- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বন্যার পানিতে ডুবে থাকা রাস্তায় জেট স্কি চালানোর ঘটনায় এক ব্যক্তিকে জরিমানা ও স্থগিত কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে আটক করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ এনেছিল পুলিশ। পরে আদালত জেট স্কিটিও বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংককের প্লাবিত একটি রাস্তায় ওই ব্যক্তিকে জেট স্কি চালাতে দেখা যায়। পুলিশ তখন জানিয়েছিল, যানটি বাজেয়াপ্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করবে। পরবর্তী আদালতের কার্যক্রম নিয়ে থাই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তিকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার বাথ জরিমানা করা হয়েছে। কারাদণ্ড কার্যকর না করে স্থগিত রাখা হয়েছে। আদালত জেট স্কি বাজেয়াপ্তেরও আদেশ দিয়েছেন। কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে ব্যাংককের বহু রাস্তা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার কারণে মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার মধ্যেই জেট স্কি চালানোর ঘটনাটি ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ দক্ষতার চাকরি ও ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দেয় এইচ-১বি ভিসা। কিন্তু এই ভিসায় কাজ করা অনেক বিদেশি কর্মীর কাছে চাকরির পাশাপাশি বাড়ি কেনা, পরিবার নিয়ে স্থায়ী পরিকল্পনা করা কিংবা নতুন শহরে যাওয়ার সিদ্ধান্তও কঠিন হয়ে ওঠে। তাঁদের অভিজ্ঞতা নিয়ে সোমবার প্রকাশিত বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে এই অনিশ্চয়তার চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটির জন্য এইচ-১বি ভিসা পাওয়া বা এ পথে যাওয়ার চেষ্টা করা ২০ জনের বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলেছে বিজনেস ইনসাইডার। তাঁদের একজন মধুর মেহতা। যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ বছরে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন, অ্যামাজনে চাকরি পেয়েছেন এবং এইচ-১বি ভিসার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবু তিনি ও তাঁর বাগদত্তা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। তাঁর বাগদত্তার কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এইচ-১বি নির্বাচনের আর একটি সুযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। চাকরি বদলের ক্ষেত্রেও হিসাব করতে হয় এই ভিসায় থাকা কর্মীদের। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য এইচ-১বি কর্মী নতুন নিয়োগকর্তার কাছে যেতে পারেন। তবে নতুন নিয়োগকর্তাকে তাঁর জন্য আবেদন জমা দিতে হয়। চাকরির অবস্থান বা দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এলেও প্রয়োজন হতে পারে সংশোধিত আবেদন। বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে অংশ নেওয়া কয়েকজন জানিয়েছেন, ভিসাসংক্রান্ত প্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তা তাঁদের চাকরি বদল, পদোন্নতি বা অন্য শহরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। কারও জন্য প্রশ্নটি আরও বড়: যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে তোলা জীবন কত দূর পর্যন্ত নিশ্চিন্তে পরিকল্পনা করা সম্ভব? এইচ-১বি ভিসা অনেকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত সুযোগের পথ খুলে দেয়। তবে প্রতিবেদনটিতে উঠে আসা অভিজ্ঞতাগুলো দেখায়, ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চয়তা পাওয়ার বিষয়টি সব সময় একসঙ্গে আসে না।
দামি ব্যাগ, ঘড়ি বা জুতার ক্রেতা মানেই বিপুল সম্পদের মালিক, এমন ধারণা ঠিক নয়। বিলাসপণ্যের বাজারে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এমন ক্রেতারাও, যাঁরা সারা বছর হিসাব করে খরচ করেন, কিন্তু পছন্দের একটি পণ্যের জন্য টাকা জমিয়ে বড় অঙ্ক ব্যয় করেন। এই ক্রেতাদের শিল্পে ‘অ্যাসপিরেশনাল’ বা উচ্চাকাঙ্ক্ষী ক্রেতা বলা হয়। কেউ হয়তো নিয়মিত দামি পোশাক কেনেন না, কিন্তু বিশেষ উপলক্ষে একটি ডিজাইনার ব্যাগ বা বিলাসবহুল ঘড়ি কেনেন। ব্র্যান্ডের পরিচিতি, পণ্যটি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা এবং নিজের কাছে সেটির বিশেষ মূল্য তাঁদের কেনাকাটার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনসির এক বিশ্লেষণে বিলাসবহুল ফ্যাশন বাজারের মূল্যের প্রায় অর্ধেকের সঙ্গে এই ক্রেতাগোষ্ঠীকে যুক্ত করা হয়েছে। তবে তাঁদের অংশ বাজারের ‘তিন-চতুর্থাংশ’ বলে যে দাবি করা হয়, সেটি বিক্রয়মূল্যের হিসাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের একটি বিশ্লেষণে একসময় বাজারে তাঁদের কেনাকাটার পরিমাণ ৭০ শতাংশের বেশি ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কেনাকাটার পরিমাণ ও মোট বিক্রয়মূল্য এক হিসাব নয়। এ কারণেই এই ক্রেতাদের ব্যয় কমানো বিলাসপণ্যের ব্র্যান্ডগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পণ্যের দাম বেড়ে গেলে বা সংসারের অন্যান্য খরচের চাপ বাড়লে তাঁরা বড় কেনাকাটা পিছিয়ে দিতে পারেন। ম্যাককিনসির বিশ্লেষণেও উচ্চমূল্যের কারণে এই গোষ্ঠীর চাহিদা কমার কথা উঠে এসেছে। অতি ধনী ক্রেতারা বিলাসপণ্যের বড় বাজার ধরে রাখলেও মাঝেমধ্যে দামি পণ্য কেনা বিপুলসংখ্যক মানুষের সিদ্ধান্তও শিল্পটির বিক্রিতে প্রভাব ফেলে। তাঁদের কাছে একটি পণ্য কেনা কম জরুরি হয়ে পড়লে, সেই পরিবর্তন ব্র্যান্ডগুলোর বাজারেও দেখা যায়।
বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানে শূন্য শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে যোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে এ সুবিধা কার্যকর হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের সব ওষুধ এই ছাড়ের আওতায় পড়বে না। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ভিয়েতনাম। বিজ্ঞপ্তিতে সুইজারল্যান্ড ও লিশটেনস্টাইনকে একসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। ছাড়ের আওতায় রয়েছে বিরল রোগের নির্দিষ্ট ওষুধ, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, রক্তরস থেকে তৈরি চিকিৎসাপণ্য, বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ এবং সেল ও জিন থেরাপির পণ্য। তালিকায় নির্দিষ্ট কিছু অ্যান্টিবডিভিত্তিক ওষুধ ও পশুচিকিৎসার পণ্যও রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত এপ্রিলের ঘোষণায় নির্দিষ্ট পেটেন্টযুক্ত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদান আমদানিতে নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের মধ্যেই তালিকাভুক্ত বিশেষায়িত পণ্যগুলোর জন্য শূন্য শুল্কের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাণিজ্য বিভাগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বর্তমানে জেনেরিক ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর ওই নির্দিষ্ট শুল্ক প্রযোজ্য নয়। কোনো পণ্য নতুন ছাড় পাবে কি না, তা নির্ভর করবে বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত ধরন ও শর্ত পূরণের ওপর।
মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল তৈরি হয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের এই বিলের ভুল স্বীকার করেছে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিল সংশোধন করে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। বিলটি মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে ইস্যু করা হয়। তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। বিলে ৮ আগস্ট মিটারের রিডিং ১৬০ এবং ৮ সেপ্টেম্বর ৩৯৫ দেখানো হয়েছে। সে হিসাবে এক মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গ্রামের কাগজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিলটিতে শুধু ডিমান্ড চার্জের ঘরেই ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা দেখানো হয়। এর সঙ্গে ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জ যোগ হয়ে মোট অঙ্ক দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি টাকার বেশি। প্রতিবেদনটিতে ২৩৫ ইউনিটের সংশোধিত বিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকা হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. রেজাউল করিম স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, মিটার পরিবর্তনের পর সিল নম্বরের অঙ্ক ভুল করে ডিমান্ড চার্জের ঘরে বসায় অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়েছে। ভুলের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলামও ঘটনাটিকে তথ্য লেখার ভুল বলে জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ বিল সংশোধনের আশ্বাস দিলেও সংশোধিত বিল গ্রাহকের হাতে পৌঁছেছে কি না, তা জানা যায়নি। সূত্র: ফেইস দ্যা পিপল
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের কলেজ পার্কের একটি হোটেলে শি শু পা চা রের মামলায় ১৬৪ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেল জুরির সদস্যরা। মামলায় হোটেলটির মালিক প্রতিষ্ঠান লিংকন ব্যানকর্প এলএলসিকে এই অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ওই সময় মাত্র ১৫ বছর বয়সী ছিলেন। ২০২০ সালে তাকে পা চা রকারীরা কলেজ পার্কের ওল্ড ন্যাশনাল হাইওয়ের সুপার ৮ হোটেলে নিয়ে যায়। ২০২০ ও ২০২১ সালে তাকে একাধিকবার ওই হোটেলে রাখা হয়। মামলায় ভুক্তভোগীকে পরিচয় গোপন রাখতে জে.আর. নামে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আদালতে জানান, এক পর্যায়ে পা চা রকারীদের কাছ থেকে পালানোর জন্য হোটেলের এক কর্মীর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। তার অভিযোগ, ওই কর্মী তাকে সহায়তা করেননি এবং হোটেলের ফোন ব্যবহার করতেও দেননি। মামলার শুনানিতে সাবেক এক হাউসকিপারও সাক্ষ্য দেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হোটেলে শি শু পা চা রের কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন লক্ষণ কর্মীদের নজরে আসত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু কর্মী পা চা রকারীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে পুলিশের উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করতেন। ফেডারেল জুরি লিংকন ব্যানকর্প এলএলসিকে মোট ১৬৪ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার জন্য দায়ী করেন। এর মধ্যে ৪৪ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ এবং ১২০ মিলিয়ন ডলার শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ। জুরিরা প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা করে রায়ে পৌঁছান। মামলাটি ফেডারেল ট্রাফিকিং ভিকটিমস প্রোটেকশন রিঅথোরাইজেশন অ্যাক্টের আওতায় করা হয়েছিল। এই আইনে পা চা রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানত বা জানা উচিত ছিল এবং সেখান থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে—এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মা ম লা করার সুযোগ রয়েছে। এই হোটেলকে ঘিরে আরও কয়েকটি একই ধরনের মা ম লা বিচারাধীন রয়েছে বলে ভুক্তভোগীর আইনজীবী জানিয়েছেন। এর আগে জর্জিয়ার ডিকাটারের একটি হোটেলে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে পা চা রের ঘটনায় ৪০ মিলিয়ন ডলারের আরেকটি জুরি রায় হয়েছিল। ওল্ড ন্যাশনাল হাইওয়ের ওই সুপার ৮ হোটেলটি বর্তমানে নতুন মালিকানায় রয়েছে। লিংকন ব্যানকর্পের পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘিরে থাকা এলাকাতেও মানব পা চা র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে হোটেল ও বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পা চা রের সম্ভাব্য লক্ষণ শনাক্ত করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার সেরিটোস শহরে নিজের বাড়ির আঙিনায় দেশীয় নানা ফলের গাছ লাগিয়ে যেন এক টুকরো বাংলাদেশ গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশি প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার জলিল খান। আম, জাম, কাঁঠাল, জামরুল, পেয়ারা, কলা, লেবু, কমলা ও আখসহ বাংলাদেশের পরিচিত নানা ফলের গাছে ভরে উঠেছে তাঁর বাড়ির আঙিনা। প্রবাসের জীবনে এই বাগানই হয়ে উঠেছে তাঁর শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার অন্যতম মাধ্যম। বরিশালে জন্ম নেওয়া জলিল খান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। কর্মজীবনে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ট্রান্সপোর্টেশন ডিপার্টমেন্টে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সেরিটোস শহরে। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় কাটালেও বাংলাদেশের মাটি, প্রকৃতি, দেশীয় ফল ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর ভালোবাসা কমেনি। সেই টান থেকেই নিজের বাড়ির আঙিনায় একে একে লাগাতে শুরু করেন দেশের পরিচিত ফলের গাছ। সময়ের সঙ্গে সেই শখের বাগান এখন পরিণত হয়েছে বড় পরিসরের একটি দেশীয় ফলের বাগানে। এই বাগানে শুধু আম, জাম বা কাঁঠালই নয়, রয়েছে জামরুল, পেয়ারা, কলা, লেবু, কমলা ও আখসহ নানা ধরনের ফল। পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বাগানের উৎপাদিত ফল স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষের মধ্যেও বিলিয়ে দেন জলিল খান। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার আবহাওয়া দেশীয় কিছু ফল চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় বাগানে ভালো ফলনও পাচ্ছেন তিনি। জলিল খানের দাবি, চলতি বছর তাঁর একটি জামগাছ থেকেই প্রায় ৪০ মণ জাম পাওয়া গেছে। এত বিপুল পরিমাণ জামের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন জায়গা থেকে বাংলাদেশিরা তাঁর বাগানে আসতে শুরু করেন। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকেও বাংলাদেশিরা জলিল খানের বাড়িতে এসে বাগানের জাম সংগ্রহ করেছেন। ফলে তাঁর বাড়ির এই ফলের বাগান এখন শুধু পরিবারের শখের বিষয় নয়, স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছেও এটি হয়ে উঠেছে পরিচিত একটি জায়গা। দেশের প্রতি ভালোবাসার আরেকটি নিদর্শন রয়েছে তাঁর বাড়ির নামেও। জলিল খান নিজের বাড়ির নাম দিয়েছেন ‘নাচ মহল’। সন্তানদেরও বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত করে বড় করছেন তিনি। প্রবাসে জন্ম ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন তিনি। জলিল খানের কাছে এই বাগান শুধু ফল চাষের জায়গা নয়। এটি তাঁর শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার একটি মাধ্যম। হাজার মাইল দূরে থেকেও বাংলাদেশের পরিচিত ফল, গাছপালা ও সংস্কৃতিকে নিজের জীবনের অংশ করে রেখেছেন তিনি। ভবিষ্যতে বাগানে আরও দেশীয় ফলের গাছ লাগানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে জলিল খানের। প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিও তাঁর আহ্বান, সুযোগ ও জায়গা থাকলে বাড়ির আঙিনায় ফলের গাছ লাগানো। তাঁর বিশ্বাস, সবুজের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করার পাশাপাশি এভাবেই নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের শিকড়ের গল্পও পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের প্রত্যেককে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আবারও কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে তার প্রস্তাবটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে এই অর্থপ্রদান এখনো কোনো কার্যকর সরকারি কর্মসূচি নয় এবং বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। ট্রাম্পের প্রস্তাবটি ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ নামে পরিচিত। তার দাবি, শুল্কনীতি থেকে সরকারের বিপুল রাজস্ব আসছে এবং সেই অর্থ ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া সম্ভব হবে। সোমবার তিনি বলেন, রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে এই অর্থ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রস্তাবটির বিস্তারিত কাঠামো এখনো পরিষ্কার নয়। কারা এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবেন, কবে অর্থ দেওয়া হবে এবং ঠিক কোন উৎস থেকে পুরো অর্থের জোগান দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। প্রস্তাবটির সম্ভাব্য ব্যয়ও বড়। বিশ্লেষকদের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৪ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দিলে মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। এ কারণে অর্থের উৎস এবং ফেডারেল বাজেটের ওপর এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্প এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী সম্মেলনে প্রথমবার এই প্রতিশ্রুতির কথা বলেন। তখন তিনি জানান, রিপাবলিকানরা নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই জয় ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়া হবে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকায় এ ধরনের অর্থপ্রদানের জন্য আইনগত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনো প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে আইন আনার কথা বলেছেন। অর্থের উৎস নিয়েও আলোচনা চলছে। ট্রাম্প শুল্ক থেকে আসা রাজস্বের কথা বলেছেন। তবে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুধু শুল্কের রাজস্ব দিয়ে ৫ হাজার ডলারের এই কর্মসূচির পুরো ব্যয় মেটানো কঠিন হবে। ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে অর্থের ঘাটতি কীভাবে পূরণ করা হবে, সেটিও বড় প্রশ্ন। এর আগে ট্রাম্প বিভিন্ন সময় শুল্ক থেকে ২ হাজার ডলার এবং সরকারি ব্যয় কমিয়ে ৫ হাজার ডলারের অর্থপ্রদানের ধারণার কথা বলেছিলেন। সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। এবারও ৫ হাজার ডলারের প্রস্তাবটি কংগ্রেসের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। তাই বর্তমানে মার্কিন নাগরিকদের জন্য ৫ হাজার ডলারের কোনো নিশ্চিত পেমেন্ট চালু হয়নি। প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেসের সিদ্ধান্তসহ আরও কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।
নিউ জার্সি ও নিউইয়র্কের মধ্যে হাডসন নদীর নিচ দিয়ে নতুন রেল টানেল নির্মাণে বড় ধাপ এগিয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিউ জার্সির নর্থ বার্গেনে হাডসন টানেল প্রকল্পের প্রথম টানেল খননযন্ত্র চালুর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে গেটওয়ে ডেভেলপমেন্ট কমিশন। চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে যন্ত্রটি খননকাজ শুরু করবে। প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিউ জার্সি থেকে নদীর নিচ দিয়ে নিউইয়র্কের পেন স্টেশন পর্যন্ত নতুন দুটি টানেল নির্মাণ করা হবে। নতুন টানেল চালু হলে বর্তমানে ব্যবহৃত পুরোনো নর্থ রিভার টানেলের সংস্কার করা যাবে। ওই টানেলটি ১৯১০ সাল থেকে চালু রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে খননযন্ত্রগুলো নর্থ বার্গেনের টনেলি অ্যাভিনিউ এলাকা থেকে নিউ জার্সির প্যালিসেডস পাহাড়ের নিচে টানেল তৈরি করবে। গেটওয়ে ডেভেলপমেন্ট কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ অংশে দুটি যন্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর প্রকল্পের অন্যান্য অংশে খনন ও নির্মাণকাজ চলবে। নতুন টানেল চালুর লক্ষ্য ২০৩৫ সাল। পুরোনো টানেলের সংস্কার শেষ করার লক্ষ্য ২০৩৮ সাল। এটি নির্মাণ শেষ হওয়ার খবর নয়; সোমবারের আয়োজনটি ছিল প্রকল্পের প্রথম খননযন্ত্র চালুর আনুষ্ঠানিক ধাপ। এই রেলপথ দিয়ে প্রতিদিন নিউ জার্সি ও নিউইয়র্কের মধ্যে বিপুলসংখ্যক যাত্রী চলাচল করেন। প্রকল্প কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, নতুন টানেল চালু এবং পুরোনোটি সংস্কার হলে দুই রাজ্যের মধ্যে ট্রেন চলাচলের নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে এ ট্রেনের দরজায় ব্যাগ আটকে ট্রেনের সঙ্গে টেনে নেওয়ার পর ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃ ত্যু হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটের কিছু আগে বেডফোর্ড-স্টাইভেস্যান্ট এলাকার ইউটিকা অ্যাভিনিউ সাবওয়ে স্টেশনে ঘটনাটি ঘটে। এবিসি সেভেনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফুলটন স্ট্রিটের কাছে স্টেশনটিতে ট্রেনের দরজা বন্ধ হওয়ার সময় ওই ব্যক্তির ব্যাগ আটকে যায়। এরপর ট্রেনটি চলতে শুরু করলে তিনি সেটির সঙ্গে টেনে নেওয়া হন। প্রতিবেদনে নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানানো হয়নি। কীভাবে ব্যাগটি দরজায় আটকাল এবং দুর্ঘটনার অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও পাওয়া যায়নি।
