- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় নিজ বাহিনীর এক সদস্যের গুলিতে কোম্পানি কমান্ডারসহ চারজন সিআইএসএফ সদস্য নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাসোহলি এলাকার মাশকা গ্রামের সেবা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট অঙ্কিত কুমার পাণ্ডে, সাব-ইন্সপেক্টর লক্ষ্মণ সিং এবং দুই কনস্টেবল সন্দীপ কুমার ও মোহাম্মদ রফিক। আহত অবস্থায় তাদের কাছের একটি এনএইচপিসি হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনই মারা যান। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, হেড কনস্টেবল অবদেশ কুমার সিং সহকর্মীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির পর নিজের সার্ভিস রাইফেল দিয়ে গুলি চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ২০০৯ ব্যাচের সদস্য। ঘটনার পর তাকে আটক করা হয়েছে এবং তার অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার সম্ভাব্য কারণ নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পরিবর্তনের সময় একটি শিশুকে কর্মস্থলে আনা নিয়ে আগে থেকেই অসন্তোষ ও মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। ওই বিষয়কে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারও কথা-কাটাকাটি হয় এবং এরপরই গুলির ঘটনা ঘটে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে। তবে ঘটনার চূড়ান্ত কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। সিআইএসএফ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তে কোর্ট অব ইনকোয়ারি বা অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাঠুয়া পুলিশও ঘটনার তদন্ত করছে। ঘটনাস্থলটি জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলার বাসোহলি এলাকায়, হিমাচল প্রদেশের সীমান্তের কাছাকাছি। সেবা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তায় সিআইএসএফ সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন।
দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানে মাঝ আকাশে দুই পাইলটের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারিয়ে জরুরি সংকেত পাঠায়। সম্ভাব্য হা ই জ্যাকের আশঙ্কায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানও আকাশে পাঠানো হয়। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। বিমানে থাকা সব যাত্রী নিরাপদে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি বুধবার সকালে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা উড়ার পর ককপিটে পাইলটদের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি প্রথমে সাধারণ জরুরি সংকেত পাঠায়। পরে এমন একটি সংকেতও পাঠানো হয়, যা বিমানে অবৈধ হস্তক্ষেপ বা সম্ভাব্য হা ই জ্যাকের পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এরপর বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারিয়ে সৌদি আরবের দিকে ঘুরে যায়। বিমানটি প্রায় ৩৩ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে একপর্যায়ে প্রায় ১৭ হাজার ফুটে নেমে যায়। এত দ্রুত উচ্চতা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিমানটি তাবুকের দিকে যায় এবং সেখানে জরুরি অবতরণ করে। ঘটনার শুরুতে সম্ভাব্য হা ই জ্যাক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানও পাঠানো হয়। তবে পরে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, বিমানটি হা ই জ্যাক হয়েছে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং দুই পাইলটের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষের পর জরুরি সংকেত পাঠানো হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ককপিটের সংঘর্ষের সময় একজন পাইলট ছু রি কা ঘা তে আহত হন এবং যাত্রীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন। তবে এসব বিস্তারিত তথ্য এখনো বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, ফ্লাইটটিতে একটি ঘটনা ঘটার পর সেটিকে তাবুকের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে রয়েছেন। বিমান সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী আপডেট দেওয়া হবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিমানে থাকা যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঘটনার সঠিক কারণ এবং ককপিটে পাইলটদের মধ্যে কী নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে। এ মুহূর্তে নিশ্চিত তথ্য হলো, বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং যাত্রীরা নিরাপদে রয়েছেন।
কানাডায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ৩৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশটি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। একই সময়ে আরও ১ হাজার ৩৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক অপসারণ প্রক্রিয়ার আওতায় ছিলেন। কানাডার সরকারি সংস্থা কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)-এর ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। সিবিএসএর হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত কানাডা বিভিন্ন দেশের মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ জন বিদেশি নাগরিককে অপসারণ করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ৩৪০। নাগরিকত্বের হিসাবে এই সময়ে ভারতীয় ৪ হাজার ২২৭ জন, মেক্সিকোর ২ হাজার ২৮২ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৬০১ জনকে অপসারণ করা হয়েছে। তবে আলোচনার বড় বিষয় হলো, অপসারণ প্রক্রিয়ায় থাকা ১ হাজার ৩৬৮ বাংলাদেশি। এই সংখ্যা এমন নয় যে সবাইকে ইতোমধ্যে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে বা সবাইকে শিগগিরই বাংলাদেশে পাঠানো হবে। সিবিএসএর ভাষায়, ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এর মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে কাজ করা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কাছ থেকে ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহের মতো বিষয়ও থাকতে পারে। কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় কোনো বিদেশি নাগরিকের দেশে প্রবেশ বা অবস্থানের আইনগত অধিকার না থাকলে তাকে অপসারণের প্রক্রিয়ায় নেওয়া হতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপসারণ আদেশ থাকলেই তাকে সঙ্গে সঙ্গে দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায় না। সিবিএসএ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনি সুযোগ ও প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই অপসারণ কার্যকর করা হয়। আদালতের স্থগিতাদেশ, প্রি-রিমুভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট, ফৌজদারি মামলা, কারাদণ্ড কিংবা ভ্রমণ নথি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপসারণ বিলম্বিত হতে পারে। সংবাদে সাধারণভাবে ‘বহিষ্কার’ শব্দটি ব্যবহার করা হলেও কানাডার সরকারি পরিসংখ্যানে ‘removal’ বা অপসারণ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অপসারণ আদেশ রয়েছে।২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে কানাডায় কার্যকর হওয়া মোট ১৪ হাজার ৮৯৭টি অপসারণের মধ্যে ৮ হাজার ৫৭৭টি ছিল ডিপোর্টেশন অর্ডার, ৩ হাজার ১৭টি এক্সক্লুশন অর্ডার এবং ৩ হাজার ৩০৩টি ডিপার্চার অর্ডারের আওতায়। অর্থাৎ, ৩৪০ বাংলাদেশির সবাই একই ধরনের আদেশের ভিত্তিতে অপসারিত হয়েছেন—এমন তথ্য সরকারি নাগরিকত্বভিত্তিক পরিসংখ্যানে নেই। