৬ কোটির বেশি শিশুর নামে খুলছে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট, জানুন ১,০০০ ডলার পাওয়ার নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছরের কম বয়সী যোগ্য শিশুদের জন্য ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট তৈরির নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে অভিভাবক বা অনুমোদিত ব্যক্তিকে নিজে থেকে অ্যাকাউন্ট খোলার উদ্যোগ নিতে হতো। এখন সেই প্রক্রিয়া অনেকটাই স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৬ কোটির বেশি অতিরিক্ত যোগ্য শিশুর নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়েছে। ফলে দেশজুড়ে ১৮ বছরের কম বয়সী যোগ্য শিশুদের জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে অ্যাকাউন্ট তৈরি হওয়া মানেই অভিভাবক সেটি ব্যবহার করতে পারবেন—এমন নয়।
অভিভাবক বা আইনগত অভিভাবককে অ্যাকাউন্টটি দাবি বা ক্লেইম করতে হবে। পরিচয় ও সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক যাচাইয়ের পর অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করা যাবে। ক্লেইম না করা পর্যন্ত পরিবার, বন্ধু বা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগও চালু হবে না। ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ১,০০০ ডলারের অর্থ পেতেও অ্যাকাউন্টটি ক্লেইম করা প্রয়োজন।
কারা পাবেন ১,০০০ ডলার?
সব ট্রাম্প অ্যাকাউন্টধারী শিশু ১,০০০ ডলারের সরকারি অর্থ পাবেন না।
১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৮-এর মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য মার্কিন নাগরিক শিশু, যাদের বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর রয়েছে, তারা ট্রেজারি বিভাগের এককালীন ১,০০০ ডলারের পাইলট প্রোগ্রাম অবদানের জন্য যোগ্য। এই অর্থ শিশুর ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগ করা হবে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের আগে জন্ম নেওয়া কিছু শিশু সরকারি ১,০০০ ডলারের জন্য যোগ্য না হলেও বেসরকারি অনুদান পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। মাইকেল ও সুসান ডেলের উদ্যোগে যোগ্য শিশুদের অ্যাকাউন্টে ২৫০ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এটি মূল সরকারি ১,০০০ ডলারের আলাদা কর্মসূচি।
বছরে কত টাকা জমা দেওয়া যাবে?
ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে পরিবার, বন্ধু, নিয়োগকর্তা ও নির্দিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান অর্থ দিতে পারে। সাধারণ অবদানের বার্ষিক সীমা ৫,০০০ ডলার, যা ২০২৭ সালের পর মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় হতে পারে। তবে সরকারি ১,০০০ ডলারের পাইলট অবদান এই ৫,০০০ ডলারের সীমার মধ্যে ধরা হয় না।
নিয়োগকর্তাও নির্দিষ্ট শর্তে বছরে সর্বোচ্চ ২,৫০০ ডলার পর্যন্ত অবদান রাখতে পারেন, যা ৫,০০০ ডলারের সামগ্রিক সীমার অংশ হিসেবে গণ্য হয়।
টাকা কখন ব্যবহার করা যাবে?
ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য তৈরি। শিশুর বয়স ১৮ হওয়ার আগের নির্দিষ্ট গ্রোথ পিরিয়ডে সাধারণভাবে টাকা তুলে নেওয়া যায় না। গ্রোথ পিরিয়ড শেষ হলে প্রচলিত আইআরএ-সংক্রান্ত নিয়ম প্রযোজ্য হয়।
অর্থাৎ, এটি সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টের মতো প্রতিদিনের খরচের জন্য ব্যবহার করার ব্যবস্থা নয়। মূল লক্ষ্য হলো শিশুর নামে দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ গড়ে তোলা।
অভিভাবকদের এখন কী করতে হবে?
