- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ঋণের খরচ আরও বেড়েছে। দেশটির বহুল ব্যবহৃত ৩০ বছরের স্থির সুদের মর্টগেজের গড় হার এবার ৭.২৮ শতাংশে উঠেছে, যা প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মর্টগেজ ঋণের ক্রেতা ফ্রেডি ম্যাকের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ৩০ বছরের মর্টগেজের গড় সুদ ছিল ৭.০৩ শতাংশ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা বেড়েছে ০.২৫ শতাংশ পয়েন্ট। ২০২২ সালের অক্টোবরের পর এক সপ্তাহে এত বড় বৃদ্ধি আর দেখা যায়নি। এক বছর আগে একই ধরনের ঋণের গড় সুদ ছিল ৬.৩৪ শতাংশ। এ নিয়ে টানা ষষ্ঠ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজের সুদের হার বেড়েছে। বর্তমান ৭.২৮ শতাংশ হারটি ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। সেদিন ৩০ বছরের মর্টগেজের গড় সুদ ছিল ৭.২৯ শতাংশ। শুধু ৩০ বছরের ঋণ নয়, ১৫ বছরের স্থির সুদের মর্টগেজের হারও বেড়েছে। গত সপ্তাহের ৬.৪২ শতাংশ থেকে এবার তা বেড়ে হয়েছে ৬.৬০ শতাংশ। এক বছর আগে এই হার ছিল ৫.৫৫ শতাংশ। কেন এত বাড়ছে মর্টগেজ সুদ? গত মাসেই ৩০ বছরের মর্টগেজের সুদ ৭ শতাংশ অতিক্রম করেছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এটি নেমে এসেছিল ৫.৯৮ শতাংশে, যা ২০২২ সালের শেষের পর সর্বনিম্ন পর্যায় ছিল। এরপর থেকে সুদের হার দ্রুত বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষের ৫.৯৮ শতাংশ থেকে বর্তমান ৭.২৮ শতাংশে পৌঁছানোয় প্রায় ১.৩ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে হার। এই বৃদ্ধির পেছনে মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল রিজার্ভের নীতি এবং অর্থনীতি নিয়ে বন্ডবাজারের বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাসহ বিভিন্ন বিষয় কাজ করে। সাধারণত ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারের গতিপথের সঙ্গেও মর্টগেজের সুদের হার ওঠানামা করে। তেলের দাম বৃদ্ধিও সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করেছে। এর প্রভাব আবাসন বাজারেও পড়ছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বাড়ি ক্রেতাদের ওপর প্রভাব মর্টগেজের সুদ বাড়লে একই পরিমাণ ঋণের জন্য মাসিক কিস্তি বেড়ে যায়। ফলে অনেক ক্রেতার বাড়ি কেনার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। কেউ কেউ বেশি সুদের কারণে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়েও দিতে পারেন। ফেব্রুয়ারির শেষের ৫.৯৮ শতাংশ থেকে বর্তমান ৭.২৮ শতাংশে সুদ বৃদ্ধির ফলে ৪ লাখ ডলারের মর্টগেজে মাসিক কিস্তি আনুমানিক ২৭৬ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারেও কিছুটা চাপ দেখা যাচ্ছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্সের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে আগের মাসের তুলনায় বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি ২ শতাংশ কমে যায়। মৌসুমভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বার্ষিক বিক্রির হার নেমে আসে ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ইউনিটে, যা এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতি। তবে ফ্রেডি ম্যাকের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাটারের মতে, বাড়ি কেনার চাহিদা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে ক্রেতারা নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন। মর্টগেজের সুদের হার ভবিষ্যতে কোন দিকে যাবে, তা মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত এবং বন্ডবাজারের গতিপথের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছরের কম বয়সী যোগ্য শিশুদের জন্য ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট তৈরির নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে অভিভাবক বা অনুমোদিত ব্যক্তিকে নিজে থেকে অ্যাকাউন্ট খোলার উদ্যোগ নিতে হতো। এখন সেই প্রক্রিয়া অনেকটাই স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৬ কোটির বেশি অতিরিক্ত যোগ্য শিশুর নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়েছে। ফলে দেশজুড়ে ১৮ বছরের কম বয়সী যোগ্য শিশুদের জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে অ্যাকাউন্ট তৈরি হওয়া মানেই অভিভাবক সেটি ব্যবহার করতে পারবেন—এমন নয়। অভিভাবক বা আইনগত অভিভাবককে অ্যাকাউন্টটি দাবি বা ক্লেইম করতে হবে। পরিচয় ও সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক যাচাইয়ের পর অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করা যাবে। ক্লেইম না করা পর্যন্ত পরিবার, বন্ধু বা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগও চালু হবে না। ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ১,০০০ ডলারের অর্থ পেতেও অ্যাকাউন্টটি ক্লেইম করা প্রয়োজন। কারা পাবেন ১,০০০ ডলার? সব ট্রাম্প অ্যাকাউন্টধারী শিশু ১,০০০ ডলারের সরকারি অর্থ পাবেন না। ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৮-এর মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য মার্কিন নাগরিক শিশু, যাদের বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর রয়েছে, তারা ট্রেজারি বিভাগের এককালীন ১,০০০ ডলারের পাইলট প্রোগ্রাম অবদানের জন্য যোগ্য। এই অর্থ শিশুর ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগ করা হবে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের আগে জন্ম নেওয়া কিছু শিশু সরকারি ১,০০০ ডলারের জন্য যোগ্য না হলেও বেসরকারি অনুদান পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। মাইকেল ও সুসান ডেলের উদ্যোগে যোগ্য শিশুদের অ্যাকাউন্টে ২৫০ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এটি মূল সরকারি ১,০০০ ডলারের আলাদা কর্মসূচি। বছরে কত টাকা জমা দেওয়া যাবে? ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে পরিবার, বন্ধু, নিয়োগকর্তা ও নির্দিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান অর্থ দিতে পারে। সাধারণ অবদানের বার্ষিক সীমা ৫,০০০ ডলার, যা ২০২৭ সালের পর মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় হতে পারে। তবে সরকারি ১,০০০ ডলারের পাইলট অবদান এই ৫,০০০ ডলারের সীমার মধ্যে ধরা হয় না। নিয়োগকর্তাও নির্দিষ্ট শর্তে বছরে সর্বোচ্চ ২,৫০০ ডলার পর্যন্ত অবদান রাখতে পারেন, যা ৫,০০০ ডলারের সামগ্রিক সীমার অংশ হিসেবে গণ্য হয়। টাকা কখন ব্যবহার করা যাবে? ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য তৈরি। শিশুর বয়স ১৮ হওয়ার আগের নির্দিষ্ট গ্রোথ পিরিয়ডে সাধারণভাবে টাকা তুলে নেওয়া যায় না। গ্রোথ পিরিয়ড শেষ হলে প্রচলিত আইআরএ-সংক্রান্ত নিয়ম প্রযোজ্য হয়। অর্থাৎ, এটি সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টের মতো প্রতিদিনের খরচের জন্য ব্যবহার করার ব্যবস্থা নয়। মূল লক্ষ্য হলো শিশুর নামে দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ গড়ে তোলা। অভিভাবকদের এখন কী করতে হবে? ১. যোগ্যতা যাচাই করুন: ১৮ বছরের কম বয়সী এবং বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকা শিশু ট্রাম্প অ্যাকাউন্টের জন্য যোগ্য হতে পারে। ২. অ্যাকাউন্ট ক্লেইম করুন: স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্ট তৈরি হলেও অভিভাবককে সেটি দাবি করতে হবে। ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, অফিসিয়াল ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় ও সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক যাচাই করে অ্যাকাউন্ট ক্লেইম করা যায়। ৩. ১,০০০ ডলারের যোগ্যতা দেখুন: শিশু ২০২৫–২০২৮ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছে এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে সরকারি এককালীন অর্থ পাওয়ার যোগ্য হতে পারে। ৪. চাইলে অতিরিক্ত অর্থ জমা দিন: পরিবার, বন্ধু বা নিয়োগকর্তা অ্যাকাউন্টে অর্থ দিতে পারেন, বার্ষিক নির্ধারিত সীমার মধ্যে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অ্যাকাউন্ট তৈরি হওয়া আর অ্যাকাউন্ট দাবি করা এক বিষয় নয়। আপনার সন্তানের নামে অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়ে গেলেও সেটি ব্যবহার ও সরকারি অর্থ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরবর্তী ধাপটি অভিভাবককেই সম্পন্ন করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় নতুন নীতির প্রভাবে বৈধভাবে বসবাসরত হাজারো অভিবাসীর মেডিকেইড সুবিধা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া পরিবর্তনগুলো ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর আওতায় মেডিকেইড ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির জন্য রাজ্যগুলোর কেন্দ্রীয় সহায়তায় পরিবর্তন আনছে। এর প্রভাব যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থী, নির্যাতন থেকে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তি এবং যৌন পাচারের শিকার ব্যক্তিদের ওপরও পড়তে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আইনটিতে স্বাক্ষর করেন। নতুন ব্যবস্থার অধীনে রাজ্যগুলো মেডিকেইড এবং চিলড্রেনস হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রামের জন্য আগের মতো পূর্ণ সমপরিমাণ কেন্দ্রীয় অর্থ পাবে না। জর্জিয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিটি ‘পিচকেয়ার ফর কিডস’ নামে পরিচিত। জর্জিয়া হেলথ ইনিশিয়েটিভের কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই নীতির কারণে ২০৩৪ সালের মধ্যে রাজ্যটিতে প্রায় ৩২ হাজার মানুষ মেডিকেইড সুবিধা হারাতে পারেন। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ১৪ হাজারের বেশি মানুষ স্বাস্থ্যবিমাহীন হয়ে পড়তে পারেন। এসব হিসাব দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাব্য প্রভাবের পূর্বাভাস হিসেবে দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আটলান্টার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান মার্সি কেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথরিন ললার উদ্বেগ জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যবিমাহীন এবং প্রচলিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত নন এমন মানুষদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে। ললারের মতে, মানুষের স্বাস্থ্যবিমা না থাকলে তারা কম চিকিৎসা নেন। এর ফলে মানুষ কম সুস্থ থাকতে পারেন এবং পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ব্যয়ও বাড়তে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ মেডিকেইডকে দুর্বল না করে এর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জন্য কর্মসূচিটিকে সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করবে। প্রশাসন বলছে, গর্ভবতী নারী, শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য মেডিকেইড সুরক্ষিত রাখাই এর লক্ষ্য। ট্রাম্প প্রশাসন আরও বলেছে, আইনের মাধ্যমে মেডিকেইড ব্যবস্থায় অপচয়, জালিয়াতি ও অপব্যবহার বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বাদ দেওয়া, কাজের শর্ত কার্যকর করা এবং প্রকৃতপক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য মেডিকেইড সুরক্ষিত রাখাও নীতির উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিন কার্ডধারী অভিবাসীরা এই পরিবর্তনের কারণে মেডিকেইড সুবিধা হারাবেন না। ফলে নতুন নীতির প্রভাব সব অভিবাসীর ওপর একইভাবে পড়বে না। কারা সুবিধা হারাতে পারেন, তা তাদের অভিবাসন পরিস্থিতি এবং মেডিকেইড সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে। ক্যাথরিন ললার বর্তমানে মেডিকেইড সুবিধা পাওয়া ব্যক্তিদের নিজেদের কভারেজের অবস্থা সম্পর্কে আগে থেকেই নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, চিকিৎসা নেওয়ার সময় বা জরুরি অবস্থায় গিয়ে যদি কেউ জানতে পারেন যে তার স্বাস্থ্যবিমা আর কার্যকর নেই, তাহলে সেটি বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই পরিবর্তনের বিষয়ে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। মার্সি কেয়ার স্বাস্থ্যবিমাহীন, আংশিকভাবে বিমাকৃত এবং গৃহহীন মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আসা অনেক মানুষও রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক চিকিৎসা, দাঁতের চিকিৎসা, চোখের চিকিৎসা, মনোরোগ চিকিৎসা, আচরণগত স্বাস্থ্যসেবা, শিশু চিকিৎসা এবং ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন সেবা দেয়। ললার জানান, ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর কারণে যারা স্বাস্থ্যবিমা হারাতে পারেন, তাদের জন্যও আটলান্টায় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। চাকরি হারানোর কারণে যারা স্বাস্থ্যবিমা হারিয়েছেন, তারাও মার্সি কেয়ারের সেবা নিতে পারেন বলে তিনি জানিয়েছেন। মার্সি কেয়ার সিস্টার্স অব মার্সির ঐতিহ্য অনুসরণ করে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। সিস্টার্স অব মার্সি ১৮৮০ সালে আটলান্টার প্রথম হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছিল, যা পরে এমোরি সেন্ট জোসেফস হাসপাতাল নামে পরিচিত হয়। বর্তমানে মার্সি কেয়ারের ক্লিনিক ও প্রধান কার্যালয় আটলান্টার ডেকাটুর স্ট্রিটে অবস্থিত। ললার আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ে পরিবর্তন মানুষের মধ্যে চাপ ও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তার মতে, এই চাপ মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। আটলান্টায় মানুষকে স্বাগত জানানোর যে ঐতিহ্য রয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা নীতিতেও সেটির প্রতিফলন থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আবারও মার্কিন সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হচ্ছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘোষিত নতুন ‘প্রজেক্ট মেরিডিয়ান’ উদ্যোগে সহ-নেতৃত্ব দেবেন তিনি। ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কী ধরনের প্রযুক্তি, অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা প্রয়োজন হবে, তা পর্যালোচনা করাই এই ১২০ দিনের প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। ৩০ সেপ্টেম্বর ভার্জিনিয়ার কোয়ান্টিকোতে দেওয়া ‘স্টেট অব দ্য ফোর্স’ ভাষণে হেগসেথ প্রজেক্ট মেরিডিয়ানের ঘোষণা দেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করে পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত প্রযুক্তি ও ব্যবস্থা চিহ্নিত করা হবে। প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসব প্রযুক্তি দ্রুত তৈরি, পরীক্ষা ও সামরিক বাহিনীতে ব্যবহারের বিষয়ে সুপারিশ দেওয়ার কথা রয়েছে। মাস্কের সঙ্গে প্রজেক্ট মেরিডিয়ানে সহ-নেতৃত্ব দেবেন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পালমার লাকি এবং মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার নিউট গিংরিচ। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এমিল মাইকেল প্রকল্পটির নেতৃত্ব দেবেন। পাশাপাশি একাডেমিক, নীতি নির্ধারণী ও শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞদেরও এতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। হেগসেথের ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য নতুন কোনো সামরিক কৌশল বা নীতি তৈরি করা নয়। বরং ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্র কেমন হতে পারে, সেখানে কোন কোন ক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কী ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজন হবে, তা চিহ্নিত করাই এর কাজ। এর আওতায় উন্নত প্রযুক্তি আবিষ্কার, উন্নয়ন ও সামরিক ব্যবহারে নিয়ে আসার পথও খোঁজা হবে। প্রজেক্ট মেরিডিয়ানের কাজের পরিধি বেশ বিস্তৃত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, নির্দেশিত শক্তি, রোবোটিকস ও জৈবপ্রযুক্তির মতো দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তি ভবিষ্যতের যুদ্ধের ধরন বদলে দিতে পারে বলে প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে। মাটির নিচের পরিবেশ থেকে শুরু করে চাঁদের বাইরের মহাকাশ পর্যন্ত সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্র নিয়েও প্রকল্পটিতে চিন্তা করা হবে। প্রকল্পটির জন্য ১২০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে এর পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনটির একটি অশ্রেণিবদ্ধ সংস্করণ প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে একটি শ্রেণিবদ্ধ অংশও থাকার কথা রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে এক বছরের বেশি সময় পর আবারও মার্কিন সরকারের কাজে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরছেন মাস্ক। এর আগে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি বা ডোজের নেতৃত্বে ছিলেন। ২০২৫ সালের মে মাসে সেই দায়িত্ব ছাড়ার পর সরকারের সঙ্গে তাঁর আনুষ্ঠানিক ভূমিকার সমাপ্তি ঘটে। প্রজেক্ট মেরিডিয়ানকে তাঁর সরকারি কাজে ফেরার নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থনের মাধ্যমে মাস্ক তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন। পরে সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত একটি আইন নিয়ে ট্রাম্প ও মাস্কের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দেয়। তবে পরবর্তীতে তাঁদের সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হয়। সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্ককে আবারও দেখা গেছে। পেন্টাগনের সঙ্গে মাস্কের ব্যবসায়িক সম্পর্কও আগে থেকেই রয়েছে। তাঁর মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছে। অন্যদিকে প্রজেক্ট মেরিডিয়ানে তাঁর সহ-নেতা পালমার লাকির প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলও মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে কাজ করে। ফলে ভবিষ্যৎ সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে এই উদ্যোগে বেসরকারি প্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে। প্রজেক্ট মেরিডিয়ানের পাশাপাশি হেগসেথ একই ভাষণে স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধের জন্য নতুন একটি কমান্ড গঠনের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ওই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফলে নতুন প্রকল্পটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও সামনে এসেছে। প্রতিবেদিত তথ্য অনুযায়ী, প্রজেক্ট মেরিডিয়ানে মাস্কের ভূমিকা মূলত ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা নিয়ে পর্যালোচনা ও সুপারিশ করা। অর্থাৎ তিনি পেন্টাগনের নিয়মিত সামরিক কমান্ড কাঠামোর দায়িত্ব নিচ্ছেন না। বরং প্রতিরক্ষা দপ্তরের অধীনে নির্দিষ্ট সময়ের এই উদ্যোগে সহ-নেতৃত্ব দেবেন এবং প্রকল্পের সুপারিশ তৈরিতে অংশ নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর আইকিউ সবচেয়ে বেশি এবং তিনি এই বুদ্ধিমত্তার বৈশিষ্ট্য তাঁর প্রয়াত চাচা ড. জন ট্রাম্পের কাছ থেকে পেয়েছেন। টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইরান যুদ্ধ, ওয়াশিংটন ডিসির সংস্কার ও সংবাদমাধ্যম নিয়ে আলোচনার সময় নিজের আইকিউ প্রসঙ্গে এ কথা বলেন ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানকে বিশ্বাস করেন কি না। জবাব দিতে গিয়ে ট্রাম্প সরাসরি নিজের আইকিউ প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, “আমার আইকিউ সবচেয়ে বেশি। একেবারে সর্বোচ্চ। আমি ঠিক আছি এবং এসব বিষয় বুঝি।” এরপর তিনি তাঁর চাচা জন ট্রাম্পের কথা উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, তাঁর চাচা ৪১ বছর ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ছিলেন। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, তিনি জেনেটিকসে বিশ্বাস করেন এবং বিষয়টি বোঝেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, তাঁর চাচার কাছ থেকেই তিনি এই বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা পেয়েছেন। ড. জন ট্রাম্প ছিলেন এমআইটির প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও প্রকৌশলী। ক্যানসার গবেষণায়ও তাঁর কাজের পরিচিতি ছিল। বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৩ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান তাঁকে ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্সে সম্মানিত করেন। জন ট্রাম্প ১৯৮৫ সালে মারা যান। জন ট্রাম্প ছিলেন ট্রাম্পের বাবা ফ্রেড ট্রাম্পের ছোট ভাই। ট্রাম্প এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তাঁর চাচার মেধা ও পারিবারিক জিনগত বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। ২০২৪ সালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জন ট্রাম্প ও এমআইটির কয়েকজন সহকর্মীর একটি সাদা-কালো ছবিও প্রকাশ করেছিলেন। এর আগে ২০১৬ সালেও তিনি নিজের পরিবারের “ভালো জিন” নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তবে ট্রাম্পের এই আইকিউ দাবিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও ঠাট্টা শুরু হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো ব্যক্তির চাচা অত্যন্ত মেধাবী হলেই সেই বুদ্ধিমত্তা সরাসরি ভাতিজার মধ্যে চলে আসে কি না। এসব প্রতিক্রিয়া মূলত ট্রাম্পের বক্তব্যকে ঘিরে তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প এর আগেও তাঁর চাচাকে নিয়ে একটি ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। গত বছর তিনি দাবি করেছিলেন, জন ট্রাম্প কুখ্যাত অপরাধী ও সাবেক গণিতবিদ থিওডোর কাজিনস্কিকে পড়িয়েছিলেন। তবে কাজিনস্কি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন এবং পরে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ট্রাম্পের সাবেক হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট অবশ্য বলেছেন, ট্রাম্প তাঁর পরিবার নিয়ে গর্বিত। তাঁর দাবি, ট্রাম্পের ওভাল অফিসের ডাইনিং রুমে জন ট্রাম্পের এমআইটির লেটারহেডে লেখা একটি চিঠিও রয়েছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের আইকিউ নিয়ে মন্তব্যটি আসে এমন এক সময়ে, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে সাক্ষাৎকারে নিজের আইকিউ সম্পর্কে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তার কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষার ফল বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য তিনি উপস্থাপন করেননি। সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালমার্টে পণ্যের দাম দেখে কেনাকাটা করার পর চেকআউটে পৌঁছানোর আগেই দাম বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন এক ক্রেতা। প্যাট্রিক নামের ওই ব্যক্তি জানান, ৩ ডলার ৯৮ সেন্টের মাখনসহ কয়েকটি পণ্য নেওয়ার পর দুই মিনিটেরও কম সময়ে চেকআউটে গিয়ে আগের চেয়ে বেশি দাম দেখতে পান। বিষয়টি তিনি সঙ্গে সঙ্গে ওয়ালমার্টের এক ব্যবস্থাপককে জানান। প্যাট্রিক তাঁর ছেলে ও পরিবারের বেকিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পণ্য কিনতে দোকানটিতে গিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনি কেনাকাটার সময় দামের বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকেন বলে জানান। ফলে তাকের দাম এবং চেকআউটে প্রদর্শিত দামের পার্থক্য তাঁর নজরে আসে। প্যাট্রিকের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি ব্যবস্থাপককে বিষয়টি জানানোর পর তাঁকে বলা হয়, কম্পিউটার ব্যবস্থায় দাম হালনাগাদ হওয়ার কারণে দোকানের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার মধ্যেই কোনো পণ্যের দাম পরিবর্তিত হতে পারে। ব্যবস্থাপকের বক্তব্য অনুযায়ী, পণ্য নেওয়ার পর চেকআউটে পৌঁছানোর সময়ের মধ্যেও দাম বদলে যেতে পারে। এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি প্যাট্রিক। তিনি বলেন, কোনো পণ্যের দাম যদি তাকের সামনে ৩ ডলার ৯৮ সেন্ট থাকে, তাহলে সেটি হাতে নিয়ে চেকআউটে পৌঁছাতে দুই মিনিটেরও কম সময় লাগলেও কীভাবে দাম বেড়ে যেতে পারে। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি ভিডিওতে ওয়ালমার্টের মূল্য পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ভিডিওটি টিকটকে ৫ লাখ ৬১ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে। সেখানে অনেক দর্শক প্যাট্রিকের অভিজ্ঞতার সঙ্গে একমত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ ওয়ালমার্ট বর্জনের আহ্বান জানান। আবার কয়েকজন মন্তব্য করেন, তাকের গায়ে যে দাম লেখা থাকে, সেটিই চেকআউটে কার্যকর করার আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। তবে প্যাট্রিকের ক্ষেত্রে ওয়ালমার্ট ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের কোনো ব্যবস্থা ব্যবহার করেছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়। তিনি নিজেও জানাননি যে তাঁর কেনাকাটার ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল মূল্য প্রদর্শন ব্যবস্থা চালুর কারণে কিছু ক্রেতার মধ্যে পণ্যভেদে বা ক্রেতাভেদে দাম পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে ক্রেতাভেদে পণ্যের দাম নির্ধারণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ওয়ালমার্ট। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জন ফার্নার ২৫ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, কোনো ক্রেতার আয়, কেনাকাটার ইতিহাস বা তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের সুযোগ নিয়ে বেশি দাম নেওয়া তাদের ব্যবসায়িক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফার্নার আরও বলেন, তাকের প্রদর্শিত দাম এবং চেকআউটে দেখানো দাম একই থাকা উচিত। তাঁর দাবি, ডিজিটাল তাকের মূল্য প্রদর্শন ব্যবস্থা সঠিক দাম দেখানোর বিষয়টি আরও ধারাবাহিকভাবে নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসনও ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো পণ্যের তালিকাভুক্ত দাম দেখলে ক্রেতারা সাধারণত আশা করেন যে সেটিই অন্য ক্রেতারাও দেখতে পাবেন, ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে আলাদা দাম নয়। ফেডারেল ট্রেড কমিশন ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ সরাসরি নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে না। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান মূল্য নির্ধারণে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে ব্যবহার করছে তা যথাযথভাবে না জানালে বিদ্যমান আইন লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠতে পারে। এ ধরনের মূল্য নির্ধারণ নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করার জন্য নতুন আইন আনার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৯ সালের তুলনায় খাদ্যপণ্যের দাম ৩৩ শতাংশ বেড়েছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক ক্রেতাই কম দামের পণ্য ও বিকল্প খুঁজছেন। এর মধ্যেই তাকের দাম ও চেকআউটের দামের পার্থক্য নিয়ে প্যাট্রিকের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সূত্র: দ্য মেরি সু
কাশ্মীরে অভিযানে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে ভারতের দাবি চ্যালেঞ্জ করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর রাওয়ালপিন্ডিতে সংবাদ সম্মেলনে মুহাম্মদ আসিফ নামে এক ব্যক্তিকে হাজির করে পাকিস্তান দাবি করেছে, ভারতীয় প্রতিবেদনে তাঁকেই নিহত লস্কর ই তৈয়বা সদস্য হিসেবে ভুলভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ বিভাগ আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী আসিফকে সেনাবাহিনীর স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রচারিত তথ্য প্রত্যাখ্যান করেন সামরিক মুখপাত্র। এর আগে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানায়, জম্মু ও কাশ্মীরের বুদগাম জেলার ইউসমার্গ এলাকায় অভিযানে মুহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসা নামে লস্কর ই তৈয়বার এক সদস্য নিহত হয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাবেক কমান্ডো হিসেবে বর্ণনা করা হয়। পাকিস্তানের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আসিফ বলেন, তিনি ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন। এরপর থেকে নিজ জেলা অ্যাটকে বসবাস করছেন। নিজের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি বিস্মিত হয়েছেন বলে জানান। আসিফের ভাষ্য, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবরটি দেখে বন্ধুরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁদের তিনি জানান, জীবিত ও সুস্থ আছেন। পরিচয় স্পষ্ট করতেই সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন বলে জানান তিনি। আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতের বিরুদ্ধে সাজানো বয়ান প্রচারের অভিযোগ করেন এবং পাকিস্তানকে নিয়ে অভিযোগ থাকলে যথাযথ ফোরামে প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান। তবে পাকিস্তানের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিই ভারতের অভিযানে নিহত বলে শনাক্ত করা ব্যক্তি কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পাকিস্তানের বক্তব্যের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ভুল করে ওভারটাইম বাবদ ৬ লাখ ২০ হাজার ডলার দেওয়ার পর অর্থ ফেরত পেতে মামলা করেছে গণপরিবহন সংস্থা মার্টা। সংস্থাটির দাবি, চলতি বছরের এপ্রিলে পেরোলের ভুলে ওই অর্থ দেওয়া হয়। ফেরত চেয়েও অর্থ উদ্ধার না হওয়ায় সাবেক কর্মীর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করা হয়েছে। মেট্রোপলিটন আটলান্টা র্যাপিড ট্রানজিট অথরিটি বা মার্টার ওই কর্মী ট্রেন স্টেশন পরিষ্কারের কাজ করতেন। আটলান্টা নিউজ ফার্স্টকে সংস্থাটি জানিয়েছে, এপ্রিলের পেচেকে এমন ওভারটাইমের অর্থ দেওয়া হয়েছিল, যা তাঁর প্রাপ্য ছিল না। ভুলটি শনাক্ত হয় জুলাইয়ে। মার্টার মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতে না গিয়ে কর্মীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করেছিল সংস্থাটি। কিন্তু সেপ্টেম্বরের শেষ দিক পর্যন্ত অর্থ ফেরত না আসায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মামলায় আদালতের কাছে ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ চেয়েছে মার্টা। যিনি অতিরিক্ত অর্থ পেয়েছেন এবং পেরোলের ভুলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মী, দুজনই এখন আর মার্টায় কাজ করেন না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ডব্লিউএসবি টিভিকে কর্মসংস্থান আইনজীবী অ্যান্ড্রু কফম্যান বলেন, ভুল করে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হলে তা ফেরত দিতে হয়। তবে তাঁর বক্তব্য আদালতের সিদ্ধান্ত নয়। অর্থ উদ্ধারে মার্টার দায়ের করা মামলাটি দেওয়ানি মামলা। এ ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কর্মীদের নতুন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং পেরোল প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার কথা জানিয়েছে মার্টা।