- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের প্রত্যন্ত সাউথ জর্জিয়া দ্বীপে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কিং পেঙ্গুইনের ভিড়ে বিরল একটি হলুদ পেঙ্গুইনের ছবি তুলেছিলেন বেলজিয়ামের বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফার ইয়ভেস অ্যাডামস। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তোলা ছবিগুলো ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। সাধারণ কিং পেঙ্গুইনের কালো, সাদা ও ধূসর পালকের পরিবর্তে পাখিটির শরীরে ছিল উজ্জ্বল হলুদ ও ক্রিম রঙের পালক। বিজ্ঞানীদের মতে, শরীরের রঞ্জক পদার্থের অস্বাভাবিকতার কারণে এমন বিরল রঙের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। ফটোগ্রাফার ইয়ভেস অ্যাডামসের নিজস্ব বিবরণ এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দুই মাসের একটি বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফি অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। অভিযানের অংশ হিসেবে তাঁর দল দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপের স্যালিসবারি প্লেন এলাকায় পৌঁছায়। দুর্গম এই উপকূলীয় অঞ্চল কিং পেঙ্গুইনের অন্যতম বৃহৎ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। স্যালিসবারি প্লেনের প্রায় এক কিলোমিটার প্রশস্ত উপকূলীয় এলাকায় বিপুলসংখ্যক কিং পেঙ্গুইন বসবাস করে। সেখানে পেঙ্গুইনের পাশাপাশি হাজার হাজার ফার সিল ও এলিফ্যান্ট সিলেরও দেখা মেলে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি, প্রবল স্রোত এবং বন্যপ্রাণীর ঘন উপস্থিতির কারণে এলাকাটিতে নৌকা ভেড়ানো ও নিরাপদে চলাচল করা বেশ কঠিন। অ্যাডামস জানিয়েছেন, অভিযানের দিন তাঁরা একটি ছোট নৌকায় করে উপকূলে পৌঁছান। নৌকা থেকে খাবার, তাঁবু ও নিরাপত্তাসামগ্রী নামানোর সময় হঠাৎ পানির মধ্যে অস্বাভাবিক উজ্জ্বল রঙের একটি পেঙ্গুইন দেখতে পান তিনি। প্রথমে বিষয়টি তাঁর বিশ্বাস হচ্ছিল না। কাছাকাছি আসার পর বুঝতে পারেন, পাখিটির শরীরে সাধারণ কিং পেঙ্গুইনের পরিচিত কালো পালক নেই। বিরল পেঙ্গুইনটিকে দেখতে পেয়েই ক্যামেরা হাতে নেন অ্যাডামস। সৌভাগ্যক্রমে পাখিটি তাঁদের কাছেই তীরে উঠে আসে। কিছুক্ষণ সৈকতে ঘোরাফেরা করার পর অন্য পেঙ্গুইনদের দলে মিশে যায়। এই অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েকটি ছবি তুলতে সক্ষম হন তিনি। পরে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে অ্যাডামস জানান, পেঙ্গুইনটির ছবি তোলার জন্য তিনি মাত্র দুই থেকে তিন মিনিট সময় পেয়েছিলেন। বিরল প্রাণীটি কাছে চলে আসায় কোনো বাধা ছাড়াই ছবি তোলা সম্ভব হয়েছিল। এত বিপুলসংখ্যক পেঙ্গুইনের মধ্যে অস্বাভাবিক রঙের একটি পাখিকে আলাদাভাবে দেখতে পাওয়ার ঘটনাকে তিনি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন। সাধারণত কিং পেঙ্গুইনের মাথা ও পিঠের বড় অংশ কালো বা ধূসর রঙের হয়। শরীরের সামনের অংশ সাদা এবং মাথা ও ঘাড়ের কাছে উজ্জ্বল হলুদ ও কমলা রঙের উপস্থিতি থাকে। কিন্তু অ্যাডামসের দেখা পেঙ্গুইনটির কালো অংশগুলো ছিল হলুদাভ কিংবা ক্রিম রঙের। ফলে অন্যান্য পেঙ্গুইনের ভিড়ে সেটি সহজেই চোখে পড়ছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাণীর শরীরে বিভিন্ন রঙ তৈরির পেছনে একাধিক ধরনের রঞ্জক পদার্থ কাজ করে। এর মধ্যে মেলানিন গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রাণীর পালক, ত্বক ও লোমের কালো এবং বাদামি রঙ তৈরিতে মেলানিনের ভূমিকা রয়েছে। কোনো জিনগত পরিবর্তনের কারণে এই রঞ্জক পদার্থের উৎপাদন বা বণ্টনে সমস্যা হলে প্রাণীর স্বাভাবিক রঙ বদলে যেতে পারে। বিরল হলুদ পেঙ্গুইনটির ক্ষেত্রেও এমন একটি পরিবর্তন ঘটেছে বলে ধারণা করেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক গবেষক এটিকে লিউসিজম হিসেবে বর্ণনা করেছেন। লিউসিজম হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে প্রাণীর শরীরের কিছু অংশে বা পুরো শরীরে স্বাভাবিক রঞ্জকের উপস্থিতি কমে যায়। এর ফলে প্রাণীর গায়ের রঙ অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে, সাদা কিংবা অন্য রঙের দেখা যেতে পারে। তবে হলুদ পেঙ্গুইনটির রঙের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কিছু মতভিন্নতা রয়েছে। লাইভ সায়েন্সের প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষণ জীববিজ্ঞানী ডি বোয়েরসমা পাখিটির রঙকে লিউসিজমের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ব্যাখ্যা করেন। অন্যদিকে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কেভিন ম্যাকগ্রো জানান, পাখিটির পালকে মেলানিনের উপস্থিতি ঠিক কতটা রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণ প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিং পেঙ্গুইনের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই হলুদ রঞ্জক পদার্থ থাকে। বিরল পেঙ্গুইনটির শরীরে কালো রঙের জন্য দায়ী মেলানিনের ঘাটতি হওয়ায় সেই হলুদ রঙ আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে থাকতে পারে। তবে শুধু ছবি দেখে জিনগত পরিবর্তনের সঠিক ধরন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ ধরনের অস্বাভাবিক রঙ প্রাণীর বেঁচে থাকার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত পেঙ্গুইনের গায়ের কালো ও সাদা রঙ পানির মধ্যে আত্মরক্ষায় সহায়তা করে। ওপর থেকে দেখলে পিঠের গাঢ় রঙ গভীর পানির সঙ্গে মিশে যায়। আবার নিচ থেকে দেখলে সাদা পেট পানির ওপরের আলোর সঙ্গে মিশে যেতে সাহায্য করে। এতে শিকারি প্রাণীর চোখ এড়ানো তুলনামূলক সহজ হয়। অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে রঙের পেঙ্গুইন অন্যদের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান হতে পারে। ফলে শিকারি প্রাণীর কাছে ধরা পড়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে মনে করেন গবেষকেরা। একই সঙ্গে পাখির স্বাভাবিক রঙ সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অ্যাডামসের তোলা ওই পেঙ্গুইনটির ক্ষেত্রে এসব কারণে কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। বিরল রঙের পেঙ্গুইন এর আগেও বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে। তবে সম্পূর্ণ হলুদাভ চেহারার কিং পেঙ্গুইনের ছবি অত্যন্ত বিরল। ২০১৯ সালে সাউথ জর্জিয়া দ্বীপেই অন্য একটি অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে রঙের কিং পেঙ্গুইনের ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে অ্যাডামসের দেখা পাখিটিই পৃথিবীর প্রথম অস্বাভাবিক রঙের পেঙ্গুইন, এমন দাবি সঠিক নয়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইয়ভেস অ্যাডামস ছবিগুলো প্রকাশ করার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বন্যপ্রাণীবিষয়ক বিভিন্ন প্রকাশনায় সেগুলো ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন এবং লাইভ সায়েন্স পেঙ্গুইনটির ব্যতিক্রমী রঙের বৈজ্ঞানিক কারণ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। অ্যাডামসের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন একটি পেঙ্গুইন আবার দেখার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তবে তাঁর উল্লেখ করা লাখে বা মিলিয়নে একটি দেখার সম্ভাবনা কোনো আনুষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক হিসাব নয়, বরং বিরল অভিজ্ঞতাটি বোঝাতে ব্যবহৃত একটি অনুমান। ২০১৯ সালে ধারণ করা এবং ২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে আলোচিত হওয়া হলুদ পেঙ্গুইনটির ছবিগুলো এখনো বন্যপ্রাণীর অস্বাভাবিক রঙের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। একই প্রজাতির বিপুলসংখ্যক পেঙ্গুইনের মধ্যে একটি পাখির এমন ব্যতিক্রমী চেহারা প্রকৃতির বৈচিত্র্য এবং প্রাণীর শরীরে জিনগত পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে কেনা ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অ্যামাজন বিক্রি হওয়া নিজস্ব ব্র্যান্ডের ১ লাখ ১২ হাজার ৯৩২টি বোতল ব্যথানাশক ওষুধ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ওষুধের বড়ির রং পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রত্যাহারের আওতায় থাকা ওষুধটির নাম অ্যামাজন বেসিক কেয়ার অতিরিক্ত শক্তির অ্যাসিটামিনোফেন। প্রতিটি বড়িতে ৫০০ মিলিগ্রাম ওষুধ রয়েছে। অ্যাসিটামিনোফেন সাধারণত ব্যথা কমাতে ও জ্বর নামাতে ব্যবহার করা হয়। তবে সব ধরনের অ্যাসিটামিনোফেন বা আমাজনের সব ব্যথানাশক ওষুধ এই প্রত্যাহারের আওতায় নেই। নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যাচের বোতলই চিহ্নিত করা হয়েছে। ওষুধটি তৈরি করেছে অরোবিন্দো ফার্মা ইউএসএ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। অ্যামাজন ডটকম সার্ভিসেস প্রতিষ্ঠানটি ওষুধটি বিতরণ করেছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছায় ওষুধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া ২০০, ৫০০ ও ১,০০০ বড়ির বোতল এই প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে। ওষুধের বড়ির রং পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার অভিযোগই প্রত্যাহারের প্রধান কারণ। বড়ির স্বাভাবিক চেহারা বদলে গেলে তা ওষুধের গুণগত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এই ঘটনার কারণে কতটা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যাহারের ঝুঁকির মাত্রাও তখন পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। যাঁরা অ্যামাজন থেকে এই ওষুধ কিনেছেন, তাঁদের বোতলের গায়ে লেখা নাম, বড়ির সংখ্যা, ব্যাচ নম্বর এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ মিলিয়ে দেখা জরুরি্।২০০ বড়ির বোতলের ব্যাচ নম্বর এসিডি১২৫০৪০এ। এর মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। ৫০০ বড়ির বোতলের ক্ষেত্রে প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে পাঁচটি ব্যাচ: এসিডি১২৪০৩৬এ, এসিডি১২৪০৩০এ, এসিডি১২৪০৪২এ, এসিডি১২৪০৪৮বি এবং এসিডি১২৫০১০এ। এসব বোতলের মেয়াদ ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এবং ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে।১,০০০ বড়ির বোতলের ব্যাচ নম্বর এসিডি১২৪০৪৮এ। এর মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর। বোতলের ব্যাচ নম্বর প্রত্যাহারের তালিকার সঙ্গে মিলে গেলে ওষুধটি আর ব্যবহার করবেন না। কেনাকাটার হিসাব পরীক্ষা করুন এবং অ্যামাজন সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেরত দেওয়া বা অর্থ ফেরত পাওয়ার নিয়ম জেনে নিন। প্রয়োজনে ফার্মাসিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ওষুধের কারণে অসুস্থতা বা আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে এর অর্থ এই নয় যে রং পরিবর্তিত হওয়া বড়ি ব্যবহার করা নিরাপদ। ওষুধের রং, গন্ধ বা চেহারায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলে সেটি ব্যবহার না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও এই সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পরিবার অনলাইনে একসঙ্গে অনেক ওষুধ কিনে ঘরে রাখে। তাই বাড়িতে থাকা বোতলগুলোর নাম, ব্যাচ নম্বর ও মেয়াদ পরীক্ষা করে দেখা ভালো। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করেন এমন পরিবারের সদস্যদের ওষুধগুলো যাচাই করতে সহায়তা করুন।
বিশ্বের রাজপরিবারের ইতিহাসে নতুন নজির গড়েছেন থাইল্যান্ডের রানি সুথিদা। প্রথম ক্ষমতাসীন রানি হিসেবে একাই সুপারসনিক যুদ্ধবিমান চালানোর কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সুরাত থানি প্রদেশের একটি সামরিক বিমানঘাঁটি থেকে সুইডেনের তৈরি জেএএস ৩৯সি গ্রিপেন যুদ্ধবিমান নিয়ে আকাশে ওড়েন ৪৮ বছর বয়সী এই রানি। প্রায় ৪১ মিনিটের সফল উড্ডয়ন শেষে নিরাপদে অবতরণ করেন তিনি। পুরো সময় মাটিতে থেকে রানির উড্ডয়ন পর্যবেক্ষণ করেন তাঁর স্বামী থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন। থাইল্যান্ডের রাজপ্রাসাদ ও দেশটির বিমানবাহিনীর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রানি সুথিদা সুরাত থানি প্রদেশের ফুন ফিন জেলার উইং ৭ বিমানঘাঁটিতে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন সম্পন্ন করেন। এটি ছিল এক আসনবিশিষ্ট জেএএস ৩৯সি গ্রিপেন যুদ্ধবিমানে তাঁর প্রথম একক ফ্লাইট। এ অর্জনের মাধ্যমে তিনি থাইল্যান্ডের প্রথম নারী গ্রিপেন পাইলট হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছেন। থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম দ্য নেশন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৬ মিনিটে রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল সেকসান কান্থাসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা। এরপর রাজা ও রানি ফ্লাইট পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে অংশ নেন। উড্ডয়নের আগে রানি সুথিদা নিজেই যুদ্ধবিমানটির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর নির্ধারিত রানওয়ে ২২ দিয়ে বিমানটি উড্ডয়ন করেন। প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা অনুযায়ী আকাশে নির্ধারিত কার্যক্রম শেষ করে তিনি নিরাপদে বিমানঘাঁটিতে ফিরে আসেন। বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। সফলভাবে উড্ডয়ন শেষ করার পর রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন রানিকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি তাঁর পোশাকে পরিয়ে দেন সম্মানসূচক গ্রিপেন অর্ডার গোল্ডেন প্যাচ। গ্রিপেন যুদ্ধবিমান চালানোর স্বীকৃতি হিসেবে এই বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। থাইল্যান্ডের রাজপ্রাসাদের প্রকাশিত ছবিতে রানিকে যুদ্ধবিমান থেকে নেমে রাজার কাছ থেকে অভিনন্দন গ্রহণ করতে দেখা যায়। তবে এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের বিমান চালনার অভিজ্ঞতা এবং বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ। রানি সুথিদা ২০১০ সালের ১৩ মে প্রথম বিমান চালনার প্রশিক্ষণ শুরু করেন। ওই দিন ব্যাংককের উইং ৬ বিমানঘাঁটিতে সেসনা টি ৪১ডি বিমান চালান তিনি। এরপর বিভিন্ন ধরনের সামরিক ও বেসামরিক বিমান চালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। থাইল্যান্ডের রাজপ্রাসাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজে রানির মোট ফ্লাইট অভিজ্ঞতা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮৮ ঘণ্টা ৪৮ মিনিটে। ছোট প্রশিক্ষণ বিমান থেকে শুরু করে বোয়িং ৭৩৭ সিরিজের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চালানোর যোগ্যতাও রয়েছে তাঁর। রাজকীয় সফরে তিনি একাধিকবার রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের সঙ্গে কো-পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গ্রিপেন যুদ্ধবিমানে একক উড্ডয়নের আগে তাঁকে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হয়। চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসে যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, নিরাপত্তা