয়া প্রায় ছয় হাজার এইচ-১বি আবেদনপত্রের ৮০ শতাংশই ছিল বিদ্যমান কর্মীদের অবস্থার মেয়াদ বাড়ানো বা পরিবর্তনের জন্য, নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য নয়। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, একই ধরনের কাজ করা কর্মীদের তুলনীয় বেতন দেওয়া হয় এবং তারা প্রশাসনকে অতিরিক্ত তথ্য দিতে প্রস্তুত।   গ্রিন কার্ডের পথে কী বাধা তৈরি হলো?   পিইআরএম হলো যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র পাওয়ার জন্য অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শ্রম সনদ প্রক্রিয়া। কোনো নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে নিয়োগের জন্য আবেদন করলে সাধারণত দেখাতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদে উপযুক্ত ও আগ্রহী মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।   এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বিদেশি কর্মীদের আবেদন বিলম্বিত হতে পারে। যাঁরা এইচ-১বি ভিসায় কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতে নিয়োগকর্তার সহায়তায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে চান, তাঁদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি: এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের বিদেশি কর্মীদের এইচ-১বি ভিসা বাতিল করা হয়নি। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সব কর্মীর গ্রিন কার্ডও বাতিল করা হয়নি। স্থগিতাদেশটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন ও বিচারাধীন পিইআরএম শ্রম সনদ আবেদনের ওপর প্রযোজ্য। এর ফলে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ আটকে যেতে পারে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারল্যান্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ৩০ লাখ বিদেশি কর্মীর জন্য আবেদন করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য দুই লাখ ৩০ হাজারের বেশি এইচ-১বি ভিসা অনুমোদন এবং এক লাখের বেশি স্থায়ী শ্রম সনদ অনুমোদনের তথ্যও তিনি উল্লেখ করেছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সফটওয়্যার উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শ, ক্লাউড কম্পিউটিং ও সাইবার নিরাপত্তার মতো খাতে আন্তর্জাতিক কর্মীদের নিয়োগ দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থা।   নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হতে পারে। কেউ কেউ অন্য নিয়োগকর্তার কাছে যাওয়া, বিকল্প অভিবাসনপথ খোঁজা অথবা যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। তবে প্রত্যেক কর্মীর পরিস্থিতি তাঁর বর্তমান ভিসা, আবেদন পর্যায় এবং ব্যক্তিগত যোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে।   নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ও তদন্তের আওতায়   প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রশাসন হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড, ব্রাউন, পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস ক্যাম্পাস, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির বিরুদ্ধে তদন্তের কথা জানিয়েছে।   প্রশাসনের অভিযোগ, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ব্যবহৃত জে-১ বিনিময় কর্মসূচির অপব্যবহার করে থাকতে পারে। তদন্তকারীরা বিদেশি প্রভাব, আর্থিক সম্পর্ক, ভিসার নিয়ম মানা এবং সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণার স্বচ্ছতার মতো বিষয় খতিয়ে দেখবেন। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তারা সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৫:০
রাশিয়া-চীনের বিরুদ্ধে সমুদ্রতলের ক্যাবল কাটার অভিযোগ, অচল হতে পারে বিশ্ব ইন্টারনেট
রাশিয়া-চীনের বিরুদ্ধে সমুদ্রতলের ক্যাবল কাটার অভিযোগ, অচল হতে পারে বিশ্ব ইন্টারনেট

সমুদ্রের তলদেশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ক্যাবল এবং জ্বালানি পাইপলাইনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে এক ভয়ঙ্কর গোপন যুদ্ধে মেতেছে রাশিয়া ও চীন। এই নাশকতা যদি পুরোপুরি সফল হয়, তবে আধুনিক বিশ্ব মুহূর্তেই ইন্টারনেট ও জ্বালানি হারিয়ে মধ্যযুগীয় অন্ধকারে বা অন্তত ১৮৫৮ সালের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে।   আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক এলিজাবেথ ব্র-এর সদ্য প্রকাশিত বই ‘আন্ডারসি ওয়ার: দ্য ব্যাটল টু কন্ট্রোল দ্য ক্যাবলস অ্যান্ড পাইপলাইনস দ্যাট কানেক্ট আওয়ার ওয়ার্ল্ড’-এ এই ভীতিকর বাস্তবতা উঠে এসেছে।   ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর। রাশিয়ার উস্ত-লুগা বন্দর থেকে খনিজ সার বোঝাই করে বাল্টিক সাগরে প্রবেশ করে চীনা পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘ই পেং ৩’ (Yi Peng 3)। এর মাত্র দুই দিন পর জাহাজটি সুইডেন ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যকার সমুদ্রতলের যোগাযোগ ক্যাবলের ওপর দিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই লাইনটি অচল হয়ে পড়ে।   ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে ফিনল্যান্ড ও জার্মানির মধ্যকার একমাত্র যোগাযোগ ক্যাবলটির পাশ দিয়ে যায় জাহাজটি এবং সেটিও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইউরোপীয় তদন্তকারীরা দ্রুতই বুঝতে পারেন যে ক্যাবল দুটি কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সীমাবদ্ধতা ও চীনের অসহযোগিতার কারণে জাহাজটিকে আটকানো সম্ভব হয়নি।   নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের গোপন নাশকতাকে ‘হাইব্রিড অ্যাটাক’ বা ছায়াযুদ্ধ বলে অভিহিত করছেন, যা সরাসরি যুদ্ধ ও কূটনীতির মাঝামাঝি এক ধূসর অঞ্চলে (গ্রে-জোন) পরিচালিত হয়। কেবল সমুদ্রতলেই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে এস্তোনিয়া, জার্মানি, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র এবং বুলগেরিয়ার অস্ত্র কারখানায় রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।   গত ২০ আগস্ট কৃষ্ণসাগরে একটি গ্যাস প্ল্যাটফর্মের কাছে সন্দেহজনক রোবোটিক বোট ধ্বংস করতে রোমানিয়ার বিমান বাহিনী দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠায়। এছাড়া সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে অগ্নিসংযোগ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যুক্ত পাঁচজনকে অভিযুক্ত করেছে এফবিআই। এমনকি গত আগস্টে জার্মানির বিমানবন্দরে থাকা বেসামরিক বিমানে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলার জন্যও রাশিয়াকে দায়ী করা হয়।   এলিজাবেথ ব্র তার বইয়ে দেখিয়েছেন কীভাবে সমুদ্রতলের প্রায় ২০ হাজার মাইল দীর্ঘ তেল-গ্যাস পাইপলাইন এবং ১০ লাখ মাইল দীর্ঘ ফাইবার অপটিক ক্যাবল আধুনিক বিশ্বকে সচল রেখেছে। প্রতিদিনের ট্রিলিয়ন ডলারের আর্থিক লেনদেন, ইমেইল, জুম কল কিংবা ঘর গরম রাখার জ্বালানি—সবই নির্ভর করে এই ‘আন্ডারসি কিংডম’ বা সমুদ্রতলের সাম্রাজ্যের ওপর।   অথচ যেকোনো সাধারণ জাহাজ থেকে একটি ভারী নোঙর ফেলেই এই সংবেদনশীল অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব। এর আগে ২০২৩ সালে তাইওয়ানের মাতসু দ্বীপের দুটি যোগাযোগ ক্যাবল কেটে দিয়েছিল চীনা কার্গো জাহাজ। ফলে মুহূর্তেই পুরো দ্বীপটি ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, অচল হয়ে যায় ডিজিটাল লেনদেন এবং হাসপাতালগুলোকে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়।   একইভাবে ফিনল্যান্ডের জলসীমায় গ্যাস পাইপলাইন ও ক্যাবল ধ্বংসে জড়িত ছিল ‘নিউনিউ পোলার বিয়ার’ নামের আরেকটি জাহাজ, এবং ২০২২ সালে ইউক্রেনীয় নাশকতায় ধ্বংস হয় বিখ্যাত নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন।   সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সমুদ্রতলের এই ক্যাবল সুরক্ষার আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোটি ১৮৮৪ সালের প্যারিস কনভেনশনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী, কোনো জাহাজ ক্যাবল কাটলে তার বিচার বা তদন্তের দায়িত্ব কেবল ওই জাহাজটি যে দেশে নিবন্ধিত, সেই দেশের। ফলে অপরাধী জাহাজগুলো সহজেই দায়মুক্তি পেয়ে যায়।   এই ভয়াবহ ঝুঁকি মোকাবিলায় বিকল্প বা অতিরিক্ত ক্যাবল (রিডান্ড্যান্সি) স্থাপনকেই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান বলে মনে করেন লেখক, যা বর্তমানে বাল্টিক সাগর ও তাইওয়ানের আশপাশে করা হচ্ছে। তবে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রয়টার্স জানায়, নরওয়ে উপকূলে ন্যাটোর এক যৌথ অভিযানে রুশ সাবমেরিনের একটি গোপন মহড়া ভণ্ডুল করে দেওয়া হয়েছে।   রুশ সাবমেরিন যুদ্ধ পরিদপ্তরের (জিইউজিআই) তিনটি যান আর্কটিক অঞ্চলে কোনো চিহ্ন না রেখেই সমুদ্রতলের ডেটা ক্যাবল কাটার একটি নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছিল, যা দীর্ঘ এক মাস ধরে অনুসরণ করে ব্রিটিশ সাবমেরিন। বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রতলের এই নীরব যুদ্ধ হয়তো এখনো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধায়নি, কিন্তু যেদিন হঠাৎ বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, সেদিন বিশ্ববাসী ঠিকই এর ভয়াবহতা টের পাবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:৪২
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ দেশটির পাঁচটি প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক
হোয়াইট হাউস ঘিরে গণমাধ্যমে তোলপাড়, পাঁচ টিভি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্তে বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ দেশটির পাঁচটি প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক—এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, এনবিসি ও ফক্স নিউজের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহ কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নেটওয়ার্কগুলো প্রতিযোগিতাবিরোধী আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   রয়টার্সের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের অ্যান্টিট্রাস্ট বিভাগ তদন্ত করছে, সংবাদমাধ্যমগুলোর সম্মিলিতভাবে সংবাদ কাভারেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের শেরম্যান আইনের আওতায় অবৈধ গোষ্ঠীগত বর্জন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না।   বিতর্কের সূত্রপাত গত ১৯ সেপ্টেম্বর। ওই দিন ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউয়ের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতিপত্র বাতিল করে। প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, এসব সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদন নিয়ে সমস্যা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো এ সিদ্ধান্তকে সংবাদ সংগ্রহে বাধা এবং সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে আদালতের শরণাপন্ন হয়।   এরপর হোয়াইট হাউসের নিয়মিত টেলিভিশন সংবাদ সংগ্রহ ব্যবস্থায় অংশ নেওয়া পাঁচটি নেটওয়ার্ক প্রতিবাদ জানিয়ে সম্মিলিতভাবে কাভারেজ স্থগিত করে। এই ব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমগুলো পালাক্রমে প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান কাভার করে এবং ভিডিও ফুটেজ পরস্পরের সঙ্গে ভাগাভাগি করে। ফলে একটি নেটওয়ার্কের সংগ্রহ করা দৃশ্য অন্য সংবাদমাধ্যমও ব্যবহার করতে পারে।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর ফেডারেল বিচারক টিমোথি কেলি সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশের পর সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর অনুমতিপত্র ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ নিয়ে প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের বিরোধ অব্যাহত থাকে।   বিচার বিভাগের বক্তব্য, প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত বর্জন কোনো কোনো পরিস্থিতিতে শেরম্যান আইন লঙ্ঘন করতে পারে। তবে তদন্ত শুরু হওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলো আইন ভঙ্গ করেছে, এমন নয়। তদন্তে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায় কি না এবং পরবর্তী সময়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয় কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।   এ ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে দুটি পৃথক বিষয়। প্রথমত, প্রতিযোগী সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে সমন্বিত সিদ্ধান্ত বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার আইন লঙ্ঘন করেছে কি না। দ্বিতীয়ত, সরকার সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করার সময় সাংবাদিকদের সাংবিধানিক অধিকার যথাযথভাবে রক্ষা করছে কি না। আইনি দৃষ্টিতে বিষয় দুটি সম্পর্কিত হলেও এক নয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:৩২
মার্কিন হু মকির মুখেও দমছে না ইরান, গোপনে ক্ষে পণাস্ত্র দিচ্ছে রাশিয়া
মার্কিন হু মকির মুখেও দমছে না ইরান, গোপনে ক্ষে পণাস্ত্র দিচ্ছে রাশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক হামলার হুমকির মুখে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার ও সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে জোরালো কাজ শুরু করেছে ইরান। এই প্রক্রিয়ায় তেহরানকে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে মস্কো। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কয়েক মাসের টানা বিমান হামলার পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা যায়নি। দেশটির অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো এখনো সচল রয়েছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর সক্ষমতাও তেহরানের হাতে আছে। পাশাপাশি দেশটির ভাণ্ডারে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যালিস্টিক ও জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে।   পশ্চিমা এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, রাশিয়া ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে—যা গত জুনের একটি গোয়েন্দা মূল্যায়নেও উঠে এসেছিল। তবে এ বিষয়ে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, হোয়াইট হাউস কিংবা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রগুলোর এই নতুন মূল্যায়ন ওয়াশিংটনের আগের দাবির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, টানা আট মাসের বিমান হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে গোয়েন্দা তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা শুরু করলে পাল্টা আঘাত হানার যথেষ্ট সক্ষমতা এখনো তেহরানের রয়েছে। এদিকে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালীর আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা বাড়িয়েছে ইরান; কেবল গত সপ্তাহেই অন্তত ১০টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।   ইরানের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়ে অবশ্য ভিন্ন ভিন্ন তথ্য রয়েছে। ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর আগে ইরানের হাতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান ৪ হাজারের বেশি শাহেদ ড্রোন এবং অন্তত ২ হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে গত জুনের পশ্চিমা গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর আগের মজুতের প্রায় ৭৫ শতাংশই ধরে রাখতে পেরেছে দেশটি।   সিআইএর সাবেক বিশ্লেষক এবং কিংস কলেজ লন্ডনের ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো জিম ল্যামসন মনে করেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের প্রতিরক্ষা গবেষণা বিভাগের প্রধান বেকা ওয়াসার জানান, মার্কিন হামলা আপাতত বন্ধ থাকায় ইরান পরবর্তী সংঘাতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার মূল্যবান সময় পাচ্ছে। কোনো পক্ষই সুস্পষ্ট সামরিক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে না পারায় এই সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এদিকে, ইরানকে রুশ সামরিক সহায়তার খবরের মধ্যেই ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে একটি নতুন সমঝোতার ঘোষণা এসেছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহের সংকট মোকাবিলায় রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।   সমঝোতার অংশ হিসেবে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রুশ জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের চাপের নীতিতে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত মাসে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছিল যে, ২০২৩ সাল থেকেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানতে সক্ষম এমন সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও র‍্যামজেট প্রপালশন প্রযুক্তি তৈরিতে ইরানকে গোপনে সহায়তা করে আসছে রুশ প্রকৌশলীরা।