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র পাননি ঝিনাইদহের মিশন আচার্য। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, স্থায়ী ঠিকানায় নিজের বসতভিটা না থাকায় তাঁর নিয়োগ আটকে গেছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে জটিলতার বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। মিশন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকেন। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৩ সালের শিক্ষার্থী। তাঁর ভাষ্য, কলাবাগানেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা। বাবা বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ার পর মা বাসাবাড়িতে কাজ করে তাঁকে বড় করেছেন। মিশন জানান, সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য ১৮২ জনকে সুপারিশ করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১৮০ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। উপজেলা পর্যায়ে তিনি ১৭তম হলেও নিয়োগপত্র পাননি। চাকরির আবেদনে তিনি ভাড়া বাসার ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাসনদে কলাবাগানের ঠিকানা রয়েছে। নিয়োগের সুপারিশ পাওয়ার পর ওই ভাড়া বাসায় পুলিশি যাচাইও করা হয়। এরপরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে যোগাযোগ করছেন তিনি। মিশনের ভাষ্য, তাঁর নামে দুই শতক জমি থাকলেও সেখানে বাড়ি নেই এবং তিনি কখনো সেখানে বসবাস করেননি। পুলিশি যাচাইয়ের সময় জমির দলিল জমা দিয়েছিলেন। পরিবারের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে নিয়োগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, মিশন ও তাঁর বন্ধুরা অভিযোগ জানানোর পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তিনি দ্রুত সমাধানের আশা করছেন। ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনও জানিয়েছেন, মিশনের নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে বিষয়টি লিখিতভাবে অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে সরকারি শিক্ষায় সম্ভাব্য ব্যয় কমানোর প্রতিবাদে হাজারো শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করেছেন। বৃহস্পতিবার আয়োজিত এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চিলির জাতীয় পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পরে দেশটির স্বরাষ্ট্র উপসচিব জানান, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয় প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্তের প্রস্তাবিত ২০২৭ সালের বাজেটে সরকারি শিক্ষায় অর্থ বরাদ্দ কমানোর আশঙ্কার প্রতিবাদে। দেশটির প্রধান শিক্ষার্থী ইউনিয়নগুলো এই কর্মসূচির আয়োজন করে। কাস্তে তার প্রশাসনের প্রথম বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের মাত্র এক দিন পর শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামেন। ফলে নতুন সরকারের শিক্ষা নীতি ও ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ প্রকাশ্যে আসে। কাস্তে মার্চে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যয় সংকোচনভিত্তিক কর্মসূচির কথা জানান। বুধবার তিনি বলেন, ৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সুরক্ষিত রাখা হবে। এর আগে এই কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা হলেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি। তবে শিক্ষার্থী নেতারা মনে করছেন, শুধু বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বহাল রাখাই যথেষ্ট নয়। তাদের দাবি, উচ্চশিক্ষা খাতের সামগ্রিক অর্থায়নই এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বৃহস্পতিবার সান্তিয়াগোর প্লাজা ইতালিয়ায় শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। সেখান থেকে তারা লা আলামেডা সড়ক ধরে লা মোনেদা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান। মিছিলটি প্রায় ৮০০ মিটার যাওয়ার পর চিলির জাতীয় পুলিশ তাদের পথ আটকে দেয়। এরপর বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পুলিশের এই পদক্ষেপের পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, বোতল ও কাঠের লাঠি ছোড়েন। এর ফলে বিক্ষোভটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির বাইরে গিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপসচিব জানান, ঘটনায় অন্তত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভের মধ্যেই পন্টিফিকাল ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাসের কাছেও উত্তেজনা দেখা দেয়। সেখানে মুখোশ পরা একটি ছোট দল সরকারপন্থী শিক্ষার্থীদের আয়োজিত পাল্টা বিক্ষোভে হামলা চালায়। ওই পাল্টা কর্মসূচিতে রক্ষণশীল শিক্ষার্থীরা একটি ব্যানার প্রদর্শন করছিলেন। ব্যানারে লেখা ছিল, তারা অচল চিলি চান না, বরং এমন একটি চিলি চান, যা সমৃদ্ধ হবে। পরে প্রেসের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট কাস্তে তার রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার নিন্দা জানান। তিনি ওই ঘটনার সমালোচনা করেন। একই সময়ে শিক্ষা খাতে সরকারের বাজেট পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চিলি সরকার এখনও ২০২৭ সালের পুরো আর্থিক প্যাকেজের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ফাঁস হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের খসড়া বাজেটে উল্লেখযোগ্য কাটছাঁটের প্রস্তাবের কথা জানা গেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরাসরি দেওয়া অর্থ কমানোর বিষয়টিও রয়েছে। এই সম্ভাব্য অর্থ কমানোর বিষয়টিই শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। যদিও প্রেসিডেন্ট কাস্তে বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো শিক্ষা খাতের অন্যান্য অর্থায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সামগ্রিক অর্থায়ন কমে গেলে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়তে পারে। বিক্ষোভের পর শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো আরও কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ২০২৭ সালের বাজেট বিল পুরোপুরি কংগ্রেসে আলোচনার জন্য উত্থাপিত হলে নতুন করে আন্দোলনে নামবে। ফলে বাজেট প্রস্তাব নিয়ে সরকারের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরোধ আরও প্রকাশ্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন শিক্ষা খাতে অর্থায়ন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বরাদ্দ এবং বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে পরবর্তী আলোচনা ও সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
অননুমোদিত গুদামে শুল্কমুক্ত মদ মজুত রাখার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের প্রতিষ্ঠান টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের চারটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর রাতে রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে যৌথ অভিযানে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। অভিযানে অংশ নেয় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন। এনবিআরের বিজ্ঞপ্তি উদ্ধৃত করে কালবেলা জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে গুরুতর অসংগতি পাওয়ায় অধিকতর যাচাইয়ের জন্য গুদামগুলো সিলগালা করা হয়েছে। এনবিআরের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত ও ঘোষিত গুদাম ছিল দুটি। কিন্তু সরেজমিন পরিদর্শনে চারটি গুদামে পণ্য মজুতের তথ্য পাওয়া যায়। অনুমোদিত দুটি গুদামের বাইরে আরও দুটি অননুমোদিত গুদাম ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত পণ্য যাতে স্থানান্তর বা সরিয়ে ফেলা না যায় এবং তদন্তে ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্য চারটি গুদামই সিলগালা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও বিস্তারিত যাচাই কার্যক্রম চলছে। টস বন্ড বিদেশি কূটনীতিকদের শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল সরবরাহ করে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাতে বাংলাদেশ জার্নাল জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ নিয়ে কয়েক মাস ধরে অনুসন্ধান চলছিল। সূত্র: কালবেলা
আইসিই কর্মকর্তা পরিচয়ে এক নারী ও তাঁর পরিবারকে বিতাড়নের ভয় দেখানোর ঘটনায় অপরাধ স্বীকার করেছেন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সাবেক সার্জেন্ট বাংলাদেশি আতিকুল ইসলাম। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে তিনি ভুয়া ফেডারেল কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়ার অপরাধ স্বীকার করেন। তাঁর সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২২ থেকে ২৯ মার্চ ওই নারীকে একাধিক টেক্সট মেসেজ পাঠান আতিকুল। ২৯ মার্চের একটি মেসেজে আইসিই ডেকে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। নারীর অবস্থান জানেন বলেও ইঙ্গিত করেন তিনি। প্রায় চার ঘণ্টা পর অপরিচিত নম্বর থেকে আরেকটি মেসেজ পাঠিয়ে নিজেকে আইসিইর নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিসের পরিচালক দাবি করেন আতিকুল। সেটিকে সরকারি নোটিশ হিসেবে উপস্থাপন করে নারী ও তাঁর পরিবারকে আইসিই অফিসে হাজির হতে বলেন। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। অপরাধ স্বীকারের সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর এনওয়াইপিডি থেকে পদত্যাগ করেন আতিকুল। ভবিষ্যতে এনওয়াইপিডি কিংবা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায় চাকরির আবেদন করতে পারবেন না তিনি। নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা জুনিয়র বলেন, ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিতে ওই নারীকে মিথ্যা পরিচয় ও বিতাড়নের হুমকি দিয়েছিলেন আতিকুল।
