সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বড় আকারের হামলা অব্যাহত রাখার হুমকি দিয়ে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে রাশিয়া। ছবি: সংগৃহীত
কিয়েভে বড় হামলার হুমকি পুতিনের, কূটনীতিকদের শহর ছাড়তে বলল রাশিয়া

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বড় আকারের হামলা অব্যাহত রাখার হুমকি দিয়ে বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের শহর ছাড়তে বলেছে রাশিয়া। শনিবার, ৩ অক্টোবর রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন করে এই সতর্কবার্তা দেয়। কিয়েভের সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা বাড়ানোর মধ্যেই মস্কোর এই ঘোষণা এসেছে।   আরব নিউজে প্রকাশিত এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এর আগেও বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের কিয়েভ ছেড়ে যেতে এবং ইউক্রেন ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সবাই সেই সতর্কবার্তা অনুসরণ করেননি বলে দাবি করেছে মস্কো।    বিবৃতিতে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী বড় আকারের হামলা চালিয়ে যাবে বলে জানানো হয়। মস্কো এসব হামলাকে ‘প্রতিশোধমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সতর্কবার্তা উপেক্ষা করলে বিদেশি নাগরিকেরা প্রাণঘাতী বিপদের মুখে পড়তে পারেন বলেও দাবি করেছে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   শনিবারই কিয়েভের দনিপ্রো নদীর ওপর নর্দার্ন ব্রিজ রুশ বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ভিতালি ক্লিচকো। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া।    এর আগের দুই দিনের হামলায় দনিপ্রো নদীর ওপর কিয়েভের ছয়টি সড়কসেতুর মধ্যে তিনটি পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ করতে হয় বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। রাজধানীর দুই অংশের মধ্যে চলাচলের জন্য এসব সেতু গুরুত্বপূর্ণ।    শুক্রবার মেয়র ক্লিচকো বলেন, সেতু ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে শহরকে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি নিয়ে চলতে হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, বেসামরিক এলাকায় ব্যাপক হামলার অনুমোদন দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধের নিয়ম লঙ্ঘন করছেন। ক্রেমলিন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১১:২১
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাটি অনুসন্ধানের মাধ্যমে আবার সামনে আনা দ্য কর্নেল ডেইলি সানের প্রধান সম্পাদক সোফিয়া দাস। ছবি: সংগৃহীত
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্যাং রেইপের অভিযোগ সামনে আনতে ভূমিকা রাখলেন মুসলিম শিক্ষার্থী সোফিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন অনুসন্ধান চালিয়ে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এনেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন শিক্ষার্থী পত্রিকা দ্য কর্নেল ডেইলি সানের সাংবাদিক সেরিস কুসবা ও প্রধান সম্পাদক সোফিয়া দাসের। গত সেপ্টেম্বরে অভিযোগকারী সাবেক শিক্ষার্থী দেওয়ানি মামলা করার পর পত্রিকাটির প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।    মামলায় নিজের পরিচয় গোপন রাখতে ‘জেন ডো’ নাম ব্যবহার করেছেন ওই নারী। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের অক্টোবরে কর্নেলের চি ফাই ফ্র্যাটারনিটি হাউসে তাঁকে মাদক গ্রহণে বাধ্য করা হয় এবং যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়, ফ্র্যাটারনিটির সংশ্লিষ্ট সংগঠন এবং সাতজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি পক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন তিনি।   কর্নেল ডেইলি সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। সে সময় চি ফাইয়ের কর্নেল শাখাকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।    ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তির পরও অনুসন্ধান চালিয়ে যান কুসবা। সিএনএনকে তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত, অভিযুক্তদের অবস্থান এবং ফৌজদারি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন তিনি। অভিযোগকারী নারী ও তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা নিয়েও তথ্য সংগ্রহ করেন।   এই প্রস্তুতির কারণে দেওয়ানি মামলা দায়েরের পর দ্রুত বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারে পত্রিকাটি। ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত কুসবার প্রতিবেদন জাতীয় পর্যায়ে ঘটনাটির প্রতি মনোযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।    পত্রিকার প্রধান সম্পাদক সোফিয়া দাসেরও বিশ্ববিদ্যালয়ের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে সরব হন। তাঁর নেতৃত্বাধীন সম্পাদকীয় পর্ষদ কর্নেলের ভূমিকার সমালোচনা করে সম্পাদকীয় প্রকাশ করে। পরে কর্নেল কমিউনিটির সদস্যদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে জানানোর আহ্বানও জানান তিনি।   সোফিয়া কর্নেলে কম্পিউটার সায়েন্স ও দর্শন নিয়ে পড়ছেন। নিজের একটি কলামে তিনি মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এই ঘটনায় তাঁর ভূমিকা ছিল সম্পাদক হিসেবে সংবাদ প্রকাশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জবাব চাওয়ার প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেওয়া।    কর্নেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা কয়েক মাস ধরে টাইটেল নাইন তদন্ত চালিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সাসপেনশন ও বহিষ্কারসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ব্যক্তিগত শাস্তির বিস্তারিত প্রকাশ না করার কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা-সংক্রান্ত ফেডারেল আইনের কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। শুধু প্রবন্ধ লিখিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে, এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে তারা।    এদিকে ফৌজদারি তদন্ত পুনরায় চালুর পর নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য। ১ অক্টোবর গভর্নর ক্যাথি হোকুল অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের দপ্তরকে বিশেষ প্রসিকিউটর হিসেবে তদন্তের দায়িত্ব দেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরও নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।    অভিযুক্তদের কয়েকজন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দেওয়ানি মামলার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত এবং ফৌজদারি আদালতে অপরাধ প্রমাণ পৃথক বিষয়। সাতজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি; মামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১১:৫
সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার ফার্স্ট ভাইস মিনিস্টার পার্ক ইউন-জুর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশের উদ্যোগ