নিউইয়র্ক সিটিতে সরকারি চাকরি খুঁজতে আগ্রহীদের জন্য ম্যানহাটনে ‘জবস এনওয়াইসি সেন্টার’ চালু করেছে সিটি প্রশাসন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মেয়র জোহরান মামদানি ২ লাফায়েত স্ট্রিটে সেন্টারটির উদ্বোধন করেন। নিয়মিত ওয়াক-ইন সেবা শুরু হবে ৫ অক্টোবর। সিটি মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, চাকরিপ্রার্থীরা সেখানে খালি পদ খুঁজতে, আবেদনপত্র প্রস্তুত করতে এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রক্রিয়া বুঝতে সহায়তা পাবেন। নিয়োগ দিচ্ছে এমন সিটি এজেন্সির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগও থাকবে। সেন্টারটিতে চাকরিমেলা, এজেন্সিগুলোর নিয়োগ কার্যক্রম, ক্যারিয়ারবিষয়ক ওয়ার্কশপ ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। সরকারি চাকরির সুযোগ ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নেটওয়ার্কিং ইভেন্টও হবে। নিউইয়র্ক সিটির স্মল বিজনেস সার্ভিসেস এবং ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস যৌথভাবে সেন্টারটি তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা সিটির একটি জায়গাকে চাকরিপ্রার্থীদের সেবায় ব্যবহার করা হচ্ছে। সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে ‘জবস এনওয়াইসি’ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা বিভাগ, এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালস এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কসহ ৪৭টি সিটি এজেন্সি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগে সহায়তা পেয়েছে। নতুন সেন্টারটি সেই উদ্যোগের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে কাজ করবে। সেন্টার উদ্বোধনের সময় মেয়র মামদানি বলেন, সরকারি চাকরিতে যাওয়ার পথ বুঝতে মানুষের অসুবিধা হওয়া উচিত নয়। নতুন সেন্টার চাকরিপ্রার্থীদের উপযুক্ত সুযোগ খুঁজতে এবং নিয়োগের শর্ত বুঝতে সহায়তা করবে।
জনকল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)সহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি এআই যেন নিয়ন্ত্রণহীন ও যথেচ্ছভাবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার বঙ্গভবনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীল প্রতিভা কমিয়ে দিতে পারে। তাই মানুষের সৃজনশীলতা ও নিজস্ব চিন্তার সক্ষমতা বজায় রেখে জনকল্যাণে এবং পরিমিত মাত্রায় এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ন্যানোপ্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে গবেষণা এবং নতুন উদ্ভাবনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। প্রযুক্তিকে শুধু ব্যবহার নয়, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। সাক্ষাৎকালে কুয়েটের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এ সময় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নত শিক্ষার সুযোগ শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তা আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন উদ্ভাবনকে দেশের উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এদিকে সাক্ষাৎকালে কুয়েটের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ। রাষ্ট্রপতি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং কুয়েটের অধ্যাপকরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে একদিকে প্রযুক্তি ও এআই গবেষণাকে উৎসাহিত করার কথা উঠে এসেছে, অন্যদিকে এর ব্যবহারে মানুষের নিজস্ব চিন্তা, সৃজনশীলতা ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। উল্লেখ্য, সরকারি পর্যায়েও এআই ব্যবহারে সতর্কতার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। আগস্টে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারি কর্মকর্তাদের অফিসিয়াল কাজে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়। বিশেষ করে সংবেদনশীল ও গোপনীয় সরকারি তথ্য অননুমোদিতভাবে তৃতীয় পক্ষের কাছে চলে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশে এআই ব্যবহারের জন্য জাতীয় পর্যায়ে নীতিমালা প্রণয়নের কাজও চলছে। জাতীয় এআই নীতি ২০২৬–২০৩০-এর খসড়ায় দায়িত্বশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদ্ভাবনভিত্তিক এআই ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রথমবার গাড়ি চালাতে নামলে শুধু রাস্তা চিনলেই হয় না। কোথায় কত গতিতে চলবেন, কোন সাইনে পার্কিং নিষিদ্ধ, টোল কীভাবে দিতে হবে - এসব না জানলে জরিমানা ও বাড়তি খরচ হতে পারে। নতুন ড্রাইভারদের জন্য সাতটি বিষয় বিশেষভাবে জরুরি। প্রথমত, স্পিড লিমিটের সাইন দেখুন। নিউ ইয়র্ক সিটিতে সাইনে ভিন্ন কিছু লেখা না থাকলে সাধারণ স্পিড লিমিট ঘণ্টায় ২৫ মাইল। তবে কিছু এলাকায় এবং স্কুলের কাছে সীমা কম। সব স্কুল জোনের সীমা ১৫ মাইল নয়, তাই নির্দিষ্ট রাস্তার সাইন অনুসরণ করুন। স্কুল জোনের স্পিড ক্যামেরায় নির্ধারিত সীমার চেয়ে ১০ মাইলের বেশি গতিতে গাড়ি ধরা পড়লে ৫০ ডলারের টিকিট আসতে পারে। ক্যামেরার টিকিটে ড্রাইভার লাইসেন্সে পয়েন্ট যোগ হয় না। দ্বিতীয়ত, পার্কিং সাইন ভালো করে পড়ুন। ‘নো স্ট্যান্ডিং’, ‘নো পার্কিং’ এবং রাস্তা পরিষ্কারের জন্য ‘অল্টারনেট সাইড পার্কিং’ এক নিয়ম নয়। সাইনে লেখা দিন ও সময় দেখে গাড়ি রাখুন। ফায়ার হাইড্র্যান্টের ১৫ ফুটের মধ্যে পার্কিংও নিষিদ্ধ। পার্কিং জরিমানার অঙ্ক নিয়ম ও জায়গাভেদে বদলায়; কোনো নিয়মভঙ্গের জন্য একটিই নির্দিষ্ট জরিমানা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তৃতীয়ত, উবার বা লিফট চালানোর পরিকল্পনা থাকলে আগে লাইসেন্সের শর্ত বুঝুন। ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর সাধারণ ড্রাইভার লাইসেন্স দিয়ে নিউইয়র্ক সিটিতে যাত্রী পরিবহন শুরু করা যায় না। এর জন্য ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমুজিন কমিশনের, সংক্ষেপে টিএলসির, ড্রাইভার লাইসেন্স প্রয়োজন। গাড়ি ও যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাইড দেওয়া হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও টিএলসির নিয়ম প্রযোজ্য। চতুর্থত, গাড়ির ইন্স্যুরেন্স চালু আছে কি না নিশ্চিত করুন। নিউ ইয়র্কে গাড়ির জন্য নির্ধারিত লায়াবিলিটি ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক। প্রিমিয়াম ড্রাইভার ও গাড়িভেদে অনেক বদলায়, তাই নতুন ড্রাইভারের মাসিক খরচ নির্দিষ্ট অঙ্কে বলা যায় না। পলিসি নেওয়ার আগে কয়েকটি কোম্পানির কভারেজ ও কোট তুলনা করুন; মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়ন করুন। পঞ্চমত, টোলের হিসাব রাখুন। ভেরাজানো-ন্যারোজ ব্রিজ ও কুইন্স-মিডটাউন টানেলের মতো পথে টোল লাগে। নিউইয়র্কের ই-জিপাস অ্যাকাউন্টে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ‘টোলস বাই মেইল’-এর চেয়ে কম রেট পাওয়া যায়। তবে ই-জিপাস ট্যাগ সব পদ্ধতিতে বিনা খরচে পাওয়া যায় না; অ্যাকাউন্ট খোলার সময় প্রযোজ্য শর্ত ও ব্যালেন্স দেখে নিন। ষষ্ঠত, আবহাওয়া অনুযায়ী গাড়ি চালান। নিউইয়র্ক স্টেটের ডিএমভির নিয়ম অনুযায়ী বৃষ্টি, তুষার বা কুয়াশার কারণে উইন্ডশিল্ড ওয়াইপার ব্যবহার করতে হলে হেডলাইটও জ্বালাতে হবে। ভেজা বা বরফঢাকা রাস্তায় গতি কমিয়ে সামনে পর্যাপ্ত দূরত্ব রাখুন। সপ্তমত, টিকিট পেলে তার তারিখ দেখুন। পার্কিং বা ক্যামেরার টিকিট পরিশোধ করতে পারেন, কিংবা ভুল মনে হলে শুনানির আবেদন করতে পারেন। নিউ ইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্স জানিয়েছে, টিকিট ইস্যুর ৩০ দিনের মধ্যে শুনানির আবেদন করলে বিলম্বজনিত জরিমানা এড়ানো যায়। টিকিট ফেলে রাখলে বাড়তি জরিমানা যোগ হতে পারে।