সৌদি আরবের মদিনায় মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী তাইবা বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ভোরে চালানো ওই হামলায় কেন্দ্রটির একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার অচল হয়ে যায়। তবে এতে বিদ্যুৎ সরবরাহের পুরো নেটওয়ার্কে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে জোট। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল মালিকি জানান, হামলাটি মঙ্গলবার ভোর ৫টা ১১ মিনিটে ঘটে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত, সামরিক কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে হুতিদের হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাইবা বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রটি একটি বেসামরিক স্থাপনা এবং মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। হামলায় একটি ট্রান্সফরমার সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সচল ছিল। ফলে মদিনার বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে জোট জানিয়েছে। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতি পক্ষ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের পরিচালিত সাবা বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক বক্তব্যে হুতিদের একটি সামরিক সূত্র মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেছে। ওই সূত্রের বক্তব্য, মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার আগের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে সৌদি পক্ষের ব্যর্থতা আড়াল করতেই নতুন এই অভিযোগ আনা হয়েছে। মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার ঘটনাকে মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি বলেন, মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থাপনা এবং সেখানে আসা মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে। তিনি হামলাটিকে দুই পবিত্র মসজিদকে লক্ষ্য করার হুতিদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। ঘটনার পর সৌদি আরবের প্রতি সংহতি জানিয়েছে কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েত হামলার নিন্দা জানিয়েছে। জর্ডানও সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদও মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘটনায় সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তাদের দাবি ছিল, নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। হুতি পক্ষ তখনও মক্কা কিংবা অন্য কোনো পবিত্র স্থানকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। মদিনার এই ঘটনার ক্ষেত্রেও হামলার দায় নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তদন্ত ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষার ভিত্তিতে হুতিদের দায়ী করেছে। অন্যদিকে হুতি পক্ষ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই হামলার দায়ের বিষয়টি বর্তমানে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগ এবং হুতিদের অস্বীকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদন করা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে স্ত্রী অ্যাশলি ফ্লিনকে হত্যার মামলায় আমেরিকান আইডলের সাবেক প্রতিযোগী ক্যালেব ফ্লিনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন জুরি। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর মায়ামি কাউন্টির আদালতে হত্যা, গুরুতর হামলা ও প্রমাণ নষ্ট করাসহ নয়টি অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আগামী ৫ অক্টোবর তাঁর সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চল্লিশ বছর বয়সী ক্যালেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর ঘটনাটিকে বাড়িতে অনুপ্রবেশকারীর হামলা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। বিচার শেষে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আলোচনার পর জুরি রায়ে পৌঁছান। তাঁর প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ওহাইওর টিপ সিটিতে নিজেদের বাড়িতে নিহত হন ৩৭ বছর বয়সী অ্যাশলি। তিনি শিক্ষক ও ভলিবল কোচ ছিলেন। তাঁদের দুই মেয়েও ঘটনার সময় বাড়িতে ছিল। প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘুমন্ত অবস্থায় অ্যাশলির মাথার পেছনে দুবার গুলি করা হয়। সেদিন ভোরে নাইন ওয়ান ওয়ানে ফোন করে ক্যালেব দাবি করেছিলেন, এক অনুপ্রবেশকারী তাঁর স্ত্রীকে গুলি করেছে। তিন দিন পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে প্রসিকিউটররা বলেন, গ্যারেজের পাশের দরজাটি এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল, যাতে বাইরে থেকে কেউ ঢুকেছে বলে মনে হয়। তদন্তে পাওয়া ডিজিটাল তথ্যও আদালতে উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউশনের যুক্তি ছিল, যে সময়ে ক্যালেব ঘুমিয়ে থাকার দাবি করেছেন, সে সময় তাঁর ডিভাইসের তথ্য বাড়ির ভেতরে চলাফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে হত্যায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি। মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন ক্যালেবের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো অ্যালেইয়া বটনার। আদালতে তাঁদের মধ্যে আদানপ্রদান করা বহু টেক্সট মেসেজ তুলে ধরা হয়। বটনারের সাক্ষ্য অনুযায়ী, ক্যালেব স্ত্রীর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতেন এবং তাঁকে হত্যার চিন্তার কথা জানিয়েছিলেন। প্রসিকিউটররা যুক্তি দেন, ওই সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং দাম্পত্য জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে তিনি হত্যার পরিকল্পনা করেন। অন্যদিকে ক্যালেবের আইনজীবীরা বলেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থাকার অর্থ এই নয় যে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তাঁদের দাবি, প্রসিকিউশনের মামলা পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল। রায়ের পর প্রতিরক্ষা পক্ষ আপিল করার কথা জানিয়েছে। ক্যালেব ২০১৩ সালে আমেরিকান আইডলে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি একটি চার্চে সংগীতবিষয়ক দায়িত্বেও ছিলেন। সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সময় স্ত্রী অ্যাশলি তাঁকে গানের স্বপ্ন অনুসরণে উৎসাহ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
নিউইয়র্ক থেকে এল সালভাদরে বিতাড়িত তরুণ মারিও মাতা ক্রুজকে আইনি লড়াইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে এনেছে মার্কিন সরকার। তবে পরিবারের কাছে ফিরতে পারেননি তিনি। স্পেকট্রাম নিউজের ৩০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁকে একাধিক রাজ্যের আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তিনি এখনো অভিবাসন হেফাজতে রয়েছেন। মারিওর আইনজীবীদের দাবি, চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ ছাড়াই তাঁকে এল সালভাদরে পাঠানো হয়েছিল। মারিও বলেছেন, স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কোনো কাগজেও তিনি সই করেননি। তাঁর বহিষ্কারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে মামলা করেন আইনজীবীরা। ২০১৮ সালে ১৭ বছর বয়সে একা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেন মারিও। পরের বছর তিনি স্পেশাল ইমিগ্র্যান্ট জুভেনাইল বা এসআইজে মর্যাদা পান। এনওয়াইওয়ানের পর্যালোচনা করা নথি অনুযায়ী, তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন তখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। ২০২৫ সালের অক্টোবরে লং আইল্যান্ডে ভাই মারভিনের সঙ্গে কাজে যাওয়ার সময় তাঁকে আটক করেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। পরে টেক্সাসের একটি আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তাঁকে এল সালভাদরে পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে এনওয়াইওয়ান ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর আদালতে দাখিল করা একটি নথিতে মারিওকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। ২৪ এপ্রিলের ওই নথিতে বলা হয়, আইসিইর ব্যবস্থাপনায় এল সালভাদর থেকে লুইজিয়ানাগামী ফ্লাইটে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হবে। গ্রীষ্মে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে ফেরার পর প্রথমে লুইজিয়ানা, পরে নিউ জার্সি এবং এরপর ভার্জিনিয়ার আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয় মারিওকে। নিউ জার্সির একজন ইমিগ্রেশন বিচারক এখতিয়ার নেই জানিয়ে তাঁর বন্ডে মুক্তির আবেদন বিবেচনা করতে অস্বীকৃতি জানান। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগও তাঁকে মুক্তি দেয়নি। আইনজীবীদের বক্তব্য, মারিওর কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। মারিওর পরিবার লং আইল্যান্ডে রয়েছে। এল সালভাদরে থাকার সময় ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের ভরসা ছিল ভিডিও কল। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার পরও আটক থাকায় পরিবারের সঙ্গে তাঁর পুনর্মিলন হয়নি।
