সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
নিউইয়র্কে ৫ বছরের শিশুর সামনে বাবাকে গুলি, আইসের অভিযান বন্ধে ট্রাম্পকে মামদানীর কড়া বার্তা
নিউইয়র্কে ৫ বছরের শিশুর সামনে বাবাকে গুলি, আইসের অভিযান বন্ধে ট্রাম্পকে মামদানীর কড়া বার্তা

নিউইয়র্ক শহরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) এক এজেন্টের গুলিতে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে শহরে সংস্থাটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানী। বৃহস্পতিবার মার্বেল হিল আবাসিক এলাকায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মেয়র বলেন, আইস এজেন্টরা সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়াবে, আর তিনি চুপ করে থাকবেন—এমনটা কখনোই হতে দেওয়া হবে না।   নিউইয়র্ক পুলিশের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে একটি নির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনার সময় আইস এজেন্টরা ২৮ বছর বয়সী অস্কার বেলগাল নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে। এ সময় বেলগালের গাড়িতে তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলেও ছিল।   পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, একজন সাদা পোশাকের আইস এজেন্ট অস্ত্র হাতে চালকের জানালার কাছে এগিয়ে যান। গাড়িটি সামনের দিকে এগোতে চাইলে এজেন্ট অন্তত সাত রাউন্ড গুলি চালান, যা বেলগালের ঘাড়ে আঘাত করে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং শিশুটি বর্তমানে পরিবারের হেফাজতে নিরাপদে রয়েছে।   ঘটনার পর মেয়র মামদানী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) মন্ত্রী মার্কওয়েইন মুলিনের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বললেও ভুক্তভোগীর মুক্তির বিষয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। অন্যদিকে, ডিএইচএস-এর পক্ষ থেকে নিউইয়র্কের ‘স্যাংচুয়ারি’ বা আশ্রয়দানকারী নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়েছে, এসব নীতির কারণে কেন্দ্রীয় এজেন্টদের সঙ্গে অসহযোগিতা করা হচ্ছে। মন্ত্রী মুলিন উল্টো মেয়রের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতা উসকে দেওয়ার’ অভিযোগ তুলেছেন।   ডিএইচএস জানায়, ভুক্তভোগী বেলগাল একজন অপরাধী ও অবৈধ অভিবাসী, যার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক ও অস্ত্র রাখাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং গত বছর একজন সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তার ওপর হামলায় জড়িত গ্যাংয়ের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।   নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল থেকে শুরু করে সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমারসহ ডেমোক্র্যাট নেতারা এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। গাড়িতে একজন শিশু থাকা অবস্থায় কীভাবে এতগুলো গুলি ছোড়া হলো, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেয়র মামদানী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।   নিউইয়র্ক টাইমস ও এবিসি নিউজের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অভিবাসন এজেন্টদের সঙ্গে জড়িত এমন সহিংস ঘটনায় ২০ জনের বেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের দেশব্যাপী কঠোর অভিবাসন নীতির প্রয়োগ এবং এর ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:২৪
ফ্লোরিডায় দুই সন্তানকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা, সন্তানদের আনতে গিয়ে তিনজনের মরদেহ দেখলেন মা
ফ্লোরিডায় দুই সন্তানকে হ ত্যার পর বাবার আ ত্মহ ত্যা, সন্তানদের আনতে গিয়ে তিনজনের ম রদেহ দেখলেন মা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজের দুই সন্তানকে আনতে গিয়ে ভয়াবহ এক দৃশ্যের সম্মুখীন হয়েছেন ২৯ বছর বয়সী অলিভিয়া পিকোলো নামের এক নারী। গত বুধবার বিকেলে কোকোয়া শহরে সাবেক স্বামী জোসেফ ডিংওয়ালের বাড়িতে গিয়ে তিনি নিজের সাত বছর বয়সী ছেলে রেমি, পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আয়রা এবং সাবেক স্বামীর গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, ৩৭ বছর বয়সী বাবা জোসেফ নিজের দুই সন্তানকে গুলি করে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন।   কোকোয়া পুলিশের প্রধান ইভান্ডার কলিয়ার চতুর্থ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ওই দিন সন্তানদের মায়ের হেফাজতে যাওয়ার কথা ছিল। অলিভিয়া ফোনে জোসেফের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে সরাসরি ওই বাড়িতে যান। বাড়ির দরজা আংশিক খোলা পেয়ে ভেতরে ঢুকেই তিনি তিনজনের মরদেহ দেখতে পান।   স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ডিংওয়ালের ওই বাড়িতে সন্দেহজনক ও চিকিৎসাজনিত কারণে এর আগে অন্তত ১১ বার পুলিশের ডাক পড়েছিল। মার্কোস গার্সিয়া নামের এক প্রতিবেশী জানান, এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রায় ১২ ঘণ্টা আগে রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি দুটি স্পষ্ট গুলির শব্দ শুনলেও তখন পুলিশকে জানাননি।   এমনকি প্রতিবেশী ওই ব্যক্তির ডোরবেল ক্যামেরাতেও গুলির শব্দের কিছুক্ষণ পর ডিংওয়ালকে ফ্ল্যাশলাইট হাতে বাড়ির সামনে পায়চারি করতে দেখা গেছে। তবে ঠিক কী কারণে এমন নৃশংস ঘটনার সূত্রপাত হলো, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।   অকল্পনীয় এই শোকের মুহূর্তে মা অলিভিয়া পিকোলোর পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় সম্প্রদায়। শেষকৃত্যের ব্যয়ভার বহন ও শোকাহত মাকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে 'গোফান্ডমি'-তে খোলা একটি পেজে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ১৫ হাজার ডলারের বেশি তহবিল জমা পড়েছে।   পারিবারিক এক বন্ধু ওই ওয়েবসাইটে জানিয়েছেন, ছেলে রেমি ছিল সাহসী ও বুদ্ধিমান, যে তার ছোট বোন ও মাকে সব সময় আগলে রাখত। আর ছোট্ট আয়রা ভালোবাসত প্রাণী আর তার মায়ের মতো গোলাপি রঙের সবকিছু। সন্তানদের ঘিরেই আবর্তিত হতো মা অলিভিয়ার পুরো পৃথিবী, যাদের হারিয়ে তিনি এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৩:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগে নতুন বাধা, ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের জন্য অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম কঠোর করার নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।এর অংশ হিসেবে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বিনিময়ভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা ভিসার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।   পাশাপাশি পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থীদের কাজ করার সুযোগের সঙ্গে যুক্ত একটি কর্মসূচিতেও বড় অঙ্কের ফি আরোপের প্রস্তাব এসেছে। এসব পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে পারে।    ৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ঘোষণা দেন, হার্ভার্ড, ইয়েল ও স্ট্যানফোর্ডসহ নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হবে। প্রশাসনের অভিযোগ, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ব্যবহৃত জে-১ ভিসা কর্মসূচি যথাযথভাবে ব্যবহার করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।   এই ভিসা সাধারণত শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ব্যবহৃত হয়। তদন্তের আওতায় থাকা নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়, পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস শাখা, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি।   প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ইতিমধ্যে তদন্তসংক্রান্ত নথি তলবের চিঠি পাঠানো হয়েছে। স্ট্যানফোর্ড ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস শাখা তদন্তে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে। অন্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও নথি পর্যালোচনা বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলেছে।    এই তদন্তের পাশাপাশি ৭ অক্টোবর বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে কাজ করার সুযোগ নিয়েও নতুন প্রস্তাব সামনে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বেচ্ছামূলক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বা ওপিটিতে অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার ডলার ফি দিতে হবে, এমন প্রস্তাব করেছে প্রশাসন।   ওপিটি কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে সাময়িকভাবে যুক্ত হতে পারেন। তবে এটি এখনো প্রস্তাবিত নিয়ম; কার্যকর হয়ে গেছে এমন সিদ্ধান্ত হিসেবে একে দেখা ঠিক হবে না।    বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার পর অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিজেদের বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে ওপিটি কর্মসূচির ওপর নির্ভর করেন।   প্রস্তাবিত ফি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে এর ব্যয় বহন করবে, শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগে কী প্রভাব পড়বে এবং নিয়মটি কবে কার্যকর হতে পারে, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠবে। তবে এখনই সব বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর কাজের অনুমতি বন্ধ হচ্ছে বা তাঁদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে, এমন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৩:৪৩
সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হুতি  হা মলায় নি হত ৩, ক্ষতিগ্রস্ত সৌদিয়া এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ
সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হুতি হা মলায় নি হত ৩, ক্ষতিগ্রস্ত সৌদিয়া এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ

সৌদি আরবের একটি বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ হামলায় তিনজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারের এই হামলায় সৌদিয়া এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিমানবন্দর এলাকায় প্রচণ্ড ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে অনেক ফ্লাইটের শিডিউল বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।   শুক্রবার সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সৌদিয়া এয়ারলাইনস নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলায় নিহতদের মধ্যে তাদের একজন কর্মীও রয়েছেন। তবে প্রাথমিক সাময়িক অচলাবস্থার পর রিয়াদ বিমানবন্দরে ধীরে ধীরে আকাশপথে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।   যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার রেশ ধরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি সৌদি আরবে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সৌদি আরবের রাজধানীতে বিশ্বের শীর্ষ তেল-প্রধানদের একটি বড় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   ঠিক এমন একটি সময়ে সৌদি আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে হামলার কড়া জবাব দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। বৃহস্পতিবার রাতভর ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতিদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা ও তীব্র বিমান হামলা চালানো হয়েছে।   জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা হুতিদের ব্যবহৃত অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস করেছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর যেকোনো হামলার আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।   সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাত আরও চরম আকার ধারণ করেছে। হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজে সরকারি বাহিনীকে ঘিরে ফেলেছে এবং লোহিত সাগর উপকূলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। গত মাসে তারা লোহিত সাগর উপকূলের বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছিল।   তবে সোমবার তীব্র সৌদি বিমান হামলার সহায়তায় ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ওই অঞ্চলটি পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে। যদিও উপকূলের কিছুটা ওপরে মোখা অঞ্চলে এখনও হুতিদের শক্ত অবস্থান রয়েছে এবং সরকারি বাহিনী পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকাগুলো থেকে তাদের হটানোর জন্য নিরলস লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৩:৩১
নিউইয়র্কের স্কুলে ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার
নিউইয়র্কের স্কুলে ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই বিশেষ ছাড়, অনলাইনে পড়ার সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরীর সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে ছোট শিশুদের ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই অনলাইনে পড়াশোনায় সহায়তা দেওয়ার একটি কর্মসূচিকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর প্রকাশিত শিক্ষা বিষয়ক সংবাদমাধ্যম চকবিট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নগর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত সিইউএনওয়াই রিডিং ফেলোস কর্মসূচি দূর থেকে পড়ানোর সুযোগ পাবে।    নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর ঠিক আগে দ্বিতীয় শ্রেণি ও তার নিচের শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিদ্যালয়ে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সীমিত করার বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   কিন্তু নতুন নিয়মের কারণে পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকা শিশুদের জন্য পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা কর্মসূচি বাধার মুখে পড়ে। সিইউএনওয়াই রিডিং ফেলোস কর্মসূচির শিক্ষক ও প্রশিক্ষিত সহায়তাকারীরা শিশুদের পড়ার দক্ষতা বাড়াতে কাজ করেন। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে সরাসরি গিয়ে পড়ানো সম্ভব না হলে তাঁরা ভিডিও যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সহায়তা দেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শিক্ষাবর্ষে এই কর্মসূচির আওতায় পড়াশোনার সহায়তা পাওয়া ১,৬০০ শিশুর প্রায় ৩০ শতাংশ অনলাইনে পাঠ নিয়েছিল। সহায়তাকারীদের সব বিদ্যালয়ে সরাসরি পৌঁছানো বাস্তবসম্মত না হওয়ায় দূর থেকে পড়ানোর ব্যবস্থা অনেক শিশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। গত গ্রীষ্মেও প্রায় ৯০০ শিশু সরাসরি এই কর্মসূচির মাধ্যমে সহায়তা পেয়েছিল।    গত মাসে নগরীর শিক্ষা বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, কর্মসূচিটি অনলাইনে পাঠ দিতে পারবে না। এতে শিশুদের পড়ার দক্ষতা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন এমন শিশুরা একটি কার্যকর শিক্ষাসুযোগ হারাতে পারে।   পরে শিক্ষা বিভাগ অবস্থান পরিবর্তন করে অনলাইন পাঠদানের অনুমতি দেয়। কর্মসূচিটির প্রতিষ্ঠাতা এবং ব্রুকলিন কলেজের অধ্যাপক কেটি পেস মাইলস এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, যেসব শিশু পড়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় রয়েছে, তাদের সহায়তা দিতে কর্মসূচিটি ইতিবাচক ফল দেখিয়েছে।    তবে এই ছাড় নিয়ে সবাই একমত নন। প্রযুক্তির ব্যবহার কমানোর পক্ষে থাকা কিছু অভিভাবক ও সংগঠকের বক্তব্য, শিশুদের সরাসরি শিক্ষক দিয়ে পড়ানোর সুযোগ বাড়ানো উচিত। তাঁদের মতে, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও সহায়তাকারী নিয়োগের বদলে পর্দার মাধ্যমে পাঠদানের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৩:২৭
বিমান ধরতে যাচ্ছিলেন কনে
বিয়ের পোশাক ট্রেনে ফেলে বিমান ধরতে যাচ্ছিলেন কনে, শেষ মুহূর্তে উদ্ধার করল নিউ জার্সির কর্মীরা

নিউ জার্সিতে এক কনের বিয়ের আনন্দের মুহূর্তটি শেষ পর্যন্ত বড় দুশ্চিন্তায় পরিণত হতে যাচ্ছিল। তিনি নিউ জার্সি ট্রানজিটের একটি ট্রেনে নিজের বিয়ের পোশাক ফেলে রেখে বিমান ধরতে নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলে যান। পোশাকটি হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি বিপাকে পড়েন।    খবরটি জানার পর নিউ জার্সি ট্রানজিটের কর্মীরা দ্রুত তৎপর হন। পরিবহন সংস্থার কর্মীরা বিভিন্ন ট্রেনের অবস্থান শনাক্ত করেন, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করেন এবং পরবর্তী স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই ট্রেনের কামরাগুলোতে পোশাকটি খুঁজতে থাকেন।   সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে পোশাকটি উদ্ধার করে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া হয়। ফলে কনে বিমানে ওঠার আগেই নিজের বিয়ের পোশাক ফিরে পান। পরিবহন সংস্থাটি ঘটনাটিকে ‘২০ মিনিটের অলৌকিক সাফল্য’ বলে বর্ণনা করেছে।  ব্যস্ত সময়ে ট্রেনে ব্যাগ, নথি বা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ফেলে যাওয়া সহজেই ঘটে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবহন সংস্থার কর্মীদের জানানো এবং ট্রেনের নম্বর, যাত্রার সময় ও ওঠানামার স্টেশন জানাতে পারলে জিনিস খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, দ্রুত যোগাযোগ ও কর্মীদের সমন্বয় কীভাবে একজন যাত্রীর বিশেষ দিন নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১২:৫৫
নিউজার্সিতে খামারের পার্কিংয়ে এসইউভির চাপায় প্রাণ গেল দুই বছরের শিশুর
নিউজার্সিতে খামারের পার্কিংয়ে এসইউভির চাপায় প্রাণ গেল দুই বছরের শিশুর, অল্পের জন্য বাঁচলেন দাদি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে পরিবারের সঙ্গে ছুটির আনন্দ কাটাতে গিয়ে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে জেমস গ্যাব্রিয়েল নামের দুই বছর বয়সী এক শিশু। একটি খামারের পার্কিং লটে এসইউভি গাড়ির চাপায় প্রাণ হারিয়েছে সে। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ১১টার দিকে ক্রিম রিজে অবস্থিত বুলক ফার্মে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।   জানা যায়, ছোট্ট জেমস তার দাদি এলেন গ্যাব্রিয়েলের হাত ধরে হাঁটছিল। সে সময় হঠাৎ একটি ক্রাইসলার এসইউভি গাড়ি পেছনের দিকে আসার (রিভার্স) সময় তাদের ধাক্কা দেয়। গাড়ির নিচে চাপা পড়লেও ভাগ্যক্রমে দাদি এলেন সামান্য আহত হয়ে প্রাণে বেঁচে যান।   কিন্তু শিশু জেমস গুরুতর আঘাত পায়। তাকে দ্রুত জার্সি শোর মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার সময় জেমসের বাবা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল তার চার মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে নিয়ে একটু সামনেই হাঁটছিলেন। পেছন ফিরে তিনি দেখেন তার মায়ের মাথা গাড়ির নিচে আটকে আছে।   এমন অকল্পনীয় ক্ষতিতে পরিবারটিতে এখন শুধুই শূন্যতা আর হাহাকার। জেমসের বাবা রবার্ট বলেন, "আমরা সুন্দর একটি দিন কাটাতে সেখানে গিয়েছিলাম। কুমড়ো তুলে বাড়ি ফিরে ফুটবল খেলা দেখার কথা ছিল। এমন একটি সুন্দর উইকএন্ড যে চরম বিপর্যয়ে রূপ নেবে, তা আমরা ভাবতেও পারিনি।" অন্যদিকে, জেমসের মা মেইলিং গ্যাব্রিয়েল জানান, জেমস ট্রাক, গাড়ি ও বিমান খুব ভালোবাসত। তার ছোট্ট জীবনের আনন্দ ও ভালোবাসার স্মৃতিগুলো তাদের মনে আজীবন বেঁচে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   বুলক ফার্মস কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে একটি 'ভয়ানক ট্র্যাজেডি' বলে উল্লেখ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। এদিকে নিউজার্সি স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১২:৫৪
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানে তীব্র ঝাঁকুনি
আকাশে তীব্র ঝাঁকুনি, আতঙ্কের পর হাসপাতালে ৮ যাত্রী! মিয়ামিতে নামল নিউইয়র্কগামী বিমান

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানে তীব্র ঝাঁকুনির ঘটনায় অন্তত আটজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ভোরে আভিয়াঙ্কা এয়ারলাইন্সের বিমানটি মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটি কলম্বিয়ার মেডেলিন থেকে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন জানিয়েছে, ঝাঁকুনির কারণে বিমানটিকে মিয়ামিতে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়।    বিমানটি ছিল এয়ারবাস এ৩২০ মডেলের। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটি বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে মেডেলিন থেকে যাত্রা শুরু করে। উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর জ্যামাইকা ও কিউবার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় তীব্র ঝাঁকুনির ঘটনা ঘটে বলে ফ্লাইটের গতিবিধিসংক্রান্ত তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, বিমানটি প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় যাওয়ার পর কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার ফুট উচ্চতা হারায়। তবে এই উচ্চতা পরিবর্তনের তথ্যটি ফ্লাইট পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে; কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।   মিয়ামি-ডেডের অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বিভাগ জানিয়েছে, বিমানটি স্থানীয় সময় ভোর প্রায় সাড়ে ৩টায় অবতরণ করার পর আটজনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে একজনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে বিশেষায়িত ট্রমা চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। বাকি আহতদের আঘাতের ধরন ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।    