- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের তাদের নিজ দেশের পরিবর্তে তৃতীয় কোনো দেশে দ্রুত বিতাড়ন করার বিতর্কিত নীতি পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এক আদেশে বস্টনের নিম্ন আদালতের এক বিচারকের দেওয়া স্থগিতাদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয় শীর্ষ আদালত। এর ফলে কোনো অভিবাসী সংশ্লিষ্ট তৃতীয় দেশে গিয়ে নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার হতে পারেন কি না, তা আদালতে তুলে ধরার সুযোগ না দিয়েই তাদের তাৎক্ষণিকভাবে দেশান্তর করতে পারবে প্রশাসন। শীর্ষ আদালতের ৬-৩ রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এই আদেশ দেওয়া হয়, যেখানে তিনজন উদারপন্থী বিচারপতি ভিন্নমত পোষণ করেন। আগামী ডিসেম্বরে এই মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর দায়ের করা একটি যৌথ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইউএস জেলা জজ ব্রায়ান মারফি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এই তৃতীয় দেশে বিতাড়ন নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন। বিচারক মারফির মতে, যথাযথ নোটিশ এবং শুনানির সুযোগ না দিয়ে অভিবাসীদের পাঠিয়ে দেওয়া মার্কিন সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর লঙ্ঘন। অধিকার কর্মীদের হিসাব অনুযায়ী, নীতিটি চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৫ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে ২৯টি দেশে পাঠানো হয়েছে, যার সিংহভাগই পাঠানো হয় মেক্সিকোতে। এছাড়া রাজনৈতিকভাবে চরম অস্থিতিশীল ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণ সতর্কতায় থাকা দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা, নিরক্ষীয় গিনি, লাইবেরিয়া এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতেও অনেককে পাঠানো হয়েছে। আদালতের এই আদেশকে স্বাগত জানিয়ে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জেনারেল কাউন্সেল জেমস পারসিভাল মন্তব্য করেছেন, এটি অপরাধী অবৈধ অভিবাসী এবং সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার সমর্থকদের জন্য একটি ‘খারাপ দিন’। তবে ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন লিটিগেশন অ্যালায়েন্সের আইনজীবী ট্রিনা রিয়েলমুতো একে অত্যন্ত উদ্বেগজনক সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেন যে, কোনো প্রকার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাওয়ার আগেই অভিবাসীদের এমন দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে যেখানে তারা চরম নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে পারেন। বাদীদের অভিযোগ, অতীতে বহু অভিবাসীকে তৃতীয় দেশে পাঠানোর পর সেখান থেকে তাদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং অনেকেই মারধর, যৌন নির্যাতন ও গুমের শিকার হয়েছেন।
ইতালির স্কুলে ছাত্রীদের বোরকা ও নিকাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার। গত ২০ সেপ্টেম্বর মেলোনি তার দল ন্যাশনালিস্ট কনজারভেটিভ ব্রাদার্স অব ইতালি (এফডিআই)-এর এক সমাবেশে এই প্রস্তাব তুলে ধরে একে নারী সমতার পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেন। মেলোনির মতে, স্কুলে মুখ খোলা রেখেই যেতে হবে এবং কোনো তথাকথিত ঐতিহ্যের নামে তরুণীদের মুখ লুকিয়ে রাখতে বাধ্য করা যাবে না। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনসার তথ্য অনুযায়ী, পুরো দেশটিতে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ জন নারী শিক্ষার্থী এমন মুখ ঢাকা পোশাক ব্যবহার করেন। তাই মুসলিম নাগরিকদের মতে, এটি বাস্তব কোনো সমস্যা নয়, বরং একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে কৃত্রিম বিতর্ক তৈরির অপচেষ্টা মাত্র। শিক্ষক ও মুসলিম নেতারা সরকারের এই পদক্ষেপকে 'অমানবিক' এবং 'অপ্রয়োজনীয়' বলে মন্তব্য করেছেন। মিলানের একটি বিদ্যালয়ের ৫৮ বছর বয়সী গণিত শিক্ষিকা মুলায়কা লরা এনরিয়েলো জানান, দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি কোনো শিক্ষার্থীকে পুরো মুখ ঢাকা পোশাক পরতে দেখেননি। অন্যদিকে মিলানের আল-ওয়াহিদ মসজিদের ইমাম ও ইতালিয়ান ইসলামিক রিলিজিয়াস কমিউনিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া পাল্লাভিচিনি এই উদ্যোগকে 'বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের অধ্যাপক রেনাতা পেপিচেল্লি এই ঘটনাকে ১৯৫৮ সালে আলজেরিয়ায় ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনামলের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে নারীদের প্রকাশ্যে পর্দা খুলতে বাধ্য করা হয়েছিল। তাঁর মতে, নারীর পর্দা এখনও একটি রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্র হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও সরকারি আদেশে সরাসরি 'বোরকা' বা 'নিকাব' শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি, তবে বলা হয়েছে স্কুলে পরিচয় শনাক্তে বাধা সৃষ্টিকারী কোনো পোশাক পরা যাবে না। বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নিকো তন্তি জানান, ইতালির আইনে আগে থেকেই পরিচয় গোপনকারী পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে, তবে ধর্মীয় চর্চাকে প্রায়শই বৈধ কারণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রস্তাবটির পেছনে মেলোনির সূক্ষ্ম রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ কাজ করছে। ২০২৭ সালের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মেলোনি বর্তমানে চরম ডানপন্থি দলগুলোর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে রয়েছেন, বিশেষ করে সাবেক জেনারেল রবার্তো ভানাচ্চির ন্যাশনাল ফিউচার পার্টির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা তাকে চাপে ফেলেছে। লুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লোরেঞ্জো ক্যাস্তেলানির মতে, এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে মেলোনি মূলত নিজের কঠোর জাতীয়তাবাদী অবস্থান তুলে ধরে কট্টরপন্থি ভোটারদের সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি ছোট শহরে বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য প্রতিটি পরিবারকে ১০ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে নর্থপয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট নামের একটি কোম্পানি। তবে বিপুল এই অর্থের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও শহরটির বেশিরভাগ বাসিন্দা এই প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন। ডেটা সেন্টারগুলো মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়, যা প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ, জমি এবং অন্যান্য সম্পদের ব্যবহার করে থাকে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলো এ ধরনের প্রকল্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শুরু করেছে, যারই ধারাবাহিকতায় পেনসিলভেনিয়ার হ্যাজল টাউনশিপেও একই ধরনের অসন্তোষ দেখা গেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নর্থপয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট পোকোনো পাদদেশের কাছাকাছি হ্যাজল টাউনশিপে প্রায় ১ হাজার ৩০০ একর জমির ওপর ১৫টি ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো সংবলিত একটি ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস নির্মাণ করতে চাইছে। গত জুন মাসে কোম্পানিটি শহরটির প্রায় সাড়ে চার হাজার পরিবারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই প্রস্তাব দেয়। এজন্য কোম্পানিটি ৪৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়ে ২০২৭ সালের শেষের দিকে প্রথম ডেটা সেন্টারটি তাদের 'সার্টিফিকেট অব অকুপেন্সি' বা ব্যবহারের সনদ পেলেই কেবল পরিবারগুলো এই অর্থ পাবে। এছাড়া, আগামী ১৫ বছরে স্থানীয় পুলিশ বিভাগসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের উন্নয়নে আরও ১২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে কোম্পানিটি। তবে প্রায় ১০ হাজার ৪৬০ জন বাসিন্দার এই শহরে ১০ হাজার ডলারের চেকও মানুষের উদ্বেগ কমাতে পারেনি। স্থানীয়দের প্রধান শঙ্কা হলো—নির্মাণকাজ, শব্দদূষণ এবং এর ফলে সম্পত্তির দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা। জেফ ফাসনাকট নামের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জানান, তার সম্পত্তির যে পরিমাণ মূল্যহ্রাস ঘটবে, তার তুলনায় এই ১০ হাজার ডলার একেবারেই নগণ্য। এড নেগ্রা নামের আরেক অবসরপ্রাপ্ত বাসিন্দা মনে করেন, এই প্রস্তাব হিতে বিপরীত হতে পারে, কারণ অনেকেই এটিকে ‘ঘুষ’ হিসেবে দেখছেন। যদিও নর্থপয়েন্টের চিফ মার্কেটিং অফিসার ব্রেন্ট মাইলস দাবি করেছেন যে, গত বছর একটি জনসভায় স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতেই সরাসরি এই আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। চার্লি লেশকোর মতো কিছু বাসিন্দা এই অর্থ দিয়ে গাড়ি কেনা বা বাড়ির ডাউনপেমেন্ট দেওয়ার স্বপ্ন দেখলেও, কার্ল মাজুসিয়াকের মতো অনেকেই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তাদের এলাকায় এই ডেটা সেন্টারের কোনো প্রয়োজন নেই। এদিকে ডেটা সেন্টার ও এআই প্রযুক্তির প্রসার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক বাড়ছে। সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক-এর সাবেক গবেষক জ্যাকব ককসন এবং ইভান হুবিঙ্গার সতর্ক করেছেন যে, উন্নত এআই প্রযুক্তি আগামী এক দশকের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে। এমন সতর্কবার্তার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব বজায় রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওপেনএআই, মেটা এবং এনভিডিয়ার মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এআই-এর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাতিমা জাহরা মানসুরি। দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ ৫০ বছর বয়সী এই নগর পরিকল্পনামন্ত্রী ও আইনজীবীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, যা মরক্কোর জন্য একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এই প্রধানমন্ত্রীকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত সংসদীয় নির্বাচনের চার দিন পর এই ঘোষণা এলো, যেখানে ফাতিমা জাহরার মধ্যপন্থী দল 'অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (প্যাম)' সর্বাধিক ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছে। তিউনিসিয়ার নাজলা বুদেনের পর ফাতিমা জাহরা মানসুরি পুরো আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী, যিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হলেন। মরক্কোর নির্বাচন ব্যবস্থা অনুযায়ী কোনো একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বেশ কঠিন। তাই আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে ফাতিমা জাহরা একটি জোট সরকার গঠন করবেন। তার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাঁধে এখন বিশাল দায়িত্ব। বিশেষ করে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তদারকির পাশাপাশি দেশে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মজুরি বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করবে তার প্রশাসন। ২০১১ সালের আরব বসন্তের পর মরক্কোর সংবিধানে আনা সংস্কার অনুযায়ী, রাজা দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হলেও সংসদীয় নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দল থেকেই তাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে হয়। এর আগে রাজা কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে পারতেন। ২০০৮ সালে রাজার বাল্যবন্ধু ও ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ফুয়াদ আলী এল হিম্মার হাত ধরে 'প্যাম' গঠিত হলে ফাতিমা জাহরা এই দলে যোগ দেন। ফ্রান্সের মন্টপিলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক সম্পন্ন করা ফাতিমা ২০২৪ সালে দলের অন্যতম প্রধান নেতা হয়ে ওঠেন। এর আগে তিনি মারাকেশের মেয়র এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাবা আবদেররহমান এল মানসুরি সংযুক্ত আরব আমিরাতে মরক্কোর সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং মারাকেশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি 'মারাকেশের পাশা' হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফাতিমা জাহরা সম্প্রতি মারাকেশে জমি লেনদেনের বিষয়ে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অজ্ঞাত হ্যাকারদের দ্বারা সমালোচিত হয়েছিলেন। তবে তিনি এই অভিযোগগুলোকে মানহানিকর আখ্যা দিয়ে তা অস্বীকার করেছেন এবং আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। গত সপ্তাহের নির্বাচনে মরক্কোর ১ কোটি ৫৮ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ভোটার প্যামকে সমর্থন দিয়েছেন, যা দলটির প্রতিষ্ঠার পর প্রথম বড় বিজয়। গত জুলাইয়ে সিউটা অভিবাসন সংকট এবং গত বছর তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর এটিই ছিল দেশের প্রথম নির্বাচন। এখন সবার দৃষ্টি পরবর্তী সরকার গঠনের দিকে। প্যাম সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও, মধ্যপন্থী ইসলামি দল 'জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি' এবং বামপন্থী 'ফেডারেশন অব ডেমোক্রেটিক লেফট'-এর মতো কয়েকটি দল এরই মধ্যে বিরোধী দলে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে দুই দশক ধরে বসবাসকারী এক নার্সকে স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করার অভিযোগে কেনিয়ায় বিতাড়িত করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। মৌরিন ওয়াঞ্জিরু ন্গুরে নামের এই নারী ২০০৬ সালের নভেম্বরে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। গত আগস্ট মাসে সান ফ্রান্সিসকোতে আইসিই কার্যালয়ে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্টে গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রায় এক মাসের বেশি সময় বন্দি রাখার পর ২২ সেপ্টেম্বর তাকে পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠানো হয়। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন এই নার্স সপরিবারে কানাডায় পাড়ি জমানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় স্বাস্থ্যসেবা খাতে তার একটি চাকরির প্রস্তাবও ছিল। গ্রেপ্তারের পর মৌরিনকে ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা, লুইজিয়ানা এবং নিউজার্সির বিভিন্ন বন্দিশিবিরে কয়েক সপ্তাহ কাটাতে হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বন্দিদশায় মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য হয়েছেন তিনি এবং একপর্যায়ে তার ফোন ও পরিচয়পত্রও হারিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশের আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে অবস্থান করার কারণেই তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখার অভিযোগকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে ডিএইচএস। তবে মৌরিনের মুক্তির জন্য চালু করা একটি ওয়েবসাইটে জানানো হয়, তিনি কন্টিনেন্টাল কোভিড টিমের একজন স্বেচ্ছাসেবী ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২০ বছরের জীবনে কখনোই ডিএইচএস-এর কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিস করেননি। ডিএইচএস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একজন ইমিগ্রেশন বিচারক ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই মৌরিনকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, আইসিই বর্তমানে তাদের নিয়ম অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীদের নিজ উদ্যোগে দেশ ছাড়ার জন্য তিন হাজার ডলার ও বিনা মূল্যে ফ্লাইটের প্রস্তাব দিচ্ছে। তবে মৌরিনের আইনি সহায়তা ও যাতায়াত খরচ জোগাতে একটি 'গোফান্ডমি' পেজ খোলা হয়েছিল, যেখানে ২৬ হাজার ডলারেরও বেশি অনুদান জমা পড়েছে। তার সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই ঘটনাকে অমানবিক আখ্যা দিয়েছেন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার কনকর্ডে তাকে সমর্থন জানিয়ে একটি সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মৌরিনের আইনজীবী রেজিন ডুপুই নিশ্চিত করেছেন যে, তার স্বামী পিটার মাঙ্গারা মুচেন্দু এবং তাদের দুই ছোট সন্তান শুক্রবার সান ফ্রান্সিসকো থেকে কেনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সন্তানদের মানসিক নিরাপত্তার কথা ভেবে দ্রুত স্ত্রীর কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পিটার। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চলমান অভিবাসন নীতির কারণেই তারা কানাডায় চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু তার আগেই এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যায়। বর্তমানে এই পরিবারটি কেনিয়াতে পুনরায় একত্রিত হয়েছে এবং সেখান থেকেই পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনা যাচাই করে দেখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার হওয়া এক শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাতে শহরের সেন্ট্রাল আলামেডা এলাকার একটি ডাস্টবিনের ভেতর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে মঙ্গলবার সকালে এক তরুণীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইস্ট ৫২ নম্বর স্ট্রিটের ১৮০০ ব্লকে, হোমস অ্যাভিনিউ এলিমেন্টারি স্কুলের সামনের একটি ডাস্টবিনে ৪ থেকে ৬ মাস বয়সী ওই শিশুটিকে পাওয়া যায়। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এলএপিডি) জুভেনাইল ডিভিশনের লেফটেন্যান্ট ডেভ হসকিন্স জানান, এক ব্যক্তি সেখানে ময়লা ফেলতে গিয়ে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় শিশুটিকে দেখতে পান এবং জরুরি সেবা ৯১১-এ কল করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ওই ব্যক্তি শুরুতে শিশুটিকে একটি পুতুল ভেবেছিলেন। শিশুটির পরনে শর্টস ও হাতে গ্লাভস ছিল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার সকালে এক নারীকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। তবে তিনি শিশুটির মা কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। এদিকে, হারমান জনসন ও লরা লেসি নামের এক দম্পতি সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, আটক হওয়া নারী তাদের পালিত কন্যা এবং মৃত শিশুটি তারই সন্তান। নখ দিয়ে যাতে আঁচড় কাটতে না পারে, সেজন্য শিশুটির হাতে গ্লাভস পরানো ছিল বলে জানান তারা। জনসন জানান, তার পালিত কন্যার আচরণ বেশ কিছুদিন ধরেই অস্বাভাবিক ছিল এবং মঙ্গলবার সকালে সে একেকবার একেক রকম কথা বলছিল। শিশুটিকে সামলাতে না পারায়, মাত্র দুই সপ্তাহ বয়স থেকেই জনসন ও লরা নিজেরাই শিশুটির দেখাশোনা করছিলেন। পালিত কন্যার এমন নিষ্ঠুর আচরণে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন লরা লেসি। তিনি বলেন, “তার প্রতি আমার কোনো ভালোবাসা নেই, কারণ ওই নিষ্পাপ শিশুটির প্রতি তার কোনো মমতা ছিল না।” তবে ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “কেন তুমি এমন করলে? আমি তো তোমার সন্তানের দেখাশোনা করছিলাম, আমিই তো তার দাদি ছিলাম।” তদন্তে সহায়তা করার জন্য ওই দম্পতি পরে পুলিশ স্টেশন এবং মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয়ে যান। আটককৃত নারীর পরিচয় বা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে কেন্দ্রীয় অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর (ICE) ওপর নজরদারি ও জবাবদিহি বাড়াতে একাধিক নতুন বিলে স্বাক্ষর করেছেন গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। গত মঙ্গলবার স্বাক্ষরিত এই আইনগুলোর অন্যতম লক্ষ্য হলো রাজ্যটিতে অভিবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ফেডারেল সরকারের নীতির বিপরীতে ক্যালিফোর্নিয়ার নিজস্ব অবস্থান জোরালো করা। নতুন আইনের আওতায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর বিতর্কিত ‘ইলেকট্রোশক গ্লাভস’ বা বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হাতমোজার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামী বছর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিষেধাজ্ঞাটি অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে। সম্প্রতি ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তাদের কর্মকর্তাদের জন্য এ ধরনের গ্লাভস কেনার উদ্যোগ নেওয়ার পরই ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন এমন কঠোর পদক্ষেপ নিল। নতুন এই আইনগুলোতে শক গ্লাভস নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি বেসরকারি ডিটেনশন বা আটক কেন্দ্রগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া অভিবাসন তল্লাশি বা অভিযানের সময় ফ্ল্যাশ-ব্যাং গ্রেনেডের ব্যবহার সীমিত করা এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিচালিত সিভিল ডিটেনশন কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। যেসব আইসিই কর্মকর্তা অতীতে গুরুতর অসদাচরণের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন, তারা যাতে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের কোনো সরকারি কর্মী বা পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ না পান, নতুন আইনে সেই নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে। গভর্নর নিউসম এক বিবৃতিতে জানান, কেন্দ্রীয় সরকার যখন অভিবাসী সম্প্রদায়কে রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে, তখন ক্যালিফোর্নিয়া তাদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এগিয়ে এসেছে। এর আগেও ক্যালিফোর্নিয়ায় আইসিই-এর কার্যক্রম সীমিত করার বেশ কিছু উদ্যোগ আইনি বাধার মুখে পড়েছিল। চলতি বছরের শুরুর দিকেই ক্যালিফোর্নিয়ার আরেকটি