কফির সুবাস ও স্বাদ উপভোগ করতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এক কাপ পানীয় হাতে নেন। কিন্তু বিশ্বের কিছু বিশেষ কফি রয়েছে, যেগুলোর উৎপাদনপ্রক্রিয়া সাধারণ কফির তুলনায় একেবারেই আলাদা। থাইল্যান্ডের ব্ল্যাক আইভরি কফি এবং ইন্দোনেশিয়ার কোপি লুওয়াক এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দুটি নাম। দুই ক্ষেত্রেই কফির চেরি প্রাণীর পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর মল থেকে আস্ত বিন সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো পরিষ্কার, শুকানো ও ভাজার মাধ্যমে পান করার উপযোগী করা হয়। ব্ল্যাক আইভরি কফি তৈরি হয় থাইল্যান্ডে। এর জন্য নির্বাচিত আরাবিকা কফির পাকা চেরি হাতিদের স্বাভাবিক খাবারের সঙ্গে দেওয়া হয়। কফি চেরিগুলো খাওয়ার পর হাতির পরিপাকতন্ত্রে সেগুলো কয়েক ঘণ্টা থাকে। উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এই সময় ১২ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। পরে হাতির মল থেকে কফির বিন আলাদা করে হাতে সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেগুলো ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকানো এবং নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ভাজা হয়। এই কফির বিশেষত্বের একটি কারণ হিসেবে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটি হাতির পরিপাকতন্ত্রে সংঘটিত জৈবিক গাঁজন প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে। তাদের দাবি, হাতির পরিপাকতন্ত্রের এনজাইম কফি চেরির কিছু প্রোটিন ভেঙে দেয়। এতে সাধারণ কফির তিক্ততা কমে এবং স্বাদে মাটির মতো ও ফলের আভাস তৈরি হয়। তবে এসব স্বাদগত বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা মূলত উৎপাদক ও কফি-বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে। ব্ল্যাক আইভরির উৎপাদনও খুব সীমিত। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৫০০ পাউন্ড বা ২২৭ কেজির মতো কফি উৎপাদন করা হয়। ২০২৫ সালের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ৪৯৫ পাউন্ড উৎপাদনের কথা জানিয়েছে। সীমিত উৎপাদন, হাতে বাছাই ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে এর দাম সাধারণ কফির তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বিভিন্ন প্যাকেজের দাম বেশ চড়া, আর তাদের এক প্রতিবেদনে প্রতি কেজি কফির দাম প্রায় ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে কোপি লুওয়াকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এশিয়ান পাম সিভেট বা গন্ধগোকুলের নাম। ইন্দোনেশীয় ভাষায় ‘কোপি’ অর্থ কফি এবং ‘লুওয়াক’ বলতে গন্ধগোকুলকে বোঝায়। এই নিশাচর স্তন্যপায়ী প্রাণী কফি চেরি খাওয়ার পর ফলের বাইরের অংশ হজম করে। কিন্তু শক্ত কফির বীজ পুরোপুরি হজম না হয়ে মলের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। পরে সেই বীজ সংগ্রহ করে পরিষ্কার, শুকানো ও ভাজা হয়। কফির এই অস্বাভাবিক উৎপাদনপ্রক্রিয়া থেকেই কোপি লুওয়াকের বিশেষত্বের ধারণা এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, গন্ধগোকুলের পরিপাকতন্ত্র ও এর সঙ্গে যুক্ত অণুজীব কফির রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে কোপি লুওয়াকের স্বাদ ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য কেবল প্রাণীর পরিপাকতন্ত্রের কারণে তৈরি হয় কি না, তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রাণীটির বেছে বেছে পাকা কফি চেরি খাওয়ার বিষয়টিও চূড়ান্ত স্বাদের পার্থক্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কপি লুওয়াকের দামও সাধারণ কফির তুলনায় অনেক বেশি। সীমিত সরবরাহ, উৎপাদনপ্রক্রিয়ার বিশেষত্ব এবং এর বিরলতার ধারণা এই কফিকে বিলাসবহুল পণ্যে পরিণত করেছে। তবে এই কফির বাজার নিয়ে প্রাণীকল্যাণের প্রশ্নও দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ২৯টি সিভেট কফি পর্যটন খামার নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সেখানে প্রাণীদের কল্যাণের মান নিয়ে গুরুতর ঘাটতি ছিল এবং কোনো সিভেটই গবেষণায় মূল্যায়ন করা পাঁচটি মৌলিক প্রাণীকল্যাণের স্বাধীনতা পুরোপুরি পূরণ করেনি। এ কারণে সব কোপি লুওয়াককে একইভাবে উৎপাদিত বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বন্য পরিবেশ থেকে সংগৃহীত কফি এবং খাঁচায় রাখা প্রাণী দিয়ে উৎপাদিত কফির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। গবেষকেরা বিশেষ করে খাঁচায় রাখা সিভেটকে জোর করে কফি চেরি খাওয়ানো, সীমিত চলাচল ও অনুপযুক্ত পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। ফলে এই কফি কেনার ক্ষেত্রে উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও প্রাণীকল্যাণের বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শও উঠে এসেছে। আধুনিক গবেষণায় অবশ্য প্রাণী ব্যবহার না করেও কোপি লুওয়াকের মতো গাঁজন প্রক্রিয়া তৈরি করার চেষ্টা চলছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় গন্ধগোকুলের পরিপাকতন্ত্রের অণুজীব ব্যবহার করে পরীক্ষাগারে অনুরূপ জৈবিক গাঁজন পদ্ধতি তৈরির কথা জানানো হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল প্রাণীকে ব্যবহার না করেই একই ধরনের স্বাদ ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য পাওয়া। ফলে ব্ল্যাক আইভরি ও কোপি লুওয়াক শুধু অদ্ভুত উৎপাদনপ্রক্রিয়ার জন্যই আলোচিত নয়। সীমিত উৎপাদন, বিশেষ গাঁজন প্রক্রিয়া, বাজারের বিরলতার ধারণা এবং বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা মিলিয়ে এগুলো কফির দুনিয়ায় আলাদা জায়গা তৈরি করেছে। তবে দাম বা স্বাদের পাশাপাশি প্রাণীকল্যাণের বিষয়টিও এই বিশেষ কফিগুলোর আলোচনা থেকে বাদ দেওয়া যায় না। সূত্র: Black Ivory Coffee, গবেষণাপত্র ও PubMed।
মিশিগানের একটি ডে-কেয়ার কেন্দ্রে তিন বছরের এক শিশুর ব্যাগ থেকে গুলিভর্তি পিস্তল বের করে অন্য শিশুদের মধ্যে ঘোরানোর ঘটনায় তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। শিশুটির বাবা ব্র্যান্ডন জন এলি একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর বিরুদ্ধে চতুর্থ মাত্রার শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মা রাবাব ইব্রাহিম আল জায়াদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র অনিরাপদভাবে সংরক্ষণের অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটে ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে মিশিগানের ক্যান্টন টাউনশিপের চিলড্রেনস ওয়ার্ল্ড আর্লি লার্নিং সেন্টারে। ওয়েন কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে পুলিশ ওই ডে-কেয়ারে খবর পেয়ে যায়। অভিযোগ, শিশুটি শ্রেণিকক্ষে রাখা একটি ব্যাগ থেকে হোলস্টারে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে। পরে সেটি অন্য কয়েকজন শিশুর হাতেও যায়। একজন শিক্ষক বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে অস্ত্রটি শিশুদের কাছ থেকে সরিয়ে নেন। পুলিশ জানিয়েছে, অস্ত্রটি গুলিভর্তি ছিল এবং ঘটনার সময়ও হোলস্টারের ভেতরে ছিল। তবে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি এবং কোনো শিশু বা শিক্ষক আহত হননি। ক্যান্টন পুলিশের প্রধান জোসেফ বিয়ালি ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও দেখেছেন। তাঁর ভাষায়, ভিডিওতে তিন বছরের শিশুকে ব্যাগ থেকে অস্ত্রটি বের করতে দেখা ‘বিস্ময়কর’ হলেও ডে-কেয়ারের কর্মীর দ্রুত পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। ওয়েন কাউন্টির প্রসিকিউটর কিম ওয়ার্থি বলেন, এই ঘটনায় কী ঘটতে পারত, তা ভাবাও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, কোনো প্রাণহানি না হওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আদালতে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ঊর্ধ্বে অভিযোগগুলো প্রমাণ করার মতো তথ্য-প্রমাণ তাদের রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্র্যান্ডন জন এলি, ২৮, এবং রাবাব ইব্রাহিম আল জায়াদ, ২৭, উভয়েই ওয়েন কাউন্টির বাসিন্দা। ১ অক্টোবর প্লাইমাউথের ৩৫তম ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে বিচারক জো ব্যারোনের সামনে তাদের হাজির করা হয়। এলির বিরুদ্ধে চতুর্থ মাত্রার শিশু নির্যাতরের অভিযোগটি এক বছরের মেয়াদের একটি লঘু অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। আর জায়াদের বিরুদ্ধে অনিরাপদভাবে আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষণের অভিযোগটি সর্বোচ্চ ৯৩ দিনের শাস্তিযোগ্য লঘু অপরাধ। আদালত উভয়ের ওপর ১০ হাজার ডলারের ব্যক্তিগত বন্ড নির্ধারণ করেছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে তাদের ডে-কেয়ার কেন্দ্রে না যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিচারক দুজনকেই কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নিজেদের কাছে না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এলি আদালতে জানিয়েছিলেন, তার বাড়িতে তিনটি নিরাপদ সংরক্ষণাগারে মোট নয়টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তবে সেগুলোও হস্তান্তরের নির্দেশ দেন বিচারক। এলি ডেট্রয়েট পুলিশের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মামলাটি চলাকালে তাকে প্রশাসনিক দায়িত্বে রাখা হয়েছে এবং দায়িত্ব পালনের সময়ও আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর আইনজীবী কর্মস্থলে ব্যবহারের জন্য অস্ত্র রাখার অনুমতি চেয়েছিলেন। তবে বিচারক সেই অনুরোধ নাকচ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অস্ত্রটি এলির চাকরির জন্য সরবরাহ করা অস্ত্র ছিল না। তবে কীভাবে শিশুটি ব্যাগ থেকে অস্ত্রটি বের করার সুযোগ পেল, সে বিষয়ে তদন্তে অনিরাপদ সংরক্ষণের বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যাগটি শ্রেণিকক্ষেই রাখা ছিল এবং শিশুটি সেখান থেকে অস্ত্রটি বের করে। ঘটনার পর চিলড্রেনস ওয়ার্ল্ড আর্লি লার্নিং সেন্টার পরিবারটিকে প্রতিষ্ঠান থেকে বাদ দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশু ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। কেন্দ্রটি আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে শিশুদের ব্যাগ তল্লাশির মতো অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডে-কেয়ার কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে তাদের কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। বিশেষ করে যে শিক্ষক অস্ত্রটি দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের কাছ থেকে সেটি সরিয়ে নেন, তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের প্রধান জোসেফ বিয়ালিও কর্মীদের প্রশংসা করে বলেছেন, শ্রেণিকক্ষে দায়িত্বে থাকা শিক্ষক দ্রুত পরিস্থিতি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ায় শিশুদের নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়েছে। মিশিগানের আইনে শিশু উপস্থিত থাকলে বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপদভাবে তালাবদ্ধ করে রাখার বিধান রয়েছে। ক্যান্টন পুলিশও ঘটনার পর আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপদে সংরক্ষণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। মামলাটি এখন আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে এবং পরবর্তী শুনানি ৩০ অক্টোবর নির্ধারিত হয়েছে। সূত্র: ওয়েন কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য, WDIV, দ্য ডেট্রয়েট নিউজ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় কাঁচা ছাগলের দুধ পান করার পর ১৭ মাস বয়সী এক শিশু গুরুতর E. coli সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। ব্রুকলিন মারিস নামের শিশুটিকে শ্বাস নিতে ভেন্টিলেটরে রাখতে হয়, কিডনি কাজ না করায় কয়েক দিন ডায়ালাইসিস দিতে হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হৃদস্পন্দন তিনবার বন্ধ হয়ে যায় বলে শিশুটির মা এমিলি মারিসের বরাত দিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রোপাবলিকা। ঘটনার শুরু ২০২৫ সালের ২ জুন। সাঁতার শেখার ক্লাস থেকে ফেরার পথে পরিবারের গাড়ির পেছনের আসনে থাকা ব্রুকলিন হঠাৎ বমি করতে শুরু করে। প্রথমে বমির রং ছিল হলুদ, পরে তা নীলচে-সবুজ ও গাঢ় রঙের হয়ে যায়। দুই দিন ধরে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে তাকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা রক্ত পরীক্ষায় গুরুতর সমস্যা দেখতে পেয়ে প্রায় ৭০ মাইল দূরের রেডি চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন। হাসপাতালে পরীক্ষা করে ব্রুকলিনের শরীরে E. coli O157 নামের বিপজ্জনক একটি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর ফলে তার হেমোলাইটিক ইউরেমিক সিনড্রোম বা এইচইউএস দেখা দেয়। এই অবস্থায় ক্ষুদ্র রক্তনালিতে রক্ত জমাট তৈরি হয়ে কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্রুকলিনের কিডনি গুরুতরভাবে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে ডায়ালাইসিস দিতে হয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ভেন্টিলেটরে রাখতে হয়। এক পর্যায়ে তার রক্তে অম্লতা এত বেড়ে যায় যে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। ব্রুকলিনের মা এমিলি মারিস জানিয়েছেন, মেয়েকে হারানোর আশঙ্কায় তারা হাসপাতালের সেই দিনগুলোতে জানতেন না সে বাঁচবে কি না। চিকিৎসকেরা তার খাবারের সাম্প্রতিক ইতিহাস জানতে চাইলে এমিলি কাঁচা ছাগলের দুধ দেওয়ার কথা জানান। চিকিৎসকেরা তখন দুধটিকেই সম্ভাব্য সংক্রমণের উৎস হিসেবে সন্দেহ করেন। পরে ব্রুকলিনের মল পরীক্ষায় E. coli O157 শনাক্ত হয়, যা কাঁচা দুধের মাধ্যমে ছড়াতে পারে এমন অন্যতম গুরুতর খাদ্যবাহিত জীবাণু। ব্রুকলিনের ক্ষেত্রে কাঁচা দুধ বেছে নেওয়ার পেছনে ছিল কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা। এমিলি ৪৮ বছর বয়সে তৃতীয় সন্তানের মা হন। সাত সপ্তাহ আগেই জন্ম নেওয়া ব্রুকলিনের ওজন ছিল কম এবং তার ফুসফুসও পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। জন্মের পর প্রথম এক মাস তাকে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকতে হয়। পরে মায়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার চিকিৎসায় এমন একটি ওষুধ শুরু হলে, যা বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে যেতে পারে, এমিলিকে বুকের দুধের বিকল্প খুঁজতে হয়। বাজারের গরুর দুধ খেয়ে ব্রুকলিনের কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ছিল বলে এমিলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি মায়েদের গ্রুপে বিকল্পের সন্ধান করেন। সেখানে কয়েকজন মা কাঁচা ছাগলের দুধের প্রশংসা করেন এবং কাছাকাছি একটি খামারের কথা জানান। খামারটি ছিল তাদের বাড়ি থেকে প্রায় ১০ মাইল দূরে। এমিলি সেখানে গিয়ে কাঁচা ছাগলের দুধ সংগ্রহ করেন। দুধটি তখনও উষ্ণ ছিল এবং ব্রুকলিন সেটি সহজেই পান করেছিল। এরপর প্রায় ছয় মাস কোনো বড় সমস্যা ছাড়াই শিশুটিকে ওই দুধ দেওয়া হয়। তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য উঠে আসে। ব্রুকলিন অসুস্থ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই একই খামারের দুধ পান করা ছয় বছর বয়সী আরেক শিশুও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভিক্টোরিয়া নামের ওই শিশুরও E. coli O157 সংক্রমণ এবং হেমোলাইটিক ইউরেমিক সিনড্রোম ধরা পড়ে। তাকেও রেডি চিলড্রেনস হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা নিতে হয়। দুই পরিবারের মধ্যে পরে যোগাযোগ হয় এবং তারা জানতে পারেন, তাদের সন্তানরা একই খামারের দুধ পান করার পর একই বিরল ধরনের E. coli সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে। ব্রুকলিন হাসপাতালে থাকার সময় তার মা দুধ বিক্রেতা কোর্টনি বেকারকে বিষয়টি জানান এবং অন্যদের কাছে দুধ বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন। বেকার প্রথমে জানান, তার দুধ পরীক্ষায় কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি। পরে কথোপকথনে তিনি স্বীকার করেন যে E. coli পরীক্ষা করা হয়নি। এর পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামার থেকে ‘পরিষ্কার ও পরীক্ষিত’ ছাগলের দুধ পাওয়ার প্রচার চালানো হচ্ছিল বলে প্রোপাবলিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ক্যালিফোর্নিয়ার কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তারা খামারটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেন। ২০২৫ সালের ২০ জুন কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে বেকারের সঙ্গে কথা বলেন। বেকারের বক্তব্য ছিল, দুধ মানুষের জন্য নয়, পোষা প্রাণীর খাবার হিসেবে বিক্রি করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় মানুষের ব্যবহারের জন্য কাঁচা দুধ বিক্রি করতে লাইসেন্সের প্রয়োজন হলেও নির্দিষ্ট শর্তে পোষা প্রাণীর খাবার হিসেবে কাঁচা দুধ বিক্রির সুযোগ রয়েছে। প্রোপাবলিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কিছু বিক্রেতা মানুষের ব্যবহারের জন্যও দুধ সরবরাহ করছেন বলে স্বাস্থ্য ও নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তদন্তের সময় কর্মকর্তারা খামারটিকে দুধজাত পণ্য উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেন এবং অনুমোদন ছাড়া খাদ্যপণ্য পরিচালনার জন্য একটি লঙ্ঘন নোটিশ দেন। পরে খামার থেকে একটি দুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে সেই নমুনায় E. coli-সহ কয়েকটি জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন, নমুনাটি শিশুদের অসুস্থ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং খামারটির পক্ষ থেকেই নমুনাটি দেওয়া হয়েছিল। ফলে ওই পরীক্ষার ফল থেকে আগের দুধে E. coli ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি। খামারের মালিক কোর্টনি বেকার প্রোপাবলিকাকে জানিয়েছেন, তিনি প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপনের সঙ্গে তীব্রভাবে একমত নন। তার দাবি, খামারের দুধ পোষা প্রাণীর জন্য বিক্রি করা হতো এবং ক্রেতারা সেটি কীভাবে ব্যবহার করবেন, সেটি তার নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়। তিনি আরও বলেছেন, খামার থেকে নেওয়া পরীক্ষার ফল নেতিবাচক ছিল। বেকারের পক্ষ থেকে মামলার অভিযোগের বিরুদ্ধে আদালতে পূর্ণাঙ্গভাবে লড়াই করার কথা জানানো হয়েছে। বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন। অন্যদিকে, ব্রুকলিনের পরিবার ও ভিক্টোরিয়ার পরিবার খামারের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, মানুষের পান করার উপযোগী হিসেবে উপস্থাপন করে দূষিত কাঁচা দুধ বিক্রি করা হয়েছিল। মামলাটি এখনো চলমান এবং অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও ব্রুকলিনের স্বাভাবিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়েছে বলে তার মা জানিয়েছেন। আগে হাঁটাচলা ও কথা বলার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা শিশুটি পরে শারীরিক থেরাপি নিতে শুরু করে। তার হাঁটায় সামান্য সমস্যা দেখা দেয় এবং ঘুমের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়। চিকিৎসকেরা ভবিষ্যতে কিডনি নিয়ে জটিলতার ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন এবং নিয়মিত কিডনি বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ঘটনাটি আবারও কাঁচা দুধের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিতর্ক সামনে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বা এফডিএ বলছে, কাঁচা দুধে E. coli, সালমোনেলা, লিস্টেরিয়া ও ক্যাম্পিলোব্যাক্টরের মতো ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব জীবাণু বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ। এফডিএ আরও জানিয়েছে, কাঁচা দুধের অতিরিক্ত পুষ্টিগুণ বা রোগ প্রতিরোধের সুবিধা রয়েছে, এমন দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। দুধকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গরম করে জীবাণু ধ্বংস করার প্রক্রিয়াই পাস্তুরায়ন। কাঁচা দুধে জীবাণু থাকার ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা যায় না, এমনকি প্রাণী সুস্থ দেখালেও। ক্যালিফোর্নিয়ায় মানুষের ব্যবহারের জন্য কাঁচা দুধ বিক্রি বৈধ হলেও সংশ্লিষ্ট খামারকে নির্দিষ্ট লাইসেন্স, স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতামূলক লেবেল সংক্রান্ত শর্ত মানতে হয়। রাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিভাগও জানিয়েছে, এসব ব্যবস্থা থাকলেও কাঁচা দুধ পাস্তুরিত দুধের মতো নিরাপদ বলে নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। মেয়ের গুরুতর অসুস্থতার পর এমিলি মারিস এখন অন্য অভিভাবকদের কাঁচা দুধের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে চাইছেন। নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, তার উদ্দেশ্য অন্য কোনো পরিবারকে একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে না দেওয়া। তবে কাঁচা দুধের খামারের বিরুদ্ধে চলমান মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। সূত্র: প্রোপাবলিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)।
