সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
লাইফস্টাইল

সন্তানকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে চান, অভিভাবকদের নীরবে যে পাঁচটি কাজ করা জরুরি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৬:৫৮
সন্তানের মানসিক শক্তি বাড়াতে অভিভাবকদের পাঁচটি কৌশল
সন্তানের মানসিক শক্তি বাড়াতে অভিভাবকদের পাঁচটি কৌশল

সন্তান কোনো কারণে ভেঙে পড়লে বা আবেগ সামলাতে না পারলে অভিভাবকদের স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে তাকে বুঝিয়ে বলা। কী করা উচিত, কেন এমন আচরণ করা ঠিক নয় কিংবা কীভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হবে—এসব বোঝানোর চেষ্টা করেন অনেকেই। কিন্তু শিশু যখন তীব্র মানসিক চাপ বা আবেগের মধ্যে থাকে, তখন দীর্ঘ উপদেশ সব সময় কাজে আসে না। বরং সে সময় অভিভাবকের শান্ত উপস্থিতি, পাশে থাকা এবং ছোট ছোট কিছু আচরণ শিশুকে নিরাপদ বোধ করতে সাহায্য করতে পারে।
 

শিশুদের বিকাশ নিয়ে কাজ করা একজন বিশেষজ্ঞের মতে, সন্তান বিপর্যস্ত হলে তার মস্তিষ্কের চিন্তা ও যুক্তিনির্ভর অংশের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। তখন আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া বেশি প্রাধান্য পায়। ফলে অভিভাবকের কথা শোনার বা যুক্তি দিয়ে পরিস্থিতি বোঝার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে। এমন সময়ে শিশুকে শান্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার চেয়ে তাকে শান্ত পরিবেশ দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে।


শিশুদের নিয়ে কাজ করা ওই বিশেষজ্ঞ একজন প্রশিক্ষিত চাইল্ড লাইফ স্পেশালিস্ট ও থেরাপিস্ট। তিনি জীবনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া এক হাজারের বেশি শিশু ও কিশোরকে সহায়তা করেছেন। নিজের অভিভাবকত্বের অভিজ্ঞতা থেকেও তিনি দেখেছেন, শিশুরা যখন আবেগে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, তখন তাদের চিন্তাশক্তির চেয়ে অনুভূতি বেশি প্রভাব বিস্তার করে।


শিশুর বিকাশ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা এই প্রক্রিয়াকে ‘কো-রেগুলেশন’ বা যৌথ আবেগ নিয়ন্ত্রণ বলে থাকেন। এর অর্থ হলো, শিশু যখন নিজের আবেগ সামলাতে হিমশিম খায়, তখন বিশ্বস্ত কোনো প্রাপ্তবয়স্কের শান্ত আচরণ থেকে সে স্থিরতা পেতে পারে। গবেষণাতেও শিশুদের মানসিক চাপ সামলানোর দক্ষতা গড়ে তুলতে এই প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।


শিশু কষ্টে থাকলে সে সব সময় ইচ্ছাকৃতভাবে অভিভাবকের কথা অমান্য করে না। অনেক সময় তার মানসিক অবস্থা এমন থাকে যে ব্যাখ্যা, সমঝোতা বা সংশোধনের কথা গ্রহণ করার মতো পরিস্থিতিতে সে থাকে না। তখন প্রথম প্রয়োজন নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তির অনুভূতি ফিরে পাওয়া। অভিভাবক পাশে থাকলে শিশু বুঝতে পারে, কঠিন মুহূর্তে তাকে একা সামলাতে হচ্ছে না।


এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের পাঁচটি সহজ আচরণ শিশুর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে পারে।


প্রথমত, সন্তানের পাশে নীরবে বসুন। সন্তান মন খারাপ করে থাকলে তার পাশে বসে থাকা কিংবা সে নিজের ঘরে থাকলে দরজার বাইরে অবস্থান করাও তাকে নিরাপত্তার অনুভূতি দিতে পারে। এতে সে বুঝতে পারে, প্রয়োজন হলে অভিভাবককে কাছে পাবে। তবে সন্তান যদি কিছুটা একা থাকতে চায়, সেই ইচ্ছাকেও সম্মান করা জরুরি। তাকে জোর করে কথা বলাতে হবে না। বরং কোথায় গেলে আপনাকে পাওয়া যাবে, তা জানিয়ে দিন। এতে তার মনে পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুটা নিশ্চয়তা তৈরি হয়।