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ২ অক্টোবর সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি। বাংলাদেশ চুক্তিটি দ্রুত সম্পন্ন ও স্বাক্ষরের আশা প্রকাশ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এই চুক্তি নিয়ে পঞ্চম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দুই দেশ চুক্তির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা আরও এগিয়ে নিয়েছে। সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্ক ইউন-জু এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী লি ডু-হির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন হুমায়ুন কবির। বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে আরও বেশি বিনিয়োগ চেয়েছে। বিশেষ করে অর্ধপরিবাহী প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য, জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল, উচ্চমানের তৈরি পোশাক এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে কোরীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পণ্য সরবরাহব্যবস্থা, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সেবা খাতেও সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশি পণ্যের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় তুলে ধরা হয়। কর্মসংস্থানও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মসংস্থান অনুমতি ব্যবস্থার মাধ্যমে আরও বেশি দক্ষ ও আধাদক্ষ বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের প্রস্তাব ছিল বিস্তৃত। দুই পক্ষ সামরিক প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে। বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সদস্যদের বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণও জানিয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ জানিয়েছে যে দেশে একটি প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুযোগ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং শিল্প সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়াও বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশটি প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ পারস্পরিকভাবে সম্মত বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতার সুযোগ খুঁজে দেখার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। এদিকে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সার্বিকভাবে, সাম্প্রতিক আলোচনায় বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে বিনিয়োগ নেওয়া নয়; বরং বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিল্প, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ—একাধিক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা বাড়ানো। তবে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি এখনো চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়নি। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১০:৪৮
ক্যানসার আক্রান্ত চার সন্তানের বাবা কাইলার হেস ও তাঁর পরিবার এবং ইনসেটে নিঃস্বার্থ লিভার দাতা অ্যাবি কনলি। ছবি: সংগৃহীত
চার সন্তানের ক্যানসার আক্রান্ত বাবাকে নিজের লিভার দান করলেন এক অপরিচিত নারী, হতবাক পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়ায় চতুর্থ পর্যায়ের কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্ত চার সন্তানের বাবা কাইলার হেসের জন্য নিজের লিভারের অংশ দান করেছেন অ্যাবি কনলি নামের এক নারী। তাঁদের আগে ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাইলারের অসুস্থতার কথা জেনে ডোনার হওয়ার পরীক্ষা করান অ্যাবি। প্রতিস্থাপনের পর দুজনই সেরে উঠছেন বলে ৩০ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে পিপল।    আইওয়ার পোল্ক সিটির বাসিন্দা কাইলারের ক্যানসার লিভারে ছড়িয়ে পড়েছিল। সিটি স্ক্যানে সেখানে ১৫টির বেশি টিউমার ধরা পড়ে। পরে মিনেসোটার রচেস্টারে চিকিৎসা নিতে যান তিনি। কয়েক মাসের চিকিৎসায় টিউমারগুলো ছোট হতে শুরু করলে লিভার প্রতিস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়।   অ্যাবির সন্তান ও কাইলারের সন্তানরা একই স্কুলে পড়ে। অনলাইনে এই পরিবারের পরিস্থিতি অনুসরণ করছিলেন অ্যাবি। সাহায্য করার ইচ্ছা থেকে তিনি মায়ো ক্লিনিকে পরীক্ষা করান এবং ডোনার হিসেবে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হন।   অ্যাবির নিজের পরিবারেও প্রতিস্থাপনের অপেক্ষার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর বাবা লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন এবং ২০২১ সালে মারা যান। বাবার সেই অভিজ্ঞতা কাইলারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে।    ডোনার পাওয়া গেছে জানলেও শুরুতে তাঁর পরিচয় জানতেন না কাইলার ও তাঁর স্ত্রী এমিলি। এমিলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অজ্ঞাত দাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পরে অ্যাবি চিঠি দিয়ে নিজের পরিচয় প্রকাশ করেন। অস্ত্রোপচারের আগেই দুই পরিবারের মধ্যে যোগাযোগ হয়।   পিপলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিস্থাপনের পর কাইলার ও অ্যাবি দুজনই সুস্থ হওয়ার পথে রয়েছেন। চিকিৎসার সময় থাকার খরচ মেটাতে হেস পরিবার তহবিল সংগ্রহও শুরু করেছে।    মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, লিভার পুনরায় বেড়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে বলে সুস্থ জীবিত ব্যক্তি এর একটি অংশ দান করতে পারেন। তবে ডোনার ও গ্রহীতার উপযুক্ততা নির্ধারণে বিস্তারিত পরীক্ষা প্রয়োজন।    কোলোরেক্টাল ক্যানসার লিভারে ছড়িয়ে পড়া কিছু নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপন বিবেচনা করা হয়। মায়ো ক্লিনিক জানিয়েছে, ক্যানসার শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়েছে কি না এবং প্রচলিত অস্ত্রোপচারে তা সরানো সম্ভব কি না, এসব বিষয় সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ। তাই কাইলারের প্রতিস্থাপনকে সম্পূর্ণ ক্যানসারমুক্ত হওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১০:৪০
নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লটে বাড়িতে গুলিবর্ষণে নিহত চার বছরের শিশু কেলেব ফ্ল্যাক্স ও গ্রেপ্তারকৃত প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্ত টেরেন্স জ্যাকসন। ছবি: সংগৃহীত
নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় গুলির আঘাতে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু, কিশোর সহ ৫ গ্রেফতার

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লটে চারটি বাড়িতে গুলিবর্ষণের সময় নিজের বিছানায় ঘুমন্ত চার বছরের শিশু কেলেব ফ্ল্যাক্স নিহত হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত প্রায় ৩টার ওই ঘটনায় আরেকজন প্রাপ্তবয়স্ক আহত হন। তদন্তে চার কিশোর ও একজন প্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তারের কথা ১ অক্টোবর জানিয়েছে শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্র্যাসি প্যাচ লেনের ঘটনাস্থলে পৌঁছে অফিসাররা একাধিক বাড়িতে গুলির চিহ্ন এবং দুজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পান। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় চার ঘণ্টা পর কেলেবকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত অপর ব্যক্তির আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।    আদালতের নথি ও পুলিশের বক্তব্যের ভিত্তিতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউবিটিভি জানিয়েছে, দুটি চুরি করা গাড়ি হেডলাইট বন্ধ করে ওই এলাকায় আসে। এরপর সাতজন সশস্ত্র সন্দেহভাজন গাড়ি থেকে নেমে এক মিনিটেরও কম সময়ে অন্তত ৮৪ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। চারটি বসতবাড়ির পাশাপাশি পার্ক করে রাখা তিনটি গাড়িও গুলিবর্ষণের শিকার হয়।   ২ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, হামলায় জড়িত সাতজনই কিশোর বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগের দিনের একটি গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রতিশোধ নিতে এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা। তবে ঘটনার উদ্দেশ্য ও প্রত্যেকের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছে।    গ্রেপ্তার চার কিশোরের মধ্যে দুজনের বয়স ১৬ এবং দুজনের ১৭ বছর। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মানুষ থাকা বাড়িতে গুলি ছোড়া এবং অপরাধের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।   গ্রেপ্তার অপর ব্যক্তি ২২ বছরের টেরেন্স জ্যাকসন। তাঁর বিরুদ্ধে ঘটনার পর অভিযুক্তকে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে। আদালতের নথির ভিত্তিতে ডব্লিউবিটিভি জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত একটি চুরি করা গাড়ি সরিয়ে বিক্রি করতে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।    পুলিশ প্রধান এস্টেলা ডি. প্যাটারসন বলেছেন, কেলেবের নিজের বিছানায় নিরাপদ থাকার কথা ছিল। ঘটনায় দায়ী সবাইকে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।   পুলিশের হিসাবে, গুলিবিদ্ধ দুজন ছাড়াও হামলার সময় বাড়িগুলোতে আরও নয়জন প্রাপ্তবয়স্ক ও পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল। তারা আহত হয়নি। তদন্তে সহায়তার জন্য প্রত্যক্ষদর্শী ও তথ্য জানা ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১০:১৮
বারমুডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনে যাওয়ার পথে ছয় আরোহীসহ একটি বিমান নিখোঁজ হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বস্টনগামী বিমান ছয় আরোহীসহ নিখোঁজ, সমুদ্রে কোস্ট গার্ডের তল্লাশি

বারমুডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনে যাওয়ার পথে ছয় আরোহীসহ একটি বিমান নিখোঁজ হয়েছে। শনিবার, ৩ অক্টোবর ভোরে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ম্যাসাচুসেটসের ন্যানটাকেট উপকূলের কাছে আকাশ ও সমুদ্রপথে অনুসন্ধান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড।   কোস্ট গার্ডের নর্থইস্ট ডিস্ট্রিক্টের তথ্যের ভিত্তিতে পিপল জানিয়েছে, নিখোঁজ বিমানটি গালফস্ট্রিম জি১০০ মডেলের। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ২টায় ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএএ যোগাযোগ হারানোর বিষয়টি কোস্ট গার্ডকে জানায়।    নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বিমানটির রাত ১টা ২৫ মিনিটে অবতরণের কথা ছিল। এর প্রায় দুই মিনিট আগে শেষবার অবস্থানের সংকেত পাওয়া যায়।   একই তথ্য অনুযায়ী, রাত ১টা ৪ মিনিট থেকে তিন মিনিটের মধ্যে বিমানটির উচ্চতা ২৩ হাজার ৫০০ ফুট থেকে ১১ হাজার ফুটে নেমে আসে। তবে উচ্চতা কমার কারণ বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সঙ্গে এর সম্পর্ক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি।    অনুসন্ধানে কোস্ট গার্ডের কেপ কড এয়ার স্টেশন, ন্যানটাকেটের ব্র্যান্ট পয়েন্ট স্টেশন এবং উইলিয়াম স্পার্লিং নামের একটি টহলজাহাজ অংশ নিচ্ছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিমানটির অবস্থান কিংবা ছয় আরোহীর অবস্থা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণও জানা যায়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১০:৫
নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি বা এমটিএর তিনটি সংস্থায় বাস অপারেটর পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে এমটিএর বাস অপারেটর পদে আবেদন চলছে, জেনে নিন আবেদনের যোগ্যতা

নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি বা এমটিএর তিনটি সংস্থায় বাস অপারেটর পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ হালনাগাদ করা সরকারি তালিকা অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিট, ম্যানহাটন অ্যান্ড ব্রঙ্কস সারফেস ট্রানজিট অপারেটিং অথরিটি বা ম্যাবস্টোয়া এবং এমটিএ বাস কোম্পানির পদগুলো শূন্যপদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত খোলা থাকবে। আবেদনকারীদের কমার্শিয়াল ড্রাইভার লাইসেন্স বা সিডিএল, অথবা সংশ্লিষ্ট লার্নার পারমিট থাকতে হবে।    বর্তমান তালিকায় ম্যাবস্টোয়ার বাস অপারেটর পদের নম্বর ৬১২১ এবং এমটিএ বাস কোম্পানির নম্বর ৬৩২১। নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিটের অস্থায়ী বা প্রভিশনাল বাস অপারেটর পদের নম্বর ৬০১২। ফলে আগের বিজ্ঞপ্তির ৫১০১ বা ৫৩০১ নম্বর দিয়ে বর্তমান নিয়োগের তথ্য খোঁজার পরিবর্তে হালনাগাদ পদের নম্বর অনুসরণ করতে হবে।    বেতনের ক্ষেত্রেও সংস্থা ও বিজ্ঞপ্তিভেদে তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। এমটিএর নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিটের ৬৬০৯ নম্বর পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজের জন্য প্রারম্ভিক বেতন ঘণ্টায় ২৮ দশমিক ৭৬ ডলার এবং চাকরির ষষ্ঠ বছরে ৪১ দশমিক ০৯ ডলার উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই পরীক্ষার আবেদনপর্ব ২০২৫ সালের নভেম্বরেই শেষ হয়েছে। তাই সেই বেতনহারকে বর্তমানে খোলা সব পদের নিশ্চিত বেতন হিসেবে ধরা যাবে না।    একই বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পূর্ব অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুবিধার মধ্যে রয়েছে রাত ও সপ্তাহান্তে কাজের বাড়তি ভাতা, পেইড হলিডে, ভ্যাকেশন, সিক লিভ, মেডিকেল ও পেনশন প্ল্যান। বর্তমানে খোলা পদের জন্য এসব শর্ত সংশ্লিষ্ট চাকরির বিবরণ থেকে নিশ্চিত করতে হবে।    নিয়োগের আগে পরিচয় ও যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার বৈধ অধিকার প্রমাণ করতে হয়। এই শর্তকে শুধু নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলা ঠিক নয়। এমটিএর বিজ্ঞপ্তিতে ইংরেজিতে বুঝতে ও যোগাযোগ করতে পারা এবং বাস অপারেটর ট্রেনিং সফলভাবে শেষ করার শর্তও রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দা হওয়া বাধ্যতামূলক নয় বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।    চাকরির ধরনেও পার্থক্য রয়েছে। ম্যাবস্টোয়া ও এমটিএ বাস কোম্পানির বাস অপারেটররা সুবিধা ও ইউনিয়ন প্রতিনিধিত্ব পেলেও পদ দুটি সিভিল সার্ভিস পদ নয়। অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিটের প্রভিশনাল পদে স্থায়ী হতে সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাস করে নির্বাচিত তালিকা থেকে নিয়োগ পেতে হবে।    আগ্রহীরা এমটিএর ক্যারিয়ার বিভাগের বর্তমান পরীক্ষার তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট বাস অপারেটর পদ বেছে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন জমা দেওয়ার আগে পদের বেতন, লাইসেন্সের শর্ত, পরীক্ষার ধরন ও প্রযোজ্য ফি পড়তে বলেছে কর্তৃপক্ষ। আবেদন করলেই নিয়োগ নিশ্চিত হবে না; সংশ্লিষ্ট বাছাই ও নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৯:৫৭
যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি.ফিল প্রোগ্রামে যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
মানিকগঞ্জের গ্রাম থেকে অক্সফোর্ডের গবেষণাগারে: নতুন অধ্যায়ে বিজ্ঞানী উজ্জ্বল

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়ার জিনোম ও ওষুধ প্রতিরোধক্ষমতা নিয়ে গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন। মানিকগঞ্জের বেংরোয়া গ্রামের এই গবেষক যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিষয়ে ডি.ফিল প্রোগ্রামে যোগ দিচ্ছেন। আরটিভির ১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর থেকে তাঁর গবেষণা কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে।    উজ্জ্বলের গবেষণায় গুরুত্ব পাবে জীবাণুর জিনোমিক্স, ব্যাকটেরিয়ার বিবর্তন এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স। মেশিন লার্নিং ও ডিপ লার্নিংয়ের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়ার জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে ওঠার প্রবণতা শনাক্ত ও পূর্বাভাস দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করবেন তিনি।    অক্সফোর্ডের পাশাপাশি কেমব্রিজ ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকেও গবেষণার প্রস্তাব পেয়েছিলেন উজ্জ্বল। নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী স্যার পিটার র‍্যাটক্লিফের গবেষণাগার থেকেও ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জীববিজ্ঞানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ নিয়ে নিজের দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহকে অগ্রাধিকার দিয়ে অক্সফোর্ডের এই গবেষণা বেছে নেন।     তাঁর গবেষণাটি প্রায় ২০০ কোটি টাকা সমমূল্যের একটি বৃহৎ প্রকল্পের অংশ। এতে তিনটি মহাদেশের গবেষকদের সহযোগিতায় কাজ হওয়ার কথা রয়েছে।    উজ্জ্বল বর্তমানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির বায়োইনফরমেটিক্স বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছে আরটিভি। তিনি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। এর আগেও অক্সফোর্ডে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন তিনি।    দেশের গবেষণার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার নজির রয়েছে প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক কাজেও। বাংলাদেশে শনাক্ত করোনাভাইরাসের জিনোম ও জিনগত পরিবর্তন নিয়ে একটি গবেষণাপত্রে তাঁর নাম রয়েছে। রয়্যাল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রির প্রকাশনায় সেই গবেষণায় তাঁর প্রতিষ্ঠান হিসেবে অক্সফোর্ডের ফার্মাকোলজি বিভাগের উল্লেখ পাওয়া যায়।    উচ্চতর গবেষণা শেষে দেশে ফিরে জাতীয় পর্যায়ে জিনোমিক তথ্যের অবকাঠামো গড়ে তুলতে চান উজ্জ্বল। পাশাপাশি দেশের গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বায়োইনফরমেটিক্সের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে তাঁর।  সূত্র: আর টিভি

