সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ইহুদিবিদ্বেষ রুখতে রাজনীতিতে লিসা ভিডার, লড়ছেন নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট নির্বাচনে
ইহুদিবিদ্বেষ রুখতে রাজনীতিতে লিসা ভিডার, লড়ছেন নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট নির্বাচনে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ক্রমবর্ধমান ইহুদিবিদ্বেষ এবং ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে স্টেট সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন স্বাস্থ্যসেবা খাতের অভিজ্ঞ নির্বাহী লিসা ‘মালকি’ ভিডার। প্রায় তিন দশক ধরে স্বাস্থ্যসেবা খাতের সাথে যুক্ত থাকা এবং একটি অ্যাসিস্টেড-লিভিং ফ্যাসিলিটি পরিচালনার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই অর্থোডক্স ইহুদি নারী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে নাসাউ কাউন্টি ও ফাইভ টাউনস সমন্বয়ে গঠিত ৯ম ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচনে লড়ছেন। আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে তিনি বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর প্যাট্রিসিয়া কানজোনেরি-ফিটজপ্যাট্রিকের মুখোমুখি হবেন।   রাজনীতিতে আসার পেছনে নিজের তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতাকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভিডার। বিশেষ করে নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধ বৃদ্ধির কারণে ধর্মীয় আচার পালনে ভীতি তৈরি হওয়াকে তিনি উদ্বেগের বড় কারণ বলে মনে করেন।   ভিডার জানান, তাঁর মতো মায়েরা সন্তানদের ধর্মীয় প্রতীক (যেমন 'স্টার অব ডেভিড') পরে বাইরে যেতে দেখে প্রতিনিয়ত শঙ্কায় থাকেন। প্রার্থনালয় ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষায় গভর্নর ক্যাথি হোকুলের ঘোষিত তহবিল এবং 'সিকিউরিং কমিউনিটিজ অ্যাগেইনস্ট হেট ক্রাইমস' কর্মসূচির প্রশংসা করার পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের নির্ভয়ে বসবাসের নিশ্চয়তা দিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি।   দীর্ঘদিন স্বাস্থ্য খাতের দাবিদাওয়া নিয়ে নিউইয়র্কের রাজধানী আলবেনিতে দেনদরবার করতে গিয়ে নীতিনির্ধারকদের সাথে বাস্তবতার এক বিশাল ফারাক লক্ষ্য করেন ভিডার। তাঁর মতে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের একটি বড় অংশ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জটিলতা ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সমস্যাগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারেন না।   স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানো, প্রবীণদের সুরক্ষা এবং সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি দূর করা তাঁর প্রচারণার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। একই সাথে তিনি মনে করেন, আইনসভায় এলাকার স্বার্থ সুরক্ষিত করতে ক্ষমতাসীন দলের সাথে কার্যকরভাবে সমন্বয় করতে পারে এমন নেতৃত্বই ডিস্ট্রিক্টটির প্রয়োজন।   নির্বাচনী প্রচারণায় ইহুদিবিদ্বেষ ও জননিরাপত্তার পাশাপাশি স্থানীয় ভোটারদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি বা অ্যাফোর্ডেবিলিটি সংকটকে সবচেয়ে বড় ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ভিডার। অতিরিক্ত প্রপার্টি ট্যাক্স, গ্যাস ও ইউটিলিটি বিলের ভারে সাধারণ পরিবারগুলো জর্জরিত উল্লেখ করে তিনি মধ্যবিত্তের করের বোঝা লাঘব করার প্রতিশ্রুতি দেন।   রাজনৈতিক বিরোধীরা তাঁকে কট্টর প্রগতিশীল হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করলেও ভিডার নিজেকে একজন ‘মধ্যপন্থী ও রাজস্ব নীতিতে রক্ষণশীল ডেমোক্র্যাট’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন। রাজনৈতিক বিভাজন পেরিয়ে আইনসভায় আরো মধ্যপন্থী ও বাস্তবমুখী কণ্ঠস্বর যুক্ত করাই তাঁর লক্ষ্য বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৭:২৭
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ভিসা নীতি, বিভিন্ন কারণে আড়াই লাখের বেশি ভিসা বাতিল
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ভিসা নীতি, বিভিন্ন কারণে আড়াই লাখের বেশি ভিসা বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং দেশটিতে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আড়াই লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, ফৌজদারি অপরাধে জড়িয়ে পড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সহিংসতার ডাক দেওয়া, সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হওয়ার মতো বিভিন্ন কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে।   এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অধীনে আড়াই লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করার ঘটনাটি আমেরিকানদের সুরক্ষায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যেকোনো ভিসা প্রদান বা বাতিলের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।   যুক্তরাষ্ট্র কারও জন্য হুমকি হতে পারে এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্কিন ভিসা কোনো অধিকার নয়, বরং একটি সুযোগ; আর কেউ সেই সুযোগের অপব্যবহার করলে তাকে তা হারাতেই হবে।   বাতিল হওয়া এই বিপুলসংখ্যক ভিসার মধ্যে তথাকথিত 'বার্থ ট্যুরিজম' বা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা গর্ভবতী নারীদের প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ভিসাও রয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতির অভিযোগে বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও পেরুর ২৭ জন বর্তমান ও সাবেক লাতিন আমেরিকান কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ভিসাও সম্প্রতি বাতিল করা হয়েছে।   অন্যদিকে, শুধু গত আগস্ট মাসেই ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল, যার সিংহভাগই মাদক, চুরি, হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং জালিয়াতির মতো বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে কার্যকর হয়।   একই সাথে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসায় (বি১/বি২) এসে পরবর্তীতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন—এমন প্রায় দুই লাখ বিদেশির ভিসাও বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা ভিসাধারীরা এই যাচাই প্রক্রিয়ার লক্ষ্যবস্তু হতে যাচ্ছেন।   মার্কিন ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক আশ্রয়কে অভিবাসন আইন ফাঁকি দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করতেই এই কড়াকড়ি। তাঁর মতে, আইনি কাঠামোর বাইরে গিয়ে করা ভিত্তিহীন আবেদনের চাপ সামলাতে গিয়ে পুরো ব্যবস্থা বছরের পর বছর স্থবির হয়ে পড়ছে, যা আর বরদাশত করা হবে না।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৬:৪৭
যৌন হয়রানির অভিযোগের পর খুন ভ্যানেসা গিয়েন, তাঁর মৃ ত্যুর পর বদলে গেল মার্কিন সামরিক ব্যবস্থা
যৌন হয়রানির অভিযোগের পর খুন ভ্যানেসা গিয়েন, তাঁর মৃ ত্যুর পর বদলে গেল মার্কিন সামরিক ব্যবস্থা

