সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছরের ছাত্র নিখোঁজ, চার দিনেও মেলেনি সন্ধান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১২:০
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ডিলান শান আশার চার দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ডিলান শান আশার চার দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ডিলান শান আশার চার দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। গত ২ অক্টোবর ভোররাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি পার্কিং গ্যারেজের কাছে নজরদারি ক্যামেরায় তাঁকে সর্বশেষ দেখা যায়। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ডিলানের সঙ্গে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ কিংবা পরিচয়পত্রও নেই। তাঁকে খুঁজে পেতে সাধারণ মানুষের সহায়তা চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ।

 

ডিলানকে সর্বশেষ ২ অক্টোবর স্থানীয় সময় রাত আড়াইটার দিকে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের টেরাপিন ট্রেইল পার্কিং গ্যারেজের কাছে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস ওয়াশিংটন ডিসির ঠিক বাইরে মেরিল্যান্ডের কলেজ পার্কে অবস্থিত। নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ করা ওই দৃশ্যের পর তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

চার দিন পর, ৬ অক্টোবর ডিলানের নতুন কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর সন্ধানে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চাওয়া হয়। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও কলেজ পার্ক এলাকায় ডিলানকে কেউ দেখে থাকলে কিংবা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

 

পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার সময় ডিলানের কাছে তাঁর মোবাইল ফোন ছিল না। সঙ্গে ছিল না মানিব্যাগ কিংবা পরিচয়পত্র। তবে কেন এসব ব্যক্তিগত জিনিস তাঁর সঙ্গে ছিল না কিংবা সেগুলো কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

 

ছেলের সন্ধান চেয়ে পুলিশের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন ডিলানের মা। তিনি বলেন, পরিবার ডিলানকে অনেক ভালোবাসে এবং আশা করছে তিনি নিরাপদে আছেন। পরিবারের একমাত্র চাওয়া, ডিলান যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসেন।

 

কলেজ পার্ক এলাকার বাসিন্দাদের প্রতিও বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। গত ২ অক্টোবর ভোর থেকে পরবর্তী সময়ের বাড়ির দরজার ক্যামেরা, গাড়ির ক্যামেরা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্য পরীক্ষা করে দেখতে বলেছেন ডিলানের মা। এসব দৃশ্যে ডিলানকে দেখা গেলে সেই তথ্য পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

পুলিশের দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী, ডিলানের উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি এবং তাঁর চুল কালো। সর্বশেষ নজরদারি ক্যামেরায় যখন তাঁকে দেখা যায়, তখন তাঁর পরনে ছিল মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কালো রঙের সোয়েটশার্ট, ধূসর রঙের প্যান্ট এবং সাদা জুতা।

 

ডিলান পার্কিং গ্যারেজের কাছ থেকে এরপর কোথায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ ছিলেন কি না কিংবা ক্যাম্পাসের বাইরে তাঁকে পরবর্তী সময়ে কোথাও দেখা গেছে কি না, সে সম্পর্কেও পুলিশ কোনো নিশ্চিত তথ্য জানায়নি।

 

নিখোঁজ হওয়ার কারণ নিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ডিলান স্বেচ্ছায় কোথাও গিয়েছিলেন নাকি অন্য কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, সে বিষয়ে পুলিশ প্রকাশ্যে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তদন্তকারীরা আপাতত তাঁর সর্বশেষ নিশ্চিত অবস্থানের পরবর্তী সময়ের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

 

এই কারণে নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ডিলানের মা স্থানীয় বাসিন্দাদের শুধু বাড়ির দরজার ক্যামেরাই নয়, গাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যও পরীক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। কোনো ছোট তথ্যও তাঁর গতিবিধি শনাক্ত করতে কাজে আসতে পারে বলে আশা করছে পরিবার।

 

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ডিলানের নতুন ছবি প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর শারীরিক বর্ণনা এবং সর্বশেষ পরনের পোশাকের তথ্যও ছড়িয়ে দিচ্ছে। উদ্দেশ্য, গত কয়েক দিনে কেউ তাঁকে দেখে থাকলে যেন সহজে শনাক্ত করতে পারেন এবং পুলিশকে তথ্য দিতে পারেন।