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৯:৩৫
ক্যালিফোর্নিয়ার নার্স মরিন ওয়ানজিরুকে দুই দশক যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর কেনিয়ায় ফেরত পাঠিয়েছে আইসিই। ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনার মধ্যেই নার্সকে ডিপোর্ট করল আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দুই দশক বসবাসের পর কেনিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার নার্স ও দুই সন্তানের মা মরিন ওয়ানজিরু এনগুরেকে। পরিবারের সঙ্গে কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও সান ফ্রান্সিসকোয় আইসিইর কার্যালয়ে নির্ধারিত সাক্ষাতে গিয়ে আটক হন তিনি। নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক মাসের বেশি আটক থাকার পর ২২ সেপ্টেম্বর তাঁকে কেনিয়ায় পাঠানো হয়।    এনগুরে ২০০৬ সালের নভেম্বরে স্টুডেন্ট ভিসায় বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। পরে ক্যালিফোর্নিয়ায় নার্স হিসেবে কর্মজীবন গড়ে তোলেন। তিনি মার্টিনেজের কন্ট্রা কস্টা কাউন্টি রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে কাজ করেছেন এবং কাউন্টির করোনাভাইরাস মোকাবিলার কার্যক্রমেও অংশ নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।    তাঁর স্বামী পিটার মুচেন্দু সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপোর্টেশন অভিযানের মধ্যে জানুয়ারি থেকেই তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিকল্পনা করছিলেন। আটকের আগেই পরিবারটি কানাডাকে বেছে নেয়। নিউজউইকের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় স্বাস্থ্যসেবা খাতে চাকরির সুযোগও পেয়েছিলেন এনগুরে।    তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বক্তব্য, এনগুরে স্টুডেন্ট ভিসায় অনুমোদিত থাকার সময় অতিক্রম করেছিলেন। বিভাগের দাবি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একজন অভিবাসন বিচারক তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ দেন। তাঁকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে বলে পরিবার ও সমর্থকদের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে কর্তৃপক্ষ।    এনগুরের আইনজীবী রেজিন ডুপুই নিউজউইককে জানিয়েছেন, তাঁকে ফেরত পাঠানোর পর স্বামী ও দুই সন্তানও কেনিয়ায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। পরিবারটি এখন পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। কানাডায় স্থানান্তরের সম্ভাবনাও তাঁদের বিবেচনায় রয়েছে, তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৯:২৮
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের গাড়ি দিয়ে বাড়তি আয়ের অন্যতম একটি বিকল্প মাধ্যম অ্যামাজন ফ্লেক্স। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় উবারের বিকল্প ডেলিভারি জব, আয় হয় দ্বিগুণ! জানুন বিস্তারিত

যুক্তরাষ্ট্রে নিজের গাড়ি দিয়ে বাড়তি আয়ের একটি বিকল্প অ্যামাজন ফ্লেক্স। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে অধিকাংশ ড্রাইভার ঘণ্টায় ১৮ থেকে ২৫ ডলার আয় করেন। তবে এলাকা, ডেলিভারিতে লাগা সময় ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর প্রকৃত আয় নির্ভর করে। উবার ছেড়ে প্যাকেজ ডেলিভারি করলেই আয় দ্বিগুণ হবে, এমন নিশ্চয়তা এই তথ্য দেয় না।    অ্যামাজন ফ্লেক্সে ড্রাইভাররা স্বাধীন কন্ট্রাক্টর হিসেবে নিজের গাড়িতে প্যাকেজ পৌঁছে দেন। অ্যাপে নির্দিষ্ট সময়ের কাজ বেছে নিতে হয়, যাকে বলা হয় ডেলিভারি ব্লক। অ্যামাজনের সাধারণ প্যাকেজ ডেলিভারির ব্লক সাধারণত তিন থেকে ছয় ঘণ্টার। ব্লক গ্রহণের আগেই নির্ধারিত পারিশ্রমিক জানা যায়।   এই ব্যবস্থায় সুবিধা হলো, ড্রাইভার নিজের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে উপলব্ধ কাজ বেছে নিতে পারেন। অ্যামাজনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ব্লকের সময়, প্যাকেজের সংখ্যা, গন্তব্য এবং ট্রাফিকসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় ডেলিভারি রুট তৈরি করা হয়। তবে নিজের সুবিধামতো সময় বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও সেই সময়ে কাজ পাওয়া নির্ভর করে অ্যাপে ব্লকের প্রাপ্যতার ওপর।    ঘণ্টাপ্রতি পারিশ্রমিক আর খরচ বাদে হাতে থাকা অর্থ এক নয়। প্যাকেজ ডেলিভারির আয় হিসাব করতে গ্যাস, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, ইন্স্যুরেন্স এবং প্রযোজ্য অন্যান্য খরচ বিবেচনায় নিতে হবে। প্যাকেজ সংগ্রহের জায়গায় যাওয়া, ডেলিভারি শেষ করা এবং ফেরার মোট সময়ও হিসাবের অংশ। একই পারিশ্রমিকের ব্লকে দূরত্ব ও সময় বেশি লাগলে কার্যকর আয় কমে যেতে পারে।   উবারের সঙ্গে তুলনার ক্ষেত্রেও একই হিসাব ব্যবহার করা জরুরি। একটির খরচ বাদ দেওয়ার আগের আয় এবং অন্যটির খরচ বাদে হাতে থাকা অর্থ তুলনা করলে লাভের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় না। জাতীয় পর্যায়ের গড় আয় দিয়েও নিউইয়র্কের কোনো নির্দিষ্ট ড্রাইভারের আয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।   গিগ কাজের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্রিডওয়াইজের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের প্রকাশ্য সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রধান রাইডশেয়ার ও ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলোতে ঘণ্টাপ্রতি আয় মোটামুটি স্থির ছিল। কোনো কোনো প্ল্যাটফর্মে সামান্য বৃদ্ধি হলেও অন্যগুলোতে কিছুটা কমেছে। ফলে শুধু কাজের ধরন বদলালেই বড় অঙ্কের আয় বাড়বে, এমন সিদ্ধান্তের ভিত্তি নেই।    নিউইয়র্কের ড্রাইভারদের জন্য ইন্স্যুরেন্সের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অ্যামাজনের নির্দেশনা অনুযায়ী, অন্য রাজ্যে সক্রিয় ডেলিভারি ব্লকের সময় কোম্পানির দেওয়া যে কমার্শিয়াল অটো ইন্স্যুরেন্স প্রযোজ্য, তা নিউইয়র্কে প্রযোজ্য নয়। সেখানে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কভারেজ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স লাগতে পারে। কাজ শুরুর আগে নিজের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে কভারেজ যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে অ্যামাজন।   আবেদনের জন্য বয়স অন্তত ২১ বছর, বৈধ যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাইভার লাইসেন্স, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, উপযুক্ত গাড়ি, প্রয়োজনীয় অটো ইন্স্যুরেন্স এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হয়। সাধারণ প্যাকেজ ডেলিভারির জন্য চার দরজার মাঝারি আকারের সেডান বা বড় গাড়ি প্রয়োজন। আবেদনকারীকে ব্যাকগ্রাউন্ড চেকও পাস করতে হয়।   অ্যামাজন ফ্লেক্স অ্যাপের মাধ্যমে নিজের এলাকায় সুযোগ আছে কি না দেখা যায়। নতুন ড্রাইভার নেওয়া বন্ধ থাকলে আগ্রহীদের অপেক্ষার তালিকায় থাকতে হতে পারে। তাই যোগ্যতা পূরণ করলেই সঙ্গে সঙ্গে কাজ পাওয়া নিশ্চিত নয়।    নিজের গাড়ি দিয়ে আয় করতে চাওয়া ব্যক্তিদের জন্য প্যাকেজ ডেলিভারি একটি বিবেচনাযোগ্য বিকল্প। তবে উবার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কয়েকটি ব্লকের মোট পারিশ্রমিক, যাতায়াতের সময়, মাইলেজ ও খরচ মিলিয়ে হিসাব করলেই বোঝা যাবে, নিজের এলাকায় কোন কাজটি বেশি লাভজনক।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৯:১৪
রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়াম, কঠোর নিরাপত্তায় চলছে পরিবহন
রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়াম, কঠোর নিরাপত্তায় চলছে পরিবহন