আজ ভ্যানেসা গিয়েন বেঁচে থাকলে ২৭ বছর পূর্ণ করতেন। কিন্তু ২০২০ সালের ২২ এপ্রিল টেক্সাসের ফোর্ট হুডে নিখোঁজ হওয়ার পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মাত্র ২০ বছর বয়সী এই মার্কিন সেনাসদস্য। তাঁর মৃত্যুর পর সামরিক বাহিনীতে যৌন হয়রানি, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা এবং নেতৃত্বের জবাবদিহি নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।   ভ্যানেসা ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ফোর্ট হুডে ৩য় ক্যাভালরি রেজিমেন্টের একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২০ সালের ২২ এপ্রিল তাঁকে তাঁর ইউনিটের কাছে শেষবার দেখা যায়। পরে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হয় এবং দুই মাসের বেশি সময় পর ৩০ জুন লিওন নদীর কাছে তাঁর দেহাবশেষ পাওয়া যায়।   তদন্তে জানা যায়, ভ্যানেসাকে সেনাসদস্য অ্যারন রবিনসন হত্যা করেছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, রবিনসন ভ্যানেসার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করার কথা তাঁর প্রেমিকা সিসিলি আগুইলারকে জানান। পরে ভ্যানেসার মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়। রবিনসনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলে তিনি আত্মহত্যা করেন। পরে আগুইলার ভ্যানেসার মরদেহ গোপন ও প্রমাণ নষ্ট করার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন এবং ৩০ বছরের কারাদণ্ড পান।   ভ্যানেসার হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি তদন্তে আরও গুরুতর একটি বিষয় সামনে আসে। সেনাবাহিনীর তদন্তে নিশ্চিত করা হয়, তিনি তাঁর ইউনিটে একজন ঊর্ধ্বতন নন-কমিশন্ড অফিসারের যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন এবং এ বিষয়ে তিনি অভিযোগও করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগটি যথাযথভাবে রিপোর্ট করা হয়নি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।   তবে সেনাবাহিনীর তদন্তে ভ্যানেসার যৌন হয়রানির অভিযোগের সঙ্গে তাঁর হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। একইভাবে তিনি যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন, এমন প্রমাণও তদন্তে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর ঘটনাকে যৌন নিপীড়নের কারণে হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা না করে, যৌন হয়রানির অভিযোগের পাশাপাশি সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করাই তথ্যগতভাবে সঠিক।   ভ্যানেসার পরিবার তাঁর মৃত্যুর পর ন্যায়বিচারের দাবিতে দীর্ঘ আন্দোলন শুরু করে। তাঁর নামকে সামনে রেখে সামরিক বাহিনীতে যৌন হয়রানি ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ মোকাবিলার পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি জোরালো হয়। এর ফল হিসেবে ‘আই অ্যাম ভ্যানেসা গিয়েন অ্যাক্ট’সহ সামরিক বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনা হয়, যার মাধ্যমে যৌন হয়রানি মোকাবিলা ও গুরুতর যৌন অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় কমান্ড চেইনের ভূমিকা কমানোর মতো পরিবর্তন আসে।   মাত্র ২০ বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়া ভ্যানেসা গিয়েনের ঘটনা তাই শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি নয়। তাঁর পরিবার যে দীর্ঘ লড়াই করেছে, তার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে জবাবদিহি এবং স্বাধীন তদন্তের বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। আজ তাঁর ২৭তম জন্মদিনে ভ্যানেসাকে স্মরণ করার পাশাপাশি তাঁর নামে হওয়া এই পরিবর্তনগুলোকেও স্মরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৬:২৬
ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজে উত্তাল ঢেউয়ে ভেসে গেলেন দম্পতি, রোমহর্ষক অভিযানে উদ্ধার
ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজে উত্তাল ঢেউয়ে ভেসে গেলেন দম্পতি, রোমহর্ষক অভিযানে উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় সমুদ্রের পাড়ে পাথরের ওপর থেকে উত্তাল ঢেউয়ে ভেসে গেছেন এক দম্পতি। পরে এক নাটকীয় ও শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করা হয়। গত মঙ্গলবার বিকেলে সান্তা ক্রুজের কুখ্যাত ও বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত প্যান্থার বিচে ভয়ংকর এই ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই দম্পতির নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।   এনবিসি নিউজের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সান্তা ক্রুজ ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এবং ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট পার্কস পাবলিক সেফটির উদ্ধারকারী সাঁতারুরা ওই দম্পতিকে বরফশীতল প্রশান্ত মহাসাগরের পানি থেকে টেনে তুলছেন। এরপর সমুদ্রসৈকতের বালুর ওপর তাদের বুকে কম্প্রেশন (সিপিআর) দিতে দেখা যায়।   ভিডিওতে আরও দেখা যায়, পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে এক কর্মকর্তা বাইনোকুলারের সাহায্যে নজর রাখছেন এবং সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ উদ্ধারকারী দলকে ওই দম্পতির অবস্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করছেন।   উদ্ধারকৃত ওই দম্পতির উভয়েরই বয়স ত্রিশের কোঠায় বলে জানা গেছে। সাগর থেকে তুলে আনার পর দ্রুত তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা ঠিক কেমন, সে সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৬:৮
নিউইয়র্কের উইলিয়ামসবার্গ ব্রিজ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহ ত্যার চেষ্টা, ১ ঘণ্টার অভিযানে তরুণকে উদ্ধার
নিউইয়র্কের উইলিয়ামসবার্গ ব্রিজ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহ ত্যার চেষ্টা, ১ ঘণ্টার অভিযানে তরুণকে উদ্ধার