আভিয়াঙ্কা এয়ারলাইন্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝাঁকুনিতে মোট নয়জন আক্রান্ত হন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন যাত্রী এবং তিনজন কেবিনকর্মী ছিলেন। তাঁদের সবাই চিকিৎসার প্রয়োজন অনুভব করেন বলে বিমান সংস্থা জানিয়েছে। তবে উদ্ধারকর্মীদের হিসাবে আটজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ আক্রান্ত হওয়া এবং হাসপাতালে ভর্তি বা চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরিত হওয়ার সংখ্যা এক নয়।    বিমানটি মিয়ামিতে নামার আগেই বিমানবন্দরে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। ওই সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত এক যাত্রী মারিয়া পাউলা হিমেনেস জানান, অবতরণের পর যাত্রীদের বের হওয়ার স্থানের কাছাকাছি পাঁচ থেকে সাতটি অ্যাম্বুলেন্স দেখতে পান। ঘটনাটি দেখে তাঁর কাছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে হয়নি।    বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করলেও আহতদের চিকিৎসার জন্য জরুরি ব্যবস্থা নিতে হয়। যেসব যাত্রী আহত হননি, তাঁদের নিউইয়র্কে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে বিমান সংস্থা। তবে সব যাত্রী একই বিমানে গিয়েছিলেন কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।    বিমানে তীব্র ঝাঁকুনি বা বায়ুর অস্থিতিশীলতা কখনো কখনো আবহাওয়ার বড় পরিবর্তন ছাড়াও ঘটতে পারে। এমন ঝাঁকুনিতে যাত্রীদের মাথা, ঘাড় বা শরীরের অন্যান্য অংশে আঘাত লাগতে পারে। বিশেষ করে আসনবেল্ট খোলা থাকলে যাত্রী বা কেবিনকর্মী আসন থেকে ছিটকে পড়ার ঝুঁকিতে থাকেন।   যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন যাত্রীদের আসনে বসে থাকার সময় যতটা সম্ভব আসনবেল্ট বাঁধা রাখার পরামর্শ দেয়। কারণ আসনবেল্টের সংকেত নিভে গেলেও হঠাৎ ঝাঁকুনি আসতে পারে। এই ঘটনার কারণ এবং ঝাঁকুনির প্রকৃতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেলে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে মূল্যায়ন করা সহজ হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১২:৩১
নিউজার্সিতে ট্রেনে বিয়ের গাউন ফেলে গেলেন কনে, ২০ মিনিটেই উদ্ধার করে দিল এনজে ট্রানজিট
নিউজার্সিতে ট্রেনে বিয়ের গাউন ফেলে গেলেন কনে, ২০ মিনিটেই উদ্ধার করে দিল এনজে ট্রানজিট

নিউজার্সির এক তরুণীর স্বপ্নের বিয়ের আনন্দ প্রায় বিষাদে রূপ নিতে বসেছিল। বৃহস্পতিবার বিয়ের উদ্দেশ্যে নেওয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ফ্লাইট ধরার কথা ছিল তার। কিন্তু তাড়াহুড়ো করে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে এনজে ট্রানজিট ট্রেনে নিজের সাধের বিয়ের গাউনটি ফেলে আসেন ওই কনে। তবে পরিবহন কর্মীদের তাৎক্ষণিক ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপে বিমান ছাড়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত আগে নিজের মহামূল্যবান পোশাকটি ফিরে পান তিনি।   ঘটনাটিকে ‘২০ মিনিটের মিরাকল’ বা অলৌকিক ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এনজে ট্রানজিট কর্তৃপক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর-কনে এবং উদ্ধারকৃত পোশাকসহ দুই কর্মীর একটি ছবি শেয়ার করে তারা জানায়, কনের ফ্লাইট ছাড়ার আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি ছিল।   এমন শ্বাসরুদ্ধকর সময়ে ট্রানজিটের কর্মীরা রিয়েল-টাইমে যোগাযোগ করে ট্রেনটি ট্র্যাক করেন এবং পরবর্তী স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই কামরাগুলোতে তল্লাশি চালান। শেষ পর্যন্ত একদম সঠিক সময়ে পোশাকটি উদ্ধার করে দ্রুত বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া হয়, যা ওই তরুণীর বিশেষ দিনটিকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করে।     ট্রেনকর্মীদের এমন উদ্ধারভিযান অবশ্য এবারই প্রথম নয়। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই জুলি অ্যাঞ্জেলিকোলা নামের এক যাত্রীর ফ্লাশ হয়ে যাওয়া বিয়ের আংটি ট্রেনের টয়লেট থেকে উদ্ধার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন নর্থ জার্সি কোস্ট লাইনের কর্মীরা। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে নিউইয়র্কের দম্পতিদের মধ্যে ট্রেন-কেন্দ্রিক বিয়ের একটি অভিনব ট্রেন্ডও দেখা যাচ্ছে। ব্রুকলিনের বাসিন্দা ড্যানিয়েল জিন ও এসমি ভালদেজ দম্পতি সম্প্রতি এল ট্রেনের ভেতর তাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা সেরেছিলেন।   অন্যদিকে মেরেডিথ গিউলিয়ানি ও ডেভিড গ্যারেট দম্পতি গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনালে ১২ ফুটের বিশাল ফুলের প্রদর্শনী, সোনালি মেঝের সাজসজ্জা ও লাইভ মিউজিকের মূর্ছনায় সেরেছেন তাদের জমকালো বিয়ের আসর। তবে আয়োজন ছোট হোক বা বড়, এনজে ট্রানজিটের এই ভাগ্যবান কনের মতো সব নবদম্পতিরই প্রত্যাশা থাকে—তাদের জীবনের সবচেয়ে বিশেষ দিনটি যেন কোনো রকম অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা, বিলম্ব বা হারানো ঝক্কি ছাড়াই সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১২:২৫
কুমড়া তুলতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
কুমড়া তুলতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিউ জার্সিতে প্রাণ হারাল দুই বছরের শিশু

নিউইয়র্কের কাছাকাছি নিউ জার্সির ক্রিম রিজ এলাকার বুলক ফার্মসে পরিবারের সঙ্গে কুমড়া তুলতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে দুই বছর বয়সী জেমস গ্যাব্রিয়েল। নিউইয়র্ক পোস্টের ৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল গত শনিবার সকাল ১১টার দিকে। অর্থাৎ খবরটি আজ প্রকাশিত হলেও ঘটনাটি আজকের নয়।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেছনের দিকে চলতে থাকা একটি ক্রাইসলার গাড়ির নিচে শিশুটি চাপা পড়ে। দুর্ঘটনার সময় তার দাদি এলেন গ্যাব্রিয়েল শিশুটির হাত ধরে ছিলেন। তিনিও গাড়ির নিচে আটকে পড়েন, তবে সামান্য আঘাত নিয়ে বেঁচে যান।   শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়। শিশুটির বাবা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে প্রাণবন্ত ও আনন্দপ্রিয় বলে স্মরণ করছেন।   নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের পুলিশ দুর্ঘটনাটি তদন্ত করছে। গাড়িচালকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। খামার কর্তৃপক্ষও ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে।    শরৎকালে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পরিবার শিশুদের নিয়ে খামারে কুমড়া তুলতে যায়। এ ধরনের স্থানে গাড়ি চলাচলের পথ ও শিশুদের হাঁটার জায়গা কাছাকাছি হতে পারে। তাই শিশুদের সব সময় হাত ধরে রাখা, গাড়ির পেছনে দাঁড়াতে না দেওয়া এবং চালকের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে নিশ্চিত হওয়া যে তিনি শিশুটিকে দেখতে পাচ্ছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১২:১
নিউইয়র্কে পুরোনো গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরের উদ্যোগ বাংলাদেশি মোহাম্মদ ওসমানের
নিউইয়র্কে পুরোনো গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরের উদ্যোগ বাংলাদেশি মোহাম্মদ ওসমানের

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কানাডা সীমান্তবর্তী শহর লকপোর্টে একটি পুরোনো গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ওসমান। বাফেলো শহরের বাসিন্দা ওসমানের উদ্যোগে ভবনটি মুসলমানদের নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রমের উপযোগী করে তোলার কাজ চলছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে পাওয়া বিবরণে জানা গেছে। একসময় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত ভবনটির বাইরে এখন মসজিদের নামসংবলিত সাইনবোর্ড দেখা যাচ্ছে। তবে মসজিদটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর সময় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   গত ৩১ আগস্ট লকপোর্ট শহর পরিদর্শনের একটি বিবরণে পুরোনো গির্জাটিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারকাজের বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, শহরটিতে কোনো বাংলাদেশির সঙ্গে দেখা না হলেও একটি গির্জা ভবনকে মসজিদে রূপান্তরের কাজ নজরে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন বাফেলোপ্রবাসী বাংলাদেশি মোহাম্মদ ওসমান।   লকপোর্ট নিউইয়র্কের নায়াগ্রা কাউন্টির প্রশাসনিক কেন্দ্র। ঐতিহাসিক ইরি খালের পাশে গড়ে ওঠা শহরটি বাফেলো থেকে প্রায় ৩০ মাইল উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। কানাডা সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় শহরটির ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির মতো বড় অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বসতি এখানে না থাকলেও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন দেশের মানুষের বসবাস রয়েছে।   মোহাম্মদ ওসমানের উদ্যোগে যে পুরোনো গির্জাটিকে মসজিদে রূপান্তরের কথা জানা গেছে, সেটি আগে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো। পরবর্তী সময়ে ভবনটির আগের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায় বলে পাওয়া বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে সেটিকে নতুন ধর্মীয় কাজে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা চলছে।   তবে গির্জাটির পূর্ববর্তী নাম, সুনির্দিষ্ট ঠিকানা, মালিকানা হস্তান্তরের তারিখ এবং ক্রয়মূল্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ভবনটির সংস্কারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে ভবনটির সংস্কার ও ব্যবহারসংক্রান্ত সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।   এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত মোহাম্মদ ওসমান নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে বসবাস করেন। বাফেলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি অভিবাসীদের বসতি গড়ে ওঠার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির তুলনায় তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন, বাড়ি কেনার সুযোগ এবং জীবনযাত্রার খরচের কারণে অনেক বাংলাদেশি পরিবার বাফেলোতে বসবাস শুরু করেছেন।   ২০০৬ সালের পর থেকে নিউইয়র্ক সিটি, ম্যাসাচুসেটস ও মিশিগানসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর বাফেলোতে আসার প্রবণতা বাড়ে বলে স্থানীয় কমিউনিটির বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। ধীরে ধীরে শহরটিতে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গ্রোসারি স্টোর, রেস্টুরেন্ট এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন গড়ে ওঠে।   বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির বিস্তারের সঙ্গে বাফেলোতে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের চাহিদাও বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় নতুন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পুরোনো ভবন সংস্কার করে ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   বাফেলোর ওয়ালডেন অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থিত বাফেলো ইসলামিক কালচারাল সেন্টার, যা মসজিদ বাইতুল আমান নামেও পরিচিত, স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির একটি পরিচিত প্রতিষ্ঠান। সেখানে নিয়মিত নামাজের পাশাপাশি কোরআন শিক্ষা, শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় কার্যক্রম এবং কমিউনিটিভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজন পরিচালিত হয়।   বাফেলোর ইস্ট সাইড এলাকাতেও পুরোনো গির্জা ভবন নতুনভাবে ব্যবহারের নজির রয়েছে। শহরটির ঐতিহাসিক সেন্ট অ্যানস চার্চ অ্যান্ড শ্রাইন ভবন ২০২২ সালের নভেম্বরে বাফেলো ক্রিসেন্ট হোল্ডিংসের কাছে বিক্রি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় ডাউনটাউন ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ভবনটি একটি ইসলামিক ও কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের পরিকল্পনা ছিল।   তবে সেন্ট অ্যানস চার্চের প্রকল্পটি লকপোর্টে মোহাম্মদ ওসমানের উদ্যোগ থেকে পৃথক। সেন্ট অ্যানস ভবনটি বাফেলো শহরে অবস্থিত এবং সেটি নিয়ে ২০২৬ সালে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বাফেলো টরন্টো পাবলিক মিডিয়া ও ডব্লিউকেবিডব্লিউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর ওই স্থাপনায় একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে ভবনটির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত সমস্যার কারণে মালিকপক্ষকে আদালতের মুখোমুখি হতে হয়।   এই প্রেক্ষাপটে বাফেলো ও আশপাশের এলাকায় পুরোনো ধর্মীয় ভবন নতুন কাজে ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো গির্জার নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ভবনগুলো বিক্রি করা হয়। নতুন মালিকেরা স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী সেসব স্থাপনা ধর্মীয়, শিক্ষামূলক কিংবা সামাজিক কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেন।   তবে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো পুরোনো গির্জাকে মসজিদে রূপান্তর করতে হলে শুধু ভবন কেনা বা সংস্কার করাই যথেষ্ট নয়। ভবনটির বর্তমান অনুমোদিত ব্যবহার, স্থানীয় জোনিং বিধি, নির্মাণ ও অগ্নিনিরাপত্তার শর্ত এবং জনসমাগমের উপযোগিতা বিবেচনা করতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সিটি প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়ার বিষয়ও থাকতে পারে।   লকপোর্টের প্রকল্পটির ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা জানা যায়নি। একইভাবে নতুন মসজিদে কতজন মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা থাকবে, সেখানে ইসলামিক শিক্ষা বা কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, মোহাম্মদ ওসমানের মূল লক্ষ্য পুরোনো ভবনটিকে মুসলমানদের ইবাদতের উপযোগী করে তোলা। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভবনটি কিনেছেন, নাকি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের মাধ্যমে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।   বাফেলোতে বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি ক্রমেই বিস্তৃত হওয়ার মধ্যে নিকটবর্তী লকপোর্টে এমন একটি উদ্যোগ স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় চাহিদা পূরণের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদিও সেখানে বর্তমানে কতটি মুসলিম পরিবার বসবাস করে কিংবা সম্ভাব্য মসজিদটি কতজন ব্যবহার করবেন, তার নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।   একসময় খ্রিষ্টানদের প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত একটি ভবনকে নতুন করে মুসলমানদের নামাজের জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তনশীল অভিবাসী সমাজের একটি দিক তুলে ধরছে। তবে লকপোর্টের পুরোনো গির্জাটি কবে পূর্ণাঙ্গ মসজিদ হিসেবে চালু হবে, তা নির্ভর করছে সংস্কারকাজ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং উদ্যোক্তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১১:৫৬
বর্তমানে যেসব ফুল ফ্রি স্কলারশিপে আবেদন চলছে, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল সুযোগ
বর্তমানে যেসব ফুল ফ্রি স্কলারশিপে আবেদন চলছে, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল সুযোগ

বিদেশে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে বিভিন্ন দেশের ২৭টি স্কলারশিপ ও উচ্চশিক্ষায় অর্থায়নের সুযোগের একটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশের এসব কর্মসূচিতে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, যাতায়াত কিংবা গবেষণার খরচে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সব স্কলারশিপ সম্পূর্ণ ফান্ডেড নয়। কিছু কর্মসূচিতে শুধু টিউশন ফি কিংবা আংশিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।   প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, অক্টোবর মাসেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্কলারশিপের আবেদন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের গেটস কেমব্রিজ স্কলারশিপের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য ১৪ অক্টোবর এবং কমনওয়েলথ মাস্টার্স স্কলারশিপের জন্য ২০ অক্টোবর গুরুত্বপূর্ণ ডেডলাইন। ফ্রান্সের এমিল বুতমি স্কলারশিপের মাস্টার্স পর্যায়ে প্রথম আবেদন পর্বের শেষ সময় ১৮ অক্টোবর। তবে আবেদনকারীর নাগরিকত্ব, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স অনুযায়ী সময়সীমায় পার্থক্য রয়েছে।   যুক্তরাজ্যের গেটস কেমব্রিজ স্কলারশিপ বিশ্বের অন্যতম পরিচিত উচ্চশিক্ষা বৃত্তি। এই কর্মসূচির আওতায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি, জীবনযাপনের খরচ এবং নির্দিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বহন করা হয়। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য আবেদনের শেষ সময় ১৪ অক্টোবর ২০২৬। অন্য দেশের আবেদনকারীদের জন্য কোর্সভেদে ৮ ডিসেম্বর ২০২৬ অথবা ৬ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত সময় রয়েছে। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ১৪ অক্টোবরের ডেডলাইন সাধারণভাবে প্রযোজ্য নয়।   যুক্তরাজ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ কমনওয়েলথ মাস্টার্স স্কলারশিপ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশসহ যোগ্য কমনওয়েলথভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ পান। স্কলারশিপে টিউশন ফি, বিমানভাড়া ও জীবনযাপনের নির্ধারিত ভাতাসহ বিভিন্ন ব্যয় বহন করা হয়। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ২০ অক্টোবর ব্রিটিশ সময় বিকেল ৪টায় আবেদন শেষ হবে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনও এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।   ফ্রান্সের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিল বুতমি স্কলারশিপেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ রয়েছে। এই স্কলারশিপ মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য। মাস্টার্স পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা দুই বছরের প্রতিটি বছরে ১৮ হাজার ৫০০ ইউরো পর্যন্ত টিউশন ফি ছাড় পান। প্রথম আবেদন পর্বের ডেডলাইন ১৮ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় পর্বের ডেডলাইন ২৯ নভেম্বর। ব্যাচেলর পর্যায়ের আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের জন্যও আলাদা সুযোগ রয়েছে। তবে এটি মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের সব জীবনযাত্রার খরচ বহন করে না।   দক্ষিণ কোরিয়ার গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ বা জিকেএস ২০২৭ কর্মসূচিও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের এই স্কলারশিপে বিভিন্ন পর্যায়ে টিউশন ফি, ভাষাশিক্ষা ও জীবনযাপনের সহায়তার সুযোগ থাকে। প্রকাশিত তালিকায় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের এম্বাসি ট্র্যাকের ডেডলাইন ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। তবে ইউনিভার্সিটি ট্র্যাকের আবেদন বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে পৃথক সময়ে পরিচালিত হয়। তাই আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাচেলর করতে আগ্রহীদের জন্য ইউনিভার্সিটি অব মায়ামির স্ট্যাম্পস স্কলারশিপ একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ। প্রকাশিত তালিকায় ১ নভেম্বর ২০২৬ আবেদন শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এই স্কলারশিপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন, আবাসন এবং অন্যান্য নির্ধারিত শিক্ষাব্যয়ের জন্য সহায়তা পেতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ও স্কলারশিপ বিবেচনার শর্ত একসঙ্গে পূরণ করতে হয়।   একই সময়ে রাশিয়ার ওপেন ডোরস স্কলারশিপ কর্মসূচিতেও আবেদন করার সুযোগের কথা রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় ১ নভেম্বর ডেডলাইন উল্লেখ করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে নির্ধারিত বিষয়ে মাস্টার্স, পিএইচডি এবং গবেষণার সুযোগ রয়েছে। তবে সব শিক্ষার্থী একই ধরনের আর্থিক সুবিধা পান না। বিশেষ করে সম্পূর্ণ জীবনযাত্রার খরচ বহন করা হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত দেখে নিশ্চিত হতে হবে।   এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানের এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক জাপান স্কলারশিপ প্রোগ্রামও গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচির আওতায় জাপানের এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব টোকিওসহ অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি, জীবনযাপনের ভাতা এবং অন্যান্য নির্ধারিত সুবিধা পেতে পারেন। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের আবেদনের সময়সীমা এবং কাজের অভিজ্ঞতার শর্ত আলাদা হতে পারে।   চীনের ইয়েনচিং একাডেমি স্কলারশিপেও মাস্টার্স পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এই কর্মসূচিতে চীনবিষয়ক আন্তবিষয়ক গবেষণা ও পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রকাশিত তালিকায় ৩০ নভেম্বর ২০২৬ আবেদন শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সময় অস্ট্রিয়ার হেলমুট ভাইথ স্টাইপেন্ডের ডেডলাইনও দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রিয়ার এই কর্মসূচি কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স করতে আগ্রহী যোগ্য নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।   ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যৌথভাবে মাস্টার্স করার জন্য ইরাসমাস মুন্ডাস কর্মসূচিতে একাধিক স্কলারশিপ রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় এমএপিপি, আইএলএসপিএসডি, এমইএসপিওএম ও গ্লোকাল কর্মসূচির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব প্রোগ্রামে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে বিভিন্ন ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে। তবে ইরাসমাস মুন্ডাসের সব প্রোগ্রামের আবেদন একসঙ্গে শুরু বা শেষ হয় না। প্রতিটি কোর্সের নিজস্ব আবেদন পদ্ধতি, যোগ্যতা এবং ফান্ডিংয়ের শর্ত রয়েছে।   সুইজারল্যান্ডের ইপিএফএল মাস্টার্স এক্সিলেন্স ফেলোশিপের জন্য ১৫ ডিসেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ ডেডলাইন। প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রতি সেমিস্টারে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঁ সহায়তা পান। সর্বোচ্চ চার সেমিস্টার পর্যন্ত এই অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। তবে ফেলোশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিজেদের টিউশন ফি ও আবাসনসহ অন্যান্য ব্যয়ের দায়িত্বও বিবেচনায় রাখতে হয়। ফলে এটিকে সব খরচ বহনকারী স্কলারশিপ হিসেবে উল্লেখ করা যথাযথ নয়।   নেদারল্যান্ডসের মাস্ট্রিখট বিশ্ববিদ্যালয়ের এনএল হাই পটেনশিয়াল স্কলারশিপেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে এবং স্কলারশিপের চূড়ান্ত ডেডলাইন ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। তবে স্কলারশিপের জন্য বিবেচিত হতে অনেক মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন ১০ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করতে হয়। এই স্কলারশিপ মূলত নির্দিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য, সব ব্যাচেলর কোর্সের জন্য নয়।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের লাইডেন ইউনিভার্সিটি এক্সিলেন্স স্কলারশিপে মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাবদ নির্ধারিত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই স্কলারশিপ সম্পূর্ণ ফান্ডেড নয় এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। আবেদনকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বেশি। তাই শুধু স্কলারশিপের নাম দেখে সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।   জার্মানির ডাড ইপিওএস স্কলারশিপ উন্নয়নসংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা করতে আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচিতে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, অর্থনীতি, ইঞ্জিনিয়ারিং, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং নগর পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স ও নির্দিষ্ট স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক কর্মঅভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সব কোর্সের ডেডলাইন এক নয়। ডাডের ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে আলাদা আবেদন সময়সূচি দেওয়া হয়েছে।   সৌদি আরবের কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বা কাউস্টেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি মূলত স্নাতকোত্তর পর্যায়ের গবেষণাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া যোগ্য শিক্ষার্থীরা টিউশন সহায়তা, আবাসন এবং গবেষণাসংশ্লিষ্ট ফান্ডিংয়ের সুযোগ পান। তবে আবেদনকারীকে আগে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তির শর্ত ও নির্ধারিত ইনটেক সম্পর্কে জানতে হবে।   কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ এবং হামাদ বিন খলিফা ইউনিভার্সিটিতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ ও ফান্ডিংয়ের সুযোগ রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় যথাক্রমে ১৫ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ ডেডলাইন উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তি ও ফান্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত পৃথক হতে পারে।   থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতেও মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে স্কলারশিপ রয়েছে। তবে এআইটির সাধারণ স্কলারশিপে সম্পূর্ণ অথবা আংশিক টিউশন ফি ছাড় দেওয়া হতে পারে। জীবনযাপনের খরচ এবং অন্যান্য ফি অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীকে বহন করতে হয়। ফলে সব এআইটি স্কলারশিপকে সম্পূর্ণ ফান্ডেড হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।   প্রকাশিত ২৭টি সুযোগের তালিকায় আরও রয়েছে সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াসংশ্লিষ্ট জেমস স্কলারশিপ, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াইয়ের এডিবি স্কলারশিপ, সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপ এবং ফ্রান্সের এমওপিজিএ ফেলোশিপ। তবে এসব কর্মসূচির মধ্যে কিছু গবেষণা ফেলোশিপ, কিছু টিউশন সহায়তা এবং কিছু সম্পূর্ণ স্কলারশিপ। সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির প্রধান ক্যাম্পাস বর্তমানে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অবস্থিত, হাঙ্গেরিতে নয়। পাশাপাশি সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপের সব বিভাগ সাধারণ মাস্টার্স ডিগ্রির শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নয়।   বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের পাশাপাশি ভর্তির যোগ্যতা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রতিষ্ঠানে ভালো সিজিপিএ, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং প্রাসঙ্গিক গবেষণা বা কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে পিএইচডি ও গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামে আবেদনকারীর গবেষণার আগ্রহ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সুযোগের মধ্যে মিল থাকা গুরুত্বপূর্ণ।   তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, স্কলারশিপের আবেদন চালু থাকা এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির আবেদন চালু থাকা সব সময় একই বিষয় নয়। অনেক ক্ষেত্রে আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করতে হয়। কিছু স্কলারশিপে আলাদা আবেদন প্রয়োজন, আবার কিছু প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন থেকেই ফান্ডিংয়ের জন্য বিবেচনা করা হয়।   ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই অক্টোবর থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা জরুরি। বিশেষ করে যেসব স্কলারশিপের আবেদন অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে শেষ হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে যোগ্যতা ও ডেডলাইন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি স্কলারশিপে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, বিমানভাড়া এবং অন্যান্য খরচের কতটুকু বহন করা হবে, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এতে আবেদনকারীরা নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আর্থিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সুযোগ নির্বাচন করতে পারবেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১১:৪৯
ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে আহত ব্যক্তি
নিউইয়র্কে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে আহত ব্যক্তি, গাড়িতে ছিল পাঁচ বছরের শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরীর মার্বেল হিল এলাকায় ৮ অক্টোবর অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) কর্মকর্তাদের গুলিতে ২৮ বছর বয়সী অস্কার বেলগাল আহত হন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর ঘাড়ে গুলি লাগে। গাড়িতে তখন তাঁর পাঁচ বছর বয়সী শিশুও ছিল।    কর্মকর্তারা তাঁকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিউইয়র্ক পুলিশের কমিশনার জেসিকা টিশের বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ পোশাক ও নির্মাণকর্মীদের মতো পোশাক পরা কর্মকর্তারা তাঁর গাড়ির কাছে গেলে তিনি গাড়ি সামনে এগিয়ে নেন। এরপর কর্মকর্তারা সাতটি গুলি ছোড়েন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   আইসিইর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, গাড়িটি কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে আসায় তাঁরা নিজেদের ও আশপাশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য গুলি চালান। বেলগালের ঘাড়ে আঘাতকে প্রাথমিকভাবে উপরিভাগের ক্ষত বলে জানানো হয়েছে। তবে গুলির ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিউইয়র্কের স্থানীয় নেতারা। তাঁরা ঘটনার দৃশ্যধারণকারী ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ এবং এলাকায় আইসিইর অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।    ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, ফেডারেল কর্মকর্তাদের ক্ষমতা এবং অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে গুলি চালানোর পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই তদন্তের পূর্ণ তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির সব দিক নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।   নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে বসবাসকারী অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, নির্দেশনা বোঝার চেষ্টা করা এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত না করা জরুরি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১১:৪১
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসীদের স্মার্ট কার্ড দিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রতিনিধি দিয়েও সংগ্রহের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসীদের স্মার্ট কার্ড দিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রতিনিধি দিয়েও সংগ্রহের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (স্মার্ট কার্ড) সংগ্রহের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রস্তুত স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের জন্য আবেদনকারীরা অফিস চলাকালে সরাসরি উপস্থিত হতে পারবেন। তবে কোনো আবেদনকারীর পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হওয়া সম্ভব না হলে নির্ধারিত প্রতিনিধির মাধ্যমেও কার্ড সংগ্রহের ব্যবস্থা রয়েছে বলে দূতাবাসের একটি বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।   বার্তায় বলা হয়েছে, স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের জন্য দূতাবাসের অফিস সময় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। কার্ড নিতে যাওয়ার সময় আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন ও বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার সময় দূতাবাস থেকে সরবরাহ করা ‘ডেটা এন্ট্রি প্রুফ কপি’ সঙ্গে রাখতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় বা স্টেট আইডি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড অথবা পাসপোর্টের মতো পরিচয়পত্রের একটি ফটোকপি সঙ্গে আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।   দূতাবাসের বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আবেদনকারী নিজে উপস্থিত হতে না পারলে একজন নির্ধারিত প্রতিনিধিকে অনুমতিপত্র বা অথরাইজেশন লেটার দিয়ে স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের দায়িত্ব দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ফটোকপিও সঙ্গে রাখতে হবে।   এ ছাড়া, যারা সরাসরি দূতাবাসে যেতে পারবেন না, তাদের জন্য ডাকযোগে স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের পদ্ধতির কথাও বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে যথাযথভাবে পূরণ ও স্বাক্ষর করা একটি এফিডেভিট বা হলফনামা, নিজের ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় ডাকমাশুলসহ একটি ফেরত খাম এবং পরিচয়পত্রের ফটোকপি পাঠাতে হবে। বার্তায় বলা হয়েছে, ফেরত খামের ক্ষেত্রে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ডাক পরিষেবা ইউএসপিএসের খাম গ্রহণ করা হবে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিনিধি বা ডাকযোগে কার্ড সংগ্রহের ক্ষেত্রে অনুমতিপত্র, হলফনামা ও অন্যান্য নথির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১১:২৮
