- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
বাংলাদেশে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থায় বড় ধরনের ডিজিটাল পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে দেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার, ৩ অক্টোবর রাজধানীর নিকেতনে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের জন্য আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। কর্মসূচির বিষয় ছিল অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের সফটওয়্যার ব্যবহারের নিয়ম। আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ডিজিটাল নিবন্ধন চালু হলে একজন ব্যক্তি আগে কোথাও বিয়ে করেছেন কি না, তা সহজেই যাচাই করা যাবে। একইভাবে তথ্য গোপন করে কেউ একাধিক বিয়ে করার চেষ্টা করলে নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে সেটিও শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এই ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিবাহের তথ্যকে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা। ফলে একজন ব্যক্তির পরিচয় ও বৈবাহিক অবস্থার তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ আরও সহজ হবে। আইনমন্ত্রী বলেছেন, কোনো ব্যক্তিকে আগে থেকেই বিবাহিত হিসেবে পাওয়া গেলে পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা সম্ভব হবে। এর ফলে অননুমোদিত বহুবিবাহ ও তথ্য গোপনের ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। বাল্যবিবাহ ঠেকানোর ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। কারণ জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য যুক্ত হলে বয়স যাচাইয়ের সুযোগ বাড়বে। ফলে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা শনাক্ত করা সহজ হতে পারে। তবে পুরো দেশজুড়ে ব্যবস্থা চালুর আগে নির্দিষ্ট এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর আগে আইন ও বিচার বিভাগের প্রকল্পের আওতায় ১০টি জেলার ১০টি উপজেলার ১০২টি ইউনিয়নে ডিজিটাল বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। নির্বাচিত এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রারদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিজিটাল সরঞ্জাম দেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। এর আগে সেপ্টেম্বরেও আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন তথ্যের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি হলে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে বাল্যবিবাহ এবং তথ্য গোপন করে অননুমোদিত বহুবিবাহের সুযোগ কমানো সম্ভব হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলেই বাল্যবিবাহ বা বহুবিবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনো দেওয়া হয়নি। এটি মূলত তথ্য যাচাই, নিবন্ধন ও নজরদারি আরও কার্যকর করার একটি প্রযুক্তিগত উদ্যোগ। এর সফলতা নির্ভর করবে সঠিক তথ্য সংযোগ, সব নিকাহ রেজিস্ট্রারের অংশগ্রহণ এবং আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের ওপর। সবকিছু ঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বিয়ের তথ্য গোপন করা কঠিন হতে পারে এবং ভবিষ্যতে একজন ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থাও দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হবে। ফলে বিয়ে নিবন্ধন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতারণা ও কিছু ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়ায় গাড়ি কেনার সময় সাশ্রয়ী মডেলকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ক্রেতারা। এতে হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা বাড়ছে এবং সুবিধা পাচ্ছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাতারা। ২ অক্টোবর প্রকাশিত সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর গ্যাসোলিনের মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতাদের পছন্দে এই পরিবর্তন এনেছে। হাইব্রিড গাড়িতে গ্যাসোলিনচালিত ইঞ্জিনের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়। এই সমন্বয় জ্বালানি খরচ কমাতে সাহায্য করে। সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জ্বালানিসাশ্রয়ী গাড়ি খুঁজতে গিয়ে ক্রেতারা এশীয় ব্র্যান্ডগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বড় মার্কিন নির্মাতাদের হাইব্রিড মডেলের বিকল্প সীমিত। নির্মাতাদের প্রকাশিত বিক্রির হিসাবেও হাইব্রিডের প্রতি আগ্রহের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। হুন্দাই জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের হাইব্রিড গাড়ির বিক্রি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। ওই মাসে প্রতিষ্ঠানটির মোট বিক্রির ২৮ শতাংশ ছিল হাইব্রিড। কিয়াও সেপ্টেম্বর ও তৃতীয় প্রান্তিকে হাইব্রিড বিক্রিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রেকর্ডের কথা জানিয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে টয়োটার হাইব্রিড বিক্রি ২৯ শতাংশ এবং হোন্ডার ২১ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে হুন্দাই ও কিয়ার সম্মিলিত গাড়ি বিক্রি ফোর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে মার্কিন নির্মাতাদের হাইব্রিড গাড়ি নেই, এমন নয়। ফোর্ডের ২০২৬ সালের এফ-১৫০ পিকআপে পাওয়ারবুস্ট ফুল হাইব্রিড ইঞ্জিনের বিকল্প রয়েছে। ফলে বাজারের পার্থক্যটি মূলত ক্রেতাদের সামনে কত ধরনের হাইব্রিড মডেল রয়েছে, তা নিয়ে। সিএনএনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বড় মার্কিন নির্মাতারা দীর্ঘদিন বেশি লাভের বড় এসইউভি ও ট্রাককে গুরুত্ব দিয়েছে। এখন জ্বালানি খরচ কমানোর আগ্রহ বাড়ায় তাদের সীমিত হাইব্রিড বিকল্প প্রতিযোগিতায় চাপ তৈরি করছে। ক্রেতাদের এই চাহিদা ধরে রাখতে জ্বালানিসাশ্রয়ী মডেলের পরিসর বাড়ানো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের ঘটনার তদন্তে নতুন তথ্য দিয়েছে খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। শুক্রবার সংস্থাটি জানিয়েছে, সং ক্র মণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেক্সিকোর একটি খামারে সাইক্লোস্পোরা নামের পর জী বি শনাক্ত করেছেন তদন্তকারীরা। মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতোতে অবস্থিত ওই খামারে এফডিএর তদন্তকারীরা গিয়েছিলেন ছয় সপ্তাহেরও বেশি আগে। সেখানে লেটুস চাষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি স্থানে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় একটি বর্জ্যপানি সংরক্ষণ ট্যাংক এবং একটি ড্রেনেজ খালে সাইক্লোস্পোরা শনাক্ত হয়েছে। তবে কীভাবে ওই পর জী বি লেটুসে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এফডিএ জানিয়েছে, পাওয়া নমুনাগুলোতে এমন শক্তিশালী মহামারিবিদ্যাগত তথ্য রয়েছে, যা সং ক্র মণের ঘটনাটির সঙ্গে টেইলর ফার্মসের ওই খামারের সম্পর্ককে আরও জোরালো করে। টেইলর ফার্মস অবশ্য আলাদা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এফডিএ যে দূষণের কথা বলেছে, সেটি তাদের একজন স্বতন্ত্র চাষির সঙ্গে সম্পর্কিত। ওই চাষি এখন আর প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহকারী কর্মসূচির অংশ নন বলেও জানিয়েছে কোম্পানিটি। কোম্পানিটি আরও বলেছে, মধ্য মেক্সিকোতে তাদের সংশ্লিষ্ট স্থাপনা এখনো বন্ধ রয়েছে। মাঠ থেকে শুরু করে উৎপাদনস্থল পর্যন্ত খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে গবেষণা দলের সঙ্গে কাজ করছে তারা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা গত মাসে এই সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের প্রা দু র্ভা ব শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন। এফডিএ জানিয়েছে, এই নির্দিষ্ট সং ক্র মণের সঙ্গে সম্পর্কিত বাজার থেকে প্রত্যাহার করা সব আইসবার্গ লেটুস সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে তারা নিশ্চিত। তবে এবারের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের ব্যাপকতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যজুড়ে এই সং ক্র মণের ঘটনায় প্রায় ১৩ হাজার রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছর পর জী বি জনিত ডায়রিয়ায় আ ক্রা ন্তের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বড় অংশই এই প্রা দু র্ভা বের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের জন্য সবচেয়ে খারাপ বছর ছিল ২০১৯ সাল। সে বছর দেশজুড়ে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ অসুস্থতার খবর পাওয়া যায়। এবারের সংখ্যা সেই রেকর্ডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সাইক্লোস্পোরা একটি অতি ক্ষুদ্র গোলাকার পর জী বি। এটি মানুষের অন্ত্রে সং ক্র মণ ঘটিয়ে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস নামের অসুস্থতা তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এই রোগের অন্যতম প্রধান উপসর্গ হলো পানির মতো পাতলা পায়খানা। এর সঙ্গে পেটের অস্বস্তি, ক্লান্তি ও অন্যান্য হজমজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের ঘটনা সাধারণত বসন্তের শেষ দিক ও গ্রীষ্মকালে বেশি দেখা যায়। অন্যান্য জীবাণু, যেমন সালমোনেলা ও ই. কোলাইয়ের কারণে হওয়া খাদ্যজনিত অসুস্থতার তুলনায় এটি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেলেও অনেক ক্ষেত্রেই সং ক্র মণের নির্দিষ্ট খাদ্য বা উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। এফডিএর নতুন তদন্তের তথ্য তাই সং ক্র মণের সম্ভাব্য উৎস চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রা দু র্ভা ব শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছে, মেক্সিকোর খামারে পর জী বি শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।