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান শনিবার দুপুরে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।    ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার রাত প্রায় ১১টা ৪৪ মিনিটে বিশেষ কার্গো বিমানে ইউরেনিয়াম চালানটি পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শনিবার সকাল প্রায় ৭টা ১৫ মিনিটে তিনটি লরিতে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পাবনার রূপপুরের উদ্দেশে চালানটি রওনা হয়।    পরিবহনের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন। রাশিয়া থেকে আসা বিশেষজ্ঞদের একটি দলও চালানের সঙ্গে ছিল। দুপুর প্রায় ১২টা ২৫ মিনিটে তিনটি ইউরেনিয়ামবাহী লরি রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছে।   এটি রূপপুর প্রকল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।   প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট সাতটি ইউরেনিয়াম চালান এবং প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃসংযোজনের জন্য আরও দুটি চালান আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব চালান ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা।    চালানটি এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় এর আগমন পিছিয়ে যায়। পরে নতুন ব্যবস্থায় এটি বাংলাদেশে পৌঁছায়।    রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ার সহায়তায় দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে এবং এর আনুমানিক ব্যয় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।    এদিকে প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি রিঅ্যাক্টর সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উচ্চচাপ ব্যবস্থার ১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৮:৩
ডেঙ্গুর ভয়াবহ থাবা
ডেঙ্গুর ভয়াবহ থাবা, বাংলাদেশে মৃত্যু ২৫০ ছাড়াল; অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা

বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সরকারি হিসাবে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ২৫০ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৮২ হাজার ৭০০।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ওই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন আরও ১ হাজার ১৬৩ জন।   সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে সেপ্টেম্বরের পরিস্থিতি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন। বছরের অন্য মাসগুলোর তুলনায় সেপ্টেম্বরেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল।    চলতি বছরের শুরু থেকে মে মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। সেপ্টেম্বরে এক লাফে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৮ জনে। এর ফলে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৮২ হাজার ৭৬১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৬ হাজার ৮৬২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।    বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলেও ডেঙ্গুর চাপ রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা ওই দিনের বিভাগভিত্তিক হিসাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।    বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো আবহাওয়া। সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণে এডিস মশার প্রজননের পরিবেশ দীর্ঘায়িত হতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশারের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, পূর্বাভাস অনুযায়ী অক্টোবরেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।   বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। বৃষ্টির পর মশার প্রজনন এবং মানুষের মধ্যে সংক্রমণ বাড়তে কিছুটা সময় লাগতে পারে। ফলে সেপ্টেম্বরের বৃষ্টির প্রভাব অক্টোবরেও ডেঙ্গুর সংক্রমণে দেখা যেতে পারে।   এডিস মশা শুধু বড় শহরকেন্দ্রিক সমস্যা নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এর বিস্তার ঘটেছে বলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। তাই শুধু রাস্তা বা এলাকায় কীটনাশক ছিটানোর ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর জোর দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।    বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলা, ফুলের টব, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র ও অন্যান্য জায়গায় পানি জমতে না দেওয়া ডেঙ্গু প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ইতিহাসও পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ওই বছর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৩ লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষ। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য খাতে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।    তবে চলতি বছরের ২৫০ মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। এটি ২ অক্টোবর পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরকারি হিসাবে পাওয়া সংখ্যা। তাই পরবর্তী স্বাস্থ্য বুলেটিনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।    এদিকে একই সময়ে বাংলাদেশে আরেকটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে হাম পরিস্থিতিও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছে। রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি বছরে হামের নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ২১ হাজারের বেশি এবং সন্দেহভাজন বা হামসদৃশ অসুস্থতায় চিকিৎসা নেওয়া মানুষের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ফলে একই সময়ে একাধিক রোগের চাপ সামলাতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।    অক্টোবর বাংলাদেশের জন্য ডেঙ্গু মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ সময় হয়ে উঠেছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক পর্যায়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জ্বরসহ ডেঙ্গুর সম্ভাব্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সংক্রমণ ও গুরুতর জটিলতা কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৭:৫৯
বাংলাদেশি নাগরিক আবু সালেহ
টেনেসিতে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণায় বাংলাদেশি আবু সালেহ গ্রেফতার

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মকর্তা পরিচয়ে এক প্রবীণের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নগদ অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে বাংলাদেশি নাগরিক আবু সালেহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জর্জিয়ার আটলান্টার বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সী সালেহকে বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ক্রসভিলের একটি ম্যাকডোনাল্ডসের পার্কিং লট থেকে আটক করেন তদন্তকারীরা। কারাগারের নথিতে তাঁর নাগরিকত্ব বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।    কাম্বারল্যান্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী এর আগে দুই দফায় মোট ৫১ হাজার ডলার তুলে দিয়েছিলেন। পরে আরও ১৪ হাজার ডলার সংগ্রহের জন্য আসা ব্যক্তিকে ধরতে অভিযান সাজান তদন্তকারীরা। সালেহ ওই অর্থ রয়েছে মনে করে একটি সাজানো নগদ প্যাকেট সংগ্রহ করার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।    তদন্তকারীদের ভাষ্য, এক ব্যক্তি ফোন করে নিজেকে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ফেডারেল কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগীর সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর ফাঁস হয়েছে, কম্পিউটার হ্যাক হয়েছে এবং তাঁর ব্যাংকের একজন কর্মী হ্যাকারদের সহায়তা করছেন। এরপর নতুন ল্যাপটপ কিনে সেটিতে দূর থেকে প্রবেশের অনুমতি দিতে এবং অর্থ নিরাপদে রাখার নামে নগদ টাকা একজন কুরিয়ারের হাতে তুলে দিতে বলা হয়।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউভিএলটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়ার পর ২৮ সেপ্টেম্বর তদন্ত শুরু করে শেরিফের কার্যালয়। অভিযানে টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সাইবারক্রাইম ইউনিটও সহায়তা করে।    সালেহর বিরুদ্ধে ১০ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের সম্পত্তি চুরি, একই ধরনের চুরির চেষ্টা এবং প্রবীণ ব্যক্তির আর্থিক শোষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। জর্জিয়ায় একই ধরনের অর্থ সংগ্রহের অভিযোগসংক্রান্ত একটি গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাঁর মোট বন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার।    কারাগারের নথিতে ১ অক্টোবর তাঁর নামে আইসিই হোল্ড যুক্ত হওয়ার তথ্য রয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবর কাম্বারল্যান্ড কাউন্টি জেনারেল সেশনস কোর্টে তাঁর হাজির হওয়ার কথা। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৭:৫০
গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী আনতে করতে হবে ৪বছর  অপেক্ষা
গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী আনতে করতে হবে ৪বছর অপেক্ষা, জেনে নিন বুলেটিন

গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এফ২এ ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। এটি পারিবারিক অগ্রাধিকারভিত্তিক ক্যাটাগরি, যেখানে বার্ষিক ভিসাসংখ্যার সীমা রয়েছে। তাই আই-১৩০ পিটিশন অনুমোদন পেলেই ভিসা পাওয়া নিশ্চিত হয় না; ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতা এবং পরবর্তী প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হয়।    অক্টোবরের বুলেটিনে এফ২এ ক্যাটাগরির ডেটস ফর ফাইলিং তালিকা কারেন্ট রয়েছে। তবে নথি জমা দেওয়ার সুযোগ এবং চূড়ান্ত ভিসা দেওয়ার যোগ্যতা আলাদা বিষয়। ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার বা এনভিসির নির্দেশনা অনুযায়ী নথি জমা দিতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কোন তালিকা ব্যবহার করা যাবে, তা ইউএসসিআইএস নির্ধারণ করে।    অপেক্ষার সময় বোঝার ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। ইউএসসিআইএসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রসেসিং টাইম সাধারণত আগের ছয় মাসে নিষ্পত্তি হওয়া ৮০ শতাংশ কেস সম্পন্ন করতে কত সময় লেগেছে, তা দেখায়। এটি প্রতিটি নতুন আবেদনের নির্ধারিত সময় বা গড় সময় নয়। আবেদন কোন দপ্তরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং কেসের পরিস্থিতি অনুযায়ী সময় বদলাতে পারে।    মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরিতে পড়েন। তাঁদের জন্য এফ২এ-এর মতো বার্ষিক ভিসা কোটার অপেক্ষা নেই। তবে পিটিশন যাচাই, প্রয়োজনীয় নথি, ইন্টারভিউ এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। ফলে বাংলাদেশ থেকে আবেদন করলেই ১৬ থেকে ২৪ মাসে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে আবেদন করলেই ৯ থেকে ১২ মাসে প্রক্রিয়া শেষ হবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।    গ্রিন কার্ডধারী আবেদনকারী পরে মার্কিন নাগরিক হলে স্বামী বা স্ত্রীর পিটিশন ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে। এজন্য কেসের অবস্থান অনুযায়ী ইউএসসিআইএস বা এনভিসিকে নাগরিকত্ব পাওয়ার তথ্য ও প্রমাণ জানাতে হয়। এতে কোটাভিত্তিক অপেক্ষা দূর হতে পারে, তবে নির্দিষ্টসংখ্যক বছর সময় বাঁচবে বলা যায় না।    নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে। সাধারণ নিয়মে অন্তত পাঁচ বছর গ্রিন কার্ডধারী থাকা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসসহ অন্যান্য শর্ত রয়েছে। তাই পরিবারের পুনর্মিলনের পরিকল্পনায় নিজের নাগরিকত্বের যোগ্যতা, পিটিশনের অবস্থা এবং সর্বশেষ ভিসা বুলেটিন একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৭:৩৯
ট্রাম্পের নৈশভোজে ডা. জুবাইদাসহ অংশ নেওয়ার ছবি প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ট্রাম্পের নৈশভোজে ডা. জুবাইদাসহ অংশ নেওয়ার ছবি প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ অংশ নেওয়ার একটি ছবি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার, ৩ অক্টোবর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করেন তিনি। ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিটি গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত নৈশভোজের।   জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের স্বামী বা স্ত্রীদের সম্মানে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। স্থানীয় সময় ২২ সেপ্টেম্বর রাতে ম্যানহাটনের লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে নৈশভোজটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান অংশ নেন।    প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে প্রকাশিত ইউএনবির প্রতিবেদনেও ২২ সেপ্টেম্বর ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে তাঁর অংশ নেওয়ার কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছিল। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে তিনি নিউইয়র্ক সফর করেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৭:১৯
এবার অনলাইনে হবে বিয়ে-তালাক নিবন্ধন! বন্ধ হবে গোপন বিয়ে ও বাল্যবিবাহ?
এবার অনলাইনে হবে বিয়ে-তালাক নিবন্ধন! বন্ধ হবে গোপন বিয়ে ও বাল্যবিবাহ?

বাংলাদেশে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থায় বড় ধরনের ডিজিটাল পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে দেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার, ৩ অক্টোবর রাজধানীর নিকেতনে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের জন্য আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। কর্মসূচির বিষয় ছিল অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের সফটওয়্যার ব্যবহারের নিয়ম।    আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ডিজিটাল নিবন্ধন চালু হলে একজন ব্যক্তি আগে কোথাও বিয়ে করেছেন কি না, তা সহজেই যাচাই করা যাবে। একইভাবে তথ্য গোপন করে কেউ একাধিক বিয়ে করার চেষ্টা করলে নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে সেটিও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।   এই ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিবাহের তথ্যকে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা। ফলে একজন ব্যক্তির পরিচয় ও বৈবাহিক অবস্থার তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ আরও সহজ হবে।    আইনমন্ত্রী বলেছেন, কোনো ব্যক্তিকে আগে থেকেই বিবাহিত হিসেবে পাওয়া গেলে পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা সম্ভব হবে। এর ফলে অননুমোদিত বহুবিবাহ ও তথ্য গোপনের ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।    বাল্যবিবাহ ঠেকানোর ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। কারণ জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য যুক্ত হলে বয়স যাচাইয়ের সুযোগ বাড়বে। ফলে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।   তবে পুরো দেশজুড়ে ব্যবস্থা চালুর আগে নির্দিষ্ট এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর আগে আইন ও বিচার বিভাগের প্রকল্পের আওতায় ১০টি জেলার ১০টি উপজেলার ১০২টি ইউনিয়নে ডিজিটাল বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। নির্বাচিত এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রারদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিজিটাল সরঞ্জাম দেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে।    সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।    এর আগে সেপ্টেম্বরেও আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন তথ্যের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি হলে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে বাল্যবিবাহ এবং তথ্য গোপন করে অননুমোদিত বহুবিবাহের সুযোগ কমানো সম্ভব হবে।    তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলেই বাল্যবিবাহ বা বহুবিবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনো দেওয়া হয়নি। এটি মূলত তথ্য যাচাই, নিবন্ধন ও নজরদারি আরও কার্যকর করার একটি প্রযুক্তিগত উদ্যোগ। এর সফলতা নির্ভর করবে সঠিক তথ্য সংযোগ, সব নিকাহ রেজিস্ট্রারের অংশগ্রহণ এবং আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের ওপর।   সবকিছু ঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বিয়ের তথ্য গোপন করা কঠিন হতে পারে এবং ভবিষ্যতে একজন ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থাও দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হবে। ফলে বিয়ে নিবন্ধন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতারণা ও কিছু ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৬:৫৩
এশীয় ব্র্যান্ড এর উপর নজর ক্রেতাদের
হাইব্রিডে ঝুঁকছেন মার্কিন ক্রেতারা, এশীয় ব্র্যান্ড এর উপর নজর ক্রেতাদের

