- প্রচ্ছদ
- আইন-আদালত
আইন-আদালত
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে সোমবার শুরু হয়েছে এমন একটি মামলা, যার রায় দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত বহু মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। মামলায় কলোরাডোর বোল্ডার শহর ও কাউন্টি অভিযোগ করেছে, তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল ও সানকর এনার্জির জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবসা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি বাড়িয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে এসব ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। বোল্ডারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কোম্পানি দুটির কাছ থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তৈরি হওয়া বিভিন্ন ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাইছে। এর মধ্যে অবকাঠামো মেরামত, পরিবেশগত ক্ষতি, জরুরি ব্যবস্থাপনা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর পড়া ব্যয়ের বিষয় রয়েছে। এক্সনমোবিল ও সানকর অবশ্য এই মামলা এগিয়ে নেওয়ার বিরোধিতা করছে। তাদের দাবি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বায়ুদূষণসংক্রান্ত বিষয় মূলত ফেডারেল আইনের আওতায় পড়ে। তাই কোনো একটি শহর বা অঙ্গরাজ্যের আইন ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জীবাশ্ম জ্বালানি নির্গমনের জন্য কোম্পানিগুলোকে দায়ী করা উচিত নয়। কোম্পানি দুটির পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনও অবস্থান নিয়েছে। সরকারের যুক্তি, বোল্ডারের মামলা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিলে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারগুলো ফেডারেল পরিবেশনীতি পাশ কাটিয়ে জাতীয় পর্যায়ের জ্বালানি ও জলবায়ু নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারবে। মামলাটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকার একই ধরনের প্রায় ৬০টি মামলা করেছে। এসব মামলায় জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানির কাছ থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির জন্য কোটি কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট যদি তেল কোম্পানিগুলোর পক্ষে রায় দেয়, তাহলে এর মধ্যে অনেক মামলা আটকে যেতে বা বাতিল হতে পারে। অন্যদিকে বোল্ডারের পক্ষে রায় গেলে স্থানীয় সরকারগুলোর জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির আর্থিক দায় নিয়ে জ্বালানি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করার পথ আরও শক্তিশালী হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি শিল্পের ওপর ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মামলাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের ক্ষমতার সীমা। সুপ্রিম কোর্টকে মূলত বিবেচনা করতে হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যার ক্ষতির জন্য স্থানীয় আদালতে অঙ্গরাজ্যের আইন ব্যবহার করে জ্বালানি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করা যায় কি না। সুপ্রিম কোর্টের নয়জন বিচারপতির মধ্যে বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো এই মামলায় অংশ নিচ্ছেন না। তার আর্থিক ঘোষণায় কয়েকটি তেল ও গ্যাস কোম্পানির শেয়ার থাকার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। ফলে তিনি মামলাটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। আলিটো অংশ না নেওয়ায় মামলাটিতে সমান সংখ্যক ভোট পড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। সে ক্ষেত্রে নিচের আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পারে। তবে সুপ্রিম কোর্ট কীভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বোল্ডারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের মামলা তেল উৎপাদন বন্ধ করার দাবি নয়। বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্থানীয় জনগণ ও করদাতাদের যে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, তার একটি অংশের দায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর ওপর দেওয়াই তাদের লক্ষ্য। অন্যদিকে জ্বালানি কোম্পানিগুলো আশঙ্কা করছে, বোল্ডারের মামলা চলতে দিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের অসংখ্য মামলা হতে পারে। এতে জ্বালানি শিল্পের ওপর বিপুল আর্থিক দায় তৈরি হতে পারে এবং জাতীয় জ্বালানি নীতিতে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ভিন্নতা তৈরি হতে পারে। এই মামলার রায় শুধু এক্সনমোবিল বা সানকর এনার্জির জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি শিল্প, স্থানীয় সরকার এবং জলবায়ু ক্ষতির আইনি দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী বছরের জুনের মধ্যে আসতে পারে। ততদিন পর্যন্ত বোল্ডারসহ একই ধরনের মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ অনেকটাই এই