অবসরের পর সঞ্চয়ের অর্থ আরও দীর্ঘসময় ধরে রাখতে চান অনেকেই। এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম আবাসন খরচ, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় এবং করের সুবিধা রয়েছে—এমন অঙ্গরাজ্যে বসবাসের সিদ্ধান্ত আর্থিক চাপ কমাতে পারে। নতুন এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য বিশ্লেষণ করে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও সবচেয়ে ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। অবসরজীবন নিয়ে গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রিটায়ারমেন্ট লিভিং তিনটি প্রধান বিষয়—আবাসন খরচ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং করের সুবিধা—বিবেচনায় নিয়ে এই র্যাংকিং তৈরি করেছে। অবসরপ্রাপ্তদের সঞ্চয় কোথায় তুলনামূলক বেশি কাজে লাগতে পারে, সেটিই ছিল এই বিশ্লেষণের মূল বিষয়। তালিকায় অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী অঙ্গরাজ্য হিসেবে শীর্ষে রয়েছে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। আগের বছরের তুলনায় এবার ১৭ ধাপ এগিয়ে প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে রাজ্যটি। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া আবাসন খরচ এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়—দুই ক্ষেত্রেই প্রথম হয়েছে। রিটায়ারমেন্ট লিভিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া গড়ে ৬৪৩ ডলার। পাশাপাশি একজনের মাসিক মুদিখানা খরচ প্রায় ২০৫ ডলার, যা দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম। সাশ্রয়ী রাজ্যের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিসিসিপি। টানা দ্বিতীয় বছর এই অবস্থান ধরে রেখেছে রাজ্যটি। ২০২৬ সালের মার্চে সেখানে বাড়ি বিক্রির মধ্যম মূল্য ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৩০ ডলার, যা দেশের মধ্যে তৃতীয় সর্বনিম্ন। সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের দিক থেকেও মিসিসিপি চতুর্থ সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আলাবামা। তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে রাজ্যটি অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সাশ্রয়ী তালিকায় ওপরের দিকে রয়েছে। সাশ্রয়ী ১০ অঙ্গরাজ্যের তালিকায় আরও রয়েছে ওকলাহোমা, আরকানসাস, কেনটাকি, মিসৌরি, লুইজিয়ানা, ইন্ডিয়ানা এবং কানসাস। অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে কম খরচের রাজ্যে চলে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে আর্থিক পরিকল্পনাবিদ জোডি ডি’আগোস্তিনি বলেন, তিনি নিজেও এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে অবসরপ্রাপ্তদের আগ্রহ দেখতে পাচ্ছেন। নিউ জার্সির বাসিন্দা এই সার্টিফায়েড ফাইন্যান্সিয়াল প্ল্যানারের মতে, অবসরের পর অনেকেই নিউ জার্সির মতো রাজ্য থেকে তুলনামূলক করবান্ধব রাজ্যে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এতে অবসরকালীন আয় আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা এবং করের চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে সব রাজ্যে অবসরজীবনের খরচ একই নয়। র্যাংকিংয়ের একেবারে বিপরীত প্রান্তে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই ও ওয়াশিংটন। এই তিনটি অঙ্গরাজ্যকে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ায় জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় অবসরপ্রাপ্তদের জন্য বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। সান দিয়েগোর রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ক্রিস্টিনা কুয়েসাদা জানান, সেখানে অবসরপ্রাপ্তরা নিজেদের অগ্রাধিকার অনুযায়ী আবাসন ও জীবনযাত্রার খরচ মূল্যায়ন করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ কেউ পুরোপুরি কম খরচের এলাকায় চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন। আবার যারা নিজেদের বর্তমান এলাকায় থাকতে চান, তাদের মধ্যে অনেকে ছোট বাসায় চলে যাচ্ছেন, একই অঞ্চলের তুলনামূলক সাশ্রয়ী এলাকায় স্থানান্তরিত হচ্ছেন অথবা দীর্ঘদিনের বাড়ির মালিকানা থেকে পাওয়া সম্পদের মূল্য ব্যবহার করে খরচ সামলানোর চেষ্টা করছেন। গবেষণাটি দেখাচ্ছে, অবসর নেওয়ার আগে শুধু বাড়ির দাম বা ভাড়ার দিকে তাকালেই হবে না। দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়, করব্যবস্থা এবং আবাসন খরচ—সবকিছু মিলিয়েই অবসরজীবনের সামগ্রিক আর্থিক চাপ নির্ধারিত হয়।
লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রভাবকে এখন বেশি ইতিবাচকভাবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। ‘লাতিনোবারোমেত্রো ২০২৬’ নামে পরিচালিত এক বৃহৎ জনমত জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। শুক্রবার প্রকাশিত জরিপের ফল অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালে এই বার্ষিক জরিপ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম লাতিন আমেরিকায় প্রভাবের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলেছে চীন। জরিপে দেখা গেছে, লাতিন আমেরিকার ৬৫ শতাংশ মানুষ চীনের প্রভাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ছয় বছর আগে এই হার ছিল ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে ইতিবাচক মনে করেন ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা, যা ২০২০ সালে ছিল ৬০ শতাংশ। কোস্টারিকা ও ডোমিনিকান রিপাবলিক ছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া বাকি সব দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রভাব বেশি ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। জরিপের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত দুই দশকে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক কম সক্রিয় উপস্থিতির পাশাপাশি চীনের সঙ্গে অঞ্চলটির অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ার বিষয়টি এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হতে পারে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানের মতো অন্যান্য শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করেছে। লাতিনোবারোমেত্রোর পরিচালক মার্তা লাগোস বলেন, বিশেষ করে তুলনামূলক কম দামে পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি করে চীন লাতিন আমেরিকার মানুষের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। তার ভাষায়, মানুষের ‘পকেটের শূন্যতা’ পূরণের মাধ্যমে চীন এ অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। তবে সামগ্রিক আঞ্চলিক প্রভাবের মূল্যায়নে চীন এগিয়ে থাকলেও একক দেশ হিসেবে জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে এখনো যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা এগিয়ে। জরিপে ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। চীনের ক্ষেত্রে এই হার ৫৮ শতাংশ। অবশ্য ২০২৪ সালে জো বাইডেনের প্রেসিডেন্ট থাকার সময় যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক মত ছিল ৭৩ শতাংশ। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে দেশটির জনপ্রিয়তার সূচকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের লাতিন আমেরিকান নীতিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক প্রভাব বিস্তারের ধারণা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুই শতাব্দী ধরে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকা ‘মনরো ডকট্রিন’-এর আদলে কেউ কেউ বর্তমান নীতিকে ‘ডনরো ডকট্রিন’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। জরিপের প্রতিবেদনে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার উদাহরণ হিসেবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে জানুয়ারির ঘটনাটিও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সব দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মাদুরোকে আটকের ঘটনাকে সমর্থন করেছেন। তবে মাত্র ৩৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার জন্য ইতিবাচক হয়েছে। চিলিভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান লাতিনোবারোমেত্রো এই জরিপ পরিচালনা করেছে। ৭ মে থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত লাতিন আমেরিকার ১৭টি দেশে প্রায় ১৯ হাজার ২০০ মানুষের সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। জরিপের ফলাফল বলছে, লাতিন আমেরিকায় চীনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাব ও জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। তবে কোন শক্তি দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলে কতটা প্রভাব ধরে রাখতে পারবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতির ওপর।