ভারতে একের পর এক মসজিদ ও মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙা বা উচ্ছেদের ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উত্তর প্রদেশ থেকে দিল্লি এবং মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠন। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, এসব পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে সরকারি জমি দখল, অনুমোদনহীন নির্মাণ কিংবা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে। চলতি সেপ্টেম্বরের শুরুতে সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরের একটি পুরোনো মসজিদ ভেঙে ফেলে প্রশাসন। মসজিদটির বয়স নিয়ে বিভিন্ন দাবি রয়েছে। এর ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে এটিকে শত বছরেরও বেশি পুরোনো, এমনকি প্রায় ১১৫ থেকে ১৫০ বছরের পুরোনো বলে দাবি করা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, মসজিদটি সরকারি জমিতে অনুমোদনহীনভাবে নির্মিত এবং আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদের আদেশ বহাল থাকার পরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটির আইনি দিক নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সাহারানপুরের সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত জুলাই মাসে জায়গাটি থেকে উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিল।মসজিদ পরিচালনা কমিটি সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। সেপ্টেম্বরের ২ তারিখ জেলা আদালত আপিল খারিজ করে আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর ৫ সেপ্টেম্বর ভোরে মসজিদটি ভেঙে দেওয়া হয়। প্রশাসন বলেছে, আদালতের সিদ্ধান্তের পর আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, উচ্ছেদের নির্দেশকে সরাসরি ভবন ভাঙার অনুমতি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানোর আগেই স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, স্থাপনাটি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিভিন্ন রেকর্ডে এর অস্তিত্ব ছিল। অন্যদিকে সরকারি পক্ষ আদালতে জমিটিকে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে উপস্থাপন করে এবং মসজিদ কর্তৃপক্ষ বৈধ মালিকানা বা দখলের যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেনি বলে আদালতের সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ঘটনাটির সঙ্গে ধর্মীয় অধিকারের পাশাপাশি জমির মালিকানা ও সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের আইনি প্রশ্নও জড়িয়ে আছে। সাহারানপুরের ঘটনার পর দিল্লির শালিমার বাগেও মসজিদ ভাঙার ঘটনা সামনে আসে। ২৩ সেপ্টেম্বর সেখানে সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে মদিনা মসজিদসহ কয়েকটি স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়। প্রশাসনের অভিযানকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ওঠে এবং একটি রাজনৈতিক দলের নেতার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মসজিদের ভেতরের কোরআনসহ কিছু সামগ্রী সরানোর পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে এই অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এরপর মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনে শাহী মসজিদের একটি অংশ ভাঙার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ২৮ সেপ্টেম্বর সেখানে সড়ক সম্প্রসারণের কাজের অংশ হিসেবে মসজিদের একটি অংশ সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হলে স্থানীয়দের একাংশ প্রতিবাদ করেন। পরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয় এবং পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। উজ্জয়িনের ঘটনাটি সাহারানপুরের ঘটনার চেয়ে আলাদা। এখানে প্রশাসনের মূল যুক্তি হলো সড়ক সম্প্রসারণ। ২০২৮ সালের সিমহাস্থ মেলার আগে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রায় ২৭০টির বেশি স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শাহী মসজিদের একটি অংশ প্রস্তাবিত সড়কের জায়গায় পড়ায় সেটিও প্রকল্পের আওতায় এসেছে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ অবশ্য মসজিদটির ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে বিকল্প জায়গা দিয়ে সড়ক সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশকে সামনে রেখে শহরের যান চলাচল ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনেই সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় আদালতেও আইনি লড়াই হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আদালত আগে সড়ক সম্প্রসারণের পথে থাকা কিছু স্থাপনা অপসারণের বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করা আবেদন খারিজ করেছিল। এদিকে উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদে পরিস্থিতি আরও একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। পাকবারা এলাকার মুস্তাফা মসজিদকে নিয়ে মোরাদাবাদ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ ও ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, এলাহাবাদ হাইকোর্টে শুনানির সময় কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে যে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাঙার আদেশ না হওয়া পর্যন্ত মসজিদটি ভাঙা হবে না। মসজিদ কর্তৃপক্ষ ওই নোটিশকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে। অর্থাৎ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে একসঙ্গে দেখলে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে জমি, ওয়াকফ সম্পত্তি, অনুমোদন, অবৈধ নির্মাণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে একাধিক বিরোধ সামনে এসেছে। কিছু ঘটনায় স্থাপনা ইতোমধ্যে ভেঙে দেওয়া হয়েছে, আবার কিছু ঘটনায় আদালতের হস্তক্ষেপের কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। এসব ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। মুসলিম সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রশাসনের পদক্ষেপে বৈষম্য বা পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে সরকারি পক্ষ সাধারণত বলছে, আইন সবার জন্য সমান এবং অবৈধ দখল বা অনুমোদনহীন নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের সাহারানপুরের মসজিদ ভাঙার ঘটনাকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সমালোচনা করেছে এবং এটিকে ঐতিহাসিক ইসলামি স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে পাকিস্তানের এই বক্তব্য একটি রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক অবস্থান; ঘটনাটির স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভারতের আদালতের নথি ও প্রশাসনের বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। ভারতে সাম্প্রতিক মসজিদ উচ্ছেদ ও ভাঙার ঘটনাগুলো নতুন করে ধর্মীয় স্বাধীনতা, ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ, ওয়াকফ সম্পত্তি, সরকারি জমি এবং নগর উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে কোনো ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলার আগে যথাযথ নোটিশ, আদালতের নির্দেশ, আপিলের সুযোগ এবং সম্পত্তির মালিকানা নির্ধারণের প্রক্রিয়া কতটা অনুসরণ করা হয়েছে, সেটিই এখন এসব বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
