- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ছোট কাটা বা আঁচড় দিয়ে জীবাণু ঢুকে কখনো ত্বকের গভীর টিস্যুতে গুরুতর সংক্রমণ ঘটাতে পারে। নেক্রোটাইজিং ফ্যাসাইটিস নামের এই রোগ বিরল হলেও দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন, সিডিসি জানিয়েছে, তীব্র ব্যথা, জ্বর ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ফোলা বা লালচে ভাব দেখা দিলে চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়। নেক্রোটাইজিং ফ্যাসাইটিস কোনো একটি ব্যাকটেরিয়ার নাম নয়। এটি বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া সংক্রমণ, যা টিস্যু ধ্বংস করতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপ এ স্ট্রেপটোকক্কাস এর সবচেয়ে সাধারণ কারণ বলে বিবেচিত। পানিতে থাকা ভিব্রিও ভালনিফিকাস ব্যাকটেরিয়াও এই সংক্রমণ ঘটাতে পারে। ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস, এনএইচএস জানিয়েছে, কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দিতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হলো, বাইরে দৃশ্যমান ক্ষতের তুলনায় অস্বাভাবিক তীব্র ব্যথা। আক্রান্ত জায়গায় অনুভূতি কমে যাওয়া, ফোলা এবং জ্বরও হতে পারে। কখনো ত্বকে স্পষ্ট ক্ষত না থাকলেও সংক্রমণ দেখা দেয়। অবস্থা খারাপ হলে ফোসকা, কালো বা বেগুনি দাগ, বমি, মাথা ঘোরা কিংবা বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে। গাঢ় রঙের ত্বকে লালচে ভাব কম বোঝা যেতে পারে। তাই শুধু ক্ষতের চেহারা দেখে সংক্রমণের গুরুতরতা বিচার করা নিরাপদ নয়। চিকিৎসায় সাধারণত শিরায় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া এবং অস্ত্রোপচারে মৃত টিস্যু সরানো প্রয়োজন হয়। একাধিক অস্ত্রোপচারও লাগতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে অঙ্গ কেটে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সংক্রমণ সেপসিস, শক ও অঙ্গ বিকল হওয়ার কারণও হতে পারে। ডায়াবেটিস বা রোগপ্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল থাকলে ঝুঁকি বেশি। তবে অন্যদেরও এই সংক্রমণ হতে পারে। প্রাথমিক লক্ষণ সাধারণ ত্বকের সংক্রমণের মতো হওয়ায় রোগ শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। সন্দেহ প্রবল হলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষার ফলের অপেক্ষা না করেই চিকিৎসা শুরু করতে পারেন। ক্ষতের তুলনায় অসহনীয় ব্যথা, দ্রুত বাড়তে থাকা ফোলা বা জ্বর দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে যেতে হবে। বিভ্রান্তি, মাথা ঘোরা বা ত্বকে কালো-বেগুনি দাগ দেখা দিলেও জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। এসব লক্ষণ অন্য রোগেও হতে পারে, কিন্তু চিকিৎসা নিতে অপেক্ষা করা উচিত নয়।
জাতিসংঘে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় প্রতিনিধিদের সভাকক্ষ ত্যাগের ঘটনাকে ব্যঙ্গ করে একটি মিম প্রকাশ করেছে ঘানায় ইরানের দূতাবাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ছবিতে জাতিসংঘের বক্তৃতামঞ্চে হ্যারি পটার সিরিজের খলচরিত্র লর্ড ভলডেমর্টকে দেখানো হয়। রয়া নিউজ জানিয়েছে, ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণকে কেন্দ্র করে পোস্টটি প্রকাশ করা হয়। ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে ভলডেমর্টের নৈতিকতার পাঠ দেওয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়। প্রতিনিধিদের বেরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে সেখানে ভলডেমর্টের অনুসারী ‘ডেথ ইটার্স’দের কথাও উল্লেখ করা হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহু বক্তব্য শুরু করার সময় কয়েক ডজন প্রতিনিধি সভাকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান। তাঁদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ আখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, অন্য কেউ একই মনোভাব পোষণ করলে তাঁরাও চলে যেতে পারেন। রয়া নিউজ জানিয়েছে, গাজা ও বৃহত্তর অঞ্চলে ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রতিবাদে প্রতিনিধিরা ভাষণ বর্জন করেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ইরানি দূতাবাসের পোস্টে নেতানিয়াহুকে হ্যারি পটারের খলচরিত্রের সঙ্গে তুলনা করা হয়। পরে আরেকটি পোস্টে দূতাবাস ব্যাখ্যা দেয়, ‘ডেথ ইটার্স’ বলতে তারা নেতানিয়াহুর কিছু মিত্রকে বোঝাতে চেয়েছে। সভাকক্ষ ত্যাগ করা সব দেশের প্রতিনিধিকে ওই নামে অভিহিত করা হয়নি বলেও জানায় দূতাবাস। তবে নেতানিয়াহুর মিত্রদের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি দূতাবাসের নিজস্ব দাবি হিসেবে উল্লেখ করেছে রয়া নিউজ। প্রতিবেদনটিতে দূতাবাসের ২৫ সেপ্টেম্বরের আরেকটি পোস্টও তুলে ধরা হয়। সেখানে জানানো হয়, মূল পোস্টটি ভুলবশত মুছে যাওয়ায় ছবিটি আবার প্রকাশ করা হয়েছে।
মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক আবাসিক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অস্বাভাবিক এই বিলের ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মো. মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিলটি ইস্যু করা হয়। এতে ২৩৫ ইউনিট ব্যবহারের বিপরীতে মোট বিল দেখানো হয় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। বিলটির বড় অংশই আসে ডিমান্ড চার্জ থেকে। সেখানে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা এবং ভ্যাট হিসেবে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা যোগ করা হয়। মিটার ভাড়া ছিল ১০ টাকা। বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মিটার পরিবর্তনের সময় মিটারের সিল নম্বরের অঙ্কগুলো ভুল করে ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্ট করা হয়েছিল। এই ভুলের কারণেই বিলের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এ ঘটনায় মন্ত্রী নিজে ভুক্তভোগী গ্রাহক আলেয়া খাতুনকে ফোন করেন। ফোনালাপে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং এ ঘটনায় গ্রাহকের যে মানসিক উদ্বেগ ও ভোগান্তি হয়েছে, তার জন্যও আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অস্বাভাবিক বিলটি ইতোমধ্যে সংশোধন করে গ্রাহকের কাছে সঠিক বিল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেছেন, বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সেবাকে আরও জনবান্ধব করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে।