পদ্ধতি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ ৪৫টি বিষয়ে তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর সিমুলেটরে ২০টি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট পরিচালনা করেন। পরবর্তী ধাপে দুই আসনবিশিষ্ট জেএএস ৩৯ডি গ্রিপেন যুদ্ধবিমানে প্রশিক্ষকের সঙ্গে প্রায় ১০ ঘণ্টা উড্ডয়নের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন রানি সুথিদা। এই পর্যায়ে যুদ্ধবিমানের নিয়ন্ত্রণ, উড্ডয়ন, অবতরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। সব প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর তাঁকে এক আসনবিশিষ্ট জেএএস ৩৯সি গ্রিপেন চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়। সুইডেনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সাবের তৈরি গ্রিপেন একটি আধুনিক বহুমুখী যুদ্ধবিমান। এটি শব্দের গতির চেয়ে দ্রুত উড়তে পারে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা, আকাশ থেকে ভূমিতে হামলা ও নজরদারিসহ বিভিন্ন সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হয়। তুলনামূলক ছোট রানওয়ে থেকে পরিচালনার সক্ষমতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির কারণে বিমানটি বিভিন্ন দেশের বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে। থাইল্যান্ডের রয়্যাল এয়ারফোর্সও দীর্ঘদিন ধরে গ্রিপেন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। দেশটির বিমানবাহিনীর উইং ৭ ঘাঁটি এসব যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও প্রশিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ২০২৬ সালে থাইল্যান্ডে গ্রিপেন যুদ্ধবিমান ব্যবহারের ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনও করা হয়েছে। রানি সুথিদার বিমান চালনার অভিজ্ঞতা অবশ্য রাজপরিবারে যোগ দেওয়ার আগেই শুরু হয়েছিল। তিনি একসময় থাই এয়ারওয়েজে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং রাজকীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত দায়িত্বেও যুক্ত হন। ২০১৯ সালে রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের সঙ্গে বিয়ের পর তিনি থাইল্যান্ডের রানি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন নিজেও একজন অভিজ্ঞ পাইলট। বিমান চালনার প্রতি আগ্রহের কারণে রাজা ও রানিকে বিভিন্ন সময়ে একসঙ্গে রাজকীয় উড়োজাহাজ পরিচালনা করতে দেখা গেছে। ২০২৫ সালে ভুটানের পারো বিমানবন্দরে রাজকীয় বিমান অবতরণের সময়ও তাঁরা একসঙ্গে ককপিটে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। থাইল্যান্ডের রানি সুথিদার এই উড্ডয়নকে রাজপরিবারের পাশাপাশি দেশটির সামরিক বিমান চলাচলের ইতিহাসেও উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে একজন ক্ষমতাসীন রানি হিসেবে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে এক আসনবিশিষ্ট সুপারসনিক যুদ্ধবিমান একাই পরিচালনার ঘটনা বিরল। দীর্ঘ ১৬ বছরের বিমান চালনার অভিজ্ঞতার সঙ্গে এবার যুক্ত হলো যুদ্ধবিমান পরিচালনার নতুন যোগ্যতা। প্রশিক্ষণের প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে জেএএস ৩৯সি গ্রিপেনের ককপিটে একাই বসে আকাশে উড্ডয়ন এবং নিরাপদে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে থাইল্যান্ডের প্রথম নারী গ্রিপেন পাইলট হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন রানি সুথিদা।
যুক্তরাষ্ট্রে ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে প্রথম পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি গবেষক নাদিয়া তাসনিম আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শুরু করা এই গবেষক ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি (ভিসিইউ) থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে এ বিষয়ে চালু হওয়া প্রথম পিএইচডি প্রোগ্রামের প্রথম গ্র্যাজুয়েট হিসেবে স্বীকৃতি পান তিনি। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় ছিল ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত জটিল আণবিক প্রক্রিয়া, যা ভবিষ্যতে রোগ শনাক্তকরণ ও নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবনে সহায়ক হতে পারে। ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে নাদিয়া তাসনিমের এই অর্জনের তথ্য তুলে ধরা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম পিএইচডি ডিগ্রিধারী হওয়ার মধ্য দিয়ে নাদিয়া শুধু নিজের শিক্ষাজীবনেই নতুন অধ্যায় যোগ করেননি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একটি একাডেমিক প্রোগ্রামের ইতিহাসেও জায়গা করে নিয়েছেন। নাদিয়ার উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু বাংলাদেশে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে পড়াশোনার পর তিনি ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শুরুতে ফার্মাসিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা থাকলেও ধীরে ধীরে গবেষণার প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে নতুন ওষুধ উদ্ভাবন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের জটিল সমস্যা সমাধানে গবেষণার ভূমিকা তাঁকে আকৃষ্ট করে। সেই আগ্রহ থেকেই উচ্চতর গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যুক্তরাষ্ট্রে এসে নাদিয়া ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ফার্মাসিউটিক্যাল ন্যানোটেকনোলজি বিষয়ে আরেকটি মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হন। সেখানেও তিনি প্রোগ্রামটির প্রথম দিকের শিক্ষার্থীদের একজন ছিলেন। এই পড়াশোনার মাধ্যমে ওষুধ তৈরিতে ন্যানোটেকনোলজির ব্যবহার, নতুন ধরনের ড্রাগ ডেলিভারি পদ্ধতি এবং আধুনিক গবেষণার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করেন। এরপর ২০২০ সালে ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ফার্মেসিতে ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস বিষয়ে পিএইচডি শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নাদিয়া। ঠিক সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চালু হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পিএইচডি প্রোগ্রাম। নতুন এই প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সান্দ্রো দা রোচার সঙ্গে আলোচনার পর প্রোগ্রামটির প্রথম ব্যাচে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভিসিইউর এই পিএইচডি প্রোগ্রামটি স্কুল অব ফার্মেসি এবং কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য ওষুধ উৎপাদন, নতুন ওষুধের উপাদান তৈরি, ড্রাগ ডেলিভারি, ন্যানোম্যাটেরিয়ালস এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণায় বিশেষজ্ঞ তৈরি করা। প্রচলিত ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সের সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন শাখাকে যুক্ত করাই প্রোগ্রামটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। গবেষণাকালে নাদিয়া মূলত ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডির সঙ্গে সম্পর্কিত আণবিক পরিবর্তন নিয়ে কাজ করেন। সিওপিডি ফুসফুসের একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যার কারণে শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয় এবং ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। রোগটির সঙ্গে ফুসফুসে প্রদাহ এবং টিস্যুর ক্ষতির সম্পর্ক রয়েছে। নাদিয়া তাঁর গবেষণায় মাস স্পেকট্রোমেট্রি নামের একটি উন্নত বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে আণবিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রোটিনের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং রোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনগুলো বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়। বিশেষভাবে তিনি নিউট্রোফিল ইলাস্টেজ নামের একটি এনজাইমের কার্যক্রম নিয়ে কাজ করেন। এই এনজাইম শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফুসফুসের প্রদাহ ও টিস্যুর ক্ষতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় তিনি ম্যাক্রোফেজ নামের রোগপ্রতিরোধী কোষের ওপর নিউট্রোফিল ইলাস্টেজের প্রভাব বোঝার চেষ্টা করেন। ম্যাক্রোফেজ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা ক্ষতিকর উপাদান অপসারণ এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। নাদিয়ার গবেষণায় এই কোষগুলোর কার্যক্রমে পরিবর্তন এবং ফুসফুসের রোগের সঙ্গে তার সম্ভাব্য সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের গবেষণা ভবিষ্যতে সিওপিডির সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন বায়োমার্কার শনাক্ত এবং চিকিৎসাপদ্ধতি উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে। তবে এটি মূলত রোগের আণবিক প্রক্রিয়া বোঝার গবেষণা। এর মাধ্যমে নতুন কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি ইতোমধ্যে উদ্ভাবিত হয়েছে বা রোগটির নিরাময় সম্ভব হয়েছে, এমন দাবি বিশ্ববিদ্যালয় করেনি। পিএইচডি গবেষণার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন নাদিয়া। তিনি ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নতুন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ, গবেষণায় সহযোগিতা এবং একাডেমিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এই সংগঠনের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা ও একাডেমিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নাদিয়া প্রোগ্রামটির প্রথম এক্সিলেন্স ইন ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। তাঁর পিএইচডি গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ভিসিইউর স্কুল অব ফার্মেসির অধ্যাপক অ্যাডাম হকরিজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি নাদিয়ার গবেষণার প্রতি আগ্রহ, অধ্যবসায়, স্বাধীনভাবে কাজ করার দক্ষতা এবং নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মানসিকতার প্রশংসা করেন। নাদিয়া নিজের পিএইচডি সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়কে জানান, গবেষণাপত্রের চূড়ান্ত প্রতিরক্ষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রথমবার তাঁকে ডক্টর আহমেদ বলে সম্বোধন করার মুহূর্তটি ছিল বিশেষভাবে স্মরণীয়। দীর্ঘ গবেষণার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে এই অর্জনে পৌঁছানো তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। পিএইচডি শেষ করার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএতে গবেষণার সুযোগ পান নাদিয়া। তিনি ওক রিজ ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড এডুকেশন বা ওরাইসের ফেলো হিসেবে এফডিএর গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত হন। ভিসিইউর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তিনি চিকিৎসায় ব্যবহৃত এসআইআরএনএ অলিগোনিউক্লিওটাইডভিত্তিক ওষুধের উপাদানের বিশুদ্ধতা ও কাঠামোগত পরিবর্তন বিশ্লেষণের পদ্ধতি উন্নয়নে কাজ করেন। এই গবেষণায়ও তিনি মাস স্পেকট্রোমেট্রি প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। ওষুধের উপাদানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বা অমিশ্রণ শনাক্ত করা ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে নতুন ধরনের ওষুধের গুণগত মান ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের জন্য এসব বিশ্লেষণ প্রয়োজন হয়। ভিসিইউর অ্যালামনাই তালিকাতেও নাদিয়া তাসনিম আহমেদকে ২০২৪ সালের ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পিএইচডি গ্র্যাজুয়েট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে এফডিএতে ওরাইস ফেলো হিসেবে তাঁর প্রথম কর্মজীবনের তথ্যও রয়েছে। ভবিষ্যতে ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে অ্যানালিটিক্যাল সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রিতে উচ্চশিক্ষা, যুক্তরাষ্ট্রে ন্যানোটেকনোলজিতে দ্বিতীয় মাস্টার্স, এরপর দেশটির প্রথম ফার্মাসিউটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পিএইচডি প্রোগ্রামের প্রথম গ্র্যাজুয়েট হওয়ার মধ্য দিয়ে নাদিয়া তাসনিম আহমেদের শিক্ষাজীবনে যুক্ত হয়েছে একাধিক উল্লেখযোগ্য অর্জন। তাঁর এই সাফল্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশি গবেষকদের অংশগ্রহণের আরেকটি উদাহরণ হয়ে রয়েছে। সূত্র: পাবলিকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ক্রিস্টাল সিটির মেয়র হোসে অ্যাঞ্জেল সেরদার স্বামী আরমান্দো গারজা লিরাকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে স্থানীয় শেরিফ অফিসের সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানে তাঁকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের দাবি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ ঘটনায় মেয়রকেও জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজ নেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় টেক্সাসের জাভালা কাউন্টি শেরিফ অফিস এবং আইসিই যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। ক্রিস্টাল সিটিতে একজন ব্যক্তি বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ছাড়া বসবাস করছেন, এমন অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযানটি চালানো হয়। ক্রিস্টাল সিটি সান আন্তোনিও শহর থেকে প্রায় ১১৫ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। জাভালা কাউন্টি শেরিফ অফিসের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিটের দিকে শেরিফ অফিসের একজন ডেপুটি ক্রিস্টাল সিটির একটি গাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁদের একজন ছিলেন আরমান্দো গারজা লিরা। অন্যজন ছিলেন শহরের মেয়র হোসে অ্যাঞ্জেল সেরদা। পরিচয় শনাক্তের পর ডেপুটিরা ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শেরিফ অফিসের ভাষ্য অনুযায়ী, আইসিই তখন জানায়, আরমান্দো গারজা লিরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ছাড়া অবস্থান করছেন। এরপর তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। গ্রেপ্তারের পর লিরাকে জাভালা কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ইমিগ্রেশন কার্যক্রমের জন্য তাঁকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে একই গাড়িতে থাকা মেয়র হোসে অ্যাঞ্জেল সেরদাকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়। নিউজ নেশনের প্রতিবেদক আলি ব্র্যাডলি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছেন, লিরা তাঁর ভিসার নির্ধারিত মেয়াদ অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। তবে তিনি কোন দেশের নাগরিক, কী ধরনের ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং ঠিক কত দিন আগে তাঁর অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তা প্রকাশিত তথ্যে স্পষ্ট করা হয়নি। একইভাবে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ডিপোর্টেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে কি না, আগে কোনো ইমিগ্রেশন কোর্টের আদেশ ছিল কি না কিংবা তিনি বর্তমানে অন্য কোনো বৈধ স্ট্যাটাসের আবেদন করেছেন কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। জাভালা কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, টেক্সাসের আইন অনুযায়ী স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হয়। টেক্সাস গভর্নমেন্ট কোডের ৭৫২.