দ্বিতীয়ত, হাত বাড়িয়ে দিন বা কোমল স্পর্শের সুযোগ রাখুন। মন খারাপের সময় সব শিশু স্পর্শ পছন্দ করে না। তাই সন্তানের স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। সে স্বচ্ছন্দ বোধ করলে হাত ধরা, পিঠে আলতো করে হাত রাখা কিংবা নিজের হাত তার দিকে বাড়িয়ে দেওয়া সহায়ক হতে পারে। সন্তান হাত ধরতে চাইলে ধরবে, না চাইলে তাকে চাপ দেওয়া যাবে না। তার ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রতি সম্মান দেখালে সে বুঝতে পারে, তার অনুভূতি ও পছন্দ অভিভাবকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।


তৃতীয়ত, একসঙ্গে ধীরে শ্বাস নিন। সন্তানকে বারবার ‘শান্ত হও’ বা ‘গভীর শ্বাস নাও’ বলার বদলে অভিভাবক নিজেই ধীরে ও দৃশ্যমানভাবে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস দেখাতে পারেন। চাইলে শ্বাস নেওয়ার শব্দও স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন। শিশু অনেক সময় অজান্তেই কাছের মানুষের শ্বাসের ছন্দ অনুসরণ করে। শান্ত পরিবেশে এভাবে কিছুক্ষণ থাকা তার শরীর ও মনকে স্থির হতে সাহায্য করতে পারে।


চতুর্থত, শান্ত হতে সাহায্য করে এমন খেলনা বা উপকরণ কাছে রাখুন। অনেক শিশুর পছন্দের নরম খেলনা বা অন্য কোনো পরিচিত জিনিস থাকে, যা তাকে স্বস্তি দেয়। এমন কিছু শিশুর কাছে রেখে দেওয়া যেতে পারে, যাতে সে প্রস্তুত হলে নিজেই সেটি ব্যবহার করতে পারে। এ ছাড়া রঙিন কাগজের পাখা দিয়ে ধীরে শ্বাস ছাড়ার অনুশীলন কিংবা হাতে চেপে ধরা যায় এমন স্ট্রেস বল ব্যবহার শেখানো যেতে পারে। তবে এসব কৌশল শিশুর মন শান্ত থাকার সময় শেখানো ভালো। তাতে চাপের মুহূর্তে সেগুলো ব্যবহার করা তার জন্য সহজ হতে পারে।


পঞ্চমত, পাশাপাশি থেকে কোনো কাজে যুক্ত হন। সব সময় কথা বলেই শিশুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, এমন নয়। ছোট শিশুদের সঙ্গে বসে ছবি আঁকা, রং করা, ব্লক দিয়ে কিছু তৈরি করা কিংবা খেলনার সাহায্যে কোনো পরিস্থিতি অভিনয় করে দেখানো যেতে পারে। বড় শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে একসঙ্গে ধাঁধা মেলানো, বই পড়ে শোনানো, কোনো অনুষ্ঠান দেখা কিংবা ভিডিও গেম খেলার মতো কাজও কাজে আসতে পারে। এতে শিশুকে নিজের অনুভূতি ব্যাখ্যা করার জন্য চাপ দিতে হয় না, অথচ অভিভাবকের সঙ্গে তার সংযোগ বজায় থাকে।


এই পাঁচটি আচরণের মূল কথা হলো, সন্তানের আবেগকে অস্বীকার না করে তাকে নিরাপদ বোধ করতে সাহায্য করা। তবে সব শিশু একইভাবে সাড়া দেয় না। কারও কাছে পাশে বসে থাকাই যথেষ্ট, আবার কেউ কিছুটা সময় ও ব্যক্তিগত পরিসর চাইতে পারে। তাই সন্তানের প্রয়োজন বুঝে আচরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।


দীর্ঘ মেয়াদে এ ধরনের সহায়ক অভিজ্ঞতা শিশুদের নিজের আবেগ চিনতে, মানসিক চাপ সামলাতে এবং কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শেখাতে পারে। অভিভাবক সব সময় সন্তানের পাশে থাকতে পারবেন না, কিন্তু শান্ত ও সহানুভূতিশীল আচরণের মাধ্যমে তাকে আবেগ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করতে পারেন।


শেষ পর্যন্ত সন্তান হয়তো অভিভাবকের বলা প্রতিটি কথা মনে রাখবে না। কিন্তু কঠিন সময়ে সে কতটা নিরাপদ, বোঝা হয়েছে এবং সমর্থন পেয়েছে—সেই অভিজ্ঞতা তার মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

লাইফস্টাইল

View more
সন্তানের মানসিক শক্তি বাড়াতে অভিভাবকদের পাঁচটি কৌশল
সন্তানকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে চান, অভিভাবকদের নীরবে যে পাঁচটি কাজ করা জরুরি