 

ডিলানের সঙ্গে মোবাইল ফোন না থাকায় ফোনের মাধ্যমে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে মানিব্যাগ ও পরিচয়পত্র সঙ্গে না থাকার কারণে পরিবার ও পুলিশের জন্য তাঁর সম্ভাব্য গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

 

এখন পর্যন্ত ২ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে টেরাপিন ট্রেইল পার্কিং গ্যারেজের কাছে নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যটিই ডিলানের সর্বশেষ নিশ্চিত অবস্থান হিসেবে সামনে এসেছে। চার দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

পুলিশ জানিয়েছে, ডিলানের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। তাঁকে কোথাও দেখা গেছে, তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে কোনো তথ্য রয়েছে কিংবা নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি কোথায় যেতে পারেন সে বিষয়ে তথ্য দিতে পারেন, এমন যে কাউকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

ডিলানের সন্ধানসংক্রান্ত তথ্য জানাতে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড পুলিশের ৩০১-৪০৫-৩৫৫৫ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। চার দিনেও তাঁর সন্ধান না মেলায় পরিবার এখন ছেলের নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে, আর পুলিশ সম্ভাব্য তথ্য ও নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্য সংগ্রহ করে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ছবি ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।
আটলান্টাসহ যুক্তরাষ্ট্রে পানির বিল এক দশকে ৬২ শতাংশ বেড়েছে, বাড়ছে পরিবারের খরচের চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের দৈনন্দিন খরচের তালিকায় পানির বিলও এখন বড় চাপ হয়ে উঠছে। নতুন এক গবেষণা বলছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আমেরিকার বড় পানি সরবরাহ ব্যবস্থাগুলোতে সাধারণ পরিবারের পানির বিল গড়ে ৬২ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধি একই সময়ের মূল্যস্ফীতি ও মুদি পণ্যের দামের বৃদ্ধির চেয়েও দ্রুত হয়েছে।   গবেষণাটি করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা ফুড অ্যান্ড ওয়াটার ওয়াচ। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ৫০০টি বড় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ২০২৫ সালের বিলের সঙ্গে ২০১৫ সালের তথ্য তুলনা করেছে। গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বছরে ৬০ হাজার গ্যালন পানি ব্যবহারকারী একটি সাধারণ পরিবারের গড় পানির বিল ছিল প্রায় ৫৩১ ডলার।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দশকে পানির বিল বেড়েছে মূল্যস্ফীতির হারের প্রায় ১ দশমিক ৬ গুণ এবং মুদি পণ্যের দামের বৃদ্ধির দ্বিগুণেরও বেশি হারে।   একই সময়ে পানির বিলের বৃদ্ধি গড় পরিবারের আয় বৃদ্ধির চেয়েও ১৯ শতাংশ বেশি ছিল। ফলে বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে খাবার, বিদ্যুৎ, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের পাশাপাশি পানির বিল সামলাতেও বাড়তি চাপ নিতে হচ্ছে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বেসরকারি মালিকানাধীন পানি ব্যবস্থার গ্রাহকেরা সরকারি মালিকানাধীন ব্যবস্থার গ্রাহকদের তুলনায় বেশি অর্থ দিচ্ছেন। ২০২৫ সালে করপোরেট মালিকানাধীন পানি ব্যবস্থায় সাধারণ পরিবারের বিল সরকারি ব্যবস্থার তুলনায় গড়ে ৬৭ শতাংশ বেশি ছিল, যা বছরে প্রায় ৩২৯ ডলার অতিরিক্ত খরচের সমান।   