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন কূটনীতিক ত্রিশিতা মওলা বর্তমানে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন নয়াদিল্লি সফরে থাকায় সাময়িকভাবে দূতাবাসের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। ২ অক্টোবর প্রকাশিত ডেইলি সানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ত্রিশিতা মওলা ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কূটনীতিক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলো। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে ১ অক্টোবর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসাইনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া পাঁচ লাখ ডেঙ্গু এনএস১ দ্রুত শনাক্তকরণ পরীক্ষার কিট হস্তান্তর করেন ত্রিশিতা। মার্কিন সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত স্ট্রাইডস কর্মসূচির আওতায় এসব কিট দেওয়া হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে কিটগুলো সরবরাহ করার কথা রয়েছে। কিট হস্তান্তরের পর ত্রিশিতার নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধিদল কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ডেঙ্গু ওয়ার্ড এবং রোগ নির্ণয় ল্যাবরেটরিও পরিদর্শন করে। সেখানে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা এবং রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের কার্যক্রম সম্পর্কে তারা অবগত হন। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর ত্রিশিতা মওলার নেতৃত্বে মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে বিশেষায়িত পুলিশিং, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর মার্কিন প্রতিনিধিদল ডিএমপির সোয়াট, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট এবং কে-৯ ইউনিট পরিদর্শন করে। এসব ইউনিটের কার্যক্রম, সক্ষমতা ও ব্যবহৃত প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিচিতি অনুযায়ী, ত্রিশিতা মওলা ২০০৮ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এর আগে বাংলাদেশে কনস্যুলার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। কর্মজীবনে সুইজারল্যান্ড, উত্তর মেসিডোনিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও মন্টেনেগ্রোতেও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় মার্কিন দূতাবাসের ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন ত্রিশিতা। দীর্ঘ কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে বিভিন্ন দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠা ত্রিশিতা কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্নার্ড কলেজ থেকে অর্থনীতি ও গণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর মার্কিন পররাষ্ট্রসেবায় যোগ দিয়ে বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে মার্কিন দূতাবাসের কার্যক্রমে প্রতিনিধিত্ব করছেন ত্রিশিতা মওলা। তার এই দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন মার্কিন কূটনীতিকের জন্য কূটনৈতিক ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বিগ বেন্ড অঞ্চলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত বিশাল সীমান্ত প্রাচীর ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণে সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবার বিচারক ক্যাথলিন কার্ডোনি এই আদেশ দেন। এর ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া বড় একটি প্রকল্প আপাতত আইনি বাধার মুখে পড়েছে। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আওতায় টেক্সাসের দক্ষিণ সীমান্তে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু ইস্পাতের প্রাচীর নির্মাণের পাশাপাশি যানবাহন চলাচল ঠেকাতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধক, নতুন রাস্তা এবং আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি স্থাপনের কথা রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো বাড়িয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকানো এবং নজরদারি জোরদার করাই এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য। তবে প্রকল্পটি ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষ এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করে। স্থানীয় জমির মালিক, ব্যবসায়ী, পরিবেশবাদী সংগঠন, রুইডোসার একটি ঐতিহাসিক গির্জার সমর্থক এবং নদীপথে পর্যটকদের নিয়ে কাজ করা রিভার গাইডরা মামলায় একত্র হন। মামলাকারীদের অভিযোগ, বিগ বেন্ড অঞ্চলের প্রায় ৫০০ মাইল দীর্ঘ পাহাড়ি ও দুর্গম ভূপ্রকৃতি এমনিতেই সীমান্ত অতিক্রমের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে। সেখানে ব্যাপক আকারে প্রাচীর ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করলে স্থানীয় পরিবেশ, বন্যপ্রাণী এবং ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাদের আরও অভিযোগ, সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে ট্রাম্প প্রশাসনের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ পরিবেশ, সংস্কৃতি ও প্রত্নতাত্ত্বিক সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু নিয়ম ও প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়েছে। এসব পদক্ষেপ আইনসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। শুক্রবারের রায়ে বিচারক ক্যাথলিন কার্ডোনি বলেন, মামলাকারীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর অন্তত একটিতে তাদের পক্ষে রায় পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এই পর্যায়ে নির্মাণকাজ চলতে থাকলে বাদী পক্ষ গুরুতর ও পরে পূরণ করা সম্ভব নয়—এমন ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আদালত জনস্বার্থ এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিয়েছে। ফলে মূল মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজে সাময়িকভাবে বিরতি থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিগ বেন্ড ন্যাশনাল পার্কের কিছু এলাকাও পড়বে। এর আগে পার্কের ভেতরে বুলডোজার দিয়ে জমি পরিষ্কারের কাজ শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের রাজনীতিকদের মধ্য থেকেই সমালোচনা আসে। পরে প্রশাসন সেখানে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে টেক্সাসে এর আগেও জমির মালিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধ দেখা গেছে। বিশেষ করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে প্রাচীর নির্মাণের ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত প্রভাব এবং স্থানীয় মানুষের স্বার্থ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রশ্ন রয়েছে। এদিকে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি আদালতের আদেশের পরও প্রকল্পটির পক্ষে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিগ বেন্ডের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তারা নিজেদের মূল্যায়নের ওপর আস্থাশীল। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে তারা বিচার বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। অন্যদিকে মামলাকারী পরিবেশবাদী সংগঠন সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভার্সিটির লায়েকেন জর্ডাল আদালতের সিদ্ধান্তকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মূল মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় আপাতত বুলডোজারগুলোকে সরে যেতে হবে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে বিগ বেন্ড, টেক্সাস এবং মার্কিন সংবিধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ন্যাশনাল পার্কস কনজারভেশন অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট টিয়ারনান সিটেনফেল্ডও আদালতের আদেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বিগ বেন্ড এলাকায় ইতোমধ্যে হওয়া ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য পরিবেশ ও ঐতিহাসিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত না করে বিকল্প সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন। আদালতের এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা চূড়ান্ত রায় নয়। মূল মামলায় সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা আইনগতভাবে বৈধ কি না, পরিবেশ ও ঐতিহাসিক সম্পদ সুরক্ষার নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং প্রকল্পটি কীভাবে এগোবে—এসব বিষয় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