সন্তান কোনো কারণে ভেঙে পড়লে বা আবেগ সামলাতে না পারলে অভিভাবকদের স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে তাকে বুঝিয়ে বলা। কী করা উচিত, কেন এমন আচরণ করা ঠিক নয় কিংবা কীভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হবে—এসব বোঝানোর চেষ্টা করেন অনেকেই। কিন্তু শিশু যখন তীব্র মানসিক চাপ বা আবেগের মধ্যে থাকে, তখন দীর্ঘ উপদেশ সব সময় কাজে আসে না। বরং সে সময় অভিভাবকের শান্ত উপস্থিতি, পাশে থাকা এবং ছোট ছোট কিছু আচরণ শিশুকে নিরাপদ বোধ করতে সাহায্য করতে পারে।   শিশুদের বিকাশ নিয়ে কাজ করা একজন বিশেষজ্ঞের মতে, সন্তান বিপর্যস্ত হলে তার মস্তিষ্কের চিন্তা ও যুক্তিনির্ভর অংশের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। তখন আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া বেশি প্রাধান্য পায়। ফলে অভিভাবকের কথা শোনার বা যুক্তি দিয়ে পরিস্থিতি বোঝার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে। এমন সময়ে শিশুকে শান্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার চেয়ে তাকে শান্ত পরিবেশ দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে। শিশুদের নিয়ে কাজ করা ওই বিশেষজ্ঞ একজন প্রশিক্ষিত চাইল্ড লাইফ স্পেশালিস্ট ও থেরাপিস্ট। তিনি জীবনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া এক হাজারের বেশি শিশু ও কিশোরকে সহায়তা করেছেন। নিজের অভিভাবকত্বের অভিজ্ঞতা থেকেও তিনি দেখেছেন, শিশুরা যখন আবেগে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, তখন তাদের চিন্তাশক্তির চেয়ে অনুভূতি বেশি প্রভাব বিস্তার করে। শিশুর বিকাশ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা এই প্রক্রিয়াকে ‘কো-রেগুলেশন’ বা যৌথ আবেগ নিয়ন্ত্রণ বলে থাকেন। এর অর্থ হলো, শিশু যখন নিজের আবেগ সামলাতে হিমশিম খায়, তখন বিশ্বস্ত কোনো প্রাপ্তবয়স্কের শান্ত আচরণ থেকে সে স্থিরতা পেতে পারে। গবেষণাতেও শিশুদের মানসিক চাপ সামলানোর দক্ষতা গড়ে তুলতে এই প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। শিশু কষ্টে থাকলে সে সব সময় ইচ্ছাকৃতভাবে অভিভাবকের কথা অমান্য করে না। অনেক সময় তার মানসিক অবস্থা এমন থাকে যে ব্যাখ্যা, সমঝোতা বা সংশোধনের কথা গ্রহণ করার মতো পরিস্থিতিতে সে থাকে না। তখন প্রথম প্রয়োজন নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তির অনুভূতি ফিরে পাওয়া। অভিভাবক পাশে থাকলে শিশু বুঝতে পারে, কঠিন মুহূর্তে তাকে একা সামলাতে হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের পাঁচটি সহজ আচরণ শিশুর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে পারে। প্রথমত, সন্তানের পাশে নীরবে বসুন। সন্তান মন খারাপ করে থাকলে তার পাশে বসে থাকা কিংবা সে নিজের ঘরে থাকলে দরজার বাইরে অবস্থান করাও তাকে নিরাপত্তার অনুভূতি দিতে পারে। এতে সে বুঝতে পারে, প্রয়োজন হলে অভিভাবককে কাছে পাবে। তবে সন্তান যদি কিছুটা একা থাকতে চায়, সেই ইচ্ছাকেও সম্মান করা জরুরি। তাকে জোর করে কথা বলাতে হবে না। বরং কোথায় গেলে আপনাকে পাওয়া যাবে, তা জানিয়ে দিন। এতে তার মনে পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুটা নিশ্চয়তা তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, হাত বাড়িয়ে দিন বা কোমল