০৫৩ ধারা অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসন এমন কোনো নীতি গ্রহণ করতে পারে না, যা নির্দিষ্ট ধরনের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে সহযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করে। শেরিফ অফিসের বক্তব্য অনুযায়ী, এই আইনগত দায়িত্বের অংশ হিসেবেই আইসিইর সঙ্গে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও স্টেট ও ফেডারেল আইনের আওতায় এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগের সঙ্গে কোনো ব্যক্তির ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি এক নয়। যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা সাধারণত ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় বিবেচিত হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি, পূর্ববর্তী ইমিগ্রেশন রেকর্ড এবং প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে আটক, শুনানি কিংবা ডিপোর্টেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসার গায়ে লেখা মেয়াদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের অনুমোদিত সময় সব সময় এক নয়। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আই-৯৪ রেকর্ড বা অনুমোদিত স্ট্যাটাসের শর্ত অনুযায়ী অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারিত হয়। ফলে শুধু ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে বলেই কেউ অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, এমন সিদ্ধান্ত সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। আরমান্দো গারজা লিরার বিষয়ে আইসিইর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাঁকে বৈধ স্ট্যাটাসবিহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তাঁর পূর্ণাঙ্গ ইমিগ্রেশন রেকর্ড কিংবা আদালতের নথি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কর্তৃপক্ষের অভিযোগের বাইরেও তাঁর বর্তমান আইনি অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। এদিকে ক্রিস্টাল সিটির মেয়র হোসে অ্যাঞ্জেল সেরদা ঘটনার সময় তাঁর স্বামীর সঙ্গে একই গাড়িতে ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে শেরিফ অফিস। তবে মেয়রের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি। ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতির মধ্যে এই গ্রেপ্তারের খবর সামনে এসেছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটক করার কার্যক্রম জোরদার করেছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফ অফিসের সঙ্গে আইসিইর সহযোগিতার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় রয়েছে। টেক্সাসে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার আইনি কাঠামো আগে থেকেই রয়েছে। জাভালা কাউন্টির শেরিফ অফিস জানিয়েছে, লিরাকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেও সেই কাঠামো অনুসরণ করা হয়েছে। তবে লিরার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো সহিংস অপরাধ, প্রতারণা কিংবা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ প্রকাশ করা হয়নি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার কারণ মূলত তাঁর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসসংক্রান্ত অভিযোগ। মেয়রের স্বামী হওয়া সত্ত্বেও আরমান্দো গারজা লিরার ক্ষেত্রে সাধারণ ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এখন তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে, তিনি ইমিগ্রেশন কোর্টে শুনানির সুযোগ পাবেন কি না এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার কোনো আইনগত সুযোগ রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট ফেডারেল প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরে ফেরিতে যাতায়াতকারীদের জন্য নতুন ভাড়ার নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। আগামী ১৯ অক্টোবর থেকে নিউইয়র্ক সিটি ফেরির একক যাত্রার ভাড়া ৪ ডলার ৯০ সেন্ট থেকে বেড়ে ৫ ডলার হবে। একই সঙ্গে ১০ যাত্রার টিকিটের প্যাকেজের দাম ২৯ ডলার থেকে বেড়ে ৩০ ডলার হবে। ৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে নগরীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন করপোরেশন। নিউইয়র্কের ফেরি ব্যবস্থা ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকার যাত্রীদের নদীপথে যাতায়াতের সুযোগ দেয়। অনেক বাসিন্দা কর্মস্থলে যাওয়া, পর্যটন এবং দৈনন্দিন চলাচলের জন্য এ সেবা ব্যবহার করেন। ফলে ভাড়া বৃদ্ধির প্রভাব নিয়মিত যাত্রীদের বাজেটে পড়তে পারে। নতুন নিয়মে একবারের যাত্রায় ১০ সেন্টের পরিবর্তে ৫০ সেন্ট বৃদ্ধি হচ্ছে। তবে ১০ যাত্রার প্যাকেজ কিনলে প্রতিবারের গড় খরচ ৩ ডলার থাকবে। অর্থাৎ নিয়মিত ফেরি ব্যবহারকারীদের জন্য একাধিক যাত্রার টিকিট তুলনামূলক সাশ্রয়ী হতে পারে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ভাড়া বৃদ্ধির মাধ্যমে ফেরি ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয় সামাল দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ছাড়ের সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়তা করা হবে। বয়স্ক নাগরিক, প্রতিবন্ধী যাত্রী এবং নগরীর নির্দিষ্ট স্বল্প আয়ের যাতায়াত-সহায়তা কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তিদের জন্যও ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব যাত্রীর একক ভাড়া ১ ডলার ৪৫ সেন্ট থেকে বেড়ে ১ ডলার ৫০ সেন্ট হবে। তবে দুই দিনের ছাড়যুক্ত পাসের দাম ১৫ ডলারই থাকবে এবং এটি স্থায়ী বিকল্প হিসেবে চালু থাকবে। নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য ভাড়ার পরিবর্তনটি জানা জরুরি, বিশেষ করে যাঁরা প্রতিদিন ফেরিতে যাতায়াত করেন কিংবা সন্তানদের স্কুলে নেওয়ার জন্য এই পরিবহন ব্যবহার করেন। যাত্রার আগে নতুন ভাড়া ও ছাড়ের শর্ত দেখে নিলে অপ্রত্যাশিত খরচ এড়ানো সম্ভব।
নিউইয়র্কের কুইন্সে গাড়ি পার্ক করতে গিয়ে সামান্য ভুলেই গুনতে হতে পারে ৬৫ থেকে ১১৫ ডলার বা তারও বেশি জরিমানা। বিশেষ করে জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, এলমহার্স্ট, উডসাইড ও ফ্লাশিংয়ের মতো ব্যস্ত এলাকায় পার্কিং সাইন, মিটার এবং অল্টারনেট সাইড পার্কিংয়ের নিয়ম না বুঝে গাড়ি রাখলে টিকিট পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম জানা থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রয়োজনীয় জরিমানা এবং গাড়ি টো করার ঝামেলা এড়ানো সম্ভব। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন (এনওয়াইসি ডিওটি), ডিপার্টমেন্ট অব স্যানিটেশন এবং ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের প্রকাশিত নিয়ম অনুযায়ী, গাড়ি পার্ক করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্লকের সাইনবোর্ড ভালোভাবে পড়াই সবচেয়ে জরুরি। একই রাস্তায় এক পাশে পার্কিংয়ের অনুমতি থাকলেও অন্য পাশে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে। আবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই জায়গার পার্কিং নিয়মও বদলে যেতে পারে। কুইন্সে পার্কিং টিকিটের অন্যতম পরিচিত কারণ অল্টারনেট সাইড পার্কিং বা এএসপি। মূলত স্ট্রিট ক্লিনিংয়ের সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে রাস্তার এক পাশে গাড়ি রাখা নিষিদ্ধ থাকে। অনেক আবাসিক এলাকায় সপ্তাহে একাধিক দিন এই নিয়ম কার্যকর হলেও সব রাস্তার সময়সূচি এক নয়। তাই নিজের এলাকার নিয়ম মনে রাখার পাশাপাশি সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা দিন ও সময় অনুসরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্ট্রিট ক্লিনিংয়ের গাড়ি রাস্তা পরিষ্কার করে চলে গেলেও সাইনে উল্লেখ করা নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত পার্কিং বৈধ হয়ে যায় না। অর্থাৎ রাস্তা পরিষ্কার হয়ে গেছে ভেবে আগে গাড়ি পার্ক করলে টিকিট পাওয়া যেতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, অল্টারনেট সাইড পার্কিং লঙ্ঘনের জরিমানা ৬৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ ছুটির দিন, ধর্মীয় উৎসব, তুষারপাত কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে কখনো কখনো অল্টারনেট সাইড পার্কিং সাময়িক স্থগিত করা হয়। তবে এএসপি সাসপেন্ড হওয়ার অর্থ সব ধরনের পার্কিং ফ্রি হয়ে যাওয়া নয়। ওই দিনেও সাধারণত মিটার পেমেন্ট, ফায়ার হাইড্র্যান্ট, বাস স্টপ, নো পার্কিং এবং নো স্ট্যান্ডিংয়ের নিয়ম কার্যকর থাকে। অবশ্য নির্দিষ্ট বড় সরকারি ছুটির দিনে মিটার পেমেন্টের নিয়মেও ছাড় থাকতে পারে। তাই ছুটির দিনেও গাড়ি রাখার আগে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন। কুইন্সে আরেকটি ব্যয়বহুল ভুল হলো ফায়ার হাইড্র্যান্টের খুব কাছে গাড়ি রাখা। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে ফায়ার হাইড্র্যান্টের উভয় পাশে ১৫ ফুট জায়গা ফাঁকা রাখতে হয়। এই নিয়ম ভাঙলে ১১৫ ডলার জরিমানা হতে পারে। তবে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত একটি সীমিত ব্যতিক্রম রয়েছে। চালক নিজে ড্রাইভিং সিটে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক গাড়ি সরাতে প্রস্তুত থাকলে যাত্রীবাহী গাড়ি হাইড্র্যান্টের পাশে সাময়িক দাঁড়াতে পারে। গাড়ি রেখে চলে যাওয়ার অনুমতি এই ব্যতিক্রমে নেই। মিটার পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে ড্রাইভারদের জন্য সুবিধাজনক একটি ব্যবস্থা হলো পার্কএনওয়াইসি অ্যাপ। নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরোতেই এই অ্যাপের মাধ্যমে রাস্তার মিটার পার্কিংয়ের পেমেন্ট করা যায়। এতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পার্কিং সেশন চালু করা, কত সময় বাকি আছে দেখা এবং সময় শেষ হওয়ার আগে নোটিফিকেশন পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। ফলে প্রতিবার মিটারের কাছে গিয়ে পেমেন্ট করতে হয় না। তবে অ্যাপ ব্যবহার করলেই ইচ্ছামতো সময় বাড়ানো যাবে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট পার্কিং জোনে সাইনবোর্ডে যতক্ষণ গাড়ি রাখার অনুমতি রয়েছে, সর্বোচ্চ ততক্ষণই পেমেন্ট করা যাবে। শুরুতে কম সময়ের পেমেন্ট করলে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত সময় বাড়ানোর সুযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু সর্বোচ্চ সময় শেষ হলে অ্যাপ দিয়ে একই জায়গায় পার্কিং চালিয়ে যাওয়া বৈধ নয়। এমনকি পেমেন্ট করা থাকলেও অন্য কোনো পার্কিং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে টিকিট হতে পারে। বিশেষ করে জ্যাকসন হাইটসের রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ, ৭৪ স্ট্রিট, জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউ এবং কুইন্সের অন্যান্য বাণিজ্যিক এলাকায় গাড়ি রাখার সময় মিটার ও পার্কিং সাইন ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি। আগে কোনো জায়গায় ফ্রি পার্কিং পাওয়া গেলেও এখনো সেখানে একই নিয়ম রয়েছে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। রাস্তার মিটার ব্যবস্থা, পার্কিংয়ের সময়সীমা কিংবা নির্দিষ্ট গাড়ির জন্য সংরক্ষিত জায়গার নিয়ম পরিবর্তন হতে পারে। অনেক ড্রাইভার নো পার্কিং, নো স্ট্যান্ডিং ও নো স্টপিং সাইনের পার্থক্য বুঝতে পারেন না। অথচ তিনটির নিয়ম আলাদা। নো পার্কিং এলাকায় সাধারণত যাত্রী ওঠানো বা নামানো এবং মালামাল লোড বা আনলোড করার জন্য সাময়িক দাঁড়ানো যায়। নো স্ট্যান্ডিং এলাকায় শুধু যাত্রী ওঠানো বা নামানোর জন্য প্রয়োজনীয় সময় দাঁড়ানোর অনুমতি রয়েছে। সেখানে মালামাল তোলা বা নামানোর জন্য দাঁড়ানো যায় না। আর নো স্টপিং এলাকায় সাধারণভাবে যাত্রী ওঠানো, নামানো কিংবা মালামাল লোড করার জন্যও গাড়ি থামানো নিষিদ্ধ। এ ক্ষেত্রে গাড়ির ভেতরে ড্রাইভার বসে আছেন কি না, সেটি সব সময় জরিমানা এড়ানোর ভিত্তি নয়। কোনো জায়গায় নো স্ট্যান্ডিং কার্যকর থাকলে সেখানে যাত্রীর অপেক্ষায় গাড়িতে বসে থাকলেও টিকিট হতে পারে। একইভাবে রাস্তার পাশে হ্যাজার্ড লাইট জ্বালিয়ে রাখলেই অবৈধ পার্কিং বৈধ হয়ে যায় না। নিউইয়র্ক সিটিতে সাধারণ নো স্ট্যান্ডিং বিধি লঙ্ঘনের জরিমানা ১১৫ ডলার। বাস স্টপ, বাস লেন ও বাইক লেনের নিয়মও কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। নির্ধারিত বাস লেনে কিংবা বাইক লেনের ভেতরে গাড়ি পার্ক করলে ১১৫ ডলার জরিমানা হতে পারে। ড্রাইভওয়ের সামনে গাড়ি রেখে অন্যের প্রবেশপথ আটকে দিলেও জরিমানা হতে পারে ৯৫ ডলার। রাস্তার মাঝখানে অন্য গাড়ির পাশে ডাবল পার্কিং করাও সাধারণভাবে নিষিদ্ধ। কয়েক মিনিটের জন্য দোকানে প্রবেশ করা কিংবা কাউকে নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করা নিরাপদ নয়। তবে ড্রাইভারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো পাঁচ মিনিটের গ্রেস পিরিয়ড। নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং মিটার, পার্কএনওয়াইসি সেশন এবং অল্টারনেট সাইড পার্কিংয়ের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর পাঁচ মিনিটের ছাড় রয়েছে। অর্থাৎ এসব নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সময় শেষ হওয়ার পর প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যে শুধু ওই সময়সীমা অতিক্রমের কারণে টিকিট দেওয়া যায় না। তবে এই ছাড় ফায়ার হাইড্র্যান্ট, নো স্ট্যান্ডিং কিংবা অন্যান্য নিষিদ্ধ স্থানে পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কুইন্সের ব্যস্ত এলাকায় গাড়ি নিয়ে যাওয়ার আগে পার্কিংয়ের বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনা করা যেতে পারে। স্পটহিরো ও পার্কহুইজের মতো অ্যাপ ব্যবহার করে আশপাশের পার্কিং গ্যারেজের অবস্থান, সম্ভাব্য খরচ এবং আগাম বুকিংয়ের সুবিধা দেখা যায়। তবে গ্যারেজের রেট, অতিরিক্ত চার্জ এবং গাড়ি প্রবেশ ও বের করার সময়সূচি আগে যাচাই করা উচিত। অনেক সময় কাছাকাছি অবৈধ জায়গায় গাড়ি রাখার চেয়ে নির্ধারিত গ্যারেজে পার্ক করা কম ঝুঁকিপূর্ণ। পার্কিং টিকিট পেয়েও ড্রাইভারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। কোনো টিকিট ভুলভাবে দেওয়া হয়েছে বলে মনে হলে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের মাধ্যমে সেটি চ্যালেঞ্জ করা যায়। টিকিট ইস্যুর ৩০ দিনের মধ্যে হিয়ারিংয়ের আবেদন করলে বিলম্বজনিত অতিরিক্ত জরিমানা এড়ানো সম্ভব। অনলাইনে, অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপে, ডাকযোগে অথবা সরাসরি নির্ধারিত অফিসে