ইউক্রেনে যু দ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে আগের নিয়মকানুন না মানার নির্দেশ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার দাবি, ইউক্রেনে আরও ভূখণ্ড দ খ লের লক্ষ্যেই রুশ সামরিক কর্মকর্তাদের এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে বেলারুশ থেকে একটি সন্দেহজনক ড্রোন লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশের আশঙ্কায় দেশটির ভিলনিয়াস বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ন্যা টোর যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠানো হয়েছে। লিথুয়ানিয়ার জাতীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, শনিবার বেলারুশের দিক থেকে একটি সন্দেহজনক ড্রোন দেশটির দিকে উড়ে আসার খবর পাওয়ার পর ভিলনিয়াস বিমানবন্দর বন্ধ করা হয়। একই সময়ে ভিলনিয়াস অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রয়োজন হলে আ শ্র য় নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এই ঘটনা ইউক্রেন-রাশিয়া যু দ্ধকে ঘিরে ইউরোপের পূর্বাঞ্চলে বাড়তে থাকা উদ্বেগের নতুন উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ড্রোনের অনুপ্রবেশ নিয়ে ন্যা টো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সতর্কতা বেড়েছে। জেলেনস্কি বলেছেন, গত মাসে পুতিন তার জেনারেলদের ইউক্রেনে যু দ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে আগের নিয়মকানুন না মানার নির্দেশ দেন। এই দাবির পক্ষে তিনি ক্রেমলিন কর্মকর্তাদের কথোপকথন থেকে পাওয়া গো য়ে ন্দা তথ্যের কথা উল্লেখ করেছেন। জেলেনস্কির দাবি, ওই নির্দেশের পর ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর রাশিয়ার আ কা শ হা ম লা আরও বেড়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব আ কা শ হা ম লার লক্ষ্য হিসেবে তথ্যকেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো, রেলপথ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, স্কুল ও হাসপাতালের মতো স্থাপনার কথাও উঠে এসেছে। তবে রাশিয়া বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হা ম লা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। মস্কোর বক্তব্য, তাদের আ কা শ হা ম লার লক্ষ্য সামরিক বা সামরিক-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও অবকাঠামো। এদিকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতেও ধারাবাহিক ড্রোন আ ক্র ম ণের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্যস্ত সময়ে একটি ড্রোন সেতুটিতে আ ঘা ত হা নে। এতে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক যানজট তৈরি হয় এবং যান চলাচলে দীর্ঘ সময় বি ঘ্ন ঘটে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়া সাম্প্রতিক সময়ে জে টচা লি ত ড্রোনের ব্যবহার বাড়িয়েছে। তুলনামূলক দ্রুতগতির এসব ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিহত করা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যা লে ঞ্জ তৈরি করছে। জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর রুশ হা ম লা আরও বাড়তে পারে। তবে পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে রাশিয়ার সামরিক পদক্ষেপ, ইউক্রেনের প্রতিরোধ এবং ন্যা টোসহ পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিক্রিয়ার ওপর।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ চাকরির প্রতিবেদনে দেশটির শ্রমবাজারে ধীরগতির চিত্র উঠে এসেছে। সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন নিয়োগদাতারা ২৯ হাজার নতুন চাকরি যোগ করেছেন, যা অর্থনীতিবিদদের প্রায় ৯০ হাজার নতুন চাকরির পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক কম। একই সময়ে বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। শ্রমবাজারের এই ধীরগতির তথ্য প্রকাশের পরও শেয়ারবাজারে উল্টো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। অর্থনীতি বিশ্লেষক স্যামুয়েল টবের মতে, চাকরির বাজার প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এর একটি কারণ হতে পারে সুদের হার নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্ত। দুর্বল চাকরির বাজার এবং বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে ফেডারেল রিজার্ভ আবার সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা কমতে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মোট বেসরকারি ও সরকারি খাতে নন-ফার্ম চাকরি ২৯ হাজার বেড়েছে। আগের ১২ মাসে মাসে গড়ে প্রায় ৪৫ হাজার চাকরি যোগ হয়েছিল। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের প্রবৃদ্ধি সাম্প্রতিক গড়ের চেয়েও কম। স্বাস্থ্যসেবা খাতে ১৭ হাজার চাকরি বেড়েছে, যদিও এই খাতেও আগের এক বছরের গড় বৃদ্ধির তুলনায় গতি কমেছে। একই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই ও আগস্টের চাকরি বৃদ্ধির আগের হিসাবও কমিয়ে সংশোধন করা হয়েছে। জুলাইয়ের হিসাব ২১ হাজার থেকে কমিয়ে ১০ হাজার চাকরি কমেছে হিসেবে সংশোধন করা হয়েছে। আগস্টের চাকরি বৃদ্ধির হিসাব ১ লাখ ৬২ হাজার থেকে কমিয়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার করা হয়েছে। ফলে জুলাই ও আগস্ট মিলিয়ে আগের হিসাবের তুলনায় মোট ৬০ হাজার কম চাকরি যোগ হয়েছিল বলে নতুন হিসাব দেখাচ্ছে। এই চাকরির তথ্য এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। সেপ্টেম্বরের এক এপি-নরস জরিপে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগের চিত্রও উঠে এসেছে। জরিপটি ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ২ হাজার ১৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়। সাধারণ মানুষের জন্য চাকরির বাজারের এই পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি ও পরোক্ষ—দুইভাবেই পড়তে পারে। নিয়োগ ধীর হলে নতুন চাকরি খোঁজা কঠিন হতে পারে এবং আয় বৃদ্ধির গতি কমতে পারে। অন্যদিকে, শ্রমবাজার দুর্বল হওয়ার লক্ষণ ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার নিয়ে অপেক্ষাকৃত সতর্ক অবস্থান নিতে উৎসাহিত করতে পারে। সুদের হার কমলে ঋণ, ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি ও বাড়ির অর্থায়নের খরচে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন আসতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটিই শেষ মাসিক চাকরির প্রতিবেদন হওয়ায় অর্থনীতি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনাতেও এর গুরুত্ব রয়েছে। তবে চাকরির একটি মাসের তথ্য দিয়ে পুরো অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না। পরবর্তী মাসগুলোর চাকরি, মজুরি, মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার—সবগুলো তথ্য একসঙ্গে দেখলেই অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।
চুলে পাক ধরা সাধারণত বয়স বাড়ার স্বাভাবিক একটি লক্ষণ হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু নতুন এক গবেষণা বলছে, চুলের রং হারানোর পেছনে শরীরের এমন একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়া কাজ করতে পারে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। গবেষণাটি ইঁদুরের ওপর চালানো হয়েছে। এতে বিজ্ঞানীরা চুলের ফলিকলের ভেতরে থাকা বিশেষ ধরনের স্টেম সেল বা মূল কোষের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই কোষগুলোকে বলা হয় মেলানোসাইট স্টেম সেল। এগুলো থেকেই চুল ও ত্বকের রং তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রঞ্জক কোষ তৈরি হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় মেলানোসাইট স্টেম সেল বারবার পুনরুৎপাদিত হয়ে নতুন রঞ্জক কোষ তৈরি করে। এর ফলে চুলে দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিক রং বজায় থাকে। কিন্তু শরীরের কোষগুলো প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হয়। অতিবেগুনি রশ্মি, কিছু রাসায়নিক পদার্থ এবং কোষের স্বাভাবিক বিপাকীয় প্রক্রিয়াও ডিএনএর ক্ষতি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, মেলানোসাইট স্টেম সেলের ডিএনএতে বিশেষ ধরনের গুরুতর ক্ষতি হলে কোষগুলো একটি প্রতিরক্ষামূলক পথে যেতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় স্টেম সেলগুলো দ্রুত পরিণত রঞ্জক কোষে রূপান্তরিত হয় এবং পরে স্টেম সেলের ভাণ্ডার থেকে হারিয়ে যায়। ফলে নতুন রঞ্জক কোষ তৈরির ক্ষমতা কমে যায় এবং ধীরে ধীরে চুলে পাকা রং দেখা দিতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রক্রিয়ার একটি সম্ভাব্য সুবিধা হলো—ডিএনএতে ক্ষতি হওয়া কোষগুলোকে স্টেম সেল হিসেবে টিকে থেকে বারবার বিভাজিত হওয়ার সুযোগ না দেওয়া। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত কোষ দীর্ঘদিন বেঁচে থেকে বিভাজিত হতে থাকলে সেখানে জিনগত পরিবর্তন জমা হতে পারে, যা ভবিষ্যতে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। অর্থাৎ, চুলের রং হারানোর এই প্রক্রিয়াকে শরীরের এক ধরনের ‘ত্যাগ’ হিসেবে দেখা যেতে পারে। একটি ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে স্টেম সেলের ভাণ্ডার থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে শরীর সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কোষের বিস্তার ঠেকানোর চেষ্টা করে। তবে গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। সব ধরনের ডিএনএ ক্ষতির ক্ষেত্রে মেলানোসাইট স্টেম সেল একইভাবে আচরণ করে না। গবেষকরা ইঁদুরের কোষকে ক্যানসার সৃষ্টিকারী কিছু রাসায়নিক এবং অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আনেন। তখন দেখা যায়, কিছু পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত স্টেম সেল স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়ায় না গিয়ে নিজেদের পুনরুৎপাদন করতে থাকে। অর্থাৎ, ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত থাকা সত্ত্বেও তারা টিকে থাকে এবং বিভাজিত হতে থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতি মেলানোমা বা ত্বকের এক ধরনের ক্যানসার তৈরির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আশপাশের কোষ ও টিস্যু থেকে পাওয়া রাসায়নিক সংকেতও এই আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে। গবেষকদের ভাষায়, একই স্টেম সেল পরিস্থিতি অনুযায়ী দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে যেতে পারে। একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ দ্রুত