যুক্তরাষ্ট্রে আয়কর দাখিলের সময় করদাতাদের নাগরিকত্ব ও কাজের অনুমোদনের অবস্থা জানানো বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ২০২৬ সালের আয়কর ফরমের খসড়ায় এ-সংক্রান্ত নতুন প্রশ্ন যুক্ত করেছে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা বা আইআরএস। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে কর দাখিলকারী প্রায় সব কর্মীকেই জানাতে হবে, তারা মার্কিন নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি, নাকি যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে কাজের অনুমতি পাওয়া বিদেশি। আইআরএসের ২০২৬ সালের খসড়া ১০৪০ ফরমে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়েছে, করদাতা এবং যৌথভাবে কর দাখিল করলে তার স্বামী বা স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি বা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে কাজের অনুমতিপ্রাপ্ত বিদেশি কি না। ফরমে করদাতা ও তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য আলাদা করে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বেছে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আইআরএসের খসড়া ফরমে বলা হয়েছে, এই তথ্য দেওয়ার বিষয়টি ফরম পূরণের অংশ হিসেবেই থাকবে। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, নতুন তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এমন অভিবাসীদের ফেরতযোগ্য কর-সুবিধা নেওয়া ঠেকানো যাবে, যারা ফেডারেল আইনের অধীনে এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস আগস্টে প্রস্তাবিত বিধি প্রকাশ করে জানিয়েছিল, ১৯৯৬ সালের একটি ফেডারেল আইনের আওতায় ফেরতযোগ্য কর-ক্রেডিটের অর্থকে ফেডারেল সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি নাগরিকদের সেসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা সীমিত করা হবে। প্রশাসনের হিসাবে, এতে করদাতাদের অর্থ সাশ্রয় হতে পারে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মী ও পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কর-সুবিধার বিষয় জড়িত। এর মধ্যে রয়েছে অর্জিত আয় কর-সুবিধা বা ইআইটিসি এবং অতিরিক্ত শিশু কর-সুবিধা। ট্রেজারি ও আইআরএসের প্রস্তাবে শিশু কর-সুবিধা, অর্জিত আয় কর-সুবিধা, দত্তক গ্রহণসংক্রান্ত কর-সুবিধা এবং আমেরিকান অপরচুনিটি কর-সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশের ওপর নতুন যোগ্যতার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কর ও অভিবাসন নীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেন্টার ফর ট্যাক্সপেয়ার রাইটসের নির্বাহী পরিচালক নিনা ওলসনের মতে, আয়কর রিটার্ন প্রক্রিয়া করার জন্য করদাতার নাগরিকত্ব বা অভিবাসন-অবস্থা জানা আইআরএসের প্রয়োজন নেই। তার যুক্তি, কর-সুবিধার যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য আইআরএসের কাছে আগে থেকেই সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং ব্যক্তিগত কর শনাক্তকরণ নম্বরের তথ্য রয়েছে। আইআরএসের বর্তমান ব্যবস্থায় অর্জিত আয় কর-সুবিধা দাবি করা ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্যের সঙ্গে যাচাই করা হয়। ফলে নতুন করে নাগরিকত্ব বা কাজের অনুমতির তথ্য চাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অভিবাসীদের ব্যক্তিগত তথ্য কর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার পর তা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে কি না, সে বিষয়টি নিয়ে গোপনীয়তা-সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রভাব শুধু অননুমোদিতভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নতুন কর-সুবিধা সংক্রান্ত বিধির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বোস্টন ইউনিভার্সিটি, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি এবং ইনস্টিটিউট অন ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ইকোনমিক পলিসির গবেষকদের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রায় ৬ লাখ ৭১ হাজার মানুষ এমন পরিবারে রয়েছেন যারা অর্জিত আয় কর-সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ হারাতে পারেন। এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার শিশু। অতিরিক্ত শিশু কর-সুবিধার ক্ষেত্রে প্রায় ১১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ এবং ৫ লাখ ৭৪ হাজার শিশু প্রভাবিত হতে পারেন। গবেষণাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সম্ভাব্যভাবে সুবিধা হারাতে যাওয়া শিশুদের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। গবেষকদের হিসাবে, এ ধরনের সুবিধা হারাতে পারে এমন শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশই মার্কিন নাগরিক। কারণ তাদের বাবা বা মায়ের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন-অবস্থার কারণে পরিবারটি নতুন যোগ্যতার শর্তের আওতায় পড়তে পারে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এবং কাজের অনুমতি থাকা কিছু অভিবাসীও প্রভাবিত হতে পারেন। গবেষকদের বিশ্লেষণে ডাকা বা ডাকা-সুরক্ষিত অভিবাসী, সাময়িক সুরক্ষিত অবস্থায় থাকা ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট সাময়িক ভিসায় কাজ করা কিছু মানুষকে সম্ভাব্য প্রভাবিত গোষ্ঠীর মধ্যে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন বিধির প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিতভাবে বসবাসরত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আইন প্রয়োগের কাজে আইআরএসের কর-তথ্য ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েও বিতর্কের মুখে পড়েছিল। ২০২৫ সালে ট্রেজারি বিভাগ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মধ্যে একটি তথ্য বিনিময় চুক্তি হয়েছিল, যার আওতায় আইআরএসের কাছে থাকা নির্দিষ্ট তথ্য অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা বা আইসের সঙ্গে ভাগ করার বিষয়টি সামনে আসে। পরে ফেডারেল আদালতে এই তথ্য ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে মামলা হয়। একটি ফেডারেল বিচারক পরবর্তী সময়ে আইআরএসের গোপন কর-তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে ফেডারেল গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, আইসের পাঠানো প্রায় ১২ লাখ ৮০ হাজার নামের মধ্যে আইআরএস প্রায় ৪৭ হাজার ব্যক্তির ঠিকানা যাচাই করে তা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে দিয়েছিল। এ ঘটনাকে ঘিরে করদাতার তথ্যের গোপনীয়তা এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগে কর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। নতুন ১০৪০ ফরমের নাগরিকত্ব ও কাজের অনুমতির প্রশ্নটি বর্তমানে খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। একইভাবে ফেরতযোগ্য কর-সুবিধার যোগ্যতা পরিবর্তনের বিধিটিও এখনো প্রস্তাবিত। ট্রেজারি ও আইআরএস এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত ও শুনানির সুযোগ রেখেছে। তাই প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত হওয়ার আগে এর ভাষা বা প্রয়োগের নিয়মে পরিবর্তন আসতে পারে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, যুক্তরাষ্ট্রের আইআরএস ও ট্রেজারি বিভাগ।
জর্জিয়াসহ আশপাশের অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সুখবর। আগামী ডিসেম্বরে আটলান্টায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে। এতে শুধু জর্জিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরাই নন, আশপাশের অঙ্গরাজ্য থেকে আটলান্টায় আসা প্রবাসীরাও সেবা নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে মিয়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের এই কনস্যুলার সেবা আয়োজন করা হচ্ছে। সংগঠনটির ২৬ সেপ্টেম্বরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর আটলান্টায় এই সেবা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সেবা ছাড়া অন্যান্য কনস্যুলার সেবা আটলান্টায় পাওয়া যাবে। এনআইডি-সংক্রান্ত সেবার জন্য প্রবাসীদের মিয়ামি কনস্যুলেটে যেতে হবে। আশপাশের অঙ্গরাজ্যগুলোতে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশির জন্য মিয়ামি পর্যন্ত গিয়ে কনস্যুলার সেবা নেওয়া সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হতে পারে। সে কারণে আটলান্টায় কনস্যুলার সেবা আয়োজন হলে জর্জিয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যের প্রবাসীরাও এর সুবিধা নিতে পারবেন। তবে কনস্যুলার সেবার স্থান এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া প্রেসিডেন্ট আরেফিন বাবুল জানিয়েছেন, স্থান ও বিস্তারিত তথ্য চূড়ান্ত হলে তা যথা সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, আগামী ১৯শে ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপন করা হবে এবং অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্থান, সময় ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। জর্জিয়া ও আশপাশের অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সুবিধার্থে ১২ ও ১৩ ডিসেম্বরের তারিখটি মনে রাখার আহ্বান জানিয়েছে তিনি।