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:২০
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে অসন্তোষ, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমদানি শুল্কনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ বাড়ছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাণিজ্যনীতি, নিত্যপণ্যের দাম এবং উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থানের প্রভাব রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ৬৪ শতাংশের বেশি মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, ট্রাম্প শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে মাত্রা ছাড়িয়ে গেছেন। জানুয়ারিতে একই ধরনের প্রশ্নে এই হার ছিল ৫৮ শতাংশ। জরিপের এই ফল শুল্কনীতি নিয়ে জনমতের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও নির্বাচনে ভোটাররা কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন, তা নিশ্চিত করে না।   ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া, দেশীয় কারখানায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বাণিজ্যে অন্যায্য প্রতিযোগিতা মোকাবিলা করা সম্ভব। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কারখানা নির্মাণ এবং উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থানের তথ্যকে নীতিটির সম্ভাব্য সুফল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশের উদ্বেগ, আমদানি করা কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ ও ভোগ্যপণ্যের ওপর শুল্ক বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয়ও বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের কিছু অংশ পণ্যের দামে যুক্ত করলে শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের বেশি অর্থ দিতে হতে পারে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর সাধারণত দুই অঙ্কের নিম্ন পর্যায়ের শুল্ক আরোপ করেছে, যদিও বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে হার আলাদা এবং আইনি ও নীতিগত পরিবর্তনের কারণে তা ওঠানামা করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারাসহ বিভিন্ন আইনি ভিত্তি ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   শুল্কনীতির প্রভাব শুধু বিদেশি রপ্তানিকারকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ আমদানি করে, তাদের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিল্প আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য বিকল্প সরবরাহকারী খোঁজা, নতুন চুক্তি করা এবং পণ্যের দাম সমন্বয় করা ব্যয়বহুল হতে পারে।   শুল্কের কারণে দেশীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতায় সুবিধা পেতে পারেন—এমন যুক্তিও রয়েছে। তবে নতুন কারখানা নির্মাণ এবং স্থায়ী উৎপাদনভিত্তিক চাকরি তৈরির মধ্যে সময়ের ব্যবধান থাকে। কারখানা নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়লেই সঙ্গে সঙ্গে বিপুলসংখ্যক স্থায়ী উৎপাদনকর্মীর চাকরি তৈরি হয় না।   নির্বাচনের আগে এ বিতর্কের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ভোটারদের কাছে মূল্যস্ফীতি, চাকরির নিরাপত্তা এবং পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতির বাস্তব ফলাফল নিয়ে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কিছু অর্থনৈতিক বিশ্লেষকও প্রশ্ন তুলছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৩:৪৮
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজনি ওয়ার্ল্ডে টিকিটের দাম বাড়িয়ে ৩০১ ডলার, ক্ষুব্ধ সাধারণ দর্শনার্থীরা
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজনি ওয়ার্ল্ডে টিকিটের দাম বাড়িয়ে ৩০১ ডলার, ক্ষুব্ধ সাধারণ দর্শনার্থীরা