নিউইয়র্কের উইলিয়ামসবার্গ ব্রিজের একেবারে কিনারায় বসে নিচে ঝাঁপ দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন এক হতাশ তরুণ। তবে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) সদস্যদের সাহসিকতায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি এই ঘটনার একটি রোমহর্ষক ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে।   পুলিশ জানায়, দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে জরুরি সেবার ৯১১ নম্বরে একটি ফোন আসে। জানানো হয়, ব্রুকলিন প্রান্তে ব্রিজের নিচের একটি বিপজ্জনক কার্নিশে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ বসে আছেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এনওয়াইপিডির এলিট ইমার্জেন্সি সার্ভিস ইউনিটের সদস্যরা। সেখানে পৌঁছানোর পর তারা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ওই তরুণের সাথে কথা বলে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেন।   এক প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন পুলিশ সদস্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্রিজের কিনারায় নেমে ওই তরুণের দুই পাশে অবস্থান নিচ্ছেন। এ সময় ঠিক তাদের ওপরের রাস্তায় জরুরি সেবার যানবাহন ও অন্যান্য যান চলাচল থমকে যায়। আরেকটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ওই তরুণকে ঘিরে ধরেছেন এবং তাকে নিরাপদে ওপরের মূল রাস্তায় তুলে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।   অবশেষে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে ওই তরুণকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ব্রিজ থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মনে হওয়ায় প্রাথমিক মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়নের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৫:৪০
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে জাল চেকে ৫০ হাজার স্ট্যাম্প কেনার চেষ্টা, ডাককর্মীদের সতর্কতায় গ্রেপ্তার যুবক
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে জাল চেকে ৫০ হাজার স্ট্যাম্প কেনার চেষ্টা, ডাককর্মীদের সতর্কতায় গ্রেপ্তার যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি পোস্ট অফিস থেকে জাল চেক দিয়ে ৫০ হাজার স্ট্যাম্প কেনার চেষ্টাকালে ক্রিস্টোফার রায়ান এলিস নামের ২৪ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিউইয়র্কের এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও চুরির চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ এনেছে জিয়াউগা কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস। মূলত ডাকবিভাগের কর্মীদের তাৎক্ষণিক সতর্কতা ও বুদ্ধিমত্তার কারণেই বিশাল এই প্রতারণা আটকে দেওয়া সম্ভব হয়।   ঘটনার সূত্রপাত গত ১৯ আগস্ট। চ্যারডন পোস্ট অফিসে এলিস যখন বিপুল পরিমাণ স্ট্যাম্প কেনার চেষ্টা করছিলেন, তখন তার সন্দেহজনক আচরণ দেখে কর্মীরা পুলিশে খবর দেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, জেনেভা পোস্টমাস্টার এর আগেই বিভিন্ন শাখায় এলিসকে নিয়ে একটি সতর্কবার্তা পাঠিয়ে রেখেছিলেন।   তদন্তকারীদের মতে, চ্যারডনে আসার আগে এই যুবক অ্যাশটাবুলা কাউন্টির তিনটি ভিন্ন পোস্ট অফিস থেকে জাল চেক ব্যবহার করে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০ হাজার ডলার সমমূল্যের স্ট্যাম্প হাতিয়ে নিয়েছিলেন।   তদন্ত শেষে পুলিশ ও ইউ.এস. পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিস এলিসের কাছ থেকে ওহাইওর একটি ভুয়া পরিচয়পত্র এবং একটি জাল চেক উদ্ধার করে। আদালত ও প্রসিকিউটরের নথিপত্র অনুযায়ী, এই ঘটনার পর গ্র্যান্ড জুরি এলিসের বিরুদ্ধে চুরির চেষ্টা এবং দুটি জালিয়াতির অভিযোগ গঠন করেছেন। বর্তমানে তাকে জিয়াউগা কাউন্টি জেলে আটকে রাখা হয়েছে।   স্ট্যাম্প কেনার ক্ষেত্রে জাল চেকের এমন বড় ধরনের প্রতারণা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নয়। ইউ.এস. পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিসের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়াতেও একই ধরনের একটি চক্র ভুয়া ব্যবসায়িক চেক দিয়ে স্ট্যাম্প কিনে তা কালোবাজারে বিক্রি করে ডাকবিভাগের প্রায় ৬ লাখ ডলারের ক্ষতি করেছিল।   সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, আধুনিক প্রিন্টার ও স্ক্যানার ব্যবহার করে তৈরি করা এসব জাল চেক দেখতে একেবারে আসল চেকের মতোই হয়, যার ফলে ব্যাংক বা অ্যাকাউন্ট হোল্ডার টের পাওয়ার আগেই প্রতারকরা লেনদেন সম্পন্ন করে ফেলে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৫:১০
যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার রিফান্ড, প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার রিফান্ড, প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় ১০ লাখ মার্কিন নাগরিককে ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর প্রশাসনের দাবি, 'অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট' বা ওবামাকেয়ারের ফেডারেল এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমা কেনার সময় বাইডেন প্রশাসন এসব নাগরিকের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায় করেছিল।   এই অর্থ ফেরতের অংশ হিসেবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের চেক এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা চিঠি পাঠানো শুরু হয়েছে। প্রশাসনের এক কর্মকর্তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি নাগরিক এই অর্থ পাবেন।   চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে, হেলথকেয়ার ডট গভ (HealthCare.gov)-এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাইডেন প্রশাসন বছরের পর বছর ধরে অতিরিক্ত অর্থ নিয়েছে। তিনি চিঠিতে লিখেছেন, "এই অর্থ কঠোর পরিশ্রমী আমেরিকানদের, সরকারের নয়; আর তাই আমি এটি আপনাদের ফেরত দিচ্ছি!"।   এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসের প্রকাশ করা একটি ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই 'ওবামাকেয়ার রিফান্ড'-এর ঘোষণা দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলে সব নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে লভ্যাংশ দেওয়ার যে বিতর্কিত প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছেন, এই রিফান্ড তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।   হোয়াইট হাউসের দাবি, বাইডেন প্রশাসন স্বাস্থ্যবিমা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে যে ফি সংগ্রহ করেছিল, তা প্রিমিয়াম বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রাহকদের থেকেই নেওয়া হয় এবং এই অর্থের পরিমাণ এক্সচেঞ্জ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় খরচের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। তবে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র পাঁচ সপ্তাহ আগে এ ধরনের চেক বিতরণের বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে যখন সাধারণ আমেরিকানরা উদ্বিগ্ন, তখন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।   হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যে ৩০টি অঙ্গরাজ্যের নাগরিকরা এই রিফান্ড পাবেন, তারা মূলত নিজেদের কোনো পূর্ণাঙ্গ এক্সচেঞ্জ পরিচালনা করে না এবং আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ফেডারেল এক্সচেঞ্জের ওপর নির্ভরশীল। তবে যেসব রাজ্য নিজেদের এক্সচেঞ্জ পরিচালনা করে এবং যাদের কাছ থেকে ফেডারেল সরকার কোনো ফি সংগ্রহ করেনি, সেসব রাজ্যের নাগরিকরা এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন না।   সুবিধাভোগীদের বেশিরভাগই এমন ব্যক্তি যাদের আয় ফেডারেল দারিদ্র্য সীমার ৪০০ শতাংশের ওপরে বা আশপাশে। চিঠির শেষে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি আমেরিকানদের সবকিছুর আগে রাখতে, স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমাতে এবং জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ রক্ষায় তার লড়াই চালিয়ে যাবেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:৫১
এফবিআইয়ের অভিযানে আন্তর্জাতিক হ্যাকার গোষ্ঠী 'শাইনিহান্টার্স'-এর প্রধান গ্রেপ্তার
এফবিআইয়ের অভিযানে আন্তর্জাতিক হ্যাকার গোষ্ঠী 'শাইনিহান্টার্স'-এর প্রধান গ্রেপ্তার