মামলার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে দেশটির অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি লড়াই আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। হার্ভার্ডকে দেওয়া দুইশ বিশ কোটি ডলারের বেশি সরকারি গবেষণা অনুদান বাতিল করার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখন আপিল আদালতে পর্যালোচনা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সোমবার বোস্টনভিত্তিক প্রথম সার্কিট আপিল আদালতে শুনানি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে বলেছেন, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ইহুদিবিদ্বেষ ও ইহুদি শিক্ষার্থীদের হয়রানি মোকাবিলায় যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি। এ কারণে সরকারি অর্থায়ন বন্ধ করার অধিকার সরকারের রয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন। অন্যদিকে হার্ভার্ডের আইনজীবীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত দাবির কাছে নতি স্বীকার করাতে সরকারি অর্থকে চাপ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এই পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল। এই বিরোধের সূত্রপাত ২০২৫ সালে। ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডের কাছে একাধিক পরিবর্তনের দাবি জানায়। এসব দাবির মধ্যে বৈচিত্র্য ও সমতা বিষয়ক কর্মসূচিতে পরিবর্তন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমের ওপর বাইরের নজরদারির মতো বিষয়ও ছিল। হার্ভার্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালান গারবার এসব দাবির বিরোধিতা করেন। তিনি যুক্তি দেন, কোন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়াবে, কাদের নিয়োগ দেবে এবং কোন গবেষণা করবে—এসব বিষয়ে সরকারের সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া উচিত নয়। এর পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডের সরকারি অনুদান আটকে দেয় এবং পরে প্রায় ২২০ কোটি ডলারের অনুদান বাতিল করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইহুদি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর সমস্যা রয়েছে। হার্ভার্ড আদালতে গিয়ে এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে। বিশ্ববিদ্যালয় অভিযোগ করে, সরকারি অনুদান বন্ধ করার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনের রাজনৈতিক দাবিগুলো মেনে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়কে বাধ্য করা। এর আগে নিম্ন আদালতের বিচারক অ্যালিসন বারোজ হার্ভার্ডের পক্ষে রায় দেন। তিনি মনে করেন, সরকারি অর্থায়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের পেছনে মতাদর্শগত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। এখন আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত শুধু হার্ভার্ডের জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আদালত যদি ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান সমর্থন করে, তাহলে ভবিষ্যতে সরকারি অর্থায়ন ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নীতিতে পরিবর্তন আনার সরকারের ক্ষমতা বাড়তে পারে। অন্যদিকে হার্ভার্ডের অবস্থান আদালতে টিকে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বাধীনতা এবং সরকারি অর্থায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির তৈরি হতে পারে। হার্ভার্ড এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আরও কয়েকটি আইনি বিরোধে জড়িয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও থাকার অধিকার নিয়েও আলাদা মামলা রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় হার্ভার্ড ও ট্রাম্প প্রশাসনের এই সংঘাত এখন দেশটির বড় রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনার একটি অংশ হয়ে উঠেছে। এই মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তাই সরকারি অনুদান শেষ পর্যন্ত হার্ভার্ড পাবে কি না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর সরকারের শর্ত আরোপের ক্ষমতা কতটা থাকবে, তা আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা, ঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি শুনানি শুরু করেছে। সোমবার অনুষ্ঠিত এই শুনানিকে শহরটির জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, এটি এআই নিয়ে শহর পর্যায়ে প্রথম বড় ধরনের নজরদারি শুনানিগুলোর একটি। শুনানিতে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের কাছ থেকে এআই ব্যবহারের নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের ওপর এআই প্রযুক্তির প্রভাব, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির জবাবদিহি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অনেক অংশে প্রবেশ করেছে। চাকরি খোঁজা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং, ব্যবসা, যোগাযোগ, ছবি তৈরি, ভিডিও সম্পাদনা এবং গ্রাহকসেবা—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, এর ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ তত বাড়ছে। বিশেষ করে ভুল তথ্য, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত, কর্মসংস্থানে প্রভাব এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের শুনানিতে এসব বিষয় নিয়েই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহির মুখোমুখি করা হচ্ছে। কাউন্সিল জানতে চাইছে, কোম্পানিগুলো তাদের এআই সিস্টেমের মাধ্যমে মানুষের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে এবং সম্ভাব্য ক্ষতি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এআইয়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো কর্মসংস্থান। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহার করে এমন কাজ স্বয়ংক্রিয় করা হচ্ছে, যেগুলো আগে মানুষ করতেন। একই সময়ে এআই নতুন ধরনের চাকরিও তৈরি করছে। নিউইয়র্কের মতো বড় শহরে এই পরিবর্তনের প্রভাব আরও গুরুত্বপূর্ণ। এখানে প্রযুক্তি, অর্থনীতি, মিডিয়া, বিজ্ঞাপন, আইন, স্বাস্থ্যসেবা এবং আর্থিক খাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ কাজ করেন। এসব খাতে এআই ব্যবহারের মাত্রা দ্রুত বাড়ছে। কাউন্সিলের শুনানিতে তাই শুধু প্রযুক্তির সুবিধা নয়, এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি এআই ব্যবহার করে কর্মী নিয়োগ, ঋণ অনুমোদন, চাকরি বাতিল বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সেই সিদ্ধান্তের জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আরেকটি বড় বিষয় হলো ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা। মানুষ প্রতিদিন এআই অ্যাপ ও সেবায় বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করছেন। কেউ লিখছেন ব্যক্তিগত বার্তা, কেউ ছবি দিচ্ছেন, কেউ ব্যবসায়িক তথ্য ব্যবহার করছেন, আবার কেউ স্বাস্থ্য বা আর্থিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করছেন।এসব তথ্য কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং কারা সেগুলো ব্যবহার করতে পারছে, তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু প্রযুক্তি তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের এই শুনানির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশু ও তরুণদের নিরাপত্তা। স্কুল ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। শিক্ষার্থীরা লেখালেখি, গবেষণা, অনুবাদ এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কাজে এআই ব্যবহার করছে। কিন্তু একই সঙ্গে পরীক্ষায় প্রতারণা, ভুল তথ্য, অনুপযুক্ত কনটেন্ট এবং শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ফলে স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহারের জন্য কী ধরনের নিয়ম থাকা উচিত, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।
জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে প্রায় ১৯ বছর দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে চাকরি করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর অফিস সহকারী মোহাম্মদ গোলাম মাওলাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। শুধু চাকরি হারানোই নয়, দীর্ঘ কর্মজীবনে বেতন-ভাতা হিসেবে নেওয়া ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাধারণ ও সংস্থাপন শাখা থেকে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশে গোলাম মাওলাকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত পদ্ধতিতে পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে। অফিস আদেশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর হাতিরপুল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ গোলাম মাওলা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ব্যবহার করে হাইকোর্ট বিভাগের অফিস সহকারী পদে চাকরি নিয়েছিলেন। তিনি ২০০৭ সালের ৩১ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে চাকরিতে যোগ দেন। � BarTabazar দীর্ঘ সময় চাকরি করার পর তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়ে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২১ সালে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা নম্বর ০৯/২০২১ করা হয়। বিভাগীয় কার্যক্রমে জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর সরকারি বিধি অনুযায়ী চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। তবে বিষয়টি চাকরিচ্যুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়, জাল ও জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ভিত্তিতে তাঁর নিয়োগ হওয়ায় চাকরিটি শুরু থেকেই বাতিল বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ, বৈধ শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া নিয়োগ পাওয়ার কারণে চাকরির পুরো সময়ের বেতন-ভাতার ওপর তাঁর অধিকারও স্বীকৃত হবে না—এমন অবস্থানই নেওয়া হয়েছে অফিস আদেশে। হিসাব অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত গোলাম মাওলা বেতন ও