তবে সব শহর বা রাজ্যে পরিস্থিতি একই নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি তুলনামূলক কম খরচের পানি ব্যবস্থায় সাধারণ পরিবারের বার্ষিক বিল ২৬০ ডলারের নিচে ছিল। এসব ব্যবস্থাই ছিল সরকারি মালিকানাধীন। জর্জিয়া ও ফ্লোরিডার বেশ কয়েকটি পানি ব্যবস্থা এই কম খরচের তালিকায় রয়েছে।   আটলান্টার জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শহরটির পানি অবকাঠামো অনেক পুরোনো এবং হাজার হাজার মাইল পাইপলাইনের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন। গতকাল আটলান্টা সিটি কাউন্সিল পানি অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরঞ্জামের জন্য ৪০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুমোদন করেছে।   শহরটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটলান্টার পানি ব্যবস্থায় প্রায় ৪ হাজার মাইল পাইপ রয়েছে। পুরোনো অবকাঠামো সংস্কারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে কর্মকর্তারা প্রায় ২০ বছরের একটি পরিকল্পনার কথা জানান, যার সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার।   অন্যদিকে আটলান্টা শহরের পানি বিলের বকেয়াও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিটি কাউন্সিলের আলোচনায় প্রায় ২৫ কোটি ডলার বকেয়া পানি বিলের বিষয়টি উঠে এসেছে। কর্তৃপক্ষ বকেয়া আদায়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা, বিলম্ব ফি এবং দীর্ঘদিন বিল না দিলে পানি সংযোগ বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।   গবেষণায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, জরিপ করা পানি ব্যবস্থার ৯৩ শতাংশেই নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য পানির খরচকে অসহনীয় বা সামলানো কঠিন বলে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় গড় বার্ষিক পানির খরচ ছিল সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১ হাজার ৩৮৩ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়া ও পেনসিলভানিয়ার একাধিক পানি ব্যবস্থাও সবচেয়ে ব্যয়বহুল তালিকায় রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাড়িভাড়া, গাড়ির খরচ, বিদ্যুৎ, খাবার ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ের সঙ্গে পানির বিলও মাসিক বাজেটের একটি অংশ। বিশেষ করে বড় পরিবার বা সীমিত আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে ছোট ছোট বিল বৃদ্ধিও বছরে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত খরচ তৈরি করতে পারে।   পানি সরবরাহের পুরোনো অবকাঠামো সংস্কার, পরিষেবা এলাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং পানি ব্যবস্থার মালিকানা ও পরিচালনার ধরনসহ বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে বিলের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে পানির দাম নিয়ন্ত্রণে অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য সহায়তা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১২:২১
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ডিলান শান আশার চার দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছরের ছাত্র নিখোঁজ, চার দিনেও মেলেনি সন্ধান