পরিণত হয়ে স্টেম সেলের ভাণ্ডার থেকে সরে গেলে চুল পেকে যেতে পারে। অন্যদিকে, কিছু পরিবেশে সেই ক্ষতিগ্রস্ত কোষ টিকে গিয়ে বিভাজিত হতে থাকলে ক্যানসার তৈরির সম্ভাব্য পথ তৈরি হতে পারে। এখানেই পাকা চুল ও ক্যানসারের মধ্যে গবেষণায় পাওয়া অপ্রত্যাশিত সম্পর্কটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে পাকা চুল নিজেই ক্যানসার প্রতিরোধ করে। বরং একই কোষীয় প্রতিক্রিয়ার দুটি ভিন্ন ফলাফল হিসেবে চুল পাকা এবং ক্যানসারের ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক থাকতে পারে বলে গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে। গবেষণাটি বয়স বাড়ার সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকি কেন বাড়ে, তা বোঝার ক্ষেত্রেও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের কোষে ডিএনএ ক্ষতি ও অন্যান্য পরিবর্তন জমতে থাকে। একই সময়ে কোষের পুনর্গঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষ নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক ব্যবস্থাও বদলে যেতে পারে। তবে এই গবেষণার ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না। গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো ইঁদুরের ওপর পরিচালিত হয়েছে। মানুষের শরীর, জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং জীবনযাপনের সঙ্গে ইঁদুরের পার্থক্য রয়েছে। তাই মানুষের চুল পাকা এবং ক্যানসারের ঝুঁকির মধ্যে একই ধরনের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, মেলানোসাইট স্টেম সেল কীভাবে ক্ষতির প্রতিক্রিয়া জানায় এবং কোন সংকেত তাদের নিরাপদ পথে বা ঝুঁকিপূর্ণ পথে পরিচালিত করে, তা আরও ভালোভাবে বোঝা গেলে ভবিষ্যতে ক্যানসার ও বয়সজনিত কোষীয় পরিবর্তন নিয়ে নতুন গবেষণার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, মাথার পাকা চুলকে শুধু বয়সের দৃশ্যমান চিহ্ন হিসেবে দেখার বাইরে গিয়ে এখন বিজ্ঞানীরা এর পেছনে থাকা কোষীয় প্রক্রিয়াকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। তবে এই গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে এবং মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রভাব নিশ্চিত করতে আরও প্রমাণ প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লুইসভিলে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ কুড়িয়ে পেয়েও তা নিজের কাছে না রেখে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে সততার নজির গড়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এক নাপিত। ব্যাংক অব আমেরিয়ার একটি এটিএমের ওপর পড়ে থাকা ব্যাগ থেকে তিনি ১ লাখ ২৮ হাজার ৫১৪ ডলার নগদ অর্থ এবং ১৯টি চেক পান। পরে পুরো অর্থই নিরাপদে পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটে গত ৩ আগস্ট ডেন্টন কাউন্টির লুইসভিল শহরের ওয়েস্ট মেইন স্ট্রিটে ব্যাংক অব আমেরিয়ার একটি এটিএমে। ওই ব্যক্তি পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন তিনি ৪২ বছর বয়সী এক নারীর সঙ্গে এটিএমে টাকা তুলতে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তারা মেশিনের ওপর কয়েকটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন। ব্যাগ খুলে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ দেখতে পান ওই নাপিত। একটি ছোট ব্যাগে ছিল ১৯টি চেক। এত বিপুল অর্থ পাওয়ার পরও তিনি তা নিজের কাছে রাখার পরিবর্তে ব্যাগের মালিক খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাগগুলোর একটিতে ‘চিক-ফিল-এ’-এর লেবেল ছিল। তাই প্রথমে তার ধারণা হয়, হয়তো জনপ্রিয় ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠানটির অর্থ হতে পারে। তিনি কাছের একটি চিক-ফিল-এ রেস্তোরাঁয় গিয়ে ব্যাগগুলো হস্তান্তরের চেষ্টা করেন। তবে রেস্তোরাঁর ম্যানেজার জানান, অর্থগুলো তাদের নয়। এরপর তিনি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৯১১ নম্বরে ফোন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর অর্থের পরিমাণ যাচাই করে। একজন কর্মকর্তা নগদ অর্থ দুইবার গুনে দেখেন। পরে ডিজিটাল কারেন্সি কাউন্টার দিয়েও অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত করা হয়। ব্যাগের ভেতরে থাকা ব্যাংকের একটি রসিদেও ঠিক একই পরিমাণ অর্থের উল্লেখ ছিল—১ লাখ ২৮ হাজার ৫১৪ ডলার। এরপর পুরো অর্থ সিল করে লুইসভিল পুলিশ বিভাগের নিরাপদ সংরক্ষণাগারে রাখা হয়। লুইসভিল পুলিশের গোয়েন্দা জিনা মিলার বলেন, তার দীর্ঘ কর্মজীবনে এমন ঘটনা আগে কখনো দেখেননি। সাধারণত মানুষ হারানো মানিব্যাগ, পরিচয়পত্র বা ছোটখাটো সম্পদ পুলিশের কাছে জমা দেয়। কিন্তু ১ লাখ ২৮ হাজার ডলারের মতো বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ কেউ পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন—এমন ঘটনা তার কাছে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী। পুলিশের তদন্তে পরে জানা যায়, অর্থগুলো কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না। টাকা ছিল ব্যাংক অব আমেরিয়ার এবং ব্যাংকের নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ব্রিঙ্কসের মাধ্যমে এটিএমে সরবরাহ করা হচ্ছিল। একজন ব্রিঙ্কস কর্মী এটিএমে কাজ শেষ করার পর অর্থের ব্যাগগুলো নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ভুল করে সেগুলো মেশিনের ওপর রেখে চলে যান। লুইসভিল পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে কোনো চু রি বা অন্য কোনো অ প রা ধ সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সবকিছু দেখে তদন্তকারীদের কাছে এটি পরিষ্কার হয় যে অর্থগুলো ভুলবশত সেখানে ফেলে যাওয়া হয়েছিল। লুইসভিল পুলিশের প্রধান ব্রুক রলিন্স ঘটনাটিকে অত্যন্ত বিরল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এত বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়া যেমন অস্বাভাবিক, তেমনি সেটি কোনো অ প রা ধের সঙ্গে যুক্ত না থাকা এবং একজন সাধারণ নাগরিকের মাধ্যমে পুরো অর্থ অক্ষত অবস্থায় পুলিশের কাছে ফিরে আসাও ব্যতিক্রমী ঘটনা। রলিন্স আরও বলেন, এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে। পুলিশের ভাষায়, পুলিশ সমাজের একটি অংশ; অন্য অংশ হলো সেই কমিউনিটি, যাদের সহযোগিতা ছাড়া অনেক ঘটনা সমাধান করা কঠিন। পরে ব্যাংক অব আমেরিয়া হারিয়ে যাওয়া পুরো অর্থ ও চেকগুলো ফেরত পায়। অর্থের একটি ডলারও কম পাওয়া যায়নি। পুলিশ এখন ওই নাপিতকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানোর পরিকল্পনা করছে। তিনি সিবিএস নিউজ টেক্সাসকে ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি না হলেও জানিয়েছেন, পুলিশ বিভাগ তাকে সম্মান জানালে তিনি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে রাজি আছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি শুধু বিপুল অর্থ ফেরত পাওয়ার গল্প নয়; বরং এমন একটি উদাহরণ, যেখানে একজন সাধারণ মানুষ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অন্যের সম্পদ নিজের করে নেওয়ার পরিবর্তে সেটি সঠিক মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের পুটনাম কাউন্টিতে ২৪ বছর বয়সী দিয়েগো রদ্রিগেজ-অর্ডোনেজকে প্রায় ১৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইবার গ্রে ফ তার করা হয়েছে। প্রথমে একটি গ্যাস স্টেশনের দোকানকর্মীকে আ ক্র ম ণ এবং পণ্য চুরির ঘটনায় ডা কা তি র অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। পরে একই দিন রাতে একটি ট্রেনে এক নারীকে জোরপূর্বক স্পর্শের অভিযোগে আবারও তাকে গ্রে ফ তার করে পুলিশ। পুটনাম কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাগুলো ঘটে গত ২৯ সেপ্টেম্বর। ভোর প্রায় ৩টা ৫ মিনিটে কেন্ট শহরের একটি সিনক্লেয়ার গ্যাস স্টেশনে পণ্য চুরি ঠেকাতে গিয়ে এক দোকানকর্মী আ ক্রা ন্ত হন বলে অভিযোগ ওঠে। শেরিফের ডেপুটিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রদ্রিগেজ-অর্ডোনেজকে কাছের একটি জলাভূমি এলাকায় লুকিয়ে থাকা অবস্থায় খুঁজে পান এবং তাকে হেফাজতে নেন। কেন্ট পুলিশ তার বিরুদ্ধে ডা কা তি ও আ ক্র ম ণের অভিযোগ আনে। কাছের একটি ব্যাংকের পৃথক ঘটনায় তার বিরুদ্ধে গুরুতর সম্পত্তি ক্ষতির অভিযোগও আনা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত প্রায় ৯টা ৯ মিনিটে পুটনাম কাউন্টির জরুরি নম্বরে আরেকটি খবর আসে। একটি ট্রেনের নারী যাত্রী পুলিশকে জানান, ট্রেনে থাকা এক ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক স্পর্শ করেছেন। ডেপুটিরা পৌঁছানোর আগেই ওই ব্যক্তি সেখান থেকে চলে যান। পরে ট্রেন ইয়ার্ডের কাছে রদ্রিগেজ-অর্ডোনেজকে শনাক্ত করেন এক ডেপুটি। পুলিশের দাবি, তাকে থামার জন্য একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি এবং গ্রে ফ তারে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পুলিশ টে জা র ব্যবহার করে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হেফাজতে নেয়। দ্বিতীয় ঘটনায় তার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক স্পর্শ, সরকারি কাজে বাধা, গ্রে ফ তারে বাধা এবং অন ধি কার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে হাজির করার পর তার জামিনের পরিমাণ ১০ হাজার ডলার নগদ অথবা ২০ হাজার ডলারের বন্ড নির্ধারণ করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ঘটনায় গ্রে ফ তারের পর তিনি আবারও বাইরে ছিলেন এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দ্বিতীয় ঘটনায় তাকে