নেদারল্যান্ডস ও মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এফবিআইয়ের এক যৌথ অভিযানে বিশ্বব্যাপী ত্রাস ছড়ানো হ্যাকার গোষ্ঠী ‘শাইনিহান্টার্স’-এর এক কথিত প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম থেকে ২৪ বছর বয়সী ওই তরুণকে গ্রেপ্তার করে ডাচ পুলিশ।   সাইবার অপরাধের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনা দেওয়ার চেষ্টারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল। তিনি জানান, ডাচ পুলিশের হাই-টেক ক্রাইম ইউনিটের সাথে সমন্বয় করে এই সফল অভিযান চালানো হয়েছে এবং জব্দকৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইস তদন্তের পর আরও গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে।   এফবিআইয়ের সাইবার বিভাগের সহকারী পরিচালক ব্রেট লেদারম্যান এক ভিডিও বার্তায় শাইনিহান্টার্সের বাকি সদস্যদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, "আমরা জানি কীভাবে আপনাদের খুঁজে বের করতে হয়। আপনাদের সহকর্মীর গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চয়ই পেয়েছেন।" তিনি জানান, গত বছর থেকে এই সাইবার অপরাধী চক্রটি ১৪০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা চালিয়ে অন্তত ৭ কোটি ডলার মুক্তিপণ আদায় করেছে।   তারা মূলত থার্ড-পার্টি ভেন্ডর ও ক্লাউড প্ল্যাটফর্মগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতো। সম্প্রতি শাইনিহান্টার্স দাবি করেছিল যে তারা এফবিআইয়ের সার্ভার হ্যাক করে কর্মীদের মেডিকেল রেকর্ড ও গোয়েন্দা তথ্যসহ টেরাবাইট পরিমাণ সংবেদনশীল ডেটা চুরি করেছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, চক্রটির এমন স্পর্ধার পরই নড়েচড়ে বসে মার্কিন প্রশাসন।   আমস্টারডামভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান নিও সিকিউরিটির কর্মকর্তা বেঞ্জামিন কর্পার নিশ্চিত করেছেন যে, গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম পেপাইন ভ্যান ডার স্ট্যাপ। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানেই 'অফেন্সিভ সিকিউরিটি লিড' হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্পার জানান, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ফ্ল্যাশ ব্যাং গ্রেনেড ছুড়ে এক নাটকীয় অভিযানের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   এর আগে ২০২৩ সালেও ডেটা চুরি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ভ্যান ডার স্ট্যাপ সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে তিনি সাইবার অপরাধ ছেড়ে দিয়ে নতুন জীবন শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। নিও সিকিউরিটি তাকে সতর্কতার সাথেই নিয়োগ দিয়েছিল বলে কর্পার জানান, তাই এই গ্রেপ্তারের খবরে সাইবার নিরাপত্তা কমিউনিটিতে তীব্র বিস্ময় তৈরি হয়েছে।   এদিকে এক বিবৃতিতে হ্যাকার গোষ্ঠী শাইনিহান্টার্স দাবি করেছে, গ্রেপ্তারকৃত যুবকের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং ডাচ পুলিশের এই অভিযান পুরোপুরি ভিত্তিহীন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:৩০
লস অ্যাঞ্জেলেসে ২১তম জন্মদিনে পার্টির বদলে গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়লেন তরুণী
লস অ্যাঞ্জেলেসে ২১তম জন্মদিনে পার্টির বদলে গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়লেন তরুণী

২১ বছর বয়সে পদার্পণ উপলক্ষে বিলাসবহুল পার্টি বা লাস ভেগাসে ভ্রমণের বদলে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক উদ্যোগ নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন মিরিয়াম হারেগোট। নিজের বিশেষ দিনটিকে আরও অর্থবহ করে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রাণকেন্দ্রে গৃহহীনদের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কার ও চালু করেছেন এই তরুণী।   মানবিক এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে মিরিয়াম বলেন, "মানুষকে মানবিকতার ছোঁয়া দিতে পেরে দারুণ লাগছে, কারণ বর্তমান বিশ্বে এর বড্ড অভাব। আপনি নিজে সমাজে যে পরিবর্তন দেখতে চান, সেই পরিবর্তনের সূচনা আপনার নিজেকে দিয়েই করা উচিত।"   এই আশ্রয়কেন্দ্র চালুর পরপরই মিরিয়াম প্রতিষ্ঠা করেন 'দ্য প্যাক প্রজেক্ট' (P.A.C.K. - People Advocating Community Kinship) নামের একটি সংগঠন। সাউথ সেন্ট্রাল লস অ্যাঞ্জেলেসের একদল তরুণ, উদ্যোক্তা এবং সৃজনশীল ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনটি মূলত গৃহহীন ও সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের খাদ্য, বাসস্থান এবং শিক্ষার ব্যবস্থা করতে কাজ করে যাচ্ছে।   তাদের এই প্রজেক্টের আওতায় 'ফিড দ্য হোমিস' (Feed The Homies) নামের একটি মাসিক উদ্যোগের মাধ্যমে স্কিড রো এলাকায় এ পর্যন্ত হাজার হাজার সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে গরম খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। সমাজ পরিবর্তনের জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পদবি, বড় তহবিল বা অনুমোদনের অপেক্ষা না করে মিরিয়াম যেভাবে নিজেই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:১১
ইরাকে মার্কিন সেনাদের আনুষ্ঠানিক বিদায় উপলক্ষে দেশজুড়ে টানা ৪ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা
ইরাকে মার্কিন সেনাদের আনুষ্ঠানিক বিদায় উপলক্ষে দেশজুড়ে টানা ৪ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা

ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশটিতে টানা চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে ইরাক সরকার। গত শনিবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে এই ছুটি কার্যকর থাকবে এবং এ সময়টিকে ‘সার্বভৌমত্ব দিবস’ হিসেবে উদ্‌যাপন করা হবে।   প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষকে মিডিয়া সেলের সঙ্গে সমন্বয় করে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন।   গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের শেষ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা থেকে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে দেশটিতে আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক বাহিনীর উপস্থিতির অবসান ঘটে। তবে এই সেনা প্রত্যাহারের অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যকার দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সহযোগিতার সম্পূর্ণ ইতি টানা নয়।   ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, জোটের সামরিক মিশন শেষ হলেও দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা আগের মতোই অব্যাহত থাকবে। মূলত আন্তর্জাতিক জোট কাঠামোর পরিবর্তে এখন সরাসরি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে দেশ দুটি।   উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের দখলে চলে গেলে তাদের দমনে স্থানীয় বাহিনীকে সহায়তার জন্য এই মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট গঠন করা হয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে এই জোটের ভূমিকা মূলত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও গোয়েন্দা সহায়তার মাঝেই সীমাবদ্ধ হয়ে আসে।   ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই মিশন অবসানের বিষয়ে একটি পর্যায়ক্রমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার প্রথম ধাপ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সম্পন্ন হয়েছিল। চুক্তির অংশ হিসেবে সিরিয়ায় আইএসবিরোধী অভিযান পরিচালনায় সহায়তার জন্য কিছু সেনা এতদিন ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থান করছিল। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষে এই সেনা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের সামরিক সম্পর্ক একটি নতুন কাঠামোতে প্রবেশ করল।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৩:৫১
ফেডারেল সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স পেলেন মামদানি, গোপন ও সংবেদনশীল নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে মিলল প্রবেশাধিকার
ফেডারেল সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স পেলেন মামদানি, গোপন ও সংবেদনশীল নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে মিলল প্রবেশাধিকার