আমেরিকায় অনিয়মিত পথে যাওয়ার চেষ্টায় বিদেশে পাড়ি দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন ভারতের গুজরাটের তিন আত্মীয়। পরিবারের অভিযোগ, ইথিওপিয়ায় তাঁদের অপহরণ করে মুক্তির জন্য এক কোটি রুপি দাবি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বরের পর থেকে তাঁদের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন মমতা চাভদা, ৩০, তাঁর আত্মীয় ঋত্বিক জানসারি, ২৩, এবং ময়ূরী সোলাঙ্কি, ২৭। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁরা গুজরাট থেকে জয়পুর, এরপর আবুধাবি হয়ে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় যান। ২২ সেপ্টেম্বর মমতা পরিবারকে ফোন করে জানান, তাঁরা কানাডায় পৌঁছেছেন। এরপর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তবে তাঁদের কানাডায় পৌঁছানোর তথ্য নিশ্চিত হয়নি। পরিবারের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় এজেন্ট আলপেশ পাঞ্চালের দাবি, তিনজন ইথিওপিয়াতেই আটকা পড়েছেন। পরিবারের ভাষ্য, পরে ‘খান’ পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ফোন করে তিনজনকে অপহরণের দাবি করেন এবং এক কোটি রুপি মুক্তিপণ চান। অপহরণের অভিযোগ ও ফোনদাতার পরিচয় তদন্তাধীন। বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, মমতার বাবা কীর্তিভাই চৌহান মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর মেহসানার লাংঘনাজ থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করেন। থানার ইন্সপেক্টর এ এম গেহলটের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনজন ২০ সেপ্টেম্বর বাড়ি ছাড়েন। যাত্রার খরচ নিয়ে পরিবারের বক্তব্য ও অভিযোগে ভিন্ন অঙ্ক এসেছে। মমতার বাবার দাবি, প্রত্যেকের জন্য প্রায় ৭০ লাখ রুপি এজেন্টকে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগে জনপ্রতি ৭৫ লাখ রুপিতে যাত্রার ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে। মমতার স্বামী প্রায় ছয় মাস আগে স্টুডেন্ট ভিসায় আমেরিকায় যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, কয়েকবার আমেরিকান ভিসা পাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর মমতার পরিবার বিকল্প পথে তাঁকে পাঠাতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তিনজনকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে পরিবার। পুলিশ নিখোঁজের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করছে এবং যাত্রার ব্যবস্থা করা এজেন্টদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে।
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে সহপাইলটের বিরুদ্ধে। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ককপিটে সহিংস ঘটনার পর ফ্লাইটটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, তবে উদ্দেশ্য এখনো তদন্তাধীন। নিউইয়র্ক পোস্ট ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভের সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সন্দেহভাজন সহপাইলট ওমানের নাগরিক এবং এক বছরেরও কম সময় ধরে ফ্লাইদুবাইয়ে কর্মরত ছিলেন। তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফ্লাইদুবাই নিশ্চিত করেছে, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরগামী এফজেড ১০৭৩ ফ্লাইটে একটি ঘটনা ঘটার পর সেটি তাবুকে অবতরণ করে। তাবুক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, আহত ক্যাপ্টেন ও সহপাইলটকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এয়ারলাইনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। রয়টার্সকে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা সন্দেহভাজন হামলাকারীকে ওমানি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তবে পাইলটদের পরিচয় নিয়ে প্রাথমিক সংবাদে পরস্পরবিরোধী তথ্যও এসেছে। ওমানি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ ফ্লাইদুবাইয়ের তেল আবিবগামী ফ্লাইট স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন। সন্দেহভাজন পাইলটের দায়িত্ব পালন বিমান চলাচল চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে কি না, তা তদন্তের অনুরোধও করেছেন তিনি। এটি ফ্লাইট স্থগিতের আহ্বান, কার্যকর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা নয়। ঘটনার পর ক্রু সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে এপিকে জানিয়েছেন এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলার উদ্দেশ্য ও ঘটনাক্রম সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভার বোগর এলাকায় চিবিনং কারাগারে বন্দিদের জন্য বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন বিলাসী আবাসনের সন্ধান পাওয়ার পর কারাগারের পাঁচ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে দেশটির কারা ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় ন্যায়পাল কার্যালয়ের (ওম্বুডসম্যান) একটি আকস্মিক পরিদর্শনে গত ২৩ সেপ্টেম্বর কারাগারের সাধারণ সেলের বাইরে একটি আলাদা আবাসিক কমপ্লেক্সের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে ১০টির বেশি ইউনিট ছিল। কয়েকটি ইউনিট দেখতে অনেকটা অ্যাপার্টমেন্ট, ভিলা বা অতিথিশালার মতো। পরিদর্শনকারীরা কয়েকটি কক্ষে এয়ার কন্ডিশনার, বড় পর্দার টেলিভিশন, ফ্রিজ, সোফা, বড় বিছানা ও খাবার টেবিল দেখতে পান। একটি ফ্রিজে অ্যালকোহলজাতীয় পানীয়ও পাওয়া যায়। কমপ্লেক্সে জিম এবং নির্মাণাধীন গলফ সিমুলেটরও ছিল। ওম্বুডসম্যানের কর্মকর্তারা জানান, ওই আবাসিক এলাকায় বন্দিদেরও পাওয়া গেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু বন্দি সাধারণ কারা ব্লকের পরিবর্তে এসব বিশেষ স্থাপনায় অবস্থান করছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে এমন তথ্যও এসেছে যে, এসব সুবিধা ব্যবহারের জন্য অর্থ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে কারা অর্থ নিয়েছে এবং কত টাকা লেনদেন হয়েছে, তা এখনো তদন্তাধীন। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বন্দি এসব আবাসনের একটি ব্যবহারের জন্য সাপ্তাহিক প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ইন্দোনেশীয় রুপিয়া দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তবে অর্থের প্রকৃত প্রাপক ও লেনদেনের পূর্ণ বিবরণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। ইন্দোনেশিয়ার অভিবাসন ও সংশোধন মন্ত্রণালয় চিবিনং কারাগারের পাঁচ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে সরিয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন কারাগারের প্রধান এবং নিরাপত্তা, বন্দি ব্যবস্থাপনা ও সাধারণ প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দায়িত্ব থেকে সরানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন কারাগার প্রধান উইসনু হানি পুত্রান্তো, নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান ই গুস্তি বাগুস উইদিয়া পুত্রা, বন্দি ও শিশু বন্দিদের প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রধান ইয়োসেফ জন ফেরি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিভাগের প্রধান আদি নুগরোহো নুর উইচাকসোনো এবং সাধারণ প্রশাসনের প্রধান দেনি সুগিয়ার্তো। তদন্তের অংশ হিসেবে ৫২ জন বন্দিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কারাগারের আরও কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার কথা রয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ভবনগুলো মূলত কারা কর্মকর্তাদের সরকারি আবাসন হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল। পার্লামেন্টারি শুনানিতে জানানো হয়, সেখানে মোট ১৬টি আবাসিক ইউনিট রয়েছে, কিন্তু এর মধ্যে ১৩টির সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় নিবন্ধন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পরিদর্শনের পর কিছু আসবাব ও সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলা হয়েছিল বলেও জানা গেছে। কারাগারের সাময়িকভাবে দায়িত্বহীন প্রধান স্বীকার করেছেন যে তিনি কিছু জিনিস সরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ বিষয়টিও তদন্তের অংশ হয়েছে। ঘটনাটি ইন্দোনেশিয়ায় কারাগারে অর্থের বিনিময়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পুরোনো অভিযোগকে আবার সামনে এনেছে। ২০১৮ সালে দেশটির সুকামিসকিন কারাগারে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের অর্থের বিনিময়ে উন্নত কক্ষ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, টেলিভিশন ও ফ্রিজসহ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে বড় ধরনের