বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাস, ১০ উড়োজাহাজে আকাশপথে বড় বিস্তারের পথে বাংলাদেশ
বোয়িংয়ের পর এবার ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে আরও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী অক্টোবরেই এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা এয়ারবাস কিনছি। ১০টি কিনছি। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবরে চুক্তি হয়ে যাবে।”
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য এয়ারবাসের দেওয়া প্রস্তাবে রয়েছে মোট ১০টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে চারটি A350-900 ওয়াইডবডি এবং ছয়টি A321neo ন্যারোবডি উড়োজাহাজ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে জানা গেছে।
A350-900 মূলত দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহারের উপযোগী। অন্যদিকে A321neo অপেক্ষাকৃত ছোট ও মাঝারি দূরত্বের রুটে বেশি কার্যকর। ফলে প্রস্তাবিত বহরে দুই ধরনের উড়োজাহাজ থাকলে দূরপাল্লার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে চূড়ান্ত চুক্তিতে ঠিক কোন মডেল, কত দামে এবং কী অর্থায়ন কাঠামোয় উড়োজাহাজগুলো কেনা হবে, সে বিষয়ে সরকার বা বিমান এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। জুলাইয়ে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাট জানিয়েছিলেন, চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর মূল্য ও অন্যান্য শর্ত প্রকাশ করা হবে।
এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে সরকারের আগের পরিকল্পনায় আগস্টের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। ২১ জুলাই প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাট জানিয়েছিলেন, ৩১ আগস্টের মধ্যে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি করার লক্ষ্য রয়েছে এবং উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ সাল থেকে বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা।
তবে সেই সময়সীমায় চুক্তি হয়নি। সেপ্টেম্বরে এসে আলোচনা আরও এগিয়েছে এবং এখন অক্টোবরকে সম্ভাব্য চুক্তির সময় হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
২২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ফরাসি রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে জানিয়েছিলেন, বিমান ও এয়ারবাসের মধ্যে আলোচনা তখনও চলছিল। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি বাণিজ্যিক ও কারিগরি বিবেচনার ভিত্তিতে এগোচ্ছে।
এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অক্টোবর মাসে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং প্রস্তাবিত প্যাকেজে চারটি A350-900 ও ছয়টি A321neo রয়েছে।
এয়ারবাসের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিটি আসছে বিমানের বড় ধরনের বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচির মধ্যে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে।
ওই চুক্তিতে রয়েছে আটটি Boeing 787-10, দুটি Boeing 787-9 এবং চারটি Boeing 737 MAX 8। এসব উড়োজাহাজের সরবরাহ ২০৩১ সালের নভেম্বর থেকে ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে হওয়ার কথা।
এরপর সেপ্টেম্বরে বিমান আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য অতিরিক্ত চুক্তি করেছে। এর মধ্যে পাঁচটি Boeing 787-10 এবং ছয়টি Boeing 737-8 রয়েছে। ফলে আগে করা ১৪টি এবং নতুন ১১টি মিলিয়ে বিমানের বোয়িং ক্রয় পরিকল্পনা দাঁড়িয়েছে ২৫টি উড়োজাহাজে।এখন এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজের চুক্তি সম্পন্ন হলে বোয়িং ও এয়ারবাস মিলিয়ে বিমানের নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের পাইপলাইনে মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ থাকবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে সংস্থাটির বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি Boeing 787-9, চারটি Boeing 787-8, চারটি Boeing 777-300ER, চারটি Boeing 737-800 এবং পাঁচটি Dash 8-400 রয়েছে।
অর্থাৎ নতুন ক্রয় পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বিমানের বহর বর্তমান অবস্থার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বড় হবে।বিমানের পক্ষ থেকে সম্প্রতি বলা হয়েছে, নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের লক্ষ্য শুধু বহর বড় করা নয়; আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণ, নতুন রুট চালু এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানোও এর উদ্দেশ্য। ১১টি অতিরিক্ত বোয়িং কেনার পর বিমান কর্তৃপক্ষ এটিকে বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসও থাকবে। অর্থাৎ জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি একটি মিশ্র উড়োজাহাজ বহর বা mixed fleet পরিচালনার দিকে এগোবে।
সরকারের পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছে, দেশের বিমান চলাচল খাতের সম্প্রসারণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর জন্য বোয়িং ও এয়ারবাস উভয় ধরনের উড়োজাহাজ প্রয়োজন। জুলাইয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও বলেছিলেন, বাংলাদেশ উভয় নির্মাতার কাছ থেকেই উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে এবং একটি টেকসই মিশ্র বহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এয়ারবাসের চুক্তি অক্টোবরে সম্পন্ন হলে সাম্প্রতিক কয়েক মাসে বিমানের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বড় আকার নেবে। এপ্রিলের ১৪টি বোয়িং, সেপ্টেম্বরে অতিরিক্ত ১১টি বোয়িং এবং প্রস্তাবিত ১০টি এয়ারবাস নতুন ৩৫টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের একটি বড় পাইপলাইন তৈরি হবে।এর বাইরে ২০২৭ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও সরকার জানিয়েছে। এর উদ্দেশ্য নতুন কেনা উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করা এবং বিভিন্ন রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো।