‘পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী স্থান’ হিসেবে পরিচিত ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ডে ভ্রমণের খরচ একলাফে অনেকটা বেড়ে গেছে। চলতি সপ্তাহে নীরবেই টিকিটের দাম বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ, যার ফলে জনপ্রিয় একদিনের ‘পার্ক হপার’ পাসের (সবগুলো পার্কে প্রবেশের টিকিট) দাম পিক উইকএন্ড বা ছুটির দিনগুলোতে ৩০০ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে।   এই মাল্টি-পার্ক পাসের মূল দাম ২৮০ ডলার বিজ্ঞাপিত হলেও, বাধ্যতামূলক ফি এবং ১৮ দশমিক ৪০ ডলার কর যোগ হয়ে চূড়ান্ত মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩০১ দশমিক ৪০ ডলারে। সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো, এত চড়া দামে টিকিট কেটেও পার্কে প্রবেশের শতভাগ নিশ্চয়তা নেই, কারণ ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে গেলে প্রবেশাধিকার সীমিত থাকে।   কেবল মাল্টি-পার্ক পাসই নয়, সাধারণ একদিনের সিঙ্গেল-পার্ক টিকিটের দামও ২০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। মঙ্গলবারের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সর্বোচ্চ স্তরের একদিনের সাধারণ টিকিটের দাম ১০ ডলার বেড়ে ২২৯ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া লাইন এড়িয়ে রাইডে ওঠার ভিআইপি ‘লাইটনিং লেন’ পাসের দাম একলাফে ৫০ ডলার বেড়ে ৪৯৯ ডলারে ঠেকেছে।   অ্যানিমেল কিংডমের মতো পার্কে অফ-পিক সময়ে টিকিটের দাম এখনও ১২০ ডলারের আশেপাশে শুরু হলেও, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তা করসহ ১৯০ ডলার ছাড়িয়ে যাচ্ছে।   বার্ষিক পাসগুলোর ক্ষেত্রেও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। ফ্লোরিডার বাইরের বাসিন্দাদের জন্য প্রযোজ্য একমাত্র বার্ষিক পাস ‘ইনক্রেডি-পাস’-এর দাম একলাফে ১২০ ডলার বাড়িয়ে ১ হাজার ৭৪৯ ডলার করা হয়েছে। এই পাসের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা একসাথে সর্বোচ্চ ৫টি থিম পার্ক রিজার্ভেশন ধরে রাখার সুযোগ পান। পাশাপাশি ফ্লোরিডার স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ‘পিক্সি ডাস্ট পাস’ ১০ ডলার, ‘পাইরেট পাস’ ৪০ ডলার এবং ‘সরসারার পাস’ ৪০ ডলার বাড়ানো হয়েছে।   নতুন প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০২৭ সাল পর্যন্ত মাল্টি-পার্ক পিক টিকিটের দাম ৩০০ ডলারের ওপরেই থাকবে। ২০২৭ সালের বড়দিন এবং ইংরেজি নববর্ষের প্রাক্কালে ম্যাজিক কিংডমের একদিনের টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২২৯ ডলার, যা চলতি বছর ২০৯ ডলার এবং ২০২৭ সালের পূর্বে ঘোষিত তারিখগুলোর জন্য ২১৯ ডলার ছিল।   অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার ডিজনিল্যান্ডেও মাঝারি স্তরের এবং পার্ক-হপার টিকিটের দাম ৫ থেকে ১০ ডলার বাড়ানো হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সেখানকার সবচেয়ে সস্তা একদিনের টিকিটের দাম ২০১৯ সালের মতোই ১০৪ ডলারে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।   টিকিটের এই ঊর্ধ্বমুখী দামের ধাক্কা সামলাতে এবং সাশ্রয়ী মূল্যের দিনগুলো খুঁজে পেতে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে ওয়েবসাইটে একটি এআই (AI) বট চালু করেছে ডিজনি। ইউএসএ টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বটের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা কোন তারিখে টিকিটের দাম সবচেয়ে কম, তা সহজেই খুঁজে নিতে পারবেন।   তবে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। রেডিটে একজন ব্যবহারকারী আক্ষেপ করে লিখেছেন যে, এই কোম্পানিগুলোর এখন আর নিম্ন বা মধ্যবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের প্রয়োজন নেই; বরং কেবল ধনীদের কথা মাথায় রেখেই এখন এসব বিনোদন কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে।   উত্তর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা আরেক দর্শনার্থী জানান, বিমান ভাড়া, মাঝারি মানের হোটেলে দুই রাত থাকা এবং লাইটনিং লেনসহ পার্ক হপার টিকিট মিলিয়ে মাত্র একদিনের ভ্রমণের জন্য দুইজনের খরচ পড়ছে প্রায় ২ হাজার ডলার—যার মধ্যে খাবার, যাতায়াত কিংবা কেনাকাটার হিসাবই ধরা হয়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৩:৪৭
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান ঘিরে বিক্ষোভ
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান ঘিরে বিক্ষোভ, পাঁচ বছরের শিশুর সামনে গুলির ঘটনায় ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অভিযান ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২৮ বছর বয়সী অস্কার বার্গালকে গুলি করার ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার, ১০ অক্টোবর, ম্যানহাটনের হেরাল্ড স্কয়ারে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর কার্যক্রম বন্ধ এবং ফেডারেল কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।   সিবিএস নিউইয়র্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ম্যানহাটনের মার্বেল হিল এলাকায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানের সময় গুলির ঘটনা ঘটে। ওই সময় বার্গালের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে গাড়ির পেছনের আসনে ছিল। শিশুটি গুলিতে আহত হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, কর্মকর্তারা বার্গালকে আটক করার চেষ্টা করছিলেন। বিভাগের দাবি, গাড়িটিকে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য গুলি চালান। তবে গুলি চালানোর পরিস্থিতি, কর্মকর্তাদের কৌশল এবং ঘটনার আগে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   বার্গালের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর শরীরে একটি গুলি আটকে রয়েছে। ঘটনাটির পর নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের প্রকাশ করা ভিডিওতে গুলির মুহূর্ত দেখা যায়নি। তবে ভিডিওতে কর্মকর্তাদের গাড়ির কাছে যেতে এবং গাড়িচালককে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।   এ ঘটনায় শুক্রবার ও শনিবার নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়। ফেডারেল অভিবাসন অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অভিবাসী অধিকারকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্য, অভিবাসন আইন কার্যকর করার নামে যেন অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ না হয় এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বার্গালের অভিবাসন অবস্থান এবং অতীতের গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে অভিযোগ করেছে। বিভাগটির আরও দাবি, তাঁর একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন বিচারিক নিষ্পত্তি এবং ঘটনার তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।   সিবিএস নিউইয়র্ক জানিয়েছে, শুক্রবার একজন ফেডারেল বিচারক সাময়িকভাবে বার্গালকে দেশ থেকে বহিষ্কারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি তাঁর মুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৩:৩০
যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডবে নি হত ৪, বিদ্যুৎহীন প্রায় ৪ লাখ গ্রাহক
যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডবে নি হত ৪, বিদ্যুৎহীন প্রায় ৪ লাখ গ্রাহক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা প্যানহ্যান্ডেল এবং দক্ষিণ অ্যালাবামায় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ইসাইয়াস’-এর প্রভাবে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়টি ধীরে ধীরে উত্তরের দিকে অগ্রসর হলেও রোববার ভোর পর্যন্ত এই দুই অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৩ লাখ ৯৬ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন যে, ঝড়ের প্রভাবে মধ্য অ্যাপালাচিয়ান এবং মিড-আটলান্টিক অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।   মায়ামির ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের সিনিয়র হারিকেন বিশেষজ্ঞ ফিলিপ পাপিন জানিয়েছেন, ঝড়টি উত্তরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে ভারী বৃষ্টিপাতই এখন প্রধান ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যাপালাচিয়ান পর্বতমালার পাশ দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় শহরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা এবং দমকা হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্র ও মিড-আটলান্টিক অঞ্চলে গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ার পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় প্রাণঘাতী ঢেউ ও তীব্র স্রোতের (রিপ কারেন্ট) সতর্কতা জারি করেছে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস। জর্জিয়া এবং ক্যারোলাইনা অঞ্চলেও ভারী বর্ষণে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।   গত শুক্রবার ফ্লোরিডার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ডেস্টিনের কাছে ২ মাত্রার (ক্যাটাগরি-২) হারিকেন হিসেবে আঘাত হানে অ্যাটলান্টিক মৌসুমের প্রথম এই ঘূর্ণিঝড়। তীব্র বাতাসে ফ্লোরিডার পেনসাকোলা শহরের একটি হোটেলের ছাদ উড়ে যায় এবং স্থানীয় বিমানবন্দরও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   এছাড়া ডেস্টিনে একটি বোটহাউস বিধ্বস্ত হয়েছে এবং পানামা সিটি বিচে একটি বহুতল ভবনের সামনের অংশ ভেঙে পড়েছে। তবে জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা থাকলেও শনিবার ভোরের মধ্যেই উপকূলের প্রধান সড়কগুলো যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।   ঝড়ের তাণ্ডবে ফ্লোরিডা ও অ্যালাবামায় প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ফ্লোরিডার এসকাম্বিয়া কাউন্টির শেরিফ চিপ সিমন্স জানান, ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গ্যারেজে চালু রাখা জেনারেটরের কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় এক ব্যক্তি মারা গেছেন; ওই ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়া ৪ থেকে ৭২ বছর বয়সী আরও চারজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।   অন্যদিকে, অ্যালাবামার বার্মিংহামে ঘরের ওপর গাছ পড়ে একজনের এবং বারবার কাউন্টিতে রাস্তায় উপড়ে পড়া গাছের সাথে গাড়ির সংঘর্ষে আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।   দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডা ও অ্যালাবামার পর জর্জিয়াতেও জরুরি অবস্থা অনুমোদন করেছেন, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীয় সহায়তা পাঠানো সহজ হবে। পাশাপাশি, ঝড়ের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে জরুরি ভিত্তিতে অপরিশোধিত তেল বিনিময়ের অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ।   এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। ঘণ্টায় ২৪১ কিলোমিটার (১৫০ মাইল) বেগের বাতাস নিয়ে মেক্সিকো উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ৪ মাত্রার শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘সাইমন’। এর প্রভাবে রোববার থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মেক্সিকোতে ভারী বর্ষণ, প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ‘র‍্যাচেল’ দুর্বল হয়ে পোস্ট-ট্রপিক্যাল সাইক্লোনে পরিণত হলেও এর প্রভাবে উত্তর মেক্সিকো এবং দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় তীব্র বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৩:২৫
লাস ভেগাসে একাধিক বিয়ে ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় জিয়াইং চেনকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছবি: সংগৃহীত
জুয়ার টাকা জোগাতে একের পর এক বিয়ে, প্রতারণার দায়ে লাস ভেগাসে নারীর সাজা