স্পর্শের সুযোগ রাখুন। মন খারাপের সময় সব শিশু স্পর্শ পছন্দ করে না। তাই সন্তানের স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। সে স্বচ্ছন্দ বোধ করলে হাত ধরা, পিঠে আলতো করে হাত রাখা কিংবা নিজের হাত তার দিকে বাড়িয়ে দেওয়া সহায়ক হতে পারে। সন্তান হাত ধরতে চাইলে ধরবে, না চাইলে তাকে চাপ দেওয়া যাবে না। তার ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রতি সম্মান দেখালে সে বুঝতে পারে, তার অনুভূতি ও পছন্দ অভিভাবকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয়ত, একসঙ্গে ধীরে শ্বাস নিন। সন্তানকে বারবার ‘শান্ত হও’ বা ‘গভীর শ্বাস নাও’ বলার বদলে অভিভাবক নিজেই ধীরে ও দৃশ্যমানভাবে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস দেখাতে পারেন। চাইলে শ্বাস নেওয়ার শব্দও স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন। শিশু অনেক সময় অজান্তেই কাছের মানুষের শ্বাসের ছন্দ অনুসরণ করে। শান্ত পরিবেশে এভাবে কিছুক্ষণ থাকা তার শরীর ও মনকে স্থির হতে সাহায্য করতে পারে। চতুর্থত, শান্ত হতে সাহায্য করে এমন খেলনা বা উপকরণ কাছে রাখুন। অনেক শিশুর পছন্দের নরম খেলনা বা অন্য কোনো পরিচিত জিনিস থাকে, যা তাকে স্বস্তি দেয়। এমন কিছু শিশুর কাছে রেখে দেওয়া যেতে পারে, যাতে সে প্রস্তুত হলে নিজেই সেটি ব্যবহার করতে পারে। এ ছাড়া রঙিন কাগজের পাখা দিয়ে ধীরে শ্বাস ছাড়ার অনুশীলন কিংবা হাতে চেপে ধরা যায় এমন স্ট্রেস বল ব্যবহার শেখানো যেতে পারে। তবে এসব কৌশল শিশুর মন শান্ত থাকার সময় শেখানো ভালো। তাতে চাপের মুহূর্তে সেগুলো ব্যবহার করা তার জন্য সহজ হতে পারে। পঞ্চমত, পাশাপাশি থেকে কোনো কাজে যুক্ত হন। সব সময় কথা বলেই শিশুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, এমন নয়। ছোট শিশুদের সঙ্গে বসে ছবি আঁকা, রং করা, ব্লক দিয়ে কিছু তৈরি করা কিংবা খেলনার সাহায্যে কোনো পরিস্থিতি অভিনয় করে দেখানো যেতে পারে। বড় শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে একসঙ্গে ধাঁধা মেলানো, বই পড়ে শোনানো, কোনো অনুষ্ঠান দেখা কিংবা ভিডিও গেম খেলার মতো কাজও কাজে আসতে পারে। এতে শিশুকে নিজের অনুভূতি ব্যাখ্যা করার জন্য চাপ দিতে হয় না, অথচ অভিভাবকের সঙ্গে তার সংযোগ বজায় থাকে। এই পাঁচটি আচরণের মূল কথা হলো, সন্তানের আবেগকে অস্বীকার না করে তাকে নিরাপদ বোধ করতে সাহায্য করা। তবে সব শিশু একইভাবে সাড়া দেয় না। কারও কাছে পাশে বসে থাকাই যথেষ্ট, আবার কেউ কিছুটা সময় ও ব্যক্তিগত পরিসর চাইতে পারে। তাই সন্তানের প্রয়োজন বুঝে আচরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ মেয়াদে এ ধরনের সহায়ক অভিজ্ঞতা শিশুদের নিজের আবেগ চিনতে, মানসিক চাপ সামলাতে এবং কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শেখাতে পারে। অভিভাবক সব সময় সন্তানের পাশে থাকতে পারবেন না, কিন্তু শান্ত ও সহানুভূতিশীল আচরণের মাধ্যমে তাকে আবেগ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করতে পারেন। শেষ পর্যন্ত সন্তান হয়তো অভিভাবকের বলা প্রতিটি কথা মনে রাখবে না। কিন্তু কঠিন সময়ে সে কতটা নিরাপদ, বোঝা হয়েছে এবং সমর্থন পেয়েছে—সেই অভিজ্ঞতা তার মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৬:৫৮
২০২৬ সালের সেরা ক্রুজ লাইনের তালিকায় প্রিন্সেস ক্রুজেস