১. যোগ্যতা যাচাই করুন: ১৮ বছরের কম বয়সী এবং বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকা শিশু ট্রাম্প অ্যাকাউন্টের জন্য যোগ্য হতে পারে।
২. অ্যাকাউন্ট ক্লেইম করুন: স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্ট তৈরি হলেও অভিভাবককে সেটি দাবি করতে হবে। ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, অফিসিয়াল ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় ও সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক যাচাই করে অ্যাকাউন্ট ক্লেইম করা যায়।
৩. ১,০০০ ডলারের যোগ্যতা দেখুন: শিশু ২০২৫–২০২৮ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছে এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে সরকারি এককালীন অর্থ পাওয়ার যোগ্য হতে পারে।
৪. চাইলে অতিরিক্ত অর্থ জমা দিন: পরিবার, বন্ধু বা নিয়োগকর্তা অ্যাকাউন্টে অর্থ দিতে পারেন, বার্ষিক নির্ধারিত সীমার মধ্যে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অ্যাকাউন্ট তৈরি হওয়া আর অ্যাকাউন্ট দাবি করা এক বিষয় নয়। আপনার সন্তানের নামে অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়ে গেলেও সেটি ব্যবহার ও সরকারি অর্থ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরবর্তী ধাপটি অভিভাবককেই সম্পন্ন করতে হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ঋণের খরচ আরও বেড়েছে। দেশটির বহুল ব্যবহৃত ৩০ বছরের স্থির সুদের মর্টগেজের গড় হার এবার ৭.২৮ শতাংশে উঠেছে, যা প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মর্টগেজ ঋণের ক্রেতা ফ্রেডি ম্যাকের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ৩০ বছরের মর্টগেজের গড় সুদ ছিল ৭.০৩ শতাংশ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা বেড়েছে ০.২৫ শতাংশ পয়েন্ট। ২০২২ সালের অক্টোবরের পর এক সপ্তাহে এত বড় বৃদ্ধি আর দেখা যায়নি। এক বছর আগে একই ধরনের ঋণের গড় সুদ ছিল ৬.৩৪ শতাংশ। এ নিয়ে টানা ষষ্ঠ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজের সুদের হার বেড়েছে। বর্তমান ৭.২৮ শতাংশ হারটি ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। সেদিন ৩০ বছরের মর্টগেজের গড় সুদ ছিল ৭.২৯ শতাংশ। শুধু ৩০ বছরের ঋণ নয়, ১৫ বছরের স্থির সুদের মর্টগেজের হারও বেড়েছে। গত সপ্তাহের ৬.৪২ শতাংশ থেকে এবার তা বেড়ে হয়েছে ৬.৬০ শতাংশ। এক বছর আগে এই হার ছিল ৫.৫৫ শতাংশ। কেন এত বাড়ছে মর্টগেজ সুদ? গত মাসেই ৩০ বছরের মর্টগেজের সুদ ৭ শতাংশ অতিক্রম করেছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এটি নেমে এসেছিল ৫.৯৮ শতাংশে, যা ২০২২ সালের শেষের পর সর্বনিম্ন পর্যায় ছিল। এরপর থেকে সুদের হার দ্রুত বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষের ৫.৯৮ শতাংশ থেকে বর্তমান ৭.২৮ শতাংশে পৌঁছানোয় প্রায় ১.৩ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে হার। এই বৃদ্ধির পেছনে মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল রিজার্ভের নীতি এবং অর্থনীতি নিয়ে বন্ডবাজারের বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাসহ বিভিন্ন বিষয় কাজ করে। সাধারণত ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারের গতিপথের সঙ্গেও মর্টগেজের সুদের হার ওঠানামা করে। তেলের দাম বৃদ্ধিও সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করেছে। এর প্রভাব আবাসন বাজারেও পড়ছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বাড়ি ক্রেতাদের ওপর প্রভাব মর্টগেজের সুদ বাড়লে একই পরিমাণ ঋণের জন্য মাসিক কিস্তি বেড়ে যায়। ফলে অনেক ক্রেতার বাড়ি কেনার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। কেউ কেউ বেশি সুদের কারণে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়েও দিতে পারেন। ফেব্রুয়ারির শেষের ৫.৯৮ শতাংশ থেকে বর্তমান ৭.