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে নাগরিকত্বের হিসাবে সবচেয়ে বেশি অপসারণ হয়েছে ভারতের নাগরিকদের। এরপর রয়েছে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, কলম্বিয়া ও হাইতির নাগরিকরা। বাংলাদেশের ৩৪০ জনের অবস্থান এই তালিকায় সপ্তম। অন্যদিকে, অপসারণ প্রক্রিয়ায় থাকা ৪৯ হাজার ৫৩৬ জনের নাগরিকত্বভিত্তিক তালিকায় ভারতীয় নাগরিক ১০ হাজার ২৯৫ জন নিয়ে সর্বোচ্চ। এরপর মেক্সিকো ৬ হাজার ১০২, নাইজেরিয়া ২ হাজার ৫৮৫, চীন ১ হাজার ৯০৫, যুক্তরাষ্ট্র ১ হাজার ৬৫৫, পাকিস্তান ১ হাজার ৫১৯, কলম্বিয়া ১ হাজার ৪২৮ এবং বাংলাদেশ ১ হাজার ৩৬৮ জন। সাম্প্রতিক বছরগুলোর পরিসংখ্যানেও কানাডায় অপসারণ কার্যক্রম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়। সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মোট ১৫ হাজার ২৩১ জন, ২০২৪ সালে ১৭ হাজার ৩৯৭ জন এবং ২০২৫ সালে ২৩ হাজার ১৬০ জনকে অপসারণ করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের মাত্র প্রথম আট মাসেই সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮৯৭ জনে। তবে বছরের বিভিন্ন সময়ে পরিসংখ্যান পরিবর্তিত হতে পারে এবং বর্তমানে ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের অবস্থাও পরবর্তীতে বদলাতে পারে। সিবিএসএ নিজেই জানিয়েছে, একজন ব্যক্তির অবস্থা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে এবং তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইনভেন্টরিতে থাকতে পারেন। ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ৩৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিক কানাডা থেকে অপসারিত হয়েছেন এবং আরও ১ হাজার ৩৬৮ জনের অপসারণ প্রক্রিয়া চলমান ছিল। তবে এই ১ হাজার ৩৬৮ জনের সবাই যে একই কারণে বা একই সময়ে কানাডা ছাড়বেন, এমন কোনো তথ্য সরকারি পরিসংখ্যানে নেই।
ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার উত্তর ইরাকের ইরবিল বিমানঘাঁটি থেকে শেষ মার্কিন সেনারা চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশটিতে আই এসবিরোধী ১২ বছরের সামরিক মিশনের সমাপ্তি হয়েছে। ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে দুই বছর আগে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতেই এই প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এর মাধ্যমে যুদ্ধকালীন জোটের একটি অধ্যায়ের ইতি ঘটেছে এবং এখন দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র শন পারনেল জানিয়েছেন, ইরবিল বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সুশৃঙ্খলভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, ১২ বছরের অভিযানে ইরাক ও পুরো অঞ্চলে আই এসকে একটি সংগঠিত সামরিক হুমকি হিসেবে পরাজিত করা হয়েছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে দেশের সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী আই এসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের বাইরে থাকা স শ স্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে থাকা অ স্ত্র নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাও অব্যাহত থাকবে। ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ইতিহাস দীর্ঘ। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সামরিক অভিযান শুরু হয়। ২০১১ সালে মার্কিন সেনারা ইরাক থেকে চলে যায়। তবে ২০১৪ সালে আই এস ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করলে ইরাকি সরকারের আমন্ত্রণে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী আবার দেশটিতে ফিরে আসে। পরবর্তী সময়ে আই এসের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ড অনেকটাই পুনরুদ্ধার করা হলেও সংগঠনটির কিছু সদস্য ও নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদ মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক মিশন ধীরে ধীরে বন্ধ করার বিষয়ে একমত হয়। গত বছর ইরাকের বেশির ভাগ এলাকা থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া হলেও উত্তরাঞ্চলের কুর্দি এলাকায় কয়েক শ মার্কিন সেনা অবস্থান করছিলেন। বুধবার তাঁদেরও প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই প্রত্যাহার নিয়ে ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন সেনাদের সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সরিয়ে নেওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। কুর্দি আঞ্চলিক সরকারের পেশমার্গা মন্ত্রণালয়ের দাবি, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সময় ওই অঞ্চলে এক হাজারের বেশি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষে প ণা স্ত্র হামলা হয়েছিল। অন্যদিকে ইরানে মিত্র হিসেবে পরিচিত ইরাকি স শ স্ত্র গোষ্ঠীগুলো মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়েছে। এসব গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে বাগদাদ সরকারের প্রচেষ্টা এখনো পুরোপুরি সফল হয়নি। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সেই সময়সীমা পরে পিছিয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ফলে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে ইরাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও দেশটির সামনে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। আই এসের অবশিষ্ট হুমকি, স শ স্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রভাব—সবকিছুই এখন বাগদাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার দুই বন্ধু লেগোর ১১ হাজার ৬৯৫টি টুকরা জুড়ে তৈরি করেছেন পুরো পৃথিবীর মানচিত্র। আর এই কাজটি তাঁরা শেষ করেছেন মাত্র ৪ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৫১ সেকেন্ডে। অসাধারণ এই কীর্তির স্বীকৃতি হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম উঠেছে তাঁদের। রেকর্ড গড়া দুই বন্ধু হলেন আথেনা লিওং ও সেভি সুইফট। গত ১২ এপ্রিল ক্যালিফোর্নিয়ার হেওয়ার্ডের ‘ব্রিক বাই ব্রিক টয়েজ’ নামের একটি দোকানে তাঁরা এই চ্যালেঞ্জে অংশ নেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের নিয়ম অনুযায়ী, পৃথিবীর মানচিত্রটি তৈরি করতে তাঁদের সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট আগেই তাঁরা কাজটি সম্পন্ন করে ফেলেন। চ্যালেঞ্জে নামার আগে প্রায় এক মাস ধরে তাঁরা লেগো দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরির অনুশীলন করেন। ছোটবেলা থেকেই লেগোর প্রতি আথেনার বিশেষ আগ্রহ ছিল। পরে সেভির সঙ্গে পরিচয়ের পর দুজনের মধ্যে লেগোর প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি আরও অনেক বিষয়ে আগ্রহের মিল খুঁজে পান তাঁরা। বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পরিকল্পনাটিও প্রথম আথেনার মাথায় আসে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে তিনি জানান, ছোটবেলায় লেগো তাঁকে নিজের কল্পনাশক্তি প্রকাশের সুযোগ করে দিত। তখন নিজের চিন্তাগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়ার মতো দক্ষতা বা প্রয়োজনীয় উপকরণ তাঁর ছিল না। সেভির সঙ্গে পরিচয়ের পর সেই আগ্রহ নতুনভাবে ফিরে আসে। তবে এই রেকর্ডের একটি আলাদা দিকও রয়েছে। এর আগে এককভাবে দ্রুততম সময়ে লেগো দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরির রেকর্ড করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ক্ল্যারি ফারকাশ। ২০২৩ সালে তিনি ৭ ঘণ্টা ৯ মিনিট ৪১ সেকেন্ডে কাজটি শেষ করেন। আথেনা ও সেভির দলীয় রেকর্ড সেই সময়ের তুলনায় অনেক দ্রুত হলেও ক্ল্যারি ফারকাশের একক রেকর্ড এখনো বহাল রয়েছে। অর্থাৎ, দলগতভাবে নতুন রেকর্ড হলেও একক বিভাগে আগের রেকর্ডটি এখনো অক্ষুণ্ন।