যুক্তরাজ্যে একটি বিড়ালকে ঘিরে মালিক ও প্রাণীকল্যাণ সংস্থা আরএসপিসিএ এবং মেট পুলিশের মধ্যে আইনি বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে। ৭৯ বছর বয়সী সাবেক আইনজীবী ড. ক্যাথরিন থিওডোটু তাঁর প্রিয় বিড়াল রিটার ম র দে হ শেষবার দেখতে চান। একই সঙ্গে আরএসপিসিএ ও পুলিশের বিরুদ্ধে মোট ৫ লাখ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি। রিটা ছিল ১৭ মাস বয়সী সাদা-কালো একটি বিড়াল। ২০২৬ সালের মার্চে প্রাণীটির যত্ন নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর আরএসপিসিএ পুলিশের সহায়তায় লন্ডনে থিওডোটুর বাড়িতে গিয়ে বিড়ালটিকে নিয়ে যায়। থিওডোটুর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আরএসপিসিএতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করা হয়েছিল এবং রিটাকে তিনি যথাযথ যত্নেই রেখেছিলেন। অন্যদিকে আরএসপিসিএর আইনজীবীরা আদালতে বলেছেন, বাড়ি থেকে নেওয়ার সময় রিটার শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের দাবি, প্রাণীটির পরিচর্যা, পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে ঘাটতির লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। মেট পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের অনুমোদিত পরোয়ানা অনুযায়ী তারা আইনগতভাবেই বাড়িতে প্রবেশ করে বিড়ালটি আরএসপিসিএর কাছে হস্তান্তরে সহায়তা করেছিল। রিটা জন্ম থেকেই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিল এবং তার পেছনের দুই পা স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করতে পারত না। এ কারণে তার মূত্রথলিতে মাঝে মাঝে সংক্রমণও হতো। থিওডোটুর দাবি, রিটাকে নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল এবং সে ধীরে ধীরে চার পায়ে হাঁটতে শিখছিল। ঘটনাটি আরও জটিল হয়ে ওঠে জুলাইয়ে। তখন জানা যায়, আরএসপিসিএর তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় রিটার মৃ ত্যু হয়েছে। এরপর বিড়ালটির মালিকানা নিয়ে চলা বিরোধ পরিণত হয় তার ম র দে হ ও মৃ ত্যু র কারণ নিয়ে আইনি লড়াইয়ে। আগের এক আদালতের আদেশে আরএসপিসিএর একজন পশুচিকিৎসক এবং থিওডোটুর বেছে নেওয়া একজন স্বাধীন পশুচিকিৎসকের যৌথভাবে রিটার ম য় না ত দ ন্ত করার কথা বলা হয়েছিল। তবে আরএসপিসিএ যৌথভাবে পরীক্ষা করার জন্য উপযুক্ত পশুচিকিৎসক খুঁজে না পাওয়ায় বিষয়টি আবার আদালতে ওঠে। সর্বশেষ শুনানিতে বিচারক মি. জাস্টিস কটার বলেন, রিটার মৃ ত্যু র কারণ জানতে পরীক্ষা করা প্রয়োজন হলেও থিওডোটুর ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি আরএসপিসিএ ও বিড়ালের মালিককে পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা করে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানান। আদালত নির্ধারণ করেছে, লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ে রিটার ম য় না ত দ ন্ত করা হবে এবং থিওডোটুর মনোনীত চিকিৎসক সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবেন। পরীক্ষা শেষে রিটার ম র দে হ সংরক্ষণ করা হবে, যাতে থিওডোটু চাইলে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করার অনুমতি চেয়ে আদালতে যেতে পারেন। থিওডোটুর করা ৫ লাখ পাউন্ডের ক্ষতিপূরণের মা ম লাটি রিটার মৃ ত্যু কে কেন্দ্র করে নয়; বরং বিড়ালটিকে তাঁর বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। আরএসপিএর বিরুদ্ধে হয়রানি ও অবহেলার অভিযোগ এবং পুলিশের বিরুদ্ধে আ ক্র ম ণ, বেআইনি প্রবেশ ও অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের কোনোটি এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
১৯৬৮ সালের ১০ ডিসেম্বর। জাপানের টোকিওতে পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি চার ব্যাংককর্মীকে থামিয়ে এমন এক নাটক সাজিয়েছিলেন, যার পরিণতিতে প্রায় ৩০ কোটি ইয়েন নিয়ে উধাও হয়ে যান তিনি। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরও সেই অর্থ উদ্ধার হয়নি, ধরা পড়েনি ঘটনার মূল হোতাও। সেদিন চার ব্যাংককর্মী একটি গাড়িতে করে টশিবার ফুচু কারখানার কর্মীদের বোনাসের টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন। গাড়িতে ছিল ২৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭ হাজার ৫০০ ইয়েন। ১৯৬৮ সালের বিনিময় হারে যার মূল্য ছিল প্রায় ৮ লাখ ১৮ হাজার মার্কিন ডলার। গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশের মোটরসাইকেল নিয়ে এক ব্যক্তি তাদের গাড়ি থামান। পুলিশের পোশাক পরা ওই ব্যক্তি দাবি করেন, ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপকের বাড়িতে বি স্ফো রণ ঘটেছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, তাদের গাড়িতেও বো ম থাকতে পারে। ভয় পেয়ে চার ব্যাংককর্মী গাড়ি থেকে নেমে আসেন। এরপর ওই ব্যক্তি গাড়ির নিচে ঢুকে পরীক্ষা করার ভান করেন। কিছুক্ষণ পর তিনি চিৎকার করে জানান, গাড়ির নিচে ডা য় না মাই ট পাওয়া গেছে এবং যেকোনো মুহূর্তে গাড়িটি বি স্ফো রিত হতে পারে। পরিস্থিতিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে গাড়ির নিচে ধোঁয়া ও আগুনের মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। পরে জানা যায়, ওই ধোঁয়া ও আগুন আসলে একটি ফ্লেয়ার থেকে তৈরি করা হয়েছিল। আতঙ্কিত ব্যাংককর্মীরা গাড়ি থেকে দূরে সরে গেলে ভুয়া পুলিশ সদস্যটি গাড়িতে উঠে সেটি চালিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনাটি জাপানে ‘৩০ কোটি ইয়েন ডাকাতি’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। পুলিশ ব্যাপক তদন্ত শুরু করে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য তদন্তে যুক্ত হন এবং অসংখ্য সম্ভাব্য সন্দেহভাজনের তথ্য যাচাই করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১২০টি আলামতও উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, এর কিছু ছিল তদন্তকে বিভ্রান্ত করার জন্য সাজানো। তদন্তে একজন সম্ভাব্য সন্দেহভাজনের নাম সামনে এসেছিল। তবে তাকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। চুরি যাওয়া অর্থও আর কখনো উদ্ধার হয়নি। দীর্ঘ তদন্তের পরও প্রকৃত অপরাধীর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ১৯৬৮ সালের সেই ঘটনার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু জাপানের আলোচিত এই ডাকাতির রহস্য এখনো অমীমাংসিত। পুলিশের পোশাক, সাজানো বি স্ফো রণের ভয় এবং কয়েক মিনিটের অভিনয় ব্যবহার করে বিপুল অর্থ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি আজও জাপানের অন্যতম আলোচিত অমীমাংসিত অপরাধ হিসেবে পরিচিত।