প্রায় ৮ লাখ পর্যটকের ভোটে ২০২৬ সালের সেরা ক্রুজ লাইনের তালিকায় শীর্ষে যারা

নিজের যত্নে গড়ে তুলুন সুস্থ ও সুন্দর জীবন

নিজের জন্য সময় বের করুন, প্রতিদিনের জীবনে প্রশান্তি ফেরাতে মেনে চলুন ২০ অভ্যাস

অ্যান্টার্কটিকায় গিয়েছিলেন চীনের ওয়াং ইং

'জীবন আর ক'টা দিন', আন্টার্কটিকা ঘুরে সর্বস্ব খরচ ক্যানসার আক্রান্তের, ফিরে জানলেন তিনি সুস্থ!

ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী ১৬ পেশা ও বার্ষিক বেতনের তালিকা
ব্যক্তিত্বের ধরন বুঝেই বেছে নিন পেশা, যুক্তরাষ্ট্রে কোন চাকরিতে বছরে আয় সবচেয়ে বেশি

চাকরি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বেতন, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিত্বের ধরনও বিবেচনা করা যেতে পারে। কেউ বিশ্লেষণধর্মী কাজে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, কেউ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও নেতৃত্ব দিতে পছন্দ করেন। আবার কারও আগ্রহ সৃজনশীল কাজে। ব্যক্তিত্বের এসব বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলিয়ে পেশা খুঁজলে নিজের দক্ষতা ও আগ্রহ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।   মায়ার্স-ব্রিগস টাইপ ইন্ডিকেটর (এমবিটিআই) নামের বহুল পরিচিত ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন পদ্ধতিতে মানুষকে ১৬টি ধরনে ভাগ করা হয়। চার জোড়া বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে এই ধরনগুলো নির্ধারণ করা হয়—বহির্মুখিতা বা অন্তর্মুখিতা, বাস্তব তথ্যের প্রতি মনোযোগ বা অন্তর্দৃষ্টিনির্ভর চিন্তা, যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত বা অনুভূতিনির্ভর সিদ্ধান্ত এবং পরিকল্পনামুখী মনোভাব বা পরিস্থিতি অনুযায়ী চলার প্রবণতা। রিজিউম জিনিয়াসের একটি গবেষণায় এমবিটিআইয়ের প্রতিটি ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই জনপ্রিয় পেশা চিহ্নিত করা হয়েছে। এ জন্য পারসোনালিটি ডেটাবেজ ফোরামের প্রশ্নাবলির উত্তর বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট পেশাগুলোর মধ্যম বার্ষিক বেতন নির্ধারণ করা হয়। তবে ব্যক্তিত্বের ধরন অনুযায়ী পেশার এই তালিকাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত নিজের পছন্দ, শক্তি ও কাজের ধরন নিয়ে ভাবার একটি উপায়। পেশা বেছে নেওয়ার সময় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা, চাকরির সুযোগ এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্যও গুরুত্বপূর্ণ। রিজিউম জিনিয়াসের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ ইভা চ্যানের মতে, নিজের ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে একজন ব্যক্তি নিজের শক্তি ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিত্বের ধরন নিয়ে ভাবা আত্মপর্যালোচনা ও আত্মসচেতনতা বাড়ানোর একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী ১৬ পেশা ও বার্ষিক বেতন তালিকার শীর্ষে রয়েছে সার্জন পেশা। আইএসটিজে (ISTJ) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য এ পেশাকে উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সার্জনদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ২ লাখ ৩৯ হাজার ২০০ ডলার। এই পেশায় দীর্ঘ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা, মনোযোগ এবং প্রতিটি কাজে দায়িত্বশীল থাকা জরুরি। বিস্তারিত বিষয়ে সতর্ক থাকা ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রয়োজনও রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা সাইকিয়াট্রিস্ট। আইএনএফজে (INFJ) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য এ পেশার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তালিকায় এই পেশার মধ্যম বার্ষিক বেতন ২ লাখ ২৬ হাজার ৮৮০ ডলার। অন্যের অনুভূতি ও আচরণ বোঝা, মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা এবং মানুষের সঙ্গে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করার দক্ষতা এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয় স্থানে রয়েছে এয়ারলাইন ক্যাপ্টেন। ইএসটিজে (ESTJ) ব্যক্তিত্বের মানুষেরা সাধারণত নিয়ম মেনে কাজ করা, পরিকল্পনা ও সংগঠন বজায় রাখা এবং দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৯৮ হাজার ডলার। বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়ম অনুসরণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইএনটিপি (INTP) ব্যক্তিত্বের জন্য পদার্থবিজ্ঞানী পেশাকে উপযুক্ত বলা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৬৬ হাজার ২৯০ ডলার। যুক্তিনির্ভর চিন্তা, জটিল সমস্যার সমাধান এবং নতুন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগ্রহ এ ধরনের কাজে সহায়ক। গবেষণাগারে দীর্ঘ সময় মনোযোগ দিয়ে কাজ করার সুযোগও এ পেশার বৈশিষ্ট্য। ইএনএফপি (ENFP) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য বিজ্ঞাপন পরিচালক পেশার কথা বলা হয়েছে। সৃজনশীলতা, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, নতুন ধারণা তৈরি এবং দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা এ পেশায় গুরুত্বপূর্ণ। তালিকায় বিজ্ঞাপন পরিচালকদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬০ ডলার। ইএনটিজে (ENTJ) ব্যক্তিত্বের জন্য প্রসিকিউটর বা সরকারি কৌঁসুলির পেশাকে মানানসই হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫১ হাজার ১৬০ ডলার। যুক্তি সাজিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন, চাপের মধ্যে কাজ করা, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা এ কাজে প্রয়োজন। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক বা এইচআর ম্যানেজার পেশাটি ইএনএফজে (ENFJ) ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার ৩০ ডলার। কর্মীদের প্রয়োজন বোঝা, সহমর্মিতা, যোগাযোগ এবং প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা এ কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইএসটিপি (ESTP) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য বিক্রয় ব্যবস্থাপক বা সেলস ম্যানেজার পেশার কথা বলা হয়েছে। এখানে মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬০ ডলার। লক্ষ্য অর্জনের মানসিকতা, দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া, আত্মবিশ্বাস এবং দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা এ পেশায় সহায়ক। আইএসএফজে (ISFJ) ব্যক্তিত্বের জন্য ফার্মাসিস্ট বা ওষুধ বিশেষজ্ঞ পেশাটি তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৮০ ডলার। বিস্তারিত বিষয়ে সতর্কতা, নিয়ম মেনে কাজ করা এবং মানুষের সেবায় আগ্রহ এ পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইএসটিপি (ISTP) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী পেশাকে উপযোগী বলা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮০ ডলার। দ্রুত সমস্যা শনাক্ত করা, বিশ্লেষণী চিন্তা এবং চাপের মধ্যে শান্ত থেকে কাজ করার দক্ষতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। আইএনটিজে (INTJ) ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ডেটা সায়েন্টিস্ট পেশার মিল তুলে ধরা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ১ লাখ ১২ হাজার ৫৯০ ডলার। বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ, প্রবণতা শনাক্ত করা এবং তথ্যভিত্তিক সুপারিশ তৈরি করা এ কাজের মূল অংশ। প্রযুক্তি, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ দক্ষতার প্রয়োজন রয়েছে। আইএনএফপি (INFP) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য অ্যানিমেটর পেশার কথা বলা হয়েছে। তালিকায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ৯৯ হাজার ৮০০ ডলার। সৃজনশীল চিন্তা, গল্প বলার দক্ষতা এবং নতুন ধরনের ধারণা তুলে ধরার সুযোগ এ পেশাকে আকর্ষণীয় করে তোলে। যারা পর্দার আড়ালে থেকে নিজেদের কাজের মাধ্যমে দর্শকের অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে চান, তাঁদের জন্য এটি মানানসই হতে পারে। ইএনটিপি (ENTP) ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ফরেনসিক সাইকোলজিস্ট বা অপরাধ-সম্পর্কিত মনোবিশ্লেষণ পেশাকে যুক্ত করা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ৯৪ হাজার ৩১০ ডলার। মানুষের আচরণ বোঝা, বিশ্লেষণী চিন্তা এবং জটিল সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ। ইএসএফপি (ESFP) ব্যক্তিত্বের জন্য মডেল পেশাটি তালিকায় রয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ৮৯ হাজার ৯৯০ ডলার। আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্বের প্রকাশ, মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে পারা এবং ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ থাকার মতো বৈশিষ্ট্য এ কাজে সহায়ক হতে পারে। ইএসএফজে (ESFJ) ব্যক্তিত্বের জন্য উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষকতার কথা বলা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ৮৩ হাজার ৯৮০ ডলার। পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রম সাজানো, শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং তাঁদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার দক্ষতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তালিকার শেষ অবস্থানে রয়েছে ফ্যাশন ডিজাইনার পেশা, যা আইএসএফপি (ISFP) ব্যক্তিত্বের মানুষের জন্য উপযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন ৮০ হাজার ৬৯০ ডলার। সৃজনশীলতা, নিজস্ব নকশার মাধ্যমে ভাবনা প্রকাশ এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ এ পেশার অন্যতম আকর্ষণ। সব মিলিয়ে, ব্যক্তিত্বের ধরন পেশা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি সহায়ক সূত্র হতে পারে, তবে এটি কোনো নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী নয়। একই ব্যক্তিত্বের মানুষের আগ্রহ, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা একেক রকম হতে পারে। তাই শুধু পরীক্ষার ফল বা বেতনের তালিকা দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের যোগ্যতা, প্রশিক্ষণের প্রয়োজন, কাজের পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বিবেচনা করাই বেশি যুক্তিযুক্ত।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ৬:৫৬
কানাডার অন্টারিওর বাসিন্দা সারা ডিক

আক্কেলদাঁত তোলার পরই ফুলে যায় মুখ! গুরুতর সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তি দুই সন্তানের মা