কেলেঙ্কারি হয়েছিল। চিবিনং কারাগারের বর্তমান ঘটনায় এখনো কোনো নির্দিষ্ট বন্দির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে ঘুষ বা অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের বৈঠকে ১০ দেশের কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। আলোচনায় ইরান, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে আনাদোলু। তবে বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার নেতানিয়াহু আমিরাত সফর করেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াম পরদিন জানায়, প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ তাঁকে গ্রহণ করেছেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রয়টার্সও এই বৈঠকের তথ্য জানিয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি কয়েকটি আরব দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নেতানিয়াহুর আলোচনার খবর প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। ইয়েদিওত আহরোনোতের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে লরিয়ঁ টুডে জানিয়েছে, সেখানে সৌদি আরব, কাতার, মরক্কো, লিবিয়া ও জর্ডানের প্রতিনিধিরা ছিলেন বলে বৈঠক সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো দাবি করেছে। এসব দেশ নিজেদের অংশগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ওই প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় ইরান ও হুথিদের প্রসঙ্গ গুরুত্ব পায়। আঞ্চলিক দেশগুলোকে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে সহায়তা করার আগ্রহও তুলে ধরে ইসরায়েলি পক্ষ। আনাদোলুর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবকে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সহায়তা এবং নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা চুক্তি হওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইসরায়েল ও আমিরাত ২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় হামলার মুখে পড়ার পর আমিরাত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে।
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তা নাবিল আলমগীরের সহপ্রতিষ্ঠিত নিউইয়র্কভিত্তিক আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফিন দুই কোটি ডলারের প্রাথমিক বিনিয়োগ পেয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেনের অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটি ১৫ সেপ্টেম্বর বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের কার্যক্রম প্রকাশ্যে আনে। এই বিনিয়োগে নেতৃত্ব দিয়েছে এক্সপা ও উবারের সহপ্রতিষ্ঠাতা গ্যারেট ক্যাম্প। অংশ নিয়েছে কয়েনবেস ভেঞ্চারস, টেনেট ফান্ড, সেকেন্ড সাইট ভেঞ্চারসসহ আরও কয়েকটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিনিয়োগের প্রক্রিয়া আগস্টে সম্পন্ন হয়। নাবিল আলমগীর ও মুস্তফা দার মিলে ফিন প্রতিষ্ঠা করেছেন। নাবিল এর আগে রেস্তোরাঁর জন্য প্রযুক্তিসেবা প্রতিষ্ঠান লাঞ্চবক্স প্রতিষ্ঠা করেন। মুস্তফা দার বেসরকারি বিমানসেবা প্রতিষ্ঠান টোয়েন্টিফোর সেভেন জেটের প্রতিষ্ঠাতা এবং এক্সপার ভেঞ্চার পার্টনার। ফিন এমন পেমেন্ট অবকাঠামো তৈরি করছে, যা অন্য প্রতিষ্ঠান নিজেদের ব্র্যান্ডের অধীনে ব্যবহার করতে পারে। এর মাধ্যমে স্টেবলকয়েনের সঙ্গে স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল ওয়ালেটের সংযোগ তৈরি করে এক দেশ থেকে অন্য দেশে অর্থ পাঠানো সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে। কোম্পানির দাবি, তাদের সেবা ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ৮২ কোটি ৫০ লাখ ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। এই সংখ্যা ফিনের সরাসরি গ্রাহকসংখ্যা নয়, বরং তাদের ক্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত ব্যবহারকারীর হিসাব। নিউইয়র্কের পাশাপাশি লাস ভেগাস, দুবাই, ঢাকা, বেঙ্গালুরু ও লাহোরে ফিনের অফিস রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ছয়টি অফিসে দুই শতাধিক কর্মী কাজ করছেন এবং ইতোমধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ব্যবসা সম্প্রসারণে স্থানীয় লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করে সেগুলোকে এক নেটওয়ার্কে যুক্ত করছে ফিন। কোম্পানির ভাষ্য, এতে স্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক, বিদ্যমান অনুমোদন ও বাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যাচ্ছে। নতুন বিনিয়োগ আরও আন্তর্জাতিক লেনদেনের পথে সেবা সম্প্রসারণ এবং অধিগ্রহণে ব্যবহার করা হবে।
নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম নেওয়া অতি ছোট নবজাতকদের জন্য তৈরি দুই ধরনের ডায়াপারের নাম বদলেছে কিম্বার্লি-ক্লার্কের ব্র্যান্ড হাগিজ। আমেরিকায় সেপ্টেম্বরের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট বা এনআইসিইউ সচেতনতা মাস উপলক্ষে ‘লিটল স্নাগলার্স’ থেকে নাম হয়েছে ‘লিটল ফাইটার্স’। ৩ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটি এ ঘোষণা দেয়। পরিবর্তনটি শুধু ন্যানো প্রিমি ও মাইক্রো প্রিমি সাইজের জন্য। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ন্যানো প্রিমি দুই পাউন্ডের কম এবং মাইক্রো প্রিমি চার পাউন্ডের কম ওজনের শিশুদের জন্য তৈরি। হাগিজ জানিয়েছে, এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন শিশুদের প্রতিদিনের লড়াই ও দৃঢ়তা থেকেই নতুন নামের ভাবনা এসেছে। তাদের শারীরিক নাজুক অবস্থার পাশাপাশি টিকে থাকার সংগ্রামকে সামনে আনতে চায় ব্র্যান্ডটি। কোম্পানির ভাষ্য, এনআইসিইউ নার্স ও থেরাপিস্টদের সহযোগিতায় ডায়াপারগুলোর নকশা করা হয়েছে। চিকিৎসার টিউব ও লাইন ব্যবহারের জায়গা রাখা এবং শিশুকে পরিচর্যার উপযোগী অবস্থানে রাখতে সহায়তা করার বিষয়টি এতে বিবেচিত হয়েছে। হাগিজের দাবি, ২০১৩ সাল থেকে উইসকনসিনের নিনাহতে তিন কোটি ৮০ লাখের বেশি ন্যানো ও মাইক্রো প্রিমি ডায়াপার হাতে পরীক্ষা করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরজুড়ে ‘ফাইটিং ওয়ার্ডস’ ক্যাম্পেইনে এনআইসিইউতে থাকা শিশুদের পরিবার ও পরিচর্যাকারীদের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরছে প্রতিষ্ঠানটি। অনুদানের শর্ত অনুযায়ী, ৮ মে থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত সোশ্যাল মিডিয়া ট্যাগসহ প্রতিটি পোস্টের জন্য ডেরিক হল ওয়ান পারসেন্ট ফাউন্ডেশনকে এক ডলার দেবে হাগিজ। মোট অনুদান হবে সর্বনিম্ন এক লাখ এবং সর্বোচ্চ আড়াই লাখ ডলার।