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি অবশেষে ফেডারেল সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স বা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ছাড়পত্র পেয়েছেন। গত বুধবার ব্রুকলিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত জবাবে তিনি নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, "হ্যাঁ, আমার সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স আছে।"   কাকতালীয়ভাবে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গ্রেসি ম্যানশনে এক অন্তরঙ্গ বৈঠকের মাত্র এক সপ্তাহ পরই এই ছাড়পত্র পেলেন তিনি। তবে ঠিক কবে বা কখন তিনি এই অনুমোদন পেয়েছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি মেয়র।   এই শীর্ষ নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার ফলে এখন থেকে মেয়র মামদানি নিউইয়র্ক সিটির সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হুমকি এবং অন্যান্য অতি-গোপনীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্রিফিংগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।   দায়িত্ব গ্রহণের পর আট মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় সম্প্রতি গণমাধ্যমে বেশ সমালোচনা হচ্ছিল। কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে মেয়র দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল।   গত ২১ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনে মেয়রের বাসভবনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে মামদানির সাথে সাক্ষাৎ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। উভয় নেতাই জানিয়েছিলেন, তাদের ওই সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনায় মূলত নিউইয়র্ক এবং সম্ভাব্য আবাসন প্রকল্প নিয়েই কথা হয়েছে। এর পরপরই ছাড়পত্র পাওয়ার খবরটি সামনে আসে।   সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৩৪ বছর বয়সী সাবেক এই স্টেট অ্যাসেম্বলি মেম্বারের সরকারি পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায়, তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র পেতে এই কয়েক মাস বিলম্ব হওয়াটা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়।   তবে নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে নিরাপত্তা ব্রিফিং থেকে বঞ্চিত থাকার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামস ঐতিহাসিক ফেডারেল অভিযোগের মুখে পড়ার পর তার ক্লিয়ারেন্স বাতিল করা হয়েছিল, যদিও গত বছর ট্রাম্পের বিচার বিভাগ সেই অভিযোগ খারিজ করে দেয়।   অন্যদিকে, মামদানির প্রিয় সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাজিও দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় নয় মাস পর এই ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছিলেন, যখন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায় যে তিনি আবেদনপত্রই পূরণ করেননি। শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব গ্রহণের দেড় বছরেরও বেশি সময় পর ব্লাজিও তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র হাতে পেয়েছিলেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৩:৩৩
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
আকাশসীমা জটিলতা কাটিয়ে বৃহস্পতিবার আসছে রূপপুরের নতুন ইউরেনিয়াম চালান রাশিয়া থেকে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামবাহী কার্গো বাংলাদেশে আসা আবার শুরু হচ্ছে। নতুন সূচি অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর একটি চালান দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর চালানটি আসার কথা থাকলেও নির্ধারিত আকাশপথে প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় সেই ফ্লাইট স্থগিত করা হয়।   বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম পরিবহনের জন্য যে রুট নির্ধারিত রয়েছে, সেখানে একাধিক দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের আকাশসীমা রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত ফ্লাইটের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমোদন না পাওয়ায় কার্গো বিমানটি বাংলাদেশে আসতে পারেনি।   রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ড. কবির হোসেন জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় ৪৮টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি দুটি ফ্লাইটে আসার কথা ছিল। এর একটি ২৪ সেপ্টেম্বর এবং আরেকটি ১ অক্টোবর আসার কথা ছিল। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের জন্যও একাধিক ফ্লাইটের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।   রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম জানিয়েছে, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। কয়েকটি পৃথক ফ্লাইটে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে এবং ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পুরো সরবরাহ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।   এর আগে পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম জ্বালানি ৮ অক্টোবর থেকে প্রতি সপ্তাহে একটি করে সাতটি ফ্লাইটে আনার কথা ছিল। সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর ১ অক্টোবর থেকেই নতুন করে সরবরাহ কার্যক্রম শুরু করার কথা জানানো হয়েছে।   রূপপুর বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পে দুটি ভিভিইআর-১২০০ ধরনের পারমাণবিক চুল্লি রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুই ইউনিট মিলিয়ে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রকল্পটি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের কারিগরি সহযোগিতায় নির্মিত হচ্ছে।   রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রথম দফার পারমাণবিক জ্বালানি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসে। ওই চালানে ১৬৪টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি ছিল। বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় সেগুলো রূপপুরে নেওয়া হয়।   চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর্যায়ে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু করে। এখন প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।    তবে বৃহস্পতিবারের চালানটি নির্ধারিত সময়েই পৌঁছাবে কি না, সেটি শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশসীমা অনুমোদন ও উড়োজাহাজ চলাচলের ওপর নির্ভর করবে। বর্তমানে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে নতুন সূচি অনুযায়ী সরবরাহ শুরু করার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। সমকালও জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আকাশসীমা অনুমোদন পাওয়ার পর নতুন সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৩:২৬
আইনজীবীর ফি দিতে না পেরে চ্যাটজিপিটির সহায়তায় নিজের মামলা নিজেই পরিচালনা করেছেন ক্রেইগ টিচেনার। ছবি: সংগৃহীত
আইনজীবীর ফি দিতে না পেরে চ্যাটজিপিটির সহায়তায় ৪০ হাজার পাউন্ড ফেরত পেলেন দমকলকর্মী

আইনজীবীর ফি বহন করতে না পেরে চ্যাটজিপিটির সহায়তায় নিজেই আদালতে মামলা পরিচালনা করে সাবেক প্রেমিকার কাছ থেকে ৪০ হাজার পাউন্ড ফেরত পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের এক দমকলকর্মী। ক্রেইগ টিচেনার নামের ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন, সাবেক প্রেমিকাকে বিনিয়োগের জন্য দেওয়া এই অর্থ ফেরত পেতে তিনি চ্যাটজিপিটির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি নির্দেশনা নিয়েছিলেন এবং নিজের পক্ষে আদালতে লড়াই করেছিলেন। গত সপ্তাহে আদালত তার পক্ষে রায় দেয়।   ৪০ বছর বয়সী ক্রেইগ টিচেনার দুই সন্তানের বাবা এবং হিথ্রো বিমানবন্দরের দমকলকর্মী। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে তিনি একটি লটারির স্ক্র্যাচ কার্ডে ২ লাখ পাউন্ডের পুরস্কার জেতেন। এরপর ২০২২ সালে তিনি তৎকালীন প্রেমিকা হিদার ডগলাসকে ৪০ হাজার পাউন্ড দেন। ডগলাসের আর্থিক বিষয়ে জ্ঞান রয়েছে বলে তাকে ওই অর্থ বিনিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।   আদালতে বলা হয়, ক্রেইগ ও ডগলাসের মধ্যে ওই অর্থ বিনিয়োগের বিষয়ে একটি সমঝোতা ছিল। তারা অর্থটি প্রিমিয়াম বন্ডে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং সেখান থেকে পাওয়া লাভ ভাগ করে নেওয়ার কথা ছিল। তবে পরে তাদের সম্পর্কের অবসান ঘটে। এরপর ক্রেইগ তার দেওয়া ৪০ হাজার পাউন্ড ফেরত চাইলে ডগলাস তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।   অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য ক্রেইগ প্রথমে আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে তার দাবি অনুযায়ী, আইনজীবীরা যে পারিশ্রমিক চেয়েছিলেন তা তার পক্ষে বহন করা সম্ভব ছিল না। ফলে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই আদালতে নিজের মামলা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় তিনি চ্যাটজিপিটির সহায়তা নেন।   ক্রেইকের ভাষ্য অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি তাকে প্রয়োজনীয় ফরম পূরণের বিষয়ে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেয়। এসব সহায়তা নিয়ে তিনি সেন্ট্রাল লন্ডন কাউন্টি আদালতে নিজের মামলা নিজেই উপস্থাপন করেন। তিনি স্বীকার করেন, নিজের পক্ষে আদালতে লড়াই করার সিদ্ধান্তটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবে আইনজীবীর খরচ বহন করতে না পারায় তার মনে হয়েছিল, এ ছাড়া তার সামনে তেমন কোনো পথ ছিল না।   ক্রেইগ আরও বলেন, চ্যাটজিপিটির সহায়তা না পেলে তিনি হয়তো মামলায় জিততে পারতেন না। তবে আদালতের রায় চ্যাটজিপিটি দেয়নি। তার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই সেবাটি তাকে মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত ও আদালতের প্রক্রিয়া বুঝতে সহায়তা করেছে।   অন্যদিকে, ডগলাস আদালতে দাবি করেন, ক্রেইগ যে ৪০ হাজার পাউন্ড তাকে দিয়েছিলেন সেটি ছিল উপহার। তবে তিনি এই দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ দিতে পারেননি। আদালতে নিজের ব্যাংক হিসাবের নথিও জমা দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পর গত সপ্তাহে আদালত ক্রেইকের পক্ষে রায় দেয় এবং ৪০ হাজার পাউন্ড ফেরত পাওয়ার পথ তৈরি হয়।   ডগলাস আলাদাভাবে ক্রেইকের বিরুদ্ধে তাকে নিয়ন্ত্রণ ও হয়রানির চেষ্টা করার অভিযোগও তুলেছিলেন। তবে ৪০ হাজার পাউন্ডের বিরোধে আদালতের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অর্থটি উপহার ছিল কি না, সে দাবির পক্ষে প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক নথি উপস্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   সূত্র: ইকোনমি ডট পিকে

