সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
লাইফস্টাইল

ইলন মাস্কের অভিনব অ্যাপের ধারণা, বিলিয়নিয়াররা মিটিয়ে দেবেন সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল ও বাড়িভাড়া

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ০:৮
ইলন মাস্কের অভিনব অ্যাপের ধারণা
ইলন মাস্কের অভিনব অ্যাপের ধারণা

কল্পনা করুন, আপনার বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, চিকিৎসার খরচ কিংবা ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া পরিশোধের টাকা নেই। এমন পরিস্থিতিতে একটি অ্যাপে বিল আপলোড করলেন। আর বিশ্বের কোনো বিলিয়নিয়ার সেটি দেখে আপনার হয়ে পুরো টাকা পরিশোধ করে দিলেন। এমন একটি ব্যবস্থা চালু হলে কেমন হবে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে একটি অভিনব ধারণা।

 

ধারণাটি অনেকটা ডেটিং অ্যাপের মতো। তবে এখানে জীবনসঙ্গী খোঁজার পরিবর্তে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন এমন মানুষের সঙ্গে বিত্তশালী দাতাদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। একজন ব্যক্তি তাঁর অপরিশোধিত বিল জমা দেবেন। অন্যদিকে আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান কেউ চাইলে সেই বিল পরিশোধের দায়িত্ব নিতে পারবেন।

তবে এমন কোনো নির্দিষ্ট অ্যাপ বাস্তবে চালু হয়েছে কিংবা বিলিয়নিয়াররা এভাবে সাধারণ মানুষের বিল পরিশোধ করছেন, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টিকে বর্তমানে একটি সম্ভাব্য উদ্যোগের ধারণা হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

 

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক পরিবারের নিয়মিত খরচের মধ্যে রয়েছে রেন্ট, মর্টগেজ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, চিকিৎসা এবং ক্রেডিট কার্ডের বিল। এসব খরচের কোনোটি সময়মতো পরিশোধ করতে না পারলে অতিরিক্ত ফি, ঋণের চাপ কিংবা অন্যান্য আর্থিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সরাসরি বিল পরিশোধের সুযোগ আর্থিক সংকটে থাকা মানুষের জন্য সহায়ক হতে পারে।

তবে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা। সাধারণত বিভিন্ন বিলে গ্রাহকের নাম, ঠিকানা, অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য থাকে। অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে এসব তথ্য প্রকাশ করলে পরিচয় চুরি ও প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

 

এ ছাড়া কারা প্রকৃত অর্থে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করছেন, জমা দেওয়া বিল আসল কি না এবং দাতাদের অর্থ সঠিক জায়গায় পৌঁছাচ্ছে কি না, সেসব নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও প্রয়োজন হবে। সরাসরি সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে বিল পরিশোধের সুযোগ রাখা হলে অর্থের অপব্যবহারের কিছু ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।

ধারণাটি বাস্তবে রূপ দিতে হলে দাতা ও সহায়তাপ্রার্থীর পরিচয় যাচাই, তথ্য সুরক্ষা, নিরাপদ পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ পরিচালনাপদ্ধতি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার আশায় কেউ যেন প্রতারণার শিকার না হন, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

 

এখন প্রশ্ন হলো, এমন একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা সত্যিই চালু হলে সাধারণ মানুষ কতটা আগ্রহ দেখাবেন? বিশেষ করে বকেয়া বিল পরিশোধের সুযোগ পাওয়ার জন্য ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য প্রকাশ করতে তাঁরা কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন?

একদিকে আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা, অন্যদিকে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা। এই দুই বিবেচনার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সহায়তাপ্রার্থীদের।

 

আপনার কী মত? কোনো বিলিয়নিয়ার আপনার বকেয়া বিল পরিশোধ করে দেওয়ার সুযোগ দিলে আপনি কি নিরাপদ একটি প্ল্যাটফর্মে বিল জমা দেবেন, নাকি ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দেবেন?
 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

লাইফস্টাইল

View more
ইলন মাস্কের অভিনব অ্যাপের ধারণা
ইলন মাস্কের অভিনব অ্যাপের ধারণা, বিলিয়নিয়াররা মিটিয়ে দেবেন সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল ও বাড়িভাড়া