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে শিক্ষিকা সেজে স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী গালাগাল, গ্রেপ্তার তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে শিক্ষিকা সেজে স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী গালাগাল, গ্রেপ্তার তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ওপিটি কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপিটিতে ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

সিসিটিভি ফুটেজ সহ দোকান।
মিয়ামিতে বাংলাদেশি মালিকের দোকানে পিকআপ ট্রাক ঢুকে নারী আহত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ফ্লোরিডার মিয়ামি-ডেড কাউন্টির নর্থওয়েস্ট এলাকায় একটি পিকআপ ট্রাক দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়ায় এক নারী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নর্থওয়েস্ট ৭ম অ্যাভিনিউ ও ১১১তম স্ট্রিটের কাছে কুইক স্টপ নামের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশ করা নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পিকআপ ট্রাক হঠাৎ দোকানের সামনের অংশ ভেঙে ভেতরে ঢুকে যায়। ওই সময় দোকানের ভেতরে অন্তত পাঁচজন মানুষ ছিলেন। ঘটনায় দোকানের তাক, পণ্য ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   আহত নারী তখন তার স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দোকানের ভেতরে ছিলেন। তার স্বামী জোসেফ জানান, হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তিনি পেছনে তাকিয়ে দেখেন ট্রাকটি দোকানের ভেতরে ঢুকে গেছে। পরে তিনি তার স্ত্রীকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন এবং জরুরি সহায়তার জন্য ৯১১ নম্বরে ফোন করতে বলেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাক ঢোকার সময় একটি ভিডিও পোকার মেশিন পড়ে ওই নারী আহত হন। মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তার স্বামী পরে জানান, আঘাত জীবন-সংকটাপন্ন নয় বলে তিনি জানতে পেরেছেন।   দুর্ঘটনার পর দোকানের ভেতরের বেশ কিছু পণ্য ও তাক ভেঙে যায়। দোকানের মালিক এমডি হাসান জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার ডলার হতে পারে। তিনি বলেন, দোকানটি তার পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস এবং দ্রুত পরিষ্কার করে আবার ব্যবসা শুরু করার চেষ্টা করছেন।   ট্রাকটির চালক ঘটনাস্থলে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি গাড়িটি পেছনে নেওয়ার চেষ্টা করার সময় সেটি সামনে এগিয়ে দোকানের দিকে চলে যায়। তিনি ধারণা করেছিলেন গাড়িটি রিভার্স গিয়ারে ছিল, কিন্তু পরে বোঝা যায় সেটি ড্রাইভ অবস্থায় ছিল।   মিয়ামি-ডেড শেরিফের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করেন। চালককে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেওয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা ট্রাফিক জরিমানা করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।   দুর্ঘটনার পর দোকানটি পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয়। মালিকের হিসাবে পুরো ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে এবং তিনি পরের সপ্তাহে দোকানটি পুরোপুরি চালু করার আশা করছেন।   মিয়ামি-ডেডে বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় মালিকানাধীন ছোট ব্যবসার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হওয়ায় এমন দুর্ঘটনা কমিউনিটি পর্যায়েও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষ করে দোকান ও রেস্টুরেন্টের মতো ব্যবসা অনেক অভিবাসী পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস হওয়ায় বড় ধরনের সম্পত্তির ক্ষতি তাদের জন্য সরাসরি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।   পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখছে। চালকের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তদন্তের পর তা পরিষ্কার হতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১১:৩২
বাংলাদেশী-আমেরিকান নিহাদ রহমানের নেতৃত্বাধীন ইজিকেটার প্ল্যাটফর্মকে কিনে নিচ্ছে রাইড শেয়ারিং জায়ান্ট উবার। ছবি: সংগৃহীত

২.৩ বিলিয়ন ডলারে উবার কিনছে বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদ রহমানের স্টার্টআপ

বৈধ কাজের অনুমতিসম্পন্ন প্রবাসীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা খাতে দ্রুত কর্মজীবন শুরুর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে বিনা খরচে হোম হেলথ এইড প্রশিক্ষণ, সনদের পর চাকরিরও সুযোগ, জেনে নিন বিস্তারিত

হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলাকে ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ বলে বর্ণনা করেছেন জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

৭ অক্টোবরের ইসরাইলিদের স্মরণ বার্ষিকীতে গাজা নিয়ে ইসরায়েলের কড়া সমালোচনায় মামদানি

অনথিভুক্ত অভিবাসী শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি দেওয়ার নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে মামলার মুখে পড়েছে ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যার। ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ মাইগ্রেন্টসদের টিউশন ১৫ হাজার ডলার, মার্কিন শিক্ষার্থীদের ৪২ হাজার! ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা

অনথিভুক্ত অভিবাসী শিক্ষার্থীদের কম ইন-স্টেট টিউশন দেওয়ার নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ডেলাওয়্যারে বসবাসকারী অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীরা বছরে প্রায় ১৫ হাজার ৭৪০ ডলার টিউশন দিয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও অন্য অঙ্গরাজ্যের মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীদের দিতে হচ্ছে প্রায় ৪২ হাজার ৪৭০ ডলার। এই ব্যবধান ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেছে সরকার।    ১ অক্টোবর দায়ের করা মামলায় জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেসিডেন্সি নীতি এমন শিক্ষার্থীদের ইন-স্টেট টিউশন সুবিধা দেয়, যারা ডেলাওয়্যারে বসবাস করলেও যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে নেই। অন্যদিকে ডেলাওয়্যারের বাইরের কোনো মার্কিন নাগরিক একই কম টিউশন রেট পান না। সরকারের অভিযোগ, এই নীতি ফেডারেল আইনের দুটি পৃথক বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।    জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের মামলায় বলা হয়েছে, ৮ ইউএসসি ১৬২৩(এ) অনুযায়ী কোনো অঙ্গরাজ্য শুধুমাত্র বসবাসের ভিত্তিতে এমন কোনো পোস্টসেকেন্ডারি শিক্ষা সুবিধা অনথিভুক্ত অভিবাসীকে দিতে পারে না, যদি সেই একই সুবিধা অন্য অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত না থাকে। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের নীতিটি ৮ ইউএসসি ১৬২১(ডি)-এর সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।    সরকারি অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারে ডেলাওয়্যার রেসিডেন্ট শিক্ষার্থীর বার্ষিক টিউশন প্রায় ১৫ হাজার ৭৪০ ডলার। বিপরীতে নন-রেসিডেন্ট শিক্ষার্থীর টিউশন প্রায় ৪২ হাজার ৪৭০ ডলার। অর্থাৎ বছরে পার্থক্য প্রায় ২৬ হাজার ৭৩০ ডলার। নন-রেসিডেন্টদের টিউশন রেসিডেন্টদের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৭ গুণ বেশি।    জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের দাবি, যোগ্য অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীরা রেসিডেন্ট হিসেবে কম টিউশন সুবিধা পেতে পারে, কিন্তু ডেলাওয়্যারের বাইরে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীরা একই সুবিধা পায় না। সরকার এই ব্যবস্থাকে ফেডারেল আইনের পরিপন্থী বলে আদালতের কাছে নীতিটির প্রয়োগ বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছে।    মামলায় আদালতের কাছে এমন একটি আদেশ চাওয়া হয়েছে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমান ইন-স্টেট টিউশন নীতি কার্যকর করতে না পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন নতুন কোনো টিউশন নীতিও চালু না করতে বলা হয়েছে, যা অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীদের এমন সুবিধা দেবে যা একইভাবে সব মার্কিন নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত নয়।    ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের অভিযোগটি সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এখনই এর বেশি মন্তব্য করা হবে না বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।    এই মামলা ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর জাতীয় উদ্যোগের অংশ। জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীদের ইন-স্টেট টিউশন সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ২৬টি মামলা করেছে তারা। টেক্সাস, কেনটাকি, ওকলাহোমা, নেব্রাস্কা, ইলিনয় ও কানসাসে একই ধরনের নীতির বিরুদ্ধে আদালত ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষে আদেশ দিয়েছে বলে বিভাগটি জানিয়েছে।    ডেলাওয়্যার মামলায় জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের অ্যাসোসিয়েট অ্যাটর্নি জেনারেল স্ট্যানলি উডওয়ার্ড বলেন, কংগ্রেস অনেক আগেই পরিষ্কার করেছে যে এমন কম টিউশন সুবিধা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের দেওয়া যাবে না, যা সব মার্কিন নাগরিকের জন্য সমভাবে উন্মুক্ত নয়। অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট শুমেটও বলেছেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এমন সুবিধা দিতে পারে না যা অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীকে দেওয়া হচ্ছে কিন্তু মার্কিন নাগরিকদের দেওয়া হচ্ছে না।    তবে মামলাটি এখনো বিচারাধীন এবং আদালত এখনো ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেনি। জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের বক্তব্যগুলো মামলার অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত আইনি জবাব দেয়নি। মামলার পরবর্তী ধাপে আদালত নির্ধারণ করবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন নীতি ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না এবং নীতিটি পরিবর্তন বা স্থগিত করতে হবে কি না।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১০:৩০
ম্যাডিসন কাইলি মনরো

ফোর্ট ওয়ার্থে তরুণী নিখোঁজ, পরিত্যক্ত গাড়ি উদ্ধারের পর নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের উদ্বেগ

দুর্ঘটনা'র স্থান।

নিউ জার্সিতে পুলিশের ধাওয়া শেষে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, শিশুসহ তিনজন হাসপাতালে ভর্তি

যাত্রী বাস ছবি ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।

ডেট্রয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য ডিডিওটি বাসে ফ্রিতে যাতায়াত, দেখাতে হবে আইডি কার্ড

0 Comments