২৮ শতাংশে সুদ বৃদ্ধির ফলে ৪ লাখ ডলারের মর্টগেজে মাসিক কিস্তি আনুমানিক ২৭৬ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারেও কিছুটা চাপ দেখা যাচ্ছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্সের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে আগের মাসের তুলনায় বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি ২ শতাংশ কমে যায়। মৌসুমভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বার্ষিক বিক্রির হার নেমে আসে ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ইউনিটে, যা এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতি। তবে ফ্রেডি ম্যাকের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাটারের মতে, বাড়ি কেনার চাহিদা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে ক্রেতারা নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন। মর্টগেজের সুদের হার ভবিষ্যতে কোন দিকে যাবে, তা মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত এবং বন্ডবাজারের গতিপথের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে।
৬ কোটির বেশি শিশুর নামে খুলছে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট, জানুন ১,০০০ ডলার পাওয়ার নিয়ম
জর্জিয়ায় হাজারো অভিবাসীর মেডিকেইড সুবিধা হারানোর আশঙ্কা নতুন নীতিতে
ট্রাম্প প্রশাসনে ফের ইলন মাস্ক, পেন্টাগনের ভবিষ্যৎ যুদ্ধকৌশল পর্যালোচনায় নেতৃত্ব দেবেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর আইকিউ সবচেয়ে বেশি এবং তিনি এই বুদ্ধিমত্তার বৈশিষ্ট্য তাঁর প্রয়াত চাচা ড. জন ট্রাম্পের কাছ থেকে পেয়েছেন। টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইরান যুদ্ধ, ওয়াশিংটন ডিসির সংস্কার ও সংবাদমাধ্যম নিয়ে আলোচনার সময় নিজের আইকিউ প্রসঙ্গে এ কথা বলেন ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানকে বিশ্বাস করেন কি না। জবাব দিতে গিয়ে ট্রাম্প সরাসরি নিজের আইকিউ প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, “আমার আইকিউ সবচেয়ে বেশি। একেবারে সর্বোচ্চ। আমি ঠিক আছি এবং এসব বিষয় বুঝি।” এরপর তিনি তাঁর চাচা জন ট্রাম্পের কথা উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, তাঁর চাচা ৪১ বছর ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ছিলেন। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, তিনি জেনেটিকসে বিশ্বাস করেন এবং বিষয়টি বোঝেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, তাঁর চাচার কাছ থেকেই তিনি এই বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা পেয়েছেন। ড. জন ট্রাম্প ছিলেন এমআইটির প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও প্রকৌশলী। ক্যানসার গবেষণায়ও তাঁর কাজের পরিচিতি ছিল। বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৩ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান তাঁকে ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্সে সম্মানিত করেন। জন ট্রাম্প ১৯৮৫ সালে মারা যান। জন ট্রাম্প ছিলেন ট্রাম্পের বাবা ফ্রেড ট্রাম্পের ছোট ভাই। ট্রাম্প এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তাঁর চাচার মেধা ও পারিবারিক জিনগত বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। ২০২৪ সালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জন ট্রাম্প ও এমআইটির কয়েকজন সহকর্মীর একটি সাদা-কালো ছবিও প্রকাশ করেছিলেন। এর আগে ২০১৬ সালেও তিনি নিজের পরিবারের “ভালো জিন” নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তবে ট্রাম্পের এই আইকিউ দাবিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও ঠাট্টা শুরু হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো ব্যক্তির চাচা অত্যন্ত মেধাবী হলেই সেই বুদ্ধিমত্তা সরাসরি ভাতিজার মধ্যে চলে আসে কি না। এসব প্রতিক্রিয়া মূলত ট্রাম্পের বক্তব্যকে ঘিরে তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প এর আগেও তাঁর চাচাকে নিয়ে একটি ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। গত বছর তিনি দাবি করেছিলেন, জন ট্রাম্প কুখ্যাত অপরাধী ও সাবেক গণিতবিদ থিওডোর কাজিনস্কিকে পড়িয়েছিলেন। তবে কাজিনস্কি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন এবং পরে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ট্রাম্পের সাবেক হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট অবশ্য বলেছেন, ট্রাম্প তাঁর পরিবার নিয়ে গর্বিত। তাঁর দাবি, ট্রাম্পের ওভাল অফিসের ডাইনিং রুমে জন ট্রাম্পের এমআইটির লেটারহেডে লেখা একটি চিঠিও রয়েছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের আইকিউ নিয়ে মন্তব্যটি আসে এমন এক সময়ে, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে সাক্ষাৎকারে নিজের আইকিউ সম্পর্কে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তার কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষার ফল বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য তিনি উপস্থাপন করেননি। সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন
চেকআউটে যাওয়ার আগে দুই মিনিটেই বাড়ল পণ্যের দাম, ওয়ালমার্টে ক্রেতার তীব্র ক্ষোভ
পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ভুলে ৬ লাখ ২০ হাজার ডলার! ফেরত চেয়ে মার্টার মামলা
আইসিই পরিচয়ে নারীকে হুমকি, গ্রেফতার বাংলাদেশি সাবেক এনওয়াইপিডি সার্জেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে স্ত্রী অ্যাশলি ফ্লিনকে হত্যার মামলায় আমেরিকান আইডলের সাবেক প্রতিযোগী ক্যালেব ফ্লিনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন জুরি। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর মায়ামি কাউন্টির আদালতে হত্যা, গুরুতর হামলা ও প্রমাণ নষ্ট করাসহ নয়টি অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আগামী ৫ অক্টোবর তাঁর সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চল্লিশ বছর বয়সী ক্যালেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর ঘটনাটিকে বাড়িতে অনুপ্রবেশকারীর হামলা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। বিচার শেষে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আলোচনার পর জুরি রায়ে পৌঁছান। তাঁর প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ওহাইওর টিপ সিটিতে নিজেদের বাড়িতে নিহত হন ৩৭ বছর বয়সী অ্যাশলি। তিনি শিক্ষক ও ভলিবল কোচ ছিলেন। তাঁদের দুই মেয়েও ঘটনার সময় বাড়িতে ছিল। প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘুমন্ত অবস্থায় অ্যাশলির মাথার পেছনে দুবার গুলি করা হয়। সেদিন ভোরে নাইন ওয়ান ওয়ানে ফোন করে ক্যালেব দাবি করেছিলেন, এক অনুপ্রবেশকারী তাঁর স্ত্রীকে গুলি করেছে। তিন দিন পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে প্রসিকিউটররা বলেন, গ্যারেজের পাশের দরজাটি এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল, যাতে বাইরে থেকে কেউ ঢুকেছে বলে মনে হয়। তদন্তে পাওয়া ডিজিটাল তথ্যও আদালতে উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউশনের যুক্তি ছিল, যে সময়ে ক্যালেব ঘুমিয়ে থাকার দাবি করেছেন, সে সময় তাঁর ডিভাইসের তথ্য বাড়ির ভেতরে চলাফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে হত্যায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি। মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন ক্যালেবের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো অ্যালেইয়া বটনার। আদালতে তাঁদের মধ্যে আদানপ্রদান করা বহু টেক্সট মেসেজ তুলে ধরা হয়। বটনারের সাক্ষ্য অনুযায়ী, ক্যালেব স্ত্রীর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতেন এবং তাঁকে হত্যার চিন্তার কথা জানিয়েছিলেন। প্রসিকিউটররা যুক্তি দেন, ওই সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং দাম্পত্য জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে তিনি হত্যার পরিকল্পনা করেন। অন্যদিকে ক্যালেবের আইনজীবীরা বলেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থাকার অর্থ এই নয় যে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তাঁদের দাবি, প্রসিকিউশনের মামলা পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল। রায়ের পর প্রতিরক্ষা পক্ষ আপিল করার কথা জানিয়েছে। ক্যালেব ২০১৩ সালে আমেরিকান আইডলে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি একটি চার্চে সংগীতবিষয়ক দায়িত্বেও ছিলেন। সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সময় স্ত্রী অ্যাশলি তাঁকে গানের স্বপ্ন অনুসরণে উৎসাহ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
ডিপোর্টের পর আইনি লড়াইয়ে নিউইয়র্কের তরুণকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরাল ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের ডে-কেয়ারে ব্যাগের ভেতর গুলিভর্তি বন্দুক নিয়ে হাজির ৩ বছরের শিশু