ফ্লোরিডার এক মা তিন দিনের বাহামাস ক্রুজে যাওয়ার সময় দুই মাস বয়সী শিশুসহ নিজের চার সন্তানকে বাসায় একা রেখে যাওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিন দিনের ভ্রমণ শেষে সোমবার ক্রুজ জাহাজ থেকে নামার পরই তাকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আদালতের নথি অনুযায়ী, নর্থ মায়ামি বিচের বাসিন্দা ২৯ বছর বয়সী নাথালি বেলিজেয়ারকে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্মকর্তারা কার্নিভাল কনকোয়েস্ট ক্রুজ জাহাজ থেকে নামার পর আটক করেন। পরে তাকে স্থানীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মঙ্গলবার সকালে আদালতে হাজির করা হলে তার বিরুদ্ধে শিশুদের অবহেলার চারটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ জানতে পারে, চার সন্তানকে বাসায় একা রেখে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে। দুই মাস বয়সী শিশুটির বাবা পুলিশকে জানান, বৃহস্পতিবার তিনি বেলিজেয়ারের একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্টোরি দেখেন, যেখানে ক্রুজের টিকিট দেখা যাচ্ছিল। ওই মা তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি শিশুদের তাদের প্রপিতামহীর কাছে রেখে যাবেন। কিন্তু দুই দিন পর ওই ব্যক্তি বেলিজেয়ারের বাসায় গিয়ে দেখতে পান, টেলিভিশন চালু রয়েছে এবং ভেতর থেকে শিশুদের শব্দ শোনা যাচ্ছে। পরে পুলিশ ও দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তখন চার শিশুকে একসঙ্গে বাথরুমে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়। আদালতের অভিযোগপত্রে চার শিশুর সবার বয়স উল্লেখ করা হয়নি। তবে এতে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজনের বয়স দুই বছর এবং আরেকজন দুই মাস বয়সী শিশু। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, শিশুদের দেখাশোনার কথা ছিল তাদের প্রপিতামহীর। তিনি পুলিশকে জানান, বেলিজেয়ার তাকে বলেছিলেন যে তিনি বাইরে যাচ্ছেন এবং শিশুদের তার কাছে দিয়ে যাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি শিশুদের নিয়ে যাননি। বেলিজেয়ারের ভাইও পুলিশকে জানান, তাকে শিশুদের খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছিল। তদন্তের সময় পুলিশ আরও জানতে পারে, বেলিজেয়ার শুক্রবার যাত্রা শুরু হওয়া তিন দিনের একটি ক্রুজের টিকিট কিনেছিলেন। জাহাজটি তিন দিন পর ফিরে আসার সময় স্থানীয় ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। গ্রেপ্তারের পর বেলিজেয়ারকে ২ হাজার ৫০০ ডলারের বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ নভেম্বর তাকে আবার আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে শুনানিতে অংশ নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ১৯১৩ সালকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর হিসেবে দেখেন অনেক ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ওই বছর সংবিধানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত হয় ফেডারেল রিজার্ভ ব্যবস্থা। এসব পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের করব্যবস্থা, সিনেট নির্বাচন এবং আর্থিক ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। মতামতধর্মী এই নিবন্ধের লেখকের মতে, ১৯১৩ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে সীমিত সরকারের ধারণা ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করে। তবে এই ব্যাখ্যাটি লেখকের নিজস্ব রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি। ১৯১৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ১৬তম সংশোধনী অনুমোদিত হয়। এর মাধ্যমে কংগ্রেস রাজ্যগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার অনুপাতে ভাগ না করেই আয় থেকে ফেডারেল কর আদায়ের সাংবিধানিক ক্ষমতা পায়। ন্যাশনাল আর্কাইভসের তথ্য অনুযায়ী, সংশোধনীটি ১৯০৯ সালে কংগ্রেসে পাস হওয়ার পর ১৯১৩ সালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রাজ্যের অনুমোদন পায়। এরপর ৮ এপ্রিল ১৯১৩ অনুমোদিত হয় ১৭তম সংশোধনী। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হতেন না; রাজ্য আইনসভাগুলো সিনেটর নির্বাচন করত। ১৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে এই ব্যবস্থা বদলে যায় এবং জনগণ সরাসরি সিনেটর নির্বাচনের অধিকার পায়। লেখকের দৃষ্টিতে, এই পরিবর্তনের ফলে ফেডারেল সরকারের ওপর রাজ্য আইনসভাগুলোর সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব কমে যায়। তবে ১৭তম সংশোধনীর পেছনে অন্য কারণও ছিল। ন্যাশনাল আর্কাইভস বলছে, বিভিন্ন রাজ্যে সিনেটর নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘ অচলাবস্থা, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির অভিযোগ সরাসরি নির্বাচনের দাবিকে জোরালো করেছিল। ১৯১৩ সালের তৃতীয় বড় পরিবর্তন আসে ২৩ ডিসেম্বর। প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ফেডারেল রিজার্ভ আইন স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা হিসেবে ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম প্রতিষ্ঠিত হয়। ফেডারেল রিজার্ভ প্রতিষ্ঠার পেছনে ১৯০৭ সালের আর্থিক সংকট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ফেডারেল রিজার্ভের নিজস্ব ইতিহাস অনুযায়ী, ওই সংকটের পর আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করার প্রয়োজনীয়তা থেকে নতুন কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার উদ্যোগ জোরালো হয়। বর্তমানে ফেডারেল রিজার্ভ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুদের হার, অর্থ ও ঋণের প্রবাহসহ অর্থনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এর সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে। নিবন্ধের লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, অর্থনীতি ও সরকারের এত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা কতটা এমন প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা উচিত, যেগুলো সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নিয়ন্ত্রণে আসে না। একই সঙ্গে তিনি আয়কর ব্যবস্থা, সরকারি ব্যয় এবং সরকারের আকার নিয়েও নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন। লেখকের মতে, ১৯১৩ সালের পরিবর্তনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং রাজ্যগুলোর ভূমিকার ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। তিনি ১৬তম ও ১৭তম সংশোধনী নিয়ে পুনর্বিবেচনার কথাও বলেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক মতামতের নয়, বরং একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বিষয়। ১৬তম ও ১৭তম সংশোধনী বর্তমানে সংবিধানের অংশ এবং এগুলো পরিবর্তন করতে আবারও সংবিধান সংশোধনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