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে বিকল্প উপাদান

তারুণ্য ধরে রাখতে রেটিনয়েডই একমাত্র উপায় নয়, সংবেদনশীল ত্বকে কাজে দেবে যেসব উপাদান

ছবি: sciencebee

৫ বছরে দেশের চিনির ব্যবহার কমেছে ৩৩ শতাংশ! বদলেছে ভোগের ধরন

চুল ঘন করার পণ্য কেনার আগে জেনে নিন
চুল ঘন করার আশায় টাকা খরচের আগে জেনে নিন কোন পণ্য এড়িয়ে চলবেন

চুল পড়া কমিয়ে নতুন চুল গজানো কিংবা চুল আরও ঘন করার আশায় অনেকেই দামি শ্যাম্পু, সিরাম, ভেষজ তেল ও বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট কিনছেন। এসব পণ্যের বিজ্ঞাপনে আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি থাকলেও সবগুলোর কার্যকারিতার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু পণ্য চুলকে নরম, চকচকে ও তুলনামূলক ঘন দেখাতে সাহায্য করলেও সেগুলো নতুন চুল গজায়—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। তাই চুলের যত্নে অর্থ ব্যয়ের আগে কোন পণ্য কী কাজে লাগে, তা জানা জরুরি। প্রসাধনবিষয়ক রসায়নবিদ পেরি রোমানোস্কির মতে, বাজারে চুল গজানোর দাবি করা অনেক পণ্যের উপাদান চুলের ফলিকলে কার্যকর প্রভাব ফেলে কি না, তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। চুলের গোড়া বা ফলিকল মাথার ত্বকের ভেতরে থাকে। কোনো উপাদানকে সেখানে পৌঁছে কার্যকর হতে হলে মাথার ত্বকে যথেষ্ট সময় থাকতে হবে, ত্বকের বাধা পেরোতে হবে এবং কার্যকর অবস্থায় লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। ফলে পণ্যের গায়ে আকর্ষণীয় উপাদানের নাম থাকলেই সেটি চুল গজাবে, এমন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুল ঘন করার আশায় কেনার আগে পাঁচ ধরনের পণ্যের কার্যকারিতা নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত। ১. চুল গজানোর দাবি করা শ্যাম্পু ক্যাফেইন, পেপটাইড ও বিভিন্ন বিশেষ উপাদানযুক্ত শ্যাম্পু চুলের গোড়াকে সক্রিয় করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করার দাবি করে। কিন্তু এসব উপাদানের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। কিছু গবেষণার ফল প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, আবার কিছু গবেষণা পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে। প্রসাধনবিষয়ক রসায়নবিদ কেলি ডোবসের মতে, শ্যাম্পু মাথায় বেশিক্ষণ থাকে না। ব্যবহারের অল্প সময় পরই তা ধুয়ে ফেলা হয়। ফলে এর উপাদান দীর্ঘ সময় ধরে মাথার ত্বকে কাজ করার সুযোগ পায় না। তবে ভালো শ্যাম্পু মাথার ত্বক সুস্থ রাখতে এবং চুলের তন্তু মজবুত করতে সাহায্য করতে পারে। এতে চুল ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। কিন্তু শুধু শ্যাম্পু দিয়ে নতুন চুল গজানোর প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। ২. উচ্চমাত্রার বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট   চুলের যত্নে বায়োটিন বা ভিটামিন বি৭ বেশ জনপ্রিয়। অনেক সাপ্লিমেন্টে দৈনিক ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার মাইক্রোগ্রাম বায়োটিন থাকে। অথচ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত প্রস্তাবিত দৈনিক গ্রহণের পরিমাণ ৩০ মাইক্রোগ্রাম। ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট চুল গজাতে উপকারী—এমন গবেষণালব্ধ প্রমাণ নেই। আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজির তথ্য অনুযায়ী, বায়োটিনের ঘাটতিও বিরল। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রোন্ডা এস ফারাহ সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত মাত্রার বায়োটিন ক্ষতিকর হতে পারে এবং কিছু পরীক্ষাগারের পরীক্ষার ফলকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে কারও শরীরে বায়োটিনের ঘাটতি নিশ্চিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মাত্রা গ্রহণ করা যেতে পারে। ঘাটতি না জেনে বেশি মাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের প্রয়োজন নেই। ৩. ক্যাস্টর অয়েল ও বাতানা তেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যাস্টর অয়েল ও বাতানা তেলকে চুল গজানোর কার্যকর উপায় হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু এসব তেল নতুন চুল গজায়—এমন নির্ভরযোগ্য ক্লিনিক্যাল প্রমাণ নেই। কেলি ডোবসের মতে, ক্যাস্টর অয়েল চুলকে নরম রাখতে এবং চুলের ঘর্ষণজনিত ক্ষতি ও ভাঙন কমাতে সাহায্য করতে পারে। বাতানা তেলও চুলের পরিচর্যায় কন্ডিশনিং উপাদান হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে চুল দেখতে কিছুটা ঘন, চকচকে ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল লাগতে পারে। তবে চুল ভেঙে যাওয়া কমা আর নতুন চুল গজানো এক বিষয় নয়। তাই শুধু এসব তেল ব্যবহার করে চুল পড়ার মূল কারণ দূর হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। ৪. চালের পানি চাল ভেজানো বা রান্নার পর পাওয়া শ্বেতসারযুক্ত পানিকে চুল লম্বা ও ঘন করার প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রচার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি নিয়ে নানা ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়। কিন্তু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রোন্ডা এস ফারাহর মতে, চালের পানি চুল গজাতে সাহায্য করে—এমন ভালো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এটি চুলের পরিচর্যায় কিছুটা সহায়ক হতে পারে বলে প্রচার করা হলেও এর শ্বেতসার চুলে জমে শুষ্কতা তৈরি করতে পারে। একজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো মাথার ত্বকের সমস্যা থাকলে অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। তাই বোতলজাত চালের পানির স্প্রে কেনার আগে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা রাখা প্রয়োজন। ৫. প্রাকৃতিক ডিএইচটি ব্লকার পুরুষদের বংশগতভাবে চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ডিএইচটি নামের হরমোন। ফিনাস্টেরাইড নামের ওষুধ এই হরমোনের কার্যক্রমে বাধা দিতে পারে। এ কারণে রেড ক্লোভার ও বারডকের মতো উদ্ভিজ্জ উপাদানযুক্ত পণ্যও একই কাজ করতে পারে বলে প্রচার করা হয়। তবে নিউইয়র্কের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সেজাল শাহের মতে, বারডক ডিএইচটি কমিয়ে চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করে—এমন অর্থবহ প্রমাণ মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণায় খুবই সীমিত। তাই এসব ভেষজ উপাদানকে চুল পড়ার স্বতন্ত্র সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। নারীদের চুল পড়ার ক্ষেত্রে ডিএইচটির ভূমিকা কতটা, তা নিয়েও বিজ্ঞানীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কোন পণ্যগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ধরনের বংশগত চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশ মিনোক্সিডিল অন্যতম গবেষণাসমর্থিত ওষুধবিহীন বিকল্প। একটি ৪৮ সপ্তাহের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় পাঁচ শতাংশ মিনোক্সিডিল ব্যবহারকারীদের চুল পুনরায় গজানোর হার দুই শতাংশ ব্যবহারকারীদের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি ছিল। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে একই ফল দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। খুশকিবিরোধী শ্যাম্পু মাথার ত্বকের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। রোজমেরি তেল নিয়েও একটি গবেষণায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে, যদিও গবেষণাটির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিছু সিরাম চুলের ঘনত্ব ও চেহারায় উন্নতি আনতে পারে বলে পরীক্ষায় দেখা গেছে। আবার ২০২২ সালে প্রকাশিত ৩০টি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় ভিভিস্কাল ও নুট্রাফলের মতো কিছু সাপ্লিমেন্ট নিষ্ক্রিয় উপাদানের তুলনায় ভালো ফল দেখিয়েছে। তবে এসব গবেষণার অধিকাংশে সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন ছিল। চুল পড়ার কারণ না জেনে একের পর এক পণ্য কেনার পরিবর্তে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। ভিটামিনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার মতো রোগের কারণে চুল পড়তে পারে। সঠিক রোগনির্ণয়ের পর চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা বা পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। এতে অকারণে অর্থ ব্যয় এড়ানো এবং সমস্যার উপযুক্ত সমাধান খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৮:২৪
স্মার্টফোনের বদলে সাধারণ ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা

স্মার্টফোন ছাড়া জীবন কেমন, বদলে যেতে পারে আপনার প্রতিদিনের অভ্যাস

কফি ও অন্ত্রের জীবাণু নিয়ে নতুন গবেষণা

দুই সপ্তাহ কফি না খেয়ে শরীরের ভেতরে কী কী পরিবর্তন হয়, জানাল নতুন গবেষণা

কনটেন্ট ক্রিয়েটর লাভ সু

১৪ বছর পর প্রথম মাংস খেয়েই “এত মজা!” বলে কেঁদে ফেললেন নিরামিষভোজী নারী

0 Comments