গিয়ে আপত্তি জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আবেদন করলেই টিকিট বাতিল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এ কারণে ভুল টিকিটের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে চাইলে ঘটনাস্থলের পার্কিং সাইন, রাস্তার অবস্থান, মিটার পেমেন্টের রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা ভালো। বিশেষ করে সাইন অস্পষ্ট, ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা নির্দিষ্ট পার্কিং নিয়ম নিয়ে বিরোধ থাকলে এসব তথ্য কাজে আসতে পারে। একই সঙ্গে টিকিটের তারিখ, সময়, ভায়োলেশন কোড ও গাড়ির লাইসেন্স প্লেট নম্বর মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। নিউইয়র্ক সিটির নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পার্কিং টিকিটের জরিমানা পরিশোধ বা আপত্তি না জানালে অতিরিক্ত পেনাল্টি যোগ হতে পারে। বকেয়া জরিমানা দীর্ঘদিন জমে থাকলে গাড়িতে বুট লাগানো কিংবা টো করার মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। তাই টিকিট পাওয়ার পর সেটি উপেক্ষা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই ভালো। জ্যাকসন হাইটস থেকে জ্যামাইকা পর্যন্ত কুইন্সের যেকোনো এলাকায় গাড়ি পার্ক করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর অভ্যাস হলো রাস্তার সাইন ভালোভাবে পড়া, নির্ধারিত মিটার পেমেন্ট করা এবং পার্কিংয়ের সময়সীমা মেনে চলা। অল্টারনেট সাইড পার্কিং সাসপেনশনের সর্বশেষ তথ্য এনওয়াইসি ৩১১ অথবা সিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে যাচাই করা যায়। পার্কিং নিয়ম এলাকা ও সময়ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আগের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে প্রতিবার পার্কিংয়ের আগে বর্তমান নিয়ম নিশ্চিত করাই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় মোবাইল অর্থ লেনদেনের সেবা ক্যাশ অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর প্রকাশিত হয়েছে। নিরাপত্তা লঙ্ঘন ও অননুমোদিত লেনদেনসংক্রান্ত মামলায় ১৫ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতার আওতায় অনুমোদিত দাবিদারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা রয়েছে। নিউইয়র্কের ৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হওয়ার কথা। মামলাটিতে অভিযোগ করা হয়েছিল, ক্যাশ অ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান ব্লক ইনকরপোরেটেড গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে সাবেক এক কর্মীর মাধ্যমে গ্রাহকের তথ্য অননুমোদিতভাবে ব্যবহারের ঘটনা এবং ২০২৩ সালে পুনর্ব্যবহৃত ফোন নম্বরের মাধ্যমে কিছু অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের বিষয়ও ছিল। তবে ক্যাশ অ্যাপ ও ব্লক কোনো অন্যায় করার কথা স্বীকার করেনি। এই সমঝোতার আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অননুমোদিত অর্থ উত্তোলন, প্রতারণামূলক লেনদেন কিংবা সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কিছু বর্তমান ও সাবেক গ্রাহক দাবি জমা দেওয়ার যোগ্য ছিলেন। অনুমোদিত দাবিদাররা নথিপত্র ও সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত নির্দিষ্ট ক্ষতির অর্থ ফেরত পেতে পারেন। তবে প্রত্যেকে এই পরিমাণ অর্থ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। দাবি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ১৮ নভেম্বর ২০২৪। তাই যাঁরা ওই সময়ের মধ্যে বৈধ দাবি জমা দেননি, তাঁরা এখন নতুন করে এই সমঝোতার অর্থ পাওয়ার আবেদন করতে পারবেন না। যাঁরা আগে আবেদন করেছেন, তাঁদের দাবি অনুমোদিত হয়েছে কি না এবং অর্থ পাঠানোর অবস্থা কী, তা যাচাই করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে হামাসের জন্য অর্থ সংগ্রহে সহায়তা এবং সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেইডে দুই লাখ ২৪ হাজার ডলারের বেশি জালিয়াতির অভিযোগে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে হামাসের অর্থায়নে জড়িত একটি নেটওয়ার্কে এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর লুইজিয়ানার সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ এলাকায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিলের কার্যালয়। লুইজিয়ানা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ৩৫ বছর বয়সী আবদেল আদহামি, তাঁর স্ত্রী ২৯ বছর বয়সী ইমান এইচ ডি স্রুর, ৩৩ বছর বয়সী ওমর আদহামি, তাঁর স্ত্রী ২৮ বছর বয়সী আমানি আবু জেনাহ এবং দুই ভাইয়ের ছোট ভাই ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ আই আদহামি। তাঁরা লুইজিয়ানার কভিংটন এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারের পর পাঁচজনকেই সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ জেলে নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এফবিআইয়ের নেতৃত্বে ফেডারেল ও স্টেট পর্যায়ের যৌথ তদন্তে দুই ভাই আবদেল ও ওমরের বিরুদ্ধে হামাসের জন্য অর্থ সংগ্রহের একটি নেটওয়ার্কে অংশ নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের দাবি, নেটওয়ার্কটি হামাসের সহায়তায় ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ ও স্থানান্তর করেছে। এর মধ্যে ওই দুই ভাই এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হামাসকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ফলে সংগঠনটির জন্য জেনেশুনে অর্থ বা অন্যান্য বস্তুগত সহায়তা প্রদান যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনে গুরুতর অপরাধ। দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে এই অর্থায়নসংক্রান্ত অভিযোগ ফেডারেল পর্যায়ে আনা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অর্থায়নের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিবারের মেডিকেইড সুবিধা গ্রহণের বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে শুরু করে কর্তৃপক্ষ। লুইজিয়ানা ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এবং লুইজিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ যৌথভাবে তাঁদের আয় ও সরকারি স্বাস্থ্যসুবিধা গ্রহণের তথ্য পর্যালোচনা করে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের প্রকৃত আয় কম দেখিয়ে মেডিকেইডের সুবিধা নিয়েছেন। এভাবে সরকারি কর্মসূচি থেকে মোট দুই লাখ ২৪ হাজার ৬৪০ ডলারের সুবিধা অনিয়মের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে বলে হিসাব করেছে কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত আয় সঠিকভাবে জানানো হলে তাঁরা এসব সুবিধার সবটুকু পাওয়ার যোগ্য হতেন না। মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি হেলথ ইন্স্যুরেন্স কর্মসূচি, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা ব্যক্তি ও পরিবারসহ যোগ্য ব্যক্তিরা চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পান। এই কর্মসূচিতে আবেদন ও যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবারের আয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে জানানো বাধ্যতামূলক। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে সুবিধা নেওয়া হলে তা সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির আওতায় পড়তে পারে। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযুক্ত আবদেল আদহামি ও তাঁর স্ত্রী ইমান স্রুরের বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির পাঁচটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মেডিকেইড কর্মসূচির আনুমানিক এক লাখ ১৩ হাজার ৩৪৪ ডলারের ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে ওমর আদহামি ও তাঁর স্ত্রী আমানি আবু জেনাহর বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির তিনটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের হিসাবে তাঁদের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মসূচির ক্ষতির পরিমাণ ৮১ হাজার ৯৯ ডলার। পরিবারের আরেক সদস্য মোহাম্মদ আই আদহামির বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির তিনটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের হিসাবে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের ফলে মেডিকেইড কর্মসূচির ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার ১৯৭ ডলার। অন্যদিকে ফেডারেল বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামাসে অর্থায়নের অভিযোগে আবদেল আদহামির বিরুদ্ধে প্রায় ৯৪ হাজার ডলার এবং ওমর আদহামির বিরুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার ডলার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব অর্থ পাঠানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ব্যাংক ট্রান্সফার এবং মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে অর্থ পাঠানোর বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অর্থ সংগ্রহের নেটওয়ার্কটির কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হিসেবে সালিম আলজাক নামের একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজার মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা সংগ্রহের নামে অর্থ তুলতেন। তবে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ হামাসের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ওই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ফ্রান্সেও তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে লুইজিয়ানার অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিল সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির অভিযোগকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, লুইজিয়ানার করদাতাদের অর্থ থেকে পরিচালিত কর্মসূচিতে জালিয়াতির ঘটনা ঘটলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, তাঁর কার্যালয় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন উদ্যোগে স্টেটের করদাতাদের জন্য আট কোটি ডলারের বেশি অর্থ উদ্ধার করেছে। তবে এ মামলায় দুটি পৃথক অভিযোগের বিষয় স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ। হামাসের জন্য অর্থায়নের অভিযোগ মূলত দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ফেডারেল পর্যায়ে তদন্ত ও বিচারের বিষয়। অন্যদিকে মেডিকেইডে আয়সংক্রান্ত ভুল তথ্য দিয়ে সরকারি সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে স্টেট পর্যায়ের মামলা। মেডিকেইডের অর্থ সরাসরি হামাসের কাছে পাঠানো হয়েছে, এমন কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা আর্থিক যোগসূত্র কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি। পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় লুইজিয়ানা ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, এফবিআই, সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ শেরিফ অফিস, হ্যামন্ড পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, ম্যান্ডেভিল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং লুইজিয়ানা স্টেট পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করেছেন। মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় স্টেটের পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন সেন্ট ট্যামানি প্যারিশের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কলিন সিমস। ফেডারেল পর্যায়ে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা দেওয়া, এ ধরনের সহায়তার ষড়যন্ত্র, ওয়্যার ফ্রড এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকলেই অভিযুক্তদের সেই সাজা হবে, এমন নয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট আইনের প্রয়োগ এবং বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর শাস্তি নির্ভর করবে। লুইজিয়ানার এই ঘটনায় সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে জালিয়াতির অভিযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নেটওয়ার্কে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থ পাঠানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে অভিযুক্ত পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। সূত্র: বাফলো প্রতিদিন
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরের ব্রঙ্কস এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের ১৫ তলার বারান্দা থেকে এক তরুণী মা ও তাঁর আট মাসের শিশুকন্যাকে নিচে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে ৩১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ভোরে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী নাথালি রামিরেজের মৃত্যু হয়েছে। শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুটি সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ব্রঙ্কসের অ্যালারটন এলাকার একটি আবাসিক ভবনে। মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে জরুরি ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে মা ও শিশুকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁদের দুজনকেই জ্যাকোবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তরুণী মাকে বাঁচাতে পারেননি। তদন্তকারীদের অভিযোগ, নাথালি তাঁর শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে বারান্দা থেকে নিচে পড়ে যান। পুলিশ ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে আসে যে, তাঁদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় অ্যাঞ্জেল কারাসকো নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিস ও নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি আঞ্চলিক পলাতক আসামি গ্রেপ্তার বাহিনীর সদস্যরা বুধবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত অভিযোগ এবং হামলাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁকে দোষী বলা যাবে না। ঘটনাটি নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় মানুষ নাথালি ও তাঁর শিশুকন্যার জন্য শোক প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তরুণী মায়ের স্মরণে মানুষ ফুল নিয়ে আসেন এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। ঘটনাটি আবারও পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সহিংসতা প্রতিরোধের গুরুত্ব সামনে এনেছে। সম্পর্কের মধ্যে হুমকি, শারীরিক আক্রমণ বা জোরপূর্বক প্রবেশের মতো ঘটনা ঘটলে তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তি বা তাঁর পরিচিত কেউ ঝুঁকিতে থাকলে নিরাপদ স্থানে যাওয়া এবং পুলিশের সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। পারিবারিক বিরোধকে শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা মনে করে এড়িয়ে না গিয়ে সহিংসতার আশঙ্কা থাকলে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাৎক্ষণিক বিপদে ৯১১ নম্বরে ফোন করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে গার্হস্থ্য সহিংসতার সহায়তার জন্য জাতীয় হটলাইন ৮০০-৭৯৯-৭২৩৩ নম্বরেও যোগাযোগ করা যায়।