বিভিন্ন ভাতা বাবদ মোট ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা গ্রহণ করেছেন। নিয়োগ শুরু থেকেই বাতিল হিসেবে গণ্য হওয়ায় পুরো অর্থ ফেরত চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশে তাঁকে ৩০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় চালান ব্যবস্থার মাধ্যমে ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। ঘটনাটি সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সময় শিক্ষাগত সনদ যাচাইয়ের গুরুত্বও সামনে এনেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও জাল বা ভুয়া সনদের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন চাকরি করার একাধিক ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। যেমন, ২০২৬ সালে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ৭৩ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বন্ধ এবং তাঁদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ফেরত নেওয়ার নির্দেশের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই ঘটনাটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই প্রায় দুই দশক চাকরি করেছেন। ২০০৭ সালে যোগদানের পর অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২১ সালে বিভাগীয় মামলা এবং ২০২৬ সালে চাকরি থেকে অপসারণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তৃত। এখন অফিস আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে ৪২ লাখের বেশি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে গোলাম মাওলার। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো বক্তব্য বা তিনি সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না, সে তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
আইন পেশাকে শুধু অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে অসহায় ও আর্থিকভাবে অক্ষম মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, একজন আইনজীবীর উচিত নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজন হলে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই মামলা পরিচালনা করা। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ল’ ফেস্ট’-এ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, “টাকাই সবকিছু নয়।” তাঁর মতে, একজন আইনজীবী শুধু মক্কেলের প্রতিনিধি নন, তিনি আদালতেরও একজন কর্মকর্তা। বিপদের সময়ে একজন মানুষ আইনজীবীর ওপর আস্থা রেখে নিজের সমস্যার কথা জানান। তাই মক্কেলের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আদালতকে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সহায়তা করাও আইনজীবীর দায়িত্ব। বিনা পারিশ্রমিকে আইনি সহায়তার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে নিজের আইন পেশার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, এক অসহায় ভূমিহীন নারীর জমিসংক্রান্ত একটি মামলা তিনি কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই পরিচালনা করেছিলেন। এই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যৎ আইনজীবীদেরও সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে বলেন। আইনমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বলেন, দ্রুত অর্থবিত্ত অর্জনের পথ থাকলেও তা একজনকে ভালো আইনজীবী বানায় না। ভালো আইনজীবী হতে হলে শ্রম, অধ্যবসায় এবং নিয়মিত পড়াশোনার বিকল্প নেই। আইন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাই একজন আইনজীবীর প্রকৃত পেশাগত মূল্য তৈরি করে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আইনজীবীদের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, সমাজের পরিবর্তন ও বিকাশের বিভিন্ন পর্যায়ে আইনজীবীরা আইনি দিকনির্দেশনা দিয়ে ভূমিকা রাখেন। আদালতে একজন আইনজীবীকে বিচারক, বিপক্ষের আইনজীবী, নিজের মক্কেল এবং সংশ্লিষ্ট সবার বিষয় বিবেচনায় রেখে বক্তব্য উপস্থাপন করতে হয়। ফলে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, আইনের সঠিক ব্যাখ্যা এবং যথাযথভাবে যুক্তি তুলে ধরার দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী থাকলেও তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের সুযোগের ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়ার কথা জানান তিনি। লক্ষ্য হচ্ছে দক্ষ, যোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত নতুন প্রজন্মের আইন পেশাজীবী তৈরি করা। একই সঙ্গে আইন সংস্কারের ক্ষেত্রেও তরুণদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান আসাদুজ্জামান। প্রচলিত কোনো আইনে অসঙ্গতি থাকলে বা পরিবর্তনের প্রয়োজন মনে হলে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব ও খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারেন বলে জানান তিনি। সরকার সেসব প্রস্তাব বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে বলেও উল্লেখ করেন। আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—আইন