আটক করা হয়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্যের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, রদ্রিগেজ-অর্ডোনেজ গুয়াতেমালার নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস নেই। বিভাগটির তথ্য অনুযায়ী, তার আগের একাধিক মা ম লা ও দো ষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্ট আরও জানিয়েছে, গত দুই বছরে রদ্রিগেজ-অর্ডোনেজকে ১৭ বার গ্রে ফ তার করা হয়েছে বলে পুটনাম কাউন্টির শেরিফ ব্রায়ান হেস দাবি করেছেন। তবে কোনো ব্যক্তিকে গ্রে ফ তার করা হয়েছে—এ তথ্য নিজেই প্রতিটি ঘটনায় দো ষী সাব্যস্ত হওয়ার প্রমাণ নয়। ঘটনার পর নিউইয়র্কের অভিবাসন নীতি ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে। পুটনাম কাউন্টির শেরিফ ব্রায়ান হেসসহ স্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তা নিউইয়র্কের ‘স্যাংচুয়ারি’ নীতির সমালোচনা করেছেন এবং স্থানীয় ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে আরও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থান হিসেবে এসেছে। পুটনাম কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, দুই ঘটনায় জড়িত দুই ভু ক্ত ভো গী গুরুতরভাবে আ হ ত হননি। একই সঙ্গে পুলিশের প্রকাশিত বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে দো ষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ইন্টারভিউতে আবেদনকারীদের সত্য ও সঠিক তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। ইন্টারভিউতে মি থ্যা তথ্য দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা বা জা ল নথি উপস্থাপনের গুরুতর পরিণতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দূতাবাস। আরটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ৩ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এ সতর্কতা জানায়। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের ইন্টারভিউতে সব প্রশ্নের উত্তর সত্যভাবে দেওয়া উচিত এবং কোনো তথ্য গোপন বা বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা বা প্র তারণা করলে অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইনের ২১২(এ)(৬)(সি)(আই) ধারায় আবেদনকারী অ যোগ্য হতে পারেন। এ ধরনের অ যোগ্যতা সাধারণভাবে স্থায়ী। পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, এই বিধান শুধু কোনো একটি ভিসা আবেদন প্র ত্যাখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একই আইনের আওতায় অ যোগ্যতা নির্ধারিত হলে পরবর্তী সময়ে ভিসার জন্য আবেদন করলেও একই কারণে অ যোগ্য বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইনের আওতায় ওয়েভারের সুযোগ থাকতে পারে। সেই সুযোগ সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় বা নিশ্চিত নয়। তবে সাধারণ অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং জেনেশুনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মি থ্যা উপস্থাপনের বিষয় এক নয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এই বিধান মূলত ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন বা প্র তারণার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এ কারণে ভিসা আবেদনপত্র পূরণ, প্রয়োজনীয় নথি জমা এবং ইন্টারভিউ—প্রতিটি ধাপেই সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীর অতীতের অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্যও ভিসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার মূল বিষয় হলো, ভিসা পাওয়ার আশায় কোনো তথ্য গোপন করা বা ভুল তথ্য দেওয়ার চেষ্টা না করা। আবেদনকারীদের নিজেদের তথ্য ও নথিপত্র যাচাই করে ইন্টারভিউতে সত্য ও পরিষ্কারভাবে উত্তর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কথা বলছেন আপনি, কিন্তু আলোচনার বিষয় বারবার ঘুরে যাচ্ছে তার দিকে। আপনার কষ্টের কথা বললে তিনি নিজের সমস্যার কথা সামনে আনছেন। কোনো ভুল নিয়ে প্রশ্ন তুললে উত্তর না দিয়ে উল্টো আপনাকেই দোষী বানিয়ে দিচ্ছেন। কখনো হয়তো মনে হচ্ছে, সম্পর্কের শান্তি ধরে রাখার দায়িত্বটা শুধু আপনারই। শুরুতে এসব আচরণকে হয়তো ভালোবাসার অতিরিক্ত প্রকাশ, আত্মবিশ্বাস কিংবা একটু জেদ হিসেবে মনে হতে পারে। কিন্তু একই আচরণ যদি দিনের পর দিন চলতে থাকে, তাহলে সম্পর্কের ভেতরে তৈরি হতে পারে এক ধরনের অদৃশ্য চাপ। ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতেও দ্বিধা হতে পারে, নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন জাগতে পারে, এমনকি মনে হতে পারে—সমস্যাটা বোধহয় আমারই। এখানেই আত্মকেন্দ্রিক আচরণ নিয়ে সচেতন হওয়ার প্রয়োজন। মনোবিজ্ঞানে অতিরিক্ত আত্মকেন্দ্রিক বা আত্মমুগ্ধ আচরণের সঙ্গে নিজের গুরুত্বকে অতিরঞ্জিতভাবে দেখা, অতিরিক্ত প্রশংসা ও স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং অন্যের অনুভূতির প্রতি কম সহানুভূতি দেখানোর মতো বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। তবে একজন মানুষ আত্মকেন্দ্রিক আচরণ করলেই তাকে নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত বলা যায় না। এটি একটি নির্দিষ্ট মানসিক স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং এর নির্ণয় প্রশিক্ষিত পেশাজীবীর বিষয়। ভালোবাসার সম্পর্কে যখন ‘আমি’ হয়ে ওঠে সবকিছু একটি সুস্থ প্রেমের সম্পর্কে দুজন মানুষের চাওয়া, অনুভূতি ও মতামতের জায়গা থাকে। কিন্তু একজন সঙ্গী যদি সবসময় নিজের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেন, তাহলে সম্পর্কের ভারসাম্য ধীরে ধীরে নষ্ট হতে পারে। আপনি হয়তো কোথাও যেতে চান, কিন্তু সিদ্ধান্ত হবে তার পছন্দ অনুযায়ী। আপনি কোনো বিষয়ে কষ্ট পেয়েছেন, কিন্তু আপনার অনুভূতির বদলে আলোচনায় উঠে আসবে তার কষ্ট। কোনো সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গেলে নিজের ভুল স্বীকারের পরিবর্তে তিনি হয়তো ব্যাখ্যা করবেন কেন সমস্যাটির জন্য আপনিই দায়ী। এভাবে চলতে থাকলে সম্পর্কের মধ্যে একজন কথা বলবেন আর অন্যজন শুধু মানিয়ে নেবেন—এমন এক অসমতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের প্রেমের সম্পর্কে এ ধরনের আচরণ অনেক সময় প্রথমদিকে সহজে বোঝা যায় না। অতিরিক্ত খোঁজ নেওয়া কখন নিয়ন্ত্রণে পরিণত হচ্ছে, ভালোবাসার নামে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কমে যাচ্ছে কি না, কিংবা মতের অমিল হলেই অপরাধবোধ তৈরি করা হচ্ছে কি না—এসব পার্থক্য বোঝা জরুরি। বিয়ের পর চাপটা কেন আরও জটিল হয় দাম্পত্য জীবনে শুধু আবেগ নয়, অর্থনীতি, সন্তান, পরিবার, সামাজিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মতো অসংখ্য বিষয় জড়িয়ে থাকে। ফলে একজন সঙ্গীর অতিরিক্ত আত্মকেন্দ্রিক আচরণ পুরো সম্পর্কের পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। যদি একজন সব সিদ্ধান্ত নিজের হাতে রাখতে চান, অন্যের মতামতকে গুরুত্ব না দেন কিংবা প্রতিটি সমস্যার দায় জীবনসঙ্গীর ওপর চাপান, তাহলে ঘরে থেকেই মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। সবচেয়ে কঠিন বিষয় হলো, এই ধরনের সম্পর্কের সমস্যা বাইরে থেকে সবসময় বোঝা যায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা পরিচিতদের সামনে সম্পর্কটি স্বাভাবিক দেখালেও ব্যক্তিগত জীবনে একজন মানুষ প্রতিদিন নিজের কথা বলার সুযোগ, নিজের সিদ্ধান্ত এবং নিজের অনুভূতির স্বীকৃতির জন্য লড়াই করতে পারেন। যখন নিজের অনুভূতিকেই সন্দেহ হতে শুরু করে দীর্ঘদিন দোষারোপ, অস্বীকার কিংবা বাস্তব ঘটনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করার মতো আচরণের মধ্যে থাকলে একজন মানুষ নিজের উপলব্ধি নিয়েই প্রশ্ন তুলতে পারেন। এটিই গ্যাসলাইটিং নামে পরিচিত একটি আচরণগত ধরন। উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, কোনো ঘটনা আপনাকে কষ্ট দিয়েছে। আপনি সেটি নিয়ে কথা বললেন। কিন্তু অপর পক্ষ ঘটনাটি অস্বীকার করলেন বা এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করলেন যে শেষ পর্যন্ত আপনারই মনে হলো, হয়তো আপনি ঘটনাটিকে ভুলভাবে বুঝেছেন। একটি বিচ্ছিন্ন মতবিরোধকে অবশ্য গ্যাসলাইটিং বলা যায় না। এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো আচরণের ধারাবাহিকতা এবং তার প্রভাব। দীর্ঘস্থায়ী এমন অভিজ্ঞতা আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান এবং মানসিক শান্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। কারও ক্ষেত্রে উদ্বেগ, অপরাধবোধ বা নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের অভিজ্ঞতা মানসিক ট্রমার মতো প্রভাবও ফেলতে পারে। কেন অনেকেই সম্পর্ক ছাড়তে পারেন না কখনো কষ্টদায়ক সম্পর্কের মধ্যেও ভালোবাসা, ক্ষমা চাওয়া, ভালো সময় বা সাময়িক পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা থাকতে পারে। ফলে একজন মানুষ মনে করতে পারেন, পরিস্থিতি হয়তো আবার আগের মতো ভালো হয়ে যাবে। এই টানাপোড়েনকে কখনো ‘ট্রমা বন্ড’ বলা হয়। কষ্টের পাশাপাশি পাওয়া ইতিবাচক মুহূর্তগুলো সম্পর্কটি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তকে কঠিন করে তুলতে পারে। তবে প্রত্যেক মানুষের অভিজ্ঞতা আলাদা। তাই কাউকে শুধু একটি শব্দ বা কয়েকটি আচরণের ভিত্তিতে বিচার করার পরিবর্তে পুরো সম্পর্কের ধরন, পরিস্থিতি এবং নিজের মানসিক অবস্থার দিকে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আত্মকেন্দ্রিক মানুষের সঙ্গে থাকলে যে ৭টি বিষয় মনে রাখবেন ১. আবেগের