আইন একটি ফেডারেল আপিল আদালতের আদেশে আটকে যায়। ওই আইনে ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টসহ বেশির ভাগ আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাকে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। গত নভেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যুক্তি দিয়েছিল যে, এটি সংবিধানের লঙ্ঘন এবং এর ফলে হয়রানি ও সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকা কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। তবে মঙ্গলবার গভর্নর নিউসম যে বিলগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন, তার মধ্যে ওই মুখ ঢাকা নিষিদ্ধের একটি সংশোধিত ও সীমিত সংস্করণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা অঙ্গরাজ্যের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা ও ধর্মীয় দৃশ্যপটে আগামী কয়েক দশকে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য ও গবেষণার বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২০৪০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম। বর্তমানে দেশটিতে খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারীদের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইহুদি ধর্মাবলম্বীরা। তবে দেশটিতে মুসলিম জনসংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে আগামী দুই দশকের কম সময়ের মধ্যেই তারা ইহুদিদের ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পিউ রিসার্চের দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের সংখ্যা পৌঁছাবে প্রায় ৮১ লাখে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২.১ শতাংশ। এর আগে ২০১৭ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩৪ লাখ ৫০ হাজার মুসলিম বসবাস করেন, যা ছিল মোট জনসংখ্যার প্রায় ১.১ শতাংশ। পিউ সেন্টারের ডেমোগ্রাফিক গবেষণা থেকে জানা যায়, মূলত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলিমদের অভিবাসন এবং আমেরিকান মুসলিমদের তুলনামূলক উচ্চ জন্মহারের কারণে দেশটিতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় এক লাখ করে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো আমেরিকান মুসলিম জনসংখ্যার আকার নিয়ে প্রাক্কলনের পর থেকে এই সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে ও দ্রুতগতিতে বেড়েই চলেছে। বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে যুক্তরাষ্ট্রের এই ধর্মীয় রূপান্তরের চিত্রটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পুরোনো প্রতিবেদনে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের হার ৭১ শতাংশ বলা হলেও, পিউ রিসার্চের সাম্প্রতিক (২০২৪-২০২৫) তথ্য অনুযায়ী তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে বর্তমানে প্রায় ৬২ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দেশটিতে কোনো ধর্মে বিশ্বাসী নন (অ্যাগনস্টিক বা নাস্তিক) এমন মানুষের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। একদিকে খ্রিষ্টানদের হার কমে আসা এবং অন্যদিকে অভিবাসন ও জন্মহারের কারণে মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ধর্মীয় কাঠামোতে ইসলাম একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে যাচ্ছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর বর্বরোচিত এক বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং আরও ৫৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতীর তথ্য উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, সোমবার রাখাইনের কিয়াউকতাও টাউনশিপ এলাকার একটি জনবহুল বাজার ও সেতু লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনী এই বিমান হামলা চালায়। অঞ্চলটি বর্তমানে একটি জান্তা-বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যার জেরেই সামরিক বাহিনী এমন ভয়াবহ আক্রমণ চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, সোমবার জান্তা বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে কিসসাপনাদি (যা কালাদান সেতু নামেও পরিচিত) এবং স্থানীয়ভাবে ‘ইন্ডিয়ান মার্কেট’ নামে পরিচিত একটি ব্যস্ত বাজারে নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করা হয়। হামলার সময় বাজারটিতে ক্রেতা, বিক্রেতা, শ্রমিক ও সাধারণ পথচারীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। ফলে হতাহতদের একটি বড় অংশই নিরীহ বেসামরিক নাগরিক। কালাদান নদীর তীরবর্তী উপকূলীয় শহর কিয়াউকতাওয়ে চালানো এই হামলাটিকে সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের অন্যতম প্রাণঘাতী ও ধ্বংসাত্মক আক্রমণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মিয়ানমারে গত কয়েক বছর ধরে চলমান রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষত ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকারকে জোরপূর্বক ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখলের পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে কয়েকটি জাতিগত বিরোধী গোষ্ঠী। এর পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমরা দীর্ঘকাল ধরেই জান্তা বাহিনীর চরম নিপীড়ন ও সামরিক অভিযানের শিকার হয়ে আসছেন। সামরিক বাহিনীর অব্যাহত নির্যাতন ও দমন-পীড়ন থেকে প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক নিজ দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের সামরিক উপস্থিতির পর ইরাক থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী বুধবারের মধ্যেই দেশটির সর্বশেষ সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকেও মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের নেওয়া এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বাস্তবায়ন করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই চূড়ান্ত বিদায়কে ঘিরে একদিকে যেমন ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উল্লাস দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে ইরাকের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিদায়ের পর দেশটিতে সৃষ্ট নিরাপত্তা শূন্যতার সুযোগ নিতে পারে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ইরাকের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজেদের প্রভাব আরও বাড়ানোর চেষ্টা করবে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক জসিম আল-বাহাদলি মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিপরীতে একটি ভারসাম্য ধরে রেখেছিল। সেই উপস্থিতি শেষ হলে কৌশলগতভাবে ইরানই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। পাশাপাশি, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোও এই শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে অনেক ইরাকি স্বাগত জানালেও, নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না অনেকেরই। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইরাকি ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’-এর কমান্ডার আবু মোজতবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন বাহিনীর এই বিদায়কে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে ফালুজার সুন্নি গোত্রের নেতা আব্দুল রহমান আল-জোবাইয়ের মতে, ইরাক এখনো নিজস্ব নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে প্রস্তুত নয়। কুর্দি নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও সতর্ক করে জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য, লজিস্টিক সহায়তা ও ড্রোন নজরদারি ছাড়া আইএসের সুপ্ত সেলগুলো আবারো ভয়াবহভাবে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। প্রসঙ্গগত, ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে ২০১১ সালে তারা সেনা প্রত্যাহার করলেও ২০১৪ সালে আইএসের উত্থানের পর মিত্রদের নিয়ে ফের দেশটিতে সেনা মোতায়েন করে ওয়াশিংটন। রয়টার্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরাক যুদ্ধ ও তৎপরবর্তী বিভিন্ন সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রেখে চলছিল ইরাক। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামো এবং আইএসের বিরুদ্ধে দেশটির লড়াইয়ের সক্ষমতার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারি ছুটির তালিকায় এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান দুই ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। গত ২৭ সেপ্টেম্বর অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ‘এবি ২০১৭’ শীর্ষক একটি বিলে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই স্বীকৃতি কার্যকর করেন। সান ফ্রান্সিসকোর অ্যাসেম্বলি সদস্য ম্যাট হ্যানি ‘স্টেট হলিডেজ: ঈদ’ নামের এই বিলটি উত্থাপন করেছিলেন। আইনসভার বিভিন্ন ধাপে অনুমোদনের পর গত ৩০ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার উভয় কক্ষে বিলটি পাস হয় এবং পরবর্তীতে গভর্নরের চূড়ান্ত স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হয়। নতুন এই আইনের আওতায় ইসলামি চান্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর এবং জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ঈদুল আজহা হিসেবে সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে এই সরকারি স্বীকৃতির অর্থ এই নয় যে, ক্যালিফোর্নিয়ার সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা আদালত বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ থাকবে। আইনে ঈদকে বিচারিক ছুটির তালিকা থেকে আলাদা রাখা হয়েছে, ফলে ঈদের দিন আদালত বা বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তবে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে এই আইনে। ঈদের নামাজ বা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার জন্য কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে তা ‘অনুমোদিত অনুপস্থিতি’ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও কমিউনিটি কলেজগুলো চাইলে নিজেদের সিদ্ধান্তে ঈদের দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে পারবে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্যও উৎসব পালনের বিশেষ সুযোগ তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত শর্ত মেনে সরকারি কর্মীরা ঈদ উপলক্ষে আট ঘণ্টার ছুটির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন, যা তাদের অবকাশ বা ব্যক্তিগত ছুটি থেকে সমন্বয় করা যাবে। অ্যাসেম্বলি সদস্য আশ কালরা, স্টেফানি নগুয়েন এবং সিনেটর আইশা ওয়াহাবসহ বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা এই বিলটির সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন। নতুন এই আইনের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ায় মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে অনন্য স্বীকৃতি পেল, যা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির একটি আবাসিক এলাকায় আফ্রিকার অত্যন্ত বিষাক্ত 'গাবুন ভাইপার' সাপের উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সান্তা আনা পুলিশ বিভাগ সম্প্রতি জননিরাপত্তায় একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে এবং সাপটির একটি ছবি প্রকাশ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মেইন স্ট্রিট এবং এডিঙ্গার অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি একটি গাছে সাপটিকে সর্বশেষ দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, স্পট করা সাপটি লম্বায় চার থেকে পাঁচ ফুট, তবে পূর্ণবয়স্ক একটি গাবুন ভাইপার সাত ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। উত্তর আমেরিকার স্থানীয় প্রজাতি না হওয়ায় এই বিদেশি সাপটি কীভাবে এখানে এলো, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সাপটির ছবি নিয়ে অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, ছবিটি হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি করে পুলিশকে বোকা বানানো হয়েছে। এই বিষয়ে সান্তা আনা পুলিশ জানিয়েছে, তারা নেটিজেনদের এই উদ্বেগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং সাপটি আসলেই এলাকায় আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিবিড় তদন্ত চলছে। সাপটি শনাক্ত ও উদ্ধারের জন্য সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া হারপেটোলজি অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড রেসকিউ (SCHA&R)-এর সভাপতির সহায়তা নিচ্ছে পুলিশ। সাপটি ধরা পড়লে সেটিকে কোয়ারেন্টাইনে রেখে একটি বিদেশি প্রাণী অভয়ারণ্যে স্থানান্তর করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। গাবুন ভাইপার মূলত সাব-সাহারান আফ্রিকার রেইনফরেস্ট ও সাভানা অঞ্চলে বসবাস করে। এটি আফ্রিকার সবচেয়ে ভারী বিষাক্ত সাপ, যার ওজন প্রায় আট কেজি (১৮ পাউন্ড) পর্যন্ত হতে পারে। বিশ্বের যেকোনো সাপের তুলনায় এর বিষদাঁত সবচেয়ে বড়, যা প্রায় ১.৬ ইঞ্চি লম্বা হয়। বাদামি, বেগুনি এবং কালচে জ্যামিতিক নকশার কারণে এরা জঙ্গলের শুকনো পাতার মাঝে চমৎকারভাবে লুকিয়ে থাকতে পারে। ইঁদুর ও মাটিতে থাকা পাখিদের শিকার করা এই সাপটি অত্যন্ত ভয়ংকর। সান্তা আনা পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছে, কেউ যেন সাপটির কাছে না যান বা নিজে থেকে ধরার চেষ্টা না করেন। সাপটি দেখতে পেলে অবিলম্বে পুলিশের নন-ইমার্জেন্সি নম্বরে (714-834-4211) যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার মধ্যে ৩০ দিনের জন্য রাজ্যের জ্বালানি কর স্থগিত করেছেন গভর্নর ব্রায়ান কেম্প। বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কর স্থগিত কার্যকর হয়েছে এবং ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত তা বহাল থাকার কথা। জর্জিয়ায় বর্তমানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলে রাজ্যের মোটর জ্বালানি আবগারি কর ৩৩ দশমিক ৩ সেন্ট এবং ডিজেলে ৩৭ দশমিক ৩ সেন্ট। এই কর স্থগিতের ফলে ওই সময়ের মধ্যে জ্বালানি বিক্রির ক্ষেত্রে রাজ্য পর্যায়ের এই আবগারি কর আদায় বন্ধ থাকবে। তবে সব পাম্পে একই সময়ে বা পুরো করের সমপরিমাণ দাম কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। গভর্নরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কর স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় জর্জিয়ায় নিয়মিত পেট্রোলের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ১৯ ডলার এবং ডিজেলের গড় দাম ৬ দশমিক ২৪ ডলার। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবার, ব্যবসা ও কৃষকদের ওপর ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে বলে রাজ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কর স্থগিতের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বাণিজ্যিক যানবাহনের ওপর রাজ্যের নির্ধারিত ওজনসীমাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের ভাষ্য, এর ফলে পণ্য পরিবহনের খরচ কমতে পারে এবং মুদি পণ্যসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসের দামের ওপর পরিবহন ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে কর স্থগিতের ঘোষণা কার্যকর হলেও জর্জিয়ার প্রতিটি জ্বালানি স্টেশনে সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে যাবে না। কারণ রাজ্যে জ্বালানি কর বিতরণ পর্যায়ে আদায় করা হয়। নতুন সরবরাহ স্টেশনে পৌঁছানোর পর করের পরিবর্তনের প্রভাব খুচরা দামে দেখা যেতে পারে। তাই কোথাও কয়েক দিনের মধ্যে দাম কমতে পারে, আবার কিছু স্টেশনে পরিবর্তন আসতে আরও সময় লাগতে পারে। এ ছাড়া বাজারদরের অন্যান্য পরিবর্তনের কারণেও কর স্থগিতের পুরো সুবিধা পাম্পের দামে সরাসরি দেখা নাও যেতে পারে। জ্বালানির পাইকারি দাম, পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য খরচ একই সময়ে বাড়া বা কমার কারণে খুচরা দামে পরিবর্তনের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। গভর্নর কেম্পের নির্বাহী আদেশে জরুরি অবস্থার মেয়াদে বাণিজ্যিক যানবাহনের ওজনসীমা স্থগিত করার বিষয়টিও রাখা হয়েছে। এর লক্ষ্য জ্বালানি ব্যয়ের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের ব্যয় কমানো। রাজ্য কর্মকর্তারা মনে করছেন, এর প্রভাব মুদি পণ্যসহ বিভিন্ন দৈনন্দিন পণ্যের সরবরাহ ব্যয়ের ওপর পড়তে পারে। জর্জিয়ায় জ্বালানি কর সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘটনা এ বছর নতুন নয়। রাজ্য সরকার এর আগেও ২০২৬ সালে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মোটর জ্বালানি কর আদায় সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল। রাজ্যের রাজস্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগের স্থগিতাদেশগুলোও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কার্যকর ছিল এবং সেগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কর আদায় আবার শুরু হয়েছিল। বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবারের স্থগিতাদেশ ২৯ অক্টোবর শেষ হবে। এরপর নতুন কোনো নির্বাহী আদেশ বা আইনগত সিদ্ধান্ত না হলে রাজ্যের মোটর জ্বালানি আবগারি কর আবার কার্যকর হবে। ফলে আপাতত জর্জিয়ার চালকদের জন্য এটি ৩০ দিনের সাময়িক কর-স্বস্তি, স্থায়ী কর প্রত্যাহার নয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির বিস্তারের প্রভাবে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ কর্মীকে বর্তমান পেশা বদলাতে হতে পারে। ম্যাককিনসি গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের নতুন এক প্রতিবেদনে এই অনুমান করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা নিশ্চিত চাকরি হারানোর হিসাব নয়। এটি বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি মডেলভিত্তিক পূর্বাভাস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নতুন চাকরির সুযোগও তৈরি হতে পারে। ম্যাককিনসির হিসাবে, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ চাকরির সমপরিমাণ শ্রমের চাহিদা কমতে পারে। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট খাত এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে ৪ কোটি ১০ লাখের বেশি নতুন চাকরির চাহিদা তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ প্রযুক্তির কারণে কিছু কাজের প্রয়োজন কমলেও মোট কর্মসংস্থান একই অনুপাতে কমে যাবে, এমনটা প্রতিবেদনের পূর্বাভাস নয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয়তার প্রভাবে প্রভাবিত প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ কর্মীর মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ নিজেদের বর্তমান পেশাতেই থাকতে পারেন। তাদের ক্ষেত্রে একই পেশায় কাজের ধরন বদলালেও সংশ্লিষ্ট খাতে প্রবৃদ্ধির কারণে কর্মীর চাহিদা বজায় থাকতে পারে। তবে বাকি প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ কর্মীর ক্ষেত্রে বর্তমান পেশা ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশায় যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। ম্যাককিনসি বলছে, আগামী দশকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার কর্মীকে এক পেশা থেকে অন্য পেশায় যেতে হতে পারে। ঐতিহাসিক হিসাবে স্বাভাবিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর বিভিন্ন পেশার মধ্যে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার কর্মী স্থানান্তরিত হয়েছেন। ফলে আগামী দশকে প্রয়োজনীয় পেশা পরিবর্তনের হার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৬ গুণ হতে পারে। তবে এই পরিবর্তনের চাপ সব পেশায় সমান হবে না। ম্যাককিনসির বিশ্লেষণে পেশা পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় অংশ দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক সহায়তা, খুচরা বিক্রয় ও বিক্রয় এবং পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কাজ থেকে আসতে পারে। গ্রাহকসেবা প্রতিনিধি, ক্যাশিয়ার ও গুদামকর্মীদের মতো পেশায় প্রযুক্তির প্রভাব তুলনামূলক বেশি পড়তে পারে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন পেশাগত ও কারিগরি কাজে কর্মীর চাহিদা বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার বার্ধক্যও শ্রমবাজারের এই পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে প্রযুক্তির কারণে কিছু পেশায় কর্মীর প্রয়োজন কমলেও অন্য কিছু ক্ষেত্রে নতুন কর্মীর চাহিদা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ম্যাককিনসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নতুন পেশায় যাওয়া কর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতার পার্থক্য। নতুন চাকরি থাকলেই বর্তমান কর্মীরা সরাসরি সেখানে চলে যেতে পারবেন না। অনেক ক্ষেত্রে নতুন দক্ষতা অর্জন, প্রশিক্ষণ বা অতিরিক্ত যোগ্যতার প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিবেদনের হিসাবে, পেশা বদলাতে হতে পারে এমন কর্মীদের মাত্র প্রায় সাতজনের একজনের নতুন কাজে যাওয়ার সরাসরি পথ রয়েছে। পেশা পরিবর্তনের সম্ভাব্য সংখ্যা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ম্যাককিনসির বিভিন্ন পরিস্থিতির মডেলে ২০৩৫ সালের মধ্যে পেশা পরিবর্তন করতে হতে পারে এমন কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখের মধ্যে হতে পারে। অর্থাৎ ১ কোটি ১০ লাখ হলো প্রতিষ্ঠানটির মূল বা ভিত্তি পরিস্থিতির হিসাব, নিশ্চিত সংখ্যা নয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নিয়োগের গতি বর্তমানে তুলনামূলক ধীর। মঙ্গলবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শেষে দেশটিতে চাকরির শূন্যপদ কমে ৭ দশমিক ০৭৯ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ছাঁটাই ও চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার সংখ্যা কমেছে, যা শ্রমবাজারে নিয়োগ ও কর্মী পরিবর্তনের গতি নিয়ে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। ম্যাককিনসির প্রতিবেদনের মূল বিষয় তাই শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কত চাকরি হারাবে, তা নয়। বরং প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে কর্মীদের কোন পেশা থেকে কোন পেশায় যেতে হবে এবং সেই পরিবর্তনের জন্য কী ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে। প্রতিবেদনের হিসাবে আগামী দশকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে মোট চাকরির সংখ্যা কমার চেয়ে পেশা ও দক্ষতার বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: সিএনএন