তবে এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মূল্য, অর্থায়ন, সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং চুক্তির অন্যান্য বাণিজ্যিক শর্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে অক্টোবরের সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর এসব বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে।
সর্বশেষ মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তে এগিয়েছে এবং অক্টোবরেই চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য রয়েছে। চুক্তি সম্পন্ন হলে এটি হবে বিমানের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreবোয়িংয়ের পর এবার ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে আরও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী অক্টোবরেই এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা এয়ারবাস কিনছি। ১০টি কিনছি। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবরে চুক্তি হয়ে যাবে।” বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য এয়ারবাসের দেওয়া প্রস্তাবে রয়েছে মোট ১০টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে চারটি A350-900 ওয়াইডবডি এবং ছয়টি A321neo ন্যারোবডি উড়োজাহাজ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে জানা গেছে। A350-900 মূলত দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহারের উপযোগী। অন্যদিকে A321neo অপেক্ষাকৃত ছোট ও মাঝারি দূরত্বের রুটে বেশি কার্যকর। ফলে প্রস্তাবিত বহরে দুই ধরনের উড়োজাহাজ থাকলে দূরপাল্লার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে চূড়ান্ত চুক্তিতে ঠিক কোন মডেল, কত দামে এবং কী অর্থায়ন কাঠামোয় উড়োজাহাজগুলো কেনা হবে, সে বিষয়ে সরকার বা বিমান এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। জুলাইয়ে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাট জানিয়েছিলেন, চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর মূল্য ও অন্যান্য শর্ত প্রকাশ করা হবে। এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে সরকারের আগের পরিকল্পনায় আগস্টের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। ২১ জুলাই প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাট জানিয়েছিলেন, ৩১ আগস্টের মধ্যে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি করার লক্ষ্য রয়েছে এবং উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ সাল থেকে বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা। তবে সেই সময়সীমায় চুক্তি হয়নি। সেপ্টেম্বরে এসে আলোচনা আরও এগিয়েছে এবং এখন অক্টোবরকে সম্ভাব্য চুক্তির সময় হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ফরাসি রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে জানিয়েছিলেন, বিমান ও এয়ারবাসের মধ্যে আলোচনা তখনও চলছিল। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি বাণিজ্যিক ও কারিগরি বিবেচনার ভিত্তিতে এগোচ্ছে। এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অক্টোবর মাসে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং প্রস্তাবিত প্যাকেজে চারটি A350-900 ও ছয়টি A321neo রয়েছে। এয়ারবাসের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিটি আসছে বিমানের বড় ধরনের বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচির মধ্যে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে। ওই চুক্তিতে রয়েছে আটটি Boeing 787-10, দুটি Boeing 787-9 এবং চারটি Boeing 737 MAX 8। এসব উড়োজাহাজের সরবরাহ ২০৩১ সালের নভেম্বর থেকে ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে হওয়ার কথা। এরপর সেপ্টেম্বরে বিমান আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য অতিরিক্ত চুক্তি করেছে। এর মধ্যে পাঁচটি Boeing 787-10 এবং ছয়টি Boeing 737-8 রয়েছে। ফলে আগে করা ১৪টি এবং নতুন ১১টি মিলিয়ে বিমানের বোয়িং ক্রয় পরিকল্পনা দাঁড়িয়েছে ২৫টি উড়োজাহাজে।এখন এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজের চুক্তি সম্পন্ন হলে বোয়িং ও এয়ারবাস মিলিয়ে বিমানের নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের পাইপলাইনে মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ থাকবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে সংস্থাটির বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি Boeing 787-9, চারটি Boeing 787-8, চারটি Boeing 777-300ER, চারটি Boeing 737-800 এবং পাঁচটি Dash 8-400 রয়েছে। অর্থাৎ নতুন ক্রয় পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বিমানের বহর বর্তমান অবস্থার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বড় হবে।