হামের সংক্রমণ
হামের সংক্রমণ বাড়ায় নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আক্রান্ত প্রায় চার হাজার

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য রক্ষায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর ক্যাথি হোকুল। ৫ অক্টোবর জারি করা এই ঘোষণার লক্ষ্য হলো সংক্রমণ শনাক্ত করা, পরীক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা।   ৩ অক্টোবর পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যটিতে চলতি বছরে ১০৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৯২ জনের সংক্রমণ ১৫ জুলাইয়ের পর দেখা যায়। আক্রান্তদের অধিকাংশই গ্রামীণ এলাকার, যেখানে টিকা নেওয়ার হার তুলনামূলক কম।    নিউইয়র্ক নগরীতে এ পর্যন্ত সাতটি সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। অর্থাৎ অঙ্গরাজ্যের অধিকাংশ আক্রান্ত নগরীর বাইরে বিভিন্ন এলাকায় শনাক্ত হয়েছেন। সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা বাড়ানোর পাশাপাশি পরীক্ষার ব্যবস্থা সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   জরুরি ঘোষণার আওতায় নিবন্ধিত নার্সদের হাম পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়ার সুযোগ এবং ফার্মাসিস্টদের দুই বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার অনুমতি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি অবশ্যই প্রয়োজন।   যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলতি বছর হামের সংক্রমণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অক্টোবরের শুরুতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় চার হাজারে পৌঁছেছে। পেনসিলভানিয়ায় এক হাজারের বেশি সংক্রমণের খবরও পাওয়া গেছে।    হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ভাইরাস বাতাসে ছড়াতে পারে। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হওয়া দেখা দিতে পারে। পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।   নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশুদের টিকার নথি যাচাই করা। পরিবারের কারও মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলে আগে ফোন করে চিকিৎসাকেন্দ্রকে জানানো ভালো, যাতে অপেক্ষাকক্ষের অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি কমানো যায়।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১১:১৩
অটোরিকশার পক্ষে কথা বলা নেতারই রয়েছে ৭০০ অটোরিকশা
অটোরিকশার পক্ষে কথা বলা নেতারই রয়েছে ৭০০ অটোরিকশা: ডিএনসিসি প্রশাসক

রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের দাবি সমর্থন করা একটি বড় রাজনৈতিক দলের সেক্রেটারি জেনারেলের নিজেরই ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।   শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি করেন। তবে অভিযুক্ত নেতার নাম প্রকাশ করেননি তিনি। তাঁর অভিযোগের পক্ষে কোনো দলিল বা মালিকানাসংক্রান্ত তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।   দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিরপুর-১০ এলাকায় মেট্রোরেলের পিলারে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে যান ডিএনসিসি প্রশাসক। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল এবং এ নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের অবস্থান সম্পর্কে কথা বলেন তিনি।   শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন দাবি করেন, দেশের সাধারণ মানুষ কেউই অটোরিকশা চলাচলের পক্ষে আন্দোলন করবেন না। অথচ একটি বড় রাজনৈতিক দলের সেক্রেটারি জেনারেল প্রকাশ্যে অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিষয়টিকে তিনি হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন।   ডিএনসিসি প্রশাসকের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে খোঁজখবর নিয়ে তাঁরা জানতে পেরেছেন, অটোরিকশা চলাচলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ওই রাজনৈতিক নেতার নিজেরই ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে। তবে কীভাবে এই তথ্য পাওয়া গেছে, অটোরিকশাগুলো সরাসরি ওই নেতার নামে নিবন্ধিত কি না কিংবা সেগুলোর মালিকানা সম্পর্কে কোনো যাচাইযোগ্য তথ্য রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।   ফলে প্রশাসকের বক্তব্যে উত্থাপিত ৭০০ অটোরিকশার মালিকানার অভিযোগটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের বক্তব্যও প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।   অটোরিকশা চলাচলের পাশাপাশি রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার বিষয়েও কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এমন কোনো অবৈধ দখল বরদাশত করা হবে না।   তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, দোকানের সামনে কিংবা ফুটপাতে যাতে কেউ অবৈধভাবে বসতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।   মিল্টন জানান, দখলমুক্ত করা ফুটপাতগুলো আরও ব্যবহারোপযোগী করে তুলতে সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নের কাজ চলছে। যেসব এলাকার ফুটপাত ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে, সেগুলো মেরামত করে পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে।   ডিএনসিসি প্রশাসকের দাবি, বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। নগরবাসী চান না, এমন কোনো সিদ্ধান্ত সিটি করপোরেশন নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এ সময় ফুটপাতের হকারদের নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতার অভিযোগও তোলেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তাঁর দাবি, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ফুটপাতের হকারদের ডেকে বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক পরামর্শ দিচ্ছে। তবে এ অভিযোগের ক্ষেত্রেও তিনি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম কিংবা নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।   ডিএনসিসি প্রশাসক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনস্বার্থের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করা হলে নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।   রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল ও ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে ডিএনসিসি প্রশাসকের এই বক্তব্য সামনে এলো। তবে অটোরিকশা চলাচলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক নেতার ৭০০টি অটোরিকশা থাকার যে অভিযোগ তিনি তুলেছেন, সেটির সত্যতা নির্ধারণে মালিকানার নথি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।   সূত্র: ইত্তেফাক

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১১:০
অ্যাম্বুলেন্স সেবা
অ্যাম্বুলেন্স সেবা বাধ্যতামূলক করার দাবি, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চান কর্মীরা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা আরও নির্ভরযোগ্য করতে নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা।ট্রেন্টনের অঙ্গরাজ্য আইনসভায় অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে তাঁরা বলেছেন, প্রতিটি এলাকার বাসিন্দার জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।   পাশাপাশি সেবার জন্য অর্থায়ন বাড়ানো, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ সহজ করা এবং অঙ্গরাজ্যজুড়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে। নিউ জার্সির আইনসভায় অনুষ্ঠিত শুনানিতে প্রায় এক ডজন বক্তা তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।   তাঁদের অধিকাংশই এমন আইন প্রণয়নের পক্ষে মত দেন, যার মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দিষ্ট জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব ইতিমধ্যে আইনসভার সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোতে প্রাথমিক সমর্থন পেয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারের শুনানিতে প্রস্তাবগুলোর ওপর চূড়ান্ত ভোট হয়নি।    জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের মতে, বর্তমানে অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা পরিচালিত হয় স্বেচ্ছাসেবী দল, হাসপাতাল, অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। ফলে এক এলাকার সঙ্গে অন্য এলাকার সেবার ধরন ও সক্ষমতায় পার্থক্য থাকতে পারে। স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হচ্ছে।   সড়ক দুর্ঘটনা, মাদকজনিত জরুরি পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং আকস্মিক অসুস্থতার মতো ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসাসেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পর্যাপ্ত কর্মী ও অর্থায়ন না থাকলে জরুরি সহায়তা পৌঁছাতে দেরি হতে পারে বলে শুনানিতে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।    শুনানিতে অঙ্গরাজ্যজুড়ে জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরির প্রস্তাবও তোলা হয়। এর মাধ্যমে কোন এলাকায় কতজন কর্মী প্রয়োজন, কোথায় অ্যাম্বুলেন্সের ঘাটতি রয়েছে এবং রোগীর কাছে সহায়তা পৌঁছাতে কত সময় লাগছে, সেসব বিষয় মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।পরিকল্পনায় প্রশিক্ষণ, কর্মী নিয়োগ, তথ্য সংগ্রহ এবং সেবার মান পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স দলগুলোর জন্য কর থেকে অর্থ দেওয়ার বার্ষিক সীমা ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার তুলে দেওয়ার দাবিও উঠেছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা দূর হলে স্থানীয় পর্যায়ে জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানো সহজ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।    শুনানিতে অঙ্গরাজ্যের সিনেটর অ্যান্ড্রু জুইকার বলেন, জরুরি চিকিৎসাসেবার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন, তদারকি এবং তথ্য সংগ্রহের বিষয়গুলো নিয়ে আইন প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। অন্য আইনপ্রণেতারাও স্বেচ্ছাসেবকদের দ্রুত প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে যুক্ত করার প্রক্রিয়া সহজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১০:৫২