কল্পনা করুন, আপনার বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, চিকিৎসার খরচ কিংবা ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া পরিশোধের টাকা নেই। এমন পরিস্থিতিতে একটি অ্যাপে বিল আপলোড করলেন। আর বিশ্বের কোনো বিলিয়নিয়ার সেটি দেখে আপনার হয়ে পুরো টাকা পরিশোধ করে দিলেন। এমন একটি ব্যবস্থা চালু হলে কেমন হবে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে একটি অভিনব ধারণা।   ধারণাটি অনেকটা ডেটিং অ্যাপের মতো। তবে এখানে জীবনসঙ্গী খোঁজার পরিবর্তে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন এমন মানুষের সঙ্গে বিত্তশালী দাতাদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। একজন ব্যক্তি তাঁর অপরিশোধিত বিল জমা দেবেন। অন্যদিকে আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান কেউ চাইলে সেই বিল পরিশোধের দায়িত্ব নিতে পারবেন। তবে এমন কোনো নির্দিষ্ট অ্যাপ বাস্তবে চালু হয়েছে কিংবা বিলিয়নিয়াররা এভাবে সাধারণ মানুষের বিল পরিশোধ করছেন, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টিকে বর্তমানে একটি সম্ভাব্য উদ্যোগের ধারণা হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক পরিবারের নিয়মিত খরচের মধ্যে রয়েছে রেন্ট, মর্টগেজ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, চিকিৎসা এবং ক্রেডিট কার্ডের বিল। এসব খরচের কোনোটি সময়মতো পরিশোধ করতে না পারলে অতিরিক্ত ফি, ঋণের চাপ কিংবা অন্যান্য আর্থিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সরাসরি বিল পরিশোধের সুযোগ আর্থিক সংকটে থাকা মানুষের জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা। সাধারণত বিভিন্ন বিলে গ্রাহকের নাম, ঠিকানা, অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য থাকে। অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে এসব তথ্য প্রকাশ করলে পরিচয় চুরি ও প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   এ ছাড়া কারা প্রকৃত অর্থে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করছেন, জমা দেওয়া বিল আসল কি না এবং দাতাদের অর্থ সঠিক জায়গায় পৌঁছাচ্ছে কি না, সেসব নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও প্রয়োজন হবে। সরাসরি সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে বিল পরিশোধের সুযোগ রাখা হলে অর্থের অপব্যবহারের কিছু ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে। ধারণাটি বাস্তবে রূপ দিতে হলে দাতা ও সহায়তাপ্রার্থীর পরিচয় যাচাই, তথ্য সুরক্ষা, নিরাপদ পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ পরিচালনাপদ্ধতি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার আশায় কেউ যেন প্রতারণার শিকার না হন, সেদিকেও নজর দিতে হবে।   এখন প্রশ্ন হলো, এমন একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা সত্যিই চালু হলে সাধারণ মানুষ কতটা আগ্রহ দেখাবেন? বিশেষ করে বকেয়া বিল পরিশোধের সুযোগ পাওয়ার জন্য ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য প্রকাশ করতে তাঁরা কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন? একদিকে আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা, অন্যদিকে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা। এই দুই বিবেচনার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সহায়তাপ্রার্থীদের।   আপনার কী মত? কোনো বিলিয়নিয়ার আপনার বকেয়া বিল পরিশোধ করে দেওয়ার সুযোগ দিলে আপনি কি নিরাপদ একটি প্ল্যাটফর্মে বিল জমা দেবেন, নাকি ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দেবেন?  

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ০:৮
দীর্ঘ ২৩ বছর আলাদা থাকার পর অবশেষে বিবাহবিচ্ছেদের পর্যায়ে পৌঁছেছে ভারতের এক দম্পতির সম্পর্ক

২৩ বছর আলাদা থাকার পর ডিভোর্স, স্ত্রীকে পুরো সম্পত্তিই দিতে চান স্বামী

মা ও মেয়ের সম্পর্কে দূরত্বের ইঙ্গিত

প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ধীরে ধীরে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছে, আগে থেকেই যেসব লক্ষণ চিনবেন অভিভাবকেরা

মৃত্যুর আগে ১১ বছরের মেয়েকে কনে সাজালেন ক্যান্সার আক্রান্ত বাবা

মেয়ের বিয়ে দেখে যেতে পারবেন না, তাই মৃত্যুর আগে ১১ বছরের মেয়েকে কনে সাজালেন ক্যান্সার আক্রান্ত বাবা

ককপিটে ঘুমিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা ৭৭ শতাংশ পাইলটের
ককপিটে ঘুমিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা ৭৭ শতাংশ পাইলটের, ক্লান্তি নিয়েও উড়ছেন অনেকে