বশে প্রতিক্রিয়া দেবেন না উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সঙ্গে সঙ্গে রাগ বা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখালে আলোচনা আরও জটিল হতে পারে। সম্ভব হলে কিছুটা সময় নিয়ে শান্তভাবে নিজের বক্তব্য জানান। ২. বারবার নিজেকে প্রমাণ করতে যাবেন না প্রতিটি অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে দীর্ঘ তর্কে জড়িয়ে পড়ার প্রয়োজন নেই। নিজের অবস্থান পরিষ্কার ও সংক্ষিপ্তভাবে জানানো যথেষ্ট হতে পারে। ৩. আচরণের পুনরাবৃত্ত ধরন লক্ষ্য করুন একটি ঘটনা নয়, বরং একই ধরনের আচরণ বারবার ঘটছে কি না দেখুন। গ্যাসলাইটিং, দোষ চাপানো, নিজের ভুল অস্বীকার করা কিংবা অভিযোগ উল্টো আপনার দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো লক্ষ্য করা গুরুত্বপূর্ণ। ৪. নিজের সীমারেখা ঠিক করুন কোন আচরণ আপনি মেনে নেবেন এবং কোন আচরণ মেনে নেবেন না, তা নিজের কাছে পরিষ্কার রাখুন। প্রয়োজন হলে অপর পক্ষকেও সেই সীমারেখা জানিয়ে দিন। ৫. প্রয়োজন ছাড়া যোগাযোগ বাড়াবেন না সম্পূর্ণ যোগাযোগ বন্ধ করা সম্ভব না হলে প্রয়োজনীয় বিষয়েই কথা সীমিত রাখুন। সংক্ষিপ্ত, শান্ত ও তথ্যভিত্তিক যোগাযোগ অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব কমাতে পারে। ৬. অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনায় নিরপেক্ষ থাকুন ‘গ্রে রক’ পদ্ধতিতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত আবেগ বা প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করা হয়। তবে এটি সব পরিস্থিতির জন্য উপযুক্ত নয়। সম্পর্কের মধ্যে নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পেশাদার সহায়তা নেওয়া জরুরি। ৭. নিজের জীবনকে আবার নিজের করে নিন অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কের মধ্যে থাকতে থাকতে অনেকেই নিজের বন্ধু, পরিবার, আগ্রহ কিংবা ব্যক্তিগত লক্ষ্য থেকে দূরে সরে যান। সেখান থেকে ধীরে ধীরে নিজের জায়গাগুলো ফিরিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ। নিজের আত্মসম্মান পুনর্গঠন করা, কাছের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সবচেয়ে বড় ‘জবাব’ নিজের ভালো থাকা আত্মকেন্দ্রিক বা আত্মমুগ্ধ মানুষের আচরণ সামলানোর বিষয়টি শেষ পর্যন্ত প্রতিশোধের গল্প নয়। বরং এটি নিজের সীমারেখা, আত্মসম্মান এবং মানসিক শান্তি ফিরে পাওয়ার গল্প। অন্য একজন মানুষ কীভাবে আচরণ করবেন, সেটি সবসময় নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু সেই আচরণের সামনে নিজের সীমা কোথায় হবে, কোন পরিস্থিতিতে দূরত্ব প্রয়োজন এবং কখন সহায়তা চাইতে হবে—এসব সিদ্ধান্ত নিজের হাতে রাখা যায়। কারও আচরণকে বদলে দেওয়ার দায়িত্ব নিজের ওপর নেওয়ার চেয়ে নিজের সুস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়া অনেক বেশি বাস্তবসম্মত। কারণ একটি সম্পর্ক তখনই সুস্থ হতে পারে, যখন সেখানে শুধু একজনের চাওয়া নয়, দুজন মানুষের অনুভূতি ও মর্যাদারও জায়গা থাকে।
সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো দীর্ঘমেয়াদে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সন্তান জন্মের পর কয়েক বছর এই রোগের ঝুঁকি সাময়িকভাবে বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট ও আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, এই দুটি বিষয় পরস্পরবিরোধী নয়। সন্তান জন্ম ও স্তন্যদানের প্রভাব সময়ের সঙ্গে বদলায়। সন্তান জন্মের পর ঝুঁকি কতটা বাড়বে এবং কত দিন থাকবে, তা সবার ক্ষেত্রে এক নয়। প্রথম সন্তান জন্মের সময় মায়ের বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ক্যানসারের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয় এতে ভূমিকা রাখে। ২০১৮ সালে প্রকাশিত ১৫টি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার সম্মিলিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদের স্তন ক্যানসারের আপেক্ষিক ঝুঁকি সন্তান জন্ম না দেওয়া নারীদের তুলনায় প্রসবের প্রায় পাঁচ বছর পর সবচেয়ে বেশি ছিল। ওই গবেষণায় ৫৫ বছরের কম বয়সী নারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। প্রথম সন্তান জন্মের সময় বয়স বেশি হলে এবং স্তন ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ঝুঁকির বৃদ্ধি বেশি দেখা গেছে। এই ফল কোনো ব্যক্তির ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়। অন্যদিকে, বুকের দুধ খাওয়ানোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্তন্যদানের সময় মাসিক চক্রের সংখ্যা কমে যাওয়ায় শরীরের নিজস্ব কিছু হরমোনের সংস্পর্শও কমে। এটি সুরক্ষামূলক প্রভাবের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা। তবে বুকের দুধ খাওয়ালেই স্তন ক্যানসার হবে না, এমন নিশ্চয়তা নেই। গর্ভাবস্থায় স্তন ক্যানসার বিরল। কিন্তু গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানের সময় স্তন বড় হওয়া, ভারী লাগা বা টিস্যুর পরিবর্তনের কারণে সন্দেহজনক গুটি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি জানিয়েছে, এসব স্বাভাবিক পরিবর্তনের আড়ালে রোগ শনাক্তে দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই স্তনে বা বগলে নতুন গুটি, স্থায়ী শক্ত অংশ, ত্বকে টোল পড়া, স্তনবৃন্তের অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিংবা বুকের দুধ ছাড়া অন্য ধরনের নিঃসরণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অধিকাংশ স্তনের পরিবর্তন ক্যানসার নয়। তবু কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে শুধু গর্ভাবস্থা বা দুধ জমার ফল ধরে নিয়ে উপেক্ষা করা উচিত নয়।
মাগুরা সদর উপজেলার সংকোচখালি গ্রামের চা বিক্রেতা বাবু মোল্যার নামে ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখিয়ে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকার বিল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে বিলটি সংশোধন করা হয়। ঢাকা পোস্টের ২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশোধিত বিলে আগের তিন মাসের বকেয়াসহ মোট বিল নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০৫ টাকা। বিলম্ব ফিসহ পরিশোধযোগ্য অর্থ দাঁড়িয়েছে ৭১২ টাকা। বাবু মোল্যা গোপালগ্রাম ইউনিয়নের সংকোচখালি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর ভাষ্য, বাড়িতে সাধারণত মাসে ২০০ থেকে ২৫০ টাকার বিদ্যুৎ বিল আসে। এবার প্রায় ৩০ হাজার টাকার বিল দেখে তিনি চিন্তায় পড়েন। গত বুধবার অফিসে বিল পরিশোধ করতে গিয়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানান। তাঁরা যাচাই করে সংশোধিত বিল দেন। নতুন বিলে পরিশোধের শেষ তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ৬ অক্টোবর। বাড়ির বিলের সঙ্গে দোকানের একটি মিটারের বকেয়া যুক্ত করা নিয়ে গ্রাহক ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে বাবু দাবি করেন, তাঁর চায়ের দোকানে অন্য এক গ্রাহকের পুরোনো মিটার বসানো হয়েছিল। প্রায় সাত মাস ব্যবহারের পর ওই মিটারে ২৬ হাজার টাকা বকেয়া দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। দোকানের মিটার প্রায় চার মাস বন্ধ থাকলেও সেই বকেয়া তাঁর বাড়ির মিটারের সঙ্গে যোগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বাবু আরও দাবি করেন, বকেয়া যুক্ত করার আগে তাঁকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। তবে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চলতি দায়িত্বে থাকা জেনারেল ম্যানেজার এস এম শাহিন আহসান চ্যানেল আইকে বলেন, এই গ্রাহকের অন্য একটি মিটারে বকেয়া ছিল। কয়েকবার নোটিশ দেওয়ার পরও তা পরিশোধ না করায় বর্তমান মিটারের সঙ্গে পুরোনো বিল যুক্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২৯ হাজার ১৩৮ টাকার পুরো অঙ্কটি শুধু ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের মূল্য ছিল না; এর সঙ্গে পুরোনো বকেয়া যুক্ত ছিল। তবে সংশোধিত আবাসিক বিল থেকে ওই অর্থ বাদ দেওয়ার পর দোকানের মিটারের বকেয়া কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তা স্পষ্ট করা হয়নি। সূত্র: মাছরাঙা টিভি
২০৩৯ সালে একই ইংরেজি বছরের মধ্যে দুটি ঈদুল আজহা, একটি ঈদুল ফিতর এবং দুটি হজ মৌসুম পড়তে পারে। সৌদি আরবের জ্যোতির্বিদ্যা বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল মিসনাদের হিসাবের বরাতে গালফ নিউজ জানিয়েছে, হিজরি ও গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির দৈর্ঘ্যের পার্থক্য থেকেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে। আল মিসনাদের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, প্রথম ঈদুল আজহা পড়তে পারে ২০৩৯ সালের ৬ জানুয়ারি। পরের হিজরি বছরের ঈদুল আজহা একই ইংরেজি বছরের ২৬ ডিসেম্বর পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ অক্টোবর হতে পারে ঈদুল ফিতর। তবে এগুলো আগাম হিসাব, চূড়ান্ত ধর্মীয় তারিখের ঘোষণা নয়। দুটি ঈদুল আজহা দুটি আলাদা হিজরি বছরের অন্তর্ভুক্ত হবে। বছরের শুরুরটি হবে ১৪৬০ হিজরির ১০ জিলহজ এবং শেষেরটি ১৪৬১ হিজরির ১০ জিলহজ। ফলে একই গ্রেগরিয়ান বছরের জানুয়ারি ও ডিসেম্বরে পৃথক দুটি হজ মৌসুম পড়বে। এর কারণ হিজরি বছর ইংরেজি বছরের চেয়ে ছোট। চান্দ্র মাসভিত্তিক হিজরি বছরে থাকে ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন। অন্যদিকে সৌরভিত্তিক গ্রেগরিয়ান বছরে থাকে ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন। তাই ঈদ, রমজান ও হজের সময় ইংরেজি বর্ষপঞ্জিতে সাধারণত প্রতি বছর প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন আগে আসে। কোনো হিজরি উৎসব ইংরেজি বছরের একেবারে শুরুতে পড়লে পরের হিজরি বছরের একই উৎসব ডিসেম্বরের শেষ দিকে ফিরে আসতে পারে। ২০৩৯ সালের দুটি ঈদুল আজহা ও দুটি হজ মৌসুমের সম্ভাবনাও এভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন আল মিসনাদ। তিনি এ বিষয়ে নিজের ওয়েবসাইটে ২০১৩ সালেই হিসাব প্রকাশ করেছিলেন। একই কারণে ২০৩০ সালের জানুয়ারি ও ডিসেম্বরে দুটি রমজান মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে গালফ নিউজ। তবে ভবিষ্যতের ঈদ, রমজান ও হজের নির্দিষ্ট তারিখ চাঁদ দেখা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ভিত্তিতে নিশ্চিত হবে।
মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি তাঁদের নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক হিসাব প্রতি বছর তলবের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার এই প্রক্রিয়া নিজের ব্যাংক হিসাব দিয়ে শুরু করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার, ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে হাসনাত এ দাবি জানান। বার্তা বাজারের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় স্বার্থে অন্য কারও ব্যাংক হিসাব তলব করা হলে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পোস্টে হাসনাত সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আর্থিক তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি তাঁদের নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক হিসাব নিয়মিত তলবের কথা বলেন। এই দাবির সঙ্গে নিজের হিসাবও যাচাই করার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমাকে দিয়ে তা শুরু হোক।’ ব্যাংক হিসাব তলবের ক্ষেত্রে সরকারের সমালোচকদের বেছে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন হাসনাত। দৈনিক সংবাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি রাষ্ট্রের ব্যাংক হিসাব চাওয়ার ক্ষমতা নিয়ে আপত্তি জানাননি। তবে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার পর এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মন্তব্য করেন। এটি হাসনাতের অভিযোগ; ব্যাংক হিসাব তলবের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার বিষয়টি ওই বক্তব্যে প্রমাণিত হয়নি। একই পোস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ঘোষিত আয়, সম্পদ বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা জনস্বার্থে খতিয়ে দেখার দাবি জানান। এসব বক্তব্য হাসনাতের উত্থাপিত প্রশ্ন ও দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের সিদ্ধান্ত নয়। হাসনাত আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা দায়িত্ব গ্রহণের আগে ও পরের সম্পদের হিসাব নিজেরাই প্রকাশ করেছেন। সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সূত্র: বার্তা বাজার
ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে ভিক্ষাবৃত্তিবিরোধী অভিযানে নিয়ে যাওয়া মঙ্গিলালের তিনটি বাড়ি, তিনটি অটোরিকশা ও একটি গাড়ি থাকার দাবি করেছে প্রশাসন। তবে মঙ্গিলাল ভিক্ষা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও কিছু সম্পত্তি ও যানবাহনের মালিকানা নিয়ে প্রশাসনের দাবির বিরোধিতা করা হয়েছে। ঘটনাটি ২০২৬ সালের জানুয়ারির। টাইমস অব ইন্ডিয়ার ১৯ জানুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শারীরিক প্রতিবন্ধী মঙ্গিলাল ইন্দোরের সরাফা বাজারে চাকা লাগানো লোহার একটি ছোট গাড়িতে চলাফেরা করতেন। মধ্যপ্রদেশের নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগের দল তাঁকে পুনর্বাসনের জন্য নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর সম্পত্তি ও আয়ের বিষয়ে খোঁজ শুরু করে। অভিযানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীনেশ মিশ্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গিলালের সঙ্গে ভগত সিং নগরের একটি তিনতলা বাড়ি, শিবনগরের ৬০০ বর্গফুটের একটি বাড়ি এবং আলওয়াসার এক কক্ষের একটি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া যায়। কর্মকর্তাদের দাবি, প্রতিবন্ধিতার ভিত্তিতে সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় রেড ক্রসের মাধ্যমে ফ্ল্যাটটি পেয়েছিলেন তিনি। তাঁর তিনটি অটোরিকশা ভাড়ায় চলত এবং একটি মারুতি ডিজায়ার গাড়িও ছিল বলে তাঁরা জানান। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, মঙ্গিলাল সরাসরি কারও কাছে টাকা চাইতেন না। বাজারে তাঁকে দেখে পথচারীরা অর্থ দিতেন। তাঁদের হিসাবে, এভাবে দিনে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ রুপি পেতেন তিনি। সরাফা এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি সুদে ধার দেওয়ার তথ্যও কর্মকর্তারা জানান। তবে ২১ জানুয়ারি নবভারত টাইমসে প্রকাশিত পরবর্তী প্রতিবেদনে মঙ্গিলাল এসব অভিযোগের ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তাঁর দাবি, তিনি পরিবহন ব্যবসা ও সুদে অর্থ ধার দেওয়ার কাজ করেন। সরাফা বাজারে গিয়েছিলেন ধার দেওয়া অর্থের সুদ সংগ্রহ করতে। তিনি কখনো ভিক্ষা করেননি এবং নিজের উপার্জনে বাড়ি করেছেন বলেও দাবি করেন। একই প্রতিবেদনে তাঁর ভাতিজা ভীম সিং চৌহান দাবি করেন, তিনতলা বাড়িটি তাঁর মায়ের নামে নিবন্ধিত। তিনটি অটোরিকশার মধ্যে দুটি তাঁর নিজের নামে এবং গাড়িটি তাঁর বোনের। ফলে প্রশাসন যেসব সম্পদের কথা জানিয়েছে, সেগুলোর সবই মঙ্গিলালের নামে কি না, তা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। জানুয়ারির প্রতিবেদনে প্রশাসন জানিয়েছিল, মঙ্গিলালের ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তির নথি ও আয়ের উৎস যাচাই করা হচ্ছে। দীনেশ মিশ্র তখন বলেন, তাঁর সম্পদের সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের কাজ বাকি রয়েছে। তাই তাঁকে নিশ্চিতভাবে কোটি টাকার সম্পদের মালিক বলা কিংবা সব সম্পদ ভিক্ষার অর্থে গড়া বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো চূড়ান্ত তথ্য ওই প্রতিবেদনে ছিল না।
প্রথমবার বাড়ি কিনতে ডাউন পেমেন্ট জমানোর হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের বড় আবাসন বাজারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন অবস্থানে রয়েছে নিউইয়র্ক সিটি। রকেটের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্থানীয় একটি মধ্যম আয়ের পরিবার বছরে আয়ের ৫ শতাংশ সঞ্চয় করলে গবেষণায় পাওয়া মধ্যম ডাউন পেমেন্টের সমপরিমাণ অর্থ জমাতে প্রায় ৬৫ বছর লাগতে পারে। ২ অক্টোবর নিউইয়র্ক পোস্ট এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে এই হিসাবের অর্থ বাড়ি কিনতে সবাইকে ৬৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে, এমন নয়। এটি নির্দিষ্ট সঞ্চয়হার ধরে তৈরি একটি তুলনামূলক হিসাব। রকেট মর্টগেজের প্রথমবার বাড়ি কেনা গ্রাহকদের ডাউন পেমেন্ট এবং স্থানীয় পরিবারের আয়ের ব্যবধান বোঝাতে বিশ্লেষণটি করা হয়েছে। গবেষণায় নিউইয়র্কে প্রথমবারের ক্রেতাদের মধ্যম ডাউন পেমেন্ট পাওয়া গেছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ডলার, যা বাড়ির ক্রয়মূল্যের প্রায় ৩০ শতাংশ। ব্যবহৃত মধ্যম বার্ষিক পারিবারিক আয় ৮১ হাজার ২২৮ ডলার। এর ৫ শতাংশ সঞ্চয় করলে বছরে জমে প্রায় ৪ হাজার ৬১ ডলার। সেই হিসাবে ওই ডাউন পেমেন্ট জমাতে সময় লাগে ৬৫ দশমিক ২ বছর। রকেটের বিশ্লেষণটি জুনে প্রকাশিত হয়। এতে ২০২৫ সালের ২০ মে থেকে ২০২৬ সালের ১৯ মে পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে মর্টগেজ নিয়ে প্রথম বাড়ি কেনা গ্রাহকদের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। পরিবারের আয়ের তথ্য নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনসাস ব্যুরোর ২০২৪ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে থেকে। ফলে ফলাফলটি সব ক্রেতার অভিজ্ঞতা বা মর্টগেজের ন্যূনতম ডাউন পেমেন্টের শর্তকে প্রতিনিধিত্ব করে না। একই পদ্ধতির হিসাবে সান ফ্রান্সিসকোয় মধ্যম ডাউন পেমেন্ট জমাতে প্রয়োজন ৫৭ দশমিক ২ বছর এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে ৪১ দশমিক ৫ বছর। বিপরীতে মিশিগানের ওয়ারেনে সময় লাগে প্রায় ৩ দশমিক ১ বছর, ডেট্রয়েটে ৩ দশমিক ৯ বছর। ওই দুই বাজারে প্রথমবারের ক্রেতাদের মধ্যম ডাউন পেমেন্ট যথাক্রমে ৮ হাজার ৭৯৭ ও ৭ হাজার ৬০০ ডলার। এই ব্যবধানের পেছনে বাড়ির দাম ছাড়াও শুরুতে ক্রেতারা কত শতাংশ অর্থ দিচ্ছেন, সেটি বড় বিষয়। নিউইয়র্কে গবেষণার মধ্যম ডাউন পেমেন্ট ক্রয়মূল্যের ৩০ শতাংশ হলেও ওয়ারেন ও ডেট্রয়েটে তা প্রায় ৫ শতাংশ। রেডফিনের নিউইয়র্কভিত্তিক এজেন্ট জেসন ওয়ার্নার রকেটের প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, শহরের অনেক কো-অপ ও কনডো ভবনে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের শর্ত থাকে। বেশি অর্থ শুরুতে দিলে মর্টগেজের পরিমাণ ও মাসিক কিস্তি কমে, যা ঋণদাতার আয় ও ঋণের অনুপাতসংক্রান্ত শর্ত পূরণেও সহায়তা করতে পারে। সঞ্চয়ের এই হিসাবে বোনাস, বিনিয়োগের আয়, পরিবারের সহায়তা বা ডাউন পেমেন্ট সহায়তার অর্থ ধরা হয়নি। এসব কারণে একজন ক্রেতার বাস্তব প্রস্তুতির সময় গবেষণার হিসাব থেকে আলাদা হতে পারে। বিশ্লেষণটির মূল বার্তা হলো, প্রথম বাড়ি কেনার জন্য শুরুতে প্রয়োজনীয় অর্থ জমানোর বাধা একেক আবাসন বাজারে একেক রকম।