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এ নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিসাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, গঙ্গাসহ দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানি সংক্রান্ত বিষয় যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে আলোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি সম্প্রতি জানিয়েছেন, ঢাকা ১৯৯৬ সালের চুক্তি শুধু নবায়নের পরিবর্তে নতুন একটি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি চায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের প্রাপ্য পানির নিশ্চয়তা এবং বর্ষায় অতিরিক্ত পানি প্রবাহের কারণে সৃষ্ট সমস্যার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির আওতায় ফারাক্কা পয়েন্টে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি দুই দেশের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নতুন চুক্তির প্রস্তাবের বিষয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জয়সোয়াল বলেন, অভিন্ন নদীগুলোর পানি সংক্রান্ত বিষয় দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মধ্যেই আলোচনা করা হবে। তিনি যৌথ নদী কমিশনের কথা উল্লেখ করে জানান, গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও চলছে। এর আগে বাংলাদেশ জানিয়েছিল, নতুন চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানিতে দেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বর্ষায় অতিরিক্ত পানি প্রবাহের বিষয়েও নিশ্চয়তা চায় ঢাকা। বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও যৌথ নদী কমিশন নতুন চুক্তির কাঠামো নিয়ে প্রস্তুতিও চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারত ৫৪টি অভিন্ন নদী ভাগ করে। তবে গঙ্গা ছাড়া অন্য কোনো অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি নেই। ফলে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান আলোচনা দুই দেশের পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন বা সংশোধিত চুক্তি নিয়ে দুই দেশ কীভাবে এগোয়, সেটিই এখন মূল বিষয়। ভারতের পক্ষ থেকে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে, আর বাংলাদেশ নতুন চুক্তির মাধ্যমে পানির ন্যায্য হিস্যা ও প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা চাচ্ছে।
নরওয়ের নতুন যাত্রীবাহী গাড়ির বাজার প্রায় পুরোপুরি বৈদ্যুতিক গাড়িনির্ভর হয়ে গেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশটিতে নিবন্ধিত নতুন যাত্রীবাহী গাড়ির ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল বৈদ্যুতিক। শুধু আগস্টেই এই হার বেড়ে ৯৮ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা এক মাসে নরওয়েতে বৈদ্যুতিক গাড়ির সর্বোচ্চ বাজার অংশের নতুন রেকর্ড। সরকারি সড়ক যানবাহন তথ্য পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ১৩ হাজার ৪৫১টি নতুন যাত্রীবাহী গাড়ি নিবন্ধিত হয়েছে। আগস্টের ৯৮ দশমিক ৭ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ির হার গত বছরের একই মাসের তুলনায়ও বেশি। ২০২৫ সালের আগস্টে নতুন যাত্রীবাহী গাড়ির ৯৬ দশমিক ৯ শতাংশ ছিল বৈদ্যুতিক। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নতুন গাড়ির বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির অংশ আরও বেড়েছে। নরওয়ের সড়ক যানবাহন তথ্য পরিষদ জানিয়েছে, নতুন গাড়ির বাজার এখন কার্যত পুরোপুরি বৈদ্যুতিক হয়ে গেছে। নতুন গাড়ির বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির এই আধিপত্যের বিপরীতে পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ির উপস্থিতি খুবই কমে গেছে। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত নতুন যাত্রীবাহী গাড়ির নিবন্ধনে বৈদ্যুতিক গাড়ির অংশ ৯৮ শতাংশের কাছাকাছি থাকায় প্রচলিত জ্বালানিচালিত গাড়ির সম্মিলিত অংশ ২ শতাংশেরও কম। ফলে নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে নরওয়ের ক্রেতাদের পছন্দে বড় ধরনের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগস্টে নতুন গাড়ির মডেলভিত্তিক তালিকাতেও বৈদ্যুতিক গাড়ির আধিপত্য দেখা গেছে। ভক্সওয়াগন আইডি.৪ ছিল সবচেয়ে বেশি নিবন্ধিত মডেল। এরপর ছিল টয়োটা বি-জেড-৪-এক্স এবং বিএমডব্লিউ আইএক্স৩। অর্থাৎ বাজারের শীর্ষস্থানীয় মডেলগুলোর মধ্যেও বৈদ্যুতিক গাড়িই প্রাধান্য ধরে রেখেছে। ব্র্যান্ডভিত্তিক বাজারেও পরিবর্তন লক্ষণীয়। আগস্টে ভক্সওয়াগন ছিল সবচেয়ে বেশি নিবন্ধিত গাড়ির ব্র্যান্ড। টয়োটা ও এক্সপেংও শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। একই সময়ে এক্সপেং ও বিওয়াইডি মিলে নরওয়ের নতুন গাড়ির বাজারের ১১ দশমিক ৪ শতাংশ দখল করেছে, যা ২০২৫ সালের আগস্টের ৪ দশমিক ৯ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ার পেছনে নরওয়ের দীর্ঘদিনের নীতি ও বাজারব্যবস্থার ভূমিকা রয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা, অবকাঠামো এবং বিভিন্ন আকর্ষণীয় মডেলের সহজলভ্যতা দেশটির নতুন গাড়ির বাজারকে দ্রুত বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে নিয়ে গেছে। নরওয়ের সড়ক যানবাহন তথ্য পরিষদের বিশ্লেষণেও অর্থনৈতিক পরিবেশ, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও গাড়ির মডেলের সহজলভ্যতাকে এই পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নতুন গাড়ির ৯৮ শতাংশ বৈদ্যুতিক হওয়া মানে নরওয়ের রাস্তায় চলা প্রায় সব গাড়িই বৈদ্যুতিক, এমন নয়। আগস্টের শেষের দিকে দেশটির মোট যাত্রীবাহী গাড়ির বহরে বৈদ্যুতিক গাড়ির অংশ ছিল ৩৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অর্থাৎ নতুন গাড়ির বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির রূপান্তর অনেক দ্রুত হলেও বিদ্যমান গাড়ির বহরে সেই পরিবর্তন এখনো অনেক ধীর। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পুরোনো পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ি দ্রুত নতুন গাড়ি দিয়ে প্রতিস্থাপিত না হলে মোট গাড়ির বহরে জ্বালানিচালিত গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য সময় ধরে থেকে যাবে। নরওয়ের সড়ক যানবাহন তথ্য পরিষদের প্রধান গেইর ইঙ্গে স্টকেও বলেছেন, নতুন গাড়ির বাজার প্রায় পুরোপুরি বৈদ্যুতিক হয়ে যাওয়ার পর ভবিষ্যতে নির্গমন কমানোর ক্ষেত্রে পুরোনো পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ি কত দ্রুত গাড়ির বহর থেকে বাদ যাচ্ছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। নরওয়ের বাণিজ্যিক গাড়ির বাজারে অবশ্য চিত্রটি ভিন্ন। আগস্টে নতুন পণ্যবাহী ভ্যানের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ির অংশ ছিল ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যক্তিগত ব্যবহারের নতুন যাত্রীবাহী গাড়ির বাজার প্রায় পুরোপুরি বৈদ্যুতিক হয়ে গেলেও বাণিজ্যিক গাড়ির ক্ষেত্রে পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ির উপস্থিতি এখনো তুলনামূলক বেশি। সব মিলিয়ে নরওয়ের গাড়ির বাজারে বৈদ্যুতিক রূপান্তরের গতি এখন নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে নতুন যাত্রীবাহী গাড়ির ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আগস্টে রেকর্ড ৯৮ দশমিক ৭ শতাংশ বৈদ্যুতিক হওয়া দেখাচ্ছে, নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে দেশটির বাজারে পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ির জায়গা খুব দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। তবে পুরো গাড়ির বহর বৈদ্যুতিক করতে নতুন গাড়ির বিক্রির পাশাপাশি পুরোনো গাড়ি প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ক্যান্টন শহরের একটি ডে কেয়ারে সোমবার একটি শিশু ব্যাগ থেকে গুলিভরা পিস্তল বের করে। কর্মীরা দ্রুত অস্ত্রটি দেখতে পেয়ে ব্যবস্থা নেওয়ায় কেউ আহত হয়নি। ঘটনার তদন্তে শিশুটির এক অভিভাবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে; তিনি পাশের একটি এলাকার পুলিশ কর্মকর্তা। ক্যান্টনের পুলিশপ্রধান জোসেফ বিয়ালি সংবাদ সম্মেলনে জানান, পিস্তলটি ওই অভিভাবকের, তবে এটি তাঁর দায়িত্ব পালনের অস্ত্র নয়। কীভাবে অস্ত্রটি শিশুর নাগালে এল, তা তদন্ত করা হচ্ছে। ডে কেয়ারের ভিডিওতে শিশুটিকে ব্যাগ থেকে পিস্তল বের করতে দেখা গেছে বলে জানান বিয়ালি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় কক্ষে থাকা একজন কর্মী বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন এবং শিশুদের নিরাপদে রাখেন। পুলিশপ্রধান বলেন, প্রাথমিকভাবে কারও ক্ষতি করার উদ্দেশ্য ছিল বলে তাঁর মনে হচ্ছে না। তবে আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপদে রাখা এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা হয়েছে কি না, সেটিই এ ঘটনার মূল প্রশ্ন। ডে কেয়ারটিতে আগে থেকেই নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। ঘটনার পর সব শিশুর ব্যাগ পরীক্ষা করার নিয়ম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বিয়ালি। তদন্ত চলমান থাকায় হেফাজতে নেওয়া অভিভাবকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, তা পুলিশ জানায়নি।
নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্ক দিয়ে কাজে যাওয়ার পথে সাইকেলের ধাক্কায় আহত রিচি ও’ব্রায়েনের মৃত্যু হয়েছে। ৪১ বছর বয়সী এই ব্যক্তি দুই সন্তানের বাবা। ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি; চার দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশের বরাতে সিবিএস নিউজ নিউইয়র্ক জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ছয়টার কিছু পর পার্কের ৮৪তম স্ট্রিটের কাছে ও’ব্রায়েনের সঙ্গে উত্তর দিকে চলা এক সাইকেল আরোহীর সংঘর্ষ হয়। ধাক্কায় দুজনই মাটিতে পড়ে যান। ৩২ বছর বয়সী সাইকেল আরোহী সামান্য আহত হন। ও’ব্রায়েনের এক সহকর্মী জানান, তিনি মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টে স্টিমফিটার হিসেবে কাজ করতে যাচ্ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী ও দুই সন্তানের সহায়তায় স্বজন ও সহকর্মীরা অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছেন। ঘটনাস্থল পার্কের ইস্ট ড্রাইভ বলে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ। তবে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে ওয়েস্ট ড্রাইভের উল্লেখ রয়েছে। সেন্ট্রাল পার্ক কনজারভেন্সির ঘটনার পর দেওয়া বিবৃতিতে ইস্ট ড্রাইভের কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটি পার্কে চলাচলের নিরাপত্তা জোরদার ও ট্রাফিক নিয়ম প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় সাইকেল আরোহীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে বলে পুলিশের প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধা থেকে সম্মিলিতভাবে ১৩ লাখ ডলারের বেশি আত্মসাতের অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে বিচার বিভাগ। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ঘোষিত এই মামলাগুলোর কয়েকটিতে মৃত স্বজনের নামে আসতে থাকা অর্থ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তদের একজন শিকাগোর এক নারী, যিনি মায়ের মরদেহ ফ্রিজারে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় আগে সাজা পেয়েছিলেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচার বিভাগের ন্যাশনাল ফ্রড এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের এক মাসের অভিযানের পর এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাগুলো পৃথক মামলা; ১৭ জন একসঙ্গে একটি প্রতারণা চক্রে কাজ করেছেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়নি। শিকাগোর ইভা ব্র্যাচারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মায়ের মৃত্যুর পরও তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে সোশ্যাল সিকিউরিটির প্রায় ২১ হাজার ৪০২ ডলার নিয়েছেন। বিচার বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি মায়ের নামে আসা খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি স্ন্যাপের সুবিধাও ব্যবহার করেছেন। নতুন এসব আর্থিক অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মায়ের মৃত্যুর তথ্য গোপন এবং জাল পরিচয়পত্র রাখার পৃথক ঘটনায় ব্র্যাচারকে ২০২৩ সালে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁকে আরও সাজা পেতে হতে পারে। বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধা নির্ধারিত প্রাপকদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতেই তাঁরা প্রতারণার অভিযোগগুলো তদন্ত করছেন। নতুন মামলাগুলোতে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তদের দোষী বলা যাবে না।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বন্যার পানিতে ডুবে থাকা রাস্তায় জেট স্কি চালানোর ঘটনায় এক ব্যক্তিকে জরিমানা ও স্থগিত কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে আটক করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ এনেছিল পুলিশ। পরে আদালত জেট স্কিটিও বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংককের প্লাবিত একটি রাস্তায় ওই ব্যক্তিকে জেট স্কি চালাতে দেখা যায়। পুলিশ তখন জানিয়েছিল, যানটি বাজেয়াপ্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করবে। পরবর্তী আদালতের কার্যক্রম নিয়ে থাই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তিকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার বাথ জরিমানা করা হয়েছে। কারাদণ্ড কার্যকর না করে স্থগিত রাখা হয়েছে। আদালত জেট স্কি বাজেয়াপ্তেরও আদেশ দিয়েছেন। কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে ব্যাংককের বহু রাস্তা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার কারণে মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার মধ্যেই জেট স্কি চালানোর ঘটনাটি ঘটে।