বিমানের পক্ষ থেকে সম্প্রতি বলা হয়েছে, নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের লক্ষ্য শুধু বহর বড় করা নয়; আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণ, নতুন রুট চালু এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানোও এর উদ্দেশ্য। ১১টি অতিরিক্ত বোয়িং কেনার পর বিমান কর্তৃপক্ষ এটিকে বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসও থাকবে। অর্থাৎ জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি একটি মিশ্র উড়োজাহাজ বহর বা mixed fleet পরিচালনার দিকে এগোবে। সরকারের পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছে, দেশের বিমান চলাচল খাতের সম্প্রসারণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর জন্য বোয়িং ও এয়ারবাস উভয় ধরনের উড়োজাহাজ প্রয়োজন। জুলাইয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও বলেছিলেন, বাংলাদেশ উভয় নির্মাতার কাছ থেকেই উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে এবং একটি টেকসই মিশ্র বহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এয়ারবাসের চুক্তি অক্টোবরে সম্পন্ন হলে সাম্প্রতিক কয়েক মাসে বিমানের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বড় আকার নেবে। এপ্রিলের ১৪টি বোয়িং, সেপ্টেম্বরে অতিরিক্ত ১১টি বোয়িং এবং প্রস্তাবিত ১০টি এয়ারবাস নতুন ৩৫টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের একটি বড় পাইপলাইন তৈরি হবে।এর বাইরে ২০২৭ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও সরকার জানিয়েছে। এর উদ্দেশ্য নতুন কেনা উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করা এবং বিভিন্ন রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো। তবে এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মূল্য, অর্থায়ন, সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং চুক্তির অন্যান্য বাণিজ্যিক শর্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে অক্টোবরের সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর এসব বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে। সর্বশেষ মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তে এগিয়েছে এবং অক্টোবরেই চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য রয়েছে। চুক্তি সম্পন্ন হলে এটি হবে বিমানের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
রূপপুরের জ্বালানি আনতে গিয়ে পাকিস্তানের আকাশসীমায় বাধাপ্রাপ্ত রুশ বিমান
বয়স ১২৩, তবু চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন নাটোরের আব্বাস
বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রি, বন্ধ করা হলো দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, আগামী চার বছরের মধ্যে সবার কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রংপুরে তিনি এ কথা বলেন। কার্ড বিতরণে কাউকে বাদ দেওয়া হবে না বোঝাতে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, একই সময়ের মধ্যে কৃষকদের কাছেও কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে তাঁর বক্তব্যে কার্ড বিতরণের বিস্তারিত পরিকল্পনা বা সময়সূচি উল্লেখ করা হয়নি। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জরিপ করা সব পরিবারকে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নিয়মিত নগদ সহায়তা পাবেন নির্বাচিত পরিবারগুলো। ফলে কার্ড পাওয়া এবং নগদ সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি এক নয়। এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচির সমালোচনা করে মীর শাহে আলম অভিযোগ করেন, বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য তারা অহেতুক কর্মসূচি নিচ্ছে। তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য বক্তব্যে তুলে ধরা হয়নি। জ্বালানি তেলের সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, সংকট থাকলে ১১ দল লং মার্চ করল কীভাবে। লং মার্চে সমস্যার সমাধান হলে বিএনপি টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত লং মার্চ করত বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। সূত্র: সময় টিভি নিউজ
সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব কালবেলা সম্পাদক সন্তোষ শর্মার
খুঁটিতে বাঁধা বাবাকে চা-রুটি খাওয়ানো তুবার পাশে প্রশাসন, পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও
এমআইটির হ্যাকাথনে স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জ জিতলেন দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বোরকা ও মাস্ক পরে উত্তরখান ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। পরিচয় প্রকাশ না করে সাধারণ সেবাগ্রহীতার মতো লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি নামজারি প্রক্রিয়া ও সরকারি ফি সম্পর্কে খোঁজ নেন। অফিসে তখন জমির নামজারি ও তথ্য জানতে আসা মানুষের ভিড় ছিল। ফরিদা খানমও সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অপেক্ষা করেন। পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভূমিসেবা নিতে এসেছেন। পরিদর্শনের সময় সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিজ্ঞতা শোনেন জেলা প্রশাসক। কর্মকর্তাদের আচরণ ও সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। জেলা প্রশাসন সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেবাগ্রহীতারা বিলম্ব, অনিয়ম বা হয়রানির মুখে পড়ছেন কি না, তা সরাসরি জানতেই তিনি পরিচয় গোপন রেখে অফিসে যান। তবে ওই পরিদর্শনে নির্দিষ্ট কোনো অনিয়ম শনাক্ত বা কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে নেই। পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ও সহজে ভূমিসেবা দেওয়ার নির্দেশ দেন ফরিদা খানম। সেবা নিতে এসে কাউকে যেন অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি বা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে বলেন তিনি। সূত্র: আমার দেশ
অনুমোদন ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, বাংলাদেশে ২২ প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ ঘোষণা
শাশুড়ির সামনের চড় মারায় বাবাকে হত্যা, দুই দিন পর ছেলের আত্মসমর্পণ