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে একাধিক পুরুষকে বিয়ে করে তাঁদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জিয়াইং চেন নামে এক নারীকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ক্লার্ক কাউন্টির বিচারক ক্রিস্টাল এলার তাঁকে মোট এক বছর স্থানীয় কারাগারে থাকার নির্দেশ দেন। ইতোমধ্যে কারাগারে কাটানো সময় এই সাজার মধ্যে গণনা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার ডলার ফেরত দিতে হবে তাঁকে।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএসএনভি জানিয়েছে, জুলাইয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে চেন আগের বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় আবার বিয়ে করা এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে অন্তত এক লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাঁর আট থেকে ২০ বছরের কারাদণ্ড স্থগিত রেখে দুই বছরের প্রবেশনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এই সময়ে তাঁকে নির্ধারিত শর্ত মেনে চলতে হবে এবং জুয়ার আসক্তির চিকিৎসা নিতে হবে।    পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরুষদের সঙ্গে পরিচয়ের পর তাঁদের বিয়ের প্রস্তাব দিতেন চেন। বিয়ের পর কখনো চীনে অসুস্থ স্বজনের চিকিৎসা, কখনো একসঙ্গে বাড়ি কেনার কথা বলে অর্থ চাইতেন। টাকা পাওয়ার পর অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতেন তিনি।   লাস ভেগাস রিভিউ জার্নালের প্রতিবেদনে পুলিশি নথির বরাতে বলা হয়েছে, এক ব্যক্তি অসুস্থ স্বজনের চিকিৎসার জন্য তাঁকে ৪০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন। আরেকজন বিয়ের পরপরই দেন ২৩ হাজার ডলার। টাকা পাওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পর চেন তাঁকে জানান, তিনি আর দাম্পত্য সম্পর্ক রাখতে চান না। অন্য এক ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার বাড়ি কেনার জন্য প্রায় ৩০ হাজার ডলার সংগ্রহ করে চেনকে দেওয়ার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ হারান।    তদন্তকারীরা জানান, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চেনের নামে ১৪টি বিয়ের আবেদন জমা পড়েছিল, যেগুলো থেকে সাতটি বিয়ের সনদ দেওয়া হয়। পরে ‘ভিকি লিয়াং’ নামেও বিয়ের নথি পাওয়া যায়। কেএসএনভির সংগ্রহ করা নথি অনুযায়ী, ওই নামে তাঁর ছবি ব্যবহার করে জাল নেভাডা ড্রাইভার লাইসেন্স ও মার্কিন পাসপোর্ট তৈরি করা হয়েছিল। চলতি বছরও পাঁচজনকে বিয়ে করে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠে আসে তাঁর বিরুদ্ধে।    পুলিশের ভাষ্য, চেন লাস ভেগাসের উইন ক্যাসিনোতে এক বছরে তিন লাখ ডলারের বেশি হারিয়েছেন। স্বজনদের সহায়তার কথা বলে সংগ্রহ করা অর্থ জুয়ায় খরচ হয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।    কোর্ট টিভির আদালতসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাজা ঘোষণার সময় নয়জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি অর্থ ফেরত চেয়েছেন। তাঁদের দাবির পরিমাণ ছিল পৃথকভাবে প্রায় আট হাজার থেকে ৮১ হাজার ডলার। চেনকে সব মিলিয়ে ২ লাখ ৮০ হাজার ৬২ ডলার ৮৬ সেন্ট ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   চেনের আইনজীবী আদালতকে বলেন, তাঁর মক্কেল ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত দিতে চান এবং সে জন্য কাজ করার সুযোগ প্রয়োজন। চেন দোভাষীর মাধ্যমে জানান, মুক্তির পর ফ্লোরিডায় এক বন্ধুর সুশি রেস্টুরেন্টে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তবে বিচারক কারাবাসের পাশাপাশি আসক্তির চিকিৎসা ও নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের শর্তও বহাল রাখেন। 

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১২:৫০
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকেরা অনলাইনে বাংলাদেশ সরকারের এনআইডি করার আবেদন করতে পারছেন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের এনআইডি করবেন যেভাবে: আবেদন, কাগজপত্র ও কার্ড সংগ্রহের ধাপে ধাপে নির্দেশনা

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকেরা বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) করার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। এ জন্য বাংলাদেশে যাওয়া ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেট জেনারেলের মাধ্যমে আবেদন ও বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া ঘরে বসে সম্পন্ন করা যায় না। অনলাইনে আবেদন করার পর নির্ধারিত দিনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিস, ছবি ও স্বাক্ষর দিতে হয়।   ধাপ ১: আবেদনের যোগ্যতা যাচাই করুন - দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী, যাঁদের আগে বাংলাদেশের এনআইডি নেই এবং যাঁরা বাংলাদেশে এনআইডির জন্য আবেদন করেননি, তাঁরাই নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরিচয়ের প্রমাণ দিতে হবে। এ জন্য বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট অথবা নির্ধারিত ঘোষণাপত্র এবং ১৭ সংখ্যার বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন সনদ প্রয়োজন। পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধনের তথ্যের মধ্যে মিল থাকতে হবে। বয়সের ক্ষেত্রে দূতাবাসের ওয়েবপেজ ও নির্দেশিকার পিডিএফে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে বয়সের যোগ্যতা নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।   ধাপ ২: অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করুন - প্রথমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করুন: https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/ । এরপর নতুন নিবন্ধনের আবেদনপত্র ফরম-২(ক) পূরণ করুন। আবেদনপত্রে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সঠিক তথ্য দিতে হবে। নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের তথ্য এবং বাংলাদেশের স্থায়ী ঠিকানা লেখার সময় জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। আবেদন করার সময় একটি সচল বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর দিতে হবে, কারণ পরিচয় যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে যোগাযোগ করা হতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর ফরমটির মুদ্রিত কপি সংরক্ষণ করুন এবং পোর্টালের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।   ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন - আবেদনের জন্য অনলাইনে পূরণ করা ফরম-২(ক)-এর মুদ্রিত কপি, ১৭ সংখ্যার বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন সনদের মূল কপি ও ফটোকপি, বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্টের কপি এবং সাম্প্রতিক পাসপোর্ট আকারের এক কপি ছবি প্রস্তুত রাখুন। পাসপোর্ট না থাকলে দূতাবাসের নির্ধারিত ঘোষণাপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে; সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তিনজন বাংলাদেশি এনআইডিধারীর সত্যায়ন প্রয়োজন। এ ছাড়া বাবা-মায়ের এনআইডি, বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, মৃত্যু সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), উত্তরাধিকার সনদ, নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্বের সনদ—প্রযোজ্য নথিগুলোর কপি সঙ্গে রাখতে হবে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার আবেদনকারীদের অতিরিক্ত বিশেষ তথ্য ফরম পূরণ করতে হবে।   ধাপ ৪: নির্ধারিত দূতাবাস বা কনস্যুলেটে উপস্থিত হন - অনলাইনে আবেদন করলেই নিবন্ধন সম্পন্ন হয় না। অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন আবেদনকারীকে নিজে বাংলাদেশ দূতাবাস বা তাঁর এলাকার জন্য প্রযোজ্য বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিসের তথ্য, ছবি ও স্বাক্ষর নেওয়া হবে। নিবন্ধন শেষে একটি স্লিপ দেওয়া হবে, যা ভবিষ্যতে স্মার্ট এনআইডি সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন হতে পারে। তাই স্লিপটি যত্ন করে সংরক্ষণ করুন। যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, সেবার সময় এবং অতিরিক্ত কাগজপত্রের নির্দেশনা যাচাই করে নিন।   ধাপ ৫: বাংলাদেশের নির্বাচন অফিসের যাচাই সম্পন্ন করুন - বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের পর আবেদনকারীর তথ্য বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত নথি চাওয়া হতে পারে। এর মধ্যে এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ, জেএসসি বা পিএসসি সনদ, দ্বৈত নাগরিকত্বের সনদ, বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স, কর শনাক্তকরণ নম্বর, বিবাহ বা তালাকের নথি, স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি, জাতীয়তা সনদ এবং বাংলাদেশের ঠিকানাসংবলিত ইউটিলিটি বিল বা হোল্ডিং ট্যাক্সের রসিদ রয়েছে। সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সব নথি লাগবে এমন নয়; যাচাইকারী অফিসের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র দিতে হবে।   ধাপ ৬: এনআইডি ডাউনলোড ও স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করুন - যাচাই সম্পন্ন হলে সিস্টেমে এনআইডি প্রস্তুত হলে আবেদনকারী তাঁর অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে পরিচয়পত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। এ জন্য আবেদন করার সময় ব্যবহৃত ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করা জরুরি। স্মার্ট কার্ড বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে ছাপানো হয়ে দূতাবাস বা কনস্যুলেটে পৌঁছালে সংগ্রহ করা যাবে। কার্ড প্রস্তুত হতে কত দিন লাগবে, তা নির্দিষ্ট নয়; বাংলাদেশের যাচাইপ্রক্রিয়া ও কার্ড পাঠানোর সময়ের ওপর এটি নির্ভর করে।   গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: এই সেবা মূলত নতুন এনআইডি নিবন্ধনের জন্য। আগে থেকেই এনআইডি থাকলে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় এনআইডি সংশোধনের আবেদন করা যাবে না। আবেদনপত্রে ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। বয়সের যোগ্যতা, ফি এবং নির্দিষ্ট কাগজপত্র সম্পর্কে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা নিশ্চিত করুন।   সরকারি তথ্যসূত্র * বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডিসি: https://washington.mofa.gov.bd/pages/static-pages/6952668935ce18e1c05a9de3 * বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা: https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১২:৩১
তুরস্কে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার। ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ, অভিভাবকদের হাতে নিয়ন্ত্রণ