বিমান চালানোর সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে কয়েক মুহূর্তের জন্য ঘুমিয়ে পড়া বা জেগে থাকতে তীব্র লড়াই করার অভিজ্ঞতা হয়েছে ইউরোপের ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ পাইলটের। ইউরোপের ৩২টি দেশের প্রায় ৭ হাজার ২০০ পাইলটের ওপর পরিচালিত এক জরিপে উঠে এসেছে এ তথ্য। ২০২৬ সালের আগস্টে পরিচালিত এই জরিপের ফলাফল বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং ক্লান্তি নিয়েও ফ্লাইট পরিচালনা করার প্রবণতা যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের ২৮ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে। ইউরোপীয় ককপিট অ্যাসোসিয়েশনের (ইসিএ) উদ্যোগে পরিচালিত জরিপটি বিশ্লেষণ করেছে বিমান চলাচলবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বেইনস সিমন্স। জরিপ অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী পাইলটদের ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ জানিয়েছেন, আগের চার সপ্তাহে উড়োজাহাজ পরিচালনার সময় অন্তত একবার অনিচ্ছাকৃতভাবে কয়েক মুহূর্তের জন্য ঘুমিয়ে পড়া কিংবা জেগে থাকতে গুরুতর সমস্যার মুখে পড়েছেন। এ ধরনের অবস্থাকে বলা হয় ‘মাইক্রোস্লিপ’। এতে অল্প সময়ের জন্য অনিচ্ছাকৃত ঘুম চলে আসতে পারে, যা পাইলটের মনোযোগ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।   জরিপে আরও দেখা গেছে, ৩৮ দশমিক ৮ শতাংশ পাইলট সাধারণত বা প্রায়ই পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ পান না বলে জানিয়েছেন। ফলে এক ফ্লাইটের পর আরেক ফ্লাইট পরিচালনার সময় জমতে থাকা ক্লান্তি থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ক্লান্তির কারণে নিরাপদে ফ্লাইট পরিচালনার উপযুক্ত মনে না করলেও অনেক পাইলট তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে চান না। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২৪ দশমিক ২ শতাংশ জানিয়েছেন, ক্লান্তি অনুভব করলেও সাধারণত তাঁরা নিজেদের ফ্লাইট পরিচালনার অনুপযুক্ত ঘোষণা না করে কাজ চালিয়ে যান।   ক্লান্তির বিষয়টি জানালে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। প্রায় ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ পাইলট আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ক্লান্তির কথা জানালে তাঁদের শাস্তি বা প্রতিশোধমূলক আচরণের মুখে পড়তে হতে পারে। অন্যদিকে, ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ পাইলট অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন বা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে সম্ভাব্য নেতিবাচক পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জরিপে ‘কমান্ডারস ডিসক্রিশন’ ব্যবস্থার বিষয়টিও উঠে এসেছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থার আওতায় ক্যাপ্টেন নির্ধারিত সীমার বাইরে ফ্লাইট ডিউটির সময় বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারেন। জরিপে ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ পাইলট জানিয়েছেন, আগের চার সপ্তাহে তাঁরা অন্তত একবার এ সুবিধা ব্যবহার করেছেন। ইসিএর মতে, ফ্লাইটের বিলম্ব পুষিয়ে নেওয়া কিংবা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের চাপ পাইলটদের ক্লান্তি বাড়াতে পারে। তাই শুধু ফ্লাইট ডিউটির সময়সীমা নির্ধারণ করলেই হবে না, পাইলটরা পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাচ্ছেন কি না এবং ক্লান্তির কথা নির্ভয়ে জানাতে পারছেন কি না, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।   তবে জরিপের ফলাফলকে সব ইউরোপীয় পাইলটের অভিজ্ঞতার সরাসরি প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাবে না। এটি অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ফলে পরিসংখ্যানগুলো জরিপে অংশ নেওয়া পাইলটদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে, সব ফ্লাইটে পাইলট ঘুমিয়ে পড়ছেন এমন প্রমাণ দেয় না। বিমান চলাচলে পাইলটের ক্লান্তি নতুন সমস্যা নয়। দীর্ঘ সময় কাজ, রাতের ফ্লাইট, অনিয়মিত কর্মসূচি এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব শারীরিক ও মানসিক সতর্কতা কমিয়ে দিতে পারে। ককপিটে মনোযোগ ধরে রাখা, পরিস্থিতি দ্রুত মূল্যায়ন করা এবং জরুরি অবস্থায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের ক্লান্তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইউরোপীয় ককপিট অ্যাসোসিয়েশন বিমান সংস্থাগুলোর ক্লান্তি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি এমন কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে, যেখানে পাইলটরা শাস্তি বা চাকরিগত ক্ষতির আশঙ্কা ছাড়াই নিজেদের শারীরিক অবস্থার কথা জানাতে পারবেন।   জরিপের ফলাফল আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, আকাশপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক উড়োজাহাজ ও প্রযুক্তির পাশাপাশি পাইলটদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম, বাস্তবসম্মত কর্মসূচি এবং নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১:১৬
তালিতে সংস্কারের পর মার্কিন দম্পতির বাড়ি

মাত্র ১৩ হাজার ডলারে ইতালিতে বাড়ি কিনে ১৮ হাজার ডলারে সংস্কার করলেন মার্কিন দম্পতি