বোয়িংয়ের পর এবার ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে আরও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী অক্টোবরেই এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা এয়ারবাস কিনছি। ১০টি কিনছি। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবরে চুক্তি হয়ে যাবে।” বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য এয়ারবাসের দেওয়া প্রস্তাবে রয়েছে মোট ১০টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে চারটি A350-900 ওয়াইডবডি এবং ছয়টি A321neo ন্যারোবডি উড়োজাহাজ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে জানা গেছে। A350-900 মূলত দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহারের উপযোগী। অন্যদিকে A321neo অপেক্ষাকৃত ছোট ও মাঝারি দূরত্বের রুটে বেশি কার্যকর। ফলে প্রস্তাবিত বহরে দুই ধরনের উড়োজাহাজ থাকলে দূরপাল্লার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে চূড়ান্ত চুক্তিতে ঠিক কোন মডেল, কত দামে এবং কী অর্থায়ন কাঠামোয় উড়োজাহাজগুলো কেনা হবে, সে বিষয়ে সরকার বা বিমান এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। জুলাইয়ে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাট জানিয়েছিলেন, চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর মূল্য ও অন্যান্য শর্ত প্রকাশ করা হবে। এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে সরকারের আগের পরিকল্পনায় আগস্টের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। ২১ জুলাই প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাট জানিয়েছিলেন, ৩১ আগস্টের মধ্যে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি করার লক্ষ্য রয়েছে এবং উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ সাল থেকে বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা। তবে সেই সময়সীমায় চুক্তি হয়নি। সেপ্টেম্বরে এসে আলোচনা আরও এগিয়েছে এবং এখন অক্টোবরকে সম্ভাব্য চুক্তির সময় হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ফরাসি রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে জানিয়েছিলেন, বিমান ও এয়ারবাসের মধ্যে আলোচনা তখনও চলছিল। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি বাণিজ্যিক ও কারিগরি বিবেচনার ভিত্তিতে এগোচ্ছে। এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অক্টোবর মাসে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং প্রস্তাবিত প্যাকেজে চারটি A350-900 ও ছয়টি A321neo রয়েছে। এয়ারবাসের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিটি আসছে বিমানের বড় ধরনের বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচির মধ্যে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে। ওই চুক্তিতে রয়েছে আটটি Boeing 787-10, দুটি Boeing 787-9 এবং চারটি Boeing 737 MAX 8। এসব উড়োজাহাজের সরবরাহ ২০৩১ সালের নভেম্বর থেকে ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে হওয়ার কথা। এরপর সেপ্টেম্বরে বিমান আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য অতিরিক্ত চুক্তি করেছে। এর মধ্যে পাঁচটি Boeing 787-10 এবং ছয়টি Boeing 737-8 রয়েছে। ফলে আগে করা ১৪টি এবং নতুন ১১টি মিলিয়ে বিমানের বোয়িং ক্রয় পরিকল্পনা দাঁড়িয়েছে ২৫টি উড়োজাহাজে।এখন এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজের চুক্তি সম্পন্ন হলে বোয়িং ও এয়ারবাস মিলিয়ে বিমানের নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের পাইপলাইনে মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ থাকবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে সংস্থাটির বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি Boeing 787-9, চারটি Boeing 787-8, চারটি Boeing 777-300ER, চারটি Boeing 737-800 এবং পাঁচটি Dash 8-400 রয়েছে। অর্থাৎ নতুন ক্রয় পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বিমানের বহর বর্তমান অবস্থার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বড় হবে।বিমানের পক্ষ থেকে সম্প্রতি বলা হয়েছে, নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের লক্ষ্য শুধু বহর বড় করা নয়; আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণ, নতুন রুট চালু এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানোও এর উদ্দেশ্য। ১১টি অতিরিক্ত বোয়িং কেনার পর বিমান কর্তৃপক্ষ এটিকে বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসও থাকবে। অর্থাৎ জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি একটি মিশ্র উড়োজাহাজ বহর বা mixed fleet পরিচালনার দিকে এগোবে। সরকারের পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছে, দেশের বিমান চলাচল খাতের সম্প্রসারণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর জন্য বোয়িং ও এয়ারবাস উভয় ধরনের উড়োজাহাজ প্রয়োজন। জুলাইয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও বলেছিলেন, বাংলাদেশ উভয় নির্মাতার কাছ থেকেই উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে এবং একটি টেকসই মিশ্র বহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এয়ারবাসের চুক্তি অক্টোবরে সম্পন্ন হলে সাম্প্রতিক কয়েক মাসে বিমানের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বড় আকার নেবে। এপ্রিলের ১৪টি বোয়িং, সেপ্টেম্বরে অতিরিক্ত ১১টি বোয়িং এবং প্রস্তাবিত ১০টি এয়ারবাস নতুন ৩৫টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের একটি বড় পাইপলাইন তৈরি হবে।এর বাইরে ২০২৭ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও সরকার জানিয়েছে। এর উদ্দেশ্য নতুন কেনা উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করা এবং বিভিন্ন রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো। তবে এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মূল্য, অর্থায়ন, সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং চুক্তির অন্যান্য বাণিজ্যিক শর্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে অক্টোবরের সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর এসব বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে। সর্বশেষ মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তে এগিয়েছে এবং অক্টোবরেই চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য রয়েছে। চুক্তি সম্পন্ন হলে এটি হবে বিমানের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