বিয়ে ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক থেকে তরুণ প্রজন্ম ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে—এমন ধারণা অনেকদিন ধরেই প্রচলিত। তবে নতুন এক গবেষণায় সেই ধারণার সঙ্গে মিলছে না জেন জির বাস্তব ভাবনা। বরং অন্য যেকোনো প্রজন্মের তুলনায় জেন জির মধ্যেই বিয়ের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। ম্যাচ গ্রুপের ২০২৬ সালের Singles in America গবেষণায় অংশ নেওয়া জেন জির ৭২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ভবিষ্যতে বিয়ে করতে চান। গবেষণাটি ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির কিনসে ইনস্টিটিউটের গবেষকদের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। এতে মার্চ ও এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ৫ হাজার অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। গবেষণায় দেখা গেছে, সব বয়সী অংশগ্রহণকারীর ৭৬ শতাংশ বিশ্বাস করেন, রোমান্টিক ভালোবাসা আজীবন স্থায়ী হতে পারে। ৭৪ শতাংশ মনে করেন, কিছু সম্পর্ক যেন ‘হওয়ারই কথা’ এবং ৬১ শতাংশ বিশ্বাস করেন, প্রত্যেক মানুষের জন্য একজন আদর্শ সঙ্গী বা ‘সোলমেট’ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তরুণ আমেরিকানদের মধ্যে বিয়ের আগ্রহ কমে যাওয়ার পেছনে আর্থিক চাপ, বাড়ির উচ্চমূল্য এবং সম্পর্কের পরিবর্তিত ধারণাকে দায়ী করা হয়েছে। কিন্তু নতুন গবেষণার ফল বলছে, বিয়ের প্রতি আগ্রহ কমার চেয়ে বরং বিয়েতে পৌঁছানোর পথটিই জেন জির কাছে বেশি জটিল হয়ে উঠেছে। ডেটিং অ্যাপ ফ্লেজের প্রতিষ্ঠাতা ভ্যাল ক্লিমভের মতে, জেন জি আসলে গুরুতর সম্পর্ক চায়। তবে বর্তমান ডেটিং সংস্কৃতি তাদের সেই সম্পর্কে পৌঁছে দেবে কি না, তা নিয়ে তাদের আস্থা কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, জেন জি আগের প্রজন্মের তুলনায় কম ডেট করেছে। ফলে সম্পর্কের প্রতি তাদের আগ্রহ অনেক ক্ষেত্রে আরও সচেতন ও বাছাই করা। একই সঙ্গে ডেটিং অ্যাপ, ‘সোয়াইপ কালচার’ এবং অনিশ্চিত সম্পর্ক বা ‘সিচুয়েশনশিপ’-এর প্রতি একধরনের ক্লান্তিও তৈরি হয়েছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু উত্তেজনা বা আকর্ষণের চেয়ে মানসিক স্থিরতা ও সামঞ্জস্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেক অবিবাহিত মানুষ। প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ৪৯ শতাংশ জানিয়েছেন, এমন কারও প্রেমে পড়েছেন যাকে শুরুতে তারা আকর্ষণীয় মনে করেননি। ভালো কথোপকথন, অভিন্ন আগ্রহ ও একই ধরনের মূল্যবোধ পরে আকর্ষণ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘শান্তি ও মানসিক নিরাপত্তা’কে ‘আবেগ ও উত্তেজনা’র চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন অবিবাহিতরা। অর্থনৈতিক বিষয়ও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় ৭১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, অর্থ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস বাড়ায়। ৭০ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা বিয়ের আগে প্রিনাপচুয়াল এগ্রিমেন্ট বা সম্পত্তি ও আর্থিক বিষয় নিয়ে আগাম চুক্তি করতেও রাজি। কাউন্সেলর আলেক্সান্দ্রা ক্রোমারের মতে, বর্তমান উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ও জেন জির বিয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর একটি কারণ হতে পারে। বাড়ি কেনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন খরচ—সবকিছুর চাপের মধ্যে অনেকেই মনে করছেন, দুইজনের আয় থাকলে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য অর্জন তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে। তবে বিয়ের প্রতি আগ্রহ বেশি হলেও এর অর্থ এই নয় যে জেন জি দ্রুত বিয়ে করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারা হয়তো আগের প্রজন্মের তুলনায় দেরিতে বিয়ে করবে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে পারে। গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, ২৪ বছর বয়সে বিয়ে করতে চাওয়া আর ৩০ বছর বয়সের মধ্যে সত্যিই বিয়ে করা—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। তাই জেন জির বিয়ের প্রতি আগ্রহ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের হার বাড়াবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও তাদের জন্য নির্মিত আবাসনের সরবরাহ সেই হারে বাড়ছে না। বিশেষ করে ৮০ বছর ও তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন সিনিয়র আবাসন নির্মাণ না হওয়ায় আগামী বছরগুলোতে বড় ধরনের সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট সেন্টার ফর সিনিয়র হাউজিং অ্যান্ড কেয়ারের তথ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা এনআইসি ম্যাপের ২০২৬ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান নির্মাণের গতি অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ৫ লাখ ৭৬ হাজার সিনিয়র আবাসন ইউনিটের প্রয়োজন হবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই প্রয়োজন ১০ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই ঘাটতি সাধারণ আবাসিক বাড়ির হিসাব নয়। এখানে মূলত বয়স্ক মানুষের জন্য তৈরি সিনিয়র আবাসনের অতিরিক্ত প্রয়োজনের কথা বলা হচ্ছে। এনআইসি ম্যাপের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান সরবরাহের প্রাপ্যতা প্রায় ৯০ শতাংশ দখলদারির হার ধরে রাখতে হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৭৬ হাজার এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০ লাখের বেশি অতিরিক্ত ইউনিট প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ বয়স্ক মানুষের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন আবাসন না বাড়লে বিদ্যমান সরবরাহের ওপর চাপ আরও বাড়বে। এর পেছনে বড় কারণ যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার বয়স কাঠামোয় দ্রুত পরিবর্তন। প্রথম দিকের বেবি বুমার প্রজন্ম ২০২৬ সালে ৮০ বছরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এনআইসি ম্যাপের পূর্বাভাস বলছে, দেশটির ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাড়তে পারে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। এই সময়ে ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৫০ লাখ এবং আগামী ১৫ বছরে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ বাড়তে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। চাহিদা বাড়ার বিপরীতে নতুন সিনিয়র আবাসন নির্মাণের গতি কমেছে। এনআইসি ম্যাপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর থেকে সিনিয়র আবাসনের নির্মাণ শুরুর পরিমাণ প্রায় ৬৭ শতাংশ কমেছে। ২০২১ সালে যেখানে ৩০ হাজারের বেশি ইউনিট নির্মাণাধীন ছিল, ২০২৫ সালে তা কমে প্রায় ১০ হাজার ইউনিটে দাঁড়ায়। নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়া এই পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উচ্চ সুদের হার, নির্মাণ ব্যয় এবং শ্রমিকসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতাও নতুন প্রকল্পের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। এদিকে বিদ্যমান সিনিয়র আবাসনগুলোতে চাহিদার চাপ ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র আবাসনের গড় দখলদারির হার ৮৯ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। আগের প্রান্তিকে এই হার ছিল ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ। এনআইসি জানিয়েছে, এটি টানা ২০তম প্রান্তিক, যখন সিনিয়র আবাসনের দখলদারির হার বেড়েছে। ৩১টি প্রধান বাজারের মধ্যে ১৫টিতে দখলদারির হার ৯০ শতাংশ বা তার বেশি ছিল। একই সময়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে নির্মাণাধীন মোট সিনিয়র আবাসন