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১২:৫৯
যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৪৩ সালের একটি বিরল পেনির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। ছবি: সংগৃহীত
পকেটে থাকা ১৯৪৩ সালের পেনি বদলে দিতে পারে ভাগ্য, দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৪৩ সালের একটি বিরল পেনির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তামা সংরক্ষণের জন্য ওই বছরের বেশিরভাগ ১ সেন্টের মুদ্রা ইস্পাত দিয়ে তৈরি করা হলেও, অল্প কয়েকটি তামার মুদ্রা ভুল করে তৈরি হয়ে যায়। এমনই একটি বিরল মুদ্রা সম্প্রতি হিউস্টনের একটি পরিবার থেকে সংগ্রহ করেছে একটি মুদ্রা প্রতিষ্ঠান।   ১৯৪৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ১ সেন্টের মুদ্রা তৈরি করা হয়েছিল। যুদ্ধের প্রয়োজন মেটাতে তামার ব্যবহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ওই বছরের পেনিগুলো ইস্পাত দিয়ে তৈরির ব্যবস্থা করা হয়। দেশটির তিনটি মুদ্রা তৈরির কারখানায় ১০০ কোটিরও বেশি ইস্পাতের পেনি তৈরি হয়েছিল।   তবে মুদ্রা তৈরির যন্ত্রে আগের বছরের কিছু তামার পাত রয়ে গিয়েছিল। সেগুলোর কয়েকটি ভুল করে ১৯৪৩ সালের তারিখসহ মুদ্রায় পরিণত হয়। এই ভুলের কারণেই তৈরি হয় ১৯৪৩ সালের বিরল তামার পেনি। ধারণা করা হয়, এ ধরনের তামার পেনি বর্তমানে প্রায় ২০টি রয়েছে।   হিউস্টন এলাকার একটি পরিবারের কাছে থাকা এমনই একটি মুদ্রা সম্প্রতি সংগ্রহ করেছে হিউস্টনের ইউএস কয়েনস অ্যান্ড জুয়েলারি। পরিবারটি জানিয়েছে, তারা মুদ্রাটি ১৯৬০-এর দশকে একজন মুদ্রা সংগ্রাহকের কাছ থেকে কিনেছিল। পরে মুদ্রাটি পেশাদারভাবে পরীক্ষা করে এর বিরলত্ব নিশ্চিত করা হয়।   পেশাদার কয়েন গ্রেডিং সার্ভিস মুদ্রাটিকে পরীক্ষা করে এক্সএফ৪০ গ্রেড দিয়েছে এবং এর মূল্য ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট স্টেফানি সাবিন জানান, ১৯৪৩ সালের তামার পেনি সবচেয়ে বেশি জমা পড়া বিরল মুদ্রাগুলোর একটি। তবে এর মধ্যে অনেক মুদ্রাই আসলে সাধারণ ইস্পাতের পেনি অথবা তামার প্রলেপ দেওয়া নকল মুদ্রা হয়ে থাকে।   ইউএস কয়েনস অ্যান্ড জুয়েলারির কেনি ডানকান জুনিয়র জানান, একই ধরনের আরও কিছু বিরল মুদ্রা হয়তো এখনো মানুষের কাছে থাকতে পারে। পুরোনো মুদ্রার বিভিন্ন ধরনের বিরল বৈশিষ্ট্যের কারণে সাধারণ মানুষের হাতে থাকা মুদ্রার মধ্যেও মূল্যবান নমুনা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।   ১৯৪৩ সালের তামার পেনিকে হুইটম্যান পাবলিশিংয়ের প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি সেরা মুদ্রার তালিকার শীর্ষ কয়েকটির মধ্যে রাখা হয়েছে। এই মুদ্রাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গল্পও প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে একটি গল্প ছিল, প্রথম তামার পেনি খুঁজে পাওয়া ব্যক্তিকে হেনরি ফোর্ড নতুন একটি গাড়ি উপহার দেবেন। তবে ফোর্ড পরে এই দাবি অস্বীকার করেছিলেন।   ১৯৪৭ সালে এক কিশোর স্কুলের খাবারের দোকান থেকে ফেরত পাওয়া টাকার মধ্যে একটি তামার ১৯৪৩ সালের পেনি পেয়েছিল বলে জানা যায়। এরপরও অল্প কয়েকটি এমন মুদ্রা খুঁজে পাওয়া গেছে এবং সেগুলো খুব কমই প্রকাশ্যে বিক্রির জন্য এসেছে।   হিউস্টনে পাওয়া নতুন মুদ্রাটি আগামী শনিবার, ৩ অক্টোবর থেকে ইউএস কয়েনস অ্যান্ড জুয়েলারির দ্বিতীয় তলার প্রদর্শনী কক্ষে রাখা হবে। দর্শনার্থীরা সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা এবং শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মুদ্রাটি দেখতে পারবেন।   সূত্র: ফক্স লোকাল

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১২:৩৯
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে একাধিক বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তা বিভিন্ন পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে পদোন্নতি পেলেন একাধিক বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তা

নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে একাধিক বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তা বিভিন্ন পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। ডেপুটি ইন্সপেক্টর, লেফটেন্যান্ট, সার্জেন্ট এবং ট্রাফিক বিভাগের বিভিন্ন পদে তাঁদের এই পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।   ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেয়েছেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর, মোহাম্মদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ করিম।   সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছেন মোহাম্মদ শারবেল ও মোহাম্মদ চৌধুরী। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের ট্রাফিক শাখাতেও কয়েকজন বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তা নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন।   ট্রাফিক কমান্ডার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন মোহাম্মদ রহমান। টিএস-১ পদে পদোন্নতি পেয়েছেন মোহাম্মদ রহমান ও জহেদী রহমান। ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট লেভেল-৩ পদে পদোন্নতি পেয়েছেন আকরাম হোসেন।   পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে হুমায়ুন কবীর বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিতে পরিচিত। তাঁদের পদোন্নতির খবর প্রকাশের পর কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায় থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।   পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে তাঁদের নতুন দায়িত্বে সাফল্য কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তাদের পেশাগত অগ্রগতিকে কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের বিভিন্ন পেশায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও তাঁদের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। পুলিশ বিভাগে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের পদোন্নতির মাধ্যমে সেই অগ্রগতির ধারাও আরও দৃশ্যমান হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১২:১৫
মা-বাবাকে স্থায়ীভাবে আমেরিকায় আনতে আবেদন করতে পারেন ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকেরা। ছবি: সংগৃহীত
মা-বাবাকে আমেরিকায় আনতে চান? জানুন আইআর-৫ ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া