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে শনিবার (১০ অক্টোবর) বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দেওয়ায় রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের রাজধানীতে প্রবেশ ও জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন ট্রেন বাতিল, মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধের উদ্যোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে জনপরিবহন পুরোপুরি বন্ধ না করার নির্দেশনা দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বার্তা সংস্থা রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কয়েকটি ছাত্রসংগঠন শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তাঁদের প্রধান দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের দায় নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। আয়োজকদের দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ভোটাধিকার সুরক্ষার দাবিতেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ ঘিরে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) থেকেই দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দিল্লি পুলিশ মেট্রো কর্তৃপক্ষকে ৫৭টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকরের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত তালিকায় রয়েছে রাজীব চক, নিউ দিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, কাশ্মীরি গেট, মান্ডি হাউস, প্যাটেল চক, জনপথসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলো। তবে সব স্টেশনে বিধিনিষেধ কার্যকরের বিষয়ে মেট্রো কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে পরিস্থিতি। রেল যোগাযোগেও বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শনিবার সকাল ৪টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নিউ দিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনগামী বিভিন্ন ট্রেন বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে দিল্লিতে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার ট্রেনে রাজধানীতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হতে পারে। তবে সরকারের পরিবহন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত জানিয়ে দেয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন থাকলেও মেট্রো ও ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে, কিন্তু এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া উচিত নয়। ফলে ঘোষিত পরিবহন বিধিনিষেধের বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দিল্লির বিভিন্ন প্রবেশপথেও বসানো হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ চেকপোস্ট। উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে রাজধানীতে প্রবেশকারী যানবাহনে তল্লাশি চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ফরিদাবাদ, বদরপুর, নয়ডা সংযোগ সড়ক এবং দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের উদ্দেশ্য, বড় ধরনের জমায়েতের কারণে যানজট ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে নজরদারি চালানোর খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভে অংশ নিতে অন্য রাজ্য থেকে আসা ব্যক্তিদের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দিল্লির ১৫টি পুলিশ জেলায় অস্থায়ী আটককেন্দ্র প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আগের বিক্ষোভের মতো সংঘাত এড়াতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এদিকে দিল্লি পুলিশ শনিবারের কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নূপুর প্রসাদ জানিয়েছেন, বিক্ষোভের আবেদন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন করার কথা থাকলেও আয়োজকেরা ৭ অক্টোবর আবেদন করেন। পাশাপাশি জননিরাপত্তা, যান চলাচল এবং অতীতের কর্মসূচিতে নির্দেশনা না মানার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে অনুমতি না পাওয়ার পরও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর অভিযোগ, কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ঠেকাতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগঠনের কর্মী ও সমর্থকদের আটক করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিবাদের অধিকার সীমিত করতেই প্রশাসন এসব ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা সম্পর্কে সংগঠনের সব দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এই বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম, যা এসআইআর নামে পরিচিত। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, এতে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী ও বিরোধী সমর্থকদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তুলেছে তারা। অন্যদিকে ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকার সংশোধন একটি চলমান প্রক্রিয়া। ভুলভাবে কারও নাম বাদ পড়লে নির্ধারিত নিয়মে সংশোধন ও পুনরায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পক্ষ থেকে ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে কাউকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। বিরোধী জোটের নেতারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হস্তক্ষেপ কামনা করার উদ্যোগও নিয়েছেন। নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এলাকা, যন্তরমন্তর সংলগ্ন সড়ক এবং অতীতে সংঘর্ষের ঘটনাস্থলগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জরুরি সেবা ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই তাদের অগ্রাধিকার। শনিবারের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে রাজধানীতে বড় ধরনের জমায়েত নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পর এখন নজর থাকবে, নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রেখে সরকার কীভাবে ট্রেন ও মেট্রো চলাচল সচল রাখে এবং বিক্ষোভকারীদের কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি কমিউনিটি সুইমিং পুলে সাত বছরের এক শিশুকে ডুবে যেতে দেখেও দ্রুত উদ্ধার করতে এগিয়ে যাননি এক নারী চিকিৎসক—এমন অভিযোগ উঠেছে। বরং শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য নিজের পরিবর্তে একই বয়সী অন্য দুই শিশুকে পানিতে পাঠিয়েছিলেন তিনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে আরেকজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। এ ঘটনায় ৪৮ বছর বয়সী চিকিৎসক সুকান্থিনি সুব্বিয়াহকে গ্রে প্তা র করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে শিশুর মৃ ত্যুর ঘটনায় গুরুতর অবহেলাজনিত হ ত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত ১০ এপ্রিল ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর এভারবি কমিউনিটির একটি সুইমিং পুলে। নিহত শিশুটির নাম খুশিল বান্ডি। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে গত ৫ অক্টোবর চিকিৎসক সুব্বিয়াহকে গ্রে প্তা র করা হয়। সুব্বিয়াহ লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ও পেশায় চিকিৎসক। ঘটনার সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে অরল্যান্ডোতে এসেছিলেন। সেখানে তাঁর সাত বছর বয়সী ছেলের সঙ্গে প্রতিবেশী পরিবারের যমজ দুই শিশুর বন্ধুত্ব হয়। পরে ওই শিশুদের মায়ের অনুমতি নিয়ে নিজের ছেলেসহ তিন শিশুকে সুইমিং পুলে নিয়ে যান তিনি। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন খুশিলের যমজ বোন লাইফ জ্যাকেট পরেছিল, কিন্তু খুশিলের গায়ে সেটি ছিল না। সুব্বিয়াহ পরে তদন্তকারীদের জানান, তিনি ধারণা করেছিলেন শিশুটি সাঁতার জানে। তাই তাকে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই পানিতে নামতে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের হাতে থাকা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা ১৯ মিনিটে শিশুরা পুলে নামে। এর প্রায় এক মিনিট পরই খুশিল পানিতে বিপদে পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, পুলের মাঝামাঝি গিয়ে সে দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করে এবং হাত-পা ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে সে পানির নিচে তলিয়ে যায়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, শিশুটি বিপদে পড়ার পরও সুব্বিয়াহ দ্রুত তাকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেননি। বরং পুলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন এবং পরে একই বয়সী অন্য দুই শিশুকে খুশিলকে উদ্ধারের জন্য পাঠান। পুলিশের দাবি, শিশুটি পাঁচ মিনিটের বেশি সময় ধরে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ছিল। পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সাত মিনিটেরও বেশি সময় পর তাকে উদ্ধার করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাত বছর বয়সী শিশুদের পক্ষে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া আরেক শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব ছিল না। ওই দুই শিশু পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে চিৎকার করতে শুরু করে। পরে সুব্বিয়াহ পুলে থাকা অন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সাহায্য চান। ওই ব্যক্তি পানিতে নেমে খুশিলকে উদ্ধার করেন। শিশুটিকে পানি থেকে তোলার পর সুব্বিয়াহ তার সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করা হয়। পরে খুশিলকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসা দিয়েও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর পুলিশের কাছে প্রাথমিক বক্তব্যে সুব্বিয়াহ দাবি করেছিলেন, শিশুটি প্রায় ৪৫ সেকেন্ড পানির নিচে ছিল। তবে তদন্তকারীরা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজের সঙ্গে তাঁর বক্তব্যের সময়ের অসংগতি খুঁজে পান। ফুটেজ অনুযায়ী, শিশুটি অনেক বেশি সময় ধরে বিপদে ছিল এবং তাকে উদ্ধারের জন্য যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের। প্রথমদিকে শিশুটির মৃ ত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা মনে করেন, শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির গুরুতর অবহেলা এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তদন্তকারীদের মতে, জরুরি পরিস্থিতিতে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য সুব্বিয়াহর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে তিনি একজন চিকিৎসক হওয়ায় পানিতে ডুবে যাওয়ার বিপদ ও অক্সিজেনের অভাবে শিশুর প্রাণহানির ঝুঁকি সম্পর্কে তাঁর ধারণা থাকার কথা। কিন্তু সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগকে তাঁরা গুরুতর দায়িত্বহীনতা হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সুব্বিয়াহর বিরুদ্ধে শিশুর মৃ ত্যুর ঘটনায় গুরুতর অবহেলাজনিত হ ত্যার অভিযোগ আনা হয়। ৫ অক্টোবর তাঁকে অরেঞ্জ কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকের আইনজীবী রাজন যোশি অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনাটি একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নয়। আইনজীবী জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল স্বেচ্ছায় কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি লড়াই চালানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনাটি শিশুদের সুইমিং পুলে নিরাপত্তা ও প্রাপ্তবয়স্কদের তত্ত্বাবধানের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের মৃ ত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া। পাঁচ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রেও এটি মৃ ত্যুর উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর একটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পানিতে ডুবে যাওয়ার সময় শিশুরা সব সময় চিৎকার করে সাহায্য চাইতে পারে না। অনেক সময় অল্প সময়ের মধ্যেই তারা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ কারণে সুইমিং পুলে শিশুদের উপস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সার্বক্ষণিক নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসক সুব্বিয়াহর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে, শিশুটিকে উদ্ধারে তাঁর কথিত নিষ্ক্রিয়তা ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কি না।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পোষা বিড়ালদের ‘অশুভ আত্মা’ মনে করে বাড়ির উঠানে জীবন্ত পুঁতে রাখার অভিযোগে ৩৭ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রে প্তা র করেছে পুলিশ। আলবা শাভেজ নামের ওই নারী অন্তত চারটি বিড়ালের সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মার্টিন কাউন্টির হোব সাউন্ড এলাকায় তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচ থেকে দুটি বিড়ালকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। একই জায়গা থেকে আরও দুটি বিড়ালকে মৃ ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনার পর ওই নারীর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর পশু নি র্যা তনের অভিযোগ আনা হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়ে মার্টিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্য ও প্রাণী সুরক্ষা বিভাগের তদন্তকারীরা হোব সাউন্ডের দক্ষিণ-পূর্ব ফেডারেল হাইওয়ের ১১ হাজার নম্বর ব্লকে অবস্থিত ওই বাড়িতে যান। বাড়িটির মালিক শাভেজ বিড়ালগুলোকে মাটির নিচে পুঁতে রাখার কথা জানানোর পর তদন্তকারীরা উঠানের বিভিন্ন জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেন। উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় মাটির নিচ থেকে দুটি বিড়ালকে জীবিত বের করে আনতে সক্ষম হন তাঁরা। তবে অন্য দুটি বিড়ালকে আর বাঁচানো যায়নি। প্রাণীগুলো কতক্ষণ মাটির নিচে ছিল, কিংবা কীভাবে তাদের এমন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শাভেজ তাঁদের বলেছেন, তিনি অন্তত চারটি বিড়ালকে জীবন্ত পুঁতে রেখেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিড়ালগুলোকে তিনি ‘অশুভ আত্মা’ বলে মনে করতেন। তবে এমন ধারণার পেছনে কী কারণ ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর মানসিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ঘটনার পর শাভেজকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর পশু নি র্যা তনের অভিযোগ আনা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কতটি অভিযোগ আনা হয়েছে, আদালতে তাঁকে কখন হাজির করা হবে কিংবা মামলার পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে বাড়ির উঠানে আরও কোনো প্রাণী পুঁতে রাখা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকারীরা সম্পত্তির বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করছেন। সেখানে অন্য কোনো বিড়াল বা প্রাণী পাওয়া যায় কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। উদ্ধার হওয়া দুটি বিড়ালের বর্তমান শারীরিক অবস্থাও স্পষ্ট নয়। মাটির নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তারা কতটা অসুস্থ বা আহত হয়েছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি। তাদের চিকিৎসা ও পরিচর্যার বিষয়ে নতুন তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনাটি প্রাণীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে জীবিত প্রাণীকে মাটির নিচে পুঁতে রাখার অভিযোগের কারণে বিষয়টিকে গুরুতর হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখন ঘটনাস্থলের আলামত, বাড়ির মালিকের বক্তব্য এবং উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে আরও কোনো প্রাণী পুঁতে রাখা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। একইভাবে অভিযুক্ত নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও এখনো জানা যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর শেষ করে দেশে বীমা কোম্পানিতে চাকরি করতেন মোহাম্মদ খলিলুর রহমান। কিন্তু জীবনের লক্ষ্য ছিল আরও বড় কিছু করার। সেই স্বপ্ন নিয়ে ২০০৮ সালে ডাইভারসিটি ভিসায় পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। নিউইয়র্কে এসে শুরু করেন রেস্টুরেন্টে থালাবাসন ধোয়ার কাজ। দীর্ঘ সংগ্রামের পর সেই খলিলুর রহমানই এখন নিউইয়র্কের পরিচিত বাংলাদেশি শেফ ও রেস্টুরেন্ট উদ্যোক্তা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত খলিল বিরিয়ানি হাউজের ব্যবসা সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় এবার নতুন শাখা চালু হয়েছে ব্রুকলিনে। গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) ব্রুকলিনের পিটকিন এভিনিউতে খলিল বিরিয়ানি হাউজের নতুন শাখার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চলমান নিউইয়র্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে নতুন রেস্টুরেন্টটির যাত্রা শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন এবং বিভিন্ন ধরনের খাবারের স্বাদ গ্রহণ করেন। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরাও নতুন এই শাখা চালু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। নিউইয়র্ক সিটির রেস্টুরেন্ট নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ২৭৬৮ পিটকিন এভিনিউ, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক ১১২০৮। তবে খলিলুর রহমানের আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পথ সহজ ছিল না। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা শেষ করে ভালো চাকরি করলেও যুক্তরাষ্ট্রে এসে তাঁকে নতুন করে জীবন শুরু করতে হয়। প্রথমে একটি রেস্টুরেন্টে ডিশওয়াশার হিসেবে কাজ নেন। এরপর কখনো কিচেন হেলপার, কখনো বুচারের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এভাবে প্রায় ছয় বছর রেস্টুরেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। সেই সময়ই নিজের একটি রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে বীমা কোম্পানির চাকরি ভালোই ছিল। কিন্তু তিনি আরও বড় কিছু করতে চেয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে রেস্টুরেন্টে কাজ করতে গিয়েই বুঝতে পারেন, নিজের ব্যবসা গড়ে তুলতে হলে শুধু পরিশ্রম নয়, রান্না ও রেস্টুরেন্ট পরিচালনার বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতাও প্রয়োজন। সেই লক্ষ্য নিয়ে নিউইয়র্কের ইনস্টিটিউট অব কালিনারি এডুকেশনে ভর্তি হন তিনি। পড়াশোনার খরচ চালাতে নিতে হয় শিক্ষা ঋণ। প্রায় চার বছরের প্রশিক্ষণ শেষে ২০১৮ সালে সার্টিফায়েড শেফ হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। তবে প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার আগেই নিজের ব্যবসা শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন খলিলুর রহমান। ২০১৭ সালে ব্রঙ্কসে ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু করে খলিল বিরিয়ানি হাউজ। শুরুর সেই উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি খাবারের বাজারে পরিচিত নাম হয়ে ওঠে। ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্রঙ্কসের বাইরে কুইন্সের জ্যামাইকা ও এলমহার্স্টেও কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির ফ্র্যাঞ্চাইজি কার্যক্রমের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কজুড়ে এর ছয়টি লোকেশনে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ব্রুকলিনে নতুন শাখা চালুর মাধ্যমে আরও একটি এলাকায় পৌঁছাল প্রতিষ্ঠানটি। খলিলের রেস্টুরেন্টগুলোর অন্যতম আকর্ষণ বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী খাবার। কাচ্চি বিরিয়ানি, বিফ তেহারি, চিকেন বিরিয়ানি, রোস্ট পোলাও, বিফ কারি, চিকেন টিক্কা, তান্দুরি চিকেনসহ বিভিন্ন ধরনের হালাল খাবার পরিবেশন করা হয় এখানে। পাশাপাশি রয়েছে মাছ, সবজি, কাবাব, সমুচা ও অন্যান্য দেশীয় খাবারের আয়োজন। বাংলাদেশি ক্রেতাদের পাশাপাশি ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের কাছেও এসব খাবার পরিচিত করে তোলার চেষ্টা করছেন খলিলুর রহমান। তাঁর তৈরি বিশেষ একটি খাবারের নাম ‘বাইডেন বিরিয়ানি’। ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয় উপলক্ষে এই বিরিয়ানি তৈরি করেছিলেন তিনি। প্রচলিত বিরিয়ানির তুলনায় এতে মসলার ব্যবহার কম রাখা হয়, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের মানুষের কাছেও খাবারটি সহজে গ্রহণযোগ্য হয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, খাবারের স্বাদ ও মসলার ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় তাঁর সাফল্য আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২২ সালে ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডসে ‘পারসোনালিটি অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার অর্জন করেন খলিলুর রহমান। আয়োজকদের প্রকাশিত বিজয়ীদের তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে। যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে এই স্বীকৃতি পাওয়া প্রথম শেফ হিসেবে তাঁকে উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে। একই বছর কমিউনিটিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টস অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডও পান তিনি। ব্যবসার পাশাপাশি বাংলাদেশি অভিবাসীদের কর্মসংস্থানেও ভূমিকা রেখেছেন খলিলুর রহমান। ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে তাঁর বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ৮৫ জনের বেশি বাঙালি অভিবাসীর কর্মসংস্থানের তথ্য উঠে আসে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় নিউইয়র্কের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাংলাদেশেও রান্নাবিষয়ক দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছেন খলিলুর রহমান। ২০২৪ সালে ঢাকার পল্টনে চালু করেন খলিল কালিনারি আর্টস সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটিতে তরুণদের পেশাদার রান্নার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে সময় প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী এবং ১৭ জন কর্মী ছিলেন। রান্নাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী তরুণদের দক্ষ করে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এদিকে ব্রুকলিনে নতুন শাখা চালুর বিষয়ে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই এলাকা ও আশপাশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশির বসবাস রয়েছে। তাঁদের কাছে হালাল ও মানসম্মত খাবার পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য কমিউনিটির মানুষের মধ্যেও বাংলাদেশি খাবারের পরিচিতি বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। খাবারের স্বাদ, গুণগত মান ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশে বীমা কোম্পানির চাকরি থেকে নিউইয়র্কের রেস্টুরেন্টে ডিশওয়াশারের কাজ, এরপর পেশাদার শেফ হয়ে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা। খলিলুর রহমানের দীর্ঘ এই পথচলায় রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, প্রশিক্ষণ ও ধাপে ধাপে ব্যবসা সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতা। ব্রঙ্কসের ছোট একটি রেস্টুরেন্ট দিয়ে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ এখন ব্রুকলিনেও পৌঁছেছে। একই সঙ্গে নিউইয়র্কের বহুজাতিক খাদ্যসংস্কৃতিতে বাংলাদেশি বিরিয়ানি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেছেন প্যারামজিত ও তাঁর স্বামী নামিন্দার। এ সময়ে আইভিএফ চিকিৎসার ব্যর্থতা, একাধিক গর্ভপাত, জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ এবং সন্তান হারানোর মতো কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁদের। সব মিলিয়ে ২০টি গর্ভধারণজনিত ক্ষতির পর একসময় সন্তান নেওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন প্যারামজিত। কিন্তু ২০২২ সালে ভারতে ধর্মীয় স্থান পরিদর্শনের পর প্রার্থনা করার প্রায় এক মাসের মাথায় জানতে পারেন, তিনি আবার গর্ভবতী। পরে পরীক্ষায় জানা যায়, তাঁর গর্ভে রয়েছে যমজ সন্তান। ২০২৩ সালে পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় তাঁদের দুই কন্যা আভনুর ও আজুনি। ২০০৯ সালে বিয়ের পরপরই পরিবার গড়ার চেষ্টা শুরু করেন প্যারামজিত ও নামিন্দার। কিন্তু বারবার তাঁদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় গর্ভধারণের জটিলতা। সন্তান নেওয়ার জন্য প্যারামজিতকে আইভিএফসহ বিভিন্ন চিকিৎসা নিতে হয়। প্রতিবার নতুন করে আশা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতা ও সন্তান হারানোর বেদনা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছিল। প্যারামজিত জানান, প্রতিবার মাসিক শুরু হলে তাঁর মনে হতো, আবারও বুঝি মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না। কখন গর্ভধারণ করতে পারবেন, আদৌ পারবেন কি না—এমন প্রশ্ন তাঁকে তাড়া করত। পরিবার শুরু করার জন্য নিজের ওপর একধরনের চাপও অনুভব করতেন তিনি। আইভিএফ চিকিৎসার প্রক্রিয়াও ছিল কঠিন। ওষুধ গ্রহণ, ইনজেকশন, ডিম্বাণু সংগ্রহ এবং ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের মতো বিভিন্ন ধাপ পার হতে হয়েছিল তাঁকে। চিকিৎসাবিষয়ক জটিল শব্দ ও প্রক্রিয়া বুঝতে সমস্যা হতো। তাঁর সংস্কৃতিতে আইভিএফ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা কম হওয়ায় চিকিৎসার বিষয়টি অনেকটা গোপন রেখেই এগিয়ে যেতে হয়েছিল বলে জানান তিনি। ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের পর প্রতিবার গর্ভধারণ পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় থাকতেন প্যারামজিত। তাঁর মনে হতো, এবার হয়তো কাঙ্ক্ষিত সুখবর পাবেন। কিন্তু পরীক্ষায় নেতিবাচক ফল আসায় ভেঙে পড়তেন। এরপরও আবার চেষ্টা করেছেন। এভাবে একের পর এক গর্ভপাত, জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ এবং গর্ভধারণের প্রাথমিক পর্যায়ে সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতা জমতে থাকে। ২০১৮ সালে তাঁদের জীবনে নেমে আসে সবচেয়ে বড় শোক। প্যারামজিতের গর্ভে থাকা যমজ সন্তান—একটি ছেলে ও একটি মেয়ে, যাদের নাম রাখা হয়েছিল অমৃত ও ফতেহ—প্রায় ২০ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় হারিয়ে যায়। সেই সময় প্যারামজিতের শরীরে গর্ভাবস্থার শুরুর দিকেই গুরুতর প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া দেখা দিয়েছিল। এ অবস্থায় উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা মা ও অনাগত সন্তানের জন্য বিপজ্জনক। চিকিৎসকেরা তাঁকে জানান, একটি শিশুর হৃদস্পন্দন পাওয়া যাচ্ছে না এবং অন্য শিশুটিকেও বাঁচানো সম্ভব নয়। একই সঙ্গে প্যারামজিতের নিজের জীবন নিয়েও ঝুঁকির কথা বলা হয়। সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনকে পুরোপুরি বদলে দেয়। প্যারামজিতের ভাষায়, তখন তাঁর মনে হয়েছিল, সন্তানদের ছাড়া আর বেঁচে থাকার শক্তি নেই। এই গভীর শোক তাঁর দাম্পত্য সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাবার্তা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। একই বাড়িতে থেকেও তাঁরা মাসের পর মাস নীরবতায় দিন কাটাতেন। এরপর দীর্ঘ চিকিৎসা ও বারবার ক্ষতির অভিজ্ঞতায় ক্লান্ত হয়ে প্যারামজিত ও নামিন্দার সিদ্ধান্ত নেন, আর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। তাঁদের মনে হয়েছিল, এত কিছুর পর হয়তো আর কখনো মা-বাবা হওয়া সম্ভব হবে না। কিন্তু ২০২২ সালে ভারতে ধর্মীয় স্থান হুজুর সাহিব ও অমৃতসর পরিদর্শনে গিয়ে প্যারামজিত আবার প্রার্থনা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে সন্তান চেয়ে প্রার্থনা করেন এবং সন্তান হলে তাকে নিয়ে আবার সেখানে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রায় এক মাস পর তাঁর মাসিক বন্ধ হয়। প্রথমে ভ্রমণ কিংবা কাজের ব্যস্ততার কারণে এমন হয়েছে বলে ভেবেছিলেন তিনি। পরে গর্ভধারণ পরীক্ষা করলে ফল ইতিবাচক আসে। ১৩ বছরের চেষ্টা ও ২০টি গর্ভধারণজনিত ক্ষতির পর আবার গর্ভবতী হওয়ার খবরটি তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল। ছয় সপ্তাহের পরীক্ষার সময় আরেকটি চমক অপেক্ষা করছিল। চিকিৎসাকর্মী তাঁকে জানান, তাঁর গর্ভে একটি নয়, দুটি সন্তান রয়েছে। আনন্দে কেঁদে ফেলেছিলেন প্যারামজিত। তবে একই সঙ্গে ২০১৮ সালের স্মৃতি তাঁকে আতঙ্কিত করে তোলে। আগের মতো আবারও সন্তান হারাতে হবে কি না, সেই ভয় তাঁকে ঘিরে ধরে। এবার তাঁর গর্ভাবস্থায় বিশেষ নজরদারি রাখা হয়। আগে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকায় চিকিৎসকেরা নিয়মিত তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁকে অ্যাসপিরিন ও রক্ত পাতলা রাখার ওষুধসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। টুইনস ট্রাস্টের মাতৃত্বকালীন সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমেও বিশেষজ্ঞদের সহায়তা পান তিনি। নিকি ও লরা নামের দুই বিশেষজ্ঞ ধাত্রী পুরো গর্ভাবস্থায় তাঁর পাশে ছিলেন। প্যারামজিত জানান, এবার তাঁর উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কোনো সমস্যা নিয়ে চিন্তিত হলে তিনি হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করাতে পারতেন। এতে নিজের স্বাস্থ্য ও গর্ভের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তুলনামূলকভাবে আশ্বস্ত বোধ করতেন। গর্ভাবস্থার ৩৬ সপ্তাহে পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যমজ কন্যা আভনুর ও আজুনির জন্ম হয়। একটি শিশুর ওপর চাপ পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। একই সময়ে প্যারামজিতের শরীরেও ফোলা ও রক্তচাপ বাড়ার লক্ষণ দেখা যায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। দুই মেয়েকে প্রথমবার কোলে নেওয়ার মুহূর্তকে জীবনের সবচেয়ে আনন্দের সময় বলে বর্ণনা করেছেন প্যারামজিত। দীর্ঘ ১৩ বছরের সংগ্রাম, বারবার গর্ভধারণজনিত ক্ষতি এবং প্রথম যমজ সন্তানদের হারানোর পর অবশেষে মা হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে ছিল গভীর আবেগের। ২০২৬ সালের অক্টোবরের হিসাবে, আভনুর ও আজুনি তিন বছর বয়সের কাছাকাছি পৌঁছেছে। প্যারামজিত এখন নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন, যাতে সন্তান হারানো কিংবা সন্তান ধারণে সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া অন্য পরিবারগুলোও মানসিক সমর্থন ও আশার কথা জানতে পারে। তাঁর মতে, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘ ও কষ্টকর যাত্রার পর তাঁর পরিবারে দুই কন্যার আগমন সেই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে।