একসময় আমেরিকার প্রায় প্রতিটি পকেট, কয়েনের জার কিংবা শিশুর পিগি ব্যাংকে দেখা যেত ছোট্ট এক সেন্টের মুদ্রা—পেনি। দোকানের কাউন্টারে খুচরা ফেরত, ছোটখাটো কেনাকাটা কিংবা সঞ্চয়ের প্রথম ধাপ—দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে ছিল এই ছোট্ট মুদ্রাটি। কিন্তু ২৩৪ বছরের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার সেই পরিচিত পেনি বিদায়ের পথে। মার্কিন সিনেটে পেনি তৈরির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির বিল পাস হয়েছে। ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই বিল এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য যাচ্ছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রচলনের জন্য নতুন পেনি তৈরির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে পেনির গল্প আজকের নয়। ১৭৯২ সালের ‘কয়েনেজ অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এক সেন্টের মুদ্রা তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর ১৭৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টাকশাল প্রথম পেনি তৈরি করে। সেই সময়ের পেনি ছিল বর্তমান মুদ্রার তুলনায় বড় এবং মূলত তামা দিয়ে তৈরি। এরপর আমেরিকার ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী হয়ে থেকেছে পেনি। ১৯০৯ সালে মুদ্রাটিতে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ছবি যুক্ত করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তামার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৪৩ সালে পেনির একটি সংস্করণ তামার পরিবর্তে ইস্পাত দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এর ধাতব উপাদানও পরিবর্তিত হয়েছে। দীর্ঘ এই যাত্রার পর ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর ফিলাডেলফিয়া টাকশালে প্রচলনের জন্য শেষ পেনিটি তৈরি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রচলিত পেনির নিয়মিত উৎপাদনের দীর্ঘ ইতিহাসের অবসান ঘটে। তবে মানুষের হাতে থাকা পেনিগুলো এখনো বৈধ মুদ্রা হিসেবে থাকবে এবং সেগুলো দিয়ে লেনদেন করা যাবে। পেনি তৈরির খরচই মূলত এর বিদায়ের অন্যতম বড় কারণ। মার্কিন টাকশালের হিসাবে, ২০২৪ সালে একটি পেনি তৈরি করতে প্রায় ৩ দশমিক ৬৯ সেন্ট খরচ হয়েছে। অথচ মুদ্রাটির মূল্য মাত্র ১ সেন্ট। একই বছরে প্রায় ৩২০ কোটি পেনি তৈরি করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে নগদ অর্থের ব্যবহারও কমেছে। কার্ড, মোবাইল পেমেন্ট ও অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় হওয়ায় এক সেন্টের মতো ছোট মূল্যমানের মুদ্রার ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক কমেছে। পেনি সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে গেলে নগদ লেনদেনে নতুন নিয়ম চালু হতে পারে। ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’-এ মোট বিলের অঙ্ক কাছের পাঁচ সেন্টে সমন্বয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো মোট বিলের শেষ অঙ্ক ১, ২, ৬ বা ৭ হলে তা নিচের পাঁচ সেন্টে নামিয়ে নেওয়া হবে। আর শেষ অঙ্ক ৩, ৪, ৮ বা ৯ হলে তা ওপরের পাঁচ সেন্টে নেওয়া হবে। এই নিয়ম শুধু নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে আগের মতোই নির্দিষ্ট সেন্ট পর্যন্ত সঠিক মূল্য পরিশোধ করা যাবে। অর্থাৎ, আমেরিকার পকেট থেকে পেনি হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। কিন্তু দোকানের কাউন্টারে খুচরা হিসেবে পাওয়া সেই ছোট্ট কয়েন, শিশুর পিগি ব্যাংকে জমিয়ে রাখা প্রথম সঞ্চয় কিংবা পুরোনো কয়েনের জারে পড়ে থাকা এক সেন্ট—এসব স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ২৩৪ বছরের ইতিহাস সহজে মুছে যাওয়ার নয়।
বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় যাওয়ার সময় প্রেসার, ডায়াবেটিসসহ নিয়মিত ব্যবহারের ওষুধ সঙ্গে নিলে ইংরেজিতে প্রেসক্রিপশন বা ডাক্তারের চিঠি রাখার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন, সিবিপি। ওষুধ মূল প্যাকেটে রাখা এবং প্রবেশের সময় কাস্টমস কর্মকর্তাকে জানানোও জরুরি। তবে শুধু প্রেসক্রিপশন থাকলেই সব ধরনের ওষুধ আমেরিকায় নেওয়া যায় না। নিউইয়র্কের জেএফকেসহ আমেরিকার যেকোনো প্রবেশপথে ওষুধ বহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফেডারেল নিয়ম প্রযোজ্য। সিবিপির নির্দেশনা অনুযায়ী, সঙ্গে থাকা ওষুধ নিজের চিকিৎসায় কেন প্রয়োজন, তা বোঝাতে ইংরেজিতে বৈধ প্রেসক্রিপশন বা ডাক্তারের চিঠি রাখা উচিত। ওষুধ মূল প্যাকেটে না থাকলে প্রেসক্রিপশনের কপি অথবা রোগ ও চিকিৎসার প্রয়োজন ব্যাখ্যা করা ডাক্তারের চিঠি সঙ্গে রাখতে হবে। প্রেসক্রিপশনে রোগীর নাম, ওষুধের জেনেরিক নাম, ডোজ এবং ব্যবহারের নির্দেশনা স্পষ্ট থাকলে ওষুধ শনাক্ত করা সহজ হয়। মূল কাগজের পাশাপাশি ফটোকপি রাখা এবং ফোনে ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ করা বাড়তি প্রস্তুতি হিসেবে কাজে আসতে পারে। ওষুধ মূল লেবেলযুক্ত প্যাকেট বা বোতলে রাখার পরামর্শ দিয়েছে সিবিপি। সম্ভব হলে প্যাকেটে ডাক্তারের ব্যবহারের নির্দেশনাও থাকতে হবে। এতে কাস্টমস পরীক্ষার সময় ওষুধ ও প্রেসক্রিপশনের তথ্য মিলিয়ে দেখা সহজ হয়। পরিমাণের ক্ষেত্রে সাধারণ নির্দেশনা হলো, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ নেওয়া এবং সাধারণভাবে ৯০ দিনের সরবরাহের বেশি সঙ্গে না রাখা। তবে এই নির্দেশনাকে সব যাত্রীর জন্য সব ধরনের ওষুধ নেওয়ার অনুমতি হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, এফডিএ জানিয়েছে, সাময়িকভাবে আমেরিকায় আসা বিদেশি নাগরিকেরা ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য ৯০ দিনের ওষুধ আনতে পারেন। এ নির্দেশনায় বিদেশি নাগরিক বলতে আমেরিকার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা নন, এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। ফলে আমেরিকান নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারীদের একই সুবিধা প্রযোজ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। এফডিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশে অনুমোদিত কোনো ওষুধ আমেরিকায় অনুমোদিত না হলে সেটি আমদানিতে বিধিনিষেধ থাকতে পারে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কিছু ক্ষেত্রে ছাড় বিবেচনা করা হলেও তা শর্তসাপেক্ষ। বাংলাদেশে ওষুধটি সহজে পাওয়া যায় কিংবা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন রয়েছে, এই কারণেই আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি নিশ্চিত হয় না। বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন নিয়ন্ত্রিত উপাদানযুক্ত ওষুধের ক্ষেত্রে। কিছু ঘুমের, ব্যথার বা অন্য চিকিৎসার ওষুধ এই শ্রেণিতে পড়তে পারে। এসব ওষুধের ক্ষেত্রে ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ডিইএর নিয়মও মানতে হয়। তাই ভ্রমণের আগে ওষুধের জেনেরিক নাম ও উপাদান অনুযায়ী প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন। আমেরিকায় দীর্ঘদিন থাকার পরিকল্পনা থাকলে সঙ্গে আনা ওষুধ শেষ হওয়ার আগেই স্থানীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ভালো। প্রাইমারি কেয়ার ডাক্তারের কাছে আগের প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার কাগজপত্র নিয়ে গেলে চলমান চিকিৎসা মূল্যায়নে সহায়তা হবে। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে পরবর্তী ওষুধ পাওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই চিকিৎসক ও ফার্মেসির সঙ্গে নিশ্চিত করা উচিত। ভ্রমণের প্রস্তুতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো ওষুধের পরিচয় স্পষ্ট রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নেওয়া এবং কাস্টমস কর্মকর্তাকে ওষুধের কথা জানানো। নিজের নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দার অবস্থান এবং ওষুধের ধরন অনুযায়ী এফডিএ, সিবিপি ও প্রয়োজনে ডিইএর নির্দেশনা মিলিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে।
বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ আরও বাড়ানো এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে দেশটির সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সারওয়ার আলম সাংবাদিকদের বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় জানান। সাক্ষাতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় চীনের ভূমিকার প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে চীনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি এবং তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনার পাশাপাশি চীনসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। চীন অতীতেও বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনায় মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা রাখার আগ্রহ দেখিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান অনুযায়ী, সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমঝোতা প্রয়োজন। বিভিন্ন খাতে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান। বৈঠকে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যানবাহন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর এবং সৌরশক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশের শিল্প খাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, নতুন প্রযুক্তি আনা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে এসব খাতকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীনা বিনিয়োগ বাড়লে প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্থানীয় উৎপাদন এবং আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।এর পাশাপাশি বাংলাদেশে চীনের অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। কুনমিং-চট্টগ্রাম ও অর্থনৈতিক করিডর আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগের প্রসঙ্গও উঠে আসে বৈঠকে। রাষ্ট্রপতি কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডরসহ বহুপক্ষীয় যোগাযোগ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থে বাংলাদেশ চীন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে এর আগে চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এ ধরনের যোগাযোগব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত পরিবহন ব্যয় ও সময় কমানো, শিল্পায়ন বাড়ানো এবং আঞ্চলিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি। তবে করিডরটির বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো চূড়ান্ত অবস্থান নেয়নি বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। বৈঠকে মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি এসব উদ্যোগকে বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেন। চীনা বিনিয়োগের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়। তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পেও চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধও জানান তিনি। এর আগে বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষজ্ঞদের যৌথ কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি সামনে আসে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রকল্পটি কারিগরি ও অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত প্রমাণিত হলে বাস্তবায়নে সহযোগিতার বিষয়ে চীন আগ্রহ দেখিয়েছে বলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল। বৈঠকে স্বাস্থ্য খাতে চীনের সহযোগিতার বিষয়টিও উঠে আসে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতালের নির্মাণ ও অর্থায়নে চীনের সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রপতি কৃতজ্ঞতা জানান।এ ছাড়া জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল বা সিএমএইচে ব্লাড ক্যানসারের চিকিৎসায় চীনা বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চাওয়া হলে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফরের কথা উল্লেখ করেন।এ ছাড়া ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তাঁর নিজের চীন সফর এবং সেখানে বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পর্যায়ের সফর ও বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এসব যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।রাষ্ট্রপতি চীনকে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের মেয়াদে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে তাঁর অবদানেরও প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করেন।বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেশটির উপ-রাষ্ট্রদূত ড. লিউ ইউইনও ছিলেন। সাম্প্রতিক এই বৈঠক থেকে স্পষ্ট যে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের আলোচনায় শুধু অবকাঠামো নয়, বিনিয়োগ, শিল্প ও প্রযুক্তি, আঞ্চলিক যোগাযোগ, পানি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য এবং রোহিঙ্গা সংকট—বহু ক্ষেত্র একসঙ্গে গুরুত্ব পাচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে চীনের কূটনৈতিক ভূমিকা এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চীনা বিনিয়োগ—দুই বিষয়েই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রারকে এফবিআইয়ের ‘টেন মোস্ট ওয়ান্টেড ফিউজিটিভস’ তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে মার্কিন তদন্ত সংস্থাটি। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এফবিআই লস এঞ্জেলেস থেকে এ ঘোষণা দেয়। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩২ বছর বয়সী সতিন্দরজিৎ সিং পাঞ্জাবের বাসিন্দা এবং ‘গোল্ডি ব্রার’সহ বিভিন্ন নামে পরিচিত। তাকে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নেতৃত্বাধীন কথিত সংঘবদ্ধ অ প রা ধ চক্রের উত্তর আমেরিকায় দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এফবিআই বলছে, চক্রটির কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অন্যান্য দেশে বিস্তৃত। ব্রারের বিরুদ্ধে লস এঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে সংঘবদ্ধ অ প রা ধ পরিচালনার ষড়যন্ত্র, চাঁদাবাজির মাধ্যমে ব্যবসা ও বাণিজ্যে হস্তক্ষেপের ষড়যন্ত্র এবং মাদক বিতরণ ও বিতরণের উদ্দেশ্যে মাদক রাখার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে বিচারাধীন এবং তিনি পলাতক। এফবিআইয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, বিষ্ণোই চক্রের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হ ত্যা, গু লি ব র্ষ ণ, অ প হ র ণ, চাঁদাবাজি, মাদক ও অ স্ত্র পাচারসহ বিভিন্ন গুরুতর অ প রা ধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভয় তৈরি করে চাঁদাবাজি চালানোর অভিযোগও রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই ‘অপারেশন হার্ডবল’ নামে দীর্ঘদিনের তদন্তের ফল প্রকাশ করা হয়। ওই অভিযানে ভারতভিত্তিক তিনটি আন্তর্জাতিক অ প রা ধ চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগপত্র প্রকাশ করা হয়। তাদের মধ্যে ২৪ জনকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তখন আরও ১০ জন পলাতক ছিলেন। এই তদন্তে মাদক পাচার ও চক্রটির অর্থায়নের বিষয়ও উঠে আসে। বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত বিষ্ণোই চক্রের সদস্যরা লস এঞ্জেলেস অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী মাদকচক্রের কাছ থেকে প্রায় ৫২০ কেজি কোকেন চুরি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে রেডল্যান্ডসে প্রায় ৪৯ কেজি কোকেন আটক হওয়ার ঘটনাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এফবিআই আরও জানিয়েছে, কারাগারে থাকা লরেন্স বিষ্ণোই তার চক্রের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নিষিদ্ধ মোবাইল ফোন ও অন্যান্য যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করতেন বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। ব্রার ছিলেন তার বিশ্বস্ত সহযোগীদের