ইউনিটের সংখ্যা ১৬ হাজারের নিচে ছিল। ওই প্রান্তিকে দখলকৃত ইউনিটের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৭০০ বেড়ে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫০টিতে পৌঁছায়। এক বছরে মোট সরবরাহ বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ বিদ্যমান আবাসনগুলোতে মানুষের বসবাস বাড়লেও নতুন ইউনিট যোগ হওয়ার গতি তুলনামূলকভাবে ধীর রয়েছে। এনআইসি ম্যাপের হিসাবে, আগামী কয়েক বছরে প্রয়োজনীয় নতুন ইউনিটের সংখ্যা বর্তমান নির্মাণের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। ২০২৭ সালে বছরে প্রয়োজন ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি নতুন ইউনিটে পৌঁছাতে পারে। এরপরও পরবর্তী এক দশকের বড় একটি সময়ে বছরে প্রায় ১ লাখ ইউনিটের প্রয়োজন থাকবে। এর বিপরীতে বর্তমান নির্মাণের গতি প্রায় ১০ হাজার ইউনিটের কাছাকাছি। ফলে প্রতি বছর চাহিদা ও নতুন সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান জমতে থাকবে। শুধু নতুন ভবন নির্মাণ করলেই এই ঘাটতি পূরণ হবে না বলেও গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান সিনিয়র আবাসনের ৪০ শতাংশের বেশি ইউনিটের বয়স ২৫ বছরের বেশি। তাই নতুন নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো ভবন সংস্কার, পুনর্বিন্যাস, সম্প্রসারণ এবং অন্য ধরনের পুনঃবিনিয়োগও প্রয়োজন হবে। এই পুরো চাহিদা পূরণ করতে বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। এনআইসি ম্যাপের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান মাত্রার সিনিয়র আবাসন সরবরাহ বজায় রাখতে ২০৫০ সাল পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের প্রয়োজন ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। এই অর্থ শুধু নতুন ভবন তৈরিতে নয়, বিদ্যমান আবাসন আধুনিকীকরণ ও সক্ষমতা বাড়াতেও প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সময়েই সিনিয়র আবাসন নির্মাণের গতি কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে সরবরাহের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এনআইসি ম্যাপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান নির্মাণের ধারা বদলানো না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ৫ লাখ ৭৬ হাজার ইউনিট এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০ লাখের বেশি ইউনিটের প্রয়োজন তৈরি হতে পারে। এখানে ১০ লাখ ইউনিটের বিষয়টি নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ঘাটতি নয়, বরং বর্তমান উন্নয়নগতির ভিত্তিতে করা একটি পূর্বাভাস।
ইরাকে অবশিষ্ট মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর পেন্টাগন জানিয়েছে, উত্তর ইরাকের শেষ বিমানঘাঁটি থেকেও সেনারা সরে গেছেন। এর মধ্য দিয়ে আইএসের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক মিশন শেষ হলো। তবে ইরান যুদ্ধের মধ্যে এই প্রস্থান ইরাকের নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেলের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনা ও সরঞ্জাম পরিকল্পিতভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন ইরাকের নিরাপত্তায় দেশটির নিজস্ব বাহিনী নেতৃত্ব দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা চলবে দুই দেশের নিরাপত্তা সম্পর্কের ভিত্তিতে। প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে হঠাৎ নেওয়া হয়নি। ওয়াশিংটন ও বাগদাদ ২০২৪ সালেই সামরিক মিশন গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছিল। জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ে হওয়া সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরাকে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১১ সালে মার্কিন সেনারা দেশটি ছেড়ে যায়। কিন্তু আইএস ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করার পর ২০১৪ সালে ইরাকি সরকারের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী আবার সেখানে যায়। এবার সেই দ্বিতীয় মিশনও শেষ হলো। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ইরানঘনিষ্ঠ ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে দেশটির কুর্দি অঞ্চলের কর্মকর্তারা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরে যাওয়ার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইরাকে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার কাজও শেষ হয়নি; এ জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত পিছিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। আইএস নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সংগঠনটি আগের মতো এলাকা নিয়ন্ত্রণ না করলেও তাদের গোপন সক্রিয় সদস্য রয়ে গেছে। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা ইরাকি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মার্কিন বাহিনীর দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারির সহায়তা বন্ধ হলে নিরাপত্তার ফাঁক তৈরির সুযোগ নিতে পারে আইএস। এটি সম্ভাব্য ঝুঁকি, আইএস আবার বড় এলাকা দখল করেছে বলে কোনো তথ্য নয়। এই প্রেক্ষাপটে নিউজউইকের বিশ্লেষণে ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের ভবিষ্যৎ ভাবার কথা বলা হয়েছে। লেখাটির সতর্কবার্তা ইরানকে দেওয়া মার্কিন সরকারের কোনো নতুন হুমকি নয়। এর মূল প্রশ্ন হলো, সামরিক শক্তি দিয়ে লক্ষ্য অর্জনের দাবি করার পর দীর্ঘ সংঘাত থেকে বের হওয়ার রাজনৈতিক পথ কী হবে। ইরাকে মার্কিন সামরিক মিশন শেষ হলেও ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চলছে। ফলে সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাক কতটা স্থিতিশীল থাকবে এবং ইরান যুদ্ধের জন্য ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কী, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে এক দম্পতির বিরুদ্ধে দুই মাস বয়সী ছেলেশিশুকে ১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ বলছে, শিশুটিকে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে তেলেঙ্গানায় নেওয়া হয় এবং মোট চার দফা হাতবদল হয়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে শিশু কল্যাণ কমিটির নির্দেশে একটি অনুমোদিত শিশু পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুটির বাবা-মা ভান্দনা কাম্বলে ও যোগেশ কাম্বলে প্রায় এক মাস বয়সে তাকে সীমা রেশওয়ালের কাছে ১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে দেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। সীমা পরে শিশুটিকে তাঁর আত্মীয় সঙ্গীতা আওহাদের কাছে ২ লাখ ৭০ হাজার রুপিতে বিক্রি করেন। সঙ্গীতা নানদেড়ে নিয়ে গিয়ে সুরেশ গুন্টুকার কাছে ৩ লাখ ৫০ হাজার রুপিতে শিশুটিকে দেন। পুলিশ জানায়, নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া সুরেশ পরে শিশুটিকে তাঁর আত্মীয় উমা খটকমের কাছে একই দামে হায়দরাবাদে পৌঁছে দেন। পুলিশের ভাষ্য, শিশুটির বাবা-মা বিক্রির টাকার একটি অংশ দিয়ে একটি স্মার্টফোন ও স্বর্ণালংকার কিনেছিলেন। তদন্তের অংশ হিসেবে সেগুলো জব্দ করা হয়েছে। শিশুটির খোঁজে তদন্ত চলার সময় মা ভান্দনা ২০ সেপ্টেম্বর অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন বলে পুলিশ জানায়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর সুরেশ ও উমা শিশুটিকে মুকুন্দওয়াড়ি থানায় নিয়ে গেলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। পরে শিশু কল্যাণ কমিটির নির্দেশে তার সুরক্ষা ও দেখভালের জন্য তাকে একটি অনুমোদিত শিশু পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা-মাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, অন্য রাজ্যগুলোতে বিস্তৃত কোনো শিশু পাচারচক্রের সঙ্গে ঘটনাটির যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে ইব্রাহিমি মসজিদ সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত মুসলিম মুসল্লিদের জন্য বন্ধ রাখার মধ্যে সেখানে প্রবেশ করে ধর্মীয় আচার পালন করেছেন শত শত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী। ইহুদি ধর্মীয় উৎসব সুক্কোত উপলক্ষে নিরাপত্তার কথা জানিয়ে মসজিদ ও পুরোনো শহরের প্রবেশপথগুলো বন্ধ রাখা হয়। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা WAFA-র প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদে প্রবেশ করেন। এ সময় হেবরনের পুরোনো শহরের কয়েকটি সড়ক ও পাড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। মসজিদের পরিচালক মু’তাজ আবু সুনেইনা জানান, ওই দিন ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক ও প্রশাসনিক কর্মীদেরও ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রচারিত ভিডিওতে বসতি স্থাপনকারীদের মসজিদ প্রাঙ্গণে তালমুদিক ধর্মীয় আচার ও প্রার্থনা করতে দেখা যায়। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও তাঁদের সঙ্গে সেখানে যান। মসজিদ বন্ধের কথা জানিয়ে WAFA বলেছে, কর্তৃপক্ষ সুক্কোত উৎসবের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করেছে। এ সময় মসজিদে যাওয়ার পথের সামরিক চেকপয়েন্ট ও ইলেকট্রনিক গেটগুলোও বন্ধ করা হয়। পুরোনো শহরের কয়েকটি বাজার বন্ধ রাখার পাশাপাশি আশপাশের পাড়ায় চলাচলেও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। ইব্রাহিমি মসজিদ হেবরনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা। উৎসব ও বিশেষ সময়ে মুসলিমদের প্রবেশ বন্ধ রেখে বসতি স্থাপনকারীদের সেখানে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া নিয়ে এর আগেও বিতর্ক ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরবে শিক্ষকতার কাজে গিয়ে মুসলিমদের সঙ্গে কথোপকথন এবং কোরআনে ঈসা (আ.)-এর বর্ণনা জানার পর ইসলাম গ্রহণ করেন বলে জানিয়েছেন ‘সিস্টার ডেইজি’। তাঁর ব্যক্তিগত ধর্মীয় যাত্রার কথা ২০২৬ সালের ৭ মে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তুলে ধরা হয়। ডেইজির বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি ধর্মপ্রাণ আইরিশ ক্যাথলিক পরিবারে বড় হয়েছেন। পরে সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রি-স্কুল পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে সেখানে যান। তাঁর কাছে ওই চাকরি ছিল শিশুদের খ্রিষ্টধর্ম সম্পর্কে শেখানোরও একটি সুযোগ। তিনি বলেন, বাইবেল ও জপমালা নিয়ে একটি স্যুটকেস সঙ্গে করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সেখানে স্থানীয় মুসলিমদের সঙ্গে যিশু ও তাঁর অলৌকিক ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডেইজি কোরআনে ঈসা (আ.)-এর উল্লেখ সম্পর্কে জানতে পারেন। বিশেষ করে, শিশুকালে তাঁর কথা বলার বর্ণনা ডেইজিকে বিস্মিত করেছিল বলে তিনি সাক্ষাৎকারে জানান। তাঁর দাবি, এই বিষয়টি তিনি গির্জায় শেখেননি। এরপর খ্রিষ্টধর্ম ও ইসলাম সম্পর্কে আরও জানতে শুরু করেন ডেইজি। ঈশ্বরের ধারণা এবং যিশুর ভূমিকা নিয়ে দুই ধর্মের ব্যাখ্যা বোঝার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি ইসলামের তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদের ধারণায় স্পষ্টতা খুঁজে পান বলে জানান। ইসলামে ঈসা (আ.)-কে সম্মানিত নবী হিসেবে মানা হয়। ডেইজির ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে ঈশ্বরের পুত্র হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর প্রেরিত নবী হিসেবে বোঝার পর তিনি ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। খ্রিষ্টধর্ম শেখানোর উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়া থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত নিজের বিশ্বাস নিয়ে অনুসন্ধান ও আত্মবিশ্লেষণের যাত্রায় রূপ নেয়। তাঁর ধর্মান্তরের বিবরণটি ব্যক্তিগত সাক্ষ্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের স্নাতক ফারিহা ইকবাল যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডে মাস্টার্সে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ‘ডব্লিউসিএন রাইজিং ওয়াইল্ডলাইফ লিডার্স’ স্কলারশিপে তাঁর এই সুযোগের কথা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ‘আরইউ ইনসাইডার্স’-এর এক পোস্টে জানানো হয়েছে। পোস্ট অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ শুরু হতে যাওয়া শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হতে মঙ্গলবার রাতে অক্সফোর্ডের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। তাঁর আইইএলটিএস স্কোর ৮.০। ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, তাদের এই স্কলারশিপে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়, যা টিউশন ফি, আবাসন, জীবনযাত্রার খরচসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহার করা যায়। ফারিহা যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনে পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে মাস্টার্সের সুযোগ এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নে ইকোসিস্টেম ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিষয়ে পড়ার সুযোগও পেয়েছিলেন। তবে তিনি অক্সফোর্ডকে বেছে নেন। টাইমস হায়ার এডুকেশনের ২০২৬ সালের বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে অক্সফোর্ড প্রথম, উইসকনসিন-ম্যাডিসন যৌথভাবে ৫৩তম এবং মেলবোর্ন ৩৭তম স্থানে ছিল। কিউএসের ২০২৬ সালের বিষয়ভিত্তিক র্যাঙ্কিংয়ে অক্সফোর্ডের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা স্কুল ভূগোল বিষয়ে টানা ১৬তম বছরের মতো বিশ্বে প্রথম স্থান পায়। সূত্র : Ru insiders
শরণার্থীদের জন্য স্থগিত থাকা ‘ইউকে রিসেটেলমেন্ট স্কিমে’ নতুন সুপারিশ গ্রহণ আবার শুরু করেছে যুক্তরাজ্য। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে সুপারিশ পাওয়া ব্যক্তিদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হবেন আফগান নারী ও বালিকা এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থী। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও ইন্টারন্যাশনাল রিফিউজি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের সঙ্গে অংশীদারত্বে তাঁদের শনাক্ত ও সুপারিশ করা হবে। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এ ঘোষণা দেন। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, নতুন সুপারিশ গ্রহণ শুরু হয়েছে এবং এ পথে প্রথম শরণার্থীদের চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর কথা। ‘এক-চতুর্থাংশ’ হলো সুপারিশের প্রত্যাশিত অনুপাত; ইতিমধ্যে পৌঁছানো শরণার্থীদের হিসাব নয়। এই পুনর্বাসন কর্মসূচির পাশাপাশি তিনটি নতুন স্পন্সরশিপ পথ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। অক্টোবর থেকে দাতব্য ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো কমিউনিটি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক স্পন্সরশিপের জন্য আবেদন করতে পারবে। এসব পথে শরণার্থীদের প্রথম আগমন প্রত্যাশিত ২০২৭ সালের শরতে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানভিত্তিক স্পন্সরশিপের আবেদন শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের বসন্তে; এর প্রথম আগমনও ওই বছরের পরের দিকে হতে পারে। স্পন্সরদের আবাসন ও নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সহায়তা দিতে হবে। সরকার বলছে, পুনর্বাসন ও নতুন তিনটি স্পন্সরশিপ পথ মিলিয়ে শুরুতে কয়েক শ শরণার্থী আসতে পারেন। পরে অনিয়মিত অভিবাসন কমার সঙ্গে সংখ্যা কয়েক হাজারে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবছর একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হবে, তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এসব পথে আসা শরণার্থীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির জন্য পাঁচ বছরের পথ দেওয়া হবে। শাবানা মাহমুদের বক্তব্য, যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালানো মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পারাপার কমাতে সরকার নিয়ন্ত্রিত আইনি পথ রাখতে চায়। তবে নতুন কর্মসূচির আকার এত ছোট হলে তা নৌকায় আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিবাসন গবেষকেরা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির পরিচালক ম্যাডেলিন সাম্পশন বলেছেন, এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত কতজনকে নেওয়া হয়, তার ওপর নির্ভর করবে। রিফিউজি কাউন্সিল নতুন নিরাপদ পথ তৈরির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সংস্থাটির প্রধান নীতিবিশ্লেষক জন ফিটনবির মতে, মানবপাচারকারীদের ওপর প্রভাব ফেলতে হলে কয়েক শ নয়, হাজার হাজার মানুষের জন্য এসব পথ চালু করতে হবে। অন্যদিকে কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকে নতুন পথ চালুর সমালোচনা করেছে। ব্রিটিশ রেড ক্রস পৃথকভাবে শরণার্থীদের পারিবারিক পুনর্মিলনের পথ কবে আবার চালু হবে, তা জানাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পুনর্বাসনের এই ঘোষণা যুক্তরাজ্যে যেতে ইচ্ছুক সবার জন্য সরাসরি আবেদনের সুযোগ নয়। ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ব্যক্তির নিজের আবেদন করার ব্যবস্থা নেই; সুরক্ষার প্রয়োজন বিচার করে সংস্থাটি শরণার্থী শনাক্ত ও সুপারিশ করে, আর গ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট দেশ। পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ অর্থ চাইলে তা-ও সতর্কতার বিষয়, কারণ এই প্রক্রিয়া শরণার্থীর জন্য বিনামূল্যে।
বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক এলাকায় নিখোঁজ এক শিশুর মরদেহ সোমবার ফুফুর কক্ষের একটি বাক্স থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যার অভিযোগে শিশুটির ফুফু নারগিস সুলতানাকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকে শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করতে যান। পরে বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ফুফুর কক্ষে তল্লাশি চালায় পুলিশ। একটি বাক্সের ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে নারগিস হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহত শিশুর এক আত্মীয়ের দাবি, তার বাবা টিপু খান বিদেশে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ভাই-বোনদের নামে যৌথভাবে জমি কিনে দিয়েছিলেন। দেশে ফেরার পর ওই জমি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। তবে জমি নিয়ে বিরোধের সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর কোনো যোগ আছে কি না, তা পুলিশ নিশ্চিত করেনি। সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বছরে ১ লাখ পাউন্ড আয় করেও দুই সন্তানকে নিয়ে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ৪০ বছর বয়সী একক মা ইয়াসমিন ক্যামিলা। প্রকল্প ব্যবস্থাপনার চাকরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাজ থেকে এই আয় করলেও বাড়তি জীবনযাত্রার খরচের কারণে নিজের জামাকাপড়, মেকআপ ও দামি ত্বকের প্রসাধনী কেনা বন্ধ করেছেন তিনি। এমনকি দৃষ্টিশক্তির অবনতি হলেও নতুন চশমা কেনার সামর্থ্য হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ইয়াসমিন। ১৩ ও ১১ বছর বয়সী দুই সন্তানকে নিয়ে লন্ডনের দুই শয়নকক্ষের একটি পুরোনো বাড়িতে থাকেন ইয়াসমিন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংসারের মৌলিক খরচই মাসে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ পাউন্ড। এর মধ্যে বাড়ির বন্ধকী ঋণের কিস্তি বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ পাউন্ড। তাঁর ঋণের সুদের হার এখন ১ শতাংশ, যা আগামী ফেব্রুয়ারিতে পরিবর্তিত হওয়ার কথা। এতে মাসিক কিস্তি প্রায় ৬০০ পাউন্ড বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। প্রায় ১৩ বছর ধরে ওই বাড়িতে বসবাস করছেন ইয়াসমিন। বাড়ির চিলেকোঠা সংস্কার করে থাকার জায়গা বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তা আর করতে পারেননি। পরিবারের জায়গার সংকট মেটাতে খাবার ঘরটিকেই একটি শয়নকক্ষে পরিণত করেছেন তিনি। খাবারের জন্য ইয়াসমিনের মাসিক বাজেট প্রায় ৪০০ পাউন্ড। তবে ব্যস্ততার কারণে খাবারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাজার ও রান্না করতে না পারলে বাড়তি খাবার কিনতে হয়। এতে মাসিক খাবারের খরচ আরও প্রায় ২০০ পাউন্ড বেড়ে যেতে পারে। সাধারণত স্যান্সবারিজ থেকে অনলাইনে বাজার করলেও বিভিন্ন দোকানের ছাড় ও অফার দেখে কেনাকাটা করেন তিনি। দুই সন্তানের স্কুলের খাবারের পেছনে প্রতি সপ্তাহে জনপ্রতি ২০ পাউন্ড খরচ হয়। রাতের খাবারে তিনি এমন পদ বেছে নেন, যেগুলো পরদিনও খাওয়া যায়। মরিচ-মাংসের রান্না, ম্যাকারনি ও চিজ, সসেজ পাস্তা এবং এয়ার ফ্রায়ারে তৈরি মুরগির খাবার তাঁদের নিয়মিত খাবারের মধ্যে রয়েছে। আগের দিনের খাবার পরদিন দুপুরের খাবার হিসেবেও ব্যবহার করেন তিনি। খরচ কমাতে বাজারে দোকানের নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্যকে অগ্রাধিকার দেন ইয়াসমিন। ধোয়ার তরল, কাপড়ের সফটেনার, টয়লেট পেপার ও কফির পডের মতো কিছু পণ্য একসঙ্গে বেশি পরিমাণে কেনেন। মাংসের দাম বেশি হওয়ায় নিরামিষ খাবারও বাড়িয়েছেন। চালের নুডলস দিয়ে ভাজি, ফেটা চিজের সঙ্গে ভূমধ্যসাগরীয় সবজি এবং আলু দিয়ে তৈরি খাবার তাঁর খরচ কমানোর কৌশলের অংশ। ইয়াসমিনের দাবি, পাঁচ বছর আগের তুলনায় তাঁর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বিল প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের খরচ কমাতে প্রয়োজন ছাড়া বিভিন্ন যন্ত্র ব্যবহার না করার জন্য সন্তানদেরও উৎসাহিত করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, আয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে, কিন্তু বাড়তি অর্থ হাতে থাকার অনুভূতি হচ্ছে না। সন্তানদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালু রাখতে নিজের অনেক খরচ বাদ দিয়েছেন ইয়াসমিন। তাঁর মেয়ে ব্যালে শেখে এবং ছেলে বিভিন্ন ক্লাবে যায়। এসব খরচকে তিনি সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন। ছেলের বয়স ১৩ বছর এবং জুতার মাপ ১১ হওয়ায় স্কুলে পরার জুতার দাম প্রায় ১০০ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। সন্তানের আত্মবিশ্বাসের বিষয়টি বিবেচনা করে এসব প্রয়োজনীয়তায় সবসময় না বলতে চান না তিনি। নিজের পোশাকের খরচ কমাতে ইয়াসমিন ব্যবহৃত পোশাকের অনলাইন বাজার ভিন্টেড ব্যবহার করেন। নিজের জন্য নতুন