তুরস্কে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫ বছর পূর্ণ হয়নি এমন শিশুদের সেবা দিতে পারবে না। একই সঙ্গে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এই নিয়ম জারি করা হয়েছে।   শনিবার (১০ অক্টোবর) তুরস্কের সরকারি গেজেটে নতুন বিধিমালাটি প্রকাশ করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সাইবার সিকিউরিটি ডিরেক্টরেট এই বিধিমালা জারি করেছে। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিজেদের প্ল্যাটফর্মে সেবা দিতে পারবে না।   নতুন নিয়মের আওতায় সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো শিশু নির্ধারিত বয়সসীমা পূরণ করেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে। তবে বয়স যাচাইয়ের নামে ব্যবহারকারীর অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা যাবে না।   বিধিমালায় বলা হয়েছে, বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এমন প্রযুক্তি ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যা ব্যবহারকারীর সম্পূর্ণ পরিচয় প্রকাশ না করেই তাঁর বয়স নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারে। অর্থাৎ শুধু বয়স যাচাইয়ের জন্য প্রত্যেক ব্যবহারকারীর বিস্তারিত ব্যক্তিগত পরিচয় সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক নয়। একই সঙ্গে যাচাইয়ের পদ্ধতি যেন কোনো ব্যবহারকারীর প্রতি বৈষম্যমূলক না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।   তবে ১৫ বছর পূর্ণ হয়েছে কিন্তু এখনো প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি, এমন কিশোর-কিশোরীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়নি। তাঁদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী আলাদা সেবা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব ব্যবহারকারীর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সেবা পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের শারীরিক, মানসিক, মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও আবেগগত বিকাশের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম এবং ব্যবহারকারীদের সামনে কী ধরনের কনটেন্ট তুলে ধরা হচ্ছে, সে বিষয়ে শিশুদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।   নতুন বিধিমালায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বয়স যাচাইয়ের পদ্ধতি, অ্যালগরিদমের কাঠামো এবং শিশুদের জন্য নির্ধারিত সেবার নীতিমালা পরিষ্কার ও যাচাইযোগ্য হতে হবে। ব্যবহারকারী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ যেন এসব ব্যবস্থা পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করতে পারে, সেই সুযোগ রাখতে হবে।   অভিভাবকদের জন্য সহজ ও ব্যবহারবান্ধব নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সন্তানদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিরাপত্তা সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন অভিভাবকেরা। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিভাবকদের জন্য নির্দিষ্ট কোন কোন প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ সুবিধা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তালিকা উল্লেখ করা হয়নি।   বিধিমালার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা। শিশুদের বয়স যাচাইয়ের জন্য এমন পদ্ধতি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ না করেও নির্ধারিত বয়সসীমা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে যাচাইয়ের ব্যবস্থাগুলো নির্ভরযোগ্য, পরীক্ষাযোগ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিমূলক হতে হবে।   তুরস্কের পার্লামেন্ট চলতি বছরের এপ্রিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসংক্রান্ত নতুন আইন পাস করেছিল। সেই আইনের অধীনেই শনিবারের বিধিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো পৃথক আইন নয়; বরং আগে পাস হওয়া আইনের আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।   নতুন নিয়মের ফলে তুরস্কে সেবা প্রদানকারী সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে বয়সভিত্তিক প্রবেশাধিকার এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে বিধিমালা অমান্য করলে ঠিক কত টাকা জরিমানা কিংবা কী ধরনের শাস্তি হতে পারে, সে বিষয়ে আনাদোলু এজেন্সির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।   একইভাবে বর্তমানে ১৫ বছরের কম বয়সী যেসব শিশুর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেগুলো বন্ধ কিংবা সীমিত করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো কত দিন সময় পাবে, তা-ও প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে সব বিদ্যমান অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই।   তুরস্কের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হলো। নতুন ব্যবস্থায় ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সেবা বন্ধ রাখার পাশাপাশি বড় বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   তবে এই নিয়ম শুধু তুরস্কের সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্য দেশের শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর এর সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা তৈরি হচ্ছে না। নতুন বিধিমালার বাস্তবায়ন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের মাধ্যমে তুরস্কে শিশুদের অনলাইন ব্যবহারে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা আরও স্পষ্ট হবে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১২:২২
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বৃদ্ধির সতর্কতা দিয়েছে সিডিসি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে বিপজ্জনক ডায়রিয়ার জীবাণু, পাঁচ অ্যান্টিবায়োটিকেও মিলছে না প্রতিকার

যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন করা শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র। এই ব্যাকটেরিয়া ডায়রিয়া, জ্বর ও পেটব্যথার কারণ হতে পারে। দূষিত খাবার, পানি এবং যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমেও জীবাণুটি ছড়াতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পরীক্ষিত নমুনায় ব্যাপক ওষুধপ্রতিরোধী শিগেলার হার শূন্য থাকলেও ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছায়। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের ডায়রিয়ার সংক্রমণ বৃদ্ধির হিসাব নয়।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের ৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের গবেষণায় প্রায় ১৭ হাজার শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব নমুনা ২০১১ সাল থেকে ২০২৩ সালের ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল। গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে ব্যাকটেরিয়াটির প্রতিরোধক্ষমতা কতটা বেড়েছে, তা নির্ধারণ করা।   শিগেলা অত্যন্ত সংক্রামক একটি ব্যাকটেরিয়া। এর সংক্রমণে সাধারণত ডায়রিয়া, জ্বর এবং পেটে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সংক্রমিত ব্যক্তির মলের জীবাণু কোনোভাবে অন্য ব্যক্তির মুখে প্রবেশ করলে রোগটি ছড়াতে পারে। দূষিত খাবার বা পানি গ্রহণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ধরনের যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।   এই ব্যাকটেরিয়ার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, খুব অল্পসংখ্যক জীবাণু শরীরে প্রবেশ করলেও সংক্রমণ হতে পারে। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, মাত্র ১০টি ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শেও একজন ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারেন। ফলে সংক্রমণ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।   গবেষকেরা মোট ১৬ হাজার ৭৮৮টি নমুনার অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক্ষমতাসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এর মধ্যে ৫১০টি নমুনা ব্যাপক ওষুধপ্রতিরোধী হিসেবে শনাক্ত হয়। মোট নমুনার হিসাবে এই হার প্রায় তিন শতাংশ।   ব্যাপক ওষুধপ্রতিরোধী বলতে এমন শিগেলা ব্যাকটেরিয়াকে বোঝানো হয়েছে, যা চিকিৎসায় ব্যবহৃত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন করেছে। ওষুধগুলো হলো অ্যাম্পিসিলিন, অ্যাজিথ্রোমাইসিন, সেফট্রিয়াক্সোন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং ট্রাইমেথোপ্রিম-সালফামেথক্সাজোল।   এসব অ্যান্টিবায়োটিক সাধারণত ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। কিন্তু জীবাণু ওষুধপ্রতিরোধী হয়ে উঠলে প্রচলিত চিকিৎসা কার্যকর না-ও হতে পারে। এ কারণে রোগীর জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা নির্ধারণে পরীক্ষাগারের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে পরীক্ষিত নমুনাগুলোর কোনোটিই ব্যাপক ওষুধপ্রতিরোধী হিসেবে শনাক্ত হয়নি। কিন্তু ২০২৩ সালে এই হার বেড়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছায়। এতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার ওষুধপ্রতিরোধী ধরন বৃদ্ধির প্রবণতা উঠে এসেছে।   এ ছাড়া গবেষণায় শনাক্ত ব্যাপক ওষুধপ্রতিরোধী সংক্রমণের অধিকাংশই ২০২২ ও ২০২৩ সালে পাওয়া গেছে। এই দুই বছরে মোট ৪১৫টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়, যা গবেষণায় পাওয়া এ ধরনের সংক্রমণের ৮৪ শতাংশের বেশি।   যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদিত এমন কোনো নির্দিষ্ট মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক নেই, যা ব্যাপক ওষুধপ্রতিরোধী শিগেলা সংক্রমণের চিকিৎসায় প্রতিষ্ঠিতভাবে কার্যকর। ফলে চিকিৎসকদের রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে কোন ওষুধ কার্যকর হতে পারে, তা নির্ধারণ করতে হয়।   গবেষণায় আক্রান্তদের বড় অংশই ছিলেন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ। যেসব রোগীর বয়স ও লিঙ্গসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে, তাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশের বয়স ছিল ১৮ বছর বা তার বেশি। একই তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের ৮৬ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং মধ্যম বয়স ছিল ৪১ বছর।   যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমেও শিগেলা ছড়াতে পারে বলে জানিয়েছে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র। আগের গবেষণায় পুরুষের সঙ্গে পুরুষের যৌন সংস্পর্শকে সংক্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে বর্তমান গবেষণায় রোগীদের যৌন সংস্পর্শসংক্রান্ত তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় তা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়নি।   ফলে গবেষণায় শনাক্ত সব সংক্রমণ যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমে হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। দূষিত খাবার, পানি এবং অন্যান্য মল-মুখ সংস্পর্শের মাধ্যমেও এই ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে।   এদিকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া ২৫৮ জন রোগীর মধ্যে ৯৭ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। শতকরা হিসাবে এই হার ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত রোগীদের মধ্যে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।   গবেষণায় কিছু রোগীর এইচআইভি সংক্রমণের তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়েছে। মোট ১১৬ জনের এইচআইভি পরিস্থিতিসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে ৫৪ জনের একই সঙ্গে এইচআইভি সংক্রমণ ছিল।   রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র জানিয়েছে, যাঁদের রোগপ্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাঁদের ক্ষেত্রে শিগেলা সংক্রমণ গুরুতর হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে। বিশেষ করে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার বিকল্প সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, আক্রান্তদের অধিকাংশের সাম্প্রতিক ভ্রমণের ইতিহাস ছিল না। যেসব রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে, তাঁদের ৭৬ দশমিক ২ শতাংশ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ভ্রমণ করেননি। একইভাবে ৮২ দশমিক ৪ শতাংশের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ইতিহাস ছিল না।   এই তথ্য থেকে গবেষকেরা ধারণা করছেন, অনেক সংক্রমণ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই ঘটেছে। তবে প্রতিটি রোগী কোথায় এবং কীভাবে সংক্রমিত হয়েছেন, তা নির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র। সব শিগেলা আক্রান্ত ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষাগারে বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পরীক্ষা এবং তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিতেও পার্থক্য ছিল।   ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক ওষুধপ্রতিরোধী শিগেলা সংক্রমণের প্রকৃত সংখ্যা গবেষণায় পাওয়া হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে। তবে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বর্তমান সময়ে মোট কতজন আক্রান্ত রয়েছেন, তা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা চিকিৎসকদের প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং শনাক্ত সংক্রমণের তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের মূল কারণ হলো, শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার কিছু ধরন প্রচলিত একাধিক অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন করছে। ফলে সংক্রমণ শনাক্ত হলেও চিকিৎসার জন্য কার্যকর ওষুধ নির্বাচন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।   তবে এই গবেষণার তথ্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে সব ধরনের ডায়রিয়ার ব্যাপক প্রাদুর্ভাব হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। গবেষণাটি মূলত ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সংগৃহীত নমুনায় শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার ওষুধপ্রতিরোধী বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন নিয়ে পরিচালিত হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১১:৫৪
জিবুতি থেকে ইয়েমেন যাওয়ার পথে সাগরে নৌকা ডুবে অন্তত ১০৯ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আফ্রিকা থেকে ইয়েমেন যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে ১০৯ অভিবাসীর মৃত্যু, নিখোঁজ শতাধিক