একজন এবং অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি উত্তর আমেরিকায় চক্রটির কর্মকাণ্ড পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। ২০২৩ সালের কানাডায় এক ভারতীয় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতার হ ত্যার ঘটনাও অভিযোগপত্রে এসেছে। এফবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিকে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারেতে একটি শিখ মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় গু লি করে হ ত্যা করা হয়। মামলায় বিষ্ণোই ও ব্রারের বিরুদ্ধে ওই হ ত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এফবিআই বলছে, ব্রার ক্যালিফোর্নিয়া ও কানাডার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেছেন বলে তাদের ধারণা। তাকে স শ স্ত্র ও অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করছে সংস্থাটি। তাই কেউ তাকে দেখতে পেলে সরাসরি যোগাযোগ বা মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা না করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানাতে বলা হয়েছে। ব্রার সম্পর্কে তথ্য থাকলে এফবিআইয়ের ১-৮০০-সিএএলএল-এফবিআই নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। স্থানীয় এফবিআই অফিস, নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটেও তথ্য দেওয়া যাবে। অনলাইনেও তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এফবিআই জানিয়েছে, পরিচয় গোপন রেখেও তথ্য দেওয়া যাবে এবং তথ্যদাতার গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫০ সালে তালিকাটি চালুর পর সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রার হলেন টেন মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় যুক্ত হওয়া ৫৪৩তম ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে চলমান মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন—এমন কোনো তথ্য এফবিআইয়ের ঘোষণায় নেই; তিনি বর্তমানে পলাতক আসামি হিসেবে খোঁজা হচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় এক ভারতীয় দোকানকর্মীকে কা ন্ডের ভু ক্ত ভো গী সাজিয়ে ইউ ভিসা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বীরেনকুমার রমেশভাই প্যাটেল। এ ঘটনায় ভি সা জা লি য়া তের ষ ড় য ন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৭ বছর বয়সী প্যাটেল দোষ স্বীকার করেছেন। ২৮ সেপ্টেম্বর সাউথ ক্যারোলাইনার ফেডারেল প্রসিকিউটররা তাঁর দোষ স্বীকারের বিষয়টি জানান। দোকানকর্মীকে ইতোমধ্যে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ মার্চ ফেয়ারফিল্ড কাউন্টির একটি কনভিনিয়েন্স স্টোরে প্যাটেল ও ওই দোকানকর্মী মিলে একটি ডাকাতির ঘটনা সাজান। প্যাটেল নিজেই ডাকাতের ভূমিকায় ছিলেন। মুখ ঢাকার পাশাপাশি তিনি লম্বা হাতার জ্যাকেট পরে নিজের পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশকে খবর দিতে ৯১১-এ ফোন করা হয়। প্রথম দিকে দোকানের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও দেখে ঘটনাটি সত্যিকারের ডাকাতি বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু তদন্তকারীরা ভিডিওটি আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার পর বুঝতে পারেন, ঘটনাটি আসলে সাজানো হয়েছিল দোকানকর্মীকে কা ন্ডের ভু ক্ত ভো গী হিসেবে দেখানোর জন্য। এরপর ৯ মার্চের ঘটনার পুলিশ প্রতিবেদন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি দোকানকর্মীকে গুরুতর হা ম লার ভু ক্ত ভো গী হিসেবে প্রত্যয়ন করানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নথি পাঠানো হয়। তদন্তকারীদের মতে, এর উদ্দেশ্য ছিল দোকানকর্মীর ইউ ভিসা আবেদনের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ তৈরি করা। ইউ ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী অভিবাসন স্ট্যাটাস, যা নির্দিষ্ট ধরনের অ প রা ধের শি কা র হয়ে শারীরিক বা মানসিক নি র্যা তনের শি কা র ব্যক্তিদের জন্য দেওয়া হয়। তবে আবেদনকারীর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, সংশ্লিষ্ট অ প রা ধের তদন্ত বা বিচারপ্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সরকারি কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করা। যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য ইউ ভিসা পরবর্তী সময়ে বৈধ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ তৈরি করতে পারে। ফেডারেল জেলা বিচারক জোসেফ এ. অ্যান্ডারসন জুনিয়র প্যাটেলের দোষ স্বীকার গ্রহণ করেছেন। তবে তাঁর সাজা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই মামলায় তাঁর সর্বোচ্চ ১০ বছর ফেডারেল কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা এবং কারাভোগের পর তিন বছর তদারকির বিধান রয়েছে। তাঁকে ক্ষতিপূরণও দিতে হতে পারে। ঘটনাটি তদন্ত করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এবং ফেয়ারফিল্ড কাউন্টি শেরিফের দপ্তর। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই প্যাটেল আদালতে দোষ স্বীকার করেন। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট ভারতীয় দোকানকর্মীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ম্যাকডোনাল্ডস রেস্টুরেন্টে খাবারের দাম নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন এই প্রযুক্তি কোনো এলাকায় গ্রাহকরা একটি খাবারের জন্য কত টাকা দিতে রাজি হতে পারেন, সেই তথ্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে প্রতিটি রেস্টুরেন্টের জন্য দামের সুপারিশ দিচ্ছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাকডোনাল্ডসের এই প্রাইসিং ইঞ্জিন প্রতিদিনের লাখ লাখ লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিটি রেস্টুরেন্ট ও মেনু আইটেমের জন্য একটি ‘সেরা’ বা উপযুক্ত দাম নির্ধারণের সুপারিশ তৈরি করে। এর মধ্যে গ্রাহকদের অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা ও আগ্রহ, স্থানীয় বাজার এবং আশপাশের প্রতিদ্বন্দ্বী রেস্টুরেন্টের দামও বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর ফলে একই খাবারের দাম কাছাকাছি দুটি রেস্টুরেন্টেও আলাদা হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনোতে রয়টার্সের যাচাইয়ে দেখা গেছে, একটি ম্যাকডোনাল্ডসের অ্যাপে বিগ ম্যাকের দাম ছিল ৫ দশমিক ৬৯ ডলার। মাত্র দুই মাইল দূরের আরেকটি রেস্টুরেন্টে একই বার্গারের দাম ছিল ৬ দশমিক ৮৯ ডলার। তবে ওই নির্দিষ্ট দামের পার্থ্যকটি এআইয়ের সুপারিশের কারণেই হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। ম্যাকডোনাল্ডস বলছে, এআই কোনো খাবারের চূড়ান্ত দাম নির্ধারণ করে না। প্রাইসিং টুল মূলত ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জন্য সুপারিশ দেয় এবং শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদেরই। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এটি কোনো বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নয়; বরং রেস্টুরেন্ট মালিকদের তথ্যভিত্তিক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার একটি প্রযুক্তি। তবে রয়টার্সকে পাঁচজন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক জানিয়েছেন, তারা এসব এআইভিত্তিক প্রাইসিং টুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোম্পানির চাপ অনুভব করেছেন। কোম্পানির নথিতে এমন ব্যবস্থার কথাও উঠে এসেছে, যেখানে সুপারিশ করা দামের সঙ্গে কোনো রেস্টুরেন্টের প্রকৃত দামের পার্থক্য পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা আইন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ম্যাকডোনাল্ডসের প্রাইসিং পোর্টালের আইনি শর্তে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে যে তারা একে অপরের প্রতিযোগী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। ফলে একই প্রযুক্তির মাধ্যমে দামের বিষয়ে সমন্বয় হলে অ্যান্টিট্রাস্ট বা প্রতিযোগিতা আইনের বিষয় সামনে আসতে পারে। এদিকে বিগ ম্যাকের দাম ১৮ ডলার পর্যন্ত ওঠার একটি ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। কানেকটিকাটের এক ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের মামলায় দাবি করা হয়, ২০২৩ সালে প্রাইসিং টুল তার রেস্টুরেন্টে বিগ ম্যাক মিলের দাম প্রায় ১৮ ডলার রাখার পরামর্শ দিয়েছিল। ম্যাকডোনাল্ডস ওই মামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ম্যাকডোনাল্ডসের দাবি, তাদের লক্ষ্য শুধু দাম বাড়ানো নয়। বরং মূল্যস্ফীতির সময়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে তুলনামূলক কম দামের খাবার ও অফার চালুর বিষয়েও প্রতিষ্ঠানটি ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নির্দেশনা দিচ্ছে। তবে বাড়তে থাকা শ্রম, ভাড়া ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের কারণে কিছু রেস্টুরেন্ট মালিক এসব দামের সুপারিশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এআইভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকদের জন্য একটি প্রশ্নও সামনে এসেছে—একই খাবারের দাম কাছাকাছি দুটি রেস্টুরেন্টে কেন এতটা আলাদা হবে? ম্যাকডোনাল্ডস বলছে, চূড়ান্ত দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত এখনো ফ্র্যাঞ্চাইজিদের হাতেই রয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে এবার দেশটির নারীদেরও সামরিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। তেহরানে ‘জানফাদা’ নামে নতুন এক গণমোবিলাইজেশন কর্মসূচির অধীনে নারীদের অস্ত্র ব্যবহার, জরুরি প্রতিক্রিয়া এবং যুদ্ধকালীন বিভিন্ন প্রস্তুতি শেখানো হচ্ছে। ২৯ সেপ্টেম্বর তেহরানে নারীদের জন্য প্রথম বিশেষায়িত ‘জানফাদা’ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে ইরানের তাসনিম নিউজ। এতে সামরিক প্রস্তুতি, জরুরি সাড়া দেওয়া, গেরিলা কৌশল, টিকে থাকার দক্ষতা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করার প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর তেহরানে আয়োজিত বিশাল ‘জানফাদায়ে ইরান’ সামরিক ধাঁচের সমাবেশেও অস্ত্র হাতে নারীদের দেখা যায়। এপি প্রকাশিত ছবিতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নারীদের রাইফেল হাতে মিছিল করতে দেখা গেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নারীদের প্রশিক্ষণের পরিধি শুধু রাইফেল ব্যবহারে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মাইক্রো-ড্রোন, নগরযুদ্ধ, জরুরি চিকিৎসা এবং কিছু ভারী অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণের কথাও এসেছে। তবে এসব প্রশিক্ষণের সব অংশ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ও বাসিজ বাহিনীর তত্ত্বাবধানে ‘জানফাদা’ কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে। তেহরানের ইমাম হোসেইন স্কয়ারে এরই মধ্যে বেসামরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্র চালু হয়েছে বলে ইরানওয়্যার জানিয়েছে। সেখানে অস্ত্র পরিচালনা, শুটিং এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর তেহরানের বিশাল সমাবেশটি ছিল এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় প্রকাশ্য প্রদর্শনগুলোর একটি। এপি জানিয়েছে, সেখানে বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক সামরিক পোশাকে অংশ নেন এবং বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়। নারীদের রাইফেল হাতে মিছিল করতেও দেখা যায়। ইরানি রাষ্ট্রীয় সূত্র দাবি করেছে, ওই কর্মসূচিতে তিন লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিল এবং ছয় লাখের বেশি স্বেচ্ছাসেবক সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য নিবন্ধন করেছেন। তবে এই সংখ্যাগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং সামরিক যান, ড্রোন ও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়। নারীদের একটি অংশকে রাইফেল হাতে সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিতে দেখা যায়। ইরানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, লক্ষ্য হলো যুদ্ধ বা জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের জনগণকে দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাসিজ বাহিনীর অধীনে সাধারণ নাগরিকদের প্রশিক্ষণ ও সংগঠিত করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ইরানওয়্যার জানিয়েছে, কর্মসূচির পরিকল্পনায় জাতীয় প্রতিরোধ ব্যাটালিয়ন ও জরুরি সাড়া দেওয়ার ইউনিট গঠনের কথাও রয়েছে। এর সঙ্গে স্থানীয় নিরাপত্তা, যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং জরুরি প্রতিক্রিয়ার মতো বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অস্ত্র হাতে প্রশিক্ষণ নেওয়া মানেই তারা ইতোমধ্যে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এটি মূলত রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত প্রশিক্ষণ ও গণমোবিলাইজেশন কর্মসূচি। তবে সামরিক প্রশিক্ষণে নারীদের প্রকাশ্য অংশগ্রহণ ইরানের বর্তমান যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির একটি উল্লেখযোগ্য দিক। ২৯ সেপ্টেম্বরের প্রশিক্ষণে নারীদের জন্য আলাদা বিশেষায়িত কার্যক্রম চালুর তথ্যও বিষয়টিকে আরও দৃশ্যমান করেছে। ইরানের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে রয়েছে এবং তেহরান জনগণকে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার বার্তা দিচ্ছে। ফলে রাইফেল হাতে ইরানি নারীদের ছবি এখন দেশটির যুদ্ধকালীন গণমোবিলাইজেশন প্রচারণার অন্যতম আলোচিত প্রতীক হয়ে উঠেছে।
পকেটে থাকা সাধারণ একটি মার্কিন ডলার নোটই হয়ে উঠতে পারে সংগ্রাহকদের কাছে বিশেষ মূল্যবান। এর কারণ হতে পারে নোটটির সিরিয়াল নম্বর। বিশেষ করে সিরিয়াল নম্বরে যদি একই সংখ্যা বারবার থাকে, তাহলে সেটিকে বলা হয় ‘সলিড’ সিরিয়াল নম্বর। যেমন ১১১১১১১১ বা ৭৭৭৭৭৭৭৭—এ ধরনের সিরিয়াল নম্বরের নোট কাগজের টাকা সংগ্রাহকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। কলোরাডোর আমেরিকান নিউমিসম্যাটিক অ্যাসোসিয়েশনের এডওয়ার্ড সি. রশেট মানি মিউজিয়ামের কিউরেটর ও পরিচালক ডগ মাডের মতে, এ ধরনের নোট সহজেই চোখে পড়ে বলেই সংগ্রাহকদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে গাণিতিক দিক থেকে ‘সলিড’ সিরিয়াল নম্বরের নোট অন্য যেকোনো নির্দিষ্ট সিরিয়াল নম্বরের নোটের তুলনায় বেশি বিরল নয়। অর্থাৎ প্রতিটি সিরিয়াল নম্বরের তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা মূলত একই। কিন্তু সংগ্রাহকদের আগ্রহের কারণে এসব নোট অনেক সময় অভিহিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়। ‘রাডার’ সিরিয়াল নম্বরের নোটের মতোই ‘সলিড’ নম্বরও সংগ্রাহকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। তবে সম্ভাব্য সংখ্যার পরিমাণ কম হওয়ায় সলিড সিরিয়াল নম্বরের নোট অনেক সময় অন্যান্য ‘ফ্যান্সি’ সিরিয়াল নম্বরের নোটের তুলনায় বেশি মূল্য পায়। পুরোনো নিলামের তথ্যেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়। হেরিটেজ অকশনস ও স্ট্যাকস বাওয়ার্সের নিলামে ভালো অবস্থায় থাকা সলিড সিরিয়াল