জামাকাপড়, মেকআপ ও দামি ত্বকের প্রসাধনী কেনা বন্ধ করেছেন। নখের সাজও আর করান না। চুলও তিন মাসে একবার করান। সন্তানদের পোশাকের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত পোশাক কেনার দিকে ঝুঁকেছেন। জন্মদিন ও বড়দিনের খরচের জন্যও নির্দিষ্ট সীমা রেখেছেন ইয়াসমিন। সন্তানপ্রতি জন্মদিনে ৩০০ পাউন্ড এবং বড়দিনে ২০০ পাউন্ড ব্যয়ের বাজেট করেছেন। প্রতি মাসে ১০ বা ২০ পাউন্ড করেও একটি সঞ্চয় প্রকল্পে টাকা রাখেন, যাতে উৎসব বা বিশেষ দিনের খরচ একসঙ্গে বড় চাপ তৈরি না করে। সন্তানদের নিয়ে বাইরে ঘোরার ক্ষেত্রেও খরচ কমানোর চেষ্টা করেন তিনি। বিনামূল্যের জাদুঘরে যান এবং সঙ্গে বাড়ির খাবার নিয়ে বের হন। রেস্তোরাঁয় খরচ কমাতে বিভিন্ন ছাড়ের কুপন সংগ্রহ করেন। সন্তানদের হাতখরচও সম্প্রতি সপ্তাহে ৫ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ২০ পাউন্ড করেছেন। তাঁর মেয়ে নিজে পোশাক কিনতে চাইতে শুরু করায় ইয়াসমিন তাঁকে বুঝিয়েছেন, ব্যক্তিগত চাহিদাগুলো ওই নির্দিষ্ট হাতখরচের মধ্য থেকেই মেটাতে হবে। ইয়াসমিন জানিয়েছেন, ছোটবেলায় তাঁর নিজের পরিবারে অর্থের সংকট ছিল। তাই সন্তানদের ভালো জীবন দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে হয়তো কিছু ক্ষেত্রে বেশি খরচ করেছেন। এখন তিনি সন্তানদের প্রয়োজনীয় সুযোগ দিতে চান, পাশাপাশি অর্থের মূল্যও শেখাতে চান। তবে ইয়াসমিনের অভিজ্ঞতা তাঁর ব্যক্তিগত আয় ও পারিবারিক বাজেটের হিসাব। এটি লন্ডনের সব পরিবার বা উচ্চ আয়ের মানুষের আর্থিক অবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাড়ির ঋণ, খাবার, জ্বালানি, পানি, শিশুদের কার্যক্রম ও অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে গিয়ে নিজের বিলাসী খরচ কমাতে হচ্ছে তাঁকে। সূত্র: আই নিউজ
ক্যালিফোর্নিয়ায় গুলিতে নিহত নিউইয়র্ক টাইমসের গেমস বিভাগের প্রকৌশল পরিচালক জোনাথন ম্যাককিনসি মৃত্যুর আগের বছর স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন। আদালতের নথিতে পারিবারিক সহিংসতা ও সন্তানদের হেফাজত নিয়ে তাঁর ও স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাংয়ের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে। ৪০ বছর বয়সী ম্যাককিনসিকে গত শনিবার ক্যালিফোর্নিয়ার ডাবলিন শহরের একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের পার্কিং এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁর শ্বশুর শোইয়ং ঝাং ও শাশুড়ি শিলি চেনকে গ্রেপ্তার করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে করা আবেদনে ম্যাককিনসি অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন এবং তাঁদের তিন সন্তানকেও নির্যাতন করেছেন। তাঁর দাবি, শ্বশুর-শাশুড়িও এ ধরনের আচরণে যুক্ত ছিলেন। ম্যাককিনসি আরও অভিযোগ করেন, তিনি ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের কারণে শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকে অপমান ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসবই আদালতে তোলা অভিযোগ; এগুলো প্রমাণিত তথ্য নয়। অন্যদিকে, জ্যাংও ম্যাককিনসির বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা ও সন্তানদের প্রতি নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন। ২০২৫ সালে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে ম্যাককিনসির বিরুদ্ধে মামলাও হয়; তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে দুজনই একে অপরের বিরুদ্ধে সুরক্ষা আদেশ চেয়ে আবেদন করেন। ম্যাককিনসি ও জ্যাংয়ের বিবাহবিচ্ছেদ এবং সন্তানদের হেফাজত নিয়ে আইনি বিরোধ চলছিল। তবে হত্যার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তা পুলিশ প্রকাশ করেনি। তাঁদের দুই মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে আদালত।
শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণ, তাঁর মা-বাবার থাকার ব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে প্রাথমিকভাবে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। মঙ্গলবার সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের বাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এই অর্থ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। উন্নয়নকাজ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য রংপুরের জেলা প্রশাসককে নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণের কথা উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, গণঅভ্যুত্থানে তাঁর ভূমিকা ও স্মৃতি আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে সরকার কাজ করতে চায়। এ সময় রংপুর স্টেডিয়াম আবু সাঈদের নামে করার আগ্রহের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্তে রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের নাম ইতোমধ্যে ‘শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম’ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির ইন্স্যুরেন্সের বার্ষিক গড় খরচ ৫ হাজার ডলারের বেশি। এর মধ্যে ফ্লোরিডায় খরচ সবচেয়ে বেশি - ৮ হাজার ৪৭১ ডলার। দেশটির গড় ২ হাজার ৮৭২ ডলারের তুলনায় যা প্রায় তিন গুণ। ইন্স্যুরেন্স ডটকমের জন্য সংগ্রহ করা ২০২৬ সালের মূল্যতথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। ফ্লোরিডার পর সবচেয়ে বেশি খরচ নেব্রাস্কায়, বছরে গড়ে ৫ হাজার ৫১৩ ডলার। কলোরাডোয় ৫ হাজার ৫১১, ওকলাহোমায় ৫ হাজার ৩৭৮, কানসাসে ৫ হাজার ২৮৯ এবং লুইজিয়ানায় ৫ হাজার ১৮৫ ডলার। এই ছয় অঙ্গরাজ্যের বাইরে টেক্সাসেও খরচ জাতীয় গড়ের অনেক ওপরে - বছরে ৪ হাজার ৫৮২ ডলার। ফ্লোরিডায় গত বছরের তুলনায় গড় প্রিমিয়াম ৫৪৩ ডলার বেড়েছে। আর নেব্রাস্কায় বেড়েছে ৯৬০ ডলার, যা এই হিসাব অনুযায়ী অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ডলার বৃদ্ধি। ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও হারিকেনের মতো দুর্যোগের ঝুঁকির পাশাপাশি বাড়ি মেরামত বা পুনর্নির্মাণের ব্যয় ইন্স্যুরেন্সের দাম বাড়াতে পারে। তবে কোনো একটি কারণ দিয়ে সব অঙ্গরাজ্যের মূল্যবৃদ্ধি ব্যাখ্যা করা যায় না। নিউইয়র্কে একই ধরনের পলিসির বার্ষিক গড় খরচ ১ হাজার ৮৪৪ ডলার। গত বছরের চেয়ে তা ১৩৯ ডলার বেশি। নিউ জার্সিতে গড় ১ হাজার ৪৪৯ ডলার, পেনসিলভানিয়ায় ১ হাজার ৪৩৪ এবং জর্জিয়ায় ২ হাজার ৩০১ ডলার। ফলে ৫ হাজার ডলারের তালিকায় না থাকলেও নিউইয়র্কের বাড়ির মালিকদের খরচ বেড়েছে। এই পরিসংখ্যান সব বাড়ির মালিকের প্রকৃত বিলের গড় হিসেবে পড়া ঠিক হবে না। কোয়াড্রান্ট ইনফরমেশন সার্ভিসেস ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের একটি একক পরিবারের বাড়ি এবং একই ধরনের কভারেজ ধরে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পলিসির মূল্য সংগ্রহ করেছে। হিসাবে বাড়ির কাঠামোর জন্য ৩ লাখ ডলারের কভারেজ ও সাধারণ ক্ষতির ক্ষেত্রে ১ হাজার ডলার ডিডাক্টিবল ধরা হয়েছে। বাড়ির ঠিকানা, নির্মাণের ধরন এবং বেছে নেওয়া কভারেজ অনুযায়ী কারও প্রিমিয়াম এই অঙ্কের চেয়ে কম বা বেশি হতে পারে। অধিকাংশ সাধারণ বাড়ির ইন্স্যুরেন্সে বন্যার ক্ষতি কভার করা হয় না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বন্যা ইন্স্যুরেন্স কর্মসূচি। তাই বন্যার ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় আলাদা কভারেজ প্রয়োজন হলে বাড়ি রক্ষার মোট খরচ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রিমিয়ামের চেয়ে বেশি হতে পারে।