সিরিয়ার দেইর এজ-জোর শহর যখন আই এ সের দখলের মুখে, তখন যুদ্ধের ঝুঁকি উপেক্ষা করে প্রায় ৩০ হাজার ঐতিহাসিক প্রত্নবস্তু সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান দেশটির প্রত্নতাত্ত্বিকরা। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে সেই দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে পরিচালিত ওই অভিযানে দেইর এজ-জোর জাদুঘরের মূল্যবান সংগ্রহগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এসব নিদর্শনের মধ্যে মেসোপটেমিয়ার প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত বহু গুরুত্বপূর্ণ বস্তু ছিল। গবেষণাটির লেখক ও প্রত্নতত্ত্ববিদ অধ্যাপক মামুন আবদুলকরিমের নেতৃত্বে ওই সময় সিরিয়ার প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর অধিদপ্তর উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। তিনি ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সংস্থাটির মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর সময়কালে সিরিয়ার বিভিন্ন জাদুঘর থেকে প্রায় ৩ লাখ প্রত্নবস্তু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার ছিল দেইর এজ-জোর জাদুঘরের। দেইর এজ-জোর ছিল সিরিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা। জাদুঘরটির অনেক নিদর্শন এসেছে হালাফ, দুরা-ইউরোপোস ও মারির মতো প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে। তবে শহরটি তখন ছিল ভয়াবহ সংঘাতের মধ্যে। জাদুঘরটি একটি সামরিক বিমানবন্দরের সঙ্গে সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি পথ দিয়ে যুক্ত ছিল। ফলে প্রত্নবস্তু সরিয়ে নেওয়ার প্রতিটি ধাপেই ছিল বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি। গবেষণায় বলা হয়েছে, যুদ্ধের সময় এমন উদ্ধার অভিযান শুধু পরিবহন ও পরিকল্পনার বিষয় নয়। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, পরস্পরের ওপর আস্থা রাখা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলানোর সক্ষমতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অধ্যাপক আবদুলকরিমের মতে, যুদ্ধের মধ্যে সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা করলে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারিয়ে যেতে পারে। দেইর এজ-জোরের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০১৪ সালের পর সিরিয়া ও ইরাকের বড় অংশে আই এ সের নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত হলে বহু জাদুঘর ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা লুট ও ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়ে। ইরাকের মসুলে জাদুঘর লুট এবং নিনেভে ও আসিরীয় সভ্যতার বহু নিদর্শন ধ্বংসের ঘটনাও সিরিয়ার প্রত্নতত্ত্ব কর্তৃপক্ষকে জরুরি সংরক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করতে বাধ্য করে। অধ্যাপক আবদুলকরিম বলেন, এসব প্রত্নবস্তু শুধু জাদুঘরের সংগ্রহ নয়। এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার বছরের মানব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের স্মৃতি। তাঁর ভাষায়, ৩০ হাজার নিদর্শন উদ্ধার করার অর্থ শুধু ৩০ হাজার বস্তু রক্ষা করা নয়; বরং যুদ্ধের কারণে মুছে যেতে বসা হাজার বছরের ইতিহাসকে সংরক্ষণ করা। নতুন গবেষণাটি Museum Management and Curatorship সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে যুদ্ধ বা সংকটের আগেই জাদুঘর ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রক্ষায় প্রস্তুতি, নথিপত্র, পেশাগত সক্ষমতা ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তি তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চলমান বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন ধরনের ম দ, কিছু দুগ্ধপণ্য এবং মোটরসাইকেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষে ধাজ্ঞা মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্য এই ব্যবস্থার আওতায় পড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮ সেপ্টেম্বর এসব আমদানি বন্ধের ঘোষণা দেন। তাঁর প্রশাসনের দাবি, কানাডা মার্কিন দুগ্ধ, অটোমোবাইল ও ম দজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপের পরই ওয়াশিংটন নতুন এই পদক্ষেপ নেয়। নতুন ব্যবস্থায় বিয়ার, বিভিন্ন ধরনের ওয়াইন, হুইস্কি, ভদকা, রাম, টেকিলা, ব্র্যান্ডি ও অন্যান্য ম দজাত পানীয়ের বেশির ভাগই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দুগ্ধপণ্যের ক্ষেত্রে হুই প্রোটিনসহ কিছু নির্দিষ্ট পণ্য এবং মোলাসেসের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে। ৮০০ সিসির বেশি ইঞ্জিনযুক্ত কিছু মোটরসাইকেল ও মোপেডও তালিকায় রয়েছে। কানাডার ম দ শিল্পের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির ম দ রপ্তানির বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভর। ফলে নতুন নিষে ধাজ্ঞায় বিশেষ করে ছোট উৎপাদকদের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে শিল্পসংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। দুই দেশের মধ্যে এরই মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক চলছে। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল। এর জবাবে কানাডাও মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক বসিয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, নতুন মার্কিন পদক্ষেপের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও খাতগুলো বাস্তব চাপের মুখে পড়বে। তবে সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের তুলনায় নিষে ধাজ্ঞার আওতাধীন পণ্যের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বছরে প্রায় ৮৮০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়। এদিকে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য আলোচনা এখনো স্থবির। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর তাড়া নেই। ফলে নতুন নিষে ধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরও দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধ সহজে কাটছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন পদক্ষেপের সরাসরি অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ দুই বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্ক ও উত্তর আমেরিকার মুক্তবাণিজ্য কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এক বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এনসিপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং দলটির জনসমর্থন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তিনি তাকে নানা অবমাননাকর শব্দে আখ্যায়িত করেন। তবে এগুলো বক্তার ব্যক্তিগত মন্তব্য ও রাজনৈতিক কটাক্ষ; এগুলোকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপস্থিতি থাকলেও তার আহ্বানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জামায়াত-শিবিরের কর্মীরাও মাঠে আসছেন না। এ সময় তিনি জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির রাজনৈতিক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়েও নানা মন্তব্য করেন। বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এনসিপি প্রধান বিরোধী দলের অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে জামায়াতের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে অবস্থান নিতে পারে। পোস্টের শেষাংশে তিনি কয়েকটি স্লোগান ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যের মাধ্যমে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সমন্বয়কদের সমালোচনা করেন। রাজনৈতিক বক্তব্যে ব্যবহৃত এসব অভিযোগ ও কটাক্ষের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা দলের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে ভারসাম্যপূর্ণভাবে যুক্ত করা যেতে পারে।