আফ্রিকার দেশ জিবুতি থেকে ইয়েমেন যাওয়ার পথে প্রায় ৩৫০ জন অভিবাসী নিয়ে একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ১১৬ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ৮০ জনের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে জিবুতির কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের ১১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জিবুতির ওবক বন্দর শহরের উত্তরে গুহেরে এলাকার কাছে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকাটিতে থাকা অভিবাসীরা জিবুতি থেকে সমুদ্রপথে ইয়েমেনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুর্ঘটনার প্রাথমিক বিবরণ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা।   সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা ১০৯টি মরদেহের মধ্যে ৫২ জন পুরুষ, ৪২ জন নারী এবং ১৫ শিশু রয়েছে। নিহত শিশুদের মধ্যে নয়জন মেয়ে ও ছয়জন ছেলে। তবে নিহতদের সবার পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   দুর্ঘটনার পর জিবুতির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সমুদ্রে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছেন। তবে নিখোঁজদের সবাইকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ কোনো নিশ্চিত তথ্য জানায়নি।   আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, নৌকাডুবি থেকে বেঁচে যাওয়া ৮০ জনের বেশি মানুষ ইথিওপিয়ার নাগরিক। তাঁদের মধ্যে ৬৪ জনকে জিবুতির ওবক এলাকায় অবস্থিত অভিবাসী সহায়তা কেন্দ্রে জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।   উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সংস্থাটি। দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো পরিবারগুলোর জন্যও ঘটনাটি গভীর মানবিক সংকট তৈরি করেছে।   জিবুতিতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মিশনপ্রধান আলেক্সান্দ্রে কোয়াসাক এই নৌকাডুবিকে প্রাণহানির একটি ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং নিখোঁজ স্বজনদের খবরের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন।   কোয়াসাক জানান, সংস্থাটির কর্মীরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘটনাস্থলে জরুরি সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা করা অভিবাসীরা কতটা বিপদের মুখে পড়তে পারেন, এই দুর্ঘটনা আবারও সেই বাস্তবতা সামনে এনেছে।   তবে নৌকাটি ঠিক কী কারণে ডুবে গেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনার সময় সমুদ্রের আবহাওয়া, নৌকার অবস্থা কিংবা অন্য কোনো কারণ ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।   জিবুতি ও ইয়েমেনের মধ্যবর্তী সমুদ্রপথ দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের যাতায়াতের একটি পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে অনেকে এই পথ দিয়ে ইয়েমেনে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।   তবে বর্তমানে ইয়েমেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সৌদি আরবসমর্থিত সরকারি বাহিনী এবং ইরানসমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র হয়েছে।   ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর সীমান্ত অতিক্রম করে হামলার ঘটনা অনেকাংশে কমে এসেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতকে সেই সময়ের পর সবচেয়ে গুরুতর উত্তেজনা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।   নতুন সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার গত সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের ৭৬ হাজার থেকে বেড়ে দুই লাখে পৌঁছেছে।   একই সময়ে ইয়েমেন ছেড়ে সমুদ্রপথে জিবুতিতে যাওয়া মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহ পর্যন্ত তিন হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ ইয়েমেন থেকে সমুদ্রপথে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন।   একদিকে সংঘাতের কারণে ইয়েমেন থেকে মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন, অন্যদিকে অর্থনৈতিক সুযোগের আশায় আফ্রিকা থেকে অভিবাসীরা দেশটিতে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। এই পরিস্থিতিতে জিবুতি ও ইয়েমেনের মধ্যবর্তী সমুদ্রপথে মানুষের চলাচল অব্যাহত রয়েছে।   এদিকে গত মাসে ইথিওপিয়াতেও নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির টাইগ্রে যুদ্ধের পর এটিকে অন্যতম বড় সংঘাত বৃদ্ধির ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ নৌকাডুবির সঙ্গে ইথিওপিয়ার এই সংঘাতের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা। তবে নৌকায় থাকা সব যাত্রীর জাতীয়তা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।   নৌকাটিতে প্রায় ৩৫০ জন যাত্রী থাকার তথ্য বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের বর্ণনার ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে যাত্রীর প্রকৃত সংখ্যা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের চূড়ান্ত হিসাব পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমে পরিবর্তিত হতে পারে।   এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে ১০৯ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। একই সঙ্গে ১১৬ জনের বেশি নিখোঁজ থাকার তথ্য জানানো হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় মৃত ও জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা সম্পর্কে নতুন তথ্য আসতে পারে।   আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি সহায়তা অব্যাহত রাখা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধান এবং বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়াই এখন অগ্রাধিকার।   জিবুতি উপকূলে এই নৌকাডুবিতে শিশু ও নারীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু অভিবাসীদের ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। নিখোঁজ শতাধিক মানুষের ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত। তাঁদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১১:২৬
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সংবাদে পুল কাভারেজ স্থগিত করায় টিভি নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বিচার বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের সংবাদ সংগ্রহ ঘিরে বিরোধে পাঁচ টিভি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংবাদ সংগ্রহে ব্যবহৃত যৌথ ‘পুল কাভারেজ’ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বড় টিভি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বিচার বিভাগ। এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, এনবিসি ও ফক্স নিউজের ওই সিদ্ধান্ত ফেডারেল প্রতিযোগিতা আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিচার বিভাগ তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।    গত মাসে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বাতিলের পর পাঁচ নেটওয়ার্ক যৌথ সংবাদ সংগ্রহ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। সিএনএনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে নেওয়া ওই সিদ্ধান্তে ফক্স নিউজও অংশ নেয়। পরে আদালতের নির্দেশে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং পুল কাভারেজ আবার শুরু হয়।    হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন পুল হলো পালাক্রমে দায়িত্ব পালনকারী সংবাদকর্মীদের একটি ব্যবস্থা। প্রেসিডেন্টের সফর কিংবা সীমিত জায়গায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সব সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে পারেন না। তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেটওয়ার্ক অন্যদের জন্যও ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহ করে। এতে সংবাদ সংগ্রহের খরচ ও ফুটেজ ভাগাভাগি হয়। তদন্তের বিষয় এই যৌথ ব্যবস্থার সাময়িক স্থগিতাদেশ।    বিচার বিভাগের মুখপাত্র এমিলি কভিংটন বলেছেন, ব্যবসায়িক প্রতিযোগীদের সম্মিলিত বয়কট শেরম্যান অ্যাক্ট লঙ্ঘন করতে পারে। তাঁর ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো প্রতিযোগিতা আইন ভেঙেছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য অ্যান্টিট্রাস্ট বিভাগ তদন্ত করছে। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে হোয়াইট হাউস টিভি পুলসংক্রান্ত যোগাযোগের রেকর্ড ও অন্যান্য নথি চেয়েছেন কর্মকর্তারা।    বিরোধের সূত্রপাত হয় ১৯ সেপ্টেম্বর। ওই দিন সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি বাতিল করা হয়। সংবাদমাধ্যমগুলো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করে অভিযোগ জানায়, তাদের সংবাদ প্রকাশের প্রতিশোধ নিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তা সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত অধিকার লঙ্ঘন করে।    ২৪ সেপ্টেম্বর ফেডারেল বিচারক টিমোথি কেলির নির্দেশের পর প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল করা হয়। তবে সেই আদেশ ছিল সাময়িক; মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিএনএনকে ট্রাম্পের নিউইয়র্ক সফরের একটি নির্ধারিত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর টিভি পুল কিছু অনুষ্ঠান কাভার করা বন্ধ করেছিল।    তদন্তের সমালোচনা করেছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রিপোর্টার্স কমিটি ফর ফ্রিডম অব দ্য প্রেস। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ব্রুস ডি. ব্রাউন এক বিবৃতিতে বলেছেন, কোন অনুষ্ঠান কীভাবে কাভার করা হবে, সে বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সিদ্ধান্ত সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সুরক্ষা পায়। তাঁর অভিযোগ, প্রতিযোগিতা আইনকে ব্যবহার করে সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে।    পাঁচ নেটওয়ার্ক রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। বিচার বিভাগও এখন পর্যন্ত কোনো আইন লঙ্ঘনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে নেটওয়ার্কগুলোর সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ও সে বিষয়ে তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ। 

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১১:৫
যুক্তরাষ্ট্রে ছয় দিনের ব্যবধানে পৃথক দুই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশি তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রে ছয় দিনের ব্যবধানে পৃথক দুটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই বাংলাদেশি তরুণ। নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ২৪ বছর বয়সী শাহ আহসান আরদি এবং মিশিগানের ওয়ারেন শহরে মাহবুব রহমানের মৃত্যু হয়েছে। দুই দুর্ঘটনায় দুই তরুণের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।   প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে ৩ অক্টোবর ভোরে নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে। পুলিশকে উদ্ধৃত করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ টুয়েলভ জানায়, ভোর আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটে মেজর ডিগ্যান এক্সপ্রেসওয়ের উত্তরমুখী লেনে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন ওয়েকফিল্ড এলাকার বাসিন্দা শাহ আহসান আরদি। ম্যাকম্বস ড্যাম ব্রিজের কাছে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গার্ডরেলে ধাক্কা দেন। সংঘর্ষের পর তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে এক্সপ্রেসওয়ের ওপর পড়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার তদন্তের জন্য এক্সপ্রেসওয়ের উত্তরমুখী লেনগুলো প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়।   দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে ৯ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে মিশিগানের ওয়ারেন শহরে। আওয়াজবিডি ও আমেরিকা বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরের ১২ মাইল রোড ও হুভার রোডের সংযোগস্থলে মাহবুব রহমানের মোটরসাইকেলের সঙ্গে একটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর তাঁকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ওয়ারেন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে মাহবুব রহমানের বয়স, পারিবারিক পরিচয় এবং সংঘর্ষের বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনো পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   দুটি ঘটনাই আলাদা অঙ্গরাজ্যে ঘটলেও কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু প্রবাসী কমিউনিটির জন্য বেদনাদায়ক খবর। নিউইয়র্কের দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গার্ডরেলে ধাক্কা লাগার কথা পুলিশ জানিয়েছে। অন্যদিকে, মিশিগানের ঘটনায় অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। উভয় দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফল জানা গুরুত্বপূর্ণ।   প্রবাসে কাজ ও জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে সড়কে নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা ব্যক্তিকে দায়ী করা যাচ্ছে না। দুই তরুণের মৃত্যুতে তাঁদের পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সংবাদমাধ্যমগুলো।