স্থায়িত্ব পরীক্ষায় বিপাকে আইফোন ডুয়ো

জেরিরিগএভরিথিংয়ের পরীক্ষায় টিকল না আইফোন ডুয়ো, ধুলা ও চাপে বিকল স্ক্রিন

কোম্পানির নির্দেশ মেনে নিজের খরচে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর চাকরিচ্যুত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন এক কর্মী।

অফিসে ফিরতে বিদেশ থেকে যাত্রা, পৌঁছেই চাকরিচ্যুত হওয়ার দাবি কর্মীর

মুখ পরিষ্কার না রাখলে প্রদাহ, জ্বালাপোড়া ও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে
ব্রণের সমস্যা সারাতে মাসের পর মাস মুখ ধোননি ইনফ্লুয়েন্সার, জমেছে সবুজাভ স্তর

ব্রণ কমানোর আশায় মুখ ধোয়া ও ত্বকের পরিচর্যার পণ্য ব্যবহার বন্ধ করেছিলেন কানাডায় বসবাসরত তরুণী টিয়া জাখের। কয়েক সপ্তাহ পর তার মুখে জমে থাকা স্তর সবুজাভ দেখাতে শুরু করে। এটিকে ত্বক সেরে ওঠার অংশ বলে দাবি করলেও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন, মুখ পরিষ্কার না রাখলে প্রদাহ, জ্বালাপোড়া ও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   চিলির সংবাদমাধ্যম বায়োবায়োচিলের ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিয়া নিজের এই পদ্ধতির কথা টিকটকে জানিয়েছিলেন। তার আশা ছিল, মুখে জমে থাকা মৃত কোষের স্তর একসময় নিজে থেকেই খসে পড়বে এবং নিচে ব্রণমুক্ত ত্বক দেখা যাবে।   টিয়া ওই অবস্থাকে ‘রিটেনশন হাইপারকেরাটোসিস’ বলে বর্ণনা করেন। তার দাবি, আগে নিয়মিত ত্বক খুঁটে বা ঘষে মৃত কোষ সরানোর অভ্যাস ছিল। তা বন্ধ করার পর কোষগুলো সাময়িকভাবে জমে যাচ্ছে। তবে এটি তার নিজের ব্যাখ্যা, প্রতিবেদনে চিকিৎসকের পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয়ের তথ্য দেওয়া হয়নি।    বায়োবায়োচিলেকে দেওয়া বক্তব্যে ইন্টেগ্রামেডিকার চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ হেক্টর ফুয়েনসালিদা বলেন, মুখ পরিষ্কার বন্ধ রাখলে উল্টো প্রদাহ, জ্বালাপোড়া ও নতুন ব্রণ দেখা দিতে পারে। মুখে একটি স্তর তৈরি হয়ে পরে স্বাভাবিকভাবে খসে পড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ত্বক গাঢ় ও পুরু হয়ে যাওয়াকেও সুস্থতার লক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত নয় বলে জানান তিনি।   চিকিৎসক আরও বলেন, এ ধরনের অভ্যাস সংক্রমণের কারণ হতে পারে। তবে টিয়ার মুখের সবুজাভ স্তরের কারণ সংক্রমণ কি না, তা নিশ্চিত রোগনির্ণয় হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।    ব্রণযুক্ত ত্বকের পরিচর্যায় আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি মৃদু ক্লেনজার দিয়ে আলতোভাবে দিনে সর্বোচ্চ দুবার এবং ঘাম হওয়ার পর মুখ ধোয়ার পরামর্শ দেয়। আঙুলের সাহায্যে ক্লেনজার লাগাতে এবং ত্বক ঘষাঘষি এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। অতিরিক্তবার মুখ ধোয়াও ত্বকে জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে ব্রণ আরও খারাপ করতে পারে।    সংস্থাটির নির্দেশনায় কুসুম গরম পানি ব্যবহার এবং নরম তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে মুখ শুকানোর কথা বলা হয়েছে। ত্বকের সমস্যা বা পরিচর্যা নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার সুপারিশও করেছে সংস্থাটি। 

প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১:৫৬
ছয় বছর বয়সে বাবার সঙ্গে প্রথম ব্যবসায়িক বৈঠকে গিয়েছিল সে

বুর্জ খলিফায় অফিস! প্রযুক্তিতে নেক্সট ইলন মাস্ক খ্যাত ১৪ বছরের জয়নম

সন্তানের মানসিক শক্তি বাড়াতে অভিভাবকদের পাঁচটি কৌশল

সন্তানকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে চান, অভিভাবকদের নীরবে যে পাঁচটি কাজ করা জরুরি

২০২৬ সালের সেরা ক্রুজ লাইনের তালিকায় প্রিন্সেস ক্রুজেস

প্রায় ৮ লাখ পর্যটকের ভোটে ২০২৬ সালের সেরা ক্রুজ লাইনের তালিকায় শীর্ষে যারা

0 Comments