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়ায় গাড়ি কেনার সময় সাশ্রয়ী মডেলকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ক্রেতারা। এতে হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা বাড়ছে এবং সুবিধা পাচ্ছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাতারা। ২ অক্টোবর প্রকাশিত সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর গ্যাসোলিনের মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতাদের পছন্দে এই পরিবর্তন এনেছে।   হাইব্রিড গাড়িতে গ্যাসোলিনচালিত ইঞ্জিনের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়। এই সমন্বয় জ্বালানি খরচ কমাতে সাহায্য করে। সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জ্বালানিসাশ্রয়ী গাড়ি খুঁজতে গিয়ে ক্রেতারা এশীয় ব্র্যান্ডগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বড় মার্কিন নির্মাতাদের হাইব্রিড মডেলের বিকল্প সীমিত।   নির্মাতাদের প্রকাশিত বিক্রির হিসাবেও হাইব্রিডের প্রতি আগ্রহের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। হুন্দাই জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের হাইব্রিড গাড়ির বিক্রি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। ওই মাসে প্রতিষ্ঠানটির মোট বিক্রির ২৮ শতাংশ ছিল হাইব্রিড। কিয়াও সেপ্টেম্বর ও তৃতীয় প্রান্তিকে হাইব্রিড বিক্রিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রেকর্ডের কথা জানিয়েছে।    সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে টয়োটার হাইব্রিড বিক্রি ২৯ শতাংশ এবং হোন্ডার ২১ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে হুন্দাই ও কিয়ার সম্মিলিত গাড়ি বিক্রি ফোর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে।   তবে মার্কিন নির্মাতাদের হাইব্রিড গাড়ি নেই, এমন নয়। ফোর্ডের ২০২৬ সালের এফ-১৫০ পিকআপে পাওয়ারবুস্ট ফুল হাইব্রিড ইঞ্জিনের বিকল্প রয়েছে। ফলে বাজারের পার্থক্যটি মূলত ক্রেতাদের সামনে কত ধরনের হাইব্রিড মডেল রয়েছে, তা নিয়ে।   সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বড় মার্কিন নির্মাতারা দীর্ঘদিন বেশি লাভের বড় এসইউভি ও ট্রাককে গুরুত্ব দিয়েছে। এখন জ্বালানি খরচ কমানোর আগ্রহ বাড়ায় তাদের সীমিত হাইব্রিড বিকল্প প্রতিযোগিতায় চাপ তৈরি করছে। ক্রেতাদের এই চাহিদা ধরে রাখতে জ্বালানিসাশ্রয়ী মডেলের পরিসর বাড়ানো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৬:৪৪
মেক্সিকোর খামারে সাইক্লোস্পোরা শনাক্ত, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৩ হাজার সং ক্র মণের তদন্তে নতুন তথ্য
প্রায় ১৩ হাজার সং ক্র মণের পর লেটুসের উৎস নিয়ে নতুন তথ্য, মেক্সিকোর খামারে শনাক্ত পর জী বি

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের ঘটনার তদন্তে নতুন তথ্য দিয়েছে খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। শুক্রবার সংস্থাটি জানিয়েছে, সং ক্র মণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেক্সিকোর একটি খামারে সাইক্লোস্পোরা নামের পর জী বি শনাক্ত করেছেন তদন্তকারীরা।   মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতোতে অবস্থিত ওই খামারে এফডিএর তদন্তকারীরা গিয়েছিলেন ছয় সপ্তাহেরও বেশি আগে। সেখানে লেটুস চাষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি স্থানে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় একটি বর্জ্যপানি সংরক্ষণ ট্যাংক এবং একটি ড্রেনেজ খালে সাইক্লোস্পোরা শনাক্ত হয়েছে।   তবে কীভাবে ওই পর জী বি লেটুসে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এফডিএ জানিয়েছে, পাওয়া নমুনাগুলোতে এমন শক্তিশালী মহামারিবিদ্যাগত তথ্য রয়েছে, যা সং ক্র মণের ঘটনাটির সঙ্গে টেইলর ফার্মসের ওই খামারের সম্পর্ককে আরও জোরালো করে।   টেইলর ফার্মস অবশ্য আলাদা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এফডিএ যে দূষণের কথা বলেছে, সেটি তাদের একজন স্বতন্ত্র চাষির সঙ্গে সম্পর্কিত। ওই চাষি এখন আর প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহকারী কর্মসূচির অংশ নন বলেও জানিয়েছে কোম্পানিটি।   কোম্পানিটি আরও বলেছে, মধ্য মেক্সিকোতে তাদের সংশ্লিষ্ট স্থাপনা এখনো বন্ধ রয়েছে। মাঠ থেকে শুরু করে উৎপাদনস্থল পর্যন্ত খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে গবেষণা দলের সঙ্গে কাজ করছে তারা।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা গত মাসে এই সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের প্রা দু র্ভা ব শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন। এফডিএ জানিয়েছে, এই নির্দিষ্ট সং ক্র মণের সঙ্গে সম্পর্কিত বাজার থেকে প্রত্যাহার করা সব আইসবার্গ লেটুস সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে তারা নিশ্চিত।   তবে এবারের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের ব্যাপকতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যজুড়ে এই সং ক্র মণের ঘটনায় প্রায় ১৩ হাজার রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছর পর জী বি জনিত ডায়রিয়ায় আ ক্রা ন্তের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বড় অংশই এই প্রা দু র্ভা বের সঙ্গে সম্পর্কিত।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের জন্য সবচেয়ে খারাপ বছর ছিল ২০১৯ সাল। সে বছর দেশজুড়ে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ অসুস্থতার খবর পাওয়া যায়। এবারের সংখ্যা সেই রেকর্ডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।   সাইক্লোস্পোরা একটি অতি ক্ষুদ্র গোলাকার পর জী বি। এটি মানুষের অন্ত্রে সং ক্র মণ ঘটিয়ে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস নামের অসুস্থতা তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এই রোগের অন্যতম প্রধান উপসর্গ হলো পানির মতো পাতলা পায়খানা। এর সঙ্গে পেটের অস্বস্তি, ক্লান্তি ও অন্যান্য হজমজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।   সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের ঘটনা সাধারণত বসন্তের শেষ দিক ও গ্রীষ্মকালে বেশি দেখা যায়। অন্যান্য জীবাণু, যেমন সালমোনেলা ও ই. কোলাইয়ের কারণে হওয়া খাদ্যজনিত অসুস্থতার তুলনায় এটি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেলেও অনেক ক্ষেত্রেই সং ক্র মণের নির্দিষ্ট খাদ্য বা উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।   এফডিএর নতুন তদন্তের তথ্য তাই সং ক্র মণের সম্ভাব্য উৎস চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রা দু র্ভা ব শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছে, মেক্সিকোর খামারে পর জী বি শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৬:৪
অবসরজীবনে কম খরচে থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাশ্রয়ী অঙ্গরাজ্যগুলোর তালিকা প্রকাশ
অবসরের পর কম খরচে নিরিবিলি জীবন কাটাতে সাশ্রয়ী যুক্তরাষ্ট্রের ১০ অঙ্গরাজ্য