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১০:৩৪
পেনসিলভানিয়ার ইরি শহরে এক বাড়িতে একই পরিবারের সাত সদস্যসহ আটজনকে গুলি করে হত্যা করেছে বন্দুকধারী। ছবি: সংগৃহীত
পেনসিলভানিয়ায় এক বাড়িতে গুলিতে নিহত ৮, দুই শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন; হত্যার কারণ এখনো অজানা

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরি শহরে একটি বাড়িতে গুলিতে আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী রয়েছেন। শুক্রবার, ৯ অক্টোবরের এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হামলাকারীও মারা গেছেন। ফলে হামলাকারীসহ মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত আটজনের মধ্যে সাতজন হামলাকারীর পরিবারের সদস্য এবং অন্যজন পরিবারের পরিচিত ছিলেন। ইরি পুলিশের প্রধান রিক লোরাহ জানান, শহরের পেরি স্ট্রিটের একটি বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে বাড়ির বাইরে দুই নারীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ওই দুই নারী বাড়িতে এসে দরজায় আঘাত করছিলেন এবং সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পুলিশের ধারণা, তাঁরা বাড়ির ভেতরে কী ঘটছিল, সে বিষয়ে কিছু জানতেন। পরে বাড়ির ভেতর থেকে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশু দুটির বয়স পাঁচ বছর ও প্রায় দুই বছর। নিহত প্রাপ্তবয়স্কদের বয়স ১৯ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ২৪ বছর বয়সী এক নারীও ছিলেন। সন্দেহভাজন ৪৫ বছর বয়সী হামলাকারীকে বাড়ির দোতলায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, তিনি নিজেই নিজের ওপর গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য জানতে পারেনি পুলিশ। তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে পারিবারিক সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে বিবেচনা করছেন। পুলিশের প্রধান বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা ঘটনার একটি সম্ভাব্য উপাদান হতে পারে, তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।  ঘটনার সূত্র খুঁজতে নিহত দুই নারীর মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন তথ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো ও ইরি শহরের মেয়র ডারিয়া ডেভলিন এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিহতদের পরিচয় প্রকাশের আগে স্বজনদের অবহিত করার প্রক্রিয়া চলছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ জানতে এখন তদন্তের পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দারা।

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১০:২৮
পোপ চতুর্দশ লিওর ফুসফুসে অস্বাভাবিক গুটি শনাক্ত হওয়ায় শিগগিরই তাঁর অস্ত্রোপচার করা হবে। ছবি: সংগৃহীত
অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পোপ চতুর্দশ লিও, ফুসফুসে ধরা পড়েছে গুটি

ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ চতুর্দশ লিওর ফুসফুসে একটি অস্বাভাবিক গুটি শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হবে। রোববার (১১ অক্টোবর) ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে সাপ্তাহিক প্রার্থনার সময় নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন ৭১ বছর বয়সী পোপ। তিনি জানিয়েছেন, গুটিটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হয়েছে এবং ফুসফুসের নির্দিষ্ট একটি অংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   ভ্যাটিকান নিউজের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় পোপের ফুসফুসে গুটিটি শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা। পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে চিকিৎসক দল অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেয়। তাঁদের পরামর্শ গ্রহণ করে গুটিটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন পোপ লিও।   রোববার সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মানুষের উদ্দেশে পোপ জানান, তাঁর ফুসফুসে শনাক্ত হওয়া গুটিটি খুব প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। চিকিৎসকেরা মনে করছেন, এই অবস্থায় অস্ত্রোপচার করাই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত। তিনি নিজেও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুসরণ করতে সম্মত হয়েছেন।   ভ্যাটিকানের প্রেস অফিসের মুখপাত্র মাত্তেও ব্রুনি জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা রয়েছে। চিকিৎসার জন্য পোপকে ইতালির রাজধানী রোমের জেমেলি হাসপাতালে নেওয়া হবে। অস্ত্রোপচারের পর প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রত্যাশা রয়েছে।   তবে অস্ত্রোপচারের নির্দিষ্ট দিন কিংবা চিকিৎসাপদ্ধতির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পোপের ফুসফুসে শনাক্ত হওয়া গুটিটি ঠিক কী ধরনের, সে বিষয়েও ভ্যাটিকানের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত রোগনির্ণয় জানানো হয়নি।   চিকিৎসাবিজ্ঞানে ফুসফুসের নডিউল বলতে ফুসফুসের টিস্যুতে তৈরি হওয়া ছোট অস্বাভাবিক অংশকে বোঝায়। সাধারণত বুকের এক্স-রে কিংবা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে এ ধরনের গুটি শনাক্ত করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো কোনো উপসর্গ ছাড়াই শরীরে থাকতে পারে।   চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুসফুসে গুটি শনাক্ত হওয়া মানেই ক্যানসার নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের গুটি ক্যানসারবিহীন হতে পারে। তবে গুটির আকার, অবস্থান এবং রোগীর অন্যান্য শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চিকিৎসকেরা পরবর্তী পরীক্ষা কিংবা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।   পোপ লিওর ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও গুটিটি ক্যানসার কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে তাঁর ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়েছে বলে দাবি করার কোনো ভিত্তি নেই। অস্ত্রোপচারের পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে গুটিটির প্রকৃতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।   এদিকে রোমের জেমেলি হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে পোপদের চিকিৎসার জন্য পরিচিত। ১৯৮১ সালের মে মাসে পোপ দ্বিতীয় জন পলের ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর হাসপাতালটিতে পোপদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়েও ভ্যাটিকানের ধর্মীয় নেতাদের চিকিৎসায় হাসপাতালটি ব্যবহৃত হয়েছে।   পোপ লিওর পূর্বসূরি পোপ ফ্রান্সিসও জীবদ্দশায় একাধিকবার এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। ফুসফুসসংক্রান্ত জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ৮৮ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।   পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর ২০২৫ সালের মে মাসে ক্যাথলিক চার্চের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচিত হন চতুর্দশ লিও। তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত প্রথম মার্কিন নাগরিক। তাঁর জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে। জন্মনাম রবার্ট ফ্রান্সিস প্রেভোস্ট।   ১৯৮২ সালে যাজক হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার পর দীর্ঘদিন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। সেখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। পরবর্তী সময়ে ক্যাথলিক চার্চের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে পোপ নির্বাচিত হন।   পোপ লিও সাধারণত সক্রিয় জীবনযাপন করেন। নিয়মিত টেনিস খেলা এবং সাঁতারের মতো শারীরিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর আগে থেকে গুরুতর কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকার তথ্য জানা যায়নি। তবে বর্তমান চিকিৎসার বিষয়ে ভ্যাটিকান সীমিত তথ্য প্রকাশ করেছে।   অস্ত্রোপচারের খবর প্রকাশের পর ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি পোপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। আসন্ন চিকিৎসার সময় তাঁর প্রতি ব্যক্তিগত সংহতি প্রকাশ করে দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।   এদিকে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির মধ্যেও আগামী নভেম্বরের আন্তর্জাতিক সফরের পরিকল্পনা বহাল রেখেছেন পোপ। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও পেরু সফর করার কথা রয়েছে তাঁর। তবে অস্ত্রোপচার ও সুস্থ হয়ে ওঠার সময়সূচি সফরে কোনো পরিবর্তন আনবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।   রোববারের প্রার্থনায় পোপ লিও তাঁর জন্য প্রার্থনা করা এবং আধ্যাত্মিকভাবে পাশে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে আসন্ন অস্ত্রোপচারের আগে ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে প্রার্থনা কামনা করেন।   ভ্যাটিকানের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পোপের অস্ত্রোপচার আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চিকিৎসকেরা প্রায় এক সপ্তাহের হাসপাতাল-পরবর্তী সুস্থতা পুনরুদ্ধারের সময়ের কথা জানিয়েছেন। তবে তাঁর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার বিষয়টি চিকিৎসার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।   ফুসফুসে শনাক্ত হওয়া গুটিটি প্রাথমিক পর্যায়ে এবং নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন পোপ নিজেই। তবে গুটিটির প্রকৃতি সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় এটিকে ক্যানসার কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট রোগ হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না। আপাতত চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১০:২০
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে আসন হারানোর ঝুঁকিতে রিপাবলিকানরা, বাড়ছে ডেমোক্র্যাটদের

যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হচ্ছে। নির্বাচনের প্রায় চার সপ্তাহ আগে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের অবস্থানের উন্নতি দেখা যাচ্ছে। ৫ অক্টোবর প্রকাশিত সিএনএনের এক বিশ্লেষণে সিনেটের ১০টি আসন চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলো এবারের নির্বাচনে দল পরিবর্তনের সম্ভাবনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। তালিকায় প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে কানসাস, যেখানে গত ৯৪ বছরে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ডেমোক্র্যাটদের রিপাবলিকানদের দখলে থাকা অন্তত চারটি আসন জিততে হবে এবং নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলো ধরে রাখতে হবে। সিএনএনের বিশ্লেষণে উত্তর ক্যারোলাইনাকে ডেমোক্র্যাটদের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় অঙ্গরাজ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে সাবেক ডেমোক্র্যাট গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত মাসে প্রকাশিত এলন ইউনিভার্সিটি ও ইউগভের এক জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে কুপার ১১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। ওহাইওতেও ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা বেড়েছে। সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির এক জরিপে ব্রাউন ৪৯ শতাংশ এবং হাস্টেড ৪৬ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন। আলাস্কায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলা এবং রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের লড়াইও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো ও রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও এবারের নির্বাচনে বিশেষ নজর কাড়ছে। তবে এসব জরিপের ফল নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত করে না। সিএনএনের বিশ্লেষণে মেইন, মিশিগান, আইওয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কানসাসে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অঙ্গরাজ্যটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ১৬ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। এমন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ডেমোক্র্যাটদের জন্য আসনটি জয় করা কঠিন হলেও সাম্প্রতিক জরিপে প্রতিযোগিতা কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছেছে। ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা বাড়ার পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনীতি নিয়ে অসন্তোষ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে যাওয়ার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছে সিএনএন। প্রতিবেদনে সিএনএনের জনমত জরিপগুলোর সমন্বিত হিসাবে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ৩৪ শতাংশে নেমে আসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে রিপাবলিকানদের বিজ্ঞাপন প্রচারে বেশি অর্থ ব্যয়ের সক্ষমতা ডেমোক্র্যাটদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরু থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ১০টি সিনেট আসনের মধ্যে আটটিতে রিপাবলিকানদের বিজ্ঞাপন ব্যয় ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে বেশি হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জর্জিয়ার সিনেট নির্বাচনও এই লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক কলিন্সের বিরুদ্ধে নিজের আসন ধরে রাখার লড়াই করছেন। সিএনএনের বিশ্লেষণে অসফকে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে দেখা হয়েছে। অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটদের বিজ্ঞাপন প্রচারের ব্যয়ও রিপাবলিকানদের চেয়ে বেশি হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে এসব অঙ্গরাজ্যের ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সিএনএনের তালিকাটি বর্তমান জরিপ, তহবিল সংগ্রহ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে তৈরি বিশ্লেষণ, নির্বাচনের নিশ্চিত ফলাফলের পূর্বাভাস নয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ৯:৫৩
পশ্চিম ফিলাডেলফিয়ায় অস্ত্রধারীর গুলিতে নিহত পুলিশ কর্মকর্তা শেন সাইবার। ছবি: সংগৃহীত
ফিলাডেলফিয়ায় অস্ত্রধারীর খবরে গিয়ে অতর্কিত গুলিতে পুলিশ কর্মকর্তা নিহত, সহকর্মী ১২ বার গুলিবিদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় অস্ত্রধারী এক ব্যক্তির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া দুই পুলিশ কর্মকর্তা অতর্কিত গুলির মুখে পড়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে পশ্চিম ফিলাডেলফিয়ায় এ ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা শেন সাইবার নিহত হন। তাঁর সহকর্মী ১২ বার গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, আহত কর্মকর্তার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও তিনি এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন।   পুলিশ কমিশনার কেভিন বেথেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত ১২টা ২২ মিনিটের দিকে নর্থ ৫২তম স্ট্রিটের একটি বাড়ির বারান্দায় অস্ত্রধারী ব্যক্তি থাকার খবর আসে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর কর্মকর্তারা সেখানে পৌঁছান। বারান্দার কাছে যাওয়ার পরই তাঁরা গুলির মুখে পড়েন বলে পুলিশ জানিয়েছে। গুরুতর আহত দুই কর্মকর্তাকে পেন প্রেসবিটারিয়ান মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়।   ৪০ বছর বয়সী সাইবারের শরীরে তিনটি গুলি লাগে। হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পরও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। তিনি ফিলাডেলফিয়া পুলিশ বিভাগে ১০ বছর ধরে কর্মরত ছিলেন। কমিশনার বেথেল জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে সাইবারের স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা হাসপাতালে তাঁর পাশে থাকতে পেরেছিলেন। তিনি সাত বছরের এক ছেলে ও তিন বছরের এক মেয়েকে রেখে গেছেন।   সাইবারের সঙ্গে থাকা ৩৩ বছর বয়সী পুলিশ কর্মকর্তা ১২ বার গুলিবিদ্ধ হন। তিনিও পাঁচ সন্তানের বাবা। শনিবার প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলা হলেও চিকিৎসা চলছিল। আহত এই পুলিশ কর্মকর্তার নাম কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি।   প্রাথমিক হামলার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তি গলিপথে পালিয়ে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে। জেলা অ্যাটর্নি ল্যারি ক্রাসনারের ভাষ্য, ঘটনাস্থলে আসা আরও নয়জন পুলিশ কর্মকর্তার দিকেও গুলি ছোড়া হয়; তবে তাঁদের কেউ গুলিবিদ্ধ হননি। আশপাশে তল্লাশির পর একটি গাছ থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি হ্যান্ডগান ও একটি শটগান উদ্ধার করেছে পুলিশ।   আটক ব্যক্তি ৩৫ বছর বয়সী এরিক লুইস। জেলা অ্যাটর্নি জানিয়েছেন, সাইবারের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তা হত্যাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। আহত কর্মকর্তা এবং আরও নয়জন পুলিশ সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। লুইসকে জামিন ছাড়া আটক রাখা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ফিলাডেলফিয়ার পানি বিভাগে কর্মরত ছিলেন।   পুলিশ কমিশনার বেথেল সাইবারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো তাঁর স্মরণে অঙ্গরাজ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পেনসিলভানিয়ার পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। 

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ৯:৪৬
আশ্রয়ের আবেদনের জন্য ভুয়া প্রমাণ তৈরির অভিযোগে লন্ডনে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি সংগঠন ‘আপনজন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাজ্জাদ মিয়া। ছবি: সংগৃহীত
সমকামী সাজিয়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনে সহায়তার অভিযোগ বাংলাদেশি ট্রান্স নারীর বিরুদ্ধে

সমকামী নন এমন ব্যক্তিদের সমকামী পরিচয়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনের জন্য ভুয়া প্রমাণ তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি সংগঠন ‘আপনজন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাজ্জাদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার লন্ডনে অভিযানের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়। ৪২ বছর বয়সী এই ট্রান্স নারী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর সংগঠন কোনো ভুয়া কাগজপত্র দেয়নি।    যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কর্মকর্তাদের সন্দেহ, একটি চক্র বাংলাদেশি পুরুষদের আশ্রয় আবেদনের পক্ষে সাজানো ছবি, সমর্থনপত্র ও সম্পর্কের ভুয়া বিবরণ সরবরাহ করত। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রমাণ তৈরির জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ‘আপনজন’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু আশ্রয় আবেদন এখন তদন্তের আওতায়।    বিবিসিকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধ তদন্তবিষয়ক আঞ্চলিক কর্মকর্তা ক্রিস ফস্টার বলেন, আশ্রয় আবেদনের নথিতে একই ধরনের কিছু তথ্য বারবার দেখতে পেয়ে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। কয়েক মাসের তদন্তের পর অভিযান চালানো হয়। সন্দেহজনক প্রমাণের মধ্যে ‘আপনজন’-এর সমর্থনপত্র, সমকামী পরিচয় বোঝাতে তোলা ছবি এবং একই লিঙ্গের ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের দাবি করে লেখা চিঠি রয়েছে বলে জানান তিনি। এগুলো ভুয়া কি না, সেটিই তদন্তে যাচাই করা হচ্ছে।    বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার লন্ডনের বিভিন্ন ঠিকানায় অভিযান চালিয়ে প্রতারণা ও অভিবাসনসংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে অবস্থান না করার সন্দেহে আরও একজনকে আটক করা হয়। অভিযানে ফোন, গয়না ও কয়েক হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করেন কর্মকর্তারা। গ্রেপ্তার হওয়া প্রথম দুজনের একজন সাজ্জাদ মিয়া।    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘আপনজন’-সংশ্লিষ্ট ১০০টির বেশি আশ্রয় আবেদন পর্যালোচনা করছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, সন্দেহজনক আবেদনগুলোর কোনো কোনোটি আগে অনুমোদনও পেয়ে থাকতে পারে। তবে পর্যালোচনাধীন সব আবেদন ভুয়া, এমন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে আবেদনকারীদের যৌন পরিচয় সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ও তার পক্ষে তৈরি করা প্রমাণ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না।    বাংলাদেশে যৌন পরিচয়ের কারণে নির্যাতনের আশঙ্কার কথা জানিয়ে সাজ্জাদ মিয়া ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পান। পরে তিনি বাংলাদেশি এলজিবিটি ব্যক্তিদের সহায়তার উদ্দেশ্যে ‘আপনজন’ প্রতিষ্ঠা করেন। গ্রেপ্তারের পর সংবাদমাধ্যমটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কাউকে সমর্থনপত্র দেওয়ার আগে সংগঠনটি ছয় মাস ধরে তাঁর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। তাঁর দাবি, সংগঠনটি প্রকৃত সহায়তাপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়ায় এবং অর্থের বিনিময়ে ভুয়া প্রমাণ দেয় না।    অভিযানে জব্দ হওয়া অর্থ ও গয়না সম্পর্কেও সাজ্জাদ মিয়া নিজের বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি, অর্থটি বাড়িভাড়ার জন্য রাখা ছিল এবং গয়নাগুলো তাঁর বোনের। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি, তবে তাঁকে আবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে। খবর প্রকাশের পর প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেছেন।    এই তদন্তের আগে কয়েকটি আশ্রয় মামলায় ‘আপনজন’-সংশ্লিষ্ট প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন উঠেছিল। যুক্তরাজ্যের একটি অভিবাসন ট্রাইব্যুনালের রায়ে একজন আবেদনকারীর জমা দেওয়া ছবিকে সাজানো বলে বর্ণনা করা হয়। ওই মামলায় বিচারক আবেদনকারীর বক্তব্যের অসংগতিসহ অন্যান্য প্রমাণও বিবেচনা করেছিলেন। রায়টি নির্দিষ্ট সেই আশ্রয় আবেদনসংক্রান্ত; সাজ্জাদ মিয়ার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের নিষ্পত্তি নয়।    চলতি বছরের এপ্রিলে বিবিসির পৃথক এক অনুসন্ধানে উঠে আসে, কিছু আইনবিষয়ক পরামর্শদাতা ও মধ্যস্থতাকারী আশ্রয়প্রার্থীদের সমকামী পরিচয়ে আবেদন করতে ভুয়া বিবরণ ও প্রমাণ জোগাড়ের প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। সেই অনুসন্ধানের সূত্র ধরে মে মাসে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ‘আপনজন’-কে ঘিরে বর্তমান তদন্তটি আলাদা বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।    যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি আশ্রয় আবেদন আবেদনকারীর নিজস্ব পরিস্থিতি ও উপলব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হয়। ‘আপনজন’-সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলো পুনরায় পরীক্ষা এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো চলছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২৬ ৯:৩৩