পেশায় সাফল্যের মাপকাঠি শুধু আয় নয়; জ্ঞান, সততা, নৈতিকতা এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাও একজন আইনজীবীর পেশাগত দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পবিত্র কোরআনের মূল্যবোধ ও নির্দেশনার আলোকে একটি দেশের সংবিধান প্রণয়ন করা সম্ভব হলেও কোরআনকে সরাসরি রাষ্ট্রের সংবিধান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রাষ্ট্রের সংবিধান সমাজ ও সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন ও সংশোধন করা যায়, কিন্তু ধর্মীয় গ্রন্থের মূল বাণী পরিবর্তনের সুযোগ নেই। শুক্রবার রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)। আইনমন্ত্রী জানান, ছাত্রজীবনে প্রচলিত ‘কোরআন আমাদের সংবিধান’ স্লোগান নিয়েও তাঁর ভিন্নমত ছিল। তাঁর বক্তব্যের মূল যুক্তি হলো—কোরআনের আলোকে সংবিধান তৈরি করা যেতে পারে, কিন্তু কোরআনকে সরাসরি সংবিধান বলা যথাযথ নয়। কারণ একটি রাষ্ট্রের সংবিধান পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধিত হতে পারে, অন্যদিকে কোরআনের কোনো আয়াত পরিবর্তন করা যায় না। অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের রাষ্ট্র ও সমাজবিষয়ক চিন্তাধারা নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, আবদুর রাজ্জাক ওপর থেকে কোনো ইসলামী শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়াকে সঠিক পন্থা হিসেবে দেখতেন না। বরং সমাজের ভেতর থেকে ইসলামী মূল্যবোধ বিকশিত করে সেই মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠন ও পরিচালনাকে তিনি ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যথাযথ পথ হিসেবে বিবেচনা করতেন। আইনমন্ত্রীর মতে, প্রকাশিত বইটিতেও আবদুর রাজ্জাকের এই রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শনের প্রতিফলন রয়েছে। আইনমন্ত্রী বইটিকে শুধু সাহিত্য বা প্রচলিত গবেষণাধর্মী রচনা হিসেবে দেখছেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বইটি আবদুর রাজ্জাকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, সমাজকে দেখার অভিজ্ঞতা, চিন্তাচেতনা ও জীবনদর্শনের প্রতিফলন। আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক মতপার্থক্য ছিল বলেও অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন তিনি। তবে পেশাগত জীবনে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং বিভিন্ন সময়ে রাজ্জাকের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শের কথাও তুলে ধরেন। আলোচনায় বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গও উঠে আসে। আইনমন্ত্রী বলেন, একটি সমাজকে সামনে এগিয়ে যেতে হলে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। তাঁর মতে, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান নতুন প্রজন্মের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে নিয়ে এসেছে। আবদুর রাজ্জাকের বইয়েও পরিবর্তন ও রাজনৈতিক চিন্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার প্রশ্নটিও আলোচনায় আসে। আইনমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুরোধে আবদুর রাজ্জাক ১৯৭১ সালে দলটির ভূমিকা নিয়ে জাতির সামনে উপস্থাপনের জন্য একটি খসড়া বিবৃতি তৈরি করেছিলেন। তাঁর মতে, সে সময় ওই বিবৃতিটি দলীয়ভাবে গৃহীত ও স্বাক্ষরিত হলে জামায়াতকে ঘিরে অনেক প্রশ্নের সমাধান হতে পারত। এটি আইনমন্ত্রীর নিজস্ব মূল্যায়ন; বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অংশ। প্রসঙ্গত, আবদুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন। তাঁর মরণোত্তর প্রকাশিত স্মৃতিকথায় ১৯৭১ সালে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে দলের অভ্যন্তরে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নে বিভিন্ন সময়ের আলোচনা ও মতপার্থক্যের বিবরণ রয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। আইনমন্ত্রী বর্তমান সংসদীয় প্রক্রিয়ার একটি ঘটনাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল-সংক্রান্ত আইনে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী তৎকালীন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রসঙ্গে জামায়াতের নাম থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সংশোধিত আইন সংসদে তোলা হলে জামায়াতের কোনো সংসদ সদস্য এর বিরুদ্ধে ‘না’ ভোট দেননি। এই ঘটনাকে তিনি ১৯৭১ সালের ভূমিকার বিষয়ে দলটির একটি পরোক্ষ স্বীকৃতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এটি আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা; সংবাদ প্রতিবেদনে এটিকে তাঁর দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে। গণতন্ত্রে ভিন্নমত ও সমালোচনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন আইনমন্ত্রী। কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সব বক্তব্যের সঙ্গে একমত হওয়া যেমন জরুরি নয়, তেমনি কোনো সমালোচনা পছন্দ না হওয়ার কারণে তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করাও ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক সমাজে মতপার্থক্য ও সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি আশা করেছিলেন জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা দলটির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আইনজীবীদের কেউ কেউ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন এবং প্রয়োজনে বইয়ে তুলে ধরা বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করবেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, একটি গণতান্ত্রিক পরিসরে দ্বিমত প্রকাশের সুযোগ থাকা যেমন দরকার, তেমনি সমালোচনাকে আলোচনার বাইরে রাখাও উচিত নয়। অনুষ্ঠানে আবদুর রাজ্জাকের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। আইনমন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করলেও নিজের কাজ, চিন্তা ও দর্শনের কারণে আবদুর রাজ্জাক স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার প্রশ্নে তাঁর ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন তিনি। বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক আলী রীয়াজ, দ্য ডেইলি স্টারের কনসালটিং এডিটর কামাল আহমেদ এবং সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচসহ দেশি-বিদেশি শিক্ষক, গবেষক, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে আইনমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাকের শেষ জীবনের একটি ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার কথাও স্মরণ করেন। তিনি জানান, আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছার কথা তাঁকে জানিয়েছিলেন। সেই ইচ্ছা শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রয়াত এই আইনজীবী ও রাজনীতিকের জন্য দোয়া করেন। একই সঙ্গে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের তাঁর প্রকাশিত বইটি পড়ার আহ্বান জানান।
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেছেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন, তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এজলাসে এসে রায় পাঠ শুরু করেন। পরে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তিনি রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, চিকিৎসকের সাক্ষ্য ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী পুলিশের সাক্ষ্যেও সেই তথ্যের সমর্থন পাওয়া গেছে। আদালত আরও বলেন, মামলার ১ নম্বর থেকে ১৬ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্য থেকে উঠে এসেছে যে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পর আসামি সোহেল রানা গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। এ সময় স্বপ্না আক্তার ঘটনাস্থলের ওই ফ্ল্যাটেই অবস্থান করছিলেন। অপরাধ সংঘটনে বাধা না দিয়ে তিনি সহযোগিতা করেছেন বলে আদালত মনে করেন। ফলে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার একই অপরাধে দায়ী বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেন। আদালত তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কথাও উল্লেখ করেন। ওই জবানবন্দিতে সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন। রায় ঘোষণার আগে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে এবং স্বপ্না আক্তারকে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে প্রিজন ভ্যান থেকে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে হাজতখানায় নেওয়া হয়। মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার। শুনানি শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন। গত ১৯ মে শিশুটি ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হওয়ার পর দায়ের হওয়া মামলার রায় ১৯ দিনের মাথায় ঘোষণা করা হলো। মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯ মে পল্লবীর একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের আগেই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরদিন ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। এরপর ১ জুন ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। চার্জ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন এবং যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেন। সেই ধারাবাহিকতায় রোববার মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের বিধান এবং স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাতিল করেছে জাতীয় সংসদ। এগুলো বাতিল করার বিরুদ্ধে ছিল বিরোধী দল। আজ বৃহস্পতিবার বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয়। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা এ–সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে। এর ফলে বিচার বিভাগ আবার আগের অবস্থায় ফিরছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের আর কোনো আইন থাকছে না। তবে ওই অধ্যাদেশের অধীনে ২৫ জন বিচারকের নিয়োগসহ যেসব ব্যবস্থা ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বৈধ বলে গণ্য হবে। আর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়–সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ (সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও এর সংশোধনী অধ্যাদেশ) বাতিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই অধ্যাদেশের অধীনে প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে ন্যস্ত বাজেট, গৃহীত প্রকল্প ও কর্মসূচি সরকারের আইন ও বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তরিত হবে এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের জন্য সৃজিত পদগুলো বিলুপ্ত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে কর্মরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের চাকরি আগে যে আইনে পরিচালিত হতো, আবার সে আইনের অধীনে ন্যস্ত ও পরিচালিত হবে। সংসদে পাস হওয়া বিল রাষ্ট্রপতি সই করলে তা আইনে পরিণত হয়। এরপর সরকার গেজেট জারি করে। আজ অধ্যাদেশ দুটি বাতিল করতে আনা বিল পাসের বিরোধিতা করে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারের এই উদ্যোগ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। আবারও আগের মতো ফ্যাসিবাদী কায়দায় নিম্ন আদালতকে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন করা হচ্ছে। অন্যদিকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। অধিকতর যাচাই–বাছাই করে পরে এ–সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হবে। বিচার বিভাগে যে পরিবর্তন আনা হয়েছিল বিদ্যমান সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে বিচারক নিয়োগ দেবেন। কিন্তু ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য কাজ করবেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী। সংবিধানে বিচারক হওয়ার অযোগ্যতা সম্পর্কে বলা আছে। কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হলে সুপ্রিম কোর্টে অন্তত ১০ বছর আইনজীবী হিসেবে বা অন্তত ১০ বছর কোনো বিচার বিভাগীয় পদে না থাকলে অথবা সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলে তিনি বিচারক পদে নিয়োগের যোগ্য হবেন না। অতীতে কোনো সরকার বিচারক নিয়োগের আইন করেনি। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিচার বিভাগে রাজনীতিকীকরণের অভিযোগও ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ করে। তাতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাই করবে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে স্বতন্ত্র এই কাউন্সিল যোগ্য ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতি বরাবর সুপারিশ করবে। আজ জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল’ পাস হওয়ায় এই বিধান আর থাকছে না। আগের মতো সংবিধানে থাকা বিধান অনুযায়ী বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া যাবে।
ফ্লোরিডার ম্যাকডিল বিমানঘাঁটিতে শক্তিশালী বিস্ফোরক রাখার দায়ে অভিযুক্ত এক মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, যিনি বর্তমানে চীনে পলাতক রয়েছেন। অভিযুক্ত যুবক এলেন ঝেং গত ১০ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটির দর্শনার্থী কেন্দ্রের সামনে একটি হাতে তৈরি বোমা পেতে রাখেন। ঘটনার পরপরই অজ্ঞাত পরিচয়ে জরুরি সেবায় ফোন করে বোমার কথা জানানো হলেও দীর্ঘ ছয় দিন পর গত ১৬ মার্চ গোপন এলাকা থেকে সেই জীবন্ত বোমাটি উদ্ধার করে এফবিআই। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এলেন তার বোন অ্যান মেরি ঝেং-এর সহায়তায় অপরাধ আড়াল করে চীনে পালিয়ে যান। তবে তার বোন পরে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এলে তাকে হাতে-নাতে গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারি প্রসিকিউটরদের দাবি, এলেন ঝেং এর বোন তাকে দেশ ছাড়তে এবং প্রমাণ লোপাট করতে ব্যবহৃত গাড়িটি বিক্রি করে দিয়ে সরাসরি সহায়তা করেছেন যা জঘন্য অপরাধের শামিল। তদন্তে এলেনের বাসা থেকে বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম এবং গাড়িতে বোমার অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তের মা-ও অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করায় তাকে বর্তমানে নির্বাসনের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই ম্যাকডিল বিমানঘাঁটি থেকেই বর্তমানে ইরান বিরোধী যৌথ সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে এই ঘটনার সাথে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা এখনও পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত এলেন ঝেং-এর বোন বৃহস্পতিবার আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে তাদের মা ও বোন দুজনেই এলেনের এই নাশকতামূলক পরিকল্পনার কথা আগে থেকেই জানতেন বলে স্বীকার করেছেন। বর্তমানে এলেন ঝেংকে ফিরিয়ে আনতে জোর আইনি তৎপরতা চালাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের চেষ্টা ও বিস্ফোরক রাখার তিনটি গুরুতর অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।