২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক বিচারক নাভি পিলাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং যু দ্ধাপরাধ ও গণ হ ত্যার বিচার নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিলাই জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ইসরায়েলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থানের কারণে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি। নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অসাধারণ সাহসিকতা এবং সততার পরিচয় দিয়েছেন নাভি পিলাই। বিশেষ করে যু দ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণ হ ত্যার বিচার নিশ্চিত করতে তাঁর ভূমিকা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে। নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে যু দ্ধ ও সংঘাত বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদালত এবং বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সহিং সতা ছাড়াই বিরোধ নিষ্পত্তির গুরুত্ব তুলে ধরতেই পিলাইয়ের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ইসরায়েলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছিলেন পিলাই। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর অবস্থান ইসরায়েল এবং দেশটির সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছিল। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের শতাধিক সদস্য পিলাইয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তাঁর নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যক্রমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের মধ্যেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সুরক্ষার পক্ষে নিজের অবস্থান বজায় রাখেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও ইসরায়েলসংক্রান্ত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন পিলাই। তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০২৫ সালে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণ হ ত্যা হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে ইসরায়েল ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। কমিশনের এই অনুসন্ধান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে জন্ম নেওয়া নাভি পিলাইয়ের পেশাগত জীবন শুরু হয় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার সময় তিনি নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন। ১৯৬৭ সালে ডারবানে নিজের আইন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন পিলাই। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ১৯৮৮ সালে ডক্টর অব জুরিডিক্যাল সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর রুয়ান্ডার গণ হ ত্যার বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেখানে যৌন সহিং সতা ও ধ র্ষ ণকে গণ হ ত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন পিলাই। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণ হ ত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান মামলায়ও তিনি অ্যাডহক বিচারক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ধারাবাহিক ভূমিকার বিষয়টি এবারের নোবেল পুরস্কারের সিদ্ধান্তে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। নোবেল কমিটির মতে, আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। যু দ্ধাপরাধের জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা এবং নি র্যা তনের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। আগামী ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে নাভি পিলাইয়ের হাতে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর কয়েক দশকের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবারের পুরস্কারকে দেখছে নোবেল কমিটি।
তীব্র পেটব্যথা ও দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর এক ভারতীয় পুলিশ সদস্যের পাকস্থলী থেকে বের করা হলো ৪০টি ছুরি। ২০১৬ সালের আগস্টে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসরের একটি হাসপাতালে ঘটে এই ঘটনা। ৪২ বছর বয়সী ওই পুলিশ সদস্য প্রায় দুই মাস ধরে একের পর এক ছুরি গিলে ফেলেছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকেরা প্রথমে ২৮টি ছুরি বের করেন। পরে আরও পরীক্ষা করে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত ১২টি ছুরির সন্ধান পান তাঁরা। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ৪০টি ছুরি। হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকদের প্রথমে ধারণা হয়েছিল, তাঁর পাকস্থলীতে হয়তো টিউমার বা ক্যানসারজাতীয় কোনো অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে। এ কারণে তাঁর এন্ডোস্কপি ও সিটি স্ক্যান করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, পাকস্থলীর ভেতরে রয়েছে অসংখ্য ধাতব বস্তু। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেগুলো আসলে বিভিন্ন আকারের ছুরি। চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। অপারেশনের সময় প্রথমে ২৮টি ছুরি বের করা হয়। কিন্তু পাকস্থলীর ভেতরে আরও কিছু রয়ে গেছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকায় পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। তখন আরও ১২টি ছুরির সন্ধান মেলে। সেগুলোও বের করে আনা হয়। ছুরিগুলোর সব কটিই একই অবস্থায় ছিল না। কিছু ভাঁজ করা অবস্থায় ছিল, কিছু খোলা ছিল, আবার কয়েকটি মরিচা ধরে ভেঙেও গিয়েছিল। খোলা ছুরিগুলোর কোনো কোনোটি প্রায় ১৮ সেন্টিমিটার লম্বা ছিল। এগুলোর ধারালো অংশ পাকস্থলীর দেয়ালে ক্ষত তৈরি করেছিল। অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর শরীরের ভেতরে উল্লেখযোগ্য রক্তক্ষরণও হয়। চিকিৎসকদের কাছে ওই ব্যক্তি জানান, প্রথমবার ছুরি গেলার পর তাঁর অদ্ভুত এক অনুভূতি হয়েছিল। এরপর বিষয়টি ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়। তিনি প্রায় দুই মাস ধরে দিনে একটি করে ছুরি গিলতেন বলে জানান। কেন এমন করতেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। অস্ত্রোপচারে যুক্ত চিকিৎসক জতিন্দর মালহোত্রা জানান, তাঁর দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনে এ ধরনের ঘটনা আগে দেখেননি। রোগীর আচরণের পেছনে মানসিক স্বাস্থ্যের কোনো সমস্যা থাকতে পারে বলে চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়। তাই অস্ত্রোপচারের পর তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও পরামর্শ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। তবে পরীক্ষার আগে নির্দিষ্ট কোনো মানসিক রোগ নিশ্চিত করা হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। চিকিৎসকদের কাছে তিনি জানান, ভবিষ্যতে আর কখনো এমন কাজ করবেন না। এই ঘটনা চিকিৎসকদের কাছেও ছিল অত্যন্ত বিরল ও জটিল। শরীরের ভেতরে ধারালো বস্তু প্রবেশ করানো প্রাণঘাতী অভ্যন্তরীণ ক্ষত ও রক্তক্ষরণের কারণ হতে পারে। তাই এমন কোনো প্রবণতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ একটি অভিবাসন সুবিধার আওতায় গ্রিন কার্ড পাওয়ার যোগ্য হতে অভিবাসী শিশুদের ছয়টি শর্ত পূরণ করতে হবে। এই সুবিধার নাম স্পেশাল ইমিগ্র্যান্ট জুভেনাইল (এসআইজে) মর্যাদা। এটি এমন কিছু বিদেশি শিশুর জন্য, যারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে এবং বাবা-মায়ের কাছ থেকে দুর্ব্যবহার, অবহেলা, পরিত্যাগ কিংবা রাজ্য আইনে স্বীকৃত অনুরূপ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে এসআইজে মর্যাদা পেলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করার সুযোগ পেতে পারে। তবে এই মর্যাদা পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, আবেদনকারীর বয়স, বৈবাহিক অবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান এবং রাজ্য আদালতের আদেশসহ কয়েকটি বিষয় যাচাই করা হয়। পাশাপাশি, আবেদনটি প্রকৃতপক্ষে শিশুকে পারিবারিক দুর্ব্যবহার থেকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেয় কর্তৃপক্ষ। গ্রিন কার্ডের বিশেষ সুযোগ পেতে ছয়টি শর্ত এসআইজে মর্যাদার জন্য আবেদন করতে আগ্রহী ব্যক্তিকে নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে: 1. বয়স ২১ বছরের কম হতে হবে: ইউএসসিআইএসের কাছে আবেদন জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীর বয়স ২১ বছরের নিচে থাকতে হবে। তবে রাজ্যভেদে শিশু বা কিশোরের বিষয়ে আদালতের এখতিয়ার নির্ধারণের নিয়ম ভিন্ন হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদালতের এখতিয়ার ১৮ বছর বয়সেই শেষ হয়ে যায়। তাই সময়মতো আদালতের আদেশ সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ। 2. যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে হবে: আবেদন জমা দেওয়ার সময় এবং ইউএসসিআইএস সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময়—দুই ক্ষেত্রেই আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে। বিদেশে অবস্থান করে এই মর্যাদার জন্য সরাসরি আবেদন করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায় না। 3. অবিবাহিত থাকতে হবে: আবেদন করার সময় এবং আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় আবেদনকারীকে অবিবাহিত থাকতে হবে। আগে বিয়ে হয়ে থাকলেও বিয়ে বাতিল, বিবাহবিচ্ছেদ বা স্বামী কিংবা স্ত্রীর মৃত্যুর মাধ্যমে বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হতে পারে। 4. যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য আদালতের প্রয়োজনীয় আদেশ থাকতে হবে: সংশ্লিষ্ট শিশু বা কিশোরকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উপযুক্ত রাজ্য আদালতের আদেশ থাকতে হবে। সেই আদেশে শিশুটি আদালতের তত্ত্বাবধানে রয়েছে অথবা কোনো ব্যক্তি, সংস্থা কিংবা রাজ্য কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত থাকতে হবে। পাশাপাশি, বাবা-মায়ের সঙ্গে পুনরায় বসবাস করা কেন সম্ভব নয় এবং নিজ দেশে ফিরে যাওয়া কেন শিশুটির সর্বোত্তম স্বার্থের পরিপন্থী, তা নির্ধারণ করতে হবে। 5. ইউএসসিআইএসের সম্মতি পেতে হবে: কেবল আদালতের আদেশ থাকলেই এসআইজে মর্যাদা নিশ্চিত হয় না। ইউএসসিআইএসকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে আবেদনটি প্রকৃত এবং এর মূল উদ্দেশ্য হলো বাবা-মায়ের দুর্ব্যবহার, অবহেলা, পরিত্যাগ বা রাজ্য আইনে স্বীকৃত অনুরূপ পরিস্থিতি থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেওয়া। 6. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের লিখিত সম্মতি লাগবে: যেসব শিশু যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) অধীনে শরণার্থী পুনর্বাসন দপ্তরের (ওআরআর) হেফাজতে রয়েছে বা আগে ছিল, তাদের সবার জন্য এই শর্ত একইভাবে প্রযোজ্য নয়। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে ওই দপ্তরের হেফাজতে থাকা অবস্থায় আদালতের আদেশের মাধ্যমে শিশুর হেফাজত বা অবস্থানের ব্যবস্থা পরিবর্তিত হলে, এইচএইচএসের লিখিত সম্মতি জমা দিতে হবে। আদালতের আদেশ কেন গুরুত্বপূর্ণ এসআইজে মর্যাদার আবেদনে রাজ্য আদালতের আদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে শিশুটি আদালতের তত্ত্বাবধানে রয়েছে কি না, অথবা কোনো উপযুক্ত ব্যক্তি বা সরকারি সংস্থার হেফাজতে আছে কি না, তা স্পষ্ট থাকতে হয়। একই সঙ্গে আদালতকে নির্ধারণ করতে হয়, বাবা-মায়ের একজন বা উভয়ের সঙ্গে শিশুটির পুনরায় বসবাস করা কেন সম্ভব নয়। এর কারণ হিসেবে দুর্ব্যবহার, অবহেলা, পরিত্যাগ কিংবা রাজ্য আইনে স্বীকৃত অনুরূপ পরিস্থিতি থাকতে পারে। শিশুটিকে তার নিজ দেশের নাগরিকত্বের দেশ অথবা সর্বশেষ স্থায়ীভাবে বসবাসের দেশে ফেরত পাঠানো তার সর্বোত্তম স্বার্থে হবে না—এ সিদ্ধান্তও আদালতের আদেশে থাকতে হবে। এসব বিষয় শুধু আদেশে উল্লেখ থাকলেই যথেষ্ট নয়। সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ঘটনার ভিত্তি থাকতে হয়। ইউএসসিআইএস আদালতের আদেশ ও সহায়ক নথি পর্যালোচনা করে দেখে, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে কি না। এসআইজে মর্যাদা পেলেই কি গ্রিন কার্ড মিলবে এসআইজে মর্যাদার জন্য সাধারণত ফরম আই-৩৬০ জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কর্মসংস্থানভিত্তিক চতুর্থ অগ্রাধিকার বা ইবি-৪ অভিবাসন শ্রেণির আওতায় গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার যোগ্য হতে পারেন। তবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আলাদা আবেদন, ফরম আই-৪৮৫, জমা দিতে হয়। ইবি-৪ শ্রেণিতে অভিবাসী ভিসা নম্বর পাওয়া যাচ্ছে কি না এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তার ওপর গ্রিন কার্ডের আবেদন করার সময় নির্ভর করতে পারে। ফলে এসআইজে আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পরও স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে অতিরিক্ত ধাপ অনুসরণ করতে হয়। এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এমন শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া, যাদের পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাওয়া নিরাপদ বা উপযুক্ত নয়। তাই শুধু বয়স কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের শর্ত পূরণ করলেই হবে না; আদালতের আদেশ, প্রয়োজনীয় প্রমাণ এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সম্মতিও গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন করতে আগ্রহী পরিবার, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আদালতের আদেশ সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত এবং নির্ধারিত বয়সসীমার মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যভেদে শিশু আদালতের এখতিয়ার ও প্রক্রিয়া আলাদা হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করে আবেদন করাই উপযুক্ত।