অবসরের পর সঞ্চয়ের অর্থ আরও দীর্ঘসময় ধরে রাখতে চান অনেকেই। এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম আবাসন খরচ, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় এবং করের সুবিধা রয়েছে—এমন অঙ্গরাজ্যে বসবাসের সিদ্ধান্ত আর্থিক চাপ কমাতে পারে। নতুন এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য বিশ্লেষণ করে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও সবচেয়ে ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।   অবসরজীবন নিয়ে গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রিটায়ারমেন্ট লিভিং তিনটি প্রধান বিষয়—আবাসন খরচ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং করের সুবিধা—বিবেচনায় নিয়ে এই র‌্যাংকিং তৈরি করেছে। অবসরপ্রাপ্তদের সঞ্চয় কোথায় তুলনামূলক বেশি কাজে লাগতে পারে, সেটিই ছিল এই বিশ্লেষণের মূল বিষয়।   তালিকায় অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী অঙ্গরাজ্য হিসেবে শীর্ষে রয়েছে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। আগের বছরের তুলনায় এবার ১৭ ধাপ এগিয়ে প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে রাজ্যটি।   ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া আবাসন খরচ এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়—দুই ক্ষেত্রেই প্রথম হয়েছে। রিটায়ারমেন্ট লিভিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া গড়ে ৬৪৩ ডলার। পাশাপাশি একজনের মাসিক মুদিখানা খরচ প্রায় ২০৫ ডলার, যা দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম।   সাশ্রয়ী রাজ্যের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিসিসিপি। টানা দ্বিতীয় বছর এই অবস্থান ধরে রেখেছে রাজ্যটি। ২০২৬ সালের মার্চে সেখানে বাড়ি বিক্রির মধ্যম মূল্য ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৩০ ডলার, যা দেশের মধ্যে তৃতীয় সর্বনিম্ন। সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের দিক থেকেও মিসিসিপি চতুর্থ সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।   তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আলাবামা। তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে রাজ্যটি অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সাশ্রয়ী তালিকায় ওপরের দিকে রয়েছে।   সাশ্রয়ী ১০ অঙ্গরাজ্যের তালিকায় আরও রয়েছে ওকলাহোমা, আরকানসাস, কেনটাকি, মিসৌরি, লুইজিয়ানা, ইন্ডিয়ানা এবং কানসাস।   অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে কম খরচের রাজ্যে চলে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে আর্থিক পরিকল্পনাবিদ জোডি ডি’আগোস্তিনি বলেন, তিনি নিজেও এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে অবসরপ্রাপ্তদের আগ্রহ দেখতে পাচ্ছেন। নিউ জার্সির বাসিন্দা এই সার্টিফায়েড ফাইন্যান্সিয়াল প্ল্যানারের মতে, অবসরের পর অনেকেই নিউ জার্সির মতো রাজ্য থেকে তুলনামূলক করবান্ধব রাজ্যে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এতে অবসরকালীন আয় আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা এবং করের চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে।   তবে সব রাজ্যে অবসরজীবনের খরচ একই নয়। র‌্যাংকিংয়ের একেবারে বিপরীত প্রান্তে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই ও ওয়াশিংটন। এই তিনটি অঙ্গরাজ্যকে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।   বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ায় জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় অবসরপ্রাপ্তদের জন্য বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। সান দিয়েগোর রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ক্রিস্টিনা কুয়েসাদা জানান, সেখানে অবসরপ্রাপ্তরা নিজেদের অগ্রাধিকার অনুযায়ী আবাসন ও জীবনযাত্রার খরচ মূল্যায়ন করছেন।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ কেউ পুরোপুরি কম খরচের এলাকায় চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন। আবার যারা নিজেদের বর্তমান এলাকায় থাকতে চান, তাদের মধ্যে অনেকে ছোট বাসায় চলে যাচ্ছেন, একই অঞ্চলের তুলনামূলক সাশ্রয়ী এলাকায় স্থানান্তরিত হচ্ছেন অথবা দীর্ঘদিনের বাড়ির মালিকানা থেকে পাওয়া সম্পদের মূল্য ব্যবহার করে খরচ সামলানোর চেষ্টা করছেন।   গবেষণাটি দেখাচ্ছে, অবসর নেওয়ার আগে শুধু বাড়ির দাম বা ভাড়ার দিকে তাকালেই হবে না। দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়, করব্যবস্থা এবং আবাসন খরচ—সবকিছু মিলিয়েই অবসরজীবনের সামগ্রিক আর্থিক চাপ নির্ধারিত হয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৫:৩১
লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রভাবকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখছেন মানুষ
লাতিন আমেরিকায় প্রভাব বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে চীন, বাড়ছে জনসমর্থন

লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রভাবকে এখন বেশি ইতিবাচকভাবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। ‘লাতিনোবারোমেত্রো ২০২৬’ নামে পরিচালিত এক বৃহৎ জনমত জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। শুক্রবার প্রকাশিত জরিপের ফল অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালে এই বার্ষিক জরিপ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম লাতিন আমেরিকায় প্রভাবের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলেছে চীন।   জরিপে দেখা গেছে, লাতিন আমেরিকার ৬৫ শতাংশ মানুষ চীনের প্রভাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ছয় বছর আগে এই হার ছিল ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে ইতিবাচক মনে করেন ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা, যা ২০২০ সালে ছিল ৬০ শতাংশ।   কোস্টারিকা ও ডোমিনিকান রিপাবলিক ছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া বাকি সব দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রভাব বেশি ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।   জরিপের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত দুই দশকে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক কম সক্রিয় উপস্থিতির পাশাপাশি চীনের সঙ্গে অঞ্চলটির অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ার বিষয়টি এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হতে পারে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানের মতো অন্যান্য শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করেছে।   লাতিনোবারোমেত্রোর পরিচালক মার্তা লাগোস বলেন, বিশেষ করে তুলনামূলক কম দামে পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি করে চীন লাতিন আমেরিকার মানুষের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। তার ভাষায়, মানুষের ‘পকেটের শূন্যতা’ পূরণের মাধ্যমে চীন এ অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।   তবে সামগ্রিক আঞ্চলিক প্রভাবের মূল্যায়নে চীন এগিয়ে থাকলেও একক দেশ হিসেবে জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে এখনো যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা এগিয়ে। জরিপে ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। চীনের ক্ষেত্রে এই হার ৫৮ শতাংশ।   অবশ্য ২০২৪ সালে জো বাইডেনের প্রেসিডেন্ট থাকার সময় যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক মত ছিল ৭৩ শতাংশ। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে দেশটির জনপ্রিয়তার সূচকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে।   এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের লাতিন আমেরিকান নীতিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক প্রভাব বিস্তারের ধারণা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুই শতাব্দী ধরে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকা ‘মনরো ডকট্রিন’-এর আদলে কেউ কেউ বর্তমান নীতিকে ‘ডনরো ডকট্রিন’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।   জরিপের প্রতিবেদনে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার উদাহরণ হিসেবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে জানুয়ারির ঘটনাটিও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সব দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মাদুরোকে আটকের ঘটনাকে সমর্থন করেছেন। তবে মাত্র ৩৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার জন্য ইতিবাচক হয়েছে।   চিলিভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান লাতিনোবারোমেত্রো এই জরিপ পরিচালনা করেছে। ৭ মে থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত লাতিন আমেরিকার ১৭টি দেশে প্রায় ১৯ হাজার ২০০ মানুষের সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।   জরিপের ফলাফল বলছে, লাতিন আমেরিকায় চীনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাব ও জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। তবে কোন শক্তি দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলে কতটা প্রভাব ধরে রাখতে পারবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতির ওপর।

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৫:১৭