Dhaka North City Corporation (ডিএনসিসি)-এর তহবিল সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে জনমনে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংস্থাটির বর্তমান প্রশাসক Md. Shafiqul Islam Khan। তিনি জানান, সাবেক প্রশাসক দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় কর্পোরেশনের ২৬টি ব্যাংক হিসাব মিলিয়ে ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকার বেশি অর্থ থাকার যে দাবি করেছেন, সেটি প্রকৃত চিত্র নয়। এ অর্থের একটি বড় অংশ বিভিন্ন নির্দিষ্ট তহবিলের এবং ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে সংরক্ষিত ছিল।
প্রশাসক বলেন, ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হয় মূলত কর্পোরেশনের সাধারণ তহবিল থেকে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি দায়িত্ব গ্রহণের সময় সাধারণ তহবিলে নগদ ছিল মাত্র ২৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি বিভিন্ন নির্দিষ্ট তহবিলের ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে প্রায় ৮২৫ কোটি টাকা সংরক্ষিত রয়েছে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহার করার জন্য রাখা হয়েছে।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩–২৪ অর্থবছর শেষে ২০২৫ সালের ১ জুলাই কর্পোরেশনের সাধারণ তহবিলে নগদ ছিল ৫৯৭ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন তহবিলের ফিক্সড ডিপোজিট ছিল ৮২৫ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয় ১ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা। এতে মোট নগদ প্রবাহ দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা।
কিন্তু একই সময়ে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা ব্যয় হওয়ায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই নগদ স্থিতি কমে দাঁড়ায় ৩৩৬ কোটি টাকায়। পরে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয় আরও ৮২০ কোটি টাকা।
ডিএনসিসি প্রশাসকের দাবি, পরবর্তী সময়ে অপ্রয়োজনীয় কিছু প্রকল্প গ্রহণের ফলে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। ফলে দায়িত্ব গ্রহণের সময় কর্পোরেশনের নগদ স্থিতি নেমে আসে মাত্র ২৫ কোটি টাকায়, যা সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রশাসক আরও বলেন, সাবেক প্রশাসন ফিক্সড ডিপোজিটের ৮২৫ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন নির্দিষ্ট তহবিল—যেমন জামানত, পেনশন, শিক্ষা ও জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (জিপিএফ)—এর হিসাব একত্র করে মোট ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকার একটি পরিসংখ্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছে, যা প্রকৃত আর্থিক অবস্থাকে প্রতিফলিত করে না।
এদিকে সাবেক প্রশাসক দায়িত্ব ছাড়ার আগে ৩৬টি বিল অনুমোদন করে গেছেন, যার বিপরীতে প্রায় ৪২ কোটি টাকা বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাওনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিগুলো বর্তমানে যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, কর্পোরেশনের আর্থিক অবস্থার সঠিক তথ্য নগরবাসীর সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। এ কারণেই বিষয়টি পরিষ্কার করতে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
Dhaka North City Corporation (ডিএনসিসি)-এর তহবিল সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে জনমনে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংস্থাটির বর্তমান প্রশাসক Md. Shafiqul Islam Khan। তিনি জানান, সাবেক প্রশাসক দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় কর্পোরেশনের ২৬টি ব্যাংক হিসাব মিলিয়ে ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকার বেশি অর্থ থাকার যে দাবি করেছেন, সেটি প্রকৃত চিত্র নয়। এ অর্থের একটি বড় অংশ বিভিন্ন নির্দিষ্ট তহবিলের এবং ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে সংরক্ষিত ছিল। প্রশাসক বলেন, ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হয় মূলত কর্পোরেশনের সাধারণ তহবিল থেকে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি দায়িত্ব গ্রহণের সময় সাধারণ তহবিলে নগদ ছিল মাত্র ২৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি বিভিন্ন নির্দিষ্ট তহবিলের ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে প্রায় ৮২৫ কোটি টাকা সংরক্ষিত রয়েছে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহার করার জন্য রাখা হয়েছে। ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩–২৪ অর্থবছর শেষে ২০২৫ সালের ১ জুলাই কর্পোরেশনের সাধারণ তহবিলে নগদ ছিল ৫৯৭ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন তহবিলের ফিক্সড ডিপোজিট ছিল ৮২৫ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয় ১ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা। এতে মোট নগদ প্রবাহ দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। কিন্তু একই সময়ে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা ব্যয় হওয়ায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই নগদ স্থিতি কমে দাঁড়ায় ৩৩৬ কোটি টাকায়। পরে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয় আরও ৮২০ কোটি টাকা। ডিএনসিসি প্রশাসকের দাবি, পরবর্তী সময়ে অপ্রয়োজনীয় কিছু প্রকল্প গ্রহণের ফলে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। ফলে দায়িত্ব গ্রহণের সময় কর্পোরেশনের নগদ স্থিতি নেমে আসে মাত্র ২৫ কোটি টাকায়, যা সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসক আরও বলেন, সাবেক প্রশাসন ফিক্সড ডিপোজিটের ৮২৫ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন নির্দিষ্ট তহবিল—যেমন জামানত, পেনশন, শিক্ষা ও জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (জিপিএফ)—এর হিসাব একত্র করে মোট ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকার একটি পরিসংখ্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছে, যা প্রকৃত আর্থিক অবস্থাকে প্রতিফলিত করে না। এদিকে সাবেক প্রশাসক দায়িত্ব ছাড়ার আগে ৩৬টি বিল অনুমোদন করে গেছেন, যার বিপরীতে প্রায় ৪২ কোটি টাকা বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাওনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিগুলো বর্তমানে যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, কর্পোরেশনের আর্থিক অবস্থার সঠিক তথ্য নগরবাসীর সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। এ কারণেই বিষয়টি পরিষ্কার করতে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-১ সংসদীয় আসনের ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিচারপতি জাকির হোসেনের একক নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। আদেশটি আসে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কপিল কৃষ্ণের করা আবেদনের শুনানির পর। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাগেরহাট-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মশিউর রহমান ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কপিল কৃষ্ণ পান ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৯০ ভোট। আসনটিতে তিনটি উপজেলা এবং ১৪৭টি ভোটকেন্দ্র ছিল। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর কপিল কৃষ্ণ কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফলে আপত্তি জানান এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতিকার চেয়েও সন্তুষ্ট হননি। এর পর তিনি হাইকোর্টের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করেন। আদালত এই আবেদনের শুনানি শেষে ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ দিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া) আসনে জামায়াতের শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ এবং বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে জামায়াতের আব্দুল আলিম জয়ী হন। বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে বিএনপির শেখ ফরিদুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন।
বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় এক অনন্য এবং ব্যতিক্রমী নজির স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃচ্ছতা সাধনের অংশ হিসেবে তিনি নিজের দপ্তরে ৫০ শতাংশ বৈদ্যুতিক বাতি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের ২০১ নম্বর কক্ষসহ তাঁর কার্যালয়ের প্রতিটি কক্ষে কার্যকর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, কৃত্রিম আলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিনের বেলা জানালার পর্দা সরিয়ে প্রাকৃতিক আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকেও এই সিদ্ধান্তের প্রতিফলন দেখা গেছে। সেখানে অর্ধেক লাইট ও এসি ব্যবহার করেই যাবতীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বৈঠক শেষে অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী কেবল নিজের দপ্তরেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শপিংমল ও বাণিজ্যিক ভবনসহ সাধারণ নাগরিকদের নিজ নিজ বাসস্থানেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে জ্বালানি সাশ্রয়ে বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ নিয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় স্বার্থে অপচয় রোধে এই সময়োপযোগী উদ্যোগ সারাদেশে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।