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ও এল-১ ভিসার আবেদনে বায়োমেট্রিক ফি আদায়ের নিয়ম সম্প্রসারণ করেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী নিয়োগকর্তাদের কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনেও এই ফি দিতে হবে। আগে একই নিয়োগকর্তার অধীনে কর্মরত ব্যক্তির ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কিছু আবেদন এই ফি থেকে অব্যাহতি পেত। এখন থেকে নিয়োগকর্তা নির্ধারিত শর্তের আওতায় পড়লে, কর্মীর চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান অপরিবর্তিত থাকলেও মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনে ফি প্রযোজ্য হবে। ২০২৬ সালের ১০ আগস্ট চূড়ান্ত নিয়মটি প্রকাশ করা হয়। এটি কার্যকর হয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে। ফলে ওই দিন বা তার পরে জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। তবে সব এইচ-১বি ও এল-১ আবেদনকারীর ওপর নতুন করে এই ফি আরোপ করা হয়নি। নিয়মটি মূলত নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী নিয়োগকর্তাদের ক্ষেত্রে ফি আদায়ের পরিধি বাড়িয়েছে। এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক ফি ৪ হাজার ডলার এবং এল-১ আবেদনের ক্ষেত্রে ৪ হাজার ৫০০ ডলার। এই অর্থ পরিশোধের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার। যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ এবং তাঁদের কাজের অনুমতির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকে ফি প্রযোজ্য কি না, তা যাচাই করতে হবে। নতুন নিয়মের ফলে শর্ত পূরণকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে। কোন প্রতিষ্ঠানকে ফি দিতে হবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৫০ জন কর্মী রয়েছে—এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ‘আওতাভুক্ত নিয়োগকর্তা’ হিসেবে বিবেচিত হবে। শর্তটি হলো, প্রতিষ্ঠানটির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মোট কর্মীর ৫০ শতাংশের বেশি এইচ-১বি, এল-১এ অথবা এল-১বি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আওতায় থাকতে হবে। এইচ-১বি ভিসা সাধারণত বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, এল-১ ভিসার মাধ্যমে কোনো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান তার বিদেশি কার্যালয়ের নির্দিষ্ট কর্মীকে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যালয়ে স্থানান্তর করতে পারে। এল-১এ ভিসা মূলত ব্যবস্থাপক ও নির্বাহী পর্যায়ের কর্মীদের জন্য। এল-১বি ভিসা বিশেষায়িত জ্ঞানসম্পন্ন কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। উদাহরণ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রে কোনো প্রতিষ্ঠানের ১০০ জন কর্মী থাকলে এবং তাঁদের ৫১ জন বা তার বেশি এইচ-১বি, এল-১এ কিংবা এল-১বি ভিসার আওতায় থাকলে প্রতিষ্ঠানটি ফি দেওয়ার শর্তের মধ্যে পড়তে পারে। তবে শুধু কর্মীর সংখ্যা বেশি হলেই হবে না; ভিসার ধরন ও কর্মীদের অনুপাতও নির্ধারিত সীমা পূরণ করতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান এই শর্ত পূরণ করবে না, তাদের ক্ষেত্রে শুধু এই নিয়মের কারণে অতিরিক্ত ফি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে না। তাই নতুন আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীসংখ্যা এবং কর্মীদের ভিসার ধরন পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। কোন আবেদনে ফি দিতে হবে না চূড়ান্ত নিয়মে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। কোনো নিয়োগকর্তা যদি কর্মীর বিদ্যমান এইচ-১বি বা এল-১ স্ট্যাটাসের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন না করে শুধু সংশোধিত পিটিশন জমা দেন, তাহলে সেই আবেদনের জন্য এই বায়োমেট্রিক ফি দিতে হবে না। সাধারণত কর্মীর চাকরির শর্ত, দায়িত্ব বা অনুমোদিত আবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো পরিবর্তন জানাতে সংশোধিত পিটিশন জমা দেওয়া হয়। তবে সংশোধিত আবেদনের সঙ্গে যদি কর্মীর অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধও থাকে, তাহলে শর্ত পূরণকারী নিয়োগকর্তার ক্ষেত্রে ফি প্রযোজ্য হতে পারে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর ওপর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেছনের তারিখ থেকে কার্যকর হবে না। তবে ৯ সেপ্টেম্বর বা তার পরে জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন বিধান অনুসরণ করতে হবে। কেন এই ফি নেওয়া হচ্ছে ৯-১১ রেসপন্স অ্যান্ড বায়োমেট্রিক এন্ট্রি-এক্সিট ফি যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ ও প্রস্থানব্যবস্থায় বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অর্থায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। সীমান্তে ভ্রমণকারীর পরিচয় যাচাই, ভ্রমণসংক্রান্ত নথির জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং প্রবেশ-প্রস্থানের তথ্য ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এই ফি চালুর ব্যবস্থা করে। পরবর্তী সময়ে ফি-সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তন ও সম্প্রসারণ করা হয়। আগে একই নিয়োগকর্তার অধীনে কর্মীর মেয়াদ বাড়ানোর কিছু আবেদন এই ফি থেকে অব্যাহতি পেত। নতুন চূড়ান্ত নিয়মে সেই ব্যতিক্রমের পরিধি কমিয়ে আওতাভুক্ত নিয়োগকর্তাদের প্রাসঙ্গিক মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনেও ফি নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন নিয়মের ফলে বিশেষ করে প্রযুক্তি, পরামর্শক ও আউটসোর্সিং খাতের এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় বাড়তে পারে, যাদের কর্মীদের বড় অংশ এইচ-১বি বা এল-১ ভিসায় কাজ করেন। এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রতিটি আবেদন জমা দেওয়ার আগে ফি প্রযোজ্য কি না, তা যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনীয় ফি জমা না দিলে আবেদন গ্রহণ বা প্রক্রিয়াকরণে সমস্যা হতে পারে। নিয়োগকর্তারা ফি-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট অভিবাসন ফি তালিকা থেকে যাচাই করতে পারবেন। কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য কি না, তা নির্ধারণে প্রতিষ্ঠানের কর্মীসংখ্যা, কর্মীদের ভিসার ধরন এবং আবেদনের উদ্দেশ্য—সবকিছু বিবেচনা করা জরুরি।
বার্ধক্যের প্রভাব কমিয়ে কোষকে তরুণ অবস্থার কাছাকাছি ফিরিয়ে নেওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। প্রাণীর ওপর পরীক্ষায় সম্ভাবনা দেখা যাওয়ার পর এবার মানুষের শরীরেও শুরু হয়েছে এই পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বায়োটেক প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিনজন গ্লুকোমা রোগীর মধ্যে দুজনের দৃষ্টিক্ষেত্র পরীক্ষায় উন্নতির প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পাশাপাশি, চিকিৎসাটি প্রয়োগের পর প্রথম ৫৬ দিনে কারও ক্ষেত্রে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ফল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের। এর মাধ্যমে সত্যিই বয়সজনিত ক্ষতি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। বার্ধক্যের সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন দেখা দেয়। জয়েন্টে ব্যথা, ধমনিতে সমস্যা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বিজ্ঞানীরা কোষের ভেতরে বয়সের সঙ্গে তৈরি হওয়া কিছু পরিবর্তন আংশিকভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন। এই প্রযুক্তির নাম ‘সেলুলার রিপ্রোগ্রামিং’ বা কোষের পুনঃপ্রোগ্রামিং। এই পদ্ধতির লক্ষ্য শুধু বার্ধক্যের বাহ্যিক লক্ষণ কমানো নয়। বরং কোষের কার্যক্রমে বয়সের কারণে যে পরিবর্তন ঘটে, তা নিয়ন্ত্রণ করে কোষকে অপেক্ষাকৃত তরুণ অবস্থার দিকে ফিরিয়ে নেওয়া। প্রাণীর ওপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় এমন প্রযুক্তির সম্ভাবনা দেখা গেলেও মানুষের ক্ষেত্রে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে এখনো সীমিত তথ্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেক প্রতিষ্ঠান লাইফ বায়োসায়েন্সেস এ ক্ষেত্রে ইআর-১০০ নামের একটি পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নিয়ে কাজ করছে। এটি চোখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত রোগের চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষায় ওপেন-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গ্লুকোমার কারণে চোখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। একবার স্নায়ুর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হলে তা ফিরিয়ে আনা কঠিন। তাই এই ক্ষতি মোকাবিলায় নতুন চিকিৎসার সম্ভাবনা নিয়ে গবেষকেরা আগ্রহী। ইআর-১০০ চিকিৎসায় চোখের ভেতরে একবার ইনজেকশন দেওয়া হয়। এর সঙ্গে আট সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক ডক্সিসাইক্লিন গ্রহণ করতে হয়। চিকিৎসাটির উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট জিনগত নির্দেশনার মাধ্যমে কোষের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা, যাতে সেগুলোকে অপেক্ষাকৃত তরুণ অবস্থার দিকে ফিরিয়ে নেওয়া যায়। ৮ অক্টোবর প্রকাশিত পরীক্ষার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তিনজন গ্লুকোমা রোগী চিকিৎসাটি নেওয়ার পর ৫৬ দিন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে ছিলেন। এ সময়ে তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়ার মতো মাত্রা-সীমিত বিষক্রিয়া কিংবা গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে চিকিৎসা প্রক্রিয়া, স্টেরয়েড ব্যবহার অথবা আগে থেকে থাকা শারীরিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু পার্শ্বঘটনার কথা জানানো হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষামূলক ওষুধটির সরাসরি প্রভাব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। এই ফলকে চিকিৎসাটির প্রাথমিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মাত্র তিনজন রোগীর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এর নিরাপত্তা বা কার্যকারিতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। পরীক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন। তিনজনের মধ্যে দুজনের ভিজ্যুয়াল ফিল্ড বা দৃষ্টিক্ষেত্র পরীক্ষায় উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ পরীক্ষায় একজন ব্যক্তি সামনে তাকিয়ে চারপাশের বিভিন্ন অংশের আলো শনাক্ত করতে কতটা সক্ষম, তা মূল্যায়ন করা হয়। ফলে পরীক্ষার ফল থেকে ধারণা পাওয়া যায়, চোখের দৃষ্টিক্ষেত্রের কিছু অংশে তাঁদের সক্ষমতা বেড়েছে। তবে এ উন্নতির অর্থ এই নয় যে চোখের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সম্পূর্ণ নতুন হয়ে গেছে কিংবা দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি ফিরে এসেছে। চিকিৎসাটি চোখের স্নায়ুর কার্যক্ষমতা কতটা ফিরিয়ে আনতে পারে এবং পরিবর্তনটি দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকে কি না, তা জানতে আরও তথ্য প্রয়োজন। নিউইয়র্ক আই অ্যান্ড ইয়ার ইনফার্মারি অব মাউন্ট সিনাইয়ের প্রেসিডেন্ট ও গ্লুকোমা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জেমস সাই প্রাথমিক ফলকে উৎসাহব্যঞ্জক হিসেবে দেখেছেন। তবে তাঁর মতে, এই চিকিৎসা সত্যিকার অর্থে হারানো দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে পারছে কি না, তা বলার জন্য আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। চোখের বিদ্যমান স্নায়ুর কার্যক্রমে উন্নতি হওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু পুরোপুরি পুনর্গঠিত হওয়া এক বিষয় নয়। প্রাথমিক ফল পর্যালোচনার পর স্বাধীন নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ বোর্ড পরবর্তী রোগীদের ক্ষেত্রে ওষুধের মাত্রা তিন গুণ বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। এতে পরীক্ষার পরবর্তী ধাপে চিকিৎসাটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে মাত্রা বাড়ানোর অনুমোদন পাওয়া মানেই চিকিৎসাটি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়। অন্য রোগের চিকিৎসাতেও সম্ভাবনা কোষের পুনঃপ্রোগ্রামিং প্রযুক্তির প্রতি প্রযুক্তি ও বিনিয়োগজগতের কয়েকজন ধনকুবেরের আগ্রহ রয়েছে। জেফ বেজোস, পিটার থিল, ইউরি মিলনার ও স্যাম অল্টম্যানের মতো পরিচিত ব্যক্তিরা দীর্ঘায়ু নিয়ে গবেষণা এবং সংশ্লিষ্ট বায়োটেক উদ্যোগে বিনিয়োগ করেছেন। তাঁদের আগ্রহের একটি বড় ক্ষেত্র হলো, বয়সের সঙ্গে কোষের কার্যক্ষমতায় যে পরিবর্তন ঘটে, তা নিয়ন্ত্রণ বা আংশিকভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। লাইফ বায়োসায়েন্সেসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাইকেল রিঙ্গেলের ধারণা, ভবিষ্যতে সেলুলার রিপ্রোগ্রামিং বয়সজনিত একাধিক রোগ মোকাবিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হয়ে উঠতে পারে। প্রাণীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় বাতের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভার এবং আলঝেইমারের মতো মস্তিষ্কের রোগের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা হয়েছে। তবে প্রাণীর শরীরে পাওয়া ফল মানুষের ক্ষেত্রেও একই রকম হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এসব রোগের চিকিৎসায় পদ্ধতিটি কার্যকর কি না, তা জানতে পৃথক মানবপরীক্ষা প্রয়োজন। এদিকে, দীর্ঘায়ু গবেষণায় যুক্ত আরও কয়েকটি বায়োটেক প্রতিষ্ঠানও মানবপরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জেফ বেজোসের সমর্থনপুষ্ট অল্টোস ল্যাবস এ ধরনের গবেষণায় কাজ করছে। অন্যদিকে, পিটার থিলের ফাউন্ডার্স ফান্ডের নেতৃত্বে নিউ লিমিট নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৪৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭ সালে যকৃতের কোষ পুনঃপ্রোগ্রামিংয়ের একটি চিকিৎসা নিয়ে মানবপরীক্ষা শুরুর পরিকল্পনা জানিয়েছে। স্যাম অল্টম্যানের সমর্থনপুষ্ট রেট্রো বায়োসায়েন্সেসও একই ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছে। তবে বার্ধক্য ঠেকানো বা বয়সজনিত ক্ষতি ফিরিয়ে দেওয়ার চিকিৎসা এখনো গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কোষের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা সম্ভব হলেও তাতে দীর্ঘমেয়াদে কী প্রভাব পড়ে, নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি তৈরি হয় কি না এবং রোগীর স্বাস্থ্যে বাস্তব উন্নতি ঘটে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমান পরীক্ষাটি মূলত চিকিৎসাটির নিরাপত্তা ও সহনীয়তা যাচাইয়ের জন্য পরিচালিত হচ্ছে। তিনজনের মধ্যে দুজনের দৃষ্টিক্ষেত্রে উন্নতির ইঙ্গিত আশাব্যঞ্জক হলেও এটিকে বার্ধক্য উল্টে দেওয়ার প্রমাণিত সাফল্য বলা যাবে না। আরও বেশি মানুষের ওপর পরীক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ এবং স্বাধীন বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ফলই নির্ধারণ করবে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি বয়সজনিত রোগের চিকিৎসায় কতটা কার্যকর হতে পারে।