নম্বরের নোট হাজার হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যা, যেমন ৭৭৭৭৭৭৭৭ বা ৮৮৮৮৮৮৮৮, কিছু সংস্কৃতিতে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এগুলোর জন্য অতিরিক্ত দাম দিতেও দেখা গেছে। ২০২৪ সালে ৮৮৮৮৮৮৮৮ সিরিয়াল নম্বরের একটি প্রায় নিখুঁত অবস্থার ১০০ ডলারের নোট ১৯ হাজার ডলারেরও বেশি দামে বিক্রি হয়। নোটের অবস্থা একেবারে নিখুঁত না হলেও দাম অনেক বেশি হতে পারে। সাম্প্রতিক ইবে বিক্রির তথ্য অনুযায়ী, সলিড ৩ সিরিয়াল নম্বরের একটি সাধারণভাবে মূল্যায়ন না করা ১ ডলারের নোট ১ হাজার ৬০০ ডলারে বিক্রি হয়েছে। আবার সলিড ২ সিরিয়াল নম্বরের একটি ৫ ডলারের নোট বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৬৬০ ডলারে। তবে প্রায় সলিড বা ‘নিয়ার সলিড’ সিরিয়াল নম্বরের নোট—যেমন ৪৪৪৪৪৪৪৭ বা ৯১৯৯৯৯৯৯—সাধারণত তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হয়। ডগ মাডের মতে, এ ধরনের ফ্যান্সি সিরিয়াল নম্বরের নোট ইতিহাসের দিক থেকে বিশেষ কোনো বিরল ঘটনা না হলেও বিশেষায়িত সংগ্রাহকদের কাছে এগুলোর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। তাই হাতে থাকা কোনো নোটের সিরিয়াল নম্বরে একই সংখ্যা বারবার আছে কি না, একবার দেখে নেওয়া যেতেই পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে নিখোঁজ বাংলাদেশি মোহাম্মদ আলীকে মৃ ত অবস্থায় পেয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে জানা গেছে। পরে তাঁর মৃ ত দে হ উদ্ধারের খবর জানানো হয়। এক শোকবার্তায় মোহাম্মদ আলীর মৃ ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও ঠিক কোথায় এবং কীভাবে তাঁর মৃ ত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। মোহাম্মদ আলীর মৃ ত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ডালাসের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, মোহাম্মদ আলী চারটি ছোট সন্তান রেখে গেছেন। তাঁর সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের জন্য সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। শোকবার্তায় আরও তাঁর মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই কঠিন সময় পার করার জন্য ধৈর্য, শক্তি ও সান্ত্বনা কামনা করা হয়েছে। মোহাম্মদ আলীর মৃ ত্যুর কারণ বা ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের অনুমান করা হচ্ছে না। তদন্তের অগ্রগতি বা নতুন তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে। ডালাসে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এটি একটি বেদনাদায়ক ঘটনা। চার সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাঁর জন্য দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সূত্র: ডালাস বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্র তার গ্লোবাল এন্ট্রি প্রোগ্রামের জন্য যোগ্য বিদেশি নাগরিকদের তালিকা প্রকাশ করেছে। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপির পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় আগাম যাচাই করা কম-ঝুঁকির ভ্রমণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তুলনামূলক দ্রুত কাস্টমস ও সীমান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। গ্লোবাল এন্ট্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকরাও আবেদন করতে পারেন। তবে শুধু কোনো দেশের নাগরিক হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সদস্যপদ পাওয়া যায় না। আবেদনকারীদের সিবিপির নির্ধারিত যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ২২টি দেশের তালিকায় রয়েছে—আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ক্রোয়েশিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, জার্মানি, ভারত, জাপান, জর্ডান, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, পানামা, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাজ্য। গ্লোবাল এন্ট্রি মূলত নিয়মিত আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত গ্লোবাল এন্ট্রি ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত প্রবেশ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ পান। তবে এই সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের নিরাপত্তা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়। সিবিপির নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীর পরিচয় ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয় এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, তালিকায় কোনো আফ্রিকান দেশ নেই। ফলে নাইজেরিয়া, ঘানা, কেনিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকরা এই তালিকার ভিত্তিতে গ্লোবাল এন্ট্রি সদস্যপদের জন্য যোগ্য নন। গ্লোবাল এন্ট্রি ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্ধারিত সুবিধা ব্যবহার করা যায়। লস এঞ্জেলেস, নিউইয়র্ক, মায়ামি, শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকোসহ একাধিক বিমানবন্দরে এ সুবিধা রয়েছে। তবে যোগ্য দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও সদস্যপদ নিশ্চিত নয়। আবেদনকারীকে সিবিপির যাচাই প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত হতে হবে এবং গ্লোবাল এন্ট্রির অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এ বিষয়ে নিজেকে ‘১২০ শতাংশ নিশ্চিত’ বললেও তিনি জানিয়েছেন, সফরের মাস বা তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। ত্রিবেদী জানান, সফরটি নিয়ে দুই দেশের মানুষের আগ্রহ রয়েছে। তবে তাড়াহুড়োর চেয়ে যথাযথ প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। দুই সরকারপ্রধানের আলোচনার আগে কর্মকর্তাদের পর্যায়ে প্রস্তুতি এবং বৈঠকের পর বাস্তবায়নযোগ্য ফল থাকার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে স্বীকার করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তবে তাঁর আশা, শীর্ষ পর্যায়ে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ পাওয়া যাবে। সম্ভাব্য আলোচনায় পানি ও বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসতে পারে বলেও জানান তিনি। এগুলোকে অবশ্য চূড়ান্ত আলোচ্যসূচি হিসেবে ঘোষণা করেননি। দুই দেশের সম্পর্ককে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত করে ত্রিবেদী বলেন, ভালো শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনই মানুষের চাওয়া। এসব স্বার্থকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ও ভারতের কাজ করা প্রয়োজন।বাণিজ্য, খেলাধুলা, সাহিত্য, চলচ্চিত্র ও সংগীতে দুই দেশের মানুষের যোগাযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বাড়লে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এর আগে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, নভেম্বরে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আয়োজন ঘিরে কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার জন্য মোদির আমন্ত্রণ রয়েছে। তবে নভেম্বরের সম্ভাবনার কথা সংবাদমাধ্যমে এলেও বুধবার ত্রিবেদী স্পষ্ট করেছেন, কোনো মাস বা তারিখ নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে নভেম্বরকে সফরের চূড়ান্ত সময় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে এর আগেও আশাবাদ জানিয়েছিলেন ত্রিবেদী। গত ১৮ আগস্ট ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলে তাঁকে যথাযথ সম্মানজনক অভ্যর্থনা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মোদি।