মা-বাবাকে স্থায়ীভাবে আমেরিকায় আনতে আবেদন করতে পারেন ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকেরা। বাবা-মায়ের জন্য নির্ধারিত আইআর-৫ ভিসা ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। এতে বছরে ভিসা দেওয়ার সংখ্যাগত সীমা নেই। তবে আবেদন যাচাই, কাগজপত্র পর্যালোচনা ও ইন্টারভিউয়ের সময় পেতে অপেক্ষা করতে হয়। কোটা না থাকা দ্রুত ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।    ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধু গ্রিন কার্ড থাকলে মা-বাবাকে এই ক্যাটাগরিতে স্পন্সর করা যায় না। আবেদনকারীকে মার্কিন নাগরিক হতে হবে। মা ও বাবার জন্য আলাদা আই-১৩০ পিটিশন জমা দিতে হয়।   আবেদনের সঙ্গে নাগরিকত্ব এবং পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ প্রয়োজন। সাধারণত মার্কিন পাসপোর্ট বা ন্যাচারালাইজেশন সার্টিফিকেট এবং জন্মসনদ দিতে হয়। বাবার জন্য আবেদনে বাবা-মায়ের বিয়ের সনদসহ পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত নথিও প্রয়োজন হতে পারে।    আই-১৩০ ফরমের ফি এখন অনলাইনে ৬২৫ ডলার এবং কাগজে জমা দিলে ৬৭৫ ডলার। মা-বাবা দুজনের জন্য আবেদন করলে প্রত্যেকের পিটিশনের ফি আলাদাভাবে দিতে হবে। এটি পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়ার মোট খরচ নয়।    মা-বাবা বাংলাদেশে থাকলে আই-১৩০ অনুমোদনের পর সাধারণত ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার বা এনভিসির মাধ্যমে পরবর্তী ধাপ শুরু হয়। সেখানে ডিএস-২৬০ ভিসা আবেদন, আই-৮৬৪ আর্থিক সহায়তার অঙ্গীকারনামা এবং প্রয়োজনীয় সিভিল ডকুমেন্ট জমা দিতে হয়। এরপর নির্ধারিত দূতাবাসে ইন্টারভিউয়ের ব্যবস্থা করা হয়।    পারিবারিক অভিবাসন ভিসার আবেদন ফি জনপ্রতি ৩২৫ ডলার। এনভিসিতে অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট পর্যালোচনার ফি ১২০ ডলার। এর বাইরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় টিকা, নথি সংগ্রহ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য খরচ থাকে। তাই শুধু ভিসা আবেদন ফি ধরে বাজেট করলে পুরো খরচের হিসাব মিলবে না।    বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ভিসা নির্দেশনাও গুরুত্বপূর্ণ। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ২৮ আগস্টের হালনাগাদে বলা হয়েছে, আদালতের আদেশ অনুযায়ী বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেওয়ার ওপর জানুয়ারিতে আরোপিত বিরতি ২১ আগস্ট থেকে আর কার্যকর নেই। তবে ৮ সেপ্টেম্বর রয়টার্স জানিয়েছিল, নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কারণে বহু দূতাবাসে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইন্টারভিউয়ের সাময়িক বিরতি তখনো চলছিল। আবেদনকারীর নিজস্ব ইন্টারভিউয়ের অবস্থা জানতে এনভিসি ও দূতাবাসের সর্বশেষ বার্তা অনুসরণ করতে হবে।    আর্থিক স্পন্সরশিপের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রযোজ্য ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ আয় দেখাতে হয়। ২০২৬ সালের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের ৪৮ স্টেট ও ওয়াশিংটন ডিসিতে তিন সদস্যের পরিবারের জন্য এই অঙ্ক বছরে ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার। স্পন্সরের পরিবারের সদস্যসংখ্যা সঠিকভাবে গণনা করা জরুরি।    আয় যথেষ্ট না হলে যোগ্য জয়েন্ট স্পন্সর বা নিয়ম অনুযায়ী পরিবারের অন্য সদস্যের আয় ব্যবহার করা যেতে পারে। জয়েন্ট স্পন্সর থাকলেও মূল আবেদনকারীকে নিজের আই-৮৬৪ জমা দিতে হয়। এই অঙ্গীকারনামা সরকারের সঙ্গে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক আর্থিক সহায়তার চুক্তি।    মা-বাবা ইতিমধ্যে আমেরিকায় থাকলে তাঁদের প্রবেশের ইতিহাস ও অন্যান্য যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে দেশের ভেতরে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। শুধু আমেরিকায় অবস্থান করলেই এই সুযোগ নিশ্চিত হয় না। আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার মাধ্যমে কাজ বা বিদেশভ্রমণের অনুমতিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট অনুমতির জন্য আলাদা আবেদন ও অনুমোদন প্রয়োজন। আই-৪৮৫-এর সাধারণ কাগজে আবেদন ফি ১ হাজার ৪৪০ ডলার; এর সঙ্গে পুরোনো নিয়মের মতো আলাদা ৮৫ ডলার বায়োমেট্রিক ফি যোগ করা ঠিক নয়।    অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান বা অনুমতি ছাড়া প্রবেশের ইতিহাস থাকলে পরিস্থিতি বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময় বেআইনিভাবে অবস্থানের পর আমেরিকা ছাড়লে তিন বা দশ বছরের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে। তাই দেশে ফিরে ভিসা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে, এমন ধারণা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।    ভিসা অনুমোদন হলে তাতে উল্লেখ করা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আমেরিকায় প্রবেশ করতে হবে। ঢাকার আবেদনকারীদের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করে ভিসার মেয়াদ সীমিত হতে পারে। ফলে ভিসা হাতে পাওয়ার দিন থেকে সবার জন্য নতুন করে ছয় মাস সময় থাকে না।    মা-বাবার চিকিৎসা খরচও আগেই পরিকল্পনা করা দরকার। নতুন অভিবাসীরা প্রথম দশ বছর কোনোভাবেই মেডিকেয়ার পাবেন না, এমন সাধারণ নিয়ম নেই। মেডিকেয়ারের যোগ্যতা বয়স, কাজের ইতিহাস এবং বসবাসের শর্তের ওপর নির্ভর করে। পর্যাপ্ত কাজের ইতিহাস না থাকা স্থায়ী বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে সাধারণত ৬৫ বছর বয়স এবং আমেরিকায় টানা পাঁচ বছর বসবাসসহ শর্ত পূরণ করে প্রিমিয়াম দিয়ে কভারেজ নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।    গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর সাধারণ পাঁচ বছরের নিয়মে নাগরিকত্বের আবেদন করা সম্ভব হলেও সময় পার হওয়াই একমাত্র শর্ত নয়। ধারাবাহিক বসবাস, প্রয়োজনীয় সময় আমেরিকায় উপস্থিত থাকা এবং অন্যান্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়। মা-বাবাকে আনার পরিকল্পনায় তাই আবেদন ফি, ইন্টারভিউয়ের অপেক্ষা, আর্থিক দায়িত্ব ও হেলথ ইন্স্যুরেন্সের খরচ একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১১:৫৪
রাশেদ খান, শফিকুর রহমান। ছবি:সংগৃহীত
জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগে সরকারের সম্পৃক্ততা নেই: মাহদী আমিন

রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।   বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ড শেয়ার করে রাশেদ খান লেখেন, ‘আমাদের জান্নাতি দাদু কখনোই ঢাকা শহরকে পরিকল্পিত নগরী হতে দিবে না।’   পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, রাজধানীর মূল সড়ক থেকে অটোরিকশা উচ্ছেদ, বস্তিবাসীদের স্থানান্তর এবং ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে জামায়াত আমির ও তার দল বাধা দিচ্ছে। রাশেদ খানের ভাষ্য, সরকারের ‘জনবান্ধব পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে এভাবে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।   অন্যদিকে, মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করা প্রয়োজন হলেও শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে সেখানে ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন তিনি।   বুধবার সকালে মিরপুর-১৩ থেকে মিরপুর-১০ এলাকার হোপ মার্কেটের আশপাশে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশ, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও ফুটপাতে ব্যবসা করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে সিটি করপোরেশনের কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আক্রান্ত হন।   জামায়াত আমির আরও বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার মতে, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উচ্ছেদের পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রয়োজন। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বানও জানান।   এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাশেদ খানের ‘জান্নাতি দাদু’ মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। তবে মন্তব্যটি রাশেদ খানের নিজস্ব বক্তব্য; এটিকে কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি মন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১১:৩৬
ফিলাডেলফিয়ায় ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মারা যাওয়া শুভানন সাহিদ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় দীর্ঘ লড়াই শেষে না ফেরার দেশে ৩১ বছরের শুভানন সাহিদ

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে মারা গেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পরিচিত মুখ শুভানন সাহিদ। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ২টা ৭ মিনিটে পেনসিলভানিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৩১ বছর।   শুভানন সাহিদ ফিলাডেলফিয়ার বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পরিচিত মুখ ডক্টর মোহাম্মাদ শহিদুল্লাহ এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সংগঠক ও BADV-এর সাধারণ সম্পাদক সাহিদা আফরোজ নিপুর বড় ছেলে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার, স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।   পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন শুভানন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারীরিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি জীবনযুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত মাত্র ৩১ বছর বয়সেই থেমে গেল তাঁর জীবনপথ।   শুভাননের অকালমৃত্যুতে ফিলাডেলফিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তাঁকে কাছ থেকে চিনতেন এমন অনেকেই তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।   পরিবারের জন্য এই মৃত্যু তৈরি করেছে অপূরণীয় শূন্যতা। যে বয়সে একজন তরুণের সামনে ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা স্বপ্ন ও সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কথা, সেই সময়েই কঠিন রোগের কাছে হার মানতে হলো শুভাননকে। তাঁর দীর্ঘ লড়াই ও অকালপ্রয়াণ স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর বেদনা তৈরি করেছে।   পরিবার, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে শুভাননের স্মৃতি দীর্ঘদিন অমলিন থাকবে। তাঁর চলে যাওয়ায় তৈরি হওয়া শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয় বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।   মরহুম শুভানন সাহিদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে আমেরিকা বাংলা পরিবার। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত বাবা-মা, পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করুন। আমিন।   মরহুম শুভানন সাহিদের নামাজে জানাজার সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১১:২৬
উড়োজাহাজে পাইলটকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা নিয়ে অভিযোগ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
‘জিহাদি সন্ত্রাসী হামলা’ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের চেষ্টা, পাইলট গ্রেপ্তার, দাবি ইসরায়েলের

দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে সেটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন সহপাইলট, এমন অভিযোগ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে জরুরি অবতরণের পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।    নেতানিয়াহুর বক্তব্য অনুযায়ী, যাত্রী ও ক্রুদের হস্তক্ষেপে অভিযুক্তকে আটকে রাখা সম্ভব হয়। তিনি এক যাত্রীর বর্ণনা তুলে ধরে বলেন, উড়োজাহাজটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করলে কয়েকজন যাত্রী ও একজন ক্রু ককপিটে ঢোকেন। তাঁরা সহপাইলটকে উড়োজাহাজের ব্যবস্থা নষ্ট করার চেষ্টা করতে দেখেন।    রয়টার্সকে একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সহপাইলট ওমানের নাগরিক। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের প্রাথমিক মূল্যায়নে ঘটনাটি সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা। তবে এটি তাঁদের মূল্যায়ন, তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।    সৌদি বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ক্লাস্টার২ এয়ারপোর্টসের বিবৃতি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৪ মিনিটে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইট থেকে জরুরি অবতরণের অনুরোধ আসে। বিমানবন্দরে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার পর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করে। আহত ক্যাপ্টেন ও সহপাইলটকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।    ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরগামী ফ্লাইটটি মাঝপথে একটি ঘটনার মুখোমুখি হয়ে তাবুকে অবতরণ করেছে। সব যাত্রী নিরাপদে আছেন এবং তাঁদের সবার অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে এয়ারলাইনটি।    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উড়োজাহাজ থেকে জরুরি সংকেত আসার পর সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় যুদ্ধবিমান পাঠায় ইসরায়েল। পরে উড়োজাহাজটি সৌদি আরবে অবতরণ করে। সৌদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১১:৩১
রাশেদ খান, শফিকুর রহমান। ছবি:সংগৃহীত
‘জান্নাতি দাদু’ বলে জামায়াত আমিরকে রাশেদের কটাক্ষ, মিরপুরে উচ্ছেদ ঘিরে উত্তাপ

রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।   বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ড শেয়ার করে রাশেদ খান লেখেন, ‘আমাদের জান্নাতি দাদু কখনোই ঢাকা শহরকে পরিকল্পিত নগরী হতে দিবে না।’   পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, রাজধানীর মূল সড়ক থেকে অটোরিকশা উচ্ছেদ, বস্তিবাসীদের স্থানান্তর এবং ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে জামায়াত আমির ও তার দল বাধা দিচ্ছে। রাশেদ খানের ভাষ্য, সরকারের ‘জনবান্ধব পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে এভাবে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।   অন্যদিকে, মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করা প্রয়োজন হলেও শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে সেখানে ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন তিনি।   বুধবার সকালে মিরপুর-১৩ থেকে মিরপুর-১০ এলাকার হোপ মার্কেটের আশপাশে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশ, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও ফুটপাতে ব্যবসা করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে সিটি করপোরেশনের কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আক্রান্ত হন।   জামায়াত আমির আরও বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার মতে, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উচ্ছেদের পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রয়োজন। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বানও জানান।   এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাশেদ খানের ‘জান্নাতি দাদু’ মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। তবে মন্তব্যটি রাশেদ খানের নিজস্ব বক্তব্য; এটিকে কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি মন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১১:৯