হানিমুনে জলহস্তীর আক্রমণ থেকে স্বামীকে বাঁচাতে জলহস্তীকেই ঘুষি মারলেন স্ত্রী
হানিমুনে জলহস্তীর আক্রমণ থেকে স্বামীকে বাঁচাতে জলহস্তীকেই ঘুষি মারলেন স্ত্রী

বিয়ের মাত্র ১০ দিন পর হানিমুনে গিয়ে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েন যুক্তরাষ্ট্রের এক নবদম্পতি। আফ্রিকার বতসোয়ানায় নৌকায় ঘোরার সময় বিশাল এক জলহস্তী হঠাৎ আক্রমণ করে স্বামীকে মুখে তুলে পানির নিচে টেনে নেয়। চোখের সামনে স্বামীর এমন অবস্থা দেখে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জলহস্তীটির দিকে এগিয়ে যান স্ত্রী। একপর্যায়ে প্রাণীটিকে একের পর এক ঘুষি মারতে থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জলহস্তীটি তাঁর স্বামীকে ছেড়ে দেয়। গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান ওই ব্যক্তি। ঘটনার প্রায় এক বছর পর শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ব্রিটিশ টেলিভিশনে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন দম্পতি।   মার্কিন সাময়িকী পিপলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দম্পতির নাম স্যাম ম্যাকি ও আনা ম্যাকি। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের পোর্ট অ্যাঞ্জেলেস শহরের বাসিন্দা। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিয়ের পর হানিমুন করতে আফ্রিকার বতসোয়ানায় গিয়েছিলেন তাঁরা। সেখানে বিখ্যাত ওকাভাঙ্গো ডেল্টায় সাফারি করার সময় জলহস্তীর আক্রমণের শিকার হন ৩১ বছর বয়সী স্যাম।   দম্পতি জানান, পর্তুগালের সমুদ্রসৈকতে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল। এর মাত্র ১০ দিন পর তাঁরা বতসোয়ানায় পৌঁছান। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল আফ্রিকার বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার। সেই উদ্দেশ্যে ওকাভাঙ্গো ডেল্টায় একটি সাফারি ট্যুরে অংশ নেন তাঁরা। কিন্তু আনন্দের সেই সফর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।   ঘটনার দিন একজন স্থানীয় গাইডের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী মোকোরো নামের সরু নৌকায় চড়ে জলাভূমি ঘুরে দেখছিলেন স্যাম ও আনা। মোকোরো সাধারণত গাছের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি করা হয় এবং বতসোয়ানার জলাভূমিতে পর্যটকদের ঘোরানোর জন্য এটি বহুল ব্যবহৃত। নৌকায় ওঠার আগে গাইডরা তাঁদের দূরে থাকা একটি জলহস্তী দেখিয়ে সতর্ক করেছিলেন। প্রাণীটি গভীর পানির একটি এলাকায় অবস্থান করছিল। পর্যটকদের ওই এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।   তবে কিছুক্ষণ পর তাঁদের নৌকাটি দলের অন্য নৌকাগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একপর্যায়ে তাঁরা বুঝতে পারেন, নৌকাটি সেই গভীর পানির দিকেই চলে এসেছে, যেখানে জলহস্তীটি ছিল। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই পানিতে বিকট শব্দ শুনতে পান স্যাম। পেছনে তাকিয়ে দেখেন, মুখ হাঁ করে একটি বিশাল জলহস্তী তাঁদের নৌকার দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে।   শুক্রবার ব্রিটিশ টেলিভিশন অনুষ্ঠান গুড মর্নিং ব্রিটেনে স্যাম জানান, জলহস্তীটিকে দেখে তাঁর প্রথম চিন্তা ছিল নৌকা থেকে যেন পানিতে পড়ে না যান। তাই তিনি নৌকার দুই পাশ শক্ত করে ধরে রাখেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই প্রাণীটি তাঁকে আঘাত করে।   স্যামের ভাষ্য অনুযায়ী, জলহস্তীটি তাঁর শরীরের মাঝামাঝি অংশ বিশাল চোয়ালের মধ্যে আটকে ফেলে এবং পানির নিচে টেনে নেয়। আক্রমণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে তিনি কিছুক্ষণ বুঝতেই পারেননি কী ঘটছে। শরীরে প্রচণ্ড অ্যাড্রেনালিনের প্রভাবে প্রথমে তেমন ব্যথাও অনুভব করেননি। পরে সেই মুহূর্তের অভিজ্ঞতাকে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।   জলহস্তীর ধাক্কায় নৌকা থেকে পানিতে ছিটকে পড়েন আনা এবং তাঁদের গাইডও। পানির ওপর উঠে আনা দেখতে পান, তাঁর স্বামী জলহস্তীটির মুখের মধ্যে আড়াআড়িভাবে আটকে আছেন। এমন দৃশ্য দেখে প্রথমে হতবাক হয়ে যান তিনি। কয়েক মুহূর্তের জন্য তাঁর মনে হয়েছিল, স্যাম হয়তো আর বেঁচে নেই।   আনা জানান, সেই মুহূর্তে পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কোনো ধরনের অস্ত্র বা আত্মরক্ষার সরঞ্জাম তাঁর কাছে ছিল না। কিন্তু স্বামীকে প্রাণীটির মুখ থেকে উদ্ধার করার জন্য সামনে এগিয়ে যান। এরপর হাত মুষ্টিবদ্ধ করে জলহস্তীটিকে ঘুষি মারতে শুরু করেন।   গুড মর্নিং ব্রিটেনে আনা বলেন, তাঁর মাথায় তখন একের পর এক চিন্তা আসছিল। ঘটনাটি সত্যি কি না, স্যাম বেঁচে আছেন কি না, কিংবা কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হবে কি না, কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। কিন্তু স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সুযোগ ছিল না।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ক্যাসকাডিয়া ডেইলি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একপর্যায়ে জলহস্তীটি স্যামকে ছেড়ে দিয়ে পেছনে সরে যায়। সেই সুযোগে আনা তাঁর স্বামীকে নিয়ে তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে স্যামের শরীরে গুরুতর আঘাত লেগেছে।   স্যাম জানান, পানির ওপর উঠে আসার পর তিনি স্ত্রীর দিকে হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর বাঁ পা কোনোভাবেই নড়ছিল না। মস্তিষ্ক থেকে নির্দেশ দিলেও পা সাড়া দিচ্ছিল না। তখনই বুঝতে পারেন, আক্রমণে তিনি মারাত্মক আহত হয়েছেন।   স্বামীর শারীরিক অবস্থা দেখে দ্বিতীয়বারের মতো তাঁর মৃত্যুর আশঙ্কা করেছিলেন আনা। কিন্তু দুর্গম জলাভূমি এলাকায় দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া সহজ ছিল না। উদ্ধার ও পরিবহনের বিভিন্ন জটিলতার কারণে চিকিৎসা শুরু হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।   ক্যাসকাডিয়া ডেইলি নিউজ জানিয়েছে, আক্রমণের পর স্যামকে ব্যথা কমানোর ওষুধ দিতে ১৩ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছিল। আর প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ১৮ ঘণ্টা। এত দীর্ঘ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় থাকার কারণে তাঁর জীবন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।   হাসপাতালে নেওয়ার পর স্যামের জরুরি ভিত্তিতে পেটের অস্ত্রোপচার করা হয়। তাঁর শরীরের ক্ষত বন্ধ করতে ২০টি স্ট্যাপল ব্যবহার করতে হয়েছিল। চিকিৎসার সময় ঘাড় ও হাতে আইভি লাইন বসানো হয়। পাশাপাশি তাঁকে ফিডিং টিউব এবং ভেন্টিলেটরের সহায়তায় রাখতে হয়েছিল।   দীর্ঘ চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হন স্যাম। তবে এখনো শরীরের কিছু অংশে ব্যথা ও অস্বস্তি অনুভব করেন তিনি। শুক্রবারের সাক্ষাৎকারে জানান, ভয়াবহ সেই ঘটনার পরও তাঁরা স্বাভাবিক জীবনযাপনের চেষ্টা করছেন।   আক্রমণের সময় স্ত্রী কীভাবে জলহস্তীটির সঙ্গে লড়াই করেছিলেন, সেটি স্যাম পরে জানতে পেরেছিলেন। তখন তিনি নিজের জীবন রক্ষায় স্ত্রীর ভূমিকার কথা বুঝতে পারেন। দম্পতির কাছে ঘটনাটি তাঁদের সম্পর্কের অন্যতম কঠিন অভিজ্ঞতা হয়ে রয়েছে।   এই ঘটনার পর স্যামের জীবনে আরও একটি পরিবর্তন এসেছে। সুস্থ হওয়ার পর তিনি মাটির তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী বানানোর কাজে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বর্তমানে নিজের তৈরি মাটির জিনিস বিক্রি করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য স্কেটবোর্ড কেনার অর্থ সংগ্রহ করেন তিনি।   স্যাম ও আনা তাঁদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বইও লিখেছেন। এখন সেটি প্রকাশের জন্য প্রকাশকের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা করছেন। তাঁদের আশা, নিজেদের অভিজ্ঞতা অন্যদের কাছে তুলে ধরতে পারলে বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি ভ্রমণের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে।   পিপলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্যাম ও আনা একে অপরকে চেনেন স্কুলজীবন থেকে। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে তাঁদের সম্পর্ক। বিয়ের পর প্রথম বড় সফরেই এমন দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হবে, তা কখনো কল্পনাও করেননি তাঁরা।   আনা বলেন, ঘটনাটি তাঁদের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল। তবে এখন তাঁরা বেঁচে থাকার সুযোগ পাওয়াটাকেই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মনে করেন। স্যাম তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধু এবং এত বছরের সম্পর্কের পর আরও কিছু সময় একসঙ্গে কাটাতে পারছেন বলে তিনি কৃতজ্ঞ।   আফ্রিকার জলাভূমিতে জলহস্তী পর্যটকদের জন্য গুরুতর বিপদের কারণ হতে পারে। বিশাল আকৃতি এবং তুলনামূলক শান্ত চেহারা দেখে অনেক সময় প্রাণীটিকে নিরীহ মনে হলেও জলহস্তী অত্যন্ত শক্তিশালী ও আঞ্চলিক আচরণসম্পন্ন বন্যপ্রাণী। বিশেষ করে পানিতে নিজের অবস্থান বা নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে মনে করলে দ্রুত আক্রমণ করতে পারে।   স্যাম ও আনার অভিজ্ঞতা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বন্যপ্রাণী দেখার সময় স্থানীয় গাইডের সতর্কতা ও নির্ধারিত নিরাপদ দূরত্ব মেনে চলা কতটা জরুরি। একই সঙ্গে তাঁদের এই ঘটনা একটি নবদম্পতির বেঁচে ফেরার ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা হিসেবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১০:৪৭
দক্ষিণ জর্জিয়ায় প্রথমবারের মতো দেখা মিলেছিল বিরল হলুদ কিং পেঙ্গুইনের
দক্ষিণ জর্জিয়ায় প্রথমবারের মতো দেখা মিলেছিল বিরল হলুদ কিং পেঙ্গুইনের, ছবি ঘিরে বিস্ময়

দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের প্রত্যন্ত সাউথ জর্জিয়া দ্বীপে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কিং পেঙ্গুইনের ভিড়ে বিরল একটি হলুদ পেঙ্গুইনের ছবি তুলেছিলেন বেলজিয়ামের বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফার ইয়ভেস অ্যাডামস। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তোলা ছবিগুলো ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। সাধারণ কিং পেঙ্গুইনের কালো, সাদা ও ধূসর পালকের পরিবর্তে পাখিটির শরীরে ছিল উজ্জ্বল হলুদ ও ক্রিম রঙের পালক। বিজ্ঞানীদের মতে, শরীরের রঞ্জক পদার্থের অস্বাভাবিকতার কারণে এমন বিরল রঙের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।   ফটোগ্রাফার ইয়ভেস অ্যাডামসের নিজস্ব বিবরণ এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দুই মাসের একটি বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফি অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। অভিযানের অংশ হিসেবে তাঁর দল দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপের স্যালিসবারি প্লেন এলাকায় পৌঁছায়। দুর্গম এই উপকূলীয় অঞ্চল কিং পেঙ্গুইনের অন্যতম বৃহৎ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।   স্যালিসবারি প্লেনের প্রায় এক কিলোমিটার প্রশস্ত উপকূলীয় এলাকায় বিপুলসংখ্যক কিং পেঙ্গুইন বসবাস করে। সেখানে পেঙ্গুইনের পাশাপাশি হাজার হাজার ফার সিল ও এলিফ্যান্ট সিলেরও দেখা মেলে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি, প্রবল স্রোত এবং বন্যপ্রাণীর ঘন উপস্থিতির কারণে এলাকাটিতে নৌকা ভেড়ানো ও নিরাপদে চলাচল করা বেশ কঠিন।   অ্যাডামস জানিয়েছেন, অভিযানের দিন তাঁরা একটি ছোট নৌকায় করে উপকূলে পৌঁছান। নৌকা থেকে খাবার, তাঁবু ও নিরাপত্তাসামগ্রী নামানোর সময় হঠাৎ পানির মধ্যে অস্বাভাবিক উজ্জ্বল রঙের একটি পেঙ্গুইন দেখতে পান তিনি। প্রথমে বিষয়টি তাঁর বিশ্বাস হচ্ছিল না। কাছাকাছি আসার পর বুঝতে পারেন, পাখিটির শরীরে সাধারণ কিং পেঙ্গুইনের পরিচিত কালো পালক নেই।   বিরল পেঙ্গুইনটিকে দেখতে পেয়েই ক্যামেরা হাতে নেন অ্যাডামস। সৌভাগ্যক্রমে পাখিটি তাঁদের কাছেই তীরে উঠে আসে। কিছুক্ষণ সৈকতে ঘোরাফেরা করার পর অন্য পেঙ্গুইনদের দলে মিশে যায়। এই অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েকটি ছবি তুলতে সক্ষম হন তিনি।   পরে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে অ্যাডামস জানান, পেঙ্গুইনটির ছবি তোলার জন্য তিনি মাত্র দুই থেকে তিন মিনিট সময় পেয়েছিলেন। বিরল প্রাণীটি কাছে চলে আসায় কোনো বাধা ছাড়াই ছবি তোলা সম্ভব হয়েছিল। এত বিপুলসংখ্যক পেঙ্গুইনের মধ্যে অস্বাভাবিক রঙের একটি পাখিকে আলাদাভাবে দেখতে পাওয়ার ঘটনাকে তিনি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন।   সাধারণত কিং পেঙ্গুইনের মাথা ও পিঠের বড় অংশ কালো বা ধূসর রঙের হয়। শরীরের সামনের অংশ সাদা এবং মাথা ও ঘাড়ের কাছে উজ্জ্বল হলুদ ও কমলা রঙের উপস্থিতি থাকে। কিন্তু অ্যাডামসের দেখা পেঙ্গুইনটির কালো অংশগুলো ছিল হলুদাভ কিংবা ক্রিম রঙের। ফলে অন্যান্য পেঙ্গুইনের ভিড়ে সেটি সহজেই চোখে পড়ছিল।   বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাণীর শরীরে বিভিন্ন রঙ তৈরির পেছনে একাধিক ধরনের রঞ্জক পদার্থ কাজ করে। এর মধ্যে মেলানিন গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রাণীর পালক, ত্বক ও লোমের কালো এবং বাদামি রঙ তৈরিতে মেলানিনের ভূমিকা রয়েছে। কোনো জিনগত পরিবর্তনের কারণে এই রঞ্জক পদার্থের উৎপাদন বা বণ্টনে সমস্যা হলে প্রাণীর স্বাভাবিক রঙ বদলে যেতে পারে।   বিরল হলুদ পেঙ্গুইনটির ক্ষেত্রেও এমন একটি পরিবর্তন ঘটেছে বলে ধারণা করেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক গবেষক এটিকে লিউসিজম হিসেবে বর্ণনা করেছেন। লিউসিজম হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে প্রাণীর শরীরের কিছু অংশে বা পুরো শরীরে স্বাভাবিক রঞ্জকের উপস্থিতি কমে যায়। এর ফলে প্রাণীর গায়ের রঙ অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে, সাদা কিংবা অন্য রঙের দেখা যেতে পারে।   তবে হলুদ পেঙ্গুইনটির রঙের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কিছু মতভিন্নতা রয়েছে। লাইভ সায়েন্সের প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষণ জীববিজ্ঞানী ডি বোয়েরসমা পাখিটির রঙকে লিউসিজমের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ব্যাখ্যা করেন। অন্যদিকে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কেভিন ম্যাকগ্রো জানান, পাখিটির পালকে মেলানিনের উপস্থিতি ঠিক কতটা রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণ প্রয়োজন।   বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিং পেঙ্গুইনের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই হলুদ রঞ্জক পদার্থ থাকে। বিরল পেঙ্গুইনটির শরীরে কালো রঙের জন্য দায়ী মেলানিনের ঘাটতি হওয়ায় সেই হলুদ রঙ আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে থাকতে পারে। তবে শুধু ছবি দেখে জিনগত পরিবর্তনের সঠিক ধরন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।   এ ধরনের অস্বাভাবিক রঙ প্রাণীর বেঁচে থাকার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত পেঙ্গুইনের গায়ের কালো ও সাদা রঙ পানির মধ্যে আত্মরক্ষায় সহায়তা করে। ওপর থেকে দেখলে পিঠের গাঢ় রঙ গভীর পানির সঙ্গে মিশে যায়। আবার নিচ থেকে দেখলে সাদা পেট পানির ওপরের আলোর সঙ্গে মিশে যেতে সাহায্য করে। এতে শিকারি প্রাণীর চোখ এড়ানো তুলনামূলক সহজ হয়।   অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে রঙের পেঙ্গুইন অন্যদের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান হতে পারে। ফলে শিকারি প্রাণীর কাছে ধরা পড়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে মনে করেন গবেষকেরা। একই সঙ্গে পাখির স্বাভাবিক রঙ সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অ্যাডামসের তোলা ওই পেঙ্গুইনটির ক্ষেত্রে এসব কারণে কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।   বিরল রঙের পেঙ্গুইন এর আগেও বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে। তবে সম্পূর্ণ হলুদাভ চেহারার কিং পেঙ্গুইনের ছবি অত্যন্ত বিরল। ২০১৯ সালে সাউথ জর্জিয়া দ্বীপেই অন্য একটি অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে রঙের কিং পেঙ্গুইনের ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে অ্যাডামসের দেখা পাখিটিই পৃথিবীর প্রথম অস্বাভাবিক রঙের পেঙ্গুইন, এমন দাবি সঠিক নয়।   ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইয়ভেস অ্যাডামস ছবিগুলো প্রকাশ করার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বন্যপ্রাণীবিষয়ক বিভিন্ন প্রকাশনায় সেগুলো ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন এবং লাইভ সায়েন্স পেঙ্গুইনটির ব্যতিক্রমী রঙের বৈজ্ঞানিক কারণ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।   অ্যাডামসের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন একটি পেঙ্গুইন আবার দেখার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তবে তাঁর উল্লেখ করা লাখে বা মিলিয়নে একটি দেখার সম্ভাবনা কোনো আনুষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক হিসাব নয়, বরং বিরল অভিজ্ঞতাটি বোঝাতে ব্যবহৃত একটি অনুমান।   ২০১৯ সালে ধারণ করা এবং ২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে আলোচিত হওয়া হলুদ পেঙ্গুইনটির ছবিগুলো এখনো বন্যপ্রাণীর অস্বাভাবিক রঙের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। একই প্রজাতির বিপুলসংখ্যক পেঙ্গুইনের মধ্যে একটি পাখির এমন ব্যতিক্রমী চেহারা প্রকৃতির বৈচিত্র্য এবং প্রাণীর শরীরে জিনগত পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১০:৩৪
অ্যামাজনে বিক্রি হওয়া ব্যথার ওষুধের বোতল প্রত্যাহার
অ্যামাজনে বিক্রি হওয়া ব্যথার ওষুধের ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি বোতল প্রত্যাহার

যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে কেনা ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অ্যামাজন বিক্রি হওয়া নিজস্ব ব্র্যান্ডের ১ লাখ ১২ হাজার ৯৩২টি বোতল ব্যথানাশক ওষুধ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ওষুধের বড়ির রং পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।   প্রত্যাহারের আওতায় থাকা ওষুধটির নাম অ্যামাজন বেসিক কেয়ার অতিরিক্ত শক্তির অ্যাসিটামিনোফেন। প্রতিটি বড়িতে ৫০০ মিলিগ্রাম ওষুধ রয়েছে। অ্যাসিটামিনোফেন সাধারণত ব্যথা কমাতে ও জ্বর নামাতে ব্যবহার করা হয়। তবে সব ধরনের অ্যাসিটামিনোফেন বা আমাজনের সব ব্যথানাশক ওষুধ এই প্রত্যাহারের আওতায় নেই। নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যাচের বোতলই চিহ্নিত করা হয়েছে।   ওষুধটি তৈরি করেছে অরোবিন্দো ফার্মা ইউএসএ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। অ্যামাজন ডটকম সার্ভিসেস প্রতিষ্ঠানটি ওষুধটি বিতরণ করেছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছায় ওষুধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া ২০০, ৫০০ ও ১,০০০ বড়ির বোতল এই প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে।   ওষুধের বড়ির রং পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার অভিযোগই প্রত্যাহারের প্রধান কারণ। বড়ির স্বাভাবিক চেহারা বদলে গেলে তা ওষুধের গুণগত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এই ঘটনার কারণে কতটা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যাহারের ঝুঁকির মাত্রাও তখন পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।   যাঁরা অ্যামাজন থেকে এই ওষুধ কিনেছেন, তাঁদের বোতলের গায়ে লেখা নাম, বড়ির সংখ্যা, ব্যাচ নম্বর এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ মিলিয়ে দেখা জরুরি্।২০০ বড়ির বোতলের ব্যাচ নম্বর এসিডি১২৫০৪০এ। এর মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর।   ৫০০ বড়ির বোতলের ক্ষেত্রে প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে পাঁচটি ব্যাচ: এসিডি১২৪০৩৬এ, এসিডি১২৪০৩০এ, এসিডি১২৪০৪২এ, এসিডি১২৪০৪৮বি এবং এসিডি১২৫০১০এ। এসব বোতলের মেয়াদ ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এবং ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে।১,০০০ বড়ির বোতলের ব্যাচ নম্বর এসিডি১২৪০৪৮এ। এর মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর।   বোতলের ব্যাচ নম্বর প্রত্যাহারের তালিকার সঙ্গে মিলে গেলে ওষুধটি আর ব্যবহার করবেন না। কেনাকাটার হিসাব পরীক্ষা করুন এবং অ্যামাজন সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেরত দেওয়া বা অর্থ ফেরত পাওয়ার নিয়ম জেনে নিন। প্রয়োজনে ফার্মাসিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।   প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ওষুধের কারণে অসুস্থতা বা আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে এর অর্থ এই নয় যে রং পরিবর্তিত হওয়া বড়ি ব্যবহার করা নিরাপদ। ওষুধের রং, গন্ধ বা চেহারায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলে সেটি ব্যবহার না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও এই সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পরিবার অনলাইনে একসঙ্গে অনেক ওষুধ কিনে ঘরে রাখে। তাই বাড়িতে থাকা বোতলগুলোর নাম, ব্যাচ নম্বর ও মেয়াদ পরীক্ষা করে দেখা ভালো। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করেন এমন পরিবারের সদস্যদের ওষুধগুলো যাচাই করতে সহায়তা করুন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১০:২২